Thursday, September 11, 2025

জুলুমের ফল

 জুলুমের ফল

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
*********************************
ওহে মানুষ, শুনো আল্লাহর বাণী,
যিনি জানেন গোপন ও প্রকাশিত হৃদি।
"যারা জুলুম করেছিল এই পৃথিবীতে,"
আল্লাহ বলেন, "তাদের জন্য ধ্বংসের ঘড়ি।"
(সুরা আল-আনআম, 6:65)

তুমি যে শাসক, শক্তি হাতে,
অন্যায়ের ছায়া ফেলে দুনিয়ার রাস্তাতে।
হাস্যরসের পেছনে লুকিয়ে আছে অশ্রু,
আল্লাহ বলেন, "তাদের কৌশল ব্যর্থ হবে, ধ্বংস অনিবার্য।"
(সুরা আল-আনফাল, 8:25)

প্রতিটি অহংকার, প্রতিটি নিপীড়ন,
ধূলির ন্যায্য পথে গড়াবে ধ্বংসের দহন।
ফিরে আসবে সেই দিন, যখন কালে,
তুমি হিসাব দেবে, কোনো লুকোনো নয়।
(সুরা আল-ইমরান, 3:182)

শাসন যদি হয় জুলুমের প্রতীক,
দূর হবে শান্তি, হারাবে মানুষিক শক্তি।
"আল্লাহ শাসক ও নিপীড়ককে চিহ্নিত করেন,"
যথাযথ প্রতিফল হবে তার বিচার্যে।
(সুরা আল-মুমিনুন, 23:47)

তবু মনে রেখো, ক্ষমতা কেবল ক্ষণস্থায়ী,
সৎ পথের আলোই চিরন্তন, জুলুমের শেষ নাই।
জুলুমের পরে আসে বিধ্বংস, অনন্তের ঘোর,
নিবিড় অন্ধকারে হারায় অহংকার, মিথ্যা জয়।
(সুরা আল-ক্বাসাস, 28:83)

-------------------------------------------------------------

সেবার প্রতীক

 সেবার প্রতীক

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
*********************************
আনুমানিক ১৯০৪ সালের আলোয় জন্মগ্রহণ,
নিয়ামত আলীর কোল ঘিরে জীবন খুঁজে স্বপ্ন।
কান্দিপারা আস্কর আলী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মেট্রিক,
ময়মনসিংহ মেডিকেল স্কুলে ন্যাশনাল পাশের গর্বিনী।

মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করলেন,
চিকিৎসার পথে হাঁটলেন, দুঃখী জনের সুখে হাসলেন।
ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য পদে দায়িত্ব কাঁধে,
বৃটিশ শাসনের যুগে, জমিদার প্রথার সঙ্গে লড়লেন।

লম্বা বেঞ্চে মুসলমান সদস্যদের বসার ব্যস্ততা,
ডাঃ হুসেন আলী স্থাপন করলেন চেয়ারের সহজতা।
যোগেন্দ্র বাবুর নিকট থেকে জোটের শক্তিতে,
প্রেসিডেন্টশীপ আনে, জনতার স্বপ্নে অনুপ্রাণিত।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, ১৩৫০ বঙ্গাব্দে,
দেশে দুর্ভিক্ষ ও মহামারি, মানুষের জীবন ঝরে।
নম্গরখানা খুলে, খাদ্য দানে করলেন বন্দোবস্ত,
১০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল ও কলেরা হাসপাতাল মঞ্জুর।

আজও টোক উপ-স্বাস্থকেন্দ্র তার স্মৃতির প্রতীক।
অশিক্ষার অন্ধকার দূর করতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা,
টোক রনেন্দ্র, সরজুবালা, মাদরাসা ও প্রাইমারি বিদ্যালয় স্থাপনা।
ডাকবাংলো নির্মাণ করে সরকারি কর্মকর্তাদের সেবা,

প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন জুরি হাকিমের ন্যায়বিচার দানে অম্লান প্রেবা।
বৃটিশ সরকারের রুপ্য পদে ভূষিত,
এস.ডি.ও ও অন্যান্য পুরস্কারে সম্মানিত।
৩২ বছর নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসাবে জনতার সেবা,

বর্তমান প্রজন্মের জন্য আদর্শ ও অনুসরণীয়।
মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী
শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ, ভক্তিভরে শ্রদ্ধা জানাতেন,
টোকে সফরে এসে সাক্ষাৎ।

নিঃস্বার্থ এই সমাজসেবক আলোর প্রদীপ হয়ে
২৭ মার্চ ১৯৭৫ (১৪ চৈত্র ১৩৮২ বঙ্গাব্দ) চিরবিদায় নিলেন।
জনতার হৃদয়ে অমর রইলেন,
ডাঃ হুসেন আলী, সত্যিকারের সেবার প্রতীক।
-------------------------------------------------------------

