Wednesday, September 17, 2025

অর্ধশতবর্ষের চেয়ারম্যান

 অর্ধশতবর্ষের চেয়ারম্যান

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর।
***********************************
রাওনাটের পূর্বপাড়া, বেপারী বাড়ির আলো,
ঐতিহ্যের জলে ভেসে এলো মানুষের ভালো।
জন্ম নিলেন মহান নেতা, ডাক্তার আলীর নাম,
দূর্গাপুরের প্রান্তর ভরে গায় জনতার কাম।

পিতা মরহুম আনছার আলী, গর্বিত পরিচয়,
মাতা হনুফা বেগম—স্নেহধারায় ভরা আশয়।
রক্তের শিকড়ে জ্বলে ইতিহাসের অনন্ত দীপ,
মন্ত্রীর ফুফু, সেনাপতির দাদী—যুগের প্রণোদিত তীপ।

ফকির আব্দুল মান্নান মন্ত্রীর ফুফা ছিলেন প্রিয়,
ব্রিগেডিয়ার আসম হান্নান শাহ দাদীর মতো ইতিহাসের নিখুঁত বীজ।
সম্ভ্রান্ত মুসলিম বংশের ধ্বজা উঁচু বাতাসে,
দুইশ বিঘা জমিতে মহিমার প্রতিফলন ছড়ায় আশ্চর্যতায়।

জমিদার প্রথা না থাকলেও মানুষ ডাকতো জমিদার,
প্রজ্ঞা আর ন্যায়ের বাতি জ্বেলে রাখতেন হৃদয়ের বার।
হোমিও ডাক্তার, বেদনার সঙ্গী, মানুষের সাথী,
অসহায়দের জন্য জীবন ব্যয় করতেন অমৃতমধুর কথা।

সমাজসেবক, জনবান্ধব, পরউপকারে ছিলেন দীপ,
প্রজন্মের বুকে রইলেন চিরন্তন অনন্ত তীর্থস্মৃতি।
বৃটিশ আমল থেকে বাংলাদেশ—যুগের ছন্দে,
তিনি রইলেন সত্যের সঙ্গী, জনতার বিশ্বাসে।

দূর্গাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দীর্ঘ অর্ধশতক,
ইতিহাসে লিখলেন ন্যায়, প্রজ্ঞা ও মানুষের শক্তি অটলক।
একবার হেরেছিলেন মাত্র, হাবিবুল্লাহ সরকারের কাছে,
তবু হৃদয়ে জনতার ভালোবাসা অমোঘ আঁচে।

"নানা" সম্বোধনে বাজতো হৃদয়নাদের সুর,
মানুষের আঁধারে তিনি আলোর প্রতিটি ছাপের দূর।
অর্ধশতবর্ষের চেয়ারম্যান—ইতিহাসের অনন্ত দৃষ্টি,
প্রজ্ঞা আর ন্যায়ের সমন্বয়ে সৃষ্টি করলেন মানবিক কৃষ্টি।

মেহমানদারী ছিল প্রাণের অন্তরের গান,
উপহার দিতেন হৃদয় দিয়ে, অতিথির স্বপ্নের মান।
উপার্জনের সিংহভাগ জনতার কল্যাণে ব্যয়িত,
জীবনের প্রতিটি ক্ষণ ছিল মানবতার অনন্ত বিনীত।

সৎ, যোগ্য, জ্ঞানী—অতুলনীয় মহান,
জনগণের হৃদয়ে রয়ে গেলেন ইতিহাসের অম্লান।
তাঁর মৃত্যুতে জাতি হারালো অমূল্য ধন,
অশ্রুভেজা প্রার্থনায় কাঁদলো সকলে মন।

এমন মানুষ যুগে যুগে জন্মে না,
শূন্যতায় দেশ পেল অনন্ত বেদনার ঝঞ্ঝা।
কিংবদন্তি নেতা, উপমাহীন তিনি,
জনগণের স্মৃতিতে চিরদিন আলো জ্বেলে রইল।

ইতিহাসের পাতায় লেখা কীর্তিগান,
প্রজন্মের বুকে বাজে সেই অনন্ত সুরের তান।
পরউপকারী জীবনে তিনি ছিলেন মহীয়ান,
দূর্গাপুরের গর্ব, রাওনাটের প্রাণ।

কবির প্রার্থনা—আল্লাহ্ দিন জান্নাতের ঠিকানা,
চিরশান্তির আসনে থাকুক তাঁর আনুগানা।
ইতিহাসের আলোকবর্তিকা—নেতার মহাকাব্য,
ডাঃ মোহাম্মদ আলী—জনতার চিরস্মরণীয় অধ্যায়।
--------------------------------------------------------------------

Tuesday, September 16, 2025

কৈশোরের ভুল

 কৈশোরের ভুল

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
*********************************
কৈশোরের মন অগ্নিশিখা, বিদ্রোহী, অস্থির,
ভুল পথে হেঁটে ভেঙে যায় আশা, জ্বলে চেতনার পিশির।
বন্ধুর প্রলাপে বিষ, মায়ায় বাঁধা যায় অন্তর,
ভুল পদক্ষেপে পড়ে হারায় স্বপ্ন, নিঃশেষে ঢেকে যায় আকাশ-দূর।

প্রথম প্রেমের মোহে বিভোর, হৃদয় ভাঙে বারবার,
ভুল বোঝাপড়ায় নিঃশ্বাস আটকে যায়, কষ্টের আগুন জ্বলে অন্তর ধার।
মাদক মোহ, অশান্তি ঝড়ে, বেদনার নদী বয়ে যায়,
কিশোরী মন বিদ্রোহী, নৈতিকতার দীপকে আঁধারে ঢেকে যায়।

