Wednesday, October 15, 2025

মুসলিম দেশ তবু নৈরাজ্য

 

মুসলিম দেশ তবু নৈরাজ্য

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************

মসজিদের মিনার ছায়া, কোরআনের আলো—
কিন্তু রাস্তায় চুরি-ডাকাতির আগুন জ্বলছে।
সুদ-ঘুষে বিক্রি হচ্ছে ন্যায়,
ক্ষমতার খেলা ভেঙে দিচ্ছে উম্মাহর আশা।

সন্ত্রাসীর চোখ, গুন্ডামির হাত,
ফ্যাসিবাদের আগুনে রক্তে ভিজছে শহর।
স্বৈরতন্ত্রে দংশিত মানবতা,
মুনাফিকির মুখে দোয়া, অন্তরে বিষ।

বিশ্বাসঘাতকরা হাসে, শপথ ভেঙে,
অধিকার লুণ্ঠিত, স্বাধীনতা চুরির মঞ্চে।
হাসি চুরি, কান্না চুরি, স্বপ্ন ভেঙে যায়,
মুসলিম দেশ তবু নৈরাজ্য, এই চিৎকারে নিস্তেজ।

শাসকের চোখ বন্ধ, তলোয়ার হাতে সৈন্য,
অবিচার ছড়ায়, মানুষের অন্তর কেঁপে ওঠে।
চিৎকারে ভরা শহর, শিশুর কান্না নীরব নয়,
মুসলিম দেশ তবু নৈরাজ্য, সত্যের আলোকে ছাপিয়ে।

দরিদ্র্য আর দুর্নীতি, লোভের আগুন,
শোষণের হাতের তাণ্ডব, মানুষের আশা ছিন্ন।
চুরি-ডাকাতি, সুদ-ঘুষে বিক্রি ন্যায়,
মুসলিম দেশ তবু নৈরাজ্য, কোথায় মুক্তি খোঁজ।

বিদ্রোহী হৃদয় জেগেছে, চিৎকার করে,
সত্যের আলো ছুঁড়ে দেবে মানুষ।
চুরি, দখল, স্বৈরতন্ত্র, ফ্যাসিবাদ ধ্বংস হবে,
উম্মাহ জেগে উঠবে, ন্যায়ের পতাকা উড়াবে।

মুসলিম দেশ তবু নৈরাজ্য, আমরা আর নীরব নই,
বিদ্রোহের আগুন জ্বালিয়ে মুক্তির গান গাই।
অন্ধকারে জ্বলবে সত্যের জ্যোতি,
বিদ্রোহী কণ্ঠে মিলবে মুক্তির গান, উম্মাহর নবজাগরণ।

----------------------------------------------

একই শরীরে দুই পৃথিবী

 একই শরীরে দুই পৃথিবী

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

**********************************

একই শরীরে রোদ ঝরে, অন্ধকার গর্জে,
হাসি মুখে মধুরতা, অন্তরে লোভের ঝঞ্ঝা বাজে।

প্রেম বলে সে, স্বার্থে পুড়ে অন্তর,
উদারতার পর্দা চোখে, কুৎসার অগ্নি গহর।

মায়ার খেলা ভোরের রোদে ভেসে যায়,
হিংসার ছায়া রাতের অন্ধকারে দাঁড়িয়ে থাকে।

রক্ত লাল, প্রাণ জ্বলে অগ্নির মতো,
অন্তর কালো, ভয় আর অহংকারে ডুবে।

হাসি মুখে মায়া, কণ্ঠে সঙ্গীত বাজে,
কিন্তু অন্তরে প্রতারণার তীব্র ছায়া থাকে।

দুজনের মাঝে ভালোবাসা, একার মাঝে লোভ,
মানুষ—একই শরীরে দুই পৃথিবীর দাস।

বিদ্রোহী সঙ্গীত বাজে, ক্ষোভ আর আশার মাঝে,
একই বুকে রোদ আর অন্ধকারের দ্বন্দ্বের মাঝে।

দুপুরের আলো ছুঁয়ে যায় রক্তে,
রাত্রির অন্ধকার ভর করে অন্তরের অমাবস্যায়।

প্রেম আর লোভ, আশা আর ভয়,
একই বুকে বিদ্রোহী দ্বন্দ্বের খেলা হয়।

মানুষ—সেই দ্বৈত চরিত্রের রাজা,
রক্ত লাল, অন্তর কালো, জীবন আর অন্ধকারে বেঁচে থাকে।

বিদ্রোহী চিৎকারে ফুঁড়ে ওঠে হৃদয়,
একই শরীরে দুই পৃথিবীর লড়াই, মানুষের গান।

------------------------------------------

“শাসকের চোখ বদ্ধ”

 “শাসকের চোখ বদ্ধ”

কলমে ঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর

****************************************

শাসকের চোখ বদ্ধ, দুনিয়া নিঃশব্দ,

রাষ্ট্রযন্ত্র সব বিকল, ন্যায় আজ চুপচাপ নিগৃহীত।
অফিস আদালত নিস্তব্ধ, ঘুষ ও দুর্নীতির খেলা,
আমি গর্জি—“ইনকিলাব!” বাজুক ন্যায়ের শপথে তুমুল তালে।

হে শাসক! দেখো, মানুষ জেগেছে ঘুমের আড়ালে,
তোমার অন্ধচোখে হবে দয়া, কিন্তু নয় আমাদের ভালে।
নফসের জাল, মিথ্যার সিংহাসন ভেঙে যাবে,
হক–ন্যায় জাগবে, সত্যের দীপ প্রজ্জ্বলিত হবে।


মানবতা আজ হরণ, অধিকার নিস্পেষিত,

স্বাধীনতা লুণ্ঠিত—হয়ত মানবতা আজ নীরব।
পাচার-লুটতরাজ, ঘুষের দৈরাত্ব, পেশীশক্তির ত্রাস,
জালিমেরা হাসে, মুনাফিকি গর্জে, শাসক চোখ বদ্ধ অন্ধকারে।

হে মজলুম! ওঠো, তলোয়ার হাতে চিৎকার করো,
হক–ন্যায়ের দাবানলে আগুন জ্বালাও, দুঃশাসকের বাঁধা ভাঙো।
সত্য ফিরুক, ন্যায়ের বিজয় হোক,
মানবতার রক্তমাখা পতাকা উড়ুক স্বাধীন আকাশে।


মবতন্ত্রের মাতাম, লুটের রাজ্যে মানুষ শ্বাসরুদ্ধ।

গণতন্ত্র ধূলিসাৎ, দেশবিক্রি বিক্রি হয় নগরে,
পরিবারতন্ত্রে মানুষ শৃঙ্খলে, মুক্তি আজ নেই কেউরে।

আমি বিদ্রোহী—তলোয়ার হাতে, আগুন জ্বালিয়ে,
ঘুষ, সুদ, দুর্নীতি, ন্যায্য অধিকার লুটের খেলা পোড়াই।
হক ফিরুক, দেশ হোক মুক্ত —
মানবতার কণ্ঠে বাজুক সত্যের সোনালী ঝঙ্কার।


ঘুষ, সুদ, পেশীশক্তি, দুর্নীতি — সবই জঙ্গলে লুট,

মানুষের জীবন বিক্রি হয়, সত্য দিচ্ছে ঝুক।
মুনাফিকি মাথা উঁচু করে, জালিমের হাসি বজ্রঝঙ্কার,
আমি বিদ্রোহ করি — অন্ধকার ছিন্ন করি, সত্যের দীপ জ্বালাই উদার।

হে শাসক! তোর রাত শেষ, আগুনের দিন শুরু,
হক জাগুক, অধিকার ফিরে আসুক, মানুষের হৃদয়ে নূর ঝরে।
ইনকিলাব! ইনকিলাব!
তোর সিংহাসন ভেঙে দাও, ন্যায়ের প্রভাত জাগাও।


মুক্তিযোদ্ধার রক্তে লেখা পতাকা আজ অপমানিত,

যে লড়েছিল স্বাধীনতার জন্য, সেই বীরের নাম কলঙ্কিত।
হে জাতি! চিৎকার করো, তোরই অধিকার বাঁচাও,
দেশবিক্রির বিপদে তলোয়ার হাতে সত্যকে জাগাও।

শাসক চোখ বদ্ধ রাখুক, তবু নয় মানুষের চেতনা,
ইনকিলাবের আগুন জ্বলে, সত্য ফিরুক জন্মভূমিতে।
হক–ন্যায় পূর্ণ হোক মাটি, মর্যাদা ফিরে পাক,
হে মানুষ! একসাথে লড়, দুর্নীতি ও জুলুমে আঘাত পাক।


