Friday, September 12, 2025

প্রতিবাদী কণ্ঠ

 প্রতিবাদী কণ্ঠ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর
---------------------------------
রাওনাট পশ্চিম পাড়ার মোল্লা বাড়ির সন্তান,
মোঃ হাদিউল ইসলাম মোল্লা — প্রতিবাদের দীপ্ত গান।

ঝড়-তুফানের আগুন পেরিয়ে দাঁড়াও অটল ভূমি,
অন্যায়ের বিরুদ্ধে বজ্র হয়ে গর্জে ওঠে তুমি।

শিক্ষা শেষে শহরের পথে নাও তুমি আলোর দিশা,
তবু মানবতার ডাকে ছুটে যাও গ্রামের নিশা।

ক্ষুধার্ত মুখে জ্বালাও আশার প্রজ্জ্বল শিখা,
বৃদ্ধের চোখে আনো হাসি, মুছে দাও শত দুঃখিকা।

শোষণের আসনে ছুঁড়ে দাও বিদ্রোহের বজ্রকণ্ঠ,
তোমার রক্তে জ্বলে ওঠে ন্যায়ের অগ্নিসংঘ।

সাম্য, সম্প্রীতি, ঐক্যের শঙ্খ বাজাও জোরে,
ধর্ম-বর্ণ ভেদ মুছে দাও মানুষের ঘোরে।

মানবিক সংগঠনের তুমি দৃপ্ত কারিগর,
হাদিউল ইসলাম মোল্লা — রাওনাটের গর্ব, বিজয়ের ঝড়।
----------------------------------------------

সেরা গোলকিপার

 সেরা গোলকিপার

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর
---------------------------------
কাপাসিয়ার দূর্গাপুর গ্রাম, ধানের মাঠে শিশির ভোর,
১৯৫২ সালের ১৮ এপ্রিল, আব্দুল মোতালেবের জন্মের ঘোর।
পিতা আব্দুর রশিদের ঘরে, এলেন তিনি আলোর প্রাণ,
বাংলার মাঠে ফুটবলে গড়লেন গৌরবের মহাকাব্য গান।

১৯৬৯ সালে পূর্ব পাকিস্তান যুব দলে খেলেন প্রথমবার,
সকাল ক্লাবের শুরুর পথে জ্বলে ওঠেন অগ্নিস্ফুলিঙ্গের ধার।
সেই বছরেই রাহমতগঞ্জ এমএফএস-এ শুরু হয় জীবনভর লড়াই,
১৯৬৯ থেকে ১৯৭৯—প্রাচীর হয়ে দাঁড়ান নির্ভীক যোদ্ধার মতোই।

১৯৭৫-এ বিজেএমসি, নতুন রঙে বাজল বাঁশি,
১৯৮০–১৯৮১ সাধারণ বীমা, লড়াইয়ে আনলেন খুশির হাসি।
আবাহনীর নীল জার্সিতে, ১৯৮২ থেকে ১৯৮৭,
বাংলার আকাশে তার নাম—গোলপোস্টের প্রহরী অদম্য দৃপ্তি।

জাতীয় দলে ডাক আসে ১৯৭৩ সালের মেরদেকা কাপে,
বাংলাদেশের প্রথম ব্যাচে মোতালেব দাঁড়ান সগৌরবে।
১৩ আগস্ট ১৯৭৩, সিঙ্গাপুরের সাথে খেলায় বীর,
পেনাল্টি ঠেকিয়ে গড়েন ইতিহাস—বাংলাদেশ পেল প্রথম ক্লিনশিটের নীর।

১৯৮০–১৯৮৪, নৌবাহিনীর বুকে ছিলেন সৈনিক,
বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর দলে অধিনায়ক, সাহসী, দৃপ্ত মনোবল অনিঃশেষ।
তার নেতৃত্বে বাহিনী দল মাঠে ছড়ায় গৌরবের গান,
বাংলার ফুটবল ইতিহাসে তিনি রয়ে গেলেন অম্লান।

তারপর আসে দিল্লির আলো, ১৯৮২ এশিয়ান গেমসের দিন,
বাংলাদেশের অধিনায়ক তিনি, পতাকার তলে দৃঢ় ঋণ।
প্রতিপক্ষ জানে, গোলপোস্ট মানেই অটল এক প্রাচীর,
মোতালেবের সামনে দাঁড়ালে ভয় পায় প্রতিদ্বন্দ্বীর।

খেলোয়াড়ি শেষে কোচের হাল ধরে শেখান তরুণ প্রাণ,
রাহমতগঞ্জে তরুণেরা পায় তার শিক্ষা, সততা আর মহান জ্ঞান।
কিন্তু নিয়তির বাঁশি বেজে ওঠে, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭,
হার্টের আঘাতে নিভে যায় তার আলো, স্তব্ধ হয় মাঠ-গ্যালারি।

তবু আজও মানুষ বলে, মাঠে বাজে তারই নাম,
আব্দুল মোতালেব—স্বদেশের গর্ব, সেরা গোলকিপার, চির অম্লান।
------------------------------------------------

বেকারের আশ্রয়

 বেকারের আশ্রয়

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর
----------------------------------------------------------------------

