Wednesday, November 26, 2025

আমি বাংলার বজ্র-চিৎকার

 আমি বাংলার বজ্র-চিৎকার

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
***********************************************

আমি বাংলার বজ্র-চিৎকার—
আমি বিদ্রোহী রণচণ্ডী, অগ্নি-শিখা বিক্রম!
অন্যায়ের মন্দিরে আজ আমি
ধূমকেতু হয়ে পতন-ঘণ্টা বাজাই রণমুখর!

হে শাসকচক্র!
শুনো আমার কণ্ঠের ঝড়,
আমার রক্তের আগুনে জ্বলে ওঠে
সত্যের সিংহবাহিনী!
তোমাদের মিথ্যার দেয়াল আজ
মরুভূমির খড়ের ঘর—
এক চোটে ভেঙে দেব,
এক নিশ্বাসে উড়িয়ে দেব
অযাচার, জুলুম, দুঃশাসনের কালো লেলিহান!

আমি সেই জাতির সন্তান—
যারা রক্ত দিয়ে লিখেছে স্বাধীনতার গীত,
যাদের পায়ের চিহ্নেই শুরু হয় বিপ্লবের পথ।
একাত্তরের ধূপ-অগ্নি
আজো আমার মজ্জায় বজ্র হয়ে ওঠে—
দিয়ে যায় নতুন যুদ্ধের ডাক,
নতুন বিদ্রোহের তূর্যধ্বনি!

আমি বাংলার বজ্র-চিৎকার—
আমি বলি,
জনতাই আল্লাহ্‌র আমানত—
জনতাই রাষ্ট্রের শাসকের নির্মান
তোমরা কে?
শাসক?
না—
জনতার পরিশ্রমে গড়া
এক টুকরো সেবকের চাকরি মাত্র!
মুকুট পড়ে থাক,
সিংহাসন ঝলমল করুক—
জনতার একটিমাত্র গর্জনেই
সব ভস্ম হয়ে যাবে!

আমরা দাস নই—
ওরা ভাবুক!
লাঠি–গুলি–হুলিয়া?
হুঁহ্!
আমরা যে মৃত্যুকে নিয়ে খেলি
আনন্দনৃত্য করে—
আমরা অগ্নিপথের যাত্রী,
শৃঙ্খল ভাঙা আমাদের জন্ম-সংস্কার!

আমরা চাই ন্যায়ের অধিকার—
আর সে অধিকার নিতে জানি
সিংহের মতো ক্ষুধার্ত শক্তিতে।
ফ্যাসিবাদের দানব মুখোশ,
স্বৈরতন্ত্রের গলিত জোয়ার,
দুর্নীতির কাঁটার জঙ্গল—
সবকিছুকে আজ জনতার
বজ্র-মুষ্টি মাড়িয়ে দেবে ধূলায়!

এই বাংলাদেশ—
মানুষের মাটি,
মানবতার রক্তে ধোয়া সভ্যতার সূর্যোদয়।
এখানে হিন্দু–বৌদ্ধ–খ্রিষ্টান–মুসলিম
একই ধ্বনিতে গায়—
“মানুষ বড়, ধর্ম তার পথ!”
ধর্মান্ধতার অন্ধ-জ্বালা
আজই নেভে যাক আমার বজ্র-ডাকে!

আমি বাংলার বজ্র-চিৎকার—
আমি জাগাই মৃত হৃদয়,
ভাঙি কালো রাতের কারাগার,
আমি বিদ্রোহী–আমি মুক্তি–আমি জনতার জয়ধ্বনি!

আজ আমি শপথ করি—
চুরি-জুলুম-শোষণের প্রতিটি পর্বত
বজ্রাঘাতে করি চূর্ণ!
সত্য-স্বাধীনতা-মানবতার
নতুন প্রভাত ছিনিয়ে আনি!

আমি বাংলার বজ্র-চিৎকার—
গর্জে উঠি আবার,
জাগাই যুগের বুকে বিদ্রোহের আগুন,
বলেই যাই—
“আমি জনতা—আমি বিদ্রোহ—
আমি বাংলার অমর বজ্র-চিৎকার।
আমি—
বিদ্রোহ, দীপ্তি, বজ্র, অগ্নি,
আমি বাংলার চূড়ান্ত বিপ্লবী চিৎকার!
---------------------------------------
------------------------------------------


২৬-১১-২০২৫

নব স্বপ্নের যাত্রায়

 নব স্বপ্নের যাত্রায়

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
****************************************

যুদ্ধের পর যুদ্ধ ডিঙিয়ে, কত প্রভাত পেরিয়ে,
আজ রাওনাট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উঠোনে
পঞ্চম শ্রেণীর শিশুরা দাঁড়ায়—
অশ্রুতে ভেজা চোখে, ভবিষ্যতের দুয়ারে কাঁপে তাদের কণ্ঠ।

বিদায়ের এই করুন বেদনা—
মনে হয় যেন আকাশ ভেঙে হু হু করে পড়ে,
শিশুরা বুক চেপে ধরে রাখে
শেষ বই-গন্ধ, শেষ সুরেলা হাসির প্রতিধ্বনি,
শেষবারের মতো দৌড়ে আসা বেঞ্চের ছায়া।

শিক্ষক—মায়ের মতো, বাবার মতো—
দাঁড়িয়ে থাকেন তাঁদের পাশে,
হারুন আর রশিদ মোল্লা, শফিকুর রহমান মোল্লা, সোলাইমান মোল্লা,
ইব্রাহীম, আর শ্রদ্ধেয় মাসুম সরকার—
শিক্ষানুরাগের দীপ হাতে মশালবাহীর মতো।

তারা বলেন—
“এই বিদায় তো শেষ নয়, এত তো নব যুদ্ধের সূর্যোদয়।”
শিশুরা বোঝে না,
তাদের অবুঝ চোখ জলে ভিজে উঠে,
কিন্তু এ জলের ভেতরে লুকিয়ে থাকে
ভবিষ্যতের প্রভাতী রোদ,
নতুন পথের প্রথম আলো।

আজ যে অশ্রু গড়িয়ে পড়ে—
তা পরাজয়ের নয়,
এ তো শক্তি সঞ্চয়ের শপথজল,
নিজেকে নতুন করে গড়ার দৃঢ় উচ্চারণ।

উঠোনের বাতাসেও আজ কাঁপে—
ছোট ছোট হৃদয়ের বিদায়-গান,
তবু তার মাঝেই বেজে ওঠে ভবিষ্যতের গান—
“হে শিশু, চল এগিয়ে যাও, তোমার পথই তোমার আগামীর মান।”

বিদ্যালয়ের দেয়ালে দেয়ালে
ঝরেপড়া অশ্রু যেন লিখে দেয় এক স্বপ্ন-ঘোষণাপত্র—
আগামী দিনের যোদ্ধারা আজ যাত্রা শুরু করলো
নিজেদের নতুন সূর্যের দিকে,
নতুন সংগ্রামের মাঠে,
নতুন বিশ্বাসের দীপ্ত ছন্দে।

তাই আজকের এই বিদায়—
মূহূর্তের নয়, ইতিহাসের।
এই ব্যথা—শোক নয়, শক্তি।
এই অশ্রু—হতাশার নয়, নব স্বপ্নের যাত্রার প্রথম ধারা।

শুভ যাত্রা, প্রিয় শিক্ষার্থীরা—
তোমাদের প্রতিটি পদক্ষেপে
উজ্জ্বল হোক আগামী দিনের সূর্য।
বিদায় তো নয়—
এ তো আগামী সূর্যের স্বপ্নযাত্রার
প্রথম পদক্ষেপ।

-----------------------------------------------------


২৬-১১-২০২৫

Tuesday, November 25, 2025

জনতার বিপ্লব

 জনতার বিপ্লব

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
***********************************

হে শাসনচক্র, শোনো আজ জনতার বজ্রধ্বনি—
অন্যায়, জুলুম, ফ্যাসিবাদের আগুনে আর ভয় নেই কোনোক্ষণই।
জনতার রক্তে জন্ম নেয় যে দীপ্তি,
সে দীপ্তির সামনে পতনের নেশায় কাঁপে সকল স্বৈরশক্তি।

জনতা যখন জেগে উঠে,
ইতিহাস বদলায় পথের মোড়ে মোড়ে—
সাধারণ মানুষের মুঠিবদ্ধ হাতেই
লিখে যায় নতুন ভোরের সোনালি গীতরেখা ঘোরে।

কিসের গুলি, মেশিনগান, কারাগার কিংবা হুলিয়া!
দমাতে পেরেছে কাকে, কখন?—
বুক পেতে দাঁড়ানো মানুষের সাহস
ঝড়ের মতো ছিঁড়ে ফেলে দমনের লৌহবরণ।

কেউ হয় শহীদ—রক্তে রাঙায় স্বাধীনতার ভবিষ্যৎ,
কেউ হয় গাজী—অটল, অবিচল, অরুণোদয়ের ঘোষণা।
তবু পথ থামে না, থামে না কোন স্বপ্ন,
জনতার বিপ্লবে জন্ম নেয় নতুন দেশের নির্মাণা।

দুর্নীতিবাজ, জুলুমবাজ, দেশদ্রোহী, মবের শৃঙ্খল—
সবই ভেঙে যায় জনতার একবার উচ্চারণে।
ঐক্যবদ্ধ জনতা যখন দাঁড়ায় দুর্জয়ের মতো,
অসময়ে আলো ফোটে, শিকল ভাঙে, সত্য উঠে বিজয়-বেদনার প্রান্তরে।

জনতাই শক্তি—বিজয়ের অগ্নি-প্রতীক,
জনতাই ইতিহাসের শাসক, সময়ের প্রকৃত দিশারী।
অবশেষে জুলুম পালায়, অন্ধকার গলে যায়—
আর ন্যায়ের পতাকা উড়ে যায়
স্বপ্ন-জাগানো স্বাধীন আস্তাকুঁড়ি থেকে নতুন আকাশের দিকে ভারী।

জনতার বিপ্লব—নতুন ভোরের জাগরণ।
----------------------------------------------------------


২৫-১১-২০২৫

স্বাধীনতা এমনি আসেনি

 স্বাধীনতা এমনি আসেনি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************************

হে জাতি, শোনো বজ্রধ্বনি!
স্বাধীনতা এমনি এমনি আসে না—
এটি ছিনিয়ে আনতে হয় আগুনে,
ঝড়ের ভিতর দাঁড়িয়ে,
রক্তের নদী পাড়ি দিয়ে,
বুকের শেষ স্ফুলিঙ্গ জ্বালিয়ে!

সেদিনের প্রেক্ষাপট ছিল আগ্নেয়গিরি—
পোড়া মাটির বুকে সন্তানের চিৎকার,
রক্তে রঞ্জিত ধানখেত,
বিধবার কপালের ছাই,
আর অদম্য প্রতিজ্ঞা—
“এই দেশ ছিনিয়ে নেব, নয়তো জীবন দেব!”
সে বিপ্লব ছিল বজ্রপাত,
যা শত্রুর বুকে বিদ্যুৎ হয়ে নেমেছিল।

মনে রেখো হে জাতি—
স্বাধীনতা দয়া নয়, ভিক্ষা নয়,
এটি ইতিহাসের সবচেয়ে দুঃসাহসী ডাক,
কণের পর কণায় লেখা ত্যাগের অগ্নিলিপি।
যারা রক্ত ঝরিয়েছে,
তারা জ্বালিয়ে গেছে শিহরণ—
“জেগে ওঠো! জাগো!
স্বাধীনতা রক্ষা করতে আবার দাঁড়াও!”

তবু আজো অন্ধকার লুকিয়ে আছে কোণে কোণে—
সেই পুরোনো শকুনেরা আবার ডানা মেলে,
বর্ণচোরা গিরগিটি রং বদলায়,
মুখোশ পরে, হাসে, ফুঁসছে অন্তরে পরাজয়ের দাহ নিয়ে।
একবার ভুলে চিনলে—
ঢলে পড়বে সব, ভেঙে পড়বে জাতি,
মুছে যাবে পরিচয়, মৌলিকতা, অস্তিত্ব!

হুঁশিয়ার হে জাতি!
মীরজাফর এখনো আছে—
নতুন নামে, নতুন চামড়ায়,
মুনাফিকেরা রাতের মতো কালো,
বিশ্বাসঘাতকরা ছায়ার মতো পিছু নেয়—
তোমাকে ঘিরে রাখে, অপেক্ষায় থাকে
তোমার একটুখানি ভুলের!

তাই বলি—
জাগো হে জাগো! বজ্রের মতো জাগো!
তোমার রক্তে আগুন ধরাও,
মাটি কাঁপাও তোমার পদধ্বনিতে।
আরো তীব্র, আরো প্রবল বিদ্রোহে
তুলে ধরো মুষ্টি আকাশে—

স্বাধীনতা এমনি এমনি আসেনি,
এবারও এমনি থাকবে না!
রক্ষা করতে হলে বজ্র হও,
অগ্নি হও, বিদ্রোহী হও!
শত্রুকে চিনো, প্রতিরোধ গড়ো,
জাতিকে জাগাও, মাটিকে জাগাও!

হে জাতি—
তুমি জেগে উঠলেই
স্বাধীনতা অটুট থাকবে,
তুমি ঘুমোলেই
অবনতি নিশ্চিত!

তাই আজই শপথ নাও—
জাগব, রক্ষা করব, লড়ব!


রক্ত-ঝরা বাংলাদেশ

 রক্ত-ঝরা বাংলাদেশ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
****************************************************

একাত্তুরের আগ্নেয়-জন্ম, হে বাংলাদেশ—
তোমার শিরায় শিরায় আজো আগুন, আজো বজ্র, আজো বিদ্রোহের শপথ।
তুমি নদীর মতো কোমল নও—
তুমি বজ্রপাতের সন্তান,
তুমি অগ্নিপাহাড়ের গর্জন,
তুমি রক্ত-ধারায় লিখে যাওয়া ইতিহাসের অমোঘ মহাধ্বনি!

