Monday, August 24, 2026

হঠাৎ মৃত্যু

 কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

**********************************************

সেদিন কোনো ইশারা পাবে না হে মানব!
পাবে না কোনো শেষ সংবাদ,
হঠাৎ ভাঙবে রে এই দুনিয়ার মায়ার মস্ত ইমারত!
তোমার বয়স কত?
তুমি ছোট না বড়?
এখানে খাটবে না কোনো বিধি-বিধানের তড়প,
রাজা-প্রজা, আমির-ফকির
সবাই খাবে মরণ-ঝাপটা, সমান রে সব হরফ!

জারি হবে যখন রবের শাহী ফরমান,
ছেড়ে যেতেই হবে এই মহাকাল, এই চেনা আসমান!
এই মায়াবী দুনিয়া শুধু চেয়ে চেয়ে দেখবে,
আর আফসোস করে বলবে
হঠাৎ তোমার মৃত্যু হলো! ফুরিয়ে গেল সব কিসসা!’
এত কম বয়সে চলে যাবে অনন্তের পথে,
কেউ তো করেনি রে এই কল্পনার অংশা!

আজকে তুমি সুস্থ-সবল, দড় দাপুটে জোয়ান,
কিছুক্ষণ পরেই তুমি নেই
স্তব্ধ হবে তোমার এই অহংকারী বয়ান!
মানুষ শুধু দেখবে আর হতবাক হয়ে রবে,
একি হলো!
ছেলেটি কিংবা মেয়েটি এতো অল্প বয়সে চলে গেল শেষ উৎসবে?
আসলে কি তাই? না!
হায়াত ফুরিয়ে গেছে তোমার,
আজকে তুমি জিন্দা মানুষ, কালকে তুমি লাশ!
কবরের সেই ঘুটঘুটে আঁধারে,
মিশে যাবে তোমার মাংস, হাড় আর দীর্ঘশ্বাস!

এই দুনিয়ার মেকি মুসাফিরখানা,
কেউ তোমায় স্মরণ করবে না, রাখবে না কোনো নিশানা।
তবে কেন হে মানব, তোমার এত দম্ভ আর অহংকার?
কেন এই মায়াজালে ডুবে করো এত অন্যায়, অত্যাচার আর জুলুমের কারবার?
তুমি কি তৈরি আছো হে মানব, সেই শেষ তকদিরের তরে?
একদিন হয়তো হঠাৎ করেই,
হাজিরা দিতে হবে সেই মালিকের দরবারে!

এই প্রাণ বড় ক্ষণিকের, বড়ই পলকা রে ভাই,
তোমার নিজস্ব এখতিয়ারে এর কোনো নিয়ন্ত্রণ নাই!
কী ছেলে, কী মেয়ে, কী তোমার জানের প্রেয়সী,
কিংবা জানবাজ বন্ধু-বান্ধব
কেউ কি পারবে আটকাতে তোমায়হয়ে মহাকালের বর্শী?
নাহ্‌! কেউ পারবে না!

তাই দম্ভ ছাড়ো হে মানব! জাগো মোনাজাতের ক্রন্দনে,
ছিঁড়ে ফেলো এই ইবলিসি পাপের মায়াবন্ধনে!
মুছে ফেলো সব অন্যায়, অত্যাচার, জুলুমের কালো দাগ,
হঠাৎ আসার ডাকের আগে খোদার দরবারে করো গো অনুরাগ!
আজরাইলের এক ঝটকায় টুটে যাবে দুনিয়াদারির সব খাঁচা,
দুনিয়ার কেউ পাশে রবে না ভাই
কেবল রবের রহমত আর আমলনামার পুঁজিপত্রই সেদিন রাখবে তোমায় বাঁচা!
হঠাৎ মৃত্যুর সেই মহালগ্নে
তোমার ঈমানের আলোটুকুই শুধু রবে জিন্দা, রবে সাচ্চা!

-----------------------------------------------------------------------------------

 

মাগো, কোথাও আলো নাই

 

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

*************************************

মাগো!
তোমাকে তো দেখতে চাইনি এমন জরাজীর্ণ, মলিন, রিক্ত!
তুমিতো রক্তে ধুয়েছিলে শাড়ী,
শহীদের খুনে সিক্ত!
দিয়েছিলে কথা
সন্তানেরা গাইবে সমস্বরেসোনার বাংলাগান,
আজ কেন তবে ভিনদেশী সুরে বিকিয়ে দিচ্ছে তারা নিজের ঈমান?
আজো বাতাসে ওড়ে শত্রুর শ্লোগান,
আজো রাজপথে ঘাতকের আহ্বান!
লজ্জা কার হে জননী?
তবে কি তুমি আজ ব্যর্থ?
নাকি তোমার কুলাঙ্গার সন্তানেরা ভুলে গেছে সব শর্ত?

স্বাধীনতার এতগুলো বছর পার,
তবুও কেন চারিপাশে শুধু হাহাকার?
কেন সন্তানেরা খুন হয়?
কেন ঘুম কেড়ে নেয় গুমের ঘোর ভয়?
নিরাপত্তা নাই,
জীবিকার ঠাঁই নাই,
চুরি, ডাকাতি, রাহাজানির আর অন্ত নাই!
চাঁদাবাজ আর দখলবাজের দল
লুটেপুটে খায় তোর বুকের চঞ্চল ফল!

আইনের শাসন আজ বন্দী,
শাসকের মুখে শুধু মিথ্যের ফন্দি!
এমপি-মন্ত্রীদের এত দম্ভ কিসের?
ওরা তো তস্কর দেশের!
মুখে গণতন্ত্রের বুলি,
অথচ বুকে পুরেছে ফ্যাসিবাদের গুলি!
দিকে দিকে আজ মব-তন্ত্রের গ্রাস,
স্বৈরতন্ত্রের চাবুকে পিষ্ট ইতিহাস!

মিলের চাকা স্তব্ধ, বন্ধ কলকারখানা,
বেকার যুবকের আজ ঘরে ফেরা মানা!
ধর্ষিতা বোন কাঁদে, শিশুর আর্তনাদ
ভেঙে ফেলে মাগো সব সহ্যের বাঁধ!
তুমি বলেছিলেজনগণই রাষ্ট্রের মালিক,
তবে কেন আজ মিথ্যা মামলা আর জুলুমের চালিক?
পরাজিত আজ স্বাধীনতা তোর,
চারিদিকে শুধু অন্ধকার ঘোর!

ধিক! শত ধিক!
ক্ষমতার মসনদ ভেঙে চুরমার হোক এবার চারিদিক!
তোর সন্তানেরা তোরে ভালোবাসে না মা,
ওরা দেশদ্রোহী, পাপিষ্ঠ, অধম!
তোর বুকে আজ নেমেছে যেন যম!
মাগো, তুমি কোন নরকের দিকে ছুটে চলেছ একা?
কোথাও আলো নাই, কোথাও নাই মুক্তির রেখা!

--------------------------------------------------------------------