Monday, June 29, 2026

রাওনাট আমার প্রিয় গ্রাম

 কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

***********************************************

কাপাসিয়ার আঁচল-ঘেরা গাঁখানি মোর ভাই,
রাওনাট নামের এমন সুজন জগৎ-জুড়ে নাই।
ধান-কাওনের সুবাসেতে জুড়ায় মোদের প্রাণ,
এই মাটিতে জন্ম লয়ে গাই যে সুখের গান।

বারবার এই অবুঝ মন ছুটে যে যায় ধেয়ে,
শিকড়-বাঁধন জড়ায় বুকে রাখাল ছেলের মেয়ে।
মৌলভী আব্দুল আহাদ আলীআমার দাদার ঘর,
ভিটের ধুলোয় মাখামাখি, কেউ তো নহে পর।
শ্রদ্ধেয় পিতা আবুল হোসেন বাড়ল যে এইখানে,
সেই সুধা আজো জড়িয়ে আছে আমার মনে প্রাণে।

গুভধিয়ার খালের পাড়ে খঞ্জনীটি নাচে,
হিজল-তমাল ডাল নামিয়েছে রূপালী জলের কাছে।
মাইচ্ছা বিলের শাপলা-শালুক লাল পদ্মের মেলা,
পল্লী-বধূর কাঁকন-চুড়ির বাদ্যে কাটে বেলা।
কাইত্তামারার বাঁকে বাঁকে বটের শীতল ছায়া,
নদী-নালা খাল-বিলের যে নক্সী-কাঁথার মায়া।

সোনার শস্যে মরাই ভরা, কলাই-তিলে ছেয়ে,
মাঠের পরে মাঠ চলেছে ডাহুক-ডাকা মেযে।
আম-কাঁঠালের বনের তলে পাখির কলতান,
কৃষক ভাইয়া ক্ষেতে বসে গায় যে জারি গান।

গাঁয়ের লোক সরল-সোজা, এক সাথে সব রয়,
হিন্দু-মুসলিম ভাই-ভাই যেথা, নাইকো কোনো ভয়।
সাদা সাম্যের গান গেয়ে সব বজায় রাখে প্রীতি,
একতা আর ভালোবাসায় গাঁয়ের মধুর রীতি।

অন্যায় আর মাদকের নামে জ্বলে ওঠে এই গাঁও,
লাঠি-সোটা লয়ে বাঁধে কোমর, ভাসায় ন্যায়ের নাও।
সামাজিক আর মানবিক কাজে সবাই আগে চলে,
দুখী জনেরে কোলে টানে ভাই, নয়ন-জলে গলে।

মসজিদের আজান ভাসে, মন্দিরেতে শাঁখ,
গির্জা আর মাদ্রাসাতে সম্প্রীতিেরই ডাক।
বারো মাসে তেরো পার্বণে আনন্দেরই হাট,
মিলন-মেলার পুণ্যভূমি মোদের রাওনাট।

রাওনাট নতুন বাজারেতে জমে চাঁদের মেলা,
রাওনাট আদর্শ উচ্চ বিদ্যা নিকেতনআলো ছড়ায় সারা বেলা।
হাছানীয় সিনিয়ার মাদ্রাসাবিলোনায় দ্বীনের আলো,
রাওনাট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়পথ দেখায় ভালো।

সবুজ ঘাসে শিশির ভেজা, আমার চেনা ঘাট,
আদর্শ এক পল্লী গাঁওআমার প্রিয় গ্রাম রাওনাট।

-------------------------------------------------------------

ফলের রাজা কাপাসিয়া

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

***********************************************

ওহে বিশ্ব, চেয়ে দেখ এই বঙ্গতাজের কাপাসিয়া,
সবুজ-শ্যামল রূপের রাণী, অনন্য এক রূপসীয়া।

মেঠো পথ আর খাল-বিল-ডোবা, গাঁয়ের বধূর হাসিতে,
শীতলক্ষ্যার শান্ত জল, ঢেউ খেলে যায় বাঁশিতে।

প্রকৃতির এক স্বর্গভূমি, ফলে-ফুলে সুশোভিত,
এখানেই ফলে রূপালী ধান, মাটি যে তার উর্বর-পবিত্র।
জাতীয় ফল কাঁঠালের এই কাপাসিয়া তো রাজধানী,
মিষ্টি মধুর রসে ভরা, এই কথাটি সবাই জানি।

আম-জাম আর আনারসের সুবাস ছড়ায় বাতাসে,
জামরুল, বড়ই, পেয়ারা দোলে পাতার আড়ালে সরাসে।
কলা, বেল, আতা, শরিফা, লটকন আর কামরাঙা,
গাব, ডুমুর, চালতা, জলপাই, রাঙায় মনের আঙিনা।

আমলকী, বয়ড়া, হরীতকী আছে, আছে জাম্বুরা লেবু,
তাল, তরমুজ, ফুটি, বাঙিক্লান্তি হরে প্রভু!
বুনো করমচা, বেতফল আর ডেউয়া-কাউয়ের মেলা,
নোনা, সফেদা, গাব-খেঁজুরের মিষ্টি মধুর খেলা।

মাটির সোঁদা গন্ধে মাখা গ্রামীণ এই দৃশ্যপট,
পাখির কূজন, পাতার নূপুর, বটবৃক্ষের শীতল তট।

কৃষকের ওই ঘামে ভেজা সোনালী সব কৃষি পণ্য,
দেশ-বিদেশের বাজার জুড়ে কাপাসিয়া আজ ধন্য।

কাঁঠাল-লটকন পাড়ি জমায় দূর পরবাসের দেশে,
বৈদেশিক ওই মুদ্রা আসে কৃষাণ-কৃষাণীর মুখে হেসে।
দেশের ক্ষুধা মিটিয়ে ফলের বিপুল এই যে যোগান,
অর্থনীতির চাকা ঘোরে, গায় কাপাসিয়ার জয়গান।

--------------------------------------------------------------