যে দানবেরা একদিন চেয়েছিল তোমার কণ্ঠ ছিন্ন করতে,
ভাষা কেড়ে নিতে, স্বাধীনতা মুচড়ে ভেঙে ফেলতে—
তাদের অস্থিমজ্জা পর্যন্ত থরথর করে আজো
যখন শোনা যায়
বাঙালির বুকফাটা গর্জন— "স্বাধীনতা মানে অধিকার!"

লক্ষ শহীদের রক্ত—
এটা শুধু রঙ নয়, এটা তাণ্ডবের সংজ্ঞা!
লক্ষ মায়ের অশ্রু—
এটা শুধু ব্যথা নয়, এটা বিপ্লবের আগুন-ঘৃণা!
এই রক্তে, এই অশ্রুতে, এই আগুনে
বাংলাদেশের পতাকা শুধু উড়ে না—
পৃথিবীকে জ্বালিয়ে দিয়ে ওঠে দাঁড়ায় সত্যের মশাল হয়ে!

তবু দেখো—
জুলুম শেষ হয়নি, স্বাধীনতা পুরোপুরি আসেনি,
গণতন্ত্রের বুক চাপা পড়ে আছে অশুভ পায়ের তলায়।
দুর্নীতির পিচ্ছিল সাপেরা ছুটে বেড়ায় মন্ত্রীসভা থেকে মহল্লা পর্যন্ত,
সাম্প্রদায়িক বিষণ্ণতা ও উন্মাদনার দহন
মানুষকে ছিন্নভিন্ন করে,
প্রতিহিংসার কালো ছায়া দমবন্ধ করে
জনতার কণ্ঠকে।

কিন্তু—
এই মাটিতে দীর্ঘশ্বাস বেশিক্ষণ টিকে থাকে না।
এই মাটিতে কষ্ট জমে থাকলে
তার নিচে গোপনে জ্বলে আগুন—
এ আগুন পুড়লে শুধু গাছ নয়,
সিংহাসনও গলে যায়!!

হে বাংলাদেশ, তুমি নরম নও—
তুমি এমন গর্জন,
যার শব্দে পাহাড় থরথর করে,
নদী উন্মাদ হয়ে ওঠে,
আকাশ বিদ্যুৎ হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে ভূমীর বুকে!

তোমার রক্তঝরা ইতিহাসে লেখা—
“অন্যায়কে ক্ষমা নয়, প্রতিরোধ!
জুলুমকে সহ্য নয়, বিদ্রোহ!”

আজো সেই রক্ত ঘুমায় না,
আজো সেই আগুন নেভে না—
শোষিতের বুকের নীরব ক্রোধ আজ এক অগ্নিঝড়,
যে ঝড়ে উড়ে যাবে
স্বৈরশাসনের শেষ চিহ্ন,
ধ্বংস হবে দুর্নীতির অট্টালিকা,
ভেঙে পড়বে প্রতিহিংসার খাঁচা,
সত্য দাঁড়াবে অগ্নিমূর্তি হয়ে!

এসো জনতা—
তোমার হাতই বিপ্লব, তোমার কণ্ঠই বজ্র,
তোমার রক্তই স্বাধীনতার শেষ ইশতেহার।
গর্জে ওঠো!
শুনিয়ে দাও পৃথিবীকে—

বাংলাদেশ কোনোদিন মাথা নোয়াবে না,
বাংলাদেশ কোনোদিন পরাজিত হবে না,
বাংলাদেশ জনতার—
এবং জনতার রক্তের আগুনেই নতুন স্বাধীনতা জন্ম নেবে!
---------------------------------------------------


২৫-১১-২০২৫

রক্ত-ঝরা বাংলাদেশ

 রক্ত-ঝরা বাংলাদেশ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
****************************************************

একাত্তুরের আগ্নেয়-জন্ম, হে বাংলাদেশ—
তোমার শিরায় শিরায় আজো আগুন, আজো বজ্র, আজো বিদ্রোহের শপথ।
তুমি নদীর মতো কোমল নও—
তুমি বজ্রপাতের সন্তান,
তুমি অগ্নিপাহাড়ের গর্জন,
তুমি রক্ত-ধারায় লিখে যাওয়া ইতিহাসের অমোঘ মহাধ্বনি!

যে দানবেরা একদিন চেয়েছিল তোমার কণ্ঠ ছিন্ন করতে,
ভাষা কেড়ে নিতে, স্বাধীনতা মুচড়ে ভেঙে ফেলতে—
তাদের অস্থিমজ্জা পর্যন্ত থরথর করে আজো
যখন শোনা যায়
বাঙালির বুকফাটা গর্জন— "স্বাধীনতা মানে অধিকার!"

লক্ষ শহীদের রক্ত—
এটা শুধু রঙ নয়, এটা তাণ্ডবের সংজ্ঞা!
লক্ষ মায়ের অশ্রু—
এটা শুধু ব্যথা নয়, এটা বিপ্লবের আগুন-ঘৃণা!
এই রক্তে, এই অশ্রুতে, এই আগুনে
বাংলাদেশের পতাকা শুধু উড়ে না—
পৃথিবীকে জ্বালিয়ে দিয়ে ওঠে দাঁড়ায় সত্যের মশাল হয়ে!

তবু দেখো—
জুলুম শেষ হয়নি, স্বাধীনতা পুরোপুরি আসেনি,
গণতন্ত্রের বুক চাপা পড়ে আছে অশুভ পায়ের তলায়।
দুর্নীতির পিচ্ছিল সাপেরা ছুটে বেড়ায় মন্ত্রীসভা থেকে মহল্লা পর্যন্ত,
সাম্প্রদায়িক বিষণ্ণতা ও উন্মাদনার দহন
মানুষকে ছিন্নভিন্ন করে,
প্রতিহিংসার কালো ছায়া দমবন্ধ করে
জনতার কণ্ঠকে।

কিন্তু—
এই মাটিতে দীর্ঘশ্বাস বেশিক্ষণ টিকে থাকে না।
এই মাটিতে কষ্ট জমে থাকলে
তার নিচে গোপনে জ্বলে আগুন—
এ আগুন পুড়লে শুধু গাছ নয়,
সিংহাসনও গলে যায়!!

হে বাংলাদেশ, তুমি নরম নও—
তুমি এমন গর্জন,
যার শব্দে পাহাড় থরথর করে,
নদী উন্মাদ হয়ে ওঠে,
আকাশ বিদ্যুৎ হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে ভূমীর বুকে!

তোমার রক্তঝরা ইতিহাসে লেখা—
“অন্যায়কে ক্ষমা নয়, প্রতিরোধ!
জুলুমকে সহ্য নয়, বিদ্রোহ!”

আজো সেই রক্ত ঘুমায় না,
আজো সেই আগুন নেভে না—
শোষিতের বুকের নীরব ক্রোধ আজ এক অগ্নিঝড়,
যে ঝড়ে উড়ে যাবে
স্বৈরশাসনের শেষ চিহ্ন,
ধ্বংস হবে দুর্নীতির অট্টালিকা,
ভেঙে পড়বে প্রতিহিংসার খাঁচা,
সত্য দাঁড়াবে অগ্নিমূর্তি হয়ে!

এসো জনতা—
তোমার হাতই বিপ্লব, তোমার কণ্ঠই বজ্র,
তোমার রক্তই স্বাধীনতার শেষ ইশতেহার।
গর্জে ওঠো!
শুনিয়ে দাও পৃথিবীকে—

বাংলাদেশ কোনোদিন মাথা নোয়াবে না,
বাংলাদেশ কোনোদিন পরাজিত হবে না,
বাংলাদেশ জনতার—
এবং জনতার রক্তের আগুনেই নতুন স্বাধীনতা জন্ম নেবে!
---------------------------------------------------


২৫-১১-২০২৫

আর কত দূরে তুমি?

 আর কত দূরে তুমি?

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
***************************************
শুনো হে পৃথিবী—
এ শুধু প্রেম নয়,
এ আমার নিঃশ্বাসে লাগানো অগ্নি,
হৃদয়ের গভীরে গোপনে জ্বলা
অদেখা কোনো অনল।
শিরা-উপশিরায় তার ঢেউ,
রাত্রির নিস্তব্ধতায় বজ্রের মতো ধ্বনি—
আমি শুনি, কেউ শুনতে চায় না।
অস্থি-মজ্জায় এক ঝড়,
নিয়তির মতো নিরন্তর বয়ে যায়।
তবু সে অধরা—
হঠাৎ মনে হয় ঠিক পাশেই,
ঠিক চোখের কোণে,
ঠিক স্পর্শের দূরত্বে,
তবু ছুঁই ছুঁই ভেবে হাত বাড়ালে
মেঘের মতো মিলিয়ে যায়।
তুমি কে?
প্রশ্নটি আজো আমার বুকে ঝুলে আছে—
তালের পাতায় জমে থাকা শিশিরের মতো,
ঝরে পড়ে না, শুকিয়েও যায় না।
হৃদয়ের গভীর খাঁজে তুমি এক অনুভূতির লুকানো ব্যথা,
যা কেউ বোঝার চেষ্টা করল না কখনো।
এই শুন্যতা—
হাঁসফাঁস করা এক দূরত্ব,
যার রেখায় আমি প্রতিদিন হারাই।
তোমাকে দিয়েছিলাম এক স্বর্গীয় প্রেম,
জানতাম না, প্রেমও কখনো
এমন দীর্ঘ পথ ধরে হাঁটে।
বলো তো, আর কত দূরে তুমি?
আকাশের ওপাশে?
নাকি আমার ভেতরের কোনো অনাবিষ্কৃত গহিনে?
যেখানে শব্দ থেমে যায়,
কিন্তু তোমার নাম থামে না…
যদি জানতে,
এ হৃদয়ে আজও তুমি ঢেউ তোল,
তাহলে কি ফিরে আসতে?
নাকি দূরত্বই তোমার সত্যিকারের ঘর—
আর আমার প্রশ্নই শুধু
অসমাপ্ত কবিতার শেষ লাইন?
বলতো…
আর কত দূরে তুমি?
--------------------------------------------------
২৫-১১-২০২৫

অভিশপ্ত নেতা

 অভিশপ্ত নেতা

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
***************************************

দিকে দিকে ছায়া, শির উঁচু নেতার,
জনতার চোখে ভয়, হৃদয়ে অভিশাপের ঘা।
হাত গিলে লুট, ধ্বংসে ভরা চিত্ত,
মানবতার পথে তাদের অন্ধকারের ঘা।

মীরজাফর, মুনাফিক, বিশ্বাসঘাতকরা,
অভিশপ্ত কায়মান্দ—জনতার অভিশাপ ভারি।
সাম্প্রদায়িক, উগ্র, দেশদ্রোহী,
অর্থপাচারী, লুটেরাজ—সবই তাদের দারি।

ওরা স্বাধীনতার শত্রু, তাবেদার,
মববাদীর প্রশ্রয়, সন্ত্রাসে পূর্ণ।
জনতা চাপে, ঘুম ভেঙে,
আগুন জ্বালায়, হোক প্রলয়, হোক ঝড়পূর্ণ।

ধ্বংস হউক দুষ্টদের, কায়মান্দের দলে,
উঠুক জনতার প্রতিরোধের ঢেউ।
বিপ্লবের শঙ্খ বাজুক শহর-গঞ্জে,
অন্ধকার ছিন্ন হোক, আলো আসুক স্বপ্নে।

আজকের দুঃশাসকরা হোক ইতিহাসে,
জনতার অভিশাপ হোক প্রতিটি ধ্বনিতে।
বিদ্রোহের বাণী বয়ে উঠুক বাতাসে,
ভোরের আলো হোক দুষ্কৃতির শাস্তিতে।

মানবতার পথে জাগুক মুক্তির জোয়ার,
অভিশপ্ত নেতাদের প্রলয় হোক নিশ্চিত।
জনতার রক্তে লিখিত হোক নতুন অধ্যায়,
স্বাধীনতার পতাকা উড়ুক উঁচু আকাশে।
------------------------------------------------


২৫-১১-২০২৫

অমুসলিমদের প্রতি দায়িত্ব

 অমুসলিমদের প্রতি দায়িত্ব

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**************************************

হে মুমিন! শান্তির দিকে জাগো, জাগো!
ইমানের নূর হাতে তুলে নাও—
অমুসলিমের হৃদয়ে রাখো মেহরবানী,
জোর নয়, জোর নয় কোনো অগ্রাসণে

ধর্মের বাঁধন ভেঙে দাও, ভেঙে দাও!
হুরমত রক্ষা করো—
প্রত্যেক প্রাণে ছড়াও আলোর নূর,
দাওয়াতের বাণী বাজাও, বাজাও!

অমুসলিমের পাশে দাঁড়াও, দাঁড়াও!
বিপদে সাহায্য বাড়াও—
হৃদয়ে বাজুক ইনসাফ,
অন্ধকার রাতও ভেঙে যায়!

উগ্রতার প্রাচীর ভাঙো, ভাঙো!
মাহববাতের সেতু বানাও—
সত্য, ন্যায়, ভদ্রতা,
আদাবের দীপ জ্বালাও!

শান্তির ডাক দাও, ডাক দাও!
শত্রু হলেও ইহসান দেখাও—
জীবন, ধর্ম, সম্পদ রক্ষা করো,
আল্লাহর নীতি বলাও!

ভুল বোঝাবুঝি, বিদ্বেষ মুছে দাও,
বন্ধুত্বের রাহ বানাও—
মুমিনের পরিচয় হলো
সৌহার্দ্য, ভদ্রতা, মানবিক দৃষ্টি ছড়াও!

হৃদয় খোলা রাখো, খোলা রাখো!
অমুসলিমের প্রতি দায়িত্ব মনে রাখো—
যেন আল্লাহর সন্তুষ্টি জাগে,
মানবতার জাহান উজ্জ্বল হয়!

ন্যায়, শান্তি, সহানুভূতি—এই তিন হাতে তুলে ধরো,
দায়িত্ব তোমার, দায়িত্ব আমার, সকলেরই, এ মানবতার পাঠশালা!


