Saturday, February 6, 2021

আরেকটি যুদ্ধে

 -----------কবি মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।

আমি শুধু আহত হই, শুধু আহত হই

কোন কিছুতেই যেন আমি খোঁজে পাই না অধিকার।

 

যে রক্ত প্লাবনে স্বাধীনতার তরী ভেসেছিলো

মাতৃকার সাগরে, আজ সেই জলে বেদনার রাঙা জল!

কৃষ্ণ পক্ষের উত্তাল তরঙ্গ-

প্রেমহীনা হৃদয় দেখে আমি বড়ো অস্থির হই-

রক্ত ঝরে স্পন্দিত কুটিরে-

 

লাল-সবুজের বুক চিরে চিরে

দুর্ণীনিবাজরা চুষে নিচ্ছে শহীদের রক্ত কণিকা,কেড়ে নিচ্ছে আমার অধিকার, লুটে নিচ্ছে মায়ের ইজ্জত

ঘুষে ঘুষে কলঙ্কিত করছে শাসকের সীমানা-

যুদ্ধে পাওয়া মানচিত্রে তোমাদের চরিত্র দেখে

অশ্রু ঝরে,

আমি শুধু আহত হই, শুধু আহত হই।

 

স্বাধীনতা না বোঝে যদি আমার অধিকার

আমি আর আহত হবো না,আহত হবো না

লাল-সবুজের শপথ বাঙ্গালী বুঝে নিবে সুদে আসলে।

এবার গর্জে ওঠবো-

আরেকটি যুদ্ধে, অধিকার আদায়ের যুদ্ধে ।

------০৬-০২-২০২১,রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।

পঞ্চাশ বছর

 

-----কবি মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।

স্বাধীনতাকে খুঁজো না বৃথা স্বৈরতন্ত্রের রক্ত বুলেটে

মন ভুলানো কোন বাক্য প্রলাপে কিংবা ছদ্মবেশী

কোন ডানপন্থী মঞ্চে

হৃদয় নিংড়ানো কোন প্রেমেও নয়,

এ যে ছলনার প্রেম- দোসরের গোহাতে মধ্যরাতে

বিদ্রোহীদের দূর্গে, গুপ্ত চরের প্রাণ—

 

স্বাধীনতাকে খুঁজো না বৃথা  দুর্ণীতির বজ্র বিজলী

কখনো খুঁজো না মুনাফিকের গর্জ্নে, বিশ্বাস ঘাতকের

রক্ত প্রবাহে ,

টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, সুদ ঘুষের ভাসমান জাহাজে

কালো টাকার র্ঘূর্ণি ঝড়ে-

 

স্বাধীনতাকে খুঁজো দেশ প্রেমের ভিতরে, লাল-সবুজের

রক্ত ফোটায়, লক্ষ শহীদের দীপ্ত প্রকোষ্ঠে, অশ্রু ঝরা

ইজ্জতের রক্ত প্রবাহে-

বজ্র কণ্ঠের অমর কবিতায়,খুঁজে পাবে তুমি স্বাধীনতা

খুঁজে পাবে তুমি বাংলার মানচিত্র।

 

যে মানচিত্র আমার বুকের নিচে আগলে রেখেছি

তার স্বাধীনতা মুখ থুবড়ে পড়ে আছে পঞ্চাশ বছর ।

. ---.০৬-০২-২০২১ ইং,রাওনাট,কপাসিয়া,গাজীপুর।

বিদ্রোহীর ড্রয়ারে

 

----কবি মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।

পূর্ণিময় এই রাতে-

বঙ্গের আকাশে বুঝি ফের নেমে আসল আঁধার!

সিগ্ধ পূর্ণিমার ছোঁয়ায় প্রেমময় যে গ্রামীন শহর

 

আজ সেখানে এই দিনে হৃদয়ে খরার প্রদাহ

হিংসে বিদ্বেষে প্রেমিকারা যেন চিতার অগ্নি প্রবাহ

 

 

বিভেদময় এই দৃশ্য—দোসরের দূর্গ্ থেকে উড়ে

বিদ্রোহীরা পূর্ণিমার এই রাতে  চিমটি মারে

 

জাতির সুময়ে এলো শিলা বৃষ্টির মতো বজ্র দানব

রাত্রির আঁধারে খোলা চিঠির ছয়লাব

 

