Monday, October 27, 2025

মানব সৃষ্টির উদ্দেশ্য

 মানব সৃষ্টির উদ্দেশ্য

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
***********************************************

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, নূরে ভরে দিল,
রবের প্রেমে পুড়ে যায়, গুনাহগার এই মাইল।
ইবাদতই হায়াত আমার, মাওলার সন্তোষ মান,
তাওহিদের এই নূরেই জ্বলে উঠুক পরাণ।


বিসমিল্লাহ বলে সৃষ্টি করল রব,
রহমানের রহমে খোলে দুনিয়ার সব।
কোরআনের কালামে শুনি তাঁর ঘোষণা,
“আমি বানিয়াছি বান্দা, শুধু ইবাদতের যোগে সুশোভনা।”
ইবাদতের নূরেই খোলে জান্নাতের দরজা।


তুমি খলিফা-তুল্লাহ, এই ধরার মান,
রবের প্রতিনিধি তুমি, রাখো ন্যায় আর ইমান।
দরদে-ইনসানি রাখো অন্তরে স্থান,
রহমতে আল্লাহে জ্বালো নূরের দান।


তাসবিহে গাও — সুবহানাল্লাহ,
রুহে বাজে সুর — আলহামদুলিল্লাহ।
দিলের কোরাসে ওঠে — লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ,
এই কালেমাতেই লুকায় জান্নাতুল রাহ।


এই দুনিয়া ফানার ময়দান, ইমতিহানের রাহ,
মৃত্যুর পরে উঠবে হিসাবের গাহ।
যে রাখে ইখলাস, যে করে দান,
তার জন্য মেহেরবান — আল্লাহ রহমান।


দেখো আশমান, জমিন — সব তাঁর নিদান,
প্রতিটি বাতাসে শোনা যায় কোরআনের তেলাওয়াত গান।
রবের মারেফাতে জ্বালো ইমানি দীপ,
তাঁর সন্তুষ্টিতেই মুক্তি, তাঁর প্রেমেই নীপ।


হে তৌহিদি প্রাণ, ভুলিও না সেই জান,
এই জীবন ফানি, পরকালেই আসল মান।
ইবাদত করো, রাখো নূরের বিশ্বাস,
আল্লাহর সন্তুষ্টিই জীবনের আশ।


লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, গাও ঈমানের গান,
মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ — নবীর আহ্বান!
রবের সন্তুষ্টিই মানবের মাকসাদ,
ইবাদতেই লুকায় জীবনের উদ্দেশ্যবাদ।


রব্বানা তাকাব্বাল মিন্না, করো রহমত বরখা,
তুমি হো মেহেরবান, হো নূর-ই-সুবহা।
তোমার ইবাদতেই শান্তি, তোমার প্রেমেই জান,
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ — এই আমার গান।
--------------------------------------------------


২৭-১০-২০২৫

Sunday, October 26, 2025

সাংবাদিক ও লেখক

 

সাংবাদিক ও লেখক 

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************

তথ্যভিত্তিক পরিচয়

-----------------------------

জন্ম ও পরিবার:

-----------------------------

  • জন্ম: ১৯৭৬ সালের ১ জানুয়ারি

  • স্থান: কোটবাজালিয়া, কাপাসিয়া, গাজীপুর

  • পরিবার: ঐতিহ্যবাহী খান পরিবার

  • পিতা: আলহাজ্ব শামসুদ্দিন খান

  • মাতা: সাহিদা খানম

  • সন্তানসংখ্যা: ৮ ভাইবোনের মধ্যে তৃতীয়

শিক্ষা:

----------------------------

  • প্রাথমিক শিক্ষা: আলিয়া মাদ্রাসা

  • দাখিল ও আলিম: কাপাসিয়া সদর আলিম মাদ্রাসা

  • ফাজিল: রাউতকোনা ফাজিল মাদ্রাসা

  • ডিগ্রি: কাজী আজিম উদ্দীন কলেজ, জয়দেবপুর, গাজীপুর

সাহিত্য ও সাংবাদিকতা:

-----------------------------------

  • লেখা ও পড়ার আগ্রহ: জীবনের শুরু থেকেই

  • রচনা: কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নিবন্ধ

  • প্রকাশিত গ্রন্থ:
    ১. ইতিহাস ঐতিহ্য কাপাসিয়া -১
    ২. গাজীপুর ডাইরেক্টরি (৫০০ পৃষ্ঠা, ৩ সংস্করণ)
    ৩. বাংলাদেশ ট্যুরিস্ট ডাইরেক্টরি (৫০০ পৃষ্ঠা)

  • সম্পাদকীয় ও সহ-সম্পাদকীয়:

    • বাংলাদেশ ট্যুরিস্ট বার্তা (সম্পাদক)

    • দৈনিক বাংলা ভূমি পত্রিকা (সহ-সম্পাদক)

  • পদবী ও সংস্থা:

    • সভাপতি: গাজীপুর মহানগর প্রেসক্লাব

    • চেয়ারম্যান: বাংলাদেশ টুরিস্ট জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন

রাজনৈতিক জীবন:

----------------------------------

  • ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত

  • বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্র শিবিরের সাবেক কাপাসিয়া উপজেলা ও কলেজ শাখার সভাপতি

  • জামায়াতে ইসলামী:

    • সাবেক রুকন

    • সাবেক সেক্রেটারি, মান্ডা ইউনিয়ন ও বাড়িয়া ইউনিয়ন

    • সাবেক আমীর, ভাওয়াল চাঁদপুর ইউনিয়ন, কাপাসিয়া

    • সাবেক মজলিসে সূরার সদস্য, উপজেলা শাখার অফিস ও প্রচার সম্পাদক

  • নির্বাচনী ও রাজনৈতিক কারণে জেলাভোগ

বর্তমান অবদান:

----------------------------

  • আমার বাংলাদেশ পার্টি ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (পদত্যাগ)

  • জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত গাজীপুর-৪, কাপাসিয়া জাতীয় সংসদ প্রার্থীর সমর্থক

  • কোটবাজালিয়া আদর্শ যুব কল্যাণ সংঘের বর্তমান সভাপতি (প্রতিষ্ঠা: ১৯৭৭, গভ: রেজি: ঢ০-১৩২১)

  • কোটবাজালিয়া আশরাফুল মাদরাসার প্রধান উপদেষ্টা

  • কোটবাজালিয়া পূর্বপাড়া তাকওয়া জামে মসজিদের সভাপতি

  • ***************************************************************

    সাংবাদিক ও লেখক

    চির অদম্য, চির জ্বলন্ত!
    কাপাসিয়ার গর্ব, তারুণ্যের মশাল, বিজয়ের অগ্রসৈনিক,
    এম. আমজাদ খান চির-উন্নত মম শির!
    শিশুবেলা থেকে কলম তাঁর তীর,
    শব্দের অগ্নি জ্বলে ন্যায়বিচারের আকাশে।

    কলমে আগুন, চেতনায় ঝড়!
    আলিম-ফাজিলের দীপ জ্বলে মেধার মঞ্চে,
    ডিগ্রি অর্জন, কলমকে অস্ত্র করেছেন এম. আমজাদ খান।
    দৈনিক, সাপ্তাহিক, মাসিক—প্রকাশিত রচনা,
    ফুটে ওঠে বিদ্রোহী আলোর ঝাঁঝালো ঢেউ।

    সত্যের পথে অটল হউ!
    ইতিহাসে লিখলেন নিজের হাতের ছাপ,
    কাপাসিয়ার কীর্তি, গাজীপুরের অহংকার—এম. আমজাদ খানের অগ্নিধারা।
    ডাইরেক্টরি, ট্যুরিস্ট বার্তা, গ্রন্থে প্রকাশিত,
    দেশপ্রেম ও ন্যায়বিচারের বজ্রগর্জন প্রতিধ্বনি।

    বিজয়ের অগ্রদূত তিনি!
    ছাত্র রাজনীতির অমোঘ, অদম্য, অপ্রতিরোধ্য যোদ্ধা,
    শিবিরের পতাকা হাতে ঝড় তুললেন এম. আমজাদ খান।
    জেল-কারা, কারানির্যাতের অন্ধকার,
    হৃদয়ে অটল দীপ, চোখে বিদ্রোহী জ্বালা।

    অবিচল, অপ্রতিরোধ্য, অমিত শক্তি!
    জামায়াতে ইসলামী ও ইউনিয়ন পরিষদে—
    সেক্রেটারি, আমীর, রুকন—সত্যের দমক!
    সত্যের লড়াই, সংগ্রামে অদম্য মন,
    কারানির্যাতে জ্বলল বিদ্রোহী চেতনা এম. আমজাদ খানের।

    অগ্নি, বাণী, বিদ্রোহ!
    বর্তমান সমাজে পথপ্রদর্শক, অগ্রগামী, অটল,
    পদত্যাগের প্রজ্ঞা, সত্যের শপথ—এম. আমজাদ খান।
    জাতীয় সংসদ প্রার্থীর সমর্থক,
    যুবকল্যাণ সংঘের সভাপতি, মাদরাসা ও মসজিদের প্রেরক।

    চির অদম্য অগ্নিসৈনিক!
    সাংবাদিক, লেখক, সমাজ সংস্কারক, বিপ্লবী নেতা,
    কলম ও মঞ্চে চূড়ান্ত বিদ্রোহী—এম. আমজাদ খান।
    প্রতিবেদন, রচনা, কলমের ঝাঁঝালো আঘাত,
    প্রতিটি পদক্ষেপে আলোর বাণী, অগ্নিধারা।

    অবিস্মরণীয়, অপ্রতিরোধ্য!
    কাপাসিয়ার গর্ব, তারুণ্যের মশাল, বিজয়ের অগ্রসৈনিক,
    নজরুলীয় বিদ্রোহে চলুক অদম্য পথ—এম. আমজাদ খানের রাস্তায়।
    ইসলামের মূল্যবোধে সমাজ গড়ে তুলতে,
    প্রত্যেকটি রচনা হোক অগ্নিধ্বনি, বিদ্রোহের বার্তা।

    চির অটল, চির শক্তিশালী!
    এম. আমজাদ খান—চূড়ান্ত বিদ্রোহী, সত্যের অগ্নিসৈনিক,
    সংঘর্ষে অটল, কলম ও কণ্ঠে আগুন,
    কারানির্যাতের তীব্রতায় দৃঢ় মন,
    সত্যের শপথে চলুক বিদ্রোহের পথে অনন্ত!

