Tuesday, May 5, 2026

নিভেছে উনুন

 নিভেছে উনুন

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**************************************

ওরে কাণ্ডারী, চেয়ে দেখ আজ রান্নাঘর স্তব্ধ,
ঘরে ঘরে শুধু ক্ষুধার্ত পেটে হাহাকারের শব্দ।
আগুনের চেয়ে চড়া দামে আজ বিকোচ্ছে এলপিজি,
সিন্ডিকেটের মরণ-ফাঁদেতে জীবন হয়েছে হিজিবিজি।

আয় আর ব্যয়ে যোজন ফারাকে সংসার চলে না আর,
জনতার চোখে শ্রাবণ নেমেছে, পিঠে বঞ্চনার ভার।
এখনো শাসক ফেরোনি তো তুমি শোষিত মাটির কাছে,
জেনে রেখো এই আগ্নেয়গিরি তোমার বিরুদ্ধেই জাগছে।

নিভেছে উনুন, রিক্ত আলয়, অন্ধকার গৃহকোণ,
মূল্যবৃদ্ধির নিঠুর আঘাতে কাঁদিছে পরিজন।
যে দাম বাঁধিলে, তাহার অধিক নিল যে সিন্ডিকেট,
কেমনে জুড়াবে অন্ন ব্যতিরেকে অভুক্ত সেই পেট?

হে রাজাধিরাজ, জনতার মাঝে এখনো ফেরনি তুমি,
তৃষিতের চোখের জলে ভিজেছে তোমারি রাজ্যভূমি।
ফিরে এসো তবে মর্ত্যের টানে, রাখো এ বিনীত মিনতি,
নতুবা রুদ্র জনতা ডাকিবে তোমারি প্রলয়-গতি।
------------------------------------------------- 


২৬-০৪-২০২৬

আবার ফিরেছে হারিকেন

 আবার ফিরেছে হারিকেন

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
******************************************
বিদ্যুৎ-হীন এ মায়ানগরী, লাজ নেই মোর ধিক্কারে?
অন্ধকারে ডুবেছে দেশ, প্রশ্ন জাগে এ অন্তরে।
হে রাজ্যের কর্ণধার! আঁখি মেলি তুমি দেখে যাও—
বিদ্যুতের এই যুগেও কেন আবার ফিরেছে হারিকেন?

খাম্বা দাঁড়িয়ে শ্বেতহস্তী, তার আছে জাল বিছানো,
অফিস-আদালত, কলকারখানা সব যে আজিকে জুড়ানো!
মেশিন চলে না, চাকা ঘোরে না, জনতা আজিকে হতাশ,
লজ্জা! লজ্জা! ঘরে ঘরে কেন আবার ফিরেছে হারিকেন?

দাও কারেন্ট, দাও অধিকার— এ মোর প্রাণের দাবি,
নইলে গদি ছাড়ো হে কান্ডারী, তুমি কি আঁধারের চাবি?
কৃষক কাঁদে রে, ফসল পুড়ে রে, ছাত্রীর চোখে জল—
আলোর যুগেও অভিশাপ হয়ে আবার ফিরেছে হারিকেন!

আমি তো দিই কর, ভূমি-রাজস্ব, আমি তো দেশপ্রেমী,
স্বাধীন দেশের নাগরিক হয়ে কেন এ দাসের জমি?
আমি গাই গান ‘সোনার বাংলা’র অমিয় মধুর সুরে,
তবে কেন মোর মৌলিক অধিকারে আবার ফিরেছে হারিকেন?

জবাব দাও আজ কান্ডারী, আমি যে বীরের রক্ত,
সাম্যের গান গেয়েছি যে পথে, সেই পথে আমি শক্ত!
আমার স্বাধীনতা কোথায় হারালো? কেন এ নির্বাসন?
মিষ্টি কথার আড়ালে কেন আবার ফিরেছে হারিকেন?

রক্ষা নাই রে, রক্ষা নাই রে— যদি জাগে বিদ্রোহী প্রাণ,
অধিকার দাও, নইলে ছাড়ো গদি— হোক আঁধারের অবসান।
লাজ! কি লজ্জা! এই বিভীষিকা সইবে না আর কেউ—
বিপ্লবী আজ জনতা, কারণ আবার ফিরেছে হারিকেন!
----------------------------------------------------------------------


২৬-০৪-২০২৬

তেল নাই ,তেল দে

 তেল নাই ,তেল দে

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
***************************************
হে কাণ্ডারি! পাম্পে পাম্পে হাহাকার—তেল নাই!
রিকশা-গাড়ি থমকে গেছে, শ্রমিকের আর রক্ষা নাই।
বিন্দু বিন্দু ঘাম ঝরে আজ তপ্ত পিচের পথে,
হস্তী চড়ে সিন্ডিকেট সব, জনতা মরে রথে।

তেল দে রে ভাই, তেল দে!
নইলে বুকের রক্ত দেব—রক্তে রাঙা খেল দে!
পাম্পের দ্বারে কাতারবন্দী ক্ষুধার্ত সব গাড়ি,
পকেট খালি, কলিজা জ্বলে, বাড়ছে দাঙ্গা-আড়ি।

একটু তেলের তরেই দেখো রক্তারক্তি কাণ্ড,
তেলের অভাবে থমকে গেছে মিথ্যে এ ব্রহ্মাণ্ড!
ভাইয়ে-ভাইয়ে হানাহানি, লাঠালাঠি আর গালি,
সব লুটে নেয় সিন্ডিকেট ঐ—মারছে যারা তালি।

অনিয়মের রাজত্বে আজ নিয়ম ডুকরে কাঁদে,
জনগণের হাড় দিয়ে সব তেলের বোতল বাঁধে।
চাষার লাঙল চলে না আর, কারখানাতে তালা,
তেলের তেজে বাড়ছে শুধু নিত্যপণ্যের জ্বালা।

বাজার আগুন, ঘরে আঁধার, থমকে আছে দেশ—
ক্ষুধা-অনলে পুড়ছে মানুষ, স্বপ্ন হলো শেষ।
জাগো হে জনতা! অধিকারহারা অবাধ্য বিদ্রোহী,
লুটেরাদের দুর্গ ভেঙে হও আজ রণজয়ী।

তেল যারা লুকায় গুদামে, তাদের টুটি চেপে ধরো,
বঞ্চিতদের মিছিলে আজ বজ্রকণ্ঠে স্বর করো।
আর কতকাল সইবে অনিয়ম, আর কতকাল মার?
তেল না দিলে জ্বালিয়ে দাও সব মিথ্যে অহংকার!

তেল দে রে ভাই, তেল দে!
নইলে বিপ্লব আনব মোরা—অন্যায়ে দাও জেল দে!
----------------------------------------------------

জাগো আজ হে রুদ্র-জনতা

 জাগো আজ হে রুদ্র-জনতা

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
--------------------------------------------
বন্ধু, তুমি বলেছিলে—
ফ্যাসিষ্ট গেছে, অসুর দানিয়া শান্ত হবে এ দেশ,
রক্ত দিয়ে যে মুক্তি আনলে, সে কি এই অবশেষ?
ত্যাগের রক্তে আল্পনা আঁকা রাজপথ আজ কার?
সেথায় কেন আজ মব-এর দাপট, ভয়েরই হাহাকার?

দূর্ণীতিবাজের আসন কি তবে শুধু নাম পাল্টালো?
অন্ধকারে যে প্রদীপ জ্বাললে, সে কি বিষ-শিখা জ্বাললো?
ওরে ওরে মোর বিংশ শতাব্দীর বীর মুক্তিকামী,
দ্যাখ চেয়ে আজ আদালতে চলে অরাজকতারই নামি।

অফিসের টেবিলে ফাইল আটকে ঘুষের সেই চাকা—
গণতন্ত্রের মুখোশ পরে এ কোন দস্যুর আঁকা?
জনতার আজ অধিকার হরণ, লাঞ্ছিত রাজপথ,
বৈষম্যের বিষবাষ্পে থমকে আছে কি রথ?

কই সে সাম্য? কই সে মুক্তি? কই সে গণতন্ত্র?
দিকে দিকে শুধু ভয় আর ভীতি—এ তো মারণমন্ত্র!
টুপিখোলা আজ হুকুম দিচ্ছে, আইন গিয়েছে নুইয়ে,
এক ফ্যাসিষ্টের ছায়া কি তবে অন্যকে দিচ্ছে ছুঁইয়ে?

মব-এর হাতে বিচার যখন, বিচারালয় স্তব্ধ,
বিপ্লব তবে কি কেবলই কিছু ফাঁপা আর শূন্য শব্দ?
জাগো বীর নজরুল—জাগো ফের তব প্রলয় শিখা লয়ে,
কলম ধরো ঐ বৈষম্য আর মব-এর পরাজয়ে।

জেগে ওঠো আজ নব প্রজন্মের অকুতোভয় প্রাণ,
মুক্ত করো এ শৃঙ্খল তলে রুদ্ধ দেশের মান।
অরাজকতা নিপাত যাক, আসুক সাম্যের সূর্যোদয়,
জনতার জয় হোক আজ—ভয়তন্ত্রের হোক বিলয়!
----------------------------------------------------


২৩-০৪-২০২৬

বিদ্যুৎ নাই, বিদ্যুৎ দে

 বিদ্যুৎ নাই, বিদ্যুৎ দে

কলমেঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************************
ওরে ও শাসক! ওরে ও কাণ্ডারী! জাগো রে সুপ্ত হিয়া,
বাংলা আজিকে আঁধারে ডুবিছে, তিমির-সলিল পিয়া।
ঘরে ঘরে আজি হাহাকার ওঠে, শ্মশান-শান্ত পুরী,
তোর প্রদীপের তলে কেন শুধু আলোর চাতুরী-চুরি?

বিদ্যুৎ নাই, বিদ্যুৎ দে!
আঁধারে ডুবেছে জনপদ মোর, ওরে পাষাণ— নেত্র মেলে চাউ রে!

বন্ধ হয়েছে মিল-কারখানা, স্তব্ধ চাকার গতি,
ঘোর অমানিশা গ্রাসিছে জাতির শিল্প ও সংগতি।
গাড়ী-ঘোড়া সব অচল আজিকে, রুদ্ধ পথের বাঁক,
জনতার পেটে ক্ষুধার অনল, বুকেতে মরণ-ডাক!

ছাত্র-ছাত্রীর সজল নয়নে বিদ্যার দীপ নেভে,
বইয়ের পাতায় অশ্রু ঝরিছে— এই পাপ সবি কে রে?
মঞ্চে দাঁড়ায়ে বাচাল মন্ত্রীরা বিলিছ মিথ্যে আশা,
আমরা কি তবে মানুষ নই রে? নাই কি মোদের ভাষা?

শহর ও গ্রামে বৈষম্যের এই প্রাচীর দিয়েছ তুলি,
মোদের রক্তে কেনা এ ভূমে— কেন আঁধারের ধূলি?
মোরাও এ দেশের খাঁটি নাগরিক, দিই যে নিয়মিত কর,
তবু কেন আজ প্রদীপের নিচে আমাদেরই ভাঙা ঘর?

