বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

ওপারে ভাল থাকিস হে বন্ধু

 ওপারে ভাল থাকিস হে বন্ধু

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
***********************************
ওরে বন্ধু,
ভাবিনি তোকে নিয়ে কোনোদিন এভাবে লিখতে হবে—
শব্দগুলো হবে শোকের কাফনে মোড়া,
কলম ভিজবে অশ্রুর নোনাজলে।

সেদিনও তো বলেছিলি—
“অনেক কথা আছে রে, অনেক দুঃখ জমে আছে বুকে,
ফোনে বলা যাবে না।”
তোর কণ্ঠে ছিল ভাঙা স্বপ্নের শব্দ,
ভালবাসার আকাশে জমাট কালো মেঘের ভার।
বলেছিলি— ভালবাসার সূর্যটা নাকি নিভে গেছে,
তুই নাকি এখন এক অন্ধকার পথের পথহারা পথিক।

আর কিছু জানার আগেই
সব কথা থেমে গেল—
নিভে গেল তোর জীবনের প্রদীপ।
হঠাৎ একদিন ফেসবুকের নীল পর্দায় দেখি—
তুই আর নেই!
এই দুটি শব্দ যেন বজ্রাঘাত—
হৃদয়ের গভীরে তীব্র আর্তনাদ।

মনে পড়ে কলেজের সেই প্রাঙ্গণ,
৯৩ ব্যাচের হাসি, উচ্ছ্বাস, স্বপ্নমাখা দিন।
দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়ানো
আমাদের ছোট ছোট সংগ্রাম।
তুই, আমি, মনির, জালাল, সুমন, সাত্তার, নাসির, সোহেল—
কত প্রাণের জোয়ার ছিল সেই দিনগুলোর বুকে!

আজ সব আছে—
শুধু তুই নেই।
তোর শূন্যতা যেন এক নিঃশব্দ ঝড়,
আমার ভেতরটা ভেঙে চুরমার করে দেয়।

হে প্রিয় বন্ধু জাহাঙ্গীর আলম সৈকত,
অনন্তের পথে তোর যাত্রা হোক শান্তিময়।
রহমতের ছায়ায় ঢেকে রাখুন মহান রব,
জান্নাতের সুউচ্চ মাকাম দান করুন তোকে—আমীন।

ওপারে ভাল থাকিস হে বন্ধু,
এপারে আমরা স্মৃতির প্রদীপ জ্বেলে রাখব—
যতদিন বুকের ভেতর
বন্ধুত্ব নামের এই অমলিন আলো জ্বলে।
----------------------------------------------------


২৫-০২-২০২৬

বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

আমার শ্রদ্ধেয় দাদা

 আমার শ্রদ্ধেয় দাদা

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**********************************

ওহে লাল মৌলভী! হে বড় হুজুর!
রাওনাটের সোনালী মুকুট, হে ঈমানের দীপ্তি!
পদচারণে মক্তব জ্বলে, শিশুর চোখে আলো,
শিক্ষার ভাষা, ন্যায়ের পথে—তুমি পথপ্রদর্শক।

পরহেজগার, ন্যায়পরায়ণ, দানবীর হৃদয় বিশাল,
প্রত্যেক মানুষের জন্য খোলা ছিল তোমার দরজা।
হাজার মুখে বাজে আজও তোমার নামের সুর,
‘আলহ্বাজ মৌলভী আহাদ আলী’—চিরন্তন আলো।

রাগী তুমি, শাসনে ইস্পাত কঠিন,
অন্যায়ের সাথে কখনো নয় সহমর্মিতা।
হুজুর, হেকিম, আলেম, পন্ডিত—সবের মিলন,
মানবতার চিত্র তুমি গড়ে, অনন্য নিদর্শন।

সোনালি স্মৃতির জ্যোতি তোমার পদচিহ্নে,
শিশু থেকে বৃদ্ধ, সবাই পায় প্রেরণার দিশা।
ভালবাসা, শিক্ষা, ন্যায়—সবই তোমার হাতে,
মানুষের মাঝে জ্বলে সত্যের দীপ্ত বাতি।

আলোর ছোঁয়া, স্নেহের মধুর সুর,
মক্তবের ঘরে বাজে আজও তোমার মধুর গুণ।
দাদার এই স্মৃতি চিরন্তন, অম্লান, জ্বলন্ত,
হে মহান আল্লাহ, জান্নাতুল ফেরদৌসে নসীফ করো।

আমাদের ভালোবাসায় চির অমর হোক তিনি,
আমিন, আমিন, আমিন!
---------------------------------------------


১৮-০২-২০২৬

কবি তবু অপলক চেয়ে

 কবি তবু অপলক চেয়ে

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
************************************

পড়ন্ত বিকেলের নরম অন্ধকারে
ঝিলের ধারে এক কবি অপলক চেয়ে থাকে—
শূন্যতার দিকে, যেন শূন্যতারই গভীরে
কারো পায়ের শব্দ হারিয়ে গেছে বহু আগে।

উত্তরের টিলায় হয়তো আজও
গোধূলীর আভা লেগে আছে ধানের শিষে;
সেই আভার ভিতর দিয়ে
কেউ আসার কথা ছিল—
হাতে একটি লাল গোলাপ,
বাতাসে দুলতে থাকা নীরব প্রতিশ্রুতি।

অদূরের যে বাড়িটি সন্ধ্যার কুয়াশায়
আধা দেখা যায়, আধা অদৃশ্য—
হয়তো তার জানালার পাশে দাঁড়িয়ে আছে সে,
হয়তো ফুল বাগানে একা পাপড়ি ছুঁয়ে,
হয়তো খেলার মাঠের চারিপাশে
ঘুরে ঘুরে খুঁজছে অনামা কোনো সুর।