    অদম্য, জ্বলন্ত, অগ্নিধারার প্রেরক!
    তিনি চিরদূর্দম, তিনি অদম্য, তিনি ঝঞ্ঝা,
    তিনি কলমের তীর, তিনি শব্দের অগ্নি,
    তিনি পথপ্রদর্শক, তিনি বিজয়ের অগ্রসৈনিক,
    তিনি এম. আমজাদ খান, তিনি চির বিদ্রোহী! 

  • ---------------------------------------------------------

মুয়াজ্জিনের ডাক

 মুয়াজ্জিনের ডাক 

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

****************************************

ওই ডাকছে মুয়াজ্জিন… এসো হে মুমিন…
আল্লাহর পথে জাগো… ভোরের নূরিন দিন
মিনারার চূড়ায় বাজে তাকবীরের সুর
হৃদয় ভরে ওঠে ইমানের দীপ্তি-বীর
আল্লাহু আকবার… আল্লাহু আকবার…
তৌহিদী প্রাণ… এসো প্রভুর নূরে…


ছুটো হে মসজিদ ঘরে… নামাজির বেশে
নত হও প্রভুর দরবারে… কাতারে কাতরে
তাসবীহ, দোয়া, ইক্বামতের মধুর সুর
প্রাণে জাগুক হায়াতের আলো… হৃদয়ে ভরে নূর
তৌহিদী প্রাণ… দাও অন্তর প্রভুর কাছে
জীবন হোক আল্লাহর পথে… প্রার্থনার অনন্ত ভাষা…


এসো হে মুমিন… এসো হে মুমিন…
ইক্বামতের ছন্দে মিলাও প্রাণের সুর
আযানের মধুর ডাক… হৃদয়ে বাজুক বারবার…
আল্লাহু আকবার, মুয়াজ্জিনের ডাক হোক জান্নাতের নূর
চোখে জল ঝরে… অন্তর ভরে প্রেমের স্রোত…
প্রভুর নামের আলোয় ভরে উঠুক প্রতিটি ক্ষণ…


দুপুরের সূর্যাস্তে বাজে মুয়াজ্জিনের সুর…
তৌহিদী প্রাণ এসো… দাও প্রভুর কাছে ঘুর…
কাতারে কাতারে মুসল্লি… হৃদয় একত্রিত…
প্রার্থনার জলে ভেসে যায় দুঃখ-উদাসীনিত…
সুন্দর দুনিয়ার জীবন অল্প… জান্নাতের আশা চিরন্তন
প্রভুর কাছে মিলাও আত্মা… অন্তরে জাগুক অনন্ত অনন্ত…


সন্ধ্যার আকাশে ছড়ায় আযানের আভা
রজনীর নীরবতা ভেঙে ওঠে আলোর মায়া…
মসজিদে বাজে দোয়া… প্রভুর নামে স্তব
হৃদয়ে জাগে ভক্তি… চোখে ঝরে অশ্রুবিন্দু নব
তৌহিদী প্রাণ… এসো প্রভুর দরবারে…
মুমিনের অন্তর জাগুক আল্লাহর আয়াতের ঘর


এসো হে মুমিন… এসো হে মুমিন…
ইক্বামতের ছন্দে মিলাও হৃদয়ের সুর
আযানের মধুর ডাক… প্রাণে বাজুক বারবার…
আল্লাহু আকবার, মুয়াজ্জিনের ডাক হোক জান্নাতের নূর
চোখে জল ঝরে… অন্তরে ভরে আলোর দিগন্ত…
প্রভুর নৈকট্যে মিলাও প্রাণ… জীবন হোক পূর্ণ আনন্দ ও বারাকা

--------------------------------------------------

নৌবাহিনীর চিফ অব নেভাল স্টাফ

নৌবাহিনীর চিফ অব নেভাল স্টাফ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

***********************************************

 ভাইস অ্যাডমিরাল জহির উদ্দিন আহমেদ (ND), NBP, BCGM, ndc, psc বাংলাদেশের নৌবাহিনীর একজন বিশিষ্ট কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি ২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ নৌবাহিনীর চিফ অব নেভাল স্টাফ (CNS) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।


 সামরিক জীবন

  • জন্ম: ১৯৫৭ সালের ২১ মে, গাজীপুর, পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ)

  • যোগদান: ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে ক্যাডেট হিসেবে যোগদান করেন।

  • শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ:

    • ব্রিটানিয়া রয়্যাল নেভাল কলেজ, যুক্তরাজ্য থেকে প্রশিক্ষণ

    • নেভিগেশন ও ডিরেকশন (ND) প্রশিক্ষণ, পাকিস্তান

    • ফাস্ট অ্যাটাক ক্রাফট কমান্ড ও ট্যাকটিক্স, চীন

    • স্টাফ কোর্স (psc), ঢাকা

    • ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ (ndc), ঢাকা

    • ইউএস নেভাল ওয়ার কলেজ

  • কর্মকর্তা পদ:

    • BNS আবু বকর, BNS বঙ্গবন্ধু, BNS শহীদ মোয়াজ্জেম, BNS তিতুমীর জাহাজের কমান্ডার

    • বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির কমান্ড্যান্ট

    • বাংলাদেশ নেভাল ফ্লোটিলার কমান্ডার

    • চট্টগ্রাম নৌ এলাকা (COMCHIT) এর কমান্ডার

    • বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের পরিচালক (একদিনের জন্য)

    • বাংলাদেশ নৌবাহিনীর চিফ অব নেভাল স্টাফ (২০০৯–২০১৩)


পুরস্কার ও সম্মাননা

  • নৌবাহিনী পদক (NBP)

  • বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড মেডেল (BCGM)

  • কমেন্ডেশন পদক


 ব্যক্তিগত জীবন

তিনি শবনম আহমেদকে বিয়ে করেছেন এবং তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।


ভাইস অ্যাডমিরাল জহির উদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে বাংলাদেশ নৌবাহিনী বিভিন্ন আধুনিকায়ন ও শক্তিশালীকরণের পথে অগ্রসর হয়েছিল। তিনি নৌবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

**********************************************************************

নৌবাহিনীর চিফ অব নেভাল স্টাফ

------------------------------------------------


কাপাসিয়ার ছেলে, সমুদ্রের বন্ধু,
নৌবাহিনীর পতাকা উঁচু করে তুলল।
ভাইস অ্যাডমিরাল জহির উদ্দিন আহমেদ,
দেশের গৌরব, নাবিকের অনন্য সুললিত।


মাটির বুক থেকে জন্ম নিলো সে,
নদী-নালা, খোলা মাঠ—সবই তার চেনা।
শৈশবের খেলা, স্বপ্ন বাঁধল সে,
ভোরের আলোয় ঝলমল করল জীবন তারarena।


BNS আবু বকর, বঙ্গবন্ধু, তিতুমীর,
জাহাজের কসম, নাবিকের দৃঢ় প্রীর।
কমান্ডার লড়ে যায়, পথিকের মতো দৃঢ়,
প্রতিটি পদক্ষেপে বাজে নৌবাহিনীর সঙ্গীত স্বর।


ক্যাডেটের দিন থেকে চিফ অব নেভাল,
শৃঙ্খলা, নীতি, দেশপ্রেম—সব অটল চিরকাল।
NDC, স্টাফ কোর্স, ইউএস নেভাল আলো,
প্রশিক্ষণ, কৌশল—সমুদ্রের নতুন ছন্দমালা।


NBP, BCGM—পদক তার বীরত্বের চিহ্ন,
প্রশিক্ষণ ও নেতৃত্বে নেই কোন কমতি, অম্লান দৃষ্টি।
ফ্লোটিলার কমান্ডার, চট্টগ্রামের নৌ এলাকা,
প্রত্যেক পদক্ষেপে দেশের গর্ব ও আশা।


কাপাসিয়ার মাটি, দেশের হৃদয় উজ্জ্বল,
নৌবাহিনীর শক্তি, সমুদ্রের ঢেউয়ে ঝলমল।
জাহাজ, নাবিক, কমান্ড—সব মিলিয়ে ইতিহাস,
ভাইস অ্যাডমিরাল জহির উদ্দিন—অমলিন প্রতীক আজও।


কাপাসিয়ার ছেলে, সমুদ্রের বন্ধু,
নৌবাহিনীর পতাকা উঁচু করে তুলল।
ভাইস অ্যাডমিরাল জহির উদ্দিন আহমেদ,
দেশের গৌরব, নাবিকের অনন্য সুললিত।

-------------------------------------------------- সূত্র অনলাইন।


কাপাসিয়ার আলো

 কাপাসিয়ার আলো

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

**********************************************


মরহুম কামরুল ইসলাম চৌধুরী মোখলেছ মিয়া

বাড়ী: মৈশন মিয়া বাড়ী, কাপাসিয়া, গাজীপুর।


পেশাগত জীবন

  • মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (DMD) ছিলেন।

  • অগ্রণী ব্যাংকের জেনারেল ম্যানেজার (GM) পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।


