Tuesday, February 10, 2026

আমি তোমাদের কণ্ঠ হতে এসেছি

 আমি তোমাদের কণ্ঠ হতে এসেছি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************************

আমি তোমাদের কণ্ঠ হতে এসেছি—শোনো জনতার গান,
শত নিঃশ্বাসে জমে থাকা আগুনেরই উল্লাসমান।
যে দুঃখ নীরব বুকের তলে চাপা পড়ে কাঁদে রোজ,
সে কান্নাকে বজ্র করেছি, ভাঙতে মিথ্যার খোঁজ।

আমি এসেছি বলি সত্য—ভয়ের কাছে নই নত,
অন্যায়ের সাথে আপস মানে আত্মারই হত্যাকত।
স্বৈরতন্ত্র, ফ্যাসিবাদ, মবের উন্মত্ত দাঁত,
ভয়তন্ত্রের কালো থাবা চুষে খায় জনতার রাত।

আমি তার বিরুদ্ধে ঝড়, আমি তার বিরুদ্ধে রুদ্রমূর্তি,
অগ্নিশিখা শিরায় বয়ে—বিদ্রোহ আমার তৃপ্তি।
আমি বলি—এ দেশ স্বাধীন, স্বাধীন আমার শ্বাস,
কারো দয়ার দাস নই আমি, অধিকারই আমার আশ্বাস।

আমি বৈষম্যের শত্রু, আমি সাম্যের অগ্নিবীণা,
ক্ষুধার্ত ঘরে রুটির গান, ন্যায়ের উজ্জ্বল দীপশিখা।
যে হাত ঘামে ভিজে গড়ে পথ, গড়ে সভ্যতার ঘর,
সে হাতই হোক রাষ্ট্রের মুকুট, রাজপথের উপর।

আমি বলি—দেশদ্রোহী সে, যে বিকায় মানুষের ঘাম,
যে সত্যকে শেকলে বাঁধে, যে মুছে দেয় ন্যায়ের নাম।
আমি তার অগ্নিবারুদ, আমি তার দুঃস্বপ্ন রাত,
জনতার জাগ্রত চোখে আমি অমোঘ প্রতিঘাত।

আমি বলি—আর নয় শোষণ, আর নয় নীরব ভয়,
মিথ্যার মুকুট ছিঁড়ে ফেলো, সত্য হোক পরিচয়।
হুলিয়া, জুলুম, অত্যাচার—সব ইতিহাসে ছাই,
মানুষ হোক মানুষের ভাই—এই আমার দোহাই।

বিপ্লবীর বজ্রকণ্ঠ আমি ধার করেছি বুকের ভেতর,
বিদ্রোহ আমার ইবাদত, বিদ্রোহই আমার উত্তর।
আমি গাই সাম্যের গান, আমি শপথের আগুন,
জনতার শক্তি জাগুক আজ—ভাঙুক শোষণের কুন।

শোনো, হে শাসনের অন্ধকার! শোনো, হে পাথরপ্রাণ!
আমি তোমাদের কণ্ঠ হয়ে উঠেছি—অদম্য, অমান।
যত বৈষম্য, যত অন্যায়—সবের বিরুদ্ধে এক,
আমি তোমাদের কণ্ঠ হতে এসেছি—আমি জনতার ডাক।
----------------------------------------------


১০-০২-২০২৬

আমার ভোট হউক

 আমার ভোট হউক

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর
************************************

ওহে শুনো, আমি বাঙালি, আমি বাংলাদেশী বুকে,
মুক্তিযোদ্ধার উত্তরসূরী, হৃদয় লাল-সবুজ এঁকে।।
মুক্তিযুদ্ধের বীরের চেতনা আমার রক্তে বয়ে,
তাই ঘৃণা করি আমি ওইসব শকুন এ ধরালয়ে।


আমার ভোট হউক স্বাধীন দেশের জন্য, মুক্তির জন্য,
বিরোধীদের বিরুদ্ধে, যারা দেশের শত্রু, চির ঘৃণ্য।
স্বৈরতন্ত্র, মবতন্ত্র, ভয়তন্ত্র, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে,
লুটকারী, সিন্ডিকেট, গোলামী—ভাঙবো আমি সব ভোটযুদ্ধে।

অসাম্প্রদায়িক চেতনার পক্ষে আমার কলম,
জঙ্গীবাদ, ধর্মান্ধ, মুনাফিকের বিপক্ষে আমার বলম।
সুশাসন চাই, ন্যায়ভিত্তিক শাসন চাই,
গণতন্ত্রের অধিকার, বাক স্বাধীনতা ছাড়া পথ নাই।

ভোটাধিকার আমার হাতে, আমার দেশ আমার গর্ব,
স্বাধীন বাংলাদেশে যেন ওঠে সত্যের চর্চার পর্ব।
লাল-সবুজের পতাকা উড়ুক উঁচু আকাশে,
বিপ্লবী চেতনায় ভরে উঠুক প্রতিটি মানুষে।

আমি বাঙালি, আমি বাংলাদেশী, গর্বিত হৃদয় মিশে থাকে,
স্বপ্নে, চেতনায়, ইতিহাসে—মুক্তির আলো ছড়ায় সাঁকে।
প্রতিটি নীল আকাশে বাজে স্বাধীনতার শঙ্খ,
আমি বাঙালি, আমি বাংলাদেশী, দেশপ্রেমে ভাসে অমলঙ্ক।

ওহে শুনো, তাই আমার ভোট হউক স্বাধীনতার পক্ষে,
তোমার ভোট ও হউক লাল সবুজ জড়ায়ে স্পন্দিত বক্ষে।
-------------------------------------------------------------


১০-০২-২০২৬

শহীদের রক্ত ভেজা মাটিতে

 শহীদের রক্ত ভেজা মাটিতে

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
***********************************************
লাল সবুজ ফুল ফোটে স্বাধীনতার বাগানে,
জাগো হে কান্ডারী, রক্ষা কর চিরন্তন প্রাণে।
শহীদ রক্তে ভেজা মাটি আমাদের অমল ধ্বনি,
চিরকাল বাঁচুক দেশ, মুক্তি পাক অমল আঁধনি।

শহীদ রক্তে ভেজা মাটি লাল সবুজে ফোটা,
পিপাসু হানাদারের নৃশংসে মা বোনের রোটা।
মীর জাফরের রক্তধারা ভুলতে চায় শহর গঞ্জ পথ,
বিশ্বাসঘাতকের মহড়া থামে না, শকুন চেপে রাখে শক্ত।

লাল সবুজ ফুলের পাঁপড়ি খসে যায় অন্ধকারে,
দেশবিরোধী কীটপতঙ্গ থাবায় মরে হাহাকারেঃ।
বাগানের প্রহরী বোঝে না স্বাধীনতার মর্মবোধ,
পরাধীনতার ঘনঘটা আজও চিত্তে ঘনিয়ে অসহায় মোড।

স্বৈরতন্ত্র, ফ্যাসিবাদ, লুটতন্ত্র, ভয়তন্ত্র, মবতন্ত্র,
অরাজকতা, বিচারহীনতা ফেরে আজ আসামীদের পত্র।
মুক্তিযোদ্ধা কারারুদ্ধ, কবির কবিতা নিঃশব্দ,
শিল্পীর গান, সাহিত্য অক্ষরহীন হয়ে যায় অব্যক্ত।

বাঙালি সংস্কৃতি শশ্মানে, উর্দুর গান বাজে মিনারে,
স্বাধীনতার স্তম্ভগুলো ধূলিতে মিশে ধ্বংসের তালে।
দেশদ্রোহীর উন্মাদনায় জ্ঞানী গুনিজন অপদস্ত,
স্বাধীন কাননের লাল সবুজ ফুল আজ অসহায় হস্ত।

লাল সবুজ ফুল ফোটে স্বাধীনতার বাগানে,
জাগো হে কান্ডারী, রক্ষা কর চিরন্তন প্রাণে।
শহীদ রক্তে ভেজা মাটি আমাদের অমল ধ্বনি,
চিরকাল বাঁচুক দেশ, মুক্তি পাক অমল আঁধনি।
-------------------------------------------------


১০-০২-২০২৬

Monday, February 9, 2026

বজ্র কণ্ঠে বলো হে কবি

 বজ্র কণ্ঠে বলো হে কবি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
******************************************

বজ্র কণ্ঠে বলো হে কবি—এই ভূমি রক্তে আঁকা,
লক্ষ শহীদের বুকের আগুনে স্বাধীনতার শপথ ঝাঁকা।
মা–বোনের লাঞ্ছিত অশ্রুতে ধুয়ে গেছে শত নদীর জল,
পদ্মা-মেঘনা-যমুনা বহে রক্তিম ইতিহাসের ঢল।

শহীদের রক্তে মাখা বর্ণে জেগেছে বাংলা ভাষা,
গুলির মুখে উচ্চারিত সে অমর অক্ষরের আশা।
সংগ্রামের বজ্রনিনাদে লাল-সবুজ পতাকা উড়ে,
অগণিত যুদ্ধের স্তম্ভে গর্বিত বাংলাদেশ দাঁড়ে।

পথে-ঘাটে, প্রান্তরে বাজে শহীদ গাজীর ডাক,
বধ্যভূমি, স্মৃতিসৌধে জ্বলছে অম্লান রক্তচাক।
এই দেশ অসাম্প্রদায়িক—শুনো হে কুটিল মন,
মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান—একই মায়ের সন্তান।

পাহাড়-সমতল, উঁচু-নীচু—সব ভূমি বাঙালির,
এই মাটিতে জন্ম স্বাধীন, মাথা নত নয় কারওর।
দেশদ্রোহী, স্বাধীনতা-ঘাতী—নেই তাদের ঠাঁই,
বাংলার বুকে বিষবীজ বুনতে দেব না আর তাই।

জঙ্গিবাদ, উগ্রবাদ, সিন্ডিকেটের কালো ছায়া,
বিদ্রোহী জনতার ঝড়ে হবে ধূলিসাৎ মায়া।
আমরা সবাই স্বাধীন বাংলার মুক্ত মানুষের দল,
“আমার সোনার বাংলা” গেয়ে ভাঙি শৃঙ্খল-জাল।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বলীয়ান আমাদের শিরা,
অশুভশক্তি ধ্বংসে আমরা শহীদ গাজীর উত্তরাধিকার।
জাগো হে, জাগো হে বাঙালি—বজ্র হাতে তোলো অস্ত্র,
স্বাধীনতা-বিরোধী অশুভ চক্র করো চূর্ণ-বিধ্বস্ত।

তীব্র হোক বিপ্লবের সুর, ঝংকারে ভাঙুক রাত,
যোদ্ধার আগুনে জ্বলো—বাংলা হোক অপ্রমাদ।
---------------------------------------------------


০৯-০২-২০২৬

আমি চিনতে পারিনি

 আমি চিনতে পারিনি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************************
আমি চিনতে পারিনি পৃথিবীর প্রেম-বৈচিত্র্য রূপ,
ভালবাসার হাজার মুখে লুকানো অদৃশ্য কূপ।
চিনতে পারিনি মানবতার শ্রেণীভেদী দেয়াল,
মানুষের মাঝে মানুষে কেন এত ব্যবধান জাল।

চিনতে পারিনি বন্ধুত্বের সত্য-মিথ্যার দাগ,
বন্ধু বলে ডাকলেও অন্তরে জমে থাকা ফাঁক।
চিনতে পারিনি প্রেমিক-প্রেমিকার প্রেমের ভাষা,
কথার আড়ালে কাঁদে যে হৃদয়ের নিঃশব্দ পিয়াসা।

চিনতে পারিনি দেশ-নেতৃত্বের আদর্শ-চিহ্ন,
ক্ষমতার মুকুটে ঢাকা নীতির ভাঙা নীল সিংহাসন।
চিনতে পারিনি দেশপ্রেমিকের নিখাদ প্রেম,
কে আত্মত্যাগী, কে শুধু শ্লোগানে বন্দী নাম-সেম।

চিনতে পারিনি প্রেমিকার হাসির রহস্য-ঢেউ,
হাসির ভেতর কতটা কান্না লুকিয়ে থাকে যে কেহ।
চিনতে পারিনি পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্রের রং,
মুখে নীতির গল্প, কাজে অন্যায় ভিন্ন ঢং।

কে হক, কে বাতিল—এই প্রশ্নে ভেঙে যায় মন,
সবাই সত্যের দাবিদার, তবু সত্য থাকে গোপন।
কে সত্য, কে মিথ্যা—চেনার নেই যে দিশা,
আলোয় ঢাকা মিথ্যাই যেন সবচেয়ে উজ্জ্বল ভাষা।

মনে হয় কেন জানি ইতিহাসের অভিশাপ,
মীর জাফরের রক্তধারা বহে রন্ধ্রে রন্ধ্রে নিঃশ্বাস-তাপ।
বিশ্বাসঘাতকের ছায়া অবলীলায় করে বাস,
বাঙালির অন্তঃস্রোতে নীরব বিষাক্ত শ্বাস।

আমি চিনতে পারিনি স্বদেশপ্রেমিকের দল,
কে দেশকে ভালোবাসে, কে চায় কেবল ফল।
চিনতে পারিনি ধর্মপ্রচারকের মর্মভেদী গান,
ইবাদতের আড়ালে লুকানো বিভেদের তীর-ধান।

চিনতে পারিনি ধর্মীয় উগ্রতার কালো মুখ,
যেখানে ঈশ্বরের নামে জ্বলে মানুষের দুঃখ।
চিনতে পারিনি অসাম্প্রদায়িক চেতনার মানে,
সহাবস্থানের সৌন্দর্য যে কত গভীর প্রাণে।

আমি এখনো মূর্খ—এই স্বীকারোক্তি সত্য,
জ্ঞান ভেবে যা আঁকড়ে ধরি, তা-ই সবচেয়ে অপ্রত্যয়।
বুঝতে পারি না কবিতা অর্থ আসলে কী,
শব্দ না কি দায়, নাকি বিবেকের নগ্ন আর্তি?

বুঝতে পারি না বাঙালি সংস্কৃতি কোন সুর,
লোকগানের মাটি, না কি নকল জৌলুসের নূর।
বুঝতে পারি না মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মানে,
রক্তের ঋণ কি শুধু মঞ্চের বক্তৃতার টানে?

