Thursday, August 20, 2026

আতঙ্কিত অভিভাবক

 কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

*********************************************

হে পৃথিবীর মানব সভ্যতা! চেয়ে দেখ আজ এই বাংলার জমিনে,
মা-বাবার চোখে শুধুই আতঙ্ক, জল ঝরে পড়ে নিশিদিন ক্ষণে ক্ষণে।
বুকে কাঁপে ভয়,
কখন কী হয়!
ছেলে-মেয়ে নিয়ে দুঃচিন্তা বাড়ে,
সুখ কেড়ে কাড়ে।
ঘর থেকে তারা বাইরে গেলে যে বুক দুরুদুরু করে,
কোনো নিশ্চয়তা নেই তো মা-বাবার, আবার কি ফিরবে ঘরে?
অপেক্ষা শুধু বাড়ে,
কড়া নাড়ে কি যম দ্বারে?

কন্যা সন্তান ঘরেতে থাকিলে ভয় বাড়ে আরো দ্বিগুণ,
চারিদিকে চলে বখাটে ছেলের ইভটিজিং আর খুন!
লাশ পড়ে যায়,
বিচার কে পায়?
কিশোর গ্যাংয়ের বাড়ছে দৌরাত্ম্য,
নষ্ট হচ্ছে আজ মানুষের আত্ম্য।
রাজনীতির এই করাল গ্রাসেতে তাজা প্রাণ সব ঝরে,
মাদকের ভয়াল থাবায় সোনার সংসার মরে।
নেশার আগুনে পুড়ে,
স্বপ্ন সব যায় উড়ে।

মতপার্থক্যের বাড়ছে বিভাদ, ভাঙছে যে আজ প্রীতি,
চারিপাশে শুধু হাহাকার আর হারিয়েছে সব নীতি।
অপরিপক্ক প্রেম,
ভাঙে সুনামের ফ্রেম।
ছেলে মেয়ের অবাধ মেলামেশা,
লেখাপড়া ছেড়ে শুধু ইন্টারনেটের নেশা!
ভার্চুয়াল এক জগতে ডুবিয়ে রাখছে নিজের মাথা,
ভুলে গেছে তারা আজ সংসারের মায়া ভালোবাসার গাঁথা।
বই খাতা সব দূরে,
মন চলে যায় কোন সুরে!

বখাটে বন্ধুর দল জুটে গেছে, ধরিয়েছে ভুল হাত,
অভিভাবকের চোখে তাই আজ কেটে যায় শুধু রাত।
পড়াশোনায় নেই মন,
হারিয়ে যাচ্ছে অমূল্য ধন।
সংস্কারে লেগেছে মরচে,
টাকা শুধু যাচ্ছে খরচে!
আদর্শ আজ নির্বাসনে, নীতি নৈতিকতা শেষ,
এই আশঙ্কায় দিন কাটে আজ, বদলে যাচ্ছে দেশ।
মা-বাবার বুকে চাপা হাহাকার, কেউ কি তা শুনতে পায়?
ভবিষ্যতের এই কালো ছায়া দেখে পরান জুড়িয়ে যায়?

হে সভ্যতা! চেয়ে দেখ আজ বাংলার এই চিত্র,
অন্ধকারে তলিয়ে যাচ্ছে চেনা সমাজ মিত্র।
কবে হবে শেষ?
কাঁদে এই দেশ।
এই আর্তনাদ পৌঁছাবে কবে তোমাদের কানে?
শান্তি কি আর ফিরে আসবে না এই বাংলার ময়দানে?
বাঁচাও আমাদের প্রাণ,
ফিরিয়ে দাও সন্তানদের মান!

----------------------------------------------------------------------

 

রক্ষা করো ঐতিহ্যের রাজবাড়ীর মাঠ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

***********************************************************

রক্ষা করো! রক্ষা করো!
ঐতিহ্যের এই রাজবাড়ীর মাঠ রক্ষা করো!
ভাঙো রে আজ অপশক্তির ওই শোষণের কালো নাট!
ভাওয়াল রাজার দর্প ছিল যেথা,
গাজীপুরের শান,
সে চত্বরে আজ হায়েনারা এসে হানছে বিষাক্ত বাণ?
হে ঐতিহ্যের রাজবাড়ীর মাঠ,
তুমি কি আজো মৌন রবে?
কালো শকুনির থাবার আঘাতে তোমার গৌরব খর্ব হবে?
না! হতে দেবো না!
তোলো হুঙ্কার, ভাঙো শৃঙ্খল-তালা,
ঐতিহ্যের বুকে কেন জ্বলবে আজ শ্মশানের চিতা-জ্বালা?

যে বুকে খেলেছে শত শত প্রাণ,
জন্মেছে কত বীর,
সে বুকেই আজ জুয়ার আড্ডা? কেন বাঙালি নতশির?
একী দৈন্যতা! একী লুণ্ঠন!
আজ চেয়ে দেখে মহাকাল,
বাঙালির সংস্কৃতি ভুলে বসেছে নিষিদ্ধ জুয়ার জাল।
জয়দেবপুর সরকারি স্কুলের চঞ্চল দূরন্ত ছেলে,
কোথায় যাবে সে আজ,
যদি মাঠই ধুলোয় যায় মেলে?