চিৎকার করে অন্তঃকণ্ঠে, “আমি নিজেরই পথিক!”,
ভুল করলেও শেখে, শক্তি গড়ে, সত্যের সঙ্গে মেলায় তীক্ষ্ণ তিক্তিক।
শিক্ষকের বাণী বাজে বাতাসে, কঠিন, মিষ্টি নয়,
অভিজ্ঞতা দেয় প্রাচীর শক্তি, মন গড়ে ধ্রুব সত্যের কায়।

ভুলের ছায়া কাটিয়ে যায় প্রজ্বলিত চেতা,
অন্ধকারে ঝড় বয়ে আনে নতুন আলো, নতুন আশা দেখা।
হায়, ভুলে ভরা দিন, শিক্ষা বোনা রাত্রি,
জীবনের আকাশে ঝড় বয়ে আনে প্রভাতের মিষ্টি শাস্ত্রী।

কাঁদে, হেসে, লড়ে, শেখে, চেনে জীবন সত্য,
ভুলকে শত্রু নয়, শিক্ষক করে চেতনার দীপ অমৃত।
শেষে সে দাঁড়ায়, অচেনা পথে স্বাধীন,
ভুলের অভিজ্ঞতা দিয়ে গড়ে তোলে প্রাণের প্রাসাদ অগাধ বিন্দু।

কিশোরের মন বিদ্রোহী, শক্তি ও ন্যায়ে পূর্ণ,
ভুলকে ভুলই রাখে, তবে শেখায় সত্য ও নৈতিক শৃঙ্খল অম্লান।
ভুলের অগ্নি পুড়িয়ে তৈরি করে চেতা,
নতুন দিনের বীজ বোনা, শক্তির সাথে ধ্রুব প্রতিজ্ঞা।

ভুলে ভরা কৈশোরের রাত, শেখায় অচেনা পথ,
বিদ্রোহী মন কাঁপে, গড়ে তোলে জীর্ণ অভিজ্ঞতার সুর।
শেষে সে জানে, ভুলের অভিজ্ঞতা শক্তি,
বিদ্রোহী হৃদয় চায়, ন্যায়ের জন্য তুফান উন্মুক্তি।

মানুষের পথে কষ্ট, ত্রুটি ও বিপ্লব মিলায়,
ভুল না করলেই শিখা ওঠে না, চেতনা সদা জ্বলায়।
জীবন তার দীপক, ভুল তার বাতি, বিদ্রোহ তার প্রভা,
কৈশোরের অগ্নিশিখা ঝরে না, শেখায় চিরন্তন গাথা।
-------------------------------------------------------------


১৬-০৯-২০২৫

কাপাসিয়ার নতুন গর্ব

 কাপাসিয়ার নতুন গর্ব

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
*********************************
কান্দানিয়ার মাটির বুক ফুঁড়ে উঠলো এক প্রদীপ,
ইদ্রিস আলীর সন্তান সে—অবিচল, অদম্য, অমিত দীপ!
সুপ্রিম কোর্টের অঙ্গনে তারই নাম আজ ধ্বনিত,
ন্যায়ের মন্দিরে বাজে সুর—ইকবাল শেখ অম্লান প্রণীত।

শোষিত বঞ্চিত জনতার, সংগ্রামের অগ্নিশিখা,
অভিজ্ঞতায়, নিষ্ঠায়, প্রজ্ঞায় ভরা তার ইতিহাসিকা।
আইনের প্রাঙ্গণে তিনি অটল অগ্নিবাণ,
অন্যায়ের পথে ছুঁড়ে দেন বজ্রের মতো আহ্বান।

১৭ মার্চের প্রজ্ঞাপন—গৌরবের বিজয়গাথা,
সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল পদে উঠলো তার মহাথা।
বললেন তিনি গর্বভরে—“ন্যায়ের তরে প্রাণ দেবো,
সত্যের মশাল হাতে নিয়ে শৃঙ্খল সব ভাঙবো।”

বাংলাদেশের প্রথম গৌরব ফকির শাহাবুদ্দিন,
তারই পথ ধরে আজ কাপাসিয়ার নতুন দিন।
গাজীপুরে আনন্দের ঢেউ, বাজে সাফল্যের শঙ্খ,
জনতার কণ্ঠে ধ্বনি ওঠে—“ন্যায়ের পথে অটল থাক।”

হে কবির প্রিয় বন্ধু, এডভোকেট ইকবাল শেখ,
তুমি ন্যায়ের বজ্রকণ্ঠ, আঁকো সাহসের পথরেখ।
তোমার দীপ্ত অঙ্গীকারে কাঁপুক অন্যায়ের দুর্গ,
কাপাসিয়ার নবগৌরব তুমি—বাংলার অনন্ত দ্যুতি অর্ঘ্য।

আমাদের প্রার্থনা—আল্লাহ দান করুন দীর্ঘায়ু,
ন্যায়ের পতাকা হাতে তুমি হও যুগের দিশারু।
তোমার আগুন-শিখা ছড়াক সর্বত্র অটল সত্য,
ইকবাল শেখ—কাপাসিয়ার নতুন গর্ব, ন্যায়ের অবিচল ব্যুৎপত্তি!
-------------------------------------------------------------