কবি তবু অপলক চেয়ে থাকে।
চেয়ে থাকে—
যেন চোখের ভেতর গোধূলী জমে ওঠে নদীর মতো।
কোথাও সে নেই—
তবু সে আছে প্রত্যাশার মতো
ধানের শীষের নরম দোলায়।

সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসে।
পাখিরা নীরবে ফিরে যায় বাড়ি—
ডানায় লেগে থাকে ক্লান্ত সোনালী আলো।
ধানক্ষেত আরও সোনালী হয়ে ওঠে,
যেন দিনের শেষ রক্তিম স্বপ্ন
মাটির বুকে ঢেলে দিয়েছে কেউ।
ঝিলের জল শান্ত, নিবিড়—
অতল আয়নার মতো নিঃশব্দ।
সারি সারি গাছ দাঁড়িয়ে থাকে
কবির নিঃসঙ্গতার প্রহরী হয়ে।

তবু কবি অপলক চেয়ে—
যদি সে আসে!
যদি গোধূলীর ক্ষণিক আলোয়
একবার চোখে চোখ রাখে—
যদি বলে, “আমি তোমাকে ভালোবাসি”—
এই নাও প্রেমের গোলাপ,
এই নাও প্রতীক্ষার লাল আগুন।

কিন্তু সন্ধ্যা আরও গভীর হয়,
নীল থেকে কালো—
তবু সে এল না।
তবু সে বলল না।

তবু কবি ভালোবাসে—
শূন্যতার দিকে চেয়ে,
ভালোবাসে ধানের সোনালী নিঃশ্বাস,
ঝিলের নিস্তব্ধ জলে ভাসা আকাশ,
গোধূলীর ম্লান আলোয় হারিয়ে যাওয়া
এক অনামা পদচিহ্ন।

সে না এলেও—
অপেক্ষাই যেন তার প্রেম;
শূন্যতার দিকে অপলক চেয়ে থাকাই
তার একমাত্র উচ্চারণ।

এভাবেই কবি দাঁড়িয়ে থাকে—
গোধূলীর পর গোধূলী,
শূন্যতার ভেতর এক গোলাপের স্বপ্ন নিয়ে।
-------------------------------------------


১৮-০২-২০২৬

পিতার আলো

 পিতার আলো

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*********************************

ওহে শোনো—
পিতার আলো যদি পড়ে সন্তানের অন্তরে,
সে সন্তান জ্বলে ওঠে প্রদীপ হয়ে বিশ্বভুবনের ঘরে।
তার চোখে জাগে প্রভাত, কপালে দীপ্তি খেলে,
তার প্রাণে সাহসের গান বাজে অটল অবহেলে।

পিতা যেন আকাশ-সূর্য, সন্তানের জীবনধারা,
তাঁর স্নেহধারা ঝরে পড়ে শিশিরের মতো সারা।
তাঁর কঠোর বাণীও মধুর, শাসন যেন আশীর্বাদ,
তাঁর পথনির্দেশে গড়ে ওঠে জীবনের সাধ।

তিনি শেখান সত্যের পথে দৃপ্ত পায়ে চলা,
অন্যায়ের সাথে রুখে দাঁড়াও— এই তাঁর বলিষ্ঠ বলা।
তিনি দেন পরিশ্রমের মান, সততার অগ্নিশিখা,
তাঁর আদর্শে গড়ে ওঠে দৃঢ় চরিত্র-দীক্ষা।

পিতার কপালের ঘাম সন্তানের গৌরব,
তাঁর ত্যাগে রচিত হয় সন্তানের ভবিষ্যৎ রৌদ্র।
তাঁর নীরব প্রার্থনায় জাগে কল্যাণের ঢেউ,
তাঁর আশীর্বাদে ঝরে পড়ে অশুভ আঁধার ঢেউ।

যার ঘরে পিতার আলো, সে ঘর দীপ্তিমান,
তার জীবন হয় সুপথের দৃঢ় অঙ্গীকারবান।
পিতার স্নেহের ছায়া যতদিন থাকে পাশে,
সন্তান ততদিন অটল থাকে দুর্দিনেরই আশে।

ওহে মানব, রেখো মনে এই চিরন্তন বাণী—
পিতার মর্যাদা রক্ষা করো, এ ইসলামেরই ধ্বনি।
পিতার আলোয় আলোকিত হোক সন্তান-সমাজ,
পিতার মহিমায় উজ্জ্বল হোক বিশ্ব আজ।
--------------------------------------


১৮-০২-২০২৬

তারুণ্যের প্রতি আহবান

 তারুণ্যের প্রতি আহবান

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*************************************

ওহে শুনো হে তরুণ শক্তি!
তুমি সভ্যতার কুসুম ফুটাবে,
তুমি বাতাসে আলোর ঢেউ ছড়াবে।
যেও না কখনো কালো অন্ধকারের তীরে,
যেও না অনিষ্টের ছায়ায়,
নিশ্বাসে দিও না বিষ, হৃদয়ে রাখো জ্যোতি।

পিতা-মাতার কষ্ট বোঝো,
পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্রের দায় জানো।
নিজ জীবনের মূল্যবোধ অটল রাখো,
নিজেকে বিক্রি করো না দামী লোভের সপক্ষে।

মোবাইল, মোটরসাইকেল, মাদক—না!
পিতার ঘ্রাণে ভরা প্রেমকে এড়িয়ে যেও না।
লেখাপড়া করো, হয়ে ওঠো আদর্শ মানুষ,
বাজে আড্ডা, বাজে বন্ধু—দূরে থাকো বহু দূরে।

বড়কে শ্রদ্ধা দাও, ছোটকে স্নেহ দাও,
মানবিক শিখা চির অমল রাখো।
দেশপ্রেমিক, বিপ্লবী হও,
চামচা নয়, নিজের পায়ে দাঁড়াও।

