Thursday, April 16, 2026

তুমি ভুলে গেলেও

 তুমি ভুলে গেলেও

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
************************************************
যাকে সূর্য মেনে আলো নিয়েছিলে তৃপ্ত দিবস হরষে,
যার শুভ্রতা মেখেছিলে তুমি তিমির রাত্রি পরশে।
যে সূর্য কাশফুলের শুভ্রতা বিলায় সমীরণে দোলে দোলে,
যার তেজে নিজেকে গড়েছিলে স্বাধীন মুক্ত এই নিখিলে।

সেই সূর্যকেই আজ ভুলে গেলে? যখন পুষ্পের ডানা মেলল হাসি,
সুখের উত্তালে আজ আলোকেই আর আলো বলে বাসো না বেশি।
যখন শক্তি আর স্বাধীনতা পেলে, চিনে নিলে মুক্তির পথ,
তখন কি তবে ফুরিয়ে গেল সেই সূর্যের আবশ্যকতা আর শপথ?

ভুলে যেও না—সেই তেজে পাহাড়ও একদিন নত হয়েছিল মস্তক,
সমুদ্রের জল শুকিয়েছিল, বাতাস হয়েছিল তপ্ত ও নিস্তব্ধ।
ঝরনাও থমকে গিয়েছিল যার প্রখর রুদ্র তেজে,
পাখিরা জীবনযুদ্ধে নেমেছিল যার রাঙা আলোক সেজে।

আমাদের স্বাধীনতার উৎসে সেই সূর্যেরই তো অবদান শ্রেষ্ঠ,
সে-ই শক্তি, সে-ই প্রেরণা, সে-ই অমরত্বের ইশতেহার জ্যৈষ্ঠ।
সে তো এই লাল-সবুজের অমর স্থপতি, অবিনাশী এক নাম,
তুমি ভুলে গেলেও ইতিহাস জানাবে তারে চিরকাল বিনম্র সালাম।

এই লাল-সবুজের মাটি তারে ভুলবে না, ভুলবে না কোনোদিন,
সূর্য ছাড়া এই আকাশ, এই মাটি—সবই আঁধার, সবই তো মূল্যহীন।
-----------------------------------------------------------------------


১৫-০৪-২০২৬

আমিই শিকলে বন্দি আজ

 আমিই শিকলে বন্দি আজ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************************
অবাক পৃথিবী! অবাক এদেশ! সবখানে হাহাকার,
যেদিকে তাকাই— শুধু ক্ষমতার দম্ভের কারাগার।
ওরে তুই তো পেয়েছিস মসনদ, গদির রাজকীয় সুখ,
আর আমি পেয়েছি অনাহার, আর অবমাননার মুখ।

আমিই শিকলে বন্দি আজ, নিজ বাসভূমে পর,
আমার কণ্ঠ রুদ্ধ করেছিস, ভেঙেছিস মোর ঘর।
মুক্ত চেতনা অবরুদ্ধ আজ— এ কেমন পরাধীনতা?
কলম কেড়ে নিলেই কি থেমে যায় কলিজার সব কথা?

কেন পথ আটকাস? কেন দিস মিথ্যা মামলার হুলিয়া?
ইতিহাস তোকে ক্ষমা করবে না, দেখবে চোখ বুজিয়া—
কীভাবে তুই কেড়েছিস মোর নাগরিক অধিকার,
কীভাবে করেছিস গণতন্ত্রের পবিত্র নাম সংহার।

আমি মুক্তি যুদ্ধের ধারক, আমার রক্তে লাল-সবুজ,
আমার হাতেই গড়ব দেশ, হব না আর তো অবুঝ।
গুম আর খুনের বিচার চাই, চাই আইনের প্রতিকার,
ভয় দেখিয়ে রুখবি আমায়? ভেঙে দেব সব অন্ধকার!

