Monday, September 15, 2025

বিপ্লবী সূর্য

 বিপ্লবী সূর্য

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************
দরদরিয়ার মাটিতে উন্মুক্ত প্রভাতে জন্ম,
১৯৭০ সালের শীতল ইতিহাসের নিশ্বাসে—
বঙ্গ তাজের পুত্র এক বিপ্লবী সূর্য,
যার অন্তরে জ্বলছে মানবতার অগ্নি ও ন্যায়ের দীপ।

পিতা তাজউদ্দীনের রক্তের স্রোত,
স্বাধীনতার অমল আলো বহন করে।
মা সৈয়দা জোহরা তাজুর মমতা,
নীতির দীপ্তি ও ন্যায়বোধের আলো জ্বালায়।

চার ভাইবোনের আলোকমণ্ডলে তিনি সবার ছোট,
শারমিনের কোমলতা, চিন্তাশীলতার জ্যোতি,
রিমির কলমে প্রজ্ঞার অমোঘ নৃত্য,
মাহজাবিনের হাসি, মানবিকতার অটল প্রতিফলন।

শিক্ষার পথে পা রাখে সেন্ট ফ্রান্সিসের সবুজ মাঠে,
ব্রিটিশ কাউন্সিলের "ও" লেভেলে জ্ঞানের দীপ্তি।
আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়—ব্যাচেলর অব বিজনেস,
গর্ডন বিশ্ববিদ্যালয়—মাস্টার্সের দীপ্তিময় প্রজ্ঞা।

রাজনীতির অরণ্যে প্রবেশ,
২০০১, গাজীপুর-৪ (কাপাসিয়া) থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়,
যুব শক্তিকে আলোড়িত করে, বিপ্লবী সঙ্গীতের তালে।

২০০৮, পুনঃনির্বাচন,
সংসদে অটল অঙ্গীকার, দেশের ন্যায় ও মুক্তির পথে।
২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব,
৩১ মে ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগ, তবু বিপ্লবী স্পৃহা অমলিন।

২০১২, সংসদ থেকে পদত্যাগপত্র,
৭ জুলাই গ্রহণ, নিয়মের খুঁটিনাটি অতিক্রম।
রাজনীতি ও নীতিবোধের দর্শন,
এক জীবনের অধ্যায় হয়ে ইতিহাসে অমোঘ চিহ্ন।

২০১৯ সালের ১৮ জুলাই, ‘হটলাইন কমান্ডো’—
সামাজিক সমস্যার আলোকে জাগ্রত করার মঞ্চ।
বার্তা, দৃষ্টি ও বাস্তবতার সমন্বয়,
প্রতি পর্ব জনতার অন্তরে আলোকবর্তিকা হয়ে ওঠে।

বঙ্গ তাজের পুত্র, এক বিপ্লবী সূর্য,
দরদরিয়ার মাটি থেকে বিদেশী শিক্ষার দীপ্তি,
রাজনীতি ও সমাজসেবার সঙ্গমে—
এক জীবনের কাব্য, যা অন্ধকার ভেদ করে
আলো ও বিপ্লবের ঝংকার ছড়ায়।

--------------------------------------------------------------

রক্তের লাল রেখা

 রক্তের লাল রেখা

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*******************************
সেদিন সূর্যও স্তব্ধ, আকাশ চুপচাপ কাঁদছে,
২৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৪, মঙ্গলবার, দুপুর ১.৩০ মিনিটে।
ডিগ্রী কলেজের প্রাঙ্গণে তরুণদের উল্লাস,
বিপ্লবী মিছিল, স্বাধীনতার তরে হৃদয় ফুঁসে ওঠে।

ঢাকা থেকে আগত ক্লান্ত শরীর, মনির ভাই,
বিয়ের স্বর্ণ অলঙ্কার হাতে, স্বপ্নের আলোয় ভরা।
হঠাৎ লাঠি, সোটা, উশৃঙ্খল দলে আঘাত,
রক্তের লাল রেখা ছড়িয়ে দেয় মৃত্যুর ছায়া।

বাক স্থবির, দেহ নিস্তব্দ, প্রাণের চঞ্চলতা থমকে,
দুইদিন পর বিয়ের আনন্দ, মৃত্যুর মুখে ধাবিত।
পিজি হাসপাতালে রাহাত সরকারের কোলে,
শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ, আকাশ বাতাসে নামল শোকের ছায়া।

ছাত্রদের নিবেদিত প্রাণ, ভিপি প্রার্থী, নন্দিত,
মানবিক দৃষ্টান্ত রেখে গেলেন চিরন্তন অমলিন।
আমার আব্বা ডাকাতের হাতে আহত, রাত দুইটায়,
ক্ষতবিক্ষত শরীর নিয়ে ডাঃ মতিলালের দ্বারে মনির ভাই করেছিলেন ব্যবস্থা অবিস্মরণীয়।

ঋণ এই পৃথিবীতে শোধাবার নয়,
প্রেম ও দায়বদ্ধতা দিয়ে জীবন চিরন্তনভাবে লেখা।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের একনিষ্ঠ সৈনিক,
আওয়ামী সন্ত্রাসের প্রতিহিংসায় অকালে ঝরে গেলেন।

বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করি,
আল্লাহ পাক তাকে শহীদ মর্যাদা দান করুন।
বেহেশতের আলোয় উজ্জ্বল হোক, শান্তি চিরন্তন,
তার ত্যাগ, মানবিকতা, বিপ্লবের দৃষ্টান্ত চিরজাগরণ।

তরুণ হৃদয়ে ঝরে পড়ুক তার নামের দীপ্তি,
স্বাধীনতার পথে আলোকবর্তিকা, অমলিন প্রতীক।
মনির ভাই, তুমি আমাদের জীবনে অমর,
তোমার ত্যাগে জাগ্রত হোক প্রত্যেকের হৃদয়ের অগ্নিশিখা।

মানবিক ছাত্র নেতা, বিপ্লবের প্রিয় সিংহাসন,
তোমার স্মৃতি চিরকাল বাঁচুক, প্রিয় পথিক, চিরন্তন।
--------------------------------------------------------------