হিংসা-বিদ্বেষ তাড়াও,
মানবিক বন্ধুত্বের হাত বাড়াও।
সমাজসেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখো,
মা-বোনের ইজ্জত রক্ষা করো,
মুক্তির সুরে বাঙালির হৃদয়ে বেজে উঠ।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়
জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করো,
স্বাধীনতা রক্ষা করো, লাল-সবুজের ফুল হয়ে।
ধর্মান্ধ হইও না, উগ্রবাদী হইও না,
ভয়কে জয় করো, সাহসকে আলিঙ্গন করো।

তুমি জাতির প্রাণ, তুমি পিতা-মাতার স্বপ্ন,
তুমি স্বাধীন বাংলার গর্ব,
তুমি ভবিষ্যতের উজ্জ্বল সূর্য।

শুনো হে তরুণ!
তুমি সভ্যতার কুসুম ফুটাবে,
তুমি পৃথিবীকে আলোর নদীতে ভাসাবে—
শুধুই তোমার হাতে, শুধুই তোমার প্রাণে!

চল হে তরুণ, লাল-সবুজের পথে,
চল হে তরুণ, স্বাধীনতার সুরে!—
--------------------------------------------------


১৮-০২-২০২৬

তুমি বলো হে যুবক

 তুমি বলো হে যুবক

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
--------------------------------------------

তুমি বলো হে যুবক—
দিগন্ত-দোলানো দুর্বার দামাল!
বজ্রকণ্ঠে খুলে দাও রুদ্ধ দ্বার,
তোমার পানে চেয়ে আছে বিশ্ব-জগৎ,
চেয়ে আছে রক্তে-রাঙা প্রিয় মাতৃভূমি—
অগ্নিশিখা-চূড়ায় জ্বালা যার ইতিহাস,
যার নাম— বাংলাদেশ!

বলো—
তুমি মানব, মানবতার মহাসেনা!
হারতে আসনি তুমি ধরাধামে,
এসেছো রণতূর্য বাজাতে,
অন্যায়ের প্রাচীর ভাঙাতে,
বঞ্চিত-লাঞ্ছিত-নিপীড়িত জনতার
অশ্রুতে লিখতে নতুন প্রভাত!

তুমি বিপ্লবী— বিদ্রোহী শপথে দীপ্ত!
তুমি প্রতিবাদী— অন্যায়-অন্ধকারে অগ্নিশিখা!
ন্যায়ের ধারক, সত্যের বাহক,
তুমি নও ব্যর্থ প্রেমিক—
তুমি প্রেমের পূর্ণ মঞ্জিল,
রাত্রির পূর্ণিমা-চাঁদ,
তুমি মাতৃভূমির কপালে স্বাধীনতার সিঁদুর!

তুমি এসেছো
মুক্তিযুদ্ধের রক্ত-ঋণ সমুন্নত রাখতে,
শহীদের স্বপ্নকে শপথে বাঁচাতে;
বলো— তোমার হাতেই নিরাপদ দেশ,
তোমার মুঠিতেই আগামী দিনের সূর্য!

বলো—
কোন যুবক-যুবতী আর
মাদকের বিষে ডুবে মরবে না;
বলো— এই জাতি হবে সভ্যতার ফুল,
শিক্ষা-শ্রম-সততায় গড়া সোনার সমাহার!

বলো—
তুমি নও দুর্নীতির দালাল,
নও ফ্যাসিবাদের অন্ধ প্রহরী,
নও মবের উন্মত্ত হুঙ্কার,
নও ভয়-ব্যবসায়ী, নও দেশদ্রোহী,
নও স্বাধীনতার শত্রু ছদ্মবেশী!

বলো—
তুমি নও ধর্মান্ধতার অন্ধকার,
নও উগ্রতার বিষদাঁত,
নও ধর্ম-ব্যবসার পাপ-বাজার,
নও জঙ্গিবাদের কালো নিশান!

তুমি সাম্যের, তুমি ঐক্যের,
তুমি নির্ভীক আশ্রয় শত দুঃখীর;
তুমি দেশপ্রেমিক— অতুল অগ্নি,
তুমি আগামী দিনের বজ্র-উচ্চারণ!

তাই বলো হে যুবক—
বুকের ভেতর বজ্র বাজাও,
রক্তে জাগাও রণ-তরঙ্গ;
মানুষ হবার মহাশপথে
নিজেকে জ্বালাও প্রদীপ-প্রতিজ্ঞায়—

যেন যুগে যুগে ধ্বনিত হয়—
“এসেছিল এক যুবক—
মানুষের তরে, মানবতার তরে,
স্বাধীনতার দীপ্ত পতাকা উড়িয়ে!”
------------------------------------------------


১৮-০২-২০২৬

এসেছে রমজান

 এসেছে রমজান

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*************************************
জাগো ইয়া মুমিন! এসেছে রমজান—
শাহ্‌রে রহমত, নূর-এ-সুবহান!
আসমানে বাজে তকবীরের সুর,
লাব্বাইক ধ্বনি তোলে আরশ-মঞ্জুর।

ওঠো শবের শেষ সেহরীর ওয়াক্তে,
নাজিল হয় বরকত রহমতের রাহমাতে।
তাসবিহ্‌-তাহলিল জপো ইশ্‌কের তানে,
“ইয়া রব! ইয়া রব!” কাঁদো গোপন প্রাণে।

ফরজ সাওম—হুকুমে রহমান,
সবরের মাদরাসা, তাকওয়ার ইমান।
নফসের জিহাদ, শয়তানের শিকল,
রুহের সফর মাকামে-কামিল।

ক্ষুধা নয় শুধু, এ ইবাদত-এ-খাস,
হিকমতে ভরা রবের নিদর্শন বিশেষ।
চোখে হায়া, জিহ্বায় জিকর,
কুলুবেতে জাগে নূর-এ-ফিকর।