তোর মসনদ থাক তোরই কাছে, আমি সাম্য চাই,
মানুষ হিসেবে মানুষের মতো বাঁচার অধিকার পাই।
সুকান্তর সেই দাবির মতো— এ বিশ্বকে বাসযোগ্য করবই,
শিকল ভাঙার গান গেয়ে আজ রাজপথে আমি লড়বই!
------------------------------------------------------------------ 

গল্প লেখার কর্মশালা


১৫-০৪-২০২৬

জনতার বিদ্রোহী বাঁশরি

 জনতার বিদ্রোহী বাঁশরি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
***************************
বল্ বীর, বল্ উন্নত মম শির!
শৃঙ্খল ভাঙার গর্জনে কাঁপুক ওই অত্যাচারীর নীড়।
ওরে ও ভণ্ড শাসক, ওরে ও মীরজাফরের বংশধর,
শুনে রাখ—আসছে প্লাবন, কাঁপছে তোর তখত্-তাজ থরথর!

রুধবি কার কণ্ঠ? এ যে লক্ষ প্রাণের অবিনাশী শিখা,
রক্ত দিয়ে লিখেছি আমরা স্বাধীনতার অমর মহালিখা।
যে হাতে ধরেছি লাঙ্গল-কোদাল, সে হাতেই জ্বলবে মশাল,
জুলুমের দুর্গ গুঁড়িয়ে দিতে জনতা আজ মহাকাল!

তুই তো জানিস না রে শোষক, এ জাতির ধমনীতে কী আছে,
এখানে মুক্তি-পাগল প্রাণ হারে না কভু যুদ্ধোর কাছে।
জনতার বিদ্রোহী বাঁশরি আর ওই মৃত্যঞ্জয়ী বজ্র হুঙ্কার—
এক হয়ে আজ হানবে আঘাত, চূর্ণ হবে তোর অহঙ্কার!

সাবধান! ওই শ্মশানে জ্বলছে তোর অবিচারের চিতা,
বিপ্লবের তূর্য বাজে, জাগছে আমার লাঞ্ছিত মা ও পিতা।
জনতার হিস্যা বুঝে নিতে ওই ধেয়ে আসছে ঝড়-তুফান,
তোর মসনদ ধুলোয় লুটাবে, গাইবে সবাই সাম্যের গান।

পালাবি কোথায়? চারদিকে আজ প্রতিরোধের অজেয় প্রাচীর,
রক্তচক্ষু দেখাস যারে, সে যে মৃত্যুঞ্জয়ী—মুক্ত বীর!
আসছে আসছে মহাবিপ্লব, ভাঙছে কারাগার, টুটিছে খিল,
একই সাথে জ্বলে উঠুক আজ কোটি কোটি বাঙালির দিল!
-------------------------------------------------------------------


১৫-০৪-২০২৬

তুমি কি শুনেছো হে শাসক

 তুমি কি শুনেছো হে শাসক

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
****************************************************
শুনেছো কি তুমি হে উদ্ধত শাসক, অগণিত কারারোদন?
সিংহাসনের মোহে অন্ধ তুমি, দেখনি কি রাজপথের প্লাবন?
হিংসার বিষে নীল আজ তব রাজদণ্ড ও শাসনের হাত,
নিরপরাধ নজোয়ানের রক্তে রাঙালে তুমি এ আঁধার রাত।

মিথ্যা মামলার নাগপাশে বাঁধিলে কত যে মুক্ত প্রাণ,
জানি না কি তুমি— শিকল ভাঙাই নবীনদের আসল গান?
ভিন মত আজ গলিত লাভা, আর আদর্শ যেন আগ্নেয়গিরি,
ডান্ডাবেড়ি দিয়ে রোধিতে চাও? শোনো ওরে ও ভন্ড-ছিরি!

বিচারের বাণী আজ নিভৃতে কাঁদে, বিচারক আজ কাঠের পুতুল,
মবতন্ত্রের তান্ডবে আজ গণতন্ত্র যে পথ ভুল।
জানি জামিন মেলে না, শুনানি হয় না— এ কোন স্বাধীনতা?
স্বৈরতন্ত্রের চাবুকে আজ বন্দি হয়েছে মানুষের মানবতা।

মানবতার মঞ্চে আজ দাউদাউ করে জ্বলছে আগুন,
আপন স্বার্থে মেতেছো তুমি— হে স্বার্থপর, হে নির্গুণ!
ক্ষমতার ডোরে বেঁধেছো মাটিরে, ভেবেছো কি তুমি চিরস্থায়ী?
ইতিহাস তোমায় ক্ষমা করিবে না— ওরে রে অনাচারী দায়ী।

