Wednesday, June 10, 2026

সেইদিন আমি বুঝিনি

সেইদিন আমি বুঝিনি—
তোমার নীরব বুকেও বাজে বজ্রের মতো প্রেম,
শব্দহীন হলেও তার আঘাত
ভেঙে দেয় সমস্ত অহংকারের প্রাচীর।

সেইদিন আমি বুঝিনি—
তুমি ছিলে আমার অন্তরের অগ্নিগিরি,
যার ভেতরে ঘুমিয়ে ছিল
ভালোবাসার অগ্নিস্রোত, অনিবার্য বিস্ফোরণ।

তোমার চোখ ছিল—
বিদ্রোহী রাতের গভীর তারা,
যেখানে তাকালেই আমি হারিয়ে যেতাম
নিজের পরিচয়ের বিরুদ্ধে।

তোমার হাসি ছিল—
নতুন ভোরের শপথ,
যা পুরোনো সমস্ত অন্ধকারকে
এক ঝটকায় ভেঙে চূর্ণ করে দিত।

আজ বুঝি—
ভালোবাসা মানে শুধু কোমলতা নয়,
এ এক অগ্নিযুদ্ধ,
যেখানে হৃদয় নিজেই নিজের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়।

তুমি ছিলে আমার ভাঙা সময়ের বিপ্লব,
আমার নিঃশব্দ বুকে গর্জে ওঠা তুফান,
যার শব্দে কেঁপে ওঠে
অতীত, বর্তমান, আর সমস্ত অসম্ভব ভবিষ্যৎ।

তুমি না থেকেও আছো—
আমার প্রতিটি শিরায় রক্ত হয়ে,
আমার প্রতিটি শব্দে বিদ্রোহ হয়ে।

আর তাই আজও বলি—
সেইদিন আমি বুঝিনি,
আমি শুধু একজন মানুষকে নয়,
একটি আগুনকে ভালোবেসেছিলাম
যা আজও নিভে যায়নি,
শুধু রূপ বদলেছে আমার কবিতায়।
----------------------------------------------------


১০-০৬-২০২৬

ওরে ও অশুভ শক্তি

 কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।

************************************

ওরে অশুভ শক্তি,
মনে রাখিস
আজ তোর উত্থান,
কাল তোর পতন অনিবার্য!
ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না,
সংযত এখনি।

আজ তুই বুলেটের জোরে কেড়ে নিস কোটি মুখের ভাষা,
লুটেপুটে খাস মানুষের শেষ ভরসা।
তোর দুর্নীতির কালো হাত
গিলে খাচ্ছে গোটা দেশটা!
আইন তোর গোলাম, তুই দিনকে করিস রাত,
ক্ষমতার অপব্যবহারে তুই করিস চরম আঘাত।

অসহায় মানুষের কান্নায় ভারী বাতাস,
মিথ্যে মামলায় বন্দি স্বাধীন আকাশ।
অধিকার চাইলে জোটে নির্যাতন, লাঠি আর ফাঁসি,
তোর মুখে পৈশাচিক হাসি!

রক্তের নদীতে ভাসালি আজন্মের চেনা এই শান্ত জনপদ,
কেড়ে নিলি মানুষের বেঁচে থাকার নূন্যতম চিরন্তন অধিকার,
কিন্তু ভুলে যাস নাজনতার পুঞ্জীভূত ক্ষোভের এই মহাবিপ্লবে
চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে ধুলোয় মিশবে তোর ওই শোষণের শ্বেত সিংহাসন!

কিন্তু মনে রাখিস ওরে অত্যাচারী শোষক,
আজ তুই অন্যায়ের যে পুঁজি জমাচ্ছিস বুকে,
কাল তা- তোর সাজানো বাগান পুড়িয়ে ছারখার করবে!
তোর নিজের জ্বালানো আগুন
তোকেই গ্রাস করবে দ্বিগুণ।

দিন বদলাবে,
মানুষ বুক চিতে দাঁড়াবে।
কেঁপে উঠবে তোর রাজপ্রাসাদের ভিত্তি,
ভেঙে পড়বে তোর অন্যায়ের কীর্তি।

এখনো সময় আছে, সংযত ,
নইলে ইতিহাসের পাতায় ধুলো হয়ে মিশে যাবি তুই,
আর মানুষের জয়ে গাইবে গানমুক্তির এই নতুন ভুঁই!