শাহ্‌রে মাগফিরাত—ঝরে আফও-ও-করাম,
গুনাহগার পায় ক্ষমার ইনআম।
দরিয়ায়ে রহমত ঢেউ তোলে আজ,
তওবার নাও ভাসাও নির্ভয় সাজ।

এ মাসে নাজিল কিতাবুল-হুদা,
আল-কুরআন—নূর-এ-খোদা।
লাইলাতুল কদর—শব-এ-নূর,
হাজার মাস হতে আফজাল সুর।

যাকাত-সদকা, খাইরাত দাও,
ফকির-মিসকিনে ইহসান ছড়াও।
উম্মাহর বুকে উখুয়াতের গান,
ভাঙে তাফরিকা, জাগে ইত্তেহাদ।

ইফতারের দোয়া—কবুলের ক্ষণ,
আরশ হতে নামে রহমতের বন।
“যাহাবাজ-জামা”—তৃষ্ণার অবসান,
শুকরিয়া আদায় করো রহমান।

রমজান! রমজান! শাহ্‌রে-সিয়াম—
তোমার বরকতে জাগে ইসলাম।
দিলের মসজিদে আজান ওঠে,
ইশ্‌কের আগুন জ্বলে অন্তর-রথে।

হে আল্লাহ! দাও নাজাতের দিশা,
হাশরের ময়দানে করো না নিরাশা।
কবুল করো এ সাওম-ও-সালাত,
দাও জান্নাতে নূরের হায়াত।

জাগো ইয়া মুমিন! এসেছে রমজান—
শাহ্‌রে রহমত, নূর-এ-সুবহান!
সংযমে গড়ি দিলের ইমান,
ইয়া রহমান! ইয়া রহমান!
-----------------------------------------------


১৮-০২-২০২৬

মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

অভিনন্দন হে প্রধানমন্ত্রী

 অভিনন্দন হে প্রধানমন্ত্রী

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
******************************************
হে নব তুর্কি , হে নব কান্ডারী!
অভিনন্দন হে প্রধানমন্ত্রী, উঁচু করো পতাকা!
উঁচু করো, উঁচু করো, উঁচু করো পতাকা!
বীরের দর্পে চলো,
বীরের দর্পে চলো, চলো, চলো!
স্বাধীন বাংলায় লাল সবুজের রঙ ছড়াও,
ছড়াও, ছড়াও, ছড়াও রঙ!

মুসলিমের, হিন্দুর, বৌদ্ধের, খ্রীষ্টানের সেবক হও,
সকলের জন্য দাও আশা, সকলের জন্য দাও শান্তি।
শোষিতের কণ্ঠস্বর ধরো,
ধরো, ধরো, ধরো কণ্ঠস্বর!
বঞ্চিতের আশা হয়ে ওঠো,
অভিনন্দন হে প্রধানমন্ত্রী, হে প্রধাণমন্ত্রী, হে প্রধাণমন্ত্রী!

জুলুম ভেঙে দাও,
ভেঙে দাও, ভেঙে দাও অন্যায়!
দুর্নীতি চূর্ণ করো,
চূর্ণ করো, চূর্ণ করো, চূর্ণ করো!
সত্যের পথে এগিয়ে চলো,
চলো, চলো, চলো সত্যের পথে!
ন্যায়ের দীপ জ্বালাও,
জ্বালাও, জ্বালাও, জ্বালাও দীপ!

বাক স্বাধীনতা ফিরাও,
ফিরাও, ফিরাও, ফিরাও স্বাধীনতা!
অধিকার দাও,
দাও, দাও, দাও অধিকার!
বৈষম্য দূর করো,
দূর করো, দূর করো, দূর করো বৈষম্য!
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধরে,
ধরে রাখো, ধরে রাখো, ধরে রাখো চেতনা!

অভিনন্দন হে প্রধানমন্ত্রী, স্বদেশকে গড়ো,
গড়ো, গড়ো, গড়ো হে প্রধাণ!
জনতার ডাক শোনো,
শোনো, শোনো, শোনো জনতার ডাক!
জনতার আশা ধারণ করো,
ধারণ করো, ধারণ করো, ধারণ করো আশা!

কোন দলের নও,
কোন দলের নও, কোন দলের নও!
কোন গোষ্ঠির নও!
নিরপেক্ষ হে প্রধাণমন্ত্রী,
সকলের নেতা হয়ে ওঠো,
ওঁ, ওঠো, ওঠো, ওঠো নেতা হয়ে!

বলতো, পারবে কি?
পারবে তো!
সংবিধানের শপথ ভঙ্গ করো না,
না, না, না ভঙ্গ করো না!
স্বপ্নের প্রহরী হোক তুমি,
হোক, হোক, হোক প্রহরী!
মুক্তির চেতনা জাগাও,
জাগাও, জাগাও, জাগাও চেতনা!
বিপ্লবী শৈলীতে জয় ঘোষণা করো,
অভিনন্দন হে প্রধানমন্ত্রী, ঘোষণা করো জয়!
-----------------------------------------------


১৭-০২-২০২৬

সাম্যের কাপাসিয়া চাই

 সাম্যের কাপাসিয়া চাই

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*****************************************

শুনো হে জনপ্রতিনিধি, শুনো জনতার আরজি,
দল-মতের প্রশ্ন নয়—মানুষ হোক তোমার তর্জী।
মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সকল প্রাণ,
জেলে, কুমার, তাঁতী, শিক্ষিত-অশিক্ষিত সমান।

তুমি হবে লাল-সবুজের অদম্য এক প্রহরী,
মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দীপ্ত, নির্ভীক, গৌরবভরি।
“আমার সোনার বাংলা”র শপথ বুকে ধারণ,
সত্য-ন্যায়ের দীপ জ্বেলে করবে অন্ধকার ক্ষরণ।

