Saturday, February 6, 2021

সে আর আসে না

 ----কবি মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।

একটি পাখি রোজ আমার জানালায়

উড়ে এসে বসে,খুব কাছে এসে ডাকে

মধুর কণ্ঠে গায় গান,আমি হাত বাড়ালেই

পাটাখা ঝাপটায় কিংবা দূর কোথাও

উড়ে য়ায়—

 

আবার ফিরে আসে সেই জানালায়, অপলক

চেয়ে থাকে, ফিস ফিস ডাকে—

পালকে কি যেন লেখা, ঠোঁট দু’টো হলদে

রাঙানো, দু’চোখে আছে জমা অব্যক্ত কিছু

স্মৃতি-

 

যেন কারো খোঁজে প্রদিতিন আসে,আমার

জানালায় আসে, হয়তো আমিই সেই ঠিকানা

তাই হয়তো চোখ তার এমন অশ্রু ঝরা

বুকটা কেঁপে উঠলো, আমি হাত বাড়ালাম

হৃদয় খুলে পাখিটা করলো উৎসব-

 

হঠাৎ একদিন পাখিটা নেই! আর আসে না

জনালায়, অপলক চেয়ে থাকি

সে আর আসে না, হয়তো অন্য কোথাও দোল খায়

আর শিস দেয়

দিবো না বাধা তাকে,--আমি যে ভালবেসে ফেলেছি।

----০৬-০২-২০২১ ইং,রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।

Friday, February 5, 2021

আমাদের বিজয় বিকাশ

 -----কবি মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।

গুচ্ছ গুচ্ছ কালো মেঘ মালাগুলো

আড়াল করে দিচ্ছে উদয়ের সূর্য্ রশ্মি

এটম বোমার মতো বিস্ফোরিত তারুণ্যের প্রাণ

ছুটছে অন্ধকার ভ্রমনে—ইথারের তরঙ্গে

 

মোবাইল তার নগ্ন দরজা খুলে দিয়েছে অবাদে

তারার মতো কিছু আলো জ্বললেও—এখনো

শুভ্র আলো পৌঁছেনি হৃদয় নিখিলে

নগ্নতা উস্কে দিয়েছে পর্দায় পর্দায় সূক্ষ বিন্যাসে ।

তারুণ্যের রৌদ্র গিয়েছে নিভে—

 

নেটের অদৃশ্য তরঙ্গে ভেসে আসে অশ্লীল দৃশ্য

আলোর আকাশ ছেড়ে এখন অন্ধকার কুটিরে

তারুণ্যের মন জগত গড়েছে

শয়তানের মঞ্চ—

উম্মু্ক্ত যৌনাচার পল্লী এখন আনাচে কানাচে—

 

গুচ্ছ গুচ্ছ কালো মেঘ মালাগুলো

আড়াল করে দিচ্ছে উদয়ের সূর্য্ রশ্মি

চৈতন্যের প্রতিটি মোর্চায়

জাতির পরাজয়, ভীরুতা কলুষ আর লজ্জা

 

তারুণ্যের প্রতিটি গর্জন আমাদের বিজয় বিকাশ।

ইন্টারনেট দিয়েছে খুলে আলো-আঁধারের আকাশ।

----০৫-০২-২০২১ ইং,রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।

তোর পূঁজি কই?

 ----কবি মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।

অবহেলা করিস না রে ক্ষণিক প্রাণ

সময় যে পার হয়ে যাচ্ছে

এবার যে তোর বিদায় বেলা।

প্রস্তুত হ’রে প্রাণ, এসে যাবে তোর পালা।

অনন্তের কথা ভাবিস রে তুই প্রাণ

 

ক্ষণিক ধরা ছেড়ে যেতে হবে তোরে দাঁড়িয়ে আছে ওই

ওরে প্রাণ, তোর পূঁজি কই?

কোথায় তোর ব্যস্ততা?

তুই জানিস কি প্রাণ! হয়েতো এসে যাবে তোর পালা।

তোর বিদায়ে ভুলে যাবে পৃথিবী

পর হবে আপন—

 

কোথায় তোর দম্ভ অহংকার—অর্থ্  বৈভব

পৃথিবীর দুর্ণীতি?

ওরে প্রাণ, তোকে যেতে হবে যে- ওই অনন্ত শালা

তোর পূঁজি কই?

 

ওরে প্রাণ, তুই এতো লোভী কেন?

