Tuesday, February 3, 2026

জাতির বিবেক যখন বিক্রিয় হয়

 জাতির বিবেক যখন বিক্রিয় হয়

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************************

ওহে শোনো—বিবেক যখন বাজারে তোলে,
তখন প্রতিবাদের পথ রুদ্ধ হয় দলে দলে।
সত্যের কণ্ঠ রুদ্ধ, ন্যায় পড়ে শিকল-তলে,
মিথ্যার সিংহাসনে শাসক বসে জোর-বলে।

জালেমের পাশে দাঁড়ায় স্বৈরাচারের দল,
ফ্যাসিবাদের ছায়ায় হাসে লেজুরভিত্তি-ছল।
চাটুকার তাবেদার মাপে ক্ষমতার ওজন,
ধর্ম বেচে পুণ্যের নামে গড়ে পাপের ভজন।

লুটেরার থলেতে ভরে ঘাম-রক্তের ধন,
অর্থপাচারে দেশ হয় শূন্য, ক্ষয়মান।
দেশবিরোধী হাত ধরে রাষ্ট্রের কফিন,
হিংসা-প্রতিহিংসায় পোড়ে মানবিক দিন।

দলে দলে ভাঙে জাতি—বৈষম্যের দেয়াল,
মুনাফেকের হাসিতে ঝরে বিশ্বাসের জাল।
বিশ্বাসঘাতক সাজে দেশপ্রেমের পোশাকে,
উগ্রবাদী আগুন জ্বালে ইতিহাসের কপাকে।

এখানে নিরপেক্ষতা পাগলেরই প্রলাপ,
জ্বলন্ত ঘরে বসে থাকা—অপরাধের সাপ।
নজরুলের বজ্রকণ্ঠে তাই ডাক ওঠে আজ—
“ভাঙো শিকল! জাগো মানুষ! ন্যায় হোক সমাজ!”


০৩-০২-২০২৬

দেশের রত্ন হারিয়েছি

 দেশের রত্ন হারিয়েছি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*************************************

ডাঃ প্রাণ গোপাল দত্ত—একটি নাম নয় শুধু,
তিনি ছিলেন ব্যথিত মানুষের নিঃশব্দ কুলু।
রোগীর কপালে হাত রেখে বলতেন ধীরে—
“ভয় নেই, জীবন এখনো দাঁড়িয়ে আছে ফিরে।”

ছুরি নয় আগে, আগে দিতেন সাহসের ভাষা,
চিকিৎসা মানে তাঁর কাছে ছিল মানবিক আশা।
নাক-কান-গলার ঘেরাটোপ ভেঙে প্রতিদিন,
তিনি সারাতেন মানুষের ভাঙা অন্তরীন।

এই মানুষটিকে আমরা চিনিনি বাঁচতে,
ক্ষমতার কাদা মেখে রেখেছি প্রশ্নের আঁচটে।
রাজনৈতিক হিংসা আর প্রতিহিংসার খেলায়,
রত্নকে ছুঁড়ে ফেলেছি অবহেলার জ্বালায়।

দলীয় চিহ্নে মেপেছি জ্ঞানের গভীরতা,
যোগ্যতার বদলে দেখেছি পরিচয়ের সাঁটা।
যার জীবনদর্শন বলত—“মানুষই মুখ্য,”
তাঁকেই বানালাম সন্দেহের নীরব অভিযুক্ত।

অথচ ভারতের মাটি চিনল তাঁর আলো,
ন্যাশনাল মেডিকেল কমিশন বলল—“এই মানুষ মহান হলো।”
যেখানে নিজ দেশ দিল না সম্মানের ঘর,
সেখানে বিদেশ খুলে দিল মর্যাদার দর।