কি রহস্যে ঘেরা এই বাঙালি জাতি,
হাসে-কাঁদে একসাথে, তবু ভাঙে প্রতি রাতি।
স্বাধীন হয়েছি বটে, স্বাধীনতা বুঝিনা আজ,
শৃঙ্খল ভাঙার ভাষা ভুলে শিখেছি কেবল সাজ।

শুধু মিথ্যার শ্লোগান দিতে আমরা বড়ই পারদর্শী,
সত্যের ভার বইতে গেলে হয় অস্বস্তি, হয় হিংস্রতা-দর্শী।
তবু এই না-চেনার বেদনা থেকেই প্রশ্ন জাগে,
অজ্ঞানতার অন্ধকারেই কি আলোর জন্ম লাগে?

আমি চিনতে পারিনি—এই স্বীকারে আছে বীজ,
হয়তো একদিন চিনব, ভাঙব মিথ্যার রঙিন ফ্রিজ।
যে দিন প্রশ্ন করতে শিখব, ভয় ছাড়িয়ে মন,
সেই দিনই হয়তো কবিতা হবে মানুষের জীবন।
------------------------------------------------------


০৯-০২-২০২৬

আমি এক গোধূলী সূর্য

 আমি এক গোধূলী সূর্য

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
****************************************

আমি এক গোধূলী সূর্য আজ, অস্তের পথে দাঁড়িয়ে,
সামনে অনন্ত সফর ডাকে, হিসাবের মাঠ ছড়িয়ে।
হে পৃথিবীর প্রাণ, শোনো আজ অন্তরের ভাষা,
আমার মতো তুমিও একদিন হবে গোধূলীর আশা।

আমি এক গোধূলী সূর্য আজ, আলো শেষের প্রান্তে,
রূহ কাঁপে আয়াতের ভয়ে—“ফিরে এসো রবের কাছে।”

চুল ঝরে গেছে, দাড়ি সাদা, শক্তি গেছে ক্ষয়,
চামড়ার ভাঁজে লেখা পড়ে—সময় বড় নির্ময়।
আর কেউ ডাকে না যুবক বলে, না ডাকে স্নেহভরে,
নামটা পড়ে ধূলোর নিচে, বিস্মৃতির অন্ধ ঘরে।

নেতৃত্বের ডাক থেমে গেছে, নীরব সমাজ-রাষ্ট্র,
আমি আজ যেন অদৃশ্য মানুষ—চলমান এক শ্মশান-বাস্ত।

গোধূলী রঙে ডুবে যাচ্ছে আকাশ-পাতাল-ধূলি,
মাগরিব ডাকে কানে কানে—সময় ফুরায় কুলি।
সোনালি হয় দিগন্তরেখা, কাঁপে অন্তর-প্রাণ,
তবে কি আজ মালাকুল মউত রাখে আমার নাম?

“কুল্লু নাফসিন”—এই সত্যে থেমে যায় অহংকার,
জীবন যে ধার করা শ্বাস—ভুলে ছিলাম বারবার।

কোথায় গেল অবুঝ শিশুকাল, মায়ের কোলে ঘুম?
কোথায় কিশোর দুরন্ত দিন, চোখে আগুন-ধূম?
যৌবনের সে উদ্দাম ঢেউ, দম্ভ আর উল্লাস,
আজ সব স্মৃতি কবর নিলো—রইলো শুধু নিঃশ্বাস।

কোথায় সে স্ত্রী, সন্তানের ডাক, “বাবা” বলা মুখ?
কোথায় সে প্রেমিক হৃদয়ের উথাল-পাতাল সুখ?

এই দুনিয়া বড় ক্ষণিক, ছায়ার মতো মায়া,
প্রেম-ভালবাসা, মমতা সব—পরীক্ষারই ছায়া।
যা কিছু ছিল আপন ভেবে, আজ সবই পর,
শুধু আমল সঙ্গী হবে—কবর থেকে হাশর।

হে রব, অস্তের আগে দাও তাওবা করার শক্তি,
ভাঙা প্রাণ জোড়া লাগিয়ে দাও ইমানের ভক্তি।

আমি এক গোধূলী সূর্য আজ, অস্তের পথে দাঁড়িয়ে,
যেন অস্তের মাঝেই জ্বলে উঠি—রহমতের আলো হয়ে।
-----------------------------------------------------


০৯-০২-২০২৬

Sunday, February 8, 2026

একুশের কাঠগড়ায় আমরা

 একুশের কাঠগড়ায় আমরা

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
****************************************

যে ভাষার তরে বুক পেতে দিয়েছিলাম,
ঘাতক বুলেটের মুখে দাঁড়িয়ে নির্ভীক,
সে ভাষার ঋণ কি শোধ হলো এত সহজে?
নাকি আমরা হলাম স্মৃতিভ্রষ্ট, অকৃতজ্ঞ, নীরব।

রক্তে লেখা বর্ণমালা, শহীদের স্বাক্ষর,
সালাম–বরকত–রফিকের জ্বলন্ত নাম,
সে নাম কি আজ কেবল পুষ্পস্তবকে?
নাকি হৃদয় থেকে মুছে গেল সম্মান?

এ প্রজন্ম কি জানে ইতিহাসের দাম?
জানে কি একুশ মানে মাথা নত না করা?
নাকি সুবিধার ভিড়ে ভুলে গেছে সব,
ভাষার মর্যাদা বিকিয়েছে সস্তা সুরে?

শহীদ মিনারের পাদদেশে বাজে উর্দু গান,
ভাষার মাসে—এ কোন লজ্জার অধ্যায়?
মাইকের শব্দে কাঁপে শহীদের কবর,
প্রশাসন নীরব—এই নীরবতাই অপরাধ।

বিশ্ব জানে—আমরাই একমাত্র জাতি,
মাতৃভাষার তরে দিয়েছি রক্ত,
সে রক্তে জন্ম নিয়েছে আন্তর্জাতিক দিবস,
আর আমরা আজ সেই দিবসে উদাসীন।

তবে কি আমরা মীর জাফর হয়ে গেছি?
স্বার্থের কাছে বিক্রি করেছি ইতিহাস?
যে জাতি ভাষার জন্য জীবন দিয়েছিল,
সে জাতিই কি আজ ভাষার পাহারাদার নয়?

ও একুশ, ক্ষমা করো আমাদের ব্যর্থতা,
ক্ষমা করো আমাদের ভুলে যাওয়া,
তোমার রক্তে লেখা শপথ আবার জাগুক,
বাংলা বাঁচুক—এই হোক প্রতিজ্ঞা।

যতদিন বাংলা আছে প্রাণে ও কথায়,
ততদিন একুশ থাকবে অম্লান,
শহীদের ঋণ শোধ হবে না কেবল ফুলে,
শোধ হবে ভাষার মর্যাদা রক্ষায়।
-----------------------------------------------------


০৮-০২-২০২৬

Thursday, February 5, 2026

কল্লু নাফসি যাইকাতুল মাউথ

 কল্লু নাফসি যাইকাতুল মাউথ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
****************************************

কল্লু নাফসি যাইকাতুল মাউথ—আল্লাহর হাঁক,
আরশ কাঁপে, লওহ কাঁপে, কেঁপে ওঠে পাক।

দুনিয়া ফানী, ক্ষণিক ছায়া, সরাবের ঘোর,
এক আল্লাহ বাকী—বাকি সব মিথ্যার ডোর।

নাফস বলে “ভোগ কর”, কবর বলে “থাম”,
আজ যে সিংহাসন, কাল সে-ই অন্ধকার নাম।

আজান যখন ফজরে ফাটে আসমান-সিনা,
ঘুমে যারা ডুবে থাকে—তারা মৃত বিনা।

দেহ যে মাটি, রূহ যে বন্দী—আজব কারাগার,
মালিক ডাকলে খুলে যাবে কবরে সব দ্বার।

হাশরের মাঠে পা কাঁপাবে সূর্যের আগুন,
মাথার ঘামে ডুববে অহং, শুকাবে না রক্তরুণ।

পিতাও বলবে “নাফসি নাফসি”, সন্তানও ভয়,
সেদিন শুধু আমল হবে তোর একমাত্র সয়।

নামাজ ছিল? চোখের পানি? জিকিরের দাগ?
নাকি নাফসের বাজারে তুই বিকিয়ে দিলি পাক?

মাউথ কি শেষ? না—সে শুরু ভীষণ বিচার,
জান্নাত-জাহান্নাম ডাকে—ভয়ংকর অধিকার।

বিদ্রোহী ইশ্কে কাঁদি এ গজল, সিজদার তলে,
মৃত্যু নয় শেষ—হিসাব শুরু রবের ডাকে।
-------------------------------------------


০৫-০২-২০২৬

ঈমানের ধ্বনি

 ঈমানের ধ্বনি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান েমাল্লা
রাওনাট,াকপাসিয়া,গাজীপুর
*************************************

বল আল্লাহ এক, অনন্য, অদ্বিতীয়
সত্তা গুণ শক্তিতে তিনি এককীয়
সমদ তিনি, সবার চির আশ্রয়স্থল
সৃষ্টির সকল চাহিদা মেটে সফল

তিনি জন্ম দেন না, নেননি জন্মও
সময়-সীমা তাঁকে বাঁধে না কখনো
আদি অন্তহীন তিনি, চির অবিনশ্বর
নূরের সাগর, সত্যে তিনি চির ভাস্বর

কেউ নয় সমকক্ষ তাঁর সত্তার পাশে
রূপে গুণে শক্তিতে তুলনা নাশে
আকাশ জমিন চলে তাঁরই হুকুমে
নিয়ম ভাঙে না কিছু তাঁর শাসনে

এই সূরাই তাওহিদ, ঈমানের ধ্বনি
একত্বে ভাঙে বহুত্ব—শিরক ধ্বংসনী
--------------------------------------------------


০৫-০২-২০২৬

সকল প্রশংসা তাহারই

 সকল প্রশংসা তাহারই

কলমে মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**************************************

বিসমিল্লাহ বলি আমি, দয়ার আদিপাঠ,
রহমান তিনি, রহীম তিনি, করুণার প্রভাত।
সকল প্রশংসা তাঁহারই, জগতের রব্ব,
দৃশ্য-অদৃশ্য সব সৃষ্টির একমাত্র প্রভু সব।

তিনি দয়ার আধার যিনি, মমতার আশ্রয়,
ভয়হীন করে হৃদয়, আশায় ভরে ক্ষয়।
বিচার দিনের মালিক তিনি, ন্যায়ের অধিপতি,
সত্যের পাল্লা নড়বে না, মিথ্যা হবে ক্ষতি।

তোমারই ইবাদত করি, তোমারই চাই বল,
দাসত্বেই মুক্তি আমাদের, অহংকার ছল।
দেখাও আমাদের সরল পথ, সত্যের নিশান,
যে পথে চলে অনুগ্রহপ্রাপ্ত মহাজন।

নবী, সিদ্দিক, শহীদ, সালেহিন যাঁরা,
যাদের প্রতি দয়া বর্ষে—তাঁদেরই ধারা।
নয় ক্রোধভাজন পথ যেন, নয় ভ্রান্তির গতি,
ফাতেহার আলোয় রাখো আমাদের স্থিতি।

এই সূরাই প্রার্থনা, এই সূরাই বিধান,
বান্দা ও প্রভুর মাঝে চিরন্তন আহ্বান।
-----------------------------------------------------

আমি আশ্রয় খুঁজি

 আমি আশ্রয় খুঁজি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*********************************

বল আমি আশ্রয় খুঁজি মানুষের রব্বে,
যিনি হৃদয় গড়েন, ভাঙেন নিয়তির ছকে।
মানুষের অধিপতি, মানুষের বাদশাহ,
তাঁরই ছায়ায় নিরাপদ জীবন ও দাহ।

মানুষের ইলাহ তিনি—একমাত্র উপাস্য,
তাঁর নামেই শান্তি নামে, ভাঙে সকল গ্রাস্য।
আমি আশ্রয় চাই তাঁর কাছে বারংবার,
অদৃশ্য অশুভ শক্তির ফিসফিস আঘাত-ভার।

যে কুমন্ত্রণা ঢালে মনে নিঃশব্দে চুপে,
হৃদয়ে বিষ ঢালে এসে অচেনা রূপে।
সে জ্বিনের দল হোক আর মানুষের ছদ্মবেশ,
সব কুমন্ত্রণা থেকে দাও নিরাপদ দেশ।

হে রব্বুন নাস, হে মালিক, হে ইলাহ মহান,
তোমার আশ্রয়েই রক্ষা, তোমাতেই পরিত্রাণ।
-----------------------------------------


০৫-০২-২০২৬

Tuesday, February 3, 2026

জাতির বিবেক যখন বিক্রিয় হয়

 জাতির বিবেক যখন বিক্রিয় হয়

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************************

ওহে শোনো—বিবেক যখন বাজারে তোলে,
তখন প্রতিবাদের পথ রুদ্ধ হয় দলে দলে।
সত্যের কণ্ঠ রুদ্ধ, ন্যায় পড়ে শিকল-তলে,
মিথ্যার সিংহাসনে শাসক বসে জোর-বলে।

জালেমের পাশে দাঁড়ায় স্বৈরাচারের দল,
ফ্যাসিবাদের ছায়ায় হাসে লেজুরভিত্তি-ছল।
চাটুকার তাবেদার মাপে ক্ষমতার ওজন,
ধর্ম বেচে পুণ্যের নামে গড়ে পাপের ভজন।

লুটেরার থলেতে ভরে ঘাম-রক্তের ধন,
অর্থপাচারে দেশ হয় শূন্য, ক্ষয়মান।
দেশবিরোধী হাত ধরে রাষ্ট্রের কফিন,
হিংসা-প্রতিহিংসায় পোড়ে মানবিক দিন।

দলে দলে ভাঙে জাতি—বৈষম্যের দেয়াল,
মুনাফেকের হাসিতে ঝরে বিশ্বাসের জাল।
বিশ্বাসঘাতক সাজে দেশপ্রেমের পোশাকে,
উগ্রবাদী আগুন জ্বালে ইতিহাসের কপাকে।

এখানে নিরপেক্ষতা পাগলেরই প্রলাপ,
জ্বলন্ত ঘরে বসে থাকা—অপরাধের সাপ।
নজরুলের বজ্রকণ্ঠে তাই ডাক ওঠে আজ—
“ভাঙো শিকল! জাগো মানুষ! ন্যায় হোক সমাজ!”