এক অনন্ত দীপ্তি

 এক অনন্ত দীপ্তি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
*********************************
টোকের মাটিতে, মুসলিম পরিবারের আলোয় জন্ম নিলেন তিনি,
১৯৩৪ সালের ১লা নভেম্বর, প্রভাতের রোদে ভরে উঠল জীবন।
টোক ইউনিয়নের গুণীজনের মাঝে উজ্জ্বল তার দীপ্তি,
মানবিকতা, সততা ও ভ্রাতৃত্বের পথে এগিয়ে চললেন তিনি।

শৈশব কাটল গ্রামের মাঠ-মালা আর বটবৃক্ষের ছায়ায়,
প্রকৃতির মাঝে রঙে-মেশায় গড়লেন নৈতিকতার প্রথম পাঠ।
মরহুম শরীফ মোমতাজ উদ্দিন আহমেদ—নামটি ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা,
১৯৮৩ থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত গাজীপুর জেলা পরিষদের সদস্য।

জেলার উন্নয়নের কাজে রেখেছিলেন অপরিসীম অবদান,
এলাকাবাসীর সঙ্গে মিলেমিশে করলেন অগাধ সেবা ও নেতৃত্ব প্রদর্শন।
রাস্তা, ব্রিজ, বিদ্যুৎ ও পানীয় জল—সবই তার অদম্য প্রচেষ্টায় জীবন্ত হলো,
গ্রামের প্রতিটি কোণে ছড়িয়ে গেল উন্নয়নের আলো।

পেশায় ব্যবসায়ী, চিত্তে উদার, প্রাণে দানশীল,
লায়ন্স ক্লাব ইন্টারন্যাশনাল ৩১৫ বি২-এর ডিস্ট্রিক চেয়ারম্যান ছিলেন সক্রিয়।
চক্ষু হাসপাতাল ও ব্লাড ব্যাংকের আজীবন দাতা,
মানুষের কল্যাণে জীবন উজাড় করে দিয়েছিলেন উদার ও অনন্য হৃদয়ে।

দূরদৃষ্টি, সঠিক বিচারবুদ্ধি আর উদারতা—এলাকার মানুষের জন্য তিনি ছিলেন দিশারী,

প্রত্যেক চোখে হাসি, প্রত্যেক প্রাণে আশার আলো পৌঁছে দিয়েছিলেন।
১৯৮৭ সালে টোক ইউনিয়নে মহাবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা,
এলাকার মানুষের সঙ্গে ঐকান্তিক প্রচেষ্টায়।

কলেজটি পেল সরকারি স্বীকৃতি, অনুদান, জাতীয়করণ,
এলাকাবাসীর প্রস্তাবনায় নামকরণ—শরীফ মোমতাজ উদ্দিন আহমেদ মহাবিদ্যালয়।
ছাত্র-ছাত্রীদের মুখে হাসি, শিক্ষার আলো ছড়াল চারদিকে,
শিক্ষার আলো দিয়ে তিনি কেটে দিল অন্ধকারের সব প্রাচীর।

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সাহায্যের হাত প্রসারিত করেছিলেন,

ঢাকার বাসাবো জামে মসজিদ ও এতিমখানা—উদারতার নিদর্শন।
টোক নয়ন বাজার জামে মসজিদ, কলেজ জামে মসজিদ,
শ্রীপুর কলেজ জামে মসজিদ ও মাদ্রাসা—সবই তার সহায়তার সাক্ষ্য।

প্রার্থনার শব্দ, মানবিক সেবার প্রতিফলন,
প্রকৃতির মতো নির্মল তার হৃদয়ের দীপ্তি, অম্লান অনন্ত।
স্থানীয় ও বহির্বিশ্বে ছড়িয়েছে তার দানের ছোঁয়া,
মানবতার প্রতি নিষ্ঠা সত্যিই ছিল অনন্য।

এলাকাবাসীর সঙ্গে মিলেমিশে সব উদ্যোগে তিনি নেতৃত্ব দান,
ধর্ম, শিক্ষা ও সমাজ—সব ক্ষেত্রে রেখেছেন সেবার প্রমাণ।
প্রত্যেক পাথরে, প্রত্যেক প্রাঙ্গণে তার স্মৃতি,
আলোর দ্যুতি হয়ে জ্বলে, আঁধারের মাঝেও পথ দেখায়।

৪ঠা জুলাই ২০১০ সালে মৃত্যুবরণ করেছিলেন তিনি,
কিন্তু তার কাজ বাঁচে মানুষের মনে চিরস্মৃতির ছায়ায়।
তার কর্ম, দান, প্রতিষ্ঠা—সবই ইতিহাসে লিখিত,
এলাকার মানুষের হৃদয়ে চিরন্তন দীপ্তি হয়ে জ্বলিত।