কারো হবে না লাঞ্ছনা, বঞ্চনা, নিপীড়ন,
ক্ষমতার মোহে যেন না জাগে স্বৈরাচারী মন।
ফ্যাসিবাদের ছায়া যেন না পড়ে তোমার পথে,
চাঁদাবাজি, গুম আর খুন—না থাকে রাষ্ট্ররথে।

ধর্ম-বর্ণ ভেদ ভুলে হবে সকলের আপনি,
আবাল-বৃদ্ধ-বনিতার আশ্রয় হবে আপনি।
কে দিল ভোট, কে দিল না—নাহি করবে বিচার,
জনতার রায়ে সবার তুমি সমঅধিকার।

গড়ো তবে মানবিক এক ন্যায়ভিত্তিক বাসিয়া,
স্বপ্নময় সাম্যের পথে জাগুক কাপাসিয়া।
মনে রেখো গৌরবগাথা কৃতী সন্তানের নাম—
তাজউদ্দীন আহমদ মহীয়ান, অম্লান তাঁর অবিরাম।

আর স্মরণে রাখো বীর সেনানায়কের আহ্বান,
আ. স. ম. হান্নান শাহর দৃপ্ত পদচিহ্নে জাগুক নতুন গান।

ঐতিহ্যের সোপানে দাঁড়িয়ে শপথ নাও আজ,
সাম্যের পতাকা তুলে ভাঙো বিভেদের লাজ।
শুনো হে জনপ্রতিনিধি, এ জনতার বাণী—
ন্যায় আর মানবতায় হোক কাপাসিয়া মহানী।
----------------------------------------


১৭-০২-২০২৬

হৃদয়কে প্রশ্ন করো দেখ

 হৃদয়কে প্রশ্ন করো দেখ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
***************************************

হে পুষ্প, একবার গভীর নিশীথে হৃদয়কে প্রশ্ন করো—
নিরপেক্ষ উত্তর পেয়ে যাবে;
যেমন নক্ষত্রেরা পক্ষপাতহীন আলো ফেলে
নিস্তব্ধ পৃথিবীর ওপর।

তোমার বাহ্যিক পাপড়ির যে সুবাস—
সে এক ছলনা, ক্ষণিকের রঙিন প্রলোভন;
ভোরের শিশির শুকালে যার অস্তিত্ব থাকে না।
কিন্তু তোমার অন্তরের যে মধুতা, যে তরঙ্গ—
সে-ই চিরসত্য;
অদৃশ্য নদীর মতো বয়ে চলে রক্তের ভেতর,
অবিরাম, অব্যক্ত, অথচ অবিস্মরণীয়।

হৃদয়ের তরঙ্গ প্রবল উচ্ছ্বাসে বলছে—
সে কেবলই আমাকে ভালোবাসে, গভীর ভালোবাসে;
এই উচ্চারণ তুমি অস্বীকার করলেও
তোমার বুকের স্পন্দন তাকে মিথ্যে বলতে পারে না।

তুমি রূপের অহংকারে, অর্থের অহংকারে
পবিত্র ভালোবাসাকে আবৃত করে রেখেছো
মিথ্যে চাঁদের চাদরে;
তবু কি চাঁদের আলো আড়াল থাকে?
মেঘ সরলেই যেমন পূর্ণিমা জেগে ওঠে,
তেমনি লুকানো প্রেমও একদিন উন্মোচিত হয়।

আজ এত বছর পরেও—
ভুলতে পারোনি এই পৃথিবীর আকাশ, বাতাস, সাগর, নদী;
ভুলতে পারোনি সেই প্রথম বিস্ময়,
যাকে দেখেছিলে তোমারই আঙিনায়—
অবহেলিত সাগর, নদী, পাহাড়, পর্বতের মতো স্থির,
তবু গভীর, তবু অন্তহীন।

তুমি অস্বীকার করলেই
তোমার ভালোবাসাকে অস্বীকার করতে পারবে না।
হে প্রেমের তরী,
সাগর থেকে দূরে তুমি কতটুকু ভালো আছো?
বলতে পারো?
না—তুমি ভালো নেই, ভালো থাকতে পারো না কোনোদিন;
কারণ তুমি যে আমাকেই ভালোবেসেছিলে,
সত্যিই ভালোবেসেছিলে—
পরম মমতায়, নীরব প্রতিজ্ঞায়।

তবে কেন আজ মিথ্যে মিথ্যে
তোমার লালিত প্রেম অস্বীকার করো?
এতে শুধু কষ্টই পাবে—
শুধু কষ্টই পাবে;
রাত্রির নির্জনতায় জমে উঠবে নোনাজল,
অশ্রু ঝরবে অকারণে,
বুকের ভেতর ঢেউ উঠবে অথচ তীর পাবে না।

হৃদয় উজাড় করে ফেলো—
স্বীকার করো, তুমিও ভালোবেসেছিলে
সেই অবহেলিত সাগর, নদী, পাহাড়, পর্বতকে—
যাকে প্রথম দেখেছিলে তোমারই আঙিনায়;
যার চোখে একদিন তুমি নিজের প্রতিচ্ছবি দেখেছিলে।

হৃদয়কে প্রশ্ন করে দেখো—
সে বলবে, তুমিও ভালোবেসেছিলে আমাকে।
কোনো প্রমাণের দরকার নেই;
কোনো সাক্ষীর প্রয়োজন নেই।
তোমার হৃদয়ই আমার ভালোবাসার দলিল—
যেমন অশ্রু নিজেই তার লবণাক্ত সত্যের প্রমাণ।

আজ যদি নীরবে দাঁড়াও
আকাশ-বাতাস-সাগর-নদীর মুখোমুখি,
দেখবে—
অস্বীকারের সমস্ত দেয়াল ভেঙে
একটি স্বীকারোক্তি ধীরে ধীরে জেগে উঠছে—

তুমি ভালোবেসেছিলে।
এবং এখনো—
সেই ভালোবাসার বিরহেই
নিঃশব্দে অশ্রু ঝরে।
---------------------------------------------


১৭-০২-২০২৬

সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

মনে তো প্রশ্ন জাগে?

