কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*********************************
আজ আমি এক অবহেলিত গোলাপ—
নিঃসঙ্গ বাগানের কোণে দাঁড়িয়ে থাকা
স্মৃতিভারাক্রান্ত কোনো প্রেমপত্রের মতো।
পাপড়িগুলো শুকিয়ে আসে ধীরে ধীরে,
যেন বিরহিণীর চোখের কোণে জমে থাকা
শেষ অশ্রুবিন্দুর লাল আভা।
একদিন
আমাকেই ঘিরে ছিল বসন্তের উৎসব।
দক্ষিণা বাতাস আমার সুবাস চুরি করে
নিয়ে যেত দূর-দিগন্তে;
ভ্রমররা মধুর লোভে নয়,
ভালোবাসার অজুহাতে
আমার চারপাশে রচনা করত অনন্ত গুঞ্জরণ।
কত
প্রেমিক আমাকে বুকে চেপে বলেছে—
“তুমি আমার হৃদয়ের রক্তিম স্বপ্ন!”
কত প্রেমিকা আমার পাপড়িতে লুকিয়ে রেখেছে
অপ্রকাশিত অনুভবের গোপন চিঠি!
আজ
সেই সব দিনের উপর
ধুলোর মতো জমেছে সময়।
এখন
আর কেউ আমার দিকে ফিরে তাকায় না।
সুবাস ফুরিয়েছে বলে
ভ্রমরও আর পথ চিনে
আসে না।
মধু নিঃশেষ হলে যেমন নদী ছেড়ে যায় নৌকা,
তেমনি স্বার্থ ফুরালে মানুষও হারিয়ে যায়
অচেনা কোনো জনপদের ভিড়ে।
প্রকৃতি
বড় আশ্চর্য প্রেমিকা—
যত গভীর করে ভালোবাসে,
তত নিঃশব্দে ফিরিয়েও নেয়।
সে শিখিয়েছে আমাকে—
পূর্ণিমার চাঁদও একদিন ক্ষয়প্রাপ্ত হয়,
শিউলিও ঝরে পড়ে ভোরের শিশিরে,
আর গোলাপও একদিন হারায়
তার রক্তিম যৌবনের অহংকার।
তবু
আজও সন্ধ্যার বাতাস এলে
আমি চোখ বুজে অনুভব করি—
কোথাও হয়তো কোনো হৃদয়
এখনো আমার সুবাসের স্মৃতি বহন করে।
তাই
ঝরে যাওয়ার আগে
শেষবারের মতো আকাশকে বলি—
ভালোবাসা যদি সত্যিই ভালোবাসা হয়,
তবে সে শুধু প্রস্ফুটিত
গোলাপকে নয়,
শুকিয়ে যাওয়া পাপড়িকেও
অপরূপ মমতায় ছুঁয়ে রাখবে।
কারণ
প্রেম তো মধুর জন্য
নয়,
রূপের জন্য নয়, সুবাসের জন্যও নয়—
প্রেম হলো সেই চাঁদের আলো,
যে নিঃশেষ রাতের পাশেও বসে থাকে;
প্রেম হলো সেই বৃক্ষ,
যে ঝরা পাতাকেও নিজের সন্তান বলে ডাকে।
আজ আমি অবহেলিত
গোলাপ—
তবু আমার প্রতিটি ঝরে-পড়া পাপড়িতে
লেখা আছে এক অনন্ত প্রেমের
উপাখ্যান,
যেখানে বিচ্ছেদ আছে, অবহেলা আছে,
তবু ভালোবাসা এখনো
রক্তিম হয়ে ফুটে আছে নীরব হৃদয়ের বাগানে।
------------------------------------------
No comments:
Post a Comment