মৃত্যুর নিস্তব্ধতায়ও তার নাম,
সেবা ও দানের গল্প হয়ে নদীর মতো বয়ে যায়, শান্ত ও অমলিন।
জন্মেছিল টোকের মাটিতে, জীবন ছড়িয়েছে সবখানে,
মহাবিদ্যালয়, মসজিদ, মাদ্রাসা—তার নাম জড়ানো সব পাথানে।

শরীফ মোমতাজ উদ্দিন আহমেদ (জন্ম: ১৯৩৪, মৃত্যু: ২০১০)—এক মহান ব্যক্তি,

টোক ইউনিয়নের মানুষের হৃদয়ে বেঁচে আছেন চিরন্তন স্মৃতিতে।
প্রতি চোখে হাসি, প্রতি হৃদয়ে ভালোবাসা,
এক অনন্ত দীপ্তি হয়ে জ্বলে ওঠে তার স্মৃতি, অম্লান, অমোঘ, অমলিন।
-------------------------------------------------------------


যদি নেতা হতে চাও

 যদি নেতা হতে চাও

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
*********************************
যদি নেতা হতে চাও—
তবে কণ্ঠে আনো বজ্রের গর্জন!
স্বদেশের রক্ত-চেতনা বুকের ভেতর
ধরো প্রলয়ের অগ্নি-অর্জন!

দেশপ্রেম হবে তলোয়ার হাতে,
সংবিধান হবে ঢাল,
ন্যায়ের নামে ঝাঁপিয়ে পড়ো,
অন্যায় হোক ধ্বংসজ্বাল!

গণতন্ত্রের জ্বলন্ত মশাল
তুমি বহন করো শপথে,
জনতার মুক্ত কণ্ঠস্বর
গর্জে উঠুক রণহুঙ্কারে।

সাম্য হবে ঝড়ের ঢেউ,
ঐক্য হবে বজ্র-ডাকে,
সাম্প্রদায়িক বিষ-সাপগুলো
দলিত হবে পদতলে।

দেশদ্রোহীর বুকের মাঝে
আঘাত করো অগ্নি-শরে,
ফ্যাসিবাদের দুর্গ পুড়িয়ে দাও
দাঁড়িয়ে যুদ্ধক্ষেত্র জুড়ে।

আইনের শাসন হবে মহীরুহ,
যেখানে অন্যায় ছিন্ন,
সভ্য ভাষায় দাও উত্তর,
অসভ্যতা হোক লুপ্ত-নিঃশেষ।

ভিন্ন মতকে সম্মান দাও,
তবে দেশদ্রোহ নয়!
জনতার রায় মানতে শিখো,
অসত্যের নেই কোনো জয়।

সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলবাজি—
সব ভস্ম হবে রণ-বজ্রে,
যদি নেতা হতে চাও—
তবে গর্জে ওঠো দুর্দম বজ্রে!

বলো আগুনের মতো হুঙ্কার দিয়ে—
“আমি নই ভণ্ড নেতা, আমি ঝড়!
আমি নই লোভের ক্রীতদাস,
আমি জনতার রুদ্র-অবতার!

অন্যায়ের সিংহাসন ভেঙে দেবো,
দমিতের ডাক হবে জাগরণ!
আমি নেতা নই—আমি বিদ্রোহী,
আমি বজ্র-গর্জন!”
-----------------------------------------------------------

রাওনাটের প্রবীণ আলো

 রাওনাটের প্রবীণ আলো

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
------------------------------------------
ওহে শুনো, ওহে জানো,
রাওনাটের মাঠ-মালা, বটবৃক্ষের ছায়া,
প্রবীণ আলো জ্বলে উজ্জ্বল, শতবর্ষ পেরিয়ে,
জনাব আব্দুর রশিদ মোল্লা, গ্রামীন হৃদয়ের ছায়া।

উচ্চশিক্ষার দীপ না থাকলেও,
সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছিল তাঁর পদচারণা,
যৌবনের দীপ্তিতে তিনি মেলাতেন মাটির গান,
জমি জমা, বোনা মাপা, সবাইকে করতেন সমান।

বিনা পয়সায় সব কাজে এগিয়ে যেতেন,
সমাজের বিভেদ মিটিয়ে, বন্ধুত্বের ধারা গড়ে,
মাতব্বর বলেই ডাকতো তাঁকে,
রাওনাটের কন্যা-ছেলে, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা সবাইকে ভালোবাসে।

রাওনাট হাছানীয়া সিনিয়র মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা,
শিক্ষার দীপ জ্বেলে, সমাজে পথপ্রদর্শক।
প্রবীণ আলো শিক্ষার মাটিতে বোনা,
ছাত্র-ছাত্রীদের মননে সত্যের দীপ জ্বালানো।