থামা রে তোর বক্তৃতাবাজি, ফন্দি-ফিকির সব,
আকাশ ফাটায়ে গর্জে উঠিছে প্রজার আর্তরব।
বিদ্যুৎ চাই, নিশ্চয়তা চাই— জীবনের অধিকার,
নইলে দাউদাউ জ্বলবে রে রুদ্র— ভাঙবে এ কারাগার!

বিদ্যুৎ নাই, বিদ্যুৎ দে!
নইলে তোর ওই মদমত্ত মসনদ হবে রে ছারখার!
---------------------------------------------------------------------


২৩-০৪-২০২৬

লজ্জা লাগে না ?

 লজ্জা লাগে না ?

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*****************************************
বলতে লজ্জা লাগে না তোমার? ছি ছি ওহে ভণ্ড বীর!
গাড়ির নেশায় বিকিয়ে দিলে কি তোমার উন্নত শির?
জনতার ঘাম-রক্তে কেনা ও যে অভিশপ্ত রথ,
সেবক সেজে বিলাসিতা খোঁজা— এ কোন্ নরকের পথ?

পঞ্চান্ন বছরের ইতিহাসে কেউ চায়নি এমন দান,
সেবার নামে ভোগের পঙ্কে ডুবালে দেশের মান!
গুরুজন বুঝি শিখিয়েছেন আজ— ‘ছোটদের নাহি না’,
রক্তশোষা ঐ সরকারি গাড়ি কেন তুমি ছাড়ো না?

বিপ্লব যার মুখে শুধু বুলি, অন্তরে স্বার্থের টান,
প্রতিশ্রুতি ভাঙার খেলায় সে যে অতি জঘন্য প্রাণ!
কে ডেকেছে তোমায়? কে বলেছে হতে মিছে জনসেবক?
আইনের নামে আখের গুছাও— তুমি তস্কর, তুমি শোষক!

জনতা তোমার চাকা চায় না, চায় অধিকারের দাবি,
ভোগের মহলে সাজো তুমি রাজা, হাতে শোষণের চাবি।
মানুষের তরে যদি লড়তে চাও, ধূলিমলিন পথে এসো,
নইলে তোমার ঐ গাড়ির চাকায় বিদ্রূপ হয়ে মেশো!
-------------------------------------------------------------


২৩-০৪-২০২৬

এ মোর পরিচয়

 এ মোর পরিচয়

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**************************************
এই যে আকাশ, অবারিত মাটি, নদী-নালা-খাল-বিল,
হৃদয়ে আমার স্পন্দিত হয় এদের কাব্যিক মিল।
বঙ্গোপসাগর, উঁচু-নিচু টিলা, পাহাড়ের ঐ ঢাল,
সবটুকু নিয়ে মিশে আছি আমি, পার হয়ে মহাকাল।

কাঁচা-পাকা পথ, মহাসড়ক আর ফসলি শস্যদানা,
প্রকৃতির এই অনুপম ছবি কারোর নয়কো অজানা।
জেলে-কুমার আর তাঁতির চাকা, খেটে খাওয়া সব প্রাণ,
শ্রমিক-কৃষক-আমলা-কামলা—গাই জীবনের গান।

শিক্ষিত আর অশিক্ষিত শিশু, আবাল-বৃদ্ধ-জনতা,
সবার তরেই হৃদয়ে আমার গভীর মমতা।
সবটুকু আমি ধারণ করেছি, হয়েছি একাকার,
বাংলাদেশ মোর প্রাণের স্পন্দন, এ মাটি যে আমার।

ভুলিনি তো কভু লক্ষ প্রাণের রক্তে কেনা সে দেশ,
মা-বোনের ঐ ইজ্জত আর ত্যাগের নেইকো শেষ।
লাল-সবুজের পতাকায় আঁকা মুক্তির সেই দাবি,
হৃদয়ে আমার পরম যত্নে স্বাধীনতার সেই চাবি।

মুক্তিযুদ্ধ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, কালজয়ী ইতিহাস,
স্বাধীনতার ঐ স্থপতি মোর হৃদয়ের নিঃশ্বাস।
রক্তপ্রবাহে মিশে আছে আজ অমর সেই স্মৃতি,
দেশপ্রেম মোর অস্তিত্ব জুড়ে, দেশের তরেই প্রীতি।

ঘৃণা করি আমি দুর্নীতি আর অর্থপাচারকারী,
ফ্যাসিবাদ আর রাহাজানি মুছে দেশটারে গড়তে পারি।
গণতন্ত্রের পূজারী আমি, সত্যের পথে চলি,
লাল-সবুজে বুক বেঁধে নিয়ে অন্যায়ের কথা বলি।

অবিচারহীন সাম্যের দেশে নির্ভীক চিরকাল,
বাঙালি হিসেবে দেশপ্রেমের আজ উড়াই জয়পাল।
শহীদ রক্তে রাঙানো এ মাটি, আমার শ্রেষ্ঠ জয়—
দেশপ্রেমিক এই আত্মাই তো— এ মোর পরিচয়।
-------------------------------------------------------

স্বদেশপ্রেমের অগ্নি-শপথে

 স্বদেশপ্রেমের অগ্নি-শপথে

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
-------------------------------------
ওরে ও ভণ্ড রাজনীতির ধ্বজাধারী, শোন রে তোরা মন দিয়ে,
রক্তে কেনা এই স্বাধীনতা রাখব আগলে জান দিয়ে!
যে রাজনীতি মোর বীর শহীদের রক্তে মাখানো স্মৃতি হাসে,
যে রাজনীতি মোর ইতিহাসের মূলে কুঠারাঘাতের জাল ফাঁশে;

সে রাজনীতির মুখে মারি লাথি—সে রাজনীতি আমরা চাই না,
মানুষের রক্ত চুষে খাওয়া ঐ হায়েনাদের আমরা চিনি না!
শোনো রে শোষক, শোনো রে ঘাতক, শোনো রে ভীরুর দল,
গণতন্ত্রের টুঁটি চেপে ধরে দেখাস যে বাহুবল—

মবতন্ত্রের ভয় দেখিয়ে করিস কণ্ঠ রুদ্ধ যার,
সেদিন দূরে নয়, যেদিন হবে তোর পাপিষ্ঠ গদি ছারখার!
দুর্নীতির ঐ পাহাড় গড়ে, পরিবারতন্ত্রের শিকলে মেতে,
দেশমাতাকে বেচতে চাস যারা ক্ষমতার ঐ পাশা খেলে—

তাদের তরে এই বাংলায় ঠাঁই নাই রে—ঠাঁই নাই,
দেশপ্রেমী সেই নতুন সূর্য, নতুন রাজনীতি আমরা চাই!
দমন-পীড়ন, প্রতিহিংসার বিষ যে রাজনীতি ছড়ায় মনে,
বিরোধী মতের টুঁটি টিপে ধরে অন্ধকার ঐ কোণে;

ন্যায়বিচারের কবর খুঁড়ে যারা হাসে পৈশাচিক হাসি,
তাদের গলে পড়িয়ে দেব আজ গণ-বিদ্রোহের ফাঁসি!
লাল-সবুজের অবমাননা সইবে না আর এই মাটি,
জাতীয় সংগীত বিহীন ও বুক—নহে তো কভু খাঁটি!

রক্ত চাই? নে রক্ত তবে! কিন্তু স্বাধীনতা ছাড়ব না,
স্বদেশপ্রেমের অগ্নি-শপথে একটুও পিছু হটব না।
সাম্য আসুক, মুক্তি আসুক, আসুক মানুষের জয়গান,
বিপ্লবীদের বজ্রকণ্ঠে থরথর আজ কাঁপুক আসমান!

যে রাজনীতি শুধু দেশের তরে—সেই রাজনীতি চাই মোরা,
শোষক মুক্ত, বৈষম্যহীন নতুন এক দেশ গড়ব মোরা!
---------------------------------------------------------------------------------


২২-০৪-২০২৬

নীল দহনের মানচিত্র

 নীল দহনের মানচিত্র

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপু
----------------------------------------------------------------
নিঃশব্দ চরণে ঢুকেছিলে এই পাজরের মন্দিরে,
ঠিক যেন শরতের শিউলি—
ঝরে পড়ার আগেই সুবাসে ব্যাকুল করে দিলে চরাচর।
সেদিন ধূপকাঠি হয়ে জ্বলেছিলাম তোমারই অনুরাগে,
বুঝিনি, পুড়ে ছাই হওয়াই ছিল ললাটের লিখন।

তারপর?
ঝড়ের আগের স্তব্ধতার মতো তুমিও চলে গেলে নিরবে,
ফেলে গেলে না কোনো বিদায়ের সুর, না কোনো পিছুটান।
শুধু আমার হৃৎপিণ্ডের দেয়ালে খোদাই করে গেলে—
এক বিষাক্ত মানচিত্র, এক অমীমাংসিত ক্ষত।

স্মৃতির সেই কালশিটেগুলো আজ বড্ড অবাধ্য,
আর্তনাদ করে ওঠে নির্ঘুম রাতের নির্জনতায়।
যতবার চেয়েছি বিস্মৃতির প্রলেপে মুছতে তোমার নাম,
ততবারই সে ক্ষত মুখ মেলেছে বন্য পশুর মতো।
বাঁধনহারা স্রোতের মতো নামে শোণিতের ধারা,
বুকের ভেতর চলে এক নিরন্তর রক্তক্ষরণ—
যেন কোনো অভিশপ্ত জাদুকর বিঁধিয়ে গেছে বিষাক্ত বাণ।

প্রতিটি স্পন্দনে আজ যন্ত্রণার নূপুর বাজে,
প্রতিটি নিশ্বাসে লেগে থাকে তোমার দেওয়া সেই তপ্ত দহন।
তুমি নেই, অথচ তোমার প্রস্থানের ক্ষতটুকু বড্ড জীবন্ত—
আমাকেই তাড়িয়ে বেড়ায় আমারই ছায়ার মতো,
এক জনম থেকে অন্য জনমের ধূসর প্রান্তরে।
-----------------------------------------------------------


২২-০৪-২০২৬

রুধির-স্নাত প্রশ্ন

 রুধির-স্নাত প্রশ্ন

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর
------------------------------------------------
ওরে দেখ চেয়ে দেখ, কার রক্তে রাঙালি আজ নব দিগন্তের ভোর?
যাদের লাশে গড়া সিঁড়ি বেয়ে এলি, তারা কি পেল আজ তোর?
সাম্যের তরে হলো যে বিপ্লব, সে কি শুধু তোর গদির নেশা?
দুর্নীতির সেই পুরনো জোব্বা, কেন পরলি তবে নতুন বেশা?

কোথায় রে তোর 'নব বন্দোবস্ত'? কোথায় সেই সাম্যবাদ?
জনতার টাকায় বিলাসী শকটে কেন চড়িস তুই আজ অপবাদ?
ভয়তন্ত্রের হাতবদল হলো—ফ্যাসিস্ট ঘুচে কি আইলো মব?
দখলদারী আর চাঁদাবাজির মিছিলে কেন পিশাচের কলরব?

