বিসমিল্লাহির
রাহমানির রাহিম।
প্রিয়
দর্শকবৃন্দ,
কখনো
কখনো কোনো মানুষ শুধু একটি নাম হয়ে থাকেন না; তিনি হয়ে ওঠেন একটি জনপদের স্বপ্ন, একটি প্রজন্মের প্রেরণা, একটি অঞ্চলের অহংকার। যেমন ভোরের সূর্য পূর্বাকাশে উদিত হয়ে চারপাশ আলোকিত করে, তেমনি গাজীপুরের কাপাসিয়ার মাটিতে জন্ম নেওয়া অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান (ফরিদ) আজ তাঁর মেধা,
প্রজ্ঞা ও নিরলস সাধনার
আলোয় আলোকিত করেছেন সমগ্র দেশের শিক্ষা অঙ্গন।
ঢাকা
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক
শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর নিয়োগ শুধু একটি প্রশাসনিক পদায়ন নয়; এটি মেধা, সততা, অধ্যবসায় এবং দীর্ঘ সংগ্রামী পথচলার এক উজ্জ্বল স্বীকৃতি।
রাওনাট আদর্শ উচ্চ বিদ্যানিকেতনের প্রাক্তন মেধাবী ছাত্র হিসেবে তিনি শৈশব থেকেই জ্ঞানার্জনের দীপশিখা বুকে ধারণ করেছিলেন। জীবনের প্রতিটি ধাপে কঠোর পরিশ্রম, আত্মনিবেদন ও অদম্য প্রত্যয়ের
মাধ্যমে তিনি আজকের এই সম্মানজনক অবস্থানে
পৌঁছেছেন। তাঁর এই সাফল্য প্রমাণ
করে—মাটির কাছ থেকে উঠে আসা স্বপ্নও একদিন আকাশ ছুঁতে পারে।
১৬তম
বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের এই গুণী কর্মকর্তা
ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে দক্ষতা, সততা ও দূরদর্শিতার অনন্য
দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হলে
তিনি অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে সেই দায়িত্বও পালন করেন। এর আগে কুমিল্লার
গৌরিপুর মুন্সি ফজলুর রহমান সরকারি কলেজে দীর্ঘ নয় বছর নিষ্ঠা
ও সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সহকর্মীদের হৃদয়ে
স্থায়ী আসন গড়ে নিয়েছেন।
আজ
যখন তিনি ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের শীর্ষ দায়িত্বে অধিষ্ঠিত হয়েছেন, তখন কাপাসিয়ার আকাশে যেন গৌরবের নতুন রংধনু ফুটে উঠেছে। শীতলক্ষ্যার ঢেউ, কাপাসিয়ার সবুজ মাঠ, শিশিরভেজা ধানক্ষেত আর গ্রামের মেঠোপথ
যেন গর্বে উচ্চারণ করছে—"এই সন্তান আমাদেরই।"
আমরা
বিশ্বাস করি, তাঁর প্রজ্ঞা হবে ধ্রুবতারার মতো দিকনির্দেশক, তাঁর নেতৃত্ব হবে বর্ষার নির্মল ধারার মতো প্রাণবন্ত, আর তাঁর কর্মদক্ষতা
শিক্ষা ব্যবস্থায় বয়ে আনবে নতুন সম্ভাবনার সুবাতাস। তাঁর হাত ধরে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও গতিশীল হয়ে
দেশের শিক্ষার মানোন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
গাজীপুরবাসী
তথা কাপাসিয়াবাসীর পক্ষ থেকে এই কৃতি সন্তানকে
জানাই প্রাণঢালা অভিনন্দন, আন্তরিক শুভেচ্ছা এবং অফুরন্ত ভালোবাসা। মহান আল্লাহ তাআলা তাঁকে সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং নতুন দায়িত্ব পালনের শক্তি ও প্রজ্ঞা দান
করুন।
কাপাসিয়ার
এই সূর্যসন্তান আরও দীপ্ত হোন, আরও আলোকিত করুন দেশের শিক্ষা-আকাশ—এই প্রার্থনায় আজকের
বক্তব্য শেষ করছি।
অভিনন্দন
প্রিয় স্যার।
অভিনন্দন কাপাসিয়া।
অভিনন্দন বাংলাদেশের শিক্ষাঙ্গন।
ধন্যবাদ।
No comments:
Post a Comment