চল সেজদা দিয়ে কিনে নেই আগামীর পূঁজি- বিজয় মালা।

এবার যে তোর বিদায় বেলা।

প্রস্তুত হ’রে প্রাণ, এসে যাবে তোর পালা।

--০৫-০২-২০২১ ইং,রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।

 

হাসির মাঝে অশ্রু জল

কবি মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।

পরাধীন নই, তবু স্বাধীনতার খুঁজে আমি

পরাধীনতা আজ বড় গর্জন করে ।স্বাধীনতার

পতাকা আছে কাগজের মানচিত্রে, বিশ্ব সভায়

কিংবা আপন স্বার্থের ভেলকুনিতে—

বজ্র কণ্ঠে মঞ্চ কাঁপাও, ভাল খাও দাও

ফুর্তি করো রঙ্গ শালায়-

.

পরাধীন নই, তবু স্বাধীনতার খুঁজে আমি

আমি বড় বঞ্চিত আজ

আমি চাইতে পারি না ন্যায্য অধিকার,বলতে পারি না

দুঃখের কবিতা-

লিখতে পারি না লক্ষ শহীদের রক্তে পাওয়া লাল-সবুজের

সাহিত্য।

 

অন্যন্ত নিকটে আসে যায় পরাধীনতার গ্রাস

লোভ লালসার ভঙ্গিমায় স্বাধীনতা

অধিকার ওরা করেছে হরণ

সবুজে পলাশ ফুটেনা--বাগানে ফুল নেই--গগণে

পাখির আনাগোনা নেই

আছে কিছু শুকুনের ঝাঁক--

 

পরাধীনতার কান্না কেউ করবে না বারণ কখনো

তবু স্বাধীনতার খুঁজে আমি--

স্বাধীনতা নামক শব্দটি আজ বড় অসহায়

হাসির মাঝে অশ্রু জল----

----০৫-০২-২০২১ ইং,রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর। 

কি করে হও ?

 

 ----কবি মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।

হে প্রাণ,এই ধরাধমের দিকে তাকিয়ে বলতেই পারো

এই বসূধা তোমার-

কিন্তু এই বিশাল পৃথিবী তোমাকে চিরদিন রাখবে না।

 

ক্ষমতার প্রদীপ হাতে নিয়ে বলতেই পারো

তামাম জনপদ তোমার-

তবু লোভেরা থাকবে সরব তাগুদের চাঁদরে আচ্ছন্ন হয়ে

 

মৃত্যু ঘনিয়ে এলে তোমার দরবারে

তোমার বলার হিম্মত নেই! এই পৃথিবী তোমার

কিন্ত সত্য থাকবে চিরন্তর ।

 

আলোর পথিক হও তুমি, হৃদয়ের চোখে চোখ রেখে

যদি বলো,তুমি একান্ত আল্লাহ’র,কি করে হও তাগুদের?

আঁধারে আলো পাবে তুমি

তুমি হবে আল্লাহ’র—আল্লাহ হবে তোমার ।

 

-----০৫-০২-২০২১ ইং,রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।

পূর্ণিমার আলো

 ----কবি মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।

রাত্রির নিকেট গিয়ে বলি,

অন্ধকার আকাশ তুমি একটু আলো দিতে পারো?

রাত্রি বলে আমার বুক কালো চাঁদরে ঢাকা

যদি চোখ খুলে দেখো,হয়তো পেয়ে যাবে

পূর্ণিমার আলো।

 

সূর্যের কানে কানে বলি,

হে সূর্য্ পৃথিবীকে তুমি একটু আলো দিতে পারো?

প্রভাতের সূর্য্ বলে কুয়াশা কাটেনি এখনো

এই হৃদয়ের ভিতরে যদি সূর্য্টা দেখতে পাও, তবে

পৃথিবী হয়তো পেয়ে যাবে প্রখর রৌদ্র-

 

জুলুম শাসকের নিকট গিয়ে  বলি,

জাতিকে একটু ন্যায় বিচার দিবে কি?সুসম

বন্টন দিতে পারো? রক্তের প্রবাহে যদি

প্রতিবাদের ঝড় উঠাতে পারো, তবে

হয়তো ধ্বংস করো দিতে পারো

জালিমের মসনদ-

 

কেবল গুটিকয়েক দীপ্ত প্রাণ প্রেমের জন্য

খুলেছে হৃদয়ের দ্বার।তুমিও ঢুকে যাও

সেই নীড়ে, তবে হয়তো পেয়ে যাবে

পূর্ণিমার আলো।

----৫-০২-২০২১ ইং,রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।

Thursday, February 4, 2021

আমলনামা

 ----কবি মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।

যে তুমি এতোকাল পৃথিবীর বুকে করেছো কোলাহল

সে তোমার আমলনামা লিখছে আরশে  দলবল ।

 

ওইদিন খোলা হবে জীবনের কবিতা

চরণে কি লেখা আছে তুমি পড়বে তা !

