Thursday, July 2, 2020

উজ্জ্বল নক্ষত্রের অবসান


--------------------------কবি মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।
***********************************
রাত্রির অন্ধকার আকাশে দেখেছি আমি তোমাকে
কত দেখেছি শুভ্র আলোয় তুমি হাসতে, তুমি জ্বলতে
তোমার পথ পানে অপলক চেয়ে থাকি- যদি একটু আসতে !
গোঢ় অন্ধকার হতে তুমি নিরন্তর উৎসর্গ্ করেছো আপনাকে
এই নিখিলের কল্যাণে-

কি এক ঝড় তুফান তোমাকে ঢেকে দিলো বিয়োগের চাঁদরে!
খুঁজে ফিরি তোমার মুখখানি এই বিস্তৃত আকাশে
এ যেন এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের অবসান-

 এই প্রাণ আকুল হয়ে ওঠে তোমার শূন্যতায়-
কোন অনন্যোপায় হয়ে  তুমি চলে গেলে  আমায় ছেড়ে
পৃথিবীর এই মৃত সভ্যতায় কে আলো দিবে এখন?
যে আলোয় পথ চিনে যেতাম সাগরের স্নিগ্ধ কলরবে।

কি এক ব্যাদনা অক্লান্ত আগুন!
পৃথিবীর  নিবিড় কালো সভ্যতার ভিতরে
তবু
তোমার আলো রেখা মৃত সভ্যতায় পথ দেখায়-
অন্ধকার থেকে এসে নব সূর্য উদয়ের মতো
তুমি আছো- তবু কত দূরে !

রাত্রির অন্ধকার আকাশে দেখেছি আমি তোমাকে
কত দেখেছি শুভ্র আলোয় তুমি হাসতে, তুমি জ্বলতে
আজ তুমি নেই,!আজ তুমি নেই!
খুঁজে ফিরি তোমার মুখখানি এই বিস্তৃত আকাশে
এ যেন এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের অবসান-
-------------------------------------২১-০২-২০২০ ইং রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।

রাঙা জলে ভেসে আমি


-----------------------------কবি মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।
*********************************
সেদিন আমার বাবা হেসেছিল
যেদিন মার বুকে আমি এসেছিলাম উতরোল তরঙ্গের ভিড়
বাবার চোখ জেগে জেগে ধীরে ধীরে কালো হল
আকাশে ভেসে ওঠা কালো মেঘের মতো-

তবু থামেনি আমাকে নিয়ে আদর সোহাগের কোলাহল।
বাবার রাঙা জলে ভেসে আমি- আজ এতো দূর!

জীবনের শূন্যতা -হৃদয়ের ব্যথা একাকারে ভেঙ্গে
বুক চেপে সহে গেছে  আপনার হাহাকার
আমার নিত্য অভিসারে বিনিদ্র রাত-
অতন্ত্র প্রহরীর মতো অভয় দিয়েছে তপ্ত বালুচর
তবু বুঝিনি অন্তর স্মরলিপি-

তুমি আমার শুভ কামনায় অতুল্য ছায়ার মতো
শিরে্  উপশিরে জাগ্রত আছো- রোজ প্রার্থ্নায়
কান পেতে শুনো তুমি  হৃদয়ের গভীর  ক্রন্দন-
উদয় করো  সোনলী সূর্য্ আমার অন্ধকার গগণ-

তোমার রাঙা জলে ভেসে আমি- আজ এতো দূর!
জীবন পথে তুমিই আলো, সূর্য্ যেথায় উঠে-
জানি আমি শোধাবে না  কভূ, এই ঋণ মোটে ।
আল্লাহ তোমার সহায় হউন এপার-ওপার ঘাটে।
-------------------------------২১-০৬-২০২০ ইং,রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর। 