শতবর্ষ পেরিয়ে, হাসি উজ্জ্বল তাঁর মুখে,
প্রবন্ত প্রফুল্লতা, চোখে মিলিয়ে দুঃখ ও স্মৃতি,
সহপাঠী, বন্ধু, প্রিয়জনরা চলে গেছে দূরে,
তাঁর চোখে অশ্রু আসে, প্রভুর দরবারে হাত ওঠে।

রাওনাট গর্বিত, যে এমন আলো জন্মেছে,
মাটির গন্ধে মিশে, নদীর বয়ে যাওয়া স্রোতে,
প্রবীণ আলো এখনও প্রেরণা দেয়,
মানবতার দীপ জ্বালায়, সত্য ও ন্যায়ে।

মহান আল্লাহ, তাকে দান করুন নেক হায়াত,
চিরকাল উজ্জ্বল হোক রাওনাটের এই আলো,
সমাজের পথপ্রদর্শক, শিক্ষার মেলবন্ধন,
শতবর্ষ পেরিয়েও যেন মেলে আমাদের মাঝে আনন্দ।
-------------------------------------------

বিভক্তি কেন?

 বিভক্তি কেন?

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
*******************************
আমরা কি লাল-সবুজের চেতনা বুকে পুষি?
হ্যাঁ! আমরা পুষি! আমরা স্যালুট করি!
অন্তরে অগ্নি জ্বলে, রক্তে ঝড় ওঠে!

কেন মুক্তির মাটিতে প্রশ্নের বাণ ওঠে?
স্বাধীন মায়ের সোপান স্বর্ণালী, অমল, অমর—
কেন দেশ চেতনায় বিভক্তি?

রাস্তায় রাস্তায় শ্লোগান—
তুই রাজাকার! তুই রাজাকার!
ওরা জন্মেছে স্বাধীনতার পরে, তবু কেন তান্ডব?

যদি তারা রাজাকার, অন্যেরা কি শুধুই মুক্তিযোদ্ধা?
না! সরল নয়, সহজ নয়, অগ্নিসদৃশ বিভাজন!

আমরা লাল-সবুজের সন্তান,
স্বপ্নে স্বাধীনতা আঁকি।
বাঙালি, বাংলাদেশী, গণতন্ত্রের রুদ্রস্বর।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস অমলিন, অমর, অগ্নিময়।
প্রতিটি পদক্ষেপ, প্রতিটি বিন্দু—আমাদের গর্বিত চেতনা।

হে চেতনাময় মানুষ!
নিজের অন্তরকে জিজ্ঞাসা করো—
“আমি কি সত্যিই স্বাধীন মাতৃকাকে ধারন করি?”

যদি হ্যাঁ, ভয় নেই!
তুমি দেশপ্রেমিক, তুমি নও দেশবিরোধী।
স্যালুট! স্যালুট! তোমার স্যালুট!
প্রজন্মের চোখে অশ্রুজল ঝরে।

মুক্তিযুদ্ধের বীর সন্তানদের মুখোমুখি দাঁড়াই,
তাদের ত্যাগ, সাহস আমাদের রক্তে বাজে।
তাদের ইতিহাস নক্ষত্রের মতো জ্বলজ্বলে,

অশ্রুজল আমাদের প্রেরণার নদী।
স্বাধীনতা, হে মা, তুমি হৃদয়ে অমলিন!

তোমার চরণে দাঁড়াই, বিদ্রোহের শিখা জ্বলে!
জিজ্ঞাসা শেষ নয়! প্রতিটি হৃদয় উত্তেজিত, বিদ্রোহী শিখা জ্বলে।

আমরা এগিয়ে যাই—
লাল-সবুজের পতাকা হাতে, চেতনায় অদম্য, অগ্নিপরায়ণ,
মুক্তিযুদ্ধের প্রতিটি পদক্ষেপে, প্রতিটি শ্বাসে, প্রতিটি আঙ্গুলে—
আমরা স্বাধীনতার গান করি!
-----------------------------------------


কিংডম কাপাসিয়া

 কিংডম কাপাসিয়া

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
*******************************
কিংডম কাপাসিয়ার রাজ্যে, ডাক নাম কাফাইস্যা,
মুদ্রার জ্বলে আলো, সবাই বলে টেহা।
প্রদেশ এগারো ছড়িয়ে আছে জ্বলে ধরা,
সিংহশ্রী, রায়েদ, টোক, ঘাগটিয়া, বারিষাবের সারা।

সনমানিয়া, করিহাতা, তরগাঁও চলে আসে,
কাপাসিয়া, চাঁদপুর, দুর্গাপুর জুড়ে মিলে আছে।
রাজধানী কাপাসিয়া, গর্বে ভরে রয়ে,
জাতীয় পোশাক শাড়ি আর তফন দিয়ে সাজে শহরে।