চৌদিকে তাই

দেশ প্রেম যত্ন করে রাখা আছে বিদ্রোহীর ড্রয়ারে।

পূর্ণিময় এই রাতে হঠাৎ নেমে এলো বিদ্বেষ বিস্তরে।

---৬-০২-২০২১ ইং,রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।

সেই শব্দটা শুনার জন্য

 -----কবি মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।

কতো যে দিবাযামি পার করেছি

অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় থেকেছি

তোমার কণ্ঠে সেই শব্দটা শুনবো ব’লে

নিঃশব্দে কান পেতে থেকেছি জানালার পাশে

তোমার জন্য, শুধু তোমার জন্য

 

হয়তো বা মৃত্যু অবদি অপেক্ষা করবো-

সেই শব্দটা শুনার জন্য

যে শব্দের তৃষ্ণায় বুকটা চৌচির হয়ে যায়

মরুদ্যানের মতো

হয় তো তুমি বলবে—”অপেক্ষা ক’রো

 

অনেক তো অপেক্ষায় থেকেছি, আজো আছি

হয়তো বা  আরো থাকবো-

শুধু একবার বলো সেই শব্দটা, যার জন্য

হৃদয়টা চৌচির হয়ে যায়-

আর কিছু তো চাই না,খুব গভীরে নিয়ে যাবো

প্রাণের মন্দিরে গড়বো প্রেমের বাগান ।

--------০৬-০২-২০২১ ইং,রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।

সে আর আসে না

 ----কবি মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।

একটি পাখি রোজ আমার জানালায়

উড়ে এসে বসে,খুব কাছে এসে ডাকে

মধুর কণ্ঠে গায় গান,আমি হাত বাড়ালেই

পাটাখা ঝাপটায় কিংবা দূর কোথাও

উড়ে য়ায়—

 

আবার ফিরে আসে সেই জানালায়, অপলক

চেয়ে থাকে, ফিস ফিস ডাকে—

পালকে কি যেন লেখা, ঠোঁট দু’টো হলদে

রাঙানো, দু’চোখে আছে জমা অব্যক্ত কিছু

স্মৃতি-

 

যেন কারো খোঁজে প্রদিতিন আসে,আমার

জানালায় আসে, হয়তো আমিই সেই ঠিকানা

তাই হয়তো চোখ তার এমন অশ্রু ঝরা

বুকটা কেঁপে উঠলো, আমি হাত বাড়ালাম

হৃদয় খুলে পাখিটা করলো উৎসব-

 

হঠাৎ একদিন পাখিটা নেই! আর আসে না

জনালায়, অপলক চেয়ে থাকি

সে আর আসে না, হয়তো অন্য কোথাও দোল খায়

আর শিস দেয়

দিবো না বাধা তাকে,--আমি যে ভালবেসে ফেলেছি।

----০৬-০২-২০২১ ইং,রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।

Friday, February 5, 2021

আমাদের বিজয় বিকাশ

 -----কবি মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।

গুচ্ছ গুচ্ছ কালো মেঘ মালাগুলো

আড়াল করে দিচ্ছে উদয়ের সূর্য্ রশ্মি

এটম বোমার মতো বিস্ফোরিত তারুণ্যের প্রাণ

ছুটছে অন্ধকার ভ্রমনে—ইথারের তরঙ্গে

 

মোবাইল তার নগ্ন দরজা খুলে দিয়েছে অবাদে

তারার মতো কিছু আলো জ্বললেও—এখনো

শুভ্র আলো পৌঁছেনি হৃদয় নিখিলে

নগ্নতা উস্কে দিয়েছে পর্দায় পর্দায় সূক্ষ বিন্যাসে ।

তারুণ্যের রৌদ্র গিয়েছে নিভে—

 

নেটের অদৃশ্য তরঙ্গে ভেসে আসে অশ্লীল দৃশ্য

আলোর আকাশ ছেড়ে এখন অন্ধকার কুটিরে

তারুণ্যের মন জগত গড়েছে

শয়তানের মঞ্চ—

উম্মু্ক্ত যৌনাচার পল্লী এখন আনাচে কানাচে—

 

গুচ্ছ গুচ্ছ কালো মেঘ মালাগুলো

আড়াল করে দিচ্ছে উদয়ের সূর্য্ রশ্মি

চৈতন্যের প্রতিটি মোর্চায়

জাতির পরাজয়, ভীরুতা কলুষ আর লজ্জা

 

তারুণ্যের প্রতিটি গর্জন আমাদের বিজয় বিকাশ।

ইন্টারনেট দিয়েছে খুলে আলো-আঁধারের আকাশ।

----০৫-০২-২০২১ ইং,রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।

তোর পূঁজি কই?

