Thursday, June 11, 2026

অদ্ভুদ শব্দ

 

কলমেঃমোঃ আমিনুল এহছান  মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

********************************************

ভালোবাসাএক অদ্ভুত শব্দ,
এক অদ্ভুত অনুভূতি!
সে জন্ম নেয় না কোনো যুক্তির অঙ্ক কষে,
না কোনো বিধি-বিধানের অনুমতি নিয়ে;
সে আসে হঠাৎ,
বসন্তের প্রথম কোকিলের ডাকে যেমন
নীরব বনভূমি চমকে ওঠে।

ভালোবাসা বুঝে হোক, না বুঝে হোক,
চলে তার নিজস্ব সংবিধানে;
সে মানে না কোনো সীমানা,
মানে না কোনো বাঁধা-নিষেধের বেড়া।
অবহেলার মরুভূমি পেরিয়েও
সে খুঁজে ফেরে এক ফোঁটা স্নেহের জল,
অপমানের ঝড়েও
নিভে যেতে চায় না তার প্রদীপ।

তুচ্ছ করার ভয় তাকে স্পর্শ করে না,
কারণ সে ভীরু নয়
সে এক নির্ভীক অভিযাত্রী,
যে অজানা পথের শেষে
একটুখানি আলোর আশায়
অন্ধকারের বুক চিরে এগিয়ে চলে।

সে জানে সামনে আগুন,
তবুও প্রজাপতির মতো
শিখার দিকে ডানা মেলে দেয়।
সে জানে সামনে ব্যথা,
তবুও নদীর মতো
সমুদ্রের উদ্দেশে ছুটে যায় অবিরাম।

ভালোবাসা বড় অবুঝ,
এক নিষ্পাপ শিশুর মতো;
হাজারবার পড়ে গিয়েও
আবার উঠে দাঁড়ায়,
হাজারবার কাঁদিয়েও
আবার বিশ্বাস করতে শেখে।

তাই ভালোবাসা কোনো শব্দ নয় শুধু,
কোনো ক্ষণিক আবেগও নয়
সে হৃদয়ের গভীরে জ্বলা
এক অনন্ত প্রদীপ,
যার আলোয় মানুষ হারায়,
আবার নিজেকেই খুঁজে পায়।

ভালোবাসা সত্যিই এক অদ্ভুত শব্দ
যে শব্দের ভেতর লুকিয়ে থাকে
অশ্রুর নোনা স্বাদ,
স্বপ্নের রঙিন আকাশ,
আর একটি হৃদয়ের অবিরাম উচ্চারণ

সবকিছু হারালেও,
আমি তোমাকেই ভালোবাসি।

Top of Form

Bottom of Form

--------------------------------------------------------------

কাছে পেয়েও হারালে তুমি

 কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

*********************************

কাছে পেয়েও হারালে তুমি
শুধু অহংকারে,
শুধু অহংকারে!

যে হৃদয় তোমার দুয়ারে
ভালোবাসার প্রদীপ জ্বালিয়ে দাঁড়িয়েছিল,
তুমি তাকে ফিরিয়ে দিয়েছিলে
অবহেলার অন্ধকারে।

রূপের গর্বে তুমি চিনতে পারোনি
নিষ্পাপ প্রেমের ভাষা,
যৌবনের উন্মত্ততায় শুনতে পাওনি
একটি হৃদয়ের নীরব আর্তনাদ।

আজ তুমি একা
যেন সুবাসহীন গোলাপ
নিঃসঙ্গ বাগানে ফুটে আছে,
যেন দীপ আছে,
কিন্তু শিখা নেই।

যে প্রেমকে একদিন তুচ্ছ করেছিলে,
আজ সেই প্রেমের স্মৃতিতেই
তোমার চোখ ভিজে ওঠে।

হে অহংকারী সুন্দরী,
সব হারানোর মাঝেও
সবচেয়ে বড় হারানো হলো—
যে মানুষটি শুধু তোমাকেই ভালোবেসেছিল,
তাকে কাছে পেয়েও
চিরদিনের জন্য হারিয়ে ফেলা।॥

তাই আজ তুমি দাঁড়িয়ে আছো
নিজের নির্মিত শূন্যতার প্রাসাদে
মুকুট আছে,
কিন্তু রাজ্য নেই;
রূপ আছে,
কিন্তু প্রেম নেই;
জীবন আছে,
কিন্তু জীবনের কোনো বসন্ত নেই।

আর - তো সবচেয়ে বড় পরাজয়
কাছে পেয়েও
চিরদিনের জন্য
হারিয়ে ফেলা ভালোবাসার পরাজয়।॥

