Thursday, July 9, 2026

বৈভবের রক্ত-উৎসব

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।

**********************************
চাই
না অর্থ! চাই না ছাই!
মানুষের রক্ত-চোষা বৈভব নাই চাই!
যে ধন অমানুষ করে রে মানুষকে,
অন্ধ-বধির করে চিরচেনা চোখকে,
দলে যায় মায়া, মমতা প্রীতি
আমি পদাঘাত করি ওরে, যে পিশাচের রীতি!

সোনার শিকলে বাঁধা অট্টালিকা?
তো নয় সুখ, যে কঙ্কাল-শিখা!
টাকার অহংকারে ফেটে পড়ে বুক,
মুখোশের নিচে তোদের হায়েনার মুখ!
মরে যায় শ্রদ্ধা, মরে ভালোবাসা,
টাকাই কি আজ তোদের সর্বনাশা আশা?
ধিক্ তোরে শত ধিক্!
পয়সার লোভে তোরা বেচিস রে নিজেরে, বেচিস রে দিক্!

রক্তের বাঁধন?
ছিঁড়েছিস তোরা তারে করে উপহাস!
ডলারের লোভে আজ ভাই খুন করে ভাই,
বন্ধুর বুকে তোরা ঢালিস রে ছাই!
বন্ধুত্ব? সে তো আজ বাজারের পণ্য
পয়সার চরণে বিকায় কূটিল নগণ্য!
যে বৈভব বুক ভাঙে, হৃদয় ছারখার করে,
আমি চাবুক মারি তার জৌলুস-ভরে!

শোন রে বিলাসী, শোন রে কুবের!
হিসাব কি রেখেছিস তোদের পাপের?
মায়া-মমতাহীন ওই নরকের কূপে
টাকা দিয়ে সাজবি কি দেবতার রূপে?
তার চেয়ে ভালো ওই দীন-দরিদ্রের ঘর,
সেথা বুক চেরা প্রেম আছে, কেউ নয় পর!

টুটে যাক, টুটে যাক অর্থের দাসত্ব,
জেগে ওঠ্ রুদ্র, জেগে ওঠ্ মনুষ্যত্ব!
যে বৈভব শান্তি কেড়ে নেয়,
শুধু বিষাদ, কান্না আর নরক ঢেলে দেয়
তার মুখে মারি লাথি, তারে করি ছাই,
আমি সাম্যের, আমি শুধু বিদ্রোহী ভালোবাসার গান গাই!

----------------------------------------------------------

 

কষ্ট দিয়ে হলেও

কলমেঃমোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর

*********************************

কষ্ট দিয়ে হলেও তুমি সুখে থাকো
আমার হৃদয় আজও তোমার পথের শিশির হয়ে ঝরে।
তোমার দেওয়া প্রতিটি ব্যথা
আমি গোলাপের কাঁটার মতোই বুকে ধারণ করেছি,
কারণ কাঁটা ছাড়া গোলাপের পূর্ণতা কোথায়?

আমি কষ্টকে কখনো অভিশাপ বলিনি,
শুধু ঘৃণা করেছি তোমার অহংকার,
অভদ্রতার কালো মেঘ,
আর মিথ্যে অভিনয়ের রঙিন মুখোশ।
ভালোবাসা যেখানে নদীর মতো স্বচ্ছ,
সেখানে প্রতারণা কেবল মরুভূমির মরীচিকা।

আমাকে ভাঙতে গিয়ে
আজ তুমি নিজেই ভেঙে পড়েছো
নিজেরই জ্বালানো আগুনের অনলে।
তো হওয়ার কথা ছিল না
অহংকারের প্রাসাদ কখনো
চিরদিন দাঁড়িয়ে থাকে না;
একদিন ঝড় এসে তাকে
শুকনো পাতার মতো উড়িয়ে নিয়ে যায়।

কাউকে কষ্ট দেওয়ার আগে
নিজের সুখের প্রদীপটি জ্বালিয়ে নিও,
কারণ অন্যের ঘরে আগুন দিলে
তার ধোঁয়া আগে নিজের আকাশেই জমে।
যে নদী অন্যের তীর ভাঙে,
একদিন সে নিজের মোহনাও হারায়।

বলতে পারো
তুমি কি সত্যিই সুখী হয়েছো?
চাঁদ কি কখনো
সূর্যের আলো কেড়ে নিয়ে জ্বলে?
ফুল কি কখনো
অন্য ফুলকে শুকিয়ে দিয়ে সুবাস ছড়ায়?
বসন্ত কি কখনো
শীতের বুকে বিষ ঢেলে আসে?

