Wednesday, February 18, 2026

আমার শ্রদ্ধেয় দাদা

 আমার শ্রদ্ধেয় দাদা

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**********************************

ওহে লাল মৌলভী! হে বড় হুজুর!
রাওনাটের সোনালী মুকুট, হে ঈমানের দীপ্তি!
পদচারণে মক্তব জ্বলে, শিশুর চোখে আলো,
শিক্ষার ভাষা, ন্যায়ের পথে—তুমি পথপ্রদর্শক।

পরহেজগার, ন্যায়পরায়ণ, দানবীর হৃদয় বিশাল,
প্রত্যেক মানুষের জন্য খোলা ছিল তোমার দরজা।
হাজার মুখে বাজে আজও তোমার নামের সুর,
‘আলহ্বাজ মৌলভী আহাদ আলী’—চিরন্তন আলো।

রাগী তুমি, শাসনে ইস্পাত কঠিন,
অন্যায়ের সাথে কখনো নয় সহমর্মিতা।
হুজুর, হেকিম, আলেম, পন্ডিত—সবের মিলন,
মানবতার চিত্র তুমি গড়ে, অনন্য নিদর্শন।

সোনালি স্মৃতির জ্যোতি তোমার পদচিহ্নে,
শিশু থেকে বৃদ্ধ, সবাই পায় প্রেরণার দিশা।
ভালবাসা, শিক্ষা, ন্যায়—সবই তোমার হাতে,
মানুষের মাঝে জ্বলে সত্যের দীপ্ত বাতি।

আলোর ছোঁয়া, স্নেহের মধুর সুর,
মক্তবের ঘরে বাজে আজও তোমার মধুর গুণ।
দাদার এই স্মৃতি চিরন্তন, অম্লান, জ্বলন্ত,
হে মহান আল্লাহ, জান্নাতুল ফেরদৌসে নসীফ করো।

আমাদের ভালোবাসায় চির অমর হোক তিনি,
আমিন, আমিন, আমিন!
---------------------------------------------


১৮-০২-২০২৬

কবি তবু অপলক চেয়ে

 কবি তবু অপলক চেয়ে

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
************************************

পড়ন্ত বিকেলের নরম অন্ধকারে
ঝিলের ধারে এক কবি অপলক চেয়ে থাকে—
শূন্যতার দিকে, যেন শূন্যতারই গভীরে
কারো পায়ের শব্দ হারিয়ে গেছে বহু আগে।

উত্তরের টিলায় হয়তো আজও
গোধূলীর আভা লেগে আছে ধানের শিষে;
সেই আভার ভিতর দিয়ে
কেউ আসার কথা ছিল—
হাতে একটি লাল গোলাপ,
বাতাসে দুলতে থাকা নীরব প্রতিশ্রুতি।

অদূরের যে বাড়িটি সন্ধ্যার কুয়াশায়
আধা দেখা যায়, আধা অদৃশ্য—
হয়তো তার জানালার পাশে দাঁড়িয়ে আছে সে,
হয়তো ফুল বাগানে একা পাপড়ি ছুঁয়ে,
হয়তো খেলার মাঠের চারিপাশে
ঘুরে ঘুরে খুঁজছে অনামা কোনো সুর।

কবি তবু অপলক চেয়ে থাকে।
চেয়ে থাকে—
যেন চোখের ভেতর গোধূলী জমে ওঠে নদীর মতো।
কোথাও সে নেই—
তবু সে আছে প্রত্যাশার মতো
ধানের শীষের নরম দোলায়।

সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসে।
পাখিরা নীরবে ফিরে যায় বাড়ি—
ডানায় লেগে থাকে ক্লান্ত সোনালী আলো।
ধানক্ষেত আরও সোনালী হয়ে ওঠে,
যেন দিনের শেষ রক্তিম স্বপ্ন
মাটির বুকে ঢেলে দিয়েছে কেউ।
ঝিলের জল শান্ত, নিবিড়—
অতল আয়নার মতো নিঃশব্দ।
সারি সারি গাছ দাঁড়িয়ে থাকে
কবির নিঃসঙ্গতার প্রহরী হয়ে।

তবু কবি অপলক চেয়ে—
যদি সে আসে!
যদি গোধূলীর ক্ষণিক আলোয়
একবার চোখে চোখ রাখে—
যদি বলে, “আমি তোমাকে ভালোবাসি”—
এই নাও প্রেমের গোলাপ,
এই নাও প্রতীক্ষার লাল আগুন।

কিন্তু সন্ধ্যা আরও গভীর হয়,
নীল থেকে কালো—
তবু সে এল না।
তবু সে বলল না।

তবু কবি ভালোবাসে—
শূন্যতার দিকে চেয়ে,
ভালোবাসে ধানের সোনালী নিঃশ্বাস,
ঝিলের নিস্তব্ধ জলে ভাসা আকাশ,
গোধূলীর ম্লান আলোয় হারিয়ে যাওয়া
এক অনামা পদচিহ্ন।

সে না এলেও—
অপেক্ষাই যেন তার প্রেম;
শূন্যতার দিকে অপলক চেয়ে থাকাই
তার একমাত্র উচ্চারণ।

এভাবেই কবি দাঁড়িয়ে থাকে—
গোধূলীর পর গোধূলী,
শূন্যতার ভেতর এক গোলাপের স্বপ্ন নিয়ে।
-------------------------------------------


১৮-০২-২০২৬

পিতার আলো

 পিতার আলো

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*********************************

ওহে শোনো—
পিতার আলো যদি পড়ে সন্তানের অন্তরে,
সে সন্তান জ্বলে ওঠে প্রদীপ হয়ে বিশ্বভুবনের ঘরে।
তার চোখে জাগে প্রভাত, কপালে দীপ্তি খেলে,
তার প্রাণে সাহসের গান বাজে অটল অবহেলে।

পিতা যেন আকাশ-সূর্য, সন্তানের জীবনধারা,
তাঁর স্নেহধারা ঝরে পড়ে শিশিরের মতো সারা।
তাঁর কঠোর বাণীও মধুর, শাসন যেন আশীর্বাদ,
তাঁর পথনির্দেশে গড়ে ওঠে জীবনের সাধ।

তিনি শেখান সত্যের পথে দৃপ্ত পায়ে চলা,
অন্যায়ের সাথে রুখে দাঁড়াও— এই তাঁর বলিষ্ঠ বলা।
তিনি দেন পরিশ্রমের মান, সততার অগ্নিশিখা,
তাঁর আদর্শে গড়ে ওঠে দৃঢ় চরিত্র-দীক্ষা।

পিতার কপালের ঘাম সন্তানের গৌরব,
তাঁর ত্যাগে রচিত হয় সন্তানের ভবিষ্যৎ রৌদ্র।
তাঁর নীরব প্রার্থনায় জাগে কল্যাণের ঢেউ,
তাঁর আশীর্বাদে ঝরে পড়ে অশুভ আঁধার ঢেউ।

যার ঘরে পিতার আলো, সে ঘর দীপ্তিমান,
তার জীবন হয় সুপথের দৃঢ় অঙ্গীকারবান।
পিতার স্নেহের ছায়া যতদিন থাকে পাশে,
সন্তান ততদিন অটল থাকে দুর্দিনেরই আশে।

ওহে মানব, রেখো মনে এই চিরন্তন বাণী—
পিতার মর্যাদা রক্ষা করো, এ ইসলামেরই ধ্বনি।
পিতার আলোয় আলোকিত হোক সন্তান-সমাজ,
পিতার মহিমায় উজ্জ্বল হোক বিশ্ব আজ।
--------------------------------------


১৮-০২-২০২৬

তারুণ্যের প্রতি আহবান

 তারুণ্যের প্রতি আহবান

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*************************************

ওহে শুনো হে তরুণ শক্তি!
তুমি সভ্যতার কুসুম ফুটাবে,
তুমি বাতাসে আলোর ঢেউ ছড়াবে।
যেও না কখনো কালো অন্ধকারের তীরে,
যেও না অনিষ্টের ছায়ায়,
নিশ্বাসে দিও না বিষ, হৃদয়ে রাখো জ্যোতি।

পিতা-মাতার কষ্ট বোঝো,
পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্রের দায় জানো।
নিজ জীবনের মূল্যবোধ অটল রাখো,
নিজেকে বিক্রি করো না দামী লোভের সপক্ষে।

মোবাইল, মোটরসাইকেল, মাদক—না!
পিতার ঘ্রাণে ভরা প্রেমকে এড়িয়ে যেও না।
লেখাপড়া করো, হয়ে ওঠো আদর্শ মানুষ,
বাজে আড্ডা, বাজে বন্ধু—দূরে থাকো বহু দূরে।

বড়কে শ্রদ্ধা দাও, ছোটকে স্নেহ দাও,
মানবিক শিখা চির অমল রাখো।
দেশপ্রেমিক, বিপ্লবী হও,
চামচা নয়, নিজের পায়ে দাঁড়াও।

হিংসা-বিদ্বেষ তাড়াও,
মানবিক বন্ধুত্বের হাত বাড়াও।
সমাজসেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখো,
মা-বোনের ইজ্জত রক্ষা করো,
মুক্তির সুরে বাঙালির হৃদয়ে বেজে উঠ।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়
জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করো,
স্বাধীনতা রক্ষা করো, লাল-সবুজের ফুল হয়ে।
ধর্মান্ধ হইও না, উগ্রবাদী হইও না,
ভয়কে জয় করো, সাহসকে আলিঙ্গন করো।

তুমি জাতির প্রাণ, তুমি পিতা-মাতার স্বপ্ন,
তুমি স্বাধীন বাংলার গর্ব,
তুমি ভবিষ্যতের উজ্জ্বল সূর্য।

শুনো হে তরুণ!
তুমি সভ্যতার কুসুম ফুটাবে,
তুমি পৃথিবীকে আলোর নদীতে ভাসাবে—
শুধুই তোমার হাতে, শুধুই তোমার প্রাণে!

চল হে তরুণ, লাল-সবুজের পথে,
চল হে তরুণ, স্বাধীনতার সুরে!—
--------------------------------------------------


১৮-০২-২০২৬

তুমি বলো হে যুবক

 তুমি বলো হে যুবক

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
--------------------------------------------

তুমি বলো হে যুবক—
দিগন্ত-দোলানো দুর্বার দামাল!
বজ্রকণ্ঠে খুলে দাও রুদ্ধ দ্বার,
তোমার পানে চেয়ে আছে বিশ্ব-জগৎ,
চেয়ে আছে রক্তে-রাঙা প্রিয় মাতৃভূমি—
অগ্নিশিখা-চূড়ায় জ্বালা যার ইতিহাস,
যার নাম— বাংলাদেশ!

বলো—
তুমি মানব, মানবতার মহাসেনা!
হারতে আসনি তুমি ধরাধামে,
এসেছো রণতূর্য বাজাতে,
অন্যায়ের প্রাচীর ভাঙাতে,
বঞ্চিত-লাঞ্ছিত-নিপীড়িত জনতার
অশ্রুতে লিখতে নতুন প্রভাত!

তুমি বিপ্লবী— বিদ্রোহী শপথে দীপ্ত!
তুমি প্রতিবাদী— অন্যায়-অন্ধকারে অগ্নিশিখা!
ন্যায়ের ধারক, সত্যের বাহক,
তুমি নও ব্যর্থ প্রেমিক—
তুমি প্রেমের পূর্ণ মঞ্জিল,
রাত্রির পূর্ণিমা-চাঁদ,
তুমি মাতৃভূমির কপালে স্বাধীনতার সিঁদুর!

তুমি এসেছো
মুক্তিযুদ্ধের রক্ত-ঋণ সমুন্নত রাখতে,
শহীদের স্বপ্নকে শপথে বাঁচাতে;
বলো— তোমার হাতেই নিরাপদ দেশ,
তোমার মুঠিতেই আগামী দিনের সূর্য!

বলো—
কোন যুবক-যুবতী আর
মাদকের বিষে ডুবে মরবে না;
বলো— এই জাতি হবে সভ্যতার ফুল,
শিক্ষা-শ্রম-সততায় গড়া সোনার সমাহার!

বলো—
তুমি নও দুর্নীতির দালাল,
নও ফ্যাসিবাদের অন্ধ প্রহরী,
নও মবের উন্মত্ত হুঙ্কার,
নও ভয়-ব্যবসায়ী, নও দেশদ্রোহী,
নও স্বাধীনতার শত্রু ছদ্মবেশী!

বলো—
তুমি নও ধর্মান্ধতার অন্ধকার,
নও উগ্রতার বিষদাঁত,
নও ধর্ম-ব্যবসার পাপ-বাজার,
নও জঙ্গিবাদের কালো নিশান!

তুমি সাম্যের, তুমি ঐক্যের,
তুমি নির্ভীক আশ্রয় শত দুঃখীর;
তুমি দেশপ্রেমিক— অতুল অগ্নি,
তুমি আগামী দিনের বজ্র-উচ্চারণ!

তাই বলো হে যুবক—
বুকের ভেতর বজ্র বাজাও,
রক্তে জাগাও রণ-তরঙ্গ;
মানুষ হবার মহাশপথে
নিজেকে জ্বালাও প্রদীপ-প্রতিজ্ঞায়—

যেন যুগে যুগে ধ্বনিত হয়—
“এসেছিল এক যুবক—
মানুষের তরে, মানবতার তরে,
স্বাধীনতার দীপ্ত পতাকা উড়িয়ে!”
------------------------------------------------


১৮-০২-২০২৬

এসেছে রমজান

 এসেছে রমজান

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*************************************
জাগো ইয়া মুমিন! এসেছে রমজান—
শাহ্‌রে রহমত, নূর-এ-সুবহান!
আসমানে বাজে তকবীরের সুর,
লাব্বাইক ধ্বনি তোলে আরশ-মঞ্জুর।

ওঠো শবের শেষ সেহরীর ওয়াক্তে,
নাজিল হয় বরকত রহমতের রাহমাতে।
তাসবিহ্‌-তাহলিল জপো ইশ্‌কের তানে,
“ইয়া রব! ইয়া রব!” কাঁদো গোপন প্রাণে।

ফরজ সাওম—হুকুমে রহমান,
সবরের মাদরাসা, তাকওয়ার ইমান।
নফসের জিহাদ, শয়তানের শিকল,
রুহের সফর মাকামে-কামিল।

ক্ষুধা নয় শুধু, এ ইবাদত-এ-খাস,
হিকমতে ভরা রবের নিদর্শন বিশেষ।
চোখে হায়া, জিহ্বায় জিকর,
কুলুবেতে জাগে নূর-এ-ফিকর।

শাহ্‌রে মাগফিরাত—ঝরে আফও-ও-করাম,
গুনাহগার পায় ক্ষমার ইনআম।
দরিয়ায়ে রহমত ঢেউ তোলে আজ,
তওবার নাও ভাসাও নির্ভয় সাজ।

এ মাসে নাজিল কিতাবুল-হুদা,
আল-কুরআন—নূর-এ-খোদা।
লাইলাতুল কদর—শব-এ-নূর,
হাজার মাস হতে আফজাল সুর।

যাকাত-সদকা, খাইরাত দাও,
ফকির-মিসকিনে ইহসান ছড়াও।
উম্মাহর বুকে উখুয়াতের গান,
ভাঙে তাফরিকা, জাগে ইত্তেহাদ।

ইফতারের দোয়া—কবুলের ক্ষণ,
আরশ হতে নামে রহমতের বন।
“যাহাবাজ-জামা”—তৃষ্ণার অবসান,
শুকরিয়া আদায় করো রহমান।

রমজান! রমজান! শাহ্‌রে-সিয়াম—
তোমার বরকতে জাগে ইসলাম।
দিলের মসজিদে আজান ওঠে,
ইশ্‌কের আগুন জ্বলে অন্তর-রথে।

হে আল্লাহ! দাও নাজাতের দিশা,
হাশরের ময়দানে করো না নিরাশা।
কবুল করো এ সাওম-ও-সালাত,
দাও জান্নাতে নূরের হায়াত।

জাগো ইয়া মুমিন! এসেছে রমজান—
শাহ্‌রে রহমত, নূর-এ-সুবহান!
সংযমে গড়ি দিলের ইমান,
ইয়া রহমান! ইয়া রহমান!
-----------------------------------------------


১৮-০২-২০২৬

Tuesday, February 17, 2026

অভিনন্দন হে প্রধানমন্ত্রী

 অভিনন্দন হে প্রধানমন্ত্রী

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
******************************************
হে নব তুর্কি , হে নব কান্ডারী!
অভিনন্দন হে প্রধানমন্ত্রী, উঁচু করো পতাকা!
উঁচু করো, উঁচু করো, উঁচু করো পতাকা!
বীরের দর্পে চলো,
বীরের দর্পে চলো, চলো, চলো!
স্বাধীন বাংলায় লাল সবুজের রঙ ছড়াও,
ছড়াও, ছড়াও, ছড়াও রঙ!