----------------------------------------------

শিরোনামঃ কোনদিন পড়নি

 কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

********************************************

তুমি কত গল্প পড়েছো,
কত কবিতা, কত উপন্যাস,
ইতিহাসের ধূসর পৃষ্ঠা উল্টে
খুঁজেছো রাজা-রানীর হারানো কাহিনি;
অথচ হৃদয়ের কাব্যখানা
কোনদিন পড়নি।

যে কাব্যের প্রতিটি শব্দ
শিশিরভেজা গোলাপের মতো কোমল,
যার প্রতিটি ছন্দ
পূর্ণিমার আলোয় ভেসে যাওয়া নদীর ঢেউ
সেই কাব্যের নাম ছিল
শুধুই তুমি।

আমি গোপনে লিখেছিলাম তাকে
বুকের গভীরতম অক্ষরে,
রক্তিম কৃষ্ণচূড়ার পাপড়ির মতো
ছড়িয়ে দিয়েছিলাম ভালোবাসার ভাষা।

প্রতিটি নিঃশ্বাস ছিল একটি চরণ,
প্রতিটি স্পন্দন ছিল একটি উপমা,
প্রতিটি স্বপ্ন ছিল তোমারই প্রতিচ্ছবি।

আর সেই দীর্ঘ কাব্যের
সবচেয়ে উজ্জ্বল পঙ্ক্তিতে
রক্ত দিয়ে লেখা ছিল

আমি তোমাকে ভালোবাসি।

কিন্তু তুমি,
হাজার বইয়ের পাঠক হয়েও,
সেই একটিমাত্র কাব্য
কোনদিন পড়নি।

---------------------------------------------------

চৌদিকে তাকালেই দেখি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।

----------------------------------------------

চৌদিকে হেরি শুধু বর্বরতার উল্লাস!
মানবতা আজ বন্দী খোয়াড়ে,
রুদ্ধ আজিকে শ্বাস!
মানুষের মনে হানা দিয়েছে যে ঘোর মরণ-আকাল,
স্নেহ-প্রেম-প্রীতি চূর্ণ করিয়া
জাগিছে কাল করাল!
অলি-গলি পাড়া-মহল্লায়
অপমান আর অপদস্তের মহড়া চলেছে নিত্য দিন,
ভুলে গিয়ে সব ঋণ—
ছোটরা করে না বড়দের সম্মান,
বড়রাও আজ স্নেহের জায়গায় করিছে বিষম ভান!
ধিক্! ওরে ধিক্!
পুত্র মারিছে জন্মদাতারে, কন্যা হানিয়ে দিক্!
আইন আজিকে অন্ধ-বধির,
জনতা নিয়েছে বিচার নিজের হাতে;
ন্যায়-নীতি সব পলায়নপর,
কাঁদিছে শোষিত বিষণ্ণ এই রাতে।
কচি শিশুদের কান্না-আর্তনাদে—
আকাশ বাতাসে বজ্র হানিছে বাণ,
ধর্ষিতা বোন লাঞ্ছিত ভাই,
কোথায় পরিত্রাণ?
আজ গুরু-শিষ্যের পবিত্র সেই তপোবন গেছে ভেসে,
স্বার্থের নীল বিষে—
ছাত্র-শিক্ষক মত্ত হয়েছে ক্ষমতার মহাবেশে!
রাজনীতি আজ শকুনের খেলা,
সিংহাসনের লোভ!
গণতন্ত্রের লাশ নিয়ে কাঁদে—
জনতার বুকে পুঞ্জীভূত এই ক্ষোভ!
বাক-স্বাধীনতা শৃঙ্খলে বাঁধা,
বুকের ওপরে চলিছে স্বৈরিচারী স্টীম-রোলার!
তবু ভয় নাই ওরে ও মজলুম,
তোল্ এবার তোর ধারালো ছোরার ধার!
ভেঙে ফেল্ এই জীর্ণ কেল্লা,
ছিঁড়ে ফেল্ এই জাল!
নতুনের কেতু উড়িয়ে আসুক—
রুদ্র-রূপী সেই প্রলয়-ভীষণ কাল!
তুই ধূমকেতু, তুই মহাকাল, তুই কুরুক্ষেত্র রণ,
আজ অন্যায় সব পুড়িয়ে কবি রে
বর্বরতার এই ভীষণ বিসর্জন!
---------------------------------------------

তবুও তুমি দিয়েছিলে গোলাপ

 কখন যে তুমি হৃদয়ে

নিঃশব্দে বসন্ত হয়ে এসেছিলে,

আমি টেরই পাইনি।

একই আকাশের নিচে হেঁটেছি,
একই মাঠে খেলেছি,
একই স্বপ্নের পথে চলেছি
তবু বুঝিনি,
তোমাকেই হৃদয়ের গভীরে এঁকে ফেলেছি।