রাওনাট গ্রামের মেঠোপথে ভোরের শিশির ঝরে,
১৯৫২ সালের ২০ মার্চ আলো ঝলমল করে।
ধানক্ষেতে বাতাস বয়ে গায় সোনার গান,
জন্ম নিলেন হাবিবুর রহমান আকন্দ, জনতার প্রাণ।

পিতা মমতাজ উদ্দিন আকন্দ, মাতা আলকন নেছা,
গরিব-দুঃখীর হৃদি ভরা আশার বেদি রচনা করলেন খাঁটি দেশা।
পাখির কলতানে বেড়ে উঠলেন সবুজ গ্রামীণ কোলে,
সততার আলোয় ভরিয়ে দিলেন জনতার ভাঙা হৃদি, খোলা দিগন্ততলে।

ভাকোয়াদী বিদ্যালয়ে পড়াশোনার পথে,
১৯৬৮ সালে এসএসসি জয় হলো গৌরবের রথে।
জামালপুর কলেজে পড়লেন দীপ্ত প্রাণে,
১৯৭৩-এ এইচএসসি পাস করলেন সম্মানের টানে।

১৯৭১-এ সংগ্রামের ডাক, মুক্তির দাবির গান,
ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সম্পাদক তিনি, অদম্য-অভিমান।
১৯৭৩-এ আওয়ামী লীগে যোগ দিলেন নির্ভীক হাতে,
দেশ ও শ্রমিকের পাশে দাঁড়ালেন আলোর রাতে।

বাংলাদেশ রেলওয়ে হলো তাঁর কর্মভূমি,
শ্রমিকের পাশে দাঁড়িয়ে দিলেন ন্যায়ের প্রতিশ্রুতি।
রেলওয়ে শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে,
দিন রাত ছুটেছেন তিনি শ্রমিকের কল্যাণ রোদে।

দশ দফা দাবিতে রেলওয়ে কাঁপলো তার কণ্ঠস্বর,
শ্রমিক-জনতার অধিকার নিয়ে বাজালেন নতুন ঘন্টার।
ঢাকা মহানগর শ্রমিক লীগের সভাপতি তিনি,
জাতীয় শ্রমিক লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি, সম্মানে ভরি।

২০১২ সালে রেল চাকুরিতে টানলেন অবসরের রেখা,
তবু শ্রমিকের দুঃখে পাশে, আঁধারে দিলেন দেখা।
দুই ছেলে এক মেয়ের জনক, সংসার আলোয় ভরা,
তবু শ্রমিক-জনতার জন্য প্রাণ দিলেন তিনি ধরা।

আজও লোকমুখে বাজে তাঁর সংগ্রামের গান,
বেকারের আশ্রয়, শ্রমিকের প্রেরণা, সবার মহান।
রাওনাট গ্রামের কৃতি সন্তান, আলোয় আছেন অম্লান,
সাম্যের মূর্তপ্রতিক তিনি—জনতার চিরন্তন প্রাণ।


প্রখ্যাত শ্রমিক নেতা

 প্রখ্যাত শ্রমিক নেতা

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর
---------------------------------
দূর্গাপুর নাশেরার সবুজ মাঠে জন্ম নিয়েছিলেন এক মহান প্রাণ,
খন্দকার আজিজুর রহমান পেরা, কাপাসিয়ার কৃতি সন্তান।

ধানের ক্ষেতে ভোরের শিশির যেমন আনে উজ্জ্বল ভোর,
তেমনি শ্রমিকের মনে তিনি জাগাতেন আশার আলো ঘোর।

বিএডিসির খেটে খাওয়া জনতা পেয়েছিল তাঁর ভরসা,
বটগাছ হয়ে তিনি দিতেন আশ্রয়, মুছাতেন শ্রমিকের আশা।

অধিকারের দাবিতে তিনি দাঁড়াতেন বজ্রপ্রতিম দৃঢ়তায়,
অন্যায়ের আঁধার ভেঙে দিতেন রৌদ্রের আলোকছটায়।

স্বাধীনতার ডাকে তিনি ধরেছিলেন রক্তভেজা অস্ত্র,
বীর মুক্তিযোদ্ধা হয়ে জ্বলেছিলেন আকাশের উজ্জ্বল নক্ষত্র।

মানুষের আস্থায় তিনি হয়েছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান,
দরিদ্রের ঘরে সান্ত্বনার আলো জ্বালাতেন অক্লান্ত প্রাণ।

শোষকের বুক কাঁপত, কেঁপে উঠত অন্যায়ের দুর্গ,
মাঠভরা জনতা শুনত তাঁর অনলবর্ষী বাণী নির্ভীক।

শালিক যেমন গাইত গান, সকালের মিষ্টি হাওয়ায়,
তেমনি তিনি তুলতেন স্লোগান, জনতার মুক্তির চাওয়ায়।

চাঁদের মতো শান্ত মুখে ছড়াতেন আশার নূর,
ধানক্ষেতের বাতাসে বাজত তাঁর ত্যাগের মধুর সুর।

খন্দকার আজিজুর রহমান পেরা ছিলেন নির্ভীক, অকুতোভয় প্রাণ,
অন্যায়ের সামনে শির নত করতেন না, এ ছিল তাঁর মহান দান।

আজও তাঁর নাম ভেসে আসে নদীর জলে, মাঠের ডাকে,
শ্রমিক নেতা, মুক্তিযোদ্ধা, চেয়ারম্যান পেরা ইতিহাসে রয়ে যান।

