Thursday, May 7, 2026

আমি জনতার কবি

 আমি জনতার কবি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
-----------------------------------------
আমি জনতার কবি, কণ্ঠে আমার বজ্রের হুঙ্কার,
দুঃশাসনের তখত কাঁপাতে সঁপেছি এ জীবনবার।
অন্যায়ের সাথে আপোষহীন আমি এক বিদ্রোহী সত্তা,
শোষিতের তরে গর্জে উঠি, ছিঁড়ি শৃঙ্খল ও অবজ্ঞা।

আমি পিশাচের বিভীষিকা, আমি শোষকের যমদূত,
আমার কলমে বারুদ জ্বলে, আমি বিপ্লবের দূত।
মৌনতা ভেঙে রুখে দাঁড়াই যখন মানবতা কাঁদে,
শৃঙ্খল ভাঙার গান গাই আমি মুক্ত আকাশ ফাঁদে।

মিথ্যাচারের কালো আঁধারে আমি ধ্রুবতারা একাকী,
অত্যাচারের দুর্গ ভাঙতে আমিই ঝঞ্ঝা ও বৈশাখী।
হকের কথা বলতে আমায় কাঁপাতে পারবে না কেউ,
আমি উত্তাল সাগরের সেই অবাধ্য বিদ্রোহী ঢেউ।

জনতার চোখে স্বপ্ন বুনি, মিছিলে হই সেনানী,
মস্তক অবনত করি না কোনো শাসনের কাছে জানি।
যেখানে আঁধার, যেখানে অন্যায়, সেখানে আমার বাস—
বিদ্রোহী কবির বজ্রশপথে হোক সব গ্লানির বিনাশ।
-------------------------------------------------------

বিদীর্ণ মানবতা

 বিদীর্ণ মানবতা

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর
*****************************************
স্তব্ধ আকাশ, নির্বাক আজ ধরিত্রীমাতার কোল,
মানুষের বেশে রক্তপিপাসু পশুদের কলরোল!
আশরাফুল মাখলুকাত? ছিঃ! এ যে নরকের কীট,
লজ্জায় নত মস্তক আজ, ভেঙেছে সম্মানের ভিত।

গর্ভবতী সেই জননী, যার পেটে আগামীর ভ্রূণ,
তার দেহ ছিঁড়ে উল্লাসে মাতে কামার্ত শকুন!
যে নারীর আঁচল ছায়া দেয়, যে নারী গর্ভধারিণী,
সেই শরীরের রক্তে ভিজলো হিংস্র দানব-কাহিনী।

একটি নয়, দুটি প্রাণ নিল নরপশুদের থাবা,
পৈশাচিকতায় পুড়ে ছাই হলো মায়া ও মমত্বা-আভা।
গর্ভের শিশু টেনে বের করে নিভিয়ে দিল তার শ্বাস,
ওরা কি পুরুষ? না কি জীবন্ত বিষাক্ত এক লাশ?

চারপাশে ভিড়, হাতে মোবাইল, সেলফি তোলার ধুম,
মানুষের বিবেক মরেছে কবে, চোখে নেই কারো ঘুম।
অর্ধনগ্ন লাশের পাশে চলে ভিডিও করার খেলা,
মানবতা আজ ডাস্টবিনে মরে, এ যে ঘোর অবহেলা!

হে বিচারক, হে শাসকদল, আর কতকাল রবে মৌন?
ধর্ষক যখন দাপিয়ে বেড়ায়, বিচার কি তবে গৌণ?
কলম ধরো, গর্জে ওঠো, রুখে দাঁড়াও আজ সবে—
ফাঁসির দড়িতে ওই জানোয়ারের শেষটা দেখতে হবে।

হে প্রভু! তুমি ওই মা ও শিশুর পরপারে দিও ঠাঁই,
আর এ জমিনে পিশাচমুক্ত কঠোর বিচার চাই।
একটিই দাবি, একটিই সুর, স্তব্ধ হোক সব গ্লানি—
পিশাচের তরে শুধুই মৃত্যু, ফাঁসি, ফাঁসি আর ফাঁসি!
--------------------------------------------------


২৭-০৪-২০২৬

জনতার প্রতিক্রিয়া

 জনতার প্রতিক্রিয়া

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*************************************
ওরে ও কান্ডারী! গদিতে বসিয়া একি শোনাও আজব কথা?
জনতারে তুই ভাবিস কি আজও জ্ঞানহীন মূর্খতা?

আজ রাজসুখে যাহারে বলিছ ‘জনতার প্রতিক্রিয়া’,
কাল সেই রোষ তোমারে চূর্ণ করিবেই প্রলয় দিয়া!
মব্-এর থাবায় টুপি-লুঙ্গি-ধুতি ছিঁড়ে হয় খানখান,
তারেও কি আজ ‘জনগণ’ বলে গাহিবে জয়ের গান?

সাহস থাকে তো নাম ধরি ডাকো— বলো ওরে ‘মব’ আজ,
বিবেকের টুঁটি টিপিয়া কেন রে পরিলে মিথ্যার সাজ?
আজ তুষ্ট করিছ যে হঠকারী দল, যারা গড়ে অনাচার,
কাল ধেয়ে এলে তোমারি দুয়ারে— কোথায় লভিবে পার?

যাদের উস্কানি দিয়া আজি তুমি ভাবিছ অমর রবে,
সেই মব্ যদি ফোঁসে একদিন— জবাব কি দিবে তবে?
শোনো রে ও মূঢ়! মসনদ কভু কারো তরে রয় না চির,
জনতার এই রুদ্র রোষেতে লুণ্ঠিত হবে শির।

আদালত আজ সাজাও নিজের খামখেয়ালি ওই তুলিতে,
বিচার আসিবে জনতার ওই মহাপ্রলয়ের ঝুলিতে।
লজ্জিত হবে নিজেরই কর্মে, শোনো ওরে সাবধান!
সাধু সাবধান! আঁধার ঘনিলে খুঁজিবে না পরিত্রাণ।

নির্মূল করো ওই মব্-দানব, হানো আইনের বাণ,
আইনের হাতে সঁপিয়া দাও রে ন্যায়ের বলীয়ান।
বিপ্লব মানে অরাজকতা নয়, নহে ওই অনাচার—
সত্যের জয় হউক ঘুচিয়া এ ঘোর অন্ধকার!

লজ্জিত হবে তোমারই কর্মে, শোনো ওরে সাবধান!
সাধু সাবধান! আঁধার ঘনিলে খুঁজিবে না পরিত্রাণ।
মব-দানবেরে নির্মূল করো, হানো আইনের তলোয়ার,
আইনের শাসন কায়েম করিয়া বাঁচাও এ দেশ আমার

আজ যাহারে বলিছো তোমরা— ‘জনতার প্রতিক্রিয়া’,
কাল ইতিহাস লিখিবে তাহারে ‘হঠকারী রণ-ক্রিয়া’।
----------------------------------------------------------------------------

কৃষকের পাশে কাপাসিয়ার এমপি

 কৃষকের পাশে কাপাসিয়ার এমপি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া, গাজীপুর
************************************
হে তামাম পৃথিবী শোনো!
আমি কোনো দলের নই, কোনো মতের নই—আমি এক স্বাধীন কবি,
আমি সত্যের তূর্য বাজাই, আমি আঁকি আগামীর ছবি!

আমি দেখেছি সেই বিরল দৃশ্য, সাম্যের মহান গান,
মাটির মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে আজ এক শুদ্ধ প্রাণ।
কাপাসিয়ার জনপদে জেগেছে আজ নতুন এক উপমা,
যেথা আভিজাত্যের মোহ টুটেছে, নেমেছে মেঘের ক্ষমা।

এমপি জনাব সালাহউদ্দিন আইউবী—ওরে ও নামটা শোন,
ধানের ক্ষেতে নেমেছেন তিনি, কাস্তে হাতে করেছেন রণ!
সে কি রাজনীতির খেলা? না রে, সে যে মানবিকতার জয়,
কৃষকের ঘামে ভিজেছে যার গা, তারে কি কোনো ভয়?

ওরে ও স্বার্থপরের দল! ওরে ও মিথ্যা গরিমাধারী,
সেবা দিয়ে দেখাও দেখি, ঘুচাও দুঃখের জঞ্জাল ভারি।
আমি ব্যক্তি নই, আমি স্যালুট করি মহৎ সেই কর্মে,
মানুষের পাশে দাঁড়ানোই শ্রেষ্ঠ—পাবো কোন ধর্মে?

সাবাস হে জননেতা! সাবাস তোমার এই মানবিক সাজ,
কৃষকের পাশে দাঁড়িয়ে তুমি শিখালে আসল কাজ।
সালাহউদ্দিন আইউবীর এই ছবি রবে বাংলার জমিনে চিরদিন,
যেথা কাস্তে আর হাত এক হয়ে মিটায় সাম্যের ঋণ!