কি নির্মম পরিহাস, কী লজ্জার ইতিহাস,
জীবিত রত্নকে ঠেলে দিই, মরি পরে শোকপ্রকাশ!
আমরা গাই শোকগীতি, করি কৃতজ্ঞতার ভান,
অথচ বাঁচতে দিইনি তাঁর স্বপ্নের সম্মান।

ডাঃ প্রাণ গোপাল দত্ত—তুমি হারাওনি কিছু,
হারিয়েছে তোমাকে যে দেশ, সে হারিয়েছে নিজেরই পিছু।
আজ বুকের ভেতর জ্বলে এক অগ্নিস্বীকার—
দেশের রত্ন হারিয়েছি, এই পাপ আমাদেরই ভার।
-----------------------------------------------------------


০৩-০২-২০২৬

আমি কি এদেশের নাগরিক নই?

 আমি কি এদেশের নাগরিক নই?

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর
************************************************

আমি কি এদেশের নাগরিক নই?
বলতে এসেছি আমিও নাগরিক আজ।
আমার স্বপ্নে জ্বলে স্বাধীনতার আলো,
আমার হৃদয়ে বাজে ন্যায়ের ঢোল।

কৃষক তাতী, জেলে কুমার, শ্রমজীবী,
গার্মেন্টস কর্মী, সবাই জাতির রক্তবীজ।
সবাই দেশের প্রাণ, সবাই জনতার আশা,
কেন শুধু সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন বাড়ে?

আমি কি এদেশের নাগরিক নই?
বলতে এসেছি, বৈষম্য ভাঙব আমরা।
আমাদের মাইনে, আমাদের ঘাম, আমাদের জীবন,
সব বঞ্চিত, অবহেলিত, শুনো শাসকগণ!

বাজারে মূল্য বাড়ে, দামের সঙ্গে জীবন ক্ষত,
আমরা সাধারণ মানুষ, কে সমাধান দেবে?
আমাদের কণ্ঠ, আমাদের চিৎকার, আমাদের ব্যথা,
সবাই জাগো, বলো—ন্যায় চাই, অধিকার চাই।

আমি কি এদেশের নাগরিক নই?
বলতে এসেছি, বিদ্রোহ আমার স্বর।
তোমরা বড় নিষ্ঠুর, বৈষম্যের হোতা,
আমরা চিৎকার করি—ধ্বংস করো অন্যায়ের ঘোড়া।

শ্রমিক, কৃষক, নাগরিক, সবাইই মানুষ,
সবাই চাই সমান অধিকার, সমান সুযোগ।
ভাই, বোন, জাগো, আমরা একত্রিত হব,
ভাই, বোন, আমাদের রক্তে জ্বলে আগুন।

আমি কি এদেশের নাগরিক নই?
বলতে এসেছি, প্রতিবাদ আমার অমর।
এই দেশ, এই ভূমি, এই মানুষ—সবই এক,
অধিকার, ন্যায়, মানবতার মঞ্চে দাঁড়াও।

আমি জাগি, আমি চিৎকার করি,
আমি বলি, বৈষম্যের প্রাচীর ভেঙে দাও।
আমরা সবাই এক, আমরা সবাই শক্তি,
আমাদের রক্তে ঝলকায় স্বাধীনতার আগুন।

আমি কি এদেশের নাগরিক নই?
বলতে এসেছি, আমিও নাগরিক—গর্বে।
শাসকগণ, দেখো আমাদের দমনকোণ,
আমরা চিরবিদ্রোহী, আমরা চিরনাগরিক।

বৈষম্য ভাঙতে হবে, স্বাধীনতা জাগাতে হবে,
আমি নাগরিক, আমি চাই সমান অধিকার।
আমাদের রক্তে, আমাদের ঘামে, আমাদের প্রাণে,
এই দেশ—আমাদের, শাসকগণ বুঝো, এবারই সঠিক নামে।
------------------------------------------------


০৩-০২-২০২৬

বিচার কি হবে?

 বিচার কি হবে?

মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
****************************************

অসহায় পিতা দিলেন মেয়েকে হোটেলের ঘরে,
অমল ১১ বছরের শিশুর জীবন স্বপ্নভরে।
অন্তরে আশা জ্বলে, চোখে অশ্রু নেমে,
অপরাধীর হাতে পড়ল শিশুর প্রাণের বৃত্তে।

অমল ঢুকতে পারল না ঘরের ভিতরে,
অজুহাতে বন্ধ দরজা, পিতার হাত থমকে।
বিকেল গড়াল, সন্ধ্যা গড়াল, ক্ষুধা-ভয়-দুর্ভোগ,
অন্তরে জ্বলল বেদনার অমোঘ শিখা জ্বালোগ।

অপরাধী এমডি, বিমান বাংলাদেশে প্রধান,
পরিবারে শিশুটি পেল প্রতিদিন নির্যাতনের প্রমাণ।
মারধর, খুন্তি গরম করে শরীরের নানা স্থানে ছোঁয়া,
অন্তহীন বেদনা, দগ্ধ দেহ, নির্যাতনের ছায়া।

অশরীরী নিপীড়নে ভেঙে গেল শিশুর স্বপ্ন,
অন্য শিশুর খেয়াল রাখার নামে বেদনার বৃত্ত।
অসহায় পিতা গেল বহুবার, তবু দেখা হল না,
অন্তরে কেঁপে ওঠে আর্ত চিৎকার, ক্রোধের ধ্বনি ফাঁকা।

বিচার কি হবে?—অন্তরে প্রশ্ন জাগে,
অপরাধীর হাতে মানবতা কি ফিরে আসবে?
গ্রেফতার হল তারা, তবু মুক্তির ছায়া দেখা যায়,
অমল চোখে জল, কণ্ঠে আর্তনাদ, নির্যাতনের আভাস।

অন্তিমে জাগুক ন্যায়, ভেঙে যাক অমানবিকতা,
অপরাধী হোক দৃষ্টান্ত, শিশুর কণ্ঠে হাসি জাগুক।
অসহায় শিশুর স্বপ্ন ফিরুক, জীবন হোক অমল,
বিচার হোক অবিচল, হোক ন্যায়ের বলিষ্ঠ ঢাল।
--------------------------------------------------


০৩-০২-২০২৬

শ্লিপ অব টাঙ্কের যুগ

 শ্লিপ অব টাঙ্কের যুগ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
****************************************

বিশ্ব দেখিল বাঙালি আজ নেমেছে কোন্ অন্ধকারে,
শ্লিপ অব টাঙ্কের নামে ঢেকে দিল সব অপকর্ম ভারে।
কথায় কথায় অশ্লীলতা, আচরণে বিষের ঢেউ,
শ্লোগানে ঘৃণা, গীবত-পরচর্চা—লজ্জা রাখে না কেউ।

ইশারা ভরা অশুভ ভঙ্গি, ভাষায় নোংরা ছাপ,
ইতিহাসে ছিল কি এমন? জিজ্ঞাসে বিবেক-আপ।
নারী বিদ্বেষ এমন নগ্ন, দেখেনি এই সমাজ,
নারীকে ডাকে পতিতা—ভাঙে মানবতার লাজ।

অপমান সহে নারী আজ, নীরবতার দীর্ঘ শ্বাস,
এমন দৃশ্য দেখেনি দেশ, কাঁদে সময়ের ইতিহাস।
মঞ্চে মঞ্চে নেতৃত্বের বেহাল দশা নগ্ন,
বাক্যে কাজে দিশাহারা, দায়িত্ববোধ শূন্য-ভগ্ন।

রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার—এমন বিকৃতি কবে?
মানী মানুষের সম্মানহানি এমনভাবে হবে?
দেশবিরোধী শক্তির উত্থান, মাথা তোলে নির্ভীক,
প্রতিবাদ করলেই শোনো—“শ্লিপ অব টাঙ্ক” তত্ত্বীক!

