Sunday, August 16, 2026

ডারউইনের বুকে বাংলার গর্জন

 কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

****************************************

জাগিল রে জয়-কেতন!
আজ ১৬ই আগষ্ট, ২০২৬ খ্রীষ্টাব্দ
এক স্বর্ণালী দিন!
ক্রিকেট-ইতিহাসের এক তপ্ত বিজয়-মুকুট,
গৌরব সীমাহীন!
বাংলাদেশ ক্রিকেটের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রণ-বিজয়
অস্ট্রেলিয়ার খোদ তখত-তাউসের বিরুদ্ধে!
ক্যাঙ্গারু-দল ভেবেছিল বুঝি বাংলার টাইগারদের পরাভূত করিবে
স্তব্ধ করিয়া দিবে তাহাদের জয়-যাত্রাকে যুদ্ধের ছন্দে!

কিন্তু না! মিছে আশা!
বাংলার বাঘেরা গর্জে উঠেছে আজ হিংস্র থাবায়,
অদম্য প্রতাপে, অপরাজেয় বীরত্বের প্রলয়-ভাবায়!
ক্যাঙ্গারু-দর্প চূর্ণ করিয়া পরাজিত করিবেই তাহাদের
এই ছিল বজ্র-পণ,
ডারউইনের মার্লারা ওভাল স্টেডিয়ামে আজ মেতে ওঠে রুদ্র-ক্রীড়ন!
সেই অদম্য দুর্ধর্ষ অস্ট্রেলিয়াকে বধ করিল রে আজ
নাজমুল হোসেন!
হাসান মাহমুদ!
মেহেদী হাসান!
তাইজুল!
তানজিদ হাসান তামিম!
সাদমান ইসলাম!
লিটন!
মুমিনুল!
ইবাদত!
মুশফিক!
তাসকিন!
ওরা ছিন্ন করিয়া শত্রুর জাল, তুলে ধরেছে বিজয়-পতাকা
দীপ্ত, স্বাধীন!

এক টুকরো সবুজ বাংলা যেন সুদূর অস্ট্রেলিয়ার তপ্ত মাটির বুকে
জেগে উঠল সগৌরবে, মহা উল্লাসে, প্রলয়-সুখে!
ধন্য ধন্য রবে আকাশ-বাতাস মন্দ্রিল আজ,
সবাই প্রশংসা করিল বাংলার টাইগারদের
পরাইয়া দিল মাথায় বিজয়ের তাজ!
ডারউইনের মার্লারা ওভালের বুক আজ কেঁপে কেঁপে ওঠে
টাইগারদের ওই হুংকারে, মহা জয়-উৎসবে!

জয় সাধারণ নয়, জয় এক ঐতিহাসিক টেস্ট জয়!
ভাঙিয়া চুরমার করিল যত সংশয়, যত ভয়!
এই জয়ই হইবে রে আগামী দিনের মহাশক্তি,
আগামী মুক্ত-বিজয়ের অবিনাশী উৎস!
সাবাশ বাংলাদেশ!
সাবাশ বাংলাদেশ ক্রিকেট!
নিপাত যাক শত্রুর যত কুৎসার কুৎস!
স্যালুট বাংলাদেশ!
স্যালুট বাংলাদেশ ক্রিকেট দল!
তোমাদের জয়-গানে আজ উত্তাল মহা-ভূমণ্ডল!

-------------------------------------------------------------------

গ্রামে বিদ্যুৎ যেন এক অভিশাপ!

 কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

*************************************
শোনো হে রাষ্ট্রযন্ত্র,
শোনো হে ক্ষমতার কান্ডারী!
তোমাদের তরে অবহেলিত গ্রামীণ জনতার
এই শেষ হুঁশিয়ারি!

কারেন্ট?
সে তো এক পরম অসামাজিক!
প্রতিদিন জনতা তাকে দাওয়াত দেয়,
তবু সে বেড়াতে আসে কদাচিৎ।
সে বড় স্বার্থপর,
বড় বেশি বৈষম্যময়,
শহরই যেন তার চিরস্থায়ী বাসস্থান
সেখানে সে নিত্য করে সদায়!
অথচ গ্রামের রক্ত চুষে এনে,
সে দান করে শহরের রোগীকে চিনে চিনে!

গ্রামের পর গ্রাম সে শুধু করে জুলুম-অত্যাচার,
আলো নাই,
তবু বিলে বোঝা চাপিয়ে দেয় বারবার!
সে গ্রামকে শুধু অন্ধকার রাখতেই পছন্দ করে,
তাই তো আজ ক্ষোভের আগুন
জ্বলছে পল্লীর ঘরে ঘরে।

আজ মিল-কলকারখানা সব বন্ধ হয়ে যাচ্ছে,
উৎপাদন স্তব্ধ,
শ্রমিকেরা বেকারত্বের বিষ খাচ্ছে!
নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিষের দাম হুহু করে বাড়ছে,
মানুষের জীবন-জীবিকা আজ
স্থবিরতায় মরছে!

গ্রামে বিদ্যুৎ আজ এক মস্ত অভিশাপ,
বারো থেকে আঠারো ঘণ্টা থাকে না কারেন্ট
কেমন পাপ?
এই চরম ভোগান্তি দেখার যেন কেউ নেই কোথাও,
কী বিচিত্র রাষ্ট্রযন্ত্র!
কী বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান তোমরা চালাও!

হে রাষ্ট্রের কাণ্ডারী,
হে মন্ত্রী, হে এমপি, হে উচ্চপদস্থ কর্মচারী!
তোমাদের তো কারেন্ট যায় না,
তোমরা কী বুঝবে এই কষ্টভারী?
তোমরা কি পারো না
তোমাদের বিদ্যুৎ লোডশেডিংয়ের আওতায় আনতে?
নাকি সাধারণ মানুষের কষ্টকে
তোমরা চাও না কোনোদিন জানতে?
তোমরা এতো নিষ্ঠুর কেন?
বলো হে রাষ্ট্রের কাণ্ডারী
গ্রাম শহরের মাঝে বিদ্যুতের এই বৈষম্য
কেন এতো ভারী?

আমরা ভিক্ষা চাই না,
বিদ্যুতের সুষম বণ্টন চাই!
মন্ত্রীদের ঘরেও হোক লোডশেডিং
ঠিক গ্রামের মতোই, আর কোনো ছাড় নাই!
তবেই যদি তোমরা বোঝো
অবহেলিত, বঞ্চিত মানুষের মনের কষ্ট,
যার কারণে আজ
দেশের অর্থনীতি হচ্ছে পুরোপুরি নষ্ট!

আমরা ঘরে ঘরে সুষম হারে বিদ্যুতের বণ্টন চাই,
বন্ধ হয়ে যাওয়া সব মিল-কারখানার
সচল রূপ দেখতে পাই!
জনতার ট্যাক্সের টাকায়
তোমাদের যতো বেতন আর বিলাসিতা হয়,
তোমরা সুখে-শান্তিতে থাকবে,
আর জনতা সইবে কষ্ট
কেমন অন্যায়?

এই বৈষম্যের দেয়াল ভেঙে গুঁড়িয়ে দাও,
হে রাষ্ট্রযন্ত্রের কান্ডারী,
জনতাকে এই অভিশাপ থেকে মুক্তি দাও,
অবিলম্বে মুক্তি দাও,
আমাদের দাবি সর্বাধিকারী!

------------------------------------------------------------