ধর্মীয় ও সামাজিক দায়িত্ব

  • ঢাকা রামপুরা ওয়াবদা মাদরাসা ও মসজিদের সভাপতি ছিলেন।

  • কাপাসিয়া উত্তর খামের ঈদগাহ মাঠের সভাপতি ছিলেন।

  • মৈশন মিয়া বাড়ী জামে মসজিদের সভাপতি ছিলেন।


সমাজের প্রতি অবদান

  • জীবদ্দশায় কাপাসিয়া এলাকার বহু মানুষকে ব্যাংক খাতে চাকরির সুযোগ করে দিয়েছেন।

  • ছিলেন সমাজসেবক, সাহায্যপ্রবণ ও মানবিক একজন ব্যক্তিত্ব।


পরিবার

  • দুই পুত্রের জনক ছিলেন।

    • বড় ছেলে মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী সুমন মিয়া, ঢাকায় একটি ব্যাংকে কর্মরত

    • ছোট ছেলে রাকিবুল ইসলাম চৌধুরী ইমন মিয়া, সি.ডি.বি.এল (CDBL), ঢাকা-এর মহাব্যবস্থাপক (General Manager) পদে আছেন।

    • ******************************************************************

    • কাপাসিয়ার আলো

    • কাপাসিয়ার গর্ব তুমি, আলোর দিশারী,
      মোখলেছ মিয়া নামটি রবে চিরদিনের ভারী।
      সততার শপথে গড়া, কর্ম ছিল ধর্ম,
      মানবসেবায় পেয়েছিলে তুমি জীবনের মর্ম।


      আলো তুমি, প্রেরণা তুমি, সেবার মশাল হাতে,
      জীবনের পথে রেখেছ দিশা— সত্যেরই সাথে।



      অগ্রণী ব্যাংক, মিউচুয়ালের আকাশে তুমি জয়,
      ব্যাংকিং জগতে আনলে তুমি নৈতিকতার উদয়।
      পরিশ্রমে গড়া তোমার নাম, দীপ্তিতে মহান,
      ব্যবস্থাপনায় ছিল প্রজ্ঞা, করুণারই জ্ঞান।


      চাকরি দিলে বেকার তরুণে, হাসি ফুটলো মুখে,
      তোমার নামে কৃতজ্ঞতা বাজে দেশের দুখে।


      ওয়াবদা মাদরাসা-মসজিদে বাজে তোমার স্মৃতি,
      সভাপতির চেয়ারে বসে দিতেন আলোর প্রীতি।
      ঈদগাহ মাঠে তুমি ছিলে মিলনের প্রতীক,
      মৈশন মসজিদের মিনারে গেয়ে— আল্লাহু মহান সঠিক।

      মসজিদের ছায়ায় থাকুক তোমার দোয়া,
      নূরের আলোয় ভরে উঠুক দুনিয়া মোয়া।



      সাহিত্যে ছিল মমতা, বিজ্ঞানে অনুসন্ধান,
      দেশপ্রেমে ছিল তোমার রক্তে উজ্জ্বল গান।
      তাজউদ্দিনের সহচর তুমি, মুক্তিযুদ্ধের সাথি,
      বিপ্লবী চেতনায় দীপ্ত, চিরসাহসী নাথী।


      দেশের তরে কাজ করেছো, সত্যের দিশারি,
      তোমার মতো মানুষ রবে যুগে যুগে ভারী।



      দুই সন্তান তোমার গর্ব, আলোয় দীপ্ত প্রাণ,
      সুমন আছে ব্যাংকে সেবা, ইমন নেতৃত্ব দান।
      সি ডি বি এল-এ উজ্জ্বল নাম, গর্ব পিতার ঢেউ,
      তোমার আদর্শে হাঁটে ওরা— স্বপ্নেরই সে নেউ।


      পিতার আশীর্বাদ রবে চিরদিন পাশে,
      তোমার নামেই গর্ব জাগে সন্তানের হাসে।



      আজ তুমি নও, তবু বাজে নাম ধরণীর বুকে,
      দোয়া করি— থাকো শান্তি জান্নাতের সুখে।
      নূরের বাগানে হোক তোমার চির বিশ্রাম,
      আল্লাহ দিক ফেরদৌস মঞ্জিল, রহমতের সালাম।


      আমীন বলি সকলে মিলে, দোয়ার ভাষা এক,
      কাপাসিয়ার আলো তুমি— চির নক্ষত্র রেখ।



      হে মহান আল্লাহ,
      মরহুম কামরুল ইসলাম চৌধুরী মোখলেছ মিয়া সাহেবকে
      জান্নাতুল ফেরদৌস নসীব করুন।
      তাঁর কর্ম, দান, দোয়া ও মানবসেবার প্রতিদান দিন অনন্ত শান্তিতে।
      আমীন।

      ------------------------------------------------------------- 

Thursday, October 23, 2025

জুলুমের শাস্তি

 জুলুমের শাস্তি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

*****************************

হে মানুষ, জুলুম করো না,
প্রভুর চোখে অন্ধকার মুক্ত না।
সৃষ্টি ভুমি, নীল আকাশ, নদী-পাহাড়,
সবই সাক্ষী তোমার অন্যায়ের অঙ্ক।

কোরআন বলে, হে সচেতন প্রাণ,
“অতীত জাতি যারা জুলুম করেছিল, তাদের ধ্বংস হয়েছে, শিক্ষা নাও।”
প্রকৃতি সর্বদা করে স্বাক্ষী,
যারা অন্যায় করে, তাদের হবে ধ্বংসের পথ।

রাসূলের বাণী কানে বাজে,
“যে অন্যায় করেছিল, তার শাস্তি দুনিয়ায়ও হবে।”
কোনো দোষ ঢাকা থাকে না,
হৃদয়ের অন্তরেও লেখা থাকে সত্যের চিহ্ন।

অধিকার লঙ্ঘন, হিংসা, জুলুমের শ্বাস-প্রশ্বাস,
সবই ঢেকে দেয় হৃদয়ের আলো ও রাত।
ধ্বংস হবে তাদের কষ্টের ফসল,
প্রভুর রায় কখনো প্রতিহত নয়, সবই স্পষ্ট ফল।

দ্রষ্টব্য—প্রভু দেখেন প্রত্যেক কাজ,
মানব চিত্তে লেখা অমলিন, অম্লান।
ধৈর্য্য ও ন্যায়ের পথে চলো,
জুলুম থেকে দূরে থাকো, সত্যের আলোকে আলোকিত হও।

-------------------------------------------------

ধর্ষণের অভিশাপ

 

ধর্ষণের অভিশাপ 

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর
***************************



হে মানব! থামো তুমি, দেখ আল্লাহর দিক,

পাপের অন্ধকারে জ্বলে নরকের শিখ।
যে নারীকে সৃষ্টি করেছেন রব করুণায়,
তার সম্মান ভাঙিলে, কাঁদে আসমান-মায়া।

ওহে জালেম! শুন অভিশাপের গান,

ধর্ষণের ছায়া পড়ে দুনিয়ায় দান।
কিয়ামতের ময়দানে কাঁদবে সে প্রাণ,
আল্লাহ বলবেন — “কোথায় ছিলো তোর মান?”



রাসূল বলেছেন — “লজ্জা ঈমানের অর্ধাংশ”,
লজ্জাহীন সমাজে পড়ে নেমে ধ্বংস।
নারীর ইজ্জত — আল্লাহর অমানত,
তাকে ভাঙা মানে জাহান্নামের দাওয়াত।

ওহে জালেম! শুন অভিশাপের গান,

ধর্ষণের ছায়া পড়ে দুনিয়ায় দান।
কিয়ামতের ময়দানে কাঁদবে সে প্রাণ,
আল্লাহ বলবেন — “কোথায় ছিলো তোর মান?”


এক বিন্দু অশ্রু যদি উঠে আকাশে,

ফেরেশতারা দেয় অভিশাপের তাসে।
কোরআন বলে — “অন্যায় করো না কারো প্রতি”,
ধর্ষণ তো জুলুম, পাপের চূড়ান্ত গতি।


ওহে জালেম! শুন অভিশাপের গান,
ধর্ষণের ছায়া পড়ে দুনিয়ায় দান।
কিয়ামতের ময়দানে কাঁদবে সে প্রাণ,
আল্লাহ বলবেন — “কোথায় ছিলো তোর মান?”


মু’মিনের জীবন হোক দয়া, লজ্জা আর ন্যায়,

যেখানে নারী নিরাপদ, মর্যাদা পায়।
শান্তির আলো ছড়িয়ে দাও মানবতায়,
ধর্ষণের অন্ধকার হারাক সৃষ্টির বয়ানতায়।

ওহে জালেম! শুন অভিশাপের গান,

ধর্ষণের ছায়া পড়ে দুনিয়ায় দান।
কিয়ামতের ময়দানে কাঁদবে সে প্রাণ,
আল্লাহ বলবেন — “কোথায় ছিলো তোর মান?”

-------------------------------------------------------

নেশাগ্রস্থ প্রাণ

 

নেশাগ্রস্থ প্রাণ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**********************************

নেশাগ্রস্থ প্রাণ, হে মানুষ! জাগো আজ,
অন্ধকারে ডুবে গেছে তোমার ঈমানের সাজ।
“ইন্নামা আল-খামরু”— বলে কোরআন মহান,
শয়তানের ছলনা এটি, করো না অবমান!

মায়িদাহ সূরার বাণী বাজে কানে,
নেশা আনে শত্রুতা, ভ্রাতৃত্ব যায় টানে।
নেশা তোমায় দূরে করে আল্লাহর রহমত হতে,
নামাজে মন হারায়, ডুবে যায় মিথ্যে মোহেতে।

রাসূল ﷺ বলেছেন— “যা নেশা আনে, হারাম তা চিরদিন”,
এক ফোঁটা মদও করে কালো রূহের দিন!
যে পান করে এ বিষ, সে করে আত্মা ধ্বংস,
দুনিয়ার রঙ ম্লান হয়, আখিরাতে কাঁদে সর্বনাশ!

