Thursday, July 29, 2021

উড়েছে লাল নিশান

 ----মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।

*****************************************                          

প্রেম ভালবাসা রক্তে বন্ধন হারিয়ে গেছে অন্ধকারে

এই পৃথিবীর প্রান্তরে

বদলেগেছে পথ ঘাট আচার আচরন সংস্কৃতি বিস্তরে।

 

আজকে তোমার আমার মাঝে শুধু হিংসার প্রভাব

দিবাযামী নিদ্রাহীন ছুটেছি বৈধ অবৈধ অর্থের কলোরব।

অন্তর বুঝে না সভ্যতা হারিয়ে যাচ্ছে অকূল অন্ধকার

এক নষ্ট প্রতিযোগীতা কেড়ে নিচ্ছে মানবতার মণিহার!

 

ঐশর্ষ্য ছিল রক্তের স্পন্দিত রাঙা জল

আজ সেখানে ফুটালে ব্যথার নীলোৎপল

যুদ্ধে যুদ্ধে ভাঙলে বুক

রক্তে রক্তে রাঙালে মুখ

অশ্রু জলে ভাসালে চোখ

বিশ্বে জাগালে বিরহের দুঃখ

কোন খানে নেই কোন সুখ।

 

শুন্যতায় ভরপুর স্পন্দিত প্রাণের রাঙা জল!

কোন হায়েনা ছিড়ে নিল তোর প্রেমের দল?

কোন সে জল্লাদ ! কোন সে পাষাণ তল?

হিংসে প্রতিহিংসের ঢেউ হানছে বুকে ঘা

আনছে ফিরে অনল শিখা গাঁয়ের পরে গাঁ ।

 

জনে জনে অগ্নি হাওয়া গুমরে উঠে প্রাণ !

নাইকো কোথাও প্রেমের পরশন

ওরে পাষাণ, ওরে পাষাণ-উড়েছে লাল নিশান !

-২৯-০৭-২০২১ ইং,রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।

করোনা টেষ্ট

 

      ---মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।

**************************************

বহুদিন ধরে ঘুরিতেছি আমি রাত্রির আঁধারে

করোনার টেষ্ট করাবো মেডিকেল গাজীপুরে।

 

এ যেন এক সোনার হরিণ শত জনতার ভিড়ে

প্রতিদিন যাই আর ফিরে আসি সিক্ত ভোরে।

ক্লান্ত শরীরে অবসন্ন আমি জ্বর ব্যাথার শিয়রে

যার লাগি ছুটে গেছি একে একে পাঁচদিন ধরে।

 

সে তুলিয়াছে দিকে দিকে বাধা বিঘ্ন ভয় !

ত্রিশজনের বেশী নাহি নেয়  সারা দিবসময়

আজ মনে হয়

করোনার টেষ্ট যেন জীবন প্রদীপের অস্তদয়।

 

টেষ্ট ছাড়া ডাক্তার রোগী দেখে না, রক্ত প্রবাহ চলে না

কর্ত্পক্ষ বুঝে না

করোনা টেষ্ট এখনো উথলিয়া উঠে নাই গরীবের।

দিবযামী বুক চাপা  কান্না শুনি বিষাদ বিঁধুর।

 

করোনার ভয়ঙ্কর ঢেউ !

কাগজে কলমে সাবধানী-বাস্তবে বুঝে না কেউ।

ঘোমটার ঘুমটুকু চুমি!

মনে হয় করোনার টেষ্ট তুমি-আর জাগ্রত আমি।

 

কেউ কি আছো যাবে এ কান্না শুনি ?

সহজলভ্য করে দাও করোনা টেষ্ট এখনি।

----২৯-০৭-২০২১ ইং,রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।

           

Wednesday, July 28, 2021

র্নিলোভ পরিবার

 

------মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।

************************************

বঙ্গের মুক্ত আকাশে কত গান যে গায় পাখি

এমন শুভ্র ঝাঁক আগে কখনো দেখেনি আঁখি!

কি সুমধুর সুর! কি অপূর্ব্ ছড়ানো ডানা!