মানুষের তরে জাগো হে পথিক, ঘুচাও সকল ভেদাভেদ,
সেবার মন্ত্রে মুছে ফেলো আজ যত হিংসার বিচ্ছেদ।
এমপির মতো তুমিও নামো ওই মেহনতি মানুষের দলে,
মানবিকতার জয় পতাকা উড়ুক এই ধরিত্রীর তলে!
-----------------------------------------------

অঘোষিত প্রেম

 অঘোষিত প্রেম

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
****************************************************
সেদিন অবেলায় কাশফুলে মেখেছিল রোদের কাঞ্চন,
অবুঝ বালিকা তুমি, হাসলে যখন ছিঁড়ে হৃদয়ের বন্ধন।
রাঙা ঠোঁটের সেই মায়াবী রেখায় ছিল না কোনো কারসাজি,
অথচ আমার চাতক মনে নামলো এক অদ্ভুত শ্রাবণের বাজি।

তুমি হাসলে নিছক কৌতুহলে, যেমন ফোটে বুনো ফুল,
আমি সেই হাসিতেই ডুবে মরলাম, হারালো নদীর দুই কূল।
নিজের অজান্তেই বুকের নির্জনে আঁকলাম আলপনা সযত্নে,
তুমি ধরা দিলে না কখনো, রয়ে গেলে কোনো এক গভীর রত্নে।

যতই দিন যায়, বুকের পাঁজরে জমে মেঘের ঘনঘটা,
তুমি আড়াল হলেই নামে কালবৈশাখী, হাহাকারের ছটা।
এক জ্বলন্ত দাবানলের সামনে দাঁড়িয়ে করেছি অভিনয়ের ছল,
চিনি না তোমায়— এই মিথ্যে সাজাতে চোখে জমেছে নোনা জল।

হৃদয়ের গহীনে কখন যে হয়েছে রক্তক্ষয়ী এক অলিখিত চুক্তি,
এ এক মায়াবী শৃঙ্খল আমার, যেখানে নেই কোনো মুক্তি।
হয়তো কোনোদিনও জানবে না তুমি এ প্রেমের গভীরতা কতখানি,
কতটা দীর্ঘশ্বাস মিশে আছে আমার প্রতিটি নির্জন চোখের পানি।

যদি শরতের মেঘ হয়ে আমায় পুড়িয়ে দিতে নীল আগুন দাও,
আমি দেব বসন্তের হিমেল হাওয়া, যদি তুমি ফিরে তাকাও।
জানি অবহেলায় শুকিয়ে ঝরে যাবে আমার এই অঘোষিত প্রেম,
তবুও স্মৃতির নীলপদ্মে তুমিই থাকবে চিরদিনের শ্রেষ্ঠ ফ্রেম।

অপুর্ব এক শূন্যতা নিয়ে আমি বয়ে বেড়াবো এই ব্যদনার ভার,
তুমিই ছিলে আমার না পাওয়া জোছনা, আমার অন্ধকার।
-------------------------------------------


০৬-০৫-২০২৬

এক অবুঝ হৃদয়ের চুক্তি

 এক অবুঝ হৃদয়ের চুক্তি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
**********************************************
সেদিন গোধূলি লগ্নে হঠাৎ, থমকে গিয়েছিল চাওয়া,
অবুঝ বালিকা তুমি দিলে মনে, তপ্ত দখিনা হাওয়া।
রাঙা ঠোঁটে ফুটেছিল এক ফালি চাঁদ, কৌতূহলহীন হাসি,
বুঝিনি তখন আমার আকাশে, মেঘ জমবে রাশি রাশি।

মোর অজান্তেই আঁকতে বসিলাম, সেই হাসির আলপনা,
হৃদয় ক্যানভাসে শুরু হলো এক— অবুঝ রক্তক্ষরণা।
তুমি আড়াল হলেই মনে হতো মোর, পৃথিবীটা এক মরু,
বুকের খাঁচায় কাঁপতো কেবল, নাম না জানা এক তরু।

উন্মাতাল কালবৈশাখীর ঝড়ে, ঘর ভেঙে হতো চুর,
শুন্যতা এসে বাজাতো কেবল, করুণ বিষাদ সুর।
তপ্ত অনলে দাঁড়িয়ে সাজালাম, মিথ্যে হাসির মেলা,
নিদারুণ এক অভিনয়ে কাটে, আমার সারাটা বেলা।

জানি না কখন অলক্ষ্যে মোর, ঝরেছে সহস্র প্রহর,
তোমার নামে বিঁধেছে হৃদয়ে, নীলকণ্ঠ এক বিষের নহর।
চেয়েছি বুঝাতে তুমি পরজন, নও কোনো আপনার,
তবু ব্যর্থ এ মন মানে নি বারণ, ভেঙেছে সকল দ্বার।

সাক্ষী রইলো নিঝুম রাত আর— নক্ষত্র পুঞ্জীর মুক্তি,
হৃদয়ের রক্তে সই হলো মোর 'এক অবুঝ হৃদয়ের চুক্তি'।
হয়তো কোনোদিনও বুঝবে না তুমি, এ দহনের নীল আভা,
হয়তো কোনোদিনও দেখবে না তুমি, এ প্রেমের গভীরতা কভু।

যদি কোনোদিন ঘৃণা ভরে মোরে, দাহ করো কোনো আগুনে,
আমি হব হিমেল পরশ তোমার, ঝরবো ফাল্গুনে।
বোবা কান্নায় ভিজে যাক মাটি, পুড়ে হোক সব শেষ—
তোমাকে চাওয়াতেই পূর্ণ হোক মোর, ভালোবাসার অবশেষ।
-----------------------------------------------------------------


০৬-০৫-২০২৬

গোলামী চুক্তি

 গোলামী চুক্তি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*****************************************
জাগো রে বাংলার দামাল সন্তান, জাগো রে বীর জনতা,
কে আজি লিখিল স্বদেশের বুকে গোলামী-চুক্তি-কথা?
মুক্ত আকাশ, মুক্ত এ মাটি, স্বাধীন সোনার দেশ—
কার অনুমতিতে শিরে চাপালি পরাধীনতার বেশ?

চুপ কেন ওরে ওগো শাসকদল? চুপ কেন আজ বীর?
অশুভ চুক্তির বিষ-দংশনে লুটায় কি নত শির?
মার্কিন সেথা সর্বেসর্বা, সবটুকুই তার লাভ,
আমাদের ভাগে যাতনা কেবল—বঞ্চনা-আরোপিত চাপ!

সে আসিবে বীরের দাপটে হেথায়, আইন তাহার হাতে,
আমরা মরিব পলে পলে ওরে তিলে তিলে তার সাথে!
এ কেমনতর সাম্য ওরে? এ যে শোষণের কালো ছায়া,
দেশদ্রোহীর ওই কালিতে ম্লান বাংলার মায়া!

সংসদে তোলো এই কালো লিপি, জনতারে করো সাফ,
নইলে জনতা কভু দিবে নাকো এই অপরাধে মাফ!
পদ্মা-মেঘনা-যমুনা আজিকে ডেকে বলে একি ভুল—
স্বাধীন দেশের সার্বভৌমত্ব করিছ কি নির্মূল?

ছিঁড়ে ফেলো ওই অসম চুক্তি, ভেঙে ফেলো ওই জাল,
মুক্তিযোদ্ধার মতো গর্জো বাঙালি—উড়াও বিজয়ী পাল!
কার অনুমতিতে শিরে চাপালি পরাধীনতার বেশ?
চুপ কেন ওরে ওগো শাসকদল? চুপ কেন আজ বীর?

জাগো রে বাংলার দামাল সন্তান, জাগো রে বীর জনতা,
কে আজি লিখিল স্বদেশের বুকে গোলামী-চুক্তি-কথা?


-----------------------------------------------------------


০৫-০৫-২০২৬

আমি সত্যের রথী

 আমি সত্যের রথী

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*******************************************
বলো বীর—
বলো, উন্নত মম শির!
আমি মানি না তোদের স্বৈরতন্তের ওই রক্তচক্ষু ক্রুর,
আমি ছিঁড়েছি আজ ভীরু মৌনের ওই মরণ-শীতল সুর!
আমি সত্যের রথী, আমি দুর্মদ, আমি বিদ্রোহী চিরকাল,
তোর জুলুমের ওই মিথ্যে জেলখানা ভাঙবই আজ সকাল।

ওরে ও শাসক!
তুই কি ভেবেছিস—
মুক্তির কথা শিকল দিয়ে করবি রে কারারুদ্ধ?
তোর পা-চাটা ঐ চাটুকাররাই কি আজ দেশপ্রেমের শুদ্ধ?
যারে আজ বলিস ‘দোসর’ তুই, সেই তো মাটির প্রাণ,
তোর মিথ্যে তকমার ভয় পায় না যে কোনো গান।

তুই কি দেখেছিস চারদিকে ঐ উগ্র পিশাচের উল্লাস?
দেশপ্রেমের নাম করে যারা করছে দেশটাকে গ্রাস?
কলম স্তব্ধ? খবরদার! কলম তো বারুদ-জ্বালা,
তোর ক্ষমতার ঐ মঞ্চ কাঁপাতে সে গাঁথবে মরণ-মালা।

ওরে ভণ্ড!
বাকস্বাধীনতা কি তোর চাতুরির বিষাক্ত হাতিয়ার?
নাকি মুক্ত চিন্তা মানে কেবল তোরই আজ্ঞাবহ অবিচার?
তুই কোথায় হে শাসক? সিংহাসনের আড়ালে করিস বাস?
তোর মবতন্ত্রের বিষে বাতাস আজ ঘুণে ধরা লাশ!

