Wednesday, September 10, 2025

মানবিক পুস্প

 মানবিক পুস্প

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা,
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
-------------------------------------
আম-জাম, কাঠাল, আনারসের ফুলে ভরা বন,
দূর্গাপুরের রাওনাটে ছড়ায় সোনালী স্নিগ্ধি তন।
পশ্চিম পাড়ার বুকে আলোর প্রদীপ জ্বলে ধীরে,
জন্ম নিলো সফিকুর রহমান মোল্লা, শিশুর ছোট্ট পীরে।

পিতা মোঃ রশিদ মোল্লার ঘরে, স্নিগ্ধ আলোর ছায়া,
শৈশব কৌশরের নদী পেরিয়ে যুবনের পথে ছায়া ছায়া।
দুরন্তপনায় বুনলো সে স্বপ্ন মানব সেবার,
মনের গভীরে জ্বলে কল্যাণের অমর দীপ্তি ধার।

ইঞ্জিনিয়ার শফিকুল রহমান ডাক দিল মানব ঐক্যে,
সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বে বোনা হলো বন্ধুত্বের রেখায় ছকে।
বংশের বিভেদ নেই, রেখার ফাঁক নেই,
ছোট-বড়, বড়-বংশ, সকলের হৃদয়ে সমান ভালোবাসা বৈ নেই।

রাওনাটের বুকে গড়ে তুললো মানবিক সংঘ,
শৈশব থেকেই ছুটছে গরীব দুঃখীর কাছে অঙ্গ।
শিক্ষার আলো পৌঁছে দিচ্ছে দ্বারে দ্বারে,
“এসো হে এসো, নবীন-প্রবীণ, মানব কল্যাণে” শ্লোগানে।

মানবিক কাননের সে এক পুস্পিত পুষ্প,
ভ্রাতৃত্ব, ভালোবাসা, উদারতার দীপ্তি ভাস্প।
পথ চলা হোক শুভ, হোক মানব মুক্তির হাতিয়ার,
সফিকুরের জীবন হোক মানব কল্যাণের অনন্ত উপহার।
--------------------------------------------

বিপ্লবী আলো

 বিপ্লবী আলো

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা,
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
-------------------------------------
আমি বলি—
ওরে কালো শক্তি! তোরে চূর্ণ করিবে আজ কামালের কলম,
বজ্রের মত গর্জে উঠিবে সে— বিদ্রোহী সৈনিক, শপথ-ধম।

কাপাসিয়া থানা ছাত্র দলের সাবেক সভাপতি,
কাপাসিয়া প্রেস ক্লাবের সংগ্রামী সভাপতি,
কাপাসিয়া থানা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সম্মানিত সদস্য—
লক্ষ প্রাণের প্রিয় মুখ সে, নম্র ভদ্র, তবু আগুনের ঝড়,

রাজপথে তার পদধ্বনি বাজে, অন্যায়ের বুক ফাটে বিদ্রোহী ভয়ার।


সে কলম— বজ্রাস্ত্র! আতঙ্ক জুলুমের শত্রু, হুলিয়ার ভীতি,
শোষিতের কান্না ঝড় হয়ে ওঠে, তার হাতে লেখা মুক্তির গীতি।

ওরে মদিরার নেশায় মাতাল দানব!
ওরে চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসের কালো ব্যাধি!
দেখ— এফ এম কামালের রুদ্র কলমে,
অগ্নি ঝরে আজ বজ্র-স্মৃতি।

সে শহীদ জিয়ার অগ্রসৈনিক,
জাতীয়তাবাদের দীপ্তি জ্বালে,
লাল-সবুজের সোনার বাংলা—
তার প্রাণে চিরদিন গানে গানে।

হে বিপ্লবী আলো!
তুমি জাগাও কালো রাতে সূর্যের প্রখর জ্যোতি,
অন্যায়ের প্রাচীর ভাঙো, মুক্ত করো শৃঙ্খল-বন্ধন অমৃতি।

তুমি যেন পূর্ণিমার শুভ্র চাঁদ—
তবু ভেতরে জ্বলে আগুনের শিখা,
কভূ না নত হও, মাথা উঁচু রেখে
বিদ্রোহীর বজ্র হুঙ্কার দাও, সত্যের দিশা।
--------------------------------------------


Tuesday, September 9, 2025

সত্যের বহ্নিবান

 সত্যের বহ্নিবান

কলেমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
---------------------------------------------
কাপাসিয়ার শ্যামল বুকে জন্মেছিলেন এক প্রাণ,
শৈশব হেঁটে বুনেছিলেন স্বপ্ন, আলোকিত সমাজের মান।
ছাত্র জীবনে রাজপথে উঠেছিলেন সাহসের ভরা,
শোষিত ও বঞ্চিতের পক্ষে লড়েছেন নির্ভয়ে ধরা।

কাপাসিয়া কলেজ সংসদে নির্বাচিত প্রতিকূলতায়,
জুলুম ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন অনন্য সাহসের ছায়ায়।
কলম হাতে লিখেছেন সত্য, কখনো ভয় নয়,
ভোরের দর্পণ ও গাজীপুর দর্পণে প্রকাশ করেছেন কথার ধ্বনি।

পরোপকারী হৃদয়ে, নীলোর্ভ প্রাণে ভরা,
নিজের জন্য নেননি কখনো কোনো আর্থিক ধারা।
দৈনিক ভোরের দর্পণ ও সাপ্তাহিক গাজীপুর দর্পণের সম্পাদক,
বৈশাখী টেলিভিশন, যুগান্তর, দিলকালেও ছিলেন সততা ও ন্যায়পরায়ণ।

গাজীপুর সিটি প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি,
কাপাসিয়া প্রেসক্লাবের তিনবার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন অবিচল সততায়।
৪ আগস্ট ২০২৩: কোটবাজালিয়া ট্রাকের নিচে চাপা পড়লেন,
জাতি হারাল সাহসী সাংবাদিক, সত্যের কণ্ঠ, জীবন বিদায় নিলেন ততক্ষণে।

৮ আগস্ট ২০২৫: দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে,
গাজীপুর সিটি প্রেসক্লাব আয়োজন করল স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে।
মঞ্জুর হোসেন মিলন – সত্যের বহ্নিবান,
নির্ভীক, নিঃস্বার্থ, সমাজ সংস্কারের অম্লান প্রাণ।

কাপাসিয়া, গাজীপুর, বাংলাদেশ কখনো ভুলবে নয়,
চিরকাল সত্যের আলোয় তুমি আমাদের সাথে থাকো আজও, কালও।
তোমার সাহস আমাদের পথ দেখাবে অমলিন,
কলমের শক্তি সত্যের পথে চলবে অবিরাম অনিন্দ্যন।

প্রজন্মের হৃদয়ে তোমার নাম জ্বলবে দীপ্তি হয়ে,
আল্লাহ আপনাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন – আমীন।
--------------------------------------------------------


তবুও স্বপ্ন মরে নাই

 তবুও স্বপ্ন মরে নাই

কলেমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
---------------------------------------------
শৈশবে ছিলাম দুরন্ত পাখি, আকাশ জুড়ে উড়াল,
স্বপ্ন ছিল সোনার স্রোতে, হৃদয় ভরা কল্পনাজাল।
হঠাৎ এলো ঝড় একদিন, ছিন্ন হলো সব গান,
পিতৃছায়া মুছে গিয়ে বুক হলো নির্জন ধ্বংসস্তান।

স্তব্ধ হলো মুখের ভাষা, চেয়ে রইলাম নিরাশায়,
চাতক পাখির তৃষ্ণার মতো তাকালাম শুধু আকাশায়।
ধূ ধূ বালুচরে দাঁড়িয়ে ছিলাম নিঃসহায় প্রাণ,
সোনালী রঙ মুছে গিয়ে ছড়িয়ে পড়ল ধূসর সন্ধান।