কোন তিলক নেই, কোন কালিমা নেই প্রাণখানা

 

নিত্য আসে- মাতৃকার কাছে- বাংলার উঠোনেই

চির দীপ্ত বঙ্গ তাজের মতোই

মা জহুরার মতো দেশপ্রেমের হৃদয়খানি খুলে

দেশ মাতৃকার টানে আপনার স্বার্থ্ ভুলে

বঙ্গ বন্ধুর নৌকার পালে

সত্যের প্রদীপ জ্বেলে

জাতির মাস্তুলে---

 

বঙ্গ হাসে কাজল রাতে শীতলক্ষ্যার জল !

ফুলে ফলে তরুলতা জাগে, প্রাণে উঠে কল্লোল

বাংলাদেশ তাকায় শুধু অপলক তাকায়

বঙ্গ তাজের দীপ্ত আলোয় ঘেরা কাপাসিয়ায়

ওইখানে শুভ্র পাখিরা উড়ে যায়-

দেশমাতৃকায় -দরদরিয়ায়

সৎ নির্ভিক ভূমিকায়--

 

বঙ্গ জননীর এক শ্রেষ্ঠ উপহার

বঙ্গ তাজের র্নিলোভ পরিবার!

তবু  কেন দু চোখে জল, বুকে  কেন জ্বালা ?

জানিনা কেন তবুও ঠিক সম্মুখ কপাটে তালা।

---২৮-০৭-২০২১ ইং,রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।

টাকার কথা শুনে

 ----মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।

*******************************

আজ ঘুরছে ফাইলটা অফিসের কোণে

ছুটছে দ্রুত পায়ে টাকার কথা শুনে !

 

আমার বুকের রক্ত জমাট-

ভাঙ্গেছে না তার হৃদয় কপাট

বাড়ছে এখন  ফাইল চলাচল

ঘুরছে  না  আর টেবিল টেবিল

 

স্যার পারিল চটপটা চট !

মরছি আমি ছটফটা ফট।

কে কাটিল আমার পকেট ?

রাজ্যের চাকর দুষ্ট গবেট !

 

ঘুষের টাকা ক্ষণে ক্ষণে

না দিলে ভাই আনমনে।

কর্ম্কতা কর্মচারী

স্যারটা নাকি সরকারী।

 

ঘুষ ছাড়া ভাই হয় না কেন ?

দুর্ণিনীতির শেকড় যেন

উঁচু- নীচু সবখান

টানছে তারা প্রজার কান ।

 

আসবে নাকো সত্য নাবিক ?

পথ চেয়ে ভাই বঙ্গ পথিক—

আজ ঘুরছে ফাইলটা অফিসের কোণে

ছুটছে দ্রুত পায়ে টাকার কথা শুনে !

 --২৮-০৭-২০২১ ইং,রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।

চেকপোষ্ট

 

----মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।

*******************************

এই নিরব স্তব্দ নিশীথ রাতে

শুধু প্রহরী দেখি অলিগলিতে

 

কেন কোন কাজে বাঁশি বাজে ?

কার দায়িত্ব কি কোন কাজে ?

পীছ ঢালা পথে চেকপোষ্ট মাঝে

ওই প্রহরী সাজে র্নিদয় ডাকাতে

অদৃশ্য দাপটে অবৈধ হাতপেতে।

 

চেকপোষ্ট যেন জীবন –বেদনা

ঝুঁঝুর ভয়ে অহেতুক যাতনা

এই পথ ঘাটে প্রহরীর বাড়াবাড়ি

কিছু পেলে ছেড়ে দেয় তড়িগড়ি।

 

এই অন্যায় কি বলতে পারি ?

অসহায় নয়নে উথলে বারি ।

 

চেকপোষ্ট প্রহরীর এমনি নিশা

ক্ষমতার তটে শুধু অর্থের তৃষা।

এই চেকপোষ্টের চেক জরুরী !

নয়তো সোনার রাজ্য যাবে পুড়ি।

--২৮-০৭-২০২১ ইং,রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।

   

দুর্ণিনীতির লকডাউন

 ---মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।

******************************************

সেই কবে দুর্ণিনীতির লকডাউন চেয়েছি আমি!

মু্ক্তি যুদ্ধে পাওয়া লাল-সবুজের স্বাধীন বঙ্গ ভূমি!