হেলমেট বাহিনী ফিরেছে আবার, হাতে অস্ত্র—রক্তে মাখা,
স্বাধীনতার স্তম্ভে আজ কলঙ্কের কালি দিস তুই মাখা!
খুন, হত্যা আর ধর্ষণের উৎসবে আজ কাঁদে রে মানবতা,
জনতার বুকেও কি হাহাকার শুনবি? এই কি তোর নব বারতা?

একই দম্ভ, একই শোষণ—ঘুরিয়ে শুধু নতুন নাম,
বিপ্লবীদের রক্ত চুষে গড়া কি তোর এই গালভরা দাম?
শত্রুতার বিষবৃক্ষ রোপি, হিংসার করিস চাষাবাদ,
ঐক্যের টুঁটি চিপে ধরে করিস কিসের বিপ্লববাদ?

জাতির মুখে আজ একটিই প্রশ্ন—বজ্রকণ্ঠের হাহাকার,
আমরা কি তবে শেকল বদলালাম? কেন ভাঙলো না অন্ধকার?
নব বন্দোবস্তের নামে কেন তবে অপমানের এই নগ্ন খেলা?
সাবধান ওরে দাম্ভিক শোষক! ফুরিয়ে আসছে তোরও বেলা।

ওরে নতুন বেশে পুরনো শোষক, জবাব দিবি কি আজ?
বিপ্লবী সাজে রক্ত চুষিতে তোর কি লাগে না লাজ?
রক্তের দামে কেনা সে মিনার—কেন সে ধূলিত আজ?
কোথায় সে নব বন্দোবস্ত? কোথায় সাম্যের কাজ?

বিপ্লব কখনো পথ হারায় না, পথ হারায় শুধু লোভী মন,
জনতার অধিকার ফিরিয়ে দে তোরা—নইলে জ্বলবে আবার আগুন!
-----------------------------------------------------------------------------


২২-০৪-২০২৬

আমি অন্ধকারে বসে আছি

 আমি অন্ধকারে বসে আছি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*****************************************
আমি অন্ধকারে বসে আছি—
তোর রাজপ্রাসাদে বিজলি-বাতির উল্লাস নাচে রাতে,
আমার কুটিরে নিঝঝুম রাতি, শিয়রে আঁধার সাথে!
তোর সভাসদে বিদ্যুত-শিখা জ্বলে ওঠে হীরা-জ্যোতি,
আমার পল্লী-মায়ের ললাটে কলঙ্ক-বিভূতি!

দশ ঘণ্টা—বারো ঘণ্টা—নির্ঘুম কাটে গ্রাম,
তোর বিলাস-ভবনে আমার রক্ত-ঘামের বিকানো দাম!
ওরে ভণ্ড কান্ডারী! তুই ক্ষমতার গদিতে অন্ধ,
চোখ খুলে দেখ জঠর-জ্বালায় কল-কারখানা বন্ধ।

কৃষক কাঁদিছে শুকনা মাঠে, সেচ-যন্ত্র যে স্তব্ধ,
শিশুর ললাটে বিন্দু ঘামেরা জাগায় বিপ্লব-শব্দ।
পড়ার টেবিলে ছাত্রের চোখে আঁধার ঘনায় ত্রাস,
বৃদ্ধের বুকে গরমে হাপর—করুণ দীর্ঘশ্বাস।

তোর রাজপথে উৎসব চলে, এসির শীতল ঘোরে,
আর লক্ষ জনতা দহিছে রে আজ লোডশেডিং-এর জোরে!
চলেতো গেল সেই দস্যু দল? গেল কি ফ্যাসিস্ট-ভয়?
তবে কেন আজও রুদ্ধ দুয়ারে জাতির এ পরাজয়?

দুর্নীতিবাজ বিদায় নিয়েছে, গদি হয়েছে যে খালি,
তবে কেন আজও এই জনপদে তিমির-কালিমা বালি?
মুক্তির নামে তবে কি কেবল কুর্সি বদল হলো?
আঁধার ঘোচাতে তবে কেন আজও রবি না উদয় হলো?

ওরে কান্ডারী! আঁখি খোল আজ, জনতার শিরে আয়,
বিদ্যুৎহীন এই ম্লান দেশে দহিছে রে তপ্ত-পায়।
নাহলে আবার প্রলয় আসবে, চূর্ণ হবে এ ঘর,
আঁধারে যাহারা ধুঁকিছে আজ—তারাই সে ভয়ংকর!

আমি তিমিরে বসিয়া প্রতীক্ষা করি নব এক সূর্যোদয়,
যেদিন মিটিবে সব হাহাকার, হবে বিপ্লবের জয়!
-----------------------------------------------------------------


২২-০৪-২০২৬

ছোটদের না বলতে নেই’

 ছোটদের না বলতে নেই’

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
*****************************************
শোনো হে বাঙালি, শোনো এক অদ্ভুত উপাখ্যান,
সেবক সেজে যারা চেয়েছিল মানুষের সম্মান।
ভোটের আগে কথা ছিল— ‘নেব না কোনো শুল্কমুক্ত গাড়ি’,
জনতার তরে বিলিয়ে দেব আমাদের সব ঘরবাড়ি।

বেতন-ভাতা, ঐশ্বর্য? ওসব তো কেবল মোহ,
আমরা আসছি আনতে এক নতুন দিনের বিদ্রোহ।
সেবক হবার শপথ নিয়ে গদিটা যখন পেলো,
অল্প দিনেই ভোল বদলে সুরটা বদলে গেলো!

সেবার নামে এখন শুধুই ভোগের আয়োজন,
জনতার কষ্টের টাকা এখন ওদের অতি প্রয়োজন।
বজ্রকণ্ঠে ডাক দিয়ে কয়— ‘অফিস তো মোরা পেলাম,
কিন্তু দামি গাড়ি ছাড়া কি সয় আমাদের এই সালাম?’

ভাড়ার গাড়িতে সেবক চলে? ছিঃ একি দৃশ্যপট!
ক্ষমতার আগে এক রূপ, পরে আজ অন্য খটখট।
মিথ্যাবাদী বলবো ওদের? বলব কি তবে প্রতারক?
নাকি বলবো এই সমাজের নিপুণ মুখোশধারী ধারক?

দৃশ্যপট যা দেখি চারিপাশে, শুভ নয় তার গতি,
সেবকের বেশে আড়ালে বাড়ছে লালসার দুর্গতি।
ওদের গুরুরা শিখিয়ে দেয়— ‘ছোটদের না বলতে নেই’,
চাহিবার সাথে সাথে যেন সব দুয়ার খুলে দেই!

অমুকে পেয়েছে তমুকে পেয়েছে, আমাদের কেন নেই?
জনসেবার বুলি কি তবে হারিয়ে গেল ওখানেই?
পঞ্চান্ন বছরের এই স্বাধিন দেশে এমন তো কেউ দেখেনি,
দাবি আদায়ে নীতি বিসর্জন, আগে তো কেউ শেখেনি।

বৈষম্য দূর করবে যারা, তারাই আজ বৈষম্যের কারিগর,
লজ্জা নামে শব্দটা কি হয়েছে ওদের ভীষণ পর?
কথা আর কাজে মিল নেই যাদের, জনসেবক তবে তারা কই?
ছিঃ! ধিক্কার জানাই তাদের, যারা ক্ষমতার নেশায় মত্ত বই।
------------------------------------------------------ 



২২-০৪-২০২৬

হে অভাগা নারী শিল্পী

 হে অভাগা নারী শিল্পী

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
****************************************
হাতে হাতকড়া, কোমরেতে বেল্ট—একি দেখি স্বাধীনতা?
সিজারের ক্ষত শুকায়নি আজো, এ কেমন বর্বরতা!
দেড় মাস আগে যে শিশুটি পেল জননীর ওম গায়ে,
সে কেন আজকে রক্ত দেখবে শোষকের রাঙা পায়ে?

পৃথিবী অবাক! তাকিয়ে দেখছে মা-মেয়ের এই দশা,
আইনের নামে এ কোন দানব মেলিয়াছে তার থাবা?
ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়, সে কথা তো জানা আছে,
কিন্তু মাতৃত্ব কেন আজ বলি হবে—অমানবিকতার কাছে?

রাষ্ট্রের কাণ্ডারী! জবাব কি আছে? কেন ওই শিশু জেলে?
নিষ্পাপ মুখটা মলিন হলো যে প্রতিহিংসার রোষানলে।
শিল্পী যদি বা হয় অপরাধী, বিচার তো হবে তবে—
কিন্তু মায়ের কোল থেকে টেনে এ কেমন সাজা হবে?

যে রাজনীতি আজ বিষ ঢেলে দেয় শিশুর দুগ্ধ-পানে,
সে রাজনীতির কবর খুঁড়িতে আমরা যে আজো জানি।
মানবিকতা আজ ডুকরে কাঁদছে লোহার ওই গরাদে,
মানুষের বিচার কেন হবে আজ দানোদের অপরাধে?

হে বিশ্ব! দেখো, স্বাধীন বাংলায় মাতৃত্ব আজ বন্দী,
ক্ষমতার লোভে শাসকেরা করে কত শত কূট-সন্ধি।
তবু জেনো এই শিশুর অশ্রু ঝঞ্ঝা হয়ে নামবে—
অবিচারীদের মসনদ কোনোদিন স্বস্তিতে কি থামবে?

এই নিষ্পাপ শিশুর চোখের জলে ধুয়ে যাক সব দম্ভ,
মাতৃত্ব আজ রক্তে ভিজেছে—লজ্জিত আজ স্তম্ভ!
হে রাষ্ট্রের কাণ্ডারী! বলো—নিষ্পাপ শিশুর কি অপরাধ?
মায়ের সাথে কেন তাকে আজ কারাদণ্ড নির্বাদ?

হে অভাগা নারী শিল্পী! তব অশ্রুসজল নয়ন-নীরে
ভিজেছে মাটি, কেঁদেছে আকাশ স্বাধীন বাংলার তীরে।
তামাম দুনিয়া স্তম্ভিত আজি হেরিয়া এ পাষাণ দৃশ্য,
মমতাময়ী মায়ের বিচারে লজ্জিত আজ বিশ্ব!

