সোমবার, অক্টোবর ০৫, ২০২৬

মিষ্টি হাসির যন্ত্রণা (গান)

 


কবি— মোহাম্মদ আমিনুল এহছান মোল্লা।
রাওনাট, কাপাসিয়া, গাজীপুর।

********************************************


হৃদয়ের ফ্রেমে এঁকেছিলাম
যে হাসিটার আলপনা,
আজ কেন তবে সেই হাসিটাই
বিষাদমাখা কল্পনা?

শত চেষ্টাতেও মুছলো না দাগ,
মলিন হলো না সেই ফ্রেম,
চৌদিকে তার জমে আছে আজ
একাকীত্বের নোনা প্রেম।


মরণব্যাধির মতো আঁকড়ে
আছে বুকের গভীরে ব্যথা,
লোকে বলে সেই মিষ্টি হাসিটা
আজ তো শুধুই অতীত-কথা।

তবুও শ্রাবণের মেঘের মতো
স্মৃতিরা জাগে অবিরত,
হৃদয় গহীনে ভেসে ওঠে আজও
প্রথম দেখার সেই ক্ষণ।


মিষ্টি হাসির অতল যন্ত্রণা,
বুকে নিয়ে বেঁচে আছি,
ঝড়ের রাতেও ভাঙা নীড়ে
একা এক চাতক পাখি।

মিষ্টি হাসির অতল যন্ত্রণা,
ভুলতে তোমায় পারি না,
হাসির আড়ালে কেন লুকালে
এত গভীর যন্ত্রণা?


হাসির উৎস মরে গেছে কবে,
শুকিয়ে গেছে রে নদী,
প্রেমের বাগানে ফুল ফোটে কেন
যদি ভালোবাসা না ফোটে কভু?

ফুল ঝরে গেছে, রয়ে গেছে শুধু
রক্তিম পাপড়িগুলি,
বিষাক্ত এক ছোবল মারে
স্মৃতির কপাট খুলি।


সুযোগ পেলেই দংশন করে
বুকের নরম ঘাসে,
তোমার দেওয়া সেই মিষ্টি হাসি
এমন কেন যে হাসে?


মিষ্টি হাসির অতল যন্ত্রণা,
বুকে নিয়ে বেঁচে আছি,
ঝড়ের রাতেও ভাঙা নীড়ে
একা এক চাতক পাখি।

মিষ্টি হাসির অতল যন্ত্রণা,
ভুলতে তোমায় পারি না,
হাসির আড়ালে কেন লুকালে
এত গভীর যন্ত্রণা?


দিবানিশি নেই কোনো বিশ্রাম,
ছায়ার মতন ঘোরে,
নিষ্ঠুর এক ছলনা ছড়ায়
চন্দ্রিমা-রাত জুড়ে।

হে কল্পনা! কেন দিয়েছিলে
এমন হাসির বাঁধন?
যার আড়ালে লুকিয়ে কাঁদে
অবুঝ মেঘের ক্রন্দন।


বলবে কি তুমি আকাশকে ছুঁয়ে,
কেন হেসেছিলে সেদিন?
কেন ভুলতে পারি না তোমায়,
কেন এ হৃদয় ঋণ?


কেন হেসেছিলে সেদিন...
কেন হেসেছিলে সেদিন...


মিষ্টি হাসির অতল যন্ত্রণা
বুকে নিয়ে বেঁচে আছি,
ঝড়ের রাতেও ভাঙা নীড়ে
একা এক চাতক পাখি।


এ কী হাসি দিয়েছিলে তুমি,
হে আমার কল্পনা?
নাকি হাসির আবরণে বুনেছিলে
শুধুই যন্ত্রণা?

কেন ভুলতে পারি না তোমায়,
উত্তর কি দেবে?
নাকি এই চিতার আগুন
বুকেই জ্বলে রবে?

কেন হেসেছিলে সেদিন,
বলবে কি একবার?
নাকি স্মৃতির এই দহনই
আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ উপহার?