নেশায় হারায় বুদ্ধি, মর্যাদা, লজ্জা, মান,
পিতা-মাতার দোয়া হারায়, ছিন্ন হয় পরিবারপ্রাণ।
হায়, কত স্বপ্ন পুড়ে ছাই, কত মুখে কান্না,
নেশার আগুনে জ্বলে, ধ্বংস হয় জান্নাহর গাঁথা।

হে যুবা! ফিরো ফিরে, কোরআনের আলোয়,
তওবা করো এখনই, নাহি দেরি কালোয়।
আল্লাহ দয়ালু, তবু ভয়াবহ তাঁর ক্রোধ,
যে তওবা করে না, সে হারায় সবই একসাথে রোধ!

এসো ভাই, মসজিদের ছায়ায় বসি,
জিকিরে ভরি হৃদয়, করি চোখ ভেজা নতশিরে দোসি।
মাদক নয়, চাই রূহের প্রশান্তি,
কোরআনের তিলাওয়াতে পাই জীবনের শান্তি।


হে আল্লাহ! আমাদের দাও শক্তি, নেশার পথ হতে,

হেদায়াত দাও সোজা পথে, রূহের মাতে মেতে।
যেন এই প্রাণ হয় না আর নেশাগ্রস্থ কভু,
বরকতের ছায়ায় কাটে দিন, তোমার নূর-আলোয় সবু! 

----------------------------------------------------

এতিমের হক

 

এতিমের হক

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************

এতিমের হক রে, হক রে, হক রে!

আল্লাহর আদেশ রাখ রে, রাখ রে!
ভালোবাসা দে ভাই, মায়া দে মন,
এতিমের হক রে, আল্লাহর ধন! 


ভালোবাসা দে ভাই, করো না অন্ধ,

এতিমের চোখে রহমতের ছন্দ।
সূরা নিসায় আল্লাহ বলেন —
“তাদের হক নিও না, ফেরেন।”
যে খায় তাদের সম্পদ রে,
তার পেটে জাহান্নাম জ্বলে রে। 


এতিমের হক রে, হক রে, হক রে!
রেহমতের সাগর ডাক রে, ডাক রে! 


রাসূল বলেছিলেন কোমল বাণী —

“আমি আর এতিম, জান্নাতে জানি।”
দুই আঙুলে দেখিয়ে বলি,
ভালোবাসা দে, না কর তালি!
যে রাখে ছায়া, আশ্রয় দেয়,
আল্লাহ তার রহমত ছুঁইয়ে দেয়। 


এতিমের হক রে, হক রে, হক রে!
রহমতের ছায়া ঢাক রে, ঢাক রে! 



যে তাড়ায় এতিম, নামাজ বৃথা,
সূরা আল-মাউনে আছে কথা।
নামাজে প্রাণ নাই, নেই তো মন,
যদি না থাকে মমতার ধ্বনন।
হে মুমিন ভাই, কর দয়া,
তবেই পাবি নূরের ছায়া। 


এতিমের হক রে, হক রে, হক রে!
আল্লাহর পথে হাঁট রে, হাঁট রে! 


মাথায় রাখ হাত, হাসাও ওদের,

ফেরেশতা কাঁদে দুঃখের ঘোরে।
রাসূল বলেছিলেন — "যে হাসায় ওদের,
তার মুখে ফুটে জান্নাত ঘোরে।"
দুনিয়ার সুখে সে হারায় না,
আখিরাতে পায় জান্নাতখানা। 


এতিমের হক রে, হক রে, হক রে!
রেহমতের বৃষ্টি ঝর রে, ঝর রে! 


হে সমাজ! হে মুসলমান,

রাখিস তাদের সম্মান।
খাইও না হক, নিও না ধন,
তাদের হাসি হোক তোর জীবন।
আল্লাহর প্রেমে দে তুই দান,
তবেই খুলবে জান্নাত-দ্বার প্রাণ। 


এতিমের হক রে, হক রে, হক রে!
রেহমতের ছায়া ঢাক রে, ঢাক রে!
আল্লাহর আদেশ রাখ রে, রাখ রে!
এতিমের হক রে, আল্লাহর ধন! 

-----------------------------------------------

হে শিশুপুণ্য

 

হে শিশুপুণ্য

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুুর

হে শিশুপুণ্য! হে আলোকধারা!

তুমি ভবিষ্যতের আশার তারা,
তুমি জীবনের দান, করুণা ভরা প্রাণ,
তোমার মুখে লুকায় রহমতের মান।
কোরআন বলে — তুমি আল্লাহর দান,
তোমার যত্নেই বাঁচে মানবপ্রাণ!
হে শিশুপুণ্য! হে শিশুপুণ্য!



দাও খাদ্য, দাও বস্ত্র, দাও ভালোবাসা,
দাও নিরাপদ আশ্রয়, স্নেহের ভাষা।
শেখাও সত্য, শেখাও ন্যায়,
দাও আলোর পথ, দাও হৃদয়ভরা দয়া।
রাসূল বলেছেন — “দয়া করো তাদের প্রতি,”
যেমন চাও রহমত তোমার অন্তরে অতি।
হে শিশুপুণ্য! হে শিশুপুণ্য!



পিতা-মাতা! এ তোমাদের দায়,
সন্তানের হাসিতে বাঁচে পৃথিবী হায়।
অবহেলা নয়, নয় তিরস্কার,
তোমার দয়া-ভালোবাসা তাদের অধিকার।
অন্যায় করলে কাঁদে আসমান,
হারিয়ে যায় আশীর্বাদের মান!
হে শিশুপুণ্য! হে শিশুপুণ্য!


যে রাখে সন্তানের অধিকার ঠিক,

সে ঘর জান্নাতের মতো দ্যুতিময় দিক।
যে মুছে দেয় অবহেলার ধোঁয়া,
তার ঘরে ফেরেশতা পাঠায় দোয়া।
শিশুর চোখে যে সুখের আলো,
তা-ই মানবতার সত্য ভালো!
হে শিশুপুণ্য! হে শিশুপুণ্য!


তুমি নিষ্পাপ ফুল, তুমি স্নিগ্ধ প্রভাত,

তোমার হাসিতে জাগে নবজীবনের রাত।
তুমি আল্লাহর দান, চির প্রেরণা,
তুমি ন্যায়ের আলো, নব পথের বীণা।
তুমি কাঁদলে কাঁপে হৃদয় আকাশ,
তুমি হাসলে থেমে যায় সকল হতাশ!
হে শিশুপুণ্য! হে শিশুপুণ্য!


হে সন্তানের অধিকার রক্ষাকারী জন,

তুমি প্রিয় আল্লাহর কাছে মহান মন।
যে ভালোবাসে শিশুর প্রাণ,
সে পায় জান্নাতের সুললিত স্থান।
অবিচারকারী হারায় সব দান,
ন্যায়পরায়ণ পায় পরম মান।
হে শিশুপুণ্য! হে শিশুপুণ্য! হে শিশুপুণ্য!

---------------------------------------------------

বন্ধুর প্রভাব

 বন্ধুর প্রভাব

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর

********************************
বন্ধুর প্রভাব হোক ইমানের আলো,
হৃদয়ে বাজুক দাওয়াতের মধুর ছলো।
বন্ধুর সাথেই চলা হোক আলোর ঝলকেল,
নেকির পথে জীবন হোক প্রতিদিনের খেল।


সত্যি বন্ধু ডাকে খোদার পথে,
মিথ্যা বন্ধুর ছায়া দূরে থাক হিয়েতে।
নেকি দিয়ে পথ চলা, রহমত হোক সাথী,
বন্ধুত্ব হোক সালাহ-এর আলোতে স্থায়ী।


হৃদয় জাগুক দরুদ, ভরে উঠুক দয়া,
বন্ধুর সাথেই জীবন হোক আখেরাতের পাক।
যেখানে সত্যি বন্ধু, সেখানে আছে বারকাহ,
নেকী আর সাহচর্য ছড়ায় আলোর আলোয়।


বন্ধুর সাথে কথা হোক হিকমাহ ও সত্যে,
প্রিয় বন্ধুর ছোঁয়া দূর করে দুঃখের ময়দানে।
মিথ্যা বন্ধুর প্রভাব থেকে মুক্তি পেতে শিখো,
সত্যি বন্ধুর সাথে থাকুক হৃদয় ভরে নূর।


বন্ধু হোক মুহাব্বতে ভরা, পথে চলুক পথচারি,
সাথে চলুক শুকরানাহ আর দোয়া, আলোকরেখায়।
বন্ধু হোক প্রেরণা, নেকি হোক সাথী,
আলোর ছায়া নিয়ে কাটুক প্রতিটি রাত হরাশি।


বন্ধুর প্রভাব হোক ইমানের আলো,
হৃদয়ে বাজুক দাওয়াতের মধুর ছলো।
বন্ধুর সাথেই চলা হোক আলোর ঝলকেল,
নেকির পথে জীবন হোক প্রতিদিনের খেল।

----------------------------------------------

নারীর মর্যাদা

 

নারীর মর্যাদা

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর

*****************************

আলহামদুলিল্লাহ, নারীই মর্যাদা,
হকীকা, ফিরদৌসের সোনালী আভা।
ফিজা-ই-ইমানে উজ্জ্বল তারা,
নারী-মর্যাদা, আল্লাহর সেরা ধারা।


কোরআন বলে, সুরা আন-নিসা, আয়াত স্পষ্ট বলা,
মুক্ত, হাকিম, সদগুনী নারী, সম্মানিত যেন সবার মেলা।
হাদিসে নবী (সা.) বলেছেন, পবিত্রতার প্রতীক নারী,
স্বর্গ মায়ের পায়ে নিহিত, সেবা ও শ্রদ্ধা হোক হর মুহূর্তে।