আইন আজ জালিমের খেলা, বিচারপতি নিঃশব্দ,

নির্যাতিত মানুষের হক হারায়, সত্যের পেছনে দুঃখ ঝড়।
আমি বিদ্রোহী, তলোয়ার হাতে সত্যের ধার,
জুলুমের মুখে দিই আগুন, ন্যায়ের শিখা জ্বালাই বারবার।

ঘুষ, পেশীশক্তি, নফসের কু-রাজ — সবই ভেঙে দিই,
ইনকিলাবের দাবিতে মানুষকে স্বপ্ন দেখাই।
হক জাগুক, ন্যায়ের বিজয় হোক,
দেশ হোক মুক্ত, মানবতার গান গায় সবত্র।


অজ্ঞানতা আজ দুনিয়ার দাস, জ্ঞান নীরব,

ইলমের দীপ জ্বালে মানুষকে করি স্বতন্ত্র।
হে ছাত্র, হে যুবক! পড়ো, জাগো, লড়ো,
অন্ধকারের শাসককে দেখাও, সত্যকে শক্তি দাও।

ইনকিলাব হবে জ্ঞানের মাধ্যমে,
হক–ন্যায়ের বিজয় হবে শিক্ষার আলোতে।
আমি বিদ্রোহী, তলোয়ার হাতে দাওয়া জ্ঞান,
জুলুমের সিংহাসন ভেঙে দাও, মানুষ হোক স্বাধীন মহান।


দেশবিক্রি, লুট, পাচার — মাটি আজ দাস,

সম্পদ চুরি হয়, মানুষ বঞ্চিত, রাজা হাসে।
আমি বিদ্রোহী, তলোয়ার হাতে বাজি ধরি,
সত্যের আগুনে সব দুর্নীতি, লুটের খেলা ভাঙি।

হক ফিরুক, মানুষের অধিকার হোক নিরাপদ,
দেশ হোক মুক্ত, জাতি হোক স্বাধীন ও অভিজাত।
ইনকিলাব! ইনকিলাব!
এই স্বপ্ন বাস্তব, মানুষকে দাও জাগরণ।



আমি সেই জাতি, যারা ভয় পাই না মৃত্যুর সামনে,
যারা ভালোবাসে সত্যকে, ইমানের রক্তকে।
শাসকের চোখ বদ্ধ হোক, কিন্তু নয় মানুষের চেতনা,
কারণ হক সর্বদা জাগে — আল্লাহর ন্যায়ের শপথে।

উঠো হে যুবক, জাগো হে নারী,
হক ফিরুক, ন্যায় ফিরুক, দেশ হোক মুক্তির খানি।
শাসকের দাসত্ব ভেঙে দাও, জুলুমের খাঁচা ভাঙো,
আল্লাহু আকবার! বলে ন্যায়কে জাগাও।



আমি বিদ্রোহী! আমি ইনকিলাবের দূত!
আমি বলি — হক বাঁচুক, জুলুম মরুক,
এই দেশ ফিরুক আল্লাহর হুকুমে,
মুক্তির জয়ধ্বনি উঠুক — মানবতার নামে!

-----------------------------------------------------



তুমি এখন উগ্র নেতা

 

তুমি এখন উগ্র নেতা

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।

**********************************

আমি গর্জে উঠি আজ —
হে জালিম নেতা! হে ফিতনার বাদশাহ!
তুমি আজ আগুনের সিংহাসনে বসে
মানুষের ইজ্জত লুটে করছো হাসাহাসি!

তুমি বলো— এ দুনিয়া তোমার!
তুমি বলো— ইখতিয়ার তোমার হাতে!
না! আমি বলি,
আল্লাহর জমিনে কারো মালিকানা নাই—
এ জমিন, এ আসমান, এ বাতাস—
জনতার, মজলুমের, বাশারের!

তুমি এখন উগ্র নেতা —
তোমার চাহনি ফনির বিষে ভরা,
তোমার হাতে রক্তে রঞ্জিত পদচিহ্ন।
তুমি যুবকের স্বপ্ন কেটে ফেলো লোহা দিয়ে,
তুমি শিক্ষিতের মুখ বন্ধ করো দাপটে,
তুমি চাঁদাবাজ, দখলবাজ,
তুমি মানবতার ঘাতক — নামধারী রাজা!

আমি বলি— হে ফিরাউন! থামো!
তোমার সিংহাসন ভাঙবে,
তোমার তাজ পড়বে মাটিতে ধূলায়!
তোমার অহংকার ছিঁড়ে ফেলবে আজাদ তরুণ,
তোমার রাজ্যে বাজবে এক সুর — ইঙ্কিলাব!

ইঙ্কিলাব! ইঙ্কিলাব!
উঠো, হে দুনিয়ার মজলুম,
উঠো, হে বন্দি বাশার!
ছিঁড়ে ফেলো শিকল, ভাঙো তসবিহের মতো দাসত্ব!
মানুষের হায়াত মুক্ত হোক,
মানবতার নামে উঠুক নূরানী ঝড়!

আমি দেখেছি — তোমার শাসনের নামে
জ্বলছে মা’র চোখ, পুড়ছে সন্তানের বুক,
আমি শুনেছি— ইমামের আজানেও ভয় ঢেলে দাও,
তুমি রক্তে লিখো আইন!
তুমি আল্লাহর নামে অন্যায়ের দলিল বানাও!

হে উগ্র নেতা! হে ক্ষমতার দানব!
তুমি জানো না — ইতিহাস কারও দাস নয়।
কাল তোমার নাম লেখা হবে কলঙ্কে,
যেমন লেখা ছিল ইয়াজিদের পাশে,
যেমন ঘৃণায় উচ্চারিত হয় নরকের ফিতনা!

আমি বলি—
তুমি যতই আগুন জ্বালাও,
আমরা হবো বৃষ্টির মতো ন্যায়পথে ঝরো,
তোমার দাপটে নয়— আমরা বিশ্বাসে শক্ত!
তুমি যদি গর্জাও, আমরা হবো বজ্রের উত্তর—
আমরা মানবতার সৈনিক, নবীর উম্মত,
ন্যায়ের পক্ষে অগ্নিদীপ্ত আজাদ!

আমি বিদ্রোহী!
আমি দুনিয়ার মজলুমের কণ্ঠ,
আমি রক্তের আগুনে লিখি ন্যায়—
আমি চিৎকার করে বলি:
তুমি এখন উগ্র নেতা —
কিন্তু কাল তুমি ইতিহাসের লাঞ্ছিত নাম!

ইঙ্কিলাব! ইঙ্কিলাব!
হে জালিম! তোর রাজসিংহাসন জ্বলে যাক আগুনে,
মানবতার জয়ধ্বনি উঠুক আকাশে!
তুই হারবি—
কারণ সত্যের সামনে মিথ্যা কোনোদিন টেকে না!

--------------------------------------------------------

তুমি কথা রাখলে না

 তুমি কথা রাখলে না 

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর

***************************************

তুমি বলেছিলে —
মানবতার পথে চলবে,
দুঃখীর অশ্রু মুছবে,
অসহায়ের পাশে দাঁড়াবে —
আমি বিশ্বাস করেছিলাম!

তুমি বলেছিলে —
“মানবিক সেবায় আছি, থাকবো সারাজীবন।”
আমি ভেবেছিলাম, এই আলোর পথ
তোমারও আপন হবে।
কিন্তু তুমি পিছু হটলে অশুভ শক্তির ভয়ে!

কেন এমন করলে তুমি?
কে তোমাকে থামালো মানবতার গান থেকে?
কে তোমার হৃদয়ে ঢেলেছিল ভয়,
যে ভয় ভালোবাসাকেও নিঃশেষ করে দিলো?

তুমি বলেছিলে — ভালোবাসো!
ভালোবাসা কি এমন হয়?
যে ভালোবাসা দায়িত্ব থেকে পালায়,
যে প্রেম সেবার হাত ছাড়ে,
সে প্রেম নয় — এক নিঃসহায় ছলনা!

তুমি চলে গেলেও,
কিন্তু মানবিক কাজ থেমে থাকেনি,
মানবিকতার সূর্য আবারও ওঠবে
প্রতিটি সেবার আহ্বানে।

শুধু থেকে গেল এক প্রশ্ন —
তুমি কি সত্যিই মানুষটাকে নয়,
মানবিকতার প্রতীককেই হারালে?

তুমি বলেছিলে কথা রাখবে…
কিন্তু তুমি কথা রাখলে না।
তুমি মিথ্যে বলেছিলে —
ছলনাময়ী এক নারী,
যে হারালো নিজেরই প্রতিশ্রুতি!