তবুও আঁধারের ভিতর থেকেও জেগে উঠল আলো,
দু’চোখ ভরা ব্যথা নিয়ে গাই আশার ভালোবাসার পালো।
কণ্ঠ কাঁপে নদীর স্রোতে, তবু গান থামে না আর,
নতুন করে বাঁচতে চাই, খুলতে চাই সম্ভাবনার দ্বার।

ছয়টি বছর বেকার বসে, তবুও স্বপ্ন মরে নাই,
প্রভুর করুণায় আবারও গর্জে ওঠার দিন আসবেই চাই।
বিষাদ হলো মেঘের মতো, ঢেকে রাখে রবি,
তবু ভোরের আলো ফোটে, জাগায় আশা নবজীবী।

হে প্রভু! আঁধার ভেদ করে দাও আমায় আলো,
স্বপ্নগুলো সোনালী হোক, ছুঁই পৃথিবীর ভালো।
বিষাদ আর আলোর স্রোতে আমি গাইবো গান,
জীবন হবে দীপ্তিময়, জ্বলে উঠবে হৃদয় প্রাণ।

--------------------------------------------------------

দিলু এক সাহসী যুবক

 দিলু এক সাহসী যুবক

কলেমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
---------------------------------------------
বানরহাওলার প্রভাত ফুঁড়ে উঠল এক দীপ্ত শিখা,
নুরুল ইসলামের ঘরে জন্ম নিল বজ্রের দীক্ষা।
সোনালী আলোয় দীপ্ত হলো এক সাহসী তরুণ প্রাণ,
সাইফুল ইসলাম খান—দিলু নামেই পরিচয় পান।

পথে পথে জেগে উঠল মিছিলের বজ্রনিনাদ,
শোষিত বঞ্চিতের কণ্ঠে গর্জে উঠল বিদ্রোহী সাদ।
“অধিকার চাই! মুক্তি চাই!”—ধ্বনি কাঁপালো আকাশ,
দিলুর নেতৃত্বে তপ্ত হলো রুদ্র সময়ের বাতাস।

ছাত্রলীগের সভাপতি তিনি—এক প্রেরণার শিখা,
ঝড়ের মতন হাঁক ছুটে এলো শত্রুর বুক চিরে দীক্ষা।
কারাগারের লোহার শৃঙ্খল ভাঙল না তার কণ্ঠ,
বরং সেখানে বাজলো স্বাধীনতার উদ্দাম সংগীত অম্লান।

লাঞ্চিতের, বঞ্চিতের, শোষিতের প্রহরী তিনি,
মানবতার দীপ্ত প্রদীপ—অদম্য বিপ্লবের ঋণী।
স্বৈরাচারের রক্তচোখে দাঁড়ালেন অটল শপথ,
“অন্যায় যতই আসুক, হবে না কখনো অপসৃত।”

কাপাসিয়া ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচিত রথী,
মানবতার সেবায় ছিলেন সদা কর্মনিষ্ঠ সত্যি।
তারপর এলো নতুন ডাকে জাতীয়তাবাদের গান,
বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হলেন তিনি মহান।

কিন্তু হায়! হুলিয়া, জেল, জুলুমের আঁধার ছায়া,
দেশ ছাড়তে হলো তাকে, মলিন হলো প্রভাতের মায়া।
সুদূর আমেরিকার মাটিতে গড়লেন নতুন ঘর,
তবু হৃদয়ে বেঁচে থাকে কাপাসিয়ার প্রিয় অন্তর।

দিলু এক সাহসী যুবক—নতুন প্রজন্মের দীপ,
তার বিদ্রোহী চেতনা আজও করে আমাদের সজীব।
বারবার জন্ম নিক এ মাটিতে এমন অদম্য প্রাণ,
যে লড়বে অবিচারের বিরুদ্ধে, হবে বজ্রনির্ভীক দান।

হে দিলু, তোমার পথ চলা হোক দিবাকরের মতন,
উজ্জ্বল হোক প্রেরণার আলো, মুক্তির হোক অনুক্ষণ।
যতদিন কাপাসিয়ার বুক গেয়ে যাবে জাগরণের গান,
ততদিন বেঁচে থাকবে—সাহসী দিলুর মহান নাম!
--------------------------------------------------------


ডাঃ স্বপন চন্দ্র ধর

 ডাঃ স্বপন চন্দ্র ধর

কলেমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
---------------------------------------------
দূর্গাপুর ইউনিয়নের পান বরাইদ গ্রামে জন্মের দিন,
শিক্ষকের সন্তান, বাবার শিক্ষা—জীবনভরে ছায়ার চিন।

শৈশবের মাঠে খেলা, ফুলে-ফলে, আড্ডা, হাসির গান,
কল্পনার জগৎ, স্বপ্নের ধারা—মনের সোনালী ব্যথা হরণ।

১৯৭০ সালে কাপাসিয়া হাইস্কুলে মেট্রিক উত্তীর্ণের সুর,
ফার্স্ট ডিভিশনে পাশ করে, স্বপ্ন বুনে চলেন অবিরাম দূর।

ঢাকা কলেজে ইন্টারমিডিয়েটের পথের আলো জ্বলে,
স্বাধীনতার পর পড়াশোনার জ্যোতি হৃদয়ে সলিল ঝরে চলে।

সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে ডাক্তারি শিক্ষার যাত্রা শুরু,
MBBS হাতে তুলে, চিকিৎসার পথে ভর করে ভুরু।

FCPS Medicine, MD Gastroenterology—জ্ঞানের নক্ষত্র জ্বলে,
MACG USA, FRCP Edinburgh—সুনামে সব দিগন্ত ঢলে।

সিলেট, খুলনা, ফরিদপুর—সহকারী অধ্যাপক হয়ে চলেন,
শেষে সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে প্রধান হোন, জ্ঞান জ্বলজ্বলে বোলেন।

গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি, লিভার রোগ, হেপাটাইটিসের যত্ন দেন,
এন্ডোস্কপি, কোলনোসকপি, রোগীর আশা জীবনে আনেন।

ল্যাবএইড স্পেশালাইজড হাসপাতাল, ধানমন্ডির চির আলো,
সন্ধ্যা ৬:৩০ থেকে ১১:৩০, রোগীর মুখে হাসি আর ভালো।

আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজেও তিনি গৌরবের ছায়া,
সকাল ১০ থেকে দুপুর ১, জ্ঞান-চিকিৎসার দ্যুতি দেয় জয়ধ্বজা।

স্ত্রী গৌরী ধর পাশে, দুই সন্তান—স্নিগ্ধা ও তন্ময়,
পরিবারে সুখ, ধৈর্য্য, ভালোবাসা—জীবনের চির ময়ূরধ্বজ।

রবীন্দ্রসংগীত, হেমন্ত, লতা, রুনা, সাবিনা—সুরের রস,
রাত্রি কাজের সময়ে শোনেন, মন ভরে শান্তির কোষ।

হেপাটাইটিস বি ও সি প্রতিরোধে পরামর্শ দেন নিরন্তর,
রোগী ও ছাত্র-ছাত্রী শিক্ষায় পান জীবনের অমর।

ডাঃ স্বপন চন্দ্র ধর—আলোর প্রতীক, মানবতার দিশা,
গ্যাস্ট্রো ও লিভারে জীবন, আশা আর সুস্থতার নিশা।

----------------------------------------------------


Monday, September 8, 2025

সুরাইয়া বেগম: সাহস, সেবা ও প্রজ্ঞার দীপ্তি

 

সুরাইয়া বেগম: সাহস, সেবা ও প্রজ্ঞার দীপ্তি
মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

