কবি তবু অপলক চেয়ে
কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
************************************
পড়ন্ত বিকেলের নরম অন্ধকারে
ঝিলের ধারে এক কবি অপলক চেয়ে থাকে—
শূন্যতার দিকে, যেন শূন্যতারই গভীরে
কারো পায়ের শব্দ হারিয়ে গেছে বহু আগে।
উত্তরের টিলায় হয়তো আজও
গোধূলীর আভা লেগে আছে ধানের শিষে;
সেই আভার ভিতর দিয়ে
কেউ আসার কথা ছিল—
হাতে একটি লাল গোলাপ,
বাতাসে দুলতে থাকা নীরব প্রতিশ্রুতি।
অদূরের যে বাড়িটি সন্ধ্যার কুয়াশায়
আধা দেখা যায়, আধা অদৃশ্য—
হয়তো তার জানালার পাশে দাঁড়িয়ে আছে সে,
হয়তো ফুল বাগানে একা পাপড়ি ছুঁয়ে,
হয়তো খেলার মাঠের চারিপাশে
ঘুরে ঘুরে খুঁজছে অনামা কোনো সুর।
কবি তবু অপলক চেয়ে থাকে।
চেয়ে থাকে—
যেন চোখের ভেতর গোধূলী জমে ওঠে নদীর মতো।
কোথাও সে নেই—
তবু সে আছে প্রত্যাশার মতো
ধানের শীষের নরম দোলায়।
সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসে।
পাখিরা নীরবে ফিরে যায় বাড়ি—
ডানায় লেগে থাকে ক্লান্ত সোনালী আলো।
ধানক্ষেত আরও সোনালী হয়ে ওঠে,
যেন দিনের শেষ রক্তিম স্বপ্ন
মাটির বুকে ঢেলে দিয়েছে কেউ।
ঝিলের জল শান্ত, নিবিড়—
অতল আয়নার মতো নিঃশব্দ।
সারি সারি গাছ দাঁড়িয়ে থাকে
কবির নিঃসঙ্গতার প্রহরী হয়ে।
তবু কবি অপলক চেয়ে—
যদি সে আসে!
যদি গোধূলীর ক্ষণিক আলোয়
একবার চোখে চোখ রাখে—
যদি বলে, “আমি তোমাকে ভালোবাসি”—
এই নাও প্রেমের গোলাপ,
এই নাও প্রতীক্ষার লাল আগুন।
কিন্তু সন্ধ্যা আরও গভীর হয়,
নীল থেকে কালো—
তবু সে এল না।
তবু সে বলল না।
তবু কবি ভালোবাসে—
শূন্যতার দিকে চেয়ে,
ভালোবাসে ধানের সোনালী নিঃশ্বাস,
ঝিলের নিস্তব্ধ জলে ভাসা আকাশ,
গোধূলীর ম্লান আলোয় হারিয়ে যাওয়া
এক অনামা পদচিহ্ন।
সে না এলেও—
অপেক্ষাই যেন তার প্রেম;
শূন্যতার দিকে অপলক চেয়ে থাকাই
তার একমাত্র উচ্চারণ।
এভাবেই কবি দাঁড়িয়ে থাকে—
গোধূলীর পর গোধূলী,
শূন্যতার ভেতর এক গোলাপের স্বপ্ন নিয়ে।
-------------------------------------------
১৮-০২-২০২৬
No comments:
Post a Comment