এই এক বাক্যে ক্ষমা পায় যত অন্যায়-অপরাধ,
আইনের চোখ বেঁধে দেয়, ন্যায়বিচারের হয় স্বাদ?
এভাবে চলতে থাকিলে হারাবে জাতি পথ,
অন্যায় বাড়বে, অপরাধ নেবে অগ্নির রথ।

যদি না আসে সুবিচার, যদি না রোধ হয় স্রোত,
ইতিহাস-সংস্কৃতি যাবে মিলিয়ে নিঃশব্দে লোপ।
এই উগ্রবাদ দমন না হলে, যে মূল্যই দিতে হোক,
রক্তে কেনা স্বাধীনতা হারাবে জাতি শোক।

জাগো বিবেক, জাগো মানুষ, জাগো সত্যের ধ্বনি,
নইলে শ্লিপ অব টাঙ্কেই ডুবে যাবে ভবিষ্যৎ খনি।
--------------------------------------------------


০৩-০২-২০২৬

Monday, February 2, 2026

ঐক্যই শক্তি

 ঐক্যই শক্তি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
***************************************

আমি বলি—এক হও আজ, ও জাগ্রত জনতা,
ভাঙো ভাঙো বিভেদের জাল, ছিঁড়ো ভীরুতা।
হাতে হাতে হাত রাখিলে বজ্র নামে ঘাতে,
ঐক্যের আগুন জ্বলুক আজ সংগ্রামের রাতে।

একলা মানুষ তুচ্ছ বটে, মিললে সে দুর্বার,
শৃঙ্খল ভাঙে, সিংহাসন কাঁপে বারেবার।
ধর্মে দলে ভাগ ক’রে যারা বিষ ঢালে প্রাণে,
ঐক্যের ঝড়ে উড়ে যাবে সেই ছলনার মানে।

আমি বিদ্রোহী কণ্ঠে ডাকি—এক পতাকার তলে,
রক্ত-ঘামে লেখা অধিকার তুলো দৃঢ় বলে।
অন্যায়ের বুক চিরে উঠুক সত্যের দাবানল,
ঐক্যের মুষ্টিতেই গড়ুক মুক্তির সম্বল।

ভাইয়ে ভাইয়ে ভেদ নয়, এই হোক অঙ্গীকার,
এক স্রোতে মিলুক প্রাণ, মিলুক প্রত্যাশার ধার।
নয় নীরব, নয় নতজানু—এই আমাদের শক্তি,
ঐক্যই অস্ত্র, ঐক্যই গান, ঐক্যই মুক্তি।
----------------------------------------------------


০২-০২-২০২৬

Sunday, February 1, 2026

প্রিয় সন্তোষ স্যারের চিরবিদায়

 প্রিয় সন্তোষ স্যারের চিরবিদায়

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**********************************************
কাপাসিয়ার ছোট্ট আঙিনা ছেড়ে,
তোমার আলো ঝলমল ছড়িয়েছে বিশ্বপানে!
পশ্চিমে আমেরিকা, পূর্বে জাপান,
উত্তরে নরওয়ে, দক্ষিণে অস্ট্রেলিয়ার তটে!
যেখানে ছাত্র মাথা উঁচু করে দাঁড়ায়,
সেখানে তোমার অদৃশ্য মুকুট ঝকঝকে শোভায়!

নীরব, নিঃস্বার্থ, নিরলস শিক্ষকবৃন্দের মাঝে,
দীপ্ত এক নাম—আমাদের প্রিয় স্যার সন্তোষ!
চক-ধুলো মাখা ক্লান্ত হাতে,
তুমি গড়েছ মানুষ, কেবল মানুষ!
নিজের সুখ বিসর্জন দিয়ে,
ছাত্রের স্বপ্নে লিখেছ ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল!

