Wednesday, September 10, 2025

মরহুম বাদল লস্কর

 মরহুম বাদল লস্কর

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা,
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
-------------------------------------
মরহুম বাদল লস্কর
গাজীপুরের গর্বিত সন্তান, যাঁর নাম ইতিহাসে অম্লান,
৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে ছিলেন অগ্রসেনানী, সংগ্রামের প্রতীক মানব।
বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা, নেতৃত্বের দীপ্তি,
১৯৭৫-এর পর আওয়ামী লীগ পুনর্গঠনে ছিলেন অদম্য শক্তি।

আইনজীবী হিসেবে খ্যাতি অর্জন, ন্যায়ের পক্ষে ছিলেন সদা সোচ্চার,
ফকির শাহাব উদ্দীন আহমেদের সহচর, আইন ও রাজনীতির মিশ্রণে ছিলেন পারদর্শী।
গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য, বারবার নির্বাচিত,
রাজনৈতিক অঙ্গনে তাঁর অবদান ছিল অতুলনীয় ও অমূল্য।

সহধর্মিণী ছিলেন ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের মহিলা কাউন্সিলর,
বর্তমানে মহিলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি, নেতৃত্বের প্রতীক নারী।
দশ বছর আগে তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন,
তাঁর অবদান চিরকাল স্মরণীয় ও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

মরহুম বাদল লস্করের আত্মত্যাগ ও সংগ্রাম আমাদের পথপ্রদর্শক,
তাঁর জীবন ও কর্ম আমাদের অনুপ্রাণিত করবে চিরকাল।
গাজীপুরের মাটিতে জন্ম নেওয়া এই মহান নেতাকে জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা,
তাঁর স্মৃতি আমাদের হৃদয়ে চিরকাল অম্লান থাকবে, অমর থাকবে তাঁর নাম।


-----------------------------------------------------

অধ্যক্ষ এস এম সানাউল্লাহ

 অধ্যক্ষ এস এম সানাউল্লাহ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা,
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
-------------------------------------
কামড়া গ্রামের মাটি লালিত তার প্রাণের আলো,
মেধা ও কর্মে তিনি ছিলেন সবার মাঝে আলো।
নরসিংদী জামেয়ার হুজুর বড়ের সন্তান গুণে ভরা,
হাফেজ ফয়জুল্লাহ হুজুরের গুণে জীবন সাজানো সারা।

ছাত্রজীবনে ঝলমল করেছিল প্রতিভার দীপ,
বড়গাঁও সিনিয়র মাদ্রাসায় ছিলেন শিক্ষার দীপ।
বাঘুন আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ছিলেন প্রিয়,
চুপাইর আলিম মাদ্রাসায়ও রেখেছেন শিক্ষা ধ্রুব ত্রিয়।

কামড়া মাশক ফাজিল মাদ্রাসার সহ-সভাপতি দুইবার,
হলি ক্রিসেন্ট মডেল একাডেমীর চেয়ারম্যান ছিলেন উদার।
ঘাটকুড়ি বাজার জামে মসজিদের সেক্রেটারি দীর্ঘকাল,
সকল প্রতিষ্ঠান গড়েছেন, জীবন ছিল সর্বদা গুণাবল।

ইসলামিক চিন্তাবিদ, সংগঠক, কবি ও জননেতা,
সদা হাস্যজ্জল মুখে, মন সৃজনশীল এক সূর্যসেতা।
০৬/০৬/২০২২ তারিখে তিনি চলে গেলেন দূরে,
মহান আল্লাহর দরবারে পাই তার শান্তির পূর্ণ ভরে।

দোয়া করি আমরা সকলের, ক্ষমা হোক তার প্রতি,
জান্নাতুল ফেরদাউস দান হোক উঁচু স্থানান্তরে তপ্তি।
স্মরণীয় অধ্যক্ষ এস এম সানাউল্লাহ, আমাদের প্রিয় প্রেরণা,
চিরকালই থাকবে হৃদয়ে তার উদার মন ও সমৃদ্ধ বর্ণনা।
-----------------------------------------------------

বিশ্বস্ত কোষাধক্ষ

 বিশ্বস্ত কোষাধক্ষ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা,
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
-------------------------------------
রাওনাটে জন্মেছে আলোর দীপ জ্বলে,
আনোয়ার হোসেন পাঠানের সততার ঢলে।

সৎ নির্ভীক প্রাণ, কোরআনের আলোয় বাঁধা,
আমানত রাখেন তিনি, খিয়ানতের নয় ছায়া।

আর্থিক লেনদেনে সকলের কাছে গ্রহণার,
সততার পথে হাঁটেন, অসঙ্গের নয় প্রণয়র।

যে পথে রাখি আমি আমার বিশ্বাসের বীজর,
তার হৃদয়ে ফুটে শুধু ঈমানের শীতল তীজর।

ইসলামের আলোয় মর্যাদা থাকে অটলর,
বিশ্বস্ত কোষাধক্ষ, রাওনাটের গর্বিত বল্লভর।

যেখানে থাকেন তিনি, সৎ ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার,
কোরআনের শিক্ষা যেন তার পথে চিরন্তন গীতর।

সকলের কাছে তিনি দৃষ্টান্ত, প্রমাণ সততারর,
রাওনাটে প্রতিদিন জ্বলে তার বিশ্বস্ততারর।
--------------------------------------------

ভবিষ্যৎ আলো

 ভবিষ্যৎ আলো

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা,
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
-------------------------------------
শুনো হে বিশ্ব, রাওনাটের বুক জেগেছে উজ্জ্বল আলো,
মাটির কণায় ফোটে বীজ, বঞ্চিত জনতার হৃদয় হাসলো।
ভোরের কিরণ ছুঁয়েছে নদীর তরঙ্গের কোমল পৃষ্ঠা,
যেখানে প্রতিটি শ্বাসে জাগে স্বাধীনতার অমলিন দৃষ্টি।

পাহাড়ের খাড়াভূমিতে গর্জে ওঠে মুক্তির সঙ্গীত,
বাতাসে ভেসে আসে মানবতার নির্ভীক বাণী অমলিত।
তার পদক্ষেপে কম্পিত হয় পৃথিবীর সব জ্যোতির্ময় শক্তি,
সাবেক বিপ্লবী ছাত্র নেতা, দূর্গাপুরের সভাপতি,
বর্তমান সহ-সভাপতি বি এন পি, মানবতার অমলিন নীতি।

পাতার ফাঁকে শিশির, সূর্যের সোনালী বিন্দু ঝরে,
বিপ্লবী নেতা এই আলোয় আঁকে জীবনের নকশা ভরে।
নদীর ঢেউয়ে নৃত্য করে ইতিহাসের প্রতিচ্ছবি,
অন্ধকারের অন্তরালে জ্বলে প্রতিটি মুক্তির লীলাভূমি।

বৈজ্ঞানিক নিয়মও যেন কর্ণপাত করে তার সঞ্চারে,
প্রকৃতির রঙে ফুটে উঠে মানবতার অমলিন কারুতে।
চাঁদের কোমল আলো ছুঁয়েছে তার বিপ্লবী হৃদয়,
সূর্যের তেজে দহন করে অযাচিত অন্যায়ের ঘরে-দরোজ।

