Monday, August 10, 2026

ওরা আজ চুপ কেন?

 কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট, কাপাসিয়া, গাজীপুর।

********************************************

ওরা বলেছিলভাস্কর্য হারাম,
বজ্রের কণ্ঠে উঠেছিল ফরমানভাস্কর্য হারাম!
মেঘের গর্জন, ঝড়ের তাণ্ডব, আগুন-ঝরা ভাষা,
কাঁপিয়ে দিয়েছিল বাংলার বুক, কাঁপিয়েছিল আকাশ!

বাহু তুলে হুঙ্কার দিয়ে বলেছিলভাঙো, চূর্ণ করো,
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতির যত চিহ্নসবই আজ দূর করো!
বঙ্গবন্ধু, শহীদ জিয়া, বীরশ্রেষ্ঠের অমর নাম,
জাতীয় নেতার স্মৃতিও নাকি পাবে না কোনো স্থান!

আজ সেই বজ্রকণ্ঠ কোথায় গেল? কোথায় সেই হুঙ্কার?
কেন আজ স্তব্ধ তোমাদের মুখ, থেমে গেছে অগ্নিধার?
যে কণ্ঠে ছিল বজ্রনাদ, যে কণ্ঠে ছিল ঝড়
আজ সে কণ্ঠ নীরব কেন, নিভে গেল সেই জ্বর?

ওরা আজ চুপ কেন?—
জনতার মনে প্রশ্ন জাগে;
বজ্র যদি সত্যিই ছিল,
কেন আজ তা মেঘে লাগে?

আমি বলিভাস্কর্য বিষয়ে আমারও আছে মত,
কিন্তু নীতির দাঁড়িপাল্লা হোক সবার সমতট।
যা হারাম, সবার তরে হারামএই হোক বিধান,
ধর্মের নামে বৈষম্য কেন? বলো তার সমাধান!

আমার জন্য কঠিন নিষেধ, তোমার জন্য ছাড়,
একই ধর্ম, একই বিধানকেন দুই ব্যবহার?
আমার বেলায় বজ্রপাত আর তোমার বেলায় ফুল,
কেমন সেই নীতির খেলা, কেমন ধর্মের ভুল?

নতুন যাদুঘরের প্রাঙ্গণে ভাস্কর্যের সারি,
আজও কেন নিস্তব্ধ তোমাদের সেই তেজস্বী ভারী?
কোথায় গেল মিছিল তোমার, কোথায় অগ্নিবাণ?
কেন আজকে স্তব্ধ তোমাদের বজ্র-উচ্চারণ?

হে ঝড়! তুমি বলো তবেতোমার কি কোনো দল?
হে নদী! তুমি কি দেখোকার ঘরে ঢেউয়ের জল?
সূর্য কি আলো বিলায় দেখে মানুষের পরিচয়?
বটের ছায়া কি বেছে নেয় কে আপন, কে পর হয়?

নাপ্রকৃতি জানে না কোনো দল, জানে না কোনো ভেদ,
আকাশ সবার, নদী সবার, সবার তরে রৌদ্র-ছায়ার স্নেহ।
তবে মানুষের নীতির বেলায় কেন এত কারসাজি?
ধর্মের নামে দ্বিমুখী খেলা কেমন রাজনীতি?

আমার জন্য যা হারাম
তোমার জন্য কি তা হালাল?
এই প্রশ্ন আজ জ্বলে ওঠে
বিবেকেরই মহাকাল!

যদি সত্যিই ধর্মের কথা, সত্যের পথে চলো,
হকের কথা হকভাবে বলো, মিথ্যার মুখোশ খোলো।
ধর্মকে করো না রাজনীতির স্বার্থের হাতিয়ার,
পবিত্র নাম কলুষিত কোরো না ক্ষমতার কারবার!

মুক্তিযুদ্ধের রক্তস্মৃতি মুছে ফেলবে কেমন করে?
শহীদের রক্ত কি শুকিয়ে যায় কালের স্রোত ধরে?
যে রক্তে এই স্বাধীনতা, যে রক্তে লাল পতাকা,
সে ইতিহাস মুছে ফেলতে পারে না কোনো কালো আঁধার-ঢাকা!

