কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
***********************************
সম্মানিত সভাপতি,
প্রিয় উপস্থিত সুধীবৃন্দ,
প্রিয় তরুণ-তরুণী,
আজ
আমি কোনো প্রশংসার মালা গাঁথতে আসিনি,
আজ আমি এসেছি প্রশ্ন করতে।
বিবেককে প্রশ্ন করতে,
সমাজকে প্রশ্ন করতে,
রাষ্ট্রকে প্রশ্ন করতে,
আর সর্বোপরি—
তোমাকে প্রশ্ন করতে, হে উচ্চশিক্ষিত!
তুমি নির্দয় কেন হে উচ্চশিক্ষিত?
এত
আলো নিয়ে চলছো,
তবু চারপাশে এত অন্ধকার কেন?
এত
ডিগ্রি অর্জন করেছো,
তবু মানবতার পরীক্ষায় বারবার অকৃতকার্য হও কেন?
বলতে
পারো—
যে
পিতা রোদে পুড়ে,
বৃষ্টিতে ভিজে,
ক্ষুধা লুকিয়ে,
নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে
তোমার ভবিষ্যৎ গড়েছিল—
সেই
পিতা আজ বৃদ্ধ বয়সে
রিকশার প্যাডেলে পা রাখে কেন?
কেন
তার কাঁপা হাতে
এখনো শ্রমের ভার?
কেন
তার চোখে
অবহেলার জল?
তুমি নির্দয় কেন হে উচ্চশিক্ষিত?
যে
মাতা
নিজের মুখের অন্ন তুলে
তোমার মুখে দিয়েছিল,
যে
মাতা
রাত জেগে তোমার জ্বর পাহারা দিয়েছিল,
আজ
সেই মাতা
একাকী ঘরের কোণে বসে
সন্তানের প্রতীক্ষায় থাকে কেন?
কেন
তার ওষুধের টাকা নেই?
কেন
তার দীর্ঘশ্বাস
ঘরের দেয়ালে প্রতিধ্বনি হয়ে ফিরে আসে?
কেন
বৃদ্ধাশ্রমের বিছানায়
মায়ের অশ্রু শুকিয়ে যায়?
তুমি নির্দয় কেন হে উচ্চশিক্ষিত?
আমি
আজ সমাজকে প্রশ্ন করি—
কেন
ভাই ভাইয়ের শত্রু?
কেন
সম্পদের জন্য
রক্তের সম্পর্ক ভেঙে যায়?
কেন
মিথ্যা সম্মান পায়,
আর সত্য অপমানিত হয়?
কেন
চাটুকাররা পদক পায়,
আর সৎ মানুষ উপহাসের
পাত্র হয়?
কেন
মাদক
তরুণদের স্বপ্ন গ্রাস করে?
কেন
জুয়ার টেবিলে
সংসারের সুখ বিক্রি হয়?
কেন
আত্মহত্যার খবর
প্রতিদিনের স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে দাঁড়ায়?
তুমি নির্দয় কেন হে উচ্চশিক্ষিত?
আমি
আজ রাষ্ট্রকে প্রশ্ন করি—
কেন
দুর্নীতি এখনো জীবিত?
কেন
ঘুষের কাছে
যোগ্যতা পরাজিত হয়?
কেন
বিচার বিলম্বিত হয়?
কেন
অর্থপাচারকারীরা হাসে,
আর সৎ মানুষ কাঁদে?
কেন
বেকার তরুণ
হতাশার অন্ধকারে হারিয়ে যায়?
কেন
মেধাবীরা
নিজের দেশ ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়?
কেন
গরিবের কান্না
ক্ষমতার প্রাসাদ পর্যন্ত পৌঁছায় না?
তুমি নির্দয় কেন হে উচ্চশিক্ষিত?
আমি
আজ নারীর পক্ষ থেকে প্রশ্ন করি—
কেন
কন্যাশিশু নিরাপদ নয়?
কেন
ধর্ষিতার কান্না
বিচারের আগে ক্লান্ত হয়ে পড়ে?
কেন
যৌতুকের আগুনে
এখনো পুড়ে যায় স্বপ্ন?
কেন
কর্মক্ষেত্রে
নারীকে সম্মানের জন্য লড়তে হয়?
তুমি নির্দয় কেন হে উচ্চশিক্ষিত?
আমি
আজ শিশুদের পক্ষ থেকে প্রশ্ন করি—
কেন
শিশুর হাতে বইয়ের বদলে
শ্রমের বোঝা?
কেন
ক্ষুধা
তাদের শৈশব চুরি করে?
কেন
শিক্ষা
সবার অধিকার হয়েও
অনেকের নাগালের বাইরে?
তুমি নির্দয় কেন হে উচ্চশিক্ষিত?
আমি
আজ কৃষকের পক্ষ থেকে প্রশ্ন করি—
যে
কৃষক সোনার ফসল ফলায়,
সে কেন অভাবে থাকে?
যে
শ্রমিক অট্টালিকা গড়ে,
তার সন্তান কেন ক্ষুধার্ত ঘুমায়?
যে
জেলে নদীতে জীবন বাজি রাখে,
তার ঘরে কেন অনিশ্চয়তার অন্ধকার?
তুমি নির্দয় কেন হে উচ্চশিক্ষিত?
আমি
আজ প্রকৃতির পক্ষ থেকেও প্রশ্ন করি—
কেন
নদী হত্যা করা হয়?
কেন
বন উজাড় করা হয়?
কেন
উন্নয়নের নামে
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শ্বাসরুদ্ধ করা হয়?
কেন
আকাশ বিষাক্ত,
বাতাস দূষিত,
নদী মৃতপ্রায়?
তুমি নির্দয় কেন হে উচ্চশিক্ষিত?
ধর্মের
নামে বিভেদ কেন?
রাজনীতির
নামে বিদ্বেষ কেন?
ক্ষমতার
নামে প্রতারণা কেন?
দেশপ্রেমের
নামে ভণ্ডামি কেন?
মানুষের
ভেতর থেকে
মানুষ হারিয়ে যাচ্ছে কেন?
বিবেক
বিক্রি হয়ে যাচ্ছে কেন?
মানবতা
নির্বাসিত হচ্ছে কেন?
হে উচ্চশিক্ষিত!
তোমার
শিক্ষা যদি
পিতা-মাতার অশ্রু না মুছে,
তোমার
জ্ঞান যদি
অন্যায়ের বিরুদ্ধে না দাঁড়ায়,
তোমার
সাফল্য যদি
অসহায় মানুষের পাশে না থাকে,
তোমার
ক্ষমতা যদি
ন্যায় প্রতিষ্ঠা না করে—
তবে
সেই শিক্ষা অসম্পূর্ণ,
সেই জ্ঞান অপূর্ণ,
সেই সাফল্য ব্যর্থ।
এসো,
আমরা শপথ করি—
কোনো
পিতা যেন
বৃদ্ধ বয়সে অবহেলিত না হয়।
কোনো
মাতা যেন
নিঃসঙ্গতার কান্নায় ভেঙে না পড়ে।
কোনো
শিশু যেন
শৈশব হারিয়ে না ফেলে।
কোনো
নারী যেন
অসম্মানের শিকার না হয়।
কোনো
কৃষক,
কোনো শ্রমিক,
কোনো অসহায় মানুষ
অধিকার থেকে বঞ্চিত না থাকে।
রাষ্ট্র
হোক ন্যায়ের,
সমাজ হোক মানবতার,
পরিবার হোক ভালোবাসার,
আর শিক্ষা হোক বিবেক জাগরণের।
কারণ—
সর্বোচ্চ
ডিগ্রির চেয়েও বড় পরিচয়
একজন মানুষ হওয়া।
সর্বোচ্চ
সাফল্যের চেয়েও বড় অর্জন
পিতা-মাতার মুখে হাসি ফোটানো।
আর
সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষা হলো—
মানুষকে ভালোবাসা,
মানুষের পাশে দাঁড়ানো,
এবং মানবতাকে বাঁচিয়ে রাখা।
ধন্যবাদ।
জয়
হোক
মানবতার।
জয় হোক বিবেকের।
-----------------------------------------------------------