Wednesday, June 3, 2026

ফেসবুক ত্রাস

 কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

************************************

প্রিয় তরুণ যুবসমাজ,
আসসালামু আলাইকুম।

আজ আমাদের সামনে এক মহাসংকটযার নাম 'ফেসবুক ত্রাস'
যে স্মার্টফোনটি হওয়ার কথা ছিল বিশ্বজয়ের চাবিকাঠি,
তা আজ রূপ নিয়েছে এক মারাত্মক ডিজিটাল মাদকে!

ফেসবুকের ওই কৃত্রিম নীল আলো আজ আমাদের বিবেকের আলো কেড়ে নিচ্ছে।
এখানে আজ আলোর চেয়ে অন্ধকারের চাষ হচ্ছে বেশি।
চারিদিকে চলছে গুজবের উৎসব আর চরিত্র হননের নোংরা প্রতিযোগিতা।
অন্যকে ট্রোল করা, সাইবার বুলিং করা আর ফেক আইডির পেছনে লুকিয়ে সম্মানহানি করা
কোনো বীরত্ব নয়, এটি চরম কাপুরুষতা জঘন্য ডিজিটাল সন্ত্রাস!

এই ত্রাসের কারণে আজ কত শত তাজা প্রাণ অকালে ঝরে যাচ্ছে।
অথচ আমরা লাইক-কমেন্টের লোভে বাস্তব জীবনকে বিসর্জন দিচ্ছি।
ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্ক্রল করে নিজের অমিত সম্ভাবনাকে হত্যা করছি।
বইয়ের পাতায় আজ ধুলো জমছে, খেলার মাঠগুলো খাঁ খাঁ করছে,
আর যুবসমাজ পরিণত হচ্ছে অলস, উগ্র ধৈর্যহীন এক প্রজন্মে।

হে তারুণ্য, জেগে উঠুন!
এই ফেসবুক ত্রাসের বিষাক্ত জাল ছিঁড়ে বেরিয়ে আসুন মুক্ত আকাশে।
প্রযুক্তিকে ব্যবহার করুন, প্রযুক্তির গোলাম হবেন না।

মনে রাখবেন
একটি লাইকের চেয়ে একটি ভালো বই অনেক বেশি মূল্যবান।
ভার্চুয়াল করতালির চেয়ে মা-বাবার মুখের হাসি কোটি গুণ বেশি দামি।

আসুন, আজই আমরা দৃঢ় শপথ নিই

·        যাচাই না করে কোনো তথ্য বা গুজব ছড়াব না।

·        সাইবার বুলিং ট্রোল সংস্কৃতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াব।

·        ফিরে যাব খেলার মাঠে এবং লাইব্রেরির টেবিলে।

প্রযুক্তি দিয়ে আমরা দাসত্ব নয়, প্রগতির ইতিহাস লিখব।
ডিজিটাল সন্ত্রাসমুক্ত সুস্থ সমাজ গড়ে তোলাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।

ধন্যবাদ সবাইকে। তারুণ্যের জয় হোক!


নৈতিক শিক্ষা

 কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর

সুধীজন,

 

আজ আমি কোনো কাল্পনিক স্বর্গের উপাখ্যান শোনাতে আসিনি। এসেছি আমাদের চেনা চারপাশের রূঢ়, নগ্ন এবং যন্ত্রণাদায়ক বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে কাব্যিক ভাষায় এক আত্মিক সত্য উচ্চারণ করতে। আজ আমার বক্তব্যের প্রতিপাদ্য—‘নৈতিক শিক্ষা


সুধীজন,
আমরা আজ এক অদ্ভুত বৈপরীত্যের যুগে বাস করছি। আমাদের অট্টালিকাগুলো আকাশ ছুঁতে চাইছে, কিন্তু মানুষের মন নেমে গেছে পাতালে। পিচঢালা রাজপথে আজ দামি গাড়ির অভাব নেই, কিন্তু সেই গাড়ির নিচে পিষ্ট হওয়া রক্তাক্ত পথচারীকে তুলে নেওয়ার মতো একটা মানবিক হাত আজ বড় দুর্লভ। আমাদের ঘরের টেবিলগুলো জিপিএ- আর গোল্ডেন প্লাসের সনদে উপচে পড়ছে, কিন্তু বুক পকেটে হাত দিয়ে দেখুন তোসেখানে কি এক ফোঁটা সততা অবশিষ্ট আছে?