মিষ্টি হাসির অতল যন্ত্রণা,
বুকে নিয়ে বেঁচে আছি,
ভাঙা নীড়ে ঝড়ের রাতে
একা এক চাতক পাখি।

মিষ্টি হাসির অতল যন্ত্রণা,
তবু তোমায় ভুলিনি,
হাসির আড়ালে যে কান্না ছিল,
আজও তারই সুর শুনি।


কেন হেসেছিলে সেদিন...


কেন ভুলতে পারি না তোমায়...

---------------------------------------------------------

 

রবিবার, অক্টোবর ০৪, ২০২৬

Student



 কবি মোহাম্মদ আমিনুল এহছান মোল্লা।
রাওনাট, কাপাসিয়া, গাজীপুর।

**************************************


জাগো রে ছাত্র! জাগো রে প্রাণ!
জাগো নব-তরুণ!
তোমার বুকে আগুন জ্বালো,
তুমি দুর্জয়, তুমি অরুণ!

ঘুমিয়ে থেকো না আর,
ভাঙো আঁধার-রাত্রি!
জ্ঞানকে করো অস্ত্র তোমার,
সত্যকে করো সাথী!


জাগো! জাগো! জাগো!
জাগো রে তরুণ!
জ্ঞান-আলোয় গড়ব মোরা
নতুন দিনের ভুবন!


S — Smart!
বুদ্ধির দীপ জ্বালো বুকে,
সত্যের পথে চলো,
অজ্ঞতার সব কালো মেঘ
জ্ঞান-ঝড়ে আজ দলো!


T — Talented!
প্রতিভার আগুন নিয়ে
ভয়কে করো ক্ষয়,
দুর্গম পথ পেরিয়ে চলো,
সাফল্য তোমার জয়!


U — Unique!
তুমি অনন্য, তুমি অদ্বিতীয়,
তোমার শক্তি অসীম!
নিজের স্বপ্ন নিজেই গড়ো,
হও না কখনো হীন!


আমরা হারব না!
আমরা থামব না!
বাধা যত আসুক সামনে,
পিছিয়ে যাব না!


D — Dedicated!
লক্ষ্য যদি থাকে অটুট,
কে রুখিবে তোমায়?
ঘাম ঝরিয়ে, শ্রম দিয়ে
জয় ছিনিয়ে আনো হায়!


E — Educated!
শিক্ষা শুধু পুঁথির কথা
নয় যে জীবনের,
শিক্ষা মানে সত্যের পথে
মানুষ হওয়া মননের!


N — Noble!
মহৎ হও, সত্য বলো,
অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াও!
দুর্বলের চোখের পানি
নিজের হাতে মুছাও!


T — Thoughtful!
চিন্তার আগুন জ্বালো,
প্রশ্ন করো নির্ভয়ে!
সত্য-ন্যায়ের পতাকা নিয়ে
চলো সবাই একসাথে!


S — Smart!
T — Talented!
U — Unique!
D — Dedicated!
E — Educated!
N — Noble!
T — Thoughtful!


জাগো STUDENT! জাগো রে জাগো!
ভাঙো ঘুমের দ্বার!
তোমার হাতে জ্ঞানের মশাল,
তোমার হাতে ভার!

জাগো STUDENT! জাগো রে জাগো!
আঁধার করো ক্ষয়!
জ্ঞান, সততা, মানবতায়
হোক তোমাদের জয়!


তুমি ছাত্র—তুমি সৈনিক!
তুমি আগামীর শক্তি!
তোমার কলম বজ্র হোক,
তোমার বুকে ভক্তি!


তুমি ছাত্র—তুমি স্বপ্ন!
তুমি নতুন দিনের গান!
তোমার জ্ঞান, তোমার শ্রমে
জাগুক প্রিয় বাংলাদেশ মহান!


কে রুখিবে?
— কেউ না!
কে থামাবে?
— কেউ না!
জ্ঞান যার হাতে,
ভবিষ্যৎ তার!
জাগো তরুণ!
জাগো বারবার!


শৃঙ্খলা হোক শক্তি,
সততা হোক ঢাল,
মানবতার জয়ধ্বনিতে
কাঁপুক সকল কাল!


জাগো রে ছাত্র!
জাগো রে প্রাণ!
জাগুক তোমার
বাংলাদেশ মহান!