যদি ন্যায়ের বিচার না দাও আজিকে, শোনো তবে দিয়ে কান—
তোমার তরেই রচিত হতেছে এই কারাগারের লোহার শান।
অত্যাচারীর দিন শেষ হবে, নামিবে তুমিও ধূলা-মাটিতে,
বন্দী হবে তুমিও একদিন— তোমারই গড়া এই নিগড়-কাঠিতে!
--------------------------------------------------------------------------------------


১৫-০৪-২০২৬

সেই ফুল তুমিই শুধু তুমিই

 সেই ফুল তুমিই শুধু তুমিই

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*************************************
এই যে বাগান, অবারিত ঘাস, মুক্তির কলতান,
এখানেই একদিন বপন করেছিলে অজেয় প্রাণ।
তুমিহীন এই সাজানো বাগান আজ বড় ম্লান, মলিন;
তোমার রক্তে কেনা স্বাধীনতা, আমরা কি হতে পারি ঋণহীন?

মালি তুমি ছিলে বলেই, ফুটেছিল সাহসের রাঙা ফুল,
নইলে এ বাগান আজও থাকতো ঝড়ের কবলে আকুল।
আজ চারিদিকে কত জুইঁ-চ্যামিলী, কত চেনা-অচেনা হাসি,
আগাছারা সব জাঁকিয়ে বসেছে, বাজায় মিথ্যে বাঁশি।

মগডাল থেকে হারিয়েছে আজ প্রিয় সেই লাল গোলাপ,
জবাকে নিয়েই মত্ত সবাই, বাড়ছে কেবল বিলাপ।
কীট-পতঙ্গ আর হায়েনার দল ওত পাতে চারিপাশে,
বাগান ধ্বংসের নেশায় তারা বিষাক্ত ফণা হাসে।

ক্ষমা করো হে মহান মালি, পারিনি দিতে সম্মান,
তোমার ত্যাগেই পেয়েছি মোরা এ স্বাধীন পলি-প্রাণ।
তুমিই তো সেই অমর স্থপতি, অজর অবিনাশী,
সবুজ জমিনে রক্তজবা— তোমাকেই ভালোবাসি।

তুমিই এ দেশের ধ্রুবতারা, তুমিই স্বদেশের প্রতীক,
লাল-সবুজের পতাকায় আঁকা মুক্তির ধ্রুব দিক।
ফুল যদি হয় এ স্বাধীনতা, তবে সেই ফুল শুধু তুমিই,
আমাদের অন্তরে বেঁচে থাকা এক চিরঞ্জীব ভূমিই।
---------------------------------------------------------- 

Flora & Fauna


১৩-০৪-২০২৬

অভিশপ্ত হায়েনা

 অভিশপ্ত হায়েনা

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*****************************************
ওরে ও রক্ত-লোলুপ শ্বাপদ! ওরে ও কুটিল কালনাগিনী,
মুক্তির ছদ্মবেশে এসেছিস, চিনেছে তোরে এই ধরণী!
শোনরে পিশাচ, স্বদেশের এই পবিত্র মাটি রাঙাতে
বিষাক্ত নখরে হেনেছিস আঘাত, চেয়েছিস ইতিহাস ভাঙাতে!

মেটিকুলাস এক মরণ-নকশায় রুখিলি বজ্রকণ্ঠ,
তোর ক্ষমতার লোভে আজ লুপ্ত হলো হিতাহিত জ্ঞান-কাণ্ড!
মুছিতে চেয়েছিস শহীদের রক্তে লেখা সেই লাল ইতিহাস?
মা-বোনের ইজ্জত-অশ্রুর করলি রে তুই পরিহাস!

মণিহার ছিঁড়ে দলিয়াছিস তুই— একি তোর দম্ভের খেলা?
সোনার বাংলার ললাটে এঁকেছিস কলঙ্ক-কালিমা মেলা!
লুটতরাজ আর দুর্নীতির তুই অধীশ্বর মদমত্ত,
নিজের তহবিল ভরিতে বেচিলি জাতির সব সত্য!