আর বর্তমানে তিনি রয়েছেন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হয়ে,
সত্যের পতাকা হাতে দাঁড়ান আজও জনতার প্রান্তর বেয়ে।

------------------------------------------------

পাবুরের আলো

 পাবুরের আলো

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর
---------------------------------
পাবুর গ্রামের সবুজ মাঠে, নদীর ধারা বহে,
পাখির ডাকে, কুয়াশা মাখা ভোরের রঙে দাহে।
সেইখানে এক আলোর দিশা—শাহ আলম খান,
১৯৫৩-তে ফেব্রুয়ারির আঠাশ তারিখ প্রাণ।

পিতা ছিলেন আব্দুর রশিদ, স্নেহময় সেই জন,
মায়ের কোলে মানুষ হয়ে ফুটলেন যেমন বন।
ধানের শিষে, নদীর গানে, গ্রামীণ সে ছায়া,
শিক্ষার পথে দীপ জ্বেলে চললেন আলোর মায়া।

১৯৬৮ সালে কাপাসিয়ার পাইলট বিদ্যালয়,
প্রথম বিভাগে এসএসসি—সবার নয়ন জুড়ায়।
নটরডেমের ছাত্র তিনি, ’৭০ সালে জয়,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বপ্ন দিলো অমৃতময়।

১৯৭৩-এ রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকের সে ধারা,
লোক প্রশাসনে ’৭৪-এ হলো স্নাতকোত্তর সারা।
সহকারী কালেক্টর হয়ে যোগ দিলেন তরে,
বিসিএসের মর্যাদাতে দেশসেবার নেশায় ঘরে।

পদে পদে উন্নতি পেয়ে কমিশনার নাম,
শুল্ক গোয়েন্দা মহাপরিচালক—গৌরব তার ধাম।
অবসরে আজ শান্ত সুধায় বসে আছেন তিনি,
তবু আলো জ্বালেন সকল হৃদয়, গ্রামের মাটির ঋণী।

কাপাসিয়ার কৃতি সন্তান, খান বাড়ির গর্ব,
পাবুরের মাটি ভিজিয়ে রেখেছে তাঁর সব।
নদীর ঢেউ, ধানের গন্ধ, মাঠের সবুজ আলো—
চিরদিনের দিশারী তিনি, “পাবুরের আলো”।
------------------------------------------------

অগ্রপথিক

 অগ্রপথিক

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর
---------------------------------
রাওনাট পশ্চিম পাড়ায় ভূঁঞা বাড়ির বুকে,
পূর্ণিমার আলো নেমে এলো স্নিগ্ধ সুখে।
সেই ঘরে জন্ম নিলো আলো ঝরানো প্রাণ,
জনাব আলী আজগর ভূঁঞা, অগ্রপথিক মহান।

শৈশবের খেলাঘরে মাঠে-ঘাটে দৌড়,
উদ্দ্যামী ছেলেটি তখনো ছিলো অদম্য ভর।
সম্প্রীতির ডাক শুনে ছুটতো সবার আগে,
মানবতার মিছিলে থাকতো অগ্রভাগে।

গরিব দুঃখীর সাথী, অকুতোভয় সৈনিক,
মানবিক কল্যাণে ছিলেন সদা সচেষ্ট এক।
রাওনাটের গৌরব তিনি, দানিজ আলীর সন্তান,
সবার ভালোবাসায় ভরে উঠেছে তাঁর গান।

কর্মজীবনে হয়েছিলেন আশার কর্মী,
জয়েন্ট ডেপুটি ডিরেক্টর—তবু মন ছিলো ধর্মী।
দপ্তরের দায়িত্ব শেষে জনপথে যান,
গ্রামীণ জনতার পাশে আনে আশা ভোরের গান।

যতই থাক কাজের ব্যস্ততা, অফিসের ডাকে,
মানবিক করুণা তাঁকে ফেরায় গ্রামীণ ফাঁকে।
তিনি চির উপমা আমাদের হৃদয়ে,
অগ্রপথিক হয়ে থাকুন মানবতার স্রোতে।

হে অগ্রপথিক, তোমার যাত্রা হোক দীপ্ত সভ্যতায়,
মানবিক সংঘের সারথী হয়ে থাকো অনন্ত প্রত্যাশায়।
তোমার নাম গেয়ে উঠুক পথ-প্রান্তর-গাঁও,
তুমি আছো তাই আমরা পাই আশার ছাও।
----------------------------------------------

শিক্ষার নক্ষত্র

 শিক্ষার নক্ষত্র

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর।
********************************
--------------------------------------------------
চান্দুন গ্রামে উদিত সূর্য, আলোর মশাল জ্বালে,
আবদুল কুদ্দুস জন্ম নিলেন সম্ভাবনার কূলে।
পিতা আব্দুল ওয়াজেদ আকন্দ, জ্ঞানের আলোয় ভরা,
স্বপ্ন বুনলেন সন্তানেরে, শিক্ষা হবে ধরা।

কলকাতার নগরীতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বুকে,
বিএ ডিগ্রীর স্বর্ণশিখা জ্বলে জ্ঞানের সুখে।
পরে নিলেন বিটি শিক্ষা, দৃঢ় প্রতিজ্ঞ প্রাণে,
গড়বেন ভবিষ্যৎ কিশোরদের, জ্ঞানের উজ্জ্বল গানে।