হঠাৎ একদিন
তুমি চলে গেলে দূরে।

তারপর থেকেই
চারপাশে সবকিছু ঠিক থাকলেও
মনের ভেতর কেমন এক শূন্যতা বাসা বাঁধল।

প্রথমে ভেবেছিলাম
কেবল অভ্যাসের টান।
কিন্তু দিন যত গেল,
তুমি ততই গভীর হলে হৃদয়ে।

তখনও বুঝিনি ভালোবাসা কাকে বলে,
শুধু বুঝেছিলাম
তুমি ছাড়া হৃদয়
আকাশহারা চাঁদের মতো অপূর্ণ।

কথা কখনো বলা হয়নি,
"ভালোবাসি" শব্দটিও নয়।

তবু একদিন
তুমি দিয়েছিলে একটি গোলাপ।

সেই গোলাপের পাপড়িতে
লুকিয়ে ছিল হাজার অব্যক্ত কথা।

তুমিও হেসেছিলে,
আমিও বুঝেছিলাম।

দু'জনেই নীরব ছিলাম,
তবু দু'জনেই জানতাম

যেমন ফুল জানে ভ্রমরের ভাষা,
তেমনই তুমি আর আমি জানতাম
আমরা দু'জন দু'জনকে ভালোবাসি।

আজ সেই গোলাপ শুকিয়ে গেছে,
কিন্তু তার সুবাস রয়ে গেছে হৃদয়ে

কারণ,

তুমি কখনো "ভালোবাসি" বলোনি,
তবুও তুমি দিয়েছিলে গোলাপ। 🌹

-----------------------------------------------------------------

 

মা, আমি কোথায় যাব?

 কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

---------------------------------------------

বাবা কত অনুনয় করল
"
মা, আমি কোথায় যাব?
এই বৃদ্ধ বয়সে,
এই অসুস্থ শরীরে,
আমাকে ঘর থেকে তাড়িয়ে দিস না!"

কিন্তু করুণা জাগল না কারো হৃদয়ে।
চোখের জলে ভিজে গেল
পুরোনো সেই পাঞ্জাবিখানা,
কাঁপা হাতে চোখ মুছতে মুছতে
বেরিয়ে গেলেন তিনি
অজানা এক পথের উদ্দেশে।

যে হাত ধরে
হাঁটি হাঁটি পা পা করে
একদিন পৃথিবী চিনেছিল ছোট্ট মেয়েটি,
আজ সেই হাতই কাঁপে
লাঠির আঘাতে।

যে বাবা
পায়ের রক্ত মাথায় তুলে,
মাথার ঘাম পায়ে ফেলে,
ক্ষুধা লুকিয়ে,
স্বপ্ন বুনেছিলেন মেয়ের চোখে,
মানুষ করেছিলেন,
শিক্ষিত করেছিলেন,
প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন
আজ সেই বাবাই
নিজের ঘরে পরবাসী!

স্ট্রোকে জর্জরিত,
শরীরের ভারসাম্য হারানো
এই বৃদ্ধ মানুষটিকে
নিজের মেয়েই নাকি
লাঠি হাতে তাড়িয়ে দিল ঘরছাড়া করে!

কোথায় যাবে তিনি?
রোদে পোড়া কোনো পথের ধারে?
বৃষ্টিভেজা কোনো গাছতলায়?
নাকি রাতের অন্ধকারে
এক টুকরো আশ্রয়ের খোঁজে
ঘুরে বেড়াবে নিঃসঙ্গ পাখির মতো?

আর যে স্ত্রী,
পঞ্চাশ বছরের সংসারের সাথি,
সুখ-দুঃখের সহযাত্রী,
সেই তিনিও আজ
মেয়ের পাশে দাঁড়িয়ে
রাস্তার দিকেই দেখিয়ে দিলেন পথ!

কত নির্মম এই পৃথিবী!
কত নিষ্ঠুর এই সময়!

শিক্ষার ডিগ্রি আছে,
কিন্তু হৃদয়ের শিক্ষা কোথায়?
জ্ঞান আছে,
কিন্তু মানবতা কোথায়?

আজ বৃদ্ধ পিতার চোখের জলে
ডুবে যায় সভ্যতার অহংকার,
আর প্রশ্ন জাগে বারবার

সন্তান মানুষ করার
পুরস্কার কি তবে -?
স্নেহ, মায়া, মমতা,
ত্যাগ আর ভালোবাসার
শেষ পরিণতি কি
এক মুঠো অপমান?

হে মানুষ,
বৃদ্ধ বাবার কাঁপা চোখের দিকে তাকাও
সেখানে আজও সন্তানের জন্য
অভিশাপ নেই,
আছে শুধু নিঃশব্দ কান্না,
আর এক অসহায় পিতার
শেষ আর্তনাদ

"মা, আমি কোথায় যাব?"

-------------------------------------------------------