Tuesday, August 4, 2026

প্রতারণার কালো প্রচ্ছদ

 কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

***************************************************

মিথ্যা আশার কুহক ছড়ালে,
কহিলে, ‘আসিব নতুন প্রদীপে পুরানো আঁধার ঘুচাতে!’
তবে কেন আজ এ ঘোর তামসী নিশুতি?
দিকে দিকে কেন স্বাধীনতার কনক-সূর্য ডুবিছে নিয়ত?
স্বদেশ-দ্রোহী পিশাচেরা আজ বীর দর্পে
চেপে বসে আছে ভুলুণ্ঠিত ঐ স্বাধীনতার ঘাড়ে!
তুমি তো বলেছিলে—
রবে না স্বৈরতন্ত্র, রবে না এ মবতন্ত্র,
ফ্যাসিবাদ-দুর্নীতির হবে অবসান!
ঘুচিবে অপমান, ফিরিবে জনতার হৃত অধিকার!
তবে কেন আজ তোমরাই মেতেছ এ ঘোর অপকর্মে?
বিশ্বাসের বুকে বিধিলে বিষাক্ত ছুরি,
ইতিহাসে তোমরাই সাজিলে নব্য মীরজাফর!
জিজ্ঞাসি তোমারে—
রাস্তার ঐ নিঃস্ব ফকির,
কোন জাদুমন্ত্রে রাতারাতি কোটিপতি আজ?
কোথা হতে এলো এ প্রাসাদ-বাহন, এ বিপুল বিত্তের পাহাড়?
হায়রে ক্ষমতার নগ্ন লিপ্সা!
হায়রে ঘৃণ্য দেশদ্রোহিতা!

হে ছলনাময়ী, ছলনার চাদর সরাও!
জাতির সম্মুখে খসিয়া পড়ুক তোমার মুখোশ!
জেনে রেখো—
আঁধারের এই মহোৎসবে, শোষিতের এই ক্রন্দনে,
ধুলো থেকে ফের জাগিবে জনতা—
বজ্রকণ্ঠে ভাঙিতে তোমার এই মিথ্যার কালো কারাগার!

------------------------------------------------------------------------------------------

মগের মুল্লুকে বিদ্যুৎ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট, কাপাসিয়া, গাজীপুর

**************************************

ওহে কাপ্তান!
মসনদে বসি’ ভুলিয়াছ সব জারি?
আঁধারে ডুবিয়া বাংলা কাঁদিছে, হাহাকার ভারী ভারী!
বলেছিলে তুমি বজ্র-নির্ঘোষে—
‘আনিব আলোর বন্যা’,
আজ ঘরে ঘরে প্রদীপের তলে কাঁদিছে ঘরের কন্যা!
পড়ার টেবিলে আলো নাই আজ,
শিশুটি গুণিছে আঁধার,
মিথ্যা আশার কুহক-ছায়ায় দেশ আজি ছারখার!
চলিবে না আর এই ভাওতাবাজি,
চলিবে না কারসাজি,
গ্রাহকের পকেট কাটিয়া তোমরা লুটিয়া নিতেছ আজি!
এক গুণ নয়, দুই গুণ নয়,
বাড়ে চার-পাঁচ গুণ বিল,
মগের মুল্লুক বানাইয়া দেশ, ভেঙেছ ন্যায়ের খিল!
মাসের ব্যবধানে বিলের অঙ্কে জ্যামিতিক কারবার,
আগের মাসের সাথে পরের মাসের আকাশ-পাতাল পার!
গ্যাস নাইকো, বিদ্যুৎ নাই,
শুধু আছে শোষণের শেষ,
লুটপাটের এই মায়াবী মহলে তোমরা ত আছ বেশ!
স্বাধীন দেশের স্বাধীন মানুষ,
কেন অধিকার-হীন?
রক্তের দামে কেন কিনি আজ অন্ধকারের দিন?
বিদ্যুৎ-বিভাগে বসিয়া আছে ঐ লোভী শকুনের দল,
লাগামহীন এক ঘোড়ার মতন ছুটিছে অনর্গল!
ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিছে,
দিনের পর দিন যায়,
তবু কাগজের বিলের খাতায় অঙ্ক লাফিয়ে ধায়!
গ্রাহক শোষিত, গ্রাহক আহত, ক্ষতবিক্ষত প্রাণ,
দুর্নীতিবাজের তোশখানাতে জমিতেছে লাখ দান!
শহরের বুকে আলোর রোশনাই,
গ্রামে কেন হাহাকার?
গ্রামের পর গ্রাম ডুবিয়াছে কেনে—এ কেমন অবিচার?
কলকারখানা বন্ধ হইল,
উৎপাদন আজ সারা,
শিল্পাঞ্চল অচল হইয়া শ্রমিকেরা দিশাহারা!
হে শাসক, তুমি বিলাসী মোহেতে মেলিয়াছ কোন চোখ?
তুমি কি দেখিবে না খেটে খাওয়া এই মানুষের পরলোক?