আগামীর শিরে বিষ ঢেলে আজ বানালি তাদের বেয়াদব,
মবতন্ত্রের হোতা সেজে তুই করলি বিনাশী মহোৎসব!
লাগামহীন সেই অশ্বের মতো ধ্বংসের পথে ছুটিলি,
গুণীজনদের অপমানে আজ কী সুখের হাসি লুটিলি?

আদর্শ হানি, হিংসার বীজ বুনেছিস তুই তলে তলে,
ভয়তন্ত্রের মিনার গড়েছিস নির্দোষ মানুষের রক্ত-জলে!
জীবন্ত মানুষ পুড়ালি শমন! ছাড়িলি না কবরের মৃতদেহ,
তোর পৈশাচিক রোলার তলে রেহাই পায়নি আজ কেহ!

নিজের স্বার্থে ডাকিয়া আনিলি এক ঘোর অন্ধকার যুগ,
তোর লালসার বিষে নীল হলো আজ স্বদেশের অমল মুখ!
ক্ষমা নাহি দিবে এই বীর জাতি, শোনরে ওরে কাল-হায়েনা,
মহাকালের এই রণ-প্রাঙ্গণে তোর রক্ষা আর হবে না!
-----------------------------------------------------------


১৩-০৪-২০২৬

রুখো রে জল্লাদ!

 রুখো রে জল্লাদ!

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
************************************
ওরে ও রক্ত-পিপাসু জল্লাদ! তোরে কে দিল এই হুকুম?
মানুষের বুকে ছুরি বসিয়ে—কাড়িস যে তার ঘুম!
বিধাতার বাণী—কোরআন মজিদ—করেছে এ হত্যা মানা,
তুই কোন ছার তুচ্ছ পতঙ্গ—মেলিস বিষাক্ত ডানা?

দল-মত-পথ মানুষের গড়া—নিজস্ব সে কালচার,
ভুল যদি করে—আছে তো আদালত, আছে ন্যায়বিচার।
তবে কেন আজ দিকে দিকে জাগে উগ্রবাদের প্রেত?
কার অধিকারে বিষিয়ে দিলি ভাই—মানবতার খেত!

কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ, কে মুসলিম, কেবা খ্রিষ্টান অনুসারী—
ভুল কি শুদ্ধ—প্রভুর নয়নে সব আছে নজরদারি।
তোরও যে রক্ত, তাহারও সে রক্ত—একই বিধাতার দান,
তবে কেন করিস হিংস্র আক্রোশে—ভাইয়েরই রক্তপান?

ওরে ও শাসক! দেখিয়াও কেন অন্ধ সাজিস তুই?
উম্মাদ ওই ভণ্ডরা আজ—রক্তে রাঙালো ভুঁই!
মানবতা আজ খাঁচায় বন্দি—উগ্রতা হাতে নাচে,
এখনি রুখিয়া দে রে শাসক—যতটুকু প্রাণ বাঁচে।

রক্তের এই বঙ্গতলে—থামাও এ হাহাকার,
সাম্যের গান বেজে উঠুক—মোছাও এ অন্ধকার।
তুমিও মানুষ, সেও যে মানুষ—আমারও যে আছে প্রাণ,
একই উঠানে বসবে বিচার—যেদিন ডাকিবে মেহেরবান।

ধর্মের নামে হানাহানি নয়—গাও আজ মানুষের জয়,
সবার উপরে মানুষ সত্য—এই হোক বিশ্ব-পরিচয়!
--------------------------------------------------------


১৩-০৪-২০২৬

মানবতার চোখে অশ্রু

 মানবতার চোখে অশ্রু

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
***************************************
ভূখণ্ড আজ হয়েছে স্বাধীন? ছিঁড়েছে কি শিকল?
তবে কেন শুনি দিকে দিকে ওই আর্তনাদ কলরোল?
রক্তের নদী সাঁতরে পেলাম যে মাটির অধিকার,
সেথা কেন আজ শকুনির দল চালায় অত্যাচার?
মানবতা আজ কারারুদ্ধ— শৃঙ্খলে হাহাকার!

দ্যাখো চেয়ে দ্যাখো, দিকে দিকে ওই পাষণ্ড দলবল,
চাঁদাবাজ আর সন্ত্রাসীদের দাপটে দেশ টলমল!
বীর দর্পে ওরা সংবদ্ধ, লুণ্ঠিত জনতার ঘাম,
শাসক! তুমি কি পাথর-প্রতিমা? জপো কার জয়নাম?