মানবিক ছাত্র নেতা

 

মানবিক ছাত্র নেতা

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

*******************************

 



২৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৪, মঙ্গলবার, দুপুর ১.৩০ মিনিট,
ডিগ্রী কলেজের প্রাঙ্গণে মিছিলের ধ্বনি ছড়ায় আকাশান্তে।

ঢাকা থেকে আগত ক্লান্ত শরীর মনির ভাই,
বিয়ের স্বপ্নে পূর্ণ, স্বর্ণ অলঙ্কার হাতে, মানবতার দীপ্তি তার অন্তরজায়।

কাপাসিয়ার উদীয়মান সূর্য, ছাত্রদের পথপ্রদর্শক,
নির্ভয়ে দীক্ষা দেয়, প্রতিটি নিঃশ্বাসে বিপ্লবের সঙ্গীত।

হঠা লাঠি, সোটা, উশৃঙ্খল দলে আঘাত,

সাত্তার চেয়ারম্যানের দরজায় রক্তের লাল রেখা, জীবন-মৃত্যুর এক কঠিন রাত।

বাক স্থবির, দেহ নিস্তব্দ, প্রাণের চঞ্চলতা থমকে,
দুইদিন পর বিয়ের আনন্দ, মৃত্যুর অমোঘ ছায়া তার প্রান্তে।

পিজি হাসপাতালে কোলে রাহাত সরকারের,
শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ, আকাশ বাতাসে নামল শোকের ছায়া।

ছাত্রদের নিবেদিত প্রাণ, ভিপি প্রার্থী নন্দিত,
মানবিক দৃষ্টান্ত রেখে গেলেন, মৃত্যুঞ্জয়ী শৃঙ্গশিখরে অমলিন।

আমার আব্বা ডাকাতের হাতে আহত, রাত দুইটায়,
ক্ষতবিক্ষত শরীর নিয়ে ডাঃ মতিলালের দ্বারে মনির ভাই করেছিলেন ব্যবস্থা অবিস্মরণীয়।

ঋণ এই পৃথিবীতে শোধাবার নয়,
মানবিক শক্তি দিয়ে লেখা জীবনের চিরন্তন গ্রন্থ।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের একনিষ্ঠ সৈনিক,
আওয়ামী সন্ত্রাসের প্রতিহিংসায় অকালে ঝরে গেলেন তীব্র ন্যায়ের শিখরে।

বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করি,
আল্লাহ পাক তাকে শহীদ মর্যাদা দান করুন, বেহেশতের আলোয় উজ্জ্বল হোক চিরন্তন।

কাপাসিয়ার উদীয়মান সূর্য, তরুণ হৃদয়ে আলোকবর্তিকা,
তার ত্যাগ, মানবিকতা, বিপ্লবের দৃষ্টান্ত চিরজাগরণ।

তার নাম ঘুরে ফিরে বাজে তরুণদের অন্তরে,
কাপাসিয়ার আকাশে জ্বলছে অমলিন দীপ্তি প্রতিঘরে।

অকালে চলে গেলেও, ত্যাগের স্রোত অনন্ত বয়ে চলে,
শহীদ মনির ভাই, মানবতার আলোকবর্তিকা চিরজীবনে রোলে।

মনির ভাই, তুমি আমাদের জীবনে অমর,
তোমার ত্যাগে জাগ্রত হোক প্রত্যেকের অন্তরের মানবিক আলো।

মানবিক ছাত্র নেতা, বিপ্লবের প্রিয় সিংহাসন,
স্মৃতি চিরকাল বাঁচুক, প্রিয় পথিক, চিরন্তন।

--------------------------------------------------------------


তুমি কি যোগ্য নেতা?

 তুমি কি যোগ্য নেতা?

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*******************************
ওহে নেতা, তুমি কি জানো অন্তরের অরণ্য জ্বলে?
নৈতিকতার প্রদীপ কি আলোকিত, না কি অন্ধকারে ঝরে?

সত্যনিষ্ঠা কি তোমার হাতে মুক্তির মণিপদ্ম,
ন্যায় কি বাতাসে ঝলসে রঙিন পথপ্রদীপ ধ্রুব?

দূরদর্শিতা কি চোখে বাজায় ভবিষ্যতের গান,
নদী কি তীর্থযাত্রায় ভাসায় অন্তরের ধ্বনি মহান?

না কি স্বল্পদৃষ্টির সীমানায় তুমি বন্দী,
কালপাথরের গভীরে হারিয়েছে অন্তর্দৃষ্টির সেতু অম্লান?

মানবতার শ্বাস কি বাজে তোমার হৃদয়ঘরে,
জনগণের বেদনা কি স্পর্শ করে চেতনার তরে?

না কি ক্ষমতার ছায়ায় তুমি ডুবে থাকো,
স্বার্থের অন্ধকারে নিভে গেছে মানবতার প্রদীপ অমল?

যোগাযোগ কি তোমার বাক্যে জাগায় তরঙ্গ,
প্রেরণাশক্তি কি মানুষে ফোটায় অনন্তরঙ্গ?

না কি শব্দের খেলায় ভেসে যাও তুমি,
নির্ভুল প্রেরণার নদী শুকিয়ে যায় শূন্যতার তলে ধূমল?

ধৈর্য কি তোমার নক্ষত্রের মতো অবিচল স্থির,
সংকট কি শক্তি দেয়, না কি ভেঙে যায় স্বপ্নের মীর?

না কি অস্থিরতার ঝড়ে ভেসে যাও তুমি,
নৈতিকতার ভিত্তি কেবল বাতাসে ভেসে যায় ঘূর্ণিময় ধূমি?

দায়িত্ব কি তোমার চেতনার গভীর প্রতিধ্বনি,
সৃজনশীলতা কি অন্ধকারে জ্বালায় আলো-সিদ্ধি?

না কি আবেগের ভারে ভেসে যাও তুমি,
নেতৃত্বের স্বপ্ন কেবল আকাশে ভেসে যায় হিমশিমি?

অবিচল নৈতিক আদর্শ কি আত্মায় বন্দী,
জনমানুষের সঙ্গে সম্পর্ক কি সত্যিকারের সেতু বাঁধে?