রক্তচোষার ঐ বুকে হানো আজ প্রলয়-শরের বাণ,
সর্বহারা এই জনতা গাহিবে রুদ্র-ভৈরবী গান!
ভেঙে ফেল আজ শৃঙ্খল-কারা,
অত্যাচারী ওই তখত,
সহিব না আর এই অন্ধকার, জ্বলিয়া উঠেছে রক্ত!
লুটপাটের ঐ রাজপ্রাসাদে বজ্র-নাদে দাও হানা,
শোষকের দল কাঁপুক ত্রাসেতে, মানিবে না কোনো মানা!
লাথি মারো ঐ পাপের সিংহাসনে,
গুঁড়াও শয়তানি,
প্রাণের বদলে আলো ছিনাইব—এই আমাদের বাণী!
ঘুমায়ে থেকো না ওহে জনতা,
ভাঙো আজ এই জড়তা,
গর্জে ওঠো রে প্রলয়-তাণ্ডবে, টুটিয়া এ নীরবতা!
সিংহাসন ওই দাও কাঁপাইয়া ভণ্ড সম্রাটের,
হকের আলোটি না লইয়া ঘরে ফিরিবে না কোনো শের!
অধিকার বুঝে তবে ঘরে ফিরো,
ভয় নাই আর যমেরও,
মগের মুল্লুকে আলো আনিবেই বিপ্লব আবাল-বৃদ্ধ-পামরেরও!
-------------------------------------------------------------------------------------

Monday, August 3, 2026

বেয়াদবতন্ত্র গ্রাসিয়াছে দেশ

 কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

************************************

ওহে মানুষ, জাগো তবে!
আর কতকাল সহিবি এই নরপশুদের দানব-উৎসবে?
বেয়াদবতন্ত্রের জঘন্য থাবা চাটছে দেশের চিবুক চুমে,
নীতি-নৈতিকতা শিকায় তুলে, কারা আজ নাচে এই মরূভূমে?
উগ্রতার এই রক্ত-উৎসবে দীক্ষিত আজিকার তরুণ-তরুণী,
মুখে মুখে ঘোরে অশ্লীলতার বিষাক্ত খই, কেউ কারো কথা শুনিনি!

কোথায় শালীনতা?
কোথায় সে লাজ?
উগ্র আধুনিকতার ছদ্মবেশে আজ পশুত্ব জিতেছে সমাজ!
মঞ্চে মঞ্চে আজ কেবলি ভণ্ড নেতার উগ্রতা,
মাইক ধরিয়া করে শুধু গালিগালাজ আর বর্বরতা!
মুখের ভাষায় নেই কোনো বিষ-শোধন,
অশ্লীলতার বন্যায় ভেসে যায় নন্দন!

রাজনীতির নোংরা রঙশালায়,
বেয়াদবি আজ সিংহাসন পায়!
দেশসেবার নামে চলে প্রকাশ্য লুটপাট,
লুটেরা সেজেছে সাধু, গরিবের কপালে কষাঘাত!
চেয়ারে বসিয়া জনকের বয়সী বৃদ্ধেরে দেয় গালি ছোকরার দল,
চামচারা হাসে, হাততালি দেয়, ক্ষমতার লোভে চোখ ছলছল!
ত্যাগী নেতা আজ কোণঠাসা বড্ড, চাটুকারেরাই পায় পদ,
সংসদে বসে চলে কাদা ছোড়াছুড়ি আর কূট-শপথ!