তুমি থাকলে না, তবু
মানবিক কাজ চলবে,
প্রেমের নামে প্রতারণা নয় —
এবার মানবতার নামেই জয় হবো আমি। 

------------------------------------

রহমতের বিয়ে

 

রহমতের বিয়ে

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

***************************


বিসমিল্লাহ, শুরু করি আজ,
দুই হৃদয় মিলল, আল্লাহর ফযলতাজ।
মহব্বত-এ-হক, বন্ধন-এ-ইমান,
শান্তি ভরে গেছে প্রাণের জান।


ইক্ববাল-এ-মহব্বত, রহমতের বাতিশা,
সাথী-এ-জান, আল্লাহর দোয়ায় রাশা।
সুনন-এ-রাসূল, পথ অনুসরণ করি,
মুহাব্বত-ও-সদকা, দোয়া থাক আল্লাহর ধরি।


শাদী-এ-সাকা, মিলন-এ-ইকবাল,
ধৈর্য ও সাবর, মিলায় জীবন-সালাল।
নবীর ফাহমে, ফখর-এ-আহল,
প্রেম ভরে যাক দুনিয়া ও আখিরাতের কল।


ইক্ববাল-এ-মহব্বত, রহমতের বাতিশা,
সাথী-এ-জান, আল্লাহর দোয়ায় রাশা।
সুনন-এ-রাসূল, পথ অনুসরণ করি,
মুহাব্বত-ও-সদকা, দোয়া থাক আল্লাহর ধরি।


ফারিশতা-এ-রাহমত, নূর-এ-আল্লাহ,
বিবাহের বন্ধনে শান্তির দোয়া।
হৃদয়-এ-মহব্বত, মন-এ-ইমান,
যুগে যুগে বাঁচুক রহমতের আলাপন।

----------------------------------------

Monday, October 13, 2025

অনলাইন জুয়া

 অনলাইন জুয়া 

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।

************************

হে অনলাইন জুয়া! প্রলয়ংকরী!
নেশার বিভীষণী, লোভিনী, ধনলোভী!
তুমি টান, যুবক-যুবতীকে ভাসাও,
হাহাকার ঘরে, আশা ধ্বংস করো।

অর্থ হারায়, ঋণের ঝড়ে ভেসে যায়,
পরিবার শান্তি, স্তম্ভ নাড়া খায়।
হাসিশূন্য তব তীরে ছায়া,
অশান্তি ঢেউয়ে আসে বেদনা।

লেখাপড়া শুকায়, বইয়ের পাতা স্তব্ধ।
নোটবই বাজে, স্বপ্ন খণ্ডিত হয়।
শ্রেণিকক্ষ আলো নির্বাসিত,
ফল মুছে যায়, ভবিষ্যৎ অন্ধকারে।

যুবকের মেধা ম্লান, যুবতীর স্পৃহা ধ্বংসে,
আত্মসম্মান ক্ষুণ্ণ হয়, আত্মবিশ্বাস কাঁদে ঢেউয়ে।
হতাশার স্রোতে সব ভেসে যায়,
আছড়ে পড়ে নীরবতা — ছায়া অন্ধকারে।

বন্ধুত্বে ফাটল, প্রেমে দ্বন্দ্ব,
অপরাধ, প্রতারণা জন্মায় চুরি।
নিষ্ঠুর লোভে অভিভাবক ক্ষত হয়,
আইনের হাত ধরলে মামলা আসে।

নেশার জালে বাঁধা, সময় ক্ষয়,
পড়াশোনা-কার্য ক্ষুণ্ণ, ক্যারিয়ার ভেঙে যায়।
ডেটা ফাঁস, প্রাইভেসি লঙ্ঘিত,
হ্যাকার শত্রু, তথ্য লুটে নেয়।

ঘর অশান্ত, কান্না নিস্পৃহ,
ভবিষ্যৎ অন্ধকার, ঘরে গুম।
এখনই সজাগ না হলে — পড়াশোনা নষ্ট,
পিতা-মাতার প্রতি অনাচার ঘটবে।

বন্ধুত্ব, প্রেম, সম্পর্ক ভেঙে,
অয়ি — অশান্তি, নিঃশেষ ভবিষ্যৎ।
অয়ি প্রলয়করী ঢেউ! হে জুয়া!
নেতিবাচক নদী, যুবক-যুবতী ভাসাও চিরকাল।

জ্ঞান হরণ করো, আশা কেড়ে নে,
পড়াশোনা জ্বলে, সমান প্রকাশিত।
পারিবারিক স্নেহ বৈর করো না,
অয়ি বিপর্যয়ের জুয়া! অয়ি লোভিনী!

--------------------------------------------

বিপ্লবীর রক্ত

 বিপ্লবীর রক্ত

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

*********************************

শুনো হে শুনো, বিপ্লবীর রক্ত বৃথা নেই|
প্রবাহিত হয় স্রোতে, ভেসে যায় অন্ধকার সব|
উঠো হে বিশ্বের বিপ্লবী প্রাণ, বলো বিজয় ফুটবে|
পদপথে মিলিবে শাসকের অবনতি, ভাঙুক শৃঙ্খল|

অপমান শিক্ষকের নয় সভ্যতার প্রতিধ্বনি|
নয় স্বাধীনতার প্রতীক, জাগো হে বিপ্লবী প্রাণ|
ঝড় উঠে আকাশে, নদী বয়ে চলে উগ্র স্রোতে|
পাহাড় গর্জে ওঠে, দূরে শোনা যায় বিদ্রোহ ডাক|

ডালপালা দুলে বাতাসে, ঝরনায় ঢেউ ভাঙে তীব্র|
অন্ধকার ভেদ করে আলো, চোখে জ্বলে দীপ্তি, হৃদয়ে আগুন|
পাহাড় নাড়ে দূরে, নদী জেগে ওঠে উজ্জ্বল আলো|
পাখি ডাকে অচেনা সুরে, বিদ্রোহের সঙ্গীত বাজে|

ভাঙে শাসকের চিরাচরিত শৃঙ্খল, জাগো হে বিপ্লবী প্রাণ|
নতুন দিনের আলো ফুটুক, বিজয়ের গান উচ্চশ্বাসে|
চোখে জ্বলে দীপ্তি, হৃদয়ে আগুন ছড়াক প্রখর|
পদপথে মিলুক বিজয়, শাসকের অবনতি দৃঢ়ভাবে|

উঠো হে বিপ্লবী, শিখিয়ে দাও পৃথিবী সাহস|
জাগো হে, জাগো, বন্ধ হয়ে যাক নিপীড়নের ছায়া|
বিপ্লবীর রক্ত লিখে রাখুক ইতিহাসের পাতা অমর|
নতুন সূর্য উদিত হোক, জাগুক স্বাধীনতার আলো!

-------------------------------------------------------

রক্তাক্ত শিক্ষক

 

রক্তাক্ত শিক্ষক

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
***************************

চুপ চুপ… ওই ঘরে,
রক্ত ঝরে… ধীরে ধীরে…
চকের দাগে দুঃখ লেখা,
খাতায় জমে ব্যথার নীড়ে।

টুপ… টুপ… পড়ে ক্ষত,
ন্যায় চাওয়া! — যেন অপরাধ!
চোখে বিষাদ… বুকে ক্ষোভ,
মেরুদণ্ডে জ্বলে তিরস্কার।

চাঁদের নিচে… জেগে স্কুল,
আলো ঝরায়… নিঃশব্দ ফুল।
বইখান খুলে মুখে বলে —
“শিক্ষক আজ… রক্তে ভুল!”

ওই শুনো…! পাটাতনে ধ্বনি —
অধিকার চাই!” — হাওয়া বয় বনি।
কেউ শোনে না… কেউ দেখে না,
বিবেক সব… পাথর খনি।

দর্পণে মুখ… সব ঘোলা,
সত্য ঢাকে… কুয়াশা জ্বালা।
বিচারকের চোখে ঘুম,
ন্যায়বিচার… পড়ে বিমূঢ়।

হে সুশীল! তোর মুখ কই?
তুই কি তোর আত্মা… হারাইছস কই?
শিক্ষকের রক্তে লাল হলো পথ,
তবু তুই চুপ… কেন হে নীরব সভ্য সমাজ?

ওই স্কুলঘরে… গন্ধ আসে ঘাম,
আঁচলে মুছে নেয় ব্যথার নাম।
ফ্যাসিবাদের নব রূপে আজ,
লেখা হয়েছে… অন্যায়ের দাম।

চুপ চুপ… ও রাত জাগে,
ন্যায় চায়… কান্না লাগে।
জাতি গড়ার কারিগর কাঁদে,
কেউ আসে না… ন্যায়ের সাধে।

ওই দেখো! মেরুদণ্ড হীন,
চলার পথে… ছায়া চিন।
লজ্জায় কাঁদে… খাতা, কলম,
রক্তে ভিজে — শিক্ষা বন!