আমি আলীর তলোয়ার, আমি সুকান্তের সেই ছাড়পত্র,
আমি নজরুলের বাঁশরী আর ভীম-গদা সর্বত্র!
শোন রে পাপিষ্ঠ—
তোর রাজদণ্ড ভাঙবে যখন সাধারণের ঐ ক্ষোভে,
তখন কোথায় লুকাবি তোরে চাটুকারিতার লোভে?
মুক্ত চিন্তার আকাশ থেকে মুছবই তোদের ছায়া,
বিপ্লব জাগছে মাটির বুকে, আর নেই কোনো মায়া!

বিদ্রোহী আজ রণক্লান্ত হবে না কো শোষক,
যতক্ষণ না ছিঁড়বে তোদের ভণ্ডামির এই পোশাক!
আমি সত্যের রথী, আমি দুর্মদ, আমি বিদ্রোহী চিরকাল,
তোর জুলুমের ওই মিথ্যে জেলখানা ভাঙবই আজ সকাল।

--------------------------------------------------------------------------------

অবুঝ শিশু আজ ধর্ষিতা

 অবুঝ শিশু আজ ধর্ষিতা

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
*****************************************
হে শাসক, তোমার ওই রাজকীয় ক্ষমতার মসনদে
নিদ্রা কি আসে নির্বিঘ্নে?
যখন জানলার ওপাশে বাতাসের কান্নায় ভেসে আসে—
একটি এগারো বছরের অবুঝ শিশুর আর্তনাদ!
সে তো তোমারও সন্তান হতে পারত,
তবে কেন আজ বিচারহীনতার চাঁদরে ঢাকা এই আর্তনাদ?

মানব সভ্যতা আজ মুখ লুকায় পশুর লোকালয়ে,
বন্য জানোয়ারও লজ্জা পায় মানবের এই হীন আচরণে।
যাদের হাতে ছিল খাতা-কলম আর সুরক্ষার ভার,
সেই শিক্ষক, হুজুর কিংবা ক্ষমতার মোহে মত্ত পিশাচ—
সবাই মিলে ছিঁড়ে খাচ্ছে আগামীর নিস্পাপ কুঁড়ি।
হে মানব সভ্যতা, তোমার কি কোনো উত্তর আছে?

হে শাসক, আমরা দেখতে চাই না— কে ধনী, কে গরিব,
কে শিক্ষিতের মুখোশধারী আর কে ক্ষমতাবান।
আমরা শুধু দেখতে চাই সেই পিশাচের দণ্ড,
যে থাবায় রক্তাক্ত হয়েছে ওই নিষ্পাপ শিশুর শৈশব।
তুমিও কি তবে ওই ক্ষমতার মায়াজালে অন্ধ?
নাকি বিচারের বাণী আজ নিভৃতে কাঁদে?

জেগে ওঠো হে অধিপতি, ভাঙো তোমার মৌনতা,
শাস্তির খড়্গ নামুক ওই নরাধমের ঘাড়ে।
নইলে ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবে অমোঘ সত্য—
তোমার রাজ্যেই মানবতা হেরে গিয়েছিল নরপশুর কাছে,
অবুঝ শিশু আজ ধর্ষিতা, আর তুমি ছিলে শুধুই নীরব দর্শক।

এগারো বছরের অবুঝ শিশু আজ গুমরে কাঁদে একা,
পিশাচের লালসায় অকালে যে বিষের পেল দেখা।
শিশুটির দেহে বইছে আজ এক পৈশাচিক ঘৃণা,
সে যে আজ অন্তঃসত্ত্বা, হে শাসক— জবাব দেবে না?
-------------------------------------------------


০৫-০৫-২০২৬

বীরশ্রেষ্ঠের গলায় দড়ি!

 বীরশ্রেষ্ঠের গলায় দড়ি!

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************************
ঐ কার হাত উঠল আকাশে? কার হাতে আজ রশি?
বাংলার বুকে একি হাহাকার! একি বিভীষিকা সর্বনাশী!
হে মসনদের কান্ডারী শোনো,
ঘুমিয়ে কি আছ আজো কোনো মোহ-ঘোরে?
দেখো বীরের রক্তে রঞ্জিত মাটি ভিজে যায় চোখের লোরে।

যাদের অস্থি-মজ্জার ভিত্ এ সোনার বাংলাদেশ,
তাদেরই গলায় ফাঁস ঝোলে আজ? একি দুরাশার শেষ?
ওরে ও পাষাণ, ওরে ও নরক-কীট!
শহীদের মান ভাঙিস যদি, তবে চূর্ণ হবে এ পিঠ।

জাগো রে বিদ্রোহী, জাগো রণ-তুর্য বাজে!
শয়তান হাসে স্বাধীনতার ওই পবিত্র সাজে।
রক্তধারা কি শুকিয়ে গিয়েছে? নিভেছে কি বিদ্রোহ-শিখা?
বাংলার ললাটে তবে কেন আজ কলঙ্ক-তিলক লিখা?

যে হাত ছুঁয়েছে বীরের ভাস্কর্য—দেশবিরোধী সেই হাত,
উপড়ে ফেল্ ওই অসুর-পঞ্জি, আনরে বজ্রপাত!
টেনে আনো ওদের রাজপথে আজ, ছিন্ন কররে মুণ্ডু,
জেলে দে আবার দেশপ্রেমের ওই প্রলয়-অগ্নি কুণ্ডু।

লড়াকু সেনানি, তরী বাও তুমি বীরের রক্তস্রোতে,
শকুনের বাসা ভেঙে দাও আজ এ বাংলার মাটি হতে।
বীর শ্রেষ্ঠেরা মরে না কখনো, তারা অবিনাশী জ্যোতি,
অত্যাচারীর বিনাশ না হলে ঘুচবে না এ দুর্গতি।

বীর শ্রেষ্ঠেরা অমর, অক্ষয়, মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাণ,
ইতিহাসের পাতায় তারা চিরকাল মহীয়ান।
জাগো বাংলার তারুণ্য, ধরো ঐ বজ্র-মুষ্ঠি,
নিপাত করো আজ স্বাধীনতা-বিরোধী সকল পুষ্টি।

বীরত্বের অপমানে আকাশ উঠুক কেঁপে,
অন্যায়কে চূর্ণ করো প্রবল বিক্রমে ঝেঁপে!
আবার আসুক সেই একাত্তরের অগ্নি-বিপ্লব,
ঘুচে যাক বাংলার যত পিশাচ আর কলরব।
------------------------------------------


০৫-০৫-২০২৬

জাগো হে শাসক!

 জাগো হে শাসক!

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**********************************
বজ্র বিষাণ বাজাও আজিকে, দুন্দুভি দাও হেনে,
পিতার বক্ষ বিদীর্ণ করি’ কন্যাকে নিল টেনে!
হায় রে দরদী, হায় রে মানব, হায় রে অবোধ দেশ—
অস্ত্রের মুখে আসুরিক উল্লাস, বিচার কি হবে শেষ?

কিশোর নয় সে— বিষধর কাল-ভুজঙ্গ চারিধারে,
পিতার নয়ন-সমুখে তনয়া লুণ্ঠিত হাহাকারে!
নির্বাক পিতা, নিথর হস্ত, নেত্র অশ্রু-হারা,
স্বাধীন দেশের ললাটে একি রে কলঙ্ক-রক্তধারা?

কোথা সে দণ্ড? কোথা সে শাসন? তখত কি আজ অন্ধ?
দিকে দিকে শুধু হাহাকার ধ্বনি, শ্বাপদ-হিংসে-দ্বন্দ্ব!
শহীদের রক্তে রঞ্জিত ভূমি সিক্ত যে আজ লাজে,
পিশাচের দল কেন উল্লাসে রাজপথ হেনে সাজে?

জাগো হে শাসক! প্রলয়-হুঙ্কারে ভাঙো এ মৌন ঘোর,
নইলে তোমার ললাটে আজিকে আঁধার তিমির ঘন ঘোর।
জবাব দাও হে— কেন শৃঙ্খলে মানবিকতার প্রাণ?
পিতার বক্ষে কেন বিঁধে আজ কন্যার অপমাণ?