----------------------------------------------

এই কি তোর শিক্ষা?

 কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা,

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।

*************************************

কাগজের ওই ডিগ্রি তো নয়,
তো স্রেফ ছাই!
ভেতরে যদি মানুষ না জাগে
তবে শিক্ষার কোনো দাম নাই!

বুক ফুলিয়ে ঘুরছিস তোরা,
পকেটে ভরা টাকা,
ভেতরে তোদের পশুর বাস,
বিবেকটা গেছে ঢাকা!

ওরে ডিগ্রিধারী!
তুই ডাক্তার ,
ইঞ্জিনিয়ার ,
কিংবা কোটিপতি, শিল্পপতি,
জাঁদরেল উকিল, ব্যারিস্টার,
রাজনীতিবিদ, হুজুর মাওলানা কিংবা শিক্ষক
যাই হোস না কেন তুই এই দুনিয়ায়,
কী মূল্য আছে তার,
যদি তোর মনুষ্যত্ববোধই মরে যায়?
বল্ দেখি ভাই, এই কি তোর শিক্ষা?

তোর জ্ঞানের আলোয় কেন তবে আজ আঁধারে কাঁদে দেশ?
কেন শোষকের বেশে চুষে খাস শ্রমিকের ঘামের শেষ?
তুই মববাজি করিস,
ফ্যাসিবাদের জল্লাদ সাজিস,
রাজকোষ চুরি করিস,
টাকা পাচার করিস,
অত্যাচারী সাজিস অহরহ!
মিথ্যার কারবার,
বিশ্বাসঘাতকতা,
দেশবিরোধী তোর এই বিদ্রোহ!
বল্ তো দেখি, এই কি তোর শিক্ষা?

পরের ধন লুটে আজ বুক ফুলাস,
আর জন্ম দেওয়া বৃদ্ধ পিতা-মাতাকে কষ্ট দিয়ে পাঠাস বৃদ্ধাশ্রমে!
আত্মীয়-স্বজনের প্রতি তুই নির্দয়,
বুকটা তোর পাথরে গড়া,
তোর এই পিশাচ রূপ দেখে
আজ সমাজটা ছারখার হওয়া!
রে পাষাণ, এই কি তোর শিক্ষা?

ধিক্ ওরে ধিক্,
শত ধিক্ তোকে!
তোর এই সুশিক্ষার মুখে মারি জুতো,
ছিঁড়ে ফেলি ওই কাগজের সনদ,
মানুষ ঠকিয়ে যে জ্ঞান পেয়েছিস
তা তো বিষাক্ত মদ!
শিক্ষা জাতির কলঙ্ক,
প্রকৃত শিক্ষার চরম অপমান,
যে শিক্ষা মানুষকে মানুষ করে না,
তা তো পশুরই জয়গান!

আমি চাই না ওমন কলঙ্কিত আলো,
তার চেয়ে ঢের আঁধারও যে ভালো।
আমি চাই না কোনো ফাঁপা সনদ,
আমি চাই সে আলোক-শিক্ষা
যা মানবিক মূল্যবোধে গড়া,
শিক্ষিত, জ্ঞানী গুণী প্রাণ!
যার মধ্যে থাকবে
মানব মুক্তির আলো,
যা মানুষকে ভালোবাসতে শেখায়,
ভেতরে জাগায় সাম্যের গান!

হৃদয় হোক আসল বিদ্যালয়,
চেতনা হোক চির উন্নত,
মানবিকতার এই মহাতীর্থে
সব ভণ্ডামির মাথা হোক আজ অবনত!

--------------------------------------------------------------------------