উনিশশো চল্লিশে এলেন কাপাসিয়া হাই স্কুলে,
প্রধান শিক্ষক হয়ে বসেন গৌরবময় তুলিতে।
পাঁচ বছর ছিলেন কর্ণধার, দক্ষতায় অতুল,
ছাত্রদের স্বপ্ন সাজালেন, আকাশেরই ফুল।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে প্রথমবার,
ম্যাট্রিক পরীক্ষা বসে, উজ্জ্বল হল সংসার।
তারই যুগে সেই আলোক, দীপ্তি ছড়ায় দূরে,
কাপাসিয়ার নাম উঠেছিল শিক্ষা-ভুবন জুড়ে।

সরকারি চাকরি ডাকল, ছাড়লেন প্রধানপদ,
সাব ইন্সপেক্টর অব স্কুলস হলেন আলোর নদ।
ধাপে ধাপে পদোন্নতি, জেলা শিক্ষা প্রধান,
প্রাণপ্রাচুর্যে সেবায় গড়লেন শত শত প্রাণ।

অবসর নিলেন গৌরবে, শেষ হলো কর্মপথ,
কিন্তু রেখে গেলেন স্মৃতি, চিরঅমলিন রত্নরত্ন।
কাপাসিয়ার কৃতি সন্তান, গর্বেরই আলোকধারা,
আমরা কৃতজ্ঞ তার প্রতি, স্নিগ্ধ সকাল-সন্ধ্যারা।

হে মহান আল্লাহ, দাও তাকে ফেরদৌসের ঠিকানা,
স্বপ্নের মতো শান্তি পাক তার আত্মার সোপান।
শিক্ষার নক্ষত্র তিনি, দীপ্ত ইতিহাসের গান,
অমর হয়ে থাকবেন কুদ্দুস, মানবহৃদয় প্রাণ।
--------------------------------------


জনদরদী

 জনদরদী

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর।
********************************
--------------------------------------------------
তরগাঁও গ্রামের অমল ধরা, স্নিগ্ধ শিশির ভেজা,
সেই মাটিতে জন্ম নিলো মানবতার সেঁজা।
জনাব এ কে এম শফিউদ্দিন আহমেদ—দীপ্তির আলো,
পিতা লাল মাহমুদ বেপারীর উত্তরসূরি, মহৎ ভালো।

কাপাসিয়া হাই স্কুল যেন ভোরের প্রথম সূর্যোদয়,
তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রমে জেগে উঠল শিক্ষার মহিমাময়।
ম্যানেজিং কমিটির মণি হয়ে জ্বলে উঠলেন বারবার,
জ্ঞানের দীপ জ্বালাতে লড়লেন দিন-রাত অবিরাম ধারাবাহার।

তিনি ছিলেন শিক্ষার কৃষক, বুনলেন আলো-ফসল,
তরগাঁও গ্রামে কোহিনূর বালক উচ্চ বিদ্যালয়—স্বপ্নের সম্বল।
আরেকটি রত্ন দিলেন মানবতার হদয়ে,
কোহিনূর বালিকা বিদ্যালয় যেন চাঁদের কিরণ সেঁজে।

নারী শিক্ষার প্রসারে ছিলেন শিউলি ফুলের সুবাস,
অজপাড়াগাঁয় তাঁর অবদানে ছড়াল ভোরের আভাস।
জনতার মাঝে ছিলেন নদীর মতো শান্ত-গভীর,
তরগাঁও ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট-চেয়ারম্যান হয়ে করলেন আলোকের নীর।

তুমি জনদরদী, তুমি অশ্রু মুছে দেওয়া নক্ষত্রতারা,
তোমার বীজে আজও ফোটে শিক্ষার ফলবান ধারা।
তুমি আকাশে চাঁদ, তুমি প্রভাতের সোনালী রবি,
প্রজন্মে প্রজন্মে জ্বলবে তোমার অমর গৌরবের ছবি।


--------------------------------------


রাত্রির উজ্জ্বল আলো

 রাত্রির উজ্জ্বল আলো

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর।
********************************
--------------------------------------------------
তুমি আলহাজ্ব মোঃ শহিদুল্লাহ মোল্লা, ফুলবাড়িয়ার সন্তান,
ঐতিহ্যবাহী মোল্লা বংশে তোমার জীবন দহন।
১৯৬৮ সেপ্টেম্বর জন্ম, ধ্রুবতারা দীপ্ত আলো,
অন্ধকারে দিশারী তুমি, পথের প্রদীপ ভালো।

তোমার পিতা মহাদ্দিস, মাওলানা আব্দুর রশিদ,
কামরা মাসক সিনিয়র মাদ্রাসায় রেখেছেন জ্ঞানের নিদ।
প্রাথমিক, উচ্চ বিদ্যালয় – ফুলবাড়িয়ার শিক্ষা ধরা,
সপ্তম শ্রেণী শেষে মাদ্রাসায় এলো নতুন পথ ধরা।

১৯৮৬ দাখিল পাস, লিখলে জ্ঞানের গান,
১৯৮৮ জামালপুর ডিগ্রী কলেজে এইচএসসি মহান।
কালিগঞ্জ শ্রমিক কলেজে বিএ পরীক্ষার দ্বার,
পাশ হয়নি, তবু থামেনি তোমার সংগ্রামপার।