একজন আমানত হোসেন খাঁন


                                        -(উৎসর্গ্ঃ আমানত হোসেন খাঁন, উপজেলা চেয়ারম্যান, কাপাসিয়া উপজেলা পরিষদ)
---------------------------কবি মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।
****************************************
অতুল্য  উপমা
তুমি সৃষ্টি করো প্রতিদিন!
আমি অপলক দেখি একজন নিরহঙ্কার মানুষ- যার মাঝে নেই ধণী গরীবের কোন ব্যাবধান
খররৌদ্রে তুমি ছুটে চল ক্ষুধার্ত্ মানুষের দ্বারে দ্বারে, তুমি ছুটে চল তুমুল ঘূর্ণি তুফানে
মানুষের নিদান প্রহরে ডানা মেলে দাও উড়ন্ত পাখির মতো
জোয়ারের মতো ফিরে আসো বার বার খরা নদীর বুকে
দুয়ারে দুয়ারে অনেক ক্ষণ ধরে কথা বলো
পৃথিবীর দুঃখকে পাঠিয়ে দাও ভাটার পাদদেশে
তারপর
কাছে
অনেক কাছে
এমন ব্যবহার করো- আমি বিষ্ময়ে দেখি
এক মানবতার জনক যেন অন্ধকার গগণে জ্বলে আছে
পূণিমার মতো-
যে আচার আচরণ একটা আদর্শ্ জবীন প্রবাহের উপমা!
মানবতার দুর্ভিক্ষে;
তুমি বট বৃক্ষের মতো ছায়া হয়ে আছো
নির্লোভ, নিরহঙ্কার, দুর্বার যুদ্ধজয়ী সমর সেনার মতো-
সেবার ভ্রতে
নিখিলের বঞ্চিত মানুষের দ্বারে দ্বারে
দৃঢ় প্রতীজ্ঞ গণ মানুষের নেতা – একজন আমানত হোসেন খাঁন ।
-------------------------------------------২২-০৬-২০২০ ইং,রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর।

রক্ত টিপ



-----------------------------কবি মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।
**********************************
পরাধীন বাংলায় অস্থমিত সূর্যের আঁধারে-
সে  এক ধ্রুব তারা  হয়ে জাগাল বাঙ্গালীরে,
বলিল, মুক্তি চাই, বাঙ্গালীর মু্ক্তি চাই-

শোষিত বঞ্চিত মানুষের মতো নীলাভ  যে ব্যথিত প্রাণ, যার দুই চোখ
খোঁজে ফিরে সবুজ শ্যামল ছায়া নীর মেঠো পথ, শহর গঞ্জ-
প্রভাতের পূর্ব্ দিগন্তে  উঠে যে আলোক
সে আকাশে  চেয়ে দেখো  বীর বাঙ্গালীর রক্ত টিপ
ঝল ঝল করে জ্ব্লছে-
মুক্ত বলাকার মতো ডানা মেলে উড়ছে  লাল সবুজের বুকে-

যার গর্জনে বাঙ্গালী পেয়েছে গৌরবের বিজয় কেতন-
তার বুকেই পরাজয়ের রক্ত টিপ!!
-------------------------------------------------২৩-০৬-২০২০ ইং, রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।






তুমি আমার মৃত্যুঞ্জয়ী ”মা”


------------------কবি মো” আমিনুর এহছান মোল্লা।
*******************************
জন্মের উৎস তুমি,নির্ভ্য় আশ্রয় আমার !

বেদনার করুণ শৈশব হতে তুমিই আগলে রেখেছো আমায়
এক ‍অকৃত্রিম বাঁধনে
জড়িয়ে নিয়েছো বুকে কি যে তুমুল উল্লাসে অবিরাম
তুমি তার কিছুই বুঝতে দেওনি আমাকে-
কিংবা প্রতিদানও চাওনি কখনো-

তুমি এক মৌলিক মানুষ নির্মানের অতুল্য স্থপতি এই বিশ্ব বুকে
যেখানে নেই কোন কালিমা, নেই কোন দাগ দৃশ্য পটে
আছে শুধু আঁচল ঘেরা নির্ভ্য় আশ্রয়-
আছে শুধু প্রাণ উজাড় করা রক্তক্ষয়ী শ্রম, প্রেম- ভালবাসা
এইসবের কতোটা তুমি জেনেছো?