কালের নির্মম আবর্তে আজ,
হাসপাতালের নিঃশব্দ শয্যায়!
চল্লিশ দিনেরও অধিক আইসিইউর প্রহর,
শেষে ক্লান্ত দেহ ঢলে পড়ল
মৃত্যুর কোলে, অনিবার্য চক্রে!

দীপ নিভে যায়, আলো থাকে—
গুরু চলে গেলেও আদর্শ অমর!
সনাতন বিশ্বাসে জানি,
আত্মা নয় নশ্বর,
শুধু দেহ ফেলে যায় মায়া,
চলে যায় অনন্ত যাত্রায়!

আজ তোমার ছাত্রছাত্রীরা
অশ্রুসজল নয়নে বলে—
হে গুরুদেব, গ্রহণ করো
আমাদের শেষ প্রণাম!
যে শিক্ষা তুমি রেখে গেলে,
সেই পথেই চলব আজীবন!

ওঁ শান্তিঃ শান্তিঃ শান্তিঃ
তোমার আত্মা লাভ করুক চিরশান্তি!
গুরুর চরণে এই আমাদের
চূড়ান্ত শ্রদ্ধা ও গভীর শোক!
-------------------------------------------


০১-০২-২০২৬

আমি পরিবর্তন করতে এসেছি

 আমি পরিবর্তন করতে এসেছি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
***************************************

আমি পরিবর্তন করতে এসেছি—ভাঙতে জীর্ণ শাসন,
অন্যায়ের দেয়াল ভেঙে জাগাতে মানুষের শ্বাসন।
ভোটের মানে ফিরিয়ে দিতে, ভয়হীন নাগরিক,
সেবার দায়ে দাঁড় করাতে রাষ্ট্রের প্রতিটি দিক।

আমি ডাঃ তাসনিম জারা—শপথ আমার স্পষ্ট,
কথা নয়, কাজের পথে রাখব হিসাব-নির্ভর দৃষ্ট।
যেখানে সেবা নেই, বিলও নয়—ন্যায়ের সহজ ভাষা,
জবাবদিহি শিখুক ক্ষমতা, খুলুক বন্ধ সব আশা।

পানি-গ্যাস-রাস্তায় ফিরুক মানুষের অধিকার,
ড্রেনেজে নেমে যাক জল, ভাঙুক জলাবদ্ধতার ভার।
হাসপাতালে মানুষ পাবে মর্যাদা আর যত্ন,
কমিউনিটি ক্লিনিক হবে আস্থার প্রথম রক্ষণ।

শিক্ষায় নয় প্রভাব-দাপট, মেধাই হোক মান,
কোডিং-ল্যাব-লাইব্রেরিতে গড়ুক স্বপ্নের টান।
নারীর পথে আলো জ্বলে—নিরাপত্তার প্রহর,
সেফ করিডোরে হাঁটুক নির্ভয় সকাল-দুপুর।

মাদকের শিকড় ছিঁড়ে দিই—চিকিৎসা আর পুনর্বাসন,
অপরাধ নয়, মানুষ বাঁচাই—এই আমার শাসন।
যুব উদ্যোক্তা পাক ভরসা, স্টার্টআপে হোক ডানা,
ডে-কেয়ারে কাজের নারী—সমান সুযোগের মানা।

এমপি হবে নাগরিকের—অফিস খোলা থাকবে,
ডিজিটাল ট্র্যাকে প্রশ্নের উত্তর লেখা যাবে।
আমি প্রতিশ্রুতি নয়—প্রমাণে বিশ্বাসী,
ঢাকা-নয়কে গড়ব একসাথে—স্বচ্ছ, মানবিক, সাহসী।

আমি পরিবর্তন করতে এসেছি—এ কথা কেবল নয়,
সময়ের কাছে দায় নিয়ে আজ দাঁড়াই নির্ভয়।
-----------------------------------------------