কাপাসিয়ার ব্যবসায় নামলে, গড়লে স্বপ্নের হাট,
বাজার সমিতির নির্বাচনে সংগঠনিক হালকাঠ।
রাজনীতির আঙিনায় প্রবেশ করলে অগ্নিশপথে,
১৯৮৩ ছাত্রদলের ওয়ার্ড সভাপতি, দৃপ্ত সেই রথে।

১৯৮৮ ইউনিয়ন ছাত্রদল সভাপতির তরে,
তারুণ্যের আগুন জ্বলে তোমার বজ্রঘরে।
১৯৯৫ থেকে তিনবার ভোটে যুবদলের নেতৃত্ব,
সভাপতি তুমি, ইতিহাসে রয়ে গেছে সুস্পষ্ট।

উপজেলার সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক, সহ-সভাপতি ধ্বনি,
ভারপ্রাপ্ত সভাপতির আসন, দুই বছরের বাণী।
গাজীপুর জেলা যুবদলের কৃষি সম্পাদক তুমি,
কৃষকের ঘামে লেখা তোমার কর্তব্যধর্মী নামই।

আজ তুমি দুর্গাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি,
জনতার স্বপ্নে দাঁড়াও তুমি অগ্নিবীণার গীতি।
সন্ত্রাস, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে বিদ্রোহী কণ্ঠ,
ন্যায়-নীতির পতাকাতে অঙ্গীকার অম্লান যুক্ত।

রাত্রির উজ্জ্বল আলো তুমি, জনতার কাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন,
সৎ ও বিনয়ী চরিত্রে ভাসে আগামীর দহন।
আজ তোমার বয়স ছাপ্পান্ন, তবু আগুন নিভেনি,
দূর্গাপুরের ধ্রুবতারা তুমি—অমর বিদ্রোহী বেণী।
--------------------------------------

সমাজ সেবক

 সমাজ সেবক

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর।
********************************
--------------------------------------------------
বানারহাওলার মাটিতে জন্ম নিলো প্রাণ,
দৌলত খানের সেবায় জ্বলে শিক্ষাদান।
পিতা আব্দুল করিম খান—গৌরব দীপশিখা,
মানবতার আলোতে ফুটলো তার দিশা।

কাপাসিয়া হাই স্কুল গড়লেন তিনি হাতে,
আলো ছড়ালেন জ্ঞানে গ্রামের প্রাণকাতে।
নিজ গৃহভিটেতে গড়ে পাঠশালা তার,
উনবিংশ শতকে জাগে বিদ্যার অঙ্কুরধার।

তিনি ছিলেন মহীরুহ—ছায়া দিলো প্রাণে,
করুণা তার ঝরলো যেন শ্রাবণধারায় টানে।
অন্ধকারে সূর্য হয়ে ভাঙলেন ঘোর রাত,
শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিলেন সোনার ভাত।

কাপাসিয়ার মানুষ তাঁকে স্মরণ করে আজ,
কৃতজ্ঞতায় ভরে আছে প্রজন্ম সবার মাঝ।
যেমন বসন্তে ফুলে ভরে ওঠে বন,
তাঁর অবদান ছড়ায় চির সুবাসের কণ।

হে মহান আল্লাহ, করুন দান-নির্দ্বিধ,
জান্নাতুল ফেরদৌসে দিন চির আনন্দসিদ্ধ।
মানবতার আকাশে তার দীপকিরণ থাক,
সেবার আলোয় দুনিয়া চির উজ্জ্বল হোক।
--------------------------------------


হিতৈষী প্রাণ

 হিতৈষী প্রাণ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর।
********************************
পিরিজপুরের মাটিতে জন্ম নিল এক মানুষ,
আব্দুস সাহিদ মোক্তার—এক সোনালী আকাশ।
ময়মনসিংহে পড়াশোনা কইরা দিলেন পাশ,
তারপর বানার হাওলায় মামার বাড়ি করলেন বাস।

মানুষের পাশে দাঁড়ানোই ছিল তাঁর কাজ,
দুঃখীর মুখে হাসি ফুটাইতেন বারোমাস।
কাপাসিয়া ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট হইলেন,
গরিব দুঃখীর সুখে-দুখে সবার মাঝে রইলেন।

উনিশশো ছেচল্লিশ সালে এম.এল.এ নির্বাচিত,
কাপাসিয়া-কালীগঞ্জ-শ্রীপুরে নাম হইল লিখিত।
ঢাকা বোর্ডেরও সদস্য হইয়া করলেন দান,
রাস্তা-ঘাট, স্কুল-মাদ্রাসা গড়লেন প্রতিদিন।

কাপাসিয়া হাই স্কুলের তিনি আসল উদ্যোক্তা,
এম-ই স্কুলে দিয়া গেছেন নতুন আলোর দিশা।
শিক্ষার আলো ছড়াইয়া দিলেন গ্রামেগঞ্জে,
মানুষ বলত—“এমন নেতা কইবা পাইবা কইঞ্জে?”