০৩-০২-২০২৬

দেশের রত্ন হারিয়েছি

 দেশের রত্ন হারিয়েছি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*************************************

ডাঃ প্রাণ গোপাল দত্ত—একটি নাম নয় শুধু,
তিনি ছিলেন ব্যথিত মানুষের নিঃশব্দ কুলু।
রোগীর কপালে হাত রেখে বলতেন ধীরে—
“ভয় নেই, জীবন এখনো দাঁড়িয়ে আছে ফিরে।”

ছুরি নয় আগে, আগে দিতেন সাহসের ভাষা,
চিকিৎসা মানে তাঁর কাছে ছিল মানবিক আশা।
নাক-কান-গলার ঘেরাটোপ ভেঙে প্রতিদিন,
তিনি সারাতেন মানুষের ভাঙা অন্তরীন।

এই মানুষটিকে আমরা চিনিনি বাঁচতে,
ক্ষমতার কাদা মেখে রেখেছি প্রশ্নের আঁচটে।
রাজনৈতিক হিংসা আর প্রতিহিংসার খেলায়,
রত্নকে ছুঁড়ে ফেলেছি অবহেলার জ্বালায়।

দলীয় চিহ্নে মেপেছি জ্ঞানের গভীরতা,
যোগ্যতার বদলে দেখেছি পরিচয়ের সাঁটা।
যার জীবনদর্শন বলত—“মানুষই মুখ্য,”
তাঁকেই বানালাম সন্দেহের নীরব অভিযুক্ত।

অথচ ভারতের মাটি চিনল তাঁর আলো,
ন্যাশনাল মেডিকেল কমিশন বলল—“এই মানুষ মহান হলো।”
যেখানে নিজ দেশ দিল না সম্মানের ঘর,
সেখানে বিদেশ খুলে দিল মর্যাদার দর।

কি নির্মম পরিহাস, কী লজ্জার ইতিহাস,
জীবিত রত্নকে ঠেলে দিই, মরি পরে শোকপ্রকাশ!
আমরা গাই শোকগীতি, করি কৃতজ্ঞতার ভান,
অথচ বাঁচতে দিইনি তাঁর স্বপ্নের সম্মান।

ডাঃ প্রাণ গোপাল দত্ত—তুমি হারাওনি কিছু,
হারিয়েছে তোমাকে যে দেশ, সে হারিয়েছে নিজেরই পিছু।
আজ বুকের ভেতর জ্বলে এক অগ্নিস্বীকার—
দেশের রত্ন হারিয়েছি, এই পাপ আমাদেরই ভার।
-----------------------------------------------------------


০৩-০২-২০২৬

আমি কি এদেশের নাগরিক নই?

 আমি কি এদেশের নাগরিক নই?

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর
************************************************

আমি কি এদেশের নাগরিক নই?
বলতে এসেছি আমিও নাগরিক আজ।
আমার স্বপ্নে জ্বলে স্বাধীনতার আলো,
আমার হৃদয়ে বাজে ন্যায়ের ঢোল।

কৃষক তাতী, জেলে কুমার, শ্রমজীবী,
গার্মেন্টস কর্মী, সবাই জাতির রক্তবীজ।
সবাই দেশের প্রাণ, সবাই জনতার আশা,
কেন শুধু সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন বাড়ে?

আমি কি এদেশের নাগরিক নই?
বলতে এসেছি, বৈষম্য ভাঙব আমরা।
আমাদের মাইনে, আমাদের ঘাম, আমাদের জীবন,
সব বঞ্চিত, অবহেলিত, শুনো শাসকগণ!

বাজারে মূল্য বাড়ে, দামের সঙ্গে জীবন ক্ষত,
আমরা সাধারণ মানুষ, কে সমাধান দেবে?
আমাদের কণ্ঠ, আমাদের চিৎকার, আমাদের ব্যথা,
সবাই জাগো, বলো—ন্যায় চাই, অধিকার চাই।

আমি কি এদেশের নাগরিক নই?
বলতে এসেছি, বিদ্রোহ আমার স্বর।
তোমরা বড় নিষ্ঠুর, বৈষম্যের হোতা,
আমরা চিৎকার করি—ধ্বংস করো অন্যায়ের ঘোড়া।

শ্রমিক, কৃষক, নাগরিক, সবাইই মানুষ,
সবাই চাই সমান অধিকার, সমান সুযোগ।
ভাই, বোন, জাগো, আমরা একত্রিত হব,
ভাই, বোন, আমাদের রক্তে জ্বলে আগুন।

আমি কি এদেশের নাগরিক নই?
বলতে এসেছি, প্রতিবাদ আমার অমর।
এই দেশ, এই ভূমি, এই মানুষ—সবই এক,
অধিকার, ন্যায়, মানবতার মঞ্চে দাঁড়াও।

আমি জাগি, আমি চিৎকার করি,
আমি বলি, বৈষম্যের প্রাচীর ভেঙে দাও।
আমরা সবাই এক, আমরা সবাই শক্তি,
আমাদের রক্তে ঝলকায় স্বাধীনতার আগুন।

আমি কি এদেশের নাগরিক নই?
বলতে এসেছি, আমিও নাগরিক—গর্বে।
শাসকগণ, দেখো আমাদের দমনকোণ,
আমরা চিরবিদ্রোহী, আমরা চিরনাগরিক।

বৈষম্য ভাঙতে হবে, স্বাধীনতা জাগাতে হবে,
আমি নাগরিক, আমি চাই সমান অধিকার।
আমাদের রক্তে, আমাদের ঘামে, আমাদের প্রাণে,
এই দেশ—আমাদের, শাসকগণ বুঝো, এবারই সঠিক নামে।
------------------------------------------------


০৩-০২-২০২৬

বিচার কি হবে?

 বিচার কি হবে?

মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
****************************************

অসহায় পিতা দিলেন মেয়েকে হোটেলের ঘরে,
অমল ১১ বছরের শিশুর জীবন স্বপ্নভরে।
অন্তরে আশা জ্বলে, চোখে অশ্রু নেমে,
অপরাধীর হাতে পড়ল শিশুর প্রাণের বৃত্তে।

অমল ঢুকতে পারল না ঘরের ভিতরে,
অজুহাতে বন্ধ দরজা, পিতার হাত থমকে।
বিকেল গড়াল, সন্ধ্যা গড়াল, ক্ষুধা-ভয়-দুর্ভোগ,
অন্তরে জ্বলল বেদনার অমোঘ শিখা জ্বালোগ।

অপরাধী এমডি, বিমান বাংলাদেশে প্রধান,
পরিবারে শিশুটি পেল প্রতিদিন নির্যাতনের প্রমাণ।
মারধর, খুন্তি গরম করে শরীরের নানা স্থানে ছোঁয়া,
অন্তহীন বেদনা, দগ্ধ দেহ, নির্যাতনের ছায়া।

অশরীরী নিপীড়নে ভেঙে গেল শিশুর স্বপ্ন,
অন্য শিশুর খেয়াল রাখার নামে বেদনার বৃত্ত।
অসহায় পিতা গেল বহুবার, তবু দেখা হল না,
অন্তরে কেঁপে ওঠে আর্ত চিৎকার, ক্রোধের ধ্বনি ফাঁকা।

বিচার কি হবে?—অন্তরে প্রশ্ন জাগে,
অপরাধীর হাতে মানবতা কি ফিরে আসবে?
গ্রেফতার হল তারা, তবু মুক্তির ছায়া দেখা যায়,
অমল চোখে জল, কণ্ঠে আর্তনাদ, নির্যাতনের আভাস।

অন্তিমে জাগুক ন্যায়, ভেঙে যাক অমানবিকতা,
অপরাধী হোক দৃষ্টান্ত, শিশুর কণ্ঠে হাসি জাগুক।
অসহায় শিশুর স্বপ্ন ফিরুক, জীবন হোক অমল,
বিচার হোক অবিচল, হোক ন্যায়ের বলিষ্ঠ ঢাল।
--------------------------------------------------


০৩-০২-২০২৬

শ্লিপ অব টাঙ্কের যুগ

 শ্লিপ অব টাঙ্কের যুগ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
****************************************

বিশ্ব দেখিল বাঙালি আজ নেমেছে কোন্ অন্ধকারে,
শ্লিপ অব টাঙ্কের নামে ঢেকে দিল সব অপকর্ম ভারে।
কথায় কথায় অশ্লীলতা, আচরণে বিষের ঢেউ,
শ্লোগানে ঘৃণা, গীবত-পরচর্চা—লজ্জা রাখে না কেউ।

ইশারা ভরা অশুভ ভঙ্গি, ভাষায় নোংরা ছাপ,
ইতিহাসে ছিল কি এমন? জিজ্ঞাসে বিবেক-আপ।
নারী বিদ্বেষ এমন নগ্ন, দেখেনি এই সমাজ,
নারীকে ডাকে পতিতা—ভাঙে মানবতার লাজ।

অপমান সহে নারী আজ, নীরবতার দীর্ঘ শ্বাস,
এমন দৃশ্য দেখেনি দেশ, কাঁদে সময়ের ইতিহাস।
মঞ্চে মঞ্চে নেতৃত্বের বেহাল দশা নগ্ন,
বাক্যে কাজে দিশাহারা, দায়িত্ববোধ শূন্য-ভগ্ন।

রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার—এমন বিকৃতি কবে?
মানী মানুষের সম্মানহানি এমনভাবে হবে?
দেশবিরোধী শক্তির উত্থান, মাথা তোলে নির্ভীক,
প্রতিবাদ করলেই শোনো—“শ্লিপ অব টাঙ্ক” তত্ত্বীক!

এই এক বাক্যে ক্ষমা পায় যত অন্যায়-অপরাধ,
আইনের চোখ বেঁধে দেয়, ন্যায়বিচারের হয় স্বাদ?
এভাবে চলতে থাকিলে হারাবে জাতি পথ,
অন্যায় বাড়বে, অপরাধ নেবে অগ্নির রথ।

যদি না আসে সুবিচার, যদি না রোধ হয় স্রোত,
ইতিহাস-সংস্কৃতি যাবে মিলিয়ে নিঃশব্দে লোপ।
এই উগ্রবাদ দমন না হলে, যে মূল্যই দিতে হোক,
রক্তে কেনা স্বাধীনতা হারাবে জাতি শোক।

জাগো বিবেক, জাগো মানুষ, জাগো সত্যের ধ্বনি,
নইলে শ্লিপ অব টাঙ্কেই ডুবে যাবে ভবিষ্যৎ খনি।
--------------------------------------------------


০৩-০২-২০২৬

Monday, February 2, 2026

ঐক্যই শক্তি

 ঐক্যই শক্তি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
***************************************

আমি বলি—এক হও আজ, ও জাগ্রত জনতা,
ভাঙো ভাঙো বিভেদের জাল, ছিঁড়ো ভীরুতা।
হাতে হাতে হাত রাখিলে বজ্র নামে ঘাতে,
ঐক্যের আগুন জ্বলুক আজ সংগ্রামের রাতে।

একলা মানুষ তুচ্ছ বটে, মিললে সে দুর্বার,
শৃঙ্খল ভাঙে, সিংহাসন কাঁপে বারেবার।
ধর্মে দলে ভাগ ক’রে যারা বিষ ঢালে প্রাণে,
ঐক্যের ঝড়ে উড়ে যাবে সেই ছলনার মানে।

আমি বিদ্রোহী কণ্ঠে ডাকি—এক পতাকার তলে,
রক্ত-ঘামে লেখা অধিকার তুলো দৃঢ় বলে।
অন্যায়ের বুক চিরে উঠুক সত্যের দাবানল,
ঐক্যের মুষ্টিতেই গড়ুক মুক্তির সম্বল।

ভাইয়ে ভাইয়ে ভেদ নয়, এই হোক অঙ্গীকার,
এক স্রোতে মিলুক প্রাণ, মিলুক প্রত্যাশার ধার।
নয় নীরব, নয় নতজানু—এই আমাদের শক্তি,
ঐক্যই অস্ত্র, ঐক্যই গান, ঐক্যই মুক্তি।
----------------------------------------------------


০২-০২-২০২৬

Sunday, February 1, 2026

প্রিয় সন্তোষ স্যারের চিরবিদায়

 প্রিয় সন্তোষ স্যারের চিরবিদায়

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**********************************************
কাপাসিয়ার ছোট্ট আঙিনা ছেড়ে,
তোমার আলো ঝলমল ছড়িয়েছে বিশ্বপানে!
পশ্চিমে আমেরিকা, পূর্বে জাপান,
উত্তরে নরওয়ে, দক্ষিণে অস্ট্রেলিয়ার তটে!
যেখানে ছাত্র মাথা উঁচু করে দাঁড়ায়,
সেখানে তোমার অদৃশ্য মুকুট ঝকঝকে শোভায়!

নীরব, নিঃস্বার্থ, নিরলস শিক্ষকবৃন্দের মাঝে,
দীপ্ত এক নাম—আমাদের প্রিয় স্যার সন্তোষ!
চক-ধুলো মাখা ক্লান্ত হাতে,
তুমি গড়েছ মানুষ, কেবল মানুষ!
নিজের সুখ বিসর্জন দিয়ে,
ছাত্রের স্বপ্নে লিখেছ ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল!

কালের নির্মম আবর্তে আজ,
হাসপাতালের নিঃশব্দ শয্যায়!
চল্লিশ দিনেরও অধিক আইসিইউর প্রহর,
শেষে ক্লান্ত দেহ ঢলে পড়ল
মৃত্যুর কোলে, অনিবার্য চক্রে!

দীপ নিভে যায়, আলো থাকে—
গুরু চলে গেলেও আদর্শ অমর!
সনাতন বিশ্বাসে জানি,
আত্মা নয় নশ্বর,
শুধু দেহ ফেলে যায় মায়া,
চলে যায় অনন্ত যাত্রায়!

আজ তোমার ছাত্রছাত্রীরা
অশ্রুসজল নয়নে বলে—
হে গুরুদেব, গ্রহণ করো
আমাদের শেষ প্রণাম!
যে শিক্ষা তুমি রেখে গেলে,
সেই পথেই চলব আজীবন!