জাগো হে জনতা, জাগো হে আদালত, জাগো হে রাষ্ট্রনায়ক,
হিংসার অনলে পুড়ো না আর—হইয়ো না মানবতার ঘাতক।
------------------------------------------------------------------- 



২২-০৪-২০২৬

শুধু তোমার জন্যই

 শুধু তোমার জন্যই

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************************
শুধু তোমার জন্যই হৃদয়ের এই অবারিত দ্বার,
আগল দিইনি কোনোদিন, সরাইনি পাহার।
শত বসন্ত এল-গেল, কত ফাগুন ঝরল পথে—
আমি ঠায় দাঁড়িয়ে রইলাম তোমার ফেরার রথে।

সবাই তো বাঁধে ঘর, খোঁজে নতুন কোনো মুখ,
আমার শুধু তোমার স্মৃতিতেই অশেষ সুখ।
জানো? অন্য কারও চোখে আমি হারাইনি পথ,
অন্য কোনো ঠোঁটে খুঁজিনি প্রেমের শপথ।

যেন এক নিঃসঙ্গ মন্দিরে আমি একনিষ্ঠ পূজারি,
তোমার নামে জপি মালা, আমি চির-অহংকারী।
তুমি আকাশ হয়েছ বিশাল, হয়েছ দূরের মেঘ,
আমি আজও মাটি হয়ে সইছি তোমারি আবেগ।

তুমি বুঝলে না এই হৃদয়ের বোবা আর্তনাদ,
আমার বিরহ-নীল আকাশে তুমি একাই পূর্ণ চাঁদ।
দর্শন বলে— প্রেম নাকি মুক্তি, সে তো মায়া নয়,
কিন্তু আমার কাছে তোমায় ভালোবাসাই শ্রেষ্ঠ জয়।

হয়তো কোনোদিন নোনা জলের প্রতিটি ফোঁটা—
বলবে তোমায়, কেন মোর প্রেমে ছিল না কোনো খুঁত বা ফোঁকর।
এখনো খোলা আছে দ্বার, এখনো সেই একই গান,
শুধু তোমার জন্যই তোলা আছে আমার সকল অভিমান।
-----------------------------------------------------


২১-০৪-২০২৬

শুধু ভালবেসেছি বলেই

 শুধু ভালবেসেছি বলেই

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**********************************
শুধু ভালবেসেছি বলেই—
তুমি অবহেলার তলোয়ারে আমায় ক্ষতবিক্ষত করো,
জানতে চাও না, এই রক্তক্ষরণ কতটা নীল;
অথচ আমি তোমার বিষাক্ত নিঃশ্বাসকেও
চন্দনের ঘ্রাণ ভেবে আজীবন আগলে রেখেছি।

শুধু ভালবেসেছি বলেই—
আমার আত্মসম্মান আজ তোমার পায়ের কাছে ধুলোয় লুটায়,
তুমি হাসিমুখে মাড়িয়ে যাও আমার বিশ্বাসের মানচিত্র।
রাতের আকাশ জানে, কতটা নোনা জল জমলে
একটা মানুষ আস্ত একটা সমুদ্র হয়ে যায়—
তবুও তুমি আমায় মরুভূমি ভেবে তৃষ্ণার্ত রেখেছো।

অন্ধের মতো বিশ্বাস করেছি বলেই কি
আজ চোখের মণির বদলে অন্ধকার উপহার দিলে?
মৌনতার দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে আজ,
হয়তো কোনো এক ঝরা বকুল হয়ে ঝরে যাবো—
তোমার পথের কাঁটা হওয়ার কোনো অধিকার আমার নেই।

শুধু ভালবেসেছি বলেই—
অঝোর শ্রাবণে আজ একাকী ভিজছি আমি,
আর তুমি অন্য কারো রোদে সুখের স্বপ্ন বুনছো।
আমার বিসর্জন হোক তোমার জন্য অর্ঘ্য,
শুধু মনে রেখো—পৃথিবীতে ঘৃণা করা সহজ,
কিন্তু অপমানের বোঝা সয়ে ভালোবাসা অনেক কঠিন।
----------------------------------------------------------


২১-০৪-২০২৬

শেষ চিঠির আর্তনাদ

 শেষ চিঠির আর্তনাদ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**********************************
শুধু ভালোবেসেছি বলেই—
তুমি আমার আকাশের নক্ষত্রগুলো নিভিয়ে দিলে,
জানতে চাইলে না, অন্ধকারের সাথে আমার কতকাল আড়ি;
অথচ আমি তোমার অন্ধকার ঘরে
মোমবাতি হয়ে নিজেকে পুড়িয়েই আলো দিয়েছিলাম।

শুধু ভালোবেসেছি বলেই—
আমার আর্তনাদ আজ তোমার কাছে নিছক অভিনয়,
আমার কান্নার শব্দ আজ তোমার কানে শ্রুতিকটু সুর;
অথচ এই বুক চিড়ে দীর্ঘশ্বাস হয়ে
শুধু তোমার নামটাই বের হয়ে আসে বারবার।

তুমি তো সেই নাবিক, যে তরী ডুবিয়ে হাসো,
আর আমি সেই সাগর, যে ডুবন্ত তরীকে বুকে টানি।
অগাধ প্রশ্রয় দিয়েছি বলেই কি—
আজ অপমানের বিষে আমার কণ্ঠ নীল হয়ে আছে?

যাও, তবে মনে রেখো—
সবাইকে তুচ্ছ করা যায়, কিন্তু সবার ভালোবাসা পাওয়া যায় না।
একদিন আয়নার সামনে দাঁড়ালে দেখবে,
আমার অপমানের দাগ তোমার চিবুকে কলঙ্ক হয়ে লেপ্টে আছে।
--------------------------------------------------------------


২১-০৪-২০২৬

বিপ্লবী যখন পথ হারায়

 বিপ্লবী যখন পথ হারায়

ওরে দিশাহারা বিপ্লবী!
তোর বজ্র-নিশান কেন আজ লুটে ধুলার হীনমন্যতায়?
আদর্শহীন সে বিপ্লব আজ তামাদি—ম্লান মরা জোছনায়!
যে শির ছুঁয়েছিল আকাশ, সে কেন আজ নুয়ে পড়ে অপমানে?
কলঙ্ক-কালিমা লেপন করিস কেন রে নিজেরই রক্ত-গানে?
গৌরব-হীন ইতিহাস তোর—নাই নাই কোনো মহিমা,
প্রতারণার তিলক ললাটে, পাপের যে নাই সীমা!
ওরে ও ছদ্মবেশী!
জনতার বিশ্বাস পুড়িয়ে জ্বালিস নিজের স্বার্থের ধূপ,
তোর অন্তরে হলাহল বিষ, বাইরে যে সাধুর রূপ!
আস্থা হারিয়ে তুই আজ রিক্ত, তুই আজ দেশদ্রোহী,
মরণ-ফাঁসির মঞ্চ তোরে ডাকছে রে পরম মনোযোগী!
ঘৃণার পাত্র হয়ে তুই রচলি যে কালো অধ্যায়,
ইতিহাস তোরে ছুঁড়ে ফেলে দেবে বিস্মৃতির তপ্ত কড়ায়!
ওরে ফ্যাসিস্ট জুলুমবাজ!
ক্ষমার লোভে তুই বিকিয়ে দিলি স্বদেশের পবিত্র ধূলি,
হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে আজ মত্ত হীন স্বার্থের পথ তুলি!
মববাদী ওই দম্ভে তোর দাউদাউ জ্বলে চিতার অনল,
বেয়াদবি তোর ভূষণ আজ—ওরে ও ছলনাময়ী খল!
জুলুমের ওই তলোয়ারে কেন কাটিস মায়ের বুক?
জনতা আজ জাগছে দেখ—শুকাবে তোর ওই শয়তানী মুখ!
জাগো হে জনতা!
রুখে দাঁড়াও আজ আগ্নেয়গিরির রুদ্র-ভয়ঙ্কর তেজে,
ঐ গুপ্তঘাতকের বিনাশ গান দাও রে এবার বেজে!
থুথু দাও ওই বিশ্বাসঘাতকের বিদীর্ণ কুৎসিত মুখে,
ইতিহাসের কালো পাতায় ওরাই রবে কলঙ্ক হয়ে ধুঁকে।
বিপ্লব হবে তখনই সূচি, যখন পুড়বে ঐ আবর্জনা,
আবার জাগবে নতুন সূর্য—ঘুচবে সকল এ লাঞ্ছনা!
-------------------------------------------------


২১-০৪-২০২৬

ওরে দেশদ্রোহী রাজ

 ওরে দেশদ্রোহী রাজ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*************************************
ওরে ও অন্ধযুগের মায়াবী শাসক, মিথ্যার বেসাতি তব,
কণ্ঠ ছাড়িয়া কতকাল আর গাহিবে এ গান নব?
‘দেশ বেচা হলো’, ‘গোলামি আসিল’—এ সুরের মায়াজালে,
কতকাল আর ঢাকিবে সত্যে মিথ্যার অন্তরালে?

দাও দেখি দেখা—কোথায় সে লিপি, দেশদ্রোহী দস্তখত?
জনতার চোখে ধুলা দিয়ে আজ হয়েছো যে পথচ্যুত!
ক্ষমতার রথে চড়ে বসেছিলে, হাতে ছিল সব চাবিকাঠি,
কেন তবে আজো প্রমাণ বিহীন তোমার সে তর্জনীটি?

তুমিও তো ছিলে সেই সিংহাসনে, প্রমাণের থালি হাতে—
কেন তবে রটিলে কেবল কলঙ্ক আঁখিপাতে?
দেশপ্রেমিকের মুখোশটি পরে তলে তলে কার চাটুকার?
স্বাধীন এ দেশে কার অনুমতির অপেক্ষায় হাহাকার?

যারা চায়নি এ দেশের আলো, আজন্ম বৈরী যারা,
তাদেরই চরণে আজ লুটাইছে কি সব স্বত্বহারা?
স্বাধীন দেশের আকাশ-বাতাস আজ কেন পরবাসী?
কেন আমাদের কণ্ঠের কোণে বিজাতীয় সেই হাসি?

তুমি লুণ্ঠিত স্বাধীনতার নায়ক, তুমিই তো সেই চোর,
সোনালী ভোরের ললাটে এঁকেছো অমানিশা ঘোর।
জনতার কাছে দিতে হবে জবাব, কেন এ গোলামি চুক্তিনামা?
স্বার্থের তরে কেন খোয়ালে দেশের বুকের সে জামা?

শান্তির দূত সেজে এলে ওরে ও অশান্তির কারিগর,
ধিক তোরে শত ধিক ওরে জাতিদ্রোহী, ভণ্ড, প্রতারক অমর!
বিপ্লবী-রোষে ফুঁসিছে জনতা, ফুঁসিছে এ মাটি আজ—
খোলো দেখি তব মায়াবী আবরণ, ওরে দেশদ্রোহী রাজ!