কলম হোক তলোয়ার,
জ্ঞান হোক অগ্নিশিখা,
সত্যের পথে চলবে যারা—
তারাই হবে দিশা!


S — Smart!
T — Talented!
U — Unique!
D — Dedicated!
E — Educated!
N — Noble!
T — Thoughtful!

STUDENT!
STUDENT!
STUDENT!

জাগো!
জাগো!
জাগো রে জাগো!


শিক্ষাই আলো!
শিক্ষাই শক্তি!
শিক্ষাই মুক্তির গান!
জ্ঞানী তরুণ গড়বে এবার
সোনার বাংলাদেশ মহান!

জয় হোক জ্ঞানের!
জয় হোক মানবতার!
জয় হোক তারুণ্যের!
জয় হোক বাংলাদেশের!

------------------------------------------------


বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ০১, ২০২৬

“অগ্নিপথের অগ্রনায়ক”

 

 

কলমে: মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।
রাওনাট, কাপাসিয়া, গাজীপুর।

--------------------------------------

একাত্তরের অগ্নিস্মৃতি,
মুক্তির সংগ্রাম,
আর অগ্নিপথে এগিয়ে চলা একদল তরুণের বীরত্বগাথা—
এই কবিতা আপনাদের সম্মুখে উপস্থাপন করছি।

 

জাগো বাংলা,
জাগো রে ভাই,
জাগো তরুণ—জাগো!

একাত্তরের অগ্নিশপথ
বুকে নিয়ে—জাগো!

মাহমুদুল আলম খান বেনু—
অগ্নিপথের অগ্রনায়ক,

রাজাবাড়ীর মাটির বুকে
তুললে প্রতিরোধের ডাক।

মাথা নত নয়,
ভয় নয়—

শপথ শুধু মুক্তির জয়!

বাংলার মাটি,
বাংলার মানুষ—

স্বাধীন হবেই—নিশ্চয়!

জাগো!

জাগো!

জাগো!

মুক্তির রণডাকে—
জাগো!

জয় বাংলা!

জয় বাংলা!

স্বাধীনতার পতাকা ওড়াও!

মার্চের কালো আকাশে
যখন যুদ্ধেরই ডাক,

ছাত্র-তরুণ এক কাতারে
গড়ল প্রতিরোধের বাঁধ।

রাজাবাড়ীর পূর্বপ্রান্তে
মাটি কেটে ঘাঁটি,

ভয়কে জয় করে জ্বালল তারা
স্বাধীনতার বাতি।

বেনুর নেতৃত্বে
জাগল তরুণের দুর্বার প্রাণ,

দেশ মানে মাটি,
মানুষ, মর্যাদা—

দেশ মানে বাংলাদেশ মহান!

মাহমুদুল আলম খান বেনু—
অগ্নিপথের অগ্রনায়ক,

রাজাবাড়ীর মাটির বুকে
তুললে প্রতিরোধের ডাক।

মাথা নত নয়,
ভয় নয়—

শপথ শুধু মুক্তির জয়!

বাংলার মাটি,
বাংলার মানুষ—

স্বাধীন হবেই—নিশ্চয়!

রাজাবাড়ীর সেই স্ফুলিঙ্গ
ছড়িয়ে গেল দিগধায়,

কাপাসিয়া থানার পথে
অস্ত্র-গোলার প্রস্তুতি হয়।

রাউৎনাট-নাজাইড়ে তখন
সংঘর্ষের আগুন,

জনতার বুকে স্বাধীনতার শপথ
হলো দ্বিগুণ।

একজনের নয় এ যুদ্ধ—

এ যুদ্ধ সবার প্রাণ!

তরুণ-জনতা এক কাতারে—
স্বাধীন বাংলাদেশ মহান!

রাজাবাড়ী থেকে দিগধা—
জাগল রণহুঙ্কার,

রাউৎনাট-নাজাইড়ে বাজল
প্রতিরোধের ঝংকার!

জাগো!
জাগো!
জাগো!

মুক্তির রণডাকে—
জাগো!

হানাদার এলো আগুন হাতে,
জ্বলল জনপদ,

নির্যাতন আর হত্যাযজ্ঞে
কাঁদল বাংলার হৃদয়।

তবু...