ওঁ শান্তিঃ শান্তিঃ শান্তিঃ
তোমার আত্মা লাভ করুক চিরশান্তি!
গুরুর চরণে এই আমাদের
চূড়ান্ত শ্রদ্ধা ও গভীর শোক!
-------------------------------------------


০১-০২-২০২৬

আমি পরিবর্তন করতে এসেছি

 আমি পরিবর্তন করতে এসেছি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
***************************************

আমি পরিবর্তন করতে এসেছি—ভাঙতে জীর্ণ শাসন,
অন্যায়ের দেয়াল ভেঙে জাগাতে মানুষের শ্বাসন।
ভোটের মানে ফিরিয়ে দিতে, ভয়হীন নাগরিক,
সেবার দায়ে দাঁড় করাতে রাষ্ট্রের প্রতিটি দিক।

আমি ডাঃ তাসনিম জারা—শপথ আমার স্পষ্ট,
কথা নয়, কাজের পথে রাখব হিসাব-নির্ভর দৃষ্ট।
যেখানে সেবা নেই, বিলও নয়—ন্যায়ের সহজ ভাষা,
জবাবদিহি শিখুক ক্ষমতা, খুলুক বন্ধ সব আশা।

পানি-গ্যাস-রাস্তায় ফিরুক মানুষের অধিকার,
ড্রেনেজে নেমে যাক জল, ভাঙুক জলাবদ্ধতার ভার।
হাসপাতালে মানুষ পাবে মর্যাদা আর যত্ন,
কমিউনিটি ক্লিনিক হবে আস্থার প্রথম রক্ষণ।

শিক্ষায় নয় প্রভাব-দাপট, মেধাই হোক মান,
কোডিং-ল্যাব-লাইব্রেরিতে গড়ুক স্বপ্নের টান।
নারীর পথে আলো জ্বলে—নিরাপত্তার প্রহর,
সেফ করিডোরে হাঁটুক নির্ভয় সকাল-দুপুর।

মাদকের শিকড় ছিঁড়ে দিই—চিকিৎসা আর পুনর্বাসন,
অপরাধ নয়, মানুষ বাঁচাই—এই আমার শাসন।
যুব উদ্যোক্তা পাক ভরসা, স্টার্টআপে হোক ডানা,
ডে-কেয়ারে কাজের নারী—সমান সুযোগের মানা।

এমপি হবে নাগরিকের—অফিস খোলা থাকবে,
ডিজিটাল ট্র্যাকে প্রশ্নের উত্তর লেখা যাবে।
আমি প্রতিশ্রুতি নয়—প্রমাণে বিশ্বাসী,
ঢাকা-নয়কে গড়ব একসাথে—স্বচ্ছ, মানবিক, সাহসী।

আমি পরিবর্তন করতে এসেছি—এ কথা কেবল নয়,
সময়ের কাছে দায় নিয়ে আজ দাঁড়াই নির্ভয়।
-----------------------------------------------


০১-০২-২০২৬

আলো রেখে গেলেন যিনি

আলো রেখে গেলেন যিনি
কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
****************************************

আজ শ্রেণিকক্ষ নিঃশ্বাস নেয় ভারী শোকে,
চুপসে গেছে সকাল—কথা হারায় লোকে।
চকের সাদা ধুলো জানে তাঁর নাম,
মস্তফা কামাল—এক আলোর বিশ্রাম।

কাপাসিয়ার বুকে যে শিক্ষক জ্বালাল দীপ,
সমাজ কল্যাণে মানবতার শিখা অদ্বীপ।
জ্ঞান ছিল তাঁর প্রার্থনার ভাষা,
মানুষ গড়া ছিল জীবনের আশা।

গাজীপুর মেট্রো কলেজের নীরব দেয়াল,
আজো খোঁজে নেতৃত্বের সেই উদার পাল।
ভাইস প্রিন্সিপাল—নাম নয়, দায়িত্ব,
ন্যায়ের কাছে যাঁর ছিল চির আনুগত্য।

কঠোর ছিলেন না—ছিলেন দৃঢ়,
ভুলের মাঝেও দেখাতেন সঠিক দিগন্ত-চিহ্ন।
শাসনে স্নেহ, উপদেশে আলো,
অজস্র জীবন গড়েছেন ভালো।

আজ প্রশ্ন করে বেঞ্চ, বোর্ড আর বই,
“স্যার, আর কে দেখাবে সঠিক সেই ছই?”
এই শূন্যতা শুধু একটি মৃত্যু নয়,
এ এক প্রজন্মের অপূরণীয় ক্ষয়।

ইন্না লিল্লাহ—সবই রবের বিধান,
ফিরে গেলেন তিনি ডাকে—চির অনন্ত জান।
হে মহান রব, দিও জান্নাতের উচ্চ স্থান,
আমীন—শিক্ষকের ঋণে নত প্রতিটি প্রাণ।

তাঁর দেহ নেই, তবু তিনি রয়েছেন,
নৈতিকতার পাঠে আজো তিনি শেখান।
মানুষ যতদিন মানুষ হয়ে থাকবে,
মস্তফা কামাল—আলো হয়ে জ্বলবে।
--------------------------------------------------------


০১-০২-২০২৬

মাতৃভাষার মর্যাদা

 মাতৃভাষার মর্যাদা

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**************************************

একুশের ভোরে রক্ত ঝরে আকাশে!
মায়ের ভাষা চুম্বিত করে যাক প্রতিটি পাথরে।
পশ্চিমী শাসক চেয়েছিল বাংলা চেপে রাখতে,
অবাধ্য বাঙালির কণ্ঠ নীরব করতে।

রফিক, জব্বার, বরকত, সালাম—
তাদের রক্তে লেখা স্বাধীনতার নাম।
নামহীন শহীদও তো আছেন গোপনে,
মায়ের ভাষার পক্ষে জীবন উৎসর্গে।

ক, খ, গ—এ শুধু বর্ণ নয়,
এ শহীদের রক্তে লেখা বিপ্লবের শপথ।
উর্দু চাপিয়ে, শৃঙ্খল বাঁধতে চাইল যারা,
তারা ইতিহাসে থাকল শুধুই কালো ছায়া।

একুশের রক্তে জন্ম নিল অমর অগ্নি,
শব্দ হয়ে ছড়িয়ে গেল সমস্ত বেদী।
মাতৃভাষা আজ স্বাধীন, অটল, অবিস্মরণীয়,
বিশ্ব জানে—ইউনেস্কোতেও তার অভিজ্ঞান।

ফুল দিয়ে শেষ নয়, ফুল দিয়ে শেষ নয়—
কর্মে, চর্চায় ভাষা বাঁচুক চিরকাল।
মাতৃভাষার মর্যাদা আমাদের অঙ্গীকার,
একুশের শপথ, রক্তের ঋণ, চিরন্তন অভিসার।


০১-০২-২০২৬

তুমিই ভবিষ্যৎ জনতার নেত্রী

 তুমিই ভবিষ্যৎ জনতার নেত্রী

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
******************************************
হে নারী, তোমার চোখে আমি দেখি
এক নতুন বাংলাদেশের জাগ্রত সকাল,
কুয়াশা ছিন্ন করে উঠে আসে রোদ—
ভাঙে ভয়ের তালা, ভাঙে অচল শেকল।

তুমি কোন দলে—সে প্রশ্ন আজ ক্ষুদ্র,
বৃহৎ তুমি মানবতার মানচিত্রে,
শিক্ষার দীপ্তিতে দীপ্ত তোমার কণ্ঠ,
মার্জিত আচরণে দৃঢ় প্রতিজ্ঞার চিত্রে।

বিদেশের আরাম হাতছানি দিয়েছিল,
বিলাস ডেকেছিল নীল আকাশের নিচে—
তবু মাটির গন্ধ, মায়ের আঁচল
ডেকেছে তোমায় স্বদেশের দ্বারপ্রান্তে এসে।

তুমি বলো—নতুন বন্দোবস্ত চাই,
চাই সুশাসনের অগ্নিশুদ্ধ পথ;
দুর্নীতির আঁধার ভস্মীভূত হোক,
আইনের শাসনে জাগুক রাষ্ট্রব্রত।

তুমি বলো—মুক্তিযুদ্ধ কেবল ইতিহাস নয়,
সে আজকের নৈতিক কম্পাস;
অর্থনৈতিক মুক্তি মানে কেবল সংখ্যা নয়,
মানুষের মর্যাদা—নিত্য শ্বাস।

গণতন্ত্র মানে ভোটের দিনটি নয়,
দিনরাত্রি জবাবদিহির আলো;
শিক্ষা-স্বাস্থ্য মানে বিলাস নয়,
জীবনের ন্যূনতম অধিকার—সবাইকে দাও।

বৈষম্যের দেয়াল ভাঙার মন্ত্র তুমি,
মবতন্ত্রের বিরুদ্ধে বজ্রধ্বনি;
স্বৈরতন্ত্রের কালো ছায়া কাটিয়ে
স্বচ্ছ আকাশে উড়াও ন্যায়-পতাকা নির্ভীকিনী।

কালো টাকার বিষ তুমি চেনো,
তাই রক্তে টেনে নাও নৈতিক শুদ্ধতা;
নেতা-জনতার মাঝে গড়ো সেতু,
সংঘাত নয়—সহমর্মিতার দৃঢ়তা।

হিংসা-প্রতিহিংসার চক্রে তুমি আগুন নও,
তুমি শুদ্ধ জলের ধার;
তোমার ব্যবহার, উপস্থাপনার ভঙ্গিতে
জনতা খুঁজে পায় বিশ্বাসের নোঙর-তার।

প্রকৃতি যেমন ঝড়ের পর দেয় রংধনু,
তেমনি তুমি সংকটের পরে আশা;
নদী যেমন পথ খোঁজে সাগরের দিকে,
তুমিও এগোও—ন্যায়ের অভিমুখে ভাষা।

নজরুলের বজ্রকণ্ঠে যদি বলি আজ,
তুমি বিদ্রোহ—তুমি মানবিক সাহস;
ভয়ের কারাগার ভেঙে তুমি হাঁটো,
মুক্ত মানুষের মিছিলে প্রথম নিশ্বাস।

বিশ্ব জেনেছে—নামটি আজ উচ্চারিত,
ডা. তাসনিম জারা—নিলোর্ভ দীপ্তি;
তুমি ভবিষ্যৎ, তুমি জনতার নেত্রী,
স্বপ্ন নয়—তুমি জাগ্রত সত্যের শক্তি।
--------------------------------------------


০১-০২-২০২৬

Thursday, January 29, 2026

ওরা এখনো শোধায়নি

 ওরা এখনো শোধায়নি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
***************************************
আমি এখনো শুনি ধ্বংসের আর্তনাদ,
মায়ের চিৎকারে কেঁপে ওঠে রাতের প্রহরাদ।
আমি এখনো দেখি লুট হওয়া ঘর-বাড়ি,
আগুন জ্বলছে মুক্তিকামী জনতার বুকের তাড়ি।

শুকুনের থাবা কেটে গেছে সবুজের বুক,
সারি সারি লাশ ভেসে যায় নদী-খাল-বিলে ধ্বুক।
বুলেট বিদ্ধ মুক্তিযোদ্ধার ক্ষতবিক্ষত দেহ,
বুদ্ধিজীবীর নীরব দেহে বাজে প্রতিশোধের রণধ্বনি।

দেশবিরোধীরা গড়েছিল শত্রুর কুটকথা,
হানাদার বাহিনী ছিল তাদের আঁধারের স্বপ্নপথা।
স্বাধীনতা চাইনি তারা, বাংলার রক্তে মাখা পথ,
ওরা এখনো আছে, ছদ্মবেশী, মুনাফেক, ঘাতক হত্যার তৃষ্ণা।

হে লাল-সবুজ চেতনা! সতর্ক থাকো,
ওরা গুপ্তচর, বিশ্বাসঘাতক, বিদ্রোহের শত্রু অনন্তকাল।
ওদের রক্ত এখনো শোধায়নি,
প্রতিশোধের আগুনে জ্বলে উঠুক গ্রাম-নগর-প্রান্ত।

প্রাণের প্রতিটা তেজে, রক্তের প্রতিটা ফোঁটায়,
বিপ্লবের সুরে বাজুক মুক্তির গান, অসীম তেজে ভাসা।
ওদের অস্তিত্বের ছায়া মুছে দিন ইতিহাসের পাতায়,
মুক্ত বাংলার চেতনায় উদ্ভাসিত হোক নতুন ভোরের আলো।

স্বাধীনতার পতাকা উড়ুক সর্বত্র, শত্রুর চোখে ভয়,
বিজয়ের কণ্ঠে প্রতিটি শহর, বনে, নদীতে জাগুক জয়।
মুক্তিকামী বাঙালির হৃদয় থাকবে না নিস্তব্ধ,
প্রতিশোধের সুরে বাজুক স্বাধীনতার বন্দুকের ঝলকধ্বনি।
------------------------------------


২৯-০১-২০২৬স

তুমিও কিছু বলতে চাও

 তুমিও কিছু বলতে চাও

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান েমাল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
******************************************

হে অবুঝ শিশু, বিদীর্ণ ভোরের গান,
পিতার বুকে জমে থাকা আগুন-অভিমান,
মায়ের ছিন্ন জীবনের শেষ জ্বলন্ত দীপ,
জন্মেই তুমি শিখেছো বেদনার গভীর শীপ।

যেদিন তুমি এলে ধরার রক্ত-মাখা তীরে,
সেদিন মমতা হার মানল বিধির তীক্ষ্ণ শিরে,
মায়ের বুকের দুধ রইল অপূর্ণ ঋণ,
শৈশবেই তোমার কপালে আঁকা হলো শোকচিহ্ন।

পৃথিবী! কেন নিলে না কোলে তুলে আজ?
শিশু কি দায়—বল! কোন অপরাধে সাজ?
আর মা—হাসপাতালের সাদা কাঠগড়ায়,
মৃত্যুর সাথে লড়েছে বজ্র-কান্নার ছায়ায়।

একদিকে তুমি—নবজাত আগ্নেয় কুঁড়ি,
অন্যদিকে মা—ঝরে পড়া শেষ বিজড়ি,
বাবা ছুটেছে ছিন্ন-পাখার ঝড়ো প্রাণ,
একবার শিশুরে, একবার মৃত্যুর সমাধান।

শেষে মাও অচল হল—নিভে গেল শরীরের প্রদীপ,
তুমি রইলে বুকে নিয়ে অগ্নি-নীরব শীপ,
বেঁচে থাকা তখন শুধু শ্বাসের দায়,
মায়ের অভাবে প্রতিটি দিন বিদ্রোহ-প্রায়।

দাদীর কাঁপা বুকে পেলি শেষ আশ্রয়,
নানীর আঁচলে জমল অশ্রু-অগ্নিক্ষয়,
প্রকৃতির দুধে বড় হলে আগুন-শিশু তুমি,
তবু মায়ের শূন্যতা পূরণ হয়—বলো, ভূমি?