 মনে তো প্রশ্ন জাগে?

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************
সত্যি বলি, মনে আমার জাগে গভীর প্রশ্ন আজ,
পুছকে যে ছেলেটি ছিল, কেমনে নেতা সাজ?
যার হাতে ছিল না বই, ছিল না জ্ঞানের দীপ,
সে কেমনে সমাজজুড়ে তোলে প্রভাব-সীপ?

গণ্ডমূর্খ অর্ধশিক্ষিত, নেশায় বিভোর প্রাণ,
উগ্র ভাষা, অভদ্র আচরণ—তবু তার সম্মান!
অসামাজিক চাঁদাবাজি, ধান্দার অন্ধ পথ,
তবু কেন তারই হাতে নেতৃত্বের রথ?

জ্ঞানী গুণী শিক্ষিতেরা নীরব কেন আজ?
সন্মানের ভয়ে কাঁপে, লুকায় অন্তরলাজ।
যারা ছিল আলোর মশাল, সত্যের দৃপ্ত মুখ,
ভয়ের কাছে হার মেনে কেন তারা সুখ?

হে রাষ্ট্র, হে সমাজপতি, দাও না উত্তর স্পষ্ট—
যোগ্যতার মূল্য কই? কেন এ অদৃষ্ট?
দেশ কি তবে ধ্বংসপথে, নৈতিকতা ক্ষয়?
অযোগ্যতার উল্লাসে কি ভবিষ্যৎ রয়?

আমি যে কথা বলতে চাই—শুনুক সমগ্র দেশ,
যোগ্যহীন নেতৃত্বে শুধু অন্ধকারের রেশ।
যেখানে গুণের কদর নেই, নেই নীতির মান,
সেখানে পতনের ঢেউ করে অবিরাম গান।

বিপ্লব চাই অন্তরে আজ, জাগুক বিবেকশক্তি,
সত্যের পথে দাঁড়াক সবাই, হোক নৈতিক ভক্তি।
যোগ্য জনে দাও নেতৃত্ব, দাও সমাজের হাল,
নইলে ধ্বংস ডেকে নেবে প্রতিটি সকাল।

মনে তাই প্রশ্ন জাগে, উত্তর চায় প্রাণ—
অযোগ্যকে নেতা মানি কিসের অবমান?
রাষ্ট্র যদি চুপ থাকে আর সমাজ থাকে নীর,
তবে ইতিহাস লিখবে শুধু লজ্জার অশ্রু-নীর।


১৬-০২-২০২৬
রকমারি থেকে বই

যা ভেবেছি, যা দেখেছি

 যা ভেবেছি, যা দেখেছি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************************

যা ভেবেছি হৃদয়ে আমি, যা দেখেছি দৃশ্যপটে,
দুই ধারাতে ভাঙন যেন সময়েরই অশ্রু-ঘটে।
স্বপ্ন ছিল রৌদ্রছায়ায় মুক্তির দীপ জ্বালাবো,
এখন দেখি আঁধার নেমে শৃঙ্খলে সব জড়াবো।

রক্তে রাঙা সবুজ মাঠে এঁকেছি যে মানচিত্র,
সেই রেখাতে শকুন নেমে করে বিষের অক্ষরচিত।
মীরজাফরের বংশধরেরা ইতিহাসে ছুরি চালায়,
সত্য যদি মুখে ওঠে কণ্ঠরোধে ভয় জড়ায়।

ভেবেছিলাম গণতন্ত্রে কণ্ঠ হবে মুক্তগান,
এখন দেখি স্বৈর শাসন আঁকে লৌহ-প্রাচীরদান।
ভেবেছিলাম অধিকার সব ন্যায়ের বুকে ফুটবে,
এখন দেখি জুলুম-অত্যাচার রক্তধারা ছুটবে।

ভেবেছিলাম বিপ্লবী সুর জাগবে জাগ্রত প্রাণে,
এখন দেখি ফ্যাসিবাদের ঢাক বাজে অবিরামে।
মুক্ত সমাজ স্বপ্ন ছিল ন্যায়ের দীপশিখা,
এখন দেখি মবের দাপে সত্য থাকে নিঃশ্বাসহীনা।

দখলবাজির দম্ভে ভাঙে মানুষেরই সংলাপ,
ভয়তন্ত্রের কাঁটাতারে জড়ায় বিবেকের প্রতাপ।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনারে টুটি ধরে চাপে হাত,
দেশবিরোধী উল্লাসে আজ বিষাক্ত করে রাত।

দুর্নীতিরা মহড়া দেয় নগর-গ্রাম অলি-গলি,
সততারই লাল দালানে তালা ঝোলে নিরবধি।
দেশপ্রেমিক নির্বাসনে, মুখে তার নির্বাক ক্ষত,
স্বার্থঘোড়া ছুটে চলে লাগামহীন, উন্মত্ত।

যা ভেবেছি তা ছিল আলো, মুক্ত আকাশ বিস্তার,
যা দেখেছি তা কেবলই আঁধার ঘেরা অগ্নিঝড়।
তবু কবি কলম ধরে, রুদ্ধ হলেও রবে,
সত্যের বীজ রোপণ করে রক্তমাটির গভীরে।

কারণ জানি ইতিহাসে শকুন টেকে না চিরকাল,
রৌদ্র ফুঁড়ে জাগবেই আবার সবুজ প্রভাতের জ্বলাল।
যা ভেবেছি, যা দেখেছি মিলবে কোনো এক ক্ষণে—
মানুষ জাগলে মুক্তির গান উঠবেই পুনর্জনে।
--------------------------------------------------


১৬-০২-২০২৬

ইনসাফের প্রতীক হতে এসেছি

 ইনসাফের প্রতীক হতে এসেছি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
******************************************

