Sunday, September 14, 2025

আলোকবর্তিকা

 আলোকবর্তিকা

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************
রাওনাট গ্রামের মেঠোপথে ভোরের শিশির ঝরে,
শস্যখেত-ঘাটে বাজে স্বাধীনতার ঢেউ, ঝরে ঝরে।
পূর্ব পাড়ার সম্ভ্রান্ত মুসলিম ঘরে জন্ম নিলেন,
জনাব জালাল উদ্দিন আহম্মেদ–বীর মুক্তির অদম্য ছায়া বহন।

লাল-সবুজের প্রহরী, সোনার বাংলার প্রাণবন্ত সুর,
বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অটল, দেশপ্রেমে উজ্জ্বল অনুপ্রেরণা পুর।
বিএ, বিএড পাশ করে সমাজসেবায় নিজেকে নিবেদন,
জাতিকে আলোকিত করার স্বপ্নে জীবন উৎসর্গ করলেন নিরবেদন।

পশ্চিম পাড়ার বামুনিয়া, লাল টেকের মাঠে চেয়েছিলেন,
‘৭১-এ রাওনাট আদর্শ উচ্চবিদ্যা নিকেতন গড়ার স্বপ্ন বুনেছিলেন।
প্রতিষ্ঠাকালীন প্রধান শিক্ষক হ’তে,
লোভ-লালসা ত্যাগ করে বিন্যস্ত করলেন শিক্ষার দীপ্য।

দড়িমেরুন বালিকা বিদ্যালয়ও স্থাপন করলেন,
প্রতিষ্ঠাকালীন প্রধান শিক্ষক হয়ে পথ দেখালেন সকলকে।
বয়সে দুর্বল হলেও, মন অটল, ছুটে চলেন শিক্ষার মশালে,
আজও নানা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উৎসর্গ করছেন জীবন বাকি পরমালে।

এক জীবন আলোকিত, সংগ্রামের দীপ্য জ্বলে,
তিনি শিক্ষার আলোকবর্তিকা, সোনার বাংলার গর্ব একমাত্র।
শিশুর চোখে জাগান জ্ঞানের দীপ, গ্রামে ছড়িয়ে দেন সাহসের ধারা,
তার নিঃস্বার্থ জীবন হয়ে উঠেছে আমাদের অহংকারের নিদীপ।

শিশুর হাসিতে খুঁজে নেন নতুন আলোর ছোঁয়া,
গ্রামের পথে পথে ছড়িয়ে দেন জ্ঞান ও সাহসের ধারা।
নিস্বার্থ উদারতা, সংগ্রামের অনন্ত প্রেরণা,
তার নাম উচ্চারিত হোক দেশের প্রতিটি কোলাহলে, প্রভা।
--------------------------------------------------------------

ক্ষুদে রাজ

 ক্ষুদে ফুটবল রাজ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************
রাওনাট পশ্চিম পাড়ার বামুনিয়ার কোলে,
জন্ম নিল ক্ষুদে রাজ আবু দাউদ ফুটবলের দোলে।
রাওনাট স্কুল মাঠেতে বেড়ে উঠল প্রাণ,
খেলা দেখে মাততো গ্রাম, আনন্দে শত জন।

ছোটখাটো খর্ব দেহ, তবু ছিলো সাহসী,
ড্রিবল করলে ছুটে যেত বজ্রগতি নিশ্বাসি।
প্রতিটি পাসে মুগ্ধ করতো, শট ছুটতো ঝরে,
প্রতিটি গোল উৎসব হতো শত জয়ের ঘরে।

তার খেলার গৌরবে মুখর হতো মাঠ,
ফুটবলের জয়গান গাইতো জনতার হাট।
কাপাসিয়া, দূর্গাপুর, তারাগঞ্জের মাটি,
গাজীপুর, পাবুরে ছড়াতো তার জ্বালামুখী গতি।

খেপ খেলায় দাপট তার তুলনা হতো না,
প্রতিপক্ষ কাবু করতো দুরন্ত দৃপ্ত শোনা।
তার হাতে ফুটবলের জন্ম হলো গ্রামে,
অসংখ্য খেলোয়াড় গড়লো তারই নামে।

রাওনাটের অহংকার, ফুটবলের রাজ,
কিংবদন্তি অগ্রপথিক, সবার প্রিয় আজ।
যুগে যুগে তার কীর্তি বেঁচে রবে গানে,
ক্ষুদে রাজ আবু দাউদ, সবার হৃদেমাঝে।

আমরা চাই প্রিয় খেলোয়াড় থাকুক চিরদিন,
সুস্বাস্থ্য আর দীর্ঘায়ু হোক তার জীবন চিন।
--------------------------------------------


Saturday, September 13, 2025

চল হে শান্তির মিছিলে

 চল হে শান্তির মিছিলে

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**********************************
চল হে শান্তির মিছিলে, বাতাসে ভরে আলো,
মসজিদের খোপে দাঁড়াও, নামাজে মাথা নত করো।
পাখি কুহু মিশে বাজে, ভোরের ঘ্রাণে মধু,
সেজদায় মাথা মেলায় প্রাণ, অন্ধকার সব দূর হও।

মুয়াজ্জিন ডাকিছে দূরে, বাঁশি বাজে ঘরে ঘরে,
নদীর ঢেউয়ে মিশে যায়, প্রভূর সুর মধুর’রে।
ফুলে ভরে মাঠের কোণা, শিশির ঝরে প্রভাতের তরে,
অন্তর জাগে ন্যায়ের আলো, মন হয় শান্তি ভরে।

বলো হে ইসলাম শান্তি, মুক্তির নীল আকাশে,
বলো হে ন্যায়বিচার, মানবতার বুকে রবে।
সত্যই মুক্তি, সঠিক পথে, ডিঙিয়ে পাহাড় নদীর গান,
নামাজের আলোয় ভেসে উঠুক, হৃদয় যেন পানির প্রাণ।

সত্য ন্যায় প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে চলো, ধানের মাঠে শিশির ঝরে,
আল্লাহর পথে ভালোবাসা ছড়াও, চিরন্তন আলো ঝরে।
প্রতিটি ঢেউয়ে বাজে শান্তি, প্রেমের মধুর বাণী,
নামাজে মিলিত জীবন, ন্যায় ও করুণা মানী।
-------------------------------------------------------------


রাওনাটের স্কুল মাঠ

 রাওনাটের স্কুল মাঠ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**********************************