সুরাইয়া বেগম: সাহস, সেবা ও প্রজ্ঞার দীপ্তি
কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*****************************************
ওহে প্রজন্ম! শুনো গানের মতো ধ্বনিতে,
ঢাকার কলেজের পথচলায় জন্ম তার দ্যুতি।
অর্থনীতির বিদ্যা অর্জন করে সে বিশ্ববিদ্যালয়ে,
লিডসের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় শিখল নতুন প্রজ্ঞা নিয়ে।

সিভিল সার্ভিসে পদার্পণ ১৯৮২ সালের দিনে,
সেবার পথে অটল, অদম্য জ্বলে মানসপটে।
পরিসংখ্যান ও তথ্যবিজ্ঞান, সমাজকল্যাণের দফতর,
সকল দায়িত্বে ছিল তার নির্ভীক অবতরণ।

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়েও শীর্ষে দায়িত্ব পালন,
মূল্যায়ন ও বাস্তবায়ন বিভাগে ছড়াল দক্ষতার আলো।
প্রধানমন্ত্রীর সচিবের আসনে অধিষ্ঠিত,
২০১৫ থেকে ২০১৮ সাল সে দায়িত্বে স্থিত।

আন্তর্জাতিক মঞ্চেও তার উজ্জ্বল কীর্তি,
ঠাকুর ১৫০তম জন্মবার্ষিকীতে নেতৃত্বের গর্ববাহী।
২০১৭ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফ্রান্স সফরে অংশ,
দেশের মর্যাদা ও গৌরবের প্রতীক হয়ে উঠল হৃদয়ে।

২০১৮ সালে তথ্য কমিশনার হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত,
২০২৩ পর্যন্ত সত্য ও জ্ঞানের পাথেয় সম্পন্ন।
গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন,
প্রজ্ঞা ও সাহসের প্রতীক, সকলের কাছে প্রশংসিত।

ব্যক্তিগত জীবনে শান্তি ও স্নেহের বাতাস বয়ে চলে,
স্বামী গোলাম হাফিজ আহমেদ পাশে, সাহচর্য মিলে।
দুই সন্তান কানাডায়, ছোট মেয়ে ঢাকায় শিক্ষা অর্জন,
পরিবার ও কর্মক্ষেত্রে পূর্ণতা, সাফল্য ও প্রেরণার উৎস।

এ জীবনের গল্প, কর্মের দীপ্তি আর অধ্যবসায়ের গাথা,
সুরাইয়া বেগমের নাম হয়ে উঠেছে জাতির প্রেরণার বাতিঘর।
সাহস, প্রজ্ঞা, সেবা ও নেতৃত্ব—সব মিলিয়ে দীপ্তির রেখা,
প্রজন্মের জন্য উদাহরণ, অমলিন হয়ে থাকবে চিরকাল
------------------------------------------------------------------

হাবিবুর রহমান হাবিব, গণঅভ্যুত্থানের অগ্নি

 হাবিবুর রহমান হাবিব, গণঅভ্যুত্থানের অগ্নি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*****************************************
পথ চলার শুরুতে ছাত্রময়ী দিন,
কাপাসিয়া কলেজের মাঠে বাজল যে স্বাধীনতার সুর,
প্যানেলের শিরোনামে লেখা নাম,
জি.এস-এর প্রতীক—হাবিবের অমলিন দূর।
১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের অগ্নি,
১৯৭০-এর নির্বাচনের গর্জন,
নেতৃত্বের পথে তিনি দৃঢ়,
বঙ্গতাজ ও ফকির সাহাবুদ্দিনের স্নেহধন্য বরণ।
স্বাধীনতার ঝড়ে অংশ নিলেন গর্বিত,
বীরত্বের স্বাক্ষী, সংগ্রামের স্মৃতিতে লিপ্ত।
১৯৭৫-এর অন্ধকারেও আলোয় বিশ্বাস রাখলেন,
আওয়ামী লীগের গণতান্ত্রিক ধারা রক্ষা করলেন।
সোহেল তাজের পাশে দাঁড়িয়ে,
ফ্রন্টলাইনে ফিরে এলেন হাবিব।
জনতার মাঝে ঘুরে বেড়িয়ে,
আস্থা ও সাহস বন্টন করলেন, অবিরাম।
বিপদময় সময়েও ভোটের ঝড়ে জয়ী,
রায়েদ ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যানের খিতাবে ধরা।
রাজনীতির খেলায় হেরে গেলেও,
বঙ্গবন্ধুর আদর্শে মাথা নত করলেন না কখনো।
শেখ হাসিনার আহ্বানে উত্তর দিলেন সদা,
প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে রেখেছিলেন অবদান অম্লান।
ব্যক্তিগত জীবনে—শিক্ষা অনুরাগী,
ধর্মপরায়ণ, সাহসী ও সৎ—হিসেবে সুপরিচিত।
গাজীপুর সুধী মনে রাখে,
সর্ব মহলে রইল তার সুনাম ও সম্মান।
আমার হৃদয় জানে, সম্পর্কের গভীরতা,
শব্দে বর্ণনা নেই, চোখের জলেই প্রকাশ পায়।
আজ বেলা ৩:৩০ মিনিটে, পারিবারিক কবরস্থানে,
চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন হাবিবুর রহমান হাবিব।
হাজার জনের চোখে অশ্রু,
জানাজার নামাজে বিদায়ের অমোঘ স্মৃতি।
প্রার্থনা করি আল্লাহর কাছে—
জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম হোক তার নিকট।
আমীন।
-----------------------------------------------------------------

সাদিক আহসানের অমর কীর্তি

 সাদিক আহসানের অমর কীর্তি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*****************************************
ওহে তরঁগাও, শোনো, বজ্রপাতে ভাঙল রাতের নিঝুম ঘুম,
সাদিক আহসান চলে গেলেন, হৃদয় থামে, আলো ঝরে ঝুম।
ঢাকার ক্রিস্টাল গার্ডেনে, যুবকের প্রাণে আগুন জ্বলে,
হাজারো কণিকা, কর্মের তেজে বিশ্ব আলোকিত চলে।

ক্রিস্টাল ক্রাউন হোটেলের পথ ধরে সৃষ্টি হয়েছে সপন,
সদ্যসজীব উদ্যোক্তার ছোঁয়ায় বয়ে যায় অভিলাষের তরণ।
সোনার গাঁওয়ের প্রাঙ্গণে দমে না হারানো দায়িত্বের ছাপ,
তরুণদের চোখে জ্বলে, শিল্প-সেবার অসীম জ্যোতি ভাপ।

ড্রিম স্কোয়ার রিসোর্টে, গত বছরের অক্টোবরে,
জেনারেল ম্যানেজার হয়ে নতুন অধ্যায়ের প্রদীপ জ্বলে।
ঝারবাতির কাচের মসজিদ, গ্রামের হৃদয় স্পর্শ করে,
প্রকৃতি হাসে, মানুষের চোখে সোনালী আলো ভরে।

হোটেল ও রিসোর্টের কনসালট্যান্ট, দক্ষতার অমোঘ নায়ক,
আন্তর্জাতিক স্বপ্নে, কাপাসিয়ার স্বর্গ পথিকপ্রদক্ষিণায় রাখে।
হাজারো মানুষের উপকারে সীমারেখা নেই,
প্রকৃতির বাতাসে বয়ে যায় তাঁর দানশীল ঢেউ।

চোখের সামনে দিগন্তে, স্বপ্নের আগুন মিশে যায়,
উদ্যোক্তার পদচারণায় নগর-গ্রামের প্রাণ জ্বলে যায়।
মাটির গন্ধে, ঝরনার সুরে, বিদ্রোহের সঙ্গীত বাজে,
তরঁগাঁও বেপারী বাড়ির গল্পে নবজাগরণ ভাসে।