স্বপ্নের সঞ্চিত প্রেমের গোলাপ ফুটাতে গিয়ে

মায়ের মঞ্চের মাঝে চোর ডাকাতেরা দাঁড়িয়ে

বঙ্গ বুকে তুলিছে বিষাদের কন্ঠ সুর

দেখেছি অগ্নী কুন্ড জ্বলিছে বাংলা জুড়ে।

 

এসব রতি-মহারথির চেয়ে চন্দ্রমল্লিকার রাত্রি ভালো

বাংলার পতাকা তলে লুকে আছে ভয়ঙ্কর কালো!

হে পূর্ণিমা তুমি দূর করো  শুভ্র আলোয়

দুর্ণিনীতিবাজ, সুদ খোর ঘুষ খোরের বলয়

তুমি তুলো দুর্বার শুদ্ধি অভিযানের প্রলয়।

 

লক্ষ শহীদের রক্তে রাঙানো জাতির নিশানা

লক্ষ ইজ্জতের সবুজ প্রান্তর তোমার ঠিকানা

ওহে, ওরা কারা?

এতো দিশেহারা!

পরিচয় ওদের দুর্ণিনীতিবাজ বিদ্রোহী কুলাঙ্গার!

তোমার হৃদয় তুমি দান করো প্রেমের সম্ভার

ওদের দূর্গ্ করো চূড়মার! করো চূড়মার।

 

সেই কবে দুর্ণিনীতির লকডাউন চেয়েছি আমি!

মু্ক্তি যুদ্ধে পাওয়া লাল-সবুজের স্বাধীন বঙ্গ ভূমি!

হে জাতির দিশারী! তুমি কি আজ মৃত?

নাকি ভিত!

এ কলঙ্কের দাগ মুছে দেওয়া কি অসম্ভব ?

সম্ভব! সম্ভব! যদি করো দেশ প্রেমের উদ্ভব।

---২৮-০৭-২০২১ ইং,রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।

ক্ষুধার লকডাউন চাই

 --মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।

***********************************

গরীবের মুক্তি ও শান্তি তোমার কাছেই

যে ক্ষুধা আর যন্ত্রনা লেগে আছেই

যে কান্নার রোল থামেনা কোন মতেই।

হে প্রভূ! এ মুক্তি কেবল দয়ার হাতেই ।

 

একদিকে লকডাউন, অন্যদিকে পেটের ক্ষুধা!

ক্ষুধার্ত্ পেটে তো লকডাউন আসেনা - এ বসূধা ।

চাকরীটাও থাকে না করোনার অজুহাতে

ছেলেটা রক্তাক্ত হয় পুলিশের পিটুনিতে ।

 

দু’মুঠো ভাতের জন্যে বেকার ছেলেটার অশ্রু ঝরে

পিতা-মাতা, স্ত্রী-সন্তান ক্ষুধার্ত্ চেয়ে আছে ঘরে

বেকার ছেলেটা ঘুরে তো ঘুরে

শরীরে ঘাম, অন্তরে রক্ত ঝরে

মু্ক্তি তো দূরে- বহুদূরে—

 

রাষ্ট্রের মহারথি শুধু একপাশ দেখে-

দরিদ্র হতদরিদ্র চাকরী হারানো শিক্ষিত বেকার

আজ কঠোর লকডাউনে অন্নহীন মৃত্যুর মুখে।

ক্ষুধার লকডাউন চাই! করোনার মুক্তি চাই

অন্ন বস্র বাসস্থানের সু-ব্যবস্থপনা চাই

তারপর লকডাউন চাই।

 

বেসরকারী চাকরীজিবীর শতভাগ গ্যারান্টি চাই।

ক্ষুধার লকডাউন চাই!

যে ক্ষুধা আর যন্ত্রনা লেগে আছেই

যে কান্নার রোল থামেনা কোন মতেই

----২৮-০৭-২০২১ ইং,রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।

আমি কিন্তু ভদ্র না

          -----মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।

*********************************        

আমি কিন্তু ভদ্র না রাজনীতি করি!

বালিশের নীচে পিস্তুল রাখি সর্বদা ভরি।

এ রাজ্যে আদি অন্ত আমি মহারাণী

আমি শিক্ষিকা,অধ্যক্ষ শিক্ষার মধ্যমণি।

 

আমি রাজনৈতিক মেয়ে

ক্ষমতার সিঁড়ি বেয়ে বেয়ে

আমি আছি বহাল তবিয়তে

উচ্চ মহলের অফুরান পছন্দতে!

