Wednesday, July 15, 2026

কখনো তো না বলো নি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

***********************************

তোমার বাগানের বকুলতলায়
আমি রোজ যেতাম।
অধীর হাতে ফুল ছিঁড়েছি,
তুমি কখনো বলো নিনা
কখনো মানা করো নি।

কত সুখের, কত দুঃখের গল্প,
কত ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা;
সব তো একসাথেই করা।
একসাথে সেই টিভির পর্দা, প্রাইভেট পড়া,
কিংবা লুকোচুরি খেলা
তুমি কখনো তো না বলো নি!

শুধু...
বলা হয়নি সেই কথাটি,
হৃদয় যা চেয়েছিল।
না তুমি বলেছো,
না আমি বলেছি।
তবু দুজন মিলে অলক্ষ্যে রচে গেছি
হৃদয়ের গভীরতম কবিতা।

তুমি ফুল দেখিয়ে বলেছিলে,
"
দূর থেকে ভালোবাসা নেও।"
আমি নিয়েছিলাম।
ঠিক চাতক পাখির মতো।
তুমিও আসতে আমার আঙিনায়,
আর আমি নিয়মিত যেতাম তোমার কাননে।

তুমি জানালার পাশে
অপলক চেয়ে থাকতে রাস্তার দিকে, মাঠের দিকে।
আর আমিও ধুলোমাখা খেলার মাঠ থেকে,
চেয়ে থাকতাম তোমার পানে।
প্রতিদিন ছুটে যেতাম
শুধু তোমার জন্য।

কত যে রাত্রি নির্ঘুম কেটেছে!
আকাশের তারা গুনে গুনে,
চাঁদের আলোয় তোমার মুখচ্ছবি বুনে।
এতো কাছে ছিলাম দুজনে,
তবু মুখ খুলে বলা হয়নি
সেই কবিতার কথাটি।

যে কবিতায় ছিলে
শুধু তুমি,
শুধু তুমি।

সেই কবিতা এখনো আছে আগের মতোই,
অক্ষত, অবিকল।
শুধু...
তুমি নেই আজ সেই পুষ্পবোঁটায়।
শুকিয়ে গেছে চন্দ্রমল্লিকা।

আমি কি তোমাকে ভালোবেসেছিলাম?
নাকি তুমিও আমাকে?
আজো সেই প্রশ্নের উত্তর পাইনি।

উত্তর না পেলেও
আমার এই শূন্য হৃদয় বলে,
তুমিও ছিলে আমারই লেখা পরম কবিতা।
যার চরণে চরণে উদিত হতো ভোরের সবিতা।

কিন্তু...
কোন কালবৈশাখী ঝড়ে,
কোন মেঘের ডাকে
তুমি হারিয়ে গেলে আজো জানা হলো না,
হে আমার হৃদয়ের কবিতা!

একটি সান্ত্বনা আজো আছে এই বুকে,
তুমিতো কখনো বলো নি
"
তুমি আমার কবিতা নও।"
তাই আজো তুমি আমার মহাকাব্য,
আমারই আকাশের শুকতারা।

--------------------------------------------------

 

 

 

 

নেতার ভিড়ে নেতৃত্বশূন্য

 কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

**************************************

চারিদিকে শুধু নেতার মহোৎসব
অথচ, এক মহাসর্বনাশা নেতৃত্বহীনতায় ভুগছে সময়!
পরিবার থেকে রাষ্ট্রসর্বত্র আজ এক অদ্ভুত শূন্যতা,
মরুভূমির মতো খাঁ খাঁ করছে খাঁটি মানুষের হৃদয়।

সবাই এখানে সাজতে চায়বড় ভাই’,
অহমিকার চাদর জড়িয়ে দেখায় শুধু বাহাদুরি;
অথচ, বিবেক আজ গুমরে কাঁদে নিভৃতে,
চারিদিকে চলছে নীতি আর আদর্শের জঘন্য চুরি!

নেতাগিরির সস্তা মুখোশে ঢাকা পড়েছে আসল মানুষ,
ভেতরে শুধুই শূন্যতা, অহংকারের ফানুস।

মানবিকতার প্রদীপখানি কবেই গেছে নিভে,
সাম্যের গান আজ নির্বাসিত কোনো সুদূর দ্বীপে!
হিংসার নগ্ন থাবায় রক্তাক্ত আজ সমাজ,
দখলবাজি আর চাঁদাবাজির মিছিলে
পাপিষ্ঠরাই পরেছে রাজার তাজ!
সমাজ পরিবর্তনের কথা যে সুহৃদ বলে,
মিথ্যা অপবাদে তাকেই আজ পিষে মারা হয় ছলে-বলে।

শিক্ষাদীক্ষা উধাও হয়েছে সুদূরে,
শিষ্টাচার আজ ডুকরে কাঁদছে করুণ সুরে।
বিবেক বিকিয়ে গেছে ক্ষমতার হাটে,
নেতারা ব্যস্ত আজ শুধু নিজেদের আখের গোছাতে।

মঞ্চে দাঁড়িয়ে তারা ছড়ায় কথার ফুলঝুরি,
অথচ ভেতরে তাদের কদর্যতার কারিগরি।
নেতাগিরি আছে দেদার, নেই শুধু সঠিক নেতৃত্ব,
মিথ্যের বেসাতিতে হারিয়েছে সত্যের সব স্বত্ব।

পদানত আজ ন্যায়, ভূলুণ্ঠিত মানবতা
হে সমাজ, তুমি কি শুনবে না এই বিপন্নতার কথা?
কবে জাগবে সেই খাঁটি দেশপ্রেমিক, সেই আলোর দিশারী?
যার স্পর্শে ঘুচে যাবে এই বন্ধ্যাত্ব, এই আঁধার শর্বরী!

------------------------------------------------------