এ এক বিষ্ময়!!

আফসোসে আফসোসে নত শির হবে তুমি

এ কি করেছি  আমি-- এই নশ্বর ভূমি!!

 

যে সাহিত্যে শূন্যতায় ভরা জীবনের গান

সে গান  কি বাজবে আরশের ছায়াতল ?

ওই কবির  কবিতা আবৃত্তি হবে না-

বিচারক শুনবে না ফরিয়াদ কোন—বিচারক শুনবে না

বাতিলের গান—

 

যে তুমি ছুটেছো নশ্বর বুকে তাগুদের চুম্বনে

তা সবই লেখা আছে কবিতার গোপন চরণে

সে তো নিঃশব্দে সাক্ষী হবে তোমার হরণে

বিচারিক ময়দানে-

 

লেখক বসা আছে নিভৃত ঘরের প্রান্তদেশে ।

সে তোমার আমলনামা লিখছে আরশে  দলবল

যে তুমি এতোকাল পৃথিবীর বুকে করেছো কোলাহল ।

----০৪-০২-২০২১ ইং,রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।

এই তোমাকে

 

----কবি মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।

অশুভ’র খেলা শেষ হয়ে কোনোদিন

শুভ যদি আসে,

 

এই তোমাকে ভালবেসে ডাকবে মানুষ,

অন্ধকার দিনগুলো ভুলে যাবে কৌশলে,খুব কৌশলে

বিনয়ের লকলকে লতা অবনত শিরে

তোমাকে চিনে নিবে

এতোটুকু থাকবে না দীনতা--

 

ব্যর্থ্তার দিন শেষ হয়ে কোনোদিন

সফলতা যদি আসে,

ফুলেল শুভেচ্ছায় জটলা বেঁধে যাবে চৌদিকে

বলবে মানুষ তুমি ছিলে সম্রাট!

তুমি ছিলে অক্সিজেন

এই পৃথিবী নব রূপে চিনে নিবে তোমাকে-

 

দুঃসময়ের দিন শেষ হয়ে কোনোদিন

সুসময় যদি আসে,

এই তোমাকে ভালবেসে রাখবে মানুষ,

মায়ের মতো ঠিক বুকের কাছে।

----০৪-০২-২০২১ ইং,রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।

 

অবশেষে

 ------কবি মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।

তুমি কে হও গো- - হে প্রাণ?

ক্ষণিক পৃথিবী তছনছ করে যাও দিবা-রাতি

নির্বিচারে ঢুকে যাও রঙ্গ মহলে তরিৎ গতি।

মোহের প্রাণ, লাজ শরমের মাথা খেয়ে

লুটে- পুটে যাও হক বাতিল না চেয়ে-

 

তোমাকে তো এরূপ হতে বলেনি কভূ- এ তল্লাটে

তুমি তো এসেছো হকের পতাকা উড়াতে নশ্ব্র ঘাটে

আজ তুমি করছো কি ?

দুনিয়ার মড়কে ছুটেছো তুমি সত্যের বিদ্রোহে

অনন্তের ঠিকানা ভুলেগেছো তাগুদের গুন রাহে

 

তুমি কে হও গো- - হে প্রাণ?

তোমাকে তো দেখিনা আজ সত্যের যুদ্ধ বহরে।

লোভ-লাসলার ভিরে বাতিলের পদচারণায়

নিজেকে হারিয়ে ফেলেছো আগামীর ঠিকানায়।

প্রাণ তুমি আঁধারে নেমেছো

পৃথিবী ভ্রমণে-

 

কে জানে কি আছে আগামী ভ্রমনে-

পৃথিবীর মোহ অবশেষে তোমার সর্বস্ব হারাবে

প্রভূ নারাজ হলে ওইদিন আগুনের চুল্লি জ্বালাবে।

---০৪-০২-২০২১ ইং,রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।

 

এর বেশি পারি না

 

----কবি মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।

আমারও তো দৃষ্টির সীমানা আছে-

আছে কিছু হৃদয়ের ধর্য্য্ ক্ষমতা ।

আমি আর কতোটুকু সইতে পারি?