মেধাবী ফুটবলার

 মেধাবী ফুটবলার

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
*********************************
রাওনাট গ্রামের পঞ্চায়েত বাড়িতে জন্ম নিল এক দীপ্ত প্রাণ,
হাবিবুল্লাহ সরকারের ছোট ভাই, জীবনের ধ্রুব ত্রাণ।
ছদিক উল্লাহ সরকারের বড় ছেলে, নামের সঙ্গে ভার ভরা,
মোঃ খোদেনেয়াজ সরকার—চেতনার আলোয় দীপ্ত অম্লান।

রাওনাট স্কুল মাঠেই সূচনা তার শৈল্পীক ফুটবলের,
পায়ের ছন্দে মেলে প্রজ্ঞার ঢেউ, মননে সৃষ্টির উৎসবের।
মিডফিল্ডে তার দখল যেন নদীর নীরব স্রোত,
প্রতিপক্ষের চোখে ছায়া, কিন্তু তার পাসে জ্বলন্ত আলো।

ড্রিবলের নাড়ি, যেমন মেসির নান্দনিক ছন্দ,
প্রতিটি বাঁক, প্রতিটি ফ্লিক—চেতনার প্রকাশ অম্লান।
গোলের পথে দৌড় নয় কেবল,
মনের গভীরতা, ধৈর্য ও প্রজ্ঞার ছোঁয়া।

মাঠে চঞ্চল, ছন্দময়, খেলায় দারুণ উদ্দীপনা,
কিন্তু বাস্তব জীবনে শান্ত—নম্র, ভদ্র, রিজার্ভড মনের দীপ্তিময় ব্যাকরণ।
লেখাপড়া, চাকরি—কোনো কিছুই তাকে আটকাতে পারে না,
ফুটবল যেন তার আত্মার নৃত্য, পায়ের ছন্দে জীবনের ছোঁয়া।

তার এক উপকার, আমাকে কর্মজীবনের সূচনা করেছিল,
তার ত্যাগের স্মৃতি আজো হৃদয়ে অমলিন হয়ে জ্বলছে।
প্রতিটি পাসে মিলে যায় ভাবনার স্রোত,
মাঠের বাতাসে ভাসে মানবতার নীরব নোট।

মিডফিল্ডার সে, কেবল খেলোয়াড় নয়,
চেতনার দীপ্তি, জীবন দর্শনের আলো ছড়ায় হৃদয়।
পরিবারের গর্ব, গ্রামের অহংকার,
রাওনাটের পঞ্চায়েত বাড়িতে ফুটে ওঠে তার পরিচয় অমলিন ধার।

মাঠে তার পায়ের নৃত্য, মেসির মতো নান্দনিক,
প্রতিটি ছন্দে মেলে মানবিকতার গূঢ় প্রতীক।
শৃঙ্খলা, সততা, ধৈর্য্য—তিনটি তার ত্রয়ী,
প্রতিটি ড্রিবলে মিলে যায় চেতনার গোপন রথী।

মোঃ খোদেনেয়াজ সরকার—নাম নয়, চেতনার আলো,
গ্রামের ছেলে নয় কেবল, জীবন-প্রজ্ঞার নিদর্শন এক প্রদীপ।
মেধার আলোয় ভরা জীবন, অদম্য সাধনার অমলিন দীপ্ত,
মাঠের উচ্ছ্বাস ও বাস্তব জীবনের শান্তির মিলনে পূর্ণ।
-------------------------------------------------------------

জনপ্রিয় মেম্বার

 জনপ্রিয় মেম্বার

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
*********************************
রাওনাট পশ্চিম পাড়ার মাটিতে জন্ম,
ভূইঁয়া বাড়ীর ধ্রুবতারা—জনতার প্রিয় মেম্বার।
পিতাঃ দানিজ আলী ভূঁইয়া, গর্বময় পুরুষ,
যার শিক্ষা জ্বেলে রেখেছে তার হৃদয়ের সূর্য।

বারবার নির্বাচিত, আস্থা হাতে ধরে,
প্রতিটি পদক্ষেপে জাগে ন্যায়ের পবিত্র প্রেরণা।
সংসদের প্রাঙ্গণে ধ্রুবতারার পদধ্বনি,
ধৈর্য ও প্রজ্ঞার আলো করে সব অন্ধকার ঘনি।

জনপ্রিয় মেম্বার মিজানুর রহমান ভূইয়া,
মিষ্টভাষী, সততার মূর্তপ্রতীক,
কিন্তু বিপ্লবী চেতা জাগ্রত প্রতিটি দিক,
গরীব দুঃখী মানুষের আস্থাভাজন ঠিকানা।

নামাজী, প্রভূভীরু, ধার্মিক এক প্রাণ,
প্রকৃতির নিয়মে, মানুষের ন্যায়ে অঙ্গীভূত মান।
যথন যে ডাক দেয়, তার ডাকেই সাড়া দেয়,
প্রজাদের আহ্বানে তার হৃদয় সদা খোঁজে ভরে।

কোনও অপশক্তি তাকে হারাতে পারেনি,
দুর্ভাগ্য, ষড়যন্ত্র বা সময়ের খেলা—সবই অবহেলিত।
শিশুকাল থেকে হৃদয়ে ভরা মানবতা,
মাটির গন্ধে শিখেছেন সত্য ও করুণা।

সময়ের বাঁকে বাঁকে, প্রজন্ম আসে যায়,
তবু মিজানুর রহমান ভূইয়ার কীর্তি থেকে যায় অমল, অক্ষয়।
কোনও ভোটে সে একবারও হারেনি,
জনতার আস্থা তার শক্তি, প্রতিটি দিন নতুন স্বপ্নে ভরা।