এই ইতিহাস মুছিবে না কভু তব এ কলঙ্ক-তিলক—
রক্তের অক্ষরে জবাব লিখিবে আগামীর জন-বালক!
--------------------------------------------------------------


২১-০৪-২০২৬

কৃষকের রোদন

 কৃষকের রোদন

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**************************************
জাগো রে কিষাণ! জাগো রে মজুর! কন্ঠে ধরো গান,
শুকায়ে গিয়াছে মাঠের শস্য, বিদীর্ণ আজ প্রাণ!
দিকে দিকে শোনো হাহাকার-ধ্বনি, তৈলবিহীন কল—
মেশিন থামিয়া মরুভূমি আজ সোনার ফসলি স্থল।

লাইনের শেষে রিক্ত হস্তে ফিরিয়াছ ঘর পানে,
শাসকের কানে পৌঁছায় নাকো ক্ষুধার্তদের গানে।
আকাশে জ্বলিছে রুদ্রের আঁখি, নদী-নালা সব শুষ্ক,
তৈলের দামে আগুন লেগেছে, ভাগ্য যে আজ রুক্ষ।

সার ও বিষের আকাশছোঁয়া দর, পিঠ ঠেকে গেছে দেয়ালে,
সব শুষে নেয় মদমত্ত ঐ শাসক আপন খেয়ালে!
পরিবহনের ভারে নুইয়াছে মেরুদণ্ড আজ তব,
রক্ত বেচিয়া শোধ করো ঋণ—এ এক নরক নব।

কোথা সে লাঙল? কোথা সে জোয়াল? জাগো ধূমকেতু প্রায়,
অত্যাচারীর সিংহাসনটা চূর্ণ করো হে পায়!
মাঠভরা ফসল পুড়িয়া ছাই, ঘরে নাই এক কণা,
অশ্রু মুছিয়া ধরো হাতে আজ বিদ্রোহেরই আলপনা।

রক্তশোষক ঐ শাসকেরে জানাও তীব্র ধিক্,
কৃষক বাঁচিলে বাঁচিবে স্বদেশ—জাগো ওরে দশ দিক!
তুমিই ভিত্তি, তুমিই শক্তি—নত কেন তব শির?
ভাঙো শিকল, আনো রে জোয়ার, তুমি যে চির-বীর।

জাগো অগ্নি-সন্তান! রুখিয়া দাঁড়াও বজ্র-কঠিন রোখ—
কৃষক-শত্রুর বিনাশ ঘটাতে জ্বালো আজ বিপ্লব-চোখ।
-------------------------------------------------------


২১-০৪-২০২৬

চেয়েছি দূরে ঠেলতে

 চেয়েছি দূরে ঠেলতে

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর
************************************
চেয়েছি দূরে ঠেলতে তোমায়, ভুলে যেতে সেই চেনা ঘ্রাণ,
হৃদয়কে বলেছি— মিছে এই মায়া, মিছে এই পিছুটান।
সে তো তোমার নয়, সে যে অন্য কোনো নক্ষত্রের আলো—
তবু এই অবুঝ মন তোমাকেই শুধু বেসেছে ভালো।

তুমি কত রূপবতী, কত বিত্তবান— সে হিসেব রাখেনি এই প্রাণ,
সে শুধু খুঁজেছে তোমার হৃদয়ে একটুখানি বিজন স্থাণ।
অজান্তেই কোনো এক হিরণ্ময় অরণ্যের ছায়ায় পেয়েছি তোমার টের,
সে দেখার চেয়েও বেশি ছিল— এক আশ্চর্য অস্তিত্বের ফের।

তুমি কি যৌবনা, নাকি প্রতিমা— হৃদয়ে ওঠেনি সেই প্রশ্ন কোনোদিন,
শুধু এক নিবিড় শূন্যতা রক্তে আমার বাজিয়েছে বিরহ-বীণ।
দিন যায়, রাত্রি নামে— পাণ্ডুলিপির মতো ধূসর হয় সময়,
তবু তোমার নামটি হৃদয়ের গভীরে আজও অমর হয়ে রয়।

আজও আমি চেয়ে আছি সেই পুরনো নির্জন পথের পানে—
যেখানে ঘাসেরা কথা কয়, নদী কাঁদে হেমন্তের গানে।
কিন্তু তুমি নেই সেই চেনা ব্যালকনিতে, নেই ফুলের নিবিড় ছায়ায়,
স্কুলের আঙিনা কিংবা জানালার দ্বারে নেই তোমার মায়ায়।

সবই আছে আগের মতো— পউষের কুয়াশা আর নক্ষত্রের রাত,
শুধু নেই তোমার সেই শিউলি ফুলের মতো কোমল একটি হাত।
হৃদয়ের এই আকুতি আজও যেন কোনো এক নিঃসঙ্গ নাবিকের শোক,
তুমিহীন এই আমি এক পাণ্ডুলিপি— যেখানে ফুরিয়ে গেছে সব আলোক।
-----------------------------------------------------------------



২১-০৪-২০২৬

তুমিহীন এই আমি

 তুমিহীন এই আমি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**************************
এ হৃদয় তোমাকে দেখেছিল চোখের পাতায় নয়,
অনুভবের নীল সীমানায়, যেখানে অস্তিত্বের শুরু।
চিনি না তোমার রূপের বাহার, জানি না যৌবন-মায়া,
শুধু জানতাম— তুমিহীন এই আমি, এক দীর্ঘ ছায়া।

আমি চেয়েছি তোমায় তাড়াতে, ছিঁড়ে ফেলতে স্মৃতির পাতা,
হৃদয়কে বলেছি সহস্রবার— 'সে নয় তো তোমার মিতা'।
তবু অবুঝ এ মন মানেনি শাসন, শোনেনি কোনো বারণ,
নিভৃতে সে বুনেছে স্বপ্ন-বীজ, অকারণে অকারণ।

সেখানে চলত প্রেমের চাষাবাদ, নিঃশব্দ অভিমানে,
রক্ত দিয়ে লাল করেছি তোমায়, নিজেরই অজান্তে।
তুমি কত বড়, কতটা ঐশ্বর্য— তা ভাবেনি এই প্রাণ,
সে শুধু চেয়েছিল তোমার হৃদয়ে একটুখানি স্থান।

হৃদয় জানত না প্রেম কী, সে শুধু শিখেছে যাতনা,
তোমার অভাবের দহনে পুড়েছে, সয়েছে সব লাঞ্ছনা।
আজও সে চেয়ে আছে সেই পথের পানে, যেখানে তুমি নেই,
হারিয়ে গেছ কোনো এক অচিন মেঘের কোল ঘেঁষেই।

সেই চেনা ব্যালকনি আজ শূন্য, ফুলের বাগান ম্লান,
স্কুলের আঙিনা কিংবা জানালার দ্বারে গুমরে মরে গান।
সব আছে আগের মতোই, শুধু নেই তোমার সেই পরশ,
আমার হৃদয়ের এই হাহাকার, এক বিষাদমাখা হরষ।

তুমিহীনা এই শূন্য হৃদয়ে আজও তোমারই বসতি,
ভালোবেসে হেরে যাওয়াতেই হয়তো আমার শ্রেষ্ঠতি।
-----------------------------------------------------


২১-০৪-২০২৬

হিসাব মেলে না আজ

 হিসাব মেলে না আজ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
--------------------------------------
শুনো হে শাসক, শুনো মহাজন, মোর হিসাব মেলে না আজ,
রিক্তের হাহাকারে ভরেছে আকাশ, মাথায় বজ্রবাজ!
মোর আয়ে শুধু অনাহার বাড়ে, ব্যয়েতে আকাশ ছোঁয়া,
তোমাদের লোভের আগুনে আজিকে স্বপ্ন হয়েছে ধোঁয়া!

তুমি বাড়াও শুল্ক, বাড়াও মূল্য—তেল, গ্যাস, নুন, তিল,
আমার পাজর ভাঙা আর্তনাদেও কি তোমার হবে না মিল?
তুমি তো গদিধারী ধনকুবের নাতি, দুর্ণীতি তব রক্তে,
পাচার করো দেশের সম্পদ বিদেশি সিন্দুক-তক্তে।

আমি তো সামান্য বেতনের দাস, নুন আনতে ফুরায় পান্তা,
আমার ক্ষুধার জ্বালা কি বুঝবে? তুমি যে পাষাণ-শান্তা!
তোমার প্রাসাদে বিজলি বাতি, আমার ঘরে যে ঘোর আঁধার,
দ্রব্যমূল্যের নাগপাশে আজ পিষ্ট হচ্ছে এ সংসার।

আমার তো নেই অঢেল অর্থ, নেই কোনো বিদেশের বাড়ি,
ঘাম ঝরা পরিশ্রমে চলে না যে আর জীবন-তরণী পাড়ি!
সবাই বলে দেশ স্বাধীন আজ, আমি কেন তবে পরাধীন?
মুক্তির নামে এই কি তবে শৃঙ্খল চিরদিন?

বেতন তো সেই তিমিরেই রবে, বাজার হবে যে চড়া—
বলো হে শাসক, কোন নরকে আজ দিচ্ছ মোরে ধরা?
সহ্যের বাঁধ ভেঙেছে আমার, ধৈর্যের সীমা শেষ,
আর পারি না সইতে আমি, ছাড়িব কি তবে স্বদেশ?

অসহায় এই মানুষের কথা কি পৌঁছাবে না তব কানে?
নাকি মহাকালের অভিশাপ লিখিব এই বিদ্রোহী গানে?
হিসাব মিলছে না হে ধরণী, আমি নিঃস্ব, আমি রিক্ত,
তোমার শোষণের কষাঘাতে আজ রক্তে আমাশয় সিক্ত!

জবাব দাও হে রাজাধিরাজ, জবাব চাই এ জাতির,
কবে হবে শেষ এই অবিচার—দমন পীড়ন অতি-র?
আমি চলিলাম তিমির আঁধারে, যদি না দাও মোর হকের ভাগ,
জেনে রেখো—এই রিক্তের দহনেই জ্বলবে বিপ্লবের আগ!
------------------------------------------------------------- 


২০-০৪-২০২৬

উত্তরের অপেক্ষায়

 উত্তরের অপেক্ষায়

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*********************************
তপ্ত বালুর চরে একা দাঁড়িয়ে আমি,
ঠিক যেন এক তৃষ্ণার্ত চাতক পাখি;
তোমার নীরবতা বিষাক্ত তীরের মতো—
বিঁধে আছে বুকে, বলবো কাকে সে কথা সখি?

তুমি তো ছিলে শ্রাবণের অবাধ্য মেঘ,
ঝরবে জানি, তবুও একফোঁটা জল দিলে না;
শুকনো নদীর তলদেশে আজ খাঁ খাঁ রোদ,
আমার হাহাকার তো তুমি কক্ষনোই নিলে না।

তোমার ওই মৌনতা যেন এক গভীর অরণ্য,
যেখানে পথ হারিয়েছে আমার প্রতিটি ডাক;
প্রতিক্ষার এই প্রহরগুলো ধারালো কাঁচের মতো,
রক্ত ঝরুক হৃদয়ে, তুমি বরং ভালোই থাকো।

না-বলা কথার বোঝা পাহাড়ের চেয়েও ভারী,
শূন্যতায় কুঁড়ে খাচ্ছে আমার বেঁচে থাকার স্বাদ;
উত্তরের আশায় আকাশপানে চেয়ে থাকা একাকী—
আমি এক বিবর্ণ বিকেলের ফ্যাকাশে চাঁদ।

যদি একটিবার বলতে 'ভালো নেই' অথবা 'বাসি না ভালো',
তবুও তো মিটত এই অসহ্য অনিশ্চয়তার খেলা;
হত্যাকারীও বোধহয় দয়া করে শেষবার তাকায়,
তুমি শুধু দিয়ে গেলে অবহেলার এই দীর্ঘ মেলা।
------------------------------------ 



২০-০৪-২০২৬

সেই জানালার পাশে

 সেই জানালার পাশে

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*******************************************
নক্ষত্রের আলো নিভে গেলে যেখানে পৃথিবীর সব পথ মিশে যায় অন্ধকারে—
সেখানে আজও একটি জানালার কবাট খোলা থাকে;
বিকেলের ম্লান রোদ সেই জানালায় এসে থামে অবিকল—
যেমন কোনো আহত শালিক থামে ঝাউবনের নির্জন ছায়ায়।
তুমি ছিলে সেখানে—এক বিষণ্ণ মায়ার প্রতিমা,
অস্পষ্ট কুয়াশার মতো তুমি আমায় দেখতে চুপিচুপি।
আর আমি—এই ঘাস ও ধুলোর মাঠে—খেলার ছলে,
তোমার চোখের গভীর নোনা জলে খুঁজতাম হারানো কোনো নক্ষত্রপুঞ্জ।

আমাদের কথা হয়নি কোনোদিন, যেন এক নীরব পাণ্ডুলিপি;
অথচ নিস্তব্ধ সন্ধ্যায় যখন ঝিঁঝিঁরা ক্লান্ত হয়ে পড়ে—
মনে হতো তুমিই এই প্রান্তরের সবচেয়ে কাছের আকাশ।
আজ চারিপাশে ধূসর কুয়াশা—শহরের কর্কশ কোলাহল;
তবু সেই জানালার দৃশ্য আজও আমায় তাড়া করে ফেরে—
যেন কোনো এক আদিম শঙ্খিনী তার হারানো সমুদ্র খুঁজছে।
তুমি কি আগের মতোই আছ? নাকি সময়ের পলি জমে
তোমার চোখের সেই লুকুচুরি আজ অন্য কোনো ছায়ার কাছে ঋণী?