-------------------------------------

Sunday, October 12, 2025

দুর্ণীতির মঞ্চ

 দুর্ণীতির মঞ্চ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

***************************

হুমুনিয়া হুমুনিয়া! হাহাকার ভারি,
এইখানেতে লোভ আর ভয় ভারি,
ক্ষমতা মসনদের হাত ধরে
দোতলা কক্ষে ছায়া মিশে চেয়ে।

বাঁক সমুখে, সামনে ঝুঁকে,
স্বার্থের খেলা চুরি আর চাটুকারে ঢুঁকে,
বুক টানে, খাতা খুলে –
লুট, খুন, চাঁদাবাজি, কোপে কোপে খেলা।

সোনার হাড়-বেরুনো খেজুরগুলো
জায়গা করে নিয়েছে ধনীরা,
নাচে তারা গোপনে শহরের কোণে,
লোক দেখলে থমকে যায়, চুপচাপ ঘরে।

জমজমাটে ক্রমে ছায়ার খেলা,
ধোঁয়ায় ঢাকা সব ধন-অন্ধকার,
কোণার আলোয় দেহগুলো ফিরছে
স্বার্থের পাছে, পেছনের দরজা দিয়ে।

দখলবাজ, চোর চাটুকার,
গুম, খুন, লুটতরাজ,
ফ্যাসিবাদ, মববাদ –
দুর্ণীতির মঞ্চে সকলের খেলা।

প্রতিটি নিঃশ্বাসে গন্ধে ভরা,
অন্যায়ের উৎসব, নীরব দর্শক দেখে,
হাহাকার আর হাসি মিশে
মঞ্চে ভেসে ওঠে লোভ ও ক্ষমতার কাহিনী।

------------------------------------------------

আসন্ন বিপ্লবী

 

আসন্ন বিপ্লবী

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।

*************************************

আসন্ন বিপ্লবী! জাগো, চেতনান্বিত মন,
শোষণের আঁধারে হাসে শাসকের কপট চোখ।
জুলুমের ছায়া ভরে নিঃশ্বাসে ভয়,
তবু হৃদয় জ্বলে, অগ্নি-প্রবাহে।
স্বৈরবের কুঠুরি ভেঙে উঠে উদ্যম,
আসন্ন বিপ্লবী!


জেল-জুলুম, হুলিয়া, দমন-প্রহর,
নিশ্ছিদ্র রাত ভরে আতঙ্কের স্রোত।
তবু লুকোনো নেই উদ্যমের দীপ্তি,
পাথর-পাতা, মাঠ-নদী—শব্দ হয়ে ওঠে প্রতিবাদ।
শোষকের কুঠুরি কাঁপুক,
আসন্ন বিপ্লবী!

রক্তের ঝড়ে ভেজে প্রতিটি পথ,
ধ্বংসের মাঠে জন্মে নতুন প্রতিজ্ঞা।
অসীম আকাঙ্ক্ষা, স্বাধীনতার আহ্বান,
যুবসমাজের তেজে মিশে শক্তির স্রোত।
শোষণের দালাল হাহাকার করুক,
আসন্ন বিপ্লবী!

শৈলের চূড়া, পাহাড়ের বুক, নদীর পাথর,
সবুজ পাতায়, বাতাসে, সূর্যের আলোতে,
নিশ্বাসে নিশ্বাসে জাগে ক্ষোভ ও প্রতিরোধ।
হুলিয়া, জেল, প্রহর—সব বাধা ভেঙে,
নতুন দিনের সূচনা, মুক্তির আলো—
আসন্ন বিপ্লবী!

মোতির ঝলক নয়, রামধনু নয়,
কেবল দমবন্ধ করা চিৎকার,
নির্যাতিতের আহ্বান, উদ্দীপ্ত শক্তি।
প্রতিটি পদক্ষেপে নাড়া দেয় স্বৈরবের স্তম্ভ,
এই ক্ষোভ, এই সাহস, এই তেজ—
আসন্ন বিপ্লবী!

-----------------------------------------

ওহে নূরের কোরআন (গজল)

 ওহে নূরের কোরআন (গজল)

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

****************************************

ওহে নূরের কোরআন আল্লাহর বাণীওয়ালা,

যাঁহার অক্ষরে আছে নূরের উজালা।।

রহমতের বারতা নিয়ে নামিল যিনি আসমানে,
মানবের মুক্তির দিশা দিলেন কুরআনের তানে,
হেদায়েতের পথ দেখায় যে নিভৃতে-নিভালা।।


কালবের দাহনে সান্ত্বনা যে আনে,

অন্ধ হৃদয়েও জ্বালে ঈমানের প্রাণে,
পড়লে মুছে যায় অন্তরের জ্বালা।।


আয়াতে আয়াতে রহমত ধারা বয়ে যায়,

যে পড়ে সে পায় তৌহিদের মহিমায়,
এই কিতাবে লুকায়ে খোদার নিরালা।।


পাপে মগ্ন ধরা যবে তলিয়ে যায় আঁধারে,

কোরআন ডাকে — ফিরো, করো নামাজে সজগ সাবধানে,
আল্লাহর বাণী এই, চির সত্যর তালা।।

---------------------------------------------------------

উঠ রে আজান শুনে (গজল)

 উঠ রে আজান শুনে (গজল)

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

**********************************

ও মন নামাজের তরে উঠ রে আজান শুনে,
তুই প্রভুর দরবারে নত কর মস্তক ভবে গুণে।
তোর পাপের ভার, অন্ধকার পার হোক আলোর দিনে,
ও মন নামাজের তরে উঠ রে আজান শুনে। 

তুই কুরআনের বাণী শুন, হৃদয়ে কর স্থান,
তোর রব ডাকে, ফিরিয়ে নে তুই পথেরই সম্মান।
সেজদাহেতে খুঁজ্ শান্তি রে, হার মানিস না হীনেমনে,
ও মন নামাজের তরে উঠ রে আজান শুনে।

তুই দে যাকাত, তোর ভাইয়ের মুখে দে খুশির হাসি,
যার ঘরে আলো নাই, তারে দে ঈমানের বাতাসি।
তোর মায়ার ঘুম ভাঙ রে আজ, তওবা কর নির্ভয়ে প্রণে,
ও মন নামাজের তরে উঠ রে আজান শুনে।

ও মন ঈমানের আলো জ্বাল রে, ভাস ঈমানের স্রোতে,
মসজিদের মিনারে বাজে তকবিরেরই নোটে।
তুই প্রভুর প্রেমে মিলিয়ে যা রে, সব কষ্ট ভুলে মনে,
ও মন নামাজের তরে উঠ রে আজান শুনে।। 

--------------------------------------------------------------

Thursday, September 18, 2025

আলোর কণ্ঠধ্বনি

 আলোর কণ্ঠধ্বনি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
**************************************

রাওনাট পঞ্চাত বাড়ির আঙিনায় জন্ম তার,
মোঃ মহসীনুল ইসলাম—জ্ঞান ও ন্যায়ের অদম্য বার।
পিতা মোঃ ওসমানগনী সরকারের ছায়ায় বেড়ে ওঠা,
সত্যের প্রদীপ হাতে রাখেন পথের দিশারী আশা।

দাখিল ১৯৮৯, আলিম ১৯৯১,
অগ্নিশিখায় দগ্ধ হলো মন, জ্বলে উঠল অন্তর-প্রাণ।
আল-কুরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিস (সম্মান) ১৯৯৪,
এম.এ. আল-কুরআন ১৯৯৫—দার্শনিক অন্তর্দৃষ্টি অক্ষয়, অপ্রাণ।

ইসলামী বিশ্ব বিদ্যালয়, কুষ্টিয়া—জ্ঞানের ময়দান,
ধর্ম, ন্যায় ও মুক্তির তৃষ্ণায় ভরে ওঠে প্রতিটি প্রাণ।
চরসিন্দর ডিগ্রী কলেজে সহকারী অধ্যাপক হয়ে,
শিখান বিদ্রোহী আলোর পথে চলার অমলিন গীতি বয়ে।

ওয়াজে ওঠে তাঁর কণ্ঠে কোকিলার বিদ্রোহী সুর,
অন্ধকার ভাঙে, জাগে ন্যায়ের অমর নূর।
সত্যের মশাল হাতে বাঁধেন চিরন্তন নকশা,
মানবতার জন্য—আলোর কণ্ঠধ্বনি, দাওয়াহর অমৃত মমশাসা।