অপলক চোখে চেয়ে আছো শুধু, নড়ো না তো একচুল,
অশ্রু ঝরছে মানবিক চোখে— এ কি তবে মহভুল?
ক্ষমার অযোগ্য দাপটে ওদের আকাশ হয়েছে কালো,
লুটেরার হাতে বন্দী হয়েছে সত্যের মশাল-আলো!

নির্লোভ যারা, নিঃস্বার্থ যারা, বিলিয়ে দেয় যা আছে,
তারাও আজকে মুক্তি পায় না ওই হায়েনার কাছে।
সেবা করতেও মাশুল গোনে যে অভাগা স্বদেশ আমার,
তার চেয়ে বলো পরাধীনতা আর আছে কিবা ছার?

হে শাসক! শোনো, ধিক্কারে আজ প্রকম্পিত আসমান,
ব্যর্থতা তব ললাটে এঁকেছে কলঙ্ক-অভিমান!
লাগাম টেনে ধরো ওই পিশাচের, রুখো ঐ চাঁদাবাজ,
নতুবা ধুলোয় মিশে যাবে তব সিংহাসন আর তাজ।

মানবিক মানুষ হেরে গেলে তুমিও রবে না জয়ী,
ইতিহাস লিখবে— তুমিই ছিলে অধর্মের সহযোগী!
জাগো রে শাসক! রুদ্র রোষে হানো ঐ বজ্র-বাণ,
নইলে ডুবিবে তরী, টুটিবে দেশের মান!
------------------------------------------------------------------


১২-০৪-২০২৬

রক্তে লেখা সংবিধান

 রক্তে লেখা সংবিধান

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
----------------------------------------------------------------
কারার ওই লৌহ-কপাট ভাঙবি কি আজ তবে?
ত্রিশ লক্ষ শহীদের খুনে আবার কি হোলি হবে?
যাদের হাড়ের কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে তোর এই গদি,
তাদেরই রক্তে লেখা দলিলে হাত দিস তুই যদি—

তবে জেনে রাখ রে অন্ধ শাসক, দিন ঘনিয়ে এসেছে তোর,
তোর মস্তকে আজ বাজছে প্রলয়, ভাঙছে রে নিশিভোর!
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পবিত্র চত্বরে যখন জ্বলে আগুন,
শহীদের রক্তে লেখা সংবিধানে লাগে ঘাতকের ফাগুন—

তখন তোর ধমনীতে কি একাত্তরের চেতনা মরে গেছে?
নাকি পূর্বসূরীর বীরত্বটুকু কেবল ইতিহাসেই আছে?
তোর আইন কি তবে আজ নপুংসক? বিচার কি আজ কানা?
দেশদ্রোহীদের উগ্র থাবায় দেশটা আজ ছটফটানা!

শোন রে ভণ্ড! শোন রে পিশাচ! শোন রে গদিনশীন!
জনতার কাঠগড়ায় তোর বিচার হবেই কোনো একদিন।
শহীদ জননীর চোখের জল আর বোনের হরণ করা ইজ্জত,
সবই কি আজ নিলামে তুললি? এই কি তোর হিম্মত?

উম্মুক্ত বাতাসে যারা ছড়ায় বিষাক্ত নিশ্বাস,
তাদের কেন করিস লালন? ছিঃ! এই কি তোর বিশ্বাস?
আমরা অদম্য প্রহরী, আমরা জাগ্রত বিনিদ্র রাতি,
তোর জুলুমের আঁধারে আমরাই জ্বলন্ত মশাল-বাতি!

নজরুলের তূর্য হাতে আমরা ছিনিয়ে নেব অধিকার,
রক্তে লেখা এই সংবিধান— মুছবে না কোনো পাপিষ্ঠ দুরাচার।
মাথা নত করার দিন শেষ! এবার হবে রণ-হুঙ্কার,
দেশদ্রোহীদের চূর্ণ করতে জেগেছে আজ রুদ্র-অবতার!
------------------------------------------------------------------------------ 

Books & Literature


১২-০৪-২০২৬