হটকির বর্তা আলুর সঙ্গে, খাবারের দুনিয়া,
জাতীয় মাছ পাঙ্গাশ, হালিক উড়ে আকাশে।
লাউ সবজি, লাল শাক, পুষ্টি দেয় ধারা,
নকশি পিঠা, লাল শাপলা—প্রপোজ করার ধারার ধারা।

কাডল ফল মিষ্টির মাঝে, জিলাপি মিলল শুক্রবারে,
জাতীয় হাসপাতাল কাপাসিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।
গরীবের পদ্মা সেতু, ফকির মজনু শাহের নাম,
ধাঁধার পর্যটন স্থান, বাড়ির সাথে আছে দাম।

কাপাসিয়া ভূইয়া মার্কেট, পুরনো বাজারের গর্ব,
রুপ নগর পার্কে সবুজ, দখল করে প্রকৃতির স্বর্গ।
পরিবহন অটো, গালির হা*লা চলে বাজে,
চা-পানের ব্যবসা, হাটে গরুর হাট আজও আসে।

শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ কলেজ, শিক্ষার আলো ছড়ায়,
রাজ্জাক বিড়ি আর স্টার সিগারেট খুশি মন ভরায়।
দুরু বা*লের কথা, খুনসুটি জাতির ডায়লগ,
“সময় হউক তোরে দেইখা নিমু”–হুংকারে ভরে পথের লগ।

শেষে খাইস্টা লোকের নাম, কমেন্টে সবাই জানায়,
কিংডম কাপাসিয়া–জীবনের ছন্দে, সবার মন ভাসায়।
------------------------------------------


সূর্য সন্তান

 সূর্য সন্তান

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
*******************************
আলহাজ্ব আবুল হাসেম মাষ্টার, কাপাসিয়ার সূর্য জ্বলে রত্ন,
মুক্তিযুদ্ধের বীর নক্ষত্র, সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নেন প্রতিটি ক্ষণ।
পাক বাহিনীর মুখোমুখি দাঁড়ানো, সাহস তাঁর চির অদম্য,
বঙ্গতাজ তাজউদ্দিন আহমেদের ঘনিষ্ঠ সহচর, সত্যের পথে অদম্য।

ফকির সাহাবুদ্দিনের অত্যন্ত বিশ্বস্ত বন্ধু,
টোক ইউনিয়ন সংগ্রামের আলোকে, নেতৃত্বে ছিলেন সুবৃহৎ বন্ধুর মতো।
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম চেয়ারম্যান, নামকরণ কমিটির কনিষ্ঠ নেতা,


প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি কাপাসিয়ার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, দায়িত্বে ছিলেন নেতা।

টোক ইউনিয়নের দুইবার নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক, ইতিহাস গড়ে চলা,
১৯৬৯ সালে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক, সবার মাঝে প্রেরণার আলো জ্বালা।
টোক কলেজের প্রথম প্রস্তাবক, মোমতাজ উদ্দিন আহমেদের নামে নামকরণ,
টোক রনেন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের সহসভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত সভাপতির ভরসা ধরন।


টোক সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুইবার নির্বাচিত সভাপতি, জনকল্যাণে অগ্রণী,
টোক বাজার কমিটির দুইবার সভাপতি, কেন্দ্রীয় মসজিদের সহ-সভাপতি উদার ও প্রগাঢ়।
নূরে মদিনা হাফিজিয়া মাদ্রাসার জমিদাতা ও প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি,
বাইতুল হুজুল মসজিদের সভাপতি, সমাজসেবায় ছিলেন চিরন্তন অমর প্রতিভা।
টোক ইউনিয়ন উয়েলফেয়ার এ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টা, আওয়ামীলীগে উপদেষ্টা,
ভেংগুরদী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রস্তাবক ও প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, শিক্ষা ও মানবতার উৎস।

জাতীয়, উপজেলা ও স্থানীয় নির্বাচনে পোলিং ও প্রিজাইডিং অফিসার ছিলেন,
নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক, দায়িত্ব পালনে কখনোই ছাড় দেননি।
জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সমাজসেবক ও রাজনৈতিক পদে সর্বদা ছিলেন প্রজ্ঞার ঝরনা,
সাদা মন, ধার্মিক, পরউপকারী, নিখুঁত নৈতিকতার জীবন্ত ধারা।

ময়মনসিংহ ১০ আসনের সাবেক এমপি ক্যাপ্টেন গিয়াস উদ্দিনের বন্ধু শৈশবের স্মৃতি,
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ, কাপাসিয়াতে আসার প্রথম দাওয়াতের প্রতীতি।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ, শিল্প ও সাহিত্যের আলোয় ভরা,
গ্রাম গঞ্জে বিনাপারিশ্রমি চিকিৎসা, অসহায়দের জীবন হয়ে ওঠে চিরন্তন ধারা।

