মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬

বাবা দিবসের প্রার্থনা (গান)

 কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

****************************************

তোমাকে নিয়ে কবিতা লিখতে বসলে
কলম কাঁপে, ভাষা থেমে যায়,
কারণ তুমি কোনো শব্দ নও—
তুমি এক মহাকাব্য;
তুমি কোনো অনুভূতি নও—
তুমি অনুভূতিরও উৎস।

তুমি ছিলে আমার জীবনের সেই বিশাল বটবৃক্ষ,
যার ছায়ায় দাঁড়িয়ে আমি
ঝড়কে উপহাস করতে শিখেছি।
তুমি ছিলে মরুপ্রান্তরের মুসাফিরের জন্য
শীতল কাওসারের ধারা,
অন্ধকার রজনীর নিঃসঙ্গ আকাশে
ধ্রুবতারা হয়ে পথ দেখানো এক অনন্ত নূর।

হে প্রিয় বাবা...

তোমার দু’টি হাত ছিল
আমার ভাগ্যের কিবলা,
তোমার কণ্ঠস্বর ছিল
ভীত হৃদয়ের জন্য আজানের মতো প্রশান্তি।
যখন পৃথিবী আমাকে প্রত্যাখ্যান করেছে,
তখন তোমার বক্ষ ছিল
আমার জন্য নিরাপদ হারাম।

তুমি ছিলে সেই দরিয়া,
যে নিজে শুষ্ক হয়ে
সন্তানের তৃষ্ণা নিবারণ করে।
তুমি ছিলে সেই শমা,
যে নিজে জ্বলে জ্বলে
অন্যের জীবন আলোকিত করে।
তুমি ছিলে সেই গুলিস্তানের গোলাপ,
যার শরীর ক্ষতবিক্ষত হলেও
সুবাস বিলিয়ে যায় নিরবধি।

হে প্রিয় বাবা...
তুমি আমার হৃদয়ের চিরন্তন চিরাগ...

আমি দেখেছি—
রাতের শেষ প্রহরে
তোমার সিজদারত অবয়ব,
দেখেছি সন্তানের জন্য
চোখের কোণে জমে থাকা অশ্রুর শিশির।
দুনিয়া দেখেছে তোমার কঠোর মুখ,
আর আমি দেখেছি
সেই মুখের আড়ালে লুকিয়ে থাকা
রহমতের সমুদ্র।

বাবা...

তোমার কপালের প্রতিটি ভাঁজ
একেকটি যুদ্ধের ইতিহাস,
তোমার শুভ্র কেশরাশি
সময়ের লিখে যাওয়া ত্যাগের কাসিদা।
তোমার পদচিহ্নের উপর ভর করেই
আমি জীবনের সড়ক অতিক্রম করেছি,
তোমার দোয়ার পাখায় ভর করেই
উড়েছি স্বপ্নের আকাশে।

তোমার দোয়ার পাখায় ভর করেই—
উড়েছি স্বপ্নের আকাশে...

আজ যখন আয়নার সামনে দাঁড়াই,
নিজের মুখে তোমার ছায়া দেখি।
নিজের কণ্ঠে তোমার প্রতিধ্বনি শুনি।
তখন বুকের ভেতর এক অদ্ভুত হুজুন জাগে—

একদিন আমিও বৃদ্ধ হবো,
কিন্তু তোমার মতো মহান হতে পারবো কি?

হে আমার প্রিয় বাবা...

তুমি পৃথিবীর বুকে আল্লাহর দেওয়া
সবচেয়ে সুন্দর নিয়ামত,
সবচেয়ে পবিত্র আমানত।
তোমার ভালোবাসা ছিল
শীতের কুয়াশায় জেগে থাকা উষ্ণ সূর্য,
বর্ষার ঝড়ের মাঝে জ্বলতে থাকা বাতিঘর,
আর জীবনের সাহারায় ফুটে থাকা
একমাত্র গোল-এ-মুহাব্বাত।

হে প্রিয় বাবা,
তুমি আমার হৃদয়ের মেহরাবে
জ্বলতে থাকা চিরন্তন চিরাগ।

আজ বাবা দিবসে
আমার রূহের সমস্ত দুয়ার খুলে
আমি শুধু এই মুনাজাত করি—

হে রব্বে কারীম!

