কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
************************************
ওহে মানুষ,
জাগো
তবে!
আর
কতকাল
সহিবি
এই
নরপশুদের দানব-উৎসবে?
বেয়াদবতন্ত্রের জঘন্য
থাবা
চাটছে
দেশের
চিবুক
চুমে,
নীতি-নৈতিকতা শিকায় তুলে, কারা
আজ
নাচে
এই
মরূভূমে?
উগ্রতার এই
রক্ত-উৎসবে দীক্ষিত আজিকার
তরুণ-তরুণী,
মুখে
মুখে
ঘোরে
অশ্লীলতার বিষাক্ত খই,
কেউ
কারো
কথা
শুনিনি!
কোথায় শালীনতা?
কোথায়
সে
লাজ?
উগ্র
আধুনিকতার ছদ্মবেশে আজ
পশুত্ব
জিতেছে
সমাজ!
মঞ্চে
মঞ্চে
আজ
কেবলি
ভণ্ড
নেতার
উগ্রতা,
মাইক
ধরিয়া
করে
শুধু
গালিগালাজ আর
বর্বরতা!
মুখের
ভাষায়
নেই
কোনো
বিষ-শোধন,
অশ্লীলতার বন্যায়
ভেসে
যায়
নন্দন!
রাজনীতির ঐ নোংরা রঙশালায়,
বেয়াদবি আজ
সিংহাসন পায়!
দেশসেবার নামে
চলে
প্রকাশ্য লুটপাট,
লুটেরা
সেজেছে
সাধু,
গরিবের
কপালে
কষাঘাত!
চেয়ারে বসিয়া
জনকের
বয়সী
বৃদ্ধেরে দেয়
গালি
ছোকরার
দল,
চামচারা হাসে,
হাততালি দেয়,
ক্ষমতার লোভে
চোখ
ছলছল!
ত্যাগী
নেতা
আজ
কোণঠাসা বড্ড,
চাটুকারেরাই পায়
পদ,
সংসদে
বসে
চলে
কাদা
ছোড়াছুড়ি আর
কূট-শপথ!
পেশার নামেতে
চলে
প্রকাশ্য বাটপাড়ি,
জ্ঞানের কদর
নেই,
টেবিলের নিচে
শুধু
টাকার
কাড়াকাড়ি!
ঘুষখোর
আজ
সমাজেতে বীর,
জ্ঞানী-গুণী কোণঠাসা, মূর্খ
উঁচায়
শির!
কলম
সৈনিক
বেচে
দেয়
বিবেক,
চামচাগিরিতেই বাড়ে
মান,
আদালতের বারান্দায় কাঁদে
ন্যায়বিচার, টাকার
জোরে
পার
পায়
শয়তান!
ডাক্তার ভুলেছে
সেবা,
কসাইয়ের ছুরি
হাতে
খোঁজে
শুধু
ফি,
শিক্ষক
বেচিয়া
খায়
প্রশ্নপত্র, মানুষ
গড়ার
কারিগর
আজ
কি?
মালিকের চোখে
শুধুই
অন্ধ
অহংকার,
শ্রমিকের রক্ত
চুষে
গড়ে
তোলে
সে
ঐশ্বর্যের প্রাসাদ তার!
ঘামের
মূল্য
না
দিয়ে
বাবুরা
গায়ে
জড়ায়
রেশমি
বসন,
ক্ষুধার্ত পেটে
শ্রমিক
কাঁদে,
তবু
থামে
না
শোষণ!
শ্রমিকও আবার
সুযোগ
খুঁজিয়া মালিকের বুকে
মারে
ছুড়ি,
কাজে
দেয়
ফাঁকি,
ইউনিয়ন
গড়ে
হাড়ভাঙা খাটুনিতেই করে
জুয়াচুরি!
ছোটরা বড়রে
সম্মান
ভোলে,
বড়রা
দেখায়
শুধু
ভুঁড়ি!
রাস্তায় ঘাটে
মুরুব্বি দেখিলে
ছোকরারা ওড়ায়
ধোঁয়া,
বেয়াদবিকে ভাবে
স্মার্টনেস, আদব-কায়দা যেন ছোঁয়াচে রোগ
ছোঁয়া!
গুরুমশাইয়ের কলার
ধরে
আজ
অবাধ্য
ছাত্রের দল,
পিতা-মাতার মনে নিত্য
জ্বলে
কুলাঙ্গার সন্তানের অনল!
স্নেহ-মমতার
পবিত্র
বন্ধন
টুটেছে,
শ্রদ্ধাবোধ আজ
এই
দেশ
থেকে
চটেছে!
ভাইয়ের
রক্তে
হোলি
খেলে
আজ
মদমত্ত
এক
ভাই,
সংস্কারে আঘাত
হেনে
বলে—"আমাদের কোনো ভয়
নাই!"
নারীর
বসনে
হাত
দেয়
লম্পট,
যুবতীও
ভুলেছে
নারীর
লৈঙ্গিক মান,
ডিজিটাল পর্দায়
অশ্লীল
নাচনে
বিকিয়ে
দেয়
নিজের
সম্মান!
রাষ্ট্রের রন্ধ্রে রন্ধ্রে আজ
শুধু
নিয়মের
ব্যভিচার,
আইন
যেখানে
ঠুঁটো
জগন্নাথ, সেখানে
কীসের
আর
সদাচার?
টাকার
জোরে
আজ
অপরাধী
পায়
রাজকীয়
সম্মান,
ন্যায়পরায়ণ নাগরিক
ভোগে
আজ
আজীবন
अपमान!
লাথি মার,
ভাঙরে
তালা!
যত
সব
বেয়াদব-ভণ্ডদের মুখে ছুঁড়ে দে
আগুনের
জ্বালা!
ভেঙে
ফেলো
এই
বেয়াদবতন্ত্র,
ছিঁড়ে
ফেলো
এই
ভণ্ডামির মন্ত্র!
বজ্রকণ্ঠে তোলো
রে
آواز, হানুক
তূর্য-নাদ,
রুধিতে
হইবে
এই
পঙ্কিলতা, রুখতে
হবে
অপরাধ!
নজরুলের ঐ বিদ্রোহী তানে জাগো রে
তরুণ
দল,
উপড়ে
ফেলো
এই
জঞ্জাল,
তোলো
প্রলয়-বিপ্লবের ঢল!
----------------------------------------------------------------------------------