আগুন নিভাতে পারেনি
মুক্তির অঙ্গীকার,

রক্তে রক্তে জেগে উঠল
স্বাধীনতার হুঙ্কার!

স্বাধীনতার হুঙ্কার!

আগুন দিয়ে থামাতে চেয়েও
থামাতে পারেনি প্রাণ,

অগ্নির মাঝেই জেগে উঠল
মুক্তির বাংলাদেশ মহান!

শপথ ছিল বুকের মাঝে—
পিছু হটার দিন নয়,

স্বাধীনতার রক্তপথে
ভয়কে করার ভয় নয়।

মাটি, মানুষ, মাতৃভূমি—
সবই ছিল প্রাণের গান।

অন্যায়ের শিকল ভেঙে—

গড়ব স্বাধীন বাংলাদেশ মহান!

বেনুর ডাকে তরুণ জাগে,
জাগে জনতার প্রাণ,

একাত্তরের অগ্নিশপথ—
মুক্তিরই আহ্বান।

রাজাবাড়ীর সেই প্রতিরোধ
আজও জাগায় জয়,

রক্তে লেখা স্বাধীনতা—
চির অমর হোক বাংলাদেশময়!

গিলাপুরা টেকের পথে
উঠল যুদ্ধের গান,

জামিরাচরের মাটিতে
বাজল মুক্তির ত্রাণ।

তরগাঁওয়ের রণাঙ্গনে
রক্তাক্ত প্রভাত,

মুক্তিযোদ্ধা-জনতার বুকে
এক স্বাধীনতার জাত!

কে জানত কত দীর্ঘ হবে
স্বাধীনতার পথ,

কে জানত কত মৃত্যু,
কত বিচ্ছেদ, কত ক্ষত!

তবু...

পরাধীনতার কাছে
নত হয়নি প্রাণ,

সাহস, ঐক্য, আত্মত্যাগে—

জিতল বাংলাদেশ মহান!

মাহমুদুল আলম খান বেনু—
অগ্নিপথের অগ্রনায়ক!

তোমার নামে জেগে উঠুক
একাত্তরের অগ্নিডাক!

রাজাবাড়ী!

দিগধা!

রাউৎনাট-নাজাইড়ের রণধার!

গিলাপুরা টেক!

জামিরাচর!

তরগাঁও!

জাগুক বারবার!

জাগো বাংলা!

জাগো কাপাসিয়া!

জাগো মুক্তির প্রাণ!

রক্তে লেখা একাত্তর—

বাংলাদেশ—

মহান!

মাথা নত নয়!

নয়!

ভয়কে মানব না!

না!

অন্যায়ের কাছে—

না!

বাংলাদেশ হারবে না!

না!

বাংলাদেশ হারবে না!

মানুষ যাবে,
প্রজন্ম যাবে,

তবু স্মৃতি যাবে না মুছে,

রাজাবাড়ীর সেই প্রতিরোধ
জ্বলবে ইতিহাসের বুকে।

বেনুর নাম শুধু এক নাম নয়—

এক প্রজন্মের গান,

একাত্তরের অগ্নিতরুণ—

কাপাসিয়ার গর্ব ও সম্মান!

মাহমুদুল আলম খান বেনু—

অমর হোক!

রাজাবাড়ীর প্রতিরোধ—

অমর হোক!

একাত্তরের তরুণ-জাগরণ—

অমর হোক!

কাপাসিয়ার মুক্তির রণগাথা—
অমর হোক!

জয় বাংলা!

জয় স্বাধীনতা!

জয় বাংলাদেশ!!!

জাগো বাংলা!

জাগো!

জাগো কাপাসিয়া!

জাগো!

অগ্নিপথের অগ্রনায়কের নামে—

রণধ্বনি উঠুক—

বারবার!

বারবার...

বারবার...

--------------------------------------------

মিষ্টি হাসির যন্ত্রণা (গান)

  কবি — মোহাম্মদ আমিনুল এহছান মোল্লা। রাওনাট , কাপাসিয়া , গাজীপুর। ******************************************** হৃদয়ের ফ্রেমে এঁ...