আলহামদুলিল্লাহ, নারীই মর্যাদা,
হকীকা, ফিরদৌসের সোনালী আভা।
ফিজা-ই-ইমানে উজ্জ্বল তারা,
নারী-মর্যাদা, আল্লাহর সেরা ধারা।


বিয়েতে অধিকার তার, দেহমহর হক-অর্জন,
মর্যাদার শৃঙ্খল ধরে, জীবন হোক শান্তির গান।
হাদিসে বলা, স্ত্রীর সম্মান রক্ষা করো,
নবী (সা.) বলেছেন, সদয় হও, নারীকে দাও সম্মান, সবার আগে।

আলহামদুলিল্লাহ, নারীই মর্যাদা,
হকীকা, ফিরদৌসের সোনালী আভা।
ফিজা-ই-ইমানে উজ্জ্বল তারা,
নারী-মর্যাদা, আল্লাহর সেরা ধারা।

নারী শুধু সৌন্দর্যেরই নয়, জ্ঞানী, সাহসী, নাজুক মন,
আল্লাহর সৃষ্টির রঙিন ফুল, পবিত্রতার নিদর্শন।
নারীর জীবন, জ্ঞান ও মর্যাদা,
সকল হৃদয়ে জাগুক পূর্ণ সৌন্দর্যতা।

আলহামদুলিল্লাহ, নারীই মর্যাদা,
হকীকা, ফিরদৌসের সোনালী আভা।
ফিজা-ই-ইমানে উজ্জ্বল তারা,
নারী-মর্যাদা, আল্লাহর সেরা ধারা।

ইসলামী নীতি, হিকমতের আলো, পথে চলুক নারী,
সবার জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে, হোক আলোর প্রতীক।
সকল দুনিয়ায় মর্যাদা হোক অমলিন,
নারীর মর্যাদা, আল্লাহর রহমতে হোক চিরদিন।

আলহামদুলিল্লাহ, নারীই মর্যাদা,
হকীকা, ফিরদৌসের সোনালী আভা।
ফিজা-ই-ইমানে উজ্জ্বল তারা,
নারী-মর্যাদা, আল্লাহর সেরা ধারা।

--------------------------------------------

স্ত্রীর অধিকার

 স্ত্রীর অধিকার

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

****************************


হাকিম আল্লাহ, রহমতুল্লাহ,
স্ত্রীর অধিকার, রাখো ঘরে আল্লাহ।
মেহর ও ইকবাল, প্রেমের সাদাক,
মকান হোক নূরানী, হৃদয় ভরে ইমান।


বিয়ে হলো রহমতের বাঁধন,
স্ত্রীকে দাও সম্মান, দাও হৃদয় মধুর গান।
দেহমহর দাও, হোক ঘরে শান্তির আলো,
ভালবাসার বৃষ্টি, ঝরে হৃদয়ের তালে তাল।


মুহাব্বত ও ইকবাল, থাক সবসময় সাথে,
সহমর্মিতা দাও, হোক সুখের বাতাসে বাতি।
অন্যায় থেকে রক্ষা করো, দাও সদা সহানুভূতি,
স্ত্রীর অধিকার পালন করো, আল্লাহর রহমত হবে সত্যি।


ধৈর্য আর সদাচার, মেহর ও শাফকত,
প্রণয়-বান্ধনে হোক আল্লাহর বরকত।
সদা সহমর্মিতা, হৃদয় ভরে ইকবাল,
জীবন হোক আলো, সুখের পথ হোক মাল।

ভালোবাসার বন্ধনে থাকো সবদা মধুর,
গৃহে হোক শান্তি, হৃদয়ে আল্লাহর নূর।
মুহাব্বত ও দয়া মিশুক হৃদয়ের ধারা,
স্ত্রীর অধিকার পালন কর, হোক জীবন সারা।


হাকিম আল্লাহ, রহমতুল্লাহ,
স্ত্রীর অধিকার, রাখো ঘরে আল্লাহ।
মেহর ও ইকবাল, প্রেমের সাদাক,
মকান হোক নূরানী, হৃদয় ভরে ইমান।

-------------------------------------------

মৃত্যু

 

 মৃত্যু

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
---------------------------------------------- 


আল-মাউত আসিবে একদিন — লুকাইতে পারিবে কে বল?  

কুল্লু নাফসিন জায়িকাতুল — মৃত্যু তাহার কদর ফল! জীবনের সব রঙিন রাহে — ফানাহ্‌র ছায়া রয়, দুনিয়ার রঙ মিথ্যা সুখে — আল্লাহর জিকিরে ভয়।



মালাকুল মাউত আসিবে যখন — নিস্তব্ধ নিশিতে নীরব,  

রূহ টানিবে সে ধীরে ধীরে — মুমিনের মুখে তাহা রব। সালামুন আলাইকুম বলিবে — জান্নাতের দরজায় হুকুম, যে রূহে ছিল ইখলাস নিখালস — তাহারেই রহমত নূরুম।



আল্লাহু, আল্লাহু, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্‌  

রূহ উড়িবে নূরের ছায়ায়, জান্নাতে হবো রাহ্‌। ইয়া রহমান, ইয়া গফফার, ইয়া মালিকুল মাওত! মৃত্যুর ক্ষণে দাও ঈমান, দাও শান্তির নূর আলোক।

ওহে জালিম, কাফের দুনিয়া — মরবে তুইও একদিন,  

গামারাতুল মাউতের ব্যথা — জানিবি নিশিতে হীন। লৌহী কলমে লিখা রহে — কদরতে মাওলারের হুকুম, আখিরাতে হিশাব দিবি — লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্‌র দুম।



হায়াত ফানি, দুনিয়া ধোঁকা — মাল-ধন কিছুই নাহি,  

মাউতের পরে কবর-মাঝে — প্রশ্ন করিবে মুনকার নাকির ভাই। রব্বি মান রব্বুক, মান দীনুক — কিসের জবাব দিবি? নবী কে তোর? কোথায় আমল? — ও মুমিন! ভাবিয়া লিখবি।



আখিরাতের সফর লম্বা — জান্নাত বা জাহান্নাম ঠিকান,  

যে আল্লাহর পথে চলিছে — তাহার জন্য রহমত জান্নাত-জামান। ইয়াওমুল হিসাবের ভয় মনে — জিকিরে রত থাক, মৃত্যুর আগে তওবা করো — আল-মাউতের ডাক!



আল্লাহু, আল্লাহু, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্‌  

রূহ উড়িবে নূরের ছায়ায়, জান্নাতে হবো রাহ্‌। ইয়া রহমান, ইয়া গফফার, ইয়া মালিকুল মাওত! মৃত্যুর ক্ষণে দাও ঈমান, দাও শান্তির নূর আলোক।
---------------------------------------------

মসজিদের আলো

 

মসজিদের আলো

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**************************************

মসজিদের আলো নূরুন আ’লা নূর,

আল্লাহর ঘর রহমতের হুর।
সিজদায় কাঁদে মুমিন প্রাণ,
রবের দরবারে শান্তির গান।

আল্লাহু আকবর — সালাতের নূর,
রাহে হকেতে বরকত ভরপুর।


মিহরাব-মিম্বারে জিকিরের সুর,

তাসবিহে বাজে প্রেমের নূর।
ওজুতে মুছে গুনাহের দাগ,
রুহে ভেসে যায় প্রেমের আগাগ।

দিল কা সুকুন — মসজিদ কি রাহ,
নূরে ঈমান — ইশকে খোদা কি চাহ।

আল্লাহু আকবর — সালাতের নূর,
রাহে হকেতে বরকত ভরপুর।


এই ঘর নয় রাজনীতির ময়দান,

এ ঘর তাওহিদের, ইমানের গান।
মসজিদে বেচা-কেনা গুনাহ বড়,
এখানে শুধু ইবাদতের ডোর।

মসজিদ আল্লাহর ঘর ভাই,
তাঁর নাম ছাড়া কিছু নাই।


জুতা খুলে ওজু করে ঢোকো,

হৃদয়ে নূর, মনটা শোকো।
হাসি নয়, নয় ব্যস্ত বাণিজ্য,
এ ঘর শান্তির, ইখলাস মজিজ।

আদব সে বেঁঠ, দিল কো কর সাফ,
এটাই ইবাদত, এটাই ইনসাফ।


আল্লাহু আকবর — সালাতের নূর,
রাহে হকেতে বরকত ভরপুর।


মসজিদের মিনার আলোর দীপ,

জান্নাতের পথে রাখে উঁচু নীচ।
যে ভালোবাসে এ ঘর প্রাণে,
আল্লাহ রাখেন জান্নাতের টানে।

মসজিদ দিল-এ মোমেন, খানায়ে নূর,
জিকরে খোদা, সাফায়ে হুজুর।


হে পরওয়ারদেগার, কর দাও তাওফিক,

মসজিদের প্রেমে থাকি সারাবিক।
নূরে ইমান জ্বালো হৃদয়-মাঝে,
চিরজীবন কাটুক নামাজে নামাজে।

আল্লাহু আকবর — সালাতের নূর,
রাহে হকেতে বরকত ভরপুর।

-----------------------------------------------------

Wednesday, October 22, 2025

পিতা - মাতার অধিকার

 

পিতা - মাতার অধিকার

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*******************************


ওহে আল্লাহ! তোমার রহমত ভরে থাকুক প্রাণে,
আম্মা বাবা, তোমার হক হোক চিরন্তন মানে।


মা’ফা বলি মা’কে, কষ্টে ভরা চোখে দোয়া,
বাবার বরকত ছাড়া নেই পথ, জানো প্রিয় রাব্বা
ফিরদৌসের দোয়া’র দিশা তাদের জন্য খোলা,
আমার জীবন হোক তাদের ইহসান রক্ষা করা।