মুসলিমের, হিন্দুর, বৌদ্ধের, খ্রীষ্টানের সেবক হও,
সকলের জন্য দাও আশা, সকলের জন্য দাও শান্তি।
শোষিতের কণ্ঠস্বর ধরো,
ধরো, ধরো, ধরো কণ্ঠস্বর!
বঞ্চিতের আশা হয়ে ওঠো,
অভিনন্দন হে প্রধানমন্ত্রী, হে প্রধাণমন্ত্রী, হে প্রধাণমন্ত্রী!

জুলুম ভেঙে দাও,
ভেঙে দাও, ভেঙে দাও অন্যায়!
দুর্নীতি চূর্ণ করো,
চূর্ণ করো, চূর্ণ করো, চূর্ণ করো!
সত্যের পথে এগিয়ে চলো,
চলো, চলো, চলো সত্যের পথে!
ন্যায়ের দীপ জ্বালাও,
জ্বালাও, জ্বালাও, জ্বালাও দীপ!

বাক স্বাধীনতা ফিরাও,
ফিরাও, ফিরাও, ফিরাও স্বাধীনতা!
অধিকার দাও,
দাও, দাও, দাও অধিকার!
বৈষম্য দূর করো,
দূর করো, দূর করো, দূর করো বৈষম্য!
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধরে,
ধরে রাখো, ধরে রাখো, ধরে রাখো চেতনা!

অভিনন্দন হে প্রধানমন্ত্রী, স্বদেশকে গড়ো,
গড়ো, গড়ো, গড়ো হে প্রধাণ!
জনতার ডাক শোনো,
শোনো, শোনো, শোনো জনতার ডাক!
জনতার আশা ধারণ করো,
ধারণ করো, ধারণ করো, ধারণ করো আশা!

কোন দলের নও,
কোন দলের নও, কোন দলের নও!
কোন গোষ্ঠির নও!
নিরপেক্ষ হে প্রধাণমন্ত্রী,
সকলের নেতা হয়ে ওঠো,
ওঁ, ওঠো, ওঠো, ওঠো নেতা হয়ে!

বলতো, পারবে কি?
পারবে তো!
সংবিধানের শপথ ভঙ্গ করো না,
না, না, না ভঙ্গ করো না!
স্বপ্নের প্রহরী হোক তুমি,
হোক, হোক, হোক প্রহরী!
মুক্তির চেতনা জাগাও,
জাগাও, জাগাও, জাগাও চেতনা!
বিপ্লবী শৈলীতে জয় ঘোষণা করো,
অভিনন্দন হে প্রধানমন্ত্রী, ঘোষণা করো জয়!
-----------------------------------------------


১৭-০২-২০২৬

সাম্যের কাপাসিয়া চাই

 সাম্যের কাপাসিয়া চাই

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*****************************************

শুনো হে জনপ্রতিনিধি, শুনো জনতার আরজি,
দল-মতের প্রশ্ন নয়—মানুষ হোক তোমার তর্জী।
মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সকল প্রাণ,
জেলে, কুমার, তাঁতী, শিক্ষিত-অশিক্ষিত সমান।

তুমি হবে লাল-সবুজের অদম্য এক প্রহরী,
মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দীপ্ত, নির্ভীক, গৌরবভরি।
“আমার সোনার বাংলা”র শপথ বুকে ধারণ,
সত্য-ন্যায়ের দীপ জ্বেলে করবে অন্ধকার ক্ষরণ।

কারো হবে না লাঞ্ছনা, বঞ্চনা, নিপীড়ন,
ক্ষমতার মোহে যেন না জাগে স্বৈরাচারী মন।
ফ্যাসিবাদের ছায়া যেন না পড়ে তোমার পথে,
চাঁদাবাজি, গুম আর খুন—না থাকে রাষ্ট্ররথে।

ধর্ম-বর্ণ ভেদ ভুলে হবে সকলের আপনি,
আবাল-বৃদ্ধ-বনিতার আশ্রয় হবে আপনি।
কে দিল ভোট, কে দিল না—নাহি করবে বিচার,
জনতার রায়ে সবার তুমি সমঅধিকার।

গড়ো তবে মানবিক এক ন্যায়ভিত্তিক বাসিয়া,
স্বপ্নময় সাম্যের পথে জাগুক কাপাসিয়া।
মনে রেখো গৌরবগাথা কৃতী সন্তানের নাম—
তাজউদ্দীন আহমদ মহীয়ান, অম্লান তাঁর অবিরাম।

আর স্মরণে রাখো বীর সেনানায়কের আহ্বান,
আ. স. ম. হান্নান শাহর দৃপ্ত পদচিহ্নে জাগুক নতুন গান।

ঐতিহ্যের সোপানে দাঁড়িয়ে শপথ নাও আজ,
সাম্যের পতাকা তুলে ভাঙো বিভেদের লাজ।
শুনো হে জনপ্রতিনিধি, এ জনতার বাণী—
ন্যায় আর মানবতায় হোক কাপাসিয়া মহানী।
----------------------------------------


১৭-০২-২০২৬

হৃদয়কে প্রশ্ন করো দেখ

 হৃদয়কে প্রশ্ন করো দেখ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
***************************************

হে পুষ্প, একবার গভীর নিশীথে হৃদয়কে প্রশ্ন করো—
নিরপেক্ষ উত্তর পেয়ে যাবে;
যেমন নক্ষত্রেরা পক্ষপাতহীন আলো ফেলে
নিস্তব্ধ পৃথিবীর ওপর।

তোমার বাহ্যিক পাপড়ির যে সুবাস—
সে এক ছলনা, ক্ষণিকের রঙিন প্রলোভন;
ভোরের শিশির শুকালে যার অস্তিত্ব থাকে না।
কিন্তু তোমার অন্তরের যে মধুতা, যে তরঙ্গ—
সে-ই চিরসত্য;
অদৃশ্য নদীর মতো বয়ে চলে রক্তের ভেতর,
অবিরাম, অব্যক্ত, অথচ অবিস্মরণীয়।

হৃদয়ের তরঙ্গ প্রবল উচ্ছ্বাসে বলছে—
সে কেবলই আমাকে ভালোবাসে, গভীর ভালোবাসে;
এই উচ্চারণ তুমি অস্বীকার করলেও
তোমার বুকের স্পন্দন তাকে মিথ্যে বলতে পারে না।

তুমি রূপের অহংকারে, অর্থের অহংকারে
পবিত্র ভালোবাসাকে আবৃত করে রেখেছো
মিথ্যে চাঁদের চাদরে;
তবু কি চাঁদের আলো আড়াল থাকে?
মেঘ সরলেই যেমন পূর্ণিমা জেগে ওঠে,
তেমনি লুকানো প্রেমও একদিন উন্মোচিত হয়।

আজ এত বছর পরেও—
ভুলতে পারোনি এই পৃথিবীর আকাশ, বাতাস, সাগর, নদী;
ভুলতে পারোনি সেই প্রথম বিস্ময়,
যাকে দেখেছিলে তোমারই আঙিনায়—
অবহেলিত সাগর, নদী, পাহাড়, পর্বতের মতো স্থির,
তবু গভীর, তবু অন্তহীন।

তুমি অস্বীকার করলেই
তোমার ভালোবাসাকে অস্বীকার করতে পারবে না।
হে প্রেমের তরী,
সাগর থেকে দূরে তুমি কতটুকু ভালো আছো?
বলতে পারো?
না—তুমি ভালো নেই, ভালো থাকতে পারো না কোনোদিন;
কারণ তুমি যে আমাকেই ভালোবেসেছিলে,
সত্যিই ভালোবেসেছিলে—
পরম মমতায়, নীরব প্রতিজ্ঞায়।

তবে কেন আজ মিথ্যে মিথ্যে
তোমার লালিত প্রেম অস্বীকার করো?
এতে শুধু কষ্টই পাবে—
শুধু কষ্টই পাবে;
রাত্রির নির্জনতায় জমে উঠবে নোনাজল,
অশ্রু ঝরবে অকারণে,
বুকের ভেতর ঢেউ উঠবে অথচ তীর পাবে না।

হৃদয় উজাড় করে ফেলো—
স্বীকার করো, তুমিও ভালোবেসেছিলে
সেই অবহেলিত সাগর, নদী, পাহাড়, পর্বতকে—
যাকে প্রথম দেখেছিলে তোমারই আঙিনায়;
যার চোখে একদিন তুমি নিজের প্রতিচ্ছবি দেখেছিলে।

হৃদয়কে প্রশ্ন করে দেখো—
সে বলবে, তুমিও ভালোবেসেছিলে আমাকে।
কোনো প্রমাণের দরকার নেই;
কোনো সাক্ষীর প্রয়োজন নেই।
তোমার হৃদয়ই আমার ভালোবাসার দলিল—
যেমন অশ্রু নিজেই তার লবণাক্ত সত্যের প্রমাণ।

আজ যদি নীরবে দাঁড়াও
আকাশ-বাতাস-সাগর-নদীর মুখোমুখি,
দেখবে—
অস্বীকারের সমস্ত দেয়াল ভেঙে
একটি স্বীকারোক্তি ধীরে ধীরে জেগে উঠছে—

তুমি ভালোবেসেছিলে।
এবং এখনো—
সেই ভালোবাসার বিরহেই
নিঃশব্দে অশ্রু ঝরে।
---------------------------------------------


১৭-০২-২০২৬

Monday, February 16, 2026

মনে তো প্রশ্ন জাগে?

 মনে তো প্রশ্ন জাগে?

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************
সত্যি বলি, মনে আমার জাগে গভীর প্রশ্ন আজ,
পুছকে যে ছেলেটি ছিল, কেমনে নেতা সাজ?
যার হাতে ছিল না বই, ছিল না জ্ঞানের দীপ,
সে কেমনে সমাজজুড়ে তোলে প্রভাব-সীপ?

গণ্ডমূর্খ অর্ধশিক্ষিত, নেশায় বিভোর প্রাণ,
উগ্র ভাষা, অভদ্র আচরণ—তবু তার সম্মান!
অসামাজিক চাঁদাবাজি, ধান্দার অন্ধ পথ,
তবু কেন তারই হাতে নেতৃত্বের রথ?

জ্ঞানী গুণী শিক্ষিতেরা নীরব কেন আজ?
সন্মানের ভয়ে কাঁপে, লুকায় অন্তরলাজ।
যারা ছিল আলোর মশাল, সত্যের দৃপ্ত মুখ,
ভয়ের কাছে হার মেনে কেন তারা সুখ?

হে রাষ্ট্র, হে সমাজপতি, দাও না উত্তর স্পষ্ট—
যোগ্যতার মূল্য কই? কেন এ অদৃষ্ট?
দেশ কি তবে ধ্বংসপথে, নৈতিকতা ক্ষয়?
অযোগ্যতার উল্লাসে কি ভবিষ্যৎ রয়?

আমি যে কথা বলতে চাই—শুনুক সমগ্র দেশ,
যোগ্যহীন নেতৃত্বে শুধু অন্ধকারের রেশ।
যেখানে গুণের কদর নেই, নেই নীতির মান,
সেখানে পতনের ঢেউ করে অবিরাম গান।

বিপ্লব চাই অন্তরে আজ, জাগুক বিবেকশক্তি,
সত্যের পথে দাঁড়াক সবাই, হোক নৈতিক ভক্তি।
যোগ্য জনে দাও নেতৃত্ব, দাও সমাজের হাল,
নইলে ধ্বংস ডেকে নেবে প্রতিটি সকাল।

মনে তাই প্রশ্ন জাগে, উত্তর চায় প্রাণ—
অযোগ্যকে নেতা মানি কিসের অবমান?
রাষ্ট্র যদি চুপ থাকে আর সমাজ থাকে নীর,
তবে ইতিহাস লিখবে শুধু লজ্জার অশ্রু-নীর।


১৬-০২-২০২৬
রকমারি থেকে বই

যা ভেবেছি, যা দেখেছি

 যা ভেবেছি, যা দেখেছি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************************

যা ভেবেছি হৃদয়ে আমি, যা দেখেছি দৃশ্যপটে,
দুই ধারাতে ভাঙন যেন সময়েরই অশ্রু-ঘটে।
স্বপ্ন ছিল রৌদ্রছায়ায় মুক্তির দীপ জ্বালাবো,
এখন দেখি আঁধার নেমে শৃঙ্খলে সব জড়াবো।

রক্তে রাঙা সবুজ মাঠে এঁকেছি যে মানচিত্র,
সেই রেখাতে শকুন নেমে করে বিষের অক্ষরচিত।
মীরজাফরের বংশধরেরা ইতিহাসে ছুরি চালায়,
সত্য যদি মুখে ওঠে কণ্ঠরোধে ভয় জড়ায়।

ভেবেছিলাম গণতন্ত্রে কণ্ঠ হবে মুক্তগান,
এখন দেখি স্বৈর শাসন আঁকে লৌহ-প্রাচীরদান।
ভেবেছিলাম অধিকার সব ন্যায়ের বুকে ফুটবে,
এখন দেখি জুলুম-অত্যাচার রক্তধারা ছুটবে।

ভেবেছিলাম বিপ্লবী সুর জাগবে জাগ্রত প্রাণে,
এখন দেখি ফ্যাসিবাদের ঢাক বাজে অবিরামে।
মুক্ত সমাজ স্বপ্ন ছিল ন্যায়ের দীপশিখা,
এখন দেখি মবের দাপে সত্য থাকে নিঃশ্বাসহীনা।

দখলবাজির দম্ভে ভাঙে মানুষেরই সংলাপ,
ভয়তন্ত্রের কাঁটাতারে জড়ায় বিবেকের প্রতাপ।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনারে টুটি ধরে চাপে হাত,
দেশবিরোধী উল্লাসে আজ বিষাক্ত করে রাত।

দুর্নীতিরা মহড়া দেয় নগর-গ্রাম অলি-গলি,
সততারই লাল দালানে তালা ঝোলে নিরবধি।
দেশপ্রেমিক নির্বাসনে, মুখে তার নির্বাক ক্ষত,
স্বার্থঘোড়া ছুটে চলে লাগামহীন, উন্মত্ত।

যা ভেবেছি তা ছিল আলো, মুক্ত আকাশ বিস্তার,
যা দেখেছি তা কেবলই আঁধার ঘেরা অগ্নিঝড়।
তবু কবি কলম ধরে, রুদ্ধ হলেও রবে,
সত্যের বীজ রোপণ করে রক্তমাটির গভীরে।

কারণ জানি ইতিহাসে শকুন টেকে না চিরকাল,
রৌদ্র ফুঁড়ে জাগবেই আবার সবুজ প্রভাতের জ্বলাল।
যা ভেবেছি, যা দেখেছি মিলবে কোনো এক ক্ষণে—
মানুষ জাগলে মুক্তির গান উঠবেই পুনর্জনে।
--------------------------------------------------