হয়তো কোনো এক হেমন্তের রাতে জোনাকিদের মিছিলে দেখা হবে—
কিংবা কোনোদিনও নয়, এই জনমে আর কোনোদিনও নয়।
তবু আমার এই মজ্জায় ও মননে—রক্তের গহীনে—
তুমি আছো সেই আগের মতোই—শাশ্বত এক হিরণ্ময় বিষাদ।
যদি কোনোদিন মহাকালের শূন্যতায় বিলীন হয়ে যাই আমি,
জেনে রেখো—সেই মাঠের প্রতিটি ঘাসে লেগে আছে আমার তৃষ্ণা;
যেখানে তোমার ছায়া পড়ত বিকেলের শেষ বিদায়ের আগে।

ভালো থেকো হে অধরা তরঙ্গ, হে আমার লোনা জল—
তোমার ভালোবাসার নির্জন সাগরে তুমি থেকো একাকী এক দ্বীপের মতো।
------------------------------------------------------------------------------------------- 



২০-০৪-২০২৬

হৃদয়হীনা সুন্দরী

 হৃদয়হীনা সুন্দরী

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর
************************************
শরতের মেঘপুঞ্জ যেমন রৌদ্রকে আড়াল করে,
তুমিও তেমনি দম্ভের আড়ালে ঢেকেছিলে প্রেম।
তোমার চোখে ছিল কালবৈশাখীর তপ্ত বিদ্যুৎ,
যেখানে ঝরে পড়ার ব্যাকুলতা নয়—
ছিল শুধু ছাই করে দেওয়ার দহন।

তুমি ছিলে কোনো এক নির্জন পাহাড়ের অহংকারী ঝরনা,
যে কেবল নিজের পতনকেই ধ্রুব জেনেছে।
তৃষ্ণার্ত চাতক যখন তোমার পায়ের কাছে লুটিয়ে পড়ত,
তুমি তাকে দিতে কেবল শুষ্ক পাথরের অবজ্ঞা।
বসন্তের দখিনা বাতাস যখন তোমার অলক ছুঁতে চেয়েছিল,
তুমি তাকে চাবুক মেরে ফিরিয়ে দিয়েছিলে হিমেল কুয়াশায়।

আজ সেই পাহাড়ের চূড়ায় কোনো মেঘ জমে না,
আজ তোমার ডালিম ডালে কোনো কোকিল গান গায় না।
তুমি আজ সেই শীর্ণ নদীর মতো—
যার বুক ফেটে চৌচির, অথচ জোয়ারের দেখা নেই।

এখন তুমি দ্বারে দ্বারে ফেরি করো হারানো সেই বিকেলের মায়া,
এখন তুমি শ্রাবণের মেঘ হয়ে খুঁজে বেড়াও এক ফোঁটা আশ্রয়।
কিন্তু দেখ—প্রকৃতি আজ বড় নিরাসক্ত, বড়ই বধির;
যে ফুলকে তুমি মাড়িয়ে গেছ পাষাণ চরণে,
সেই ফুল আজ অন্য মালতীর খোঁপায় হাসে।

যাকে তুমি তুচ্ছ করে ফিরিয়েছিলে পথের ধুলোয়,
সে প্রেম আজ আকাশ হয়ে গেছে—যাকে ছোঁয়া যায় না।
তোমার অনুতাপের অশ্রু আজ কেবলই ঝরা পাতার মরমর ধ্বনি,
যা কেবল একাকী নিশীথিনীকে শোনায়—
"অহংকারের ঘরে কখনো প্রেমের প্রদীপ জ্বলে না।"

এখন কাঁদো সুন্দরী, অঝোরে কাঁদো;
তোমার চোখের জলে আজ না হয় ধুয়ে যাক সমস্ত গরিমা।
কিন্তু মনে রেখো—সূর্যাস্তের পর গোধূলি আর ফেরে না,
আর একবার হারিয়ে যাওয়া প্রেম, কখনোই ফিরে তাকায় না।
---------------------------------------------------------


২০-০৪-২০২৬

তুমিও রাখোনি কথা

 তুমিও রাখোনি কথা

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
************************************
তুমিও রাখোনি কথা! তুমিও সেই পুরোনো শোষক বেশে—
ফ্যাসিষ্টের বিষদাঁত বসিয়েছো আমার এই প্রিয় দেশে।
ভেবেছিলে মুখোশে ঢাকবে তোমার আদিম নগ্ন রূপ?
জনতার চোখে আজ তাই তো জমেছে আগ্নেয়গিরির স্তূপ।

তুমি তো হরণ করলে আমার কথা বলার অধিকার,
গণতন্ত্রকে পিষে মারলে—ওরে ওরে অবিচার!
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়েছ নিজের স্বার্থে বেচে,
ক্ষমতার লোভে দানব সেজেছো ইতিহাসের পিঠে নেচে।

যোগ্য যেখানে উপেক্ষিত, অযোগ্যরা পায় গদি,
তোমার পা চাটা দোসরে ভরেছে প্রশাসনের নদী।
কালো আইন আর দলীয় করণে রুদ্ধ স্বদেশ আজ—
একক ক্ষমতার মসনদে বসে কেন করো কারসাজি?

বিশ্বাস ছিল পাহাড় সমান, দিয়েছিলে তুমি ধোঁকা,
ভেবেছিলে বুঝি এই জনপদ বড্ড বেশি বোকা?
তোমার ও সূর্য মরণ-সূর্য, পতনের ইঙ্গিত—
গণবিক্ষোভে ভেঙে যাবে আজ তোমার মিথ্যে গীত।

সাবধান হও! সাবধান ওরে ক্ষমতার দম্ভী চোর,
আসছে জনতা ভাঙতে তোমার শৃঙ্খল-কালো ঘোর।
--------------------------------------------------------------------- 



২০-০৪-২০২৬

দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি

 দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
----------------------------------------------------
ওরে অবাক পৃথিবী! অবাক করলে তুমি—
দ্রব্য মূল্যবৃদ্ধির যাঁতাকলে পিষ্ট জন্মভূমি।
যেখানে চালের দানা আজ মুক্তোর চেয়ে দামী,
সেখানে ক্ষুধার মিছিলে আমিই অগ্রগামী।

হাজার টাকার নোটগুলো আজ খেলনা কাগজের মতো,
দরিদ্র বুকে এঁকে দিয়ে যায় অনাহারের ক্ষত।
রেশনের লাইনে দাঁড়িয়ে আছে পাংশুটে সব মুখ,
বাজারের ফর্দ দেখে কাঁপে মধ্যবিত্তের বুক।

তেলের শিশিতে আগুন লেগেছে, নুনে লেগেছে বিষ,
শোষকের ঘরে জমা হয় শুধু নোটের অট্টালিকা-স্তূপ।
পুষ্টিহীনতায় কুঁচকে গেছে আগামীর শিশুর গাল,
অভাবেতে আজ বিকিয়ে দিচ্ছে শ্রমিকের কঙ্কাল।

বিদ্যুৎ নেই, গ্যাসও উধাও—জ্বলে শুধু হাহাকার,
মুষ্টিমেয় লোক লুট করে নেয় বেঁচে থাকার অধিকার।
বেকার যুবক খুঁজে মরে কাজ, পেটে জোটে না অন্ন,
শহরের রাস্তায় হন্যে ঘোরে মানুষ—খাদ্যের জন্য।

পণ্যের দাম আকাশছোঁয়া, মানুষের দাম সস্তা,
মরার আগে কি মিলবে না ভাই একমুঠো চালের বস্তা?
প্রয়োজন নেই কবিতার আজ, ক্ষুধার রাজ্যে সব তুচ্ছ—
পূর্ণিমার চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি—অত্যন্ত ক্ষুদ্র।

হে নতুন কাল, হে বিদ্রোহী দিন—আসুক এবার সাম্য,
মূল্যবৃদ্ধির দানব ঘুচিয়ে অন্নই হোক একমাত্র কাম্য!
--------------------------------------------------------- 


২০-০৪-২০২৬

জনতার টুটি টিপিয়া ধরেছে

 জনতার টুটি টিপিয়া ধরেছে

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************
জাগো রে সর্বহারা! দেখ্ রে চাহিয়া নয়ন মেলি’,
জনতার টুটি টিপিয়া ধরেছে শোষণের হাত মেলি’!
মসনদ আজ কণ্টক-হীন, নাই রে মায়ার লেশ,
ভন্ড কান্ডারী লুটিয়া পুড়িয়া ছারখার করে দেশ।

যারে ভাবিলি কাণ্ডারী তোদের, সেই তো জল্লাদ,
গণতন্ত্রের লাশ ফেলে আজ গাহিছে সে উন্মাদ!
জ্বলে না রে চুলো, ঘুটঘুটে আঁধার ঘরে ঘরে আজো বাজে,
তেল-গ্যাস নাই, হাহাকার শুধু মধ্যবিত্তের লাজে!

সিন্ডিকেট ঐ রাক্ষস দল গিলিয়াছে সব রুটি,
পয়সার জোরে জনতা-ভাগ্য করিছে লুটোপুটি।
লাইনের পর লাইনে দাঁড়ায়ে মরে রে অভাগা চাষী,
আর রাজপ্রাসাদে পিশাচেরা আজ হাসে রে অট্টহাসি!