ওরে লোভী, ওরে দস্যু, তোদের রেহাই নাই
জনতার মাঠ জনতাকে দে, পুড়িয়ে করব ছাই!
এই তো সে মাঠ
যেথা ঈদের চাঁদের আলোয় জাগে খুশির কোলাহল,
কাতারে কাতারে কাঁধে কাঁধ মেলায় লাখো মানুষের দল!
পবিত্র সেই ইদগাহের পুণ্যভূমি আজ অপবিত্র করে কারা?
লজ্জায় আজ আকাশ-বাতাস, প্রকৃতি যে দিশেহারা!

এই তো সে মাঠ
যেথা শেষ বিদায়ের অশ্রু ঝরে শান্ত জানাজায়,
মৃতের তরে মোনাজাত বাড়ে ব্যথিতের হাহাকার!
যেথা জীবনের শেষ প্রার্থনা আকাশে ছড়ায় সুর,
সেথা বসেছে জুয়ার আড্ডা? পাপ তো সুপ্রচুর!
বিকেলের ওই সোনা রোদ মেখে বন্ধুরা মেলে ডানা,
ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের হাসিতে নেই তো কোনো মানা।
রাজনীতি আর সমাজ বদলের স্বপ্ন বোনে যে যুবদল,
সেই মাঠ আজ গিলে খেতে চায় রাক্ষসেরা দলবল?

তুমি ছিলে জীবনের খোলা বাতায়ন,
অসুস্থের শেষ শিফা,
আবাল-বৃদ্ধ-বনিতার তুমি শান্তির এক দীপ্ত শাফা।
তুমি বিনোদনের মুক্ত আকাশ,
তুমি অবসরের পরশ,
তোমার বুকেই মিলত রে আগে বাঙালির চির হরষ।
তুমি পঙ্গু হলে,
পঙ্গু হবে আজ গাজীপুরের প্রাণ,
কে সেই হায়েনা? কে চলায় ছুরি? কার এত বড় ঘাড়!
ছিঁড়ে ফেলো আজ ওই পাপিষ্ঠের রক্তলোলুপ হাত,
লাথি মেরে ভাঙো ওই শোষকদের নোংরা চক্রান্তের দাঁত!

জেগে ওঠো তবে হে জেলা প্রশাসক!
ধরো দ্রোহের সুতীব্র গান!
কেন রাজবুকে জুয়ার আসর? কেন সংস্কৃতির অপমান?
মেলার নামে কোন নোংরামি?
কেমন কদাচার?
ঐতিহ্যের বুকে ছুরি মেরে কারা করছে রে হাহাকার?
দেখো না কি তুমি এই অত্যাচার?
কেন প্রশাসন আজ চুপ?
গাজীপুরবাসী দেখতে চায় না মাঠের কালরূপ!
চোখ খোলো আজ,
নয়তো জনতা নেবে নিজের হাতেই ভার
তুফান মেলানো ঝড়ে ভেঙে দেবো এই পাপের ব্যভিচার!

রাজনীতির এই নোংরা খেলা
রুখে দাও এই বেলা,
ব্যবসায়িক কোনো কেন্দ্র নয় , নয়তো পাপের মেলা!
মাঠ আমাদের প্রকৃতির মহিমা,
আমাদের অধিকার,
জনতার মাঠ জনতাকে দাও, ভেঙে ফেলো কারাগার!
মেলার নামে কালো শক্তির উত্থান করিয়ো না আর,
জনতার রোষে পুড়ে ছারখার হবে শোষকের দরবার!
ওরে ভণ্ড ধনিকের দল!
ওরে ক্ষমতার দম্ভধারী!
মাঠের বুকে হেনেছিস আঘাত, এবার তোদেরই পালা হারি!

জাগো হে জনতা!
জাগো গাজীপুর! তোলো বিপ্লবের সুর,
কালো থাবা ছিঁড়ে মুক্ত করো এই মাঠের অমিয় নূর!
ধ্বংস করো ওই কালো শক্তি,
তোলো প্রতিবাদের ঝড়,
মুক্ত আবহাওয়া বাঁচাবে আমাদের, ভাঙবে শত্রুর ঘর।
রাজবাড়ীর মাঠ আমাদের গর্ব,
আমাদের চেতনার ঘাট
রক্ষা তোমায় করবই মোরা, ভাঙব শৃঙ্খলের এই নাট!
আমরা বিদ্রোহী, আমরা বিপ্লবী,
রুখবে আমাদের কে?
মাঠের মরণ রুখতে এবার নিজের জীবন দেবো যে!
রক্ত দিয়েছি, রক্ত দেবো, মুক্ত করব মাঠ
ঘুচিয়ে দেবো রে ভণ্ডামির এই নোংরা রাজপাট!

----------------------------------------------------------