আঁধার জীবনের উজ্জ্বল প্রদীপ হয়ে,
শান্তির পথে মুক্তির ডাক ছড়িয়ে দেন যে মনে।
তার নূরের আলোয় দূর হয় অজানার আঁধার,
হৃদয় ভরে ওঠে ঈমানের অমর আলো চিরন্তনকার।

মানবতা জাগুক, অন্যায় পতন হোক,
মুক্তি ও ন্যায়ের শিখা জ্বলে উঠুক প্রতিটি চোখ।
মহসীনুল ইসলাম—চিন্তাবিদ, দার্শনিক, বিপ্লবী,
তার কণ্ঠে বেজে ওঠে আলোর অনন্ত প্রতিধ্বনি, তীব্রচঞ্চলী।

রাওনাট গ্রামের কৃতি সন্তান!
প্রতিটি আঁধার ক্ষণে জগে উঠ নূরের আলোয়।

প্রজ্ঞান জাগুক, অন্ধকারের গহ্বর ভেঙে,
সত্য ও ন্যায়ের রোষে জ্বলুক প্রত্যেক পাথর ঘেঁষে।
বিদ্রোহী বাতাসে নিক্ষিপ্ত হোক নির্যাতনের সঙ্গী,
মুক্তির দিশা হোক প্রতিটি হৃদয়ের অন্তঃস্থল অঙ্গী।

সত্যের পথে চলুক সাহসী পায়ের দোলা,
নির্যাতনের অন্ধকারে জ্বলে উঠুক মুক্তির আলো।

অপরাজেয় শক্তি হয়ে দাউ দাউ জ্বলে মন,
অন্যায়ের অন্ধকারে না হারায় কখনো জন।
প্রতিটি নিঃশ্বাসে জাগুক বিদ্রোহী সুর,
হক ও ন্যায়ের পথে দাওয়াহর আলো ছড়াক দূর।
------------------------------------------------------------


হত্যার মিছিল

 হত্যার মিছিল

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া, গাজীপুর
*********************************************

কি ভয়ানক চিত্র! রক্তাক্ত বাংলা, দিকে দিকে হত্যার মিছিল,
পারিবারিক দ্বন্ধ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, শত্রুতা মেখেছে প্রতিটি বিচিত্র রাস্তায়।

ঝোপঝাড়ে লুকানো অসুরী রোষ, নদী-নালা দগ্ধ ক্রন্দনে কেঁপে উঠে,
খালে-বিলে ভেসে যায় মৃতদেহ, পথের মাটিও চিৎকার করে শোকের সুরে।

জীবনের নিরাপত্তা কোথায়? প্রশ্ন করে শূন্য আকাশ,
প্রত্যেক শ্বাসে ধরে রাখে মৃত্যুর অমৃত হাহাকার।
রাষ্ট্র যন্ত্র কি আছে? প্রশ্ন জাগে, নীরবতায় ডুবে,
গাছের ছায়ায় লুকানো চিৎকার, পাথরের ফাঁকে ফাঁকে মৃত্যুর তাণ্ডব।

ঝর্ণার ধ্বনি যেন চিৎকার করে সভ্যতার দুর্ভিক্ষ,
পথে-ঘাটে লেখা আছে অসুরতুল্য বর্বরতার ইতিহাস।
শহরের রাস্তায় ভেসে যায় নির্দোষের রক্তাক্ত আহ্বান,
সদ্য ঝরা প্রাণের গন্ধে ভারী নিঃশব্দ শোক।

দিকে দিকে হত্যার মিছিল ছড়িয়ে আছে,
নদীর ঢেউ, খাল-বিল, প্রতিটি কোণ ভরে হাহাকার।
পারিবারিক দ্বন্ধ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, ভীষণ শত্রুতা
সমাজের রন্ধে রন্ধে, ছড়িয়েছে অবিরাম।

মানব সভ্যতা যেন তলিয়ে গেছে অন্ধকারের হিমাংশুতে,
পথে-ঘাটে থমথমে দুঃখ, নীরব দণ্ড, মৃত্যুর তাণ্ডব।
অসুরের মত হিংস্র হত্যার মিছিল চলে চিরন্তন অভিশাপে,
জীবনের নিরাপত্তা কোথায়? খুঁজে পাই না কোনো ঠিকানা।

রাষ্ট্র যন্ত্র কি আছে? প্রশ্ন জাগে প্রতিটি নিঃশ্বাসে,
দিকে দিকে হত্যার মিছিল থামে না, চিরকাল হিংস্রতার নীরব নৃত্যে।
রাত্রির অন্ধকারে ঝরে যায় তীব্র চিৎকার,
মানব সভ্যতার দুর্ভিক্ষে, ন্যায়-ধর্মের স্তম্ভ ভেঙে পড়ে,
রক্তাক্ত বাংলা, জীবনের নিরাপত্তা কোথায়, রাষ্ট্র কি আছে—
কি ভয়ানক চিত্র! প্রশ্ন করে প্রতিটি প্রাণ।

জাহেলী যুগের দিকে কি বাংলাদেশ?
প্রশ্নটা ঘুরে ফিরে বাজে প্রতিটি শহর, প্রতিটি গ্রামে,
হত্যার মিছিলের নীরব হাহাকার, বিদ্রোহী নদী-নালার ধ্বনি,
মানুষের আশা যেন নিঃশ্বাসের সঙ্গে বিলীন।

অসুরী হিংস্রতা, অমানবিক নৃশংসতা,
পরাধীন মনুষ্যত্বের শূন্যতা, রক্তে লালিত প্রতিটি শহর—
এই রক্তাক্ত বাংলা, এই হত্যার মিছিল,
জাগায় প্রশ্ন: জীবনের নিরাপত্তা কোথায়? রাষ্ট্র কি আছে?
আর আমরা কি জাহেলী যুগের দিকে ধাবিত হচ্ছি?
----------------------------------------------------


১৮-০৯-২০২৫

আঁধারে নূরের আলো

 আঁধারে নূরের আলো

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*****************************************

রাওনাট গ্রামের নূরানী আলো, পঞ্চায়েত বাড়ীর সন্তান,
মাওলানা মোহাম্মদ আমান উল্লাহ সরকার,
পিতা আলহাজ্ব আঃ মান্নান সরকার, মাতা মোসাঃ ময়জম বিবি,
দাদা আহম্মেদ পঞ্চায়েত, দাদী মোসাঃ আলচি বিবি,
জন্ম ০১ জানুয়ারি ১৯৭১ খ্রি., অন্তরে অমলিন দীপ্তি।

অন্ধকারের দমবন্ধা কুয়াশা ভেদ করে মিনারী,
প্রজ্বলিত আলোর ঝলক, শান্তির অমর ধারী।
তিনি যেন আঁধারে নূরের আলো,
মুক্তির ডাক দিয়েছেন ইসলামের পথে মানবের তরে।

হৃদয়ে বাজে বিদ্রোহী প্রেমের অগ্নিসুর,
ভীতি ভেঙে পড়ে, অশ্রু শুকায়, আশা জাগে ঘুর।
নফসের আঁধারে কেটে ওঠে জ্যোতির্ময় মননপথ,
প্রাণে জাগে অন্তরালের দীপ্তি, চিন্তার অমর গহ্বর।

দয়া, করুণা, মানবতার তিন প্রহরী,
ফুটে ওঠে বুকে, নিঃশ্বাসে, জীবনদর্শনের গভীর জোয়ারী।
ধ্বংসের অভিশাপ ঘেঁষেও তিনি তোলেন দীপের শিখা,
অসত্যের দেয়াল ভেঙে, সত্যের ধ্বনি ছড়িয়ে যায় বিকশিত শিখা।

প্রার্থনা, তাজকিয়া, নীরব তীর্থের নিশ্বাসে ভেসে,
জীবনের পথ আলোকিত, অন্তর শুদ্ধি, অস্তিত্বের নীড়।
মানবতার মুক্তির তরে, হঠাৎ ওঠে বিদ্রোহী সুর,
বিভাজনের অন্ধকারে, জাগ্রত করে প্রেম ও দূরত্বের দূর।

চলুন একসাথে আলোর পথে হেঁটে যাই,
নফসের অন্ধকার কাটিয়ে, সুর মিলাই।
মাওলানা মোহাম্মদ আমান উল্লাহ সরকার,
দাওয়াহর অনন্ত দীপ, আলোর অনন্ত মিনারী হয়ে ঝিকিমিকি।