বাচাল বেজন্মা তাবেদার দল ঘিরেছে রাজার পাশ,
মিথ্যা বুলিতে ভুলিয়ে জনতা গড়ে আজ নিজ ফাঁস!
ইতিহাস করি’ বিকৃত আজ সাজাইছে নব সাজ,
একনায়কের বজ্র মুঠিতে টুঁটি ফাটছে আজ।

কথা রাখেনি কান্ডারী তোর— সে যে এক ফ্যাসিষ্ট,
স্বৈরাচারের রক্তে রাঙানো তাহার প্রতিটি ইষ্ট!
ওরে ওরে মূঢ়! আর কতকাল সহিবি এ অবিচার?
মৌন থাকিলে লুণ্ঠিত হবে ভিটা-মাটি তোর সবাকার।

কান্ডারীবিহীন তরী আজ মোর টলমল মাঝ-নদে,
বিপ্লব-ঝড়ে রুখিতে হবে ঐ পাষণ্ডকে মসনদে!
টুটুক আগল, খুলুক আগল— জাগো রে রুদ্র রোষে,
তৈরী হ’ আজ শোষকের ঐ টুটি চেপে ধরি’ কষে!
--------------------------------------------------- 



২০-০৪-২০২৬

পরাজয়ের নীল উপাখ্যান

 পরাজয়ের নীল উপাখ্যান

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*************************************

ভেবেছিলে আমায় মেঘের আড়ালে লুকিয়ে রাখবে চিরকাল,
যেমন করে গোধূলি লুকায় তার শেষ রক্তের আভা?
তুমি তো আমায় হারাতে চেয়েছিলে সেই গভীর অরণ্যে,
যেখানে ঝরা পাতার শব্দে থমকে দাঁড়ায় সময়ের পা।

আমি তো শিউলি ফুলের মতো তোমার উঠোনেই ঝরেছিলাম,
নিঃশব্দে, ভোরের শিশিরে ভেজা একরাশ অভিমান নিয়ে।
তুমি আমায় দলিত করে যখন বিজয়ের হাসি হাসলে,
ঠিক তখনি বুঝলে—আমি তো তোমারই সৌরভ ছিলাম,
যা এখন মরা ঘাসের বুকে হাহাকার হয়ে মিশে আছে।

তুমি চেয়েছিলে নদীর মতো আমায় একলা মোহনায় ফেলে আসতে,
কিন্তু দেখো, আজ তোমার দুচোখেই প্লাবন নেমেছে!
তৃষ্ণার্ত চাতকের মতো তুমি আজ বৃষ্টির খোঁজ করছ—
অথচ সেই বৃষ্টি তো আমিই ছিলাম, যা অনাহুত মেঘ হয়ে ভেসে গেছে।

হয়তো আজ তোমার শরীর হিম হয়ে আসে হিমেল হাওয়ায়,
মনে হয়—সব থেকেও যেন কিছু একটার বড় অভাব।
আমায় নিঃস্ব করতে গিয়ে তুমি নিজেই আজ বড় একা,
প্রিয়া, আমায় হারাতে গিয়ে তুমিই যে হেরে গেলে নিজের কাছে!
----------------------------------------------------------------


১৯-০৪-২০২৬

অবিনশ্বর ক্ষত

 অবিনশ্বর ক্ষত

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর
*********************************
তুমি এসেছিলে—
ঠিক যেমন মহাকাশে ধূমকেতু আসে,
ক্ষণিক আলোয় ধাঁধিয়ে দিয়ে চোখের মণি;
অথচ যাওয়ার বেলায় রেখে গেলে এক কৃষ্ণগহ্বর,
যেখানে থমকে গেছে আমার সমস্ত সময় আর সরণি।

বিজ্ঞান বলে, শক্তির কোনো বিনাশ নেই, রূপান্তর হয় শুধু—
তবে কি আমার এই ভালোবাসা আজ মরণব্যাধি ক্যান্সার?
প্রতিটি কোষে কোষে তোমার অবহেলা ছড়িয়ে পড়েছে,
ধুঁকে ধুঁকে মরাটাই কি তবে আমার বিবর্তন, আমার সার?

দর্শনে পড়েছিলাম, জগত এক মায়া, এক মরীচিকা মাত্র,
তবে এই হৃদয়ের ক্ষতটা কেন এত সত্য, এত প্রখর?
প্রকৃতির অমোঘ নিয়মে শরতের মেঘ উড়ে যায় ঠিকই,
কিন্তু আমার শ্রাবণ কেন থামে না? কেন এ বুকে চিরকাল ঝড়?

হয়তো তুমি বেঁচে আছো তোমার নিজস্ব ছায়াপথে,
অন্য কোনো গ্রহে, অন্য কোনো মানুষের আশ্রয়ে;
আমিও বেঁচে আছি— স্রেফ ফুসফুসের যান্ত্রিক টানে,
অর্ধেক প্রাণ নিয়ে, এক অবাস্তব অস্তিত্বের বিস্ময়ে।

শরীরের ক্ষত শুকায়, কিন্তু আত্মার ক্যানসার কি সারে?
তুমি তো নেই, তবু তোমার না-থাকাটা মিশে আছে রক্তে;
একবার ছুঁয়ে দেখো আমার এই কম্পিত পাঁজরের হাড়,
এখনও তোমার নাম খোদাই করা সেখানে, অতি সক্তে।

যদি কোনোদিন এই কবিতা পড়ে তোমার চোখের কোণ ভিজে ওঠে,
যদি শিরদাঁড়া বেয়ে নামে এক নামহীন শীতল কম্পন;
বুঝে নিও— বিজ্ঞানের সব সূত্র মিথ্যে করে দিয়ে,
এখনও মৃত এক হৃদয়ে বেঁচে আছে তোমারই সেই প্রাচীন দহন।
------------------------------------------------------------- 


১৯-০৪-২০২৬

রুদ্র-সতর্কবাণী

 রুদ্র-সতর্কবাণী

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
************************************
হে কান্ডারী! দলীয় স্বার্থে যদি স্বাধীনতা-ফুলগুলি দাও ঝরায়ে,
মনে রেখো— তোমারও কুসুম ঝরিবে একদিন এই বাগানেই জড়ায়ে।
এ রন-ক্ষেত্র, এ বিজয়ের মাঠ যারা করেছিল রক্তে চাষ—
কেন আজ করো তাদের অপমান? কেন অপদস্ত করার এ আশ?

ধাপে ধাপে দিনে দিনে সনে সনে যে উদ্যান হলো লাল,
মুক্তিসংগ্রামের নামে সেথা শ্রম দিয়েছিল যারা চিরকাল।
লক্ষ লক্ষ নারী ও পুরুষ, কেউ প্রধান কেউ তার সাথী—
সবাই মিলে জ্বেলেছিল এই পরাধীন আঁধারে মুক্তির বাতি।

বায়ান্ন হতে একাত্তর— রোদ-বৃষ্টি-ঝড়-তুফান মাতিয়া ঘোরে,
আনিলে স্বাধীনতা— আজ একা কেন তুমি তাহার দাবিদার সাজো ওরে?
তবে কি কান্ডারী তুমিও স্বেচ্ছচারী? ইতিহাসে করো বিষ-রচন?
তোমার রচিত কাব্যে কেন তবে সত্যের এমন বিসর্জন?

কোথা তোমার সাতই মার্চের সেই তপ্ত বজ্র-ধ্বনি?
দশই এপ্রিল, সতেরই এপ্রিল— কেন নেই সেথা মুক্তার মণি?
কেন নেই বাহাত্তরের চারই নভেম্বর— শপথের সেই দিন?
এ সব দিবস ছাড়া কি স্বাধীনতা হবে কখনো কলঙ্কহীন?

কেন নেই সেই মুক্তিকামী বাংলার মহান স্বপ্নদ্রষ্টা পুরুষ?
পনেরই আগস্টের রক্তধারা কি তোমার ফিরায় না আজও হুঁশ?
সাতই নভেম্বরের সিপাহি বিপ্লব— সব অধিকার চাই মোরা,
ইতিহাসের প্রাপ্য মর্যাদা দিয়ে কাটো মিথ্যের এই ঘোরে।

তারা যে ভুল করেছিল, তুমি যেন করো না সে একই ভুল—
জনতার কাছে দিতে হবে ভাই তবে চড়া হিস্যা ও মাশুল।
উদার হও হে, হও নিরপেক্ষ ইতিহাসের বিশ্বস্ত প্রহরী,
এবার হারিলে কলঙ্ক-তিলক ললাটে রহিবে জনম ভরি!
--------------------------------------------------------------------


১৯-০৪-২০২৬

কথা ছিল

 কথা ছিল

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*********************************
কথা ছিল—অহিংসার শুভ্র পতাকায় মুছবে গ্লানি,
কথা ছিল—মোর বাংলাদেশে আসবে সাম্যের বাণী!
ছিলে তুমি আশার আলো, গণতন্ত্রের ধ্রুবতারা,
আজ কেন তবে মদমত্ত তুমি, হিতাহিত জ্ঞানহারা?

কেন আজ কেড়ে নাও মানুষের কথা বলার অধিকার?
তবে কি তুমিও পরলে কণ্ঠে ফ্যাসিবাদের হার?
কথা ছিল—দল-মত নির্বিশেষে ঘুচবে বৈষম্য-জ্বালা,
যোগ্য পাবে যোগ্য আসন, পূর্ণ হবে বিজয়-মালা!

কালো আইন আর ষড়যন্ত্রে আজ সংসদ কেন ম্লান?
অধিকার চাইল যে জন, কেন তবে তার ওষ্ঠাগত প্রাণ?
ইতিহাসের সত্য ললাটে কেন আজ মিথ্যার কলঙ্ক-তিলক?
কেন তবে কেড়ে নাও বীরের প্রাপ্য সম্মানের পালক?

ওরে নব্য দানব! ওরে প্রতিশ্রুতি-ভঙ্গকারী শঠ!
ক্ষমতার মোহে সাজালি কি তবে নতুন মায়াপট?
ভোটের নামে করলি স্থগিত জনতার রায়ের দাবি,
নিজের হাতেই রাখলি কি তবে সব শৃঙ্খলের চাবি?

লক্ষণ তোর শুভ নয় রে, দর্প তোর হবেই চূর্ণ,
জনতার রোষে হবে একদিন এই ধরণী প্রকম্পিত-পূর্ণ!
মনে রাখিস—বাক স্বাধীনতা শিকলে বাঁধা যায় না চিরকাল,
জনতার বাঁধ ভাঙলে পরে ছিঁড়বে তোর সকল মরণ-জাল!

বিদ্রোহী রণ-তুর্য বাজবে আবার প্রলয়-নাচনে,
স্বৈরাচারী তুই হার মানবি সেই দুর্বার গর্র্জনে!
কথা ছিল তুই মুক্ত করবি এই শৃঙ্খলিত দেশ—
নব্য ফ্যাসিষ্ট হয়ে কেন তবে আনলি কালিমার শেষ?
------------------------------------------------------ 



১৯-০৪-২০২৬

এ মন্ত্রীরে থামাও

 এ মন্ত্রীরে থামাও

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**********************************
থামাও ওরে থামাও ওরে, বাচাল ওই মন্ত্রীরে,
চাটুকার আর মূর্খ দলে কেন ঠাঁই দাও মন্দিরে?
তব চারিধারে ওরাই আজ জড়াচ্ছে মায়ার জাল,
কান্ডারী! আজো হুঁশিয়ার হও, তরী যে টালমাটাল!