আমার বাবার জীবনে বর্ষণ করো
রহমতের বৃষ্টি,
সাকিনার সুবাতাস,
আফিয়াতের গোলাপবাগান।

[আমীন...
আমীন...

হে প্রিয় বাবা,

তুমি আমার হৃদয়ের মেহরাবে জ্বলতে থাকা
চিরন্তন চিরাগ;

চিরন্তন চিরাগ...

যতদিন বেঁচে থাকি,
ততদিন তোমার নামই হবে—

আমার শ্রেষ্ঠ দোয়া...

আমার শ্রেষ্ঠ কবিতা...

আমার শ্রেষ্ঠ ভালোবাসা...

তোমার ঋণ শোধ করার সাধ্য আমার নেই,
তাই আজও প্রতিটি সিজদায়,
প্রতিটি অশ্রুবিন্দুতে,
প্রতিটি মুনাজাতে
তোমার জন্যই উচ্চারিত হয় আমার প্রার্থনা—

রাব্বির হামহুমা
কামা রাব্বাইয়ানী সাগীরা।

রাব্বির হামহুমা...
কামা রাব্বাইয়ানী সাগীরা...

-----------------------------------------------

 

জাগো হে রাওনাট স্কুল(গান)

 জাগো হে রাওনাট স্কুল(গান)

কলমেঃ মোঃ আমিুনল এহছান মোল্লা

রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর

********************************************

এই যে মাটির আঙিনা,
এই
যে প্রিয় বিদ্যালয়,
কত স্বপ্নের জন্ম এখানে,
কত জীবনের জয়।
মায়ের দোয়া, বাবার স্বপ্ন,
মিশে আছে ধুলায়,
শিক্ষকের স্নেহের ছায়া
আজও হৃদয় জুড়ায়।

জাগো হে, জাগো হে,
জাগো হে রাওনাট স্কুল,
জ্ঞান-আলোর দীপ জ্বেলে
ফুটুক হাজার জ্ঞানের ফুল।

জাগো হে শিক্ষকমণ্ডলী,
জাগো অভিভাবক,
জাগো প্রিয় ছাত্র-ছাত্রী,
জাগো শুভানুধ্যায়ক।
ম্যানেজিং কমিটির সবাই,
সুধী জ্ঞানীগুণীজন,
হাত মিলিয়ে গড়ে তুলি
আগামীর প্রজন্ম।

যাঁরা গড়েছেন এই প্রতিষ্ঠান,
দিয়েছেন শ্রম-ঘাম,
কৃতজ্ঞ চিত্তে স্মরণ করি
তাঁদের পবিত্র নাম।
তাঁদের ত্যাগে গড়া আজ
ঐতিহ্যের এই ঘর,
রাওনাটের গর্ব হয়ে
আলো ছড়াক পরপর।

জাগো হে, জাগো হে,
রাওনাট স্কুল জাগো,
জ্ঞান-নীতি-মানবতায়
নতুন দিনের প্রদীপ জ্বালাও।
জাগো হে, জাগো হে,
আদর্শের নিকেতন,
তোমার গৌরব বেঁচে থাকুক
প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম।

ওরে প্রিয় ছাত্র-ছাত্রী,
তোমরা আগামীর আলো,
মোবাইলের নেশা নয়,
বইকে ভালোবাসো।
বেপরোয়া বাইক নয়,
মাদক নয়, ধূমপান নয়,
ইভটিজিং, কিশোর গ্যাং—
এসব তোমার জীবন নয়।

সন্ধ্যার আগে ঘরে ফিরো,
মায়ের মুখে হাসি দাও,
খেলার মাঠে প্রাণটা মেলো,
সুস্থ জীবনের গান গাও।
শিক্ষককে দাও সম্মান,
ছোটদের দাও স্নেহ,
মানবতার পাঠ শিখে
মানুষ হও হৃদয় দিয়ে।