হৃদয় হয়ে ওঠে মিনারী, অনন্তের মতো জ্বলে,
প্রতিটি পদক্ষেপ আলোকিত করে, অন্তরের দিগন্তে ছড়ায় দ্যুতি।
জ্ঞান, ভক্তি, ধৈর্য্যের তরে জীবনের দিগন্ত উন্মুক্ত হয়,
তীব্র দার্শনিক অন্বেষণে আলো হয়ে ওঠে পথপ্রদর্শক।

আল্লাহর নূরে ভেসে যায় হৃদয়বিজ্ঞান,
অসীম শান্তি, মুক্তি, মানবতার অন্তরের জান।
মাওলানা আমান উল্লাহ সরকার, দাওয়াহর অনন্ত দীপ,
আলোর অনন্ত মিনারী হয়ে জ্বলে, অমলিন আলো ছড়িয়ে দেয়।
-----------------------------------------------

এক নজরে মাওলানা আমান উল্লাহ সরকার

 এক নজরে মাওলানা আমান উল্লাহ সরকার

কলমেঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************************************
ব্যক্তিগত পরিচয়
• নাম: মাওলানা মোহাম্মদ আমান উল্লাহ সরকার
• পিতা: আলহাজ্ব আঃ মান্নান সরকার
• মাতা: মোসাঃ ময়জম বিবি
• দাদা: আহম্মেদ পঞ্চায়েত
• দাদী: মোসাঃ আলচি বিবি
• জন্ম তারিখ: ০১ জানুয়ারি ১৯৭১ খ্রি.
• জন্মস্থান: রাওনাট, কাপাসিয়া, গাজীপুর
শিক্ষাজীবন ও প্রাথমিক কার্যক্রম
• সাবেক ছাত্র প্রতিনিধি, বেগুনহাটি ফাজিল মাদ্রাসা
• দাওয়াত তাবলীগে ১৯৮৮ সালে ৩ চিল্লা ও ১৯৯১ সালে এক চিল্লা সম্পন্ন
• সাবেক মুয়াল্লিম, বিশ্ব ইজতেমা, টঙ্গী, গাজীপুর
পেশাগত জীবন
• সহকারী অধ্যাপক (আরবি), বেগুনহাটি ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা, রাণীগঞ্জ, কাপাসিয়া, গাজীপুর
• সরকারীভাবে ইমাম প্রতিক্ষণ প্রাপ্ত।
ধর্মীয় ও সামাজিক নেতৃত্ব
• খতীব: রাওনাট পশ্চিমপাড়া নূরানীয়া জামে মসজিদ, রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
• সভাপতি: ইসলামী পাঠাগার ও দাওয়াতুল হক,রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

• পরিচালক: দারুল কোরআন দাওয়াতুল হক মাদ্রাসা, রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর্
• আমীর: খানকাহ আশরাফিয়া মহাম্মাদুল্লাহ হাফিজ্জী হুজুর (রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর)
• আমীর: দাওয়াত তাবলীগ জামাত, দূর্গাপুর ইউনিয়ন
• আমীর: সন্মেলন বাস্তবায়ন কমিটি, রাওনাট আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ (১৯৯৮ হতে)
• আমীর: সীরাতুন্নবী (সাঃ) মাহফিল রাওনাট, ২০০৯ হতে
• প্রধান উপদেষ্টা: জামিয়া কারিমিয়া বালিকা মাদ্রাসা ও এতিমখানা, রাওনাট
• সভাপতি: তাহাফিযুল কোরআন ইসলামীক একাডেমি, বরুন পঞ্চায়েত বাড়ী মোড়

• সহ-সভাপতি: মাদ্রাসা শিক্ষক কর্মচারী কল্যাণ সমিতি, কাপাসিয়া
রাজনৈতিক ও সংগঠনিক দায়িত্ব
• সাবেক সভাপতি: ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন (১৯৯৬–১৯৯৭), কাপাসিয়া
• সাবেক জয়েন্ট সেক্রেটারী: গাজীপুর ইশা আন্দোলন (জেলা)
• সাবেক সভাপতি: জাতীয় মাওলানা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ, কাপাসিয়া উপজেলা
• সাবেক সভাপতি: ইসলামী ঐক্যজোট (১৯৯৬), কাপাসিয়া
• সাবেক সহ-সভাপতি: জাতীয় ওলামা মাশায়েখ পরিষদ, গাজীপুর জেলা
আধ্যাত্মিক পরিচয়
• খলীফা: হযরত হাফিজ্জী হুজুর রাহ. এর অন্যতম খলীফা, শাইখুল হাদীস মাওলানা শেখ শিহাব উদ্দিন (রাহঃ), ২০১০ সাল
সংগ্রাম ও নির্যাতন
• ১৯৯৭ সালে কাপাসিয়া সন্ত্রাসীদের দ্বারা নির্যাতিত
• ২০০৫ সালে মিথ্যা মামলায় হয়রানির শিকার, পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব মিজানুল হক চৌধুরীর তদন্তে নির্দোষ প্রমাণিত
---------------------------------------------------------------------------------------------------------
মুক্তির ডাক
********************************
রাওনাট গ্রামের নূর, মুক্তির দিশারী,
দাওয়াহর ময়দানে আলোর অনন্ত মিনারী।
সকলের শ্রদ্ধেয় আলেমেদ্বীন,
ইসলামের খেদমতে চির অমলিন।

তিনি মোহাম্মদ আমান উল্লাহ সরকার,
দাওয়াহর পথে অটল, আস্থা পূর্ণ দ্বার।
পিতা আলহাজ্ব আঃ মান্নান প্রেরণার ছায়া,
মাতা মোসাঃ ময়জম বিবি দো’আয় আলো মেলল প্রার্থনা।

দাদা আহম্মেদ পঞ্চায়েত ন্যায়ের প্রতীক,
দাদী মোসাঃ আলচি বিবি করুণার সলীক।
তাঁদের উত্তরাধিকার পেলেন দীপ্ত প্রাণ,
আল্লাহর দাওয়াহয় যিনি রাখলেন মান।

মসজিদের খতীব, আরবির শিক্ষার দীপ,
কোরআনের বানী ছড়িয়ে দিচ্ছেন নীরব প্রণীপ।
মাদ্রাসা পরিচালনায় দাওয়াহর প্রেরণা,
দাওয়াতুল হক, নূরের তরঙ্গনা।

তাবলীগ জামাতে দিয়েছেন চিল্লা তিনটি,
ইস্তেমার ময়দানে উড়ালেন ধ্বজা শীর্ষ।
হাফিজ্জী হুজুরের খলীফা মহীয়ান,
শাইখ শিহাব উদ্দীনের সান্নিধ্যে পূর্ণ ইমান।

সাবেক সভাপতি ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন,
ইসলামের পতাকা উড়ালেন বিশাল চেতন।
সাবেক জয়েন্ট সেক্রেটারী গাজীপুর ইশা আন্দোলন,
দাওয়াহর ময়দানে রেখেছেন অটল সনদ।

মাদ্রাসা শিক্ষক কর্মচারী কল্যাণে সহ-সভাপতি,
জামিয়া কারিমিয়া বালিকা মাদ্রাসা ও এতিমখানার প্রধান উপদেষ্টা।
তাহাফিযুল কোরআন ইসলামীক একাডেমির সভাপতি,
নূরের তরঙ্গ ছড়িয়ে দেন দিনরাত অনন্ত।

মিথ্যা অভিযোগ, সন্ত্রাসের আঘাত,
সব সহ্য করলেন ধৈর্য্য ও তাকওয়ার সাথে।
মুহাম্মদ (সা.) এর পথ ধরে চলা,
দাওয়াহ ইলাল্লাহ—চিরন্তন বেলা।

রাওনাট গ্রামের নূর, মুক্তির দিশারী,
মোহাম্মদ আমান উল্লাহ সরকার আলোর মিনারী।
সকলের শ্রদ্ধেয় আলেমেদ্বীন,
ইসলামের খেদমতে চির অমলিন।

মহান আল্লাহ নেক হায়াত দান করুন,
তাঁর জীবন দাওয়াহর আলোয় ভরুন।
আমীন, যাকাত, সালাত, দীন প্রচারে ব্যস্ত থাকুন,
সকল মুমিনের হৃদয়ে তাঁর নাম হোক উজ্জ্বল।
-----------------------------------------------------------------

Wednesday, September 17, 2025

নদীতে ভাসছে লাশ

 নদীতে ভাসছে লাশ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর।
--------------------------------------------------------------------
নদীতে ভাসছে লাশ, নীরব অথচ চিৎকার করে,
নারী, নর, শিশু—সব মিলিয়ে স্রোত ভাঙে হৃদয় ভরে।
এত খুন! এত গুম! এত হত্যা—
প্রতিটি লাশ যেন মানবতার মৃত্যুর প্রতিচ্ছবি।

