Monday, September 15, 2025

দানবীর

দানবীর

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

********************************

কপালেশ্বরের মাটিতে জন্ম নিল আলোকিত প্রাণ,
মরহুম আঃ আজিজ মাষ্টারশিক্ষার পথে অনন্য গৌরববান।
১৯৩৯ সালে নিজ হাতে দান করল উর্বর মাটি,
প্রাথমিক বিদ্যালয় গড়ল, জ্ঞানচর্চার দীপ্তি বাতি।

প্রতিষ্ঠাতা, জমিদাতা, প্রধান শিক্ষক একসাথে,
মাটির বুকের ছোঁয়া, গ্রামীণ হৃদয়ে অমল ছায়া।
উঁচু মিনার মসজিদ, ফুরকানিয়া মাদ্রাসার ধ্বনি,
গ্রামের প্রাচীন ঐতিহ্যদানবীরের অমল স্মৃতি।

মরহুম মোঃ নূরুল হক মাষ্টারকনিষ্ঠ পুত্রের দীপ্তি,
কপালেশ্বর উচ্চ বিদ্যালয়ে ইংরেজী শিক্ষার সোনালী জ্যোতি।
লোহাদী উচ্চ বিদ্যালয়, ধীরাশ্রম আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়,
প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষকশিক্ষার অমল নীলাক্ষর।

১৯৮৪, ১৯৮৮ সালের নির্বাচনে জনগণের আস্থা,
সিংহশ্রী ইউনিয়নের বৃহত্তর নং ওয়ার্ডে মেম্বার হিসেবে দায়িত্বপূর্ণ কথা।
বিএনপির উপদেষ্টা পরিষদের নম্বর সদস্য,
কাপাসিয়া উপজেলা বিএনপির সম্মানিত সদস্যসেবার অমল প্রতিফলন।

জমি দান করে নির্মিত কমিউনিটি ক্লিনিকগ্রামের প্রাণপথ,
প্রাথমিক বিদ্যালয় পিছন দিয়ে রাস্তা, সোহাগপুরের সাথে সংযোগ।
প্রায় ৫০০ গজ পথ, নূরুল হক মাষ্টারের দান
মানবতার অমল প্রমাণ, বাপ-ছেলের ত্যাগে গ্রাম সজ্জিত, প্রাণময়।

প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ, মাদ্রাসাসবই আলোর ধারা,
দানবীরের ছোঁয়া, শিক্ষার আলো, মানবিকতার ছন্দধারা।
গ্রামের প্রতিটি পাথরে পড়ে তাদের স্বপ্নের ছাপ,
মাটি, আকাশ, নদীসবই বীরের মহিমা গায়।

হাওয়া বয়ে যায় মাঠ, গাছপালা নাচে বাতাসে,
প্রতিটি শিশুর হাসিতে, শিক্ষার দীপ্তি জাগে আকাশে।
গ্রামের প্রতিটি কোণে আছে বাপ-ছেলের ছোঁয়া,
প্রতিটি বীজ যেন জন্মায় আলোর স্বপ্ন গাঁথা।

সিংহশ্রী ইউনিয়নের জনতা স্মরণ করে তাদের ত্যাগ,
জ্ঞান, শিক্ষা, মানবিকতাসবই তাদের ধ্যানের ভাগ।
রাস্তা, স্কুল, কমিউনিটি ক্লিনিক, মসজিদসবই প্রাণের বাঁধ,
দানবীরের পদচিহ্নে গ্রামের প্রতিটি গলিপথ আজও সাজ।

হে গ্রাম! হে জন! তোমার বুকে চিরন্তন তারা,
দানবীরের দান, পরিশ্রম, ভালোবাসা ছড়ায় ধারা।
বাপ-ছেলের মমতা, শ্রম, শিক্ষা সেবা
কপালেশ্বরের আকাশে উদীয়মান সূর্য, প্রজ্ঞা শান্তির মেলা।