পেশার নামেতে চলে প্রকাশ্য বাটপাড়ি,
জ্ঞানের কদর নেই, টেবিলের নিচে শুধু টাকার কাড়াকাড়ি!
ঘুষখোর আজ সমাজেতে বীর,
জ্ঞানী-গুণী কোণঠাসা, মূর্খ উঁচায় শির!
কলম সৈনিক বেচে দেয় বিবেক, চামচাগিরিতেই বাড়ে মান,
আদালতের বারান্দায় কাঁদে ন্যায়বিচার, টাকার জোরে পার পায় শয়তান!
ডাক্তার ভুলেছে সেবা,
কসাইয়ের ছুরি হাতে খোঁজে শুধু ফি,
শিক্ষক বেচিয়া খায় প্রশ্নপত্র, মানুষ গড়ার কারিগর আজ কি?

মালিকের চোখে শুধুই অন্ধ অহংকার,
শ্রমিকের রক্ত চুষে গড়ে তোলে সে ঐশ্বর্যের প্রাসাদ তার!
ঘামের মূল্য না দিয়ে বাবুরা গায়ে জড়ায় রেশমি বসন,
ক্ষুধার্ত পেটে শ্রমিক কাঁদে, তবু থামে না শোষণ!
শ্রমিকও আবার সুযোগ খুঁজিয়া মালিকের বুকে মারে ছুড়ি,
কাজে দেয় ফাঁকি, ইউনিয়ন গড়ে হাড়ভাঙা খাটুনিতেই করে জুয়াচুরি!

ছোটরা বড়রে সম্মান ভোলে,
বড়রা দেখায় শুধু ভুঁড়ি!
রাস্তায় ঘাটে মুরুব্বি দেখিলে ছোকরারা ওড়ায় ধোঁয়া,
বেয়াদবিকে ভাবে স্মার্টনেস, আদব-কায়দা যেন ছোঁয়াচে রোগ ছোঁয়া!
গুরুমশাইয়ের কলার ধরে আজ অবাধ্য ছাত্রের দল,
পিতা-মাতার মনে নিত্য জ্বলে কুলাঙ্গার সন্তানের অনল!

স্নেহ-মমতার পবিত্র বন্ধন টুটেছে,
শ্রদ্ধাবোধ আজ এই দেশ থেকে চটেছে!
ভাইয়ের রক্তে হোলি খেলে আজ মদমত্ত এক ভাই,
সংস্কারে আঘাত হেনে বলে—"আমাদের কোনো ভয় নাই!"
নারীর বসনে হাত দেয় লম্পট,
যুবতীও ভুলেছে নারীর লৈঙ্গিক মান,
ডিজিটাল পর্দায় অশ্লীল নাচনে বিকিয়ে দেয় নিজের সম্মান!

রাষ্ট্রের রন্ধ্রে রন্ধ্রে আজ শুধু নিয়মের ব্যভিচার,
আইন যেখানে ঠুঁটো জগন্নাথ, সেখানে কীসের আর সদাচার?
টাকার জোরে আজ অপরাধী পায় রাজকীয় সম্মান,
ন্যায়পরায়ণ নাগরিক ভোগে আজ আজীবন अपमान!

লাথি মার, ভাঙরে তালা!
যত সব বেয়াদব-ভণ্ডদের মুখে ছুঁড়ে দে আগুনের জ্বালা!
ভেঙে ফেলো এই বেয়াদবতন্ত্র,
ছিঁড়ে ফেলো এই ভণ্ডামির মন্ত্র!
বজ্রকণ্ঠে তোলো রে آواز, হানুক তূর্য-নাদ,
রুধিতে হইবে এই পঙ্কিলতা, রুখতে হবে অপরাধ!
নজরুলের বিদ্রোহী তানে জাগো রে তরুণ দল,
উপড়ে ফেলো এই জঞ্জাল, তোলো প্রলয়-বিপ্লবের ঢল!

----------------------------------------------------------------------------------