Showing posts with label ফকির সাহাবুদ্দীন আহমদ. Show all posts
Showing posts with label ফকির সাহাবুদ্দীন আহমদ. Show all posts

Tuesday, June 16, 2026

ফকির সাহাবুদ্দীন আহমদ

 সম্মানিত ভাই ও বোনেরা

আজ আমি আপনাদের সামনে এমন এক ব্যক্তিত্বের কথা তুলে ধরছি—যিনি ইতিহাসের পাতায় শুধু একজন আইনজীবী বা রাজনীতিবিদ নন, বরং ভাষা, স্বাধীনতা ও সংবিধান রচনার এক নীরব কারিগর।

ফকির সাহাবুদ্দীন আহমদ—একটি নাম, একটি অধ্যায়, একটি সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি।

ঘাগুটিয়ার মাটিতে জন্ম নেওয়া এই মানুষটি শৈশব থেকেই বহন করেছেন ইতিহাসের ভার। ব্রিটিশবিরোধী ঐতিহ্যবাহী পরিবারে তাঁর শিকড়, আর শিক্ষার আলোয় গড়ে ওঠে তাঁর চিন্তার জগৎ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র হিসেবে তিনি শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানই অর্জন করেননি—তিনি অর্জন করেছিলেন ইতিহাস গড়ার সাহস।

১৯৫২ সাল। ভাষা আন্দোলনের উত্তাল দিনগুলো। ২০ ফেব্রুয়ারির সেই সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ হলে ১৪৪ ধারা ভঙ্গের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের সভায় সভাপতিত্ব করেন তিনি। পরদিন ২১ ফেব্রুয়ারি, রক্তে রাঙা সেই মিছিলে তিনি ছিলেন অগ্রভাগে—যেখানে জন্ম নিয়েছিল মাতৃভাষার অধিকার।

তাঁর জীবনের আরেক অধ্যায় মুক্তিযুদ্ধ। ১৯৭১ সালে তিনি ছিলেন মুজিবনগর সরকারের একজন বিশ্বস্ত প্রতিনিধি। শ্রীলঙ্কা থেকে শুরু করে জাপান, থাইল্যান্ড, হংকং, সিঙ্গাপুর—বিশ্বমঞ্চে তিনি ছড়িয়ে দিয়েছেন স্বাধীন বাংলাদেশের কণ্ঠস্বর। জাতিসংঘে মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধি দলের সদস্য সচিব হিসেবে তিনি বিশ্ব বিবেককে জাগিয়েছিলেন।

স্বাধীনতার পর তিনি হন বাংলাদেশের প্রথম সংবিধান প্রণয়ন কমিটির অন্যতম সদস্য। আর সেই সংবিধানের ভিত্তিতেই তিনি হন দেশের প্রথম অ্যাটর্নি জেনারেল—একটি রাষ্ট্রের আইনি কাঠামো গঠনের অন্যতম প্রধান স্থপতি।

তাঁর জীবনে ছিল আরও বহু সম্পর্ক, বহু অধ্যায়। তিনি ছিলেন জাতীয় নেতা তাজউদ্দীন আহমদ-এর ঘনিষ্ঠ সহচর। ছিলেন গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী-এর জুনিয়র সহকর্মী। আর সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সভাপতি ড. কামাল হোসেন-এর সহযাত্রী।

তাঁর পরিবারও ইতিহাসের অংশ—চাচা ফকির আবদুল মান্নানের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার, আর সেই সূত্রেই যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশের বহু পরিচিত নাম।

জীবনের শেষ দিকে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েও তিনি হারাননি চিন্তার আলো। নীরবতায় থেকেও তিনি ছিলেন রাষ্ট্রচিন্তার এক দৃঢ় ভিত্তি।

ফকির সাহাবুদ্দীন আহমদ তাই কেবল একজন ব্যক্তি নন—তিনি একটি যুগ, একটি সংগ্রাম, একটি রাষ্ট্রের জন্মকথার অংশ।

আজ তাঁকে স্মরণ করা মানে—ভাষার অধিকার, স্বাধীনতার স্বপ্ন এবং সংবিধানের ভিত্তিকে নতুন করে উপলব্ধি করা।

ধন্যবাদ।