আমি এসেছি—
কলমের আগুন হাতে, বিবেকের দীপ জ্বেলে,
শোষিতের শপথ নিয়ে বুকের অন্তরস্থলে।
আমি এসেছি জনতার জাগরণ-ধ্বনি হয়ে,
অন্যায়ের প্রাচীর ভাঙা বজ্রকণ্ঠ বয়ে।

কবি হয়ে শুনেছি আমি নীরব কান্নার সুর,
লাঞ্ছিতের রক্তিম বেদনা, দীর্ঘশ্বাস ভরপুর।
নেতা হয়ে দাঁড়িয়েছি পথের মোড়ে মোড়ে,
শপথ নিয়েছি সত্য রাখিব প্রাণের ঘোরে।

ভোটের প্রার্থনায় নয় ছিল কপট ভাষণ,
ছিল কেবল মুক্ত আকাশে সমতার আহ্বান।
জনমঞ্চে উঠি যখন জনতার হাত ধরে,
বিজয়ের মালা ঝরে পড়ে কৃষকের ঘামে ভরে।

এই দেশ রক্তে লেখা—
শহীদের দীপ্ত শপথ অগ্নিস্নাত প্রভাত,
স্বাধীনতার লাল সূর্য জ্বলে অনির্বাণ রাত।
আমি তার প্রহরী আজ ন্যায়ের নির্ভীক ঢাল,
ইনসাফের তরবারি হাতে অন্যায়ের কাল।

পুরোনো অগণতান্ত্রিক শৃঙ্খল করিব চূর্ণ,
স্বচ্ছতার স্রোতে ধুইব রাজনীতির মলিন বর্ণ।
ক্ষমতার আসনে নয় আমার অহংকার,
জনতার অশ্রুজলে ধোয়া আমার অঙ্গিকার।

আমি সংসদের প্রতিনিধি, তবু আগে সন্তান,
এই মাটির ঘ্রাণে গড়া আমার পরিচয় জ্ঞান।
আইনের শাসন হোক সমতার সমান দীপ,
দুর্নীতির আঁধার ভেদি উঠুক নৈতিক সিপ।

ক্ষুধার্তের থালায় অন্ন, শিক্ষায় আলোকরেখা,
শ্রমিকের ঘামে ফুটুক সম্মানের স্বর্ণলেখা।
নারীর চোখে নিরাপদ ভোরের নির্মল গান,
যুবকের স্বপ্নে জাগুক উন্নয়নের মহান।

দেশপ্রেম আমার রক্তে, নয় কেবল বুলি,
বিবেকের মসজিদে করি শুদ্ধতারই কুলি।
আমি প্রমাণ চাই না কালের কাছে আর,
জনতার হৃদয়ই হোক আমার রায়দ্বার।

আমি কবি—তাই লিখি আগুনের উচ্চারণ,
আমি নেতা—তাই গড়ি ন্যায়ের নতুন ভুবন।
আমি জনতার এমপি—এ আমার শপথবাণী,
ইনসাফের প্রতীক হয়ে থাকিব চিরকাল প্রাণী।

আরো দীপ্ত, আরো তেজস্বী, আরো স্বচ্ছ রবে—
আমার পথ চলা হবে জনগণেরই সবে।
------------------------------------------


১৬-০২-২০২৬

কবির ভাবনা

 কবির ভাবনা

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর
***************************************

নৈঃশব্দ নীলিমা-মাখা শ্যামল প্রান্তরে বসে,
কবি চেয়ে থাকে দূরে গোধূলি আলোর রসে।
রূপসী এ বাংলার রূপ কত অপরূপ—
শিউলি-ঝরা ভোরে যেন স্বপ্নেরই প্রতিরূপ।

সবুজ ধানের ক্ষেতে দোলে সোনালি বাতাস,
নদীর বুকে জাগে নীরব চাঁদের সুবাস।
কিন্তু মানুষের মন কি ততটাই শুভ্র?
পূর্ণিমার চাঁদের মতো নির্মল, নির্ভ্রান্ত, সুব্র?

নাকি অন্তরালে আঁকা গোপন কোনো দাগ,
মুনাফিকের ছায়া রেখে গেছে কালো ফাঁদ?
হৃদয়ের গভীরে কি স্বার্থের শীতল বাসা,
ভালোবাসার আড়ালে লুকায় প্রতারণা-ভাষা?

দেশটার দিকে চেয়ে কবি ভাবে চুপে,
অদ্ভুত এ সময় কেন আঁধারে ডুবে?
দেশপ্রেমের শূন্যতা কেন বুকে বাজে,
দেশবিরোধীর বিষ কেন চারিধারে সাজে?

সম্মানের সম্মানহানি দেখে লজ্জা জাগে,
মানবতার কণ্ঠরোধ শৃঙ্খলেরই ফাঁকে।
ফ্যাসিবাদী হুঙ্কার, স্বৈরাচারের ছায়া,
স্বাধীনতার আকাশ ঢাকে কালো মেঘমালা।

বেকার তরুণ চোখে অনিশ্চিতের ভয়,
বৈষম্যের প্রাচীরে বন্দি স্বপ্নময় ক্ষয়।
শ্রমিকের ঘামে লেখা অন্নহীন গান,
কৃষকের করুণ সুরে ঝরে অবমান।

জেল-জুলুম-হুলিয়ার ভয়ে স্তব্ধ পথ,
ধর্মীয় উগ্রতায় জ্বলে বিভেদের রথ।
স্বেচ্ছাচারী ক্ষমতা হাসে নিষ্ঠুর মুখে,
ন্যায়ের দীপ নিভে যায় অবহেলার দুঃখে।