২৫-১১-২০২৫

ইসলামের আহবান

 ইসলামের আহবান

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর
***********************************

আকাশে ভেসে আসে রাব্বের বাণী,
হৃদয়ে ঝরে যায় নূরের জ্যোতি।
“ইলাল্লাহির পথে চল,” বলে কোরআনের ধ্বনি,
নির্দ্বিধায় হোক জীবন আমাদের পূর্ণ ইকবাল।

প্রতিটি শ্বাসে নামাজের সালাতের শান্তি,
মাসকিনের দিকে মেলে হৃদয়ের রাহমত।
“ইনসাফ করো, ফিকর ও কুরবানির পথে,”
সত্যের আলোয় হোক আমাদের ইকতিদার।

জিহাদ নয় রক্তের খেলা, নয় বদল বা প্রতিহিংসা,
এ যেন আত্মার ইতিমাদ, নেকীর খুশহালী।
সাদাকাহ মুছে দেয় দুঃখের ছায়া,
ভালবাসার আলো জ্বেলে অন্ধকারের ফিতনা।

রোজার ত্যাগে নীরব প্রশান্তি,
ধৈর্যের নিঃশ্বাসে জন্মায় সাবরের শক্তি।
“মানুষকে ভালোবাসো,” কোরআন বলে বারবার,
ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে বাঁধা হোক পৃথিবীর জাহান।

মুসলিম হৃদয়ে জেগে ওঠুক উম্মাহ’র আশা,
হাদিসের আলোয় দিশা হোক প্রতিটি বাশা।
ইসলামের আহবান, শান্তি ও সৌভ্রাতৃত্বের গান,
চল পথে, চল নির্ভয়ে, আল্লাহর প্রিয়বান।

ইকবালের দীপ্তি, রাহমতের ছোঁয়া,
খুশহালী আর সাবর, হোক জীবনের কাব্যিক রোয়া।
সাদাকাহ দিয়ে মন হোক মুক্ত,
ফিতনার অন্ধকার কেটে হোক আলোর সূক্ত।
--------------------------------------------------------


২৫-১১-২০২৫

নগ্নতার আগুন

 নগ্নতার আগুন

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
***********************************

অভিশাপের পথে হেঁটে যাই, লাজ হারিয়ে আঁধারে,
নগ্নতা ডাকে শয়তানের ইশারায়।
হায়া হারালে রুহ হয় মরুভূমির শুকনো কুয়া,
জীবন শুকিয়ে যায় তৃষ্ণার্ত বালুতটে মুমিনের দয়া।
নগ্নতা—আগুন, পোড়ায় চরিত্রের সবুজ বন,
তার ধোঁয়া ঢেকে দেয় অন্তরের আকাশ, অন্ধ করে মন।

কোরআন বলে, “ফাহশা আনবে ফিতনা”—
অশ্লীলতার আগুন তুলে সে হারায় সাকিনা।
ওহে শুনো—নগ্নতা বিষধর সাপের মতো,
লাজের বাগান খেয়ে ফেলে এক রাতেই সব পাতাপ্রাপ।
মন হয় উলঙ্গ ইটের দেয়াল,
শয়তান আঁকে তার ওপর জালাল।

সত্যবাণী বলে—‘হায়া ইমানের শাখা’,
হায়াহীন হৃদয় হয় ছাইভস্মের রেখা।
ওহে শুনো—নগ্নতা বাতাসহীন জাহান্নামের ধোঁয়া,
প্রতিটি নিশ্বাসে মিশে দুঃখের ধূম্রবায়ু।
রুহানি আলো নিভে গেলে, মানুষ হয় শূন্য মরুভূমি,
সেখানে সুবহানাল্লাহর সুরও শোনা যায় ক্ষীণভূমি।

তাই লাজ-হায়াই হোক ঢাল, হোক ইমানের পর্দা,
হিজাব শুধু পোশাক নয়—জীবনের কুরআনি সুরাহ।
নগ্নতার পথে যে যায়, ভুলে যায় রবের নিয়ামত,
আলোর পথে ফিরলেই মেলে রহমতের বরকত।
------------------------------------------


২৫-১১-২০২৫

ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি

 ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************************

ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি—
যেন জাহান্নামের আগুনে খেলা,
হৃদয়ে নেই মহব্বত, নেই ইমানের নূর,
শুধু বাজে গুন্ডা–নফসের দোল।

“ওয়াত্তাসিমু বিহাবলিল্লাহ জয়‘আমানা ওলা তফরেক্কু”
মধ্যপথ ধরো, রাখো ধৈর্য, রাখো সহিষ্ণুতা,
আমরা ঢালি তাতে ফিতনা, শরারাত,
বাতাসে ভেসে ওঠে কিলকিল, চিৎকার, হাহাকার।

নবী বলেছেন— “আররিফক শুআ‘বাহ মিনিল ইমান”
সৌম্যতা হলো ইমানের চাবি,
কিন্তু আমরা বানাই দেখো, দেখাও,
অহংকারের খোরাক, রোষের বাজার।

ধর্মের আলো ছিল নূর,
নির্জন রাতে ভেসে ওঠা জালাল,
আমরা মিশাই তাতে হায়াতের ধোঁয়া,
পাথর দিয়ে ঢাকি আল্লাহর রহমত।

যে মানুষ চলে আখলাক আর তাকওয়া নিয়ে,
আমরা বলি— “না, এই রাস্তায় লাগবে কিলকিল।”
ফলে হারায় ইমানের নূর,
ভূলে যায় ইসলামির মূল রাহ,
শুধু থাকে ইবলিশের অহংকার।

চলো ফিরি সহজ পথে,
যেখানে রাহমত, মেহেরবানী,
হৃদয়ে জ্বলে ইমানের নূর,
কোনো হিংসা, ফিতনা, দুশ্চিন্তা নেই।

ধর্ম বাড়াবাড়ি চায় না,
ধর্ম চায় নূর, চায় সিয়ামের প্রশান্তি,
মানুষের মাঝে ছড়িয়ে মহব্বত,
এই ফল, এই হিকমত, এই বরকত।
---------------------------------------------------


২৫-১১-২০২৫

Monday, November 24, 2025

স্বদেশ প্রেম

 স্বদেশ প্রেম

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
***************************************

স্বদেশ প্রেম কেবল মাটির সঙ্গে বাঁধা নয়।
এ হৃদয়, এ প্রাণ, আলোর পথে ওঠা চোখের কথা।

যে দেশে মানুষ সত্যের পক্ষে দাঁড়ায়,
সেই দেশ আলোর ঘর, শান্ত হাওয়া বয়ে যায়।

কোরআন শিখায়—প্রত্যেক বস্তুর মধ্যে জীবন আছে।
যদি দেশকে ভালোবাসো, তার প্রতি দায়িত্ব থাকবে।

মাটি তোমার জন্মের, মানুষ তোমার আত্মার অংশ।
এগুলোকে সম্মান করো, লুটপাট নয়, ন্যায় রক্ষা করো।

প্রেম মানে গান নয়, পতাকা নয়,
প্রেম মানে চোখে চোখে সত্য দেখা,
হাতে হাতে কাজ করা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো।

যে জনতা এক হয়ে আলোর পথে চলে,
সেই দেশের জন্য আর কি চাই?
নিরাপদ জীবন, সততা, সহানুভূতি—
এটাই স্বদেশ প্রেম।

ছোট ছোট কাজের মধ্যে লুকানো এই প্রেম,
নিঃস্বার্থ দায়িত্বে, সত্যে, ন্যায়ে।
নিজেকে ভুলে দেশের কল্যাণে নিজেকে দিলে,
সেই প্রেম চিরন্তন, সেই প্রেম অমলিন।
------------------------------------------


২৪-১১-২০২৫

সংস্কৃতির গলা টিপে ধরেছে

 সংস্কৃতির গলা টিপে ধরেছে

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
****************************************

বুকের ওপর পা তুলে বসে অশুভের কাঁকড়া দল,
স্বাধীনতার বাতাস গিলে ফেলে ধোঁয়ার মতো সলসল;
মায়ের বুকে হামলে পড়ে সেই চেনা পুরোনো শকুন,
মুখে দুধ-সাদা বাণী, অন্তরে শুধু অন্ধকারের ধুন।

ইতিহাসের পাতাগুলো আজ কুঁচকে গেছে ভয়ে,
যেন কেউ লাল কালিতে লিখে দেয় অপমানেরই শোয়ে;
মুনাফিকেরা গলা পরিষ্কার করে ওঠে কূট-গলায়—
“সংস্কৃতি? ও তো পুরোনো জিনিস—রাখে কে আর খেয়াল বড়োই?”—বলে যায়।

বলেন দেখি, ভাটিয়ালির বাঁশি কি আজ জলে বাজে?
বাউলের কণ্ঠে লালনের ডাক কতটা পথেই সাজে?
নবান্নর ধান কি মেলে এখন বাজারের ভীড় ঠেলে?
নাকি রেডিমেড সভ্যতায় সব গন্ধ মরে গিয়ে ঢলে?

চৈত্রবরণের জয়ধ্বনি কি দাঁতে দাঁত চেপে হাঁফায়?
মঙ্গলযাত্রার রঙগুলো কি বিজ্ঞাপনের দেশে হারায়?
পৌষমেলার খোলা মাঠে আজ স্পিকারের ঝড়,
ছেলেটা গাইতে চাইল “ভ্রমর কইও”—মাইক চেঁচায়—“অর্ডার দে আরও জোর!”

গানের সুরে হারিয়ে যাওয়া করিম-হাসনের আর্তি,
চিত্রকরের রঙ শুকিয়ে যায় বাবুই পাখির স্মৃতি;
পালাগানে নৌকা ডোবে রাতের গভীর জলে—
দোষ কার? কেউ কি শুনবে?—সবাই ব্যস্ত নিজের চালে।

আর মীরজাফরেরা?
ওরা তো এখন ভদ্রলোক—ইউরোপীয় পারফিউম গায়ে,
পাতার আড়াল থেকে বলে, “সংস্কৃতি? সে তো গল্প, আজকাল কে আর চায়!”
কিন্তু তাদের চোখে লালচে নখ, পরাজয়েরই বংশধারা,
যে পতাকা একদিন হারিয়েছিল—আবার তুলে ধরতে চায় সারা।

তবুও—

জাগো জাগো হে বাঙালি,
এ মাটি তোমার, এ ভাষা তোমার, এ গন্ধেরই তুমি স্বজন;
সংস্কৃতি মানে পোশাক নয়—এ হল শিকড়, রক্তের সজল বন্ধন।
দাঁড়াও, বুক ঠুকে বলো—
যে দেশে নাচে বাউলসুর, ঢাক বাজে উৎসব-পথে,
সে দেশকে অশুভের হাতে তুলে দেওয়া লজ্জা—
আর লজ্জা সহ্য নয় তাতে।

জাগো, কারণ আলো অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে—
জেগে উঠলেই আবার বাঁচবে বাঙালির হাজার বছরের গৌরবময় দিগন্তে।
---------------------------------------------


২৪-১১-২০২৫

ইতিহাসে শকুনের চোখ

 ইতিহাসে শকুনের চোখ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*****************************************

ইতিহাসের মাথায় আজ শকুন বসে টুপি পরে,
যেন বিদ্বান–বাবু, চোখে তার গোল চশমা ঝরে।
পাতা উল্টায় গুরুগম্ভীর, মুখে হালকা বিরহ সুর,
বলতে থাকে—“এই দেশ তো ভুলেই চলে বছর–দু’চার দূর!”

যে রক্ত দিয়ে লেখা হলো ভাষার প্রথম দৃপ্ত নাম,
শকুন বলে—“তা ভালো, তবে একটু সংশোধন করা থাম!”
মুক্তিযুদ্ধের পাতায় গিয়ে খুঁজে আনে অন্য পথ,
“এটা নাকি অতিরঞ্জন!”—মনে মনে হাসে ফোঁস–ফোঁস শ্বস।

বইয়ের ভেতর ফেলে রাখে বাকা অক্ষর, হালকা জ্বালা,
কথা বদলে দেশে বানায় নতুন কিছু “আধুনিক” কাণ্ডকারখানা।
শহীদের ছবি ঘেঁটে দেখে—“এ তো খুবই দার্শনিক!”,
তারপর নিচে লেখে দেয়—“উনি তো ছিলেন নিয়মিত সন্দেহভাজন লোক!”

রাজাকারকে বানায় সাধু—“বেশ ভালো মানুষ ছিলেন, শুনেছি”,
যে অপরাধ দিনের মতো স্পষ্ট—তা হয় “তথ্য ভুল, দুঃখিত।”
বীরের গায়ে কালো কালি মেখে বলে—“এটা গবেষণা, বোঝো কি?”,
যে গবেষণা শুনলে সাধারণ মানুষ হাসে—“এ আবার কি বুদ্ধি!”

জাতির স্মৃতি নিয়ে এমন খেলা—এ যেন শিশুর লুডো–খেলা,
সত্যকে রেখে কোণে, মিথ্যার গায়ে মেখে দেয় মধুর মেলা।
প্রজন্ম যদি জিজ্ঞেস করে—“সত্য কোনটি? কে বুঝিয়ে দেবে?”
শকুন হাসে ঝুপঝুপ করে—“সত্য তো অনেক, বাছা! কোনটা নেবে?”

কিন্তু সত্যেরও থাকে জেদ—বালুচরে লুকোয় না সে,
একদিন হাওয়ার সাথে উঠে দাঁড়ায় দৃপ্ত, নতুন বেশে।
মিথ্যার মুখোশ খুলে পড়ে—ধপাস ছিটকে দূর–কোনে,
ইতিহাস তখন বলে উঠে—“চেনা চেহারা ফিরিয়ে দে, সোনা!”