০১-০২-২০২৬

আলো রেখে গেলেন যিনি

আলো রেখে গেলেন যিনি
কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
****************************************

আজ শ্রেণিকক্ষ নিঃশ্বাস নেয় ভারী শোকে,
চুপসে গেছে সকাল—কথা হারায় লোকে।
চকের সাদা ধুলো জানে তাঁর নাম,
মস্তফা কামাল—এক আলোর বিশ্রাম।

কাপাসিয়ার বুকে যে শিক্ষক জ্বালাল দীপ,
সমাজ কল্যাণে মানবতার শিখা অদ্বীপ।
জ্ঞান ছিল তাঁর প্রার্থনার ভাষা,
মানুষ গড়া ছিল জীবনের আশা।

গাজীপুর মেট্রো কলেজের নীরব দেয়াল,
আজো খোঁজে নেতৃত্বের সেই উদার পাল।
ভাইস প্রিন্সিপাল—নাম নয়, দায়িত্ব,
ন্যায়ের কাছে যাঁর ছিল চির আনুগত্য।

কঠোর ছিলেন না—ছিলেন দৃঢ়,
ভুলের মাঝেও দেখাতেন সঠিক দিগন্ত-চিহ্ন।
শাসনে স্নেহ, উপদেশে আলো,
অজস্র জীবন গড়েছেন ভালো।

আজ প্রশ্ন করে বেঞ্চ, বোর্ড আর বই,
“স্যার, আর কে দেখাবে সঠিক সেই ছই?”
এই শূন্যতা শুধু একটি মৃত্যু নয়,
এ এক প্রজন্মের অপূরণীয় ক্ষয়।

ইন্না লিল্লাহ—সবই রবের বিধান,
ফিরে গেলেন তিনি ডাকে—চির অনন্ত জান।
হে মহান রব, দিও জান্নাতের উচ্চ স্থান,
আমীন—শিক্ষকের ঋণে নত প্রতিটি প্রাণ।

তাঁর দেহ নেই, তবু তিনি রয়েছেন,
নৈতিকতার পাঠে আজো তিনি শেখান।
মানুষ যতদিন মানুষ হয়ে থাকবে,
মস্তফা কামাল—আলো হয়ে জ্বলবে।
--------------------------------------------------------


০১-০২-২০২৬

মাতৃভাষার মর্যাদা

 মাতৃভাষার মর্যাদা

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**************************************

একুশের ভোরে রক্ত ঝরে আকাশে!
মায়ের ভাষা চুম্বিত করে যাক প্রতিটি পাথরে।
পশ্চিমী শাসক চেয়েছিল বাংলা চেপে রাখতে,
অবাধ্য বাঙালির কণ্ঠ নীরব করতে।

রফিক, জব্বার, বরকত, সালাম—
তাদের রক্তে লেখা স্বাধীনতার নাম।
নামহীন শহীদও তো আছেন গোপনে,
মায়ের ভাষার পক্ষে জীবন উৎসর্গে।

ক, খ, গ—এ শুধু বর্ণ নয়,
এ শহীদের রক্তে লেখা বিপ্লবের শপথ।
উর্দু চাপিয়ে, শৃঙ্খল বাঁধতে চাইল যারা,
তারা ইতিহাসে থাকল শুধুই কালো ছায়া।

একুশের রক্তে জন্ম নিল অমর অগ্নি,
শব্দ হয়ে ছড়িয়ে গেল সমস্ত বেদী।
মাতৃভাষা আজ স্বাধীন, অটল, অবিস্মরণীয়,
বিশ্ব জানে—ইউনেস্কোতেও তার অভিজ্ঞান।

ফুল দিয়ে শেষ নয়, ফুল দিয়ে শেষ নয়—
কর্মে, চর্চায় ভাষা বাঁচুক চিরকাল।
মাতৃভাষার মর্যাদা আমাদের অঙ্গীকার,
একুশের শপথ, রক্তের ঋণ, চিরন্তন অভিসার।


