Tuesday, June 30, 2026

তুমি কি সৎ নাগরিক?


কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট, কাপাসিয়া, গাজীপুর

*****************************************

হে মানব,
থমকে দাঁড়াও!
আজ নিজের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে নিজেকেই প্রশ্ন করো
তুমি কি আসলেই সৎ?
নাকি ভণ্ডামির মুখোশে ঢাকা এক জীবন্ত নরক?

বুকে হাত দিয়ে বলো তো হে মানব
তুমি কি সুদের টাকায় সংসার চালাও না?
তুমি কি ঘুষের নোটে হাত রাঙাও না?
দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, রাহাজানি আর দখলবাজির কালো থাবা থেকে
তোমার ওই পবিত্র হাত কি আসলেই মুক্ত?
বলো, বুকে হাত রেখে বলতে পারবে—"আমি মুক্ত"?
যদি পারো, যদি বলতে পারোহ্যাঁ’,
তবে অবনত মস্তকে তোমায় আমি স্যালুট করবো, হে মহান মানব!

এই যে তুমি দম্ভভরে হেঁটে যাও,
চাকরি করো, ব্যবসা করো, মেতে আছো নোংরা রাজনীতিতে,
কিংবা সেজেছ সমাজের শ্রেষ্ঠ জীবডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার!
বলো, পেশার আড়ালে তুমি কি আসলেই সৎ?
যদি উত্তর হয়হ্যাঁ’,
তবে কোটিবার তোমায় স্যালুট!

এই যে তোমার আকাশছোঁয়া বাড়ি, বিলাসী গাড়ি, অঢেল ধনদৌলত
কি তোমার ঘাম ঝরানো সৎ পথের কামাই?
লুকোচুরি ছেড়ো না হে ভণ্ড!
কত বেতন পাও তুমি?
কত টাকা অবৈধ মুনাফা আসে ব্যবসা কিংবা পেশা হতে?
তার কি কোনো সঠিক হিসেব আছে তোমার পাপের খাতায়?
যদি থাকে স্বচ্ছতা, যদি উত্তর হয়হ্যাঁ’,
তবে শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ স্যালুট তোমায়!

মুখে বলো তুমি গণতন্ত্রের পূজারী,
দাবি করো তুমি পরম মানবিক, তুমি পরম ন্যায়বিচারক!
চিৎকার করে বলো তুমি খাঁটি দেশপ্রেমিক!
তাহলে প্রমাণ দাও
তুমি কোনো ফ্যাসিবাদী নও! তুমি কোনো স্বৈরাচার নও!
তুমি কামুক ধর্ষক নও, ছদ্মবেশী মাদকসেবী নও!
বাজার চোষা সিন্ডিকেটের হোতা নও, নিরপরাধের ওপর জুলুমকারী নও!
তুমি মিথ্যাবাদী নও, দেশের বুকে ছুরি মারা দেশবিরোধী নও!

পারবে কি দিতে এই বুক চিতানো মহাসত্যের উত্তর?
বলো, শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে উত্তর কিহ্যাঁহবে?
যদিনাহয়
তবে তোমার ওপর বর্ষিত হোক কোটি বজ্রের অভিশাপ!
তবে তোমাকে ঘৃণা! তীব্র, প্রচণ্ড, নরকীয় ঘৃণা!
তুমি মানুষ নও, তুমি নরাধম!
তুমি ধূর্ত প্রতারক! তুমি চরম ভণ্ড!
তোমাকে ধিক! ধিক শত ধিক! তোমার ওই সোনার চামচ ভাঙা অট্টালিকায় ধিক!

বলো হে মানব, শেষবারের মতো বলো
তুমি কি আসলেই এই বাংলার বুকে এক সৎ নাগরিক?
যদি উত্তরহ্যাঁহয়
তবে এই বিদ্রোহী কবির তূণীরের সবটুকু ভক্তি দিয়ে,
তোমাকেই জানাই লাল স্যালুট!