এই কি স্বাধীন সোনার বাংলা? এই কি মুক্তিযুদ্ধের-দেশ?
যেথা অবলার আর্দ্র-নাদেও হয় না অনর্থ শেষ?
উত্থিত করো শাণিত খড়্গ, রুখো এ দানব-খেল,
নতুবা ধিক এ রাজ্যপাট— ধিক এ জতুগৃহের জেল!
-------------------------------------------------------------


০৪-০৫-২০২৬

যেমন পিতা তেমন পুত্র

 যেমন পিতা তেমন পুত্র

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর।
***************************************
পিতার রক্তে বহিছে যে ধারা, পুত্রে দিয়াছে টান,
আজিকে বিশ্ব হেরিল তাহার কদর্য আখ্যান।
জ্ঞানের মন্দিরে বিজ্ঞানের পাঠে কুটিল তর্কের ছলে,
ছাত্র ছুড়িল বিষাক্ত শর— অবিবেচকের মতো চলে।

শিষ্য হিল গুরুর গাত্রে, অতিশয় হীন কাজ,
সে বর্বরতা দেখিয়া আজিকে প্রকৃতি পেয়েছে লাজ।
যেই করজোড়ে প্রণাম সাজিত গুরুর চরণ-তলে,
সেই হাতে আজ পশুত্বের ছাপ— দম্ভের হলাহলে।

হে বিচারক! তব ধমনীতে মদমত্তের ধারা,
ন্যায়ের দণ্ড তুলিয়া নিয়েছ হিতাহিত জ্ঞানহারা।
আপনার গৃহে ডাকিলে গুরুরে দর্পের তর্জনীতে,
বিনা অপরাধে চাহিয়াছ তারে নিগ্রহে জড়াইতে।

পুত্রের পাপে লজ্জিত হতে আছিল তোমার দায়,
উল্টো তুমিই দলিলে গুরুরে ক্ষমতার নখরায়।
ছেলের চরণে নত করি শির, গুরুর মানিয়া হার—
রচিয়াছ তুমি এ কলিযুগের অমোঘ অন্ধকার।

পিতা যদি হয় অহমিকা-অন্ধ, তবে পুত্র কি মানুষ হয়?
বিচারের নামে করিয়াছ তুমি অবিচারের জয়।
ওগো শাসক! আঁখি মেলো দেখি ঘুণে খাওয়া সমাজরে—
জ্ঞানের প্রদীপ নিবালে যেথায় দম্ভের আঁধারে।

ধিক্ ওহে পিতা, ধিক্ তব পুত্র, ধিক্ তব অবিচার!
শিক্ষক কভু হারেনি কোনোদিন, হারিলে তুমিই আর—
তোমার বুকের পাষাণ-পুত্র, যে তব রক্তের দান,
সেই আজি তব মুকুটে লেপিল চরম অপমান।
--------------------------------------------------------


০৪-০৫-২০২৬

স্বদেশের আত্মাহুতি

 স্বদেশের আত্মাহুতি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
*******************************************
ওরে ওরে ভীরু কান্ডারী, একি শুনি তব পিঞ্জরে?
স্বাধীন দেশের রক্ত-নিশান কি আজ নিলাম হয় বর্বরে?
যেই মাটিতে শহীদ-গাজীর তপ্ত লহু মেশা,
সেথায় কেন ‘মৌসুমী’ শাসকের আজ গোলামীর এই নেশা?

একি মুক্তি? একি স্বাধীনতা? ওরে ওরে ভণ্ড বীর,
বিকিয়ে দিলি আমার সোনার দেশের আকাশ-মাটি-নীর?
যেই দলিলে ‘মার্কিন সার্টিফিকেশন’ সার্বভৌমত্বে হানে আঘাত,
সে দলিল কি স্বাধীন জাতির? ওরে আত্মঘাতী ম্রিয়মাণ ঘাত!

বোয়িং কেনার আবশ্যিকতায় কেন ঋণের রশি গলায়?
কৃষিপণ্য আর জ্বালানি এখন কেন বিদেশের ইশারায়?
দেশী খামারিরা পথে বসে আজ, কৃষকের চোখে জল,
রাজস্ব হারিয়ে দেশ কি তবে হবে বিদেশের পদতল?

ডেটা আর সাইবার সার্বভৌমত্ব কি আজ পণ্যের হাটে বিক্রি?
প্রতিরক্ষার গোপন কথা কেন পরের কাছে চাস ভিকিরি?
গোয়েন্দা তথ্য পাচার করে কি দেখাস স্বাধীনতার ভেল্কি?
পররাষ্ট্রের স্বাধীনতা কি আজ বিদেশের দাসখতে জিম্মি?

ওষুধের দাম আকাশ ছোঁওয়ালি, সাধারণের হাঁসফাঁস প্রাণ,
তোর কাছে কি এটাই তবে স্বদেশের মুক্তির গান?
কেন সংসদে উঠল না এই আঁধার রাতের চুক্তি?
জনতার রায়হীন এ দলিলে কোথায় দেশের মুক্তি?

কেন সায় দিলি? কেন সইলি? কেন মাথা করলি নত?
যাঁরা চায়নি স্বদেশ, তাদের পায়ে কেন এই আত্মক্ষত?
শোন রে শাসক, ইতিহাস তোকে কক্ষনো ক্ষমা দিবে না,
জনতার এই ক্রোধের আগুন দমে থাকতে জানে না!

আজি ছুঁড়ে ফেলে দাও ঐ মরণ-চুক্তি, ঐ গোলামি শৃঙ্খল,
জাগুক আবার স্বাধীন বাংলার অগ্নিবীণার অতল।
শির নেহারি আমারি নত হয় ঐ বিদেশীর উদ্ধত শির—
তবে তুই কেন আজ হীনন্মন্যতায় নুয়ে পড়িস রে কান্ডারী অধীর?
-----------------------------------------------------------------------

অঘোষিত দহন

 অঘোষিত দহন

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
************************************
একই বাগানে ফুটে আছো দুই ফুল, ব্যবধান শুধু টুকু—
অহমিকা আর মৌনতা আজ কামড়ে ধরেছে বুক।
পাশাপাশি থেকেও যোজন যোজন দীর্ঘ এ বনবাস,
একই বাতাসে মিশে আছে তবু গুমোট দীর্ঘশ্বাস।

কেউ বলেনি "বাসি ভালো", কেউ মেলেনি ডানা,
অথচ দুজনেরই হৃদস্পন্দন আজ একে অপরের চেনা।
হাজার ফুলের ভিড়েও আজ বাগানটা খাঁ খাঁ মরু,
বিষণ্ণতায় নুয়ে পড়েছে প্রেমের কচি তরু।

ওগো মোর মানিনী, শোনো—
তুমি ভোরের শিশিরভেজা রক্তিম সেই গোলাপ,
যার স্পর্শে ঘুচে যায় হৃদয়ের সব বিলাপ।
তুমি রজনীগন্ধার মতো স্নিগ্ধ এবং শুচি,
তোমার হাসি দেখলেই আমার সব অভিমান ঘুচি।

তুমি শরতের কাশফুল, শুভ্রতার এক শেষ সীমানা,
আমার মনের গহিন অরণ্যে তোমার অবাধ আনাগোনা।
তুমি নীলপদ্মের মতো দুষ্প্রাপ্য আর মায়াবী অতি,
আমার অন্ধকার জীবনের তুমিই একমাত্র ধ্রুবজ্যোতি।

বৃথা এ যুদ্ধ, বৃথা এই অকারণ দূরে থাকা,
ভালবাসার ক্যানভাস কি যায় এমন শূন্য রাখা?
একবার শুধু চোখের পানে চেয়ে বলো "ভালবাসি",
মুহূর্তেই ঘুচবে আঁধার, ফুটবে বাগানে হাসি।

সব উপমা হার মেনে যায় তোমার রূপের কাছে,
পৃথিবীর সব প্রেম যেন আজ তোমার মাঝেই আছে।
অভিমান ভেঙে দাও আজ, ফেরো সেই চেনা নীড়ে,
দুটি ফুল আজ প্রাণ পাক আবার— ভালোবাসার ভিড়ে।
----------------------------------------------------


৩০-০৪-২০২৬

সেই কম্পন এখনো থামেনি

 সেই কম্পন এখনো থামেনি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************************
সেই কম্পন এখনো থামেনি, হয়তো থামবেও না কোনোদিন—
রক্তের গভীরে মিশে আছে এক অশরীরী ঋন।
কেউ কি শুনতে পায়? কেউ কি বোঝে এই স্পন্দনের ভাষা?
যেখানে স্বার্থ ছিল না কোনো, ছিল না কোনো মাংসল লালসা।

তুমি কি কেবলই রূপের মোহ? না, তুমি এক অসীম শূন্যতা,
মরুভূমির তপ্ত বুকে যেমন এক ফোঁটা বৃষ্টির আকুলতা।
যৌবনের আকর্ষণ ছিল না সেথায়, ছিল শুধু হৃদয়ের টান,
অন্ধকারের নির্জনে আজো গেয়ে চলি সেই বিচ্ছেদী গান।