আরো অকথ্য ভাষায় গালিতে গালিতে

শিক্ষার মহারাণী ব্যঙ্গ অঙ্গ ভঙ্গিতে।

কি চাহে এ জাতিরে বুঝাইতে !

 

এই যদি হয় শিক্ষার মহারাণী !

এর চেয়ে লজ্জা আর কিছু নাইরে ওহে জ্ঞানী গুনি

গভীর হৃদয় মাঝে

রক্ত ক্ষরণের ধ্বনি যে বাজে

 

আলোর জগতে একি অন্ধকার সংগীত শুনি

বাকহীন স্তব্দতায় শিল্পির কণ্ঠ স্বপ্নের ধ্বনি।

লজ্জা! লজ্জা! বিরহে ব্যথিত জাতির প্রাণ

শিক্ষার রাজ্যে হতে চাই মহারাণীর অবসান।

----২৮-০৭-২০২১ ইং,রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।

Tuesday, July 27, 2021

পৃথিবীর কান্না

 


---মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।

**********************************

তুমি পারো না মানুষেরে বুঝিতে!

যখন তখন কেন ছুটিছো ধরিতে!

যদি পৃথিবী তোমায় প্রশ্ন করে

কেন এতো ব্যদনা বিষাদ ভরে !

মৃত্যুর অগ্রাসে চেপে বস বুকে

কি উত্তর দিবে স্থিরনত মুখে?

 

তোমার আগমন কেন এতো গোপন?

একবার চেয়ে দেখ দুঃখী মানুষের প্রাণ

তুমি বদলে দিয়েছো পৃথিবীর ধারনা

তাই প্রাণের মূল্য বুঝিতে পারো না।

নির্দয় অভিযানে তুমি তার মধ্যমণি

মানুষেরা কেন শুধু অগ্রণী

ওগো যাও এসে শুনি

পৃথিবীর কান্নার ধ্বনি!

 

মৃত্যের আতংক হৃদয়ে গাঁথি চলিছে মানুষ!

কখন যে তুমি এসে করো বেহুশ!

একি শুধু পৃথিবীর ভুল?

নাকি কোন পাপের মাশুল !

হে করোনা, একবার ভেবে দেখ পৃথিবীর হৃদয়

মৃত্যেুর দুতেরা তুলিছে নির্দয় প্রলয়!

 

হে পারওয়া দিগার, ক্ষমা করো মানুষের ভুল

তুলে নাও করোনা,মুক্তি দাও ক্ষণিকের কূল।

--২৭-০৭-২০২১ ইং,রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।

গোলাপ দিয়েছি

 ---মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।

********************************

গোলাপ দিয়েছি টুকটুকে লাল

তবু কেন বিরহী চিরকাল !

হৃদয় নিংরানো স্পর্শ্ দিয়েছি অফুরান

পূর্ণিমার শুভ্রতায় গেয়েছি প্রেমের গান

তুমুল ঘুর্ণি তুফানেও করিনি অবসান

নির্মোহ ভালবেসেছি অনুভবে কলোতান

সে গোলাপ কি দেখনি লাল !

তবে কি মৌমাছি বিরহী চিরকাল ?

দু”হৃদয়ের ভাঁজে ভাঁজে এঁকেছি ছবি

প্রেমের রঙ তুলিতে আমি এ কবি!

দূর পাহাড়ে ছুটেছি শিরহিত পায়ে

রাত্রি নেমে আসে স্তব্দ নিঝুম গায়ে

তবু তরঙ্গ নাচে হৃদয়ের রাঙা জলাশয়

যদি নোঙ্গর করি নব সূর্য়্দয়

গোলাপ ফুটাবো প্রেমের উদ্যানে

এক স্বর্গীয় গানে দু’জনার প্রাণে।

বুকের মাঝে কিসের আগুন জ্বলে ?

সাজিয়ে দিবো আঙ্গিনা প্রেমের ফুলে

ফিরে এসো ফিরে এসো

বিরহের ব্যাথা ভুলে—

প্রেমের ফুল ফুটেছে তবু বিরহী চাঁদ!

হৃদয় জেগেছে তবু কেন অবসাদ ?

গোলাপ দিয়েছি টুকটুকে লাল

তবু কেন বিরহী চিরকাল !

---২৭-০৭-২০২১ ইং,রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।