Tuesday, July 21, 2026

বকুল ঝরেও বকুল

 কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

*******************************************

শুনো হে পৃথিবী, কান পেতে শুনো
বকুল কখনো ঝরে না,
বকুল কখনো মরে না!
তুমি তাকে যতই দাও আঘাত,
যতই করো অবহেলা,
যতই ছুড়ে দাও তীব্র ধিক্কারের বিষাক্ত বাণ;
তবুও বকুল তার সুবাস হারায় না,
তবুও বকুল ম্লান হয় না কোনোদিন।

তুমি বলতে পারোবকুল তুমি ফুল নও,
তুমি বলতে পারোবকুল তুমি তো আজ বড়ই ব্রাত্য!
ঝড় এসে তাকে ছিঁড়ে নেয় মায়ের কোল থেকে,
বঞ্চিত করে আপন ঘর থেকে,
ধুলোয় লুটিয়ে দেয়, ছুঁড়ে ফেলে ডাস্টবিনের অন্ধকারে।
তবুও... তবুও সে পৃথিবীর প্রেমিক-প্রেমিকার আজন্মের পরম আরাধ্য।

সমাজের রক্তে মিশে থাকতে পারে বিশ্বাসঘাতকতা,
স্বার্থের টানে বদলে যেতে পারে চেনা মানুষ, চেনা সমাজ;
যোগ্যতার পরিমাপে বকুলকে হয়তো তুচ্ছ ভাবে এই পৃথিবী,
ঘৃণার চাদরে ঢেকে দিতে চায় তার মহিমাকে।
কিন্তু বকুল?
বকুল যে নিজের যোগ্যতাতেই প্রকৃতির এক মৃত্যুঞ্জয়ী উপাখ্যান!

তার কোনো ক্ষয় নেই,
সে এক অবিনশ্বর, অপরাজেয় ফুলের মালা।
পথের ধুলো থেকে তাকে কুড়িয়ে নেয় ব্যাকুল প্রেমিকা,
যতনে গেঁথে নেয় পরম অনুরাগে,
সেই মালাই হয়ে ওঠে প্রেমের অমর স্মারক।
পৃথিবীর বুকে এমন প্রিয়, এমন আপন আর কোন্ ফুল আছে?

হে আসাদুজ্জামান রিপন!
তুমিই তো এই প্রকৃতির সেই অবিনশ্বর বকুল।
তোমার কোনো ক্ষয় নেই, তোমার কোনো পরাজয় নেই।
অপমানে তুমি দমে যাওনি, আঘাতে তুমি ফুরিয়ে যাওনি।
তুমি জীবিতেও ফুল, তুমি মৃতেও ফুল;
তুমি এক অতুল্য, সার্থক জীবনের শ্রেষ্ঠ উপমা।

পৃথিবী তোমাকে যতই কাঁদাক,
তুমি সুবাস বিলিয়ে যাবে অনন্তকাল;
কারণ বকুল ঝরে গেলেও, সে তো বকুলই থাকে!

---------------------------------------------------------------------------

 

 

 

 

 

 

 

 

তোমাকে খুব মিস করি দাদা!

 কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।

************************************
বুকের ভেতর বাজিছে আজকে রুদ্র-করুণ শাঁখ,
কোথায় হারালে ওগো দয়াময়, দাও দাদা আর এক ডাক!
তুমি ছিলে এক অপাপবিদ্ধ মহৎ শুভ্র প্রাণ,
সদাহাস্যময়, নিরহঙ্কারী, মানবতারই গান!

তুমি তো আমার ধমনী-শিরায় রক্তের কেউ নও,
তবু কেন আজো মায়াবী স্মৃতির সিন্ধু হয়ে বও?
'
নাতী' বলে সেই অমিয় ডাকের আকুলিয়া আহ্বান,
নিমেষে করিত চূর্ণ-বিদীর্ণ মনের কষ্ট-গ্লান।
আপন দাদা সে আব্দুল আহাদ মোল্লাকে মনে নাই,
তোমার বুকেই পেয়েছিলাম যে পরম পিতার ঠাঁই!

কত যে আদর, কত যে সোহাগ, কত মায়ামমতা,
মনে হলে আজো রুদ্ধ হইয়া আসে মুখের কথা।
তোমার দেওয়া সে অগ্নি-উপদেশ অক্ষরে অক্ষরে
আজো মানি আমি, বাজিছে তা মোর জীবন-শঙ্খ তরে।

পলান বাড়ির মসজিদে তুমি দিতে যে মধুর আযান,
সে ধ্বনি শুনিয়া জুড়াইয়া যেত বিশ্ব-চরাচর, প্রাণ!
নামাজ শেষে দুজনে যখন হইতাম মোরা বাহির,
রাওনাট বাজার, স্কুলের মাঠে স্মৃতিরা হতেছে জাহির।

হাতে তীক্ষ্ণ দা, কাইত্তা মারা সে বিলের শান্ত কূল,
গাছের ছায়ায় ঘুমাইতে তুমি, ভাঙিত বনের ভুল।
ভরদুপুরে নাক ডেকে যখন ঘুমাতে শ্রান্ত রথে,
দুষ্টুমি করে ভাঙাতাম ঘুম প্রলয়-শৈশবের পথে।
ঝড়ের মতন জাগিয়াও তুমি করতে না কভু রাগ,
হাসিমুখে মোরে বুকে টেনে দিতে ভালোবাসার ভাগ!

দেশ জাতির মুক্তিসেনানী, ছিলে পরম ধার্মিক,
কবিরাজি করে আর্তের সেবা করেছ যে  চৌদিক।

যেখানে আর্তনাদ উঠিয়াছে, ছুটে গিয়েছ যে একা,
দরিদ্র-দুখী মানবের মাঝে পেয়েছ খোদার দেখা।
আমার মোর প্রিয়ার ব্যথায় এনে দিলে তুমি ত্রাণ,
হাদিয়া না নিয়ে বলেছিলে শুধু— "দোয়াই আমার প্রাণ।"

জীবনের টানে আসিলাম আমি প্রিয় গাজীপুরে
হঠাৎ সংবাদ বাজিল বক্ষে বজ্র-কঠোর তারে!
তুমি নাকি আজ শয্যাশায়ী, মৃত্যুর মুখোমুখি,
ছুটে গেলাম যে বাণবিদ্ধ মৃগের মতন দুখী।
গিয়ে দেখি তুমি নিথর-নিস্তব্ধ, মহাকালের যাত্রী,
শিয়রে দাঁড়ায়ে ডাকিনু তোমায়ভেঙে প্রলয়ের রাত্রি!
"
দাদা! দাদা!" চিৎকার করি ডাকিলাম শতবার,
তুমি আর চোখ খুলিলে না ওগো, ভাঙিলে না অন্ধকার!
সেই যে ঘুমালে, চিরতরে তুমি নিলে যে বিদায়-বাণ,
শূন্য করিয়া চলিয়া গেলে নাতীর বুক-পরান!

হে মোর দরদী, মোঃ অলিউল্লাহ সরকার বীরেশ্বরে,
পরপারে তুমি থেকো মহিমান্বিত খোদার আরশ-পরে।
আকাশ-পাতাল কাঁপাইয়া আজ করি এই ফরিয়াদ,
জান্নাতুল ফেরদৌস যেন পান মোর প্রিয় সে প্রপাদ!
আমীন! খোদার আরশে পৌঁছাক এই আকুল আর্তনাদ!

-----------------------------------------------------------