তিনি ছিলেন গাছের মতো, ছায়া দিতেন প্রাণে,
শীতল বাতাস বইত তাঁর দয়ার টানে।
নদীর মতো বহত দয়া, পাহাড়সম দৃঢ়,
অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াইতেন কঠিন অটল।

হিতৈষী প্রাণ—মানুষের আপনজন,
মানবিকতার আলোকশিখা, কালের অমর ধ্বনন।
আল্লাহর দরবারে করি সবাই দোয়া,
ফেরদৌসের বাগানে থাকুন তিনি চিরদিন সোহাগিয়া।

--------------------------------------------------


শিক্ষার অগ্রদূত

 শিক্ষার অগ্রদূত

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর।
********************************
দূর্গাপুরের বুকে ভোরে, ১৯৩০ দশকের গান,
জন্ম নিলেন আলো হয়ে—প্রফেসর মান্নান।
আব্দুল মজিদ–এশা খাতুন, স্নেহের আঁচল তলে,
শিক্ষার শিখা জ্বালতে তিনি, এলেন পৃথিবি জগতে।

১৯৪৮ সালে ম্যাট্রিক পাস, প্রথম বিভাগের জয়,
কাপাসিয়ার ইতিহাসে তিনি, রইলেন দীপ্তিময়।
১৯৫০-এ ঢাকা কলেজে ইন্টারমিডিয়েট পাশ,
আশার প্রদীপ জ্বালালেন তিনি, জ্ঞানের নির্মল আভাস।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পথে, ছিল তার অগ্রগতি,
১৯৫৪-তে এম.এ. ডিগ্রি, সাফল্যের জ্যোতি।
পরে বিএড লাভ করে, গড়লেন জ্ঞানের ধারা,
শিক্ষকতার মশাল হাতে, ছড়ালেন আলোকধারা।

সহকারী থেকে অধ্যাপক, পদে পদে গৌরব,
অসংখ্য ছাত্রের প্রাণে তিনি, শিক্ষার অনুরাগ।
তিনি ছিলেন অগ্রদূত, আলো ছড়ানো প্রদীপ,
মহান আল্লাহ করুন দয়া, রাখুন জান্নাত নিকট-সঙ্গী।
--------------------------------------------------

কাপাসিয়ার প্রথম গ্রাজুয়েট

 কাপাসিয়ার প্রথম গ্রাজুয়েট

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
******************************************
উরুন গাঁয়ের ভোরের কুয়াশা ফুঁড়ে, জ্বলল এক নক্ষত্র দীপ,
১৯০৫-এর ডিসেম্বরের উনত্রিশে, সূর্যের মতো হল উদ্ভাসিত।
পিতা আব্দুল হামিদ সারোয়ার, যেন শান্ত বটবৃক্ষ তলে,
মাতৃভূমি পেলেন সন্তান—জ্ঞান-আলোক ঝরল দলে দলে।

কালিগঞ্জের আকাশে প্রথম উড়াল, ১৯২৫-এর ম্যাট্রিক জয়,
যেন বসন্তের কোকিল ডাক, বিদ্যার বনে নতুন রঙ বই।
ফেনীর মহুয়া ফুলে ভোরের শিশির—১৯২৮-এর আই এ পাস,
১৯৩১ এ কলকাতার সাগর পার, শিক্ষার তরী পেল সুবাস।

আটদশ গ্রামের প্রথম গ্রাজুয়েট—গৌরবের সেই ধ্রুবতারা,
লোকজন ভিড় করল ঘরে, যেন পূর্ণিমার আলোয় মধুকারা।
১৯৩৫ এ শিক্ষক হয়ে নওয়াবগঞ্জে, বকুল ফোটার মতো শুরু,
১৯৩৬ এ কাপাসিয়া এম ই স্কুলে প্রধান—গোধূলি রঙের গুরু।

১৯৩৮ এর জানুয়ারির বাইশে দায়িত্বের পূর্ণিমা রাত,
ফেব্রুয়ারির আটে সূর্যাস্ত হলেও, জ্ঞানের প্রদীপ রইল মাত।
কাপাসিয়ার ডিগ্রি কলেজ, আটটি হাই স্কুলের দীপশিখা,
তিনি ছিলেন কৃষ্ণচূড়া—শিক্ষার আগুনে দগ্ধ কিন্তু মহামহিমা।

১৯৪৪ এ হলেন ইন্সপেক্টর—বেঙ্গলের আকাশে ঝড়ের ডাক,
১৯৪৬ এ জুট ইন্সপেক্টর—কর্মের খাপে বজ্রের ফাঁক।
৩ মার্চ ১৯৮৯ এ অস্ত গেলেন—অস্তগামী সূর্য পশ্চিমে,
তবু আজো তার নাম বেজে ওঠে—দিগন্তের শঙ্খ নিশীথে।

ঈদগাহ উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৯৫১ থেকে প্রধান—
যেন স্নিগ্ধ নদীর ধারায় ভেসে আসা শাপলা-খচিত গান।
তাজউদ্দিনের গুরু তিনি, অভিভাবক ছায়া-বট,
রাজনীতির অরণ্যে তিনি শিমুলের মতো অটল, কঠিন, তবু লালমত।

ধলাগড়ের উঠোনে তিনি ছিলেন প্রভাতের শীতল শিশির,
তাজউদ্দিনের ডায়েরিতে তাই বাজে তাঁর নাম অমৃত নীর।
চরসিন্দুরের কন্যাকে বিয়ে করে গড়লেন সংসার-আকাশ,
প্রেম যেন শিউলির সুবাস, সংসার যেন নদীর বিশ্বাস।
--------------------------------------------------------