রাওনাট স্কুল মাঠ! সবুজ আগুনের চাদর,
আম, জাম, কাঠাল, আনারস—প্রকৃতির তেজোদীপ্ত ভান্ডার।
বামুনিয়া বুক জুড়ে আলোর দীপ্তি জ্বলে,
শিশুর খেলা আসে, ভেঙে অন্ধকারের দিগন্তের চাদর।

মাঠ! হে বিদ্রোহী নদী, তরঙ্গ বয়ে চলে অটল,
যুবকের হৃদয় শিখে সাহস, সততার অমলিন শিখা।
পূর্ব-পাড়া, পশ্চিম-পাড়া, বরাইদ, দূর্গাপুরের বন্ধনে,
মাঠের কণিকা বাঁধে মিলনের বিপ্লবী সেতু।

ধূলা-বালির কোমল স্পর্শ, ঝড়ে পড়ে হাসি বন্ধুত্বের,
ক্রিকেট, ফুটবল, আড্ডা, ওয়াজ মাহফিল—সব মিলনমেলার উৎসব।
মাঠে গর্জে ওঠে বাঙালীর কৃষ্টি-কালচার,
শিশুর চিৎকারে, যুবকের পদচাপে, সমাজের প্রলয়।

মাঠ! হে আগুনের বীজের বাগান,
খেলার মায়ায় জন্ম নেয় বিদ্যুৎ,
শিক্ষার বীজ, চরিত্রের শিকড়—প্রজন্মে ছড়িয়ে দেয় বিপ্লবী শক্তি।
প্রতিটি পাথর, প্রতিটি ঘাস, শিখায় ন্যায়-বিচার, প্রতিবাদ।

হে মাঠ! বহু প্রজাপতি উঠে এসেছে তোর বুক থেকে,
যারা দান করেছেন—তাদের প্রতি চির কৃতজ্ঞ মানবিক প্রাণ।
মাঠ শুধু খেলার নয়, চেতনাও শাণিত করে,
সমাজ, সভ্যতা গড়ে, নতুন প্রজন্মকে বিদ্রোহী করে।

রাওনাটের স্কুল মাঠ! ইতিহাস-ঐতিহ্য এক মৃত্যুঞ্জয়ী,
চিরকাল বেঁচে থাকবে—আলো, দেশপ্রেম ও বন্ধুত্বের অমলিন মণি।
যেখানে আলোর মিছিল নিয়মিত হয়,
মাঠ হয়ে ওঠে দেশপ্রেম, বন্ধুত্ব ও বিদ্রোহী চেতনার অনন্ত অঙ্গন।
-------------------------------------------


আমাদের প্রিয় স্যার

আমাদের প্রিয় স্যার
কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**********************************
রাওনাট আদর্শ উচ্চবিদ্যা নিকেতন, গ্রামের গর্ব-প্রাণ,
সেখানে দীপ্ত ছিলেন প্রধান শিক্ষক সবার অম্লান।
সূর্যের মতো প্রভাত এনে দূর করতেন আঁধার,
চাঁদের মতো স্নিগ্ধ হেসে করতেন মন আভার।

বাংলা সাহিত্যে গভীর নদী, কাব্যের কলতান,
ইংরেজি পাঠে ঝরনার মতো জ্ঞানের অবিরাম গান।
বটবৃক্ষ হয়ে দাঁড়াতেন শিষ্যের আশ্রয়ে,
প্রদীপ শিখা জ্বালাতেন পথহারা অন্ধকারে।

ধানের শীষের মতো বিনয়ী, তবু গর্বিত,
হিমালয়ের চূড়ার মতো চরিত্র অটল স্থিত।
কোকিলস্বর কণ্ঠস্বর, বসন্তের মধুময়ী ডাক,
ফুলের মতো কোমল স্নেহে করতেন হৃদয় পাক।

সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো বিস্তৃত তাঁর জ্ঞান,
গঙ্গার জলের মতো পবিত্র ছিলো প্রাণ।
তাঁর মৃত্যুতে নিভে গেল জাতির আলোক-ধারা,
আমরা হারালাম অভিভাবক, শূন্য হলো সারা।

আল্লাহ করুক দান জান্নাতুল ফেরদৌসের স্থান,
সিরাজুল ইসলাম স্যার—আমাদের হৃদয়ের অনন্ত দিশারী প্রাণ।
-------------------------------------------------------------

প্রথম ইঞ্জিনিয়ার (বুয়েট)

 প্রথম ইঞ্জিনিয়ার (বুয়েট)

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*******************************************************

চিনাডুলী গ্রামে জন্ম আলো ১৯৪০ সালের দশ এপ্রিল,
নাজমুল হাসান খালেদ উজ্জ্বল, ধর্মভীরু, দানশীল।
পিতা আখতার উদ্দিন আহমেদ, মাতা সামসুন্নাহার বেগম,
প্রচারে নয়, কেবল প্রিয়, মানুষের কল্যাণে তার যাত্রা সুন্দর।

শিক্ষার যাত্রা বাঘিয়া স্কুলে, নারায়নপুর মাইনর পড়া,
ঢাকার জেলার স্কলারশিপে চতুর্থ স্থান পাকা।
১৯৫২ কাপাসিয়া পাইলট ভর্তি, ১৯৫৬ ম্যাট্রিক পাশ,
আনন্দ মোহন কলেজে প্রথম বিভাগে আই এস সি তার আশ।

১৯৫৮ আহসান উল্লাহ কলেজে ভর্তি, বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ ১৯৬৩,
কাপাসিয়ার প্রথম বুয়েট ইঞ্জিনিয়ার, ইতিহাসে তার খ্যাতি।
ইষ্ট পাকিস্তান ওয়াপদা পাওয়ার চাকরি তিন বছর,
চাকরি ছেড়ে ব্যবসার পথে, জীবন সার্থক হয় সেই সময়ের।

১৯৭৭ বঙ্গ বন্ধু স্টেডিয়ামে ফ্লাডলাইট স্থাপন,
১৯৭৮ লিবিয়ায় ইলেকট্রিক সাবস্টেশন, কাজের প্রাণ।
১৯৯০ দেশে ফেরার পর, ক্রমে ব্যবসা প্রতিষ্ঠা,
১৯৮৪ জাহাসের ব্যবসা, ১৯৮৫ পিপুলস ইন্সুরেন্স,
১৯৮৭ গার্মেন্টস, ১৯৯৫ আল-অরাফাহ ব্যাংক, ১৯৯৭ নারিশ পোল্ট্রি,
২০০১ পুপুলার লাইফ, ২০০৮ টেলনেট কমিউনিকেশন প্রতিষ্ঠা।