আমায় ঘিরেই তুমি আছো , কিন্তু ভুলে গেছো
শরীরের ভাঁজে ভাঁজে বয়ষের চিহ্নরা তোলপাড় করছে
সেইদিকে খেয়াল নেই,আমি কি খেয়েছি, আমি কি অফিসে গিয়েছি
নাকি নির্ঘূম আছি, এই ব্যস্ততায় তুমি-

অনেক কষ্টের দামে জীবন দিয়েছো গড়ে- এমন কোন রক্ত কণিকা নেই
এমন কোন শিরা উপশিরা নেই-
যেখানে তোমার কোমল স্পর্শ্ নেই ,হাড় ভাঙ্গ শ্রম নেই!
যে র্নিভয় আশ্রয় দিয়েছো আমায়,  যে অকৃত্রিম ভালবাসা দিয়েছো আমায়-
তার ঋণ কোনদিন শোধাবে না-

তুমি আমার মৃত্যুঞ্জয়ী ”মা”
তুমি আমার জীবন আলো-
তুমি আমার অতুল্য গৌরব!
কাল হাশরে,  তুমি আমার মুক্তির ঠিকানা।

এর প্রতিদান শোধাবো কি করে মা? পারবো না, কখনো পারবো না-
শুধু দু’হাত তুলে ফরিয়াদ করি আল্লাহ’র সানে-
ইহ-পর জগৎ যেন তোমার স্বর্গীয় করে প্রতিদানে।
-----------------------------২৪-০৬-২০২০ ইং, রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।

পৃথিবীর সন্তানেরা ফিরে আসুক  
------------------------কবি মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।
****************************
অনেকেই  ভুলে যেতে চাই, রক্তের বাঁধন ভুলে না
কি এক অদৃশ্য বন্ধন!
এতো সহজেই ভুলা যায় না, এতো সহজেই ছুঁড়ে ফেলা যায় না
তবু দেখি সহজেই ভুলে যায় মানুষ!

যে রক্তের প্রবাহে তুমি এসেছিলে এই পৃথিবীর বুকে
যাদের প্রেম ভালবাসায় তুমি সাজালে প্রিয়ার বাসর
আজ কেন সহজেই ভুল গেলে তাদের ঠিকানা?
কেন কেরেছো বৃদ্ধাশ্রমের এতো আয়োজন !

যে শৈশব কৈশোর থেকে যৌবনে প্রতিটি ধাপে তুমি ছিলে
যাদের কোলে পিঠে,যাদের রক্ত স্মাত গঙ্গায় ভেসে ভেসে
আজ তুমি এতোদুর!
তবে কেন উপেক্ষার ডাস্টবিনে ফেলে
এতো নিষ্ঠুর আয়োজন ।

মনে আছে সেই কবে-
দু’মুঠো ভাত,ঔষধ, ফল ফলাদি কাপড় চোপড় নির্দ্বিধায় দিয়েছো!
বুকে জড়িয়ে নিয়েছো?
আজ তুমি মস্ত বড়! দুনিয়া জোড়া যশ খ্যাতি তোমার, কোন অভাব নেই-
আলিশান বাড়ী- গাড়ী –নারীর রঙ্গ মহল
একবার চেয়ে দেখো ,তোমার শেকড়েরা রুগ্ন দেহে অর্ধ্হারে অনাহারে
মানুষের দ্বারে দ্বারে-

আজ বড় অসহায়! আজ বড় এতিম! অবুঝ শিশুর মতো তাকিয়ে আছে-
কোথায় আমার যুবরাজ?
অস্পষ্ট দু’চোখ তুলে নির্নিমেষে খোঁজে ফিরে তোমাকে
সেই কবে থেকে অনাদরে  অবহেলায়
শরীরের ভাঁজে ভাঁজে জমে গেছে হিমালয় পর্ব্ত!
মৃত্যেুর উপতক্যা-

তোমার রক্তের সাথে শর্ত্হীন সন্ধি হয়েছিলো-
প্রয়োজন যখন ফুরালো, তুমি ভুলে গেলে রক্তের বাঁধন।
যদিও তুমি ভুলে যাও, শেকড় তোমাকে ভুলে না
মা -সন্তানের নাড়ের মতো-

