Tuesday, December 24, 2024

পেছনে তাকালে


কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
তারিখঃ ২৩-১২-২০২৫ ইং
স্থানঃ রাওনাট, কাপাসিয়া, গাজীপুর।
*************************
স্মৃতির পটে তাকালে খুঁজে পাই তোমাকে হে নিকেতন,
মনে পড়ে সেই সব স্বপ্নীল দিনগুলোর দুরন্ত আলাপন।

সেই সব সহপাঠীর অফুরান ভালবাসা,হৃদয়ের উত্তাপ,
বলতে যেয়েও হয়নি বলা,তবুও করেছি অব্যক্ত সংলাপ!
তবুও কত যে ব্যাকুল ছুটেছি অধরার পিছু পিছু
অসীম দিগন্তে ছুটেছি এক অনুভূতির খুঁজে- তবু যদি কিছু!

মনে পড়ে, খুব মনে পড়ে বকুল কুড়ানোর কালোরাত,
আশে পাশের বাগান হতে ফুল চুরির রক্ত ঝরা কষাঘাত!
সারারাত জেগে বনে বনে কুড়িয়েছি শিমুল পলাশ ফুল।
আজো মড়ে পড়ে প্রভাত ফেরীর নাঙা পায়ের কল্লোল।

একটি কিশোরী চুপি চুপি মুসকি হেসে দাঁড়াতো পাশে,
হয়তো কিছু বলতে চেয়েছিল রাশি রাশি স্বপ্নের হরষে।
কবে ডাক দিয়ে গেলো, আজো বাজে সেই সুর-সুমধুর!
আর কেউ না শুনুক! এখনো কান পেতে শুনি এ প্রান্তর।

পেছনে তাকালে কেন যেন হারিয়ে যাই প্রেমের সভ্যতা,
তুমি ছিলে বলেই গুরুজন শিখাতো মানব মুক্তির কথা।
-----------------------------------------------

সেই হিতৈষী প্রাণগুলো


কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
তারিখঃ ২৩-১২-২০২৫ ইং
স্থানঃ রাওনাট, কাপাসিয়া, গাজীপুর।
*************************
আজো সেই তাল পাতার ঘর হতে সোনালী আলো,
বিদ্যার কিরণ মালা হয়ে উড়ে যায় পথিবীর ধুলো।

সেই হিতৈষী প্রাণগুলো এখনো ডাক দেয় নক্ষত্রপানে,
দিগ হতে দিগন্ত ছেড়ে এক মুক্তির আহবানে।
আলোক ডানায় উড়ে যায় বিশ্ব জুড়ে অজস্র অপার,
দিকে দিকে সভ্যতার বীজ রোপন করে এই বিদ্যাঘর।

তড়িৎ এর মত গতিবেগ! ছুটিতেছে স্থপতির ধারা,
তারা নেই তবু আছে- চির উজ্জীবন- চির মৃত্যুঞ্জয়ী ধরা।
অনেক কষ্টের দামে পাওয়া তুমি- হে বিদ্যা নিকেতন,
কৃষক- শ্রমিক -জনতা -দিন মজুর, শিক্ষানুরাগী কত প্রাণ।

রাওনাট গ্রামে তোমারে গড়িয়াছে, করিয়াছে গড়িয়ান মহিয়ান-

সেইসব মহান স্থপতিদের ভুলি কি করে- এই পৃথিবীর উদ্যান!
------------------------------------------------

তোমার সেই চকিত স্পর্শ্


কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
তারিখঃ ২৩-১২-২০২৫ ইং
স্থানঃ রাওনাট, কাপাসিয়া, গাজীপুর।
*************************
হে শিক্ষাগুরু, তুমি প্রয়াত তবু চির রৌদ্র ঝিলমিল,
সোনালী আকাশ, আঁধার নিশীথের তারকা উজ্জ্বল!