পর্যটন শিল্পে স্বপ্ন ছড়িয়ে, দেশে-বিদেশে আলো ছড়ায়,
কাপাসিয়ার আকাশে, আন্তর্জাতিক গৌরব উড়ে যায়।
হৃদয় দান করেছেন, মনের আগুন জ্বালিয়েছেন,
প্রকৃতির ছায়ায় মানুষের সুখসাগর উন্মুক্ত করেছেন।

সাদা মেঘের আড়ালে, সূর্যদেব হাসে অমল,
সাদিক আহসানের জীবন হয়ে উঠেছে যুগান্তরের পাল।
ওহে প্রজন্ম, শোনো, প্রতিটি পদচারণায় বিদ্যুৎ ঝরে,
সাদিক আহসানের পথ ধরে, স্বপ্নের তরঙ্গ বয়ে চলে।

যেখানে কর্ম, সেখানে বিদ্রোহ, সেখানে সেবা ও শক্তি,
কাপাসিয়ার আকাশে আজও বাজে তাঁর অমর ধ্বনি।
------------------------------------------------------------------

প্রথম ব্যারিস্টার শিহাবুদ্দীন মাহমুদ

 

প্রথম ব্যারিস্টার শিহাবুদ্দীন মাহমুদ
মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

প্রথম ব্যারিস্টার শিহাবুদ্দীন মাহমুদ
কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*****************************************
ঘাগটিয়ার মাঠে ফুলের হাসি,
সেখানে জন্মেছিল এক জ্যোতির্ময় মানুষ।
শিহাবুদ্দীন মাহমুদ—ব্যারিস্টারের পথিক,
জ্ঞান আর ধৈর্যের মিশ্রণে গড়া মহাপ্রাণুষ।

শিশু হেসেছিল নদীর ঢেউয়ে,
পাখির গানে শিখেছে তিনি প্রজ্ঞার খোঁজ।
বিদ্যালয়ের কাঁপা দেয়াল যেন প্রেরণার অঞ্জলি,
সেখানে ধরেছিল তার স্বপ্নের ডানা।

ঢাকার আলোয় পড়েছে তার চোখের দীপ,
অঙ্কন করেছে আইন ও ন্যায়ের বিশাল চিত্র।
লন্ডনের মেঘমালা, বইয়ের পাতা,
গড়েছে মননে বিচারিক প্রজ্ঞার বাতাস।

অপূর্ব দক্ষতা তার শব্দে ঝরে,
নদীর ধারা, পাহাড়ের সান্নিধ্য খুঁজে পায়।
মাঠ-ঘাসের কোমলতা তার অন্তরে বাজে,
অবিচল ন্যায়ের গর্জন শুনায় সারা দেশে।

কাপাসিয়ার মাটি, ঘাগটিয়ার গহ্বর,
জন্ম দিয়েছে এক মণিমুক্তার জ্যোত্বর।
শিহাবুদ্দীন মাহমুদ—প্রজ্ঞার দ্যুতি,
যার পথে আলোকিত, তরুণ হৃদয় অনুপ্রাণিত।

পাখির ডানা, নদীর কণার মতন,
তার প্রতিটি পদক্ষেপ ছড়ায় ন্যায়ের আলো।
মাটির বুকে প্রতিস্ফুরিত এক গর্বের গল্প,
ঘাগটিয়ার সন্তান, ব্যারিস্টারের নাম—অমর ও অম্লান।
------------------------------------------------------------------


এডভোকেট চৌধুরী মোহাম্মদ সাদির

 

এডভোকেট চৌধুরী মোহাম্মদ সাদির
মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

ওরে এই বাংলার নবীন প্রজন্ম! শোনো, শুনো গর্জনধ্বনি,
১লা অক্টোবর ১৯১৬, মামরুদি গ্রামে জন্ম নিলেন আলো-অগ্নির সাকি—
চৌধুরী মোহাম্মদ সাদি, হাসানের প্রজাপতি সন্তান,
সাদির মোক্তার নামে পরিচিত, ন্যায়ের পথে অদম্য অগ্নিশিখা।

ঢাকায় মেট্রিক, উনিশ শত ঊনচল্লিশ,
কলকাতার ফোর্ট উইলিয়ামের হাইকোর্টে ১৯৪২-এ মোক্তারি,
১৯৪৩-এ ঢাকায় আইনের অঙ্গনে তাঁর আগুন,
পুরানো ঢাকার বংশাল-মালিটোলায় চেম্বার স্থাপন,
নিশ্চল প্রতীক, ন্যায়ের বজ্রধ্বনি!
ষাটের দশকে ঢাকা মোক্তার বার কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট,
বারবার নির্বাচিত, স্বাধীনতার আগুনে প্রজ্জ্বলিত,
মেট্রোপলিটন এডভোকেটস বার – ধ্বনিত হোক তাঁর নাম।

হে প্রজন্ম! তাঁর রাজনীতি বজ্রপাত, তাঁর সেবা নদীর জলপ্রবাহ,
আওয়ামী লীগের জন্মলগ্নে তিনি ঘনিষ্ঠ সহচর,
বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গতাজ—তার ধ্বনি, তার সাহসের সাক্ষী।
ঢাকা নগর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ,
ঢাকা সদর নর্থের সভাপতি,
জনতার হৃদয়ে অগ্নির সেতু বেয়ে চলেছে তাঁর পদচারণা।
১৯৫৪-র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে প্রস্তাবক বঙ্গতাজের,
সমর্থক হেকিম মোল্লা, মিলিল বিজয়ের জোয়ার,
কাপাসিয়া-কালিগঞ্জের জনতার বুক জ্বলে ওঠে ধ্রুবতারার আলোয়।

হে দুর্ভোগের জনপদ! শোনো, শোনো নৌপথের বজ্রগর্জন,
১৯৬০-এ তিনি প্রতিষ্ঠা করিলেন শীতলক্ষ্যা ন্যাভিগেশন লঞ্চ কোম্পানি।
পান্না, বাবলা, ফাদিয়া, সান লাইট, চৌধুরী, নাজির, জলপিপি—
নৌপথের বহরে, ছুঁয়েছে আকাশের প্রতিধ্বনি।
নারায়ণগঞ্জ থেকে হাতিরদিয়া, কাপাসিয়া, টোক, বর্মী, চরসিন্দুর, পলাশ, ঘোড়াশাল—
পদচারণা ছাপানো পথের অভাবে, লঞ্চগুলো হলো জীবনের প্রদীপ।
শিক্ষার্থীদের দিলেন বিনা ভাড়ায় যাতায়াতের মুক্তির আলো,
শিক্ষা বিস্তার, নারী শিক্ষার দীপ্তিময় প্রভা,
জ্ঞান-অগ্নিপ্রকাশে উজ্জ্বল করিলেন সমগ্র জনপদ।

১৯৬৫-তে তিনি দাঁড়ালেন সমাজসেবার অগ্নি-মিনারে,
কাপাসিয়া ডিগ্রী কলেজের জন্ম-প্রতিষ্ঠায়,
বঙ্গতাজ, ফকির মান্নান, ডাঃ সানাউল্লাহ, সফিউদ্দিন আহমদ, মেজবাহ উদ্দিন—
সকলের সাথে একত্রে, ইতিহাসে অক্ষয় দীপ্তি।
পূর্ব পাকিস্তান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে রাখিলেন বড় অংকের ডিপোজিট,
ছয় মাসের শিক্ষকদের বেতন, করপোরেট গ্যারান্টি শীতলক্ষ্যা ন্যাভিগেশনের অর্থে,
প্রজন্মের জন্য জ্বালালেন শিক্ষার অম্লান বাতি।