দেশপ্রেম, মানুষের সেবা, সহজাত প্রবৃত্তি তার দিশা,
প্রথম বুয়েট ইঞ্জিনিয়ার, নাজমুল হাসান খালেদ,
জীবনের ছন্দে কর্মে সাফল্যের আলো ছড়ায়,
চিনাডুলী থেকে বিশ্বপথ, উদার হৃদয় তার ছোঁয়া ছায়।

স্কোয়াড্রন লিডার

 স্কোয়াড্রন লিডার

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************
তরগাঁওর তেজ, মুঃ মহসীন নাম,
আলাউদ্দিন–হালিমার গৃহে জন্মিল অবিরাম।
১৯৮৩—এসএসসি, লেটা সহ জয়,
প্রথম বিভাগে কৃতিত্ব, কাপাসিয়ার মহিমায়।

ঢাকার বিজ্ঞান কলেজে—১৯৮৫ তে দীপ,
এইচএসসি প্রথম বিভাগ, উড়াল স্বপ্ন সৃজিত।
১৯৮৬ জানুয়ারিতে বাহিনীর ডাকে,
জিডি পাইলট হলেন তিনি, আকাশের ফাঁকে।

১৯৮৮ জুনে একাডেমির শীর্ষে দাঁড়ালেন,
সব বিষয়ে প্রথম, Sword of Honour পেলেন।
কমিশন প্রাপ্ত হয়ে আকাশে ছুটিল,
ইন্সট্রাক্টর পাইলট হয়ে গৌরব আনিল।

অস্ট্রেলিয়া–তুরস্ক–পাকিস্তান শিক্ষা,
ফ্লাইট অপারেশন কমান্ডে আনিলেন দীপ্ত দীক্ষা।
স্কোয়াড্রন লিডার—পদোন্নতি তরে,
সাহসী সেনানায়ক দেশের প্রহরে।

কিন্তু—হায় নিয়তি! ২০০১ জানুয়ারি সাত,
এফ-৭ যুদ্ধবিমান ভাঙিল আকাশপথ।
শেষ ফ্লাইট শেষে রক্ত-রেখা ঝরিল,
দেশপ্রেমের অগ্নিতে প্রাণ নিবেদন করিল।

মহসীন—কাপাসিয়ার কৃতি সন্তান,
তোমার ত্যাগে জ্বলছে অনন্ত প্রাঙ্গণ।
স্কোয়াড্রন লিডার!—তোমার নাম অমর,
আকাশে, ইতিহাসে, জাতির অন্তর। 

অদম্য ক্যাপটেন

 অদম্য ক্যাপটেন

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************
নলগাঁও গ্রামের আঁচলে জন্ম নিলো দীপ্ত জ্যোতির আলো,
কুদরত উল্লাহ ভূঞা—বাংলার ক্রীড়াঙ্গনে যার গৌরব ঢালো।
১৯৪২ সালে কাপাসিয়া হাইস্কুলে জয়ের পতাকা তোলে,
ম্যাট্রিক পরীক্ষায় কৃতিত্ব এনে দেশের মাঠে জ্যোৎস্না রোলে।

ঢাকার ইন্টারমিডিয়েট কলেজে ১৯৪৬-এ খেলাধুলার শির,
ফুটবলের সেরা খেতাব পেলেন—বজ্রের মতো দীপ্ত অধীর।
১৯৪৮-এ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক জীবন দিলো আলো,
তবু সবখানে মাঠের টানে ছুটলেন, খেলার স্রোতে ভাসলো ভালো।

১৯৪১ হতে ’৪৪ অব্দি স্কুল টিমের ক্যাপটেন রূপে,
ঝড়ের মতো ছুটে যেতেন সবুজ মাঠের দোলা কূপে।
১৯৪৫-৪৬ সালে কলেজ ফুটবলে শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পেলেন,
ঢাকার লিগে প্রথম বিভাগে দলকে নিয়ে বিজয় খেলেন।

চ্যাম্পিয়ন হবার গৌরব ছড়ালো আকাশের বজ্রের সুরে,
১৯৫২-তে ইউনিভার্সিটি ব্লু সম্মানে নাম খোদিত হলো দূরে।
ফুটবল-ক্রিকেট, টেনিস-হকি, ভলিবল কিংবা ওয়াটারপোলো,
সবখানেই ছড়ালেন কীর্তি—খেলোয়াড় প্রাণে গর্বের আলো।

দেশে-বিদেশে দলের নাবিক হয়ে দিলেন নেতৃত্বের দিশা,
ঝড়ের সমুদ্র পাড়ি দিয়ে আনলেন বিজয়ের চিরন্তন নিশা।
বাংলাদেশ জুট মিল কর্পোরেশনে জেনারেল ম্যানেজার হয়ে,
কর্মক্ষেত্রেও ক্রীড়ার মতো সাফল্যের আলো বুকে বয়ে।

১৯৭৩ থেকে জাতীয় ফুটবল টিমের নির্বাচনে দিলেন দিশারী,
চেয়ারম্যান রূপে ছিলেন তিনি দৃঢ়, প্রাজ্ঞ, স্বচ্ছ-প্রহরী।
১৯৭৯ আগাখান গোল্ড কাপের গ্রাউন্ড কমিটিতে তারি নাম,
১৯৮০ জাতীয় পুরস্কারে জ্বললো ফুটবল-টেনিসের অবিরাম।

অদম্য ক্যাপটেন, বাংলার বুকের শালবনের মতো দাঁড়ানো,
প্রকৃতির ঝংকারে তোমার নাম আজও বজ্র-অগ্নিতে গড়া।
তুমি সূর্যের মতো আলো দাও ক্রীড়াঙ্গনের প্রতিটি প্রভাতে,
তুমি বাংলার গৌরব, অমর স্মৃতি, চির দীপ্ত অনন্ত রাতে।
----------------------------------------------

Friday, September 12, 2025

প্রতিবাদী কণ্ঠ

 প্রতিবাদী কণ্ঠ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর
---------------------------------
রাওনাট পশ্চিম পাড়ার মোল্লা বাড়ির সন্তান,
মোঃ হাদিউল ইসলাম মোল্লা — প্রতিবাদের দীপ্ত গান।

ঝড়-তুফানের আগুন পেরিয়ে দাঁড়াও অটল ভূমি,
অন্যায়ের বিরুদ্ধে বজ্র হয়ে গর্জে ওঠে তুমি।

শিক্ষা শেষে শহরের পথে নাও তুমি আলোর দিশা,
তবু মানবতার ডাকে ছুটে যাও গ্রামের নিশা।

ক্ষুধার্ত মুখে জ্বালাও আশার প্রজ্জ্বল শিখা,
বৃদ্ধের চোখে আনো হাসি, মুছে দাও শত দুঃখিকা।