অপার ঐশ্বর্যবেশে জেগে উঠ তুমি এই মন মন্দিরে,
তোমাকে আমৃত্যু বদ্ধ করে রেখেছি হৃদয় কারাগারে।
তুমি উদ্বেলিছো কবিতার পন্থিতে গাঢ় শ্রদ্ধার স্বরণে,
অনুভবে অনিবার উঠিছো জ্বলি প্রতিটি গভীর স্পন্দনে।

তুমি প্রয়াত হে শিক্ষাগুরু তবু তুমি অগণন তরঙ্গিত প্রাণ,
তুমি দিয়ে গেছো শাসনের কঠিন শৃঙ্খল জীবনের উত্থান।
তুমি মৃত্যুঞ্জয়ী দিবাকরের আলো এই আঁধারের তল,
তুমি অনন্তের পথে তবু ফিরে আস রেখে যাওয়া ভূ-তল।

হে প্রয়াত শিক্ষাগুরু, তবু তুমি জীবন প্রদীপের দীপ শিখা,
তুমি বসুধার অশ্রু! তুমি ধরণীর মৃত্যুঞ্জয়ী আলোক লিপিকা।

তুমি বিনিদ্র শুভ্র আলোক পুঞ্জে -এই আঁধার বেষ্টিত রাতে-
তোমার সেই চকিত স্পর্শ্ অমর হয়ে থাকবে নশ্বরলোকে।
-------------------------------------------------

পালিয়ে যাবে না


কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
তারিখঃ ২৩-১২-২০২৫ ইং
স্থানঃ রাওনাট, কাপাসিয়া, গাজীপুর।
*************************
উত্তাল চিরচেনা সবুজ প্রান্তর!মন মন্দিরে অযূত স্মৃতি,
মহামিলনের আয়োজনে আবার ফিরে আসিল গতি!

এ যেন এক নব যৌবনে সাঙ্গ হলো ঝড়বাদলের জলে
তরঙ্গ উঠিল প্রাণে প্রাণে হিমালয়ের হিমে দলে দলে।
যে প্রাণ ছায়ার মতো মিশেছিল গুরু ছাত্রের অমৃত বন্ধনে
আবার যেন ফিরে আসিল ২০২৫ ইং এর মহা মিলনে।

আজ কত স্মৃতি উঁকি মারে! বন্ধি স্মৃতিগুলো যেন মুক্তি!
বদ্ধ জানালা যেন খুলেগেছে শত হৃদয়ের অনুপম চুক্তি।
ভালবাসার অনুভূতিরা জাগিছে নব পল্লবে নব বসন্তে
সঞ্চিত বিরহ আজকে মুক্তি দিলাম তোমায় সানন্দে।

তুমি নবীণ উষায়- নবালোকে উল্লাসেতে দুলে দুলে,
এই স্মৃতি পালিয়ে যাবে না কভূ বুকের কপাটু খুলে।
---------------------------------------------

হে স্মৃতি


কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
তারিখঃ ২৪-১২-২০২৫ ইং
স্থানঃ রাওনাট, কাপাসিয়া, গাজীপুর।
*************************
হে স্মৃতি, আজো তুমি ‍হৃদয়ের পৃথিবীতে আছ,
দূর দূরান্তে বসে এখনো ডাকো এখনো কবিতা রচ!

এখনো তুমি সুহাসিনী এক তরুণীর মত জাগ,
কাজলা চোখ মেলে অপলক দেখ রাগ-অনুরাগ!
কখনো মুচসি হেসে বলে যাও অব্যক্ত কত কথা,
এঁকে যাও প্রেমের আলপনা পুলক শিরহণ গাঁথা।

শুধু হয় না বলা সেই কথা নিয়মের রূঢ় আয়োজন,
তবু তুমি ফেলিন শব্দে দিয়ে যাও তিলোত্তমা গর্জন!
ঈষৎ নিভেছে সূর্য নক্ষত্রের আলো তবু তুমি,
চির নবীন হয়ে ফিরে আস জল শুন্য মরুভূমি।

কখনো সমুদ্রের নীল, কখনো ঝিনুক মুক্তার আলপনায়,
হে স্মৃতি! তুমি বড় রোমাঞ্চকর, তুমি বড় নিষ্ঠুর ব্যদনায়।
তবু তোমার কাছেই ফিরে যাই উথরোল সাগরের মত,
হে বিদ্যা জননী, তোমার এই আলোক স্মৃতি চির সতত।
----------------------------------------------

প্রাশান্ত মনে


কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
তারিখঃ ২৪-১২-২০২৫ ইং
স্থানঃ রাওনাট, কাপাসিয়া, গাজীপুর।
*************************
স্মৃতির পটে আলোক পথের পথিকেরা আজ প্রাশান্ত মনে,
উথরোল ঢেউ তুলেছে রাওনাট আদর্শ্ উচ্চবিদ্যা নিকেতনে।