নিরাপত্তার কুটিরে শুন্যতা,
ঘরে লুকানো আতঙ্ক, ঘুমে ভাঙা স্বপ্নের ছায়া।
চেনা মুখ, অচেনা কান্না, অজস্র ব্যথার ছায়া,
নদী শোনে না আর কারো আর্তনাদ, শুধুই বর্বরতার আগাগোছা।

পাখি আকাশে থমকে, বাতাস নিঃশব্দ,
নদী নিজেই কাঁদে, ভেসে যায় শোকের ঢেউয়ে অশ্রুবর্ষণ।
সবুজ ঘাসে মেখে রাখা স্বপ্নগুলো ছিন্ন,
মায়ের আঁচল, বাবার ছায়া, সব মিলিয়ে কালো জলে মিলায়।

স্বাধীন তবু স্বাধীন নয় জীবন,
প্রতিটি ভেসে যাওয়া দেহের মধ্যেও লুকিয়ে আছে আশা।
নদী বলে—মৃত্যুর মাঝেও জন্ম নেয় নতুন প্রেরণা,
লাশ ভেসে গেলেও মানবতার হৃদয়ে জাগে দীপ।

এ দৃশ্য হতে মুক্তি চায় জাতি,
বর্বরতার শিকড় কেটে ফেলার ডাক ওঠে গগনে।
চেনা পথ ভেঙে, অচেনা শিখরে,
নদীর ঢেউও বলে—নতুন সকাল আসে।

বাতাস কাঁপে, পাখিরা ফিরে আসে,
চলমান স্রোতের মধ্যে জন্ম নেয় নতুন প্রার্থনা।
মানবতার দীপ জ্বলে অটল,
প্রতিটি মৃত্যু শিখায়—জীবনই শেষ পর্যন্ত অমোঘ।

নদীর তাণ্ডবের মাঝেও ফুটে ওঠে গান,
অশ্রুর স্রোতের মাঝে জাগে নতুন বোধ, নতুন জীবন।
লাশের ভেসে যাওয়ায়ও ঘুমোতে দেয় না আশা,
জাতি চায় মুক্তি—এই শূন্যতার অন্ধকার ভেঙে।

অন্তহীন স্রোতে ভেসে যায় শোক,
কিন্তু জন্ম নেয় নবচেতনায় দীপের আলো।
নদী কাঁদে, নদী গর্জে, নদী বলে—
মানবতার অন্তহীন স্বপ্ন, কখনো নিঃশেষ হবে না।
-----------------------------------------


অস্তমিত সূর্য

 অস্তমিত সূর্য

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর।
--------------------------------------------------------------------
রাওনাট পশ্চিম পাড়ার মাঠে হাওয়া ঢেউ খেলে,
মরহুম আব্দুর রহিম মোল্লার স্মৃতি হৃদয় ছুঁয়ে বলে।
হাফেজ আউয়ালের ছায়ায় বেড়ে ওঠা প্রাণ বিদ্রোহী,
সাবেক নেতা, সমাজসেবক—দ্যুতি জ্বলে অন্তরবিহীন।

সকলের নিকটে গ্রহণযোগ্য, প্রীতি দীপ জ্বলে মণিক,
মৃদুভাষী চিত্তে লুকানো বিপ্লবী আগুন, অমলিন শিখা অনন্তিক।
হঠাৎ মৃত্যু—অচিন্তিত বিদায়, শূন্যতায় ঢেকে যায় ঘর,
অমলিন প্রভাতেও থমকে সূর্য, কুয়াশা জ্বলে মনজুড়ে নীর।

উদিত সূর্য একদিন, রোদে মাখা দিগন্তের খেলা,
আজ অস্তমিত আলোর রেখা ঝরে অশ্রুবিন্দুতে ভেলা।
নদী নীরব, বন নিস্তব্ধ, আকাশে ঘনধূসর শাপ,
বন্ধুত্ব, ন্যায্যতা, সমাজসেবা—ওর প্রতিফলন চিরকাল ধাপ।

রাওনাটের মাঠে বাজে শূন্যতার বিদ্রোহী সুর,
হৃদয়ে বয়ে যায় ব্যথার নদী, বুকে জাগে স্মৃতির পুর।
স্পল্পভাসী চিত্তেও বিপ্লবী আগুন জ্বলে অমলিন,
মরহুমের প্রতিটি কাজ, বন্ধুদের মনে বেঁচে থাকে অনন্তিন।

অস্তমিত সূর্য, আলোয় রয়ে গেছে বিদ্রোহী ছাপ,
প্রাণের দ্যুতি ঝরে নদী, বন, আকাশে—শোকের নীরব ধাপ।
সমাজে, বন্ধুদের মনে, জীবনের আলো স্থির হয়ে আছে,
মরহুম আব্দুর রহিম মোল্লা বেঁচে আছে, চিরপথে অমর, অবিনাশে।

নীরব নদী, কুয়াশা, মাঠে বাজে স্মৃতির বিদ্রোহী গান,
প্রতি পদক্ষেপে প্রতিফলন, হৃদয়ে চিরকাল অম্লান।
সকলের প্রীতি, সেবা, আদর্শ বাজে বুকের ঢেউয়ে,
অস্তমিত সূর্যের আলো ছড়িয়ে আছে পথের বুকেও।

মানবতা, বন্ধুত্ব, ন্যায্যতার বিদ্রোহী ধ্বনি,
অসীম অন্ধকারে আলোর রেখা—চিরন্তন স্মৃতির ধ্রুবতারা ধানি।
হে আল্লাহ! (أَللّٰه), রহিমের নূর (نور) দিক ধরা,
মরহুমের বিদ্যুৎ দীপ্তি সমাজে জ্বলুক চিরন্তন, হে সেরা দেহদর্শন।

বিদ্রোহী অন্তর, নীরব প্রভাত—সকলের মনে বাজুক গান,
অস্তমিত সূর্যের দীপ্তি চিরকাল অমলিন, অশেষ প্রভাসমান।
-----------------------------------------

আমি কে?

 আমি কে?

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর।
--------------------------------------------------------------------
আমার নাম মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা,
রাওনাট গ্রামে মোল্লা বাড়ীর দোলা।
মৌলভী আহাদ আলী—বংশের গর্বিত আলো,
তাঁর দোয়ায় ফুটে উঠল আমার জীবনের ভালো।

পিতা আবুল হোসেন মোল্লা, ব্যাংকার সৎ-প্রাণ,
মাতা মিনারা খানম স্নেহস্রোতের দান।
তাদের কোলে পাবুর নানাবাড়ি ভোরের ঘরে,
১৯৭৮ সালে এলাম এ ধরাধামে নীরব মমতাভরে।

শৈশবে চঞ্চল আমি, খেলায় মজে থাকি,
পড়ায় অনীহা দেখে দুঃখ পেতেন মা-বাবা নাকি।
তবু তাদের কষ্ট-ভালোবাসা মমতায় ভরা,
প্রাইমারী শেষে পথ খুলল শিক্ষার সরা।

রাওনাট আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে দিলাম জয়,
এস.এস.সি প্রথম বিভাগে পেলাম ভবিষ্যৎময়।
কাপাসিয়া কলেজে এইচ.এস.সি’র আলো,
ভাওয়াল বদরে আলম কলেজে বি.কম, এম.কম ভালো।

ছাত্রজীবনে নাম লিখালাম রাজনীতির গান,
ক্লাস ক্যাপ্টেন হলাম ষষ্ঠ থেকে দশম মান।
কলেজ সংসদে দিলাম নির্বাচনের শপথ,
বক্তা হয়ে পেলাম ছাত্রসমাজের স্নেহরথ।

আমি বাঙালি, বাংলাদেশী, লাল-সবুজ আমার প্রাণ,
মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাঁধা আমার গান।
স্বৈরতন্ত্র-ফ্যাসিবাদ করি আমি ঘৃণা,
শোষিত-বঞ্চিতের পাশে দাঁড়ানোই ধ্রুবচিন্তা।

আমরা দুই ভাই, এক বোন—পরিবারের বাঁধন,
ভাই নাজমুল এহছান মোল্লা স্মৃতির সুধা-ধান।
বোন ফারজানা আক্তার লিপি ঘরের নির্ভর,
স্নেহের আঁচল মেলে রাখেন সবার উপর।

আজ কর্মক্ষেত্রে আছি মহাখালীর কোলে,
বিবিএস ক্যাবলস পিএলসি আমার জীবনের দোলে।
চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আবু নোমান হাওলাদার,
প্রেরণার দীপশিখা, সাহসের অবার।

