Monday, August 17, 2026

আরোগ্যের ফরিয়াদ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

********************************

ইয়া ইলাহী! ইয়া রহমান!
লহো
লহো মোদের মোনাজাত,
ঝরুক তোমার আরশের রহমত-বারিপাত!
আজ হাসপাতালের ওই পাণ্ডুর শয্যায়
কেঁদে মরে কাপাসিয়ার এক দরদী প্রাণ,
বিপন্ন আজ মানবতা, স্তব্ধ সাহসী গান।

হে পরোয়ারদেগার!
দল-মত-পথের পাঁচিল ভেঙে যে মানুষ চিনেছিল শুধু মানুষ,
যার বুকে সদা জ্বলত লাল-সবুজের অবিনাশী ফানুস,
সেই জনতা-বন্ধু আজ বড় বড় ব্যথায় কাতর;
আমানত হোসেনের মলিন মুখ দেখে
কেঁদে ওঠে কাপাসিয়ার প্রতিটি ধূলিকণা, পাথর।

প্রভু গো!
তিনি তো শুধু এক সাবেক চেয়ারম্যান নন,
তিনি যে আর্তের আশ্রয়, মজলুমের আপনজন!
যে হাত দিন-রাত বিলিয়েছে শুধু ইনসাফ আর খয়রাত,
যে দিল কেঁদেছে পরের তরেসারাটি জীবন, সারাটি রাত,
সেই পবিত্র জিসিমের সব ব্যাধি করো হে দূর,
নুপূরের মতো বাজিয়া উঠুক আবার সুস্থতার নূরের সুর।

হে শাফী! হে মহা চিকিৎসক!
দিলে দাও হিম্মত, রূহে দাও বিপুল তাকত,
উন্মুক্ত করো তোমার কুদরতি শিফার দ্বার!
মুক্তিকামী জনতার অগ্রসৈনিক সে,
মুক্তি দাও তারে রোগ-শোকের এই কারাগার হতে এবার।

দাও শিফা, ইয়া রব!
আবার যেন কাপাসিয়ার চত্বরে চত্বরে
গড়জে ওঠে সেই অদম্য সাহসী কণ্ঠস্বর,
ফিরে আসুক আমাদের প্রিয় ভাই, আমাদের ধ্রুবতারা,
তোমার করুণা-আশায় হাত তুলেছি মোরাআজ দিশেহারা!

-------------------------------------------------------------------

ওরে ও হুজুগে মাতাল বাঙাল

 কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

***************************************

ওরে ও হুজুগে মাতাল বাঙাল!
কিসের এত ফাল?
বুকের রক্ত ঢেলে সাজাস কার গদি?
তোর
কান্নায় কি গলবে ওরে সেই পাষাণ নদী?
তুই বজ্রকণ্ঠে দিচ্ছিস স্লোগান,
আর ভাবছিসতুই- বুঝি মহীয়ান!

তুই করছিস দখলবাজি,
করছিস চাঁদাবাজি,
দলের পায়ে বিলিয়ে দিয়েছিস তোর বিবেক-কাজী।
ক্ষমতার মোহে করিস মব, করিস অপমান,
ভুলিয়াছিস মানুষের মূল্য, হারাইয়াছিস নিজ সম্মান!
চুরি, ছিনতাই, গুম আর খুনের রক্ত মেখে হাতে,
তুই ভাবিস নেতা হবি?
মাতবি উল্লাসের রাতে?

শোনরে অন্ধ,
শোনরে মূর্খ,
শোনরে ভৃত্যদল
নেতা হওয়া কি রে এতই সহজ? কেবলই বাহুবল?
দলের পূজায় ব্যস্ত তুই, নেতার পায়ে সঁপেছিস মাথা,
অথচ তোর কপালে লেখা কেবলই গোলামির চিরন্তন গাথা।

তুই ফরমায়েশ খাটবি জীবনভর,
হবি না মন্ত্রী-এমপি,
তোর স্লোগানের জোরে মঞ্চে উঠবে অন্য কারোরই তরণী।
যাঁর নামে আজ ফাটাচ্ছিস বুক, গলা চিঁড়ে করিস চিৎকার,
তাঁর অনুপস্থিতিতে কার হাতে যাবে এই ক্ষমতার অধিকার?
তুই নেতা হবি?
তুই পাবি সেই রাজকীয় আসন?
নাহ্‌!
তাঁর রক্ত,
তাঁর সন্তানেরাই করবে আবার শাসন।
তুই তো কেবলই দাবার ঘুঁটি, মাঠ গরমের সস্তা হাতিয়ার,
তোর ভাগ্যে জুটবে না কোনোদিন সেই সিংহাসনের জোয়ার।

যখন আসবে ঘোর বিপদ,
নামবে মামলার ঘোর আঁধার,
দেখবি তোর সেইদয়াল নেতাউড়াল দিয়েছে সমুদ্রপার!
তোর পাশে থাকবে না কেউ, ভাঙবে সুখের রঙিন কাচ,
জেলখানায় পচে মরবি তুই, পরিবারে জ্বলবে চিতার আঁচ।
তুই হবি লাঞ্ছিত,
অপমানিত,
ধ্বংস হবে তোর ঘর-সংসার,
তবুও তোর ভাঙবে না কি এই ঘোর অন্ধকারের মোহাড়?

চেয়ে দেখ ওরে অবোধ!
চেয়ে দেখ একবার চোখ মেলে,
যাদের তরে রাজপথে তুই মরিস মাদক আর অস্ত্রের খেয়ালে,
তাদের ঘরের সোনার ছেলে-মেয়েরা ঘোরে না তোর মতো রোদে,
তারা বিদেশে পড়ে,
যোগ্য মানুষ হয়,
উচ্চশিক্ষার মোদে।
আর তুই হুজুগে মেতে রাজপথে রাজপথে হচ্ছিস ছারখার,
নিজেকে বিলিয়ে দিচ্ছিস ওরে, পেতে চিরদাসের অলংকার!

জাগো ওরে স্লোগানধারী কর্মী,
জাগো নিজের শক্তিতে,
অন্ধ তোষামোদি ছেড়ে এবার মাতো আত্মমর্যাদার মুক্তিতে!
আগে নিজের যোগ্যতা গড়ো, জ্ঞান-গুণে হও মহীয়ান,
লাঠিয়াল আর চামচা না হয়ে, মানুষের তরে দাও নিজ প্রাণ।
তবেই তুই হবি খাঁটি নেতা,
তবেই মিলবে আসল জয়,
হুজুগে মাতাল বাঙাল রে তোর ঘুচুক এবার চিত্তের ভয়!

------------------------------------------------------