নম্রতা ভরা বাণী, শ্রদ্ধার স্পর্শ হৃদয়ে,
বৃদ্ধা মা, ক্লান্ত বাবা, দয়া করো চিরন্তন পথে।
হুমায়ুন রাহিম! দোয়া করি প্রতিদিন,
পিতা-মাতার জন্য হোক জীবন অমলিন।


আল্লাহু আকবার! দোয়া করি প্রতিদিন,
রব্বি আরহাম হুমা জপে হোক প্রাণের বিন্দু বিন্দু।
উর্দু নামাজ, ফারসি দোস্তি, আরবি জিকিরের আলো,
পিতা-মাতার সম্মান হোক আমার জীবনময় আলো।


কোরআনের আলো, আয়াতের রাহনুমা,
পিতা-মাতার হক পূরণে হোক চিরন্তন অনুসরণ।
বৃদ্ধাবস্থায় যত্ন, শ্রদ্ধা, দয়া প্রদর্শন,
নম্রতা ও কৃতজ্ঞতা হোক জীবনজুড়ে ইহসানের প্রাণ


আল্লাহু আকবার! দোয়া করি প্রতিদিন,
রব্বি আরহাম হুমা জপে হোক প্রাণের বিন্দু বিন্দু।
উর্দু নামাজ, ফারসি দোস্তি, আরবি জিকিরের আলো,
পিতা-মাতার সম্মান হোক আমার জীবনময় আলো।

-------------------------------------------------

নারীর অধিকার

 

নারীর অধিকার

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*******************************


নূর-এ-হক থেকে এলো আলো,
জুলমের বন্ধন ভেঙে খোলো;
ওলাকাদ কররমনা বানী আদাম,
বলেছে কোরআনের বাণী,
নারীও মর্যাদার প্রাণী। 



হে বোন, তুই জান্নাতের ফুল,
রব দিয়েছে তোর মুখে নূরের কুল।
আর রিজালু কাওয়ামুন আলান নিসা,
নেতৃত্ব মানে নয় জুলম বা সা;
দায়িত্বে আছে প্রেম ও দয়া,
ইসলামের পথে সবার মায়া। 



তুইও পেতে পারিস হক্কের মিরাস,
লিল রিজালি নাসিবুন, ওয়াল নিসাই নাসিবুন,
বলেছে কোরআনের আভাস।
তোর পরিশ্রম, তোর মেহনত ফল,
রবের দুনিয়ায় তোরই দোল। 



বিবাহে আছে মোওয়াদ্দাহ ও রহমাহ,
মহব্বত ও রহমা — প্রেম ও করুণা।
স্ত্রী নয় দাসী, সে হিফাজতের চাঁদ,
তারই দো‘আয় শান্তি পায় ঘর-বাঁধ। 



খাদিজা, আয়েশা, উম্মে আসমা নাম,
ইমানের পথে দিলো প্রাণ ও সালাম।
মু’মিনাতুন সাদিকাতুন, দীপ্ত বানী,
সত্য নারীর ত্যাগে জ্বলে কোরআনের পানি। 



ইলমের রাহে চল হে বোন,
ইলম ও আদব কি রাহে চল,
জ্ঞান ও শরাফতের তোর মন,
নূর-এ-ইলমে তুই রতন। 



ইন্না আকরামাকুম ইন্দাল্লাহি আতকাকুম,
বলেছে কোরআনের মূল হুকুম;
পরহেজগার যার অন্তরখান,
আল্লাহর কাছে তারই মান। 



না নারী হীন, না পুরুষ মহান,
উভয়ই রবের সৃষ্টি এক জান।
আদল ও ইনসাফে রাখো মন,
ইসলাম শেখায় — ন্যায় প্রেমে জীবন। 


হে আল্লাহ, দাও তুই নূর ও হেদায়াত,

নারী রাখো তুই ইজ্জতের সাথ।
দুনিয়া জুড়ে ছড়াক সুবহান নাম,
নারীর অধিকার — ইসলাম-এর কাম। 

-----------------------------------------------

বারযাখ

 

বারযাখ 

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
************************************

আল্লাহু আল্লাহু... আল্লাহু আল্লাহু...
মৃত দেহে নীরবতা, প্রাণ ফেরে না দেহে,
রুহে ডাক পড়ে — “ইলাহী! ফিরিও আমায় সে পথে!”
নফস কাঁদে আকুতি নিয়ে, তাওবা আর্তনাদে,
কিন্তু ফেরে না জীবন আর — বারযাখে পড়ে সে।


বলে ফেরেশতা দুই — মুনকার আর নাকীর,

“রব্বুকা মান?” — ধ্বনি ওঠে গহ্বরের গহীরে।
“দীনুকা মা?” — বাজে কণ্ঠ আখিরতের দেশে,
“নাবিয়্যুকা মান?” — প্রশ্ন ওঠে আল্লাহর আদেশে।


মুমিন বলে দৃঢ় কণ্ঠে — “রব্বি আল্লাহু!”

নবী আমার — “মুহাম্মাদ ﷺ”,
দীন আমার — “ইসলামু।”
জান্নাতের সুবাস আসে, কবর হয় রওযা,
রহমতের ছায়ায় ঘেরা — নূরের আলো বওয়া।


আর কাফির কাঁপে ত্রাসে — হাসরা ও আফসোসে,

আগুনে জ্বলে গাফিরে বলা ফিরআউনের বেশে।
সকাল-সন্ধ্যায় আগুনে দাহ — আয়াতের ইঙ্গিতে,
“কাল্লা সওফা তা’লামুন” — কোরআনের বাণীতে।


ইবরাহিমের আয়াতে বলে —

আল্লাহ দৃঢ় করেন মুমিন জবান,
কবরের অন্ধকারে জ্বলে — তাওহীদের ইমান।
তুমি যদি তাওবা করো, ইস্তেগফার আনো,
রবের রহমত তখনই — রুহে সান্ত্বনা দান করে জানো।


দুনিয়া মিছে তাকাসুরে মত্ত,

ভুলে যেও না — আখিরাতের সত্য।
জীবন ক্ষণিক, মৃত্যু চিরন্তন,
বারযাখের রাতেই হবে তোমার পরীক্ষণ।


আল্লাহু আল্লাহু... আল্লাহু আল্লাহু...

ইলাহী! রহম কর আমায়...
আল্লাহু আল্লাহু... আল্লাহু আল্লাহু...
কবরের প্রশ্নে রাখো দৃঢ় আমায়...

--------------------------------------------------

নগ্নতার ঢেউ

 নগ্নতার ঢেউ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

****************************

নগ্নতার ঢেউ বয়ে যায় বুকে ভয়ানক,
অশ্লীলতার ছায়া ঘিরে রেখেছে অমারক।

চোখ বুজি দেখি অনলাইন পাতায়,
অধনগ্ন দৃশ্য ভেসে ওঠে অগণিত প্রাণায়।

মাত নত হয় হৃদয় নীরব নিঃশব্দে,
নৈতিক চরিত্র ঝরে পথে, ভেসে ফেলে ক্ষণিকে।

পরিবারের মাঝে ফেইসবুকের ছায়া,
নির্লজ্জ নগ্নতা গ্রাস করিছে সভ্যতায়।

ম্যাসেঞ্জারে আদান-প্রদান ছবি খোলা,
বিনা বিবাহে চাষাবাদ মেলে যৌন ঢোলা।

তরুণ তরুণী উন্মাদ ন্যাংটা কুকুরের মতো,
বিয়ের আগেই যৌন চাহিদা মেলে খোলা।

প্রেমের নাম চলে রঙ্গ লীলায়,
লজ্জা বিদায় নেয়, নৈতিকতা হয় শূন্য কূলে।

নগ্ন দৃশ্য ভরে চোখ, মন ভয়ানক,
মানব চরিত্র ক্ষয় পায় নিঃশব্দে অচেনা।

শুধু চাহিদা মিটে, সম্পর্ক হয় ভাসা,
অবক্ষয়িত হৃদয় পায় ব্যথার ছায়া।

নগ্নতার ঢেউ যেন নগরে নগরে,
লজ্জার লবণ মুছে দেয় চরিত্রে ভরে।

অশ্লীল সভ্যতা ঘেরায় মানবকে,
ভালো চরিত্র ফিরে আসুক অন্তরে।

পরিবার, বন্ধু, সমাজ—কেউ নয় সচেতন,
সবাই মগ্ন চাহিদার মায়াজালে বেঁধে অমৃতেন।

নিমেষে নিমেষে নব পরিচয়ে,
হ’লে পরিচিত মোদের হৃদয়ে।

শুধু হাতে হাতে পরশন নয়,
অভিশপ্ত নগ্নতা যেন শাসে দেশে।

বিয়ের আগেই যৌন চাষাবাদ, প্রেমের নাম রঙ্গ লীলা,
লজ্জাবোধ বিদায় নেয়, চরিত্র হয় খোলা।

চোখে চোখে হেসে ওঠে ব্যথা,
প্রাণে প্রাণে জাগুক সতীর্থতার আশা।

নগ্নতার ঢেউ দূরে হোক অমায়,
লজ্জার আলো ঝলমল হোক প্রাণায়।

নির্লজ্জ সমাজের ভয়ানক এই দৃশ্য,
বাঁচুক মানব চরিত্র, জাগুক নৈতিক বীণায়।

------------------------------------------------------

গ্রাম্য মাতব্বর

 গ্রাম্য মাতব্বর

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

---------------------------------------------

গ্রামের মাঠে মাতব্বর উড়ায় লাল পতাকা,
চোখরাঙানি, কুটনীতি—খেলে চলে অমঙ্গলকারা।

মিথ্যা অভিযোগে দগ্ধ হয় নিরীহ পাড়া,
নিরপরাধ মুখে ভয়, হৃদয়ে অশ্রুর ধারা।

দারিদ্র্যের বাতাস ঘুরে আসে ঘরে ঘরে,
অপবাদ ছড়ায় কালো ছায়া, ধ্বংস করে শান্তির ভরে।