শকুনেরা যতই নখ বসাক—আলোর পথে ফেরে দিন,
কলম যখন জ্বলে ওঠে, মুছে যায় সমস্ত মিথ্যাচার–চিন।
বেঁচে থাকবে সত্যই শুধু—রবে চিরকাল অমলিন,
ইতিহাসের চোখে তখন দেবে আলো নতুন প্রজন্ম–বীণ।
------------------------------------------------------

ইবলিশের পরিচয়

 ইবলিশের পরিচয়

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
****************************************
 ইবলিশ সেই শত্রু, আঁধারের স্বামী,
হৃদয়ে ফোঁটাই ভয়, ভ্রান্তির তামী।

আল্লাহর নাফরমানীতে আমার গর্ব ফুঁটেছে,
অহংকারে মোড়া, অগ্নি শিখা জ্বলে উঠেছে।

সাজাই মিথ্যার বেণী, ছড়াই প্রলোভনের দ্যুতি,
মানুষের পথকে বাঁধি, দিই ভুলের ভয়ঙ্কর গতি।

সৎমনের মন দহন করি, কালে-কালে,
ধোঁকার ছলেই বোনা আমার কল্পনার জালে।

কোরআন বলে, “মানুষকে প্রলুব্ধ করব আমি,
সন্তদের পথ থেকে সরাব নানাভাবে ছলচাতুরী।“

অহংকারে ভরা, আমি সেই দুষ্ট আত্মা,
সত্যের আলোতে আঁধার, নক্ষত্রহীন খাতা।

বন্ধুর মুখে আসি, শত্রুর ছদ্মবেশে,
ভালোবাসার মুখোশে ছড়াই মিথ্যার বেণী বেসে।

যারা আল্লাহর হুকুম ভঙ্গ করে, আমি তাদের পাশে,
পথভ্রষ্ট করি, মিথ্যার ছলছলে, নিঃশেষ করি আশা।

বিপথে ডাকি, প্রলোভনে বাঁধি, ভ্রান্ত করি মন,
সতর্ক হও! কোরআন বলেছে, “এ সে ধোঁকার জন।”

সাধুদের কাছে অদৃশ্য, প্রভাবশালী আমার দ্যুতি,
সচেতন হৃদয়েই হারাই, ভ্রান্তির জালে বাঁধি সব ব্যক্তি।

সত্যের আলো মেনে চল, আল্লাহর পথে দৃঢ় হও,
ইবলিশের চক্রান্ত থামবে, হবে জ্ঞানের জয়ই চিরযৌ।
---------------------------------------


২৪-১১-২০২৫

তাকওয়ার পথে

 তাকওয়ার পথে

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
****************************************************

তাকওয়ার পথে চল, হৃদয় ভরে আলোর মেলা,
নামাজে, রোজায়, করুণা প্রভুর দেখা।
ইমানের দীপ জ্বালাও, অন্ধকার সব ভাঙাও,
হে বন্ধু, আল্লাহর পথে চলো, জীবনকে আলোকিত করো।

হে প্রাণ, আল্লাহর পথে উঠো,
সত্যের দীপ জ্বালাও, পথ অন্ধকার ছুঁড়ো।

নামাজে ভরে যায় মন, রোজার ত্যাগে স্নিগ্ধ প্রাণ,
ইমানের আলোয় জ্বলে হৃদয়, অশান্তি যেন দূরিত প্রাণ।

তাকওয়া শুধু মুখের সাজ নয়, হৃদয়ে যে আলো জ্বলে,
ভয় তুচ্ছ, ন্যায় পথে চলো, পথ দেখায় প্রভুর মিলে।


তাকওয়ার পথে চল, হৃদয় ভরে আলোর মেলা,
নামাজে, রোজায়, করুণা প্রভুর দেখা।
ইমানের দীপ জ্বালাও, অন্ধকার সব ভাঙাও,
হে বন্ধু, আল্লাহর পথে চলো, জীবনকে আলোকিত করো।

নিসফারদে সহায়তা দাও, দুঃখীকে শান্তি দাও,
রিযিক ভাগ করে দাও, প্রভুর দয়া যেন সবখানে ছাও।

সত্যের পথে অদম্য হও, ধৈর্য্যশীল ও স্থির হও,
প্রভুর নাম স্মরণে রাখো, জীবন ভরে যাবে আলোকিত।

হে বন্ধু, আল্লাহর ভয়ে চলো, পাপের পথ ত্যাগ করো,
হৃদয়ের গভীরে ভর করো ভালোবাসা, অন্যায় দূরে সরো।

তাকওয়ার পথে চল, হৃদয় ভরে আলোর মেলা,
নামাজে, রোজায়, করুণা প্রভুর দেখা।
ইমানের দীপ জ্বালাও, অন্ধকার সব ভাঙাও,
হে বন্ধু, আল্লাহর পথে চলো, জীবনকে আলোকিত করো।

তাকওয়ার আলো জ্বালাও, নামাজে হৃদয় ভাসাও,
রোজার ত্যাগে হৃদয় ধুয়ে, অমল জীবনের পথ সাজাও।

প্রভুর স্মরণে শান্তি, ভরিয়ে রাখো জীবনের পাথ,
তাকওয়ার পথে চললে চির জয় হবে, অন্ধকারও হোক নিস্তব্ধ নিভৃন্ত।

তাকওয়ার পথে চল, হৃদয় ভরে আলোর মেলা,
নামাজে, রোজায়, করুণা প্রভুর দেখা।
ইমানের দীপ জ্বালাও, অন্ধকার সব ভাঙাও,
হে বন্ধু, আল্লাহর পথে চলো, জীবনকে আলোকিত করো।
------------------------------------------------


২৪-১১-২০২৫

মিথ্যা সাক্ষ্য

 মিথ্যা সাক্ষ্য

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
কাপাসিয়া,গাজীপুর
****************************************

হে মানব! শোনো অন্তরের নীরব সুর,
মিথ্যার ছায়ায় হারিও না কখনো।
সত্যের পথে ধীর, দৃঢ় পদচারণা,
এ পথেই শান্তি, এ পথেই চিরন্তন আলো।

যে জবান মিথ্যা বলে, সে নিজে দগ্ধ হয়,
অন্যায়ের অশ্রু তারই ছায়া হয়।
হৃদয় খোলো, সত্যের বাণী শোনো,
মিথ্যার আঁচল ছিঁড়ে নাও, ন্যায়ের পথে দাঁড়াও।

মিথ্যা জবান শয়তানের ফিসফিসানি,
অন্যায়ের পথ খোলে অন্ধকারে।
যে সাক্ষী মিথ্যা বলে, সে আগুন হাতে ধরে,
কিয়ামতের ময়দানে লজ্জায় দগ্ধ হয়।

সত্যের কথা—মধুর, গভীর, শান্তির সুর,
মিথ্যার কথা—শূন্য, অন্ধকার, ধ্বংসের দোলা।
হৃদয়ে লিখো সত্য, পাতায় ফুটুক ন্যায়ের আলো,
মিথ্যার ছোঁয়া দূরে করো, উঁচু করো পতাকা।

উঠো! শোনো সত্যের নীরব গান,
যেখানে সত্য আছে, সেখানে হার মানে না কেউ।
মিথ্যার ছায়া উড়ে যাবে,
ন্যায়ের দীপ জ্বলে চিরন্তন আলোয় হৃদয় আলোকিত হবে।

হে মানব! জবান শুদ্ধ করো, কলম শুদ্ধ করো,
সত্য বলো—নির্ভীক, দৃঢ়, অন্তরে আলো জ্বালো।
সত্যের পথে উঁচু দাঁড়াও,
এ পথেই মুক্তি, এ পথেই আলোর সহযাত্রী হবে।
---------------------------------------------------


২৪-১১-২০২৫

কোন চেতনায় ছুটেছি?

 কোন চেতনায় ছুটেছি?

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
******************************************

হে জাতি! প্রশ্ন করি— কোন চেতনায় ছুটছ আজ?
রক্তে লেখা স্বাধীনতার পথ কি হলো বেদনার সাজ?
কোথায় সেই বজ্র-বীর্য, সেই অহংকার, সেই দীপ্ত শপথ—
যার অনলে দগ্ধ হয়ে ছারখার হয়েছিলো শত্রুর রথ?

পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে আমরা যারা হয়েছি মুক্ত,
আজ কি তাদেরই সন্তান হয়ে গেছি স্বার্থলোভে আবদ্ধ?
স্বাধীনতা কি শুধু কাগুজে শব্দ—হয়ে গেছে ক্ষয়ে?
নাকি ক্ষমতার নেশায় জাতি হারাচ্ছে মূল চেতনার স্রোতে ভেসে?

হায়! আজ দেখি দুঃসহ দৃশ্য—
ওরা কারা? যারা শ্রেষ্ঠ সন্তানদের দেয় জুতার মালা!
মুক্তিযোদ্ধার বুকে দেয় অপমানের দাহ,
স্মৃতিসৌধ ভাঙে, মিনারে আঘাত হানে,
জাতীয় সংগীতের সুরে তোলে বিষাক্ত দৃষ্টি—
বাঙালির সংস্কৃতি মুছতে চায়,
শত্রুর মতো ছুঁড়ে ফেলে স্বাধীনতার ইশতেহার!

ওরা কোন মীর জাফর? কোন বিশ্বাসঘাতের বংশধর?
যাদের বুকে মুক্তিযুদ্ধের কথা শুনলেই জ্বলতে থাকে ঘৃণার ঘোর?
জাতি কি এখনো তাদের চেনে না?
চেনে না সেই বিষাক্ত মুখ—
যারা মাঝে মাঝে বন্ধু সাজে,
আর পেছন থেকে ছুরি মারে শিকড়ে, শেকড়ে, ইতিহাসে?

হে জাতি! শুনো—
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ফলক যারা ভাঙে,
স্বাধীনতার মানচিত্র যারা মুছে দিতে চায়,
তারা স্বাধীনতার বন্ধু নয়—
তারা জাতির ভবিষ্যৎ শত্রু!

জাগো বাঙালি! আবারও জাগো—
রক্তে পাওয়া স্বাধীনতা আজ নিরাপদের প্রশ্নে!
এ প্রজন্ম কি রাখবে তার দায়িত্ব?
নাকি লোভ-অভ্যাসে হারাবে জাতির আত্মার দীক্ষা?

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আজ অবক্ষয়ে—
এই অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে চাই বজ্র-বিক্রমে দাঁড়ানো,
চাই অগ্নি-জাগরণ, চাই শপথের তলোয়ার—
যে শপথে বলবে জাতি—
“স্বাধীনতা হারাবো না!
দেশের মান লুটতে দেবো না!
শহীদের রক্ত অশ্রদ্ধা করতে দেবো না!”

চলো জাগি আবার—
নজরুলের অগ্নিশিখা বুকে ধরে,
স্বাধীনতার রক্তলেখার শপথ নিয়ে—
চলো দাঁড়াই সেইসব বিশ্বাসঘাতের বিরুদ্ধে
যারা আজও ইতিহাসে বিষ ঢালে!

চলো জাতি!
এই প্রশ্নের উত্তর দেই—
আমরা স্বাধীনতার যোগ্য কি না!
চলো প্রমাণ করি—
এই দেশ, এই মান, এই স্মৃতি—
আমরাই রক্ষা করবো!

জাগো বাঙালি—
মুক্তির চেতনায় আগুন জ্বালো—
আজও যুদ্ধ, আজও সংগ্রাম—
স্বাধীনতার মান রক্ষারই পরাক্রম-ঘোষণা!
------------------------------------------------------


২৪-১১-২০২৫

Sunday, November 23, 2025

কে নিরপেক্ষ?

 কে নিরপেক্ষ?

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************************

বলতো কে নিরপেক্ষ?
ছাত্র জনতা! শিক্ষক! অধ্যাপক!
ডাক্তার! উকিল! ব্যারিস্টা! সাংবাদিক!
সরকারি! বেসরকারি! চাকুজীবি!
বণিক! শিল্পী! কলাকুশলী! আম জনতা!
সবাই চাটুকার! সবাই দলে বাঁধা!

হা—সত্য কোথায়?
হা—দেশ প্রেম কোথায়?
মুখে হাসি! চোখে মায়া!
অন্তরে শূন্যতা! হৃদয়ে আগুন!

পত্রিকার পাতা রঙিন মিথ্যে!
রাস্তায় ঝাঁপ দেয় লোভের ঢেউ!
শিক্ষক শেখায় নিজের দলের খেলা!
ছাত্র শিখে চাটুকারীর গান!

হে জনতা! চোখ খুলে দেখো!
দলে বাঁধা সব চিঠি! সব চাটুকার!
সত্যের মুখ চেপে যায়!
মিথ্যার রাজ্যে মরিছে নিরপেক্ষতার সোহাগ!

হৃদয়ের বালিয়াড়ি কাঁপে!
দেশের শিহরণে ঝরে ব্যথার জলধারা!
কেউ বলে না—“প্রাণপ্রিয় দেশ!”
কেউ করে না—সৎ প্রেমের শপথ!

বলতো কে নিরপেক্ষ?
এই শূন্য দেশে!
যেখানে শাসক-শিশুর হাসি এক!
মিথ্যা-সত্যের লড়াই রক্তঝরা!
সবাই বন্দী! সবাই দলে বাঁধা!
সবাই চাটুকার! কেউ স্বাধীন নয়!
----------------------------------------------


২৩-১১-২০২৫

সাংবাদিক যখন রাজনৈতিক চাটুকার

 সাংবাদিক যখন রাজনৈতিক চাটুকার

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************************

হে সংবাদিক! কোথায় হারালে তুমি স্বাধীন দৃষ্টি,
যেখানে জনমানুষের কান্না, সেখানে আর নেই তৃষ্ণা?
কলমে আগুন, কথায় বিদ্রোহ—আজ ধোঁয়া কুয়াশার চাদরে মিশে,
রাজনীতির কণ্ঠে বাঁধা, চাটুকারির রঙে রঙিন হয়ে।

শহর-গ্রামের প্রতিটি কোণে,
তোমার পায়ের ছাপ মুছে গেছে ভয়ানক চাপে,
শব্দগুলো সাজানো, সত্যের ছায়া হারালো,
রাজনীতির প্রশংসায় কলম নাচে, জনগণের চিৎকার মুছে যায়।

একদিন তুমি বাজিয়েছিলে স্বাধীনতার শঙ্খ,
আজ সেই শঙ্খ নিঃশব্দ, চাপে বাঁধা,
মিথ্যার নাচনায় কলম ঢেলে,
সত্যের আলো অন্ধকারে হেরেছে, নিঃশব্দে।

কিন্তু মনে রেখো—জনগণ তোমার চোখে তাকায়,
শুধু খবর নয়, তারা খোঁজে স্বপ্নের আলো,
চাটুকারির সিংহাসন যত উঁচু,
সত্যের কণ্ঠ চিরজাগ্রত, অদম্য, অবিচল।

সাংবাদিক! চাও কি চিরকাল চুপ থাকা?
কিম্বা আবার বাজাও কলমে বিদ্রোহের শঙ্খনাদ,
যেন নদীর মতো নির্ভীক জল বয়ে যায়,
চাটুকারির কালি কখনো তোমার পথ বন্ধ করতে পারবে না।
------------------------------------------------


২৩-১১-২০২৫

নেতা সে বুক উঁচিয়ে

 নেতা সে বুক উঁচিয়ে

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর
************************************

যদি হও তুমি সাহসী, কেন পিছু তাকাও হে!
চিতা কভূ নয়, পিছু তাকায় শিকারী ধরার প্রত্যয়ে।

জেতে হবে সম্মুখে, শত বঞ্চিতের স্বপ্ন ধরায়,
তুলতে বিজয়ী নিশানা, পর্বতের চূড়ায় উড়ায়!