--------------------------------------------------------------


আলোকিত জীবন

 আলোকিত জীবন

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************
ঘাগটিয়ার ক্ষীণ আলোয়, জানুয়ারির প্রথম প্রভাতে ১৯০১ সালে জন্ম নিল এক দীপ্তিমান প্রাণ,
ফকির আবদুল মান্নান শাহ—যিনি ইতিহাসের অটল পথে রেখেছিলেন অমোঘ পদচিহ্নের ধ্বনি।
পিতা ফকির আব্দুল ওয়াহাব, মাতা মোছাম্মৎ রুছমুতেন নেছা—
দুই জনের আশীর্বাদে জ্বলে উঠল বিদ্যা, ন্যায় ও মানবিকতার অমলিন দীপক।
মাদ্রাসার নিরিবিলি ছায়ায় শুরু শিক্ষার সূক্ষ্ম আলো,
১৯২৫ মেট্রিক, ১৯২৭ ইন্টারমিডিয়েট, ১৯২৯ স্নাতক, ১৯৩৪ আইন (বিএল)—
জ্ঞান ও ন্যায়ের মিশ্রণে গড়ে ওঠল এক আলোকিত চরিত্র।
শিক্ষকতার মাধমে কর্মজীবনের সূচনা,
চব্বিশ পরগনার আলীপুর জজ কোর্টে পদার্পণ আইনপেশার পথে।
১৯৩৫ সালে ঢাকা জজকোর্টে যোগদান,
১৯৫১ সালে হাইকোর্টে এডভোকেট—সত্য ও ন্যায়ের প্রতীক।
ঢাকা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সমিতির সভাপতি,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন উপদেষ্টা ও সিন্ডিকেট সদস্য,
ঢাকা জেলা কারাগার পরিদর্শন কমিটির সদস্য—
প্রজ্ঞা, ন্যায় ও মানবতার দীপ্ত আলো ছড়িয়ে।
রাজনীতির অঙ্গনে প্রবেশ ১৯৩৬ সালে কৃষক প্রজা পার্টির মাধ্যমে,
১৯৪৬ সালে মুসলিম লীগের প্রার্থী, পাকিস্তান আন্দোলনের অটল নেতা।
১৯৪৭-১৯৫৪: পূর্ববাংলার আইন পরিষদের এমএলএ,
১৯৫৩-১৯৫৮: সাধারণ সম্পাদক, পরবর্তীতে ১৯৬৫-১৯৬৯: সভাপতি—
কনভেনশন মুসলিম লীগের মঞ্চে যুগান্তকারী নেতৃত্ব।
১৯৫৪ সালে নির্বাচনে পরাজয়, তবে ব্যর্থতা নয়, অনুপ্রেরণা,
জনকল্যাণ ও ন্যায়ের প্রতি অমোঘ প্রতিজ্ঞা।
১৯৬৫-১৯৬৯: পূর্ব পাকিস্তান মন্ত্রী পরিষদের সদস্য,
কৃষি ও খাদ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব—জনতার আশীর্বাদ ও দেশপ্রেমের প্রতীক।
পারিবারিক জীবনও আলোকিত—
বড় ছেলে হান্নান শাহ: সাংসদ, পাটমন্ত্রী, সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, বিএনপি রাজনীতিবিদ।
মেঝ ছেলে শাহ আবু নাঈম মোমিনুর রহমান: সুপ্রীম কোর্টের জ্যেষ্ঠ বিচারক।


ছোট ছেলে মোবারক শাহ: যুক্তরাষ্ট্রে আমেরিকান এক্সপ্রেসে কর্মরত।
বড় মেয়ে আনোয়ারা ইদ্রিস: সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের প্রথম মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান।
ছোট মেয়ে আঞ্জুমান আরা বেগম মিনু: আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক, বর্তমান আমেরিকা প্রবাসী।

ধর্ম ও ন্যায়ের দীপ্তি দিয়ে পথিকৃতিকে আলোকিত করলেন,
দেশপ্রেম ও মানবিকতার প্রতিটি স্পন্দনে মনকে জাগ্রত করলেন।
সত্যের পথে চলার অটল দৃঢ়তা ছিল তাঁর অস্ত্র,
অবিচল ন্যায়বোধ ছিল তাঁর অমোঘ যোদ্ধা।
প্রতিবাদের ঝড়ে, মানুষের কষ্টে সবল সমবেদনা রাখলেন,
অন্ধকারকে চিরতরে ছিন্ন করে আলোয় বিশ্বাস রাখলেন।
প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতার আলোয় জাতিকে পথ দেখালেন,
চিরন্তন ইতিহাসের পাতায় নাম অম্লান, স্মৃতিতে জ্বলন্ত।
১৯৯৩ সালের ৩১ অক্টোবর, তেজগাঁওয়ের ৮৪ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ—
অমলিন জীবন সমাপ্ত হলেও, আদর্শ, প্রজ্ঞা ও মানবিক দর্শন চিরজ্বলন্ত।
জীবনের প্রতিটি ছন্দে, দেশের কল্যাণে, মানুষের সেবায় আলোকিত ছিলেন তিনি,
ফকির আবদুল মান্নান শাহ—এক প্রজ্ঞাময় নেতা, যিনি ইতিহাসের প্রতি দৃষ্টিতে,
দার্শনিক ও বিপ্লবী মননের আলো ছড়িয়ে,
দেশপ্রেম ও ন্যায়ের অমোঘ প্রদীপ হয়ে চিরজীবন্ত।

--------------------------------------------------------------


বর্ণাঢ্য জীবন

 বর্ণাঢ্য জীবন

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************
গাজীপুরের কাপাসিয়ার ঘাগটিয়া গ্রামে জন্মলাভ,
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হান্নান শাহ, ইতিহাসে দীপ্তি ছড়াভ।
পিতা ফকির আবদুল মান্নান, ৬৫–৬৮ পাকিস্তানের মন্ত্রী,
ছোট ভাই শাহ আবু নাঈম মোমিনুর, সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি নিরন্তরী।

১৯৬২ সালে পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমি থেকে কমিশন লাভ,
সেনার জীবনে শুরু হলো পথচলা, দায়িত্বে সাহসের প্রমাণ রাখভ।
পার্বত্য চট্টগ্রামে বিগ্রেড কমান্ডার, দায়িত্বের মহা চ্যালেঞ্জে,
চট্টগ্রামের মিলিটারি একাডেমির কমান্ডেন্ট, প্রশিক্ষক যশোরে যত্নে।

পাকিস্তানের কোয়েটার আর্মি কলেজে ইলেকট্রিক্যাল ও মেকানিক্যাল শিক্ষা,
প্রশিক্ষক হান্নান শাহ, জ্ঞানের প্রদীপ জ্বালানিতে রেখেছেন মেধার রেখা।
১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে ঘটে ইতিহাসের ছেদ,
প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নিহত, রাঙ্গুনিয়া থেকে ঢাকায় মরদেহে পৌঁছান।

এইচ এম এরশাদ সরকার সেনাবাহিনী থেকে বাধ্যতামূলক অবসর দিলে,
তবু সরকারের সংস্থাপন মন্ত্রণালয় যুগ্ম সচিব ও বিএডিসি চেয়ারম্যান হিসেবেও কাজ মিলে।
১৯৮৩ সালে বিএডিসি চেয়ারম্যান পদ ত্যাগ, বিএনপিতে যোগ দেন আনুষ্ঠানিক,

মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক, সাংগঠনিক সম্পাদক, উপদেষ্টা পরিষদে অবিরাম।
১/১১’র কঠিন সময়ে খালেদা জিয়ার পাশে, বিএনপির তৃণমূল সংগঠন চালান,
সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সাহসী কণ্ঠে বলান।
২০০৯ সালে পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে স্থায়ী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন,
ষষ্ঠ কাউন্সিলেও পুনর্নির্বাচিত, দলের সর্বোচ্চ ফোরামে দায়িত্ব পালন।

১৯৯১ সালে গাজীপুর-৪ (কাপাসিয়া) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত,
খালেদা জিয়ার সরকারের পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী, দেশপ্রেমে অমিত।
স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে, কারাগারের অভিজ্ঞতা বহুবার,
বর্তমান সরকারের আমলেও কিছু মামলায় তিনি সাহসের উদাহরণ প্রমাণ।

প্রতি পদক্ষেপে প্রতিকূলতা, তবু অদম্য সাহসের ছাপ,
প্রতিটি যুদ্ধ, প্রতিটি দায়িত্বে, নিজের পরিচয় রেখেছেন সাপ।
দেশপ্রেমে অমোঘ, ত্যাগের পথে অবিচল, অদম্য শক্তির রেখা,
রাজনীতির মহাজগতেও খুঁজে পাওয়া যায় তাঁর নীতি ও রেখা।

কারাগারের গোধূলিতে দাঁড়িয়ে, সত্যের ডাক দিলেন নির্ভীক,
মুখের হাসিতে লুকিয়ে রাখতেন জনতার স্বপ্ন, হৃদয়ের দীপ্তি অসীম।
শিক্ষা, উন্নয়ন, নাগরিক কল্যাণ—সকল ক্ষেত্রেই রেখেছেন চিহ্ন,
সেতু, রাস্তা, স্কুল, কলেজে লেগেছে তাঁর ছোঁয়া, নিঃস্বার্থ ভ্রূণ।

কাপাসিয়ায় অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাস্তা-ঘাট নির্মাণে হাত রেখেছেন,
ফকির মজনু শাহ সেতু, তাঁর ত্যাগের বড় প্রমাণ হয়ে দৃষ্টান্ত রেখেছেন।
দুই ছেলে, এক কন্যাসন্তান—পরিবারে আশীর্বাদ, জীবন পূর্ণতা পায়,
জাতির কল্যাণে অগণিত কাজের ছাপ, ইতিহাসে চিরচিহ্ন হয়ে যায়।

প্রতি কথায়, প্রতিটি কাজেই ছিলেন মানবতার বাতিঘর,
সাহসিকতা, সততা ও ন্যায়ের পথে তিনি চলেছেন অমলিন চিহ্নর।
দেশপ্রেমে অমোঘ, ন্যায় ও সত্যে অটল, দলের নেতা, জনতার বন্ধু,
হান্নান শাহ, এক জীবনের মহাকাব্য, ইতিহাসে চিরন্তন প্রদর্শক।

২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬, মঙ্গলবার ভোরে, সিঙ্গাপুরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ,
মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়, জীবনযাত্রার শেষ ধাপ।
বর্ণাঢ্য জীবন, সাহসিকতা, দেশপ্রেম, রাজনৈতিক নেতৃত্বের অনন্য দ্যুতি,
হান্নান শাহ—চিরস্মৃতির প্রতীক, জাতির হৃদয়ে চিরন্তন কাব্য ধারা।
--------------------------------------------------------------

বিপ্লবী সূর্য

 বিপ্লবী সূর্য

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************
দরদরিয়ার মাটিতে উন্মুক্ত প্রভাতে জন্ম,
১৯৭০ সালের শীতল ইতিহাসের নিশ্বাসে—
বঙ্গ তাজের পুত্র এক বিপ্লবী সূর্য,
যার অন্তরে জ্বলছে মানবতার অগ্নি ও ন্যায়ের দীপ।

পিতা তাজউদ্দীনের রক্তের স্রোত,
স্বাধীনতার অমল আলো বহন করে।
মা সৈয়দা জোহরা তাজুর মমতা,
নীতির দীপ্তি ও ন্যায়বোধের আলো জ্বালায়।

চার ভাইবোনের আলোকমণ্ডলে তিনি সবার ছোট,
শারমিনের কোমলতা, চিন্তাশীলতার জ্যোতি,
রিমির কলমে প্রজ্ঞার অমোঘ নৃত্য,
মাহজাবিনের হাসি, মানবিকতার অটল প্রতিফলন।

শিক্ষার পথে পা রাখে সেন্ট ফ্রান্সিসের সবুজ মাঠে,
ব্রিটিশ কাউন্সিলের "ও" লেভেলে জ্ঞানের দীপ্তি।
আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়—ব্যাচেলর অব বিজনেস,
গর্ডন বিশ্ববিদ্যালয়—মাস্টার্সের দীপ্তিময় প্রজ্ঞা।

রাজনীতির অরণ্যে প্রবেশ,
২০০১, গাজীপুর-৪ (কাপাসিয়া) থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়,
যুব শক্তিকে আলোড়িত করে, বিপ্লবী সঙ্গীতের তালে।

২০০৮, পুনঃনির্বাচন,
সংসদে অটল অঙ্গীকার, দেশের ন্যায় ও মুক্তির পথে।
২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব,
৩১ মে ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগ, তবু বিপ্লবী স্পৃহা অমলিন।