মা থেকেও না থাকার মতো দাঁড়াল সামনে,
একটি নাম, একটি ছবি—নিস্তব্ধ ফাঁদে,
কোল নেই, আদর নেই, শুধু জ্বলন্ত প্রশ্ন,
“মা” শব্দটি কেন হলো এত নিষ্ঠুর দর্শন?

তবু তুমি বেঁচে আছো—রবের হুকুমে,
পিতার রক্ত-ঘামে, দাদী-নানীর বুকে,
নীরব তুমি, কিন্তু নীরবতা নয় হার,
এ নীরবতা একদিন হবে আগুনের উচ্চারণ-ভার।

তুমি তাকাও অপলক আকাশের পানে,
চোখের প্রশ্ন ঝড় তোলে নীল বিধানে,
পৃথিবীকে কিছু বলতে চাও—বিদ্রোহে,
হয়তো রবকেও—অভিযোগ নয়, শপথে।

অভিমান জমে থাকে চোখের কোণে আগুন,
ঝরে না—কারণ তুমি দুর্বল নও, তুমি সন্তান,
হে অবুঝ শিশু, তুমিও কিছু বলতে চাও,
তোমার নীরবতাই একদিন
সবচেয়ে বজ্রকণ্ঠ আর্তনাদ হয়ে ওঠাও।
------------------------------------------------


২৯-০১-২০২৬

তোমার শুন্যতা অনুভব করি

 তোমার শুন্যতা অনুভব করি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*******************************************
জনাব তাজউদ্দিন আহম্মেদ মোল্লা,
তোমার মৃত্যুতে আজ ভাষা কাঁপে,
শব্দেরা দাঁড়িয়ে থাকে—
কোনটি আগে কাঁদবে বুঝে ওঠে না।

মিষ্টি ভাষার যে মানুষটি
হাসিতে ভরিয়ে দিতো আঙিনা,
আজ সে হাসি থেমে গেছে
নিস্তব্ধ কবরের গভীর নীরবতায়।

পরউপকার ছিল তোমার শিরা-উপশিরায়,
দানবীর হৃদয় ছিল উন্মুক্ত আকাশ,
আজ সেই আকাশে শুধু শূন্যতা—
একটি নক্ষত্র ঝরে পড়েছে অকালে।

মেধাবী মন, উদ্দ্যোক্তা প্রাণ,
শিক্ষানুরাগী দীপ্ত বাতি,
রাওনাট গ্রামের গর্ব তুমি—
আজ গ্রাম জুড়ে শুধু দীর্ঘশ্বাস।

স্বপ্ন দেখাতে তুমি জানাতে,
অন্যের চোখে আলো জ্বালাতে,
কিন্তু নিজের জীবন-স্বপ্ন
অসমাপ্ত রেখেই চলে গেলে হে বড়ভাই।

তুমি ছিলে শীতল ছায়া,
দুপুরের রোদে আশ্রয়ের বৃক্ষ,
আজ সে ছায়া নেই—
সূর্য আরও তীব্র, বুক আরও পোড়া।

তোমার মৃত্যুতে বুঝেছি,
শূন্যতা শুধু অনুপস্থিতি নয়,
শূন্যতা হলো—
প্রতিদিন কাউকে খুঁজে না পাওয়া।

তোমার অবসানে জীবনের পাতায়
একটি অধ্যায় হঠাৎ ছিঁড়ে গেল,
পুরণ হবে না সে শূন্যতা কখনো,
রয়ে যাবে আজীবন অসম্পূর্ণ গল্প।

হে আল্লাহ,
তোমার দরবারে আজ অশ্রুসিক্ত দোয়া,
জনাব তাজউদ্দিন আহম্মেদ মোল্লাকে
মাখফেরাতে মুড়িয়ে দাও, জান্নাত দাও।

তোমার মৃত্যুতে কাঁদে হৃদয়,
কাঁদে স্মৃতি, কাঁদে প্রতিটি স্বপ্ন,
তবু বিশ্বাস রাখি—
তুমি বেঁচে আছো আমাদের ভালোবাসায়।

তোমার শুন্যতা অনুভব করি,
প্রতিটি শ্বাসে, প্রতিটি প্রার্থনায়—
কারণ তুমি চলে গেছো,
কিন্তু হৃদয় থেকে যাওনি কখনো।
------------------------------------------


২৯-০১-২০২৬

আমি গাই গণতন্ত্রের গান

 আমি গাই গণতন্ত্রের গান

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*******************************************
আমি গাই, আমি গাই, গণতন্ত্রের গান,
জনতার হাতে ক্ষমতার চাবি আছে প্রাণ।
ভয় নয়, আশায় বাঁচে মানুষ—
সেই দেশে হয় গণতন্ত্র সত্যিকার মান।

শাসক নয় প্রভু, প্রতিনিধি সে জান,
ভোটের মুঠোয় গড়ে রাজপথের বান।
বাক্‌স্বাধীনতার সুরে ভেসে যায় দিন,
ভিন্নমত শত্রু নয়, আশার আলোর বিন্দু বিন।

আইনের চোখে সবাই সমান—
রাজা-প্রজা একসাথে দাঁড়ান।
ন্যায় ও মানবতা, সত্যের দীপ জ্বালাই,
জবাবদিহিতার আলোয় কলুষ সব তাড়াই।

ব্যালটের জয়, শান্তির উৎসব হয়,
রক্ত নয়, কলমে ক্ষমতা বদলে যায়।
জনতার অংশগ্রহণ, নিত্য উৎসব,
সেখানে গণতন্ত্র চিরদিন সতেজ।

সংখ্যালঘুর অধিকার, ন্যায়েই যেন বজায় থাকে,
দূর হোক অন্যায়, শাসনের পথে আলো ফাকে।
মানব মর্যাদা মাথায় তুলে রাখি আমরা,
ভয় নয়, আশা নিয়েই বাঁচি আমরা।

আমি গাই, আমি গাই, গণতন্ত্রের গান,
জনতার হাতে ক্ষমতার চাবি আছে প্রান।
ভয় নয়, আশায় বাঁচে মানুষ—
সেই দেশে হয় গণতন্ত্র সত্যিকার মান।
-------------------------------------------------


২৯-০১-২০২৬
রকমারি থেকে বই কিনুন

Wednesday, January 28, 2026

তোমায় ঘিরে স্বপ্ন বুঁনেছে জনতা

 তোমায় ঘিরে স্বপ্ন বুঁনেছে জনতা

কলমেঃ মোাঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
***********************************
ওহে নেতা, শোনো—জাগো, জাগো, জাগো আজ,
জনতার বুকে আগুন জ্বলে, রক্তে লেখা রাজ!
তোমায় ঘিরে স্বপ্ন বুনেছে শোষিত মানুষেরা,
শিকল ভাঙার ডাক উঠেছে গৃহে গৃহে, রাস্তায় সারা।

স্বাধীনতা আজ বন্দিনী, শাসনের কারাগারে,
পিতার রক্তে কেনা মান আজ বিকোয় বাজারে!
লাল-সবুজ পতাকা আজ লজ্জায় নত শির,
দেশ কি তবে দাস হলো? প্রশ্ন জাগে স্থির!

দেশদ্রোহীর দল নেমেছে রাষ্ট্রের সিংহাসনে,
উগ্রতার বিষ ছড়িয়েছে অলি-গলি, জনপদে।
মববাদ চেঁচায়, ফ্যাসিবাদ হাঁটে উল্লাসে,
স্বৈরতার বুটের শব্দ শোনা যায় প্রতিটি শ্বাসে।

দুর্নীতির নখে ক্ষতবিক্ষত ন্যায়বিচার,
ভয়তন্ত্রে স্তব্ধ কণ্ঠ, সত্য আজ নির্বাসিত আর!
অধিকার কাঁদে পথে, আইন পড়ে শিকলে,
জনতা আজ প্রশ্নবিদ্ধ—এই দেশ কার জিম্মায় চলে?

হে তারেক জিয়া—শোনো বজ্রের আহ্বান,
ইতিহাস আজ চায় তোমার অগ্নিশপথ দান।
তুমি কি হবে সেই বিদ্রোহী, অগ্নিমন্ত্রধারী,
যে ভাঙবে শাসনের শিকল, ভয়তন্ত্রের প্রাচীর ভারী?

যদি তুমি হও অগ্নি—জনতা হবে ঝড়,
যদি তুমি হও শপথ—ভাঙবে স্বৈরতার ঘর।
স্বপ্ন বুনেছে জনতা রক্ত-ঘামে লেখা,
মুক্তির সূর্য উঠবেই—এ শপথ ইতিহাসের একা!
----------------------------------------------------


২৮-০১-২০২৬

গার্মেন্টসের রাজধানী গাজীপুর

 গার্মেন্টসের রাজধানী গাজীপুর

কলমেঃমোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
-------------------------------------------

শুনো হে বিশ্ববাসী, শোনো মন দিয়ে,
গাজীপুর জেগেছে শ্রমের আগুন নিয়ে।
ভোরের আলোয় জ্বলে কারখানার দ্বার,
ঘামে লেখা ইতিহাস, দৃঢ় অঙ্গীকার।

লক্ষ লক্ষ হাত এখানে বাঁধে এক সুর,
নারী-পুরুষ মিলিয়ে গড়ে স্বপ্নের পুর।
সুঁইয়ের ফোঁড়ায় ফোঁড়ায় বোনা হয় দেশ,
অর্থনৈতিক মুক্তি পায় স্পষ্ট আবেশ।

গাজীপুর—স্বাধীন বাংলার স্পন্দিত প্রাণ,
এখান থেকেই বয়ে চলে উন্নতির গান।
লাল-সবুজের রক্তধারা বুকে বহে,
এই মাটির শক্তিতেই দেশ সামনে চড়ে।

শ্রম এখানে লজ্জা নয়, গর্বের নাম,
কর্মই এখানে ইবাদত, কর্মই সম্মান।
যন্ত্রের শব্দে জেগে ওঠে প্রত্যাশা,
ঘামের দামে কেনা হয় আগামীর ভাষা।

বিদেশের বন্দরে যখন নামে যে ঢেউ,
সে ঢেউয়ের উৎস এই মাটির শ্রমেউ।
বৈদেশিক মুদ্রা আসে সম্মানের সাথে,
বাংলার অর্থনীতি দাঁড়ায় শক্ত হাতে।

ইট-লোহা নয় শুধু এই নগরের রূপ,
এ শহর সংগ্রাম, এ শহর দৃঢ় ধূপ।
অন্ধকার ভেঙে উঠে আলোর নিকুঞ্জ,
গাজীপুর মানেই সাহসের সুনির্মল গুঞ্জন।

হে বিশ্ববাসী, ইতিহাসে লেখো আজ,
শ্রমে গড়া গাজীপুর—উন্নতির রাজ।
গার্মেন্টসের রাজধানী, গৌরবের নীলপুর,
বাংলার মেরুদণ্ড—আমাদের গাজীপুর।
------------------------------------------


২৮-০১-২০২৬

অতীতই জাতির ভিত্তি

 অতীতই জাতির ভিত্তি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
****************************************

যে জাতি ভুলে যায় তার অতীতের ইতিহাস,
সে জাতি নিজেই ভাঙে নিজের বিশ্বাস।
ভুলে যায় সে রক্তের ঋণ, অশ্রুর মানে,
হারায় পথ, হারায় দিশা সময়ের টানে।

এই স্বাধীন বাংলা কি হঠাৎ করে এলো?
কত মায়ের বুক খালি করে পতাকা উঠলো!
কত তরুণ জীবন দিল নির্ভীক কণ্ঠে,
আজও সে নাম লেখা আছে রক্তের অক্ষরে।

হে জাতি, বলো—আমরা কি তাদের ভুলেছি?
নাকি দিবসের ভিড়ে স্মৃতিকে চাপা দিয়েছি?
মিনারে ফুল দেই, ছবি তুলি উৎসবে,
চেতনায় কি রাখি সেই আগুন তবে?