মুক্তিযোদ্ধাদের ঔষধ আনতে ঢাকা থেকে আসার পথে, শ্রীপুরে প্রাক-বাহিনীর হাতে আটক,
কিন্তু আল্লাহর অশেষ রহমতে বেঁচে যান, জীবন হয়ে ওঠে জাতির অনন্য শক্তির প্যাক।
সূর্য সন্তান আলহাজ্ব মাষ্টার, নৈতিকতা, সাহস ও মানবতার দীপ্তি,
চিরকাল আমাদের হৃদয়ে জ্বলে, পথ দেখায় জাতির প্রতি অমল শিখা ও শক্তি।

------------------------------------------


চিকিৎসার জ্যোতি

 চিকিৎসার জ্যোতি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
*******************************
কাপাসিয়ার মাটিতে জন্ম নিল জ্যোতির দীপতারা,
ডাঃ আব্দুল কাদের, মানবতার আলোর অমল ছড়া।
টোক ইউনিয়নের আড়ালিয়া গ্রামে শিশুকালের খেলা,
ছয় পুত্র, তিন কন্যার মাঝে তিনি দ্বিতীয় পোলা।

প্রাথমিক শিক্ষা জয়দেবপুরের স্কুলে আলোর পাথ খোঁজা,
রানী বিলাসমনি বিদ্যালয় থেকে এসএসসি উত্তীর্ণ হয়ে সাফল্য তোড়া।
ভাওয়াল বদরে আলম কলেজে মানবিক স্বপ্ন বোনা,
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়ে চিকিৎসার জ্যোতি দেখা।

২০ তম ব্যাচে এমবিবিএস অর্জন, কৃতিত্বের দ্যুতি,
১১তম বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে কর্মজীবন শুরু করল উজ্জ্বল যুতি।
নেত্রকোনা জেলার আটপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্ব নিলেন,


ঢাকা মেডিকেল কলেজ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজে নিখুঁত সেবা দিলেন।

অ্যানেসথেসিওলজি বিভাগীয় প্রধান হয়ে ছড়িয়ে আলো,
শিক্ষক-ছাত্রদের মাঝে আদর্শ আর ভালোবাসার জ্যোতি ছলো।
পিতা মরহুম আছমত আলী বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর,
পরিবারে ৯ ভাইবোন, চারজন বিসিএস কর্মকর্তা চিরকাল গৌরবের নক্ষত্র।

তিন চাচা গেজেটেড মুক্তিযোদ্ধা, আদর্শের দীপ জ্বালালেন,
ডাঃ আব্দুল কাদেরও ছাত্রলীগের নেতৃত্বে রাজনীতির পথ চালালেন।
গাজীপুর জেলা স্বাচিপের সহ-সভাপতি, শিক্ষক এসোসিয়েশনের নেতা,

রাষ্ট্রপতির আদেশে অধ্যক্ষ ও প্রকল্প পরিচালক পদে হলেন তিনি সেই নেতা।
১৭ জানুয়ারি ২০২১, কলেজে নতুন আলোর দ্যুতি ছড়াল,
শিক্ষক-ছাত্রদের হৃদয়ে আনন্দের সুর বাজাল।
ডাঃ আব্দুল কাদের বলেন, “সকলের সহযোগিতা পেলে মানবসেবা বাঁচবে,”
ইনশাআল্লাহ, দেশের স্বাস্থ্যযাত্রায় চিকিৎসার জ্যোতি উজ্জ্বল রাখবে।

চিকিৎসার জ্যোতি জ্বলে শহীদ কলেজের প্রাঙ্গণে,
মানবতার কল্যাণে উজ্জ্বল থাকবে তার নেতৃত্বের দ্যুতি প্রাঙ্গণে।
পাখির মতো উড়ে যায় তার সেবা, নদীর মতো বয়ে যায় মানবতার ছন্দ,
সূর্যের কিরণে আলোকিত হবে প্রতিটি কোণা, ছড়িয়ে দেবেন জীবনের বন্দ।

বাতাসে হেসে উঠবে শিক্ষার সুবাস, বৃষ্টির ঝলকে ফুটবে মমতা,
প্রকৃতির প্রতিটি রূপে জ্বলবে তার সেবার সোনালি দ্যুতি সততা।
ছাত্র-শিক্ষক সকলের মননেও জ্বলে উজ্জ্বলতার আলো,
ডাঃ আব্দুল কাদেরের নেতৃত্বে স্বাস্থ্যসেবার প্রতিটি কাজ হবে গগনচুম্বী ফলো।
------------------------------------------


১১-০৯-২০২৫

জ্ঞানের প্রদীপ

 জ্ঞানের প্রদীপ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
*******************************
কাপাসিয়ার কৃতি প্রাণ, মোল্লা বাড়ীর সন্তান,
ড. আনোয়ার হোসেন মোল্লা, জ্ঞানের দীপ এই ভুবন।