------------------------------------------

 

 

কাউকে মন দেওয়ার আগে

 কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।

*********************************

হে হৃদয়,
তুমি যার-তার হয়ো না আবেগের ঝড়ের ডানায় ভেসে
সব ফুলে যে মধু থাকে না,
সব নদীও সাগরে গিয়ে শান্তি খুঁজে পায় না।
কিছু নদী হারিয়ে যায়
বালুচরের তৃষ্ণায়।

মন দেওয়ার আগে
একবার আয়নার সামনে দাঁড়াও
নিজেকে জিজ্ঞেস করো,
তুমি কি তার যোগ্য?
নাকি সে- তোমার স্বপ্নের মর্যাদা রাখার মতো মানুষ?

কারণ,
হৃদয়ের যুদ্ধ
পৃথিবীর সকল যুদ্ধের চেয়েও ভয়ংকর।
রাজ্য হারিয়ে রাজা আবার সিংহাসন ফিরে পায়,
যুদ্ধ হেরে সৈনিক আবার অস্ত্র তুলে দাঁড়ায়;
কিন্তু
একটি হৃদয় একবার ভেঙে গেলে
তার শব্দ কেউ শোনে না
শুধু নিঃশব্দে থেমে যায়
জীবনের গান।

ভাঙা কাঁচ জোড়া লাগে,
ভাঙা ঘর আবার গড়ে ওঠে;
কিন্তু ভাঙা বিশ্বাসের বুকে
ফোটে না আর
আগের সেই বসন্তের কুসুম।

প্রেম
সে তো স্বর্গ থেকে নেমে আসা
এক পবিত্র আলোর শিশির।
কিন্তু সে শিশির যদি
অবহেলার রৌদ্রে শুকিয়ে যায়,
তবে তার চেয়েও ভয়ংকর অভিশাপ
আর কিছু নেই।

তাই বলি
যার-তার হাতে হৃদয়ের প্রদীপ তুলে দিও না।
যে হাত ভালোবাসার ভাষা জানে না,
সে হাত আলো নয়,
অন্ধকারই ছড়িয়ে দেয়।

প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগে
প্রেমের পথে হেঁটো না।
আগে নিজেকে গড়ে তোলো,
নিজেকে যোগ্য করে তোলো
তবে একদিন
প্রেম তোমাকে প্রখ্যাত করবে,
সম্মানের আসনে বসাবে।

আজকের প্রেম
বড়ই স্বার্থপর।
চোখের ক্ষণিক ভালো লাগাকে
অনেকে ভালোবাসা বলে ভুল করে।
কিন্তু চোখের মোহ
শিশিরবিন্দুর মতো
সূর্যের একটুখানি উত্তাপেই মিলিয়ে যায়।

সত্যিকার প্রেম
চোখে নয়,
হৃদয়ের গভীরতম স্পন্দনে জন্ম নেয়।
যেখানে লোভ নেই,
অহংকার নেই,
প্রতারণার বিষ নেই
আছে শুধু
দুটি আত্মার নীরব প্রার্থনা।

তবু, হে হৃদয়,
শেষবারের মতো নিজেকেই জিজ্ঞেস করো
তুমি কি প্রস্তুত?
তুমি কি সেই ভালোবাসার ভার বহনের যোগ্য?
আর যার হাতে মন রাখবে,
সে কি তোমার অশ্রুকে
নিজের চোখের জলের মতো আগলে রাখবে?

মনে রেখো
অপরিণত বৃক্ষ ঝড়ে ভেঙে পড়ে,
কিন্তু গভীর শিকড়ের বটগাছ
সহস্র ঝড় পেরিয়েও মাথা উঁচু রাখে।
তেমনি,
যোগ্যতার শিকড় যত গভীর হবে,
প্রেমের বৃক্ষ ততই অমলিন থাকবে।

তাই হে হৃদয়
আগে যোগ্য হও,
তারপর মন দিও।
কারণ,
প্রেম কেবল অনুভূতি নয়
প্রেম দায়িত্ব,
প্রেম মর্যাদা,
প্রেম আত্মার পবিত্র ইবাদত।

আর যে প্রেম
যোগ্যতার বেদির উপর দাঁড়িয়ে জন্ম নেয়,
সে প্রেম কখনো মরে না
সে ফুটে থাকে
শিউলির সুবাসে,
কদমের বৃষ্টিভেজা গন্ধে,
পূর্ণিমার নরম আলোয়,
আর দুটি সত্য হৃদয়ের
চিরন্তন স্পন্দনে।

---------------------------------------------