অতীত মানে শুধু কান্না নয়, গৌরবও বটে,
সে শেখায় মাথা তুলে দাঁড়াতে প্রতিটি ক্ষণে।
যে জাতি অতীতকে বুকে শক্ত করে ধরে,
সে জাতিই আগামীর ইতিহাস গড়ে।

শেকড়হীন বৃক্ষ যেমন দাঁড়াতে না পারে,
ভুলে যাওয়া জাতিও তেমনি ভেঙে পড়ে হারে।
অতীতকে অস্বীকার মানে আত্মঘাত,
সে পথে নেই উন্নতি, নেই সম্মান, নেই প্রভাত।

এসো, স্মৃতির ধুলো ঝেড়ে চোখ মেলে ধরি,
ইতিহাসের আয়নায় নিজেদের দেখি।
অতীতের ভিত্তিতে গড়ি আগামীর স্বপ্ন,
তবেই জাতি হবে দৃঢ়, তবেই হবে সম্পূর্ণ।
-------------------------------------------------------


২৮-০১-২০২৬

স্বাধীন পতাকা কাঁদে আজ

 স্বাধীন পতাকা কাঁদে আজ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*****************************************
কোন দিকে যাচ্ছি বলো, হে হুজুগের জাতি?
মাতৃভূমি কি কেবল স্লোগান, নাকি রক্তের আরতি?
মুখে দেশপ্রেম—হাতে শেকল, চোখে লোভের নেশা,
স্বাধীন পতাকা কাঁদে আজ, দেখে বিশ্বাসের ভাঙা পেশা।

চারদিকে অন্যায়, জুলুমের জয়ঢাক,
মিথ্যার মুকুট পরে সত্য আজ বন্দি নির্যাতিত ফাঁক।
হুলিয়া আর লুটতরাজে রাজপথ রক্তাক্ত,
ফ্যাসিবাদের নখরে গণমানুষ আজ নিঃস্ব, ক্লান্ত।

ধর্মের নামে অধর্মের কুৎসিত কারুকাজ,
মসজিদ- মন্দির- মানবতা—সবই আজ পরিহাস।
গণতন্ত্রের নামে স্বৈরতন্ত্রের হুঙ্কার,
ভোট নয়—লাঠির ভাষায় লেখা হয় ক্ষমতার দরবার।

ইতিহাস বদলায় কলমে কলমে,
সত্যকে পুড়িয়ে মিথ্যা বসে সিংহাসনে।
মবতন্ত্রের মহড়া চলে দিনে-দুপুরে,
বুদ্ধি নয়, সংখ্যা শাসন করে সভ্যতার বুক চিরে।

অপমান-অপদস্তের সংস্কৃতি আজ উৎসব,
উগ্রবাদের আগুনে পুড়ে যায় মানবিক সব।
জনতার অধিকার পড়ে থাকে মৃতপ্রায়,
ন্যায় আজ কবরবাসী—অন্যায় দাঁড়ায় রাজাসায়।

দেশপ্রেমিকেরা চুপ—ভয়ে না সুবিধায়?
নাকি সত্য বলার মূল্য আজ জীবন-জীবিকায়?
সত্য-মিথ্যার ব্যবধান বিস্তর গভীর,
মিথ্যাই আজ বীর—সত্য নির্বাসিত, ক্ষীর।

মুনাফিকে ভরে গেছে মাতৃকার বুক,
মীরজাফরের ছায়া ঘোরে ঘরে ঘরে, মুখে মুখে হুক।
জনে জনে বিশ্বাসঘাতকের দাগ,
হাত মেলায় ক্ষমতার সাথে, বিবেক পড়ে থাকে অনাহার-নাগ।

কারো অবদান অস্বীকারের প্রতিযোগিতা,
ইতিহাস নয়—ইগো লেখে আজ পরিচিতা।
যদি এভাবেই চলি, নির্বাক, নতশির,
একদিন জাতি হিসাবে হবো পরাজিত—নিশ্চিত, স্থির।

তবে শোনো! নজরুলের বজ্রকণ্ঠ আজও ডাকে—
ভাঙো শেকল! জাগো রে জাগো! অন্যায়কে রাখো ফাঁকে।
কলম হোক তরবারি, কণ্ঠ হোক আগুন,
ন্যায়ের ঝাণ্ডা তুলে ধর—ভাঙো মিথ্যার দুর্গ, করুণ।

আমি বিদ্রোহী! আমি মানবতার গান!
আমি অন্যায়ের বিরুদ্ধে অটল পাহাড়-প্রাণ!
যতক্ষণ শোষণ থাকবে, ততক্ষণ লড়াই,
মাতৃভূমি রক্ষায় আজই দাঁড়াও—নইলে ইতিহাস করবে বিদায়।

স্বাধীন পতাকা কাঁদে আজ—মুছাও তার অশ্রু,
মানুষ হও, দেশ হও—এই হোক শেষ উচ্চারণ, শেষ পিছু।
----------------------------------------------------------------


২৮-০১-২০২৬

Tuesday, January 27, 2026

আজ যা শক্তি ,কাল তা অভিশাপ

 আজ যা শক্তি ,কাল তা অভিশাপ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
****************************************

কিসের বড়াই, কিসের দম্ভ হে অহঙ্কারী শাসক,
এ দেহ, এ বল—সবই ক্ষণিক, সবই রবের অনুগ্রহক।
আজ যে শক্তি বুকে ধারণ করো অহংকারের তাপে,
রব চাইলে মুহূর্তে নিভে যায় এক ফোঁটা ব্যথার কাঁপে।

একটি রোগে, এক দৈব আঘাতে ভেঙে যায় সিংহাসন,
মাটি ডাকে, অহংকার কাঁদে—শেষ হয় সব আয়োজন।
তবে কেন অবিচার বুনো পৃথিবীর বুক জুড়ে?
কেন ক্ষমতার নেশায় অন্যের অধিকার করো চূর্ণে?

কেন জুলুমে হাসি আঁকো, মজলুমের অশ্রু ঝরে?
কেন অপমানের আগুনে মানবতা পুড়ে মরে?
তুমি তো মালিক নও কিছুই—সবই রবের দান,
যেদিন তিনি ছিনিয়ে নেবেন, থাকবে শুধু শূন্যস্থান।

মজলুমের অভিশাপ কুড়িও না শক্তির মোহে,
সে অভিশাপ আগুন হয়ে জ্বলে ওঠে ইতিহাসের খোঁজে।
মনে রেখো, ক্ষমতার বলই প্রকৃত শক্তি নয়,
আজ যা শক্তি কাল তা অভিশাপ, কাল তা নিশ্চিত পরাজয়।
------------------------------------------------


২৭-০১-২০২৬

দাদা নেই, তবু মৃত্যুঞ্জয়ী

 দাদা নেই, তবু মৃত্যুঞ্জয়ী

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর
উৎসর্গঃ প্রিয় দাদা মরহুম অলিউল্লাহ সরকার্
*************************************************

হে দয়াময় রব, আজ তোমার দরবারে দাঁড়াই,
শূন্য হাতে, ভেজা চোখে দোয়ার ভাষা খুঁজে পাই।
দাদা নেই—তবু তাঁর স্মৃতি হৃদয় ভরে রাখে,
নশ্বর দেহ ফুরোলেও রূহ যে রহমতে থাকে।

শৈশব থেকে যৌবনের প্রতিটি বাঁকে বাঁকে,
তাঁর স্নেহের ছায়া ছিল জীবনের ফাঁকে ফাঁকে।
অল্প কথায় শিখিয়েছেন বড় জীবনবোধ,
নীরবতায় বুঝিয়েছেন ক্ষমা আর সংযমের শোধ।

মেঠো পথে, মসজিদের নীরব প্রাঙ্গণে,
আজও তাঁর কণ্ঠ শুনি অন্তরের গভীরে।
রাগে নয়, দয়ায় গড়া ছিল তাঁর মন,
নিরঙ্কারী মুরুব্বি—সহিষ্ণুতাই ছিল গুণ।

হে গাফফার, নশ্বরের যত ভুল-ত্রুটি আছে,
তুমি ক্ষমা করে দিও তোমার অসীম ভালবাসে।
কবরকে করো নূরে ভরা জান্নাতের বাগান,
ভয় বদলে দিও শান্তি, দুঃখ বদলে দাও মান।

জান্নাতুল ফেরদৌস দিও সর্বোচ্চ মাকাম,
আরশের ছায়ায় রাখো—এ আমার শেষ সালাম।
দাদা নেই—তবু দোয়ায় তিনি অমর হয়ে রয়,
হে করুণাময় রব, তিনিই আমার মৃত্যুঞ্জয়ী আশ্রয়।

আমিন।
--------------------------------------------------


২৭-০১-২০২৬

ইতিহাসই শেষ আদালত

 ইতিহাসই শেষ আদালত

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
******************************************

শোনো হে জালেম শাসক—বজ্রকণ্ঠে বলি,
ক্ষমতার সিংহাসন ক্ষণিক, সত্য চিরঞ্জীব জ্বলি।
তুমি গেলে—মুছবে না তোমার কলঙ্কিত দাগ,
ইতিহাসের পাতায় পাতায় জাগবে অপরাধের গতিবেগ!

শান্তির মুখোশে শুনালে শ্মশানের গান,
অশান্তির বীজ বুনে দিলে বিভেদের বিষবাণ।
আজ ঢেকেছো কলঙ্কিত চিহ্ন ক্ষমতার ঢালে,
কাল পাখির ডানায় লেখা রায় নামবে আকাশ-জ্বালে।

স্বাধীন বাংলার মাটি উঠবে ফেটে—
বজ্রশপথে বলবে নাম, একে একে:
বিশ্বাসঘাতক! দেশদ্রোহী! খুনি! অমানবিক শাসক!
হিংসা–প্রতিহিংসার জনক—শান্তির নামে অশান্তির দাসক!

ফ্যাসিস্ট তাড়াতে গিয়ে নিজেই হলে দানব,
জনতার কাঠগড়ায় দাঁড়াবে—নির্বস্ত্র, নিরুপায়, নির্ভব।
ইতিহাস লিখবে লাল অক্ষরে—মুনাফেক ভয়ংকর,
তোমার ছত্রছায়ায় মুছে দিলে স্বাধীনতার স্মৃতির স্বর।

মুক্তিযোদ্ধাকে অপমান—এ কোন সাহসের খেলা?
লাশ পুড়ালে, জীবন্ত মানুষ—আগুনে দিলা ঠেলা!
উগ্রবাদে দিলে আশ্রয়, জাতিকে করলা খণ্ড,
জেল–জুলুমের স্টিমরোলার চালালে নির্লজ্জ দণ্ড।

আজ গর্জাও মঞ্চে—কাল নীরবতা,
সত্যের ঢেউ এলে ভাঙবে মিথ্যার প্রাসাদ-দ্বারতা।
সেদিন জবাব দেবে কী, হে জালেম শাসক—বলো?
কালো অধ্যায়ে খোদাই নাম—অমোচনীয়, অচলো।

মানুষ ছিঃ ছিঃ করবে—রায় দেবে কাল,
আমি বিদ্রোহী কণ্ঠে বলি—শুনুক দিগন্তের জাল:
শাসন ফুরোয়, মিথ্যা পুড়ে—সত্য থাকে অটল,
ইতিহাসই শেষ আদালত—এ রায় অনিবার্য, উজ্জ্বল!
-----------------------------------------------


২৭-০১-২০২৬

ফয়সালা কেবলই আল্লাহ’র

 ফয়সালা কেবলই আল্লাহ’র

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
******************************************

শুনো হে মানব, আমি দাস, আল্লাহর কাছে আমি খাঁটি,
ভালো-মন্দের হিসাব কেবল প্রভুর হাতে, চিরন্তন আঁটি।
পৃথিবীর কেউ দিতে পারে না বেহেস্তের সোনালি চাবি,
দোজখের ছায়া কেবল প্রভুর ন্যায়ে বাঁধা যায় গভীর ঢাবি।

আমি মুমিন, আমি মুসলিম, নবী করিমের পথে যাই,
আল-কোরআনের দীপে চলি, সুন্নাহর আলোয় ভাসি।
ধর্মান্ধ নই, প্রভুভীরু, তবু ভয় ও প্রেমে হাসি,
যারা লোভে ধর্ম বিক্রি করে, তাদের সঙ্গে নেই আমার ভাষি।

দুনিয়ার শব্দ, মোহ, লোভ—সবই অস্থির, মলিন,
কেবল প্রভুর ন্যায় ও রহমতে হৃদয় হয় অটল, চিরন্তন বিন।
ফকির-গরীবের আশা, দাসের অন্তর সবই তাঁর নির্দেশে,
যে বলে বেহেস্তর টিকেট নাও তাকে করি প্রত্যাখ্যানের প্রসে।

কোন দলে মুক্তি নেই, মুক্তি কেবল প্রভুর নিকটে,
মানব চেষ্টায় নয়, প্রভুর ন্যায়চক্রে শান্তি মেলে চিরন্তন লিপটে।
চলুন হে বিশ্ব! জাগো, আলোর দিশায় যাত্রা করো,
দুনিয়ার দোহায় নয়, প্রভুর পথে চিরন্তন বিশ্বাস ধরো।

ফয়সালা কেবলই আল্লাহ’র, রহমত, ন্যায় ও করুণার মিশ্রণে,
আমার অন্তরের শান্তি, আত্মার মুক্তি, চিরন্তন আলোয় ঝিলমিশ্রণে।
আমি দাস, আমি গোলাম, রবের দাসত্বে জীবন বাঁধি,
ভালো-মন্দের হিসাব কেবল তাঁই হাতে, চিরন্তন দিশা আঁধি।
---------------------------------------------


২৭-০১-২০২৬

শিক্ষকের শিক্ষা মরে না

 শিক্ষকের শিক্ষা মরে না

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**************************************

আজ বাংলার আকাশও যেন কাঁদছে,
প্রতিটি বাতাসে ভেসে আসে বেদনার সুর।
জনাব শাহাবুদ্দিন স্যার চলে গেলেন,
কিন্তু তার আলোকিত পদচিহ্ন চিরন্তন, হৃদয়ে অমলিন।

হে মহান শিক্ষক, বিদায়ের ক্ষণে,
মাটি কেঁপে ওঠে, নদী থমকে যায়, আকাশ কাঁদে অশ্রুবিন্দু।
আমরা প্রার্থনা করি—রাব্বুল আলামিনের দরবারে,
জান্নাতুল ফেরদৌসে হোক তার জন্য স্থায়ী আসন।

শিক্ষকের শিক্ষা কখনো মরে না,
সে বেঁচে থাকে হৃদয়ে, আলোর দীপস্বরূপ।
তার প্রতিটি বাক্য, তার দীক্ষার আলো,
পথ দেখায় অন্ধকারে, হৃদয়কে উজ্জ্বল করে।

হে আল্লাহ, করো তার রুহ শান্ত,
মাফ করো তার ভুল, করো কবর প্রশস্ত।
বানাও জান্নাতুল ফেরদৌস তার স্থায়ী ঠিকানা,
আমাদের অন্তর দাও দৃঢ়তা ও সহমর্মিতা।

শ্রদ্ধার অশ্রু আজ চোখে ভাসছে,
বাংলার প্রতিটি ফুল, প্রতিটি পাখি কাঁদছে তার জন্য।
হে স্যার, নাম তোমার লিপ্ত হোক আমাদের দোয়ায়,
তুমি চিরকাল আমাদের সাথে বেঁচে থাকো।

আমরা চাই—তোমার আদর্শের আলোয় গড়ে উঠুক প্রজন্ম,
সত্য, ন্যায়, শান্তির দীপ জ্বলে চিরন্তন।
তোমার ছায়ায় আমরা চলছি,
আল্লাহর ভরসা ও ধৈর্য আমাদের পথ প্রদর্শক।

শিক্ষকের নাম হয়ে ওঠে দোয়ার সুর,
তার প্রতিটি শিক্ষা জ্বালায় নূরের দীপ।
হৃদয়ে জ্বলে আলো, দূর করে অন্ধকার,
আমাদের অন্তরে রঙিন করে ভালোবাসা।