শোষণের আসনে ছুঁড়ে দাও বিদ্রোহের বজ্রকণ্ঠ,
তোমার রক্তে জ্বলে ওঠে ন্যায়ের অগ্নিসংঘ।

সাম্য, সম্প্রীতি, ঐক্যের শঙ্খ বাজাও জোরে,
ধর্ম-বর্ণ ভেদ মুছে দাও মানুষের ঘোরে।

মানবিক সংগঠনের তুমি দৃপ্ত কারিগর,
হাদিউল ইসলাম মোল্লা — রাওনাটের গর্ব, বিজয়ের ঝড়।
----------------------------------------------

সেরা গোলকিপার

 সেরা গোলকিপার

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর
---------------------------------
কাপাসিয়ার দূর্গাপুর গ্রাম, ধানের মাঠে শিশির ভোর,
১৯৫২ সালের ১৮ এপ্রিল, আব্দুল মোতালেবের জন্মের ঘোর।
পিতা আব্দুর রশিদের ঘরে, এলেন তিনি আলোর প্রাণ,
বাংলার মাঠে ফুটবলে গড়লেন গৌরবের মহাকাব্য গান।

১৯৬৯ সালে পূর্ব পাকিস্তান যুব দলে খেলেন প্রথমবার,
সকাল ক্লাবের শুরুর পথে জ্বলে ওঠেন অগ্নিস্ফুলিঙ্গের ধার।
সেই বছরেই রাহমতগঞ্জ এমএফএস-এ শুরু হয় জীবনভর লড়াই,
১৯৬৯ থেকে ১৯৭৯—প্রাচীর হয়ে দাঁড়ান নির্ভীক যোদ্ধার মতোই।

১৯৭৫-এ বিজেএমসি, নতুন রঙে বাজল বাঁশি,
১৯৮০–১৯৮১ সাধারণ বীমা, লড়াইয়ে আনলেন খুশির হাসি।
আবাহনীর নীল জার্সিতে, ১৯৮২ থেকে ১৯৮৭,
বাংলার আকাশে তার নাম—গোলপোস্টের প্রহরী অদম্য দৃপ্তি।

জাতীয় দলে ডাক আসে ১৯৭৩ সালের মেরদেকা কাপে,
বাংলাদেশের প্রথম ব্যাচে মোতালেব দাঁড়ান সগৌরবে।
১৩ আগস্ট ১৯৭৩, সিঙ্গাপুরের সাথে খেলায় বীর,
পেনাল্টি ঠেকিয়ে গড়েন ইতিহাস—বাংলাদেশ পেল প্রথম ক্লিনশিটের নীর।

১৯৮০–১৯৮৪, নৌবাহিনীর বুকে ছিলেন সৈনিক,
বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর দলে অধিনায়ক, সাহসী, দৃপ্ত মনোবল অনিঃশেষ।
তার নেতৃত্বে বাহিনী দল মাঠে ছড়ায় গৌরবের গান,
বাংলার ফুটবল ইতিহাসে তিনি রয়ে গেলেন অম্লান।

তারপর আসে দিল্লির আলো, ১৯৮২ এশিয়ান গেমসের দিন,
বাংলাদেশের অধিনায়ক তিনি, পতাকার তলে দৃঢ় ঋণ।
প্রতিপক্ষ জানে, গোলপোস্ট মানেই অটল এক প্রাচীর,
মোতালেবের সামনে দাঁড়ালে ভয় পায় প্রতিদ্বন্দ্বীর।

খেলোয়াড়ি শেষে কোচের হাল ধরে শেখান তরুণ প্রাণ,
রাহমতগঞ্জে তরুণেরা পায় তার শিক্ষা, সততা আর মহান জ্ঞান।
কিন্তু নিয়তির বাঁশি বেজে ওঠে, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭,
হার্টের আঘাতে নিভে যায় তার আলো, স্তব্ধ হয় মাঠ-গ্যালারি।

তবু আজও মানুষ বলে, মাঠে বাজে তারই নাম,
আব্দুল মোতালেব—স্বদেশের গর্ব, সেরা গোলকিপার, চির অম্লান।
------------------------------------------------

বেকারের আশ্রয়

 বেকারের আশ্রয়

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর
----------------------------------------------------------------------

রাওনাট গ্রামের মেঠোপথে ভোরের শিশির ঝরে,
১৯৫২ সালের ২০ মার্চ আলো ঝলমল করে।
ধানক্ষেতে বাতাস বয়ে গায় সোনার গান,
জন্ম নিলেন হাবিবুর রহমান আকন্দ, জনতার প্রাণ।

পিতা মমতাজ উদ্দিন আকন্দ, মাতা আলকন নেছা,
গরিব-দুঃখীর হৃদি ভরা আশার বেদি রচনা করলেন খাঁটি দেশা।
পাখির কলতানে বেড়ে উঠলেন সবুজ গ্রামীণ কোলে,
সততার আলোয় ভরিয়ে দিলেন জনতার ভাঙা হৃদি, খোলা দিগন্ততলে।

ভাকোয়াদী বিদ্যালয়ে পড়াশোনার পথে,
১৯৬৮ সালে এসএসসি জয় হলো গৌরবের রথে।
জামালপুর কলেজে পড়লেন দীপ্ত প্রাণে,
১৯৭৩-এ এইচএসসি পাস করলেন সম্মানের টানে।

১৯৭১-এ সংগ্রামের ডাক, মুক্তির দাবির গান,
ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সম্পাদক তিনি, অদম্য-অভিমান।
১৯৭৩-এ আওয়ামী লীগে যোগ দিলেন নির্ভীক হাতে,
দেশ ও শ্রমিকের পাশে দাঁড়ালেন আলোর রাতে।

বাংলাদেশ রেলওয়ে হলো তাঁর কর্মভূমি,
শ্রমিকের পাশে দাঁড়িয়ে দিলেন ন্যায়ের প্রতিশ্রুতি।
রেলওয়ে শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে,
দিন রাত ছুটেছেন তিনি শ্রমিকের কল্যাণ রোদে।

দশ দফা দাবিতে রেলওয়ে কাঁপলো তার কণ্ঠস্বর,
শ্রমিক-জনতার অধিকার নিয়ে বাজালেন নতুন ঘন্টার।
ঢাকা মহানগর শ্রমিক লীগের সভাপতি তিনি,
জাতীয় শ্রমিক লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি, সম্মানে ভরি।