প্রজাদের জন্য ত্যাগ, নীতি ও করুণা,
এভাবেই তিনি হয়ে উঠেছেন চিরন্তন মেম্বার।
প্রতিটি ভোট, প্রতিটি বিশ্বাসের ছাপ,
জনতার হৃদয়ে লেখা অমল চিহ্নের আবহাপ।

সমাজের অন্ধকারে দ্যোতক তিনি,
রাওনাট পশ্চিম পাড়ার গর্ব, অনন্ত স্নিগ্ধ ঝনি।
হৃদয়ের কণায় কণায় প্রতিটি মানুষের পাশে,
প্রজাদের সুখ-দুঃখে ছড়ায় আশা ও আলো রাশে।

যেখানে যুদ্ধে ধ্বংসের ছায়া, সেখানে তিনি দ্যোতক,
জনতার বিশ্বাসে অমর, প্রেরণার উৎস জ্যোতক।
প্রত্যেকটা সংকটে তার চেতনায় জ্বলে আলো,
প্রজাদের সেবায় প্রতিটি দিন হয়ে উৎসবময় বলো।

মিজানুর রহমান ভূইয়া—মাটির সন্তান, আকাশের আলো,
জনতার হৃদয়ে চিরন্তন প্রদীপ, অবিস্মরণীয় প্রতীক।
তার জীবন, ত্যাগ, সততা ও সাহসের গল্প,
সব প্রজন্মকে করে উদ্দীপ্ত, ভরা আশা ও প্রেরণার মলয়।
-------------------------------------------------------------


আঁধারের আলো

 আঁধারের আলো


কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
*********************************
রাওনাট গ্রামের শান্ত ধানের মাঠে,
পলান বাড়ি—মফিজ উদ্দিন পলানের দীপ্তি স্থান।
শৈশবের সকালে কণ্ঠে বাজে প্রাণের গান,
মাটির স্নিগ্ধতা, নদীর জল—সব মিলনের মান।

নুন অন্তে পান্তা ফুরাতো,
দারিদ্র্য দমাতে পারেনি তার অদম্যতা।
সংগ্রামের আঁচলে লেখা পড়া চালিয়ে গেছেন,
অতল স্পৃহার দীপ জ্বলে হৃদয়ের করাল প্রহর।

পাঠশালার দেয়াল শুনেছে তার উচ্চারিত কথা,
শিক্ষকের চোখে ফুটেছে গর্বের দীপ্তি পূর্ণলতা।
হাজার বইয়ের সঙ্গী, জ্ঞানার্জনের সাধনায়,
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমকম সম্পন্ন তার অমোঘতা।

সোনালী ব্যাংকে উর্ধ্বতন কর্মকতা হিসাবে চাকুরী করেন,
পরিশ্রম ও সততার ছোঁয়ায় কর্মজীবনে দীপ্তি ছড়ায়।
তার এ দীপ্তি ছড়ায়ে যাক দিক হতে দিগন্তে,
গ্রামের মানুষ বলে—“তারকা সন্তান এ গ্রামে জন্মেছে।”

মাটির কৃপায়, শ্রমের মহিমায় গড়ে ওঠে,
মানবতার হাসি ছড়ায় সে চারিদিকে।
সে আগামীর শিক্ষা, নতুন প্রজন্মের দীক্ষা,
মুক্তির উপমা, সাধনার দৃঢ় চেতা প্রাণ।

জীবনের অন্ধকারে বাতাসে মেলায় সে গান,
সংগ্রামের ছায়ায় ফুটে ওঠে অনন্ত প্রাণ।
অচেনা আকাশের দিকে তাকিয়ে, স্বপ্ন দেখে,
প্রান্তরের সীমা ছাড়িয়ে আলো ছুঁয়ে যেতে চায়।

দুঃখের স্রোতে ভাসেও তিনি হার মানেননি,
পরিশ্রমের অগ্নিতে হৃদয় তেজে জ্বলে গেছে।
ধৈর্য্য, সহিষ্ণুতা, এবং আশা—তার চিরন্তন সঙ্গী,
নব প্রজন্মের পাথেয়, জীবন দর্শনের দিশারি।

আঁধারের মাঝে উদীয়মান অমল দীপ্তি,
রাওনাট গ্রামে পলান বাড়ির অনন্ত গর্ব।
সংগ্রাম, শিক্ষা, মানবতা ও সেবার মিলনে,
অগ্নিসদৃশ প্রতিভায় আলো ছড়ায় অনন্তপদে।

জীবন তাঁর এক দার্শনিক উপমা,
সময় ও প্রয়াসে গড়া—আলোর অমোঘ দৃষ্টি।
প্রত্যেক পদক্ষেপে ছড়ায় সে প্রেরণা,
আগামী প্রজন্মের জন্য দীক্ষা, মুক্তির আলো।

সেই দীপ্তি ছড়িয়ে যাক দিক থেকে দিগন্তে,
সাধনার চেতনায় গড়া, অদম্য প্রাণের প্রদীপ।
এই কবিতার দীপ্তি, সংগ্রাম ও অনুপ্রেরণা—
কামাল উদ্দিন আহম্মেদ পলান-এর অমল ছোঁয়ায়।
-------------------------------------------------------------