হে পৃথিবী, সন্তানের কোষে কোষে নিরাপদ আশ্রয় গড়ে দাও।
প্রকাশ্যে বলে দাও,–’হে  কবি
পৃথিবীর সন্তানেরা ফিরে আসুক  চির মুক্তির ঠিকানা।
--------------------------------------২৪-০৬-২০২০ ইং রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর


তোমার মৃত্যুঞ্জয়ী বাবা


-------------------------------কবি মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।
*********************************
একবার নিখিলে দিকে ফিরে দেখো তুমি কতোটা নিঃস্ব
তুমি কতোটা আশ্রয়হীনা,কতোটা শূন্যতার হুলস্থুলে
আজন্ম বিয়োগের বেদনায় পুড়ে যাচ্ছো-

সে ছিলো একদিন!
প্রাণবন্ত ছিলো -এই পৃথিবীর বুকেই ছিলো
আমাদেরে মাঝেই ছিলো-
তুমি ডাক দিলে কিংবা তোমার মুখ দেখলেই
তার রক্তক্ষয়ী সব কষ্ট নিমিষেই মুছে যেত
ভালবাসার আলিঙ্গনে জড়িয়ে নিতো প্রসস্থ বুকে

শব্দের অধিক দ্রুত গতিতে ছুটতো বিজয়ের গান শোনাবে বলে
হারভাঙ্গা পরিশ্রমে কিংবা ঘামের উত্তাল স্রোত ধারায়
এতোটুকুও ক্লান্ত হয়নি যে মানুষটি, যে বাবাটি
আজন্ম স্বপ্ন দেখতো বিজয় কেতনের
সে আজ আর নেই, তোমার মাঝে নেই ! আমাদের মাঝে নেই
পৃথিবীর বুকে নেই-

আমি জানি, এ প্রাণ সীমাহীন মরোদ্যানের মতো-খাঁ খাঁ করছে
যে ছিলো তোমার আশ্রয়, আমাদের পৃথিবী, জগতের প্রেরণা
সে আর কেউ নয়- সে আর কেউ নয়
তোমার মৃত্যুঞ্জয়ী বাবা-

যে কিনা ছিলো আদর্শ্ পিতার উজ্জ্বল উপমা- নির্ভয় আশ্রম।
হে পৃথিবীর সন্তানেরা ,দু’হাত তুলে মোনাজাত করো বিধাতার সনে
রাব্বির হামহুমা কামা রাব্বা ইয়ানি সগিরা-
------------------------------২৪-০৬-২০২০ ইং, রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।


অহিংস চোখ খুলে তাাকালেই



-----------------------------কবি মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।
******************************
অহিংস চোখ খুলে তাাকালেই চিনবে আমাকে
হৃদয় খুলে ভালবাসলেই বুঝবে  ব্যাকরণ
করবে  অনুভব প্রেমের সেই শ্বাশত বিজ্ঞান

মানুষই পৃথিবীর সভ্যতায় চির মুক্তির মৌল উপাদান
মানবতাকে চিনতেই হবে,মানুষকে বুঝতেই হবে
অহিংস চোখ খুলে তাাকালেই চিনবে আমাকে

তুমি হৃদয়কে চিনবে না মানে!!
তোমার ভিতরেই সেই  প্রেম লুকিয়ে আছে
এই অনুপম স্পন্দন কি শুন না?