Thursday, September 11, 2025

জুলুমের ফল

 জুলুমের ফল

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
*********************************
ওহে মানুষ, শুনো আল্লাহর বাণী,
যিনি জানেন গোপন ও প্রকাশিত হৃদি।
"যারা জুলুম করেছিল এই পৃথিবীতে,"
আল্লাহ বলেন, "তাদের জন্য ধ্বংসের ঘড়ি।"
(সুরা আল-আনআম, 6:65)

তুমি যে শাসক, শক্তি হাতে,
অন্যায়ের ছায়া ফেলে দুনিয়ার রাস্তাতে।
হাস্যরসের পেছনে লুকিয়ে আছে অশ্রু,
আল্লাহ বলেন, "তাদের কৌশল ব্যর্থ হবে, ধ্বংস অনিবার্য।"
(সুরা আল-আনফাল, 8:25)

প্রতিটি অহংকার, প্রতিটি নিপীড়ন,
ধূলির ন্যায্য পথে গড়াবে ধ্বংসের দহন।
ফিরে আসবে সেই দিন, যখন কালে,
তুমি হিসাব দেবে, কোনো লুকোনো নয়।
(সুরা আল-ইমরান, 3:182)

শাসন যদি হয় জুলুমের প্রতীক,
দূর হবে শান্তি, হারাবে মানুষিক শক্তি।
"আল্লাহ শাসক ও নিপীড়ককে চিহ্নিত করেন,"
যথাযথ প্রতিফল হবে তার বিচার্যে।
(সুরা আল-মুমিনুন, 23:47)

তবু মনে রেখো, ক্ষমতা কেবল ক্ষণস্থায়ী,
সৎ পথের আলোই চিরন্তন, জুলুমের শেষ নাই।
জুলুমের পরে আসে বিধ্বংস, অনন্তের ঘোর,
নিবিড় অন্ধকারে হারায় অহংকার, মিথ্যা জয়।
(সুরা আল-ক্বাসাস, 28:83)

-------------------------------------------------------------

সেবার প্রতীক

 সেবার প্রতীক

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
*********************************
আনুমানিক ১৯০৪ সালের আলোয় জন্মগ্রহণ,
নিয়ামত আলীর কোল ঘিরে জীবন খুঁজে স্বপ্ন।
কান্দিপারা আস্কর আলী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মেট্রিক,
ময়মনসিংহ মেডিকেল স্কুলে ন্যাশনাল পাশের গর্বিনী।

মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করলেন,
চিকিৎসার পথে হাঁটলেন, দুঃখী জনের সুখে হাসলেন।
ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য পদে দায়িত্ব কাঁধে,
বৃটিশ শাসনের যুগে, জমিদার প্রথার সঙ্গে লড়লেন।

লম্বা বেঞ্চে মুসলমান সদস্যদের বসার ব্যস্ততা,
ডাঃ হুসেন আলী স্থাপন করলেন চেয়ারের সহজতা।
যোগেন্দ্র বাবুর নিকট থেকে জোটের শক্তিতে,
প্রেসিডেন্টশীপ আনে, জনতার স্বপ্নে অনুপ্রাণিত।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, ১৩৫০ বঙ্গাব্দে,
দেশে দুর্ভিক্ষ ও মহামারি, মানুষের জীবন ঝরে।
নম্গরখানা খুলে, খাদ্য দানে করলেন বন্দোবস্ত,
১০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল ও কলেরা হাসপাতাল মঞ্জুর।

আজও টোক উপ-স্বাস্থকেন্দ্র তার স্মৃতির প্রতীক।
অশিক্ষার অন্ধকার দূর করতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা,
টোক রনেন্দ্র, সরজুবালা, মাদরাসা ও প্রাইমারি বিদ্যালয় স্থাপনা।
ডাকবাংলো নির্মাণ করে সরকারি কর্মকর্তাদের সেবা,

প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন জুরি হাকিমের ন্যায়বিচার দানে অম্লান প্রেবা।
বৃটিশ সরকারের রুপ্য পদে ভূষিত,
এস.ডি.ও ও অন্যান্য পুরস্কারে সম্মানিত।
৩২ বছর নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসাবে জনতার সেবা,

বর্তমান প্রজন্মের জন্য আদর্শ ও অনুসরণীয়।
মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী
শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ, ভক্তিভরে শ্রদ্ধা জানাতেন,
টোকে সফরে এসে সাক্ষাৎ।

নিঃস্বার্থ এই সমাজসেবক আলোর প্রদীপ হয়ে
২৭ মার্চ ১৯৭৫ (১৪ চৈত্র ১৩৮২ বঙ্গাব্দ) চিরবিদায় নিলেন।
জনতার হৃদয়ে অমর রইলেন,
ডাঃ হুসেন আলী, সত্যিকারের সেবার প্রতীক।
-------------------------------------------------------------

এক অনন্ত দীপ্তি

 এক অনন্ত দীপ্তি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
*********************************
টোকের মাটিতে, মুসলিম পরিবারের আলোয় জন্ম নিলেন তিনি,
১৯৩৪ সালের ১লা নভেম্বর, প্রভাতের রোদে ভরে উঠল জীবন।
টোক ইউনিয়নের গুণীজনের মাঝে উজ্জ্বল তার দীপ্তি,
মানবিকতা, সততা ও ভ্রাতৃত্বের পথে এগিয়ে চললেন তিনি।

