Wednesday, February 27, 2019

হয়তো সেই দুঃখে তুমি আজ




                                          -কবি মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।
পতাকা, তোমার লাল-সবুজকে বড় বেশি বিমর্ষ্ দেখলুম
মাতৃছায়ায় । তুমি নেই সন্তানদের অন্তরে।
অবহেলিত প্রেমহীনভাবে দাঁড়িয়ে ছিলে ।তুমি
একবারও জাগলে না এসে সেই প্রাণীদের মনিকোঠায়;
স্বৈরতন্ত্র, দূর্ণীতিবাজ,চাঁদাবাজি, ঘুষখোর ,অনৈতিক সবকিছু
সন্তানদের প্রাণে প্রাণে ।তুমি ফিরেও দেখলে না।
বৈষম্যের বেড়া জালে দুঃখীরা আটকে আছে মাথা গুঁজে
স্বাধীন সিংহাসনে শুধু বসে রইলে একা ।

পতাকা, তোমার লাল-সবুজকে কেন এত বেশী বিমর্ষ্ দেখলুম ?
কি দুঃখ তোমার? তুমিতো লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে আসা
এ বাংলা মায়ের চিরঞ্জীব অহংকার
তুমিতো বাঙ্গালীর চৈতন্য, মুক্তির প্রেরণা
লক্ষ সংগ্রামের ত্যাজদীপ্ত বিজয়ের সিঁড়ি
তুমি এসেছিলে, বিদ্রোহীদের পরাজিত করে মুক্ত পতাকা হয়ে
স্বাধীন হওনি ।এই দুঃখে তুমি সন্তানের অন্তরে
আজো জাগো নি ?

পতাকা, তোমার লাল-সবুজকে বড় বেশি বিমর্ষ্ দেখলুম
স্বাধীন হয়েছিলে, তবু সম্পূর্ণ্ স্বাধীন
হওনি, তোমার সন্তানেরা সেই বৈষম্যের মাঝে আজও
কিছু কুলাঙ্কার বেইমান তোমার বুকে এঁকেছে কলঙ্কের দাগ
অবুঝ সন্তানেরা বুঝে না ওদের কুঁটচাল ।
হয়তো সেই দুঃখে তুমি আজ
লুটে পুটে খাচ্ছো মায়ের সতেজ শরীর !

বঞ্চিত মানুষের কান্নার ধ্বনি শুনলে না, তুমি উড়ে চলেছো স্বৈরতান্ত্রিক রাঙে
তোমার অফিস আদালত পথ ঘাট লুটেরাদের থাবায়
তোমাকে বাহ্যিক রাঙিয়ে বিদ্রোহীরা আজো রয়ে গেল ।
হয়তো সেই দুঃখে তুমি আজ ।
------------------------------------------------------------ রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।

মেধাবী



                                       -কবি মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।
মেধাবী, মেধাবী, তোমার আলো নিবো
মেধাবী,তুমি কি আর আমার কথা ভাবো ?
মেধাবী, সোনার হরিণ তোমার অনুকূলে
স্ব-মূলে,আমি যখন ন্যায্যতার প্রতিকূলে
আমি জিতব স্বপ্ন দেখি, ছোট্র আশার ঘর
মেধাবীর পাশে মেধা তুমি বেশ অন্ধকার!
আমি যখন বঞ্চিত শ্রেনীর, তুমি তখন বৈরাগী
দেখা হলো এক মেধাবী  দলের বাড়াবাড়ি
মেধাবী, মেধাবী, লেখা পড়ায় তুমি ভালো
মেধা নিয়ে সোনা পেলে, করলে রং কালো
রক্ত চোষে চোষে আজ কিনা হলে প্রহরী
ঐ খানে বসে তুমি দুঃখীদের চালালে ছুরি!
আমি যখন বঞ্চিত শ্রেণীর, তখন তুমি নাই
মেধাবীর ধারে মেধা লুকিয়ে লুটে পুটে ছাই
মেধাবী, মেধাবী, যাও কারে পুড়ে ?
সত্যি বলো, সে সব কথা প্রাণে যা ধরে,
যে সব প্রেম দিচ্ছ তুমি তোমার প্রেমিকাকে
মুক্তি হবে নাকো কোনদিন -এ মেধা যদি থাকে।
ভেবেছিলাম মেধার নীচে, মুক্তির সে আলো !
এখন দেখি মেধাবীর মেধা আমবস্যার চেয়ে কালো ।
ব্যথিত করলে প্রাণ আমার, পুড়িয়ে দিলে চোখ
তবু বলি স্বপ্ন দেখি, মেধাবীর মেধা ভালো হোক ।
----------------------------------------------- রাওনাট কাপাসিয়া,গাজীপুর।




এখন জ্ঞানীদের খুব অধঃপতন !