তাঁরই সহায়তায় লিখলাম “পঞ্চ কলি” গান,
এরপর এলো “আগামীর আলো”, “উপহার” মহান।
“মুক্তির চাবি”, “স্মৃতির আলপনা”—মিলে পাঁচটি গ্রন্থ,
কাব্যের ডালি বিলাই আমি আপনজনের অন্তঃ।

আট হাজার কবিতা লিখেছি আমি এ প্রাণে,
দেশপ্রেম, ইসলাম, মুক্তিযুদ্ধ, মানবতার টানে।
ইচ্ছে আছে—“কাপাসিয়ার আলো” হবে প্রদীপ,
স্বদেশী তরুণ জাগুক নতুন দিনের নীপ।

আমি সন্ত্রাস, মাদক, চাঁদাবাজির শত্রু কঠিন,
আমি চাই লাল-সবুজে উঠুক প্রজন্ম নবীন।
আকাশে পাখির মতো ডাকি স্বদেশ গান,
বাংলার সন্তান আমি—এটাই আমার পরিচয়-প্রাণ।
-----------------------------------------

গবরে পদ্মফুল

 গবরে পদ্মফুল

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর।
--------------------------------------------------------------------
রাওনাটের উজ্জ্বল মাঠে, বিদ্যার দীপ জ্বলে,
ছায়াপথে নেচে ওঠে মেঘের সুরে–বাতাসে।
মোঃ গোলাম মুস্তফা আকন্দ, আঃ লতিফ আকন্দের সন্তান,
সায়মন বেগমের মমতায় ভরা হৃদয় নীরব প্রান।

৩১শে আগস্ট ১৯৬৭, ভোরের রঙিন আলোয় জন্ম,
দরিদ্রতার আঁধারে ফুটে উঠল আশা, জ্ঞানের প্রদীপ।
দীর্ঘশ্রম, চোখের জল ও হিয়ারে লেখা-পড়ার গল্প,
স্বপ্ন শিক্ষক হওয়া, জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেওয়ার কল্প।

কৃষিকাজের মাঠে হেঁটে খোঁজে সুখের ছায়া,
প্রকৃতির ছোঁয়ায় শিখে স্নিগ্ধতার গোপন ভাষা।
কৃষি, শিক্ষা, ধর্মীয় ও সামাজিক কাজে নিয়মিত তিনি,
সমাজের কল্যাণে দোয়া প্রার্থনায় ভরে রাখেন অন্তর।

তার অমল অর্জন ও সাফল্যের আলো –
ছয় বিষয়ে লেটার মার্কস সহ,
শিক্ষকের চোখে ঝরে আনন্দের জল,
জীবনের প্রতিটি কোণে ছড়িয়ে জ্যোতির্ময়ী আলো।

১৯৮২ সালে এসএসসি পরীক্ষায় পেলেন স্বর্ণালী ফলাফল,
এই রেজাল্টের জন্য আজও কালজয়ী,
অদম্য মেধা ও শ্রমের রেকর্ড, যুগের ইতিহাসে অমর।
বর্তমানে প্রখ্যাত রসায়নবিদ, বাংলাদেশ রসায়ন শিল্প সংস্থায়,
দেশ ও জাতির অগ্রযাত্রায় মেধা, শ্রম ও মন দিয়ে রাখেন হাত।

গবরে পদ্মফুলের মতো উজ্জ্বল তার পথচলা,
দরিদ্রতার অন্ধকার পেরিয়ে জ্বলে অমল দীপ ঝলমলা।
শান্ত নদী, নীরব হাওয়া, চঞ্চল পাখির গান,
প্রকৃতির অলঙ্কারে মিলেছে তার নৈসর্গিক প্রাণ।

কৃষকদের জন্য নিবেদিত, শিক্ষা ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্য তার,
মানবিক কল্যাণে উজ্জ্বল হৃদয়, সকলের কাজে দোয়া প্রার্থী।

প্রথম বিভাগের গৌরব ও অদম্য রেকর্ডে তার নাম চিরন্তন,
জীবনের সংগ্রাম, মেধা ও ভালোবাসায় ফুটে ওঠে অমল দীপ।

হে রাওনাট আদর্শ উচ্চ বিদ্যা নিকেতনের প্রজ্ঞাবান,
গবরে পদ্মফুলের মতো ফুটুক চিরন্তন দীপ,
মুক্তি, ন্যায় ও জ্ঞানের পথে ছড়াক অনন্ত স্নিগ্ধ ঝাপসা,
প্রকৃতির অলঙ্কার আর মানবতার সেতু মিলিয়ে থাকুক চিরকাল।
-----------------------------------------

রাওনাট স্কুলের মেধাবী ছাত্র

 রাওনাট স্কুলের মেধাবী ছাত্র

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর।
--------------------------------------------------------------------
ওহে শুনো, ওহে শোনো, রাওনাটের বুকে
জন্মেছিল এক মেধাবী, চাঁদের আলোয় শুভ্র হেসে।
পিতা আঃ লতিফ আকন্দের কোলে লাল সূর্যের মতো উজ্জ্বল,
মাতা সায়মন বেগমের স্নেহে, বৃষ্টি ভেজা মাটির মতো কোমল।

লুঙ্গী শার্টে শিক্ষার পথে ছুটে যেত সে,
সব শ্রেণীতেই প্রথম—দীপ্যমান রশ্মি যেন উজ্জ্বল।
বরাইদ প্রাইমারী স্কুলের আঙ্গিনা পেরিয়ে
রাওনাট আদর্শ উচ্চবিদ্যা নিকেতনে উড়েছিল পাখির মতো।

নদীর জলে প্রতিফলিত আকাশের স্বপ্নের ছায়া,
হাওয়ার কণায় মিশে চিন্তার দীপ্তি।
বৃক্ষের ছায়ায় গেঁথে শপথ,
পাথরের খাঁজে দেখা পেল ধৈর্যের গান।

জীবন নদীর প্রবাহ, অনিশ্চিত, অনন্ত,
ক্লান্তি, দুঃখ, আশা—ঢেউয়ের ছন্দে ভেসে।
অধ্যবসায়, ন্যায়বিচার, নৈতিকতার দীপ্তি
প্রতিটি ধাপে ছিল আলোর নুর।

১৯৮২ সালে এস এস সি পরীক্ষার দিনে,
ছয় বিষয়ে লেটার সহ প্রথম বিভাগ—উজ্জ্বল রোদ।
দেশ জুড়ে সৃষ্টি হলো আলোড়ন, উদ্দীপনার জ্বালা,
রাওনাটের ইতিহাসে লেখা অমলিন নক্ষত্র।

চেয়েছিল শিক্ষার পূর্ণ জ্ঞান,
লেকিন দারিদ্র্যের শৃঙ্খলে বাঁধা পড়ল প্রাণ।
সংসারের হাল ধরতে, কৃষিকাজে হাত দিতে হলো,
লেখাপড়ার আলোকে হাওয়ার স্রোতে বোনা।

কৃষকের প্রতি জন্মলাগা শ্রদ্ধা, ভাবনার দীপ্তি,
মাটির গন্ধে, বর্ষার ঝরে, খেতের ধানশীষে প্রীতি।
শিক্ষা শেষে রসায়নবিদের চাকুরি,
বাংলাদেশ রসায়ন শিল্প সংস্থায় নিয়োজিত।

হৃদয় নদীর গভীরতা, পাহাড়ের অটল ছায়া,
ঝড়-ঝাপটা দেখেও দমে যায়নি বল।
কৃষক উন্নয়নে জাগ্রত মন,
মাটি, নদী, আকাশ—শিক্ষার শিবিরের প্রমাণ।

মোঃ গোলাম মুস্তফা আকন্দ—রাওনাটের কৃতি সন্তান,
রেজাল্টের রেকর্ড আজও অটুট,
ফুলের হাসি, বাতাসের স্রোতে ছড়িয়ে প্রাণ,
অমলিন দ্যুতি ঝলক দিল কোল আলোয়।

মেহমান মানুষের সেবা, দীন কল্যাণ,
জীবনের প্রতিটি ধাপেই আদর্শ।
আল্লাহর নুর, ফাতিহার আশীর্বাদে পথ সুপ্রকাশ,
জীবনের গল্প হয়ে উঠুক নক্ষত্র আলোকপ্রকাশ।

অমলিন দ্যুতি, নুরের জ্যোতি—প্রকৃতির আলয়,
শিক্ষা, সেবা ছোঁয়া হোক চিরন্তন।
বাতাস, নদী, পাহাড়—জীবন দর্শন,
মেঘের আঁকশিতে লেখা ধৈর্য্য, প্রেম, মানবিক সন।
-----------------------------------------