ভবিষ্যৎ আলো, তুমি শুধু আলো নয়, তুমি ঝর্ণা,
মানবতার পিপাসায় তুমি স্বর্ণময় প্রভাতের দোলা।
রাওনাটের বুকে তুমি জন্মেছ, দূর্গাপুরের গর্ব,
অন্যায়ের বিরুদ্ধে তুমিই প্রতিরোধের প্রথম অঙ্কন।

মাটির ভাঁজে বীজ, বাতাসে স্বপ্নের জোয়ার,
তোমার স্পর্শে অন্ধকারও হয় স্বচ্ছ, প্রতিটি ঘর।
নদীর ঢেউয়ে, গাছের ছায়ায়, পাখির গানেও,
তোমার বিপ্লবী সুর বাজে, জাগায় মানুষের অন্তরে আলো।

পৃথিবীর সকল কোণে ছড়ায় তোমার মানবিক দৃষ্টি,
ছোট-বড় সকলের প্রাণে জাগে ন্যায় ও সাম্যের বৃত্তি।
অভিযাত্রীর পথিক তুমি, সংগ্রামী যোদ্ধা তুমি,
ভবিষ্যৎ আলো, রাওনাটের গর্ব, দূর্গাপুরের উজ্জ্বল নক্ষত্র তুমি।
--------------------------------------------


তিরাতুল মোস্তাকিম

 তিরাতুল মোস্তাকিম

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা,
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
-------------------------------------
ওহে হৃদয়, শুনে নাও স্রোতের ডাক,
পথ চলুক সরল, যেন অন্ধকারে নাহি শোক।
যদি তুফানে ভেসে মন হারায় দূরে,
আল্লাহর কোরআন ধরো, সত্যের আলো উজাগরে।

মোস্তাকিম পথ, সে দীপ জ্বলে অন্তরে,
ভ্রান্তির ছায়া মিলিয়ে দেয় শুদ্ধির ছন্দে।
পাপের ভারে ক্লান্ত হলে মনে করো রহমত,
প্রতি পদে মিলায় শান্তি, ভয় কেবল অশান্তি ধরমত।

হৃদয় হোক উদার, সতর্কতা হোক মূল,
সঠিক পথে চলা, চিরন্তন শান্তির দুল।
যারা ধরেছে এই সরল দিশার পথ,
তাদের জন্য উন্মুক্ত জান্নাতের আলো ঝল।

চল সরল পথে, ভয় কালে স্রোতে নয়,
তিরাতুল মোস্তাকিমই দেবে চিরন্তন দিশার রোশন রোয়ে।
--------------------------------------------

নফস ও রূহ

 নফস ও রূহ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা,
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
-------------------------------------
নফস (৩৬ বার) বলে চায় মনের বাসনা,
রূহ (২৩ বার) বলে আসে আলোর প্রাসনা।
নফস ভয়াল, লোভী, তৃপ্তি খুঁজে যায়,
রূহ শান্তি দান করে, ঈমানের ছায়া ছায়।

নফসে আম্মারাহ, পাপের পথে ভ্রান্তি,
লাওয়ামাহ তিরস্কার করে, কোরআনে আছে সতর্কি।
মুতমাইন্না নফস শান্ত, আল্লাহর সন্তুষ্টি পাই,
রূহ ফুঁকে দেওয়া আল্লাহ, জীবন-উৎসের দীপ জ্বাই।

নফস ধ্বনায় বাঁধে অহংকার ও অভিমান,
রূহ খুঁজে ন্যায় ও প্রেম, আল্লাহর প্রেরিত প্রাণ।
৩৬ বার নফসের গল্প কোরআনে বিদ্যমান,
২৩ বার রূহের আলো দেয় অন্তরে প্রাণ।

হে অন্তর, বুঝ পার্থক্য, নফস নয়ই চিরকাল,
রূহের সাথে মিলো, আলোর পথে হোক জাগাল।
যদি চাও মুক্তি, শান্তি, ভালোবাসার জল,
নফসকে জয় করো, রূহের আলোয় ভরো মন-মহল।
--------------------------------------------

রূহ

 রূহ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা,
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
-------------------------------------
ওরে মানব! জাগরে আজ, শুন আসমানের গান,
রূহ যে রহস্য! অচেনা আলো, অমর দয়ার দান।
আল্লাহর আদেশ! বজ্রের মতো ধ্বনি,
রূহ ছাড়া দেহ তুই শূন্য খোলসখানি।

ওরে নিথর মাটি! প্রাণের জ্বালা কই?
রূহ এলে জেগে ওঠে জীবন আলোকময়।
কোরআন বলে — "রূহ আমার প্রভুর হুকুম,
মানবের জ্ঞানে নেই তার মর্মের রূপ।"

বজ্রধ্বনি তোলে রূহের নামের তানে,
দুনিয়ার কোন জ্ঞান তার নাগাল পায় না প্রাণে।
ওরে মানব! অহংকার ভাঙ, কর সিজদাহ নত,
রূহের ঝংকারে তুই খুঁজ শান্তির রত।

রূহ যে নূর! কোরআনেরই আলো,
রূহ যে রহমত! মুক্তিরই পথচালো।
ওরে দেহের ভিখারি, শোন আসমানের সুর,
রূহ ছাড়া তোর দেহ কেবলই কবরের পুর।

তাই ডাক আল্লাহকে, জাগ ঈমানের দীপ,
রূহের ঝড় তুলুক তোর বুকে বজ্র-শক্তি থিপ!
রূহেরই গান তোলে মুক্তির ডাক,
ওরে মানব! আজই তুই ফিরে আয় হক।
--------------------------------------------

কল্যাণের ডাক

 কল্যাণের ডাক

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা,
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
-------------------------------------
ওহে শুনো, নবীন প্রজন্মের দীপ্তি,
রাওনাটে জন্মেছে মানবতার উজ্জ্বল ক্ষিপ্তি।
ইঞ্জিঃ ফজলুল কবির মোল্লা তার নাম,
পিতা আহম্মদ হোসেন মোল্লা, গুণে ভরা এক গৌরব।

সদা জাগ্রত, বিপ্লবী মন তার অমলিন,
সত্য ও ন্যায়ের পথে সে অটল, চিরন্তন নীলিন।
মানবিক কল্যাণে তার হৃদয় জ্বলে দীপ,
অশুভ শক্তি দমাতে পারে না তাকে কোনো নিপ।

অকোভয়, মানবিক এক সৈনিক সে,
সাম্য, ঐক্য, সম্প্রীতি তার চিরন্তন ভেসে।
সামাজিক কল্যাণে তার চিত্ত উথরোল,
হিংসা, বিদ্বেষ চিরকাল তার চরম শত্রু নোল।

ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সে ডাকে সকলকে,
মানবিক কল্যাণে মিলিত হোক প্রাণময় বাতাসে।
শোষিত, বঞ্চিত, লাঞ্চিত মানুষের জন্য সে জ্বেলে দীপ,
তার ডাক ছড়িয়ে যাক প্রান্তর প্রান্তরে, প্রানের খোরাক নিপ।

সে গড়তে চায় মানবিক এক সংঘ,
যেথায় থাকবে এক ঝাঁক মানবিক পাখীর ফড়িংক।
মিলিত কণ্ঠে উচ্চারণ হবে কল্যাণের ডাক,
প্রাণে প্রাণ মিশিয়ে গড়বে মানুষের অনন্ত বাস।