১৯৭০ সালে নারী শিক্ষার জন্য মায়ের নামে গড়ে তুললেন আখতার বানু গার্লস হাই স্কুল,
হাসানপুর পোস্ট অফিস স্থাপন করলেন পিতার নামে,
স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, এতিমখানায় অসংখ্য দান,
জনকল্যাণের প্রতিটি পদক্ষেপে বাজিলো তাঁর অগ্নিশিখা।

১৯৭০-এর নির্বাচনে মনোনয়ন চাইলেন, না পেলেও থামলেন না,
সাহসে চলিলেন অবিচল, বজ্র, বিদ্যুৎ, ঝড়, আগুনের ছন্দে।
তিনি তিন পুত্র, তিন কন্যার পিতা,
কিন্তু ২৭ জুলাই ১৯৭৭, ৬১ বছরে জীবন রাখিলেন চিরবিদায়।
মহাপ্রয়াণের দিনে আকাশ কেঁদে উঠল বজ্র-বৃষ্টিতে,
অমর হোক তাঁর নাম, অমর হোক সংগ্রামের অগ্নিপথের ছন্দ।

ওরে নবীন প্রজন্ম! শুনো, শোনো বজ্রধ্বনি,
এডভোকেট চৌধুরী মোঃ সাদি—আইন, রাজনীতি, সমাজসেবায় এক অগ্নিশিখা।
তিনি শুধু মানুষ নন, তিনি বজ্র, তিনি ঝড়, তিনি বিদ্যুৎ, তিনি আলোর অমল দীপ্তি,
বাংলার বুক জ্বালানো অদম্য শক্তি,
চিরকাল উচ্চারিত হোক:
“সাদি, আমাদের সংগ্রামের অগ্নিপথের সারা!”

বঙ্গতাঁজের সহচর মাষ্টার মতিউর রহমান

 বঙ্গতাঁজের সহচর মাষ্টার মতিউর রহমান

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*****************************************
দূর্গাপুরের মাটির বুকে জন্ম নিলো এক দীপশিখা,
নীতির প্রদীপ, ত্যাগের অগ্নি, সততার দীপ্তিকা।
বঙ্গবন্ধু-বঙ্গতাঁজের প্রিয় সহচর মহান,
মাষ্টার মতিউর রহমান—ইতিহাসে অম্লান।

১৯২৫ সালের পহেলা ফেব্রুয়ারি জন্ম তার,
গোসাইরগাঁও গ্রামে সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবার।
পিতা জওয়াহের হোসেন ছিলেন সমাজ সচেতন প্রাণ,
সেই ঘরে ফুটলো আলো—মুক্তির সংগীত গানে গান।

মক্তবে নিলেন প্রথম পাঠ ধর্মীয় জ্ঞানের আলোয়,
লাখপুর-শিমুলিয়া স্কুলে চললেন বিদ্যার পালোয়ান ভেলায়।
১৯৪২ সালে উজ্জ্বল এনট্রান্স পাসের জয়,
সহপাঠী ফকির সাহাবুদ্দীন—বন্ধুত্বে অটুট অটলময়।

শাহাবুদ্দীনের সাথে কাটে হোস্টেল জীবনের দিন,
দুষ্টুমির গল্প আজো গ্রামে কিংবদন্তি রঙিন।
শৈশবের সে বন্ধন রাজনৈতিক জীবনেও অটুট,
আদর্শে সৎ, সংগ্রামে দৃপ্ত, সত্যের পথে অবিচল রুট।

১৯৪৮-এ জন্ম নিল ছাত্রলীগ দীপ্তিতে ভরা,
সেই সময়েই তিনি হলেন কর্মী, ত্যাগে অদ্বিতীয়া সরা।
রেসকোর্সে জিন্নাহ বললেন—উর্দুই রাষ্ট্রভাষা হবে,
মতিউর গর্জে উঠলেন—“না, বাংলাই রাষ্ট্রভাষা হবে!”

ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক হলেন,
দুর্গাপুরে আওয়ামী লীগের সভাপতি হয়ে জ্বললেন।
কাপাসিয়া থানা আওয়ামী লীগেরও প্রতিষ্ঠাতা শিলা,
পাকিস্তানি সামরিক শাসনে প্রতিবাদের মশাল তোলা দিগ্বিজয় খিলা।

১৯৫৪-তে যুক্তফ্রন্টে দিন-রাত কাজ করলেন,
আড়াল মাঠে ভাসানীর জনসভা সফল করে তুললেন।
১৯৫৬-তে রানীগঞ্জ স্কুল মাঠে এলেন বঙ্গবন্ধু মহান,
এই জনসভা আয়োজনের প্রধান উদ্যোক্তা মতিউর রহমান।

৬ দফা আন্দোলন, গণঅভ্যুত্থান, মুক্তির প্রহর,
১৯৭০-এর নির্বাচন, ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে তিনি অগ্রগণ্য অবর।
যোদ্ধাদের সংগঠিত করে পাঠালেন ভারতে প্রশিক্ষণে,
দেশমুক্তির স্বপ্নে তিনি দাঁড়ালেন দৃপ্ত বাণীতে।

১৯৭০-এ প্রাদেশিক পরিষদে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন,
ফকির শাহাবুদ্দীন মনোনয়ন পেলেও তিনি দৃঢ়তায় দাঁড়ালেন।
তিনি শুধু নেতা নন, ছিলেন সুনামধন্য শিক্ষক,
বেগুনহাটি, দড়িমেরুন, রানীগঞ্জে ছাত্রদের দিলেন আলোর শিখক।

১৯৮৩-তে অবসর নিলেন চাকরি হতে,
এরপর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে এলেন জনগণের সাথে।
পারিবারিক জীবনে ৫ পুত্র, ৪ কন্যার গর্বিত পিতা,
তাদের রক্তে আজো বয়ে চলে আওয়ামী চেতনার গাথা।

বড় ছেলে সামসুল হুদা লাল মিয়া অগ্রনায়ক শির,
দুর্গাপুর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সংগ্রামী ধীর।
চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী আজো,
পিতার আদর্শে দীক্ষিত হয়ে এগিয়ে চলেছে কাজো।

২০১৫ সালের ২৬ মে নিভে গেলো সেই প্রদীপ শিখা,
তবু তাঁর ত্যাগ-আদর্শ জাগায় প্রাণে নতুন দীপ্তিকা।
মাষ্টার মতিউর রহমান—সততার মহাকীর্তি,
বঙ্গবন্ধু-বঙ্গতাঁজের ঘনিষ্ঠ সহচর, ইতিহাসের অমর গীতি।
------------------------------------------------------------------


হে সততার গান, আইয়ূবুর রহমান খান

 হে সততার গান, আইয়ূবুর রহমান খান

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*****************************************
হে যুগ-বিস্ময়, হে বজ্র-শিখা, হে অগ্নি-গগন-প্রাণ,
তারাগঞ্জের গৌরব তুমি—কাপাসিয়ার অমর সন্তান।
শত বছরের প্রাচীন বিদ্যালয়ের শ্রেষ্ঠ আলোকধারা,
তুমি যেন গর্জন-তুফান, রক্তিম ভোরের কারা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চত্বরে উঠেছিলে বিদ্যুতের গান,
বাংলা ভাষার মুকুটে বসেছিলে দিগন্তের প্রাণ।
শিক্ষকতার মশাল হাতে জ্বালিয়েছিলে জ্ঞানের রণ,
মনোহরদী, নরসিংদীর প্রাঙ্গণে ছড়িয়েছিলে অগ্নিবাণ।

তারপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিলে মাঠ-প্রশাসনের যুদ্ধে,
উপজেলা থেকে মন্ত্রণালয়—সত্যের জয়গানে রুদ্ধ।
অতিরিক্ত সচিবের আসনে থেকেও শাসন করনি অহংকারে,
তুমি ছিলে মাটির ফেরেশতা—সততার বজ্র-হুঙ্কারে।