হিংসার আগুন পোড়ায় বন্ধুত্বের সেতু,
প্রতিহিংসার ছায়ায় জমে অন্ধকার, দগ্ধ হয় সবেতু।

কৃষক, শ্রমিক, ক্ষুদ্র পরিবার,
মাতব্বরের ছলাচলে নিভে আশা, ভাঙে স্বপ্নঘর।

অপমানিত মর্যাদা, ক্ষয় হয় আত্মবিশ্বাস,
নিরীহ প্রাণ পুড়ে ছাই, ফাঁকা থাকে আকাশ।

মহিলা ও শিশু, স্বপ্নময়, নিরপরাধ,
প্রায়ই পড়ে হেনস্থার খাতে, রক্ষা নেই কোনো হাত।

হয়রানি, দমননীতি, প্রতারণা, স্বার্থপরতা,
গ্রামে মানুষের জীবন ভেসে যায় ধ্বংসের নদীপথে।

দলীয় স্বার্থ, পিতৃতান্ত্রিক অহংকার,
ন্যায়ের আলো ম্লান করে, আশা নষ্ট করে বারবার।

আজিকার মাতব্বর? সে কখনও নিরপেক্ষ নয়,
লোভ, পক্ষপাত, আত্মকেন্দ্রিকতা—মানুষকে দেয় নয়।

মিথ্যা প্রতিশ্রুতি, ফাঁকি, অপদস্তকরণ,
নিরীহ জীবনে জমে থাকে ছলাচাতুরি, খোরাকরণ।

সংকট, ভীরু গ্রামবাসী গুরু গর্জায়,
পশ্চাৎ-পথে সন্দেহ জাগে—কোন দিকে যাবে জাতি আজায়?

কাণ্ডারী! তুমি ভুলিবে কি পথ? ত্যজিবে কি ন্যায়-মাঝ?
অবিচার, হানাহানি, লোভ—মাতব্বর টেনে নেয় শাসনের মহাভার-মাঝ।

ফেনাইয়া উঠে বঞ্চিত বুকে অভিমান,
নিরীহ আশা থাকে শুধু ধ্বংসের তলে-মান।

চোখরাঙানি, অহঙ্কার, কুটনীতি, প্রতারণা,
ক্ষমতার লোভ—মানুষ হয় সরঞ্জাম, শুধু ধ্বংসনা।

ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়ায় যারা জীবন দিয়েছে প্রমাণে,
অলক্ষ্যে দাঁড়ায় সাধারণ—কেউ দেয় না বলিদান-প্রমাণে।

হে মাতব্বর! দেখো, নদী ভরেছে রক্তে,
শিশু, নারী, মানুষ—তোমার লোভে পুড়ে ফেটে।

মিথ্যা মামলা, হয়রানি, দমননীতি, অপবাদ,
গ্রামের জন নীরব, হৃদয়ে জ্বলে বিদ্রোহের আগুন-বাদ।

অসহায় জাতি ডুবিয়া মরিছে, জানে না কোন তরণ,
কাণ্ডারী! দেখো আজ, মাতৃমুক্তি হোক না তরণ।

হিন্দু বা মুসলিম? জিজ্ঞাসে না কোন জন,
কাণ্ডারী! বল, ডুবিছে মানুষ, সন্তান মোর মার-জন।

কিন্তু গভীরে, ঘরে-বাড়িতে চুপচাপ জ্বলে,
বিদ্রোহের আলো—দিন আসবে, সত্যের ঝড় বয়ে যাবে ঢলে।

-------------------------------------------------------------

Tuesday, October 21, 2025

উদিয়মান সূর্য

 উদিয়মান সূর্য

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর

**********************************

মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ

ব্যক্তিগত তথ্য

  • পূর্ণ নাম: মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ

  • পিতার নাম: মৃত ইব্রাহিম খান

  • মাতার নাম: মৃত ফিরোজা খাতুন

  • জন্ম তারিখ: এক মে এক হাজার নয়শো বত্রিশ (০১/০৫/১৯৭২)

  • জাতীয় পরিচয়পত্র নং: সাত কোটি পঁচাত্তর লাখ আট হাজার ছয়শ ছয়ষট্টি

  • বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম রাউতকোনা, ডাকঘর কাপাসিয়া, ইউনিয়ন কাপাসিয়া, উপজেলা কাপাসিয়া, জেলা গাজীপুর

শিক্ষাগত যোগ্যতা

  • এমএসএস (রাষ্ট্রবিজ্ঞান), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

  • এলএলবি, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

  • প্রাথমিক শিক্ষা: রাউতকোনা প্রাইমারি স্কুল

  • মাধ্যমিক শিক্ষা: কাপাসিয়া সরকারি হাই স্কুল, ১৯৮৮

  • উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা: ঢাকা কলেজ, ঢাকা

  • বিশ্ববিদ্যালয় আবাসন: স্যার এ এফ রহমান হল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়

  • বর্তমান পদ: সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান (রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ), মিজানুর রহমান খান মহিলা ডিগ্রী কলেজ, শ্রীপুর পৌরসভা সদর, গাজীপুর

  • সাবেক পদ: ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ, মিজানুর রহমান খান মহিলা ডিগ্রী কলেজ, শ্রীপুর পৌরসভা সদর, গাজীপুর

রাজনৈতিক পরিচয়

  • যুগ্ম মহাসচিব, ভাসানী জনশক্তি পার্টি, কেন্দ্রিয় কমিটি

  • সাবেক মহাসচিব, বাংলাদেশ ডেমোক্র্যাটিক পিপলস পার্টি (বিডিপিপি)

  • সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য, বাংলাদেশ পিপলস পার্টি (বিপিপি)

  • সাবেক সদস্য সচিব, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষক দল, গাজীপুর মহানগর সদর মেট্রো থানা

  • সাবেক শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক, কাপাসিয়া ইউনিয়ন বিএনপি

সামাজিক পরিচয়

  • সাবেক সভাপতি, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন), কাপাসিয়া উপজেলা শাখা

  • সাবেক সভাপতি, কাপাসিয়া উন্নয়ন পরিষদ (কাউপ)

  • সাবেক ছাত্রনেতা, কাপাসিয়া ডিগ্রী কলেজ

  • সাবেক ছাত্রনেতা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, এফ রহমান হল

  • ফ্যাসিস্ট হাসিনা বিরোধী আন্দোলনে গণতন্ত্র মঞ্চের পরিচিত মুখ

  • ************************************************************************

    উদিয়মান সূর্য

    -----------------------------------------

    উদিয়মান সূর্য,
    কাপাসিয়ার মাটি তোমার ছায়া ভেসে যায়।
    তুমি হেঁটে যাও নীরব পথ ধরে,
    মাটির গন্ধে ভরা সকাল, শিশিরভেজা ধানের মাঠ।

    ছাত্র নেতা তুমি,
    নব প্রজন্মের চোখে তুমি দীপশিখা।
    দক্ষ সংগঠক, নিঃসঙ্গ পরিকল্পনায় অনন্য,
    সমস্যার অন্ধকারে তুমি আলোর পথ দেখাও।

    আলোকিত শিক্ষক,
    ক্লাসরুমের নিঃশব্দ কক্ষে তুমি
    জ্ঞান ছড়াও, ন্যায় ও সত্যের দীপ জ্বালো।
    হৃদয় ভরে জনতার কষ্ট,
    নিরাশ্রয় ও নিঃস্বার্থে ভালোবাসা ছড়াও ছায়ায়।

    প্রতিজ্ঞাবদ্ধ তুমি,
    অটল ন্যায়ের সৈনিক,
    লাল সবুজের চেতনা হৃদয়ে ধারণ করে।
    মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি তোমার চোখে জাগে,
    স্বাধীনতার গান বাতাসে ভেসে যায়।

    নীরব সন্ধ্যার মধ্যে তুমি বসো,
    চুপচাপ চোখে প্রজন্মের আশা আঁকো,
    সমাজ ও দেশের প্রতিটি কোণে তুমি আলোর রেখা।
    অন্ধকার দূরে, সত্যের আলো কাছে,
    উজ্জ্বল হয়ে ওঠে কাপাসিয়ার প্রতিটি গলি।

    উদিয়মান সূর্য, তুমি কৃতি সন্তান,
    তোমার হেঁটে যাওয়া পথ যেন মাটির গভীরে লেখা।
    প্রজন্মের হৃদয়ে জন্মাও আশা,
    মাটির মিশ্রণ, শিশিরের খোঁচা, ঝর্ণার নীরব গান।

    তুমি হেঁটে যাও নীরব,
    কিন্তু প্রত্যেক পদক্ষেপে জাগে আশা।
    ছাত্র, নেতা, শিক্ষক—সবই তোমার সঙ্গে হেসে যায়,
    কাপাসিয়ার প্রিয় সন্তান,
    উদিয়মান সূর্য, চিরন্তন আলো।

  • -----------------------------------------------------------

বিপ্লবের অর্জন

 

বিপ্লবের অর্জন

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*********************************

হে বিদ্রোহী শিক্ষক! জাগো, জাগো প্রহরী,
তোমার অঙ্গীকারে বাজে সত্যের তীর ধরি।
ক্লাসরুম নয়, এ মহাবিপ্লবের মঞ্চ,
প্রতিটি পদে ফোটে ন্যায়ের অমলঞ্চ।