কি এক মহা মিলনের আয়োজনে ফিরে দেখা স্মৃতিকে,
ষষ্ঠ হতে দশম শ্রেনীর সেইসব দুরন্তপনা দিনগুলিকে।
ওগো, চেয়ে দেখ আজ আমাদের এক অনুপম বিন্যাস!
কে গোলাপ ,জুঁই, চ্যামিলী নাই ভেদ আজিকার উল্লাস।

এখনো নীল আকাশের বুকে গুরুজনের সূর্যটা দেখি উজ্জ্বল,
এখনো দৃঢ় বন্ধনের পুস্প ফুটেছে বিরহ ব্যাদনার ঘোমট নিখিল।
তবু কিছু শুন্যতা ঘিরে আছে রাত্রির নক্ষত্রের তরে-
তবু দূরে, অনেক দূরে পূর্ণিমার শুভ্রতা প্রেমের নশ্বরে।

আবার এসেছি ফিরে তোমাদেরই মাঝে প্রশান্ত মনে,
শুন্য বুকে ফুল ফুটাবো বলে তোমারেই খুঁজেছি কাননে।
স্বাগতম! সু-স্বাগতম! এই মহামিলন মেলার কলরবে,
হৃদয় রেখেছে তোমারে শত জনমের সৌরভে-গৌরবে।
-------------------------------------------------

Thursday, December 19, 2024

হে আলোক বিদ্যালয়


কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
তারিখঃ ১৯-১২-২০২৫ ইং
স্থানঃ রাওনাট, কাপাসিয়া, গাজীপুর।
************************************
হে আলোক বিদ্যালয়, তুই এই পৃথিবীর কাছে,
অপরাজিতা এক নাম- শিক্ষার মহাকাব্য রচে।

তোর বুকেই রাওনাট আদর্শ্ উচ্চ বিদ্যা নিকেতন,
যুগ- যুগান্তরে আলোক ফুলে ফুটেছিস কানন।
দিকে দিকে ছড়িয়েছিস কিরণ মালা নয়নাভিরাম,
আজ বিষ্ময়ে পৃথিবী দিয়েছে তোরে অপরাজিতা নাম!

তোর পাঁপড়িরা দলে দলে ফুটেছে ফুলে ফুলে,
সূরভী সুবাসেরা অজ্ঞতাকে করেছে জয় নিখিলে।
তুই এক অপরাজিতা –”আলোক বিদ্যালয়”
তুই প্রেম ভালবাসা শিহরণ এই পৃথিবীর হৃদয়।
-------------------------------------------------

শুভ সন্ধিক্ষণ


কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
তারিখঃ ১৯-১২-২০২৫ ইং
স্থানঃ রাওনাট, কাপাসিয়া, গাজীপুর।
*********************************************
ওগো,তোমাদের এই কাননে আজ ফুল ফুটিছে শেষে,
দিকে দিকে ডানা মেলেছে মৌয়েরা সূরভী গন্ধের হরষে!
এসে দেখে যাও আজ বিজয় কেতন উড়িছে নিকেতন,
বিদ্যালয়ের বিদ্যা জয়ী অমর পাঞ্জেরী জ্বলিছে কানন।

ওগো আলোর দিশারী, ওগো মৃত্যুঞ্জয়ী নিবেদিত প্রাণ,
তোমার রেখে যাওয়া এই বিদ্যালয়ে আজ শুভ সন্ধিক্ষণ !
ওগো, আজ যদি তুমি দেখতে- এই মহা মিলনের কল্লোল,
বিজয়ের বিপুল উৎসবে অঝোর ঝরিতো আনন্দ অশ্রুজল।

হে স্থপতি,তুমি ছিলে বলেই এই সবুজ শ্যামলের বুকে-
রাত্রির আঁধারে পূর্ণিমা জেগেছিল বিদ্যা দেবীর ছবি এঁকে!
এই ঋণ কভূ শুধিবে না, এই ত্যাগ কভূ মুছিবে না ধরণী,
তুমি ছিলে বলেই, আমি পেয়েছি রাওনাট গ্রামে এই বিদ্যাজননী।
------------------------------------------------------------