০১-০২-২০২৬

তুমিই ভবিষ্যৎ জনতার নেত্রী

 তুমিই ভবিষ্যৎ জনতার নেত্রী

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
******************************************
হে নারী, তোমার চোখে আমি দেখি
এক নতুন বাংলাদেশের জাগ্রত সকাল,
কুয়াশা ছিন্ন করে উঠে আসে রোদ—
ভাঙে ভয়ের তালা, ভাঙে অচল শেকল।

তুমি কোন দলে—সে প্রশ্ন আজ ক্ষুদ্র,
বৃহৎ তুমি মানবতার মানচিত্রে,
শিক্ষার দীপ্তিতে দীপ্ত তোমার কণ্ঠ,
মার্জিত আচরণে দৃঢ় প্রতিজ্ঞার চিত্রে।

বিদেশের আরাম হাতছানি দিয়েছিল,
বিলাস ডেকেছিল নীল আকাশের নিচে—
তবু মাটির গন্ধ, মায়ের আঁচল
ডেকেছে তোমায় স্বদেশের দ্বারপ্রান্তে এসে।

তুমি বলো—নতুন বন্দোবস্ত চাই,
চাই সুশাসনের অগ্নিশুদ্ধ পথ;
দুর্নীতির আঁধার ভস্মীভূত হোক,
আইনের শাসনে জাগুক রাষ্ট্রব্রত।

তুমি বলো—মুক্তিযুদ্ধ কেবল ইতিহাস নয়,
সে আজকের নৈতিক কম্পাস;
অর্থনৈতিক মুক্তি মানে কেবল সংখ্যা নয়,
মানুষের মর্যাদা—নিত্য শ্বাস।

গণতন্ত্র মানে ভোটের দিনটি নয়,
দিনরাত্রি জবাবদিহির আলো;
শিক্ষা-স্বাস্থ্য মানে বিলাস নয়,
জীবনের ন্যূনতম অধিকার—সবাইকে দাও।

বৈষম্যের দেয়াল ভাঙার মন্ত্র তুমি,
মবতন্ত্রের বিরুদ্ধে বজ্রধ্বনি;
স্বৈরতন্ত্রের কালো ছায়া কাটিয়ে
স্বচ্ছ আকাশে উড়াও ন্যায়-পতাকা নির্ভীকিনী।

কালো টাকার বিষ তুমি চেনো,
তাই রক্তে টেনে নাও নৈতিক শুদ্ধতা;
নেতা-জনতার মাঝে গড়ো সেতু,
সংঘাত নয়—সহমর্মিতার দৃঢ়তা।

হিংসা-প্রতিহিংসার চক্রে তুমি আগুন নও,
তুমি শুদ্ধ জলের ধার;
তোমার ব্যবহার, উপস্থাপনার ভঙ্গিতে
জনতা খুঁজে পায় বিশ্বাসের নোঙর-তার।

প্রকৃতি যেমন ঝড়ের পর দেয় রংধনু,
তেমনি তুমি সংকটের পরে আশা;
নদী যেমন পথ খোঁজে সাগরের দিকে,
তুমিও এগোও—ন্যায়ের অভিমুখে ভাষা।

নজরুলের বজ্রকণ্ঠে যদি বলি আজ,
তুমি বিদ্রোহ—তুমি মানবিক সাহস;
ভয়ের কারাগার ভেঙে তুমি হাঁটো,
মুক্ত মানুষের মিছিলে প্রথম নিশ্বাস।

বিশ্ব জেনেছে—নামটি আজ উচ্চারিত,
ডা. তাসনিম জারা—নিলোর্ভ দীপ্তি;
তুমি ভবিষ্যৎ, তুমি জনতার নেত্রী,
স্বপ্ন নয়—তুমি জাগ্রত সত্যের শক্তি।
--------------------------------------------


০১-০২-২০২৬