শৈশব কাটল গ্রামের মাঠ-মালা আর বটবৃক্ষের ছায়ায়,
প্রকৃতির মাঝে রঙে-মেশায় গড়লেন নৈতিকতার প্রথম পাঠ।
মরহুম শরীফ মোমতাজ উদ্দিন আহমেদ—নামটি ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা,
১৯৮৩ থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত গাজীপুর জেলা পরিষদের সদস্য।

জেলার উন্নয়নের কাজে রেখেছিলেন অপরিসীম অবদান,
এলাকাবাসীর সঙ্গে মিলেমিশে করলেন অগাধ সেবা ও নেতৃত্ব প্রদর্শন।
রাস্তা, ব্রিজ, বিদ্যুৎ ও পানীয় জল—সবই তার অদম্য প্রচেষ্টায় জীবন্ত হলো,
গ্রামের প্রতিটি কোণে ছড়িয়ে গেল উন্নয়নের আলো।

পেশায় ব্যবসায়ী, চিত্তে উদার, প্রাণে দানশীল,
লায়ন্স ক্লাব ইন্টারন্যাশনাল ৩১৫ বি২-এর ডিস্ট্রিক চেয়ারম্যান ছিলেন সক্রিয়।
চক্ষু হাসপাতাল ও ব্লাড ব্যাংকের আজীবন দাতা,
মানুষের কল্যাণে জীবন উজাড় করে দিয়েছিলেন উদার ও অনন্য হৃদয়ে।

দূরদৃষ্টি, সঠিক বিচারবুদ্ধি আর উদারতা—এলাকার মানুষের জন্য তিনি ছিলেন দিশারী,

প্রত্যেক চোখে হাসি, প্রত্যেক প্রাণে আশার আলো পৌঁছে দিয়েছিলেন।
১৯৮৭ সালে টোক ইউনিয়নে মহাবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা,
এলাকার মানুষের সঙ্গে ঐকান্তিক প্রচেষ্টায়।

কলেজটি পেল সরকারি স্বীকৃতি, অনুদান, জাতীয়করণ,
এলাকাবাসীর প্রস্তাবনায় নামকরণ—শরীফ মোমতাজ উদ্দিন আহমেদ মহাবিদ্যালয়।
ছাত্র-ছাত্রীদের মুখে হাসি, শিক্ষার আলো ছড়াল চারদিকে,
শিক্ষার আলো দিয়ে তিনি কেটে দিল অন্ধকারের সব প্রাচীর।

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সাহায্যের হাত প্রসারিত করেছিলেন,

ঢাকার বাসাবো জামে মসজিদ ও এতিমখানা—উদারতার নিদর্শন।
টোক নয়ন বাজার জামে মসজিদ, কলেজ জামে মসজিদ,
শ্রীপুর কলেজ জামে মসজিদ ও মাদ্রাসা—সবই তার সহায়তার সাক্ষ্য।

প্রার্থনার শব্দ, মানবিক সেবার প্রতিফলন,
প্রকৃতির মতো নির্মল তার হৃদয়ের দীপ্তি, অম্লান অনন্ত।
স্থানীয় ও বহির্বিশ্বে ছড়িয়েছে তার দানের ছোঁয়া,
মানবতার প্রতি নিষ্ঠা সত্যিই ছিল অনন্য।

এলাকাবাসীর সঙ্গে মিলেমিশে সব উদ্যোগে তিনি নেতৃত্ব দান,
ধর্ম, শিক্ষা ও সমাজ—সব ক্ষেত্রে রেখেছেন সেবার প্রমাণ।
প্রত্যেক পাথরে, প্রত্যেক প্রাঙ্গণে তার স্মৃতি,
আলোর দ্যুতি হয়ে জ্বলে, আঁধারের মাঝেও পথ দেখায়।

৪ঠা জুলাই ২০১০ সালে মৃত্যুবরণ করেছিলেন তিনি,
কিন্তু তার কাজ বাঁচে মানুষের মনে চিরস্মৃতির ছায়ায়।
তার কর্ম, দান, প্রতিষ্ঠা—সবই ইতিহাসে লিখিত,
এলাকার মানুষের হৃদয়ে চিরন্তন দীপ্তি হয়ে জ্বলিত।

মৃত্যুর নিস্তব্ধতায়ও তার নাম,
সেবা ও দানের গল্প হয়ে নদীর মতো বয়ে যায়, শান্ত ও অমলিন।
জন্মেছিল টোকের মাটিতে, জীবন ছড়িয়েছে সবখানে,
মহাবিদ্যালয়, মসজিদ, মাদ্রাসা—তার নাম জড়ানো সব পাথানে।

শরীফ মোমতাজ উদ্দিন আহমেদ (জন্ম: ১৯৩৪, মৃত্যু: ২০১০)—এক মহান ব্যক্তি,

টোক ইউনিয়নের মানুষের হৃদয়ে বেঁচে আছেন চিরন্তন স্মৃতিতে।
প্রতি চোখে হাসি, প্রতি হৃদয়ে ভালোবাসা,
এক অনন্ত দীপ্তি হয়ে জ্বলে ওঠে তার স্মৃতি, অম্লান, অমোঘ, অমলিন।
-------------------------------------------------------------