Wednesday, December 18, 2024

মিলন মেলা


কলমেঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।
তারিখঃ১৬-১২-২০২৪ ইং
স্থানঃ রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
****************************
আজ এই হিল্লোলে কল্লোলে শুরু হল মিলন মেলা,
আয় তোরা আয় তরঙ্গ দোলে আলোকদীপ্ত বেলা।

বহুদিন হতে বুঁনেছি স্বপ্ন ,রচেছি গদ্য কবিতা গান,
আয় তোরা আয় , ওই তোরা জাগ ,কররে উম্মোচন।
তোরা এই বিদ্যা জননীর সন্তান, তোরা গতিময়
তোরা প্রাণবেগ, তোরা নয় কোন ডর ভয় সংশয়!

তোরা দীপ্ত, তোরা উজ্জ্বল, তোরা বিদ্যা জননীর মশাল!
তোরা পূর্ণি, তোরা সূর্য তোরা বিদ্যাপিঠের আলাল-দুলাল।
ওরে চলরে চল, ওরে চল- সম্মুখে বিপুল সম্ভাবনা
গুরুজন তোদের সঙ্গী! আঁধার কভূ দিবে না হানা!

তোরা প্রাক্তন ,তোরা উত্তাল এই মিলনের কাফেলা,
এই জননী তোরে করেছে দীপ্ত রাঙ্গা উদয়ের বেলা।
আয় তোরা আয় দলে দলে আয় দ্বিধা করিস না আর,
আজ হিল্লোলে কল্লোলে শুরু হল মিলন মেলা সবার।
------------------------------------------------,

বিদ্যার আলোকে


কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
তারিখঃ ১৭-১২-২০২৫ ইং
স্থানঃ রাওনাট, কাপাসিয়া, গাজীপুর।
*********************************************
হে বিদ্যা জননী তোমার সুনাম ছড়িয়াছে চারিধার,
তুমি রচিয়াছো আলোর কবিতা সোনালী দিবাকর।

দিবস রজনী মুক্তির মিছিলে আপনারে মগ্ন করি,
তুমি জ্বলিয়াছো আলোর মশালে রাত্রির পথ ধরি।
তোমার কোলে পিঠে ছায়া তলে খেলেছি কত খেলা,
প্রভাত হতে গোধূলী বেলা ছড়িয়েছো কিরণ মালা।

তার পরশেই পথ চিনেছি আকাশের তলে জগত ঘুরি,
কভূ রাগ অনুরাগে বিরহের অনল দাওনি গালায় পড়ি!
তুমি সে বিদ্যা জননী! উত্তর- দক্ষিন মেরু সব জানা,
সবাই জেনেছি একাত্তরে জন্ম তোমার বিপুল উম্মাদনা।

সেই হতে আজি দিয়ে যাও আলো জেনেগেছে সবে,
রাওনাট আদর্শ্ উচ্চ বিদ্যানিকেতন মৃত্যুঞ্জয়ী রবে।
তোমার মিছিলে আলোর অভাব কভূ নাহি হবে আর,
তুমি বিনিদ্র বিদ্যার আলোকে এই পৃথিবীর অন্ধকার!
----------------------------------------------------

Sunday, December 15, 2024

হে বিদ্যা জননী

 

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
তারিখঃ ১৫-১২-২০২৫ ইং
স্থানঃ রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
****************************************

হে বিদ্যা জননী, তোমার ডানা ছড়িয়াছে চারিধার,
তুমি রচিয়াছো আলোর কবিতা সোনালী দিবাকর।

দিবস রজনী মুক্তির মিছিলে আপনারে মগ্ন করি,
তুমি ছুটিয়াছো আলোর মশালে রাত্রির পথ ধরি।
দিগন্ত পেরিয়ে অসীমে তুমি বাজাও সভ্যতার সুর,
তাই তোমার তুল্য নাহি কেহ আর এমন সু-মধুর।

হে বিদ্যা জননী ,কত বর্ণে কত গন্ধে কত গানে কত ছন্দে-
ধরাজ কণ্ঠে আবৃতি করে যাও কত গল্প কবিতা মহানন্দে।
কি অরূপা তোমার রূপের লীলা-জাগে হৃদয়পুর!
তোমার মাঝেই খুঁজে ফিরি আমার শোভা- এ নশ্বর।

