Monday, June 8, 2026

তুমিই তো রক্ত-রবি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর

*****************************************

জাগো রে তরুণ! জাগো রে তরুণী!
মাদকের বিষ-অনলে পুড়ছে এই ধরণী!
তিমির রাত্রে শোনো কার ক্রন্দন?
ছিঁড়ে ফেলো এই মৃত্যুর বন্ধন!
বলো—"না!"
বলোহব না আর এই বিষের দাস,
আমরা যে আনবো এই মরুতে মধুমাস!
বজ্রকণ্ঠের গর্জনে বিস্তরে,
প্রতিবাদ উঠুক লাল-সবুজের প্রান্তরে।

কই রে বিপ্লবী? কই রে অবাধ্য?
মাদকের কালো হাত উপড়ানো কি অসাধ্য?
না, কখনো না!
আমরা যে অবিনাশী, আমরা দুর্মদ,
পায়ে দলে যাই শত বিপদের পর্বত!

ঘরে ঘরে তোলো আজ বিদ্রোহ-ঝঙ্কার,
পাড়া-মহল্লায় হোক এই নরকের সংহার!
সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকেছে যে বিষের কীট,
ভাঙো তার বিষদাঁত, তোলো প্রতিবাদের গীত!
প্রশাসন! রাষ্ট্রযন্ত্র! শোনো তবে হুঙ্কার
মাদকের ঠাঁই নাই, এই আমাদের অঙ্গীকার!
চাই চাই প্রতিবাদ!
জাগো হে সমাজ, ঘুচাও এই অবসাদ!
জাগো হে বিপ্লবী অবিসংবাদ!

তোমাদের চিত্তে দেখিব সোনালী রবির কারুকাজ,
তুলে নাও হাতে আজ রুদ্র-ডমরু-বাজিকাজ!
তারুণ্য বাঁচিলে বাঁচিবে এই দেশ,
উঁচু শিরে বাঁচিব মোরা, ঘুচবে তিমির-রেশ!
এসো হে তরুণ, এসো হে বিপ্লবী,
মাদক-মুক্ত ভোরে তুমিই তো রক্ত-রবি!

-----------------------------------------

শিক্ষার আকাশে নব সূর্য

 

শিক্ষার আকাশে নব সূর্য

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট কাপাসিয়া,গাজীপুর

******************************************

বুকের গভীরে আনন্দের ঢেউ, চোখে জাগে সুখ-জল,
কাপাসিয়ার এই ধূলিকণা আজ গৌরবে চঞ্চল!
আমাদেরই ঘরের চেনা সেই ছেলে, আমাদেরই প্রিয় ভাই,
ফরিদ ভাইয়ের কীর্তিতে আজ আনন্দের সীমা নাই!

রাওনাট স্কুলের আঙিনা জুড়িয়া যে মেধার পাখি ওড়ে,
সে আজ বসেছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের প্রধানের ওই তোড়ে।
অধ্যাপক আক্তারুজ্জামান ফরিদগুণী মহীয়ান তিনি,
তাঁরই আলোতে বাংলার এই শিক্ষা-আকাশ ঋণী!

এত সম্মান, এত বড় পদ, তবু কী যে নম্রতা,
জ্ঞানদীপের নতুন প্রহরী, মুখে স্নিগ্ধ মধুরতা।
প্রকৃতির বুকে সোনালী সকাল যেমন শান্তি আনে,
তাঁর আগমনী বার্তা তেমনি দোলা দেয় মনে-প্রাণে।

কাপাসিয়াবাসী গর্বে আজিকে পরম আশিস বাঁধে,
আনন্দের এই জয়যাত্রায় প্রাণ হিল্লোলে কাঁদে।
হে প্রভু, তোমার আলোর চাদরে রেখো ওরে চিরকাল,
ফরিদ ভাইয়ের হাত ধরে হোক ধন্য নতুন কাল!

-----------------------------------------------------------

Thursday, June 4, 2026

হে শাসক, তুমি কি শুনতে পাচ্ছো?

 কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।

***********************************

প্রিয় সুধিমণ্ডলী এবং ক্ষুব্ধ স্বদেশবাসী,

আজ এক চরম সত্যের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আমরা।
যে সত্য কঠিন,
নির্মম এবং লজ্জার।

হে শাসক, তুমি কি শুনতে পাচ্ছো?

চারপাশে আজ একি গুঞ্জন!
তুমি হেঁটে গেলে বাতাস ভারী হয়ে ওঠে তীব্র ধিক্কারে,
চারদিক থেকে ধেয়ে আসে থুতু আর ঘৃণা— "ভূঁয়া! ভূঁয়া!"
পথে ঘাটে,
রাজপথে,
গলির মোড়ে আজ একই বজ্রপাত।
সে প্রশ্ন কি কখনো নিজের বিবেককে করেছো?
কেন এই বিপুল ক্রোধ?
কেন এই বুকভাঙা অভিশাপ?


"
লুটপাটের এই গদিতে, আগুন জ্বালো এক সাথে!"
"
জনগণের একটাই দাবি, স্বৈরাচারের পতন চাবি!"

আজ সাধারণ মানুষের থালায় অন্ন নেই,
অথচ মধ্যবিত্তের পকেট কেটে কোটি কোটি টাকা পাচার হচ্ছে বিদেশে।
ভোট চুরির উল্লাসে মেতে থাকা এই নগরে আজ সাধারণ মানুষের কণ্ঠনালী রুদ্ধ।
রাজপথে যুবসমাজের ন্যায়ের দাবিকে স্তব্ধ করে দেওয়া হয়েছে বুলেটের আঘাতে,
ঝরেছে তাজা রক্ত।
তথাকথিত উন্নয়নের জাঁকজমক পোশাকের আড়ালে দেশজুড়ে চলছে শুধুই লুটপাট আর মিথ্যে আশ্বাস।

তুমি চেয়েছিলে চিরস্থায়ী জয়ধ্বনি,
চেয়েছিলে দাসত্ব,
অথচ নিয়তির পরিহাসে আজ উপহার পেলে শুধুই এই তীব্র গ্লানি!
আর যেন তা শুনতে না হয়,
তার জন্য কি করেছো?
ক্ষমতার অন্ধ অহংকারে বুকের ওপর পা দিয়ে মানুষকে কতটা তুচ্ছ ভেবেছো?


"
রক্তের দাগ মোছেনি, অধিকার মোরা ছাড়িনি!"
"
ভূঁয়া ধ্বনি রাজপথে, শাসক তুমি কোন পথে?"

এখনো সময় আছে, হে অহংকারী শাসক
রক্তে ভেজা সিংহাসন ছেড়ে নামো,
কান পাতো মাটির কাছাকাছি।
জনগণের বুকের ভেতরের আগ্নেয়গিরির লাভাগুলো শোনো।
ক্ষোভের এই আগুন যদি নেভাতে চাও,
তবে মানুষের কেড়ে নেওয়া প্রতিটি অধিকার এখনই ফিরিয়ে দাও।
মিথ্যে চাটুকারদের দল ছেড়ে সত্যের মুখোমুখি দাঁড়াও,
তবেই থামবে এই "ভূঁয়া" ধ্বনি,
নইলে ইতিহাসের আঁস্তাকুড়ে চিরতরে হারিয়ে যাবে তোমার নাম।

ধন্যবাদ, বাংলাদেশ দীর্ঘজীবী হোক।

--------------------------------------------------------------------------------------------------