মাসুম সরকার—নেতা সে বুক উঁচিয়ে,
বলবে জনতার কথা, দুঃখী মানুষের কাহিনী,
সত্য ও ন্যায়ের ঝর্ণা বইবে তার অন্তরে।

সে দাঁড়ায় অন্ধকারের বিপদে,
মাদক, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, অস্রবাজির ধ্বংসগতি!
খুন, গুম, ধর্ষণ, দখলবাজির নিকষ ছায়া—
তার সাহসে ভেঙে যায়, চূর্ণ হয় প্রতিটি দুষ্টাচার।

কিসের হিমেল, কিসের তপ্ত—সবই যেন সিগ্ধময়,
প্রতিটি পদক্ষেপে তার ঝড়ে উড়ে যায় মিথ্যার বর্জ্য।

সে কভূ হয় না নত শির,
দুর্গমগিরি, কান্তার মরুর মাঝি।
লঙ্গিতে জানে উত্তাল সমুদ্র, অন্ধকার রাত,
তবুও ভয় নয়—তার বুক উঁচিয়ে, জনতার আশা ঝলমল।

মাসুম সরকার—যিনি শোনেন চিৎকার, কান্না, করুণার শব্দ,
দান করেন সাহস, জ্ঞানের আলো, ও ন্যায়ের পথে নেতৃত্ব।

শ্রদ্ধা তার প্রতিটি নিঃশ্বাসে,
প্রতিটি পদক্ষেপে লুকিয়ে আছে সত্য ও ন্যায়,
এক অমর প্রতীক—বুক উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে,
অন্ধকারের সব শক্তি চূর্ণ করে,
জনতার স্বাধীনতার দীপ জ্বালিয়ে।

শ্বাসে শ্বাসে বয়ে চলে জনতার স্বপ্ন,
চোখে চোখে জমে থাকে নিঃসঙ্গদের আশা।
মাসুম সরকার—নেতা সে বুক উঁচিয়ে,
দৃঢ় চেতনায় জাগ্রত,
যেন প্রতিটি বাঁধা ভেঙে, স্বাধীনতার গান গায়!
----------------------------------------------


২৩-১১-২০২৫

আবেগের উত্তেজনায়

 আবেগের উত্তেজনায়

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*****************************************

আবেগের উত্তেজনায় মানুষ ভেসে যায়—
অচেনা নদীর ঢেউয়ের মতো নিঃশব্দে,
রাতের আকাশে ছড়িয়ে অজানা শ্বাস।

মিছিলে মিছিলে ছুটছে তারা,
নেতার পিছু, বাতাসে মিশে যায় শূন্যতা,
সন্তান-স্ত্রী-পিতার মুখ দূরের আলো হয়ে জ্বলছে স্মৃতিতে।

দলের স্লোগান—
মন্ত্রমুগ্ধ শব্দের মতো
বুকের ভেতর গেঁথে রাখে মানুষকে,
কিন্তু ফেলে দেয় মরুভূমির মতো জীবন।

কত তরুণ হারায় পথের ধুলোয়,
কত জীবন নিভে যায় রক্তে ভিজে থাকা শহরের ছায়ায়,
কেউ চাঁদাবাজির গলিতে,
কেউ সন্ত্রাসের অরণ্যে,
মিথ্যার কুহেলি ঢেকে দেয় সত্যের আলো।

উত্তেজনার আগুন—
দেশকে শীতল বিষে ঢেকে দেয়,
গুম-হত্যার কালো রাত্রি জন্ম দেয় নিস্তব্ধ অগ্নির।

হে পথহারা কর্মী,
এ কি তোমার জীবন?
অন্ধ আবেগের ভাঙা নৌকায় ভেসে যাওয়া?
সন্তান-স্ত্রী-পিতার চোখ অচেনা হয়ে গেছে কি?

শোনো—
নীরবতার ভেতর রয়েছে পথ,
মানুষ হয়ে থাকার একমাত্র দায়—
আলো খুঁজে নেওয়া নিজের অন্তর থেকে।

অবশেষে, দেশের জন্য দাঁড়ানো—
হল নীরব, চুপচাপ,
কিন্তু চিরন্তন।

যে আলো জ্বেলে,
সেই বোধের দীপ
পাথরের মতো নিস্তব্ধ,
মানুষকে আবার তার মানুষি স্মরণ করায়।
---------------------------------------------------


২৩-১১-২০২৫

ভোটার যদি অন্ধসমর্থক হয়

 ভোটার যদি অন্ধসমর্থক হয়

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*****************************************

ওহে ভোটারগণ, শোনো আজ জাগরণের ডাক—
তোমরা যদি অন্ধসমর্থক হও, হারাবে জাতির স্বপ্নের ফাঁক।
একটি ভোট শুধু কাগজ নয়,
এ এক জাতির প্রভাত-সূর্য, নতুন দিনের অগ্নিমন্ত্র হৃদয়ময়।

সে সূর্য যদি সোনালী আলোয় না জ্বলে,
দিবস ডুবে যাবে অন্ধকার অনলে।
অযোগ্য নেতার ছায়ায় দেশ হবে ক্ষত-বিক্ষত—
উঠবে দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ, দখলবাজের দুষ্ট শক্ত।

সন্ত্রাসী, সেন্ডিকেট, গুমহত্যা— যাবে ছড়ায়ে,
দেশবিরোধী ছায়া পড়বে এ প্রিয় মাতৃভূমির গায়ে।
সত্যকে গলা টিপে মারবে অপশক্তি,
অন্যায় হবে রাজা, নিপীড়ন হবে নিত্য দিনের বৃত্তি।

তাই দলকানা নয়— বিবেক হোক তোমার পথের প্রদীপ,
যে প্রার্থী ন্যায়বোধে দৃঢ়, তার হাতেই দাও আমানতের সঠিক নসীব।
কারণ ভোটারের সিদ্ধান্তেই জাতি গড়ে, জাতি ধ্বসে,
একটি ভুলেই প্রজন্ম হারায়, ভুলের বোঝা বয়ে চলে বসে।

ওহে ভোটারগণ, জাগো!
জাতির জন্য ভোট দাও, দুর্নীতিবাজের জন্য নয়—
আবেগ নয়, বিবেক হোক তোমার হাতিয়ার,
তোমার ভোটেই বদলাবে দেশ, উঠবে নতুন ভোর এবার।
-------------------------------------------------


২৩-১১-২০২৫

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা

 মুক্তিযুদ্ধের চেতনা

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*******************************

হে স্বাধীনতার দীপ্ত জ্যোতি—
তুমি চির অবিনশ্বর, অমলিন আগুনের আলো!
তোমার হাত ধরেই জাগে বাংলার প্রাণ,
গর্জে ওঠে লাল-সবুজের বিজয়ের কালো।

কে রুখিবে তোমার পথ?
এই মাটিতে শহীদের রক্তের নীলাম্বরী শপথ—
যাকে ছাড়া স্বাধীনতার অস্তিত্ব কল্পনাই করি না,
তিনি বাঙ্গালির বুকের কম্পন, মুক্ত আকাশের প্রার্থনা।

যে রাতে ছিলো শৃঙ্খলের ছায়া,
সে রাত চূর্ণ করে ভোরের আলোয় উঠে দাঁড়ায় মায়ের মাইয়া ছায়া!
দুঃসাহসী মুক্তিযোদ্ধারা, স্যালুট তোমাদের—
তোমাদের রক্তে লেখা হয়েছে বাংলার আকাশ ডানার।

লক্ষ শহীদের আত্মবলিদান—
আমাদের পতাকায় জ্বলে জীবন্ত জ্বালান,
লাল-সবুজের প্রতিটি বিন্দু আজও বলে,
“স্বাধীনতার দাম স্বাধীন রক্তেই চলে!”

যারা এ চেতনাকে অস্বীকার করে,
তারা নহে কখনো স্বাধীন বাংলার প্রতিনিধি রে—
তাদের নয় মুক্তির গান, নয় বিজয়ের ধ্বনি,
বাংলার মানচিত্রে তাদের নেই কোনো পরিচয় ধ্বনি।

আমার সোনার বাংলা—
তুমি আমাদের প্রাণের স্পন্দন, হাজার বছরের শেকড়!
তোমার বুকেই জন্ম নেয় আমার প্রতিবাদ, আমার বিদ্রোহের মেকড়।
নজরুলের ঢঙে আজ বলি—

জেগে উঠো হে বাঙালি!
দাবায়ে রাখতে পারে নি, পারিবে নাকো কোনোদিনই—
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আমাদের বজ্র-শপথ,
এই মাটিই আমাদের পথ, রক্তে রাঙা শৌর্যের রথ।

যতদিন গাইবে বাংলার সন্তান—
"আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি”—
ততদিন মুক্তির আগুন নিভিবে না,
ততদিন বাঙালি থাকবে বিজয়ের আলোকধারায় হাসি।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা—
চির অমর, চির বিপ্লব, চির স্বাধীনতার ভাষা!


২৩-১১-২০২৫

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা

 মুক্তিযুদ্ধের চেতনা

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*******************************************

হে অগ্নিজ্যোতি! হে স্বাধীনতার শিখা!
তোমার চেতনায় কাঁপে পদ্মা, গর্জে আকাশ—
লাল-সবুজে আঁকা মুক্তির রথ,
শহীদদের রক্তে লেখা বিজয়ের ভাষা!

দেখো! হাতে পিস্তল, বুকের ভিতর তুফান,
বীরেরা দাঁড়ায়—শপথে লেখা চির অমর গান।
যে স্বপ্নে তারা জাগে,
যে রাত শৃঙ্খল ভেঙে দেয়,
তার প্রতিটি ধ্বনি আজও বাজে আকাশে!

হাজার প্রাণের আত্মত্যাগ—
লাল রঙের প্রতিটি বিন্দুতে বিজয় স্পন্দিত,
সবুজে ভরা মাঠে বাজে শহীদদের চিত্কার,
মুক্ত বাংলার মর্যাদা গর্জন করে,
বিপ্লবের শ্লোগান বয়ে চলে নদী, পাহাড়, আকাশ!

হে বাঙালি! জাগো—
এখনই সময় আত্মসমর্পণের নয়!
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তোমার হাতের তরোয়াল,
শব্দে, পদে, রক্তে বাজুক বিপ্লবের গান!

যারা আমাদের চেতনাকে মুছে দিতে চায়,
তাদের পথ বন্ধ করো—
লাল-সবুজের পতাকায় জ্বলুক প্রতিটি বিন্দু,
শহীদদের আত্মার স্পন্দনে বেঁচে থাকুক চির অমলিন মর্যাদা!

আমার সোনার বাংলা—
তুমি শুধু মাটি নয়,
তুমি বিদ্রোহ, তুমি মুক্তি, তুমি চিরন্তন অহংকার।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা চিরজাগ্রত, চির বিপ্লবী,
চির স্বাধীনতার অমোঘ প্রতীক!

জেগে উঠো হে বাঙালি!
লাল-সবুজে বাজুক বিজয়ের গর্জন—
এই মাটি আর মুক্তির সঙ্গী হোক চিরকাল!
------------------------------------------


২৩-১১-২০২৫

ভোটের গুরুত্ব

 ভোটের গুরুত্ব

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
************************************
জাগো হে স্বাধীন জনতা! তোলে আওয়াজ শঙ্খধ্বনি,
ভোটের অধিকারে জ্বলে উঠুক মুক্তির দীপের জ্বানি।
শৃঙ্খল ভাঙার গান যে গাইলে বহুদিন ধরে,
আজ সেই শক্তি তোমার হাতে—ভোটের কাগজ ঘরে ঘরে!

