Tuesday, June 16, 2026

ডাঃ মোহাম্মদ সানাউল্লাহ

 সম্মানিত ভাই ও বোনেরা

মানুষের জীবন কখনো কখনো প্রদীপের মতো—নিজে জ্বলে, চারপাশকে আলোকিত করে। আবার কখনো সে হয় বটবৃক্ষের মতো—নিজে দাঁড়িয়ে থেকে অসংখ্য মানুষকে ছায়া দেয়। তেমনই এক আলোকিত ব্যক্তিত্ব ছিলেন কাপাসিয়ার কৃতিসন্তান, চিকিৎসক, সমাজসেবক ও সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সানাউল্লাহ

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার খিরাটী গ্রামের পবিত্র মাটিতে তাঁর জন্ম। সেই গ্রামের মেঠোপথ, সবুজ ধানক্ষেত আর জনপদের সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ তাঁর হৃদয়ে গেঁথে ছিল আজীবন। চিকিৎসক হিসেবে তিনি ছিলেন মানবসেবার এক নিবেদিত সৈনিক। রোগীর কষ্ট দেখলে তাঁর হৃদয় কেঁদে উঠত; যেন একজন চিকিৎসক নন, একজন অভিভাবক পাশে দাঁড়িয়েছেন বিপন্ন মানুষের।

রাজনীতির অঙ্গনেও তিনি ছিলেন এক পরিচিত নাম। ১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী হিসেবে তৎকালীন ঢাকা-২২, বর্তমান গাজীপুর-৪ (কাপাসিয়া) আসন থেকে জনগণের বিপুল সমর্থনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। জনগণের ভালোবাসা ছিল তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি, আর মানুষের কল্যাণ ছিল তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের মূলমন্ত্র।

তিনি বিশ্বাস করতেন—ক্ষমতা কোনো অলংকার নয়, এটি মানুষের সেবা করার একটি দায়িত্ব। তাই তিনি সংসদ সদস্যের আসনকে ব্যক্তিগত গৌরবের মঞ্চ নয়, বরং জনকল্যাণের কর্মক্ষেত্র হিসেবে দেখেছিলেন। তাঁর কর্মময় জীবন ছিল নদীর মতো—নিরবচ্ছিন্ন, গতিশীল এবং মানুষের উপকারে নিবেদিত।

জীবনের দীর্ঘ পথচলায় তিনি অসংখ্য মানুষের ভালোবাসা অর্জন করেছেন। একজন চিকিৎসক হিসেবে তিনি শরীরের ব্যথা সারিয়েছেন, আর একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার ভাষা হয়ে উঠেছেন। তিনি ছিলেন এমন এক দীপশিখা, যার আলো আজও স্মৃতির আকাশে জ্বলজ্বল করে।

২০১৭ সালের ২৫ জুন, ঢাকার হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। কিন্তু মহৎ মানুষের মৃত্যু হয় না; তাঁরা বেঁচে থাকেন কর্মে, আদর্শে এবং মানুষের হৃদয়ের গভীরে। তাঁর প্রস্থান ছিল সূর্যাস্তের মতো—দৃষ্টির আড়ালে যাওয়া, কিন্তু আলো রেখে যাওয়া।

আজ আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি এই জননেতা, চিকিৎসক ও মানবপ্রেমী ব্যক্তিত্বকে। তাঁর কর্ম, তাঁর সততা এবং মানুষের প্রতি তাঁর অকৃত্রিম ভালোবাসা আগামী প্রজন্মের জন্য হয়ে থাকুক অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল বাতিঘর।

মোহাম্মদ সানাউল্লাহকে জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা। তাঁর স্মৃতি অম্লান হোক, তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকুক বাংলাদেশের ইতিহাসে।

ধন্যবাদ।

No comments:

Post a Comment