১৬-০২-২০২৬

ইনসাফের প্রতীক হতে এসেছি

 ইনসাফের প্রতীক হতে এসেছি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
******************************************

আমি এসেছি—
কলমের আগুন হাতে, বিবেকের দীপ জ্বেলে,
শোষিতের শপথ নিয়ে বুকের অন্তরস্থলে।
আমি এসেছি জনতার জাগরণ-ধ্বনি হয়ে,
অন্যায়ের প্রাচীর ভাঙা বজ্রকণ্ঠ বয়ে।

কবি হয়ে শুনেছি আমি নীরব কান্নার সুর,
লাঞ্ছিতের রক্তিম বেদনা, দীর্ঘশ্বাস ভরপুর।
নেতা হয়ে দাঁড়িয়েছি পথের মোড়ে মোড়ে,
শপথ নিয়েছি সত্য রাখিব প্রাণের ঘোরে।

ভোটের প্রার্থনায় নয় ছিল কপট ভাষণ,
ছিল কেবল মুক্ত আকাশে সমতার আহ্বান।
জনমঞ্চে উঠি যখন জনতার হাত ধরে,
বিজয়ের মালা ঝরে পড়ে কৃষকের ঘামে ভরে।

এই দেশ রক্তে লেখা—
শহীদের দীপ্ত শপথ অগ্নিস্নাত প্রভাত,
স্বাধীনতার লাল সূর্য জ্বলে অনির্বাণ রাত।
আমি তার প্রহরী আজ ন্যায়ের নির্ভীক ঢাল,
ইনসাফের তরবারি হাতে অন্যায়ের কাল।

পুরোনো অগণতান্ত্রিক শৃঙ্খল করিব চূর্ণ,
স্বচ্ছতার স্রোতে ধুইব রাজনীতির মলিন বর্ণ।
ক্ষমতার আসনে নয় আমার অহংকার,
জনতার অশ্রুজলে ধোয়া আমার অঙ্গিকার।

আমি সংসদের প্রতিনিধি, তবু আগে সন্তান,
এই মাটির ঘ্রাণে গড়া আমার পরিচয় জ্ঞান।
আইনের শাসন হোক সমতার সমান দীপ,
দুর্নীতির আঁধার ভেদি উঠুক নৈতিক সিপ।

ক্ষুধার্তের থালায় অন্ন, শিক্ষায় আলোকরেখা,
শ্রমিকের ঘামে ফুটুক সম্মানের স্বর্ণলেখা।
নারীর চোখে নিরাপদ ভোরের নির্মল গান,
যুবকের স্বপ্নে জাগুক উন্নয়নের মহান।

দেশপ্রেম আমার রক্তে, নয় কেবল বুলি,
বিবেকের মসজিদে করি শুদ্ধতারই কুলি।
আমি প্রমাণ চাই না কালের কাছে আর,
জনতার হৃদয়ই হোক আমার রায়দ্বার।

আমি কবি—তাই লিখি আগুনের উচ্চারণ,
আমি নেতা—তাই গড়ি ন্যায়ের নতুন ভুবন।
আমি জনতার এমপি—এ আমার শপথবাণী,
ইনসাফের প্রতীক হয়ে থাকিব চিরকাল প্রাণী।

আরো দীপ্ত, আরো তেজস্বী, আরো স্বচ্ছ রবে—
আমার পথ চলা হবে জনগণেরই সবে।
------------------------------------------


১৬-০২-২০২৬

কবির ভাবনা

 কবির ভাবনা

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর
***************************************

নৈঃশব্দ নীলিমা-মাখা শ্যামল প্রান্তরে বসে,
কবি চেয়ে থাকে দূরে গোধূলি আলোর রসে।
রূপসী এ বাংলার রূপ কত অপরূপ—
শিউলি-ঝরা ভোরে যেন স্বপ্নেরই প্রতিরূপ।

সবুজ ধানের ক্ষেতে দোলে সোনালি বাতাস,
নদীর বুকে জাগে নীরব চাঁদের সুবাস।
কিন্তু মানুষের মন কি ততটাই শুভ্র?
পূর্ণিমার চাঁদের মতো নির্মল, নির্ভ্রান্ত, সুব্র?

নাকি অন্তরালে আঁকা গোপন কোনো দাগ,
মুনাফিকের ছায়া রেখে গেছে কালো ফাঁদ?
হৃদয়ের গভীরে কি স্বার্থের শীতল বাসা,
ভালোবাসার আড়ালে লুকায় প্রতারণা-ভাষা?

দেশটার দিকে চেয়ে কবি ভাবে চুপে,
অদ্ভুত এ সময় কেন আঁধারে ডুবে?
দেশপ্রেমের শূন্যতা কেন বুকে বাজে,
দেশবিরোধীর বিষ কেন চারিধারে সাজে?

সম্মানের সম্মানহানি দেখে লজ্জা জাগে,
মানবতার কণ্ঠরোধ শৃঙ্খলেরই ফাঁকে।
ফ্যাসিবাদী হুঙ্কার, স্বৈরাচারের ছায়া,
স্বাধীনতার আকাশ ঢাকে কালো মেঘমালা।

বেকার তরুণ চোখে অনিশ্চিতের ভয়,
বৈষম্যের প্রাচীরে বন্দি স্বপ্নময় ক্ষয়।
শ্রমিকের ঘামে লেখা অন্নহীন গান,
কৃষকের করুণ সুরে ঝরে অবমান।

জেল-জুলুম-হুলিয়ার ভয়ে স্তব্ধ পথ,
ধর্মীয় উগ্রতায় জ্বলে বিভেদের রথ।
স্বেচ্ছাচারী ক্ষমতা হাসে নিষ্ঠুর মুখে,
ন্যায়ের দীপ নিভে যায় অবহেলার দুঃখে।

যত রূপ বৈষম্যের ছায়া দেশে রয়,
অন্নে, বর্ণে, ধর্মে—বিভক্ত মানবময়।
কবি দেখে সবই, তবু নীরব নয় প্রাণ,
অন্তরে জাগে তার বিদ্রোহী আহ্বান।

এই নৈরাজ্য ভেঙে চাই সমতার ভোর,
স্বাধীনতার সূর্য উঠুক নবকিরণ ঘোর।
লাল-সবুজ পতাকায় জাগুক সত্যের মান,
শহীদের রক্তে লেখা হোক নব সম্মান।

কবি তাই স্বপ্ন দেখে মুক্ত আকাশ তলে,
মানুষ মানুষ হবে ভালোবাসার ছলে।
অন্যায়-অন্ধকার যাবে দূরে ক্ষয়ে—
বাংলার প্রাণ জাগুক সাম্যের অভিযয়ে।

রূপসী এ বাংলার রূপ তখন পূর্ণ হবে,
মানবতার দীপশিখা হৃদয়ে জ্বলে রবে।
কবির ভারাক্রান্ত মন পাবে শান্তি ধীর—
স্বাধীন, সমান দেশে জাগুক নব নীর।
--------------------------------------------------------


১৬-০২-২০২৬

সবার আগে বাংলাদেশ

 সবার আগে বাংলাদেশ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**************************************

ওহে শুনো—
এই যে মানচিত্র, এ শুধু মাটি নয়, এ রক্তের দলিল,
লক্ষ শহীদের শপথে লেখা অগ্নি-অক্ষর শশীল।
মা-বোনের অশ্রুতে ধোয়া সম্ভ্রমহারা রাত,
সে রাত ভেদ করে উঠেছে স্বাধীনতার প্রভাত।

যে দেশ পেয়েছি আমি প্রাণের বিনিময়ে,
যে দেশ পেয়েছি দগ্ধ হৃদয়, রণ-ডাকের শিরায় শিরায়,
সে দেশ কোনো দয়ার দান নয়, কোনো করুণা-খণ্ড নয়—
সে দেশ অগ্নিযজ্ঞে গড়া, সে দেশ বিজয়ের জয়।

আমি বলি—
মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান একই কাতারে দাঁড়াক,
পাহাড়-উঁচু, নদী-সমতল এক পতাকাতে জাগুক।
সাম্য হবে সংবিধানের শপথ-জ্বালা দীপ্ত,
সম্প্রীতি হবে রাষ্ট্রের প্রাণ, বৈষম্য হবে নিঃশেষ লিপ্ত।

জনতা চায় গণতন্ত্র, চায় সমান অধিকার,
চায় ধর্ম পালনের স্বাধীনতা নির্ভার।
কোনো হানাহানি নয়, নয় বিভেদের শাসন—
মানবতার ভিত্তিতে গড়ুক ন্যায়ের প্রশাসন।

বাঙালির সংস্কৃতি থাকবে অমল দীপশিখা হয়ে,
ভাষার গৌরব উঠুক আবার অগ্নি-প্রভা বয়ে।
বাঙালির ভাষা, বাঙালির গান, বাঙালির সংস্কার—
রক্তে লেখা ইতিহাস হোক প্রজন্মের উচ্চার।


মুক্তিযুদ্ধ কেবল ইতিহাস নয়—এ জীবন্ত শপথ,
প্রতিটি প্রজন্মে জ্বলুক সে অগ্নি, হোক অটল রথ।
স্বাধীনতার চেতনা হবে রাষ্ট্রের মর্মস্থল,
যে চেতনা বিরোধী দাঁড়ায়—তার স্থান হবে বিকল।

বহুমত থাকবে, বহুপথ থাকবে, বহু দর্শনের দল,
কিন্তু জাতীয় স্বার্থে সবাই হবে একতল।
ব্যক্তির চেয়ে দল বড়—এ কথা আংশিক সত্য,
দলের চেয়ে দেশ মহান—এই চিরন্তন নিত্য।

সব নাগরিক গাইবে সোনার বাংলার গান,
লাল-সবুজ আঁকড়ে রাখবে রক্তে রঞ্জিত প্রাণ।
কেউ কণ্ঠরোধ করবে না, বাকস্বাধীনতা দীপ্ত,
কিন্তু দেশবিরোধী বিষবাষ্প হবে চিরনিষ্ক্রিয় লিপ্ত।

ওহে শুনো—
স্বাধীনতা-বিরোধীর এ মাটিতে অধিকার নাই,
অনৈতিকতার অন্ধকারে কোনো আশ্রয় নাই।
বিপ্লব মানে ধ্বংস নয়, বিপ্লব মানে নির্মাণ—
ন্যায় ও সাম্যের ভিত্তিতে গড়া এক মহান স্থান।

তুমি কি ধারণ করো অন্তরে স্বাধীন বাংলাদেশের মান?
তুমি কি রাখো মুক্তিযুদ্ধের চেতনা অবিচল প্রাণ?
যদি রাখো—তোমাকেই স্যালুট, তুমি অগ্রসেনা আজ,
তোমার শিরায় জাগুক দেশপ্রেম, বজ্র-প্রতিজ্ঞার সাজ।

জাতীয় ঐক্যে জাগুক নব অগ্নি-অভিযান,
বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গড়ি, হোক ন্যায়-প্রতিষ্ঠান।
লক্ষ শহীদের রক্তের ঋণ শোধ হবে কর্মে,
সবার আগে বাংলাদেশ—এই শপথ অন্তর্মর্মে।

প্রচণ্ড দেশপ্রেমে, প্রচণ্ড বিপ্লবী বাণীতে—
ঘোষণা করি বজ্রস্বরে, রণ-ডাকের টানেতে—
ব্যক্তি নয়, দল নয়, স্বার্থ নয় কোনো বিশেষ—
সবার আগে বাংলাদেশ, বাংলাদেশ, বাংলাদেশ!


১৬-০২-২০২৬

Sunday, February 15, 2026

সু-স্বাগতম হে নবসূর্য

 সু-স্বাগতম হে নবসূর্য

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*****************************************

সু-স্বাগতম হে নবসূর্য, অরুণ রক্তিম দীপ,
অন্ধকারে ডুবে থাকা জাতির জাগাও নীপ।
স্বাধীনতার শপথ ভাঙা ক্ষত-বিক্ষত প্রাণ,
তোমার রবি-রথে চেপে উঠুক জাগ্রত গান।

হে নবসূর্য! দূর করো যত গ্লানির ধূম্রজাল,
হিংসা-বিদ্বেষ দহন-ছাই, অপমানের জ্বাল।
লুটেরাদের রক্তচক্ষু, গুমের কালো রাত,
বজ্রকণ্ঠে ভাঙো তুমি অন্যায়ের প্রাসাদ।

প্রতিষ্ঠিত হোক জনতার অধিকার অম্লান,
গণতন্ত্রের দীপ জ্বালো প্রতিটি ঘরে প্রাণ।
রাজা-প্রজার বৈষম্যের বিষদাঁত কর ক্ষয়,
সাম্যের শঙ্খ বাজাও হে—ভয়কে করো ভয়।

বলো তুমি জনতার, বলো বজ্রহুঙ্কার,
দেশবিরোধী চক্র শোনুক রুদ্র-অগ্নিঝড়।
লাল-সবুজের অমৃতগান গাও সাম্যের তান,
বাঙালির বুকের মাঝে জ্বালো মুক্তি-ধ্যান।

বলো তুমি ফ্যাসিবাদ নও, নও জালেম শাসক,
নও অত্যাচারী রাত্রি, নও রক্ত-নির্বাসক।
দল-মত পেরিয়ে হও সকল প্রাণের ছায়া,
স্বাধীনতার অতন্দ্র প্রহরী, ন্যায়-মহিমায় মায়া।

স্বদেশ-মাতার পবিত্র শপথ রেখো মনে,
তোমার ছিল না কিছুই—দিয়েছ আপন রণে।
মুক্তির তরে দগ্ধ হলে, রক্ষার তরে জ্বালো,
আজ সে অগ্নি অমর করো ন্যায়ের শুভ্র আলো।

তুমি হেরে গেলে হেরে যায় জাতির অঙ্গীকার,
দেশবিরোধী ঘোর আঁধারে নামে সর্বনাশের ভার।
তাই শত্রুতা ভুলো হে, ঐক্যের ডাক দাও,
মুক্তির মন্ত্রে দীপ্ত শপথে আগুন-শপথ গাও।

এই যে অন্ধকার জাতি চেয়ে আছে পথ,
তোমার দিকে প্রসারিত প্রার্থনারই রথ।
শুভ্র আলো দাও নবসূর্য, দাও মুক্তির দান,
কলঙ্কহীন হোক আগামী, জাগুক নূতন প্রাণ।

দীর্ঘায়ু হও করুণাধার রবের রহমতে,
ন্যায়-ধ্বজা ওড়ে নির্ভীক শাসনের মহিমাতে।
সু-স্বাগতম হে নবসূর্য, জাগো জাগাও দেশ—
চিরউজ্জ্বল হোক ভোর, মুছে যাক সব ক্লেশ।
----------------------------------------------------


১৫-০২-২০২৬

কেন এ পরাজয়?

 কেন এ পরাজয়?

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**************************************

জাতি যখন স্বাধীনতার মন্ত্রে ঐক্যবদ্ধ,
লাল-সবুজ অগ্নিশিখা আকাশজুড়ে জ্বলে,
তখন কেন হে নেতা, তোমার শিবির নিস্তব্ধ?
কেন পরাজয়ের ঢেউ আঘাত হানে তলে?

যেখানে ছিল জনতার অটল অঙ্গীকার,
রক্তে লেখা ইতিহাস, শপথের দীপ্ত গান,
সেখানে কেন ভেঙে গেলে হঠাৎ অহংকার?
কেন হেরে গেলে তুমি বিজয়েরই প্রাঙ্গণ?