ওহে নবীন প্রজন্ম, শুনো তার অমলিন ডাক,
মানবতার পথে চলুক তোমাদের প্রতিটি পদচাপ।
রাওনাটের অহংকার, মানবিকতার দীপ্তি যেথায়,
সেখানে স্বপ্ন, প্রেরণা, প্রেম ও শান্তির ছায়া ছায়া।
--------------------------------------------

মানবিক পুস্প

 মানবিক পুস্প

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা,
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
-------------------------------------
আম-জাম, কাঠাল, আনারসের ফুলে ভরা বন,
দূর্গাপুরের রাওনাটে ছড়ায় সোনালী স্নিগ্ধি তন।
পশ্চিম পাড়ার বুকে আলোর প্রদীপ জ্বলে ধীরে,
জন্ম নিলো সফিকুর রহমান মোল্লা, শিশুর ছোট্ট পীরে।

পিতা মোঃ রশিদ মোল্লার ঘরে, স্নিগ্ধ আলোর ছায়া,
শৈশব কৌশরের নদী পেরিয়ে যুবনের পথে ছায়া ছায়া।
দুরন্তপনায় বুনলো সে স্বপ্ন মানব সেবার,
মনের গভীরে জ্বলে কল্যাণের অমর দীপ্তি ধার।

ইঞ্জিনিয়ার শফিকুল রহমান ডাক দিল মানব ঐক্যে,
সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বে বোনা হলো বন্ধুত্বের রেখায় ছকে।
বংশের বিভেদ নেই, রেখার ফাঁক নেই,
ছোট-বড়, বড়-বংশ, সকলের হৃদয়ে সমান ভালোবাসা বৈ নেই।

রাওনাটের বুকে গড়ে তুললো মানবিক সংঘ,
শৈশব থেকেই ছুটছে গরীব দুঃখীর কাছে অঙ্গ।
শিক্ষার আলো পৌঁছে দিচ্ছে দ্বারে দ্বারে,
“এসো হে এসো, নবীন-প্রবীণ, মানব কল্যাণে” শ্লোগানে।

মানবিক কাননের সে এক পুস্পিত পুষ্প,
ভ্রাতৃত্ব, ভালোবাসা, উদারতার দীপ্তি ভাস্প।
পথ চলা হোক শুভ, হোক মানব মুক্তির হাতিয়ার,
সফিকুরের জীবন হোক মানব কল্যাণের অনন্ত উপহার।
--------------------------------------------

বিপ্লবী আলো

 বিপ্লবী আলো

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা,
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
-------------------------------------
আমি বলি—
ওরে কালো শক্তি! তোরে চূর্ণ করিবে আজ কামালের কলম,
বজ্রের মত গর্জে উঠিবে সে— বিদ্রোহী সৈনিক, শপথ-ধম।

কাপাসিয়া থানা ছাত্র দলের সাবেক সভাপতি,
কাপাসিয়া প্রেস ক্লাবের সংগ্রামী সভাপতি,
কাপাসিয়া থানা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সম্মানিত সদস্য—
লক্ষ প্রাণের প্রিয় মুখ সে, নম্র ভদ্র, তবু আগুনের ঝড়,

রাজপথে তার পদধ্বনি বাজে, অন্যায়ের বুক ফাটে বিদ্রোহী ভয়ার।


সে কলম— বজ্রাস্ত্র! আতঙ্ক জুলুমের শত্রু, হুলিয়ার ভীতি,
শোষিতের কান্না ঝড় হয়ে ওঠে, তার হাতে লেখা মুক্তির গীতি।

ওরে মদিরার নেশায় মাতাল দানব!
ওরে চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসের কালো ব্যাধি!
দেখ— এফ এম কামালের রুদ্র কলমে,
অগ্নি ঝরে আজ বজ্র-স্মৃতি।

সে শহীদ জিয়ার অগ্রসৈনিক,
জাতীয়তাবাদের দীপ্তি জ্বালে,
লাল-সবুজের সোনার বাংলা—
তার প্রাণে চিরদিন গানে গানে।

হে বিপ্লবী আলো!
তুমি জাগাও কালো রাতে সূর্যের প্রখর জ্যোতি,
অন্যায়ের প্রাচীর ভাঙো, মুক্ত করো শৃঙ্খল-বন্ধন অমৃতি।

তুমি যেন পূর্ণিমার শুভ্র চাঁদ—
তবু ভেতরে জ্বলে আগুনের শিখা,
কভূ না নত হও, মাথা উঁচু রেখে
বিদ্রোহীর বজ্র হুঙ্কার দাও, সত্যের দিশা।
--------------------------------------------


Tuesday, September 9, 2025

সত্যের বহ্নিবান

 সত্যের বহ্নিবান

কলেমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
---------------------------------------------
কাপাসিয়ার শ্যামল বুকে জন্মেছিলেন এক প্রাণ,
শৈশব হেঁটে বুনেছিলেন স্বপ্ন, আলোকিত সমাজের মান।
ছাত্র জীবনে রাজপথে উঠেছিলেন সাহসের ভরা,
শোষিত ও বঞ্চিতের পক্ষে লড়েছেন নির্ভয়ে ধরা।

কাপাসিয়া কলেজ সংসদে নির্বাচিত প্রতিকূলতায়,
জুলুম ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন অনন্য সাহসের ছায়ায়।
কলম হাতে লিখেছেন সত্য, কখনো ভয় নয়,
ভোরের দর্পণ ও গাজীপুর দর্পণে প্রকাশ করেছেন কথার ধ্বনি।

পরোপকারী হৃদয়ে, নীলোর্ভ প্রাণে ভরা,
নিজের জন্য নেননি কখনো কোনো আর্থিক ধারা।
দৈনিক ভোরের দর্পণ ও সাপ্তাহিক গাজীপুর দর্পণের সম্পাদক,
বৈশাখী টেলিভিশন, যুগান্তর, দিলকালেও ছিলেন সততা ও ন্যায়পরায়ণ।

গাজীপুর সিটি প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি,
কাপাসিয়া প্রেসক্লাবের তিনবার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন অবিচল সততায়।
৪ আগস্ট ২০২৩: কোটবাজালিয়া ট্রাকের নিচে চাপা পড়লেন,
জাতি হারাল সাহসী সাংবাদিক, সত্যের কণ্ঠ, জীবন বিদায় নিলেন ততক্ষণে।

৮ আগস্ট ২০২৫: দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে,
গাজীপুর সিটি প্রেসক্লাব আয়োজন করল স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে।
মঞ্জুর হোসেন মিলন – সত্যের বহ্নিবান,
নির্ভীক, নিঃস্বার্থ, সমাজ সংস্কারের অম্লান প্রাণ।

কাপাসিয়া, গাজীপুর, বাংলাদেশ কখনো ভুলবে নয়,
চিরকাল সত্যের আলোয় তুমি আমাদের সাথে থাকো আজও, কালও।
তোমার সাহস আমাদের পথ দেখাবে অমলিন,
কলমের শক্তি সত্যের পথে চলবে অবিরাম অনিন্দ্যন।

প্রজন্মের হৃদয়ে তোমার নাম জ্বলবে দীপ্তি হয়ে,
আল্লাহ আপনাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন – আমীন।
--------------------------------------------------------