গণতন্ত্রের বুকে লেখা— “মানুষই সবার রাজা”,
জনতার শক্তি ছাড়া কোনো সিংহাসন নয় তাজা!
একটি ভোট—তরবারি যেন, অত্যাচারীর বুকে লাজ,
একটি ভোট—আলোর মশাল, অন্ধকারে আনে সাজ।

হে দুর্জয় নাগরিক! তোর ভোটেই বদলায় দেশ,
মিথ্যার মুখোশ খুলে ফেলে সত্যের বজ্র-উপদেশ।
যে করে অন্যায় দম্ভে—তাকে ভাঙার তোরই ডালি,
ভোটের চিহ্নে রেখে যা দাগ, আধিপত্য সব হয় খালি।

নাই ভয়ে, নাই বাধায়—ভোটাধিকার তোর রণজয়,
এ অধিকার রক্ষা করতে জীবন দিলো কত সহস্র!!
আজ তোর হাতে সে তপস্যা—বুকে রাখিস অমূল্য স্নেহে,
ভোটের মেঘে জাগুক গর্জন, বজ্রের মতো মহাস্মেহে।

যে ভোট দেয় না, সে নীরবে দেশের প্রতি করে অপরাধ,
নাই দায়িত্ব, নাই জাগরণ—বুঝে না স্বাধীনতার সাধ।
তাই বলি—জাগো রে শোনো! ওঠো রে সত্যের দুয়ারে—
ভোট দাও নৈতিকতায়, আনো নতুন ভোরের পাঁয়োনারে।

গর্জে উঠুক মানুষের কণ্ঠ—
“হক আমার! অধিকার আমার!”
ভোটের শক্তি আসমানে তোলে
দেশের গৌরব, ভবিষ্যৎ সুন্দর।

হে জনতা! ভোটই তোমার বজ্র, তোমার তূর্য, তোমার জয়—
ভোট দাও ন্যায়-শান্তিতে, গণতন্ত্র হবে অমর-অজেয়!
-----------------------------------------


২৩-১১-২০২৫

সৎ স্বামী সদা কিপটা

 সৎ স্বামী সদা কিপটা

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**********************************************

সৎ স্বামী সদা কিপটা! হায়, কত করুণ ব্যথা তার মনে!
চোখে অশ্রু ঝরে নদীর মতো, ভাঙে হৃদয় তার ঘরে।

“তুমি কি কচুটা করেছো?”—শোনে প্রতিদিন অভিযোগের তীর,
না আছে বাড়ী, না আছে গাড়ী, নেই ধন-সম্পদের কিছুই পরী।

চাকরি করে সে, পিয়নও ব্যস্ত, ঘরে আনন্দ কোথায় আসে?
দেখে তারা খুশি, হাসে—কিন্তু তার ঘরে নিঃশব্দ অশ্রুস্রোত বাজে।

নিজের জন্য কিছু নেই, পরিবারের জন্যও নেই তো প্রলয়,
বললে “টাকা নেই”—হৃদয় ভাঙে, অশ্রু ঝরে অমল ধোয়ার মতো।

সন্তানের চাহিদা অমেটা, ঝগড়া ঘরে দহন করে প্রতিদিন,
সৎ স্বামী সদা কিপটা, নিঃশব্দ, চোখে অশ্রু, মুখে অদৃশ্য অগ্নিপিন।

সুদ, ঘুষ, উপরি টাকা—কিছুই খায় না সে,
লুটপাট, দুর্ণীতি—জগৎ তার কাছে নিষ্ঠুর খেলা মাত্র।

(পল্লব – গভীর নাট্য আবহ)
নিরবে কাঁদে সে, ঘরের কোণে অশ্রুমালা ঝরে,
মর্যাদা হারানো অবিভাবক, সংসারের ছায়া ঘিরে।

সন্তানের হাসি অম্লান, স্বপ্ন ভাঙে ধূলিমাখা পথে,
তার চোখে শুধু করুণার ছায়া, মন ভেসে যায় নিঃস্বার্থ তীরে।

প্রতিদিনের ক্ষুধা, অভাবের আগুনে পুড়ে যায় দেহ,
কিন্তু সে নিরবে সহ্য করে, হৃদয়ে আঁকা শুধু করুণার রেখা।

ঘরের দেয়ালও শোনে সব, কষ্টের হাহাকার বয়ে যায়,
অশ্রুমালা মুছে না কেউ, প্রতিটি আঘাত তার মনে দগ্ধ ছায়া।

সৎ স্বামী সদা কিপটা, জীবন বয়ে চলে ধীরে,
প্রতিটি অশ্রু—তার জীবনের একেকটি নীরব দুঃখচিহ্নেরে।

হে পৃথিবী, দেখো তার করুণা, নিস্পৃহতায় ভরা হৃদয়,
যেখানে অর্থ নেই, মর্যাদা নেই, শুধু মানবিক দুঃখের অমল আলোয়।
------------------------------------------


২৩-১১-২০২৫

যিলযাল

 যিলযাল

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**************************************

হে মানব, শোনো ইয়িলযিল’এর হাহাকার,
পাহাড় ভেঙে, নদী ছুটে যায়, বাতাসে বজ্রের গর্জন আকার।
আল্লাহু আকবার, কেঁপে ওঠে দুনিয়ার সব তল,
ভয় নয়, শিক্ষা নয়, ইমান’ই জাগায় প্রাণের কল।

ধরতি কেঁপে ওঠে, ঝরছে পাহাড়ের রক্ত,
রাহিম আল্লাহ’র দয়া, ক্ষয় নয়, শিক্ষা শুধু সতর্ক।
কাঁপন শিখায় মানুষের অন্তরে সাবর ও তাকওয়া,
দোয়া ধরো, সালাত ধরো, রহমতের আলো ছড়াও ধারা।


আকাশ ফেটে পড়ে বজ্র, যিলযিল শব্দে তুফান,
ধ্বংস নয়, প্রেরণা, তাওবা’র আলোই প্রাণ।
হে মানব, দুঃসাহস নয়, সতর্কতা ধরো অন্তরে,
আখিরাত’র প্রেরণা মনে রাখো, দুনিয়ার লোভ ত্যাগে করো ধীরে।

শোনো! জমিন কেঁপে ওঠে, নদী চূর্ণ, পাহাড় ভাঙে,
ভয় নয়, শিক্ষা নয়, তবে ইমান শক্তি জাগে।
ইলাহি শক্তি প্রমাণ দেয়, শাস্তি নয়, আহবান,
হৃদয়ে জাগুক আলোর দীপ্তি, সাবর ও দয়া হোক প্রাণ।

হে মানব, কাঁপন কেবল শব্দ নয়, আল্লাহর ইশারা,
ভয় নয়, শিক্ষা নয়, তাওবা ও তাকওয়া’র প্রেরণা পায় অন্তরকারা।
যিলযিল’এর ঝাঁকুনিতে জীবন জানে ক্ষণিকের সত্য,
ভূমি, পাহাড়, নদী, আকাশ, সবই শিখায় আল্লাহর রহমত।
------------------------------------------------------------


২৩-১১-২০২৫

ভূমিকম্পের প্রতিটি ধাক্কা

 ভূমিকম্পের প্রতিটি ধাক্কা


কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
****************************************

কাঁপে ধরনি! ওঠে বজ্র—কার আদেশে থরথরি?
রবের গর্জন বজ্রধ্বনি, দুনিয়া আজ কেনো অন্ধ-অহংকারী?
জমিন যখন বুকের ভিতর আগ্নি হয়ে কেঁপে ওঠে,
কোরআনে সেই বাণী লেখা—যিলযালাহর রণকোঁটে!

বলল রবঃ “যখন কাঁপিবে জমিন ভয়ংকর কাঁপনে,”
মানুষ তখন খুঁজবে পথ—কে বাঁচাবে সেই দাপটে?
হায়! গুনাহ যখন ছড়ায় ধূলি হয়ে আকাশ-বাতাসে,
অশ্লীলতার আগুন জ্বলে অন্তরে ও ভাষায় সর্বনাশে,
জুলুম যখন ছায়া ফেলে রক্তমাখা সমাজ-গাছে—
তখন ধরনিই কাঁদে প্রথম, মানুষ জাগে সর্বশেষে!

রাসূল বলেছিলেন অশ্রুস্বর—
“জুলুম বাড়লে কাঁপে ধরতি”—বিচারেরই ঘোষণা,
মানুষ যেন ফিরে আসে স্বীয় রবের দরবারে—
নয় তো ভেঙে যায় দালানকোঠা, ধুলায় মেশে অরণ্য-নগরখানা।

হে মানুষ! ভয় যদি পাও, তবে ভবে কেনো এত কঠিন?
যে আল্লাহ কাঁপান ধরতি, তিনিই দেন আস্তিন–
তওবার বৃষ্টি, রহমতের ছায়া, শান্তি-দানের কূপ,
ফিরে গেলে তাঁরই পথে, ভয় সব ভেঙে যায় সম্পূর্ণরূপ।

করণীয় কী? শুনো তবে—
— পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে দাঁড়াও, ঈমানকে করো উচ্চ পর্বত,
— গুনাহ হতে তওবা করো, মন করো ধুয়ে নির্মল স্রোতে,
— জুলুম ত্যাগ, সত্যে দৃঢ়, করো ন্যায়ের পতাকা উড়ে,
— অসহায়-দরিদ্র পাশে দাঁড়াও সদকার দীপ্তি ধরে।

কাঁপুক ধরতি—ঈমানী হৃদয় কাঁপবে না এক শল্ক!
যে রব সৃষ্টি করেন কম্পন—তাঁরই হাতে নিরাপদ সব পথ।
ভূমিকম্পের প্রতিটি ধাক্কা যেন তওবার ডাক—
ফিরে চলো! প্রভুর দ্বারে—রহমতের আলো আজও অক্ষয়।
------------------------------------------------------------


২৩-১১-২০২৫

Thursday, November 20, 2025

আশরাফুল মাখলুকাত

 আশরাফুল মাখলুকাত

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
****************************************

আল্লাহর কুদরতে খুঁজে পাই
মানবের দীপ্তি,
চিরদিন মোর অন্তরে।
মাটির কণায় শ্বাস আমারে
আত্মার স্রোতে ভাসায়,
হৃদয়ে সদকা, নেকি বয়ে চলে
আলোর পথে।

কোরআনে লেখা, শোনো বান্দা,
“মানুষের জন্য বানিয়েছি আমি দয়া,”
প্রতিটি প্রাণকে সেবা শিখায়,
প্রতিটি জীবনে আলো ছড়ায়।
নদী, বাতাস, ফুলে ফুলে,
চন্দ্র-তারার আলোয়
মানুষের হৃদয় ভরে আনন্দে।

সেরা তোমাদের, যারা মানুষকে উপকারী,
চিরন্তন প্রেরণার সঙ্গী,
জ্ঞান, ধৈর্য, নেকি মিলায়,
অন্তরের গহরে আলোর গান।
আশরাফুল মাখলুকাত মানব,
নেক কাজের প্রতীক,
সৃষ্টির পথে আলোকিত হোক।

আজকের বিকেলে, অন্তরের আলো জ্বলে,
হৃদয়ে সদকা, কাজের ইমান—
মানবের আলো বয়ে আনে।
প্রকৃতির ছন্দে, নদী, বাতাস, আলো,
হোক প্রেমের সোনালি প্রবাহ,
প্রতিটি নীরব ক্ষণে
প্রতিটি সৃষ্টির দ্যুতি।

মানব হোক আলোর পথে, পথিকের দিশারী,
জীবনের প্রতিটি ক্ষণ যেন আলো ছড়ায়।
আল্লাহর রহমত, দয়া, আলো—
চিরন্তন মানবের দ্যুতিক।
আশরাফুল মাখলুকাত মানব,
নেক কাজের প্রতীক,
হৃদয়ে চির অমলিন।
-------------------------------------


২০-১১-২০২৫

হঠাৎ মৃত্যু

 হঠাৎ মৃত্যু

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া, গাজীপুর
********************************

হঠাৎ মৃত্যু আসে, জানি না কখন,
প্রভুর পথে চলা হোক সবার জীবন।
নামাজে বাঁধা হৃদয়, দোয়ায় ভরা মন,
সদকাহ নেক কাজ রাখি, মৃত্যুর দিন হোক ধন।


আল্লাহর রহমত অসীম, অফুরান,
হঠাৎ মৃত্যু প্রভুর পরীক্ষা, আশ্রয় সকল প্রাণ।
প্রিয়জন চলে গেলে, শূন্য হয়ে যায় মন,
কোরআন বলে স্মরণ কর, মৃত্যুর দিন আল্লাহ হয় সঙ্গী প্রাণ।


হঠাৎ মৃত্যু শিক্ষা দেয়, দুনিয়ার সব অস্থায়ী,
তাওহীদ মানলে জীবন হয় পূর্ণ, মন হয় শান্তায়ী।
সৎ পথে চলা হোক, নৈতিকতার আলো জ্বলে,
মৃত্যুর ভয় হোক প্রভুর কাছে, দোয়া ও ভালোবাসায় ভরে।

প্রভুর হুকুম মানলে, মৃত্যুর দিনও আনন্দে ভরে,
বিশ্বাস নেক কাজ নিয়ে চল, হোক জীবন অমলিন গানে ভরে।
প্রতিটি মুহূর্তে স্মরণ কর, মৃত্যু যে হঠাৎ আসে,
নেক কাজ, তাওহীদ, নামাজে বাঁধা জীবন সাজাও, হে ভাই হে বোন সবাই।

হঠাৎ মৃত্যু আসে, হঠাৎ মৃত্যু আসে,
নেক কাজ, তাওহীদ, নামাজে বাঁধা জীবন সাজাও।
------------------------------------------------


২০-১১-২০২৫

বখাটে সন্তান জাতির অভিশাপ

 

বখাটে সন্তান জাতির অভিশাপ
মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

বখাটে সন্তান জাতির অভিশাপ
কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************

অভিভাবক! কেন আজ তুমি ঘুমাও অলস নিশ্চিন্ত কোলে?
সন্তান তোমার অচেনা পথে—রাত্রি জাগে হেলে দোলে!
পড়ার টেবিল ফেলে রেখে মোবাইলে ডোবে মায়া জালে,
কে জানে কোন অন্ধ কারাগারে আটকে যাচ্ছে ভবিষ্যৎ কালে!

তুমি শুধু দাও ইচ্ছের সোনা—শাসনের নেই কঠোর শপথ,
এই দায়হীন স্বাধীনতায় ছেলে-মেয়ে হাঁটে বিপথে শত।
মাদক লেগে বিষের ঢেউয়ে দুঃস্বপ্ন নামে কিশোর বুকে,
বন্ধুর নামে দস্যু ওড়ে—টানে তাকে অতল সুখে-দুঃখে!

কেউ সাজে প্রেমের নকল মুখোশে—অবৈধ আগুন জ্বালে প্রাণ,
নষ্ট পথে জন্ম নেয় শত দুঃখ—কাঁদে বিবেক, কাঁদে আইন-জ্ঞান।
দখলবাজি, চাঁদাবাজি, রাহাজানি—কানে বাজে বিদ্রোহী ঘণ্টা,
কিশোর গ্যাংয়ের রক্তমদিরা ছাপিয়ে দেয় জীবন-চিত্রা।

লেখাপড়া ছুঁড়ে ফেলে অন্ধকারে—চোখে নেশার ঝড়ের নাচ,
বাবা-মায়ের বুক চিরে ওঠে কান্না—শেষে আত্মহত্যার কাঁচ!
তোমরা যদি আজও না জাগো—জাতি হবে শবের সমাধি,
শাসনহীন সন্তান জাতির শত্রু—তাদের মনে বিষের বাঁধি!