 ----কবি মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।

অবহেলা করিস না রে ক্ষণিক প্রাণ

সময় যে পার হয়ে যাচ্ছে

এবার যে তোর বিদায় বেলা।

প্রস্তুত হ’রে প্রাণ, এসে যাবে তোর পালা।

অনন্তের কথা ভাবিস রে তুই প্রাণ

 

ক্ষণিক ধরা ছেড়ে যেতে হবে তোরে দাঁড়িয়ে আছে ওই

ওরে প্রাণ, তোর পূঁজি কই?

কোথায় তোর ব্যস্ততা?

তুই জানিস কি প্রাণ! হয়েতো এসে যাবে তোর পালা।

তোর বিদায়ে ভুলে যাবে পৃথিবী

পর হবে আপন—

 

কোথায় তোর দম্ভ অহংকার—অর্থ্  বৈভব

পৃথিবীর দুর্ণীতি?

ওরে প্রাণ, তোকে যেতে হবে যে- ওই অনন্ত শালা

তোর পূঁজি কই?

 

ওরে প্রাণ, তুই এতো লোভী কেন?

চল সেজদা দিয়ে কিনে নেই আগামীর পূঁজি- বিজয় মালা।

এবার যে তোর বিদায় বেলা।

প্রস্তুত হ’রে প্রাণ, এসে যাবে তোর পালা।

--০৫-০২-২০২১ ইং,রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।

 

হাসির মাঝে অশ্রু জল

কবি মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।

পরাধীন নই, তবু স্বাধীনতার খুঁজে আমি

পরাধীনতা আজ বড় গর্জন করে ।স্বাধীনতার

পতাকা আছে কাগজের মানচিত্রে, বিশ্ব সভায়

কিংবা আপন স্বার্থের ভেলকুনিতে—

বজ্র কণ্ঠে মঞ্চ কাঁপাও, ভাল খাও দাও

ফুর্তি করো রঙ্গ শালায়-

.

পরাধীন নই, তবু স্বাধীনতার খুঁজে আমি

আমি বড় বঞ্চিত আজ

আমি চাইতে পারি না ন্যায্য অধিকার,বলতে পারি না

দুঃখের কবিতা-

লিখতে পারি না লক্ষ শহীদের রক্তে পাওয়া লাল-সবুজের

সাহিত্য।

 

অন্যন্ত নিকটে আসে যায় পরাধীনতার গ্রাস

লোভ লালসার ভঙ্গিমায় স্বাধীনতা

অধিকার ওরা করেছে হরণ

সবুজে পলাশ ফুটেনা--বাগানে ফুল নেই--গগণে

পাখির আনাগোনা নেই

আছে কিছু শুকুনের ঝাঁক--

 

পরাধীনতার কান্না কেউ করবে না বারণ কখনো

তবু স্বাধীনতার খুঁজে আমি--

স্বাধীনতা নামক শব্দটি আজ বড় অসহায়

হাসির মাঝে অশ্রু জল----

----০৫-০২-২০২১ ইং,রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর। 

কি করে হও ?

 

 ----কবি মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।

হে প্রাণ,এই ধরাধমের দিকে তাকিয়ে বলতেই পারো

এই বসূধা তোমার-

কিন্তু এই বিশাল পৃথিবী তোমাকে চিরদিন রাখবে না।

 

ক্ষমতার প্রদীপ হাতে নিয়ে বলতেই পারো

তামাম জনপদ তোমার-

তবু লোভেরা থাকবে সরব তাগুদের চাঁদরে আচ্ছন্ন হয়ে

 

মৃত্যু ঘনিয়ে এলে তোমার দরবারে

তোমার বলার হিম্মত নেই! এই পৃথিবী তোমার

কিন্ত সত্য থাকবে চিরন্তর ।

 

আলোর পথিক হও তুমি, হৃদয়ের চোখে চোখ রেখে

যদি বলো,তুমি একান্ত আল্লাহ’র,কি করে হও তাগুদের?

