Monday, July 6, 2026

যে ফুল ওরা চায়নি

 কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান  মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

***************************************

ওরে পা-চাটা গোলামের দল!
রক্তে কেনা এই স্বাধীন কাননে কার ইশারায় চল?
যে ফুল তোদের মুক্তি চায়নি, চেয়েছে কেবল নাশ,
আজ তোরা করিস তাদেরই আবাহন? ছিঃ! যে মহা সর্বনাশ!
বিশ্বের যত বিষাক্ত কীট, তোদের বাগানে ত্রাস,
আজ তাদেরই পায়ে সঁপেছিস তোরা শহীদের ইতিহাস?

ভিন প্রজাতির সেই কালনাগিনী ফুল
ফুটিয়েছিস তোরা স্বাধীন কলিজায়, করিসনি কোনো ভুল?
তোদের চক্রান্ত, তোদের বেইমানি,
এঁকেছিস স্বাধীন লাল-সবুজের বুকে কলঙ্কের গ্লানি!
তুই কি গুপ্তচর? তুই কি  বুনো জানোয়ার?
যে তোরে দিয়েছে দাসত্বের শৃঙ্খল, তুই পূজা করিস তার?

ভুলে গেলি সেই বজ্র-নির্ঘোষ?
ভুলে গেলি সেই শহীদি রক্ত-রোষ?
শ্লোগান উঠেছিল— 'গোলামী না আজাদি, আজাদি!'
তবে আজ কেন পরদেশী প্রভুর চাটুকারিতার এই গদি?
তোর কি রে নেই কোনো আত্মমর্যাদা?
জাতীয় গৌরবে হানিস আঘাত, তুই তো কলঙ্ক-কাদা!

শোন রে কুলাঙ্গার, শোন রে বেইমান দল,
জনতা জেগেছে আজ, চোখে তার অগ্নি-অনল!
ঘৃণা তোরে! থুতু দিই তোর এই হীন কর্মে,
আঘাত হেনেছিস তোরা বাঙালির মুক্তিসূর্য-ধর্মে!
ফিরে আয় এখনই এই লাল-সবুজের পবিত্র মেলায়,
নতুবা তাড়াব তোরে এই কানন থেকে, রাখব না আর হেলায়!

শোন! শোন রে দামামা বাজে!
বিপ্লবের মহা ডাক আসিছে রুদ্রের সাজে!
রক্তে আগুন লেগেছে আজ সর্বহারা জনতার,
গুঁড়িয়ে দেবে তোদের ওই গোলামীর রাজপ্রাসাদ আর অহঙ্কার!
আসুক ঝড়, ভাঙুক শৃঙ্খল, চূর্ণ হোক ভণ্ডামি,
এই কাননে উড়বে কেবল লাল-সবুজেরই স্বাধীন কেতন দামী!

------------------------------------------------------------

 

Thursday, July 2, 2026

হে আমার অতুল্য পিতা

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।

****************************************

হে আমার অতুল্য পিতা, মোঃ আবুল হোসেন মোল্লা,
তুমি আমার জীবনের সেই নীরব আলোযা নিভে যায় না কখনো,
যার উষ্ণতায় আমি আজও বাঁচি, আজও পথ খুঁজি।

তুমি শুধু পিতা নও, তুমি এক জীবন্ত আশ্রয়,
যেখানে আমি হারিয়ে গেলেও ফিরে আসার ঠিকানা পাই,
তোমার উপস্থিতিই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা।

তোমার মুখে ছিল না অহংকারের ছায়া,
তোমার চোখে ছিল না প্রতিশোধের আগুন,
ছিল শুধু শান্ত এক গভীরতা
যেখানে মানুষকে ক্ষমা করাই ছিল সবচেয়ে বড় শক্তি।

একদিন তুমি আঘাত পেয়েছিলে নির্মমভাবে,
রক্তে ভিজেছিল তোমার নিঃশব্দ শরীর,
তবুও তুমি বলোনি—“কে করেছে,”
তুমি শুধু বলেছিলে—“আমি তাদের ক্ষমা করেছি।
এই ক্ষমার ভেতরেই তুমি হয়ে গেছো অমর এক মানুষ।

তুমি শিক্ষক ছিলেশুধু পাঠ্য বইয়ের নয়,
জীবনের কঠিন অধ্যায়ের শিক্ষক তুমি,
যেখানে তুমি শেখাতেসততা মানে আপস নয়,
মানুষ হওয়া মানে লোভকে জয় করা।

রাষ্ট্রীয় দপ্তরের দায়িত্বে থেকেও
তুমি কখনো নত হওনি অন্যায়ের সামনে,
ঘুষ নামক অন্ধকার তোমাকে স্পর্শও করতে পারেনি,
কারণ তোমার ভিতরে ছিল আল্লাহভীতি আর দৃঢ় বিবেক।

ব্যাংকের কর্মজীবনেও তুমি ছিলে এক নিঃশব্দ পাহাড়,
যেখানে প্রলোভনের ঢেউ এসে ফিরে যেত ভেঙে,
তুমি দাঁড়িয়ে ছিলে নীতির অটল স্তম্ভ হয়ে।

তোমার জীবন ছিল খুব সাধারণ,
কিন্তু তোমার চরিত্র ছিল অসাধারণেরও ঊর্ধ্বে,
ঋণ নয়, তুমি রেখে গেছো সততার উত্তরাধিকার,
বিলাসিতা নয়, তুমি রেখে গেছো আদর্শের আলো।

তুমি আমাদের শুধু সন্তান বানাওনি,
তুমি বানিয়েছো বিবেকবান মানুষ হওয়ার শিক্ষা,
যা আজও আমার হৃদয়ে নিঃশব্দে কথা বলে।

হে আমার পিতা,
তুমি আমার প্রতিদিনের গর্ব, আমার নিঃশব্দ কান্না,
তোমার নাম উচ্চারণেই আমি শক্তি খুঁজে পাই,
তুমি জীবিততাই আমার দোয়া প্রতিদিন বেঁচে থাকে।

হে আল্লাহ,
আমার এই পিতাকে সুস্থতা, বরকত দীর্ঘ আয়ু দান করো,
তার জীবনকে শান্তি সম্মানে ভরে দাওআমিন।

------------------------