এক হৃদয়ে আরেক হৃদয়ের এই যে অদৃশ্য নীরব ছোঁয়া,
বাতাসে মিলিয়ে যাওয়া যেন একমুঠো নীল ধোঁয়া।
সে কি ভালোবাসা? নাকি তার চেয়েও বড় কোনো সত্য?
আজো জানি না, শুধু বুঝেছি আমি এক নিঃস্বাতীত ভৃত্য।

রাত্রির আঁধারে যখন পৃথিবী ঘুমায় নিঝুম মৌনতায়,
আমার শূন্যতা হাহাকার করে তোমার ফেলে যাওয়া ঠিকানায়।
তুমি জানলে না, জানবেও না কোনোদিন এই ব্যাকুলতা কতদূর,
আমার বুকের বাঁশিতে বাজে শুধু তোমার না-থাকার সুর।

একটি ধ্রুপদী কবিতার মতো আমি তোমাকে পড়ে যাই বারেবার,
চোখের কোণে জল জমে আসে, ভেঙে যায় সব অলীক দুয়ার।
বুকের ভেতরটা কেঁপে ওঠে প্রলয়ঙ্কারী কোনো ঝড়ে,
পাগলের মতো খুঁজি তোমায় স্মৃতির প্রতিটি জীর্ণ থরে।

হয়তো এই শূন্যতা নিয়েই পাড়ি দেব মৃত্যুর ওপার,
যেখানে তোমার আমার মাঝে থাকবে না কোনো লৌকিকতার দেয়াল।
সেই কম্পন থামেনি প্রিয়, থামবে না আমৃত্যু এক পলে—
তুমি অমর হয়ে রবে মোর নয়নের প্রতিটি অশ্রুজলে

শিশুরাও লজ্জা পায়

 শিশুরাও লজ্জা পায়

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
****************************************
হে মোর স্বদেশ, একি হেরি আজ তব পুণ্য প্রাঙ্গণে!
যেথা বসিবার কথা ছিল স্থির মহৎ গুণীজনে,
সেথা আজি একি হীন কোলাহল, কুশ্রী সে অভিনয়—
রঙিন পর্দায় ছড়ায় লজ্জা, ঘৃণা জাগে মনে হয়।

ইথারে ইথারে রটিছে কেবল পঙ্কিল এক গাথা,
পবিত্র সে বেদীতলে জনতা আজি নোয়ায় আপন মাথা।
যেথা উড়িবার কথা ছিল লাল-সবুজের মান,
যেথা ধ্বনিত হওয়ার কথা ছিল মুক্তির জয়গান—

সেথা চলে আজ হঠকারিতা, কূটবাক্যের রণ,
কে কারে করিবে হীন, কার মাঝে কত আয়োজন!
মুক্তিযুদ্ধ তুচ্ছ করিয়া ফ্যাসিবাদের বন্দনা,
স্বৈরাচারের বীজ বুনে চলে— নিদারুণ এ যন্ত্রণা।

গীবতের গল্পে রুদ্ধ করিছে সত্যের কণ্ঠস্বর,
আপন মহিমা ভুলিয়া আজিকে সবে যেন অতি পর।
অবুঝ শিশুও অবাক নেত্রে চাহিয়া রহে সেথা,
পিতা’রে শুধায় উপহাস ভরে—“পাগলের মেলা একি হেথা?”

যাদের হেরিলে জাগিত শ্রদ্ধা নবীন এ মনে তায়—
আজ হেরি সেই শিশুরাও লজ্জা পায়।
হে বিধাতা, তব ধরণীর বুকে ফিরাও সুস্থ মতি,
নাহলে উত্তরকাল কহিবে তোমায় চির-অপরাধী অতি।
---------------------------------------------------

দীপ্ত সূর্য লুকিয়ে রয়েছে

 দীপ্ত সূর্য লুকিয়ে রয়েছে

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
******************************************
দীপ্ত সূর্য লুকিয়ে রয়েছে মেঘের ঘন আড়ালে,
বিদ্যুৎ আজ হুঙ্কার দেয় বৈশাখী সব আদলে।
মেঘের ভাঁজে লুপ্ত আলো, আঁধার হেরি ধরণীতে,
রুদ্র আকাশ স্তব্ধ আজি অঝোর ধারার রণিতে।

হে রবি, তুমি কেন গো আজ নিঠুর হলে আঁধারে?
পথিক পথ হারায় একা নিঝুম বনের মাঝারে।
রজনী সম এই যে বেলা, ঘুচাও ভয়ের কালো ছায়া,
অচিন পথের মুসাফিরে দেখাও তোমার আলোক-মায়া।

খুলে দাও তব দ্বারের অর্গল, দাও গো দেখা একবার,
তিমির বিদারী কিরণ মালায় কাটাও সকল অন্ধকার।
জানি হে তপন, অসীম তোমার ক্ষমতা আর শক্তি,
সাধ্য কি মোর ছুঁই তোমায়, আছে শুধু মোর ভক্তি।

অদম্য স্পৃহা, দুর্বার গতি— মহিমায় তুমি জ্যোতির্ময়,
তোমার ছোঁয়ায় বিশ্ব ভুবন পরাজয় ভুলে পায় গো জয়।
রূঢ়তা ছাড়ি স্নিগ্ধ হাসিতে ধরণীর বুকে নামো তবে,
তোমার ওই তেজস্বী রূপে মর্ত্য আবার জাগবে সবে।
------------------------------------------------------------------------------


৩০-০৪-২০২৬

শ্রমিকের মুক্তি চাই

 শ্রমিকের মুক্তি চাই

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*****************************************

আমি আসিনি শুনতে কোনো মিছে বুলি, বক্তৃতার ওই ফাঁকা বুলি—
আমি দেখতে এসেছি শ্রমের ঘামে, ন্যায্য দাবির দুয়ার খুলি।
ব্যানার-ফেস্টুন, পত্রিকার পাতা— অনেক হয়েছে দেখা,
এবার চাইছি মাটির পৃথিবীতে অধিকারের অমর লেখ্য লেখা।
আমি শ্রমিকের মুক্তি চাই, শৃঙ্খল ভাঙার গান গাই!

কত ঘাম ঝরে কারখানার চাকা ঘোরে রাত-দিন,
তবু কেন শ্রমিকের পাওনা থেকে যায় চিরকাল ঋণ?
মালিকের প্রাসাদে আলোর রোশনাই, শ্রমিকের ঘরে অন্ধকার—
এই শোষণের বিচার করতে এসেছি আমি, বিদ্রোহী এক তলোয়ার।
বেতন-ভাতা, বাসস্থান, আর চাই জীবনের নিরাপত্তা,
শাসক-শোষকের মসনদ কাঁপে— যখন জাগে শ্রমিকের সত্তা!

ওরে মজলুম, ওরে নিঃস্ব— আর কতকাল রবে তুই চুপ?
তোর রক্তে কেনা বৈভব চেনে না তোর কঙ্কালসার রূপ।
মিল-কারখানায় বৈষম্যের বিষবাষ্প এবার দাও জ্বালিয়ে,
বিপ্লবী সুরে গর্জে উঠো সব, অধিকার নেব ছিনিয়ে!
রক্ত ঝরা ওই শহীদের ঋণ শোধ হবে আজ রণসাজে,
মুক্তির দামামা আজ তামাম পৃথিবীর বুকে বাজে।

চিকিৎসা চাই, সম্মান চাই, চাই বাঁচার অধিকার—
কলম ধরেছি ভাঙতে ওই জুলুমের যত কারাগার।
আমি কবির কলমে বিদ্রোহ এনেছি, শাসকের গদি কাঁপাতে,
মজলুমের হাতে হাত মিলিয়ে এসেছি শৃঙ্খল ভাঙাতে।
জেগে ওঠো দুনিয়ার মেহনতি মানুষ, ভাঙো শোষণের কালো হাত—
শ্রমিকের মুক্তির সূর্য উঠবেই, কাটবে ঘোর আঁধার রাত!
আমি শ্রমিকের মুক্তি চাই, বিপ্লবে আজ মুক্তি পাই!
-------------------------------------------------------------

শ্রমিকের জয়গান

 শ্রমিকের জয়গান

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর
***************************************
জাগো জাগো রে মজলুম, জাগো সর্বহারা!
রক্তে তোদের জাগুক আজ আগ্নেয়গিরির ধারা!
বাঁধ ভেঙেছে শোষণের ঐ পাষাণ কারার দ্বার,
আসছে ধেয়ে মজুর-কিষাণ— লড়াকু হুঁশিয়ার!

আমি বিদ্রোহী, আমি রুধিতে এসেছি জালিমের ঐ হাত,
আমি আসিনি শুনতে মিছে বুলি, বক্তৃতার কুপাত!
পোষ্টার-ব্যানার-কাগজের পাতা— সবি যে আজ ফাঁকি,
শ্রমিকের ঘামে শোষক কেন রে বিলাসিতায় মাখি?
আমি ভাঙতে এসেছি শোষণের শৃঙ্খল-বেড়ি লোহার,
আমি রণ-তূর্য, আমি মহাকালের প্রচণ্ড হাহাকার!