২০১২, সংসদ থেকে পদত্যাগপত্র,
৭ জুলাই গ্রহণ, নিয়মের খুঁটিনাটি অতিক্রম।
রাজনীতি ও নীতিবোধের দর্শন,
এক জীবনের অধ্যায় হয়ে ইতিহাসে অমোঘ চিহ্ন।

২০১৯ সালের ১৮ জুলাই, ‘হটলাইন কমান্ডো’—
সামাজিক সমস্যার আলোকে জাগ্রত করার মঞ্চ।
বার্তা, দৃষ্টি ও বাস্তবতার সমন্বয়,
প্রতি পর্ব জনতার অন্তরে আলোকবর্তিকা হয়ে ওঠে।

বঙ্গ তাজের পুত্র, এক বিপ্লবী সূর্য,
দরদরিয়ার মাটি থেকে বিদেশী শিক্ষার দীপ্তি,
রাজনীতি ও সমাজসেবার সঙ্গমে—
এক জীবনের কাব্য, যা অন্ধকার ভেদ করে
আলো ও বিপ্লবের ঝংকার ছড়ায়।

--------------------------------------------------------------

রক্তের লাল রেখা

 রক্তের লাল রেখা

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*******************************
সেদিন সূর্যও স্তব্ধ, আকাশ চুপচাপ কাঁদছে,
২৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৪, মঙ্গলবার, দুপুর ১.৩০ মিনিটে।
ডিগ্রী কলেজের প্রাঙ্গণে তরুণদের উল্লাস,
বিপ্লবী মিছিল, স্বাধীনতার তরে হৃদয় ফুঁসে ওঠে।

ঢাকা থেকে আগত ক্লান্ত শরীর, মনির ভাই,
বিয়ের স্বর্ণ অলঙ্কার হাতে, স্বপ্নের আলোয় ভরা।
হঠাৎ লাঠি, সোটা, উশৃঙ্খল দলে আঘাত,
রক্তের লাল রেখা ছড়িয়ে দেয় মৃত্যুর ছায়া।

বাক স্থবির, দেহ নিস্তব্দ, প্রাণের চঞ্চলতা থমকে,
দুইদিন পর বিয়ের আনন্দ, মৃত্যুর মুখে ধাবিত।
পিজি হাসপাতালে রাহাত সরকারের কোলে,
শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ, আকাশ বাতাসে নামল শোকের ছায়া।

ছাত্রদের নিবেদিত প্রাণ, ভিপি প্রার্থী, নন্দিত,
মানবিক দৃষ্টান্ত রেখে গেলেন চিরন্তন অমলিন।
আমার আব্বা ডাকাতের হাতে আহত, রাত দুইটায়,
ক্ষতবিক্ষত শরীর নিয়ে ডাঃ মতিলালের দ্বারে মনির ভাই করেছিলেন ব্যবস্থা অবিস্মরণীয়।

ঋণ এই পৃথিবীতে শোধাবার নয়,
প্রেম ও দায়বদ্ধতা দিয়ে জীবন চিরন্তনভাবে লেখা।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের একনিষ্ঠ সৈনিক,
আওয়ামী সন্ত্রাসের প্রতিহিংসায় অকালে ঝরে গেলেন।

বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করি,
আল্লাহ পাক তাকে শহীদ মর্যাদা দান করুন।
বেহেশতের আলোয় উজ্জ্বল হোক, শান্তি চিরন্তন,
তার ত্যাগ, মানবিকতা, বিপ্লবের দৃষ্টান্ত চিরজাগরণ।

তরুণ হৃদয়ে ঝরে পড়ুক তার নামের দীপ্তি,
স্বাধীনতার পথে আলোকবর্তিকা, অমলিন প্রতীক।
মনির ভাই, তুমি আমাদের জীবনে অমর,
তোমার ত্যাগে জাগ্রত হোক প্রত্যেকের হৃদয়ের অগ্নিশিখা।

মানবিক ছাত্র নেতা, বিপ্লবের প্রিয় সিংহাসন,
তোমার স্মৃতি চিরকাল বাঁচুক, প্রিয় পথিক, চিরন্তন।
--------------------------------------------------------------

মানবিক ছাত্র নেতা

 

মানবিক ছাত্র নেতা

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

*******************************

 



২৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৪, মঙ্গলবার, দুপুর ১.৩০ মিনিট,
ডিগ্রী কলেজের প্রাঙ্গণে মিছিলের ধ্বনি ছড়ায় আকাশান্তে।

ঢাকা থেকে আগত ক্লান্ত শরীর মনির ভাই,
বিয়ের স্বপ্নে পূর্ণ, স্বর্ণ অলঙ্কার হাতে, মানবতার দীপ্তি তার অন্তরজায়।

কাপাসিয়ার উদীয়মান সূর্য, ছাত্রদের পথপ্রদর্শক,
নির্ভয়ে দীক্ষা দেয়, প্রতিটি নিঃশ্বাসে বিপ্লবের সঙ্গীত।

হঠা লাঠি, সোটা, উশৃঙ্খল দলে আঘাত,

সাত্তার চেয়ারম্যানের দরজায় রক্তের লাল রেখা, জীবন-মৃত্যুর এক কঠিন রাত।

বাক স্থবির, দেহ নিস্তব্দ, প্রাণের চঞ্চলতা থমকে,
দুইদিন পর বিয়ের আনন্দ, মৃত্যুর অমোঘ ছায়া তার প্রান্তে।

পিজি হাসপাতালে কোলে রাহাত সরকারের,
শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ, আকাশ বাতাসে নামল শোকের ছায়া।

