Wednesday, July 15, 2026

আমরা বড়ই হীনমন্য- হে আলী হোসেন চৌধুরী

 কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।

***************************************

হে মাটি মানুষের কবি,
শীতলক্ষ্যার বুকে যেমন শ্রাবণের মেঘ জমে,
আমাদের বুকেও আজ তেমনি গ্লানি লজ্জা নামে।
তুমি দিলে সুর, দিলে ভাষা, ছড়ালে আলোর দ্যুতি,
আর আমরা রাখলাম শুধু একরাশ অবহেলার স্মৃতি!

তুমি একাধারে কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক,
বাণীর জাদুকর, সত্যের নির্ভীক নাবিক।
কণ্ঠ তোমার বজ্রের মতো, অথচ হৃদয়ে কোমল নদী,
লাল-সবুজের চেতনা বুকে বয়ে চলেছ নিরবধি।
পরোপকারে বিলিয়েছ প্রাণ, তুমি যে মানবিক ঋষি,
তোমার গৌরবে ধন্য আজ এই সবুজ কাপাসিয়া-মেদিনী।

অথচ
আমরা বড়ই হীনমন্য হে আলী হোসেন চৌধুরী!
বুকের ভেতর পুষে রাখি এক অন্ধ অহংকারী তরী।
গুণীজনদের আসন দিতে জাতি সদাই কৃপণ,
আমরা বুঝিনি তোমার মূল্য, করিনি আদর-যতন।
স্বদেশের মাটি দেয়নি তোমায় প্রাপ্য মর্যাদার মালা,
আমাদের এই দৈন্যতা আজ ছড়ায় কেবলই জ্বালা।

তুমি তো মেঘের মতো উজাড় করে দিলে বৃষ্টির কণা,
ফুটলে কত ফুল, জাগলে কত শত অজানা।
মঞ্চে দাঁড়িয়ে তুমি চেনালে কত গুণীজন,
অথচ তোমার বেলায় আমরা ফিরিয়ে নিলাম মন!
বখিল আমরা, বড্ড কৃপণ, হীনমন্যতায় ঘেরা,
সূর্যসন্তানের কদর চিনি না, এই তো স্বভাব আমাদেরা।

কিন্তু শোনো হে কবি
পৃথিবীর রবি অস্ত গেলেও যেমন আঁধার নামে না পুরোপুরি,
নক্ষত্র হয়ে তুমিও জ্বলবে মহাকালের আকাশ জুড়ি।
আমরা ব্যর্থ, আমরা হীন, আমাদের হোক পরাজয়,
তোমার সৃষ্টি, তোমার কবিতা, ছড়াবেই জয়জয়ময়।
তুমি রবে চির উজ্জ্বল তোমার সৃজনের মহাকাব্যে,
মৃত্যুঞ্জয়ী হে মহান, ইতিহাস তোমায় মনে রাখবেই সুনব্যে।

তোমাকে স্যালুট হে মাটি মানুষের কবি,
কাপাসিয়ার আকাশে তুমি চিরভাস্বর এক দীপ্ত রবি!

----------------------------------------------------------------

 

জনতার চোখে অশ্রু

 কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।

************************************

ঐ শোনো!
শোনো রে বজ্র-ক্রন্দন!
ভাঙছে আজ শোষিতের ধৈর্যের বন্ধন!
বাংলার
ঘরে ঘরে ঘরে হাহাকার,
কোটি কোটি তরুণের চক্ষে অন্ধকার!
আয়ের উৎস নাই,
কর্মের সংস্থান নাই,
অন্নহীন, বস্ত্রহীন, ভাগ্যহীন ভিখারি আজ সর্বহারা ভাই!
কারখানা বন্ধ!
কল আজ স্তব্ধ!
মেশিনের চাকাগুলো স্তব্ধতায় জব্দ!
গাজীপুর
সে তো আজ বেকারত্বের স্বর্গভূমি রে!
হাহাকার ধেয়ে যায় মেঘনার তীর ছুঁয়ে, পদ্মার কূল চিরে!

ক্ষমতার ঋতু বদলায়!
বসন্ত আসে আর যায়,
তখত-তাউস নড়ে, মসনদে রাজা ফেরে,
কিন্তু এই ভাগ্যহীনের ভাগ্য কে ফেরে রে?
যাদেরও কাজ ছিল,
পেটে দুটো ভাত ছিল,
আজ তারা রাজপথে, কাজ হারা, গৃহহারা, নিঃস্ব দীন!
সংসারে স্থবিরতা,
বুকে মহাতপ্ত কথা,
ভবিষ্যৎ কুয়াশায় লীন!
অথচ ওই অন্ধ তখত, মদমত্ত রাজপুরী
দেখে না তো এই মহামারী!
তারা শুধু করে চাল-চুরি, স্বপ্ন-চুরি!

রাজনীতির নোংরা যাতাকলে
পিষ্ট দেশের প্রাণ তলে তলে!
শিল্পের তরী ডুবে যায়,
গার্মেন্টস বন্ধ, বড় বড় তালা ঝোলে দরজায়!
শ্রমিক পায় না বেতন,
ক্ষুধার তীব্র জ্বালায় ছটফট করে অবোধ চেতন!
ভিন্নমতের তরে চলে হিংস্র দমন,
হয়রানির খড়্গ নামে সর্বক্ষণ!
মিথ্যা মামলায় পিষ্ট সততা,
কে শুনবে আজ বিপন্নের আকুলতা?

দিকে দিকে চোর-ডাকাতের হুল্লোড়,
লুটেরা হাসে, কাঁদে শান্তির ঘর!
জনজীবনের নিরাপত্তা আজ মৃত,
আইন-কানুন আজ পদাঘাতে দলিত ক্ষত!
রাষ্ট্র কেন চুপ?
শাসক কেন আজ পাষাণ-পাথর রূপ?
কেন কেউ কথা বলে না রে এই ক্রান্তিকালে?
কেন তবে মৌনতা নেমেছে সবার গালে?
দেখো!
ভয়ংকর অসুরের কালো ছায়া ধায়,
স্বাধীন বাংলার ধূলির শয্যায়!
একি বিভক্ত রাজনীতির অভিশাপ?
নাকি নিষ্ক্রিয়তার মহাপাপ?
রক্তে কেন তবে দ্রোহের আগুন জ্বলে না আর?
কেন সই এই অত্যাচার?

হে কাণ্ডারী!
তুমি কার তরী বাইছো ধরি?
চেয়ে দেখো ওই প্রলয়-বারি,
স্বাধীন বাংলার ঘরে ঘরে আজ অশ্রুর বন্যা!
মায়েরা অন্নহীন, কাঁদছে দেশের কন্যা!
অনেক হয়েছে সহ্য, অনেক হয়েছে ভয়,
এবার আসুক মহামুক্তির জয়!
ভেঙে ফেলো মৌনের এই কালো বাঁধ,
কণ্ঠে আনো নজরুলের সেই বজ্রের ঘোর নাদ!
ছিঁড়ে ফেলো শিকল,
হও রে উত্তাল, ব্যাকুল, চঞ্চল!
বিপ্লবী হুংকারে
ভেঙে দাও শোষকের ওই অহঙ্কারী দ্বার!
রুদ্র-জনতা, জাগো এবার!
জাগো আরেকবার!

---------------------------------------------------------------------