শহীদ শ্রমিকের রক্তে কেনা কারখানার ঐ চাকা,
মালিকের ঐ তিলক-তাজ— সব যে রক্তে মাখা!
ওরে ভীরু দল! কেন মিছে করিস ক্ষমতার হুংকার?
পাওনা যখন চাইবে শ্রমিক— কাঁদবে তোদের হার!
চাই নে আমি শুকনো আশ্বাস, চাই বাসস্থান ও রুটি,
সম্মান নিয়ে বাঁচবে শ্রমিক, ছিঁড়বে দাসের খুঁটি।

শোন রে তামাম পৃথিবীর যত বঞ্চিত মেহনতি,
তোর হাতুড়ি-শাবল গড়বে এবার ন্যায়ের বসতি!
চিকিৎসা চাই, নিরাপত্তা চাই, চাই কর্মের অঙ্গীকার,
না দিলে কেড়ে নেব আমরা— মোদের এ অধিকার!
মালিকের ঐ মসনদ আজ কাঁপুক বজ্রনাদে,
শোষিত যখন রুখে দাঁড়াবে— শোষক মরবে ফাঁদে।

আমি কবি, আমি বিদ্রোহী— শ্রমিকের তরে গাই,
দুনিয়ার যত মজলুমের তরে আমি যে মুক্তি চাই!
জয় মেহনতি! জয় শ্রমিক! ভাঙো ঐ কালো হাত,
বিপ্লবী সুরে ডাক দিয়ে যায়— অরুণের নবারুণ প্রভাত!
----------------------------------------------------------------

বৃষ্টি

 বৃষ্টি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
***************************
ঝরে ঝরো ঝরো বারিধারা,
উদাস পবন দিশাহারা।
কভু হিয়া জাগে পুলক-ঘোরে,
কভু আঁখি ঝরে বিরহ-ভারে,
কভু বা রুদ্ধ পথে মন পথহারা।।

সজল মেঘের ছায়া ঘনায় বনে,
কাকে যেন খুঁজি গোপন মনে।
কদম্বরেণু মাখা পবনে,
শিহরন জাগে ক্ষণে ক্ষণে—
মেঘমল্লারে বাঁধি তপ্ত ধরা।।

ধূসর গগন ছায় আঁধারে,
আঁসু মিশে যায় অলখ ঝারে।
স্মৃতিরা ফেরে পুরানো দ্বারে,
ব্যথা বাজে আজ হাহাকারে—
নিঝুম বেলা মোর অশ্রুভরা।।

অবিরাম এই ঝিরি ঝিরি সুর,
ক্লান্ত লাগে আজ পথ যে দুস্তর।
আঁধার ঘেরিল গৃহের কোণ,
কবে হবে শেষ এ বিজন ক্ষণ—
চাহি আলোক যে তিমির-পারা।।
-----------------------------------


২৯-০৪-২০২৬

রক্তগোলাপের জয়গান

 রক্তগোলাপের জয়গান

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর
**********************************
ও মোর রক্তগোলাপ, মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাণের শিখা তুমি,
তোমার গন্ধে জাগছে আজি আমার সোনার ভূমি।
তুমি নেই তবু আছে তোমার হাতের আলোক-লতা,
দিকে দিকে ছড়িয়ে দিল মুক্তির অমর কথা॥

খন্ড বিখন্ড হলেও তুমি পাথরকুচির পাতা,
নবীন প্রাণের অঙ্কুরণে সাজাও মায়ার লতা।
আঁধার রাতে প্রদীপ হয়ে দিশা দেখাও একা,
শুভ্র কালিতে আঁকা এই তো জাগরণের লেখা॥

তুমি যে মোর স্থপতির উত্তরসূরী বীর,
তোমার নামে উচ্চ করি আজ বাঙালির এই শির।
লক্ষ শহীদের রক্তবিন্দু মিশেছে ওই কায়ায়,
ঘোমটা পরা বনানী হাসে তোমার স্মৃতির ছায়ায়॥

হৃদয়-বাগানে ফুটে থেকো তুমি চিরদিন অম্লান,
তোমার ত্যাগের মহিমা গাবে দিকে দিকে এই গান।
কেউ তোমারে মুছতে নারে বাঙালির এই বুক হতে—
ভাসিয়ে দেব তরী মোরা তোমার শোণিত-স্রোতে॥
---------------------------------------------------

অন্তহীন আশীর্বাদ

 অন্তহীন আশীর্বাদ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*****************************************
শুভ লগনে জানাই আজি হৃদয়ের প্রার্থনা,
নাজমুল করিম ও লিপির ভুবনে রহুক না কোনো যাতনা।

স্নেহ-সুধায় ভরিয়া উঠুক তোমাদের গৃহখানি,
সুখ-সম্পদ বহিয়া আনুক প্রভুর আশিস-বাণী।

মশিউর রহমান নাঈম— সে তো প্রাণের নবীন আলো,
নওশীন তাবাছ্ছুম লুনা— স্নিগ্ধ শশধর সম ভালো।

পিতা-মাতার ছায়ার তলে বাড়ুক ওরা দুইজনে,
চিরকাল অম্লান থাকুক প্রেম তোমাদের এই মনে।

সংসারের এই তরীখানি চলুক শান্ত সমীরণে,
বিপদ আসিলে ধৈর্যের বলে থেকো সবে এক সনে।

প্রভুর চরণে এই মিনতি, ভরে দাও তাঁদের ঘর—
শান্তি লহরী বহুক সতত, হউক জীবন সুন্দর।
-------------------------------------------------------------------


২৯-০৪-২০২৬

রক্ত-শপথের মে দিবস

 রক্ত-শপথের মে দিবস

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*****************************************
জাগো রে মজুর, ভাঙো রে শিকল, প্রলয়-বিষাণ বাজে—
পঞ্জিকার ওই রাঙানো ধোঁকায় ভুলিস নে আর কাজে!
রক্তে তোদের ইতিহাস লেখা, রক্তেই জ্বলে আলো,
শোষকের ওই দম্ভের পুরী এখনই পুড়িয়ে কালো—
কর রে চূর্ণ, কর রে দহন—জাগো সর্বহারা দল!

আট ঘণ্টার স্বপ্ন তোদের ফাইল-চাপা আজ মরে,
মালিকের বিলাস-অট্টালিকা তোদেরই কঙ্কাল গরে!
পেটে খিদের আগুন, চোখেতে শ্রাবণ, হাতুড়ি কি তবে মিছে?
কেন পড়ে আছিস লাঞ্ছিত হয়ে পশুর অধম নিচে?
ওরে ও কুলি, ওরে ও কামার, ধর রে কঠিন মুঠ,
লুটেরা তখত ধূলিসাৎ কর, হোক সব ছারখাট!

চাকা বন্ধ, কারখানা স্তব্ধ, শ্রমের ঘাম যে রক্ত,
রাষ্ট্র-মালিকের সন্ধি ভেঙে আজ হ হরে শক্ত!
বেতন বন্ধ? অন্ন জুটবে না? ঘরে মরে প্রিয়জন?
তবে হোক তবে ফের শিকাগোর মতো রক্ত-প্লাবন রণ!

এই মে দিবসে শপথ নিলাম—মরি কিম্বা বাঁচি,
মালিকের পায়ে দলিত হতে কি আমরা জন্মেছি?
সাম্যের গান, সাম্যের দিন আসুক আজিকার ঝড়ে,
শ্রমিক-রাজ কায়েম হবেই—শপথ বজ্রস্বরে!
জাগো রে মজুর, ভাঙো রে শিকল, প্রলয়-বিষাণ বাজে—
পঞ্জিকার ওই রাঙানো ধোঁকায় ভুলিস নে আর কাজে!
-------------------------------------------------------------------


২৯-০৪-২০২৬

চাকুরী আছে বেতন নেই

 চাকুরী আছে বেতন নেই

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**********************************
মুমূর্ষু ঐ কল-কারখানায় স্তব্ধ আজ রে ভাই,
চাকা ঘোরে না, তৈল ফুরালো— অন্ন যে আর নাই!
রক্ত চোষা ঐ যন্ত্রদানব হাঁপায় ধুঁকিয়া ধুঁকিয়া,
নিভৃত কোণে শ্রমিক-মালিক মরছে রে বুক ফাটিয়া!

হাহাকার ওঠে গগন ভেদিয়া, পেটে জ্বলে ক্ষুধা-আগুন,
রিক্ত হস্তে ঘরে ফিরে যায়— এ কেমন কাল-ফাল্গুন?
চাকুরী আছে, বেতন নাইরে— এ কী বিষম পরিহাস!
উপোস করিয়া কাটে নিশি আজ, দীর্ঘ ওষ্ঠে নিশ্বাস।

জীবন-তরী মাঝ-দরিয়ায়, হাল ভেঙে হলো চুর,
অসহায় আজ সেনাপতি সব, ভাঙলো সুখের সুর!
যৌবন শেষে প্রৌঢ় আজিকে অশ্রু মুছিছে বসি,
ভাগ্যাকাশে কাল-বোশেখীর মেঘ নেমেছে রে খসি!