তোমার হাতের দহনশিখায় জেগেছিল কলেজ, হাসপাতাল,
তাজউদ্দীন মেডিকেল, নার্সিং কলেজ, তারাগঞ্জের গৌরবজ্বল।
বিআরটিএ’র আসনেও তুমি ছিলে বজ্রের বজ্রনিনাদ,
নিরাপদ সড়কের রণভেরিতে কাঁপিয়েছিলে অন্যায়-সিন্ধুবাদ।

কলম ছিল তোমার তরবারি—সংবাদ পাতায় আগুনের ছাপ,
“শীতলক্ষ্যা”র অক্ষরে তুমি জ্বালিয়েছিলে মুক্তির প্রতাপ।
আজ অসুস্থ শরীর বাঁধে তোমার অগ্নি-ঝড়ের পথ,
তবু ডায়ালসিসের আঁধার ভেদ করে দাও বজ্রের শপথ।

হে আলোক-যোদ্ধা, হে নীতি-অগ্নি, হে সততার গান,
তুমি আমাদের প্রাণে অনল, যুগে যুগে অমর প্রাণ।
যতদিন আকাশে সূর্য উঠবে, বজ্র গর্জিবে মাঠে,
ততদিন আইয়ূবুর রহমান খান থাকবেন অগ্নি-শিখার সাথে!
------------------------------------------------------------------

অধ্যাঃ মোহাম্মদ আলী বদু

 অধ্যাঃ মোহাম্মদ আলী বদু

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*****************************************
ওহে প্রজন্ম, শুনো, কাপাসিয়ার বুকে অগ্নি দীপ জ্বলে,
শহীদ তাজউদ্দীন সরকারি কলেজে শিক্ষার আলো ছড়ায় তীব্র।
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাহসী, অদম্য চেতনার অধ্যাপক,
বিদ্রোহী মননে গড়ে তুলতেন জ্ঞান, ন্যায়ের অমলিন প্রভাব।

কাপাসিয়া বাজারের পথে প্রতিধ্বনিত হত তার পদচারণা,
বারবার নির্বাচিত, ব্যবসায়ী বান্ধব, জনের প্রিয় নেতা তিনি।
ফুটবলের মাঠে ঝড়ে যেত তার অগ্নিময় ক্রীড়ার স্পন্দন,
প্রতিটি পাসে, প্রতিটি গোলেই ফুটত সাহসের অরণ্য।

প্রজন্মের হৃদয় জাগ্রত হতো তার অদম্য আদর্শে,
শিক্ষা, নেতৃত্ব, ক্রীড়া—সবই হয়ে উঠত প্রেরণার পালক।
প্রতিটি পদক্ষেপে প্রতিফলিত হত তার বিদ্রোহী মানসিকতা,
প্রকৃতির সবুজ ছায়া, হাওয়ার মৃদু ছোঁয়ায় মিশত তার সাহস।

১৯ নভেম্বর সকাল সাতটায়, ঢাকার হাসপাতালে বিদেহী হলো দেহ,
ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহির রাজিউন—ধ্বনি হয়ে উঠল শহরে।
বিদ্রোহী কণ্ঠনাথ যেন বাতাসে বয়ে গেল,
স্মৃতির পাতায় অমলিন হয়ে থাকল তার সাহসের জ্যোতি।

রাউৎকোনা ফাজিল মাদরাসা মাঠে বিকেল চারত্রিশে নামাজ,
দোয়া, মাগফেরাত—রুহের শান্তির আহবান।
প্রকৃতির ফুল, ছায়া, হাওয়ার মৃদু স্পন্দন,
সবই শোনায় তার বিদ্রোহী চেতনার অমলিন সুর।

হাতেখড়ি থেকে পাস, মাঠ থেকে মঞ্চ, পদচারণায় জ্বলত আলো,
প্রতিটি কাজের মাঝে প্রতিফলিত হত তার ন্যায়ের বল।
ক্রীড়া, শিক্ষা, নেতৃত্ব—সাহসের প্রতীক তিনি অনন্য,
প্রজন্মের মনে গড়ে দিতেন অদম্য বিদ্রোহের চেতনাধারা।

হায়াত-মাওতের মালিক, মহান আল্লাহ, জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম দাও,
আমাদের প্রিয় অধ্যাপককে শান্তিতে বিশ্রাম দাও।
বিদ্রোহী দীপ, শিক্ষার আলো, ক্রীড়ার অগ্নিময় স্পন্দন,
তুমি বেঁচে আছো স্মৃতির পাতায়, হৃদয়ের প্রতিটি কোণে।

সুম্মা আমীন—আমরা প্রার্থনা করি, রুহ হোক শান্ত,
অধ্যাঃ মোহাম্মদ আলী বদু, চিরন্তন প্রেরণার দীপ হয়ে থাকো।
------------------------------------------------------------------

“বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার হাফিজ উদ্দিন”

 “বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার হাফিজ উদ্দিন”

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*****************************************
ওহে আকাশ-তল, শোনো এই তুমুল বিদ্রোহ,
কাপাসিয়ার একডালা, জেগে উঠল রণভূমির অভিসন্ধান।

স্বাধীনতার অগ্নিপথে পা রেখেছিলেন তিনি,
হৃদয়ে জ্বলে লালজোড়া স্বাধীনতার শিখা, অটল অম্লান।

পলাশ-ঘোড়াশালের শ্রমিকের হ্রদয়ে তিনি,
চিহ্ন এঁকেছিলেন জীবন-মুক্তির স্বপ্নের রঙিন মানচিত্রে।

বঙ্গবন্ধুর ডাক শোনে, রাশিয়ার মাটিতেও গিয়েছিলেন তিনি,
অধিকার-অধর্মের সঙ্গে লড়াই, হৃদয় দিয়ে লড়েছিলেন।

স্বৈরাচারী এরশাদের আঁধারে কারাগারের ছায়া
তেও অটল ছিলেন, দমে যাননি, ভাঙেননি হৃদয়ের প্রাচীর।

ধর্মীয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিক পথে জড়িয়ে ছিলেন সর্বদা,
মুক্তিযুদ্ধের অগ্নিপথে তাঁর পদচিহ্ন জ্বলজ্বলে আজও।

জানাজার মাঠে দাফনের কফিনে বাজলো রাষ্ট্রের সালাম,
চোখে জল, হৃদয়ে শ্রদ্ধা, মাতৃভূমির অম্লান প্রণাম।

শ্রদ্ধা জানালেন ছাত্র, যুবক, মুক্তিযোদ্ধা, নেতা—
সকলেই বলল, “অমর হোক তোমার আদর্শ, বীর হাফিজ।”

৮৬ বসর বয়সে বিদায় নিয়েছেন ধরণী থেকে,
কিন্তু তাঁর বিদ্রোহ, তাঁর সাহস, চিরন্তন হয়ে রইল প্রাণের মাঝে।

শ্রেষ্ঠত্বের ইতিহাস লিখেছিলেন শাসক-বিরোধী বিদ্রোহে,
কাপাসিয়ার ভূমি আজও গর্জায় তাঁর মুক্তি-গাথায়।

ওহে নবীণ প্রজন্ম, শুনো, শোনো, শোনো!
এ বীরের জীবনের গাথা, বুকে ধারণ করো,

যেখানে স্বাধীনতার ডাক, শ্রমিকের অধিকার, মানবতার জয়—
সেই পবিত্র তুফান আজও উজ্জ্বল করে আকাশ-পাতাল।
--------------------------------------------------------------------

প্রিয় স্যার, অধ্যাঃ সাইফুল ইসলাম

 প্রিয় স্যার, অধ্যাঃ সাইফুল ইসলাম

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*****************************************
ওহে নবীন প্রজন্ম, শোনো ঝড়ো কণ্ঠে আজ!
এক অধ্যাপক আছেন, শিক্ষার দীপশিখায় দীপ্তিতাজ।

