Showing posts with label রিপন ভাই. Show all posts
Showing posts with label রিপন ভাই. Show all posts

Monday, July 13, 2026

সংগ্রামী জীবনের মহাকাব্য

 কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

*****************************************

সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্মেছিলে তুমি এই সুজলা-সুফলা ধরায়!
কষ্ট কী জিনিস?
বোঝনি তো কখনো হে মেধাবী শিশু,
প্রদীপ্ত কিশোর,
অপরাজেয় যুবক!
তুমি ছিলে পিতার একমাত্র যোগ্য সন্তান,
উচ্ছল ঝরনার মতো নম্র, ভদ্র, এক পবিত্রময় আলোকবর্তিকা।
স্কুল, কলেজ, বিদ্যাপীঠের সর্বোচ্চ আঙিনা
সর্বত্রই এঁকেছ তোমার প্রদীপ্ত মেধার অক্ষয় স্বাক্ষর।
শিক্ষা জীবন শেষে মিলল এক মর্যাদাপূর্ণ প্রথম শ্রেণীর চাকুরী,
আহা!
শান্ত নদীর মতো কী সুবর্ণ তরঙ্গে বইছিল জীবনের প্রতিটি পল!

তখন কি কেউ জানত?
ক্লান্ত গোধূলির বুকে আচমকা ধেয়ে আসবে এক কালবৈশাখীর প্রলয়ংকারী ঝড়!
উপড়ে গেল স্বপ্নের মহীরুহ,
থেমে গেল চাকুরীর সেই দৃপ্ত গতিপথ,
সংসার জীবনে নেমে এলো এক অমাবস্যার ভয়ঙ্কর, নিকষ কালো অধ্যায়!

কী অদ্ভুত!
কী নিষ্ঠুর এই চেনা দুনিয়া!
পরিবার বিত্তবান, অথচ কেউ তোমার পাশে এসে দাঁড়াল না হাত বাড়িয়ে।
মেঘের ওপর জমাট বাঁধল কালো মেঘ,
আছড়ে পড়ল নির্মমতার পাহাড়!
কেউ বুঝল না বুকফাটা সেই নীরব ক্রন্দন,
তপ্ত মরুর বুকে কেউ এলো না দিতে এক ফোঁটা সান্ত্বনার বারিধারা!

জগৎ শুধু দেখল চোখের উপচে পড়া নোনা জল,
কেউ দেখল না অবরুদ্ধ আত্মার ভেতরের সেই আগ্নেয়গিরির তীব্র রক্তক্ষরণ!
আপনজন?
সে তো শরতের মেঘের মতো স্বার্থের এক মরিচীকাময় খেলা!
একে একে শুকনো পাতার মতো
সবাই তোমাকে ফেলে চলে গেল অতল একাকীত্বে।

তবুতুমি হাল ছাড়োনি হে ঝড়ের পাখি!
তুমি নত করোনি তোমার উন্নত শির!
সময়ের নিষ্ঠুর প্রয়োজনে তুমি হাত দিলে মাটির বুকে,
হয়েছ কঠোর কৃষক!
মাটির সোঁদা গন্ধে, তৃণের ছায়ায়,
জীবিকার তাগিদে সেজেছ সামান্য এক মাইক ব্যবসায়ী!
কোনো হীনমন্যতা, কোনো মেকি লজ্জা
ছুঁতে পারেনি তোমার ওই হিমালয়সম খাঁটি আত্মাকে।
তুমি উচ্চশিক্ষিত, প্রথম শ্রেণীর রাজ-চাকুরিজীবী হয়েও যা করেছ
তা সময়ের অগ্নিপরীক্ষায় এক অনন্য নজীর,
প্রকৃতির বুকে এক রুদ্র-সংগ্রামী জীবনের জীবন্ত রূপক!

ঝড়-ঝাপটা আর প্লাবন মানুষকে কতটা লড়াকু করতে পারে,
কতটা অপরাজেয় করতে পারে,
আসাদুজ্জামান মোল্লা (রিপন)
তোমাকে না দেখলে এই অন্ধ পৃথিবী তা কোনোদিন জানত না!
তোমার সেই অকুতোভয়, মহিমান্বিত বজ্র-সংগ্রামকে স্যালুট, হে অগ্রজ!

আজ তুমি ধন্য!
আজ তুমি সার্থক!
তুমি আজ এক ছায়াবৃত্ত বটবৃক্ষ, এক পরম শিক্ষণীয় ব্যক্তিত্ব!
মহাকালের খাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা হলো তোমার নাম
আসাদুজ্জামান মোল্লা (রিপন)

মেঘ কেটে কেটে অবশেষে উদিত হলো সূর্য,
ফিরে পেয়েছ তোমার সেই ছিনিয়ে নেওয়া হারানো চাকুরী!
হিংসা, কুৎসিত প্রতিহিংসা, নির্মম অপমান, জঘন্য অপদস্ততা,
আর ছায়াসঙ্গী পরিবারের চরম অসহযোগিতা
কোনো কিছুই,
হ্যাঁকোনো কালনাগিনীর বিষও তোমাকে দমাতে পারেনি!

দুঃখ-বেদনা আর পরাজয়ের শৃঙ্খল দুপায়ে মাড়িয়ে,
তুমি আজ এক বিজয়ী মহানায়ক!
কবির বিদ্রোহী শৈলীতে,
রুদ্র রোষে,
সমুদ্রের গর্জনে
তুমি আজ এক দৃপ্ত, জ্বলন্ত মহাকাব্য!

------------------------------------------------------------------------