তুমি ছিলে বলেই পৃথিবীর বদ্ধ জানালা গিয়েছে খুলে,
তুমি ছিলে বলেই নাবিক চিনেছে পথ সাগর বুকে দুলে।
তুমি এক মৃত্যুঞ্জয়ী আলো- হে বিদ্যা জননী!
তোমার মাঝেই সভ্যতার শোভা জেনে গেছে ধরনী।
-----------------------------------------------

সুধা সিঞ্চিত অম্বরে

 

কলমেঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।
তারিখঃ ১৪-১২-২০২৪ ইং
স্থানঃ রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
******************************
আজ এই বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গনে গন্ধবিধুর সমীরণে
হারানো জুঁই চ্যামিলী বকুল আবার ফুটিছে কাননে।

সন্ধ্যার লগনে পূর্ণিমা জাগিছে প্রফুল্ল চিত্তে মননে,
এ যেন এক শুভ্রতার ঝলক ! এই মহা-মিলনে।
নব কল্লোলে নব হিল্লোলে প্রেমের বাঁশরি বাজিছে,
এ প্রাণের চঞ্চলতা বিপল উৎসবে মাথিছে-গাহিছে।

অযূত স্মৃতির পাতা হতে হৃদয়ের মুর্ছিত সংগীতে,-
এখনো কানে বাজে সেই হারানো সুর নব সন্ধিতে।
সে কি তুমি !ঝিনুকের ভিতরে লুকানো মুক্তার দানা?
খুব জানতে ইচ্ছে হয়,কোথায় ছিল এতো উম্মাদনা!

আজ এই বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গনে সোনালী সূর্যের কিরণে
জুঁই চ্যামিলী বকুল পলাশ শিমুল আবার ফুটিছে কাননে!
নব পল্লবে, নব ছন্দে তরঙ্গ উঠিছে জলহীন মরু প্রান্তরে-
আবার জাগিছে প্রাণ মহা মিলনে -সুধা সিঞ্চিত অম্বরে।
-----------------------------------------------

বয়ষ যে আঠারো


কলমেঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।
তারিখঃ ১৪-১২-২০২৪ ইং
স্থানঃ রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
******************************
বয়ষ যে আঠারো!বিপুল স্বপ্নের কল্প তুলিতে,
এঁকে যায় কত রঙিন, কত ধূসর আলপনাতে!

স্বপ্ন তরীতে খুঁজে ফিরে দিগন্তহীন সাগরের পান্থ,
ডানাগুলি ছেড়ে দেয় মুক্ত গগনে অশান্ত- অক্লান্ত।
তবু সে বিপ্লবী! তবু সে বিপ্লবের সন্ধানে.
ঝড় থেকে বজ্রকে কেড়ে নেয় মুক্তির আহ্বানে।

সম্মুখে তুমুল ঘূর্ণি ঝড় তুফান মরণের অগ্নিবান,
বষয় যে আঠারো! তবু সে আঁধারে সোনালী কিরণ।
তবু সে দিশারী,তবু সে অমৃত রস স্বপ্নের নশ্বরে,
কত চোখ অপলক চেয়ে আছে পৃথিবীর প্রান্তরে।

বষয় যে আঠারো কখনো সে অসুর তানের সাধনে,
আপন সত্ত্বাকে হারিয়ে ফেলে আঁধার রাত্রির বাঁধনে।
তখন মনে হয় প্রলয় মেঘে তুমুল ঝড়ের ঝংকারে,
চিতার অনলে রচে বিরহের কবিতা জীবন সমরে।

বয়ষ যে আঠারো তবু অনুভূতিগুলো বিপ্লবী-প্রেমময়,
অযূত স্বপ্নের কাননে সদ্য ফোটা পুস্পের সুগন্ধী-মধুময়।
এখানেই আসন্ন প্রভাতের নব সূর্যদোয়!
এখানেই বিপ্লব! এখানেই বিজয় !এখানেই আঁধারময়!
------------------------------------------------------

Wednesday, November 27, 2024

হে প্রিয় বন্ধু

 মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

স্থানঃ রাওনাট-কাপাসিয়া-গাজীপুর।

তারিখঃ ২৭-১১-২০২৪ ইং

********************

বন্ধু,নব জাগরণে বুকের সীমান্ত খুলেছো তুমি,

এর আগে কখনো এমন তীর্য্ক দেখেনি ভূমি!