২০১২ সালে রেল চাকুরিতে টানলেন অবসরের রেখা,
তবু শ্রমিকের দুঃখে পাশে, আঁধারে দিলেন দেখা।
দুই ছেলে এক মেয়ের জনক, সংসার আলোয় ভরা,
তবু শ্রমিক-জনতার জন্য প্রাণ দিলেন তিনি ধরা।

আজও লোকমুখে বাজে তাঁর সংগ্রামের গান,
বেকারের আশ্রয়, শ্রমিকের প্রেরণা, সবার মহান।
রাওনাট গ্রামের কৃতি সন্তান, আলোয় আছেন অম্লান,
সাম্যের মূর্তপ্রতিক তিনি—জনতার চিরন্তন প্রাণ।


প্রখ্যাত শ্রমিক নেতা

 প্রখ্যাত শ্রমিক নেতা

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর
---------------------------------
দূর্গাপুর নাশেরার সবুজ মাঠে জন্ম নিয়েছিলেন এক মহান প্রাণ,
খন্দকার আজিজুর রহমান পেরা, কাপাসিয়ার কৃতি সন্তান।

ধানের ক্ষেতে ভোরের শিশির যেমন আনে উজ্জ্বল ভোর,
তেমনি শ্রমিকের মনে তিনি জাগাতেন আশার আলো ঘোর।

বিএডিসির খেটে খাওয়া জনতা পেয়েছিল তাঁর ভরসা,
বটগাছ হয়ে তিনি দিতেন আশ্রয়, মুছাতেন শ্রমিকের আশা।

অধিকারের দাবিতে তিনি দাঁড়াতেন বজ্রপ্রতিম দৃঢ়তায়,
অন্যায়ের আঁধার ভেঙে দিতেন রৌদ্রের আলোকছটায়।

স্বাধীনতার ডাকে তিনি ধরেছিলেন রক্তভেজা অস্ত্র,
বীর মুক্তিযোদ্ধা হয়ে জ্বলেছিলেন আকাশের উজ্জ্বল নক্ষত্র।

মানুষের আস্থায় তিনি হয়েছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান,
দরিদ্রের ঘরে সান্ত্বনার আলো জ্বালাতেন অক্লান্ত প্রাণ।

শোষকের বুক কাঁপত, কেঁপে উঠত অন্যায়ের দুর্গ,
মাঠভরা জনতা শুনত তাঁর অনলবর্ষী বাণী নির্ভীক।

শালিক যেমন গাইত গান, সকালের মিষ্টি হাওয়ায়,
তেমনি তিনি তুলতেন স্লোগান, জনতার মুক্তির চাওয়ায়।

চাঁদের মতো শান্ত মুখে ছড়াতেন আশার নূর,
ধানক্ষেতের বাতাসে বাজত তাঁর ত্যাগের মধুর সুর।

খন্দকার আজিজুর রহমান পেরা ছিলেন নির্ভীক, অকুতোভয় প্রাণ,
অন্যায়ের সামনে শির নত করতেন না, এ ছিল তাঁর মহান দান।

আজও তাঁর নাম ভেসে আসে নদীর জলে, মাঠের ডাকে,
শ্রমিক নেতা, মুক্তিযোদ্ধা, চেয়ারম্যান পেরা ইতিহাসে রয়ে যান।

আর বর্তমানে তিনি রয়েছেন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হয়ে,
সত্যের পতাকা হাতে দাঁড়ান আজও জনতার প্রান্তর বেয়ে।

------------------------------------------------

পাবুরের আলো

 পাবুরের আলো

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর
---------------------------------
পাবুর গ্রামের সবুজ মাঠে, নদীর ধারা বহে,
পাখির ডাকে, কুয়াশা মাখা ভোরের রঙে দাহে।
সেইখানে এক আলোর দিশা—শাহ আলম খান,
১৯৫৩-তে ফেব্রুয়ারির আঠাশ তারিখ প্রাণ।

পিতা ছিলেন আব্দুর রশিদ, স্নেহময় সেই জন,
মায়ের কোলে মানুষ হয়ে ফুটলেন যেমন বন।
ধানের শিষে, নদীর গানে, গ্রামীণ সে ছায়া,
শিক্ষার পথে দীপ জ্বেলে চললেন আলোর মায়া।

১৯৬৮ সালে কাপাসিয়ার পাইলট বিদ্যালয়,
প্রথম বিভাগে এসএসসি—সবার নয়ন জুড়ায়।
নটরডেমের ছাত্র তিনি, ’৭০ সালে জয়,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বপ্ন দিলো অমৃতময়।

১৯৭৩-এ রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকের সে ধারা,
লোক প্রশাসনে ’৭৪-এ হলো স্নাতকোত্তর সারা।
সহকারী কালেক্টর হয়ে যোগ দিলেন তরে,
বিসিএসের মর্যাদাতে দেশসেবার নেশায় ঘরে।

পদে পদে উন্নতি পেয়ে কমিশনার নাম,
শুল্ক গোয়েন্দা মহাপরিচালক—গৌরব তার ধাম।
অবসরে আজ শান্ত সুধায় বসে আছেন তিনি,
তবু আলো জ্বালেন সকল হৃদয়, গ্রামের মাটির ঋণী।

কাপাসিয়ার কৃতি সন্তান, খান বাড়ির গর্ব,
পাবুরের মাটি ভিজিয়ে রেখেছে তাঁর সব।
নদীর ঢেউ, ধানের গন্ধ, মাঠের সবুজ আলো—
চিরদিনের দিশারী তিনি, “পাবুরের আলো”।
------------------------------------------------

অগ্রপথিক

 অগ্রপথিক

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর
---------------------------------
রাওনাট পশ্চিম পাড়ায় ভূঁঞা বাড়ির বুকে,
পূর্ণিমার আলো নেমে এলো স্নিগ্ধ সুখে।
সেই ঘরে জন্ম নিলো আলো ঝরানো প্রাণ,
জনাব আলী আজগর ভূঁঞা, অগ্রপথিক মহান।

শৈশবের খেলাঘরে মাঠে-ঘাটে দৌড়,
উদ্দ্যামী ছেলেটি তখনো ছিলো অদম্য ভর।
সম্প্রীতির ডাক শুনে ছুটতো সবার আগে,
মানবতার মিছিলে থাকতো অগ্রভাগে।

গরিব দুঃখীর সাথী, অকুতোভয় সৈনিক,
মানবিক কল্যাণে ছিলেন সদা সচেষ্ট এক।
রাওনাটের গৌরব তিনি, দানিজ আলীর সন্তান,
সবার ভালোবাসায় ভরে উঠেছে তাঁর গান।

কর্মজীবনে হয়েছিলেন আশার কর্মী,
জয়েন্ট ডেপুটি ডিরেক্টর—তবু মন ছিলো ধর্মী।
দপ্তরের দায়িত্ব শেষে জনপথে যান,
গ্রামীণ জনতার পাশে আনে আশা ভোরের গান।

যতই থাক কাজের ব্যস্ততা, অফিসের ডাকে,
মানবিক করুণা তাঁকে ফেরায় গ্রামীণ ফাঁকে।
তিনি চির উপমা আমাদের হৃদয়ে,
অগ্রপথিক হয়ে থাকুন মানবতার স্রোতে।

হে অগ্রপথিক, তোমার যাত্রা হোক দীপ্ত সভ্যতায়,
মানবিক সংঘের সারথী হয়ে থাকো অনন্ত প্রত্যাশায়।
তোমার নাম গেয়ে উঠুক পথ-প্রান্তর-গাঁও,
তুমি আছো তাই আমরা পাই আশার ছাও।
----------------------------------------------

শিক্ষার নক্ষত্র

 শিক্ষার নক্ষত্র

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর।
********************************
--------------------------------------------------
চান্দুন গ্রামে উদিত সূর্য, আলোর মশাল জ্বালে,
আবদুল কুদ্দুস জন্ম নিলেন সম্ভাবনার কূলে।
পিতা আব্দুল ওয়াজেদ আকন্দ, জ্ঞানের আলোয় ভরা,
স্বপ্ন বুনলেন সন্তানেরে, শিক্ষা হবে ধরা।

কলকাতার নগরীতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বুকে,
বিএ ডিগ্রীর স্বর্ণশিখা জ্বলে জ্ঞানের সুখে।
পরে নিলেন বিটি শিক্ষা, দৃঢ় প্রতিজ্ঞ প্রাণে,
গড়বেন ভবিষ্যৎ কিশোরদের, জ্ঞানের উজ্জ্বল গানে।

উনিশশো চল্লিশে এলেন কাপাসিয়া হাই স্কুলে,
প্রধান শিক্ষক হয়ে বসেন গৌরবময় তুলিতে।
পাঁচ বছর ছিলেন কর্ণধার, দক্ষতায় অতুল,
ছাত্রদের স্বপ্ন সাজালেন, আকাশেরই ফুল।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে প্রথমবার,
ম্যাট্রিক পরীক্ষা বসে, উজ্জ্বল হল সংসার।
তারই যুগে সেই আলোক, দীপ্তি ছড়ায় দূরে,
কাপাসিয়ার নাম উঠেছিল শিক্ষা-ভুবন জুড়ে।

সরকারি চাকরি ডাকল, ছাড়লেন প্রধানপদ,
সাব ইন্সপেক্টর অব স্কুলস হলেন আলোর নদ।
ধাপে ধাপে পদোন্নতি, জেলা শিক্ষা প্রধান,
প্রাণপ্রাচুর্যে সেবায় গড়লেন শত শত প্রাণ।

অবসর নিলেন গৌরবে, শেষ হলো কর্মপথ,
কিন্তু রেখে গেলেন স্মৃতি, চিরঅমলিন রত্নরত্ন।
কাপাসিয়ার কৃতি সন্তান, গর্বেরই আলোকধারা,
আমরা কৃতজ্ঞ তার প্রতি, স্নিগ্ধ সকাল-সন্ধ্যারা।

হে মহান আল্লাহ, দাও তাকে ফেরদৌসের ঠিকানা,
স্বপ্নের মতো শান্তি পাক তার আত্মার সোপান।
শিক্ষার নক্ষত্র তিনি, দীপ্ত ইতিহাসের গান,
অমর হয়ে থাকবেন কুদ্দুস, মানবহৃদয় প্রাণ।
--------------------------------------


জনদরদী

 জনদরদী

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর।
********************************
--------------------------------------------------
তরগাঁও গ্রামের অমল ধরা, স্নিগ্ধ শিশির ভেজা,
সেই মাটিতে জন্ম নিলো মানবতার সেঁজা।
জনাব এ কে এম শফিউদ্দিন আহমেদ—দীপ্তির আলো,
পিতা লাল মাহমুদ বেপারীর উত্তরসূরি, মহৎ ভালো।

কাপাসিয়া হাই স্কুল যেন ভোরের প্রথম সূর্যোদয়,
তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রমে জেগে উঠল শিক্ষার মহিমাময়।
ম্যানেজিং কমিটির মণি হয়ে জ্বলে উঠলেন বারবার,
জ্ঞানের দীপ জ্বালাতে লড়লেন দিন-রাত অবিরাম ধারাবাহার।

তিনি ছিলেন শিক্ষার কৃষক, বুনলেন আলো-ফসল,
তরগাঁও গ্রামে কোহিনূর বালক উচ্চ বিদ্যালয়—স্বপ্নের সম্বল।
আরেকটি রত্ন দিলেন মানবতার হদয়ে,
কোহিনূর বালিকা বিদ্যালয় যেন চাঁদের কিরণ সেঁজে।

নারী শিক্ষার প্রসারে ছিলেন শিউলি ফুলের সুবাস,
অজপাড়াগাঁয় তাঁর অবদানে ছড়াল ভোরের আভাস।
জনতার মাঝে ছিলেন নদীর মতো শান্ত-গভীর,
তরগাঁও ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট-চেয়ারম্যান হয়ে করলেন আলোকের নীর।

তুমি জনদরদী, তুমি অশ্রু মুছে দেওয়া নক্ষত্রতারা,
তোমার বীজে আজও ফোটে শিক্ষার ফলবান ধারা।
তুমি আকাশে চাঁদ, তুমি প্রভাতের সোনালী রবি,
প্রজন্মে প্রজন্মে জ্বলবে তোমার অমর গৌরবের ছবি।


--------------------------------------


রাত্রির উজ্জ্বল আলো

 রাত্রির উজ্জ্বল আলো

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর।
********************************
--------------------------------------------------
তুমি আলহাজ্ব মোঃ শহিদুল্লাহ মোল্লা, ফুলবাড়িয়ার সন্তান,
ঐতিহ্যবাহী মোল্লা বংশে তোমার জীবন দহন।
১৯৬৮ সেপ্টেম্বর জন্ম, ধ্রুবতারা দীপ্ত আলো,
অন্ধকারে দিশারী তুমি, পথের প্রদীপ ভালো।