হে অভিভাবক! আজ উঠো জেগে—হও সন্তানের রক্ষাকবচ,
ভালোবাসার আয়রন রডে গড়ো তার চিত্ত, করো মনকে উন্নত!
নজরুলের সেই অগ্নি-কণ্ঠে ডাকি—
“জাগো মানব, জাগো পিতা-মাতা, নাও শাসনের অগ্নি-শপথ!”

বখাটে সন্তান জাতির অভিশাপ—
সততার পথে ফিরিয়ে আনা অভিভাবকেরই পবিত্র দায়িত্ব!
------------------------------------------


২০-১১-২০২৫

ধূপমানের ক্ষতি

 ধূপমানের ক্ষতি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**************************************
ধূপের ধোঁয়া আজ উঠিছে জাগি— অন্ধকারের বিষদূত রূপে,
মানুষ ঘুমায়, ঘর জ্বলে ক্ষয়ে— মৃত্যুর ছায়া লুকায় ধূপে!
হে মানব! তুই জাগবি কবে? নিশ্বাস কেন আজ শিকলে বাঁধা?
বিজ্ঞান বলে— ক্ষুদ্র কণা যেন রক্তে ঢোকে তীরের সাধা!

ফরম্যালডিহাইড— বিষের তরবারি, ফুসফুস কাঁপে দুঃখের ক্ষয়ে,
ধূপের গন্ধ নয়, এটি মৃত্যুর মুখোশ— নিশ্বাস কেড়ে নেয় হঠাৎ ধেয়ে।
হে তরুণ! হে বৃদ্ধ! হে মা! শিশুরা শ্বাস নেয় কোন অপরাধে?
ধোঁয়ার ভিতর লুকিয়ে থাকে মৃত্যুর রথ— করুণ অশনীসাধে!

অর্থের ক্ষয়— সংসারের কাঁধে দুঃখচূড়া হয়ে ওঠে চূড়াল,
ধূপ মানিতে টাকা যায়, পরে রোগে বিল হয় পর্বতকাল!
কে শোনে! কে বোঝে! ধোঁয়ার নেশায় হারায় ঘরের পবিত্র আলো,
যে গন্ধ ছড়ায় ক্ষণিক সুখ— সে-ই পরে আনে দীর্ঘশোকের কালো!

সামাজিক পথে ছড়ায় বিবাদ— ধোঁয়া গিয়ে পড়ে পরের জালে,
কান্না ওঠে শিশুর বুকে, বৃদ্ধের বুকে ব্যথা চালে।
ভাইর ঘরে বিষ ঢোকে কেন? ধোঁয়ার নামে কুসংস্কার,
মানুষ মানুষ হতে দূরে— ধূপের ধোঁয়া জ্বলে আঁধার।

ধর্মের ঘরে ধূপের ধোঁয়া— মনোযোগ কেড়ে নেয় নির্মল তাপ,
ইবাদতে শান্তি চায়— ধোঁয়া এনে দেয় ছিন্ন ছাপ।
খুশু-খুজুর স্রোত ভেঙে— মন ভাসে উদ্বিগ্ন ছায়ায়,
ধূপের ধোঁয়া পবিত্রতা শুষে নেয় অশান্তির দায়ায়।

হে মানবজাতি! জাগো আজ— ধূপের ধোঁয়া নয় জীবনের পথ,
শুদ্ধ বাতাসে বাঁচে ইবাদত, বাঁচে নীতি, বাঁচে মহত্ত্ব-রথ।
ধূপ মানিলে ধর্ম নয় বাড়ে— বাড়ে বিষ, বাড়ে অন্ধ ক্ষতি,
ধোঁয়ার বদলে আলো জ্বালো— সত্যের শিখায় তাড়াও অমিটি!

বিদ্রোহীর কণ্ঠে আজ ডাক—
“ধোঁয়ার বিরুদ্ধে দাঁড়াও মানব! শুদ্ধ নিশ্বাসে তোলো শপথ,
ধূপের ক্ষতি ভাঙো আজই— মুক্ত করো জীবন, পরিবার, স্বদেশমত!”

এসো হে যুবক! এসো হে যুবতী!—
গর্জে বলি বিদ্রোহীর সুরে,
“ধূপ নয়, চাই নির্মল জীবন—
ধোঁয়ার অন্ধকার ভাঙো পুরে!”
--------------------------------------------------------


২০-১১-২০২৫

কাপাসিয়ার কাঁঠালের গান

 কাপাসিয়ার কাঁঠালের গান

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
****************************************

সবুজ শ্যামলে কাপাসিয়ার মাঠ,
লাল কাঁঠালের ঝুড়ি ঝরে ঝরে রসের আভাস রাত।
দূর-দূরান্ত থেকে আসে পাইকারেরা,
হাত ভরা কাঁঠাল, মুখে হাসি, চোখে জ্বলে ধারা।

বারিষাবের খেতে ঘ্রাণ মিষ্টির ঝড়,
খিরাটীর সোনালি রোদে নেচে ওঠে জমি-খড়।
খোদাদিয়ার বাগানে লাল কাঁঠালের ঝিলিক,
বরুনের মাঠে ফোটে শিশুর হাসি, কৃষকের ঘামে ভরা কোণিক।

কান্দানিয়া, চাঁদপুর, কামড়া মাশকের বাগান,
ফুলে ওঠে উৎসব, বাজে সোনার গান।
ঘাটকুড়ি, রাওনাট, ভূবনেরচালা—প্রতিটি গ্রামে,
মাঠের কাঁঠাল যেন মুক্তির স্বপ্নে ভরা প্রান্তর তানে।

জামিরারচর, সূর্য্যনারায়ণপুর, পাবুর বাগানে,
প্রতিটি গাছে ঝরে রস, ঘ্রাণে ভরা হাসির ধ্বনি।
রাউৎকোনা, কাজাহাজী, চাকৈল, বড়জোনায়,
মৌসুম এলেই মাঠ-ঘাটে ভরে ওঠে আনন্দের ঢেউ।

দুর্গাপুর, তরগাঁও, নবীপুর, বাঘিয়ায়,
পাইকারেরা আসে খুঁজতে মিষ্টি কাঁঠাল ঘরে।
মৈশন, উত্তরখামের, সোনারুয়া, পিরিজপুরে,
উঁচু মাটিতে চারা রোপণ করলে ফলন হয় দীর্ঘকাল ধরে।

বেগুনহাটি, কড়িহাতা, কাপাসিয়া, সিংহশ্রী, রায়েদ,
প্রতিটি বাগান যেন জীবন ও বিদ্রোহের খনি।
দরদরিয়া, চৌরাপাড়া, বড়হর, বাগেরহাটে,
কৃষকের ঘাম, হাসি, পরিশ্রম—কাঁঠালের ঘ্রাণে ভেসে।

ভুলেশ্বর, বেলাশী, কপালেশ্বর, গিয়াসপুর, বারাব,
উৎসবের ধ্বনি বাজে বাজারে, কাঁঠালের আনন্দে ভরা।
উজলী, কির্ত্তুনিয়া, গাওরার, ভেরারচালা,
ছাতির বাজার, টোক, সনমানিয়া—সব মিলিয়ে উৎসবের ঝড়।

রাওনাটের বাগানে ঝরে মিষ্টি রসের ঝিলিক,
কৃষকের মুখে হাসি, মাঠে ভরে আনন্দের মিলিক।
শ্রীপুরের বাজারে ভিড় জমে ঢেউ,
জিআই স্বীকৃত কাঁঠাল ছড়িয়ে দেয় খ্যাতি দেশে-বিদেশে।

নগরহাওলা, চকপাড়া, টেপিরবাড়ি, রাজাবাড়ি,
ছাতির, চন্নাপাড়া, কেওয়া—বাজারে ধন, খুশির ফোয়ারি।
ট্রাকে ট্রাকে যায় দেশের কোণে কোণে,
পাইকারের খুশি, কৃষকের পরিশ্রমের সোনার সোনে।

খাজা, গালা, দুরসা—প্রকারে ভিন্ন,
মিষ্টির স্বাদে মেলে মানুষের মনে শোভা অনন্য।
কাঁঠালের কাঠে বানানো আসবাব, ঘরে ঘরে পিঠার স্রোত,
মাটির ঘ্রাণে ভরা প্রতিটি কাঁঠাল, কৃষকের হাসির কোদ।

মৌসুমের দিনগুলো ভরে হাসি আর গান,
প্রতিটি বাজারে আনন্দের বাঁধ ভাঙে ধান।
পাইকারেরা ছুটে আসে, ক্রেতারা আনন্দিত,
প্রতিটি কাঁঠাল বাগান, গ্রামীণ জীবনের প্রণীত।

শ্রীপুর, কাপাসিয়া, রাওনাট—সব গ্রামে,
কাঁঠালের ঘ্রাণে ভরে ওঠে প্রাণের ধামে।
হিমাগার হোক, নীতি হোক, প্রশিক্ষণ হোক সঠিক,
কাঁঠাল হোক দেশের শক্তি, ভবিষ্যতের দিশা নির্মিত।

সবুজ শ্যামলে কাপাসিয়া গ্রাম,
কাঁঠালের ঘ্রাণে মেলে জীবন-ধারার ধাম।
কৃষকের পরিশ্রম, গ্রামের হাসি, বাগানের কাঁঠাল,
মাটির দানে ভরে ওঠে দেশের সুখ-স্মৃতির পাল।

বিদেশেও রপ্তানি হয়—কাপাসিয়ার কাঁঠাল, গৌরবের মালা।


২০-১১-২০২৫

কাপাসিয়ার আখ

 কাপাসিয়ার আখ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
***************************************

উইড়া যায়রে আখের পাতা হাওয়ায় নাচি,
রাওনাটের মাঠে কৃষ্ণরাজের লম্বা ডালি ছাঁদিতে।

পাবুর খেতে গুড়িয়ার হেসে ওঠে রোদ,
কাপাসিয়ার মাঠে রাজমুখীর লম্বা ডানা ফোটে মোদ।

চাঁদপুরে নীলকণ্ঠের ছায়া নীরবে পড়ে মাটিতে,
সাদা আখ, হলুদ আখ—মাঠে ছড়ায় সবুজ রঙের বাতিতে।

কৃষকের কাঁধে ঘাম, চোখে হাসির আলো,
বাজারে বাজারে বিক্রি, গুড়ের মেলায় আনন্দের ঝলো।

গুড়ের ঘ্রাণে ঘর ভরে পিঠা, চাটনি, মিষ্টি খেলা,
মাটির ঘ্রাণে ভরে মাঠ, গ্রামের উৎসবের মেলা।

মাঠে মাঠে আখের ছায়া, শিশুরা খেলে খুশিতে,
বৃদ্ধও মেলে হাসি, আখের ডাল ছোঁয়ে প্রিয় কিশোরীতে।

কৃষ্ণরাজের গুড়, গুড়িয়ার মিষ্টি স্বাদ,
রাজমুখীর উঁচু আখ, নীলকণ্ঠ লম্বা, সুগভীর নাদ।

রাওনাট থেকে কাপাসিয়া, পাবু থেকে চাঁদপুর,
আখের খেতে বাজে জীবন, মাঠে উৎসবের উচ্ছ্বাসপুর।

বাজারে লেলানো আখ, গুড়ের মেলায় আলো,
মাটির ঘ্রাণে ভরে প্রাণ, কৃষকের ঘাম শান্তি বাজে।

সারা খেত ভরে মাঠ, বাতাসে বাজে গান,
কাপাসিয়ার আখের বন্দনা—বাংলার প্রাণে জীবন জ্বান।

মাঠে মাঠে আখ, বাজারে বাজারে গুড়,
কৃষকের ঘামে গড়া সুখ, বাংলার প্রাণে ডুমুড়।

মাটির বুকে খুঁজে পাওয়া স্বর্ণ, মাঠে মাঠে ফুল ফোটে,
কাপাসিয়ার আখের বন্দনা—বাংলার হৃদয় ছুঁয়ে ওঠে।

রাওনাটের আলো, কাপাসিয়ার হাসি,
পাবুর হাওয়া, চাঁদপুরের মধুরবাসি।

কৃষকের ঘামে গড়া সুখ, আখের ঘ্রাণে আশা,
বাংলার মাঠে বাজুক গান, আনন্দ হোক প্রিয় ভাসা।
---------------------------------------------


২০-১১-২০২৫

অভিনন্দন মুশি

 অভিনন্দন মুশি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************************

হে মুশি! মাঠে বাজে বিজয়ের আলো,
শততম টেস্টে তুমি করলেই উজ্জ্বল ঝলো।

বল উড়ে যায় দূরে, ব্যাটে জ্বলে আগুন,
বাঙালি হৃদয়ে বাজে গর্বের দীপ্তি নাগুন।

প্রাণঢালা অভিনন্দন, স্বপ্নের আলো ভোর,
শত রানের ধ্বনি বাজে, খুশির রঙে জোর।

মুশি! নাম তোমার কণ্ঠে কণ্ঠে বাজে গান,
এই মুহূর্তে গাই আমরা, মুখর আনন্দের মান।

চলুক পথ জয়ধ্বনিতে, গানে ভরা হৃদয়,
শততম রানের সৌরভ ছড়াক, সোনালি প্রেরণার খোঁয়।

মাটির কণায় মিশে যায় ইতিহাসের ছাপ,
বাঙালির চোখে জ্বলে আনন্দের উজ্জ্বল ভাপ।

প্রতিটি বলের আঘাত, ইতিহাসে লেখা হয়,
সাহসী ব্যাটে ফুটে ওঠে জাতির আশা যে রয়।

বল ও ব্যাটের খেলা, গর্বের প্রতীক তুমি,
মুশি! তুমি চিরকাল বাঙালির দীপিক, উজ্জ্বল রুমি।

শততম রানের গর্জন বাজে কণ্ঠে কণ্ঠে,
বাঙালির প্রাণে আনন্দ ভেসে, মুখর গলধ্বনি ঘন্টে।

মুশি! তুমি বাঙালির গর্ব, হৃদয়ের দীপ্তি,
অভিনন্দন তোমায়, জীবনের উজ্জ্বল ঝলকিতি।

চলুক পথ তোমার জয়ধ্বনিতে ভরা,
সাফল্যের আলো ছড়াক, গানের ছন্দে ভরা।

শত রানের মর্যাদা, শত শুভেচ্ছায় ভরা,
মুশি! তুমি সোনার বাংলার গর্ব, হৃদয়ের আলো সারা।
--------------------------------------


২০-১১-২০২৫

দেশের প্রতি অনুগত্য

 দেশের প্রতি অনুগত্য

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
----------------------------------------

হে মুমিন! হে বীর! পদধ্বনি তুলো বুকে,
দেশের জন্য রক্ত ঢালো, ভয় করো কাকে ?
নিষ্ঠার প্রদীপ জ্বালো, অন্ধকার ছিন্ন করো,
কোরআনের নূর ধরে রেখো, লড়ো, লড়ো, লড়ো!

