Wednesday, June 3, 2026

পারিবারিক নৈতিক শিক্ষা

  

'পারিবারিক নৈতিক শিক্ষা

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট.কাপামিয়া, গাজীপুর

***************************************************

আমার প্রিয় ভাই বোনেরা,

সবাইকে আমার বিনীত সম্ভাষণ। আজ আমি দাঁড়িয়েছি এমন একটি বিষয় নিয়ে কথা বলতে, যা আমাদের সমাজের ভিত্তিপ্রস্তর। বিষয়টি হলো—'পারিবারিক নৈতিক শিক্ষা'

একটি শিশু যখন এই পৃথিবীতে আসে, সে থাকে এক টুকরো নরম মাটির মতো। তাকে যেভাবে গড়বেন, সে সেভাবেই গড়ে উঠবে। আর এই গড়ার প্রথম কারিগর হলেন মা-বাবা এবং পরিবার। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা মানুষকে হয়তো শিক্ষিত করে, কিন্তু পারিবারিক শিক্ষাই মানুষকেমানুষকরে তোলে।

কবি ঠিকই বলেছেন

"পিতার সততা, মাতার মমতা, ভাই-বোনের ভালোবাসায়,
যে শিশু বড় হয় সততার পথ ধরে, সে তো কভু পথ না হারায়।
বইয়ের পাতায় নৈতিকতার কথা অনেক লেখা রয়,
মা-বাবার আচরণে যে শিক্ষা, শিশুর মনে তা- অক্ষয়।"

সুধীবৃন্দ,
আজকের আধুনিক যুগে আমরা জিপিএ- আর ভালো জবের পেছনে ছুটছি। কিন্তু আমরা কি আমাদের সন্তানদের একটি সুন্দর মন দিতে পারছি? আমরা তাদের বড় বড় ডিগ্রি দিচ্ছি, কিন্তু বড় মন দিতে পারছি কি? পরিবার যদি সত্য বলা, বড়দের সম্মান করা, ছোটদের স্নেহ করা এবং পরোপকারের শিক্ষা না দেয়তবে সেই শিক্ষা কেবলই অর্থহীন।

উচ্চশিক্ষিত হয়েও যদি কেউ দুর্নীতি করে, মা-বাবাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠায়, তবে বুঝতে হবে তার পারিবারিক নৈতিক শিক্ষার ভিত দুর্বল ছিল।

কবি আবারও আমাদের মনে করিয়ে দেন

"ধন-সম্পদ ফুরিয়ে যাবে, ফুরিয়ে যাবে নাম,
পারিবারিক সুশিক্ষার সমাজে অনেক দাম।
ভালো মানুষ গড়ার কারখানা হলো নিজের ঘর,
সেথায় যদি গলদ থাকে, তবে সবই হবে পর।"

প্রিয় উপস্থিতি,
সন্তানরা আমাদের কথা শুনে যতটা না শেখে, তার চেয়ে বেশি শেখে আমাদের আচরণ দেখে। আমরা যদি ঘরে মিথ্যা বলি, অন্যকে ঠকাই, তবে সন্তানও সেটাই শিখবে। তাই নৈতিক শিক্ষার প্রথম পাঠ শুরু হোক মা-বাবার শুদ্ধ আচরণ থেকে। আসুন, আমরা আমাদের পরিবারকে সততা, ধৈর্য, সহনশীলতা দেশপ্রেমের প্রথম পাঠশালা বানিয়ে তুলি।

আসুন, প্রতিজ্ঞা করিআমরা এমন এক প্রজন্ম গড়ে তুলব, যারা কেবল সফল হবে না, বরং পরম দয়ালু নৈতিকতাসম্পন্ন আদর্শ মানুষ হবে।

ধন্যবাদ সবাইকে।

--------------------------------------------------------------------------------------------

কুলাঙ্গার সন্তান

 কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

************************************

মা গো,
ক্ষমা করো মোদের এই পাপী সমাজরে!
রক্ত জল করা স্নেহের
এই কি প্রতিদান আজ রে?

বড় ছেলে সচিব সাহেব,
মাথায় তার ক্ষমতার তাজ,
লাল বাতি জ্বলে দামি গাড়িতে!
অথচ সময় পেল না সে তো একবারও,
বুড়ো মায়ের খোঁজ নিতে জীর্ণ বাড়িতে।

মেজো ছেলে বুয়েট শিক্ষক,
কত জ্ঞান বিলায় সে তো প্রকাণ্ড জগতেই!
মায়ের ঘরে আঁধার কালো,
সে ডুবে থাকে নিজের অহম আর জগতে।

ছোট ছেলে কানাডা প্রবাসী,
ডলারের সুখে মত্ত একা!
বিদেশে বিভুঁইয়ে কাটে দিন,
মায়ের সাথে হয় না তো কোনোদিন দেখা।

মেয়েটিও বড় গুণী, শিক্ষকতা করে,
মুখস্থ করায় সে নৈতিকতার বাণী!
অথচ দেখেনি কোনোদিন চেয়ে,
মায়ের চোখে কতটা জল আর জমাট গ্লানি।

সবাই যার যার মতন,
ডিগ্রিধারী সুশিক্ষাহীন এক একটি শিক্ষিতের দল!
মায়ের কোল শূন্য করে
লুটে নিল শুধু স্বার্থের ফল।

বছরের পর বছর কেটে যায়,
ঈদের দিনেও আসেনি কেউ, ডাকেনি কেউ "মা" বলে!
হতভাগা মা একা একা,
কেঁদেছেন শুধু সীমাহীন নয়নজলে।

তারপর একদিন...
সবার অজান্তে, গভীর অভিমানে,
সেই ব্যথাতুর মা!
নিঃশব্দে পাড়ি দিলেন আরশে আযীম,
পৃথিবীর কোনো মানুষ তা তো জানলও না!

একাকী, জীর্ণ-শীর্ণ,
সেই অন্ধকার বদ্ধ ঘরের কোণে,
পড়ে রইল নিথর দেহটা
নিভৃত এক নির্জনে।

সাত-সাতটি দিন কেটে গেল,
একটি বারও কেউ তো এলো না ফিরে!
পোকা-মাকড় উৎসব করে
খুবলে খেল মায়ের পবিত্র শরীর ঘিরে।

গলিত লাশের গন্ধ ছুটল চারিদিকে,
ছিঁড়ে খেলো মাছি আর কীট,
তখনও সন্তানদের অট্টালিকা নিস্তব্ধ,
হৃদয়গুলো যেন কঠিন এক একটি ইট।

হায় রে নিষ্ঠুর আচরণ!
হায় রে অমানুষ শিক্ষিত সন্তান!
মায়ের এই করুণ দশা দেখে
কেঁদে ওঠে আজ খোদার আসমান।

শিক্ষিত হলেই কি তবে
আসলে মানুষ হওয়া যায়?
সুশিক্ষা না থাকলে হৃদয়ে
কখনো কি রে দয়া জাগায়?

ওগো আল্লাহ!
এই হতভাগী মাকে তুমি পরকালে দিও পরম সুখ আর শান্তি,
মিটিয়ে দিও তাঁর জীবনের সব হাহাকার আর ক্লান্তি।

এমন কুলাঙ্গার সন্তান
যেন আর কোনো মায়ের কোনোদিন না হয়,
পৃথিবীর সকল জগতজননী মাকে
তুমি নিজের কুদরতে হেফাজত করো দয়াময়!

-----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------