তোমার পিতা মহাদ্দিস, মাওলানা আব্দুর রশিদ,
কামরা মাসক সিনিয়র মাদ্রাসায় রেখেছেন জ্ঞানের নিদ।
প্রাথমিক, উচ্চ বিদ্যালয় – ফুলবাড়িয়ার শিক্ষা ধরা,
সপ্তম শ্রেণী শেষে মাদ্রাসায় এলো নতুন পথ ধরা।

১৯৮৬ দাখিল পাস, লিখলে জ্ঞানের গান,
১৯৮৮ জামালপুর ডিগ্রী কলেজে এইচএসসি মহান।
কালিগঞ্জ শ্রমিক কলেজে বিএ পরীক্ষার দ্বার,
পাশ হয়নি, তবু থামেনি তোমার সংগ্রামপার।

কাপাসিয়ার ব্যবসায় নামলে, গড়লে স্বপ্নের হাট,
বাজার সমিতির নির্বাচনে সংগঠনিক হালকাঠ।
রাজনীতির আঙিনায় প্রবেশ করলে অগ্নিশপথে,
১৯৮৩ ছাত্রদলের ওয়ার্ড সভাপতি, দৃপ্ত সেই রথে।

১৯৮৮ ইউনিয়ন ছাত্রদল সভাপতির তরে,
তারুণ্যের আগুন জ্বলে তোমার বজ্রঘরে।
১৯৯৫ থেকে তিনবার ভোটে যুবদলের নেতৃত্ব,
সভাপতি তুমি, ইতিহাসে রয়ে গেছে সুস্পষ্ট।

উপজেলার সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক, সহ-সভাপতি ধ্বনি,
ভারপ্রাপ্ত সভাপতির আসন, দুই বছরের বাণী।
গাজীপুর জেলা যুবদলের কৃষি সম্পাদক তুমি,
কৃষকের ঘামে লেখা তোমার কর্তব্যধর্মী নামই।

আজ তুমি দুর্গাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি,
জনতার স্বপ্নে দাঁড়াও তুমি অগ্নিবীণার গীতি।
সন্ত্রাস, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে বিদ্রোহী কণ্ঠ,
ন্যায়-নীতির পতাকাতে অঙ্গীকার অম্লান যুক্ত।

রাত্রির উজ্জ্বল আলো তুমি, জনতার কাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন,
সৎ ও বিনয়ী চরিত্রে ভাসে আগামীর দহন।
আজ তোমার বয়স ছাপ্পান্ন, তবু আগুন নিভেনি,
দূর্গাপুরের ধ্রুবতারা তুমি—অমর বিদ্রোহী বেণী।
--------------------------------------

সমাজ সেবক

 সমাজ সেবক

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর।
********************************
--------------------------------------------------
বানারহাওলার মাটিতে জন্ম নিলো প্রাণ,
দৌলত খানের সেবায় জ্বলে শিক্ষাদান।
পিতা আব্দুল করিম খান—গৌরব দীপশিখা,
মানবতার আলোতে ফুটলো তার দিশা।

কাপাসিয়া হাই স্কুল গড়লেন তিনি হাতে,
আলো ছড়ালেন জ্ঞানে গ্রামের প্রাণকাতে।
নিজ গৃহভিটেতে গড়ে পাঠশালা তার,
উনবিংশ শতকে জাগে বিদ্যার অঙ্কুরধার।

তিনি ছিলেন মহীরুহ—ছায়া দিলো প্রাণে,
করুণা তার ঝরলো যেন শ্রাবণধারায় টানে।
অন্ধকারে সূর্য হয়ে ভাঙলেন ঘোর রাত,
শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিলেন সোনার ভাত।

কাপাসিয়ার মানুষ তাঁকে স্মরণ করে আজ,
কৃতজ্ঞতায় ভরে আছে প্রজন্ম সবার মাঝ।
যেমন বসন্তে ফুলে ভরে ওঠে বন,
তাঁর অবদান ছড়ায় চির সুবাসের কণ।

হে মহান আল্লাহ, করুন দান-নির্দ্বিধ,
জান্নাতুল ফেরদৌসে দিন চির আনন্দসিদ্ধ।
মানবতার আকাশে তার দীপকিরণ থাক,
সেবার আলোয় দুনিয়া চির উজ্জ্বল হোক।
--------------------------------------


হিতৈষী প্রাণ

 হিতৈষী প্রাণ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর।
********************************
পিরিজপুরের মাটিতে জন্ম নিল এক মানুষ,
আব্দুস সাহিদ মোক্তার—এক সোনালী আকাশ।
ময়মনসিংহে পড়াশোনা কইরা দিলেন পাশ,
তারপর বানার হাওলায় মামার বাড়ি করলেন বাস।

মানুষের পাশে দাঁড়ানোই ছিল তাঁর কাজ,
দুঃখীর মুখে হাসি ফুটাইতেন বারোমাস।
কাপাসিয়া ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট হইলেন,
গরিব দুঃখীর সুখে-দুখে সবার মাঝে রইলেন।

উনিশশো ছেচল্লিশ সালে এম.এল.এ নির্বাচিত,
কাপাসিয়া-কালীগঞ্জ-শ্রীপুরে নাম হইল লিখিত।
ঢাকা বোর্ডেরও সদস্য হইয়া করলেন দান,
রাস্তা-ঘাট, স্কুল-মাদ্রাসা গড়লেন প্রতিদিন।

কাপাসিয়া হাই স্কুলের তিনি আসল উদ্যোক্তা,
এম-ই স্কুলে দিয়া গেছেন নতুন আলোর দিশা।
শিক্ষার আলো ছড়াইয়া দিলেন গ্রামেগঞ্জে,
মানুষ বলত—“এমন নেতা কইবা পাইবা কইঞ্জে?”

তিনি ছিলেন গাছের মতো, ছায়া দিতেন প্রাণে,
শীতল বাতাস বইত তাঁর দয়ার টানে।
নদীর মতো বহত দয়া, পাহাড়সম দৃঢ়,
অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াইতেন কঠিন অটল।

হিতৈষী প্রাণ—মানুষের আপনজন,
মানবিকতার আলোকশিখা, কালের অমর ধ্বনন।
আল্লাহর দরবারে করি সবাই দোয়া,
ফেরদৌসের বাগানে থাকুন তিনি চিরদিন সোহাগিয়া।

--------------------------------------------------


শিক্ষার অগ্রদূত

 শিক্ষার অগ্রদূত

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর।
********************************
দূর্গাপুরের বুকে ভোরে, ১৯৩০ দশকের গান,
জন্ম নিলেন আলো হয়ে—প্রফেসর মান্নান।
আব্দুল মজিদ–এশা খাতুন, স্নেহের আঁচল তলে,
শিক্ষার শিখা জ্বালতে তিনি, এলেন পৃথিবি জগতে।