ছাত্রদের নিবেদিত প্রাণ, ভিপি প্রার্থী নন্দিত,
মানবিক দৃষ্টান্ত রেখে গেলেন, মৃত্যুঞ্জয়ী শৃঙ্গশিখরে অমলিন।

আমার আব্বা ডাকাতের হাতে আহত, রাত দুইটায়,
ক্ষতবিক্ষত শরীর নিয়ে ডাঃ মতিলালের দ্বারে মনির ভাই করেছিলেন ব্যবস্থা অবিস্মরণীয়।

ঋণ এই পৃথিবীতে শোধাবার নয়,
মানবিক শক্তি দিয়ে লেখা জীবনের চিরন্তন গ্রন্থ।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের একনিষ্ঠ সৈনিক,
আওয়ামী সন্ত্রাসের প্রতিহিংসায় অকালে ঝরে গেলেন তীব্র ন্যায়ের শিখরে।

বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করি,
আল্লাহ পাক তাকে শহীদ মর্যাদা দান করুন, বেহেশতের আলোয় উজ্জ্বল হোক চিরন্তন।

কাপাসিয়ার উদীয়মান সূর্য, তরুণ হৃদয়ে আলোকবর্তিকা,
তার ত্যাগ, মানবিকতা, বিপ্লবের দৃষ্টান্ত চিরজাগরণ।

তার নাম ঘুরে ফিরে বাজে তরুণদের অন্তরে,
কাপাসিয়ার আকাশে জ্বলছে অমলিন দীপ্তি প্রতিঘরে।

অকালে চলে গেলেও, ত্যাগের স্রোত অনন্ত বয়ে চলে,
শহীদ মনির ভাই, মানবতার আলোকবর্তিকা চিরজীবনে রোলে।

মনির ভাই, তুমি আমাদের জীবনে অমর,
তোমার ত্যাগে জাগ্রত হোক প্রত্যেকের অন্তরের মানবিক আলো।

মানবিক ছাত্র নেতা, বিপ্লবের প্রিয় সিংহাসন,
স্মৃতি চিরকাল বাঁচুক, প্রিয় পথিক, চিরন্তন।

--------------------------------------------------------------


তুমি কি যোগ্য নেতা?

 তুমি কি যোগ্য নেতা?

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*******************************
ওহে নেতা, তুমি কি জানো অন্তরের অরণ্য জ্বলে?
নৈতিকতার প্রদীপ কি আলোকিত, না কি অন্ধকারে ঝরে?

সত্যনিষ্ঠা কি তোমার হাতে মুক্তির মণিপদ্ম,
ন্যায় কি বাতাসে ঝলসে রঙিন পথপ্রদীপ ধ্রুব?

দূরদর্শিতা কি চোখে বাজায় ভবিষ্যতের গান,
নদী কি তীর্থযাত্রায় ভাসায় অন্তরের ধ্বনি মহান?

না কি স্বল্পদৃষ্টির সীমানায় তুমি বন্দী,
কালপাথরের গভীরে হারিয়েছে অন্তর্দৃষ্টির সেতু অম্লান?

মানবতার শ্বাস কি বাজে তোমার হৃদয়ঘরে,
জনগণের বেদনা কি স্পর্শ করে চেতনার তরে?

না কি ক্ষমতার ছায়ায় তুমি ডুবে থাকো,
স্বার্থের অন্ধকারে নিভে গেছে মানবতার প্রদীপ অমল?

যোগাযোগ কি তোমার বাক্যে জাগায় তরঙ্গ,
প্রেরণাশক্তি কি মানুষে ফোটায় অনন্তরঙ্গ?

না কি শব্দের খেলায় ভেসে যাও তুমি,
নির্ভুল প্রেরণার নদী শুকিয়ে যায় শূন্যতার তলে ধূমল?

ধৈর্য কি তোমার নক্ষত্রের মতো অবিচল স্থির,
সংকট কি শক্তি দেয়, না কি ভেঙে যায় স্বপ্নের মীর?

না কি অস্থিরতার ঝড়ে ভেসে যাও তুমি,
নৈতিকতার ভিত্তি কেবল বাতাসে ভেসে যায় ঘূর্ণিময় ধূমি?

দায়িত্ব কি তোমার চেতনার গভীর প্রতিধ্বনি,
সৃজনশীলতা কি অন্ধকারে জ্বালায় আলো-সিদ্ধি?

না কি আবেগের ভারে ভেসে যাও তুমি,
নেতৃত্বের স্বপ্ন কেবল আকাশে ভেসে যায় হিমশিমি?

অবিচল নৈতিক আদর্শ কি আত্মায় বন্দী,
জনমানুষের সঙ্গে সম্পর্ক কি সত্যিকারের সেতু বাঁধে?

না কি ক্ষমতার সিঁড়ি বেয়ে ওঠার সময়,
বিশ্বাসের নদী শুকিয়ে যায়, মাটিতে চাপা পড়ে হায়?

ওহে নেতা, দেশপ্রেম কি জ্বলছে তোমার রক্তে?
মাটির গন্ধ কি শিখায় স্বপ্ন দেখাতে সততে?