ওরে কান্ডারী! তন্দ্রা কি তবে ভাঙিবে না তব আজো?
জনতার বুকে হাহাকার শোনো, কোন্ সিংহাসনে সাজো?
মালিক আজিকে দেউলিয়া পথে, চাকুরেরা দিশেহারা,
বেতনহীন এই বন্দী জীবনে তিলে তিলে মরে তারা।

শৃঙ্খল ভাঙো, অন্ন জোগাও— জাগো রে ভাগ্যহত,
রক্ত নিঙাড়ি বেতন চাহো রে— হইও না আর নত!
-------------------------------------------------


২৮-০৪-২০২৬

স্ব-ঘোষিত ভিভিআইপি

 স্ব-ঘোষিত ভিভিআইপি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**************************************
ছিঃ ছিঃ হে কান্ডারী, একি তোমার সাজ!
বৈষম্য ঘুচাতে এসে নিজেই আজ ভিভিআইপি?
জনতার কাতারে যে জন ছিল কাল ভোরে,
আজ সে কেন নিরাপত্তার কঠিন খাঁচায় বন্দি?
লজ্জা আজ জাতির তরে, লজ্জা তোমার তরে—
মুক্তির দূত হয়ে আজ কেন পালাও মবের ডরে?

তুমি বলেছিলে মুক্তি আসবে, ঘুচবে সব ভেদাভেদ,
আজ কেন তবে তোমার তরে বিশেষ আইনের খেদ?
SSF-এর ঘেরাটোপে কিসের এত ভয়?
দেশদ্রোহী না চোর তুমি—জাতি আজ প্রশ্ন রয়।
ভাল যদি বেসে থাকো, জনতাই দিত প্রাণ—
তবে কেন জনতার মাঝেই আজ তোমার সম্মানে টান?

মব-তন্ত্রের জনক তুমি, আজ কি তবে মবকেই ডর?
যাদের কাধে চড়ে এলে, আজ তারাই কি তবে পর?
স্বার্থপরের মতো আজ নিজের নিরাপত্তা ভাবো,
জনতা তবে কোথায় যাবে? কোন সে আইনের দ্বারে রবো?
একই দেশে দুই আইন, একি তোমার নতুন বন্দোবস্ত?
বিশ্বাসঘাতকতার এই দহনে, জাতি আজ অতিষ্ঠ।

কান্ডারী তুমি পথ হারালে, হারিয়ে গেলে মোহে,
বিপ্লব আজ কাঁদে তোমার ক্ষমতারই দ্রোহে।
বিলাসী নিরাপত্তার বেষ্টনীতে যে সুখ তুমি পাও—
জেনে রেখো, ইতিহাস কভু ক্ষমা করে না স্বার্থপরের রাও।

নিজেরে আজ বন্দি করলে নিরাপত্তার বলয়ে,
মুক্তির সূর্য ডুবল আবার স্বার্থের এই প্রলয়ে।
বৈষম্যহীন আগামীর স্বপ্ন ছিল আমাদের বিশ্বাসে—
ছিঃ! সেই বিশ্বাস আজ বিলীন তোমার এই স্বঘোষিত পদমর্যাদায় আর দীর্ঘশ্বাসে।

ছিঃ ছিঃ হে কান্ডারী!
লজ্জা তোমার, লজ্জা এ জাতির।
একই দেশে দুই আইন—একই কেন এই বৈষম্য?
----------------------------------------------------------------


২৮-০৪-২০২৬

পথ হারাচ্ছে বাংলাদেশ

 পথ হারাচ্ছে বাংলাদেশ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া, গাজীপুর
-----------------------------------------------
ছিঁড়ে ফেলো আজ ছদ্মবেশীর মেকি দেশপ্রেমের জাল,
রক্তে রাঙাও আবার তুমি এই বাংলার আকাল।
মীরজাফরের উত্তরসূরি গদিতে আজ বসে,
দেশটা আজ যায় রসাতলে শকুনের ওই গ্রাসে।
জাগো নবীন, ধরো তূর্য, তোলো হুঙ্কার—
পথ হারাবে না বাংলাদেশ, ঘুচাও অন্ধকার!

লাল-সবুজের বুকে আজ বিষাক্ত দংশন,
ভণ্ড নেতার চাটুকারিতায় চলছে যে লুণ্ঠন।
সোনার বাংলা কাঁদছে নিভৃতে, তুমি কি তা শোনো না?
দেশপ্রেম কি আজ শুধু রাজনীতির ছলনা?
অর্থ-লোভী কান্ডারী আজ বিক্রি করে দেশ—
রুখে দাঁড়াও এবার তুমি, করো সব নিঃশেষ!

গিরগিটির ওই রঙ বদলানো আমরা চিনি সব,
জনতা কি আজ ভুললো তাদের দ্রোহের কলরব?
হুজুগে মাতে উগ্রবাদে অন্ধ মোহের ভিড়ে,
অধিকার আজ লুট হয়ে যায়, তবুও আছ কি নীড়ে?

বিদ্রোহ হোক রন্ধ্রে রন্ধ্রে, স্পন্দনে হোক জয়,
মিথ্যার ওই কেল্লা আজ করবো মোরা ক্ষয়।
বিশ্বাঘাতক বিভীষণদের চিনে নাও আজ আগে,
দেশের আকাশ জ্বলবে আবার তোমার অনুরাগে।
তুমি না জাগলে বাংলাদেশটা হারাবে তার পথ—
শপথ নাও আজ ভেঙে চুরমার করবে দম্ভের রথ!

মারো তালি দাও গালি ওই হায়েনাদের মুখে,
দেশের মায়া ধরো তুমি অকম্পিত বুকে।
রক্ত দিয়েই লিখেছি নাম, রক্ত দিয়েই রাখবো,
বাংলাদেশকে কোনো দালালের হাতে না সঁপিবো।
তুমিই বিপ্লব, তুমিই আগুন, তুমিই শেষ আশা—
জাগো বীর, দেখাও এবার তোমার ভালোবাসার ভাষা!
-----------------------------------------------------------


২৮-০৪-২০২৬

কাপাসিয়ায় রেলপথ চাই

 কাপাসিয়ায় রেলপথ চাই

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
-------------------------------------------------
কাপাসিয়ায় রেলপথ চাই, এই আমাদের দাবি,
উন্নয়নের তোরণ খুলতে এ এক অনন্য চাবি।
বঙ্গতাজ তাজউদ্দীনের এই পুণ্য জন্মভূমি,
স্বাধীনতার ইতিহাসে যাঁর উচ্চ মস্তক চুমি।

ফকির মঞ্জু শাহ আর ফকির সাহাবউদ্দিনের ত্যাগ,
এই মাটির প্রতি পরতে মিশে আছে অনুরাগের দাগ।
ব্রিগেডিয়ার হান্নান শাহ’র সাহসী সেই বীরত্বগাথা,
কাপাসিয়ার মানচিত্রে যা লিখেছে গৌরবময় কথা।

অসংখ্য সেই বীর মুক্তিযোদ্ধা, যাঁদের রক্তে কেনা দেশ,
তাঁদের স্মৃতিধন্য জনপদে কেন যাতায়াতের ক্লেশ?
শীতলক্ষ্যার পাড়ে পাড়ে আজ আর্তনাদ শোনা যায়,
উন্নয়নের রেলগাড়িটি কেন অন্য পথে ধায়?

কৃষক-শ্রমিক-ব্যবসায়ী আজ পথ চেয়ে রয় বসে,
অর্থনীতির চাকা ঘুরবে রেলের চাকার ঘর্ষে।
সাশ্রয় হবে সময়-অর্থ, ঘুচবে পথের দুখ,
রেলের বাঁশিতে হাসবে আবার কাপাসিয়াবাসীর মুখ।

শোনো ওরে শাসনকর্তা, শোনো ওরে রাষ্ট্রের পিতা—
কাপাসিয়ার এই বীর জনতা নোয়ায় না কভু মাথা!
রক্ত দিয়ে দেশ গড়েছি, দাবি কি পাব না তবে?
কাপাসিয়ায় রেলপথ এবার দিতেই—দিতেই হবে!

হে কর্তৃপক্ষ, পূর্ণ করো এই গণমানুষের আশ,
রেলপথে যুক্ত হোক আমাদের বীর কাপাসিয়া বাস।
------------------------------------------------------------------------------------


২৮-০৪-২০২৬

হে সংবিধান, তুমি কার?

 হে সংবিধান, তুমি কার?

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
******************************
ওরে ও রক্ত-পিপাসু দল!
তোরা ছিঁড়েছিস যেথা পাতার পরে পাতা—
সেথা জনম জনম গুমরে কাঁদিছে শোষিতের ভাগ্যদাতা!
আমি সুধাই তোমারে হে সংবিধান— তুমি কি গলার মালা?
নাকি শক্তের পায়ে নুয়ে পড়া এক লাঞ্ছিত পাঠশালা?