অহিংস চোখ খুলে তাাকালেই চিনবে আমাকে
আমি তো রেখেছি তোমাকে
স্পন্দিত হৃদয় যুমনা-
------------------------------------২৪-০৬-২০২০ ইং, রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

দূর্ভোগ আছে তোমার কপালে-
--------------------------কবি মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।
*******************************
কে তুমি হও! খেলছো এতো নিষ্ঠুর খেলা
মৃত্যেুর খেলা, রক্ত রক্ষণের খেলা
আপাদমস্তক কেড়ে নেও তামাম পৃথিবীর প্রাণ-যমদুতের মতো
স্বপ্নীল বাড়ীগুলো আচমকা তছনছ করো দিবা নিশি
নির্বিচারে ঢুকে হত্যা করো  জল্লাদের মতো ফাঁসির মঞ্চে
যেখানে শিশু- কৈশোর -যুবক -বৃদ্ধ বনিতা মৃত্যেু পথযাত্রী-
এ কেমন ‍বিচার তোমার?
তুমি কারো আর্জি শোন না, তুমি কারো ক্ষমা করো না-
তোমাকে তো কখনো দেখিনি আগে এ বিশ্ব জমিনে
এতো নির্দয় মূর্তিতে, এতো বিদ্রোহে-
মানব সভ্যতার মাঝে-
যে পৃথিবী মুখর ছিলো, যে পৃথিবী সাম্যের গান বাজাতো
আজ সেখানে স্তব্দতা, আজ সেখানে নিরবতা
তোমাকে তো আগে কখনো দেখেনি ত্রিসীমানায়?
কে তুমি হও? ও  তুমি করো না?

করোনা তুমি অদৃশ্যে যুদ্ধে নেমেছো এই মানব সভ্যতায়
জেনে রেখো, এ যুদ্ধে অবশেষে তুমি সর্বস্ব হারাবে
কেননা আগামী প্রভাতেই সোনালী সূর্য্ উদয় হবে ।
মনে রেখো ,দূর্ভোগ আছে তোমার কপালে-
-----------------------------------২৫-০৬-২০২০ ইং,রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।

আমি আমার পথেই যাবো


---------------------কবি মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।
********************************
তুমি আর কতোটুকু জানো?
আমি তো আমার ব্যাপারেই জানিনা!!

বড় অদ্ভুদ তুমি! আমাকে নিয়েই তোমার যত চর্চা
আর কতো পথ গেলে তুমি থামবে?
কতোটুক হলে মনে হবে এ পথ হয়েছে শেষ
আপাতত তোমাকে বলতে দিলাম, বলে যাও

ওইটুকু পরচর্চা নিয়ে তুমি বড় হও-
আর আমি আমার পথেই যাবো দিগন্ত বিজয়ে
পরচর্চা করতে করতে হও তুমি অন্তসারশূন্য
আগুন ও ছাই পাবে, পেয়ে যাবে ধ্রুপদী বেদনার আকাশ

তুমি আর কতোটুকু জানো?
আর আমি আমার পথেই যাবো দিগন্ত বিজয়ে—
---------------------------------২৫-০৬-২০২০ ইং রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।

অহেতুক ভয়ে কম্পিত মানুষ!


------------কবি মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।
********************************

হে জ্বর ,ঠান্ডা কাশি, গলাব্যাথা- তুমি একাবার সেই কথা কও
তুমি কও দুর্বার বিজয়ের কথা,তুমি কও উদিত সূর্যের কথা,
সুশোভন আরোগ্যের কথা বলো,- অভয়ে থাকুক মানুষ!

এ লক্ষণ হলেই তুমি করোনা নও সেই কথা কও-
অহেতুক ভয়ে কম্পিত মানুষ!
অশুভ ভেবে কথার চালাচালি কানাকানি ফিস ফিস মানুষে মানুষে
লক্ষণ দেখলেই বলাবলি শুরু,না্ক ছিটকানি শুরু, প্রচন্ড ঘৃণা শুরু-
এ কেমন আচরণ আজ পৃথিবীর বুকে ?