নিজেকে চেনো, অন্তরের দীপ জ্বালাও,
যে দীপ দিয়ে জাতি, দল, দেশপ্রীতি পথ খুঁজে পায়,
অন্তিমভাবে, তুমি কি সত্যিকারের নেতা হতে পারো?
--------------------------------------------------------------

আদর্শিক সৈনিক

 আদর্শিক সৈনিক

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*******************************
দূর্গাপুরের রাওনাট পশ্চিম পাড়ার বুকে,
শ্যামল সবুজে, আম-জাম-কাঠালের সুখে,
শিশু সোলাইমান জন্ম নিল দিগন্তের আলোয়,
ভবিষ্যতের দিশারী, দুরন্তপনায় ভরে পথের ধূলোয়।

মেঠো পথে পদচিহ্ন রাখে হৃদয়ের সুরে,
মাঠের ঘাসে স্বপ্ন বোনা, সময়ের মূলে,
মানবসেবার দীপ জ্বালিয়ে নিজেকে উজাড় করে,
সমাজের প্রতি অগাধ ভালোবাসায় অবিচল থাকে।

শিক্ষার দীপ জ্বালিয়ে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সভাপতি হয়ে,
ছাত্র-শিক্ষককে দেয় অনন্ত উৎসাহ, ধূলিকণার প্রতি প্রেম জাগিয়ে,
জ্ঞানসাধনার প্রার্থনায় হৃদয় উন্মুক্ত,
প্রজ্ঞার আলোয় সমাজকে সমানুভূতিতে ভরিয়ে।

প্রবাসের পথে অর্থনৈতিক মুক্তি খুঁজে,
ফিরে এসে জাতীয় চেতনায় উদ্ভাসিত হয়ে,
জিয়ার আদর্শে অনুপ্রাণিত,
বিএনপির সেবায় নিজেকে নিবেদিত রাখেন তিনি।

সবার প্রতি সদয়, বাণীতে স্পষ্টবাদী,
দূষিত পথের স্পর্শহীন,
দুর্নীতি, চাঁদাবাজি বা সন্ত্রাসে জড়িত নয়,
ন্যায় ও সততার অটল রূপে প্রতিষ্ঠিত।

উঠান বৈঠক ও কর্মশালায় সক্রিয়,
১৩ আগস্ট ২০২৫, কাপাসিয়া উপজেলা বিএনপির উঠান বৈঠকে বক্তব্য রাখেন,
৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪, কর্মশালা ও প্রতিনিধি সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন,

১৪ ডিসেম্বর ২০২৪, মহান বিজয় দিবসে নাশকতার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন,
দেশ ও জনগণের নিরাপত্তার প্রতি দায়বদ্ধতার সাক্ষ্য রাখেন।

মাসুম সরকারের সহচর্যে,
দূর্গাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক,
স্থানীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন,
শৃঙ্খলা, ন্যায় ও মানবতার সেবায় নিবেদিত।

সোলাইমান মোল্লা—
একজন আদর্শিক সৈনিক,
সমাজ ও রাষ্ট্রকে ভালোবাসেন অন্তহীনভাবে,
শক্তিশালী ব্যক্তিত্বে গড়ে তোলেন ন্যায়ের পতাকা,
দর্শন ও নৈতিকতার গভীরতায় অমর হয়ে থাকেন।
--------------------------------------------------------------

কালো চশমা

 কালো চশমা

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*******************************
শুনো হে শুনো হে জাতি, আঁধারের রাজ্যে জাগো,
অন্ধ নেতার ছায়া ভাঙো, স্বাধীনতার প্রদীপ জ্বালো।
দেশের বুক কেটে গেছে লোভের দাসে দাস,
অধিকার বঞ্চিত, স্বাধীনতা গৃহভাঙা মহাস্রাব।

মবতন্ত্রের ভয়ঙ্করী খেলা, লুটের শৃঙ্খল মরণঘন্টা বাজায়,
চাঁদাবাজের নৃত্য, দেশপ্রেমে আঘাত করে, বিজয়ের অঙ্গুর রস খায়।
গণতন্ত্রের গলা কেটে ফেলেছে অন্ধ নেতার রক্তচুষা সৈন্য,
কলমের তীর ভেঙে গেছে, প্রতিবাদীর চিৎকার শ্বাসরুদ্ধ।

লেখক, কবি, বিদ্বান—মুক্ত চিন্তার বন্দী,
শব্দের স্বাধীনতা ভেসে গেছে শৃঙ্খলের স্রোতে।
নেতার চোখে নেই দুঃখ, কর্মীর অহংকারে সমাজ নিংড়ে যায়,
লাল সবুজ বোঝে না তারা, শুধু ক্ষমতার তৃষ্ণা খায়।

অধিকার লুণ্ঠিত, নৈতিকতা ধূলিসাৎ,
নেশাগ্রস্ত, অহংকারী, দেশদ্রোহী চরম বাতাসে ত্রাস।
মীরজাফরের খেলা চলছে, দেশ জলের ফাঁদে,
জাতির রক্তে লেখা সত্য, তাদের অন্ধকারে ঢাকা।

হে জাতি, জাগো, কালো চশমা ভেঙে দাও,
অন্ধকারকে চূর্ণ করো, মুক্তির বাতাস ছড়িয়ে দাও।
স্বাধীনতা তুমিই, ইতিহাসে লিখো বিজয়গাথা,
দৃঢ় দৃষ্টিতে সত্যকে আঁকড়াও, অমানবের ছায়া ছিন্ন করো।

নেতার দম্ভ ধ্বংস করো, কর্মীর লোভ চূর্ণ করো,
দেশকে গড়ে তুলো জাগ্রত প্রজ্ঞায়, ন্যায়ের দীপ জ্বালো।
তোমার রক্তে লেখা মুক্তি, তোমার চেতনায় বিজয়,
হে জাতি, ওঠো, লড়ো, ইতিহাসের পাতা রাঙাও আলোয়।
-------------------------------------------------------------

