তুমিও কিছু বলতে চাও
কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান েমাল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
******************************************
হে অবুঝ শিশু, বিদীর্ণ ভোরের গান,
পিতার বুকে জমে থাকা আগুন-অভিমান,
মায়ের ছিন্ন জীবনের শেষ জ্বলন্ত দীপ,
জন্মেই তুমি শিখেছো বেদনার গভীর শীপ।
যেদিন তুমি এলে ধরার রক্ত-মাখা তীরে,
সেদিন মমতা হার মানল বিধির তীক্ষ্ণ শিরে,
মায়ের বুকের দুধ রইল অপূর্ণ ঋণ,
শৈশবেই তোমার কপালে আঁকা হলো শোকচিহ্ন।
পৃথিবী! কেন নিলে না কোলে তুলে আজ?
শিশু কি দায়—বল! কোন অপরাধে সাজ?
আর মা—হাসপাতালের সাদা কাঠগড়ায়,
মৃত্যুর সাথে লড়েছে বজ্র-কান্নার ছায়ায়।
একদিকে তুমি—নবজাত আগ্নেয় কুঁড়ি,
অন্যদিকে মা—ঝরে পড়া শেষ বিজড়ি,
বাবা ছুটেছে ছিন্ন-পাখার ঝড়ো প্রাণ,
একবার শিশুরে, একবার মৃত্যুর সমাধান।
শেষে মাও অচল হল—নিভে গেল শরীরের প্রদীপ,
তুমি রইলে বুকে নিয়ে অগ্নি-নীরব শীপ,
বেঁচে থাকা তখন শুধু শ্বাসের দায়,
মায়ের অভাবে প্রতিটি দিন বিদ্রোহ-প্রায়।
দাদীর কাঁপা বুকে পেলি শেষ আশ্রয়,
নানীর আঁচলে জমল অশ্রু-অগ্নিক্ষয়,
প্রকৃতির দুধে বড় হলে আগুন-শিশু তুমি,
তবু মায়ের শূন্যতা পূরণ হয়—বলো, ভূমি?
মা থেকেও না থাকার মতো দাঁড়াল সামনে,
একটি নাম, একটি ছবি—নিস্তব্ধ ফাঁদে,
কোল নেই, আদর নেই, শুধু জ্বলন্ত প্রশ্ন,
“মা” শব্দটি কেন হলো এত নিষ্ঠুর দর্শন?
তবু তুমি বেঁচে আছো—রবের হুকুমে,
পিতার রক্ত-ঘামে, দাদী-নানীর বুকে,
নীরব তুমি, কিন্তু নীরবতা নয় হার,
এ নীরবতা একদিন হবে আগুনের উচ্চারণ-ভার।
তুমি তাকাও অপলক আকাশের পানে,
চোখের প্রশ্ন ঝড় তোলে নীল বিধানে,
পৃথিবীকে কিছু বলতে চাও—বিদ্রোহে,
হয়তো রবকেও—অভিযোগ নয়, শপথে।
অভিমান জমে থাকে চোখের কোণে আগুন,
ঝরে না—কারণ তুমি দুর্বল নও, তুমি সন্তান,
হে অবুঝ শিশু, তুমিও কিছু বলতে চাও,
তোমার নীরবতাই একদিন
সবচেয়ে বজ্রকণ্ঠ আর্তনাদ হয়ে ওঠাও।
------------------------------------------------
২৯-০১-২০২৬
No comments:
Post a Comment