নীলাভ বিষে বিষে মৃত্যেুর উপত্ক্যায় সমাজের প্রতিটি বন্ধন-
মানুষ ভুলেগেছে মানুষের জন্যে
ঘৃণায় ঘৃণায় দুরত্ব এসেগেছে প্রিয় প্রিয়ার মাঝে, আজ সেই প্রেম নেই-
এক অন্ধকার কারাগারে আবদ্ধ সামাজিক প্রবাহ-

এখনো কিভাবে এতো মানুষ বেঁচে আছে, তুমি বলো না –
তুমি বলো,জ্বর ,ঠান্ডা কাশি, গলাব্যাথা হলেই তুমি করোনা না
তুমি বলে দাও- অভয়ে থাকুক মানুষ-

সময় পাবে না বেশী চতুর্দিক বড়ো টলোমলো
হে জ্বর ,ঠান্ডা কাশি, গলাব্যাথা সম্মুখে এসে সেই কথা বলো
তুমি সাধারণ, অতি সাধারণ-

মানুষের ভেতরে থেকে মানুষকে ঘৃণা করে কতোটুকু
প্রশান্তি পেয়েছো?
এ লক্ষণ হলেই তুমি করোনা নও সেই কথা কও-
অহেতুক ভয়ে কম্পিত মানুষ!
--------------------------------২৫-০৬-২০২০ ইং, রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর


মানুষে অমানুষের চিহ্ন


-----------------------কবি মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।
******************************

আজো আমি মানুষে অমানুষের চিহ্ন দেখি,
আজো আমি বুকে বুকে অমানবিক গর্জ্ন শুনি
আজো আমি সুবিধা বঞ্চিত গোষ্ঠির আর্তচিৎকার শুনি ,করুণ দৃশ্য দেখি

হে ক্ষমতা,
তুমি কি ভুলেগেছো সেই যুদ্ধে পাওয়া সনদের কথা, সেই রক্তের দাগ ?
ওইখানে ছিলো না কোন বৈষম্য, ছিলো না কোন অপবিত্র কালিমা

আজ দেখি অলি গলি চোর ডাকাতের আড্ডা
হাতে হাত মিলে লাগামহীন ছুটেছে ঘুষখোর , চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ মাদক সম্রাট
প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি, আমলা, কামলা, উঁচু চেয়ার নীচু চেয়ার, ছাতি পাতি
কানা বধির ল্যাংড়া খোড়া শিক্ষিত অশিক্ষিত—

লাল-সবুজে লেগে আছে দুর্নীতির লগো-
অথচ
ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তের উপর দাঁড়িয়ে, দু’লক্ষ মা বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে
লাল-সবুজ বুকে নিয়ে প্রতীজ্ঞা  করেছিলাম
আজ তার ছিটে ফোটাও দেখিনা-
চাল চোর ,গম চোর- প্রতিনিধি ,জনপ্রতিধি আমলা কামলা অলি গলি
হায় আফসোস!

আজো আমি মানুষে অমানুষের চিহ্ন দেখি,
আজো আমি বুকে বুকে অমানবিক গর্জ্ন শুনি
আমার অধিকার রক্তে পাওয়া লাল-সবুজের চির অঙ্গিকার-
আজ যেন চোর ডাকাতের আড্ডায় কলঙ্কিত স্বাধীন পতাকা।
------------------------------২৫-০৬-২০২০ ইং, রাওনাট,কাপাসিয়া, গাজীপুর।


তোমার বাবা কাঠগড়ায় দাঁড়াবে


--------------------কবি মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।
*************************
বাবাকে শ্রদ্ধা করো, নিবিড় শ্রদ্ধা করো হে পুত্র
অফুরান ভালবাসো, এতে দোষের কিছু নেই
নিতান্তই নৈতিক দায়িত্ববোধের সীমানা হতে তুমি-
শ্রদ্ধা কিংবা ভালবাসার স্পর্শে বুকে নেও -এটাই কাম্য

কিন্ত তুমি কি পেরেছো উদ্ধার করতে পাপের অগ্নি চুল্লি থেকে
যে বাবা পরিবারের জন্য নিশ্চিত পতনের দিকে-
এতো আলিশান , বাড়ী গাড়ী অর্থ্ বৈভব,- এতো দাপট! এতো ক্ষমতা
এতো দানবীর!
মাথায় সমাজপতির মুকুট- আরো কতো শিরোনাম !!

