সোমবার, জানুয়ারি ১২, ২০২৬

বন্ধুর চুল সাদা

 বন্ধুর চুল সাদা

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
******************************************

অবুঝ শিশুর খেলে-গেলে দিন,
হাসি ভরা চোখে জীবন ছিল মধুর রিন।
শৈশবের বালুকা মাঠে পাখি গান গায়,
বন্ধু মাহমুদ হাসান আরিফ সেখানে স্বপ্ন বুনে যায়।

কৌশরের বেলা এসেছে হঠাৎ,
মন ভরলো চিন্তা, স্বপ্ন হলো কঠিন।
যুবকের যৌবন উজ্জ্বল, দীপ্তি চোখে জ্বলে,
স্বপ্নের আকাশে হাত বাড়িয়ে সে উড়তে চায়, মুক্তি খোঁজে।

বৃদ্ধ বয়সে ধীরে ধীরে চুল হলো সাদা,
চামড়া কুচকো, শক্তি চলে দূরে কাদা।
যৌবনের উদ্দীপনা আজ অতীতের গান,
দুর্বল হয়ে গেছে দেহ, কিন্তু হৃদয় রয়ে গেছে মান।

জীবন অবসানে সে দাঁড়ায় একা নয়,
প্রভুর স্মরণে হৃদয় ভরে পূর্ণ ত্রয়।
মৃত্যু তো একটি পথ, শিক্ষা হয়ে যায়,
ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে জীবন রঙিন হয় আবার নতুন ঢঙে সাজায়।

আল্লাহ যেন বন্ধুকে দীর্ঘ হায়াৎ দান করেন,
প্রভুর পথে চলা, সকল বন্ধুর মন ভরে আনন্দে।
বন্ধুর চুল সাদা, কিন্তু হৃদয় তরুণ,
জীবনের প্রতিটি ধাপ যেন হোক আলোর দূরন্ত স্রোতগুণ।
----------------------------------------------


১২-০১-২০২৬

মিষ্টির আড়ালে তিতো

 মিষ্টির আড়ালে তিতো

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**************************************

দিকে দিকে জনতাকে খাওয়ানো হয়
মধুর হাসির মোড়কে লুকোনো তিতো বিষ—
মুখে মিষ্টি বুলি, অন্তরে ছলনার আগুন,
ছদ্মবেশী মোনাফেক, চিনতে পারে না মূর্খ জনতা তখন।

ক্ষমতা পাওয়ার আগে ওরা চিনি মাখা কথা,
ক্ষমতা পেলে বদলায় স্বাদ—হয়ে ওঠে নির্মম তিতা,
প্রতিশ্রুতির ফুল ঝরে পড়ে কাঁটায়,
নিষ্ঠুর অত্যাচারে রেহাই পায় না কেউই আর।

ওরা গণতন্ত্রের শত্রু,
স্বাধীন বাংলাদেশের বিরোধী ছায়া,
স্বাধীনতা ওদের কাছে বোঝা,
তাই ইতিহাস মুছতে চায়—মুক্তিযুদ্ধের দীপ্ত মায়া।

ধর্মকে ওরা বানায় পণ্যের বাজার,
ইমানের দামে কেনাবেচা চলে নির্লজ্জ কারবার,
ধর্মের নামে ছড়ায় উগ্রতার বিষবাষ্প,
ভীরু মুসলিমকে দেয় বিকৃত, ভ্রান্ত বার্তা।

ক্ষমার মুখোশে লোভের দাঁত,
মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষকে করে অপমানিত,
লাল-সবুজ পতাকা পায় পদধূলি,
জাতির গৌরব হয় লাঞ্ছিত, ক্ষতবিক্ষত।

স্বাধীনতাকামী যোদ্ধাদের মুছে দিতে চায় ইতিহাস থেকে,
ছাত্র-শিক্ষকদের সম্মান করে ধূলিসাৎ এক ঘৃণ্য রেখায়,
জ্ঞান, ত্যাগ, আদর্শ—সবই ওদের চোখে অপরাধ,
কারণ সত্য থাকলে টিকে না ভণ্ডামীর ফাঁদ।

হে বাঙালি, জাগো—আর কত নীরব থাকবে?
মিষ্টির আড়ালে তিতোর এই ছলনা ভাঙতে হবে।
ভণ্ডামীর ঝাণ্ডা গুড়িয়ে দাও ঐক্যের ঝড়ে,
সত্য, স্বাধীনতা আর চেতনাকে রাখো বুকের গভীরে।

এই ডাক—প্রতিবাদের,
এই কাব্য—স্মরণ আর জাগরণের,
যেন আর কখনো
মধুর মুখোশে তিতা শাসন
বাংলার ভাগ্যকে গ্রাস করতে না পারে।
------------------------------------------


১২-০১-২০২৬

মৃতব্যক্তিদের স্মরণে

 মৃতব্যক্তিদের স্মরণে

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
****************************************
আল্লাহু আল্লাহ—ডাকে কবর, জাগো হে ঘুমন্ত প্রাণ,
এক নিঃশ্বাসে নিভে যায় প্রদীপ, থেমে যায় জীবনের গান।
আজ যে বুকে বাতাস বইছে দয়ার রবের দানে,
কাল সে বুকে নীরবতা—তাকদির লেখা জানে।

ওরে নফস, তুই কেন ডুবিস দুনিয়ার মোহে মত্ত?
কাফনের কাপড় বলে দেয়—সব অহংকার মিথ্যা সত্য।
রাজা-ভিখারি এক কাতারে, মাটি সবার ঠিকানা,
আমল ছাড়া সঙ্গে যাবে না ধন-সম্পদ, মান-সম্মানা।

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ—এই হোক শেষ সুর,
এই কালেমার আলোতেই কবর পাবে নূর।
মুনকার-নাকির প্রশ্নে যেন না কাঁপে হৃদয় ভয়ে,
রাব্বি আল্লাহ উচ্চারণে নূর ঝরে পড়ে গায়ে।

কাপাসিয়ার পথে পথে আজ কান্নার ধ্বনি ওঠে,
মৃতদের নাম শুনে শুনে বুক ভেঙে যায় ছোটে।
মৈশন সেন্টুমিয়া স্মৃতি ফাউন্ডেশনের ছায়াতলে,
সিজদাভেজা দোয়ায় আকাশ নুয়ে পড়ে ধরণীতলে।

যিনি জানাজার কাতারে দাঁড়িয়ে শেখান শেষ পাঠ,
হাফিজুল হক চৌধুরী (আইয়ূব)—দোয়ার নীরব সাধক।
প্রতিটি লাশে তিনি দেখেন নিজেরই পরিণাম,
এই শিক্ষা বয়ে আনুক নাজাতের পথ-নিশান।

হে রহমান, হে রহিম—করো দয়া অপরিসীম,
গুনাহে ভরা বান্দাদের তুমি ক্ষমা করো রহীম।
কবর করো জান্নাতের বাগান, আগুনের গর্ত নয়,
হাশরের ময়দানে দিও নবীর পতাকার ছায়া রয়।

হে আল্লাহ, তার এই খেদমত কবুল করে নাও,
মৃত্যু অবধি দ্বীনের পথে চলার তাওফিক দাও।
তার আমলনামা ভরাও সদকায়ে জারিয়ার নূরে,
নবীর শাফায়াতে রাখো নিরাপদ কিয়ামতের ভিড়ে।

আল্লাহু আল্লাহ—এই কান্না তুমি বৃথা করো না,
মৃত আর জীবিত সবাইকে নাজাত দিও হে দয়াময় প্রভু।
যেদিন আমাদের নামও উঠবে জানাজার ডাকে,
তোমার রহমতে গ্রহণ করো—আমিন, ইয়া রব্বাল আলামিন।
-------------------------------------------------------


১২-০১-২০২৬

মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ৩০, ২০২৫

মহাকালের বিদায়

 মহাকালের বিদায়

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*********************************************
এক প্রেমের শূন্যতায় আজ প্রকৃতি কাঁদে গভীরতায়
স্বাধীন বাংলার পথঘাট ভিজে যায় অশ্রুর ধারায়
জনতার বুকে নেমে আসে দীর্ঘ বিষণ্ন ব্যথায়
এই শূন্যতা পূরণ হবার নয়—ইতিহাসে রয়ে যায় ।

গণতন্ত্রের কাননে তুমি ফুটেছিলে দৃঢ় বিশ্বাসে
আপোষহীন তেজে জ্বালালে অন্যায়ের সর্বনাশে
গৃহিণীর ঘর পেরিয়ে এলে রাজপথের দুর্দশায়
জনতার অধিকারের ডাকে জেগে উঠলে প্রত্যাশায়

বিএনপির সভানেত্রী হয়ে ধরলে সংগ্রামের হালেতে
ঝড়ের মুখে দাঁড়িয়ে রইলে অবিচল সংকল্পেতে
জেল, জুলুম, হুলিয়া এলো জীবনের প্রতিটি বাঁকে
তবু মাথা নত করোনি শাসনের কোনো ফাঁদে

অন্যায়ের বিরুদ্ধে কণ্ঠ তুললে বজ্র উচ্চারণে
কারাগারের অন্ধকার কাঁপত তোমার দৃপ্ত ভাষণে
নির্বাচিত প্রতিনিধি হয়ে হার মানোনি কোনোখানে
অপরাজিত ইতিহাসে উঠলে দীপ্তির শিখরপানে

গণতন্ত্রের অভিভাবক তুমি—জনতার আশ্রয়ে
মুক্তিযুদ্ধের রক্তধারা বইত তোমার অন্তরে
লাল সবুজের পতাকা ছিল নিঃশ্বাসের প্রতীকে
শহীদের অসমাপ্ত স্বপ্ন জ্বলত তোমার চেতনায়

তিনবারের প্রধানমন্ত্রী—ক্ষমতা ছিল না সাধনায়
রাষ্ট্রের ভার বহন করেও চললে কণ্টক যাত্রায়
জনতার প্রাণ, জনতার মাতা—এই ছিল পরিচয়
নিজের সুখ বিসর্জনে গড়লে জাতির নির্ভয়

আজ মহাকালের ডাকে থামল তোমার মানবধারা
ভোরের বাতাস বয়ে আনল বিচ্ছেদের শীতল ইশারা
এ মৃত্যু মৃত্যু নয়—এ অনন্ত পথে যাত্রা
যেখানে দেহ থামে, নাম জাগে ইতিহাসজুড়া

খালেদা জিয়া—আপোষহীন, মৃত্যুঞ্জয়ী ফুল
তোমার বিদায়ে আকাশ ভারী, মাটি ব্যথাতুর
শোক সহিবার নয় তবু শোক বুকে ধারণ
নেত্রী যায়, আদর্শ থাকে—এ চিরন্তন প্রমাণ

হে মহান আল্লাহ, এই ফরিয়াদ তোমার দরবারে
সব ভুলত্রুটি ক্ষমা করে স্থান দিও জান্নাতে
তাঁর আত্মা হোক শান্ত, নূরের আলোকধারায়
আর জাতির বুকে বেঁচে থাকুক তাঁর সংগ্রামগাথায়
--------------------------------------------------------


৩০-১২-২০২৫

তুমি এক মৃত্যুঞ্জয়ী আপোষহীন ফুল

 তুমি এক মৃত্যুঞ্জয়ী আপোষহীন ফুল

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর
**************************************

এক নেত্রীর শূন্যতায় আজ প্রকৃতি কাঁদে,
কাঁদে জনতা—কাঁদে স্বাধীন বাংলার পথঘাট।
ভোরের বাতাসে ভেসে আসে শোকের দীর্ঘশ্বাস,
আজ শূন্য হলো ইতিহাসের এক অমোচনীয় অধ্যায়।

এ শূন্যতা পূরণ হবার নয়—
কারণ তুমি ছিলে না শুধু একজন মানুষ,
তুমি ছিলে একটি সময়,
একটি প্রতিরোধ,
একটি অদম্য বিশ্বাসের নাম।

গণতন্ত্রের কাননে তুমি ফুটেছিলে
আপোষহীন চরিত্রের দীপ্ত ফুল হয়ে।
ঝড়ে–ঝঞ্ঝায় নুয়ে পড়োনি কখনো,
কাঁটায় কাঁটায় রক্ত ঝরিয়ে
তুমি সুবাস ছড়িয়েছ জনতার অধিকারের পথে।

গৃহিণী থেকে সভানেত্রী—
এ ছিল না কেবল পদবির যাত্রা,
এ ছিল স্বৈরাচারির বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস।
সংসারের গণ্ডি পেরিয়ে তুমি উঠেছিলে
রাষ্ট্রচিন্তার কঠিন শিখরে।

তুমি ছিলে আপোষহীন জননেত্রী,
অন্যায়ের সামনে মাথা নত না করা এক নাম।
হুলিয়া, কারাগার, জেল–জুলুম—
সবকিছুকে তুচ্ছ করে তুমি বলেছিলে:
“গণতন্ত্র বন্দি হতে পারে না।”

তুমি গণতন্ত্রের অভিভাবক,
ভোটের অধিকার, বাকস্বাধীনতার পাহারাদার।
নির্বাচিত প্রতিনিধি হয়ে তুমি প্রমাণ করেছিলে—
জনতার রায়ই রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ফরমান।

তুমি ছিলে মুক্তিযুদ্ধের রক্তপ্রবাহ,
যে রক্তে লেখা লাল–সবুজের ইতিহাস।
স্বাধীনতার চেতনাকে বুকে ধারণ করে
রাষ্ট্রের প্রতিটি সংকটে তুমি হয়েছিলে
অটল প্রহরী।

লাল সবুজের ধারক বাহক
পতাকার রঙে রঙিন ছিল তোমার আত্মা।
তিনবারের প্রধানমন্ত্রী—
রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থেকেও
ভুলে যাওনি জনতার কষ্ট, জনতার কান্না।

তুমি ছিলে জনতার প্রাণ, জনতার মাতা,
শাসকের আসনে বসেও
তুমি ছিলে রাজপথের মানুষ।
দিবারাত্রি লড়াই–সংগ্রামে
জনতার পাশেই ছিল তোমার ঠিকানা।

জেল–জুলুম সহ্য করা নেত্রী—
কারাগারের দেয়ালও জানত,
তোমাকে আটকে রাখা যায়,
কিন্তু দমিয়ে রাখা যায় না।

তুমি কখনো হারোনি—
কারণ পরাজয় তোমার অভিধানে ছিল না।
আজও তুমি হারোনি—
কারণ মৃত্যু তোমাকে নিতে পারেনি,
নিয়েছে শুধু দেহ,
চেতনাকে নয়।

আজ ভোর ছয়টায়—
৩০–১২–২৫ ইং,
মহান প্রভুর ডাকে তুমি ছেড়ে গেলে এই ধরাধাম।
কিন্তু এ বিদায় বিদায় নয়,
এ এক অমরতার যাত্রা।

বেগম খালেদা জিয়া—
তুমি এক মৃত্যুঞ্জয়ী আপোষহীন ফুল।
তোমার শূন্যতায় আজ দেশ নীরব,
আকাশ ভারী, বাতাস স্তব্ধ।

এ বিদায়, এ শোক সহিবার নয়
তবু মাথা নত করে আমরা বলি,
হে মহান আল্লাহ,
তোমার দরবারে এই ফরিয়াদ—
তাঁর সকল ভুলত্রুটি ক্ষমা করে
তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করো।

গণতন্ত্রের ইতিহাসে
তোমার নাম লেখা থাকবে
রক্তের অক্ষরে,
আপোষহীনতার প্রতীকে,
চিরকাল—চিরদিন।
----------------------------------------------------------


৩০-১২-২০২৫

সোমবার, ডিসেম্বর ২৯, ২০২৫

স্বাধীন জাতির কলঙ্ক

 স্বাধীন জাতির কলঙ্ক

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**************************************
মুক্তির ফুলগুলি আজ পরজীবী—
লোভের পুঁজে, লালসার উন্মাদ নগ্নতায়!
যে গোলাপ রক্তে ফুটেছিল রণভূমিতে,
আজ সে জবা—রঙ আছে, গন্ধে পচন ধরা যায়।

যে মৌগুলো মাতত স্বাধীনতার সুবাসে,
আজ তারা ফেরে ব্যথাতুর, মলিন অন্তরে—
ধিক্কার ছুড়ে দেয় সেই ফুলের মুখে,
যে ফুল নিজের শিকড়ই বিকিয়ে দেয় বাজারে।

গোলাপ, তুই কি এতটাই লোভী হতে পারিস?
শুনেছিলাম—তুই মুক্তিযোদ্ধা,
শুনেছিলাম—তোর কাঁটায় কাঁপত দেশদ্রোহী,
স্বাধীনতাবিরোধীর বুকে নামত তোর বজ্র-কথা।

কিন্তু আজ?
ক্ষমতার মদের নেশায় তোর চোখ অন্ধ,
অর্থের থালায় আদর্শ চূর্ণ—
তুই নিলাম করিস স্বাধীনতার স্বপ্ন!

যে লাল-সবুজ রক্তে রাঙা হয়েছিল,
তুই তা বিক্রি করিস শত্রুর দরবারে,
যাদের বিরুদ্ধে ছিল তোর শপথের তরবারি,
আজ তাদের হাতেই তোর হাত—লজ্জার বাজারে!

এর চেয়ে বড় লজ্জা কি আছে জাতির জন্য?
মুক্তিযোদ্ধা আজ পণ্যে পরিণত!
স্বাধীন জাতির কপালে কালো দাগ,
তুই ইতিহাসের পাতায় এক বিকৃত শব্দমাত্র!

মুক্তিযোদ্ধা বলতেও আজ ঘৃণা লাগে—
কারণ তুই পথভ্রষ্ট, তুই ভণ্ড!
তোর বুকের মেডেল ঝনঝন করে না,
ওগুলো বাজে—মুদ্রার শব্দে, লোভের ছন্দে।

শোন, হে নব্য শত্রু!
তুই বাইরের নয়—ভেতরের পচন,
তুই জাতির শিরায় ঢোকা বিষ,
তোর নামেই কলঙ্ক—স্বাধীনতার অপমান।

নজরুলের রণডঙ্কা বাজে আজও আকাশে—
বজ্রকণ্ঠে প্রশ্ন ওঠে: “কে তুই?”
যে আদর্শ বেচে দেয়, সে যোদ্ধা নয়,
সে ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাঁড়ানো এক বিশ্বাসঘাতক ছায়া।

স্বাধীন জাতি আজ আঙুল তুলে বলে—
দূর হ!
তুই মুক্তির ফুল নস,
তুই লোভের আগাছা—
স্বাধীন জাতির কলঙ্ক।
----------------------------------------------


২৯-১২-২০২৫

জাতির স্যালুট

 জাতির স্যালুট

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
***********************************************

যারা লোভের কাছে নত হয়নি কখনো,
যারা আদর্শকে বুকে বেঁধে রেখেছে আগ্নেয় শপথে—
তোমাদেরই নামে আজ আমার কবিতা,
তোমাদেরই পায়ে জাতি রাখে মাথা শ্রদ্ধায়, নীরবতায়।

তোমরা গোলাপ—
রক্তে ফুটে ওঠা আগুন-রঙা গোলাপ,
যাদের কাঁটায় বিদ্ধ হয়েছিল শত্রুর বুক,
যাদের সুবাসে জেগেছিল স্বাধীনতার সকাল।

যুদ্ধের রাতে ক্ষুধা ছিল, ভয় ছিল,
তবু পিছু হটোনি একচুলও—
মায়ের মুখ, মাটির ডাক,
লাল–সবুজের মান—এই ছিল তোমাদের সম্বল।

তোমরা বন্দুক ধরেছিলে ক্ষমতার জন্য নয়,
মুকুটের লোভে নয়, মুদ্রার লালসায় নয়—
তোমরা লড়েছিলে মানুষের অধিকারের জন্য,
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মুক্ত নিশ্বাসের জন্য।

গুলির সামনে বুক পেতেছিলে,
পেছনে ছিল না কোনো সিংহাসন—
শুধু ছিল দেশ,
শুধু ছিল জাতি,
শুধু ছিল স্বাধীনতার অবিনাশী স্বপ্ন।

আজও তোমরা আছো নীরবে,
প্রচারের আলোয় নয়—
কিন্তু ইতিহাস জানে,
এই দেশ দাঁড়িয়ে আছে তোমাদের রক্তের ওপরই।

নজরুলের বজ্রকণ্ঠে আজ উচ্চারণ হোক—
তোমরাই সত্যিকারের বীর!
তোমরাই মুক্তিযোদ্ধা!
তোমরাই জাতির অহংকার!

এসো, জাতি দাঁড়িয়ে স্যালুট জানাক—
তোমাদের ত্যাগকে,
তোমাদের সততাকে,
তোমাদের অটল দেশপ্রেমকে।

যতদিন লাল–সবুজ উড়বে আকাশে,
যতদিন বাংলা বেঁচে থাকবে—
ততদিন তোমাদের নাম
লিখিত থাকবে গৌরবের অক্ষরে।

দেশপ্রেমিক মুক্তিযোদ্ধা—
জাতি তোমাদের স্যালুট করে।


২৯-১২-২০২৫

রবিবার, ডিসেম্বর ২৮, ২০২৫

আদর্শের দুর্ভিক্ষ

 আদর্শের দুর্ভিক্ষ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**********************************************

রাজনীতির আকাশে আদর্শের দুর্ভিক্ষ হানিছে আঘাত,
স্বাধীন মাতৃভূমি জ্বলিছে আদর্শহীন রাজনীতিবিদদের আগুনে।
নেতাদের অশুভ ঘূর্ণিঝড়ে নিরীহ জনতা মরিছে
হুজুগের উন্মাদনায়, অচেনা মিছিলের পায়ে পিষ্ট হয়ে।

শুধু ক্ষমতার জন্য নেতারা ছুটিছে—
নীতি, নৈতিকতা, আদর্শ ভুলে।
মুনাফিকির উচ্চ শিখরে দাঁড়িয়ে
আদর্শহীন নেতাদের রাজকীয় অবস্থান।
কর্মীরা দেয় জীবন—
আর নেতারা স্বার্থের জন্য কর্মী ভুলে যায়,
দল ভুলে যায়, আদর্শ ভুলে যায়।

কে দেশবিরোধী, কে দেশপ্রেমিক—
সে হিসাব তাদের খাতায় নেই।
ক্ষমতাই তাদের ধ্যান, ক্ষমতাই তাদের দর্শন,
ক্ষমতাই তাদের একমাত্র লক্ষচিত্র।
এইভাবে চলতে থাকলে দেশ
চলে যাবে অতল গহ্বরে—
নেতা তো নয় যেন
আদর্শহীন অভিনেতার অভিনয়।

আজো আমি নিঃশ্বাসে পাই মৃত্যুর নীরব সাক্ষ্য,
আজো আমি মাটিতে দেখি মৃত্যুর নগ্ন নৃত্য।
ধর্ষিতার কাতর চিৎকার শুনি
আজো আমি তন্দ্রার ভেতরে।

এ দেশ কি ভুলে গেছে
সেই দুঃস্বপ্নের রাত,
সেই রক্তাক্ত সময়?

মাটিতে লেগে আছে রক্তের দাগ।
এই রক্তমাখা মাটির ললাট ছুঁয়ে
একদিন যারা বুক বেঁধেছিলো,
জীর্ণ জীবনের পুঁজে তারা আজ
খুঁজে নেয় নিষিদ্ধ আঁধার।

আজ তারা আলোহীন খাঁচা ভালোবেসে
জেগে থাকে রাত্রির গুহায়।
এ যেন নষ্ট জন্মের লজ্জায়
আর্ত কুমারী জননী।

স্বাধীনতা—
একি হবে নষ্ট জন্ম?
একি তবে পিতাহীন জননীর
লজ্জার ফসল?

জাতির পতাকা খামচে ধরেছে
আজ পুরোনো শকুন।

নিয়ন আলোয় তবু নর্তকীর দেহে
দুলে ওঠে মাংসের তুফান।
মাটিতে রক্তের দাগ—
চালের গুদামে তবু জমা হয়
অনাহারী মানুষের হাড়।

এ চোখে ঘুম আসে না—
সারারাত আমার ঘুম আসে না।
তন্দ্রার ভেতরে আমি শুনি
ধর্ষিতার করুণ চিৎকার।

নদীতে পানার মতো ভেসে থাকে
মানুষের পচা লাশ।
মুন্ডহীন বালিকার
কুকুরে খাওয়া বিভৎস শরীর
ভেসে ওঠে চোখের ভেতরে।

আমি ঘুমোতে পারি না—
আমি ঘুমোতে পারি না…

রক্তের কাফনে মোড়া—
কুকুরে খেয়েছে যারে,
শকুনে খেয়েছে যারে,
সে আমার ভাই,
সে আমার মা,
সে আমার প্রিয়তম পিতা।

স্বাধীনতা—
সে আমার স্বজন,
হারিয়ে পাওয়া একমাত্র স্বজন।
স্বাধীনতা—
আমার প্রিয় মানুষের রক্তে কেনা
অমূল্য ফসল।

ধর্ষিতা বোনের শাড়ি—
ওই আমার রক্তাক্ত জাতির পতাকা।
---------------------------------------------------


২৮-১২-২০২৫

মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ২৩, ২০২৫

এসো হে গণতন্ত্রের বীর

 এসো হে গণতন্ত্রের বীর

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*******************************************
তুমি এসো—হে গণতন্ত্রের বীর,
এসো বজ্রপদে, আগুন-হাতে, শপথের শিরে!
দেখো হে বাংলা—আজ জ্বলিছে উগ্রবাদের দাহ,
স্বাধীনতার আঙিনায় ছাই, বিবেকের কণ্ঠে বাঁধা শ্বাস।

দিকে দিকে দেশবিরোধীর উত্থান—
মুখোশে মুখোশে শকুনের নৃত্য,
মবের হুঙ্কারে ন্যায় লাঞ্ছিত,
স্বৈরাচারের ছায়া নামে—ভোটের বাক্সে, কলমের ডগায়, রাস্তায়।

পিতার রণযুদ্ধে পাওয়া যে স্বাধীনতা—
লক্ষ শহীদের রক্তে ধোয়া লাল-সবুজ,
মা-বোনের ইজ্জতের শপথে বাঁধা—
আজ তা হুমকির সম্মুখে, পদধূলিতে গণতন্ত্র!

তুমি কোথায়, হে বীর?
যে বলেছিলে—কণ্ঠ রোধ হবে না,
কলম থামবে না,
মতপ্রকাশে অবাধ চাষাবাদ হবে—
সে অঙ্গীকার আজ কারাগারে?

এ এক নতুন যুদ্ধ—
এবার তলোয়ার নয়, বিবেকের বজ্র,
এবার বন্দুক নয়, সত্যের উচ্চারণ।
এবার হেরে গেলে—জাতি হেরে যাবে,
স্বাধীনতা হেরে যাবে, গণতন্ত্র হেরে যাবে;
কবিতা থামবে, ইতিহাস স্তব্ধ হবে,
মুক্তিযুদ্ধের গল্প হবে নিষিদ্ধ শব্দ!