 

কতোটুকু ভালাবাসা দিলে মনে হবে দিয়েছি তোমায়

যা ছিল তাই সবটুকু দিয়েছি তোমাকে পাবো আশায়

 

যেটুকু দিয়েছি তা নিয়ে হও তুমি

এ হৃদয়ের মহারাণী-

প্রেমের মসনদ রেখেছি পেতে আমি

ভালবাসা পেতে পেতে কিছু নত হও

আরো অনেক দিবো যদি পাশে রও ।

 

আমি আর কতোটুকু সইতে পারি?

হৃদয় আর প্রেম দিতে পারি, পেয়ে যাবে স্বর্গ্ আকাশ।

এর বেশি পারি না আমি—

-----০৪-০২-২০২১ ইং,রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।

তোমার দেওয়া আঘাতে

 

------কবি মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।

পৃথিবীর আগুন আর কতোটুকু পোড়ে!

আছে কিছু সীমাবদ্ধ ক্ষ্য়ক্ষতি কিংবা সীমিত বিনাশ,

কিন্তু তোমার দেওয়া আঘাত তার চেয়েও বেশী

হৃদয়ে ভিতরে লেলিহান আগুনের সন্ত্রাস

সব স্পন্দন কেড়ে নিচ্ছে

নিষ্ঠুর জল্লাদের মতো—

 

পৃথিবীর আগুন আর কতোটুকু পোড়ে!

আছে কিছু সীমিত বিনাশ! আছে কিছু ধূসর রঙের ছাঁই

তবুও তো আছে!!

 

তোমার দেওয়া আঘাতে আর কিছুই থাকে না

কিছুই থাকে না,

আমি নিথর হয়ে যাই, আমি জীবন্ত লাশ হয়ে যাই

হৃদয় আজ বিরান ভূমি,আমার তুমি নেই

আমার কিছুই নেই------

------০৪-০২-২০২১ ইং,রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।

 

 

বড় অযত্নে মায়ের ভাষা

 

----কবি মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।

দাউ দাউ পুড়ে যাচ্ছে মায়ের অহংকার

নিদানের মতো পুড়ছে অ, আ, ক, খ

রক্তের দাগ এখনো মুছেনি,মুছে গেছে শহীদের রক্ত দান

এলোমেলো স্তুপ, অফিস-আদলত, মসজিদ এবং মন্দির

দাউ দাউ পুড়ে যাচ্ছে মায়ের অহংকার

 

নির্দয়ভাবে পুড়ছে সালাম বরকত রফিক জাব্বারের স্মৃতিগুলো

পুড়ছে কবিতার পন্থিগুলো, কবির রচনাবলি,সাহিত্য্ ভান্ডার,

মানচিত্রের রক্তিম দাগ,সন্তানের প্রথম শব্দ-

বিরহের আগুনে জ্বলছে মাতৃভাষার বর্ণগুলো

প্রেমিকার চিঠিগুলো এলোমেলো

ফুলগুলো পদধূলিত হচ্ছে

লোক দেখানো স্মৃতি স্তম্ভে—

 

অ,আ, ক,খ  দৌড়াচ্ছে দিগ্বিদিক!মাতৃভাষার বুঁননগুলো

খসে যাচ্ছে রক্ত কণিকা থেকে, শিশুকে বুকে নিয়ে

উদ্ভ্রান্ত জননী-

পথহীন পথিকের মতো ছুটে যাচ্ছে ভিন দেশী শব্দের খোঁজে

নগ্ন আলিঙ্গনে থরো থরো-

 

অথচ গর্ব্ করে বলি,

বাংলা আমার মাতৃভাষা!

সকল প্রাণে দিবার উষা

 

মাতৃভাষাকে বাঁচাও এই বর্বর আগুন থেকে,বাংলা ভাষাকে বাঁচাও

ভালবাসো বুকের অতলে কিংবা একান্ত পিঞ্জরে

যে রক্তদানে তুমি পেয়েছো মায়েরভাষা-

দাউ দাউ পুড়ে যাচ্ছে মায়ের অহংকার

নিদানের মতো পুড়ছে অ, আ, ক, খ ।

 

বড় অযত্নে মায়ের ভাষা তাও দেখতে হয়!!

---০৪-০৩-২০২১ ইং,রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর।