Sunday, July 26, 2026

রূপসী বেলাই বিল

 কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

*************************************

মুক্ত আকাশ, মুক্ত বাতাস, মুক্ত মনের মেলা,
বেলাই বিলের বক্ষ জুড়ে কোন্ রূপের খেলা!
কেশুরিতার শান্ত কূলে চলল তরী বেয়ে,
পদ্মে-শাপলায় হাতছানি দেয় আকাশ-পানে চেয়ে!
ছলাৎ ছলাৎ ঢেউয়ের তালে নাচছে রে জল-রাণী,
উথাল-পাতাল দখিন হাওয়া আনল একী বাণী!

খিলখিলিয়ে হাসছে শিশু, বাঁধন-হারা প্রাণ,
মেঘের দেশে শঙ্খচিলেরা গাইছে জয়গান!
কচুরিপানার সবুজ জটে ফড়িং করে খেলা,
জাল ফেলে ধীবর-মাঝি, কাটছে সুখের বেলা।
বড়শি হাতে চাষি ভাই, ধরছে নদীর মীন,
এমন রূপের সুধায় আজি পরান উদাসীন!

লোকে বলে 'মিনি কক্সবাজার'— আমি বলি তারে,
সিন্ধু যেন শান্ত হয়ে এল বিলের দ্বারে!
বর্ষাকালে থৈ থৈ জল, মাতাল করা গান,
হাজার হাজার পর্যটকের কাড়ে রে এই প্রাণ!
পিকনিকেরই তরী চলে, বাজে রঙের ঢোল,
বেলাই বিলের অঙ্গে আজি জাগল মহা-দোল!

যেই না নামে খড়ার মওসূম, জল চলে যায় দূরে,
কৃষক ভাইর রুদ্র-লাঙল গান ধরে এক সুরে!
সোনার ধানে, সবুজ শাকের ফলল মাঠের বুক,
বেলাই বিলের অন্ন খেয়ে জুড়ায় দেশের মুখ!
অর্থনীতির মহা-দুর্গ, স্বনির্ভর এই প্রাণ,
দেশী মাছের অমৃত-স্বাদ, বাঙালির জয়গান!

মাছের পিঠে সওয়ার হয়ে আসে জামাই মেলা,
বিশ্ববাসী দেখছে চেয়ে বাঙালির এই খেলা!
জামাই বাবু খরিদ করে বিশাল মাছের ঝাঁকা,
ঐতিহ্যের এই রক্ত-তিলক আমার বুকে আঁকা!
গর্বে আমার বুক ভরে যায়, ওরে ভাই দল,
অনন্তকাল বেঁচে থাকুক বেলাই বিলের জল।

------------------------------------------------------------

কাঁঠালের পিঠা

 কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

*************************************

কাঁঠাল পিঠা, কাঁঠাল পিঠা খেতে যদি চাও,
গাজীপুরের কাপাসিয়ার রাওনাট গ্রামে যাও।
যেথায় সবুজ পাতার আড়াল থেকে সোনার আলো হাসে,
বুকের ভেতর মধুর সুবাস আকুল হয়ে আসে।

গ্রীষ্ম-বর্ষার মেঘের ভেলায় সুয্যি মামা হাসে,
জাতীয় ফলের মিষ্টি সুবাস রাওনাট গাঁয়ে ভাসে।
সবুজ বনের গাছের ডালে সোনার কলস ঝোলে,
ভ্রমর আসে গুনগুনিয়ে, দখিন হাওয়া দোলে।

মা-খালা আর দাদী-নানী হুমড়ি খেয়ে পড়ে,
পাকা কাঁঠাল চাউল দিয়ে পিষে পিষে মারে।
কলাপাতায় মুড়িয়ে তারে উনুন পাড়ে ছাড়ে,
কি যে মজা কেটে কেটে বিলায় ঘরে ঘরে।

কাঁঠাল সে তো কেবল ফল নয়, গুণের সে আধার,
কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে সে, কমায় চোখের ছার।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে, বল পায় যে দেহ,
কাঁঠালের এই পুষ্টি গুণের পায় না তুলনা কেহ।

সোনার ফলে ভরল খাতা, গাঁয়ের চাষী হাসে,
অর্থনৈতিক জোয়ার আসে রাওনাট গাঁয়ের পাশে।
বিক্রি করে কাঁঠাল-বিচি, মিটছে ঘরের আশ,
সুদিন আনে কাপাসিয়ার এই যে বারো মাস।

কাঁঠালের রাজা ভাই আমাদের কাপাসিয়া,
সবুজ প্রকৃতির বুকে যেন রূপের এক এশিয়া।
কাঁঠাল পিঠা, কাঁঠাল পিঠা খেতে যদি চাও,
গাজীপুরের কাপাসিয়া তোমরা সবে যাও!

------------------------------------------------------