পথপ্রদর্শক

 পথপ্রদর্শক

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************************

রাওনাট পঞ্চাত বাড়ীর গর্ব, কাপাসিয়ার কৃতি সন্তান,
জন্ম ১৯৬০ সালে, জ্ঞানের অমল ধ্যান।
পিতা আলহাজ্ব মমতাজ উদ্দিন সরকারের ছায়ায় গড়া,
মাতা হনুফা খাতুনের মমতায় চরিত্র অমলিনী বোনা।

B.A., B.Ed., LLB-এর জ্যোতি হাতে,
শিক্ষা ও ন্যায়ের দীপশিখা আলোকিত করে হৃদয়ের বাতাসে।
ভাওকাদী স্কুলে সহকারী শিক্ষক হিসাবে প্রথম পদে,
পাবুর গালস স্কুলে প্রধান শিক্ষক হয়ে সমাপ্ত কর্মজীবন শ্রেষ্ঠ।

শ্রেণিকক্ষে বসে পাঠাতেন কাব্য ও চিন্তার আলো,
অক্ষরের নদীতে ভাসাতেন মানবতার অমল ধারা।
প্রখ্যাত বাংলা সাহিত্যের শিক্ষক, জ্ঞানের অনল দীপ,
শব্দে শব্দে বাঁধতেন ছাত্র-ছাত্রীদের চিন্তার নীড়।

প্রধান শিক্ষকের মর্যাদা, মানবিক গুণে পূর্ণ,
শিক্ষা আর সাহিত্যের আলোয় ভরা তার জীবন চিরন্তন।
অক্ষরের স্রোতে বাঁধতেন দার্শনিক চিন্তার তরী,
করুণার হাত ধরে খুঁজতেন মানবতার অমলিনী।

রাওনাটের ছেলে, সাহিত্যের চিরদীপ,
শব্দের জ্যোতিতে আলোকিত করতেন জীবনের বিভূতি।
শ্রদ্ধার মুকুট মাথায়, কলমে অমল দ্যুতি,
বাংলা সাহিত্যের দীপালী, শিক্ষার পথপ্রদর্শক অমলিন।

অনলবর্ষি বক্তা, প্রজ্ঞার অগ্নি ছড়িয়ে,
জীবনের পথে প্রেরণার দীপ জ্বেলে অমলিন তরে।
অক্ষরে অক্ষরে, ছন্দে ছন্দে চিন্তার প্রলেপ,
ছাত্র-ছাত্রীদের হৃদয় বানায় জ্ঞানের অনন্য গৃহ।

পিতার আদর্শে বাঁধা, মাতার মমতায় মোড়ানো,
প্রতিটি পদক্ষেপে শিক্ষা ও ন্যায়ের দীপ্তি ভাসানো।
ভাওকাদী থেকে পাবুর গালস, কর্মজীবনের ধারায়,
জ্ঞান, সাহিত্য ও মানবতার স্রোত বয়ে গেছে অবারিত আকাশে।

রাওনাট পঞ্চাত বাড়ীর গর্ব, কাপাসিয়ার কৃতি সন্তান,
বাংলা সাহিত্যের দীপালী, শিক্ষার অমল প্রতীক তুমি।
-------------------------------------------------

বিপ্লব

 বিপ্লব

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
*********************************
সেদিন ছিল ১৯৯৩ সালের ১৯শে ফেব্রুয়ারি,
কাকডাকা ভোরে রক্তাক্ত হলো ইতিহাসের বুক।
খালেদ খুররমের বাসার সামনে
রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা ছিনিয়ে নিল এক তরুণ সূর্য—
তুমি, জাহিদুল হক খান, সবার প্রিয় বিপ্লব।

কাপাসিয়া কলেজের মাঠে তুমি ছিলে মশাল হাতে,
ন্যায়ের স্লোগানে তুমি জ্বালালে ছাত্রদের বুক।
তুমি বলেছিলে—
“সত্যকে হত্যা করা যায় না,
আদর্শকে রুখে রাখা যায় না।”
তাই তো তোমার কণ্ঠ ছিল বজ্রের মতো দৃপ্ত।

কিন্তু রক্তাক্ত হলো তোমার শরীর,
অবশেষে তুমি পিজি হাসপাতালে
মৃত্যুর সাথে লড়ে হার মানলে,
আর আমাদের ছেড়ে চলে গেলে নিঃশব্দ যাত্রায়।

ভগ্নিপতি রাফাত সরকারের কোলে তুমি শুয়ে থাকলে,
তার চোখের জলেও লুকানো ছিল শোকের প্রতিফলন।
তবু হে বিপ্লব, তুমি মরে গেলে না—
তুমি আছো প্রতিটি মিছিলে, প্রতিটি তরুণের চোখে।

আল্লাহ তোমাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসীব করুন,
তোমার রক্ত হোক শহীদের মুকুটের আলো।
তুমি থেকো আসমানের পবিত্র বাগানে,
আমরা রাখব তোমার আদর্শ বুকে অমলিন সূর্যের মতো।
-------------------------------------------------------------

চিকিৎসার প্রদীপ

 চিকিৎসার প্রদীপ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
*********************************
তুমি রাওনাট গ্রামে মোল্লা বাড়ীর অমল প্রদীপ,
মৌলভী আহাদ আলী মোল্লা’র ছোট ছেলে মানবিক,
শৈশব থেকেই হৃদয়ে ধারণ করেছ মানবতার মাধুর্য,
জ্ঞানার্জনের পথে কখনো থেমে থাকনি তুমি।

কত বাড়ি, কত পথ হেঁটেছো নিশীথে, অদম্য সাধনায়,
মানব কষ্ট মুছে দিয়েছ প্রজ্ঞার জলে, বিনা স্বার্থে।
শিশু, বৃদ্ধ, মা—সবার চোখে জ্বালিয়েছ আশা,
তোমার হাতের স্পর্শে মিলায় ব্যথা, চোখের হাসি বাঁধে সেতু।