শরীয়াহ নীতির নদী বয়ে যায় তার বাণীর ধারায়,
সিটি-মেঘনা-আইএফআইসি ব্যাংকের প্রজ্ঞা ঝরে আলো ছড়ায়।

যমুনা-এনসিসি ব্যাংকের পথে স্থাপন করে সত্যের দীপ,
সমাজে ঝরে সততার জলধারা, নদীর ঢেউয়ের মধুর ঝিপ।

উত্তর বাড্ডা ইসলামিয়া কামিল মাদরাসায় তিনি চাঁদের আলো,
ছাত্রজীবনের অন্ধকার ভেদ করে জ্ঞানের পাথরে ঝরে আলো।

বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে এডজাঙ্কট ফ্যাকাল্টি,
ইসলামিক স্টাডিজে শিক্ষা জ্বেলে অনন্ত দীপ্তির শক্তি।

টক শো-আলোচনায় জ্ঞানের ঝর্ণা, উত্তরে ধ্বনিময় বাতাস,
“সফরে জ্যামে নামাজ?”—উত্তর যেন পাহাড়ের স্পষ্ট প্রতাস।

ইসলামী সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ইতিহাসে রেখেছেন দীপ্ত চিহ্ন,
বাঙলা সাহিত্য গবেষণায় বাজে জ্ঞানের ঝংকার, বনধুনিক সিম্ফনি চিহ্ন।

মানবতার কল্যাণে জ্ঞানের প্রদীপ জ্বলে দিন-রাত,
ড. আনোয়ার হোসেন মোল্লা, সত্য ও ন্যায়ের পথিক, অমলিন বাতাত।

শরীয়াহ জ্ঞান বয়ে যায় সমাজে ন্যায়ের স্রোতে,
আলোর দিশা হয়ে দাঁড়ায় অন্ধকারের ঘন সীমানাতে।

শিক্ষা ও প্রজ্ঞা মিলিয়ে তিনি তলে তলে দীপ্তি ছড়ান,
ছাত্র-সমাজে সত্যের প্রদীপ জ্বলে, অনন্ত আলো ছড়ান।

ইসলামিক চিন্তা ও নীতির ঝর্ণাধারা ছড়ায় নদীর মতো,
ড. আনোয়ার হোসেন মোল্লা পথিক সত্যের, দীপের আলো শোভায় ভোরের মতো।

মানবতার কল্যাণে জ্ঞানের প্রদীপ জ্বলে অবিরত,
ড. আনোয়ার হোসেন মোল্লা, পথিক সত্যের, ন্যায়ের অনন্ত বাতাত।
------------------------------------------
------------------------------------------

সততার মূর্তপ্রতীক

 সততার মূর্তপ্রতীক

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
*******************************
রাওনাট গ্রামের গর্বিত ধ্রুবতারা,
মৌলভী আহাদ আলী মোল্লার ঘরে ফুটল সোনার ধারা।
মেঝো ছেলে—জনাব আবুল হোসেন মোল্লা,
সততার মূর্তপ্রতীক হয়ে জ্বাললেন ঈমানের জ্বালা।

কাপাসিয়ার মাঠে ছিলেন জ্ঞানের বসন্ত ফুল,
কলেজের আঙিনায় জ্বলালেন আলোর কূল।
বি.এ পাশ শেষে শিক্ষকতার সূর্যোদয়,
বিএড ডিগ্রিতে পেলেন প্রভাতের মহিমাময়।

ইংরেজি বিদ্যায় দিলেন ছাত্রদের দীপ,
যেন ভোরের আকাশে উদিত নতুন নীপ।
পরে রূপালী ব্যাংকে লিখলেন কর্মের গান,
সততার সোপানে পেলেন সম্মানের দান।

কোনো অন্যায়ের মেঘ ছোঁয়নি তাঁর দেহ,
আল্লাহর নূরে আলোকিত ছিল জীবন স্রোত-প্রবাহ।
কোরআনের বাণী বাজত তাঁর মনে,
“إِنَّ اللّهَ يُحِبُّ الصَّادِقِينَ”
বাংলা উচ্চারণ: “ইন্নাল্লা-হা ইউহিব্বুস-সাদিকীন।”
(অর্থ: নিশ্চয়ই আল্লাহ সত্যবাদীদের ভালোবাসেন)।

অফিসে গেলে আসত সম্মান ভরে,
সন্তানেরাও জ্বলত পিতার নূরে।
কবি মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা—শব্দের জোনাকি,
কাব্যের অরণ্যে জ্বালেন চিরন্তন দ্যুতি।

ছোট ছেলে নিভে গেল নিয়তির আঁধারে,
যেন ঝড়ে ভাঙল কচি ফুল রাতের অন্ধকারে।
মেয়ে ফারজানা আক্তার লিপি শিক্ষার প্রদীপ,
স্কুলের উঠোনে ছড়ান আলোর নীপ।

তাঁদের রক্তে বইছে সততার নদী,
যেন জান্নাতি কাওসারের ঝরনা নিরবধি।
তাঁর হাতেই উঠল মসজিদের মিনার,
সভাপতি হয়ে রইলেন ঈমানের অধিকার।

গাজীপুরে আজো তিনি সম্মানের বাগান,
যেন পূর্ণিমার চাঁদ, জাগান শান্তির গান।
নম্র ভীরু অথচ সত্যে পাহাড় সমান,
সততার মূর্তপ্রতীক তিনি আল্লাহর দান।

হে মহান রব, দিন তাঁকে নেক হায়াত,
সততার আলোয় ভরে উঠুক প্রভাত।
মানবতার আকাশে থাকুন নূরের চাঁদ,
আবুল হোসেন মোল্লা—অমর সততার সাধ।
------------------------------------------

Wednesday, September 10, 2025

ঝরে যাওয়া নক্ষত্র

 ঝরে যাওয়া নক্ষত্র

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা,
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
-------------------------------------
রাওনাটের বুকে জ্বলে দিগন্তের স্বপ্নময় দীপ,
মোঃ তাজউদ্দিনের হৃদয়—মানবতার অম্লান নীপ।
পিতার ছায়া লোকমানের প্রেরণা ছড়ায় পথচলায়,
মেঘের আবরণেও খোঁজে তার উদারতার অভয়।

নদীর ঢেউয়ে ভেসে আসে তার দয়া অমলান্ত,
ঝর্ণার ঝনঝনে বাজে তার মানবিক শান্ত।
বটবৃক্ষের ছায়ায় বিশ্রামের মতো গভীর শান্তি,
পাতার নড়াচড়ায় খুঁজে পাই তার প্রীতির অনন্তি।

সোনালি ধানের খেতে হরিণের খেলা,
প্রকৃতির অলঙ্কার সবই যেন তার দান খোঁজা দেলা।
রাত্রির তারা কেঁদে যায় তার হাসির মধুর সুরে,
ঝরে যাওয়া নক্ষত্রও শোনায় তার নাম নিরবধূরে।

পাহাড়ের কোল, বাতাসের সুরে বাজে তার বাণী,
পাখির গান, পাতার নড়াচড়ায় খুঁজে পাই তার জানী।
আমরা প্রার্থনা করি, আল্লাহর রহমতে হোক মাগফেরাত,
রাওনাটের মাটিতেও বেঁচে থাকুক তার গুণের চিরন্তন অলঙ্কার।

নদীর প্রতিফলনে, আকাশের নীরব চাঁদনি,
তার স্মৃতির দীপ্তি ছড়ায় শান্তি ও অনন্তনী।
বাতাসে মিশে থাকে তার উদারতার অমৃত,
প্রকৃতির প্রতিটি কোণে বাজে তার দানবীর গীত।
----------------------------------------------------

মরহুম বাদল লস্কর

 মরহুম বাদল লস্কর

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা,
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
-------------------------------------
মরহুম বাদল লস্কর
গাজীপুরের গর্বিত সন্তান, যাঁর নাম ইতিহাসে অম্লান,
৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে ছিলেন অগ্রসেনানী, সংগ্রামের প্রতীক মানব।
বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা, নেতৃত্বের দীপ্তি,
১৯৭৫-এর পর আওয়ামী লীগ পুনর্গঠনে ছিলেন অদম্য শক্তি।

আইনজীবী হিসেবে খ্যাতি অর্জন, ন্যায়ের পক্ষে ছিলেন সদা সোচ্চার,
ফকির শাহাব উদ্দীন আহমেদের সহচর, আইন ও রাজনীতির মিশ্রণে ছিলেন পারদর্শী।
গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য, বারবার নির্বাচিত,
রাজনৈতিক অঙ্গনে তাঁর অবদান ছিল অতুলনীয় ও অমূল্য।

সহধর্মিণী ছিলেন ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের মহিলা কাউন্সিলর,
বর্তমানে মহিলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি, নেতৃত্বের প্রতীক নারী।
দশ বছর আগে তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন,
তাঁর অবদান চিরকাল স্মরণীয় ও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

মরহুম বাদল লস্করের আত্মত্যাগ ও সংগ্রাম আমাদের পথপ্রদর্শক,
তাঁর জীবন ও কর্ম আমাদের অনুপ্রাণিত করবে চিরকাল।
গাজীপুরের মাটিতে জন্ম নেওয়া এই মহান নেতাকে জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা,
তাঁর স্মৃতি আমাদের হৃদয়ে চিরকাল অম্লান থাকবে, অমর থাকবে তাঁর নাম।


-----------------------------------------------------