                             -কবি মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।
ফুটেছো গোলাপ তুমি বিবেকহীন নগ্ন বাগানে ।
ক্ষমাহীন অন্যায় করেছো তুমি জানো,
এখন জ্ঞানীদের খুব অধঃপতন
এখন পেশী শক্তি, অশিক্ষিত, ক্ষমতাবান, বেয়াদবদের দিকে ধাবিত
সম্মানিতদের রক্ষা করা যাবে না
চারিদিকে
ঘরে- বাইরে, সমাজে- রাষ্ট্রে, উঁচু- নীচু প্রাণের স্পন্দনে
যেখানে যেটুকু প্রেমের জায়গা শুন্য ছিল
তাও আজ ক্ষমতা আর পেশী শক্তির কাছে বিক্রি হয়ে গেছে
অন্ধভাবে সবাই ছুটেছে সেইসব চুনুপুটির সম্মানে..
এখন সবাই
অজ্ঞদের ভক্ত, বাতিলের পূজারী, পেশীশক্তির অনুগত, অর্থে মাতা নত..
গোলাপ ,চ্যামিলী ,জুঁই, জবা
গাদা ফুলেরা মালা সেজে আছে
সম্মানিদের অসম্মান করতে ।

তার মধ্যে নিঃশব্দে আছে যন্ত্রনার অথৈ সাগরে…
জ্ঞাণীগুনি শিক্ষিত তরীর পাঞ্জেরী
আফসোস , আফসোস- হে গোলাপ-
তুমি ফুটেছো হে, অপাত্রে ফুটেছো হে..
ক্ষমাহীন অন্যায় করেছো
আজও বুঝলে না- কে মরিচিকা, কে হীরে ?

গোলাপকে বুনেঁছো, গোলাপের বাগানকে চিনলে না ।
বিবেকহীন মানুষের প্রাণ
জুড়ে আজ ক্ষমতা,লোভ আর লালসার বাগান ।

ফুটেছো গোলাপ তুমি বিবেকহীন নগ্ন বাগানে ।
ক্ষমাহীন অন্যায় করেছো তুমি জানো,
এখন জ্ঞানীদের খুব অধঃপতন !

----------------------------------------------------রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।





প্লীজ আর ফিরে এসো না


                                    -কবি মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।

তোমাকে খুঁজেছি আমি বারবার। দেখেছি তোমাকে
বড় বেশী লাবণ্যময় ।হৃদয়ের গভীর ভিতরে
স্পন্দনে স্পন্দনে
অস্থি-মজ্জায়
শিরা- উপশিরায়
ভীষণ ঢেউ তোলে,  সারা অঙ্গে ঝড় তোলে রক্ত প্রবাহ
নিঃশব্দে গর্জে উঠে ।হৃদয়ের গভীর ভিতরে
যত না ব্যকুলতা, তার ঢের বেশী তোমার শুন্যতা ।

তোমাকে খুঁজেছি আমি বারবার।সেখানে কখনও
কেউ যেন তোমার সন্ধানে আর না যায় ।
যাওয়া অর্থ্হীন; তার কারণ সেখানে
কোন অনুভূতি নেই
নিতান্তই প্রেমহীন প্রাণ বটে, শুধু বাহ্যিক অবয়বে
রূপ লাবণ্যের মহরা, প্রাণের ভিতরে স্পন্দন নেই
নেই কোন প্রেমের মর্যাদা
যেন এক প্রাণহীন মূর্তি!

তোমাকে খুঁজেছি আমি বারবার। আবার ফিরেও এসেছি
দূরে- বহুদূরে । এখন আর খোঁজতে যাব না !
সেই রূপের ঝলক আমাকে আর তাড়িত করে না,
চলে এসেছি, বহুদূর চলে এসেছি…
যে প্রেমকে নিহত করেছো ,যে সত্যকে অপমান করেছো
আজ এখানে শুন্যতা নেই,
আমি এক অন্য প্রাণের গভীর ভিতরে
নোঙ্গর করে ফেলেছি ।

প্লীজ আর ফিরে এসো না, আর তোমাকে খুঁজব না
হৃদয়ের দূর্গে আর হত্যাকান্ড কর না ।
----------------------------------------------- রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।