চিকিৎসার কলমে লিখেছ জীবনের প্রতিটি অধ্যায়,
রক্তবীণা, ব্যথার ছায়া, সবই মুছে দাও তুমিই সহজে।
শিক্ষা শেষে সরকারি চাকুরি করলেও, সেবা থামেনি কখনো,
গ্রামের একমাত্র ভরসা, অমোঘ দীপ্তি হয়ে দাও আলো।

নম্র, ভদ্র, বিনয়ী সেবকের মূর্তপ্রতীক তুমি,
কত দুঃখ, কত অশ্রু মুছে দাও নিরবভাবে।
প্রতিটি মুহূর্তে জন্ম দাও করুণা ও আলোর ছায়া,
ধৈর্য তোমার নদীর মতো, গভীর, চিরন্তন বিস্তৃত।

জীবনের ক্ষুদ্রতম কণাও আলোকিত তোমার নৈতিকতায়,
তুমিই গ্রামের আশা, শান্তি ও সেবার প্রতীক।
সবাই তোমারেকে ডাঃ আমির হোসেন নামে ডাকেই,
স্বপ্নের দীপশিখা জন্ম দাও হৃদয়ে, অন্ধকার ছাড়াও।

রাওনাট গ্রামের ইতিহাসে চিরকাল রবে অনন্য প্রদীপ—
মোঃ আমির হোসেন মোল্লা, চিকিৎসার অমর দীপ্তি।
-------------------------------------------------------------

Monday, September 15, 2025

দানবীর

দানবীর

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

********************************

কপালেশ্বরের মাটিতে জন্ম নিল আলোকিত প্রাণ,
মরহুম আঃ আজিজ মাষ্টারশিক্ষার পথে অনন্য গৌরববান।
১৯৩৯ সালে নিজ হাতে দান করল উর্বর মাটি,
প্রাথমিক বিদ্যালয় গড়ল, জ্ঞানচর্চার দীপ্তি বাতি।

প্রতিষ্ঠাতা, জমিদাতা, প্রধান শিক্ষক একসাথে,
মাটির বুকের ছোঁয়া, গ্রামীণ হৃদয়ে অমল ছায়া।
উঁচু মিনার মসজিদ, ফুরকানিয়া মাদ্রাসার ধ্বনি,
গ্রামের প্রাচীন ঐতিহ্যদানবীরের অমল স্মৃতি।

মরহুম মোঃ নূরুল হক মাষ্টারকনিষ্ঠ পুত্রের দীপ্তি,
কপালেশ্বর উচ্চ বিদ্যালয়ে ইংরেজী শিক্ষার সোনালী জ্যোতি।
লোহাদী উচ্চ বিদ্যালয়, ধীরাশ্রম আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়,
প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষকশিক্ষার অমল নীলাক্ষর।

১৯৮৪, ১৯৮৮ সালের নির্বাচনে জনগণের আস্থা,
সিংহশ্রী ইউনিয়নের বৃহত্তর নং ওয়ার্ডে মেম্বার হিসেবে দায়িত্বপূর্ণ কথা।
বিএনপির উপদেষ্টা পরিষদের নম্বর সদস্য,
কাপাসিয়া উপজেলা বিএনপির সম্মানিত সদস্যসেবার অমল প্রতিফলন।

জমি দান করে নির্মিত কমিউনিটি ক্লিনিকগ্রামের প্রাণপথ,
প্রাথমিক বিদ্যালয় পিছন দিয়ে রাস্তা, সোহাগপুরের সাথে সংযোগ।
প্রায় ৫০০ গজ পথ, নূরুল হক মাষ্টারের দান
মানবতার অমল প্রমাণ, বাপ-ছেলের ত্যাগে গ্রাম সজ্জিত, প্রাণময়।

প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ, মাদ্রাসাসবই আলোর ধারা,
দানবীরের ছোঁয়া, শিক্ষার আলো, মানবিকতার ছন্দধারা।
গ্রামের প্রতিটি পাথরে পড়ে তাদের স্বপ্নের ছাপ,
মাটি, আকাশ, নদীসবই বীরের মহিমা গায়।

হাওয়া বয়ে যায় মাঠ, গাছপালা নাচে বাতাসে,
প্রতিটি শিশুর হাসিতে, শিক্ষার দীপ্তি জাগে আকাশে।
গ্রামের প্রতিটি কোণে আছে বাপ-ছেলের ছোঁয়া,
প্রতিটি বীজ যেন জন্মায় আলোর স্বপ্ন গাঁথা।

সিংহশ্রী ইউনিয়নের জনতা স্মরণ করে তাদের ত্যাগ,
জ্ঞান, শিক্ষা, মানবিকতাসবই তাদের ধ্যানের ভাগ।
রাস্তা, স্কুল, কমিউনিটি ক্লিনিক, মসজিদসবই প্রাণের বাঁধ,
দানবীরের পদচিহ্নে গ্রামের প্রতিটি গলিপথ আজও সাজ।

হে গ্রাম! হে জন! তোমার বুকে চিরন্তন তারা,
দানবীরের দান, পরিশ্রম, ভালোবাসা ছড়ায় ধারা।
বাপ-ছেলের মমতা, শ্রম, শিক্ষা সেবা
কপালেশ্বরের আকাশে উদীয়মান সূর্য, প্রজ্ঞা শান্তির মেলা।