 

আমিও খুলে রেখেছিলাম অর্গ্ল প্রবল শিরহণে,

আমার যুগল চোখ ছিল তোমার কবিতার রচনে।

তবে জানা ছিল না তুমি এতো প্রজ্ঞাময় অনল,

কলমের ক্ষুরধারে ক্ষত বিক্ষত করে যাও নিখিল।

 

কবিতার ভুবনে তোমাকে স্বাগতম হে প্রিয় বন্ধু,

কাব্যিক আঘাতে আঘাতে ভরেছে বিষাদ সিন্ধু!

কেন এসেছো রাজনৈতিক কবি হয়ে নোংরা উদ্যানে,

তা কভূ চাইনি বন্ধু! তবু তুমি উম্মাদের নিত্য উত্থানে।

 

তোমার দেওয়া কষ্ট নিয়ে আছি,তবু তুমি চির প্রিয়,

রাজনৈতিক কবি হতে এসো না - এ নষ্টের ধরাময়।

মন্তব্যের শব্দেরা আঘাত হেনেছে পিঞ্জরের গভীরে,

নিদারুল খেলাচ্ছে, তবু বিজয় দিয়ে যাই তোমারে।

 

বন্ধু, তুমি যা ভাবছো তার কিছুই ছুয় না আমাকে-

আমি শুধুই কবিতার পথিক হয়ে ছুটেছি ভূলোকে।

-------------------------------------------

বিপ্লবের কাছে


মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

স্থানঃ রাওনাট-কাপাসিয়া-গাজীপুর।

তারিখঃ ২৭-১১-২০২৪ ইং

********************

বিপ্লবের কাছে আমি একটি মুক্তির গোলাপ চেয়েছি,

এখন ফুলদানিতে বিষাক্ত সাপ পোকা মাকড় পেয়েছি!

 

ঝাঁকে ঝাঁকে চিল শকুন উড়েছে বাংলার আকাশে,

স্বাধীনতার পুস্প খামছে ধরেছে ধারালো নখের হরষে।

বিপ্লবীর কাছে আমি একটি মুক্তির ঠিকানা খুঁজেছি,

এখন গোলা বারুদ দেশলাইয়ের অনলে নিত্য পুড়েছি!

 

রক্ত চোষা জুঁক চুষে খাচ্ছে নিয়ত মায়ের কোমল বুক,

বিপ্লবের কাছে শুধু চেয়েছি স্বাধীন জীবনের পরম সুখ।

এখন আগুনের কাছে বিজয় কেতন পুড়েছে- জ্বলেছি

কণ্ঠে কন্ঠে প্রজন্ম হতে প্রজন্মের বেসুর গান শুনেছি।

 

দিকে দিকে রক্ত জবার পাঁপড়ি ফুটেছে কাননে,

রাত্রির প্রহরী ঘুমিয়ে গেছে অন্ধ রাজার সিংহাসনে।

হে বিপ্লবী, আমাকে এমন স্বাধীনতা দাও- এমন পতাকা,

যে বিপ্লবের কাছে মুক্তির গোলাপ চেয়েছি লাল-সবুজে আঁকা!

 

এই জাতি বিপ্লবের কাছে শুধু মুক্তির কবিতা চেয়েছে,

এখন দিকে দিকে অস্থিরতা পেট্রোল বোমা রক্ত ঝরেছে।

মুক্তির কাছে এসে জাতি এখন অসুর দোসরের খোয়াড়ে,

এর চেয়ে বড় পরাজয় আর কি আছে এই স্বাধীন প্রান্তরে?

------------------------------------------------

 

 

 


Tuesday, November 26, 2024

নীলাভ রঙ

 মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

স্থানঃ রাওনাট-কাপাসিয়া-গাজীপুর।

তারিখঃ ২৬-১১-২০২৪ ইং

********************

কি চেয়েছি,কি পেয়েছি-সব ভেঙে দিয়ে গেল!

সোনালী সূর্য্ ভেবেছি তব গোধূলী লগ্ন এল।

আলোহীন পথ ছুটেছি,কোথায় চলেছি—

সুখের সংসার কার হাতে তুলে দিয়েছি?

