Sunday, July 12, 2026

রুধির-রঙে কেনা পতাকা

 কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

*********************************************

রক্তে পাওয়া পতাকা আজ খামছে ধরেছে
বিশ্বাসঘাতকের ক্ষুধার্ত পঙ্গপাল!
কাকে বিশ্বাস করবো আজ হে বঙ্গ জননী,
চারিদিকে শুধু মীরজাফরের দল!
মঞ্চে মঞ্চে অভিনয় চলে অবিরত,
দেশপ্রেমের দুর্ভিক্ষে আজ বিবেক স্বৈরিণী-পতিত!

কে কালো? কে শ্বেত?
সবই আজ একাকার!
সবাই ছুটছে স্বার্থের পিছে,
ভেঙে দিয়ে ত্যাগের মিনার!

রাজনীতিবিদ?
সে তো মঞ্চের মায়াবী জাদুকর,
মুখোশের আড়ালে শোষণের কারিগর!
স্বৈরতন্ত্রের চাবুক চালায়, বুনে ফ্যাসিবাদের বীজ,
জনতার রক্ত চুষে খায়, ওরা এক একটা জাঁদরেল কীট!

কণ্ঠরোধের শিকল পরায় মুক্ত বাকের গায়,
সত্য বললেই বুলেট জোটে, মিথ্যার জয়গান গায়!
আইনের আঙিনায় উকিল আর জজ,
দাঁড়িপাল্লায় বেচেন রায়, করেন জালিয়াতির হজ!

ওদিকে
সিন্ডিকেটের রক্তচোষা রাক্ষস দল,
বাজারে আগুন জ্বেলে লুটে নেয় গরিবের সম্বল!
ঠিকাদারের পকেট ভারী, দুর্নীতির মহোৎসব,
রডের বদলে বাঁশ দিয়ে গড়ে মৃত্যুর এক একটা শব!

চোরাকারবারির অন্ধকার হাত,
দেশের মেরুদণ্ড ভেঙে করে দেয় কুপোকাত!
তরুণ প্রজন্মকে গিলছে বিষাক্ত মাদকের ছোবল,
নেশার ঘোরে ঝিমোচ্ছে আজ যুবসমাজের বল!

মবতন্ত্রের উন্মত্ত উল্লাস চারিপাশে,
আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে পিশাচেরা হাসে!
বিচারহীনতার এই নরকে
ডাক্তার আজ কসাইয়ের দোসর,
ফি-এর জন্য কঙ্কাল বানায় রোগীর বাসর!

এমনকি খেটে খাওয়া শ্রমজীবী, সাধারণ নাগরিক
দায়িত্ব ভুলে স্বার্থের টানে ছুটছে আজ চারদিক!
কেউ করে না দায়িত্ব পালন,
সবাই শুধু করছে গ্রাস!
রক্তে কেনা এই স্বাধীন দেশে
আজ মরছে মানুষ, হাসছে লাশ!

ওরে ভণ্ড পঙ্গপাল!
তোদের চাটুকারিতার চামড়া দিয়ে এবার ঢোল বাজবে,
বিবেকের এই মরা দুর্ভিক্ষে
আবার কোনো এক বিদ্রোহী বীর রণ সাজে সাজবে!

জাগো হে বঙ্গ জননী, জাগো!
ছিঁড়ে ফেলো এই সিন্ডিকেট, ফ্যাসিবাদ আর মবতন্ত্রের জাল,
রুখে দাঁড়াও আজ শত কোটি প্রাণ
বাঁচাও এই পতাকার লাল!

------------------------------------------------------------------------------

তুমি, আমার সোনালী বিন্দু

 

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর

********************************************

ভোরের আলো তখনো ফোটেনি,
পৃথিবী মগ্ন ঘুমে।
সবুজ ঘাসের বুকে তখন রূপালী কার্পেট,
ঠিক তখনই
চোখ জুড়ালো এক অলৌকিক আলোয়।
সে তো শুধু জলকণা নয়,
সে যে আমার প্রথম প্রেমের ইশারা!
আমার চেনা,
আমার ভালোবাসার
সেই শিশিরের সোনালী বিন্দু!

সে বড় ক্ষণিকের অতিথি ছিল,
বড় লাজুক, বড় অভিমানী।
সূর্যের তপ্ত অহংকারে সে মিলিয়ে গেল বাতাসে,
উড়ে গেল কোন দূর এক মায়াবী ঠিকানায়।
কিন্তু সে কি আসলেও হারিয়ে গেছে?
না, হারায়নি!

সে আজো আমার শ্রেষ্ঠ কবিতা।
কোনো এক রূপসী প্রেমিকার গলার
সবচেয়ে দামী মুক্তার দানা সে!
তার দেহটা হয়তো মেঘ ছুঁয়েছে,
কিন্তু তার আত্মা?
সে তো প্রেমের অনন্ত তরঙ্গ হয়ে মিশে আছে,
আমার হৃদয়ের মণিকোঠায়।

আজো আমি প্রতিদিন ছুটে যাই,
সেই চেনা কুয়াশাঘেরা মাঠে।
আমাদের প্রথম দেখার বাগানে,
কিংবা জলছোঁয়া সেই পুকুরপাড়ে।
চারিদিকে খুঁজে ফিরি
তোমার চেনা স্পর্শ, তোমার চেনা সুবাস।
কোথায় তুমি?
কোথায় আমার সেই সোনালী বিন্দু?

এখন চারিদিকে তপ্ত দুপুর।
ভালোবাসার বড় আকাল!
রোদের উত্তাপে বুকটা আমার পুড়ছে,
হৃদয় শুকিয়ে আজ মরুभूमि।
অনেক তৃষ্ণা আমার বুকে,
তীব্র ব্যাকুলতা!
তোমার সেই শীতল, মায়াবী পরশের শূন্যতা
আমি প্রতিটা নিঃশ্বাসে অনুভব করি।
আমি তো অন্য কিছু চাইনি,
আমি শুধু তোমার ওই একটা সোনালী বিন্দুকেই
বড্ড বেশি ভালোবেসেছিলাম!

এই কাননে আজো কতশত ফুল ফোটে,
পৃথিবীও তার আপন ছন্দে চলে।
ঋতুর পালাবদলে বসন্ত আসে,
দখিনা হাওয়া দোলা দেয় মনে।
কিন্তু আমার বসন্ত?
সে তো আটকে আছে তোমার ওই মায়াবী হাসিতে!
আজ তুমি নেই সেই চেনা গোলাপের মগডালে,
তাই এই ভরা বসন্তেও
আমার মনের কানন আজ বড্ড শূন্য, বড্ড একা।

তোমাকে ছাড়া
চারিদিকের এই আলোও আজ নিশ্ছিদ্র অন্ধকার।
ফিরে এসো হে আমার হারিয়ে যাওয়া প্রেম,
আমার জীবনের আলো!
আবার কোনো এক শান্ত ভোরে,
শিশির হয়ে ঝরে পড়ো আমার বুকে।
তোমার শীতল পরশে জুড়িয়ে দাও
আমার এই আজন্মের তৃষ্ণা।
তুমি শুধু আমার,
আমার সেই চিরন্তন সোনালী বিন্দু!

----------------------------------------------------------------