জুলুম ছড়ায় যে শাসক, ধ্বনি দাও ধ্বংসকরো,
সত্যের তরী বেয়ে দাও বিপ্লবের ঝঞ্ঝা ঢলো।
হে প্রজন্ম! চোখ খোলো, শুনো জাতির কণ্ঠস্বর,
স্বাধীনতার আহবান বাজে, করো হৃদয়-নিঃশ্বাস ধর।

দেশের জন্য বলো লাব্বাইক! করো ত্যাগ মহান,
পদধ্বনিতে ফোটাও ঈমান, অমলিন দান।
হৃদয়ে আগুন, প্রাণে উচ্ছ্বাস—দেশ হোক তোমার প্রার্থনা,
মুক্তির বাতাসে ভাসুক, তোর দেশ, তোর প্রাণের ছায়া।

তুমুল ঝড় হোক তোমার পদধ্বনিতে,
অধিকার রক্ষা করো, ভয় নষ্ট করো সব জড়িত!
দেশের প্রতি অনুগত্য কেবল শপথ নয়,
এটি হলো ঈমানের সুরে রচিত বিদ্রোহের ছায়া।
--------------------------------------------


২০-১১-২০২৫

জুলুমকারী শাসক

 জুলুমকারী শাসক

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************

শোনো! আকাশ ফেটে চিৎকার করে বলে—
“জুলুমের রাত শেষ! সত্যের আগুন জ্বলে!”
মাটির তলায় কম্পন—শাসকের মিথ্যা সিংহাসন কাঁপে,
অন্যায়ের ছায়ায় আজ বিদ্রোহের বজ্র পতন নামে!


জুলুমকারী শাসক— শোনো!
তোমার প্রতিটি নিঃশ্বাসে বিষের গন্ধ,
মানুষের কান্নায় ভেজা রাত্রিগুলো সাক্ষী—
তোমার মুকুট পুড়বে ন্যায়ের আগুনে একদিন নিশ্চিত!

তোমার লোভের দুর্গ, তোমার পাপের সিংহাসন—
আল্লাহর রোষে এক মুহূর্তেই ভেঙে যাবে ধুলোয়!
মুমিনের ধৈর্য যখন ফেটে যায়,
পাহাড়ও দাঁড়াতে পারে না তাদের সামনে!


উঠো মুমিন!
হৃদয়ের গভীরতম আগুনকে মুক্ত করো!
আজ বিদ্রোহের নাম— সত্য,
আজ বিপ্লবের নাম— আল্লাহর ন্যায়।

ঝড়ের মতো এগিয়ে যাও,
অন্ধকারের দেয়াল ভেঙে ফেলো এক আঘাতে!
অনাচারের সূর্যকে নিভিয়ে দাও সত্যের বাতাসে,
জুলুমের কুয়াশা গিলে ফেলুক আলোর ঘূর্ণিঝড়ে!


যে শাসক মানুষের চোখে ধুলা দিতে চায়,
কোরআনের আলো ঢেকে রাখতে চায়,
সে যেন জানে—
আল্লাহর বিচার অদৃশ্য, কিন্তু তার আঘাত বজ্রের চেয়েও প্রবল!

এমন আঘাত,
যাতে লৌহদেয়াল গুঁড়িয়ে যায়,
প্রাসাদের দোর ভেঙে যায়,
জুলুমের মুখোশ ছিন্ন হয়ে পড়ে—
বন্যার জলের মতো সত্য উন্মুক্ত হয়ে যায়!

হে জুলুমকারী!
তুমি বুঝতে পারো বা না পারো—
মুমিনের হৃদয়ে জ্বলে ওঠা আগুন
কোন শক্তি থামাতে পারে না!

এ আগুন ক্ষতির নয়—
এ আগুন জুলুমের মৃত্যু,
এ আগুন সত্যের জন্ম,
এ আগুন ন্যায়ের পুনর্জাগরণ!

একদিন আসবেই—
যেদিন তোমার মিথ্যা সাম্রাজ্য
ধসে পড়বে ঘূর্ণিঝড়ের নিচে,
আর মুমিনের কণ্ঠ উঠবে—
“আল্লাহু আকবার! ন্যায়ের জয়!”
----------------------------------------------


২০-১১-২০২৫

জাহান্নামের শাস্তি

 জাহান্নামের শাস্তি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর
*****************************************

হে ভাই! হে বোন!
মন দেয়ো আল্লাহর পথে, মনে রাখো শাস্তির কথা।

জাহান্নামের আগুন জ্বলে, দগ্ধ হবে অমনি!
যারা ভুলে আল্লাহকে, তারা হবে অনন্তে দমনি!
সৎ পথের যারা চলে, তারা পাবে জান্নাতের দিন,
আল্লাহর আশীর্বাদে, সুখময় চিরদিন!

দুনিয়ার মায়া-মোহে, যারা হারায় আল্লাহকে,
অগ্নির ছায়ায় দগ্ধ হবে, প্রতিটি ক্ষণেই তারা।
কোরআনে স্পষ্ট লেখা, সতর্ক হও, হে মুমিন ভাই!
পাপীর পথে যারা চলে, তারা হবে চিরকাল দগ্ধ।

জাহান্নামের আগুন জ্বলে, দগ্ধ হবে অমনি!
যারা ভুলে আল্লাহকে, তারা হবে অনন্তে দমনি!
সৎ পথের যারা চলে, তারা পাবে জান্নাতের দিন,
আল্লাহর আশীর্বাদে, সুখময় চিরদিন!

শয়তানের জালে যারা পড়ে, দিশাহীন জীবন তাদের,
তাদের কাঁদাবে কেউ না, শুধু আগুনের ধ্বনি।
হেদায়েত এড়িয়ে যারা চলে, তারা ভোগ করবে শাস্তি,
কোরআন বলে স্পষ্টভাবে, পাপীরা হবে দগ্ধ চিরকাল।

জাহান্নামের আগুন জ্বলে, দগ্ধ হবে অমনি!
যারা ভুলে আল্লাহকে, তারা হবে অনন্তে দমনি!
সৎ পথের যারা চলে, তারা পাবে জান্নাতের দিন,
আল্লাহর আশীর্বাদে, সুখময় চিরদিন!

সজাগ হও, হে মুমিন ভাই, মুমিন বোনেরা,
আল্লাহর পথে চলো, শাস্তি থেকে রক্ষা পেতে।
বিশ্বাসে স্থির হও, সৎকাজে নিবেদিত,
জান্নাতের আলো তোমার, চিরদিনের সুখময় জীবন।

জাহান্নামের আগুন জ্বলে, জ্বলে অমনি!
যারা ভুলে আল্লাহকে, তারা হবে অনন্তে দমনি!
সৎ পথের যারা চলে, তারা পাবে জান্নাতের দিন!
আল্লাহর আশীর্বাদে, সুখময় চিরদিন!
জ্বলে অমনি… জ্বলে অমনি… চিরদিন…
------------------------------------------------------


২০-১১-২০২৫

তুচ্ছ মূল্যে বিক্রি করো না

 তুচ্ছ মূল্যে বিক্রি করো না

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর
**************************************************

তুচ্ছ মূল্যে বিক্রি করো না— আল্লাহর পবিত্র বাণী,
এই কোরআন নয় বাজারি মাল, নয় দুনিয়ার কোনো দামি।
এ যে নূরের আলো, হেদায়েতের দিশা—
হারালে পথ হবে অন্ধকার, ভেঙে যাবে আত্মার নিশা।

ও মুমিন! কোরআনকে তুচ্ছ করো না,
এতে জীবন— এতে রহমত— এতে আল্লাহর ডাক শোনা।
দুনিয়ার স্বার্থে দিও না বিকিয়ে,
কোরআন বুকে রাখো আঁকড়ে, থাকো সত্য-সিরাতে টিকে।

যারা আয়াত লুকিয়ে রাখে, দুনিয়ার লোভে পথ হারায়,
কোরআন বলে— সেই ক্রয় কত মন্দ! তারা আগুন কিনে নেয় হাজার দামে।
আমরা তো চাই ঈমানের আলো, সত্য পথের নির্ভরতা,
এই গ্রন্থে আছে মুক্তির পথ— আছে দয়ার মহিমা।

ও মুমিন! কোরআনকে তুচ্ছ করো না,
এতে জীবন— এতে রহমত— এতে আল্লাহর ডাক শোনা।
দুনিয়ার স্বার্থে দিও না বিকিয়ে,
কোরআন বুকে রাখো আঁকড়ে, থাকো সত্য-সিরাতে টিকে।

কোরআনের হুকুম বিক্রি করে, লাভ হবে না দুনিয়া-আখিরাতে,
হারামকে হালাল দেখিয়ে দিলে বিপদ বাড়ে অন্তরাতেই।
চলো ফিরে আসি রবের কাছে,
মেনে নেই আয়াতের ডাকে,
সত্য বলি, ন্যায় ধরি, তাওহিদের পথে থাকি দাঁড়িয়ে।

ও মুমিন! কোরআনকে তুচ্ছ করো না,
এতে জীবন— এতে রহমত— এতে আল্লাহর ডাক শোনা।
দুনিয়ার স্বার্থে দিও না বিকিয়ে,
কোরআন বুকে রাখো আঁকড়ে, থাকো সত্য-সিরাতে টিকে।

এই কোরআন আমাদের প্রাণ— আলোর পথ দেখায়,
যে আঁকড়ে ধরে এ গ্রন্থকে, আল্লাহ তার পাশে দাঁড়ায়।
তুচ্ছ মূল্যে বিক্রি করো না,
করো না সত্যের অবমান,
কোরআনই মুক্তির পথ— চিরকাল অপরিবর্তনীয় জ্ঞান।
------------------------------------------------


২০-১১-২০২৫

Wednesday, November 19, 2025

তোমরা আমাদের শত্রু

 তোমরা আমাদের শত্রু

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*********************************
তোমরা সেইদিন ভাই ছিলে না—
ছিলে রাত্রির ঝড়েতে উঠে আসা কালো বুটের বজ্র গর্জন!
আমরা ছিলাম মাটির সন্তান—
তোমরা ছিলে দখলদার রক্তলোভী অন্ধ উন্মাদন!

তোমরা চেয়েছিলে ভাষায় তালা দিতে,
কণ্ঠ ভেঙে দিতে, পরিচয় মুছে দিতে—
কিন্তু বুকে ছিল আগুন!
সেদিন বাংলার সন্তানরা রক্ত দিয়ে তুলেছিল অক্ষর,
ধরিত্রী কেঁপে উঠেছিল আমাদের শপথে!

হায়, তোমরা কি ভাই ছিলে সেইদিন?
যখন মা-বোনের আর্তনাদ তোমরা পিষে দিয়েছিলে বুটের তলায়,
যখন গুলিবৃষ্টি ঝরেছিল তরুণ বুকের ভোরের ওপর,
যখন রাতের নদীতে ভেসেছিল শত শত নিথর দেহ—
তখন কি ভাইয়ের মুখ ছিল তোমাদের?

না!
তোমরা ছিলে বিষদাঁতধারী সাপ,
জুলুমের অন্ধকার রাজপুত্র,
অত্যাচারের লেলিহান শিখা!
বাংলার বুক লেখা আছে রক্তে—
যে হাত কাঁদে না, সেই হাত কখনো ভাই হতে পারে না!

তোমরা জ্বালিয়েছিলে ঘরবাড়ি,
লুটেছিলে শস্য,
চূর্ণ করেছিলে স্বপ্ন,
ধর্ষণ করেছিলে আমাদের আকাশের সূর্যালোকে—
তোমরা মানুষ নও, তোমরা শত্রু!
ইতিহাস তোমাদের মুখে ঝুলিয়ে দিয়েছে
লজ্জার কালো পতাকা।

আর আমরা?
আমরা ছিনিয়ে এনেছি স্বাধীনতা—
মৃত্যুর মাঝখানে হাসি, রক্তের ভিতর দিয়ে সূর্য!
আমরা উঠেছি বিদ্রোহীর মত,
হাজার বজ্রের শপথে—
"বাংলা আমার, অধিকার আমার, এই মাটিতে দখলদার চলবে না!"

তাই শুনে রাখো—
যে শত্রু একবার আমার মাতৃভূমিতে আগুন দেয়,
যে ভাইয়ের মুখোশ পরে বিশ্বাসঘাতকতা করে,
সে কখনো বন্ধুত্বের টেবিলে বসতে পারে না!
ইতিহাসের আদালতে তোমরা চিরকাল
শত্রুই— শত্রু, শত্রু!

বাংলা আজ স্বাধীন—
কিন্তু স্মৃতির ক্ষতে লেখা আছে তোমাদের নাম,
রাগে, রক্তে, প্রতিশোধের শপথে—
মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত দখলদার কোনোদিন ভাই নয়,
কখনো বন্ধু নয়—
সে শুধু শত্রু, চিরশত্রু!
--------------------------------------------------


১৯-১১-২০২৫