ফিরে এসো বইয়ের ঘরে,
ফিরে এসো মাঠে,
সত্য-নীতির স্বপ্ন নিয়ে
চলো আলোর পথে।

যদি কোথাও ম্লান হয় আজ
ফলাফলের আলো,
সবাই মিলে জ্বালব আবার
সাফল্যেরই আলো।
মেধাবীদের কৃতিত্বে
উজ্জ্বল হোক নাম,
রাওনাটের প্রতিটি সন্তান
হোক দেশের সম্মান।

কেউ হয়েছে ডাক্তার,
কেউ ইঞ্জিনিয়ার,
কেউ শিক্ষক, কেউ প্রশাসনে
দেশের সেবায় নিয়োজিত।
কত কৃতী সন্তান তোমার,
তোমারই তো দান,
তাদের সাফল্যে উজ্জ্বল হোক
রাওনাটের নাম।

আজকের এই গৌরব দিনে
মনে পড়ে আপনজন,
সৈয়দ আক্তারুজ্জামান ফরিদ—
এই বিদ্যালয়ের গর্বিত সন্তান।
মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক
শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান তিনি,
রাওনাটের এই বিদ্যাপীঠ
গর্বে তাঁকে স্মরণ করি।

রাওনাটের সন্তান তুমি,
রাওনাটের গর্ব,
তোমার সাফল্যে উজ্জ্বল আজ
এই বিদ্যালয়ের রূপ।

শিক্ষার আলো জ্বালতে যারা
মানুষের পাশে রয়,
বন্ধন ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন
সেবার শপথ লয়।
শিক্ষা, সেবা, মানবতার
পথে থাকবে পাশে,
রাওনাট স্কুলের স্বপ্নগুলো
ফুটুক ভালোবাসায়।

কৃতি শিক্ষার্থীর চোখে থাকুক
নতুন দিনের স্বপ্ন,
মেধা, নীতি, মানবতায়
গড়ুক সোনার প্রজন্ম।

এই স্কুল শুধু স্কুল নয়,
এ আমাদের প্রাণ,
এখানে লেখা কত মানুষের
জীবনেরই গান।
এই স্কুল শুধু ভবন নয়,
এ স্বপ্ন গড়ার ঘর,
শিক্ষকের ঋণ, মায়ের দোয়া
থাকুক হৃদয়ভর।

শিক্ষক জাগো!

অভিভাবক জাগো!

ম্যানেজিং কমিটি জাগো!

সুধী জ্ঞানীগুণীজন জাগো!

ছাত্র-ছাত্রী জাগো!

রাওনাট স্কুল জাগো!

জাগো! জাগো! জাগো!

জাগো হে, জাগো হে,
জাগো হে রাওনাট স্কুল,
জ্ঞান-আলোর দীপ জ্বেলে
ফুটুক হাজার জ্ঞানের ফুল।

জাগো হে, জাগো হে,
আদর্শের নিকেতন,
তোমার গৌরব বেঁচে থাকুক
প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম।

দেশকে ভালোবাসো,
মানুষকে ভালোবাসো,
সত্যের পথে এগিয়ে চলো,
বাংলাদেশকে গড়ো।

রাওনাট স্কুল...
আমাদের গর্ব...
রাওনাট স্কুল...
আমাদের প্রাণ...

যাঁরা গড়েছেন, শ্রদ্ধা তাঁদের,
যাঁরা আছেন, পাশে থাকুন,
যারা আসবে আগামী দিনে
আলোর পথে তাদের ডাকুন।

রাওনাট স্কুল—
চিরজাগ্রত হোক!

রাওনাট স্কুল—
চিরগৌরবময় হোক!

জাগো হে!
জাগো হে!
জাগো হে রাওনাট স্কুল!

-----------------------------------

বাবা দিবসের প্রার্থনা (গান)

  কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর **************************************** তোমাকে নিয়ে কবিতা লিখতে বসলে কলম...