না কি ক্ষমতার সিঁড়ি বেয়ে ওঠার সময়,
বিশ্বাসের নদী শুকিয়ে যায়, মাটিতে চাপা পড়ে হায়?

ওহে নেতা, দেশপ্রেম কি জ্বলছে তোমার রক্তে?
মাটির গন্ধ কি শিখায় স্বপ্ন দেখাতে সততে?

নিজেকে চেনো, অন্তরের দীপ জ্বালাও,
যে দীপ দিয়ে জাতি, দল, দেশপ্রীতি পথ খুঁজে পায়,
অন্তিমভাবে, তুমি কি সত্যিকারের নেতা হতে পারো?
--------------------------------------------------------------

আদর্শিক সৈনিক

 আদর্শিক সৈনিক

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*******************************
দূর্গাপুরের রাওনাট পশ্চিম পাড়ার বুকে,
শ্যামল সবুজে, আম-জাম-কাঠালের সুখে,
শিশু সোলাইমান জন্ম নিল দিগন্তের আলোয়,
ভবিষ্যতের দিশারী, দুরন্তপনায় ভরে পথের ধূলোয়।

মেঠো পথে পদচিহ্ন রাখে হৃদয়ের সুরে,
মাঠের ঘাসে স্বপ্ন বোনা, সময়ের মূলে,
মানবসেবার দীপ জ্বালিয়ে নিজেকে উজাড় করে,
সমাজের প্রতি অগাধ ভালোবাসায় অবিচল থাকে।

শিক্ষার দীপ জ্বালিয়ে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সভাপতি হয়ে,
ছাত্র-শিক্ষককে দেয় অনন্ত উৎসাহ, ধূলিকণার প্রতি প্রেম জাগিয়ে,
জ্ঞানসাধনার প্রার্থনায় হৃদয় উন্মুক্ত,
প্রজ্ঞার আলোয় সমাজকে সমানুভূতিতে ভরিয়ে।

প্রবাসের পথে অর্থনৈতিক মুক্তি খুঁজে,
ফিরে এসে জাতীয় চেতনায় উদ্ভাসিত হয়ে,
জিয়ার আদর্শে অনুপ্রাণিত,
বিএনপির সেবায় নিজেকে নিবেদিত রাখেন তিনি।

সবার প্রতি সদয়, বাণীতে স্পষ্টবাদী,
দূষিত পথের স্পর্শহীন,
দুর্নীতি, চাঁদাবাজি বা সন্ত্রাসে জড়িত নয়,
ন্যায় ও সততার অটল রূপে প্রতিষ্ঠিত।

উঠান বৈঠক ও কর্মশালায় সক্রিয়,
১৩ আগস্ট ২০২৫, কাপাসিয়া উপজেলা বিএনপির উঠান বৈঠকে বক্তব্য রাখেন,
৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪, কর্মশালা ও প্রতিনিধি সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন,

১৪ ডিসেম্বর ২০২৪, মহান বিজয় দিবসে নাশকতার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন,
দেশ ও জনগণের নিরাপত্তার প্রতি দায়বদ্ধতার সাক্ষ্য রাখেন।

মাসুম সরকারের সহচর্যে,
দূর্গাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক,
স্থানীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন,
শৃঙ্খলা, ন্যায় ও মানবতার সেবায় নিবেদিত।

সোলাইমান মোল্লা—
একজন আদর্শিক সৈনিক,
সমাজ ও রাষ্ট্রকে ভালোবাসেন অন্তহীনভাবে,
শক্তিশালী ব্যক্তিত্বে গড়ে তোলেন ন্যায়ের পতাকা,
দর্শন ও নৈতিকতার গভীরতায় অমর হয়ে থাকেন।
--------------------------------------------------------------

কালো চশমা

 কালো চশমা

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*******************************
শুনো হে শুনো হে জাতি, আঁধারের রাজ্যে জাগো,
অন্ধ নেতার ছায়া ভাঙো, স্বাধীনতার প্রদীপ জ্বালো।
দেশের বুক কেটে গেছে লোভের দাসে দাস,
অধিকার বঞ্চিত, স্বাধীনতা গৃহভাঙা মহাস্রাব।

মবতন্ত্রের ভয়ঙ্করী খেলা, লুটের শৃঙ্খল মরণঘন্টা বাজায়,
চাঁদাবাজের নৃত্য, দেশপ্রেমে আঘাত করে, বিজয়ের অঙ্গুর রস খায়।
গণতন্ত্রের গলা কেটে ফেলেছে অন্ধ নেতার রক্তচুষা সৈন্য,
কলমের তীর ভেঙে গেছে, প্রতিবাদীর চিৎকার শ্বাসরুদ্ধ।

লেখক, কবি, বিদ্বান—মুক্ত চিন্তার বন্দী,
শব্দের স্বাধীনতা ভেসে গেছে শৃঙ্খলের স্রোতে।
নেতার চোখে নেই দুঃখ, কর্মীর অহংকারে সমাজ নিংড়ে যায়,
লাল সবুজ বোঝে না তারা, শুধু ক্ষমতার তৃষ্ণা খায়।

অধিকার লুণ্ঠিত, নৈতিকতা ধূলিসাৎ,
নেশাগ্রস্ত, অহংকারী, দেশদ্রোহী চরম বাতাসে ত্রাস।
মীরজাফরের খেলা চলছে, দেশ জলের ফাঁদে,
জাতির রক্তে লেখা সত্য, তাদের অন্ধকারে ঢাকা।

হে জাতি, জাগো, কালো চশমা ভেঙে দাও,
অন্ধকারকে চূর্ণ করো, মুক্তির বাতাস ছড়িয়ে দাও।
স্বাধীনতা তুমিই, ইতিহাসে লিখো বিজয়গাথা,
দৃঢ় দৃষ্টিতে সত্যকে আঁকড়াও, অমানবের ছায়া ছিন্ন করো।

নেতার দম্ভ ধ্বংস করো, কর্মীর লোভ চূর্ণ করো,
দেশকে গড়ে তুলো জাগ্রত প্রজ্ঞায়, ন্যায়ের দীপ জ্বালো।
তোমার রক্তে লেখা মুক্তি, তোমার চেতনায় বিজয়,
হে জাতি, ওঠো, লড়ো, ইতিহাসের পাতা রাঙাও আলোয়।
-------------------------------------------------------------

সে এক বাচিক শিল্পী

 সে এক বাচিক শিল্পী

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*******************************
১৯৯৩-এর সেই রাজনৈতিক মঞ্চে দাঁড়িয়ে,
কালো প্যান্ট, সাদা শার্ট, চোখে চশমার দীপ্তি,
জনতার চোখে বিস্ময়, হৃদয়ে কৌতূহল,
প্রথম ধ্বনিতে বাজে কাব্যের মুক্ত ঝরাপাথ।

ইথারের গম্ভীর কোকিলার কণ্ঠে ভেসে আসে,
শব্দে শব্দে উন্মুক্ত তরঙ্গিত জনতা
মাঠ-ঘাট, শীতলক্ষ্যা নদীর স্রোত,
প্রতিটি চরনে প্রতিটি দৃষ্টিতে দ্যুতি জ্বলে।

মৈশন মিয়া বাড়ীর সন্তান, কাপাসিয়ার গর্ব,
ধারাবর্ণনায় গ্রাম, নদী, মেলা, বাজারের ছবি,
ভিডিও, রিল, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে ছড়িয়ে,
ডিজিটাল দুনিয়ায় তার কণ্ঠের প্রতিধ্বনি।

কণ্ঠে কবিতা, ছন্দে জীবন, দর্শনের স্পন্দন,
শোনো—জনতার হৃদয় মুগ্ধ, মন ভরে আনন্দে।
প্রতিটি পদে তার চিন্তা, প্রতিটি ধ্বনিতে দর্শন,
শব্দের ঝঙ্কারে বয়ে যায় মানবিক সত্যের নদী।

মঞ্চে সে দাঁড়িয়ে, জনতার চোখে জ্বলে,
এক শিল্পীর দীপ্তি, এক যুবকের সাহস,
কাপাসিয়ার পথ, ঘাট, বাঁশঝাড়,
প্রতিটি স্থানে তার কণ্ঠের ছাপ।

শুনে জনতা বলে—“কে এই যুবক, কে এই শিল্পী?”
তার প্রতিটি বাক্যে, প্রতিটি ছন্দে,
সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, প্রকৃতির রূপমালা,
মানবতা আর কাব্যের মেলবন্ধন।

সে এক বাচিক শিল্পী,
আলী হোসেন চৌধুরী—
কণ্ঠে জীবনের দর্শন, চোখে মানবতার আলো,
জনতার অন্তরে চিরকাল বেঁচে থাকবে সে।
-----------------------------------------------------------

Sunday, September 14, 2025

আমি বলতে এসেছি

 আমি বলতে এসেছি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************
আমি বলতে এসেছি—এই পৃথিবী আমাদের,
হ্যাঁ, আমাদেরই, আমাদেরই!
মানবেরই হাতে গড়া, সভ্যতার দীপ্তি আমাদের,
হ্যাঁ, দীপ্তি আমাদের, দীপ্তি আমাদেরই!

চেতনার শুভ্র বীজ বোনার ক্রান্তিতে,
আশার আলো জ্বলে অন্ধকারে ঝলমলিত,
জ্বলে, ঝলমলিত, অন্ধকারে ঝলমলিত!
মানুষই মানুষের আশ্রয়, মানুষই মানুষের দীপ।

মানুষই সভ্যতার কান্ডারী, বিজয়ের অনন্ত স্রোত,
মানুষই পরাজয়ের সোপান—হারে যদি সে,
নিঃশেষ হয়ে যায় নক্ষত্র, নিভে যায় আত্মার দীপ,
হ্যাঁ, নিভে যায়, নিভে যায়, নিভে যায় আত্মার দীপ!

মানুষ যদি হারায় শ্রেষ্ঠত্ব,
পশু-মানবের সীমা মিলিয়ে যায়, মিলিয়ে যায়,
দাহ্য হয় মানবিক মর্যাদা,
অবশিষ্ট থাকে শুধু অন্ধকার, শুধু অন্ধকার।

মানুষ হবে সরল, হিংসা-বিদ্বেষহীন,
সাম্য ও ঐক্যের সুরে প্রতিধ্বনিত হবে অন্তর,
কে কালো—কে ধবল, ধনী—গরীব,
রাজা—প্রজা, ক্ষমতাশালী—ক্ষমতাহীন,
কোন মর্যাদা পদবীতে নয়, কোন মূল্য সম্পদে নয়,
হ্যাঁ, মানবের একমাত্র পরিচয়—মনুষ্যত্ব, মানবতার মহিমা।

আমি বলতে এসেছি—মনুষ্যত্বই মানুষের প্রাণ,
সভ্যতার অম্লান কুসুম, চিরন্তন শান্তির দীপ,
এসো হে মানব, এসো হে মানব, মিলি একত্র,
গড়ি এক বাসযোগ্য, সভ্যময় পৃথিবী,
যেখানে মানবতার মহিপাল হব আমরা সকলেই,
হ্যাঁ, হব আমরা সকলেই!
-------------------------------------------------------------------------

মানবতার কুঞ্জ

 মানবতার কুঞ্জ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************
শুনো হে বিশ্ব! রাওনাটে আজ, জ্বলে উঠেছে অগ্নিশিখা,
তরুণের মুষ্টি আকাশ ছোঁয়, মানবতার বাঁশি বাজায় দিশা!
আপন অর্থ, আপন মেধায়— ছুটে চলে প্রলয়-গানে,
তাদের নাম ভাই বন্ধু ফাউন্ডেশন, বীরের জয়ধ্বনি আনে!

মাসুম মোল্লা কান্ডারী হে, অকুতোভয় তরীর হাল,
অসহায় দুঃখীর বুকের মাঝে, জ্বালায় আলোর বিপ্লব জ্বলাল!
সহ-সভাপতি আনিস, মোবারক, সোহেল, আমিনুল প্রাণ,
হেমায়েত, খোরশেদ, সিদ্দিকুর—তাদের হাতে অগ্নি-বাণ!

আবু সাইদ সাধারন হে, কলমে লেখে আগুন গান,
মহসিন, জাহিদ, রাকিব, তানভীর— যুগ্ম কলমে বজ্র ত্রাণ।
ইয়াসিন, রাকিবুল, মীর হাসিব— শৃঙ্খলার দীপ জ্বালে,
শাহীন, ইমরান, শাওন মিলে— বজ্রকণ্ঠে ডাক দেয় কালে!

নাইম পাঠান প্রচার-বাজা, রায়হান দপ্তরে বজ্রতরী,
তাওহীদ মোল্লা শিক্ষার শিখা, কামরুল অর্থে অদম্য ধ্বজধারী।
সীমা আক্তার নারীশক্তি, এরশাদ আইন-অগ্নিশিখা,
কাউসার টেকনো দিশারী, জাহিদ হাসান আন্তর্জাতিক দীপিকা!

ইমন সমাজের মহারথী, আবির পাঠান পাঠাগার,
মুরসালীন ধর্মের বাণী, রাফিন স্বাস্থ্য—জীবনধার।
শাহীন, তাহসান, আশিক, সজিব, হৃদয়— তরুণ শপথ নেয়,
“রক্ত দেব, প্রাণ দেব, মানবতার পতাকা আকাশে বইবে সদা দ্যোতনায়!”

আবুল হোসেন প্রধান উপদেষ্টা, জ্ঞান-বাতিঘর আলোকিত,
মিজান, আকরাম, মোস্তাফিজ, আজিজুল— অভিজ্ঞতায় অগ্নিমিত।
মোবারক, ইব্রাহীম, বাহার, ইউনূস— উপদেশের দিশা দেয়,
খোকন, নওফেল— শপথ নেয়, মানবতার জয়গান গেয়ে যায়!

ওরে বিশ্ব! শোন হুংকার—
“ভাই বন্ধু ফাউন্ডেশন” ঝড়ের মতো এগিয়ে চলে,
মদ-জুয়া, আফিম, সন্ত্রাস— ভেঙে দেয় লোহার তলে!
অসহায় রোগীর প্রাণে আজ, তাদের রক্ত জীবন গান,
দুর্বলের শক্তি, দুঃখীর মুক্তি— তাদের অগ্নি-প্রাণ!

তাদের কণ্ঠে বজ্রধ্বনি—
“অন্ধকার ভাঙবো আমরা, জ্বালাবো প্রভাতের আলো,
মানবতার কুঞ্জ আমাদের, অমর শপথে অটল ভালো!”
ভাই বন্ধু ফাউন্ডেশন— ওরে বিশ্ব, তোর মশাল, তোর জয়গান,
মানবতার বিজয় নিশান, উঠুক আকাশে অনন্তকাল!
-------------------------------------------------------------------------


শিক্ষার দ্যুতি

 শিক্ষার দ্যুতি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************
ওহে শুনো এ প্রজন্ম, আলো ঝরেছে রাওনাটে,
আব্দুল হাই সরকারের দ্যুতি জ্বলে জ্যোতির্ময় দিনে।
প্রজ্ঞা তাঁর ভাষার ধারা, মধুর বর্ণনায় ভরা,
শিক্ষকের শিক্ষক, সকলের প্রিয়, হৃদয়ে অমল ধারা।

প্রধান শিক্ষক, প্রেরণার দিগন্ত, দৃষ্টির আলো,
বরণীয় ব্যক্তিত্ব, মৃত্যু নিবারণশীল আলো।
শ্রদ্ধার ধারা, শিক্ষার স্রোতে ভাসে হৃদয়,
পাঠের নদীতে ঝরে জ্ঞান, প্রকৃতির মত অমলতায়।

ছায়ার মতো কোমল, বর্ষার জলছটা যেমন,
প্রকৃতির অলঙ্কারে সেজে, জ্ঞান ছড়ায় সে যেন।
পাহাড়ের মজবুত পাথরের মতো দৃঢ় তাঁর শিক্ষা,
বাতাসের ছোঁয়া, পাখির গান, মনে বাজে অন্তঃকণা।

রোদ ঝরে শ্যামল মাঠে, শিশুরা হাসে তাঁর তরে,
বৃক্ষের ছায়ায় শিখে জীবন, বয়ে চলে জ্ঞানধারা সবরে।
ঝড়ের দাপটেও অমল, বাতাসে ভেসে যায় জ্যোতি,
তার শিষ্যরা গড়ে তোলে দেশ, করে আলোড়ন সকলে।

আজ অসুস্থ, কিন্তু দ্যুতি অম্লান, অমর সেই দীপ্তি,
শিশিরের মতো নরম, সূর্যের মতো উজ্জ্বল সত্যি।
রাওনাটের মাটি স্মরণ রাখে, জ্ঞানের জ্যোতি অম্লান,
প্রজন্মের মনে জ্বলছে, শিক্ষার অনন্ত দীপক প্রাণ।

প্রতিটি পাঠে মিলেছে প্রেম, প্রকৃতির অনুরণনে,
ঝরনা যেমন গান গায়, তাই ছড়ায় জ্ঞানধারার ধ্বনি।
মাটি, আকাশ, বাতাস, সবই শিখেছে তাঁর ছায়া,
অমর তাঁর দ্যুতি, রাওনাটের হৃদয়ে জ্বলেছে কায়া।
-------------------------------------------------------------------------

আলোকবর্তিকা

 আলোকবর্তিকা

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************
রাওনাট গ্রামের মেঠোপথে ভোরের শিশির ঝরে,
শস্যখেত-ঘাটে বাজে স্বাধীনতার ঢেউ, ঝরে ঝরে।
পূর্ব পাড়ার সম্ভ্রান্ত মুসলিম ঘরে জন্ম নিলেন,
জনাব জালাল উদ্দিন আহম্মেদ–বীর মুক্তির অদম্য ছায়া বহন।

লাল-সবুজের প্রহরী, সোনার বাংলার প্রাণবন্ত সুর,
বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অটল, দেশপ্রেমে উজ্জ্বল অনুপ্রেরণা পুর।
বিএ, বিএড পাশ করে সমাজসেবায় নিজেকে নিবেদন,
জাতিকে আলোকিত করার স্বপ্নে জীবন উৎসর্গ করলেন নিরবেদন।

পশ্চিম পাড়ার বামুনিয়া, লাল টেকের মাঠে চেয়েছিলেন,
‘৭১-এ রাওনাট আদর্শ উচ্চবিদ্যা নিকেতন গড়ার স্বপ্ন বুনেছিলেন।
প্রতিষ্ঠাকালীন প্রধান শিক্ষক হ’তে,
লোভ-লালসা ত্যাগ করে বিন্যস্ত করলেন শিক্ষার দীপ্য।

দড়িমেরুন বালিকা বিদ্যালয়ও স্থাপন করলেন,
প্রতিষ্ঠাকালীন প্রধান শিক্ষক হয়ে পথ দেখালেন সকলকে।
বয়সে দুর্বল হলেও, মন অটল, ছুটে চলেন শিক্ষার মশালে,
আজও নানা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উৎসর্গ করছেন জীবন বাকি পরমালে।

এক জীবন আলোকিত, সংগ্রামের দীপ্য জ্বলে,
তিনি শিক্ষার আলোকবর্তিকা, সোনার বাংলার গর্ব একমাত্র।
শিশুর চোখে জাগান জ্ঞানের দীপ, গ্রামে ছড়িয়ে দেন সাহসের ধারা,
তার নিঃস্বার্থ জীবন হয়ে উঠেছে আমাদের অহংকারের নিদীপ।

শিশুর হাসিতে খুঁজে নেন নতুন আলোর ছোঁয়া,
গ্রামের পথে পথে ছড়িয়ে দেন জ্ঞান ও সাহসের ধারা।
নিস্বার্থ উদারতা, সংগ্রামের অনন্ত প্রেরণা,
তার নাম উচ্চারিত হোক দেশের প্রতিটি কোলাহলে, প্রভা।
--------------------------------------------------------------

ক্ষুদে রাজ

 ক্ষুদে ফুটবল রাজ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************
রাওনাট পশ্চিম পাড়ার বামুনিয়ার কোলে,
জন্ম নিল ক্ষুদে রাজ আবু দাউদ ফুটবলের দোলে।
রাওনাট স্কুল মাঠেতে বেড়ে উঠল প্রাণ,
খেলা দেখে মাততো গ্রাম, আনন্দে শত জন।

ছোটখাটো খর্ব দেহ, তবু ছিলো সাহসী,
ড্রিবল করলে ছুটে যেত বজ্রগতি নিশ্বাসি।
প্রতিটি পাসে মুগ্ধ করতো, শট ছুটতো ঝরে,
প্রতিটি গোল উৎসব হতো শত জয়ের ঘরে।

তার খেলার গৌরবে মুখর হতো মাঠ,
ফুটবলের জয়গান গাইতো জনতার হাট।
কাপাসিয়া, দূর্গাপুর, তারাগঞ্জের মাটি,
গাজীপুর, পাবুরে ছড়াতো তার জ্বালামুখী গতি।

খেপ খেলায় দাপট তার তুলনা হতো না,
প্রতিপক্ষ কাবু করতো দুরন্ত দৃপ্ত শোনা।
তার হাতে ফুটবলের জন্ম হলো গ্রামে,
অসংখ্য খেলোয়াড় গড়লো তারই নামে।

রাওনাটের অহংকার, ফুটবলের রাজ,
কিংবদন্তি অগ্রপথিক, সবার প্রিয় আজ।
যুগে যুগে তার কীর্তি বেঁচে রবে গানে,
ক্ষুদে রাজ আবু দাউদ, সবার হৃদেমাঝে।

আমরা চাই প্রিয় খেলোয়াড় থাকুক চিরদিন,
সুস্বাস্থ্য আর দীর্ঘায়ু হোক তার জীবন চিন।
--------------------------------------------


Saturday, September 13, 2025

চল হে শান্তির মিছিলে

 চল হে শান্তির মিছিলে

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**********************************
চল হে শান্তির মিছিলে, বাতাসে ভরে আলো,
মসজিদের খোপে দাঁড়াও, নামাজে মাথা নত করো।
পাখি কুহু মিশে বাজে, ভোরের ঘ্রাণে মধু,
সেজদায় মাথা মেলায় প্রাণ, অন্ধকার সব দূর হও।

মুয়াজ্জিন ডাকিছে দূরে, বাঁশি বাজে ঘরে ঘরে,
নদীর ঢেউয়ে মিশে যায়, প্রভূর সুর মধুর’রে।
ফুলে ভরে মাঠের কোণা, শিশির ঝরে প্রভাতের তরে,
অন্তর জাগে ন্যায়ের আলো, মন হয় শান্তি ভরে।

বলো হে ইসলাম শান্তি, মুক্তির নীল আকাশে,
বলো হে ন্যায়বিচার, মানবতার বুকে রবে।
সত্যই মুক্তি, সঠিক পথে, ডিঙিয়ে পাহাড় নদীর গান,
নামাজের আলোয় ভেসে উঠুক, হৃদয় যেন পানির প্রাণ।

সত্য ন্যায় প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে চলো, ধানের মাঠে শিশির ঝরে,
আল্লাহর পথে ভালোবাসা ছড়াও, চিরন্তন আলো ঝরে।
প্রতিটি ঢেউয়ে বাজে শান্তি, প্রেমের মধুর বাণী,
নামাজে মিলিত জীবন, ন্যায় ও করুণা মানী।
-------------------------------------------------------------


রাওনাটের স্কুল মাঠ

 রাওনাটের স্কুল মাঠ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**********************************

রাওনাট স্কুল মাঠ! সবুজ আগুনের চাদর,
আম, জাম, কাঠাল, আনারস—প্রকৃতির তেজোদীপ্ত ভান্ডার।
বামুনিয়া বুক জুড়ে আলোর দীপ্তি জ্বলে,
শিশুর খেলা আসে, ভেঙে অন্ধকারের দিগন্তের চাদর।

মাঠ! হে বিদ্রোহী নদী, তরঙ্গ বয়ে চলে অটল,
যুবকের হৃদয় শিখে সাহস, সততার অমলিন শিখা।
পূর্ব-পাড়া, পশ্চিম-পাড়া, বরাইদ, দূর্গাপুরের বন্ধনে,
মাঠের কণিকা বাঁধে মিলনের বিপ্লবী সেতু।

ধূলা-বালির কোমল স্পর্শ, ঝড়ে পড়ে হাসি বন্ধুত্বের,
ক্রিকেট, ফুটবল, আড্ডা, ওয়াজ মাহফিল—সব মিলনমেলার উৎসব।
মাঠে গর্জে ওঠে বাঙালীর কৃষ্টি-কালচার,
শিশুর চিৎকারে, যুবকের পদচাপে, সমাজের প্রলয়।

মাঠ! হে আগুনের বীজের বাগান,
খেলার মায়ায় জন্ম নেয় বিদ্যুৎ,
শিক্ষার বীজ, চরিত্রের শিকড়—প্রজন্মে ছড়িয়ে দেয় বিপ্লবী শক্তি।
প্রতিটি পাথর, প্রতিটি ঘাস, শিখায় ন্যায়-বিচার, প্রতিবাদ।

হে মাঠ! বহু প্রজাপতি উঠে এসেছে তোর বুক থেকে,
যারা দান করেছেন—তাদের প্রতি চির কৃতজ্ঞ মানবিক প্রাণ।
মাঠ শুধু খেলার নয়, চেতনাও শাণিত করে,
সমাজ, সভ্যতা গড়ে, নতুন প্রজন্মকে বিদ্রোহী করে।

রাওনাটের স্কুল মাঠ! ইতিহাস-ঐতিহ্য এক মৃত্যুঞ্জয়ী,
চিরকাল বেঁচে থাকবে—আলো, দেশপ্রেম ও বন্ধুত্বের অমলিন মণি।
যেখানে আলোর মিছিল নিয়মিত হয়,
মাঠ হয়ে ওঠে দেশপ্রেম, বন্ধুত্ব ও বিদ্রোহী চেতনার অনন্ত অঙ্গন।
-------------------------------------------


আমাদের প্রিয় স্যার

আমাদের প্রিয় স্যার
কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**********************************
রাওনাট আদর্শ উচ্চবিদ্যা নিকেতন, গ্রামের গর্ব-প্রাণ,
সেখানে দীপ্ত ছিলেন প্রধান শিক্ষক সবার অম্লান।
সূর্যের মতো প্রভাত এনে দূর করতেন আঁধার,
চাঁদের মতো স্নিগ্ধ হেসে করতেন মন আভার।

বাংলা সাহিত্যে গভীর নদী, কাব্যের কলতান,
ইংরেজি পাঠে ঝরনার মতো জ্ঞানের অবিরাম গান।
বটবৃক্ষ হয়ে দাঁড়াতেন শিষ্যের আশ্রয়ে,
প্রদীপ শিখা জ্বালাতেন পথহারা অন্ধকারে।

ধানের শীষের মতো বিনয়ী, তবু গর্বিত,
হিমালয়ের চূড়ার মতো চরিত্র অটল স্থিত।
কোকিলস্বর কণ্ঠস্বর, বসন্তের মধুময়ী ডাক,
ফুলের মতো কোমল স্নেহে করতেন হৃদয় পাক।

সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো বিস্তৃত তাঁর জ্ঞান,
গঙ্গার জলের মতো পবিত্র ছিলো প্রাণ।
তাঁর মৃত্যুতে নিভে গেল জাতির আলোক-ধারা,
আমরা হারালাম অভিভাবক, শূন্য হলো সারা।

আল্লাহ করুক দান জান্নাতুল ফেরদৌসের স্থান,
সিরাজুল ইসলাম স্যার—আমাদের হৃদয়ের অনন্ত দিশারী প্রাণ।
-------------------------------------------------------------

প্রথম ইঞ্জিনিয়ার (বুয়েট)

 প্রথম ইঞ্জিনিয়ার (বুয়েট)

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*******************************************************

চিনাডুলী গ্রামে জন্ম আলো ১৯৪০ সালের দশ এপ্রিল,
নাজমুল হাসান খালেদ উজ্জ্বল, ধর্মভীরু, দানশীল।
পিতা আখতার উদ্দিন আহমেদ, মাতা সামসুন্নাহার বেগম,
প্রচারে নয়, কেবল প্রিয়, মানুষের কল্যাণে তার যাত্রা সুন্দর।

শিক্ষার যাত্রা বাঘিয়া স্কুলে, নারায়নপুর মাইনর পড়া,
ঢাকার জেলার স্কলারশিপে চতুর্থ স্থান পাকা।
১৯৫২ কাপাসিয়া পাইলট ভর্তি, ১৯৫৬ ম্যাট্রিক পাশ,
আনন্দ মোহন কলেজে প্রথম বিভাগে আই এস সি তার আশ।

১৯৫৮ আহসান উল্লাহ কলেজে ভর্তি, বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ ১৯৬৩,
কাপাসিয়ার প্রথম বুয়েট ইঞ্জিনিয়ার, ইতিহাসে তার খ্যাতি।
ইষ্ট পাকিস্তান ওয়াপদা পাওয়ার চাকরি তিন বছর,
চাকরি ছেড়ে ব্যবসার পথে, জীবন সার্থক হয় সেই সময়ের।

১৯৭৭ বঙ্গ বন্ধু স্টেডিয়ামে ফ্লাডলাইট স্থাপন,
১৯৭৮ লিবিয়ায় ইলেকট্রিক সাবস্টেশন, কাজের প্রাণ।
১৯৯০ দেশে ফেরার পর, ক্রমে ব্যবসা প্রতিষ্ঠা,
১৯৮৪ জাহাসের ব্যবসা, ১৯৮৫ পিপুলস ইন্সুরেন্স,
১৯৮৭ গার্মেন্টস, ১৯৯৫ আল-অরাফাহ ব্যাংক, ১৯৯৭ নারিশ পোল্ট্রি,
২০০১ পুপুলার লাইফ, ২০০৮ টেলনেট কমিউনিকেশন প্রতিষ্ঠা।

দেশপ্রেম, মানুষের সেবা, সহজাত প্রবৃত্তি তার দিশা,
প্রথম বুয়েট ইঞ্জিনিয়ার, নাজমুল হাসান খালেদ,
জীবনের ছন্দে কর্মে সাফল্যের আলো ছড়ায়,
চিনাডুলী থেকে বিশ্বপথ, উদার হৃদয় তার ছোঁয়া ছায়।

স্কোয়াড্রন লিডার

 স্কোয়াড্রন লিডার

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************
তরগাঁওর তেজ, মুঃ মহসীন নাম,
আলাউদ্দিন–হালিমার গৃহে জন্মিল অবিরাম।
১৯৮৩—এসএসসি, লেটা সহ জয়,
প্রথম বিভাগে কৃতিত্ব, কাপাসিয়ার মহিমায়।

ঢাকার বিজ্ঞান কলেজে—১৯৮৫ তে দীপ,
এইচএসসি প্রথম বিভাগ, উড়াল স্বপ্ন সৃজিত।
১৯৮৬ জানুয়ারিতে বাহিনীর ডাকে,
জিডি পাইলট হলেন তিনি, আকাশের ফাঁকে।

১৯৮৮ জুনে একাডেমির শীর্ষে দাঁড়ালেন,
সব বিষয়ে প্রথম, Sword of Honour পেলেন।
কমিশন প্রাপ্ত হয়ে আকাশে ছুটিল,
ইন্সট্রাক্টর পাইলট হয়ে গৌরব আনিল।

অস্ট্রেলিয়া–তুরস্ক–পাকিস্তান শিক্ষা,
ফ্লাইট অপারেশন কমান্ডে আনিলেন দীপ্ত দীক্ষা।
স্কোয়াড্রন লিডার—পদোন্নতি তরে,
সাহসী সেনানায়ক দেশের প্রহরে।

কিন্তু—হায় নিয়তি! ২০০১ জানুয়ারি সাত,
এফ-৭ যুদ্ধবিমান ভাঙিল আকাশপথ।
শেষ ফ্লাইট শেষে রক্ত-রেখা ঝরিল,
দেশপ্রেমের অগ্নিতে প্রাণ নিবেদন করিল।

মহসীন—কাপাসিয়ার কৃতি সন্তান,
তোমার ত্যাগে জ্বলছে অনন্ত প্রাঙ্গণ।
স্কোয়াড্রন লিডার!—তোমার নাম অমর,
আকাশে, ইতিহাসে, জাতির অন্তর। 

অদম্য ক্যাপটেন

 অদম্য ক্যাপটেন

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************
নলগাঁও গ্রামের আঁচলে জন্ম নিলো দীপ্ত জ্যোতির আলো,
কুদরত উল্লাহ ভূঞা—বাংলার ক্রীড়াঙ্গনে যার গৌরব ঢালো।
১৯৪২ সালে কাপাসিয়া হাইস্কুলে জয়ের পতাকা তোলে,
ম্যাট্রিক পরীক্ষায় কৃতিত্ব এনে দেশের মাঠে জ্যোৎস্না রোলে।

ঢাকার ইন্টারমিডিয়েট কলেজে ১৯৪৬-এ খেলাধুলার শির,
ফুটবলের সেরা খেতাব পেলেন—বজ্রের মতো দীপ্ত অধীর।
১৯৪৮-এ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক জীবন দিলো আলো,
তবু সবখানে মাঠের টানে ছুটলেন, খেলার স্রোতে ভাসলো ভালো।

১৯৪১ হতে ’৪৪ অব্দি স্কুল টিমের ক্যাপটেন রূপে,
ঝড়ের মতো ছুটে যেতেন সবুজ মাঠের দোলা কূপে।
১৯৪৫-৪৬ সালে কলেজ ফুটবলে শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পেলেন,
ঢাকার লিগে প্রথম বিভাগে দলকে নিয়ে বিজয় খেলেন।

চ্যাম্পিয়ন হবার গৌরব ছড়ালো আকাশের বজ্রের সুরে,
১৯৫২-তে ইউনিভার্সিটি ব্লু সম্মানে নাম খোদিত হলো দূরে।
ফুটবল-ক্রিকেট, টেনিস-হকি, ভলিবল কিংবা ওয়াটারপোলো,
সবখানেই ছড়ালেন কীর্তি—খেলোয়াড় প্রাণে গর্বের আলো।

দেশে-বিদেশে দলের নাবিক হয়ে দিলেন নেতৃত্বের দিশা,
ঝড়ের সমুদ্র পাড়ি দিয়ে আনলেন বিজয়ের চিরন্তন নিশা।
বাংলাদেশ জুট মিল কর্পোরেশনে জেনারেল ম্যানেজার হয়ে,
কর্মক্ষেত্রেও ক্রীড়ার মতো সাফল্যের আলো বুকে বয়ে।

১৯৭৩ থেকে জাতীয় ফুটবল টিমের নির্বাচনে দিলেন দিশারী,
চেয়ারম্যান রূপে ছিলেন তিনি দৃঢ়, প্রাজ্ঞ, স্বচ্ছ-প্রহরী।
১৯৭৯ আগাখান গোল্ড কাপের গ্রাউন্ড কমিটিতে তারি নাম,
১৯৮০ জাতীয় পুরস্কারে জ্বললো ফুটবল-টেনিসের অবিরাম।

অদম্য ক্যাপটেন, বাংলার বুকের শালবনের মতো দাঁড়ানো,
প্রকৃতির ঝংকারে তোমার নাম আজও বজ্র-অগ্নিতে গড়া।
তুমি সূর্যের মতো আলো দাও ক্রীড়াঙ্গনের প্রতিটি প্রভাতে,
তুমি বাংলার গৌরব, অমর স্মৃতি, চির দীপ্ত অনন্ত রাতে।
----------------------------------------------