আঁধারে আলো পাবে তুমি

তুমি হবে আল্লাহ’র—আল্লাহ হবে তোমার ।

 

-----০৫-০২-২০২১ ইং,রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।

পূর্ণিমার আলো

 ----কবি মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।

রাত্রির নিকেট গিয়ে বলি,

অন্ধকার আকাশ তুমি একটু আলো দিতে পারো?

রাত্রি বলে আমার বুক কালো চাঁদরে ঢাকা

যদি চোখ খুলে দেখো,হয়তো পেয়ে যাবে

পূর্ণিমার আলো।

 

সূর্যের কানে কানে বলি,

হে সূর্য্ পৃথিবীকে তুমি একটু আলো দিতে পারো?

প্রভাতের সূর্য্ বলে কুয়াশা কাটেনি এখনো

এই হৃদয়ের ভিতরে যদি সূর্য্টা দেখতে পাও, তবে

পৃথিবী হয়তো পেয়ে যাবে প্রখর রৌদ্র-

 

জুলুম শাসকের নিকট গিয়ে  বলি,

জাতিকে একটু ন্যায় বিচার দিবে কি?সুসম

বন্টন দিতে পারো? রক্তের প্রবাহে যদি

প্রতিবাদের ঝড় উঠাতে পারো, তবে

হয়তো ধ্বংস করো দিতে পারো

জালিমের মসনদ-

 

কেবল গুটিকয়েক দীপ্ত প্রাণ প্রেমের জন্য

খুলেছে হৃদয়ের দ্বার।তুমিও ঢুকে যাও

সেই নীড়ে, তবে হয়তো পেয়ে যাবে

পূর্ণিমার আলো।

----৫-০২-২০২১ ইং,রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।

Thursday, February 4, 2021

আমলনামা

 ----কবি মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।

যে তুমি এতোকাল পৃথিবীর বুকে করেছো কোলাহল

সে তোমার আমলনামা লিখছে আরশে  দলবল ।

 

ওইদিন খোলা হবে জীবনের কবিতা

চরণে কি লেখা আছে তুমি পড়বে তা !

এ এক বিষ্ময়!!

আফসোসে আফসোসে নত শির হবে তুমি

এ কি করেছি  আমি-- এই নশ্বর ভূমি!!

 

যে সাহিত্যে শূন্যতায় ভরা জীবনের গান

সে গান  কি বাজবে আরশের ছায়াতল ?

ওই কবির  কবিতা আবৃত্তি হবে না-

বিচারক শুনবে না ফরিয়াদ কোন—বিচারক শুনবে না

বাতিলের গান—

 

যে তুমি ছুটেছো নশ্বর বুকে তাগুদের চুম্বনে

তা সবই লেখা আছে কবিতার গোপন চরণে

সে তো নিঃশব্দে সাক্ষী হবে তোমার হরণে

বিচারিক ময়দানে-

 

লেখক বসা আছে নিভৃত ঘরের প্রান্তদেশে ।

সে তোমার আমলনামা লিখছে আরশে  দলবল

যে তুমি এতোকাল পৃথিবীর বুকে করেছো কোলাহল ।

----০৪-০২-২০২১ ইং,রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।

এই তোমাকে

 

----কবি মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।

অশুভ’র খেলা শেষ হয়ে কোনোদিন

শুভ যদি আসে,

 

এই তোমাকে ভালবেসে ডাকবে মানুষ,

অন্ধকার দিনগুলো ভুলে যাবে কৌশলে,খুব কৌশলে

বিনয়ের লকলকে লতা অবনত শিরে

তোমাকে চিনে নিবে

এতোটুকু থাকবে না দীনতা--

 

ব্যর্থ্তার দিন শেষ হয়ে কোনোদিন

সফলতা যদি আসে,

ফুলেল শুভেচ্ছায় জটলা বেঁধে যাবে চৌদিকে

বলবে মানুষ তুমি ছিলে সম্রাট!

তুমি ছিলে অক্সিজেন

এই পৃথিবী নব রূপে চিনে নিবে তোমাকে-

 

দুঃসময়ের দিন শেষ হয়ে কোনোদিন

সুসময় যদি আসে,

এই তোমাকে ভালবেসে রাখবে মানুষ,

মায়ের মতো ঠিক বুকের কাছে।

----০৪-০২-২০২১ ইং,রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।