তুমি কি দেখনি অন্তরে জমা ক্ষতচিহ্ন,
অভিমানী মানুষের স্তব্ধ উচ্চারণ?
তোমার কর্মী ছিল লাগামহীন উন্মত্ত অশ্ব,
শৃঙ্খলার পথ ছেড়ে বিভ্রান্ত অভিযানে গমন।

কখনো হিংস্র হায়েনার উল্লাসী হাসি,
কখনো বিষধর সাপের নিঃশব্দ দংশন,
কখনো বিশ্বাসঘাতী অন্ধকারের ফাঁসি,
কখনো মীর জাফরের পুনর্জাগরিত স্পন্দন।

চাঁদাবাজির কালো হাত উঠেছে নির্ভয়ে,
সন্ত্রাসের ভাষা কাঁপিয়েছে পাড়া-গাঁ,
অপমানের আগুন জ্বলেছে প্রত্যহ ক্ষয়ে,
দম্ভের বিষে ভরেছে তোমাদের আসনটা।

সৌজন্যের শিখা নিভেছে ধূলির স্তূপে,
মানুষের চোখে জমেছে ক্রোধের মেঘ,
নীরব রায় লেখা হয়েছে গোপন রূপে,
ভোটের বাক্সে নেমেছে প্রতিশোধের রেখ।

তুমি ভেবেছ শক্তি কেবল স্লোগানের ঝড়,
ভেবেছ জনতা চিরদিন সহিবে অবমান,
কিন্তু মানুষ চায় ন্যায়, চায় মর্যাদার ভোর,
চায় নিরাপদ পথ, স্বচ্ছ শাসনবাণ।

অন্যায়ের ভারে নত হয়েছে পতাকা,
অহংকারে ভেঙেছে শপথের প্রাচীর,
কর্মীর দোষে ডুবেছে তোমারই নৌকা,
বিপথগামী স্রোতে হয়েছে অধীর।

এই পরাজয় আকস্মিক নয়, নয় ভাগ্যের খেলা,
দীর্ঘ অবহেলার ফল আজ দৃশ্যমান;
যে শিবিরে চরিত্রহীনতার ছিল মেলা,
সে শিবির হারায় জনগণের সম্মান।

হে নেতা, যদি চাও পুনরুত্থান,
শুদ্ধ করো কর্মী, শুদ্ধ করো প্রাণ,
স্বাধীনতার মন্ত্রে ফের গড়ো সংগঠন,
তবেই ফিরিবে তোমার হারানো সম্মান।
---------------------------------------------


১৫-০২-২০২৬

মুক্তির চেতনা কভু মরে না

 মুক্তির চেতনা কভু মরে না

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
****************************************

শুনো হে দেশদ্রোহী! শুনো হে দেশবিরোধী শকুন-দল,
মুক্তির অগ্নি নিভে না কভু—সে অমর অক্ষয় জ্বল!
যে অর্জন রণাঙ্গনে রক্তে লেখা ইতিহাস,
যে অর্জন মা-বোনের অশ্রুতে পবিত্র বিশ্বাস—
সে চেতনা কভু মরে না, সে জাগে বজ্রগর্জনে,
সে জাগে প্রলয়-ডাকে, অগ্নি-শপথের সর্জনে!

যে পতাকা রক্ত-রাঙা, তাজা প্রাণের দান,
সে পতাকা নত হয় না কভু অত্যাচারী শ্মশান।
সে লাল-সবুজ দীপ্যমান শহীদের রক্তধারায়,
সে জ্বলে সূর্যসম প্রখর মুক্তির অহংকারায়।

আমি স্বাধীনতার উত্তরসূরী, শপথে দীপ্ত প্রাণ,
আমি প্রলঙ্করী বিদ্রোহ-সুর, আমি অগ্নি-বাণ!
আমি বিপ্লবী চেতনার সন্তান, রণতূর্য ধ্বনি,
আমি মুক্তিযোদ্ধার উত্তরাধিকার—অবিনাশী ধনী!

আমি এ যুদ্ধের ধারক-বাহক, ইতিহাসের কণ্ঠ,
আমি লাল-সবুজ পতাকার প্রহরী, অমিত শক্ত!
এ মাটিতে জাগতে পারবে না কভু দোসর-দল,
দেশদ্রোহীর চেলা-চামুণ্ডা হবে চূর্ণ-বিচূর্ণ টলমল!

জনতার রায় অক্ষয়, সে রায় বজ্রসম দৃঢ়,
স্বাধীনতার পক্ষে সে শপথ অটল, অমোঘ, অক্ষর।
যত শকুন ওঁত পেতে থাক, আঁধারে যতই হাসুক,
জনতার ঝড়ে তারা পরাভূত হোক, ভস্মে নাশুক!

কেয়ামত পর্যন্ত এই শপথ অম্লান রবে,
জনতার ভোট স্বাধীনতার পক্ষে অটুট থাকবে।
মুক্তির চেতনা কভু মরে না—সে অগ্নি-উদ্ভাস,
বাংলার বুকে সে চিরঞ্জীব, সে চির-উল্লাস!
-------------------------------------------------------


১৫-০২-২০২৬

বসন্তের প্রভাত

 বসন্তের প্রভাত

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*************************************

বসন্তের প্রভাতে রঙিন রৌদ্র ঝরে ধীরে,
স্বর্ণালি আলোর মালা পরে ধরণী হাসে নীরে।
পলাশ জ্বালে অগ্নিশিখা দিগন্ত-জুড়া বনে,
শিমুল-রাঙা স্বপ্ন জাগে কিশোরী আকাশ-তনে।

কোকিল কণ্ঠে ব্যাকুল সুর—“এসো প্রিয়, এসো”,
মধুবায়ুতে দোলে প্রেম, হৃদয় কাঁপে রেশে।
বকুল-চাঁপার গন্ধ ভাসে অবগুণ্ঠিত ঘ্রাণে,
রৌদ্র যেন চুম্বন আঁকে কুসুমেরই টানে।

সবুজ পাতায় রোদের নাচন সোনালি ঝংকার,
নীল গগনে ভাসে মেঘের তুলোর মত আদর।
বাংলার এই বসন্ত-ভোরে মাটির দেহে শিহরণ,
নদীর জলে প্রেমের ভাষা, ঢেউয়ে গোপন স্পন্দন।

তোমার চোখে বসন্ত নামে কিশলয়ের ছায়া,
ঠোঁটে ফোটে কুসুম-হাসি, রঙিন মায়ার মায়া।
হাতে হাত রেখে হাঁটি আমরা শিউলি-পথের শেষে,
বাতাস এসে চুলে লিখে অঙ্গীকারের দেশে।

তোমার কানে কোকিল ডাকে মধুর আকুলতায়,
আমার বুকে দোলে ঢেউ অশ্রুমাখা প্রার্থনায়।
প্রেম যেন এ ঋতুর মত নবজাগ্রত প্রাণ,
রাঙা পলাশ-শিমুল হয়ে জ্বলে অনিবার্য ত্রাণ।

বসন্ত মানে হৃদয়-দ্বারে উন্মুক্ত আলাপন,
দুইটি প্রাণের নিভৃত সুরে গোপন সমর্পণ।
প্রকৃতির এই নৈঃস্বর্গে প্রেম পায় পূর্ণতা—
বাংলার বসন্ত-প্রভাত—চির রোমান্টিক ব্যাকুলতা।
----------------------------------------------------


১৫-০২-২০২৬

তোমাকে স্যালুট হে মুক্তিযুদ্ধের কবি

 তোমাকে স্যালুট হে মুক্তিযুদ্ধের কবি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**********************************************
তোমাকে স্যালুট হে মুক্তিযুদ্ধের কবি,
বিদ্রোহের আগুনে তুমি আলোকিত প্রতিভা।
বীরত্বের রূপসী ছন্দে বাজে চিরন্তন গান,
লাল-সবুজের রক্তে সেজে ওঠে দেশের মান।

নিঃসন্দেহ সাহসে তুমি রাজনীতির সাহিত্য,
মাতৃভূমির প্রেমে জ্বলে হৃদয় অমল দীপ্তি।
শহীদদের রক্তে লেখা তোমার বীরত্বগাথা,
মায়ের আর্তচিৎকারে ছাপিয়ে যায় সম্ভ্রমের পথচিহ্ন।

অঙ্গীকার দৃঢ়, বজ্র কণ্ঠে তুমি ডাকো,
আপোষহীন প্রহরী লাল-সবুজের রূপকার।
প্রজন্মের চেতনায় জাগ্রত তুমি চিরকাল,
স্বাধীনতার পক্ষে শক্তি তোমার অপরাজেয় ভঙ্গিমা।

প্রতিটি ফুল—শ্যামল শিমুল, পলাশ, বকুল,
ভেসে ওঠে লাল-সবুজের দীপ্ত আভা।
একটি দেশের হৃদয়, শহীদদের রক্তে রাঙানো,
বীরত্ত্বের চির উপমা তুমি প্রজন্মের চোখে উজ্জ্বল মান।

অভিমানের শিখা জ্বলে লাল-সবুজের প্রতীকে,
একতার ছায়ায় স্বাধীনতার দীপ্তি জাগ্রত হোক দিকতে।
তোমাকে স্যালুট হে মুক্তিযুদ্ধের কবি,
বীরযোদ্ধা ফজলুর রহমান, চিরন্তন বীরত্বে অমলিন ছবি।
--------------------------------------------------


১৫-০২-২০২৬

ভাওয়াল রত্ন

 ভাওয়াল রত্ন

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**************************************


ভাওয়ালের গড়ে জন্মে, জ্ঞানের দীপশিখা জ্বলে,
জনাব নুরুল ইসলাম , জ্ঞানভুবন ঢলে।
প্রধান শিক্ষক, সাহিত্যিক, ইংরেজীর পন্ডিত,
অনলবর্ষী বক্তা, মননশীল প্রতিভাবিত।

গাজীপুরের মাঠে, সবুজ চত্ত্বরে খেলে,
ক্ষণজন্মা জ্ঞানের দীপ, অমৃতস্বরূপ বেলি।
কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ, ভাষার পূর্ণ ভাণ্ডার,
উপমা, দর্শন, সৌন্দর্য—সকলের অন্তরে বেয়ার।

অবদান তাঁর গভীর, ইতিহাসে লিখিত রেখা,
শিক্ষার আলো ছড়িয়ে, অন্ধকার ভেদে মেখা।
আজ নেই তিনি, কিন্তু কৃতিত্ব প্রবাহমান,
মহান রবের দরবারে করি প্রার্থনা ধ্রুবমান।

জান্নাতুল ফেরদৌস হোক তার শান্তির ঠিকানা,
স্মৃতির চিরস্রোতে ভাসে তাঁর গৌরবের ব্যথা।
ভাওয়ালের রত্ন, গাজীপুরের গর্বের প্রাণ,
আবেগে, গানে, কবিতায়—চিরন্তন স্মৃতির মান।

অন্তরবৃত্তে বাঁধা, শ্রদ্ধা ও শ্রেষ্ঠত্বের ধ্বনি,
পাঠক বিমোহিত হয়, হৃদয়ে জ্বলে অম্লাননি।
শোক আর গর্ব মিলিয়ে, স্মৃতির অমল নদীতে,
জনাব নুরুল ইসলাম , গাজীপুরের চিরন্তন বীটে।
-----------------------------------------------


১৫-০২-২০২৬

আত্মা শুদ্ধি করো হে মুমিন

 আত্মা শুদ্ধি করো হে মুমিন


কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**************************************

আত্মা শুদ্ধি করো হে মুমিন, জাগো রে অন্তর,
গুনাহের কালো মেঘে ঢেকো না আর ঘর।
তওবার জলে ধুয়ে ফেল পাপের কালিমা,
রহমতের দুয়ার খোলা— ডাকে করিমা।

শোনো ঐ বাণী, নূরের আহ্বান,
আল-কুরআন দেয় মুক্তির জ্ঞান।
“কদ আফলাহা মান জাক্কাহা”— পবিত্র যার প্রাণ,
সফল তার জীবনপথ, উজ্জ্বল তার মান।

বলেছেন মুহাম্মদ নবী, হেদায়াত-সূর্য মহান—
“দেহে আছে একখণ্ড মাংস, শুদ্ধ হলে শুদ্ধ প্রাণ।”
হৃদয় যদি পবিত্র হয়, পবিত্র সারা দেহ,
নফসের আগুন নিভাও তবে, জ্বালো ঈমান-দেহ।

হে মুমিন! ভাঙো শয়তানের শৃঙ্খল,
তাকওয়ার তরবারি ধরো, হও নির্ভীক বল।
নামাজে খুঁজো শান্তির নীল আকাশ,
সেজদার কান্নায় মুছে যাক হতাশ।

যিকিরে জাগাও ঘুমন্ত প্রাণ,
সবরের সোপানে ওঠো অবিরাম।
যাকাত-সদকা দাও, ভাঙো লোভের বাঁধ,
মানব সেবায় খুঁজে নাও রবেরই সাধ।

আত্মা শুদ্ধি করো হে মুমিন, এ জীবন ক্ষণিক,
দুনিয়ার মোহে থেকো না আর অধিক।
কবরের আঁধার স্মরণে রাখো,
আমলের প্রদীপ জ্বেলে রাখো।

এসো, হৃদয় করি নূর-উদ্যান,
রহমতের ছায়ায় হোক অবসান।
আত্মা শুদ্ধি করো হে মুমিন, আজই করো শুরু—
পবিত্র প্রাণেই মিলবে রবের নূর।
------------------------------------------------


১৫-০২-২০২৬

কবুল করো হে মুনাজাত

 কবুল করো হে মুনাজাত


কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**************************************

কবুল করো হে মুনাজাত, তুলি দুটি হাত,
আরশ পানে কাঁদি প্রভু, শোনো মনের অভিপ্রেত।
গুনাহভারে নত এ প্রাণ, ভাঙে অন্তর-সুর,
রহমতের বাদল ঝরাও, দাও ক্ষমার নূর।

ডাকি তোমায় হে রহমান, হে রহিম মহান,
অশ্রু ভেজা সেজদাতে করি নিবেদন।
বলেছ তুমি আল-কুরআন-এর বাণী,
“উদ‘উনী আস্তাজিব লাকুম”— ডাকে দাও তুমি ধ্বনি।

হে দয়াময়! আঁধার রাতে জ্বালো হেদায়াত,
পাপের শৃঙ্খল কাটাও প্রভু, দাও নাজাত।
দুনিয়ার মোহে হারাই যতবার,
তোমারি দয়া টানে ফিরে বারংবার।

শিখিয়েছেন মুহাম্মদ নবী করীম,
দোয়া হল ইবাদতের রূহ, মুমিনের নসীম।
অশ্রু যেখানে ঝরে ভোরের নীরবতায়,
রহমতের ফেরেশতা নামে সেই প্রার্থনায়।

হে রব! তুমি গফ্ফার, তুমি সাত্তার,
ঢেকে দাও লজ্জা, করো না অপমান আর।
ভাঙা এ হৃদয় নাও তোমার তরে,
তোমারই প্রেমে জ্বলুক অন্তরে।

কবুল করো হে মুনাজাত, দাও অন্তর-শান্তি,
পবিত্র করো আত্মা, ঘুচাও সব ক্লান্তি।
যেন শেষ নিশ্বাসে থাকে তোমারই নাম—
“লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ”— চিরন্তন সালাম।
-----------------------------------------------


১৫-০২-২০২৬

স্বাগতম হে সিয়াম

 স্বাগতম হে সিয়াম


কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর
*******************************************

স্বাগতম হে সিয়াম, মাহে রমজান এল,
নূরের নিশান হাতে তুই দিগন্ত জুড়ে খেল।
রহমতের বাদল ঝরে, মাগফিরাতের বান,
জাহান্নামের দ্বার রুদ্ধ— খোলে জান্নাত-স্থান।

হে মাস, তোর বুকে নেমে এল ঐশী বাণী,
আল-কুরআন জ্বালাল আলো, ঘুচাল প্রাণের হানি।
শাহরু রামাদান— হেদায়াতের দীপ,
সত্য-মিথ্যা ফুরকান করে দিল পথ সুদীপ।

বলেছে মুহাম্মদ— “সিয়াম ঢালসম”,
ঈমান নিয়ে যে রাখে, পায় পুরস্কার অম্লান।
গুনাহ ঝরে শিশির-ধারা তওবার অশ্রুজল,
রোজাদারের মুখের গন্ধ মিশকেরও চেয়ে ভাল।

লাইলাতুল কদর— সে রজনী মহীয়ান,
হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ তার দান।
ফেরেশতা নামে নূর-ডানা মেলে,
আরশ কাঁপে দোয়ার সুরে কাঁদে বান্দা একেলে।

ক্ষুধার তাপে জ্বলে ওঠে বিবেকের প্রদীপ,
গরিবের হাহাকার শুনে কাঁপে অন্তর-দীপ।
যাকাত-সদকা ঢালে হৃদয় সাগর-ঢেউ,
ভ্রাতৃত্বের ডাক তোলে— “এসো মানব নও!”

হে সিয়াম! তুই আত্মার মহা-বিপ্লব,
নফসের শিকল ছিঁড়ে দে, কর ইমান দৃঢ়।
স্বাগতম হে সিয়াম, আল্লাহর রহমত,
তোর ছোঁয়ায় জাগুক প্রাণে তাকওয়ার মহিমাত।

এসো তবে কাঁদি সবে সেজদারই তলে,
পাপের কালিমা ধুই তওবার অশ্রুজলে।
স্বাগতম হে সিয়াম, মাহে রমজান মহান—
তোরি তরে জাগুক আবার ইসলামের গান।
---------------------------------------------------


১৫-০২-২০২৬

Tuesday, February 10, 2026

আমি তোমাদের কণ্ঠ হতে এসেছি

 আমি তোমাদের কণ্ঠ হতে এসেছি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************************

আমি তোমাদের কণ্ঠ হতে এসেছি—শোনো জনতার গান,
শত নিঃশ্বাসে জমে থাকা আগুনেরই উল্লাসমান।
যে দুঃখ নীরব বুকের তলে চাপা পড়ে কাঁদে রোজ,
সে কান্নাকে বজ্র করেছি, ভাঙতে মিথ্যার খোঁজ।

আমি এসেছি বলি সত্য—ভয়ের কাছে নই নত,
অন্যায়ের সাথে আপস মানে আত্মারই হত্যাকত।
স্বৈরতন্ত্র, ফ্যাসিবাদ, মবের উন্মত্ত দাঁত,
ভয়তন্ত্রের কালো থাবা চুষে খায় জনতার রাত।

আমি তার বিরুদ্ধে ঝড়, আমি তার বিরুদ্ধে রুদ্রমূর্তি,
অগ্নিশিখা শিরায় বয়ে—বিদ্রোহ আমার তৃপ্তি।
আমি বলি—এ দেশ স্বাধীন, স্বাধীন আমার শ্বাস,
কারো দয়ার দাস নই আমি, অধিকারই আমার আশ্বাস।

আমি বৈষম্যের শত্রু, আমি সাম্যের অগ্নিবীণা,
ক্ষুধার্ত ঘরে রুটির গান, ন্যায়ের উজ্জ্বল দীপশিখা।
যে হাত ঘামে ভিজে গড়ে পথ, গড়ে সভ্যতার ঘর,
সে হাতই হোক রাষ্ট্রের মুকুট, রাজপথের উপর।

আমি বলি—দেশদ্রোহী সে, যে বিকায় মানুষের ঘাম,
যে সত্যকে শেকলে বাঁধে, যে মুছে দেয় ন্যায়ের নাম।
আমি তার অগ্নিবারুদ, আমি তার দুঃস্বপ্ন রাত,
জনতার জাগ্রত চোখে আমি অমোঘ প্রতিঘাত।

আমি বলি—আর নয় শোষণ, আর নয় নীরব ভয়,
মিথ্যার মুকুট ছিঁড়ে ফেলো, সত্য হোক পরিচয়।
হুলিয়া, জুলুম, অত্যাচার—সব ইতিহাসে ছাই,
মানুষ হোক মানুষের ভাই—এই আমার দোহাই।

বিপ্লবীর বজ্রকণ্ঠ আমি ধার করেছি বুকের ভেতর,
বিদ্রোহ আমার ইবাদত, বিদ্রোহই আমার উত্তর।
আমি গাই সাম্যের গান, আমি শপথের আগুন,
জনতার শক্তি জাগুক আজ—ভাঙুক শোষণের কুন।

শোনো, হে শাসনের অন্ধকার! শোনো, হে পাথরপ্রাণ!
আমি তোমাদের কণ্ঠ হয়ে উঠেছি—অদম্য, অমান।
যত বৈষম্য, যত অন্যায়—সবের বিরুদ্ধে এক,
আমি তোমাদের কণ্ঠ হতে এসেছি—আমি জনতার ডাক।
----------------------------------------------


১০-০২-২০২৬

আমার ভোট হউক

 আমার ভোট হউক

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর
************************************

ওহে শুনো, আমি বাঙালি, আমি বাংলাদেশী বুকে,
মুক্তিযোদ্ধার উত্তরসূরী, হৃদয় লাল-সবুজ এঁকে।।
মুক্তিযুদ্ধের বীরের চেতনা আমার রক্তে বয়ে,
তাই ঘৃণা করি আমি ওইসব শকুন এ ধরালয়ে।


আমার ভোট হউক স্বাধীন দেশের জন্য, মুক্তির জন্য,
বিরোধীদের বিরুদ্ধে, যারা দেশের শত্রু, চির ঘৃণ্য।
স্বৈরতন্ত্র, মবতন্ত্র, ভয়তন্ত্র, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে,
লুটকারী, সিন্ডিকেট, গোলামী—ভাঙবো আমি সব ভোটযুদ্ধে।

অসাম্প্রদায়িক চেতনার পক্ষে আমার কলম,
জঙ্গীবাদ, ধর্মান্ধ, মুনাফিকের বিপক্ষে আমার বলম।
সুশাসন চাই, ন্যায়ভিত্তিক শাসন চাই,
গণতন্ত্রের অধিকার, বাক স্বাধীনতা ছাড়া পথ নাই।

ভোটাধিকার আমার হাতে, আমার দেশ আমার গর্ব,
স্বাধীন বাংলাদেশে যেন ওঠে সত্যের চর্চার পর্ব।
লাল-সবুজের পতাকা উড়ুক উঁচু আকাশে,
বিপ্লবী চেতনায় ভরে উঠুক প্রতিটি মানুষে।

আমি বাঙালি, আমি বাংলাদেশী, গর্বিত হৃদয় মিশে থাকে,
স্বপ্নে, চেতনায়, ইতিহাসে—মুক্তির আলো ছড়ায় সাঁকে।
প্রতিটি নীল আকাশে বাজে স্বাধীনতার শঙ্খ,
আমি বাঙালি, আমি বাংলাদেশী, দেশপ্রেমে ভাসে অমলঙ্ক।

ওহে শুনো, তাই আমার ভোট হউক স্বাধীনতার পক্ষে,
তোমার ভোট ও হউক লাল সবুজ জড়ায়ে স্পন্দিত বক্ষে।
-------------------------------------------------------------


১০-০২-২০২৬

শহীদের রক্ত ভেজা মাটিতে

 শহীদের রক্ত ভেজা মাটিতে

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
***********************************************
লাল সবুজ ফুল ফোটে স্বাধীনতার বাগানে,
জাগো হে কান্ডারী, রক্ষা কর চিরন্তন প্রাণে।
শহীদ রক্তে ভেজা মাটি আমাদের অমল ধ্বনি,
চিরকাল বাঁচুক দেশ, মুক্তি পাক অমল আঁধনি।

শহীদ রক্তে ভেজা মাটি লাল সবুজে ফোটা,
পিপাসু হানাদারের নৃশংসে মা বোনের রোটা।
মীর জাফরের রক্তধারা ভুলতে চায় শহর গঞ্জ পথ,
বিশ্বাসঘাতকের মহড়া থামে না, শকুন চেপে রাখে শক্ত।

লাল সবুজ ফুলের পাঁপড়ি খসে যায় অন্ধকারে,
দেশবিরোধী কীটপতঙ্গ থাবায় মরে হাহাকারেঃ।
বাগানের প্রহরী বোঝে না স্বাধীনতার মর্মবোধ,
পরাধীনতার ঘনঘটা আজও চিত্তে ঘনিয়ে অসহায় মোড।

স্বৈরতন্ত্র, ফ্যাসিবাদ, লুটতন্ত্র, ভয়তন্ত্র, মবতন্ত্র,
অরাজকতা, বিচারহীনতা ফেরে আজ আসামীদের পত্র।
মুক্তিযোদ্ধা কারারুদ্ধ, কবির কবিতা নিঃশব্দ,
শিল্পীর গান, সাহিত্য অক্ষরহীন হয়ে যায় অব্যক্ত।

বাঙালি সংস্কৃতি শশ্মানে, উর্দুর গান বাজে মিনারে,
স্বাধীনতার স্তম্ভগুলো ধূলিতে মিশে ধ্বংসের তালে।
দেশদ্রোহীর উন্মাদনায় জ্ঞানী গুনিজন অপদস্ত,
স্বাধীন কাননের লাল সবুজ ফুল আজ অসহায় হস্ত।

লাল সবুজ ফুল ফোটে স্বাধীনতার বাগানে,
জাগো হে কান্ডারী, রক্ষা কর চিরন্তন প্রাণে।
শহীদ রক্তে ভেজা মাটি আমাদের অমল ধ্বনি,
চিরকাল বাঁচুক দেশ, মুক্তি পাক অমল আঁধনি।
-------------------------------------------------


১০-০২-২০২৬

Monday, February 9, 2026

বজ্র কণ্ঠে বলো হে কবি

 বজ্র কণ্ঠে বলো হে কবি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
******************************************

বজ্র কণ্ঠে বলো হে কবি—এই ভূমি রক্তে আঁকা,
লক্ষ শহীদের বুকের আগুনে স্বাধীনতার শপথ ঝাঁকা।
মা–বোনের লাঞ্ছিত অশ্রুতে ধুয়ে গেছে শত নদীর জল,
পদ্মা-মেঘনা-যমুনা বহে রক্তিম ইতিহাসের ঢল।

শহীদের রক্তে মাখা বর্ণে জেগেছে বাংলা ভাষা,
গুলির মুখে উচ্চারিত সে অমর অক্ষরের আশা।
সংগ্রামের বজ্রনিনাদে লাল-সবুজ পতাকা উড়ে,
অগণিত যুদ্ধের স্তম্ভে গর্বিত বাংলাদেশ দাঁড়ে।

পথে-ঘাটে, প্রান্তরে বাজে শহীদ গাজীর ডাক,
বধ্যভূমি, স্মৃতিসৌধে জ্বলছে অম্লান রক্তচাক।
এই দেশ অসাম্প্রদায়িক—শুনো হে কুটিল মন,
মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান—একই মায়ের সন্তান।

পাহাড়-সমতল, উঁচু-নীচু—সব ভূমি বাঙালির,
এই মাটিতে জন্ম স্বাধীন, মাথা নত নয় কারওর।
দেশদ্রোহী, স্বাধীনতা-ঘাতী—নেই তাদের ঠাঁই,
বাংলার বুকে বিষবীজ বুনতে দেব না আর তাই।

জঙ্গিবাদ, উগ্রবাদ, সিন্ডিকেটের কালো ছায়া,
বিদ্রোহী জনতার ঝড়ে হবে ধূলিসাৎ মায়া।
আমরা সবাই স্বাধীন বাংলার মুক্ত মানুষের দল,
“আমার সোনার বাংলা” গেয়ে ভাঙি শৃঙ্খল-জাল।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বলীয়ান আমাদের শিরা,
অশুভশক্তি ধ্বংসে আমরা শহীদ গাজীর উত্তরাধিকার।
জাগো হে, জাগো হে বাঙালি—বজ্র হাতে তোলো অস্ত্র,
স্বাধীনতা-বিরোধী অশুভ চক্র করো চূর্ণ-বিধ্বস্ত।

তীব্র হোক বিপ্লবের সুর, ঝংকারে ভাঙুক রাত,
যোদ্ধার আগুনে জ্বলো—বাংলা হোক অপ্রমাদ।
---------------------------------------------------


০৯-০২-২০২৬

আমি চিনতে পারিনি

 আমি চিনতে পারিনি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************************
আমি চিনতে পারিনি পৃথিবীর প্রেম-বৈচিত্র্য রূপ,
ভালবাসার হাজার মুখে লুকানো অদৃশ্য কূপ।
চিনতে পারিনি মানবতার শ্রেণীভেদী দেয়াল,
মানুষের মাঝে মানুষে কেন এত ব্যবধান জাল।

চিনতে পারিনি বন্ধুত্বের সত্য-মিথ্যার দাগ,
বন্ধু বলে ডাকলেও অন্তরে জমে থাকা ফাঁক।
চিনতে পারিনি প্রেমিক-প্রেমিকার প্রেমের ভাষা,
কথার আড়ালে কাঁদে যে হৃদয়ের নিঃশব্দ পিয়াসা।

চিনতে পারিনি দেশ-নেতৃত্বের আদর্শ-চিহ্ন,
ক্ষমতার মুকুটে ঢাকা নীতির ভাঙা নীল সিংহাসন।
চিনতে পারিনি দেশপ্রেমিকের নিখাদ প্রেম,
কে আত্মত্যাগী, কে শুধু শ্লোগানে বন্দী নাম-সেম।

চিনতে পারিনি প্রেমিকার হাসির রহস্য-ঢেউ,
হাসির ভেতর কতটা কান্না লুকিয়ে থাকে যে কেহ।
চিনতে পারিনি পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্রের রং,
মুখে নীতির গল্প, কাজে অন্যায় ভিন্ন ঢং।

কে হক, কে বাতিল—এই প্রশ্নে ভেঙে যায় মন,
সবাই সত্যের দাবিদার, তবু সত্য থাকে গোপন।
কে সত্য, কে মিথ্যা—চেনার নেই যে দিশা,
আলোয় ঢাকা মিথ্যাই যেন সবচেয়ে উজ্জ্বল ভাষা।

মনে হয় কেন জানি ইতিহাসের অভিশাপ,
মীর জাফরের রক্তধারা বহে রন্ধ্রে রন্ধ্রে নিঃশ্বাস-তাপ।
বিশ্বাসঘাতকের ছায়া অবলীলায় করে বাস,
বাঙালির অন্তঃস্রোতে নীরব বিষাক্ত শ্বাস।

আমি চিনতে পারিনি স্বদেশপ্রেমিকের দল,
কে দেশকে ভালোবাসে, কে চায় কেবল ফল।
চিনতে পারিনি ধর্মপ্রচারকের মর্মভেদী গান,
ইবাদতের আড়ালে লুকানো বিভেদের তীর-ধান।

চিনতে পারিনি ধর্মীয় উগ্রতার কালো মুখ,
যেখানে ঈশ্বরের নামে জ্বলে মানুষের দুঃখ।
চিনতে পারিনি অসাম্প্রদায়িক চেতনার মানে,
সহাবস্থানের সৌন্দর্য যে কত গভীর প্রাণে।

আমি এখনো মূর্খ—এই স্বীকারোক্তি সত্য,
জ্ঞান ভেবে যা আঁকড়ে ধরি, তা-ই সবচেয়ে অপ্রত্যয়।
বুঝতে পারি না কবিতা অর্থ আসলে কী,
শব্দ না কি দায়, নাকি বিবেকের নগ্ন আর্তি?

বুঝতে পারি না বাঙালি সংস্কৃতি কোন সুর,
লোকগানের মাটি, না কি নকল জৌলুসের নূর।
বুঝতে পারি না মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মানে,
রক্তের ঋণ কি শুধু মঞ্চের বক্তৃতার টানে?

কি রহস্যে ঘেরা এই বাঙালি জাতি,
হাসে-কাঁদে একসাথে, তবু ভাঙে প্রতি রাতি।
স্বাধীন হয়েছি বটে, স্বাধীনতা বুঝিনা আজ,
শৃঙ্খল ভাঙার ভাষা ভুলে শিখেছি কেবল সাজ।

শুধু মিথ্যার শ্লোগান দিতে আমরা বড়ই পারদর্শী,
সত্যের ভার বইতে গেলে হয় অস্বস্তি, হয় হিংস্রতা-দর্শী।
তবু এই না-চেনার বেদনা থেকেই প্রশ্ন জাগে,
অজ্ঞানতার অন্ধকারেই কি আলোর জন্ম লাগে?

আমি চিনতে পারিনি—এই স্বীকারে আছে বীজ,
হয়তো একদিন চিনব, ভাঙব মিথ্যার রঙিন ফ্রিজ।
যে দিন প্রশ্ন করতে শিখব, ভয় ছাড়িয়ে মন,
সেই দিনই হয়তো কবিতা হবে মানুষের জীবন।
------------------------------------------------------


০৯-০২-২০২৬

আমি এক গোধূলী সূর্য

 আমি এক গোধূলী সূর্য

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
****************************************

আমি এক গোধূলী সূর্য আজ, অস্তের পথে দাঁড়িয়ে,
সামনে অনন্ত সফর ডাকে, হিসাবের মাঠ ছড়িয়ে।
হে পৃথিবীর প্রাণ, শোনো আজ অন্তরের ভাষা,
আমার মতো তুমিও একদিন হবে গোধূলীর আশা।

আমি এক গোধূলী সূর্য আজ, আলো শেষের প্রান্তে,
রূহ কাঁপে আয়াতের ভয়ে—“ফিরে এসো রবের কাছে।”

চুল ঝরে গেছে, দাড়ি সাদা, শক্তি গেছে ক্ষয়,
চামড়ার ভাঁজে লেখা পড়ে—সময় বড় নির্ময়।
আর কেউ ডাকে না যুবক বলে, না ডাকে স্নেহভরে,
নামটা পড়ে ধূলোর নিচে, বিস্মৃতির অন্ধ ঘরে।

নেতৃত্বের ডাক থেমে গেছে, নীরব সমাজ-রাষ্ট্র,
আমি আজ যেন অদৃশ্য মানুষ—চলমান এক শ্মশান-বাস্ত।

গোধূলী রঙে ডুবে যাচ্ছে আকাশ-পাতাল-ধূলি,
মাগরিব ডাকে কানে কানে—সময় ফুরায় কুলি।
সোনালি হয় দিগন্তরেখা, কাঁপে অন্তর-প্রাণ,
তবে কি আজ মালাকুল মউত রাখে আমার নাম?

“কুল্লু নাফসিন”—এই সত্যে থেমে যায় অহংকার,
জীবন যে ধার করা শ্বাস—ভুলে ছিলাম বারবার।

কোথায় গেল অবুঝ শিশুকাল, মায়ের কোলে ঘুম?
কোথায় কিশোর দুরন্ত দিন, চোখে আগুন-ধূম?
যৌবনের সে উদ্দাম ঢেউ, দম্ভ আর উল্লাস,
আজ সব স্মৃতি কবর নিলো—রইলো শুধু নিঃশ্বাস।

কোথায় সে স্ত্রী, সন্তানের ডাক, “বাবা” বলা মুখ?
কোথায় সে প্রেমিক হৃদয়ের উথাল-পাতাল সুখ?

এই দুনিয়া বড় ক্ষণিক, ছায়ার মতো মায়া,
প্রেম-ভালবাসা, মমতা সব—পরীক্ষারই ছায়া।
যা কিছু ছিল আপন ভেবে, আজ সবই পর,
শুধু আমল সঙ্গী হবে—কবর থেকে হাশর।

হে রব, অস্তের আগে দাও তাওবা করার শক্তি,
ভাঙা প্রাণ জোড়া লাগিয়ে দাও ইমানের ভক্তি।

আমি এক গোধূলী সূর্য আজ, অস্তের পথে দাঁড়িয়ে,
যেন অস্তের মাঝেই জ্বলে উঠি—রহমতের আলো হয়ে।
-----------------------------------------------------


০৯-০২-২০২৬

Sunday, February 8, 2026

একুশের কাঠগড়ায় আমরা

 একুশের কাঠগড়ায় আমরা

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
****************************************

যে ভাষার তরে বুক পেতে দিয়েছিলাম,
ঘাতক বুলেটের মুখে দাঁড়িয়ে নির্ভীক,
সে ভাষার ঋণ কি শোধ হলো এত সহজে?
নাকি আমরা হলাম স্মৃতিভ্রষ্ট, অকৃতজ্ঞ, নীরব।

রক্তে লেখা বর্ণমালা, শহীদের স্বাক্ষর,
সালাম–বরকত–রফিকের জ্বলন্ত নাম,
সে নাম কি আজ কেবল পুষ্পস্তবকে?
নাকি হৃদয় থেকে মুছে গেল সম্মান?

এ প্রজন্ম কি জানে ইতিহাসের দাম?
জানে কি একুশ মানে মাথা নত না করা?
নাকি সুবিধার ভিড়ে ভুলে গেছে সব,
ভাষার মর্যাদা বিকিয়েছে সস্তা সুরে?

শহীদ মিনারের পাদদেশে বাজে উর্দু গান,
ভাষার মাসে—এ কোন লজ্জার অধ্যায়?
মাইকের শব্দে কাঁপে শহীদের কবর,
প্রশাসন নীরব—এই নীরবতাই অপরাধ।

বিশ্ব জানে—আমরাই একমাত্র জাতি,
মাতৃভাষার তরে দিয়েছি রক্ত,
সে রক্তে জন্ম নিয়েছে আন্তর্জাতিক দিবস,
আর আমরা আজ সেই দিবসে উদাসীন।

তবে কি আমরা মীর জাফর হয়ে গেছি?
স্বার্থের কাছে বিক্রি করেছি ইতিহাস?
যে জাতি ভাষার জন্য জীবন দিয়েছিল,
সে জাতিই কি আজ ভাষার পাহারাদার নয়?

ও একুশ, ক্ষমা করো আমাদের ব্যর্থতা,
ক্ষমা করো আমাদের ভুলে যাওয়া,
তোমার রক্তে লেখা শপথ আবার জাগুক,
বাংলা বাঁচুক—এই হোক প্রতিজ্ঞা।

যতদিন বাংলা আছে প্রাণে ও কথায়,
ততদিন একুশ থাকবে অম্লান,
শহীদের ঋণ শোধ হবে না কেবল ফুলে,
শোধ হবে ভাষার মর্যাদা রক্ষায়।
-----------------------------------------------------


০৮-০২-২০২৬

Thursday, February 5, 2026

কল্লু নাফসি যাইকাতুল মাউথ

 কল্লু নাফসি যাইকাতুল মাউথ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
****************************************

কল্লু নাফসি যাইকাতুল মাউথ—আল্লাহর হাঁক,
আরশ কাঁপে, লওহ কাঁপে, কেঁপে ওঠে পাক।

দুনিয়া ফানী, ক্ষণিক ছায়া, সরাবের ঘোর,
এক আল্লাহ বাকী—বাকি সব মিথ্যার ডোর।

নাফস বলে “ভোগ কর”, কবর বলে “থাম”,
আজ যে সিংহাসন, কাল সে-ই অন্ধকার নাম।

আজান যখন ফজরে ফাটে আসমান-সিনা,
ঘুমে যারা ডুবে থাকে—তারা মৃত বিনা।

দেহ যে মাটি, রূহ যে বন্দী—আজব কারাগার,
মালিক ডাকলে খুলে যাবে কবরে সব দ্বার।

হাশরের মাঠে পা কাঁপাবে সূর্যের আগুন,
মাথার ঘামে ডুববে অহং, শুকাবে না রক্তরুণ।

পিতাও বলবে “নাফসি নাফসি”, সন্তানও ভয়,
সেদিন শুধু আমল হবে তোর একমাত্র সয়।

নামাজ ছিল? চোখের পানি? জিকিরের দাগ?
নাকি নাফসের বাজারে তুই বিকিয়ে দিলি পাক?

মাউথ কি শেষ? না—সে শুরু ভীষণ বিচার,
জান্নাত-জাহান্নাম ডাকে—ভয়ংকর অধিকার।

বিদ্রোহী ইশ্কে কাঁদি এ গজল, সিজদার তলে,
মৃত্যু নয় শেষ—হিসাব শুরু রবের ডাকে।
-------------------------------------------


০৫-০২-২০২৬

ঈমানের ধ্বনি

 ঈমানের ধ্বনি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান েমাল্লা
রাওনাট,াকপাসিয়া,গাজীপুর
*************************************

বল আল্লাহ এক, অনন্য, অদ্বিতীয়
সত্তা গুণ শক্তিতে তিনি এককীয়
সমদ তিনি, সবার চির আশ্রয়স্থল
সৃষ্টির সকল চাহিদা মেটে সফল

তিনি জন্ম দেন না, নেননি জন্মও
সময়-সীমা তাঁকে বাঁধে না কখনো
আদি অন্তহীন তিনি, চির অবিনশ্বর
নূরের সাগর, সত্যে তিনি চির ভাস্বর

কেউ নয় সমকক্ষ তাঁর সত্তার পাশে
রূপে গুণে শক্তিতে তুলনা নাশে
আকাশ জমিন চলে তাঁরই হুকুমে
নিয়ম ভাঙে না কিছু তাঁর শাসনে

এই সূরাই তাওহিদ, ঈমানের ধ্বনি
একত্বে ভাঙে বহুত্ব—শিরক ধ্বংসনী
--------------------------------------------------


০৫-০২-২০২৬

সকল প্রশংসা তাহারই

 সকল প্রশংসা তাহারই

কলমে মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**************************************

বিসমিল্লাহ বলি আমি, দয়ার আদিপাঠ,
রহমান তিনি, রহীম তিনি, করুণার প্রভাত।
সকল প্রশংসা তাঁহারই, জগতের রব্ব,
দৃশ্য-অদৃশ্য সব সৃষ্টির একমাত্র প্রভু সব।

তিনি দয়ার আধার যিনি, মমতার আশ্রয়,
ভয়হীন করে হৃদয়, আশায় ভরে ক্ষয়।
বিচার দিনের মালিক তিনি, ন্যায়ের অধিপতি,
সত্যের পাল্লা নড়বে না, মিথ্যা হবে ক্ষতি।

তোমারই ইবাদত করি, তোমারই চাই বল,
দাসত্বেই মুক্তি আমাদের, অহংকার ছল।
দেখাও আমাদের সরল পথ, সত্যের নিশান,
যে পথে চলে অনুগ্রহপ্রাপ্ত মহাজন।

নবী, সিদ্দিক, শহীদ, সালেহিন যাঁরা,
যাদের প্রতি দয়া বর্ষে—তাঁদেরই ধারা।
নয় ক্রোধভাজন পথ যেন, নয় ভ্রান্তির গতি,
ফাতেহার আলোয় রাখো আমাদের স্থিতি।

এই সূরাই প্রার্থনা, এই সূরাই বিধান,
বান্দা ও প্রভুর মাঝে চিরন্তন আহ্বান।
-----------------------------------------------------

আমি আশ্রয় খুঁজি

 আমি আশ্রয় খুঁজি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*********************************

বল আমি আশ্রয় খুঁজি মানুষের রব্বে,
যিনি হৃদয় গড়েন, ভাঙেন নিয়তির ছকে।
মানুষের অধিপতি, মানুষের বাদশাহ,
তাঁরই ছায়ায় নিরাপদ জীবন ও দাহ।

মানুষের ইলাহ তিনি—একমাত্র উপাস্য,
তাঁর নামেই শান্তি নামে, ভাঙে সকল গ্রাস্য।
আমি আশ্রয় চাই তাঁর কাছে বারংবার,
অদৃশ্য অশুভ শক্তির ফিসফিস আঘাত-ভার।

যে কুমন্ত্রণা ঢালে মনে নিঃশব্দে চুপে,
হৃদয়ে বিষ ঢালে এসে অচেনা রূপে।
সে জ্বিনের দল হোক আর মানুষের ছদ্মবেশ,
সব কুমন্ত্রণা থেকে দাও নিরাপদ দেশ।

হে রব্বুন নাস, হে মালিক, হে ইলাহ মহান,
তোমার আশ্রয়েই রক্ষা, তোমাতেই পরিত্রাণ।
-----------------------------------------


০৫-০২-২০২৬

Tuesday, February 3, 2026

জাতির বিবেক যখন বিক্রিয় হয়

 জাতির বিবেক যখন বিক্রিয় হয়

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************************

ওহে শোনো—বিবেক যখন বাজারে তোলে,
তখন প্রতিবাদের পথ রুদ্ধ হয় দলে দলে।
সত্যের কণ্ঠ রুদ্ধ, ন্যায় পড়ে শিকল-তলে,
মিথ্যার সিংহাসনে শাসক বসে জোর-বলে।

জালেমের পাশে দাঁড়ায় স্বৈরাচারের দল,
ফ্যাসিবাদের ছায়ায় হাসে লেজুরভিত্তি-ছল।
চাটুকার তাবেদার মাপে ক্ষমতার ওজন,
ধর্ম বেচে পুণ্যের নামে গড়ে পাপের ভজন।

লুটেরার থলেতে ভরে ঘাম-রক্তের ধন,
অর্থপাচারে দেশ হয় শূন্য, ক্ষয়মান।
দেশবিরোধী হাত ধরে রাষ্ট্রের কফিন,
হিংসা-প্রতিহিংসায় পোড়ে মানবিক দিন।

দলে দলে ভাঙে জাতি—বৈষম্যের দেয়াল,
মুনাফেকের হাসিতে ঝরে বিশ্বাসের জাল।
বিশ্বাসঘাতক সাজে দেশপ্রেমের পোশাকে,
উগ্রবাদী আগুন জ্বালে ইতিহাসের কপাকে।

এখানে নিরপেক্ষতা পাগলেরই প্রলাপ,
জ্বলন্ত ঘরে বসে থাকা—অপরাধের সাপ।
নজরুলের বজ্রকণ্ঠে তাই ডাক ওঠে আজ—
“ভাঙো শিকল! জাগো মানুষ! ন্যায় হোক সমাজ!”


০৩-০২-২০২৬

দেশের রত্ন হারিয়েছি

 দেশের রত্ন হারিয়েছি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*************************************

ডাঃ প্রাণ গোপাল দত্ত—একটি নাম নয় শুধু,
তিনি ছিলেন ব্যথিত মানুষের নিঃশব্দ কুলু।
রোগীর কপালে হাত রেখে বলতেন ধীরে—
“ভয় নেই, জীবন এখনো দাঁড়িয়ে আছে ফিরে।”

ছুরি নয় আগে, আগে দিতেন সাহসের ভাষা,
চিকিৎসা মানে তাঁর কাছে ছিল মানবিক আশা।
নাক-কান-গলার ঘেরাটোপ ভেঙে প্রতিদিন,
তিনি সারাতেন মানুষের ভাঙা অন্তরীন।

এই মানুষটিকে আমরা চিনিনি বাঁচতে,
ক্ষমতার কাদা মেখে রেখেছি প্রশ্নের আঁচটে।
রাজনৈতিক হিংসা আর প্রতিহিংসার খেলায়,
রত্নকে ছুঁড়ে ফেলেছি অবহেলার জ্বালায়।

দলীয় চিহ্নে মেপেছি জ্ঞানের গভীরতা,
যোগ্যতার বদলে দেখেছি পরিচয়ের সাঁটা।
যার জীবনদর্শন বলত—“মানুষই মুখ্য,”
তাঁকেই বানালাম সন্দেহের নীরব অভিযুক্ত।

অথচ ভারতের মাটি চিনল তাঁর আলো,
ন্যাশনাল মেডিকেল কমিশন বলল—“এই মানুষ মহান হলো।”
যেখানে নিজ দেশ দিল না সম্মানের ঘর,
সেখানে বিদেশ খুলে দিল মর্যাদার দর।

কি নির্মম পরিহাস, কী লজ্জার ইতিহাস,
জীবিত রত্নকে ঠেলে দিই, মরি পরে শোকপ্রকাশ!
আমরা গাই শোকগীতি, করি কৃতজ্ঞতার ভান,
অথচ বাঁচতে দিইনি তাঁর স্বপ্নের সম্মান।

ডাঃ প্রাণ গোপাল দত্ত—তুমি হারাওনি কিছু,
হারিয়েছে তোমাকে যে দেশ, সে হারিয়েছে নিজেরই পিছু।
আজ বুকের ভেতর জ্বলে এক অগ্নিস্বীকার—
দেশের রত্ন হারিয়েছি, এই পাপ আমাদেরই ভার।
-----------------------------------------------------------


০৩-০২-২০২৬

আমি কি এদেশের নাগরিক নই?

 আমি কি এদেশের নাগরিক নই?

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর
************************************************

আমি কি এদেশের নাগরিক নই?
বলতে এসেছি আমিও নাগরিক আজ।
আমার স্বপ্নে জ্বলে স্বাধীনতার আলো,
আমার হৃদয়ে বাজে ন্যায়ের ঢোল।

কৃষক তাতী, জেলে কুমার, শ্রমজীবী,
গার্মেন্টস কর্মী, সবাই জাতির রক্তবীজ।
সবাই দেশের প্রাণ, সবাই জনতার আশা,
কেন শুধু সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন বাড়ে?

আমি কি এদেশের নাগরিক নই?
বলতে এসেছি, বৈষম্য ভাঙব আমরা।
আমাদের মাইনে, আমাদের ঘাম, আমাদের জীবন,
সব বঞ্চিত, অবহেলিত, শুনো শাসকগণ!

বাজারে মূল্য বাড়ে, দামের সঙ্গে জীবন ক্ষত,
আমরা সাধারণ মানুষ, কে সমাধান দেবে?
আমাদের কণ্ঠ, আমাদের চিৎকার, আমাদের ব্যথা,
সবাই জাগো, বলো—ন্যায় চাই, অধিকার চাই।

আমি কি এদেশের নাগরিক নই?
বলতে এসেছি, বিদ্রোহ আমার স্বর।
তোমরা বড় নিষ্ঠুর, বৈষম্যের হোতা,
আমরা চিৎকার করি—ধ্বংস করো অন্যায়ের ঘোড়া।

শ্রমিক, কৃষক, নাগরিক, সবাইই মানুষ,
সবাই চাই সমান অধিকার, সমান সুযোগ।
ভাই, বোন, জাগো, আমরা একত্রিত হব,
ভাই, বোন, আমাদের রক্তে জ্বলে আগুন।

আমি কি এদেশের নাগরিক নই?
বলতে এসেছি, প্রতিবাদ আমার অমর।
এই দেশ, এই ভূমি, এই মানুষ—সবই এক,
অধিকার, ন্যায়, মানবতার মঞ্চে দাঁড়াও।

আমি জাগি, আমি চিৎকার করি,
আমি বলি, বৈষম্যের প্রাচীর ভেঙে দাও।
আমরা সবাই এক, আমরা সবাই শক্তি,
আমাদের রক্তে ঝলকায় স্বাধীনতার আগুন।

আমি কি এদেশের নাগরিক নই?
বলতে এসেছি, আমিও নাগরিক—গর্বে।
শাসকগণ, দেখো আমাদের দমনকোণ,
আমরা চিরবিদ্রোহী, আমরা চিরনাগরিক।

বৈষম্য ভাঙতে হবে, স্বাধীনতা জাগাতে হবে,
আমি নাগরিক, আমি চাই সমান অধিকার।
আমাদের রক্তে, আমাদের ঘামে, আমাদের প্রাণে,
এই দেশ—আমাদের, শাসকগণ বুঝো, এবারই সঠিক নামে।
------------------------------------------------


০৩-০২-২০২৬

বিচার কি হবে?

 বিচার কি হবে?

মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
****************************************

অসহায় পিতা দিলেন মেয়েকে হোটেলের ঘরে,
অমল ১১ বছরের শিশুর জীবন স্বপ্নভরে।
অন্তরে আশা জ্বলে, চোখে অশ্রু নেমে,
অপরাধীর হাতে পড়ল শিশুর প্রাণের বৃত্তে।

অমল ঢুকতে পারল না ঘরের ভিতরে,
অজুহাতে বন্ধ দরজা, পিতার হাত থমকে।
বিকেল গড়াল, সন্ধ্যা গড়াল, ক্ষুধা-ভয়-দুর্ভোগ,
অন্তরে জ্বলল বেদনার অমোঘ শিখা জ্বালোগ।

অপরাধী এমডি, বিমান বাংলাদেশে প্রধান,
পরিবারে শিশুটি পেল প্রতিদিন নির্যাতনের প্রমাণ।
মারধর, খুন্তি গরম করে শরীরের নানা স্থানে ছোঁয়া,
অন্তহীন বেদনা, দগ্ধ দেহ, নির্যাতনের ছায়া।

অশরীরী নিপীড়নে ভেঙে গেল শিশুর স্বপ্ন,
অন্য শিশুর খেয়াল রাখার নামে বেদনার বৃত্ত।
অসহায় পিতা গেল বহুবার, তবু দেখা হল না,
অন্তরে কেঁপে ওঠে আর্ত চিৎকার, ক্রোধের ধ্বনি ফাঁকা।

বিচার কি হবে?—অন্তরে প্রশ্ন জাগে,
অপরাধীর হাতে মানবতা কি ফিরে আসবে?
গ্রেফতার হল তারা, তবু মুক্তির ছায়া দেখা যায়,
অমল চোখে জল, কণ্ঠে আর্তনাদ, নির্যাতনের আভাস।

অন্তিমে জাগুক ন্যায়, ভেঙে যাক অমানবিকতা,
অপরাধী হোক দৃষ্টান্ত, শিশুর কণ্ঠে হাসি জাগুক।
অসহায় শিশুর স্বপ্ন ফিরুক, জীবন হোক অমল,
বিচার হোক অবিচল, হোক ন্যায়ের বলিষ্ঠ ঢাল।
--------------------------------------------------


০৩-০২-২০২৬

শ্লিপ অব টাঙ্কের যুগ

 শ্লিপ অব টাঙ্কের যুগ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
****************************************

বিশ্ব দেখিল বাঙালি আজ নেমেছে কোন্ অন্ধকারে,
শ্লিপ অব টাঙ্কের নামে ঢেকে দিল সব অপকর্ম ভারে।
কথায় কথায় অশ্লীলতা, আচরণে বিষের ঢেউ,
শ্লোগানে ঘৃণা, গীবত-পরচর্চা—লজ্জা রাখে না কেউ।

ইশারা ভরা অশুভ ভঙ্গি, ভাষায় নোংরা ছাপ,
ইতিহাসে ছিল কি এমন? জিজ্ঞাসে বিবেক-আপ।
নারী বিদ্বেষ এমন নগ্ন, দেখেনি এই সমাজ,
নারীকে ডাকে পতিতা—ভাঙে মানবতার লাজ।

অপমান সহে নারী আজ, নীরবতার দীর্ঘ শ্বাস,
এমন দৃশ্য দেখেনি দেশ, কাঁদে সময়ের ইতিহাস।
মঞ্চে মঞ্চে নেতৃত্বের বেহাল দশা নগ্ন,
বাক্যে কাজে দিশাহারা, দায়িত্ববোধ শূন্য-ভগ্ন।

রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার—এমন বিকৃতি কবে?
মানী মানুষের সম্মানহানি এমনভাবে হবে?
দেশবিরোধী শক্তির উত্থান, মাথা তোলে নির্ভীক,
প্রতিবাদ করলেই শোনো—“শ্লিপ অব টাঙ্ক” তত্ত্বীক!

এই এক বাক্যে ক্ষমা পায় যত অন্যায়-অপরাধ,
আইনের চোখ বেঁধে দেয়, ন্যায়বিচারের হয় স্বাদ?
এভাবে চলতে থাকিলে হারাবে জাতি পথ,
অন্যায় বাড়বে, অপরাধ নেবে অগ্নির রথ।

যদি না আসে সুবিচার, যদি না রোধ হয় স্রোত,
ইতিহাস-সংস্কৃতি যাবে মিলিয়ে নিঃশব্দে লোপ।
এই উগ্রবাদ দমন না হলে, যে মূল্যই দিতে হোক,
রক্তে কেনা স্বাধীনতা হারাবে জাতি শোক।

জাগো বিবেক, জাগো মানুষ, জাগো সত্যের ধ্বনি,
নইলে শ্লিপ অব টাঙ্কেই ডুবে যাবে ভবিষ্যৎ খনি।
--------------------------------------------------


০৩-০২-২০২৬

Monday, February 2, 2026

ঐক্যই শক্তি

 ঐক্যই শক্তি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
***************************************

আমি বলি—এক হও আজ, ও জাগ্রত জনতা,
ভাঙো ভাঙো বিভেদের জাল, ছিঁড়ো ভীরুতা।
হাতে হাতে হাত রাখিলে বজ্র নামে ঘাতে,
ঐক্যের আগুন জ্বলুক আজ সংগ্রামের রাতে।

একলা মানুষ তুচ্ছ বটে, মিললে সে দুর্বার,
শৃঙ্খল ভাঙে, সিংহাসন কাঁপে বারেবার।
ধর্মে দলে ভাগ ক’রে যারা বিষ ঢালে প্রাণে,
ঐক্যের ঝড়ে উড়ে যাবে সেই ছলনার মানে।

আমি বিদ্রোহী কণ্ঠে ডাকি—এক পতাকার তলে,
রক্ত-ঘামে লেখা অধিকার তুলো দৃঢ় বলে।
অন্যায়ের বুক চিরে উঠুক সত্যের দাবানল,
ঐক্যের মুষ্টিতেই গড়ুক মুক্তির সম্বল।

ভাইয়ে ভাইয়ে ভেদ নয়, এই হোক অঙ্গীকার,
এক স্রোতে মিলুক প্রাণ, মিলুক প্রত্যাশার ধার।
নয় নীরব, নয় নতজানু—এই আমাদের শক্তি,
ঐক্যই অস্ত্র, ঐক্যই গান, ঐক্যই মুক্তি।
----------------------------------------------------


০২-০২-২০২৬

Sunday, February 1, 2026

প্রিয় সন্তোষ স্যারের চিরবিদায়

 প্রিয় সন্তোষ স্যারের চিরবিদায়

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**********************************************
কাপাসিয়ার ছোট্ট আঙিনা ছেড়ে,
তোমার আলো ঝলমল ছড়িয়েছে বিশ্বপানে!
পশ্চিমে আমেরিকা, পূর্বে জাপান,
উত্তরে নরওয়ে, দক্ষিণে অস্ট্রেলিয়ার তটে!
যেখানে ছাত্র মাথা উঁচু করে দাঁড়ায়,
সেখানে তোমার অদৃশ্য মুকুট ঝকঝকে শোভায়!

নীরব, নিঃস্বার্থ, নিরলস শিক্ষকবৃন্দের মাঝে,
দীপ্ত এক নাম—আমাদের প্রিয় স্যার সন্তোষ!
চক-ধুলো মাখা ক্লান্ত হাতে,
তুমি গড়েছ মানুষ, কেবল মানুষ!
নিজের সুখ বিসর্জন দিয়ে,
ছাত্রের স্বপ্নে লিখেছ ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল!

কালের নির্মম আবর্তে আজ,
হাসপাতালের নিঃশব্দ শয্যায়!
চল্লিশ দিনেরও অধিক আইসিইউর প্রহর,
শেষে ক্লান্ত দেহ ঢলে পড়ল
মৃত্যুর কোলে, অনিবার্য চক্রে!

দীপ নিভে যায়, আলো থাকে—
গুরু চলে গেলেও আদর্শ অমর!
সনাতন বিশ্বাসে জানি,
আত্মা নয় নশ্বর,
শুধু দেহ ফেলে যায় মায়া,
চলে যায় অনন্ত যাত্রায়!

আজ তোমার ছাত্রছাত্রীরা
অশ্রুসজল নয়নে বলে—
হে গুরুদেব, গ্রহণ করো
আমাদের শেষ প্রণাম!
যে শিক্ষা তুমি রেখে গেলে,
সেই পথেই চলব আজীবন!

ওঁ শান্তিঃ শান্তিঃ শান্তিঃ
তোমার আত্মা লাভ করুক চিরশান্তি!
গুরুর চরণে এই আমাদের
চূড়ান্ত শ্রদ্ধা ও গভীর শোক!
-------------------------------------------


০১-০২-২০২৬

আমি পরিবর্তন করতে এসেছি

 আমি পরিবর্তন করতে এসেছি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
***************************************

আমি পরিবর্তন করতে এসেছি—ভাঙতে জীর্ণ শাসন,
অন্যায়ের দেয়াল ভেঙে জাগাতে মানুষের শ্বাসন।
ভোটের মানে ফিরিয়ে দিতে, ভয়হীন নাগরিক,
সেবার দায়ে দাঁড় করাতে রাষ্ট্রের প্রতিটি দিক।

আমি ডাঃ তাসনিম জারা—শপথ আমার স্পষ্ট,
কথা নয়, কাজের পথে রাখব হিসাব-নির্ভর দৃষ্ট।
যেখানে সেবা নেই, বিলও নয়—ন্যায়ের সহজ ভাষা,
জবাবদিহি শিখুক ক্ষমতা, খুলুক বন্ধ সব আশা।

পানি-গ্যাস-রাস্তায় ফিরুক মানুষের অধিকার,
ড্রেনেজে নেমে যাক জল, ভাঙুক জলাবদ্ধতার ভার।
হাসপাতালে মানুষ পাবে মর্যাদা আর যত্ন,
কমিউনিটি ক্লিনিক হবে আস্থার প্রথম রক্ষণ।

শিক্ষায় নয় প্রভাব-দাপট, মেধাই হোক মান,
কোডিং-ল্যাব-লাইব্রেরিতে গড়ুক স্বপ্নের টান।
নারীর পথে আলো জ্বলে—নিরাপত্তার প্রহর,
সেফ করিডোরে হাঁটুক নির্ভয় সকাল-দুপুর।

মাদকের শিকড় ছিঁড়ে দিই—চিকিৎসা আর পুনর্বাসন,
অপরাধ নয়, মানুষ বাঁচাই—এই আমার শাসন।
যুব উদ্যোক্তা পাক ভরসা, স্টার্টআপে হোক ডানা,
ডে-কেয়ারে কাজের নারী—সমান সুযোগের মানা।

এমপি হবে নাগরিকের—অফিস খোলা থাকবে,
ডিজিটাল ট্র্যাকে প্রশ্নের উত্তর লেখা যাবে।
আমি প্রতিশ্রুতি নয়—প্রমাণে বিশ্বাসী,
ঢাকা-নয়কে গড়ব একসাথে—স্বচ্ছ, মানবিক, সাহসী।

আমি পরিবর্তন করতে এসেছি—এ কথা কেবল নয়,
সময়ের কাছে দায় নিয়ে আজ দাঁড়াই নির্ভয়।
-----------------------------------------------


০১-০২-২০২৬

আলো রেখে গেলেন যিনি

আলো রেখে গেলেন যিনি
কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
****************************************

আজ শ্রেণিকক্ষ নিঃশ্বাস নেয় ভারী শোকে,
চুপসে গেছে সকাল—কথা হারায় লোকে।
চকের সাদা ধুলো জানে তাঁর নাম,
মস্তফা কামাল—এক আলোর বিশ্রাম।

কাপাসিয়ার বুকে যে শিক্ষক জ্বালাল দীপ,
সমাজ কল্যাণে মানবতার শিখা অদ্বীপ।
জ্ঞান ছিল তাঁর প্রার্থনার ভাষা,
মানুষ গড়া ছিল জীবনের আশা।

গাজীপুর মেট্রো কলেজের নীরব দেয়াল,
আজো খোঁজে নেতৃত্বের সেই উদার পাল।
ভাইস প্রিন্সিপাল—নাম নয়, দায়িত্ব,
ন্যায়ের কাছে যাঁর ছিল চির আনুগত্য।

কঠোর ছিলেন না—ছিলেন দৃঢ়,
ভুলের মাঝেও দেখাতেন সঠিক দিগন্ত-চিহ্ন।
শাসনে স্নেহ, উপদেশে আলো,
অজস্র জীবন গড়েছেন ভালো।

আজ প্রশ্ন করে বেঞ্চ, বোর্ড আর বই,
“স্যার, আর কে দেখাবে সঠিক সেই ছই?”
এই শূন্যতা শুধু একটি মৃত্যু নয়,
এ এক প্রজন্মের অপূরণীয় ক্ষয়।

ইন্না লিল্লাহ—সবই রবের বিধান,
ফিরে গেলেন তিনি ডাকে—চির অনন্ত জান।
হে মহান রব, দিও জান্নাতের উচ্চ স্থান,
আমীন—শিক্ষকের ঋণে নত প্রতিটি প্রাণ।

তাঁর দেহ নেই, তবু তিনি রয়েছেন,
নৈতিকতার পাঠে আজো তিনি শেখান।
মানুষ যতদিন মানুষ হয়ে থাকবে,
মস্তফা কামাল—আলো হয়ে জ্বলবে।
--------------------------------------------------------


০১-০২-২০২৬

মাতৃভাষার মর্যাদা

 মাতৃভাষার মর্যাদা

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**************************************

একুশের ভোরে রক্ত ঝরে আকাশে!
মায়ের ভাষা চুম্বিত করে যাক প্রতিটি পাথরে।
পশ্চিমী শাসক চেয়েছিল বাংলা চেপে রাখতে,
অবাধ্য বাঙালির কণ্ঠ নীরব করতে।

রফিক, জব্বার, বরকত, সালাম—
তাদের রক্তে লেখা স্বাধীনতার নাম।
নামহীন শহীদও তো আছেন গোপনে,
মায়ের ভাষার পক্ষে জীবন উৎসর্গে।

ক, খ, গ—এ শুধু বর্ণ নয়,
এ শহীদের রক্তে লেখা বিপ্লবের শপথ।
উর্দু চাপিয়ে, শৃঙ্খল বাঁধতে চাইল যারা,
তারা ইতিহাসে থাকল শুধুই কালো ছায়া।

একুশের রক্তে জন্ম নিল অমর অগ্নি,
শব্দ হয়ে ছড়িয়ে গেল সমস্ত বেদী।
মাতৃভাষা আজ স্বাধীন, অটল, অবিস্মরণীয়,
বিশ্ব জানে—ইউনেস্কোতেও তার অভিজ্ঞান।

ফুল দিয়ে শেষ নয়, ফুল দিয়ে শেষ নয়—
কর্মে, চর্চায় ভাষা বাঁচুক চিরকাল।
মাতৃভাষার মর্যাদা আমাদের অঙ্গীকার,
একুশের শপথ, রক্তের ঋণ, চিরন্তন অভিসার।


০১-০২-২০২৬

তুমিই ভবিষ্যৎ জনতার নেত্রী

 তুমিই ভবিষ্যৎ জনতার নেত্রী

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
******************************************
হে নারী, তোমার চোখে আমি দেখি
এক নতুন বাংলাদেশের জাগ্রত সকাল,
কুয়াশা ছিন্ন করে উঠে আসে রোদ—
ভাঙে ভয়ের তালা, ভাঙে অচল শেকল।

তুমি কোন দলে—সে প্রশ্ন আজ ক্ষুদ্র,
বৃহৎ তুমি মানবতার মানচিত্রে,
শিক্ষার দীপ্তিতে দীপ্ত তোমার কণ্ঠ,
মার্জিত আচরণে দৃঢ় প্রতিজ্ঞার চিত্রে।

বিদেশের আরাম হাতছানি দিয়েছিল,
বিলাস ডেকেছিল নীল আকাশের নিচে—
তবু মাটির গন্ধ, মায়ের আঁচল
ডেকেছে তোমায় স্বদেশের দ্বারপ্রান্তে এসে।

তুমি বলো—নতুন বন্দোবস্ত চাই,
চাই সুশাসনের অগ্নিশুদ্ধ পথ;
দুর্নীতির আঁধার ভস্মীভূত হোক,
আইনের শাসনে জাগুক রাষ্ট্রব্রত।

তুমি বলো—মুক্তিযুদ্ধ কেবল ইতিহাস নয়,
সে আজকের নৈতিক কম্পাস;
অর্থনৈতিক মুক্তি মানে কেবল সংখ্যা নয়,
মানুষের মর্যাদা—নিত্য শ্বাস।

গণতন্ত্র মানে ভোটের দিনটি নয়,
দিনরাত্রি জবাবদিহির আলো;
শিক্ষা-স্বাস্থ্য মানে বিলাস নয়,
জীবনের ন্যূনতম অধিকার—সবাইকে দাও।

বৈষম্যের দেয়াল ভাঙার মন্ত্র তুমি,
মবতন্ত্রের বিরুদ্ধে বজ্রধ্বনি;
স্বৈরতন্ত্রের কালো ছায়া কাটিয়ে
স্বচ্ছ আকাশে উড়াও ন্যায়-পতাকা নির্ভীকিনী।

কালো টাকার বিষ তুমি চেনো,
তাই রক্তে টেনে নাও নৈতিক শুদ্ধতা;
নেতা-জনতার মাঝে গড়ো সেতু,
সংঘাত নয়—সহমর্মিতার দৃঢ়তা।

হিংসা-প্রতিহিংসার চক্রে তুমি আগুন নও,
তুমি শুদ্ধ জলের ধার;
তোমার ব্যবহার, উপস্থাপনার ভঙ্গিতে
জনতা খুঁজে পায় বিশ্বাসের নোঙর-তার।

প্রকৃতি যেমন ঝড়ের পর দেয় রংধনু,
তেমনি তুমি সংকটের পরে আশা;
নদী যেমন পথ খোঁজে সাগরের দিকে,
তুমিও এগোও—ন্যায়ের অভিমুখে ভাষা।

নজরুলের বজ্রকণ্ঠে যদি বলি আজ,
তুমি বিদ্রোহ—তুমি মানবিক সাহস;
ভয়ের কারাগার ভেঙে তুমি হাঁটো,
মুক্ত মানুষের মিছিলে প্রথম নিশ্বাস।

বিশ্ব জেনেছে—নামটি আজ উচ্চারিত,
ডা. তাসনিম জারা—নিলোর্ভ দীপ্তি;
তুমি ভবিষ্যৎ, তুমি জনতার নেত্রী,
স্বপ্ন নয়—তুমি জাগ্রত সত্যের শক্তি।
--------------------------------------------


০১-০২-২০২৬

Thursday, January 29, 2026

ওরা এখনো শোধায়নি

 ওরা এখনো শোধায়নি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
***************************************
আমি এখনো শুনি ধ্বংসের আর্তনাদ,
মায়ের চিৎকারে কেঁপে ওঠে রাতের প্রহরাদ।
আমি এখনো দেখি লুট হওয়া ঘর-বাড়ি,
আগুন জ্বলছে মুক্তিকামী জনতার বুকের তাড়ি।

শুকুনের থাবা কেটে গেছে সবুজের বুক,
সারি সারি লাশ ভেসে যায় নদী-খাল-বিলে ধ্বুক।
বুলেট বিদ্ধ মুক্তিযোদ্ধার ক্ষতবিক্ষত দেহ,
বুদ্ধিজীবীর নীরব দেহে বাজে প্রতিশোধের রণধ্বনি।

দেশবিরোধীরা গড়েছিল শত্রুর কুটকথা,
হানাদার বাহিনী ছিল তাদের আঁধারের স্বপ্নপথা।
স্বাধীনতা চাইনি তারা, বাংলার রক্তে মাখা পথ,
ওরা এখনো আছে, ছদ্মবেশী, মুনাফেক, ঘাতক হত্যার তৃষ্ণা।

হে লাল-সবুজ চেতনা! সতর্ক থাকো,
ওরা গুপ্তচর, বিশ্বাসঘাতক, বিদ্রোহের শত্রু অনন্তকাল।
ওদের রক্ত এখনো শোধায়নি,
প্রতিশোধের আগুনে জ্বলে উঠুক গ্রাম-নগর-প্রান্ত।

প্রাণের প্রতিটা তেজে, রক্তের প্রতিটা ফোঁটায়,
বিপ্লবের সুরে বাজুক মুক্তির গান, অসীম তেজে ভাসা।
ওদের অস্তিত্বের ছায়া মুছে দিন ইতিহাসের পাতায়,
মুক্ত বাংলার চেতনায় উদ্ভাসিত হোক নতুন ভোরের আলো।

স্বাধীনতার পতাকা উড়ুক সর্বত্র, শত্রুর চোখে ভয়,
বিজয়ের কণ্ঠে প্রতিটি শহর, বনে, নদীতে জাগুক জয়।
মুক্তিকামী বাঙালির হৃদয় থাকবে না নিস্তব্ধ,
প্রতিশোধের সুরে বাজুক স্বাধীনতার বন্দুকের ঝলকধ্বনি।
------------------------------------


২৯-০১-২০২৬স

তুমিও কিছু বলতে চাও

 তুমিও কিছু বলতে চাও

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান েমাল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
******************************************

হে অবুঝ শিশু, বিদীর্ণ ভোরের গান,
পিতার বুকে জমে থাকা আগুন-অভিমান,
মায়ের ছিন্ন জীবনের শেষ জ্বলন্ত দীপ,
জন্মেই তুমি শিখেছো বেদনার গভীর শীপ।

যেদিন তুমি এলে ধরার রক্ত-মাখা তীরে,
সেদিন মমতা হার মানল বিধির তীক্ষ্ণ শিরে,
মায়ের বুকের দুধ রইল অপূর্ণ ঋণ,
শৈশবেই তোমার কপালে আঁকা হলো শোকচিহ্ন।

পৃথিবী! কেন নিলে না কোলে তুলে আজ?
শিশু কি দায়—বল! কোন অপরাধে সাজ?
আর মা—হাসপাতালের সাদা কাঠগড়ায়,
মৃত্যুর সাথে লড়েছে বজ্র-কান্নার ছায়ায়।

একদিকে তুমি—নবজাত আগ্নেয় কুঁড়ি,
অন্যদিকে মা—ঝরে পড়া শেষ বিজড়ি,
বাবা ছুটেছে ছিন্ন-পাখার ঝড়ো প্রাণ,
একবার শিশুরে, একবার মৃত্যুর সমাধান।

শেষে মাও অচল হল—নিভে গেল শরীরের প্রদীপ,
তুমি রইলে বুকে নিয়ে অগ্নি-নীরব শীপ,
বেঁচে থাকা তখন শুধু শ্বাসের দায়,
মায়ের অভাবে প্রতিটি দিন বিদ্রোহ-প্রায়।

দাদীর কাঁপা বুকে পেলি শেষ আশ্রয়,
নানীর আঁচলে জমল অশ্রু-অগ্নিক্ষয়,
প্রকৃতির দুধে বড় হলে আগুন-শিশু তুমি,
তবু মায়ের শূন্যতা পূরণ হয়—বলো, ভূমি?

মা থেকেও না থাকার মতো দাঁড়াল সামনে,
একটি নাম, একটি ছবি—নিস্তব্ধ ফাঁদে,
কোল নেই, আদর নেই, শুধু জ্বলন্ত প্রশ্ন,
“মা” শব্দটি কেন হলো এত নিষ্ঠুর দর্শন?

তবু তুমি বেঁচে আছো—রবের হুকুমে,
পিতার রক্ত-ঘামে, দাদী-নানীর বুকে,
নীরব তুমি, কিন্তু নীরবতা নয় হার,
এ নীরবতা একদিন হবে আগুনের উচ্চারণ-ভার।

তুমি তাকাও অপলক আকাশের পানে,
চোখের প্রশ্ন ঝড় তোলে নীল বিধানে,
পৃথিবীকে কিছু বলতে চাও—বিদ্রোহে,
হয়তো রবকেও—অভিযোগ নয়, শপথে।

অভিমান জমে থাকে চোখের কোণে আগুন,
ঝরে না—কারণ তুমি দুর্বল নও, তুমি সন্তান,
হে অবুঝ শিশু, তুমিও কিছু বলতে চাও,
তোমার নীরবতাই একদিন
সবচেয়ে বজ্রকণ্ঠ আর্তনাদ হয়ে ওঠাও।
------------------------------------------------


২৯-০১-২০২৬

তোমার শুন্যতা অনুভব করি

 তোমার শুন্যতা অনুভব করি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*******************************************
জনাব তাজউদ্দিন আহম্মেদ মোল্লা,
তোমার মৃত্যুতে আজ ভাষা কাঁপে,
শব্দেরা দাঁড়িয়ে থাকে—
কোনটি আগে কাঁদবে বুঝে ওঠে না।

মিষ্টি ভাষার যে মানুষটি
হাসিতে ভরিয়ে দিতো আঙিনা,
আজ সে হাসি থেমে গেছে
নিস্তব্ধ কবরের গভীর নীরবতায়।

পরউপকার ছিল তোমার শিরা-উপশিরায়,
দানবীর হৃদয় ছিল উন্মুক্ত আকাশ,
আজ সেই আকাশে শুধু শূন্যতা—
একটি নক্ষত্র ঝরে পড়েছে অকালে।

মেধাবী মন, উদ্দ্যোক্তা প্রাণ,
শিক্ষানুরাগী দীপ্ত বাতি,
রাওনাট গ্রামের গর্ব তুমি—
আজ গ্রাম জুড়ে শুধু দীর্ঘশ্বাস।

স্বপ্ন দেখাতে তুমি জানাতে,
অন্যের চোখে আলো জ্বালাতে,
কিন্তু নিজের জীবন-স্বপ্ন
অসমাপ্ত রেখেই চলে গেলে হে বড়ভাই।

তুমি ছিলে শীতল ছায়া,
দুপুরের রোদে আশ্রয়ের বৃক্ষ,
আজ সে ছায়া নেই—
সূর্য আরও তীব্র, বুক আরও পোড়া।

তোমার মৃত্যুতে বুঝেছি,
শূন্যতা শুধু অনুপস্থিতি নয়,
শূন্যতা হলো—
প্রতিদিন কাউকে খুঁজে না পাওয়া।

তোমার অবসানে জীবনের পাতায়
একটি অধ্যায় হঠাৎ ছিঁড়ে গেল,
পুরণ হবে না সে শূন্যতা কখনো,
রয়ে যাবে আজীবন অসম্পূর্ণ গল্প।

হে আল্লাহ,
তোমার দরবারে আজ অশ্রুসিক্ত দোয়া,
জনাব তাজউদ্দিন আহম্মেদ মোল্লাকে
মাখফেরাতে মুড়িয়ে দাও, জান্নাত দাও।

তোমার মৃত্যুতে কাঁদে হৃদয়,
কাঁদে স্মৃতি, কাঁদে প্রতিটি স্বপ্ন,
তবু বিশ্বাস রাখি—
তুমি বেঁচে আছো আমাদের ভালোবাসায়।

তোমার শুন্যতা অনুভব করি,
প্রতিটি শ্বাসে, প্রতিটি প্রার্থনায়—
কারণ তুমি চলে গেছো,
কিন্তু হৃদয় থেকে যাওনি কখনো।
------------------------------------------


২৯-০১-২০২৬