হে মহান শিক্ষক, তুমি চিরকাল বেঁচে থাকো,
প্রজন্মের অন্তরে জ্বলে থাকো আলোর দীপে।
শিক্ষক কখনো মরে না,
সে হয়ে ওঠে অনন্ত নূরের দীপ, আমাদের অন্তরের প্রেরণা।
-----------------------------------------------------------


২৭-০১-২০২৬

আলো থেকে আঁধারে

 আলো থেকে আঁধারে

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
******************************************

অধিক মুক্তির প্রত্যাশায় ডেকেছিল জাতি যারে,
শান্তির দূত নাম ছিল তার—আশা ছিল ভোরের তারে।
দূত এল ঠিকই, এল পতাকা-ভরা প্রতিশ্রুতি হাতে,
কিন্তু শান্তি এল না, মুক্তি হারাল রক্তাক্ত প্রাতে।

পদে পদে ভয় বাড়ে, শ্বাস নেয় আতঙ্কের ছায়া,
ভাঙে জাতির ঐক্য-দেয়াল, ছড়িয়ে পড়ে বিভাজন-মায়া।
স্বাধীনতা মূর্ছিত হয়, ইতিহাস হয় বিকৃত,
মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাথা হয় অবহেলিত, ক্ষত-বিক্ষত।

দেশবিরোধী মাথা তোলে, উগ্রতার অগ্নিশিখা,
নাগরিক অধিকার লুণ্ঠিত, ন্যায় আজ বন্দি-লিখা।
মানবতা জল্লাদ হয়ে দাঁড়ায় ক্ষমতার পাশে,
ফ্যাসিবাদের কালো ছায়া নামে রাষ্ট্রের আকাশে।

জাতি হারায় জাতিসত্তা, চেনা মুখ হয় অচেনা,
আলো ছেড়ে আঁধার বেছে নেয়—এ কোন সর্বনাশী চেনা?
শান্তির দূত অশান্তির কারণ—কলঙ্কে ভরে কাল,
বাকস্বাধীনতা রুদ্ধ হয়, থামে প্রশ্নের ঝাল।

কবির কলম কাঁপে থেমে, প্রতিবাদী নিশ্চুপ,
জেল-জুলুম, হুলিয়া ধেয়ে আসে—নীরবতা হয় রূপ।
গণতন্ত্র পড়ে পদধূলিতে, ভোট হয় অবমান,
পৃথিবী দেখে অপদস্ত রাষ্ট্র—লজ্জায় নত মাথানত প্রাণ।

কে তাকে শান্তির দূত বলে? জিজ্ঞাসে নাগরিক আজ,
ফ্যাসিস্ট তাড়াতে গিয়ে নিজেরাই হল ফ্যাসিস্ট—এ কোন ব্যাজ?
উত্তর চাই ইতিহাসে, রক্তে-লেখা সত্যে,
আলো ফিরুক আঁধার ভেঙে—মানুষ জাগুক ন্যায়ে, মুক্তিতে।


২৭-০১-২০২৬

চলে গিয়েও তুমি থেকে গেছো

 চলে গিয়েও তুমি থেকে গেছো

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
উৎসর্গঃ প্রিয় স্যার অধ্যাঃ আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়া।
******************************************

চলে গিয়েও তুমি থেকে গেছো—আজ এই সত্য বুকে বাজে,
নীরব প্রস্থানের ক্ষত জেগে ওঠে প্রতিটি শ্বাসে।
হে বাংলা বর্ণের উজ্জ্বল শিখা, অমৃত সুরের প্রাণ,
তোমার বিদায়ে থমকে গেল সোনার বাংলার গান।

শ্রদ্ধেয় প্রিয় স্যার, অধ্যাপক আনোয়ার হোসের ভূঁইয়া,
এই নাম উচ্চারণেই ভিজে যায় স্মৃতির নীরব গলিপথিয়া।
বিধাতার ডাকে অনন্ত পথে পা বাড়ালে নিঃশব্দে,
পেছনে রেখে গেলে আলো, সামনে নিলে অনন্ত নীরবতা বুকে।

আজ তুমি নেই—এই বাক্যটি মানতে বড় কষ্ট হয়,
শ্রেণিকক্ষ আজ শূন্য দাঁড়ায়, বোর্ডও যেন নীরব রয়।
চক-ধুলো মাখা সেই হাত আজ থেমে গেছে চলা,
কিন্তু সে হাতে গড়া স্বপ্নগুলো জানে না থামা।

দৃশ্যত তুমি নেই স্যার, তবু তুমি আছো আজও,
এই পৃথিবীর ভাঁজে ভাঁজে, আলো-ছায়ার মাঝেও।
কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজের সবুজ শ্যামল মাঠ,
আজো তোমার পায়ের শব্দ খোঁজে নিঃশব্দ পথঘাট।

প্রতিটি ইট-পাথরের স্তরে লেখা তোমার ত্যাগের কথা,
প্রতিটি বেঞ্চে জমে আছে অসংখ্য স্বপ্নের ব্যথা।
সহকর্মীর দীর্ঘশ্বাসে, ছাত্র-ছাত্রীর চোখের জলে,
তোমার মমতা আজও নীরবে কথা বলে।

মনে পড়ে সেই দিনগুলো—বাংলা বর্ণের উৎসব,
কবিতা, গল্প, উপন্যাসে খুলে দিতে নতুন সব পথ।
অক্ষরে অক্ষরে তুমি গড়েছো মানুষের ভিত,
অজ্ঞতার অন্ধকার ভেঙে জ্বালিয়েছো জ্ঞানের দীপ।

তোমার কণ্ঠে শব্দ মানে ছিল আশ্রয় ও আলো,
ভাষা ছিল প্রতিবাদ, ভাষা ছিল ভালোবাসা ভালো।
এক কিংবদন্তী সাহিত্য বিষারদ তুমি ছিলে স্যার,
বাংলা ভাষার মন্দিরে তুমি চিরদিনের প্রহরী অমর।

আজ শ্রেণিকক্ষের নীরবতায় কান পাতে সময়,
মনে হয় তুমি দাঁড়িয়ে আছো—ডাকছো, “শোনো সবাই।”
সে ডাকে জেগে উঠতো প্রাণ, বদলে যেত দৃষ্টি,
আজ সেই ডাকের অপেক্ষায় ভিজে ওঠে চোখের পলক-বৃষ্টি।

চলে যাওয়া মানে কি হারিয়ে যাওয়া চিরতরে?
না স্যার—তুমি আলোকবর্তিকা হৃদয়-কুটিরের ভিতরে।
নশ্বর দেহ থেমে গেলেও থামে না যে আদর্শ,
তোমার শিক্ষা, তোমার মানবতা—চির অমলিন স্পর্শ।

তুমি আছো প্রতিটি শিষ্যের স্বপ্নের গভীর শিকড়ে,
তুমি আছো বাংলা ভাষার প্রতিটি বেঁচে থাকা অক্ষরে।
তুমি আছো কাপাসিয়ার বাতাসে, মাটির ঘ্রাণে,
তুমি আছো সেইসব চোখে—যারা মানুষ হতে জানে।

হে প্রিয় গুরুজন, অনন্তে ভালো থেকো তুমি,
রবের দয়ার ছায়ায় ভরে উঠুক তোমার অনন্ত ভূমি।
মহান আল্লাহ তোমার এই প্রস্থান করুক কবুল,
জান্নাতের সুউচ্চ মাকামে দান করুন চিরনূর—আমীন।
----------------------------------------------------------


২৭-০১-২০২৬

Monday, January 26, 2026

আবেগের রাজনীতি

 আবেগের রাজনীতি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**********************************************

যে আবেগ মুক্তিযুদ্ধকে ভুলে যায়,
আমি তাকে প্রত্যাখ্যান করি বারবার।
যে আবেগ স্বাধীনতার চেতনাকে আড়াল করে,
আমি তাকে বাঙালি/ বাংলাদেশী বলি না একবারও।

যে আবেগ দাঙ্গার আগুন জ্বালায়, মানুষকে বিভক্ত করে,
আমি বলি না, বলি না, বলি না।
যে আবেগ রাজনৈতিক সংঘাতের বীজ বপন করে,
আমি রাজনীতি বলি না, রাজনীতি বলি না।

যে আবেগ মববাদ, স্বৈরবাদ, ভয় সৃষ্টি করে,
আমি ঘৃণা করি, ঘৃণা করি, ঘৃণা করি।
যে আবেগ ধর্মান্ধের বুলি ছড়ায়,
আমি তাকে ধর্মভীরু বলি না।

যে আবেগ মানবতা ভুলিয়ে দেয়, মনুষ্যত্ব শূন্য করে,
আমি মানুষ বলি না, মানুষ বলি না।
যে আবেগ দেশকে অস্বীকার করে, জাতিকে হেনস্তা করে,
আমি দেশপ্রেমিক বলি না।

আহা! যে রাজনীতি অমানবিক, জুলুমের ছায়া ফেলে,
সত্য-মিথ্যার পার্থক্য চেনে না, যোগ্যকে অচেনা করে,
আমি ঘৃণা করি, আমি প্রত্যাখ্যান করি, আমি মুখে বলি না!

যে রাজনীতি অন্ধ, পরাজয় ডেকে আনে জাতির কপালে,
আমি দাঁড়িয়ে বলি—না! না! না!


২৬-০১-২০২৬

কী এক অমানবিক দৃশ্য!

 কী এক অমানবিক দৃশ্য!

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
****************************************
শোন হে মানবতা—শোন!
আজ স্বাধীন বাংলার বুকে
কফিনের ঢোল বাজে,
আইনের মসনদে বসে
নীরব ঘাতক নিয়ম!

রক্তহীন ফরমানের তলে
কাঁপে পিতৃত্ব,
কারাগারের লোহার দাঁতে
ছিঁড়ে যায় বুকের দুধ-ভেজা স্বপ্ন।
হে বিধাতা, এ কোন শাসন?
এ কোন সভ্যতার অভিশাপ?

নির্জন পথে ছুটে চলে
মৃত্যুর ঘোড়া—অ্যাম্বুলেন্স,
কফিনে শুয়ে মা,
তার বুকে নিথর
একটুখানি সূর্য—শিশু!
তবু তারা যাচ্ছে—
জীবিত পিতার কাছে!
হায়! জীবিতের কাছে যেতে
মৃত্যুই আজ একমাত্র অনুমতি!

পিতা চেয়েছিল
একবার—শুধু একবার—
জীবনের উষ্ণতা ছুঁতে,
কোলের মধ্যে ধরে
শোনাতে হৃদয়ের আজান।
কিন্তু রাজনীতির কালো দাঁত
চিবিয়ে খেল সেই আকাঙ্ক্ষা,
আইনের শীতল মুখে
মানবিকতা আজ নিষিদ্ধ ভাষা!

বিশ্ব তাকিয়ে রইল—
চোখে বিস্ময়ের আগুন,
জনতার চোখে ঝরল অশ্রু,
রাস্তায় নামল দীর্ঘশ্বাসের মিছিল।
হে রাষ্ট্র!
তোমার প্রাসাদের দেয়ালে
শোন কি না এই কান্নার বজ্র?

গেটের সামনে এলো পিতা—
চোখে অন্ধকার, বুকে শূন্যতার ঝড়,
দেখল—
স্ত্রী আর সন্তান,
নিথর, নিশ্চুপ, নিঃশব্দ।
সে চিৎকার করল না—
কারণ তার কণ্ঠ
আগেই খুন হয়েছে আইনের হাতে!

আকাশ ভেঙে পড়ল তার চোখে,
মাটি ফেটে বেরোল দীর্ঘ আর্তনাদ,
পাথর কাঁদল,
লোহা কাঁদল,
কাঁদল ইতিহাস—
শুধু কাঁদল না
শাসনের হৃদয়!

আমি কবি—
আমি প্রশ্ন ছুঁড়ি বজ্রের মতো,
যে আইন মানুষ চিনে না,
সে আইন আমি মানি না!
যে সভ্যতা পিতার কোলে
মৃত্যু তুলে দেয়,
সে সভ্যতার মুখে
আমি থুথু ছুঁড়ে দিই—বিদ্রোহের!

এই দৃশ্য শেষ নয়—
যদি মানুষ জাগে না,
যদি বিবেক না জ্বলে,
তবে কাল আবার
আরেক পিতার বুকে
নামবে শোকের নীল আগুন!

ওগো মানুষ—জাগো!
আইন হোক মানবিক,
শাসন হোক করুণার,
নইলে এই কবিতা
শুধু শোক নয়—
হয়ে উঠবে আগামীর
বিদ্রোহী মহাকাব্য!
---------------------------------------------


২৬-০১-২০২৬

হায় রে রাজনীতি

 হায় রে রাজনীতি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
****************************************

হায় রে রাজনীতি!
কে তুই?
রক্তের উপর দাঁড়িয়ে শাসনের দাবিদার?
স্বাধীনতার মুখোশ পরে পরাধীনতার কারিগর?
বল্—
কে দিল তোকে মানুষের ঘাড়ে পা রাখার অধিকার?

আমি দেখি—
ন্যায়ের বুকে তোর খঞ্জর,
নীতির চোখে তোর অন্ধকার!
নেতৃত্ব কেন আজ জল্লাদ?
রাষ্ট্র কেন দুর্নীতির কসাইখানা?
উত্তর দে রাজনীতি!

কে ভাইয়ে ভাইয়ে ঢালে বিষ?
কে পাড়া-মহল্লা ভাগ করে দেয় আগুনে?
কে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় লেখে ক্ষমতার ইতিহাস?
তুই না—
তুই-ই তো!

আমি দেখি স্বৈরতন্ত্র,
আমি শুনি মবতন্ত্রের হুংকার,
আমি গুনি দুর্নীতিন্ত্রের দাঁত,
আমি চিনি ফ্যাসিবাদের মুখ!
এ কোন শাসন?
এ কোন সভ্যতা?

বল্—
কেন বন্ধু আজ শত্রু?
কেন বিচারক আজ জুলুমবাজ?
কেন মজলুম আজ আসামি,
আর জালেম আজ মসনদের মালিক?

ধর্ম কেন তোর ব্যবসা?
ঈমান কেন তোর পণ্যের নাম?
মসজিদ-মন্দির কেন তোর ক্ষমতার বিজ্ঞাপন?
মিথ্যার মঞ্চে বসে কেন গাইস উন্নয়নের গান?

গুম কে করে?
হত্যা কে করে?
রাহাজানি, লুণ্ঠন, অরাজকতার অবাধ চাষ—
কার শাসনে হয়?
চুপ কেন রাজনীতি?
জবাব দে!