দিগধা গ্রামের মাটিতে জন্ম, সম্ভ্রান্ত কন্ঠে,
শৈশবের ছন্দে বাজে জ্ঞানের বজ্রগর্জনে।

নাটোরের হালসা মাটিতে লেখা, বাতাসে মধুর ঘ্রাণ,
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কক্ষে সুরের ঝরনা জ্বলে প্রাণ।

মাধ্যমিক, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়—জ্ঞানরাশির লয়,
জাহাঙ্গীরনগরের বাংলার পাড়ায় উজ্জ্বল চিরন্তন দ্যোত।

ব্র্যাক, ঢাকার কলেজ—শিক্ষার পথে অনন্ত সংগ্রাম,
দিগধা প্রভাষক হয়ে ফিরলেন শৈশবের স্বপ্নের প্রমাণ।

কাপাসিয়া কলেজে ১৯৯৪ থেকে ২০২৩ অবধি,
দীর্ঘ ২৯ বছর ছড়িয়েছেন জ্ঞানের অমর দীপধ্বনি।

লালনের সুরে, বক্তৃতা ও আবৃত্তিতে জ্বলেছেন,
সংস্কৃতির জগতে অনন্য দীপ্তি ছড়িয়েছেন।

সমাজসংস্কৃতির আন্দোলনে ছিলেন অদম্য, অবিচল,
চা-খানায়, নৌবিহারে, ভ্রমণে—হাসির ঝলক, আনন্দের ঢল।

কাপাসিয়ার প্রতি হৃদয় ও ভালোবাসা অমর,
ছাত্রদের মনে জ্ঞানের আলোর ঝলক চিরন্তন ভোর।

ওহে প্রিয় স্যার, অবসর জীবনে সুখ, শক্তি, সমৃদ্ধি হোক,
আপনার ছোঁয়া, জ্ঞানের দীপ্তি, চিরকাল হৃদয়ে বাজুক শোক।
--------------------------------------------------------------------

জনপ্রিয় ভিপি

 জনপ্রিয় ভিপি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*****************************************
ওহে এ প্রজন্ম, শোনো আকাশদল ভাঙা তেজে,
জনপ্রিয় ভিপি, আগুনধারা সাহসী প্রাণের রেজে!

মৈশন মিয়ার ঘরে জন্ম, ৭২–এর অগ্নিশিখায়,
সূর্যের মতো দীপ্তিমান, আলোয় ঝলমল প্রতিটি ছায়া।

নুরল ইসলাম চৌধুরীর সন্তান, অজুফার ছায়া ঘেরা,
শৈশবেই জেগেছিল বিপ্লবী চেতনা, নক্ষত্রের মতো তারা।

ঈদগাহ উচ্চ বিদ্যালয়, ৮৮–এর এসএসসি–র পত্রে,
ছাত্ররাজনীতির অগ্নিপরীক্ষা, বলিষ্ঠ চেতনার ঝর্ণা প্রবাহিত শ্রোতে।

ওহে এ প্রজন্ম, শোনো আকাশদল ভাঙা তেজে,
জনপ্রিয় ভিপি, আগুনধারা সাহসী প্রাণের রেজে!

৯১–৯২ ভারপ্রাপ্ত জি এস–এর প্রথম বজ্রচিহ্ন,
৯৩–৯৬ ভিপি, সমতার ডাক ছড়ায় ঝড়ের মতো অনন্ত।

দুই বছর কারাভোগে শেখা, ধৈর্য ও অটল দৃঢ়তা,
উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান, জনসেবায় অদম্য শক্তি স্থিরতা।

মৈশন হাই স্কুলে ওয়াজ, দোয়া, সামাজিক ছাপ রেখেছে,
২৩ বছরে আশীর্বাদ ছড়িয়ে, বিপ্লবী ছায়ার মতো প্রেরণার রেখা।

৬ হাজার মানুষের জানাযায় লেখা ইতিহাসের অমলিন অধ্যায়,
মৈশন হাই স্কুলের সভাপতি দুইবার, জনতার হৃদয়ে অম্লান ছায়া।

ওহে এ প্রজন্ম, শোনো আকাশদল ভাঙা তেজে,
জনপ্রিয় ভিপি, আগুনধারা সাহসী প্রাণের রেজে!

মৈশন সূর্য্য উদয় সংঘের সভাপতি, অদম্য শক্তির প্রতীক,
কাপাসিয়া আঞ্জুমানে রহমানিয়া মাইজ ভান্ডারিয়ার নেতা, জনসেবার শিখ।

৯০ দশকের ফুটবল মাঠে, ৮৫–৯৭–এর পরিশ্রমের গর্জন,
ঢাকা দিলকুশা স্পোর্টিং ক্লাবের খেলোয়াড়, সাহসের অগ্নিবর্ষণ।

নদীর মতো প্রবাহমান, পাহাড়ের মতো দৃঢ়, বাতাসের মতো বেগবান,
জনপ্রিয় ভিপি, হাফিজুল হক চৌধুরী, ইতিহাসে অম্লান!

শ্রদ্ধা, ভালোবাসা, তেজ আর বিপ্লবী চেতনায় চিরস্থায়ী ধ্রুবতারকা,
হৃদয়ে সঞ্চিত অগ্নিশিখা, চলুক তার পথ, অজস্র প্রজন্মকে আলোকিত করার জন্য উদ্দীপক যাত্রা!

------------------------------------------------------------------

কাপাসিয়ার বাউল শিল্পী,ফজলুল হক

 কাপাসিয়ার বাউল শিল্পী,ফজলুল হক

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*****************************************

শিশুত্বের আকাশে, হৃদয়ের বনে,
শোনেছি সুর, কোকিল কণ্ঠে জননে।
“কোকিল থাকো তুমি বনে নিশিতে আসিও রে,
কোকিল আছে কথা গোপনে রে, উড়ে যাও বনের কোকিল রে,”
এই সুরে হৃদয় ভরে, মধুর মন্দ্রে।
১৯৫৪ সালে, কাপাসিয়ার টোকে জন্মলাভ,
সুলতানপুরের তালুকদার ঘরে, শান্তির আশ্রয়-ভাব।
পিতা মরহুম আব্দুস সামাদের আদর-স্নেহে,
বড়ে উঠল বাউল ফজলুল হোক, কণ্ঠে প্রাণের সুরে।
আশির দশকের মঞ্চে গাজীপুর-নরসিংদী-কিশোরগঞ্জে,
যেখানে তিনি, সেখানকার হৃদয় বাজে ঢল ভরে।
যে অনুষ্ঠানে ছিলেন তিনি, আনন্দের ঢেউ উঠতো উঁচু,
যেখানে নেই, সেখানে যেন শুন্যতা নেমে আসে নীরবে।
দুটি ধারার বাউল, দেশেই চেনা,
এক দেহতত্ত্ব আর মানবধর্মে ভরা।
অন্য দেহতত্ত্বে প্রেম, বিরহের বেদনা মিশে,
ফজলুল হোক ছিলেন এ দ্বিতীয় ধারার স্বরময় সিংহাসনে।
তার গানে প্রেম, বেদনা, হাসি-কান্নার ছন্দ,
শ্রোতার অন্তরে প্রতিচ্ছবি, হৃদয় ভরে অম্লান বন্ধ।
গ্রামের কৃষক, শ্রমিক, মধ্যবিত্ত, প্রান্তরচারী,
সকলের মন খোরাক, আনন্দের উৎস, ফজলুল হোকই প্রাণভরী।
নিজেই লিখেছেন বিচ্ছেদ ও ব্যথার গান,
“কোকিল থাকো তুমি বনে”, “তাল গাছেরই আগায় বাবুই বানাইছে কোন বাসা” প্রাণে ধ্বান।
“আমি বলি না কারো সনে রে, যে দুঃখ অন্তরে রে আমার,”
এই বেদনার সুরে মিলে মানুষের অন্তরের বার্তা বার্তা।
২০১৪ সালের ১৪ নভেম্বর, মৃত্যুর হাতেখড়ি নিলেও,
কণ্ঠের কোকিল উড়ে চলে বনের গভীরে অম্লান।
সুরের অলঙ্কারে, হৃদয়ের ভাষায় বাঁচে,
ফজলুল হোক—কাপাসিয়ার বাউল, গ্রামীণ মনের অবিনাশী স্পন্দন হয়ে।
--------------------------------------------------------------------