--------------------------------------------------------------


আলোকিত জীবন

 আলোকিত জীবন

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************
ঘাগটিয়ার ক্ষীণ আলোয়, জানুয়ারির প্রথম প্রভাতে ১৯০১ সালে জন্ম নিল এক দীপ্তিমান প্রাণ,
ফকির আবদুল মান্নান শাহ—যিনি ইতিহাসের অটল পথে রেখেছিলেন অমোঘ পদচিহ্নের ধ্বনি।
পিতা ফকির আব্দুল ওয়াহাব, মাতা মোছাম্মৎ রুছমুতেন নেছা—
দুই জনের আশীর্বাদে জ্বলে উঠল বিদ্যা, ন্যায় ও মানবিকতার অমলিন দীপক।
মাদ্রাসার নিরিবিলি ছায়ায় শুরু শিক্ষার সূক্ষ্ম আলো,
১৯২৫ মেট্রিক, ১৯২৭ ইন্টারমিডিয়েট, ১৯২৯ স্নাতক, ১৯৩৪ আইন (বিএল)—
জ্ঞান ও ন্যায়ের মিশ্রণে গড়ে ওঠল এক আলোকিত চরিত্র।
শিক্ষকতার মাধমে কর্মজীবনের সূচনা,
চব্বিশ পরগনার আলীপুর জজ কোর্টে পদার্পণ আইনপেশার পথে।
১৯৩৫ সালে ঢাকা জজকোর্টে যোগদান,
১৯৫১ সালে হাইকোর্টে এডভোকেট—সত্য ও ন্যায়ের প্রতীক।
ঢাকা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সমিতির সভাপতি,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন উপদেষ্টা ও সিন্ডিকেট সদস্য,
ঢাকা জেলা কারাগার পরিদর্শন কমিটির সদস্য—
প্রজ্ঞা, ন্যায় ও মানবতার দীপ্ত আলো ছড়িয়ে।
রাজনীতির অঙ্গনে প্রবেশ ১৯৩৬ সালে কৃষক প্রজা পার্টির মাধ্যমে,
১৯৪৬ সালে মুসলিম লীগের প্রার্থী, পাকিস্তান আন্দোলনের অটল নেতা।
১৯৪৭-১৯৫৪: পূর্ববাংলার আইন পরিষদের এমএলএ,
১৯৫৩-১৯৫৮: সাধারণ সম্পাদক, পরবর্তীতে ১৯৬৫-১৯৬৯: সভাপতি—
কনভেনশন মুসলিম লীগের মঞ্চে যুগান্তকারী নেতৃত্ব।
১৯৫৪ সালে নির্বাচনে পরাজয়, তবে ব্যর্থতা নয়, অনুপ্রেরণা,
জনকল্যাণ ও ন্যায়ের প্রতি অমোঘ প্রতিজ্ঞা।
১৯৬৫-১৯৬৯: পূর্ব পাকিস্তান মন্ত্রী পরিষদের সদস্য,
কৃষি ও খাদ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব—জনতার আশীর্বাদ ও দেশপ্রেমের প্রতীক।
পারিবারিক জীবনও আলোকিত—
বড় ছেলে হান্নান শাহ: সাংসদ, পাটমন্ত্রী, সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, বিএনপি রাজনীতিবিদ।
মেঝ ছেলে শাহ আবু নাঈম মোমিনুর রহমান: সুপ্রীম কোর্টের জ্যেষ্ঠ বিচারক।


ছোট ছেলে মোবারক শাহ: যুক্তরাষ্ট্রে আমেরিকান এক্সপ্রেসে কর্মরত।
বড় মেয়ে আনোয়ারা ইদ্রিস: সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের প্রথম মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান।
ছোট মেয়ে আঞ্জুমান আরা বেগম মিনু: আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক, বর্তমান আমেরিকা প্রবাসী।

ধর্ম ও ন্যায়ের দীপ্তি দিয়ে পথিকৃতিকে আলোকিত করলেন,
দেশপ্রেম ও মানবিকতার প্রতিটি স্পন্দনে মনকে জাগ্রত করলেন।
সত্যের পথে চলার অটল দৃঢ়তা ছিল তাঁর অস্ত্র,
অবিচল ন্যায়বোধ ছিল তাঁর অমোঘ যোদ্ধা।
প্রতিবাদের ঝড়ে, মানুষের কষ্টে সবল সমবেদনা রাখলেন,
অন্ধকারকে চিরতরে ছিন্ন করে আলোয় বিশ্বাস রাখলেন।
প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতার আলোয় জাতিকে পথ দেখালেন,
চিরন্তন ইতিহাসের পাতায় নাম অম্লান, স্মৃতিতে জ্বলন্ত।
১৯৯৩ সালের ৩১ অক্টোবর, তেজগাঁওয়ের ৮৪ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ—
অমলিন জীবন সমাপ্ত হলেও, আদর্শ, প্রজ্ঞা ও মানবিক দর্শন চিরজ্বলন্ত।
জীবনের প্রতিটি ছন্দে, দেশের কল্যাণে, মানুষের সেবায় আলোকিত ছিলেন তিনি,
ফকির আবদুল মান্নান শাহ—এক প্রজ্ঞাময় নেতা, যিনি ইতিহাসের প্রতি দৃষ্টিতে,
দার্শনিক ও বিপ্লবী মননের আলো ছড়িয়ে,
দেশপ্রেম ও ন্যায়ের অমোঘ প্রদীপ হয়ে চিরজীবন্ত।