তবুও স্বপ্ন মরে নাই

 তবুও স্বপ্ন মরে নাই

কলেমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
---------------------------------------------
শৈশবে ছিলাম দুরন্ত পাখি, আকাশ জুড়ে উড়াল,
স্বপ্ন ছিল সোনার স্রোতে, হৃদয় ভরা কল্পনাজাল।
হঠাৎ এলো ঝড় একদিন, ছিন্ন হলো সব গান,
পিতৃছায়া মুছে গিয়ে বুক হলো নির্জন ধ্বংসস্তান।

স্তব্ধ হলো মুখের ভাষা, চেয়ে রইলাম নিরাশায়,
চাতক পাখির তৃষ্ণার মতো তাকালাম শুধু আকাশায়।
ধূ ধূ বালুচরে দাঁড়িয়ে ছিলাম নিঃসহায় প্রাণ,
সোনালী রঙ মুছে গিয়ে ছড়িয়ে পড়ল ধূসর সন্ধান।

তবুও আঁধারের ভিতর থেকেও জেগে উঠল আলো,
দু’চোখ ভরা ব্যথা নিয়ে গাই আশার ভালোবাসার পালো।
কণ্ঠ কাঁপে নদীর স্রোতে, তবু গান থামে না আর,
নতুন করে বাঁচতে চাই, খুলতে চাই সম্ভাবনার দ্বার।

ছয়টি বছর বেকার বসে, তবুও স্বপ্ন মরে নাই,
প্রভুর করুণায় আবারও গর্জে ওঠার দিন আসবেই চাই।
বিষাদ হলো মেঘের মতো, ঢেকে রাখে রবি,
তবু ভোরের আলো ফোটে, জাগায় আশা নবজীবী।

হে প্রভু! আঁধার ভেদ করে দাও আমায় আলো,
স্বপ্নগুলো সোনালী হোক, ছুঁই পৃথিবীর ভালো।
বিষাদ আর আলোর স্রোতে আমি গাইবো গান,
জীবন হবে দীপ্তিময়, জ্বলে উঠবে হৃদয় প্রাণ।

--------------------------------------------------------

দিলু এক সাহসী যুবক

 দিলু এক সাহসী যুবক

কলেমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
---------------------------------------------
বানরহাওলার প্রভাত ফুঁড়ে উঠল এক দীপ্ত শিখা,
নুরুল ইসলামের ঘরে জন্ম নিল বজ্রের দীক্ষা।
সোনালী আলোয় দীপ্ত হলো এক সাহসী তরুণ প্রাণ,
সাইফুল ইসলাম খান—দিলু নামেই পরিচয় পান।

পথে পথে জেগে উঠল মিছিলের বজ্রনিনাদ,
শোষিত বঞ্চিতের কণ্ঠে গর্জে উঠল বিদ্রোহী সাদ।
“অধিকার চাই! মুক্তি চাই!”—ধ্বনি কাঁপালো আকাশ,
দিলুর নেতৃত্বে তপ্ত হলো রুদ্র সময়ের বাতাস।

ছাত্রলীগের সভাপতি তিনি—এক প্রেরণার শিখা,
ঝড়ের মতন হাঁক ছুটে এলো শত্রুর বুক চিরে দীক্ষা।
কারাগারের লোহার শৃঙ্খল ভাঙল না তার কণ্ঠ,
বরং সেখানে বাজলো স্বাধীনতার উদ্দাম সংগীত অম্লান।

লাঞ্চিতের, বঞ্চিতের, শোষিতের প্রহরী তিনি,
মানবতার দীপ্ত প্রদীপ—অদম্য বিপ্লবের ঋণী।
স্বৈরাচারের রক্তচোখে দাঁড়ালেন অটল শপথ,
“অন্যায় যতই আসুক, হবে না কখনো অপসৃত।”

কাপাসিয়া ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচিত রথী,
মানবতার সেবায় ছিলেন সদা কর্মনিষ্ঠ সত্যি।
তারপর এলো নতুন ডাকে জাতীয়তাবাদের গান,
বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হলেন তিনি মহান।

কিন্তু হায়! হুলিয়া, জেল, জুলুমের আঁধার ছায়া,
দেশ ছাড়তে হলো তাকে, মলিন হলো প্রভাতের মায়া।
সুদূর আমেরিকার মাটিতে গড়লেন নতুন ঘর,
তবু হৃদয়ে বেঁচে থাকে কাপাসিয়ার প্রিয় অন্তর।

দিলু এক সাহসী যুবক—নতুন প্রজন্মের দীপ,
তার বিদ্রোহী চেতনা আজও করে আমাদের সজীব।
বারবার জন্ম নিক এ মাটিতে এমন অদম্য প্রাণ,
যে লড়বে অবিচারের বিরুদ্ধে, হবে বজ্রনির্ভীক দান।

হে দিলু, তোমার পথ চলা হোক দিবাকরের মতন,
উজ্জ্বল হোক প্রেরণার আলো, মুক্তির হোক অনুক্ষণ।
যতদিন কাপাসিয়ার বুক গেয়ে যাবে জাগরণের গান,
ততদিন বেঁচে থাকবে—সাহসী দিলুর মহান নাম!
--------------------------------------------------------


ডাঃ স্বপন চন্দ্র ধর

 ডাঃ স্বপন চন্দ্র ধর

কলেমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
---------------------------------------------
দূর্গাপুর ইউনিয়নের পান বরাইদ গ্রামে জন্মের দিন,
শিক্ষকের সন্তান, বাবার শিক্ষা—জীবনভরে ছায়ার চিন।

শৈশবের মাঠে খেলা, ফুলে-ফলে, আড্ডা, হাসির গান,
কল্পনার জগৎ, স্বপ্নের ধারা—মনের সোনালী ব্যথা হরণ।

১৯৭০ সালে কাপাসিয়া হাইস্কুলে মেট্রিক উত্তীর্ণের সুর,
ফার্স্ট ডিভিশনে পাশ করে, স্বপ্ন বুনে চলেন অবিরাম দূর।

ঢাকা কলেজে ইন্টারমিডিয়েটের পথের আলো জ্বলে,
স্বাধীনতার পর পড়াশোনার জ্যোতি হৃদয়ে সলিল ঝরে চলে।

সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে ডাক্তারি শিক্ষার যাত্রা শুরু,
MBBS হাতে তুলে, চিকিৎসার পথে ভর করে ভুরু।

FCPS Medicine, MD Gastroenterology—জ্ঞানের নক্ষত্র জ্বলে,
MACG USA, FRCP Edinburgh—সুনামে সব দিগন্ত ঢলে।

সিলেট, খুলনা, ফরিদপুর—সহকারী অধ্যাপক হয়ে চলেন,
শেষে সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে প্রধান হোন, জ্ঞান জ্বলজ্বলে বোলেন।

গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি, লিভার রোগ, হেপাটাইটিসের যত্ন দেন,
এন্ডোস্কপি, কোলনোসকপি, রোগীর আশা জীবনে আনেন।

ল্যাবএইড স্পেশালাইজড হাসপাতাল, ধানমন্ডির চির আলো,
সন্ধ্যা ৬:৩০ থেকে ১১:৩০, রোগীর মুখে হাসি আর ভালো।

আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজেও তিনি গৌরবের ছায়া,
সকাল ১০ থেকে দুপুর ১, জ্ঞান-চিকিৎসার দ্যুতি দেয় জয়ধ্বজা।