স্মৃতিস্তম্ভ ভাঙতে পারো, পাথর করতে পারো চূর্ণ,
কিন্তু মানুষের হৃদয় থেকে ইতিহাস করা কি সম্ভব ম্লান?
কালো মেঘে সূর্য ঢাকোসূর্য কি তাতে মরে?
মিথ্যার প্রাসাদ যতই গড়োসত্য উঠবেই ঘুরে!

হে বজ্র! আজ গর্জে ওঠো, কাঁপাও মিথ্যার সিংহাসন,
হে ঝড়! ছিন্ন করো আজ দ্বিচারিতার আবরণ!
হে আগুন! জ্বালো শিখা, পোড়াও ভণ্ডতার জাল,
হে সূর্য! সত্যের আলোয় ভেঙে দাও কালো জঞ্জাল!

ভাস্কর্য নিয়ে মত থাকুকথাকুক মতের ভেদ,
কিন্তু নীতির মাপকাঠি হোক সবার জন্য এক বিধান-নির্বেদ।
প্রতিবাদ যদি করোকরো সত্যের অধিকার,
কিন্তু একই অপরাধে রেখো না দুই ব্যবহার!

ধর্ম যদি হয় সত্যের দীপ, তবে দীপ জ্বালো,
অন্ধকারের রাজনীতি ছেড়ে সত্যের পথে চলো।
বিশ্বাসকে করো না বিক্রি ক্ষমতার বাজারে,
হকের কথা উচ্চারণ করো নির্ভীক অগ্নিধ্বনির ভারে!

ওঠো হে মানুষ! জাগো হে প্রাণ! বিবেকের দ্বার খোলো,
মিথ্যার যত কালো মুখোশ ছিঁড়ে ফেলে বলো
সত্য এক, ন্যায় এক, বিধান হবে সবার;
ধর্মের নামে দ্বিচারিতামানি না আর, মানি না আর!”

যে কথা বলো নিজের বেলায়, সেই কথা বলো পরের বেলায়,
যে বিধান দাও অন্যকে, নিজেও দাঁড়াও সেই মেলায়।
নিজের ঘরে এক আইন আর পরের ঘরে আরেক
এই ভণ্ড নীতির বিষধর সাপ আজই হোক ছারখার এক!

জনতার চোখে আজ আর ধোঁয়া দিয়ে লাভ হবে না,
বজ্রকণ্ঠের পুরোনো গল্পে বিবেক ঘুমাবে না।
প্রশ্ন উঠেছেউত্তর দাও, নীরব থেকো না আর,
সত্য যদি বুকে থাকেখুলে দাও তার দ্বার!

ওরা আজ চুপ কেন?—
এই প্রশ্ন জ্বলুক প্রাণে;
সত্যের সূর্য উঠবেই একদিন
বাংলার লাল-সবুজ গানে!

আমি চাই না মূর্তি নিয়ে হোক মানুষের রক্তপাত,
চাই না ধর্মের নামে জাগুক বিদ্বেষের রাত।
চাই শুধু নীতি হোক নীতি, সত্য হোক সত্য,
বিচারের সূর্য উঠুক সবার মাথার উপর সমান নিত্য!

ভাঙতে যদি চাওভাঙো আগে মিথ্যার অন্ধকার,
চূর্ণ করো ভণ্ডামির দুর্গ, মুছে দাও স্বার্থের কারবার।
মানুষের বিবেক জাগাও, সত্যের পতাকা তোলো,
হক কথা কও নির্ভয়েঅন্যায়ের বিরুদ্ধে চলো!

বজ্র হওকিন্তু ন্যায়ের,
আগুন হওসত্যের;
বিপ্লব হোক বিবেকের,
জয় হোক মানুষের!

ওরা আজ চুপতবু প্রশ্ন থামবে না কোনোদিন,
সত্যের নদী পথ খুঁজে নেয়, ভাঙে পাষাণ-প্রাচীর ক্ষণক্ষণ।
কালো রাত যতই ঘন হোক, ভোর আসবেই শেষে
সত্যের জয় হবেই একদিন
মানুষ জাগলে, বিবেক হাসলে,
মিথ্যা যাবে নিঃশেষে!

-------------------------------------------------------------