তুমি কার তরে? তুমি জনতার নাকি ওই গদি-পাগলের দলে?
কেন নিরপেক্ষ তোমার কলম শাসকের পদতলে?
যেথা রক্তে ভেজা অক্ষরের ছিল সাম্যের জয়গান,
সেথা ক্ষমতার অতি-লোভী কাঁচি হানিছে চরম বাণ!

তুমি কেন আজ ব্যবহৃত হও দাবার ঘুঁটির মতো?
কেন শাসকের অনুকূল ছাড়া বাক্য তোমার ক্ষত?
ওরে, স্বাধীনতা মানে তো নয় শুধু এক মায়াবী কুহক-জাল,
লাল-সবুজের বুকে কেন আজ শৃঙ্খল মহাকাল?

তোমার কাব্যে গোলাপ ফুটেছে, জুঁই-চামেলী আর জবা,
তবু চর্চায় কেন শাসকের বেশে শকুনিদেরই সভা?
তুমি জাতির আলো, তুমি গাইডলাইন, মুক্তির ধ্রুবতারা—
তবে ভিন্নমতের তরে কেন আজ তুমি অন্ধ ও দিশাহারা?

কোথায় স্থপতি? ঘোষক কোথায়? প্রণেতার দল কই?
কেন শাসকের রক্ত-চক্ষু মুছে দেয় নাম সই?
ওরে ও ভন্ড ওরে পাষাণ!
সংবিধান কি দাসের লেখন? শাসকের ফরমান?

তুমি নিরপেক্ষ তলোয়ার হও— ছেঁটে দাও অনাচার,
ক্ষমতার নয়, জনতার হোক শেষ হাসিটুকু আর।
জেগে ওঠো আজ হে সংবিধান, তুমি অগ্নি-গিরির দাহ—
শাসক ভুলুক দম্ভ তাহার, থামুক রক্ত-প্রবাহ!
------------------------------------------------


২৭-০৪-২০২৬

রক্ত-চণ্ডাল

 রক্ত-চণ্ডাল

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া, গাজীপুর
**************************************
জাগো রে নবীন! জাগো রে তরুণ! রক্তে বাজাও ডঙ্কা,
শুনো ঐ শোনো পিশাচের হাসি, জাগে রে মনেতে শঙ্কা!
ওরা কি মানুষ? ওরা যে কবন্ধ, নরকের কীট-ছায়া,
পূর্বসূরীর বিষ-রক্তে গড়া ওই কুৎসিত কায়া।

যুগান্তরের বিশ্বাসঘাতক—রুধিরে ওদের বিষ,
লাল-সবুজের প্রান্তরে হানে কালনাগিনীর শিস!
ওরা শকুনের জাত, ওরা আজো এই বাংলার মাটি চায় না,
রবীন্দ্রনাথের সেই অমর রাগিণী হৃদয়ে তো ওদের পায় না!

'সোনার বাংলা' গাইতে যাদের ওষ্ঠেতে ফোটে ফেনা,
ওরা যে আদিম মীরজাফরের উত্তরসূরী চেনা।
স্বাধীনতার টুটি চেপে ধরে ঘাতক-প্রেতাত্মার দল,
ওরা মুনাফেক, ওরা ছদ্মবেশী, অন্তরে হলাহল!

দুধ-কলা দিয়ে বিষাক্ত সাপে কেন যে পুষিছে জাতি?
ওরা যে নিভাতে চায় আমাদের ওই মুক্তির দিনরাতি।
সাবধান জাতি! সাবধান ওহে একাত্তরের সেনা,
শত্রুর ওই রক্ত-তিলক আজও কি তোমার চেনা?

মুক্তিযুদ্ধ মানে না যারা, মানচিত্রকে যারা ঘৃণে—
নবীণ প্রজন্ম, তোলো আজ তূর্য, চিনে রাখো আজ দিনে!
ওরা বিষধরী, ওরা অবিশ্বাসী, ওরা পঙ্কিল সাপ,
ওদের ক্ষমা করা মানেই হলো— ইতিহাসের অভিশাপ।

বজ্রকণ্ঠে গর্জে ওঠো— হে বাংলার নব প্রাণ,
ধুয়ে দাও এই পবিত্র ভূমি, হোক কলঙ্ক-অবসান!
------------------------------------------------------


২৭-০৪-২০২৬

আবার হয়েছে সময় হে জনতা

 আবার হয়েছে সময় হে জনতা

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর
***********************************
আবার হয়েছে সময় জনতা— জাগো!
বুকের ভেতরে দ্রোহের আগুন মাগো।
বজ্রকণ্ঠে বলো রে সবারে আজ,
এদেশ তোদের, নেই কোনোখানে লাজ।

লক্ষ শহীদের রক্তবিন্দু দিয়ে—
এ মাটি কিনেছি নিজের জীবন নিয়ে!
লাল-সবুজের চাদর বিছানো গাঁয়,
শকুনের নখ লেগে আছে আজও তায়।

মায়ের আঁচলে নরপিশাচের দাগ—
দেখে কি রে তোর জ্বলে না বুকের আগ?
পদ্মা, মেঘনা, যমুনার নীল জল—
অশ্রু ভাসায়, করে যায় টলোমল।

দেশের টুঁটি যে চেপে ধরে আছে শক্ত,
শত্রুর চারা— চোষে আমাদের রক্ত!
স্বাধীনতা-বিরোধী ওরে সেই দেশদ্রোহী,
তোদের বিনাশে আমরা যে বিদ্রোহী।

রক্ষা কর তোরা জননী জন্মভূমিকে,
মুছে দে কালিমা ললাটের ওই সিথিকে।
দূর কর যত ফ্যাসিষ্ট, স্বৈরাচার,
ইতিহাস নিয়ে যারা করে কাবার।

দুর্নীতিবাজ, ছদ্মবেশী ওই বীর—
লাথি মেরে আজ ভেঙে দে তাদের শির!
অধিকার তোর, বুঝে নে রে আজ তবে,
ভিক্ষায় নয়, ছিনিয়ে নিতেই হবে।

আবার হয়েছে সময় হে জনতা,
নিজের হাতেই লেখো আগামীর কথা।
তোর স্বাধীনতা— তোকে রাখতেই হবে,
বিপ্লব হোক ঘরে ঘরে, উৎসবে।
--------------------------------------------


২৭-০৪-২০২৬

আমার আশঙ্কা

 আমার আশঙ্কা

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*************************************
শুনো হে জাতি, শুনো হে স্বদেশ! সত্যের এই দুর্দিনে,
জ্ঞানী-গুণী আজ অপমানিত লুণ্ঠিত এই অঙ্গনে।

যদি সম্মানী পায় লাঞ্ছনা আর বিদ্বান পায় ভয়,
তবে নিশ্চিত জেনো হে জাতি— পথের দিশা হারাবে নিশ্চয়!
বসবে না আর যোগ্য কেইবা রাষ্ট্রের এই মসনদে,
চাইবে না কেউ কান্ডারী হতে সমাজের এই মহাবিপদে।

দিকে দিকে আজ চলছে একি এ অপদস্তের মহোৎসব?
বিবেক আজ নিথর-নিথর, ক্ষমতা কেন নীরব?
রাষ্ট্রের রন্ধ্রে জেগেছে আজ কোন ভয়ঙ্কর বিষধর?
প্রতিদিন বলি হচ্ছে জ্ঞানীরা, হচ্ছে শিক্ষক সকাতর।

হিংসা আর প্রতিহিংসার চলছে বিষাক্ত প্রতিযোগিতা,
কে কাকে দেবে কত গ্লানি, কে ছিঁড়বে কার মানচিত্রের পাতা!
অশুভ শক্তির কালো ছায়ায় নাগরিক অধিকার আজ ধূলিসাৎ,
মানবিকতা আজ ডুকরে কাঁদে, নেই যে কারো বজ্রাঘাত!

ন্যায়বিচার যে রুদ্ধ দ্বারে, কবির কলম আজ স্তব্ধ,
মুক্তচিন্তা আজ শৃঙ্খলিত, স্বাধীনতা আজ এক শব্দ!
জনতার মনে বিভীষিকা আর দিকে দিকে মব-বাদ,
স্বৈরাচারী স্টিমরোলার দিচ্ছে যে কেবলই বিষাদ।

পতাকাটা শুধু রয়ে গেছে আজ লাল আর সবুজে আঁকা,
পরাধীন হয়ে গুমরে মরছে জননী আর স্বত্বা ঢাকা।
এই যদি হয় তন্ত্র-মন্ত্র, এই যদি হয় শেষ—
তবে অন্ধকারে পথ হারিয়ে হারাবে বাংলাদেশ।

আমার মনে বড় ভয় জাগে, জাগে দারুণ এক আশঙ্কা,
যোগ্যবিহীন এ জাতি বুঝিবা— হারাবে তার সব লঙ্কা!
----------------------------------------------------------