স্ত্রী গৌরী ধর পাশে, দুই সন্তান—স্নিগ্ধা ও তন্ময়,
পরিবারে সুখ, ধৈর্য্য, ভালোবাসা—জীবনের চির ময়ূরধ্বজ।

রবীন্দ্রসংগীত, হেমন্ত, লতা, রুনা, সাবিনা—সুরের রস,
রাত্রি কাজের সময়ে শোনেন, মন ভরে শান্তির কোষ।

হেপাটাইটিস বি ও সি প্রতিরোধে পরামর্শ দেন নিরন্তর,
রোগী ও ছাত্র-ছাত্রী শিক্ষায় পান জীবনের অমর।

ডাঃ স্বপন চন্দ্র ধর—আলোর প্রতীক, মানবতার দিশা,
গ্যাস্ট্রো ও লিভারে জীবন, আশা আর সুস্থতার নিশা।

----------------------------------------------------


Monday, September 8, 2025

সুরাইয়া বেগম: সাহস, সেবা ও প্রজ্ঞার দীপ্তি

 

সুরাইয়া বেগম: সাহস, সেবা ও প্রজ্ঞার দীপ্তি
মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

সুরাইয়া বেগম: সাহস, সেবা ও প্রজ্ঞার দীপ্তি
কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*****************************************
ওহে প্রজন্ম! শুনো গানের মতো ধ্বনিতে,
ঢাকার কলেজের পথচলায় জন্ম তার দ্যুতি।
অর্থনীতির বিদ্যা অর্জন করে সে বিশ্ববিদ্যালয়ে,
লিডসের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় শিখল নতুন প্রজ্ঞা নিয়ে।

সিভিল সার্ভিসে পদার্পণ ১৯৮২ সালের দিনে,
সেবার পথে অটল, অদম্য জ্বলে মানসপটে।
পরিসংখ্যান ও তথ্যবিজ্ঞান, সমাজকল্যাণের দফতর,
সকল দায়িত্বে ছিল তার নির্ভীক অবতরণ।

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়েও শীর্ষে দায়িত্ব পালন,
মূল্যায়ন ও বাস্তবায়ন বিভাগে ছড়াল দক্ষতার আলো।
প্রধানমন্ত্রীর সচিবের আসনে অধিষ্ঠিত,
২০১৫ থেকে ২০১৮ সাল সে দায়িত্বে স্থিত।

আন্তর্জাতিক মঞ্চেও তার উজ্জ্বল কীর্তি,
ঠাকুর ১৫০তম জন্মবার্ষিকীতে নেতৃত্বের গর্ববাহী।
২০১৭ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফ্রান্স সফরে অংশ,
দেশের মর্যাদা ও গৌরবের প্রতীক হয়ে উঠল হৃদয়ে।

২০১৮ সালে তথ্য কমিশনার হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত,
২০২৩ পর্যন্ত সত্য ও জ্ঞানের পাথেয় সম্পন্ন।
গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন,
প্রজ্ঞা ও সাহসের প্রতীক, সকলের কাছে প্রশংসিত।

ব্যক্তিগত জীবনে শান্তি ও স্নেহের বাতাস বয়ে চলে,
স্বামী গোলাম হাফিজ আহমেদ পাশে, সাহচর্য মিলে।
দুই সন্তান কানাডায়, ছোট মেয়ে ঢাকায় শিক্ষা অর্জন,
পরিবার ও কর্মক্ষেত্রে পূর্ণতা, সাফল্য ও প্রেরণার উৎস।

এ জীবনের গল্প, কর্মের দীপ্তি আর অধ্যবসায়ের গাথা,
সুরাইয়া বেগমের নাম হয়ে উঠেছে জাতির প্রেরণার বাতিঘর।
সাহস, প্রজ্ঞা, সেবা ও নেতৃত্ব—সব মিলিয়ে দীপ্তির রেখা,
প্রজন্মের জন্য উদাহরণ, অমলিন হয়ে থাকবে চিরকাল
------------------------------------------------------------------

হাবিবুর রহমান হাবিব, গণঅভ্যুত্থানের অগ্নি

 হাবিবুর রহমান হাবিব, গণঅভ্যুত্থানের অগ্নি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*****************************************
পথ চলার শুরুতে ছাত্রময়ী দিন,
কাপাসিয়া কলেজের মাঠে বাজল যে স্বাধীনতার সুর,
প্যানেলের শিরোনামে লেখা নাম,
জি.এস-এর প্রতীক—হাবিবের অমলিন দূর।
১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের অগ্নি,
১৯৭০-এর নির্বাচনের গর্জন,
নেতৃত্বের পথে তিনি দৃঢ়,
বঙ্গতাজ ও ফকির সাহাবুদ্দিনের স্নেহধন্য বরণ।
স্বাধীনতার ঝড়ে অংশ নিলেন গর্বিত,
বীরত্বের স্বাক্ষী, সংগ্রামের স্মৃতিতে লিপ্ত।
১৯৭৫-এর অন্ধকারেও আলোয় বিশ্বাস রাখলেন,
আওয়ামী লীগের গণতান্ত্রিক ধারা রক্ষা করলেন।
সোহেল তাজের পাশে দাঁড়িয়ে,
ফ্রন্টলাইনে ফিরে এলেন হাবিব।
জনতার মাঝে ঘুরে বেড়িয়ে,
আস্থা ও সাহস বন্টন করলেন, অবিরাম।
বিপদময় সময়েও ভোটের ঝড়ে জয়ী,
রায়েদ ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যানের খিতাবে ধরা।
রাজনীতির খেলায় হেরে গেলেও,
বঙ্গবন্ধুর আদর্শে মাথা নত করলেন না কখনো।
শেখ হাসিনার আহ্বানে উত্তর দিলেন সদা,
প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে রেখেছিলেন অবদান অম্লান।
ব্যক্তিগত জীবনে—শিক্ষা অনুরাগী,
ধর্মপরায়ণ, সাহসী ও সৎ—হিসেবে সুপরিচিত।
গাজীপুর সুধী মনে রাখে,
সর্ব মহলে রইল তার সুনাম ও সম্মান।
আমার হৃদয় জানে, সম্পর্কের গভীরতা,
শব্দে বর্ণনা নেই, চোখের জলেই প্রকাশ পায়।
আজ বেলা ৩:৩০ মিনিটে, পারিবারিক কবরস্থানে,
চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন হাবিবুর রহমান হাবিব।
হাজার জনের চোখে অশ্রু,
জানাজার নামাজে বিদায়ের অমোঘ স্মৃতি।
প্রার্থনা করি আল্লাহর কাছে—
জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম হোক তার নিকট।
আমীন।
-----------------------------------------------------------------

সাদিক আহসানের অমর কীর্তি

 সাদিক আহসানের অমর কীর্তি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*****************************************
ওহে তরঁগাও, শোনো, বজ্রপাতে ভাঙল রাতের নিঝুম ঘুম,
সাদিক আহসান চলে গেলেন, হৃদয় থামে, আলো ঝরে ঝুম।
ঢাকার ক্রিস্টাল গার্ডেনে, যুবকের প্রাণে আগুন জ্বলে,
হাজারো কণিকা, কর্মের তেজে বিশ্ব আলোকিত চলে।