যত রূপ বৈষম্যের ছায়া দেশে রয়,
অন্নে, বর্ণে, ধর্মে—বিভক্ত মানবময়।
কবি দেখে সবই, তবু নীরব নয় প্রাণ,
অন্তরে জাগে তার বিদ্রোহী আহ্বান।

এই নৈরাজ্য ভেঙে চাই সমতার ভোর,
স্বাধীনতার সূর্য উঠুক নবকিরণ ঘোর।
লাল-সবুজ পতাকায় জাগুক সত্যের মান,
শহীদের রক্তে লেখা হোক নব সম্মান।

কবি তাই স্বপ্ন দেখে মুক্ত আকাশ তলে,
মানুষ মানুষ হবে ভালোবাসার ছলে।
অন্যায়-অন্ধকার যাবে দূরে ক্ষয়ে—
বাংলার প্রাণ জাগুক সাম্যের অভিযয়ে।

রূপসী এ বাংলার রূপ তখন পূর্ণ হবে,
মানবতার দীপশিখা হৃদয়ে জ্বলে রবে।
কবির ভারাক্রান্ত মন পাবে শান্তি ধীর—
স্বাধীন, সমান দেশে জাগুক নব নীর।
--------------------------------------------------------


১৬-০২-২০২৬

সবার আগে বাংলাদেশ

 সবার আগে বাংলাদেশ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**************************************

ওহে শুনো—
এই যে মানচিত্র, এ শুধু মাটি নয়, এ রক্তের দলিল,
লক্ষ শহীদের শপথে লেখা অগ্নি-অক্ষর শশীল।
মা-বোনের অশ্রুতে ধোয়া সম্ভ্রমহারা রাত,
সে রাত ভেদ করে উঠেছে স্বাধীনতার প্রভাত।

যে দেশ পেয়েছি আমি প্রাণের বিনিময়ে,
যে দেশ পেয়েছি দগ্ধ হৃদয়, রণ-ডাকের শিরায় শিরায়,
সে দেশ কোনো দয়ার দান নয়, কোনো করুণা-খণ্ড নয়—
সে দেশ অগ্নিযজ্ঞে গড়া, সে দেশ বিজয়ের জয়।

আমি বলি—
মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান একই কাতারে দাঁড়াক,
পাহাড়-উঁচু, নদী-সমতল এক পতাকাতে জাগুক।
সাম্য হবে সংবিধানের শপথ-জ্বালা দীপ্ত,
সম্প্রীতি হবে রাষ্ট্রের প্রাণ, বৈষম্য হবে নিঃশেষ লিপ্ত।

জনতা চায় গণতন্ত্র, চায় সমান অধিকার,
চায় ধর্ম পালনের স্বাধীনতা নির্ভার।
কোনো হানাহানি নয়, নয় বিভেদের শাসন—
মানবতার ভিত্তিতে গড়ুক ন্যায়ের প্রশাসন।

বাঙালির সংস্কৃতি থাকবে অমল দীপশিখা হয়ে,
ভাষার গৌরব উঠুক আবার অগ্নি-প্রভা বয়ে।
বাঙালির ভাষা, বাঙালির গান, বাঙালির সংস্কার—
রক্তে লেখা ইতিহাস হোক প্রজন্মের উচ্চার।


মুক্তিযুদ্ধ কেবল ইতিহাস নয়—এ জীবন্ত শপথ,
প্রতিটি প্রজন্মে জ্বলুক সে অগ্নি, হোক অটল রথ।
স্বাধীনতার চেতনা হবে রাষ্ট্রের মর্মস্থল,
যে চেতনা বিরোধী দাঁড়ায়—তার স্থান হবে বিকল।

বহুমত থাকবে, বহুপথ থাকবে, বহু দর্শনের দল,
কিন্তু জাতীয় স্বার্থে সবাই হবে একতল।
ব্যক্তির চেয়ে দল বড়—এ কথা আংশিক সত্য,
দলের চেয়ে দেশ মহান—এই চিরন্তন নিত্য।

সব নাগরিক গাইবে সোনার বাংলার গান,
লাল-সবুজ আঁকড়ে রাখবে রক্তে রঞ্জিত প্রাণ।
কেউ কণ্ঠরোধ করবে না, বাকস্বাধীনতা দীপ্ত,
কিন্তু দেশবিরোধী বিষবাষ্প হবে চিরনিষ্ক্রিয় লিপ্ত।

ওহে শুনো—
স্বাধীনতা-বিরোধীর এ মাটিতে অধিকার নাই,
অনৈতিকতার অন্ধকারে কোনো আশ্রয় নাই।
বিপ্লব মানে ধ্বংস নয়, বিপ্লব মানে নির্মাণ—
ন্যায় ও সাম্যের ভিত্তিতে গড়া এক মহান স্থান।

তুমি কি ধারণ করো অন্তরে স্বাধীন বাংলাদেশের মান?
তুমি কি রাখো মুক্তিযুদ্ধের চেতনা অবিচল প্রাণ?
যদি রাখো—তোমাকেই স্যালুট, তুমি অগ্রসেনা আজ,
তোমার শিরায় জাগুক দেশপ্রেম, বজ্র-প্রতিজ্ঞার সাজ।

জাতীয় ঐক্যে জাগুক নব অগ্নি-অভিযান,
বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গড়ি, হোক ন্যায়-প্রতিষ্ঠান।
লক্ষ শহীদের রক্তের ঋণ শোধ হবে কর্মে,
সবার আগে বাংলাদেশ—এই শপথ অন্তর্মর্মে।

প্রচণ্ড দেশপ্রেমে, প্রচণ্ড বিপ্লবী বাণীতে—
ঘোষণা করি বজ্রস্বরে, রণ-ডাকের টানেতে—
ব্যক্তি নয়, দল নয়, স্বার্থ নয় কোনো বিশেষ—
সবার আগে বাংলাদেশ, বাংলাদেশ, বাংলাদেশ!


১৬-০২-২০২৬