ভালোবাসতে না পারো,
তবু অপমান কোরো না;
হৃদয় ভেঙো না অহংকারের তলোয়ারে।
মধুর আচরণই মানুষের শ্রেষ্ঠ অলংকার,
নম্রতাই চরিত্রের সুগন্ধি ফুল।

আমি আজও তোমার অমঙ্গল চাই না,
শুধু চাই
একদিন তুমি বুঝে নাও,
ভালোবাসা জয় করে ভালোবাসায়,
ঘৃণায় নয়।
যেদিন বুঝবে,
সেদিন হয়তো কোনো নীরব সন্ধ্যায়
ঝরা শিউলির সুবাসে মনে পড়বে
যে মানুষটি কষ্ট পেয়েও
শেষ প্রার্থনায় বলেছিল,
"কষ্ট দিয়ে হলেও তুমি সুখে থাকো।"

--------------------------------------------------

মৃত্যুও হলো নিঃশব্দে হে ববি বেগম

 মৃত্যুও হলো নিঃশব্দে হে ববি বেগম

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

**************************************

বাক্হারা এক বৃদ্ধা
তবু কত ভাষা ছিল তাঁর নীরব দুই চোখে,
স্টেশনের ধুলোর সঙ্গে মিশে ছিল
পঁচিশ বছরের ঘাম, ক্ষুধা, অপমান,
আর চল্লিশ হাজার টাকার ক্ষুদ্র এক স্বপ্ন।

মেথিকান্দার প্ল্যাটফর্ম জানে,
কত ভোর তিনি ঝাড়ু দিয়েছেন
অপরের ফেলে যাওয়া ময়লা সরিয়ে;
কিন্তু মানুষের হৃদয়ের আবর্জনা
সরানোর সাধ্য ছিল না তাঁর।

এক রাতে লোভ এল
মানুষের মুখ পরে, মানুষের হাত নিয়ে।
ঘুমন্ত শরীর ভেঙে দিল,
স্বপ্ন লুটে নিল,
রাষ্ট্রের দরজায় রেখে গেল
এক রক্তাক্ত প্রশ্নচিহ্ন।

তিনি কোনোদিন কথা বলতে পারেননি,
তাই শেষ আর্তনাদও
বাতাস ছাড়া আর কেউ শুনল না।
যে কণ্ঠ জন্ম থেকেই স্তব্ধ,
তার মৃত্যুও হলো নিঃশব্দ
কোনো শোকমিছিল নেই,
কোনো উচ্চারণ নেই,
শুধু রেললাইনের বুক চিরে
দীর্ঘশ্বাস হয়ে বয়ে চলে ট্রেন।

ববি বেগম,
আপনি ভিক্ষা চাননি শুধু
চেয়েছিলেন মানুষকে।
চেয়েছিলেন একটু নিরাপদ রাত,
এক মুঠো সম্মান,
একটি পৃথিবী,
যেখানে দরিদ্রের সঞ্চয়
মৃত্যুর কারণ হয়ে ওঠে না।

আমরা লজ্জিত
কারণ আপনার হত্যার আগে
আমরাই বহুবার
আপনাকে একা ফেলে এসেছি।
আমাদের সভ্যতা আজ
আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে
নিজের মুখ চিনতে পারে না।

পুরাণ বলে
অত্যাচারের অন্ধকার চিরকাল থাকে না;
অলক্ষ্যে জন্ম নেয় প্রতিরোধের আলো।
ইতিহাস বলে
অবহেলিত মানুষের দীর্ঘশ্বাস
একদিন সময়ের বিবেক হয়ে ফিরে আসে।
কিন্তু আজ,
সে আশ্বাসও কেমন দূরের বাঁশি,
আমরা যেন অপেক্ষার অনন্ত প্রহরে
নিজেদেরই হারিয়ে ফেলেছি।

আমরা সবাই যেন
অদৃশ্য কোনো গডোর প্রতীক্ষায়
যে এসে বলবে,
মানুষের জীবন ভিক্ষার পাত্র নয়,
রাষ্ট্রের দায় কেবল দর্শক হয়ে থাকা নয়,
ন্যায়বিচার বিলম্বিত হলে
সভ্যতার মুখই কালো হয়ে যায়।

হে ববি বেগম,
আপনার নীরবতা আজ
আমাদের সব ভাষার চেয়ে উচ্চকণ্ঠ।
আপনার রক্তে লেখা প্রশ্ন
এখনও ঝুলে আছে
মেথিকান্দার আকাশে।

আর আমরা,
মাথা নত করে শুধু উচ্চারণ করি
হে মোর দুর্ভাগা দেশ,
যাদের করেছ অপমান,
অপমানে একদিন
হতে হবে সবার সমান।

---------------------------------------------