--------------------------------------------------------------


বর্ণাঢ্য জীবন

 বর্ণাঢ্য জীবন

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************
গাজীপুরের কাপাসিয়ার ঘাগটিয়া গ্রামে জন্মলাভ,
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হান্নান শাহ, ইতিহাসে দীপ্তি ছড়াভ।
পিতা ফকির আবদুল মান্নান, ৬৫–৬৮ পাকিস্তানের মন্ত্রী,
ছোট ভাই শাহ আবু নাঈম মোমিনুর, সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি নিরন্তরী।

১৯৬২ সালে পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমি থেকে কমিশন লাভ,
সেনার জীবনে শুরু হলো পথচলা, দায়িত্বে সাহসের প্রমাণ রাখভ।
পার্বত্য চট্টগ্রামে বিগ্রেড কমান্ডার, দায়িত্বের মহা চ্যালেঞ্জে,
চট্টগ্রামের মিলিটারি একাডেমির কমান্ডেন্ট, প্রশিক্ষক যশোরে যত্নে।

পাকিস্তানের কোয়েটার আর্মি কলেজে ইলেকট্রিক্যাল ও মেকানিক্যাল শিক্ষা,
প্রশিক্ষক হান্নান শাহ, জ্ঞানের প্রদীপ জ্বালানিতে রেখেছেন মেধার রেখা।
১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে ঘটে ইতিহাসের ছেদ,
প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নিহত, রাঙ্গুনিয়া থেকে ঢাকায় মরদেহে পৌঁছান।

এইচ এম এরশাদ সরকার সেনাবাহিনী থেকে বাধ্যতামূলক অবসর দিলে,
তবু সরকারের সংস্থাপন মন্ত্রণালয় যুগ্ম সচিব ও বিএডিসি চেয়ারম্যান হিসেবেও কাজ মিলে।
১৯৮৩ সালে বিএডিসি চেয়ারম্যান পদ ত্যাগ, বিএনপিতে যোগ দেন আনুষ্ঠানিক,

মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক, সাংগঠনিক সম্পাদক, উপদেষ্টা পরিষদে অবিরাম।
১/১১’র কঠিন সময়ে খালেদা জিয়ার পাশে, বিএনপির তৃণমূল সংগঠন চালান,
সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সাহসী কণ্ঠে বলান।
২০০৯ সালে পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে স্থায়ী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন,
ষষ্ঠ কাউন্সিলেও পুনর্নির্বাচিত, দলের সর্বোচ্চ ফোরামে দায়িত্ব পালন।

১৯৯১ সালে গাজীপুর-৪ (কাপাসিয়া) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত,
খালেদা জিয়ার সরকারের পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী, দেশপ্রেমে অমিত।
স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে, কারাগারের অভিজ্ঞতা বহুবার,
বর্তমান সরকারের আমলেও কিছু মামলায় তিনি সাহসের উদাহরণ প্রমাণ।

প্রতি পদক্ষেপে প্রতিকূলতা, তবু অদম্য সাহসের ছাপ,
প্রতিটি যুদ্ধ, প্রতিটি দায়িত্বে, নিজের পরিচয় রেখেছেন সাপ।
দেশপ্রেমে অমোঘ, ত্যাগের পথে অবিচল, অদম্য শক্তির রেখা,
রাজনীতির মহাজগতেও খুঁজে পাওয়া যায় তাঁর নীতি ও রেখা।

কারাগারের গোধূলিতে দাঁড়িয়ে, সত্যের ডাক দিলেন নির্ভীক,
মুখের হাসিতে লুকিয়ে রাখতেন জনতার স্বপ্ন, হৃদয়ের দীপ্তি অসীম।
শিক্ষা, উন্নয়ন, নাগরিক কল্যাণ—সকল ক্ষেত্রেই রেখেছেন চিহ্ন,
সেতু, রাস্তা, স্কুল, কলেজে লেগেছে তাঁর ছোঁয়া, নিঃস্বার্থ ভ্রূণ।

কাপাসিয়ায় অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাস্তা-ঘাট নির্মাণে হাত রেখেছেন,
ফকির মজনু শাহ সেতু, তাঁর ত্যাগের বড় প্রমাণ হয়ে দৃষ্টান্ত রেখেছেন।
দুই ছেলে, এক কন্যাসন্তান—পরিবারে আশীর্বাদ, জীবন পূর্ণতা পায়,
জাতির কল্যাণে অগণিত কাজের ছাপ, ইতিহাসে চিরচিহ্ন হয়ে যায়।

প্রতি কথায়, প্রতিটি কাজেই ছিলেন মানবতার বাতিঘর,
সাহসিকতা, সততা ও ন্যায়ের পথে তিনি চলেছেন অমলিন চিহ্নর।
দেশপ্রেমে অমোঘ, ন্যায় ও সত্যে অটল, দলের নেতা, জনতার বন্ধু,
হান্নান শাহ, এক জীবনের মহাকাব্য, ইতিহাসে চিরন্তন প্রদর্শক।

২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬, মঙ্গলবার ভোরে, সিঙ্গাপুরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ,
মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়, জীবনযাত্রার শেষ ধাপ।
বর্ণাঢ্য জীবন, সাহসিকতা, দেশপ্রেম, রাজনৈতিক নেতৃত্বের অনন্য দ্যুতি,
হান্নান শাহ—চিরস্মৃতির প্রতীক, জাতির হৃদয়ে চিরন্তন কাব্য ধারা।
--------------------------------------------------------------