আমি শুনি—
স্বাধীনতা আজ শিকলবন্দি,
স্বাধীনচেতা কণ্ঠ আজ কারাগারে!
আমি দেখি—
দিকে দিকে রক্তের বন্যা,
ভয়ের রাষ্ট্র, মিথ্যার সাম্রাজ্য!

তাহলে শোন—
আমি বিদ্রোহ!
আমি সেই কণ্ঠ
যাকে টিপে ধরলে বিস্ফোরিত হয় ইতিহাস!
আমি প্রশ্ন—
আমি আগুন—
আমি বজ্র!

আমি বলি—
যে রাজনীতি মানুষ খায়,
সে রাজনীতি বাঁচার অধিকার হারায়!
যে শাসন ন্যায় হত্যা করে,
সে শাসন একদিন নিজেই রায়ের কাঠগড়ায় দাঁড়ায়!

যেদিন জনতা জাগবে—
ভয় ভাঙবে, গুজব মরবে,
বিবেক হাতে রাস্তায় নামবে—
সেদিন তোর সব মুখোশ
ধুলোয় মিশে যাবে!

সেদিন মানুষ আবার মানুষ হবে,
আর রাজনীতি—
হয় ন্যায়ের পথে ফিরবে,
নয়তো ইতিহাসের আগুনে পুড়ে ছাই হবে!
-----------------------------------------------------


২৬-০১-২০২৬

Sunday, January 25, 2026

বাংলার বুক আজ অশ্রু ভেজা

 বাংলার বুক আজ অশ্রু ভেজা

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*********************************

হে বিশ্ব, থামো, শোনো ইতিহাসের আর্তনাদ,
বাংলার বুক আজ অশ্রু ভেজা, বুকের ধমক ব্যথার বার্তা।
শান্তির মুখোশে ঢেকে আছে
অমানবিক সভ্যতার বিষধর ছায়া।

রায় হয়নি, বিচার নেই,
তবু সাজা নেমে পড়ল অচিন্ত্য, অমনি।
আইনের চোখে অন্ধকার,
মানবতা নিঃশব্দ, শাসকের হাসি পাথরের মতো কঠোর।

কে অপরাধী, কে নিরপরাধ—
জানেনি কেউ, কেনআদালত নিস্তব্ধ!
লাশের সারি দেখে বিশ্ব থেমে যায়,
জাতি কেঁদে, হৃদয় ফেটে, শোকের জলে ভেসে যায়।

মায়ের চোখে জল, পিতার চোখে অশ্রু,
নবজাত শিশুর মুখে জীবন দমে।
এখানে শত্রুও কাঁদে,
তবু শাসকের হৃদয় গলে না, আইন অচল।

কি এক নিষ্ঠুর খেলা চলছে!
বাংলার শাসক, পাষাণহৃদয়, অমানবিক,
পিতা চেয়েছিল নবজাত পুত্রকে
দেখার একটুখানি, শেষবার কোলে টানার আকুলি।

পরিবার চেয়েছিল প্যারোল,
স্ত্রী চেয়েছিল স্বামীর জামিন,
চেয়েছিল ন্যায় বিচার,
কিন্তু বিচারকের কলমে মানবিকতা নেই।

স্বামী অপরাধ করলেও
শাস্তি হোক ন্যায়বিচারে,
তবু প্রাণ যেন ঝরে না,
এটাই চেয়েছিল পরিবার, চাই মানবতা।

হতাশার করাল গ্রাসে নিমজ্জিত হয়ে
দিশেহারা মা নেমে গেল নদীতে,
নিজ সন্তানকে বুকে চেপে ধরে,
নিজেই জীবন উৎসর্গ করল—শেষ আর্তনাদে।

পিতা পারল না শেষ বিদায় দিতে,
দেখতে পারল না সন্তানকে শেষবার,
রাষ্ট্র দিল না প্যারোল,
মৃত্যুর আগে মিলল না একটুখানি মানবিকতা।

আইন নির্বিকার, শাসক নিষ্ঠুর,
মানবিক শাস্তি নেই,
শাসকের খেলায় মরল আশা,
অপরাধীর বিচার হোক,
কিন্তু প্রাণ যেন ঝরে না।

হে শাসক, শোনো ইতিহাসের আর্তনাদ,
মানবতা হত্যা করলে একদিন রায় হবে তোমার।
বিচারের আগে শাস্তি হোক,
এ দেশ হোক সত্যের বাতিঘর,
মানবতার চিরন্তন দিশারি।


২৫-০১-২০২৬

Thursday, January 22, 2026

ভোট দাও হে নিজ বিবেকে

 ভোট দাও হে নিজ বিবেকে

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
***************************************
জাগো হে বাঙালি, জাগো—
নিদ্রাভাঙা ভোরে জাগো বিবেকের ডাকে,
ভোট দাও হে নিজ বিবেকে,
হুজুগে নয়, ভয়েতে নয়,
সত্যের দীপ্ত আলোর পথে হেঁটে।

কে বলল হ্যাঁ, কে বলল না—
সে কথা নহে বিচার্য আজ,
দল নহে মুক্তির চাবি,
নয় বেহেস্তের সোনালি দরজা;
যোগ্যতা, ন্যায় আর দেশপ্রেম—
এই হোক তোমার মাপকাঠি, রাজ।

যে নেতা ন্যায়পরায়ণ,
যার বুকে মাটির গন্ধ, মানুষের টান,
যে দেখে দেশকে মায়ের মতো,
সে-ই হোক তোমার অধিনায়ক, তোমার মান।
দেশবিরোধী, মুক্তিযুদ্ধবিরোধী
কভু পারে না হতে দেশের কর্ণধার,
তার মুখে যত মধুর বাণীই ঝরুক,
সে বিষধর, সে অন্ধকার।

বিবেককে প্রশ্ন করো, গভীর প্রশ্ন করো—
কে সে, যে ন্যায়ের পথে অবিচল দাঁড়ায়?
কে সে, যে ক্ষমতার নেশায় নয়,
মানুষের দুঃখে বুক ভাঙায়?
তাকেই ভোট দাও, তাকেই মানো,
এই হোক তোমার দৃঢ় শপথ আজ।

এ দেশ তোমার, এ ভোট তোমার,
নেতাও তোমার নির্বাচিত পথ,
ভীরুর মতো নয়, নাগরিক হয়ে
উচ্চ করো অধিকার-শপথ।
কোনো হুজুগে যেও না তুমি,
মিথ্যা স্লোগানে দিও না মন,
যারা বলপ্রয়োগে পথ রোধ করে—
বজ্রকণ্ঠে রুখে দাও তাদেরই তখন।

জাগো হে বাঙালি, জাগো আবার—
কলমে, কণ্ঠে, ব্যালটের ঘায়ে,
নজরুলের বজ্রধ্বনি বুকে নিয়ে
ভোট দাও সত্য, ন্যায় আর স্বাধীনতায়।
---------------------------------------------


২২-০১-২০২৬

অশুভন বাচিকের কাব্য

 অশুভন বাচিকের কাব্য

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*********************************
সভ্যতার যুগে আজিকার প্রজন্ম
রচে অশুভন বাচিকের ভয়ংকর সংগম।
মুখের ভাষা শুনিলে কেঁপে ওঠে মন,
পাগলের মাতম যেন—বিবেকহীন ধ্বনন।

চেহারা সুহাসীনি, রূপে মায়ার ছায়া,
অথচ মুখের ভাষা ন্যাংটা কুকুরের ঘেউ-ঘেউ হায় হায়া।
ছিঃ ছিঃ বলতেও লজ্জা লাগে প্রাণে,
মানুষের মুখে পশুত্ব—লুকানো কোন কালে?

জি এন জি লাগামহীন অশ্বের মতো ছুটে,
পথ বাদরে দাপায়, শালীনতা লুটে।
শিষ্টাচার নেই, ভদ্রতা নির্বাসনে,
শিক্ষার আলো নিভে যায় অন্ধ অঙ্গভঙ্গিতে, হিংস্র হাসনে।

শিক্ষিত তারা, তবু আচরণে পশু,
জন্তু জানোয়ারের চেয়েও অধম যেন কিছু।
এদের হাতে দেশ কি নিরাপদ থাকে?
ভবিষ্যৎ কাঁপে ভয়ে—ইতিহাস প্রশ্ন রাখে।

কোন অসভ্যতার যুগে ছুটছে এ প্রজন্ম?
আজিকার বড় প্রশ্ন, বিবেকের সম্মুখে স্তব্ধ মন।
জাতি স্বপ্ন বুনেছিল জিএজি ঘিরে,
আজ আশা-নিরাশার দোলাচল হৃদয় চিরে।

বিপ্লবের আড়ালে স্বার্থের নীল নকশা,
ভয়াল ছায়া নামে, সত্য হয় উপহাসা।
দেশবিরোধী কার্যক্রমের নীরব মহড়া,
চেতনার বুকে বাজে অশনির ঝড়ো ঝাঁড়া।

রাজনীতি, পথঘাট, শিক্ষা ও আদালত,
অফিসে অফিসে ছড়ায় অসভ্যতার ক্ষত।
শ্লোগানের গর্জনে নেই আদর্শের গান,
কেবল ক্ষমতার নেশা, স্বার্থের উন্মত্ত তান।

হে প্রজন্ম, শোনো—এ কি তোমার পথ?
মানুষ হওয়া কি এতই সস্তা, এতই অযোগ্য অর্থ?
ভাষা হোক শুদ্ধ, আচরণ হোক আলো,
বিপ্লব মানে নির্মাণ—ধ্বংস নয় ভালো।

জাগো, হে বিবেক—শব্দে শব্দে শপথ,
অশুভন বাচিক নয়, মানবিকতার রথ।
দেশ ডাকছে তোমায় শালীনতার টানে,
মানুষ হয়ে ওঠো—এই কাব্যের শেষ মানে।
-----------------------------------------------------


২২-০১-২০২৬

Wednesday, January 21, 2026

ওহে সাধু সাবধান!

 ওহে সাধু সাবধান!

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************************

ওহে সাধু, ওহে সাধু সাবধান—
ঘিরে আছে ছোবল-তোলা অজগর জান,
বিষাক্ত সাপ, বিচ্ছু, হায়েনার দল,
নিশাচরের চোখে আগুন, রক্তাক্ত জল।

দিকে দিকে ছদ্মবেশী বন্ধুর ভিড়,
মুনাফিকের হাসির আড়ালে বিষের নীড়।
স্বাধীন সমুদ্রে ঢেউ উঠেছে উত্তাল,
কালবৈশাখীর হুঙ্কারে কাঁপে দিগন্ত কাল।

তুষারের পাহাড়ে জমেছে হিম শীতল ষড়যন্ত্র,
নর্দমা-খাল-বিলে লুকিয়ে পচা মন্ত্র।
শুকুনের ছোবল আজও জাগ্রত প্রাণ,
তোমার চারপাশে ঘোরে মৃত্যু-সন্ধান।

ওরা তোমার মাকে জ্বালাতে চায় আগুনে,
মা-বোনের শরীর ক্ষতবিক্ষত করুক রক্তবনে।
মায়ের আঁচল খামচে ধরে ছিঁড়ে নিতে চায়,
পরিচয়ের নাম-নিশান মুছে দিতে চায়।

তাদের চাওয়া তোমার কাঁধে চাপায় ভার,
অধিকার হরণ করে গড়ে স্বৈরাচার।
মবতন্ত্রের মাঠে চাষ করে ভয়,
কণ্ঠরোধ করে বলে—“নীরব থাকো, হে জনসাধারণ, ভয়!”

তোমার সংস্কৃতি ভাঙে, জন্মের ইতিহাস মুছে,
অর্থনীতির শিরায় ঢালে বিষের কুঁচে।
গতকালের রক্তিম পথ মুছতে চায় আজ,
স্বাধীনতার মানচিত্রে টানে অন্ধকার রাজ।

জাগো হে সাধু, জাগো এই ক্ষণে,
চেনো মুখোশ, চিনে নাও ছায়ার জনে।
সতর্ক পায়ে হাঁটো, দৃঢ় কর প্রাণ,
সাবধান না হলে হারাবে স্বাধীনতার মান।

জাগো—আর লিখে দাও ইতিহাসের বুকে,
ওদের সমাধি স্বাধীন বাংলার মাটিতে ঢুকে।
শান্তির নামে যারা আগুন বয়ে আনে,
সাবধান হে সাধু—সাবধান সেই প্রাণঘাতী গানে।
-----------------------------------------------------


২১-০১-২০২৬

যে ভাষা রক্ষায় রক্ত ঝরেছিল

 যে ভাষা রক্ষায় রক্ত ঝরেছিল

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**********************************************

১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি—রক্তে লেখা দিন,
শহীদ দিবসের অগ্নিক্ষণে জেগে ওঠে বাঙালির ঋণ।
যে ভাষা রক্ষায় ঝরেছিল রক্ত, নিভেছিল কত প্রাণ,
সে ভাষাতেই বাঁধি আমি গান, হৃদয়ের গভীর টান।

আমি বাঙালি, বাংলা আমার মুখের প্রথম ডাক,
মায়ের কোলের মধুর ভাষা, জীবনের চিরন্তন হাক।
এই ভাষার চেয়ে মধুরতর নেই জগৎ-সংসারে,
শব্দে শব্দে মমতা ঝরে, সুর বাজে অন্তরধারে।

তবু এই ভাষা কেড়ে নিতে এসেছিল জুলুমের হাত,
অত্যাচারী শাসক চেয়েছিল মুছিয়ে দিতে পরিচয়ের ছাপ।
উর্দুর শেকল চাপিয়ে দিতে উঠেছিল নির্মম ঝড়,
ভাষার বুকে আঘাত হেনে ভেবেছিল থামবে স্বর।

রফিক, সালাম, বরকত, জাব্বার—রক্তে লেখা নাম,
একুশের রাজপথে রেখে গেছে অমর সংগ্রাম।
মাতৃভাষার মর্যাদা রাখতে দিয়েছিল জীবন বলি,
তাদের রক্তে ভিজে উঠেছে বর্ণমালার কলি।

আজ সেই বাংলা ভাষা পেয়েছে বিশ্বজুড়ে মান,
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা—শহীদের অমর দান।
-------------------------------------------------


২১-০১-২০২৬