ক্রিস্টাল ক্রাউন হোটেলের পথ ধরে সৃষ্টি হয়েছে সপন,
সদ্যসজীব উদ্যোক্তার ছোঁয়ায় বয়ে যায় অভিলাষের তরণ।
সোনার গাঁওয়ের প্রাঙ্গণে দমে না হারানো দায়িত্বের ছাপ,
তরুণদের চোখে জ্বলে, শিল্প-সেবার অসীম জ্যোতি ভাপ।

ড্রিম স্কোয়ার রিসোর্টে, গত বছরের অক্টোবরে,
জেনারেল ম্যানেজার হয়ে নতুন অধ্যায়ের প্রদীপ জ্বলে।
ঝারবাতির কাচের মসজিদ, গ্রামের হৃদয় স্পর্শ করে,
প্রকৃতি হাসে, মানুষের চোখে সোনালী আলো ভরে।

হোটেল ও রিসোর্টের কনসালট্যান্ট, দক্ষতার অমোঘ নায়ক,
আন্তর্জাতিক স্বপ্নে, কাপাসিয়ার স্বর্গ পথিকপ্রদক্ষিণায় রাখে।
হাজারো মানুষের উপকারে সীমারেখা নেই,
প্রকৃতির বাতাসে বয়ে যায় তাঁর দানশীল ঢেউ।

চোখের সামনে দিগন্তে, স্বপ্নের আগুন মিশে যায়,
উদ্যোক্তার পদচারণায় নগর-গ্রামের প্রাণ জ্বলে যায়।
মাটির গন্ধে, ঝরনার সুরে, বিদ্রোহের সঙ্গীত বাজে,
তরঁগাঁও বেপারী বাড়ির গল্পে নবজাগরণ ভাসে।

পর্যটন শিল্পে স্বপ্ন ছড়িয়ে, দেশে-বিদেশে আলো ছড়ায়,
কাপাসিয়ার আকাশে, আন্তর্জাতিক গৌরব উড়ে যায়।
হৃদয় দান করেছেন, মনের আগুন জ্বালিয়েছেন,
প্রকৃতির ছায়ায় মানুষের সুখসাগর উন্মুক্ত করেছেন।

সাদা মেঘের আড়ালে, সূর্যদেব হাসে অমল,
সাদিক আহসানের জীবন হয়ে উঠেছে যুগান্তরের পাল।
ওহে প্রজন্ম, শোনো, প্রতিটি পদচারণায় বিদ্যুৎ ঝরে,
সাদিক আহসানের পথ ধরে, স্বপ্নের তরঙ্গ বয়ে চলে।

যেখানে কর্ম, সেখানে বিদ্রোহ, সেখানে সেবা ও শক্তি,
কাপাসিয়ার আকাশে আজও বাজে তাঁর অমর ধ্বনি।
------------------------------------------------------------------

প্রথম ব্যারিস্টার শিহাবুদ্দীন মাহমুদ

 

প্রথম ব্যারিস্টার শিহাবুদ্দীন মাহমুদ
মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

প্রথম ব্যারিস্টার শিহাবুদ্দীন মাহমুদ
কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*****************************************
ঘাগটিয়ার মাঠে ফুলের হাসি,
সেখানে জন্মেছিল এক জ্যোতির্ময় মানুষ।
শিহাবুদ্দীন মাহমুদ—ব্যারিস্টারের পথিক,
জ্ঞান আর ধৈর্যের মিশ্রণে গড়া মহাপ্রাণুষ।

শিশু হেসেছিল নদীর ঢেউয়ে,
পাখির গানে শিখেছে তিনি প্রজ্ঞার খোঁজ।
বিদ্যালয়ের কাঁপা দেয়াল যেন প্রেরণার অঞ্জলি,
সেখানে ধরেছিল তার স্বপ্নের ডানা।

ঢাকার আলোয় পড়েছে তার চোখের দীপ,
অঙ্কন করেছে আইন ও ন্যায়ের বিশাল চিত্র।
লন্ডনের মেঘমালা, বইয়ের পাতা,
গড়েছে মননে বিচারিক প্রজ্ঞার বাতাস।

অপূর্ব দক্ষতা তার শব্দে ঝরে,
নদীর ধারা, পাহাড়ের সান্নিধ্য খুঁজে পায়।
মাঠ-ঘাসের কোমলতা তার অন্তরে বাজে,
অবিচল ন্যায়ের গর্জন শুনায় সারা দেশে।

কাপাসিয়ার মাটি, ঘাগটিয়ার গহ্বর,
জন্ম দিয়েছে এক মণিমুক্তার জ্যোত্বর।
শিহাবুদ্দীন মাহমুদ—প্রজ্ঞার দ্যুতি,
যার পথে আলোকিত, তরুণ হৃদয় অনুপ্রাণিত।

পাখির ডানা, নদীর কণার মতন,
তার প্রতিটি পদক্ষেপ ছড়ায় ন্যায়ের আলো।
মাটির বুকে প্রতিস্ফুরিত এক গর্বের গল্প,
ঘাগটিয়ার সন্তান, ব্যারিস্টারের নাম—অমর ও অম্লান।
------------------------------------------------------------------


এডভোকেট চৌধুরী মোহাম্মদ সাদির

 

এডভোকেট চৌধুরী মোহাম্মদ সাদির
মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

ওরে এই বাংলার নবীন প্রজন্ম! শোনো, শুনো গর্জনধ্বনি,
১লা অক্টোবর ১৯১৬, মামরুদি গ্রামে জন্ম নিলেন আলো-অগ্নির সাকি—
চৌধুরী মোহাম্মদ সাদি, হাসানের প্রজাপতি সন্তান,
সাদির মোক্তার নামে পরিচিত, ন্যায়ের পথে অদম্য অগ্নিশিখা।

ঢাকায় মেট্রিক, উনিশ শত ঊনচল্লিশ,
কলকাতার ফোর্ট উইলিয়ামের হাইকোর্টে ১৯৪২-এ মোক্তারি,
১৯৪৩-এ ঢাকায় আইনের অঙ্গনে তাঁর আগুন,
পুরানো ঢাকার বংশাল-মালিটোলায় চেম্বার স্থাপন,
নিশ্চল প্রতীক, ন্যায়ের বজ্রধ্বনি!
ষাটের দশকে ঢাকা মোক্তার বার কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট,
বারবার নির্বাচিত, স্বাধীনতার আগুনে প্রজ্জ্বলিত,
মেট্রোপলিটন এডভোকেটস বার – ধ্বনিত হোক তাঁর নাম।

হে প্রজন্ম! তাঁর রাজনীতি বজ্রপাত, তাঁর সেবা নদীর জলপ্রবাহ,
আওয়ামী লীগের জন্মলগ্নে তিনি ঘনিষ্ঠ সহচর,
বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গতাজ—তার ধ্বনি, তার সাহসের সাক্ষী।
ঢাকা নগর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ,
ঢাকা সদর নর্থের সভাপতি,
জনতার হৃদয়ে অগ্নির সেতু বেয়ে চলেছে তাঁর পদচারণা।
১৯৫৪-র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে প্রস্তাবক বঙ্গতাজের,
সমর্থক হেকিম মোল্লা, মিলিল বিজয়ের জোয়ার,
কাপাসিয়া-কালিগঞ্জের জনতার বুক জ্বলে ওঠে ধ্রুবতারার আলোয়।