ওরা কি পাগল, না কি উন্মাদ—মজিয়া ক্ষমতার রসে?
জনতার ক্রোধ-দাবানল আজ জলিছে আকাশ-শেষে।
তৈল-মর্দন আর চাটুকারিতায় ঘুচেছে বোধ ও হিত,
রাজকার্য ফেলে আজ ওরা কৌতুক-অভিনেতা সজ্বিত!

মিথ্যার বেসাতি করিয়া ওরা সাজিছে মহামতি,
তব রাজত্বে কলঙ্ক আজ, আসন্ন তব দুর্গতি।
থামাও ওদের! রুখিয়া দাঁড়াও ওই ভণ্ড অভিনেতারে,
নতুবা ধ্বংস নামিবে অচিরেই তব সিংহাসন-দ্বারে।

কান্ডারী! আজো সময় আছে রে, ধরো সেই তপ্ত হাল,
উপাড়ি ফেলো ওই পরগাছা দল, ছিঁড়িয়া ফেলো মায়াজাল।
তুমি যাবে উৎসন্নে, জাতিও হারাবে সঠিক পথ,
চাটুকার চাকা পিষিয়া মারিবে তোমার বিজয়-রথ।

সাবধান হও! আসিছে অমানিশা, ভীষণ অন্ধকার ঘোর,
খড়গহস্তে জাগো রে কান্ডারী, ভাঙো বাচাল-বেষ্টনী-ডোর!
• ---------------------------------------------------------------------------


১৬-০৪-২০২৬

এতো অভিমানী কেন?

 এতো অভিমানী কেন?

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*********************************************
এতোটা পাষাণ হিয়া, এতো অভিমানী কেন প্রিয়তমা?
তোমার মৌনতা যেন শ্রাবণের মেঘলা আকাশ,
যেখানে বৃষ্টির ব্যাকুলতা আছে, কিন্তু ঝরার নাম নেই।
বুকের বাম পাশে এক ফালি বিষাদ নিয়ে দাঁড়িয়ে আমি,
অথচ তোমার দুয়ারে আজ হাজার বছরের জমাট বরফ।
তুমি কি জানো?
তোমার ওই না বলা কথাগুলো যেন নীল পদ্মের হাহাকার,
যা ফোটার আগেই শিশিরের ভারে নুয়ে পড়ে।
তোমার অভিমান ঠিক যেন শরতের অবাধ্য মেঘের মতো,
একটু ছোঁয়া পেলেই যা বজ্র হয়ে বিঁধে যায় আমার পাজরে।
কখনো তুমি মরুভূমির তপ্ত বালুর মতো তৃষ্ণার্ত,
আবার কখনো গহীন অরণ্যের নিস্তব্ধ ছায়ার মতো রহস্যময়ী।
তোমার চোখে আজ অকাল সন্ধ্যার কালবৈশাখী,
যেখানে আমার সাজানো স্বপ্নেরা ঘরছাড়া পাখির মতো ডানা ঝাপটায়।
কেন এতোটা দূরে থাকো?
যেন সাগরের ওপার থেকে আসা কোনো বিরহী বাশি,
যার সুর পাওয়া যায়, কিন্তু ছোঁয়া যায় না।
তোমার রাঙা ঠোঁটের কোণে লুকিয়ে থাকা সেই কঠিন হাসি,
যেন হেমন্তের ঝরা পাতার শুকনো দীর্ঘশ্বাস।
ফিরে এসো প্রিয়তমা,
সব অভিমান ধুয়ে দিয়ে শরতের শুভ্র কাশফুল হয়ে।
তোমার ওই পাথুরে হৃদয়ে একটুখানি মায়ার জল ছিটিয়ে দাও,
নইলে এই বিরহী কবি চিরকাল তোমার মৌনতার মিছিলে—
এক নিঃসঙ্গ পথচারী হয়েই রয়ে যাবে।
----------------------------------------------------------------------

তুমিই প্রভাত রবি

 তুমিই প্রভাত রবি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*********************************************
তোমার ওই দু’টি চোখ যেন শরতের শেষ মেঘমুক্ত আকাশ,
যেখানে তাকালে থমকে যায় মহাকালের দীর্ঘশ্বাস।
আমি তো সেই তৃষ্ণার্থ চাতক, যে যুগ যুগ ধরে চেয়ে আছে—
তোমার অধরের এক বিন্দু হাসির শ্রাবণ নামবে বলে।
তুমি যখন কথা বলো, মনে হয় কোনো পাহাড়ি ঝরনা
পাথর ভেঙে চুরমার করে আমার বুকের ভেতর আছড়ে পড়ছে।
আর যখন চুপ থাকো? তখন মনে হয় নিঝুম অরণ্যে
হঠাৎ থমকে গেছে বাতাসের হাহাকার, ঝরে পড়ছে শিউলি ফুল।
তুমিই আমার সেই ভোরের প্রথম সূর্য—প্রভাত রবি,
যার পরশে আমার শরীরের প্রতিটি শিরায় রক্ত নয়, বসন্ত বয়ে যায়।
অথচ তোমায় হারাবার ভয়টা ঠিক সেই গোধূলির মতো,
যা প্রতি মুহূর্তে জানান দেয়—আলো ফুরিয়ে গেলেই গ্রাস করবে কালনাগিনী রাত।
আমার ভালোবাসা কোনো শান্ত নদী নয়, প্রিয়তমা;
এ এক উত্তাল সমুদ্রের জলোচ্ছ্বাস, যা তোমার তটে আছড়ে পড়ে বিলীন হতে চায়।
তোমার বিরহে আমার হূদয়টা ঠিক সেই শুকনো পাতার মতো কাঁপে,
যা ঝড়ের অপেক্ষায় থেকেও ডালে ঝুলে থাকার শেষ আকুতি জানায়।
যদি কখনো মনে হয় আমি নেই, তবে বৃষ্টির শব্দে কান পেতে থেকো;
প্রতিটি জলবিন্দু হয়ে আমিই তোমার ললাটে এঁকে দেবো অদৃশ্য চুমু।
তোমার চোখের জল যদি আজ বাঁধ মানে, তবে জানবে—
প্রকৃতির সবটুকু হাহাকার আজ আমার কলমে এসে আশ্রয় নিয়েছে।
তুমি ছাড়া আমি এক নিঃস্ব দিগন্ত, যেখানে সূর্য ওঠে না কোনোদিন।
-------------------------------------------------------------------------------

Thursday, April 16, 2026

অধিকারের বজ্রমুষ্ঠি

 অধিকারের বজ্রমুষ্ঠি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************

আঠারো কোটি প্রাণ যখন এক মিছিলে মেশে,
স্বৈরাচারের তখত্ তবে কেন এই দেশে?
নিরাপত্তার নামে কেন প্রাণের বলিদান?
অধিকারের লড়াইয়ে আজ ধরো নতুন গান।
জাগো বাহে, শৃঙ্খল ভাঙো, কাঁপাও রাজপথ—
মানুষই গড়বে এবার মানুষের ভবিষ্যৎ।
অলিগলি ওই পাতি নেতার দাপট আর কত?
বুকের ভেতর ক্ষোভ জমেছে আগ্নেয়গিরির মতো।
ইতিহাসের পাতায় যাদের বীরের অহংকার,
তাদের রক্তে কেনা দেশে কেন আজ হাহাকার?
বজ্রকণ্ঠ থেমে নেই, সে যে বাজে প্রাণে প্রাণে,
আওয়াজ উডা এবার তোরা— ন্যায়ের অভিযানে।

ভয় দেখিয়ে শাসন চলে? সে তো ভীরুর রীতি,
জনতার এই উত্তাল স্রোতে হারাবে সব ভীতি।
যে হাত ট্রিগার টিপেছে আজ, সে হাত দাও গুঁড়িয়ে,
মুক্তির ওই লাল নিশান দাও আকাশে উড়িয়ে।

মায়ের শাড়ির আঁচল আজ অশ্রুভেজা কেন?
নিরাপত্তাহীন এ ঘরে আর না রয় কেউ যেন।
অধিকার তো ভিক্ষা নয়, কেড়ে নিতে হয় বীরের মতো,
আঠারো কোটি বজ্রপাতে হঠাও শোষক যতো।
শপথ নিলাম শহীদের ওই তাজা রক্তের তরে,
অধিকারহীন আঁধার ঘুচবে প্রতিটি মানুষের ঘরে।

বিপ্লব মানে থামা নয়, বিপ্লব মানে দাবি,
আমাদের এই মাটির হাতেই মুক্তির আসল চাবি।
মিছিলের শব্দে থরথর আজি কাঁপে যে অবিচার,
মানুষই আনবে মানুষের দিনে জীবনের অধিকার!
---------------------------------------------------------


১৬-০৪-২০২৬

বিপ্লবী ভেঙেছে শপথ

 বিপ্লবী ভেঙেছে শপথ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
-------------------------------------
শপথ ভেঙেছে বিপ্লবী আজ, ধিক্ রে ধিক্কার!
সাম্যের নামে এনেছে ফিরায়ে নব্য অন্ধকার।
কথা ছিল ভাই ভাঙবি কারার লৌহকপাট যত,
আজ দেখি তোর মবতন্ত্রে মানবতা শুধু ক্ষত!

বৈষম্যহীন সমাজ গড়বি— এ কি তবে পরিহাস?
অরাজকতার বিষবাষ্পে গুমরে মরছে শ্বাস।
ইতিহাস আজ বিকৃত তোর দম্ভের হুঙ্কারে,
দেশদ্রোহীদের দোসর হয়েছিস ক্ষমতার আঁধারে।

বিপ্লব মানে অরাজকতা? বিপ্লব মানে লুঠ?
জনতার রায়ে বিষ ঢেলে আজ লোলুপতা করিস মুঠ!
যাদের তাড়ালি, তাদেরই মতন রক্তে মাখালি হাত,
মীরজাফরি মুখোশ পরে আনলি কালনাগিনী রাত।

নতুন দস্তাবেজ চাসনি তোরা, চেয়েছিস গদি-ভোগ,
বিপ্লবীদের রক্তে মাখালি স্বার্থের মহামড়ক!
রক্তিম সেই লাল-সবুজের পবিত্র সম্মান—
লুটে নিলি তোরা ভণ্ড বেশে গেয়ে মরণগান।

এজেন্ডা কার মাথায় বহিস? ওরে বিশ্বাসঘাতক,
রাষ্ট্রের সাথে মুনাফেকিতে তুই-ই শ্রেষ্ঠ পাতক!
জাগো হে জনতা, রুখো এইবার নব্য স্বৈরাচার,
শপথ ভাঙা ওই কপটরে আজ করো রে ছারখার।

শুভঙ্করের ফাঁকি টুটে আজ সত্য আসুক ফিরে,
বিপ্লব হোক শোষিত প্রাণের ন্যায়ের জয়জিরে।
-------------------------------------------------------- 

অডিওবুক সিরিজ


১৬-০৪-২০২৬