১৯৪৮ সালে ম্যাট্রিক পাস, প্রথম বিভাগের জয়,
কাপাসিয়ার ইতিহাসে তিনি, রইলেন দীপ্তিময়।
১৯৫০-এ ঢাকা কলেজে ইন্টারমিডিয়েট পাশ,
আশার প্রদীপ জ্বালালেন তিনি, জ্ঞানের নির্মল আভাস।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পথে, ছিল তার অগ্রগতি,
১৯৫৪-তে এম.এ. ডিগ্রি, সাফল্যের জ্যোতি।
পরে বিএড লাভ করে, গড়লেন জ্ঞানের ধারা,
শিক্ষকতার মশাল হাতে, ছড়ালেন আলোকধারা।

সহকারী থেকে অধ্যাপক, পদে পদে গৌরব,
অসংখ্য ছাত্রের প্রাণে তিনি, শিক্ষার অনুরাগ।
তিনি ছিলেন অগ্রদূত, আলো ছড়ানো প্রদীপ,
মহান আল্লাহ করুন দয়া, রাখুন জান্নাত নিকট-সঙ্গী।
--------------------------------------------------

কাপাসিয়ার প্রথম গ্রাজুয়েট

 কাপাসিয়ার প্রথম গ্রাজুয়েট

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
******************************************
উরুন গাঁয়ের ভোরের কুয়াশা ফুঁড়ে, জ্বলল এক নক্ষত্র দীপ,
১৯০৫-এর ডিসেম্বরের উনত্রিশে, সূর্যের মতো হল উদ্ভাসিত।
পিতা আব্দুল হামিদ সারোয়ার, যেন শান্ত বটবৃক্ষ তলে,
মাতৃভূমি পেলেন সন্তান—জ্ঞান-আলোক ঝরল দলে দলে।

কালিগঞ্জের আকাশে প্রথম উড়াল, ১৯২৫-এর ম্যাট্রিক জয়,
যেন বসন্তের কোকিল ডাক, বিদ্যার বনে নতুন রঙ বই।
ফেনীর মহুয়া ফুলে ভোরের শিশির—১৯২৮-এর আই এ পাস,
১৯৩১ এ কলকাতার সাগর পার, শিক্ষার তরী পেল সুবাস।

আটদশ গ্রামের প্রথম গ্রাজুয়েট—গৌরবের সেই ধ্রুবতারা,
লোকজন ভিড় করল ঘরে, যেন পূর্ণিমার আলোয় মধুকারা।
১৯৩৫ এ শিক্ষক হয়ে নওয়াবগঞ্জে, বকুল ফোটার মতো শুরু,
১৯৩৬ এ কাপাসিয়া এম ই স্কুলে প্রধান—গোধূলি রঙের গুরু।

১৯৩৮ এর জানুয়ারির বাইশে দায়িত্বের পূর্ণিমা রাত,
ফেব্রুয়ারির আটে সূর্যাস্ত হলেও, জ্ঞানের প্রদীপ রইল মাত।
কাপাসিয়ার ডিগ্রি কলেজ, আটটি হাই স্কুলের দীপশিখা,
তিনি ছিলেন কৃষ্ণচূড়া—শিক্ষার আগুনে দগ্ধ কিন্তু মহামহিমা।

১৯৪৪ এ হলেন ইন্সপেক্টর—বেঙ্গলের আকাশে ঝড়ের ডাক,
১৯৪৬ এ জুট ইন্সপেক্টর—কর্মের খাপে বজ্রের ফাঁক।
৩ মার্চ ১৯৮৯ এ অস্ত গেলেন—অস্তগামী সূর্য পশ্চিমে,
তবু আজো তার নাম বেজে ওঠে—দিগন্তের শঙ্খ নিশীথে।

ঈদগাহ উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৯৫১ থেকে প্রধান—
যেন স্নিগ্ধ নদীর ধারায় ভেসে আসা শাপলা-খচিত গান।
তাজউদ্দিনের গুরু তিনি, অভিভাবক ছায়া-বট,
রাজনীতির অরণ্যে তিনি শিমুলের মতো অটল, কঠিন, তবু লালমত।

ধলাগড়ের উঠোনে তিনি ছিলেন প্রভাতের শীতল শিশির,
তাজউদ্দিনের ডায়েরিতে তাই বাজে তাঁর নাম অমৃত নীর।
চরসিন্দুরের কন্যাকে বিয়ে করে গড়লেন সংসার-আকাশ,
প্রেম যেন শিউলির সুবাস, সংসার যেন নদীর বিশ্বাস।
--------------------------------------------------------

Thursday, September 11, 2025

জুলুমের ফল

 জুলুমের ফল

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা।
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
*********************************
ওহে মানুষ, শুনো আল্লাহর বাণী,
যিনি জানেন গোপন ও প্রকাশিত হৃদি।
"যারা জুলুম করেছিল এই পৃথিবীতে,"
আল্লাহ বলেন, "তাদের জন্য ধ্বংসের ঘড়ি।"
(সুরা আল-আনআম, 6:65)

তুমি যে শাসক, শক্তি হাতে,
অন্যায়ের ছায়া ফেলে দুনিয়ার রাস্তাতে।
হাস্যরসের পেছনে লুকিয়ে আছে অশ্রু,
আল্লাহ বলেন, "তাদের কৌশল ব্যর্থ হবে, ধ্বংস অনিবার্য।"
(সুরা আল-আনফাল, 8:25)

প্রতিটি অহংকার, প্রতিটি নিপীড়ন,
ধূলির ন্যায্য পথে গড়াবে ধ্বংসের দহন।
ফিরে আসবে সেই দিন, যখন কালে,
তুমি হিসাব দেবে, কোনো লুকোনো নয়।
(সুরা আল-ইমরান, 3:182)

শাসন যদি হয় জুলুমের প্রতীক,
দূর হবে শান্তি, হারাবে মানুষিক শক্তি।
"আল্লাহ শাসক ও নিপীড়ককে চিহ্নিত করেন,"
যথাযথ প্রতিফল হবে তার বিচার্যে।
(সুরা আল-মুমিনুন, 23:47)

তবু মনে রেখো, ক্ষমতা কেবল ক্ষণস্থায়ী,
সৎ পথের আলোই চিরন্তন, জুলুমের শেষ নাই।
জুলুমের পরে আসে বিধ্বংস, অনন্তের ঘোর,
নিবিড় অন্ধকারে হারায় অহংকার, মিথ্যা জয়।
(সুরা আল-ক্বাসাস, 28:83)

-------------------------------------------------------------