মৃত্যুও হলো নিঃশব্দে হে ববি বেগম
কলমেঃ
মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**************************************
বাক্হারা এক বৃদ্ধা—
তবু কত ভাষা ছিল
তাঁর নীরব দুই চোখে,
স্টেশনের ধুলোর সঙ্গে মিশে ছিল
পঁচিশ বছরের ঘাম, ক্ষুধা, অপমান,
আর চল্লিশ হাজার টাকার ক্ষুদ্র এক স্বপ্ন।
মেথিকান্দার
প্ল্যাটফর্ম জানে,
কত ভোর তিনি ঝাড়ু দিয়েছেন
অপরের ফেলে যাওয়া ময়লা সরিয়ে;
কিন্তু মানুষের হৃদয়ের আবর্জনা
সরানোর সাধ্য ছিল না তাঁর।
এক
রাতে লোভ এল—
মানুষের মুখ পরে, মানুষের হাত নিয়ে।
ঘুমন্ত শরীর ভেঙে দিল,
স্বপ্ন লুটে নিল,
রাষ্ট্রের দরজায় রেখে গেল
এক রক্তাক্ত প্রশ্নচিহ্ন।
তিনি
কোনোদিন কথা বলতে পারেননি,
তাই শেষ আর্তনাদও
বাতাস ছাড়া আর কেউ শুনল
না।
যে কণ্ঠ জন্ম থেকেই স্তব্ধ,
তার মৃত্যুও হলো নিঃশব্দ—
কোনো শোকমিছিল নেই,
কোনো উচ্চারণ নেই,
শুধু রেললাইনের বুক চিরে
দীর্ঘশ্বাস হয়ে বয়ে চলে ট্রেন।
ববি
বেগম,
আপনি ভিক্ষা চাননি শুধু—
চেয়েছিলেন মানুষকে।
চেয়েছিলেন একটু নিরাপদ রাত,
এক মুঠো সম্মান,
একটি পৃথিবী,
যেখানে দরিদ্রের সঞ্চয়
মৃত্যুর কারণ হয়ে ওঠে না।
আমরা
লজ্জিত—
কারণ আপনার হত্যার আগে
আমরাই বহুবার
আপনাকে একা ফেলে এসেছি।
আমাদের সভ্যতা আজ
আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে
নিজের মুখ চিনতে পারে না।
পুরাণ
বলে—
অত্যাচারের অন্ধকার চিরকাল থাকে না;
অলক্ষ্যে জন্ম নেয় প্রতিরোধের আলো।
ইতিহাস বলে—
অবহেলিত মানুষের দীর্ঘশ্বাস
একদিন সময়ের বিবেক হয়ে ফিরে আসে।
কিন্তু আজ,
সে আশ্বাসও কেমন দূরের বাঁশি,
আমরা যেন অপেক্ষার অনন্ত প্রহরে
নিজেদেরই হারিয়ে ফেলেছি।
আমরা
সবাই যেন
অদৃশ্য কোনো গডোর প্রতীক্ষায়—
যে এসে বলবে,
মানুষের জীবন ভিক্ষার পাত্র নয়,
রাষ্ট্রের দায় কেবল দর্শক হয়ে থাকা নয়,
ন্যায়বিচার বিলম্বিত হলে
সভ্যতার মুখই কালো হয়ে যায়।
হে
ববি বেগম,
আপনার নীরবতা আজ
আমাদের সব ভাষার চেয়ে
উচ্চকণ্ঠ।
আপনার রক্তে লেখা প্রশ্ন
এখনও ঝুলে আছে
মেথিকান্দার আকাশে।
আর আমরা,
মাথা নত করে শুধু
উচ্চারণ করি—
হে মোর দুর্ভাগা দেশ,
যাদের করেছ অপমান,
অপমানে একদিন
হতে হবে সবার সমান।
---------------------------------------------
No comments:
Post a Comment