Thursday, August 27, 2026

নামাজ ছেড়ে দিও না হে মুমিন

 


কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

*************************************

নামাজ ছেড়ে দিও না হে মুমিন, ভুলো না আপন রব্বেরে,

সিজদাহ্-কুঁড়িতে ফোটাও ফুল, সুবাস ছড়াও আখেরে।
উদাসীনতার খোলস ছিঁড়ে, ছোটো মসজিদের মিনারে,
দিল-পিঞ্জর সঁপে দাও আজ, দয়াময় সেই গাফফারে।
নামাজ ছেড়ে দিও না হে মুমিন, ভুলো না আপন রব্বেরে।


ফজরের নূরের আলোয়, জাগো মুসাফির দিল-মেহমান,
তিমির-রজনী ফাড়িয়া গাও, দয়াল প্রভুরই গুণগান।
আশেক-হৃদয়ে জ্বেলে নাও আজ, ইশকেরই এক পাক চেরাগ,
জোহরের বেলা ধুয়ে নাও মনে, যত ছিল কালো রেশ-দাগ।
তাসবিহ্-হাতে জিকির তোলো, কাটাও পাপের শর্বরী,
খোদায়ী নূরে ভরুক তনু, খতম হোক সব চাতুরী।


আছরের সায়াহ্ন বেলা, ডাকে রে তোমায় ওরে উদাস,

মাগরিবের রাঙা আলোয়, করো তওবারই হাহুতাশ।
ইশার নামাজে সমর্পণ করো, জীবনের সব দুখ-ভার,
রহমতেরই দরিয়া নামিবে, খুলিবে জান্নাত-দুয়ার।
সেজদাহ্-মাঝে লুটিয়ে কাঁদো, ওরে গাফেল দিল-নাদান,
আঁখিজলে ধুয়ে নাও কলঙ্ক, গাও তাওহীদেরই জয়গান।


আরশ-কাঁপানো মোনাজাতে চাও, খোদার পাক সেই দিদার,

আখেরাতের কঠিন দিনে, রাসুল করিবেন পারাপার।
মুমিনের মিরাজ এই যে নামাজ, নূরেরই এক তাজ ওরে,
গোরের আঁধার ঘরে, এই নামাজই তো আলো করে।


নামাজ ছেড়ে দিও না হে মুমিন, ভুলো না আপন রব্বেরে,

সিজদাহ্-কুঁড়িতে ফোটাও ফুল, সুবাস ছড়াও আখেরে।

-------------------------------------------------

 

আসলে দোষ কার?

 কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

***************************************

আসলে দোষ কার?
কেউ বলে শিক্ষকের, কেউ বলে অভিভাবকের,
কেউ বলে সমাজ আর পচা রাষ্ট্রব্যবস্থার!
আমি বলিদোষী আমরা সবাই, দোষী এই অন্ধকার!

আমরা দিতে পারিনি আলোর দিশা,
দিতে পারিনি এক আদর্শ শিক্ষার পরিবেশ;
যেখানে মানুষ গড়ার কারখানায় আজ
নেমে এসেছে এক চরম দুর্দশার অবশেষ।

শিক্ষক আজ ভুলেছে তার শতভাগ ব্রত,
টিউশন আর কোচিং বাণিজ্যে মত্ত অবিরত।
অভিভাবকও অন্ধশুধু খোঁজে জিপিএ-ফাইভ,
মোবাইল স্ক্রিনে বন্দি রেখে সন্তানের লাইভ!
রাষ্ট্রের তদারকি? সে তো এক মস্ত বড় ফাঁকি,
খাতা-কলমে সব ঠিক, বাস্তবে সব খাঁ খাঁ- বাকি!

আর শিক্ষার্থীরা?
ওরা আজ পথহারা, লক্ষ্যহীন এক ঝাঁক পাখি!
পড়ালেখায় নেই মন, মাথায় চেপেছে সর্বনাশা নেশা,
মাদক, জুয়া আর কিশোর গ্যাং আজ ওদের প্রধান পেশা।
মোবাইলের স্ক্রিনে ডুবছে তরুণ প্রাণ,
কোথায় গেল বিবেক? কোথায় গেল সম্মান?

যে হাত স্পর্শ করার কথা ছিল মহাগ্রন্থের পাতা,
সে হাতে আজ চুরির ছুরি, খসে পড়েছে মস্তক আর মাথা!
গুরুকে আজ অপমান করে, অপদস্ত করে হাটে-মাঠে,
পিতা-মাতার অবাধ্য হয়ে ঘোরে আড্ডার ঘাটে ঘাটে!
কিশোর গ্যাং-এর মহড়া বসে অলিতে-গলিতে,
ভয়ে কাঁপে সমাজ, সাহস নেই কারো সত্য বলিতে!

গ্রামের স্কুলগুলো আজ ধুঁকে ধুঁকে মরে,
ভালো ছেলে-মেয়েরা আর ভর্তি হতে না চাবে ঘরে!
শিক্ষকের হাত বাঁধাশাসন করার নেই অধিকার,
আইনের বেড়াজালে বন্দী আজ শিক্ষকের চাবুক আর হুঙ্কার!
শাসনহীন পাঠশালায় তাই রেজাল্ট আজ তলানিতে,
ছাত্ররা বেয়াদব হচ্ছে পঙ্কিলতার গ্লানিতে।

পিছনে তাকিয়ে দেখোকার সুতোয় পুতুল নাচে?
ম্যানেজিং কমিটির অযোগ্যতা, ব্যর্থতা আজ সমাজ গ্রাসে বাঁচে!
শিক্ষক নিয়োগে চলছে লাখ লাখ টাকার লুণ্ঠন আর অনিয়ম,
মেধাবীরা পায় না ঠাঁই, চাটুকাররাই এখানে প্রধান নিয়ম!
রাজনৈতিক কালো ছায়া গ্রাস করেছে বিদ্যাপীঠ,
তোষামোদি আর দালালি আজ সমাজের প্রধান ইট!

নষ্ট সমাজ! ভ্রষ্ট নীতি!
চারিদিকে শুধু ভণ্ডামির গীতি!
সবাই শুধু আঙুল তোলে অন্যের দিকে চেয়ে,
নিজের ভেতরের পচনটা কেউ দেখে না চোখ মেলে!

জাগো রে ছাত্র! জাগো অভিভাবক! জাগো হে শিক্ষক দল!
ভেঙে ফেলো এই চাটুকারিতার মিথ্যে মায়াজাল।
শুধু দোষারোপের পালা বন্ধ হোক এবার,
এসো, এক সাথে কাঁধ মিলিয়ে রুখে দাঁড়াই ভাঙন এই সমাজের আর শিক্ষার!

----------------------------------------------------------------------------