হে দুর্ভোগের জনপদ! শোনো, শোনো নৌপথের বজ্রগর্জন,
১৯৬০-এ তিনি প্রতিষ্ঠা করিলেন শীতলক্ষ্যা ন্যাভিগেশন লঞ্চ কোম্পানি।
পান্না, বাবলা, ফাদিয়া, সান লাইট, চৌধুরী, নাজির, জলপিপি—
নৌপথের বহরে, ছুঁয়েছে আকাশের প্রতিধ্বনি।
নারায়ণগঞ্জ থেকে হাতিরদিয়া, কাপাসিয়া, টোক, বর্মী, চরসিন্দুর, পলাশ, ঘোড়াশাল—
পদচারণা ছাপানো পথের অভাবে, লঞ্চগুলো হলো জীবনের প্রদীপ।
শিক্ষার্থীদের দিলেন বিনা ভাড়ায় যাতায়াতের মুক্তির আলো,
শিক্ষা বিস্তার, নারী শিক্ষার দীপ্তিময় প্রভা,
জ্ঞান-অগ্নিপ্রকাশে উজ্জ্বল করিলেন সমগ্র জনপদ।

১৯৬৫-তে তিনি দাঁড়ালেন সমাজসেবার অগ্নি-মিনারে,
কাপাসিয়া ডিগ্রী কলেজের জন্ম-প্রতিষ্ঠায়,
বঙ্গতাজ, ফকির মান্নান, ডাঃ সানাউল্লাহ, সফিউদ্দিন আহমদ, মেজবাহ উদ্দিন—
সকলের সাথে একত্রে, ইতিহাসে অক্ষয় দীপ্তি।
পূর্ব পাকিস্তান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে রাখিলেন বড় অংকের ডিপোজিট,
ছয় মাসের শিক্ষকদের বেতন, করপোরেট গ্যারান্টি শীতলক্ষ্যা ন্যাভিগেশনের অর্থে,
প্রজন্মের জন্য জ্বালালেন শিক্ষার অম্লান বাতি।

১৯৭০ সালে নারী শিক্ষার জন্য মায়ের নামে গড়ে তুললেন আখতার বানু গার্লস হাই স্কুল,
হাসানপুর পোস্ট অফিস স্থাপন করলেন পিতার নামে,
স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, এতিমখানায় অসংখ্য দান,
জনকল্যাণের প্রতিটি পদক্ষেপে বাজিলো তাঁর অগ্নিশিখা।

১৯৭০-এর নির্বাচনে মনোনয়ন চাইলেন, না পেলেও থামলেন না,
সাহসে চলিলেন অবিচল, বজ্র, বিদ্যুৎ, ঝড়, আগুনের ছন্দে।
তিনি তিন পুত্র, তিন কন্যার পিতা,
কিন্তু ২৭ জুলাই ১৯৭৭, ৬১ বছরে জীবন রাখিলেন চিরবিদায়।
মহাপ্রয়াণের দিনে আকাশ কেঁদে উঠল বজ্র-বৃষ্টিতে,
অমর হোক তাঁর নাম, অমর হোক সংগ্রামের অগ্নিপথের ছন্দ।

ওরে নবীন প্রজন্ম! শুনো, শোনো বজ্রধ্বনি,
এডভোকেট চৌধুরী মোঃ সাদি—আইন, রাজনীতি, সমাজসেবায় এক অগ্নিশিখা।
তিনি শুধু মানুষ নন, তিনি বজ্র, তিনি ঝড়, তিনি বিদ্যুৎ, তিনি আলোর অমল দীপ্তি,
বাংলার বুক জ্বালানো অদম্য শক্তি,
চিরকাল উচ্চারিত হোক:
“সাদি, আমাদের সংগ্রামের অগ্নিপথের সারা!”

বঙ্গতাঁজের সহচর মাষ্টার মতিউর রহমান

 বঙ্গতাঁজের সহচর মাষ্টার মতিউর রহমান

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*****************************************
দূর্গাপুরের মাটির বুকে জন্ম নিলো এক দীপশিখা,
নীতির প্রদীপ, ত্যাগের অগ্নি, সততার দীপ্তিকা।
বঙ্গবন্ধু-বঙ্গতাঁজের প্রিয় সহচর মহান,
মাষ্টার মতিউর রহমান—ইতিহাসে অম্লান।

১৯২৫ সালের পহেলা ফেব্রুয়ারি জন্ম তার,
গোসাইরগাঁও গ্রামে সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবার।
পিতা জওয়াহের হোসেন ছিলেন সমাজ সচেতন প্রাণ,
সেই ঘরে ফুটলো আলো—মুক্তির সংগীত গানে গান।

মক্তবে নিলেন প্রথম পাঠ ধর্মীয় জ্ঞানের আলোয়,
লাখপুর-শিমুলিয়া স্কুলে চললেন বিদ্যার পালোয়ান ভেলায়।
১৯৪২ সালে উজ্জ্বল এনট্রান্স পাসের জয়,
সহপাঠী ফকির সাহাবুদ্দীন—বন্ধুত্বে অটুট অটলময়।

শাহাবুদ্দীনের সাথে কাটে হোস্টেল জীবনের দিন,
দুষ্টুমির গল্প আজো গ্রামে কিংবদন্তি রঙিন।
শৈশবের সে বন্ধন রাজনৈতিক জীবনেও অটুট,
আদর্শে সৎ, সংগ্রামে দৃপ্ত, সত্যের পথে অবিচল রুট।

১৯৪৮-এ জন্ম নিল ছাত্রলীগ দীপ্তিতে ভরা,
সেই সময়েই তিনি হলেন কর্মী, ত্যাগে অদ্বিতীয়া সরা।
রেসকোর্সে জিন্নাহ বললেন—উর্দুই রাষ্ট্রভাষা হবে,
মতিউর গর্জে উঠলেন—“না, বাংলাই রাষ্ট্রভাষা হবে!”

ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক হলেন,
দুর্গাপুরে আওয়ামী লীগের সভাপতি হয়ে জ্বললেন।
কাপাসিয়া থানা আওয়ামী লীগেরও প্রতিষ্ঠাতা শিলা,
পাকিস্তানি সামরিক শাসনে প্রতিবাদের মশাল তোলা দিগ্বিজয় খিলা।

১৯৫৪-তে যুক্তফ্রন্টে দিন-রাত কাজ করলেন,
আড়াল মাঠে ভাসানীর জনসভা সফল করে তুললেন।
১৯৫৬-তে রানীগঞ্জ স্কুল মাঠে এলেন বঙ্গবন্ধু মহান,
এই জনসভা আয়োজনের প্রধান উদ্যোক্তা মতিউর রহমান।

৬ দফা আন্দোলন, গণঅভ্যুত্থান, মুক্তির প্রহর,
১৯৭০-এর নির্বাচন, ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে তিনি অগ্রগণ্য অবর।
যোদ্ধাদের সংগঠিত করে পাঠালেন ভারতে প্রশিক্ষণে,
দেশমুক্তির স্বপ্নে তিনি দাঁড়ালেন দৃপ্ত বাণীতে।

১৯৭০-এ প্রাদেশিক পরিষদে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন,
ফকির শাহাবুদ্দীন মনোনয়ন পেলেও তিনি দৃঢ়তায় দাঁড়ালেন।
তিনি শুধু নেতা নন, ছিলেন সুনামধন্য শিক্ষক,
বেগুনহাটি, দড়িমেরুন, রানীগঞ্জে ছাত্রদের দিলেন আলোর শিখক।