সে এক বাচিক শিল্পী

 সে এক বাচিক শিল্পী

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*******************************
১৯৯৩-এর সেই রাজনৈতিক মঞ্চে দাঁড়িয়ে,
কালো প্যান্ট, সাদা শার্ট, চোখে চশমার দীপ্তি,
জনতার চোখে বিস্ময়, হৃদয়ে কৌতূহল,
প্রথম ধ্বনিতে বাজে কাব্যের মুক্ত ঝরাপাথ।

ইথারের গম্ভীর কোকিলার কণ্ঠে ভেসে আসে,
শব্দে শব্দে উন্মুক্ত তরঙ্গিত জনতা
মাঠ-ঘাট, শীতলক্ষ্যা নদীর স্রোত,
প্রতিটি চরনে প্রতিটি দৃষ্টিতে দ্যুতি জ্বলে।

মৈশন মিয়া বাড়ীর সন্তান, কাপাসিয়ার গর্ব,
ধারাবর্ণনায় গ্রাম, নদী, মেলা, বাজারের ছবি,
ভিডিও, রিল, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে ছড়িয়ে,
ডিজিটাল দুনিয়ায় তার কণ্ঠের প্রতিধ্বনি।

কণ্ঠে কবিতা, ছন্দে জীবন, দর্শনের স্পন্দন,
শোনো—জনতার হৃদয় মুগ্ধ, মন ভরে আনন্দে।
প্রতিটি পদে তার চিন্তা, প্রতিটি ধ্বনিতে দর্শন,
শব্দের ঝঙ্কারে বয়ে যায় মানবিক সত্যের নদী।

মঞ্চে সে দাঁড়িয়ে, জনতার চোখে জ্বলে,
এক শিল্পীর দীপ্তি, এক যুবকের সাহস,
কাপাসিয়ার পথ, ঘাট, বাঁশঝাড়,
প্রতিটি স্থানে তার কণ্ঠের ছাপ।

শুনে জনতা বলে—“কে এই যুবক, কে এই শিল্পী?”
তার প্রতিটি বাক্যে, প্রতিটি ছন্দে,
সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, প্রকৃতির রূপমালা,
মানবতা আর কাব্যের মেলবন্ধন।

সে এক বাচিক শিল্পী,
আলী হোসেন চৌধুরী—
কণ্ঠে জীবনের দর্শন, চোখে মানবতার আলো,
জনতার অন্তরে চিরকাল বেঁচে থাকবে সে।
-----------------------------------------------------------

Sunday, September 14, 2025

আমি বলতে এসেছি

 আমি বলতে এসেছি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************
আমি বলতে এসেছি—এই পৃথিবী আমাদের,
হ্যাঁ, আমাদেরই, আমাদেরই!
মানবেরই হাতে গড়া, সভ্যতার দীপ্তি আমাদের,
হ্যাঁ, দীপ্তি আমাদের, দীপ্তি আমাদেরই!

চেতনার শুভ্র বীজ বোনার ক্রান্তিতে,
আশার আলো জ্বলে অন্ধকারে ঝলমলিত,
জ্বলে, ঝলমলিত, অন্ধকারে ঝলমলিত!
মানুষই মানুষের আশ্রয়, মানুষই মানুষের দীপ।

মানুষই সভ্যতার কান্ডারী, বিজয়ের অনন্ত স্রোত,
মানুষই পরাজয়ের সোপান—হারে যদি সে,
নিঃশেষ হয়ে যায় নক্ষত্র, নিভে যায় আত্মার দীপ,
হ্যাঁ, নিভে যায়, নিভে যায়, নিভে যায় আত্মার দীপ!

মানুষ যদি হারায় শ্রেষ্ঠত্ব,
পশু-মানবের সীমা মিলিয়ে যায়, মিলিয়ে যায়,
দাহ্য হয় মানবিক মর্যাদা,
অবশিষ্ট থাকে শুধু অন্ধকার, শুধু অন্ধকার।

মানুষ হবে সরল, হিংসা-বিদ্বেষহীন,
সাম্য ও ঐক্যের সুরে প্রতিধ্বনিত হবে অন্তর,
কে কালো—কে ধবল, ধনী—গরীব,
রাজা—প্রজা, ক্ষমতাশালী—ক্ষমতাহীন,
কোন মর্যাদা পদবীতে নয়, কোন মূল্য সম্পদে নয়,
হ্যাঁ, মানবের একমাত্র পরিচয়—মনুষ্যত্ব, মানবতার মহিমা।

আমি বলতে এসেছি—মনুষ্যত্বই মানুষের প্রাণ,
সভ্যতার অম্লান কুসুম, চিরন্তন শান্তির দীপ,
এসো হে মানব, এসো হে মানব, মিলি একত্র,
গড়ি এক বাসযোগ্য, সভ্যময় পৃথিবী,
যেখানে মানবতার মহিপাল হব আমরা সকলেই,
হ্যাঁ, হব আমরা সকলেই!
-------------------------------------------------------------------------

মানবতার কুঞ্জ

 মানবতার কুঞ্জ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************
শুনো হে বিশ্ব! রাওনাটে আজ, জ্বলে উঠেছে অগ্নিশিখা,
তরুণের মুষ্টি আকাশ ছোঁয়, মানবতার বাঁশি বাজায় দিশা!
আপন অর্থ, আপন মেধায়— ছুটে চলে প্রলয়-গানে,
তাদের নাম ভাই বন্ধু ফাউন্ডেশন, বীরের জয়ধ্বনি আনে!

