Wednesday, August 19, 2026

অভিনন্দন হে গোলাপী

 কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

************************************

পিচঢালা রাজপথ, ব্যস্ত নগরী,
অলিগলি চিরে জাগে নতুনের প্রহরী।
অভিনন্দন হে গোলাপী! অভিনন্দন তোমাকে,
তুমি এসেছো ডানা মেলে, মুক্তির অভিমুখে।
নারীকে চেনাবে আজ বিশ্বচরাচর,
ভাঙবে কুয়াশা, ঘুচবে অন্ধকার অন্তর।

তোমার সুনীল বুকে চড়ে আজ নির্ভয়ে,
বেড়াবে বাংলার নারী অদম্য জয়ে।
তোমাকে চালাবে একদল কপোতী,
ইতিহাসের পাতায় তারা নব জ্যোতি।
তুমি রচেছো নারী স্বাধীনতার কাব্য,
কবিতা, উপন্যাসে তুমি অনন্য, অনবদ্য।
তুমি নারীদের শাড়ি, তুমি গোলাপী রঙ,
তুমিই তো গোলাপ, ভাঙো সব সং।

তোমাকে সযত্নে রাখে নারী পাইলট,
সুপারভাইজার, কন্ডাক্টরসাহসী এক জোট।
শহরের প্রান্ত হতে দূর সীমান্তে,
এক ঝাঁক নারী আজ ছুটবে একান্তে।
তুমি হও নির্ভীক নারীদের আলিঙ্গন,
তুমি যেন একবার ফুটেই না করো সমাপন।
তুমি ফুটো হে দীর্ঘ, সুদীর্ঘ কালের তরে,
রাজনীতির কূটকৌশল যেন বিষ না ছড়ায় তোমার ঘরে।

তুমি যেন ক্ষণিকের মরীচিকা না হও,
শুভ হোক যাত্রা, তুমি কালজয়ী রও।
নিরাপদ বাহন হয়ে রচবে সুনীল পথ,
নারীদের দ্বার খুলবে, ছুটবে জয়রথ।
যারা তোমাকে বুনেছে এই ধরণীর বুকে,
সাধুবাদ জানাই তাদের, গেয়ে উঠি সুখে।

সাবধান! সাবধান হে গোলাপী রানী!
কীটপতঙ্গের থাবায় যেন না হয় প্রাণহানি।
লুব্ধ চিল-শকুনেরা ওত পাতে মোড়ে মোড়ে,
লালসার বিষাক্ত নিঃশ্বাস ফেলে ঝড়ে।
যানজটের ক্লান্তি আর ইভটিজিংয়ের বিষে,
তোমার সুবাস যেন না যায় কভু মিশে।

স্টিয়ারিংয়ে রেখো শক্ত মমতার হাত,
তুচ্ছ করে দিও যতো কালবৈশাখী রাত।
তুমি যে আলোর দূত, তুমিই তো ভোর,
কেটে যাবে কেটে যাবে সব অপশক্তির ঘোর।

-------------------------------------------------

হে রাষ্ট্র অন্তর কোথায়?

 কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

********************************

হে স্বাধীন রাষ্ট্র,
জবাব দাও আজ,
কোথায় লুকালো শিশুর সহজ সাজ?
গাজীপুরের কাপাসিয়া কাঁদে,
বাতাস হয়েছে ভারী,
মায়ের চোখের অশ্রু সায়রে কেমনে দিতেছে পাড়ি!

বীর উজলী মডেল একাডেমি নিঝুম নীরব একা,
তাফসিরুল ইসলাম অন্তর আজ যে নিখোঁজ, মিলছে না দেখা।
মফিজ উদ্দিনের তিন তলা ভবনে রক্তের দাগ আঁকা,
জামা, জুতো আর আইডি কার্ডে কেন বিভীষিকা মাখা?

সে কি বেঁচে আছে,
নাকি গেছে মরে?
উত্তর দিতে পারো না কেন হে রাষ্ট্র নিজের ঘরে?
জনতার তরে যদি না পাও এটুকু নিরাপত্তা,
তবে কার তরে রাজদণ্ড,
কার এই প্রভুত্ব?

স্কুলেও যদি সন্তান আমার নিরাপদ নাহি রহে,
তবে কোন ভরসায় পিতা-মাতা এই বুকে বেদনা সহে?
পিতা সোহাসের বুকভরা হাহাকার,
মাতার কান্না রূঢ়,
হে প্রশাসন, ঘুমাচ্ছো কেন?
ভাঙো এই ঘুম গূঢ়!

রক্তের দাগ মুছবে না কভু এই বাংলার মাটি,
জবাব তোমায় দিতেই হবে রে রেখে সব চালাচালি!
শৃঙ্খল ভাঙো,
গর্জে ওঠো রে মজলুম জনতা,
ন্যায়বিচারের দাবিতে এবার ভাঙো সব নীরবতা!

জালিমের ওই দাম্ভিকতা করবো রে ধূলিসাৎ,
ন্যায়ের আলোয় রুখে দেবো আজ আঁধারিয়া এই রাত!
বুকের রক্তে লিখবো জবাব,
ছাড়বো না এক ইঞ্চি,
অধিকারের লড়াইয়ে মোরা ছিঁড়বো যে শিকল-ছিঁড়ি!

তোমাদের এই অন্ধ আইন,
বধির প্রশাসন,
হিসাব দিতেই হবে তোমাদের, কাঁপবে রে সিংহাসন!
রক্তের বদলে বিচার চাই রে,
চলবেনাকো ক্ষমা,
জনতার এই পুঞ্জীভূত ক্ষোভ যে রয়েছে জমা!

জেগে ওঠো আজ বিপ্লবে মাতি,
তোলো রে বজ্রনাদ,
তাফসিরুল অন্তরকে ফিরিয়ে দাও, ঘুচাও অবসাদ।
বিপ্লবী-সম হুংকার ছাড়ো,
আনো রে মুক্ত আলো,
মায়ের কোলেতে ফিরিয়ে দাও রে শঙ্কার কালো ভালো!

-------------------------------------------------