১৯৮৩-তে অবসর নিলেন চাকরি হতে,
এরপর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে এলেন জনগণের সাথে।
পারিবারিক জীবনে ৫ পুত্র, ৪ কন্যার গর্বিত পিতা,
তাদের রক্তে আজো বয়ে চলে আওয়ামী চেতনার গাথা।

বড় ছেলে সামসুল হুদা লাল মিয়া অগ্রনায়ক শির,
দুর্গাপুর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সংগ্রামী ধীর।
চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী আজো,
পিতার আদর্শে দীক্ষিত হয়ে এগিয়ে চলেছে কাজো।

২০১৫ সালের ২৬ মে নিভে গেলো সেই প্রদীপ শিখা,
তবু তাঁর ত্যাগ-আদর্শ জাগায় প্রাণে নতুন দীপ্তিকা।
মাষ্টার মতিউর রহমান—সততার মহাকীর্তি,
বঙ্গবন্ধু-বঙ্গতাঁজের ঘনিষ্ঠ সহচর, ইতিহাসের অমর গীতি।
------------------------------------------------------------------


হে সততার গান, আইয়ূবুর রহমান খান

 হে সততার গান, আইয়ূবুর রহমান খান

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*****************************************
হে যুগ-বিস্ময়, হে বজ্র-শিখা, হে অগ্নি-গগন-প্রাণ,
তারাগঞ্জের গৌরব তুমি—কাপাসিয়ার অমর সন্তান।
শত বছরের প্রাচীন বিদ্যালয়ের শ্রেষ্ঠ আলোকধারা,
তুমি যেন গর্জন-তুফান, রক্তিম ভোরের কারা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চত্বরে উঠেছিলে বিদ্যুতের গান,
বাংলা ভাষার মুকুটে বসেছিলে দিগন্তের প্রাণ।
শিক্ষকতার মশাল হাতে জ্বালিয়েছিলে জ্ঞানের রণ,
মনোহরদী, নরসিংদীর প্রাঙ্গণে ছড়িয়েছিলে অগ্নিবাণ।

তারপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিলে মাঠ-প্রশাসনের যুদ্ধে,
উপজেলা থেকে মন্ত্রণালয়—সত্যের জয়গানে রুদ্ধ।
অতিরিক্ত সচিবের আসনে থেকেও শাসন করনি অহংকারে,
তুমি ছিলে মাটির ফেরেশতা—সততার বজ্র-হুঙ্কারে।

তোমার হাতের দহনশিখায় জেগেছিল কলেজ, হাসপাতাল,
তাজউদ্দীন মেডিকেল, নার্সিং কলেজ, তারাগঞ্জের গৌরবজ্বল।
বিআরটিএ’র আসনেও তুমি ছিলে বজ্রের বজ্রনিনাদ,
নিরাপদ সড়কের রণভেরিতে কাঁপিয়েছিলে অন্যায়-সিন্ধুবাদ।

কলম ছিল তোমার তরবারি—সংবাদ পাতায় আগুনের ছাপ,
“শীতলক্ষ্যা”র অক্ষরে তুমি জ্বালিয়েছিলে মুক্তির প্রতাপ।
আজ অসুস্থ শরীর বাঁধে তোমার অগ্নি-ঝড়ের পথ,
তবু ডায়ালসিসের আঁধার ভেদ করে দাও বজ্রের শপথ।

হে আলোক-যোদ্ধা, হে নীতি-অগ্নি, হে সততার গান,
তুমি আমাদের প্রাণে অনল, যুগে যুগে অমর প্রাণ।
যতদিন আকাশে সূর্য উঠবে, বজ্র গর্জিবে মাঠে,
ততদিন আইয়ূবুর রহমান খান থাকবেন অগ্নি-শিখার সাথে!
------------------------------------------------------------------

অধ্যাঃ মোহাম্মদ আলী বদু

 অধ্যাঃ মোহাম্মদ আলী বদু

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*****************************************
ওহে প্রজন্ম, শুনো, কাপাসিয়ার বুকে অগ্নি দীপ জ্বলে,
শহীদ তাজউদ্দীন সরকারি কলেজে শিক্ষার আলো ছড়ায় তীব্র।
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাহসী, অদম্য চেতনার অধ্যাপক,
বিদ্রোহী মননে গড়ে তুলতেন জ্ঞান, ন্যায়ের অমলিন প্রভাব।

কাপাসিয়া বাজারের পথে প্রতিধ্বনিত হত তার পদচারণা,
বারবার নির্বাচিত, ব্যবসায়ী বান্ধব, জনের প্রিয় নেতা তিনি।
ফুটবলের মাঠে ঝড়ে যেত তার অগ্নিময় ক্রীড়ার স্পন্দন,
প্রতিটি পাসে, প্রতিটি গোলেই ফুটত সাহসের অরণ্য।

প্রজন্মের হৃদয় জাগ্রত হতো তার অদম্য আদর্শে,
শিক্ষা, নেতৃত্ব, ক্রীড়া—সবই হয়ে উঠত প্রেরণার পালক।
প্রতিটি পদক্ষেপে প্রতিফলিত হত তার বিদ্রোহী মানসিকতা,
প্রকৃতির সবুজ ছায়া, হাওয়ার মৃদু ছোঁয়ায় মিশত তার সাহস।

১৯ নভেম্বর সকাল সাতটায়, ঢাকার হাসপাতালে বিদেহী হলো দেহ,
ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহির রাজিউন—ধ্বনি হয়ে উঠল শহরে।
বিদ্রোহী কণ্ঠনাথ যেন বাতাসে বয়ে গেল,
স্মৃতির পাতায় অমলিন হয়ে থাকল তার সাহসের জ্যোতি।

রাউৎকোনা ফাজিল মাদরাসা মাঠে বিকেল চারত্রিশে নামাজ,
দোয়া, মাগফেরাত—রুহের শান্তির আহবান।
প্রকৃতির ফুল, ছায়া, হাওয়ার মৃদু স্পন্দন,
সবই শোনায় তার বিদ্রোহী চেতনার অমলিন সুর।

হাতেখড়ি থেকে পাস, মাঠ থেকে মঞ্চ, পদচারণায় জ্বলত আলো,
প্রতিটি কাজের মাঝে প্রতিফলিত হত তার ন্যায়ের বল।
ক্রীড়া, শিক্ষা, নেতৃত্ব—সাহসের প্রতীক তিনি অনন্য,
প্রজন্মের মনে গড়ে দিতেন অদম্য বিদ্রোহের চেতনাধারা।

হায়াত-মাওতের মালিক, মহান আল্লাহ, জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম দাও,
আমাদের প্রিয় অধ্যাপককে শান্তিতে বিশ্রাম দাও।
বিদ্রোহী দীপ, শিক্ষার আলো, ক্রীড়ার অগ্নিময় স্পন্দন,
তুমি বেঁচে আছো স্মৃতির পাতায়, হৃদয়ের প্রতিটি কোণে।

সুম্মা আমীন—আমরা প্রার্থনা করি, রুহ হোক শান্ত,
অধ্যাঃ মোহাম্মদ আলী বদু, চিরন্তন প্রেরণার দীপ হয়ে থাকো।
------------------------------------------------------------------