কবির ভাষায় বলতে ইচ্ছে করে
"
বিদ্যা সহজ, শিক্ষা কঠিন,
বিদ্যা বাহ্য, শিক্ষা অন্তরীন।"

আজকের সমাজ যেন এক সুসজ্জিত মরুভূমি। যেখানে মেধার প্রখর রোদ আছে, কিন্তু তৃষ্ণা মেটানোর মতো নৈতিকতার জল নেই। আমরা সন্তানদের গণিত শেখাচ্ছি নিখুঁত হিসাব মেলাতে, কিন্তু জীবনের হিসাবটা যে শুধু অঙ্কে মেলে নাতা শেখাচ্ছি না। আমরা তাদের বিজ্ঞান শেখাচ্ছি পৃথিবী জয় করতে, কিন্তু নিজের ভেতরের কুপ্রবৃত্তিকে জয় করার মন্ত্র দিচ্ছি না।

বাস্তবতার দিকে তাকিয়ে দেখুনযে হাতগুলো সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের সর্বোচ্চ ডিগ্রিতে রঞ্জিত, সেই হাতগুলোই আজ কলমের এক আঁচড়ে কোটি ভুখা মানুষের গ্রাস কেড়ে নিচ্ছে। স্টেথোস্কোপ গলায় ঝুলিয়ে চিকিৎসকের মন আজ কসাইয়ের চেয়েও নির্মম। টাই পরা সুধী মানুষটিই ফাইলে সই করার জন্য টেবিলের নিচ দিয়ে ঘুষের হাত খুঁজছে। বৃদ্ধ বাবা-মাকে যখন সুপ্রতিষ্ঠিত সন্তানেরা ওল্ড হোমে নির্বাসনে পাঠায়, তখন প্রমাণিত হয়আমাদের মেধা জিতেছে, কিন্তু নৈতিকতা হেরে গেছে। এই প্রাতিষ্ঠানিক অহংকার আসলে শিক্ষার মোড়কে এক সুসভ্য পরিমার্জিত বর্বরতা! নৈতিকতাহীন মেধা হলো শাণ দেওয়া খড়্গযা সমাজকে সুরক্ষিত করে না, বরং প্রতিনিয়ত ক্ষতবিক্ষত রক্তাক্ত করে।


হে প্রদীপ্ত চেতনার অধিকারী সুধীবৃন্দ,
যদি কেবল কাগজের টুকরো জমানোর নাম শিক্ষা হয়, তবে সেই শিক্ষার পায়ে আমি হাজারবার সালাম জানাই। আমাদের আজ এমন এক বৈপ্লবিক পুনর্জাগরণ প্রয়োজন, যা মানুষকে শুধু জীবিকার সন্ধান দেবে না, জীবনের সন্ধান দেবে। আসুন, আগামী প্রজন্মের হাতে শুধু ল্যাপটপ আর স্মার্টফোন তুলে না দিয়ে, তাদের হৃদয়ে বুনে দিই সততা, দয়া আর মানবতার বীজ। মেধা হোক তরবারি, আর নৈতিকতা হোক তার খাপযেন তরবারি কখনো আপন বুক চিঁড়ে না ফেলে।

বিবেকের এই মহাশ্মশানে দাঁড়িয়ে আসুন সবাই মিলে শপথ নিইআমরা শুধু শিক্ষিত হবো না, আমরা নৈতিক শিক্ষার আলোয় খাঁটি মানুষ হবো।

ধন্যবাদ,

---------------------------------------------------------------------