চেয়ে দেখ—
দুর্নীতির সিন্ডিকেটে রাষ্ট্র বন্দি,
ফ্যাসিবাদের কণ্ঠে আইন খর্ব,
মববাদে ন্যায় চূর্ণ,
স্বৈরাচারের দম্ভে ভোট অপমানিত।
লাল-সবুজ পতাকা আজ খামচে ধরেছে
সেই পুরোনো শকুন—নতুন নাম, পুরোনো দাঁত!

তুমি এসো হে—
জাতি তোমার অপেক্ষায়,
এই স্বাধীন মাতৃকা তোমার,
এই জনতা তোমার।
জাগাও হে নেতা—ভীত কলম, রুদ্ধ কণ্ঠ,
শেখাও আবার—ভয় নয়, অধিকার!

উঠুক হে গণজোয়ার—
আইনের শাসনে দাঁড়াক রাষ্ট্র,
মানুষের মর্যাদায় ফিরুক শক্তি।
পিতার আদর্শ প্রজ্জ্বলিত করো—
সাম্য, মানবিকতা, অসাম্প্রদায়িক শপথে।

এসো হে গণতন্ত্রের দিশারী—
ঝড়ের ভেতর প্রদীপ হও,
অন্ধকারে বজ্র হও,
মিথ্যার দেয়ালে সত্যের হাতুড়ি হও!

তুমি এসো—হে গণতন্ত্রের বীর,
বাংলা আজ তোমার ডাক শোনে,
ইতিহাস আজ তোমার অপেক্ষায়।
----------------------------------------------------


২৩-১২-২০২৫

আমি অগ্নিগর্ভ বিদ্রোহ

 আমি অগ্নিগর্ভ বিদ্রোহ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*************************************

আমি বিদ্রোহী—
আমি রক্তচক্ষু বজ্র, আমি শপথের আগুন,
আমি ঘুমন্ত পাহাড়ে লাথি মারা ভূমিকম্প,
আমি নীরবতার বুক চিরে ওঠা আর্তনাদ।

আমি দাঁতাল ঝড়—
শিকল কামড়ে ছিঁড়ে ফেলি,
আমি অন্ধকারে গর্জে ওঠা সত্যের নখ,
আমি ভয়ের গলায় চেপে ধরা প্রশ্ন।

আমি ধূমকেতু—
আকাশে আঁচড় কাটি, ইতিহাসে দাগ ফেলি,
আমি মিথ্যার কবর খুঁড়ে
সত্যকে তুলে আনি লাল রক্তিম আলোয়।

আমি অগ্নিপানী—
নিভি না, নিস্তেজ হই না;
আমি শিরায় শিরায় সঞ্চারিত বিদ্যুৎ,
আমি হাড়ে হাড়ে কাঁপন তোলা ডাক।

আমি চিৎকার—
ধর্মের মুখোশে লুকোনো অধর্মের বিরুদ্ধে,
আমি শ্লোগান—
মানুষের নামে মানুষ খাওয়ার বিরুদ্ধে।

আমি মাতৃভূমির রক্তাক্ত কণ্ঠ,
আমি শহীদের অসমাপ্ত বাক্য,
আমি পতাকার আঁচলে বাঁধা প্রতিজ্ঞা—
ভাঙবে না, নত হবে না।

আমি ছদ্মবেশ ছিঁড়ে ফেলি,
আমি কপটতার দাঁত উপড়ে দিই,
আমি বিশ্বাসের বুকে
সত্যের খড়্গ বসাই নির্ভীক।

আমি বিদ্রোহী—
আমার হাঁটায় আগুন, আমার চোখে বজ্র,
আমার নিঃশ্বাসে রণডঙ্কা,
আমার নীরবতায়ও আতঙ্ক।

শোনো, হে অশুভ—
আমি শেষ নই, শুরু;
আমি থামি না, ফিরি না;
আমি বিদ্রোহ—
প্রচণ্ড, প্রলয়মুখী, অপ্রতিরোধ্য।
-----------------------------------------


২৩-১২-২০২৫

Student

  কবি মোহাম্মদ আমিনুল এহছান মোল্লা। রাওনাট , কাপাসিয়া , গাজীপুর। ************************************** জাগো রে ছাত্র ! জাগো রে...