যে বাবা সমাজের ভিতরে অর্থ্ দম্ভে প্রবাহিত হয় দুর্বিনীত নদীর মতো
অহংকারে গর্জে উঠে দানবীয় হুঙ্কারে
কখনো্ কি জানতে চেয়েছো- এ অর্থের উৎস কি ?
যে টাকা বেতন পায়, তা দিয়ে কি এতো কিছু হয়?
না মোটেও হয় না! তা তুমিও জানো-

তোমার সুসময়ে বাবা যে বড়ো বেশী অসহায়, বড়ো বেশী অপরাধী
মুক্তি দেও তাকে-
তোমার বাবা যে আমার অধিকার হরণ করে আজ এখানে-
আর তুমি দম্ভ অহংকারে-

আজ হয়তো তোমাদের সুময়, সেদিন তো দুরে নয়
তোমার বাবা কাঠগড়ায় দাঁড়াবে-
--------------------------------২৫-০৬-২০২০ ইং,রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।


জিপি এ -৫ প্লাবনে



----------------কবি মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।
******************************
জিপি এ -৫ শুধু জিপি এ -৫ চাই, পাবে? হে পুত্র! হে কন্যা!
তোমাদের কাছে চাই শুধু তোমাদের কাছে চাই
পাবে না?
এ জীবনে তোমাদের কাছে চাই- জিপি এ -৫ চাই

তুমি জানো বা না জানো জিপি এ-৫ এনে দিও
আমি অফুরান উল্লাসে নেচে উঠবো অবিরাম
আমি বুক উচিয়ে বলবো আমার ছেলে জিপি এ-৫, আমার মেয়ে জিপি এ-৫
প্রাণ খুলে জিপিএ-৫ চেয়েছি এনে দিও, এনে দিও-


কি এক অসুস্থ প্রতিযোগীতায় নেমেছে আমাদের অভিভাবকেরা
সন্তানেরা নষ্ট কষ্টে ,পথ ভ্রষ্টে দিশেহারা- অপূর্ণ্তায়
কি শুরু হলো? চৌদিকে দেখি ঘরে ঘরে মাতাল জোয়ার এলো
সবাই প্লাাবিত হচ্ছে জিপি এ -৫ প্লাবনে-

আলোকিত শিক্ষা আজ নির্বাসনে
এক অসুস্থ প্রতিযোগীতার অগ্নি বানে-
কে দায়ী? শিক্ষা ব্যবস্থা নাকি আমাদের  মন মানসিকতা?

হে পিতা, হে মাতা-
আমি চাই তোমরা ব্যাকুল হও শর্তহীন
যেথায় আছে সন্তানের প্রকৃত শিক্ষার জ্ঞান।
---------------------------২৫-০৬-২০২০ ইং রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।




রেমিট্যান্স যোদ্ধা


-------------------------কবি মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।
************************************
একটু ভেবে দেখো, একটু সম্মান করো ।

এভাবে আর কতো বির্সজন দিলে তুমি লাল গালিছা  সংবর্ধনা দিবে
কিংবা ভি আই পি মর্যাদা দিবে?
অতোটুকু না দাও,অন্তত অপমান করো না, গলা টিপে ধরো না
জাতির দুঃসময়ে তুমি কিছু করো
একটা কিছু করো-

দেশে বিদেশে রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের নিদারুল অকাল-
ওইখানে নেই কোন পরিবার পরিজন, এইখানে নেই কোন সম্মান
আছে কিছু তিরস্কার!
খেলছে সবাই বেসুর-বেতাল

এতো কঠিন, এতো বিরহের মর্মান্তিক প্রবাস জীবনের খেলা
তার কতোটুকু অনুধাবন করতে পেরেছো
না কি শুধু মিথ্যে মিথ্যে রেমিট্যান্স যোদ্ধা শিরোনামের তামাশা!
এতো অবহেলা কেন? সত্যি এবার জেগে ওঠো
কিছু একটা করো-

রেমিট্যান্স যোদ্ধারা এদেশের প্রাণ, জাতির গৌরব!
যাদের রক্তে রক্তে ফুটে আছে অর্থনৈতিক সৌরভ।
-----------------২৫-০৬-২০২০ ইং রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।