মাসুম মোল্লা কান্ডারী হে, অকুতোভয় তরীর হাল,
অসহায় দুঃখীর বুকের মাঝে, জ্বালায় আলোর বিপ্লব জ্বলাল!
সহ-সভাপতি আনিস, মোবারক, সোহেল, আমিনুল প্রাণ,
হেমায়েত, খোরশেদ, সিদ্দিকুর—তাদের হাতে অগ্নি-বাণ!

আবু সাইদ সাধারন হে, কলমে লেখে আগুন গান,
মহসিন, জাহিদ, রাকিব, তানভীর— যুগ্ম কলমে বজ্র ত্রাণ।
ইয়াসিন, রাকিবুল, মীর হাসিব— শৃঙ্খলার দীপ জ্বালে,
শাহীন, ইমরান, শাওন মিলে— বজ্রকণ্ঠে ডাক দেয় কালে!

নাইম পাঠান প্রচার-বাজা, রায়হান দপ্তরে বজ্রতরী,
তাওহীদ মোল্লা শিক্ষার শিখা, কামরুল অর্থে অদম্য ধ্বজধারী।
সীমা আক্তার নারীশক্তি, এরশাদ আইন-অগ্নিশিখা,
কাউসার টেকনো দিশারী, জাহিদ হাসান আন্তর্জাতিক দীপিকা!

ইমন সমাজের মহারথী, আবির পাঠান পাঠাগার,
মুরসালীন ধর্মের বাণী, রাফিন স্বাস্থ্য—জীবনধার।
শাহীন, তাহসান, আশিক, সজিব, হৃদয়— তরুণ শপথ নেয়,
“রক্ত দেব, প্রাণ দেব, মানবতার পতাকা আকাশে বইবে সদা দ্যোতনায়!”

আবুল হোসেন প্রধান উপদেষ্টা, জ্ঞান-বাতিঘর আলোকিত,
মিজান, আকরাম, মোস্তাফিজ, আজিজুল— অভিজ্ঞতায় অগ্নিমিত।
মোবারক, ইব্রাহীম, বাহার, ইউনূস— উপদেশের দিশা দেয়,
খোকন, নওফেল— শপথ নেয়, মানবতার জয়গান গেয়ে যায়!

ওরে বিশ্ব! শোন হুংকার—
“ভাই বন্ধু ফাউন্ডেশন” ঝড়ের মতো এগিয়ে চলে,
মদ-জুয়া, আফিম, সন্ত্রাস— ভেঙে দেয় লোহার তলে!
অসহায় রোগীর প্রাণে আজ, তাদের রক্ত জীবন গান,
দুর্বলের শক্তি, দুঃখীর মুক্তি— তাদের অগ্নি-প্রাণ!

তাদের কণ্ঠে বজ্রধ্বনি—
“অন্ধকার ভাঙবো আমরা, জ্বালাবো প্রভাতের আলো,
মানবতার কুঞ্জ আমাদের, অমর শপথে অটল ভালো!”
ভাই বন্ধু ফাউন্ডেশন— ওরে বিশ্ব, তোর মশাল, তোর জয়গান,
মানবতার বিজয় নিশান, উঠুক আকাশে অনন্তকাল!
-------------------------------------------------------------------------


শিক্ষার দ্যুতি

 শিক্ষার দ্যুতি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************
ওহে শুনো এ প্রজন্ম, আলো ঝরেছে রাওনাটে,
আব্দুল হাই সরকারের দ্যুতি জ্বলে জ্যোতির্ময় দিনে।
প্রজ্ঞা তাঁর ভাষার ধারা, মধুর বর্ণনায় ভরা,
শিক্ষকের শিক্ষক, সকলের প্রিয়, হৃদয়ে অমল ধারা।

প্রধান শিক্ষক, প্রেরণার দিগন্ত, দৃষ্টির আলো,
বরণীয় ব্যক্তিত্ব, মৃত্যু নিবারণশীল আলো।
শ্রদ্ধার ধারা, শিক্ষার স্রোতে ভাসে হৃদয়,
পাঠের নদীতে ঝরে জ্ঞান, প্রকৃতির মত অমলতায়।

ছায়ার মতো কোমল, বর্ষার জলছটা যেমন,
প্রকৃতির অলঙ্কারে সেজে, জ্ঞান ছড়ায় সে যেন।
পাহাড়ের মজবুত পাথরের মতো দৃঢ় তাঁর শিক্ষা,
বাতাসের ছোঁয়া, পাখির গান, মনে বাজে অন্তঃকণা।

রোদ ঝরে শ্যামল মাঠে, শিশুরা হাসে তাঁর তরে,
বৃক্ষের ছায়ায় শিখে জীবন, বয়ে চলে জ্ঞানধারা সবরে।
ঝড়ের দাপটেও অমল, বাতাসে ভেসে যায় জ্যোতি,
তার শিষ্যরা গড়ে তোলে দেশ, করে আলোড়ন সকলে।

আজ অসুস্থ, কিন্তু দ্যুতি অম্লান, অমর সেই দীপ্তি,
শিশিরের মতো নরম, সূর্যের মতো উজ্জ্বল সত্যি।
রাওনাটের মাটি স্মরণ রাখে, জ্ঞানের জ্যোতি অম্লান,
প্রজন্মের মনে জ্বলছে, শিক্ষার অনন্ত দীপক প্রাণ।

প্রতিটি পাঠে মিলেছে প্রেম, প্রকৃতির অনুরণনে,
ঝরনা যেমন গান গায়, তাই ছড়ায় জ্ঞানধারার ধ্বনি।
মাটি, আকাশ, বাতাস, সবই শিখেছে তাঁর ছায়া,
অমর তাঁর দ্যুতি, রাওনাটের হৃদয়ে জ্বলেছে কায়া।
-------------------------------------------------------------------------