জন প্রিয় ভিপি-আইযূব ভাই

 জন প্রিয় ভিপি-আইযূব ভাই

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*****************************************

ওহে এ প্রজন্ম, শুনো আকাশ ছোঁয়া আলোয়,
জন প্রিয় ভিপি, সাহসী, উজ্জ্বল প্রাণালোয়।

কাপাসিয়া কলেজের মাঠে পদচারণায় ছিল গর্জন,
জনপ্রিয় ভিপি, নিরঙ্কার মূর্ত প্রতীক সব দহন।

মোঃ হাফিজুল হক চৌধুরী আইয়ূব, জন্ম মৈশন মিয়ার বাড়িতে,
১৯৭২ সালে জাগ্রত হয়েছিল সে, সূর্যের মত উজ্জ্বলিত।

নুরল ইসলাম চৌধুরীর পুত্র, অজুফা চৌধুরীর সন্তান,
ছোটবেলা প্রাথমিক মৈশন স্কুলে, আলোয় মিশেছিল প্রাণ।

ঈদগাহ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, ১৯৮৮ সালের কাহিনি,
ছাত্ররাজনীতির অগ্নিপরীক্ষা, বলিষ্ঠ চেতনার গাথা।

ওহে এ প্রজন্ম, শুনো আকাশ ছোঁয়া আলোয়,
জন প্রিয় ভিপি, সাহসী, উজ্জ্বল প্রাণালোয়।

১৯৯১–৯২ সালে ভারপ্রাপ্ত জি এস, নেতৃত্বের প্রথম আভাস,
১৯৯৩–৯৬ পর্যন্ত ভিপি, সমতার বজ্র ডাক ছড়ায় সবার কাছে।

দুই বছর কারাভোগে শিখেছেন ধৈর্য, সহিষ্ণুতা, দৃঢ় দৃশ্য,
উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান, জনসেবায় অদম্য শক্তি বিশিষ্ট।

মৈশন হাই স্কুলে ওয়াজ, দোয়া, সামাজিক কাজে রেখেছেন ছাপ,
২৩ বছরে আশীর্বাদ ছড়িয়ে, ছায়ার মতো ধ্রুব ধোয়া রাখাপ্রাণে।

৬ হাজার মানুষের জানাযায় অংশগ্রহণ, ইতিহাসে লেখা স্বর্ণাক্ষরে,
মৈশন হাই স্কুলের সভাপতি দুইবার, জনতার প্রিয় নেতা যেন দেখা।

ওহে এ প্রজন্ম, শুনো আকাশ ছোঁয়া আলোয়,
জন প্রিয় ভিপি, সাহসী, উজ্জ্বল প্রাণালোয়।

বর্তমানে মৈশন সূর্য্য উদয় সংঘের সভাপতি, অদম্য শক্তির প্রতীক,
কাপাসিয়া আঞ্জুমানে রহমানিয়া মঈনিয়া মাইজ ভান্ডারিয়ার নেতা, জনসেবার শিখ।

৯০ দশকের ফুটবলের মাঠে, ৮৫–৯৭ পর্যন্ত পরিশ্রমের ছন্দ,
ঢাকা দিলকুশা স্পোর্টিং ক্লাবের খেলোয়াড়, সাহসের উদাহরণ নিরন্তর বিন্দ।

প্রকৃতির উপমায় বলা যায়, সে নদীর মতো প্রবাহমান,
পাহাড়ের মতো দৃঢ়, বাতাসের মতো বেগবান।

জনপ্রিয় ভিপি, হাফিজুল হক চৌধুরী, ইতিহাসে অম্লান,
শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা তার প্রতি, হৃদয়ে চিরকাল স্থাপন।
-------------------------------------------------------------------

অধ্যাঃ একেএম মাজহারুল ইসলাম

 

অধ্যাঃ একেএম মাজহারুল ইসলাম
মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

অধ্যাঃ একেএম মাজহারুল ইসলাম
কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*****************************************
হে বিশ্ব শুনো, গর্জন করো কাপাসিয়ার বুকে,
অধ্যাপক একেএম মাজহারুল ইসলাম—জ্ঞানজ্বালে পূর্ণ সূচে।
‘সোসাইটি অব অ্যাপ্লাইড এনথ্রোপলজি’র দীপক জ্বলে প্রভাতে,
‘পেল্টো অ্যাওয়ার্ড’ তার হাতে এলো নৃবিজ্ঞানের মহিমাতে।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উজ্জ্বল নক্ষত্র তিনি,
প্রায়োগিক নৃবিজ্ঞানের আলোয় উদ্ভাসিত দেশমাতৃকার শোভা গুণী।
শ্রেণীকক্ষের বাইরে গড়লেন জ্ঞানের মহাসমুদ্রের ভেলা,
প্রকল্পে প্রকল্পে আলোর দিশা—সত্যের রশ্মি মেলে ওমেলা।

ইনস্টিটিউট অব অ্যাপ্লাইড এনথ্রোপলজির নির্বাহী পরিচালক রূপে,
জাতি-জগৎ পেয়েছে জ্ঞান, আলোর মশাল তার হাতে সূচে।
ইউনিসেফ, ডব্লিউএইচও, সেভ দ্য চিলড্রেন, ব্র্যাকের প্রকল্পে তিনি,
জনস্ হপকিন্স, ইউএনডিপি, আইসিডিডিআর, বি—সবখানে গবেষণার চিহ্ন রত্ন তিনি

জাতীয়-আন্তর্জাতিক জার্নালে ছাপা ৩৫টি নিবন্ধ অমূল্য,
১৮টি বইয়ের ভাণ্ডার, বৈজ্ঞানিক ৩টি বই—চির অমল্য।
বই ও জ্ঞান মিশে গেছে মহাসাগরের তীরে,
বাংলাদেশ সরকার, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের কাজও করেছেন গৌরবে ঘিরে।

তিনি কেবল প্রফেসর নন, বিশ্বজনের প্রেরণার সাথী,
আমেরিকান নৃবিজ্ঞান সমিতি, মেডিকেল নৃবিজ্ঞান, এশিয়াটিক সোসাইটিতেও তার গাঁথি।
পিতার গৌরব ছড়িয়ে আছে শিকড়ে শিকড়ে,
চিনাডুলি বাগিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম মোশারফ হোসেন রাজু—যাঁর

রক্তধারায় গড়লেন জীবনের রেখা।
মাতার মহিমা অম্লান, সুফিয়া বেগম,
কাপাসিয়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক,
সেন্ট্রাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রাক্তন উপাধ্যক্ষ—
তাঁর আশীর্বাদে বেড়ে ওঠা আজকের এই গৌরবময় সন্তান।

ওহে কাপাসিয়া! জাগো তুমি, বাজাও বিজয়ের ঢোল,
সেন্ট্রাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ আজ বলে—গর্বের ফুল, গৌরবের চিহ্ন সকলে ঢোল।
শ্রদ্ধা, ভালোবাসা, শুভেচ্ছা মেলে অনন্ত গগনে,
অধ্যাপক একেএম মাজহারুল ইসলাম—প্রেরণা নবীন প্রজন্মের প্রাণে।
-------------------------------------