একতাই অস্ত্র, একতাই তোমার শক্তি,
ভালোবাসার শক্তি ভাঙে না কখনোযাত্রী।
হাতে হাতে বন্ধন, হৃদয়ে হৃদয় শিখা,
অদম্য চেতনা জাগায় শিক্ষার দীক্ষা।

দূষিত শক্তি আসে লাঠি হাতে,
তোমাদের দৃঢ়তায় ভেঙে যায় ব্যাধি রাতে।
ইস্পাত কঠিন হয় বিপ্লবীর বন্ধন,
সত্য-ন্যায় রক্ষা করে জাগ্রত অঙ্গন।

ধরো পথে, করো অটল শপথ,
প্রতিটি প্রতিবন্ধকতা হবে তুচ্ছ কল্প।
বিপ্লবী শিক্ষক! কল্যাণে জেগে জনতা,
একতায় গড়ে নতুন যুগের প্রহরতা।

শিক্ষা নয় শুধু পাঠ, স্বাধীনতার ধ্বজা,
প্রতিটি শিকড় থেকে উঠে সমাজের গর্জা।
বিদ্যাপীঠ নয়, এ বিপ্লবের প্রাণ,
সত্য-ন্যায় দগ্ধ আলোয় জ্বলে মান।

সাধুবাদ হে বিদ্রোহী! তেজস্বী প্রাণ,
তোমার সংগ্রামে জ্বলে সমাজের মহান জান।
যদি সত্য-ন্যায় থাকে চিরন্তন মন্ত্রে,
বিপ্লবের অর্জন হয় অমর, অম্লান তন্ত্রে।

বিক্ষুব্ধ অন্ধকার দূরে হটে,
তোমার আলোর শিখা গগনে ভেসে উঠে।
অশ্রু-রক্ত মিশে হয় এক অমর ইতিহাস,
বিপ্লবী শিক্ষকের তরে জাগে নতুন আশা।

-----------------------------------------------------

অবুঝ প্রেমের পরিণতি

 অবুঝ প্রেমের পরিণতি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর

***************************************

তুমি এসেছিলে — এক বিকেলের মেঘে,
চুলে রোদ, চোখে ছিল নদীর ঢেউয়ের মতো স্বপ্ন।
আমি তখন অবুঝ — ভালোবাসা মানে কী, জানতাম না,
তবু তোমার হাসিতে কেমন এক আলো জ্বলে উঠেছিল অন্তর তলে।

স্কুলের পথে হাত ছুঁয়ে যাওয়া হাওয়ায়
আমি ভেবেছিলাম, এ-ই বুঝি চিরন্তন বন্ধন!
তুমি বলেছিলে — “ভালোবাসা মানেই বাঁচা।”
আমি বিশ্বাস করেছিলাম শিশুর মতো নিঃস্বার্থ মনে।

তারপর ধীরে ধীরে সময়ের কুয়াশা নামল,
ফেসবুকের ছবিতে দেখলাম তুমি অন্য কারও সঙ্গে —
আমি বুঝিনি, প্রেম কতো সহজে বদলে যায়,
কতো সহজে একটা হৃদয় অন্যের চোখে হারিয়ে যায়।

রাতগুলো দীর্ঘ হতে লাগল —
বালিশ ভিজে যায় চুপিচুপি, কারও চোখে পড়ে না।
মনের মধ্যে এক ভয়ানক শূন্যতা জন্ম নিল,
যেখানে স্বপ্নও ভাঙে নরম কাচের মতো শব্দহীন।

বন্ধুরা বলে — “ভুলে যা!”
কিন্তু ভুলে থাকা কি এত সহজ?
তোমার কণ্ঠ এখনো ভেসে আসে
বৃষ্টির শব্দে, ভেজা জানালার কুয়াশায়,
যেন প্রতিটি ফোঁটায় তোমার নাম লেখা আছে।

অবুঝ বয়সের প্রেম —
যেখানে যুক্তি নেই, কিন্তু হৃদয়ের ঢেউ আছে;
যেখানে প্রতিশ্রুতি শিশিরের মতো —
ভোর হতেই মিলিয়ে যায় সূর্যের উষ্ণতায়।

আমি আজও মাঝে মাঝে ফিরে যাই সেই দিনে —
স্কুলের বেঞ্চে, নীল খাতার পাতায় তোমার নাম লেখা;
সেই অবুঝ ভালোবাসার দিনগুলো
আমার জীবনের সবচেয়ে মধুর,
আর সবচেয়ে করুণ গল্প হয়ে রইল।

ভালোবাসা আসলে শিখিয়ে দিয়েছে আমাকে —
সব আলোই একদিন অন্ধকারে মিশে যায়;
আর কিছু স্মৃতি, যতই ভোলা যাক,
মন নামের নদীতে চিরকাল ভেসে থাকে।


তুমি ছিলে আমার প্রথম কবিতা,
আর আমি ছিলাম তোমার এক অবুঝ পঙ্‌ক্তি —
যা শেষ হয়নি,
কেবল সময়ের কুয়াশায় হারিয়ে গেছে চুপিচুপি।

------------------------------------------------------------

এসো হে আলো

 এসো হে আলো

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

*********************************


এসো হে আলো, অন্ধকার দূর করো,

হাত ধরে হাত মিলিয়ে মুক্তির গান বাজাও।
গণতন্ত্রের পতাকা উড়াও উজ্জ্বল আলোয়,
ফ্যাসিবাদ, স্বৈরতন্ত্র—সব ভেঙে ফেলে আনো।


দিবসের আলো—পূর্ণিমার মিনার,
অশুভের আঁধার সবাই ডুবে যায় তাহার।
তরুণ ঈশান, বাতাসে ঘোরাও প্রলয় বাণী,
ধ্বংস নয়—জাগরণ উড়ুক প্রাচীর ভেদে সাঁনী।

কারার লৌহকপাট ভেঙে ফেলো দেখি,
শিকল ছিঁড়ে দাও—পাষাণ পূজো মাটি-ঢাকি।
গণতন্ত্রের পতাকা উড়ুক উঁচু, বিহঙ্গস্বরে,
স্বৈরতন্ত্র, ফ্যাসিবাদ—বিমূঢ় করে ছার করো দেশে।


এসো হে আলো, অন্ধকার দূর করো,
হাত ধরে হাত মিলিয়ে মুক্তির গান বাজাও।
গণতন্ত্রের পতাকা উড়াও উজ্জ্বল আলোয়,
ফ্যাসিবাদ, স্বৈরতন্ত্র—সব ভেঙে ফেলে আনো।


গাজনের তালে উঠুক সত্যের মুক্তি নৃত্য,
কে মালিক, কে আরাজ্য—না, নয় সে গন্ধ মিথ্য।
হাস্য যেন জয়ধ্বনি—উঠুক কণ্ঠে হাসির ঢল,
ঝড়ে ভেসে যাক ভ্রান্তি, অমানবতার সব বল।

ওরে পাগলা ভোলা, দাও বদলে নতুন দোলা,
জোরে ধরে ঐচ্ছে—হৃদয় খোলে মুক্তির পালা।
কাঁধে বাজে ঢাক, কণ্ঠে ওঠে মুক্তির ডাক,
জীবনের গান, স্বাধীনতার সুর—হোক আগাইয়াছে পাক।


এসো হে আলো, অন্ধকার দূর করো,
হাত ধরে হাত মিলিয়ে মুক্তির গান বাজাও।
গণতন্ত্রের পতাকা উড়াও উজ্জ্বল আলোয়,
ফ্যাসিবাদ, স্বৈরতন্ত্র—সব ভেঙে ফেলে আনো।


কালবোশাখী নাচে—সততার কাঁটা কেটে যায়,
ভীম মেজেজে নাড়া প্রাচীর—লাঠি নয়, এবার স্বদেশ বলে যায়।
যত বন্দী শালা—মুক্তির আলো জ্বালো মন,
পরাধীনতা হরেছে—নতুন ভোরে মাথা তুলে উঠুক জন।

এসো হে আলো, সাম্যের মশাল জ্বালাও হাতে,
ঐক্যের ডাক দাও—কণ্ঠে- কণ্ঠে বাজাক পথে।
গণতন্ত্রের পতাকা উড়াও—লাল সবুজ ভরলত রাঙা,
ফ্যাসিবাদ গুড়িয়ে ফেলো—স্বাধীনতা জাগুক সবার বাঙা।


এসো হে আলো, অন্ধকার দূর করো,
হাত ধরে হাত মিলিয়ে মুক্তির গান বাজাও।
গণতন্ত্রের পতাকা উড়াও উজ্জ্বল আলোয়,
ফ্যাসিবাদ, স্বৈরতন্ত্র—সব ভেঙে ফেলে আনো।


দুর্নীতিকে না বলো—ন্যায় প্রতিষ্ঠা করো তীব্র,
দেশদ্রোহী বিভাজন উড়িও দূরে—মিলনে হোক তীর।
অসাম্প্রদায়িক দেশ গড়ো—মুক্তির চেতনায় পুষে,
শহীদের রক্তধারা—চির অমল, আলোতে মিশে।

হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীষ্টান, মুসলিম—একই স্বপ্নে মিলুক মন,
ভাগাভাগি নয়, প্রেমেই থাকুক মানবতার পরাক্রমের গমন।
এসো হে আলো, দেশপ্রেমের প্রলয়ে মিলি সবাই,
দিবসের আলো, পূর্ণিমা চাঁদ—সবার আলোকিতই হোক সাজাই।


এসো হে আলো—হাত ধরো মিলি,
“আমার সোনার বাংলা, ভালোবাসি”—বলব উচ্চস্বরে।
অন্ধকার ভাঙো, তুপকে কাঁধে নাও ন্যায়ের লাঠি,
মানব সভ্যতা গড়ি—সত্যের পথে আমরা চলি।

---------------------------------------------