 

এখন দিকে দিকে কত যে ভাঙাভাঙি খেলা,

অবাক বিষ্ময়ে শুধু দেখি অবহেলা, অবহেলা।

রক্তে রক্তে যুদ্ধের দামামা বাজে অলিগলি,

নিয়ন্ত্রণহীন গোলা বারুদ কামানের গুলাগুলি,

 

দিকে দিকে লাশ আর লাশ অশ্রুজল!

এ বিপ্লব কি তবে নিষ্ফল?

সুরঙ্গের শেষ প্রান্তের মুখ লোকানো বালিতে,

মুক্তির আলোটা নিভে গেল আসন্ন প্রভাতে।

 

চুরমার শব্দে আশাটা উড়ে গেল প্রাণ ছেড়ে,

কি চেয়েছি,কি পেয়েছি এ বিপ্লবে রক্ত ঝরে?

লাল সবুজের চেতনা জাগবে কি করে?

এখনো নীলাভ রঙ, পেরেক ,আলপিন অন্তরে।

----------------------------------------

প্রজন্ম হেরে গেলে

 


মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

স্থানঃ রাওনাট-কাপাসিয়া-গাজীপুর।

তারিখঃ ২৬-১১-২০২৪ ইং

********************

একটা কিছু করুন, একটু হাল ধরুন।

প্রজন্ম হেরে গেলে হাসবে লোকে,কিছু একটা বলুন।

 

এভাবে আর কতদিন? আর কত রক্তক্ষণ!

এমন দুঃসময়ে আপনি কেন চুপসে থাকুন?

দিকে দিকে স্বদেশ চেতনার দারুন আকাল,

বিপ্লবী বিল্পবে যুদ্ধ করছে বেসুর –বেতাল।

 

ঘরে ঘরে কালো খেলা চলছে,কঠিন খেলা

আত্মঘাতী খেলা, নগর ও গ্রামের ডাল-পালা।

লাল-সবুজের চিত্রগুলো সব পোড়াবে

সময় দ্রুত চলে যাচ্ছে কে থামাবে?

 

ভাবটা ছেড়ে এখনি জেগে উঠুন-

কিছু একটা করুন,শক্ত হাতে হালটা ধরুন।

প্রজন্ম হেরে গেলে জাতি হারাবে পথ-

অশনি সংকেত সন্নিকটে! করুন শপথ।

----------------------------------------

শেষ কথা বলো

 মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

স্থানঃ রাওনাট-কাপাসিয়া-গাজীপুর।

তারিখঃ ২৬-১১-২০২৪ ইং

********************

বিপ্লবের বিপ্লবী তুমি একবার সেই দিকে তাকাও,

যে রক্ত ঝরা বুকে স্বদেশের ছবি দেখতে পাও।

 

সেই সোনালী সূর্যের কথা, সেই বিজয়ের কথা,

সেই স্বাধীনতার কথাটা বলো,যা মুক্তিযুদ্ধে গাঁথা।

জানি হে নব যোদ্ধা তুমি, হৃদয়ে সেই কথা কও,

যে গান দিয়ে গেছে পূর্বসূরী সে সুরে গান গাও।

 

হুজুগে গুজবে অলক্ষে গিরি পর্বত পাহাড়ে বসে,

শকুনের ঠোঁটে দিয়েছো ঠোকর স্বদেশ সর্বনাশে!

বিষে বিষে নীল হয়েগেছে চেতনার স্তম্ভ গুলি,

অযূত শুন্যতায় স্বাধীনতা যেন রাত্রির চোরাবালি।

 

এখনো তুমি অন্ধ বধির! দেখেও দেখনা-

কোন মন্ত্র অন্তরে পুষি তোমাকে দেখাও বুঝি না!

সম্মুখে কঠিন ঝড়! দিকে দিকে স্বাধীনতা টলোমলো,

বিপ্লবের বিপ্লবী তুমি লাল সবুজই শেষ কথা বলো।

 

যোগ্য হয়েছো, বিভক্ত করো না, হয়ো না বেসামাল,

জানি হে বিপ্লবের বিপ্লবী তুমি অযূত স্বপ্নের দামাল।

--------------------------------------------