সোমবার, জানুয়ারি ১৯, ২০২৬

ইসলামের আহ্বান

 ইসলামের আহ্বান

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*******************************************

জাগো হে মুসলিম! জাগো—ভাঙো কুফরের শৃঙ্খল,
আল্লাহু আকবার ধ্বনিতে কাঁপুক মিথ্যার মঙ্গল।
রাহমানের নূর ঝরে আয়াতে, বিদীর্ণ আঁধার,
কোরআনের বজ্রকণ্ঠে নীরব হোক জুলুম-অবিচার।

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ—এই আমার তলোয়ার,
শির্কের দুর্গ ভাঙে আজ তাওহিদের হুঙ্কার।
মুস্তাফার (সাঃ)পথই পথ, সত্যেরই নিশান,
তিনি দীন এনেছেন—রহমত, আদল আর ইমান।

নামাজ আমার মেরাজ, রোজা আমার ঢাল,
যাকাত আমার বিপ্লব—ভাঙে দারিদ্রের জাল।
হজ আমার মিলন-মিছিল, উম্মাহর ঐক্যগান,
কাবার তলে একাকার আরব-আজম-ইরান।

আমি সেই দীন মানি না—যে দীন কেবল বুলি,
যে দীন জুলুম দেখে চুপ, মুখে মধু, মনে ছুরি।
ইসলাম মানে ইনসাফ, ইসলাম মানে হক,
জালিমের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো—এই দীনই তো শক্ত।

হে ইনসান! ফিরো রবের দিকে, ফিতরাতের ঘরে,
নূরের স্রোত বইছে আজ ইসলামের ঝরে।
দুনিয়া নয় শেষ ঠিকানা, আখিরাতই আসল,
ইসলামের ছায়াতলেই মুক্তির পূর্ণ ফসল।

জাগো! আবার জাগো! এই আমার বিদ্রোহী ডাক,
নবীর (সাঃ) উম্মাহ হও—ভাঙো ভয়, ভাঙো ফাঁক।
ইসলামের আহ্বান আজ আগুনের মত সত্য,
নূরের মশাল হাতে চল—এই দীনই চির-মুক্তি।
------------------------------------------


১৯-০১-২০২৬

নিঃস্বার্থ জনসেবকের বিদায়

 

নিঃস্বার্থ জনসেবকের বিদায়
- মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

নিঃস্বার্থ জনসেবকের বিদায়

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************************
আজ আকাশ নতজানু, বাতাস ভারী শোক,
সূর্য ঢেকে রাখে মুখ—নিভে যায় আলোর লোক।
দূর্গাপুরের মাঠে মাঠে শিশির নয়, অশ্রু,
জনতার বুকের ভেতর জমে থাকা দীর্ঘ বিষণ্ন স্পর্শ।

এই মাটির বুকে হেঁটেছিলেন যিনি আলো হয়ে,
জনাব গিয়াস উদ্দিন—মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে নিরবে।
সাবেক চেয়ারম্যান তিনি, দূর্গাপুর ইউনিয়ন,
নামে নামে জড়িয়ে আছে সেবার অমলিন কীর্তিগাথন।

সহজ জীবন, সরল মন, মার্জিত ব্যবহার,
শিক্ষিত হয়েও অহংহীন—এই ছিল তার পরিচয়ভার।
জনতার চোখের ভাষা বুঝতেন নিঃশব্দ চাহনিতে,
দুঃখের ভারে নুয়ে পড়লে পাশে থাকতেন মানবিকতায়।

সৎ ও যোগ্য বিচক্ষণতায় দৃঢ় ছিল তার পথ,
দুর্নীতির ছায়া ছুঁতে পারেনি সেই সততার রথ।
সবাইকে আপন করে নিতেন হাসিমুখে ডেকে,
দলমত ভুলে মানুষ দেখেছেন মানুষ হিসেবেই একে।

নদী আজ থমকে গেছে, পাখি ভুলেছে গান,
গাছেরা নুয়ে পড়ে যেন হারিয়েছে অভিভাবক প্রাণ।
দূর্গাপুরের ধূলিকণায় লেখা তার সাধ,
উন্নয়নের প্রতিটি ধাপে ছিল তারই হাত।

পরহেজগার, ঈমানদার, ধর্মভীরু অন্তর,
মানবতায় বিশ্বাস ছিল—এটাই ছিল তার মন্ত্র।
অসাম্প্রদায়িক চেতনায় গড়া উদার মন,
সব ধর্মের মানুষে দেখেছেন এক অভিন্ন জন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা তিনি, লাল-সবুজের ঋণ,
রক্তে লেখা স্বাধীনতার বহনকারী ঋদ্ধ দিন।
হাস্যোজ্জ্বল মুখখানি আজ স্মৃতির আয়নায়,
আকাশ খোঁজে সেই হাসি—পায় না কোথায়।

বারবার নির্বাচিত—জনতার অবিচল রায়,
ভালোবাসার ভারেই তার নাম ইতিহাসে রয়।
“নিজে খেয়ে মোমবাতি”—এই শ্লোগানে মুখর জনতা,
আজ সেই আলো নিভে গিয়ে কাঁদে পুরো জনপদটা।

তার বিদায়ে শূন্যতা—ভরবার নয় কালে,
এ শূন্যতা লিখে রাখে সময় নিজ হাতে।
দলমত ভুলে সবাই আজ এক কাতারে নত,
কারণ তিনি ছিলেন মানুষ—সেবায় অনড়, অবিচলত।

হে মহান আল্লাহ, দয়া করো অশেষ,
জান্নাতের সুউচ্চ মাকাম দাও—এই প্রার্থনাই শেষ।
নিঃস্বার্থ এই সেবকের স্মৃতি থাকবে অমর,
যতদিন মানুষ বাঁচে—ততদিন গিয়াস উদ্দিন নামের আলো ঝরঝর।
----------------------------------------------


১৯-০১-২০২৬

মঙ্গলবার, জানুয়ারি ১৩, ২০২৬

রোগী দেখা

 রোগী দেখা

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
***************************************

রোগীর ঘরে পা রাখিলে নরম করো মন,
নবীজি বলেন—এ সেবা ইমানেরই ধন।
দু’চোখ ভরা মমতা নিয়ে বসো তার পাশে,
আল্লাহ তখন ফেরেশতা পাঠান তার আশে।

“লা বাসা তাহূরুন”—এই দোয়া মুখে আনি,
ব্যথার মাঝে আশার আলো জ্বলে ওঠে প্রাণে।
এক পা এগোলেই সওয়াব ঝরে অনবরত,
হাদিসে বলে—হাঁটলে ঝরে গুনাহ শত।

রোগীর অশ্রু মোছানোই বড় ইবাদত,
দয়ার হাতে ধরা থাকে রহমতের সনদ।
আহাজারির ফাঁকে বলো সবরের কথা,
কোরআন বলে—সবরেই লুকায় মুক্তি-পথা।

রোগী দেখে ফিরো যখন নীরব কদমে,
হৃদয় ভরে থাকে দোয়া আল্লাহর নামে।
এ সেবা নয় শুধু কাজ, নয় কেবল দেখা—
রোগী দেখা মানেই যেন জান্নাতের লেখা।
-----------------------------------------------------


১৩-০১-২০২৬

শান্তির কাছে প্রশ্ন

 শান্তির কাছে প্রশ্ন

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*********************************************

হে শান্তি! তুই কোথায় লুকালি—
মরুভূমির বুকে নাকি রক্তজলে ভাসালি?
স্বাধীন রাজ্যে কেন ভাঙনের হাহাকার,
এক পতাকার তলে কেন শত শত অন্ধকার?

আমি নিরীহ জনতা—কেন নিরাপত্তা ভিখারি?
কেন আমার অধিকার আজ লুণ্ঠনের বাজারি?
কেন আমার বাক্‌স্বাধীনতা শিকলবন্দী কণ্ঠে,
সত্য বললেই কেন বজ্র নামে রাষ্ট্রের মুষ্টিতে?

মাতৃকার বুকে কেন মবতন্ত্রের ফসল,
মানুষের হাতে মানুষ খুন—আইন আজ অচল!
শান্তির খামে কেন রক্তাক্ত ফরমান,
কার লালসায় শূন্য হলো রাজ্যের ভাণ্ডারখান?

কেন বেকারত্বের অভিশাপে যুবা নিঃস্ব,
কেন ধর্মান্ধের উন্মাদনায় বিবেক আজ নিঃশেষ?
কেন মুক্তিযোদ্ধার গলায় অপমানের জুতা,
যাদের রক্তে জন্ম দেশ—আজ তারাই কেন লাঞ্ছিতা?

গণতন্ত্র কেন কারাগারে শিকলবন্দী,
কার ভয়েতে কাঁপে ভোট, কাঁপে জনমত বন্দী?
আমার কবিতা কেন মুছে দিলে কালির আগে,
ভয় পাও নাকি সত্যকে—বিদ্রোহী শব্দের আগুনে?

কেন মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধেই তোমার নীরবতা,
কেন ইতিহাস বদলায় ক্ষমতার সুবিধামতা?
ন্যায়বিচার কেন থমকে যায় দরজার প্রান্তে,
কার আদেশে চোখ বুজে থাকে আদালতের কণ্ঠে?

বলো, শান্তির গভীরে এতো অশান্তির ঢেউ কেন?
শান্তির ভিতরেই কেন ভয়তন্ত্রের দহন?
দিকে দিকে বৈষম্য—মানুষ কেন খণ্ডিত,
এক দেশের সন্তান হয়েও কেন এত ভিন্নচিত্ত?

আমি তো চেয়েছিলাম মুক্তির অগ্নিস্নান,
চেয়েছিলাম শান্তি—ভয়ের নয়, ন্যায়ের বিধান।
হে শান্তি! যদি তুই শুধু শাসকের অলংকার,
তবে বিদ্রোহই আমার ধর্ম—বিদ্রোহই আমার উচ্চারণ আর!
----------------------------------------------------------


১৩-০১-২০২৬

উগ্রবাদের কালো অধ্যায়

 উগ্রবাদের কালো অধ্যায়

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
***************************************

আমি বিদ্রোহী—আমি আগুন, আমি দাবানলের হাঁক,
অন্যায়ের বুকে বাজাই আজ বজ্রবিদ্রোহের ডাক।
যে প্রজন্ম আঁধার বুনে, আলোকে দেয় শিকল,
আমি তার বিরুদ্ধে জ্বালি শব্দের বারুদ-ফসল।

শোনো—অসভ্যতার মেলায় নাচে তরুণ রক্ত,
অশ্লীল ভাষার বিষে আজ বিবেক হয়েছে ভক্ত।
মুখে মুখে ছোড়া গালি, হাতে হাতে লাঞ্ছনা,
আমি চিৎকার করি—এ কি মানুষের পরিচয়, না জানো না?

আমি দেখি—মবের মত্ত নৃত্য, উগ্রতার উল্লাস,
যুক্তির কণ্ঠ রুদ্ধ, সত্য পড়ে কারাগারবাস।
ধর্মভীরুতা নয়—ধর্মান্ধতার উন্মত্ত দৌড়,
ক্ষমতার নামে হিংসা চলে, আল্লাহর নামে কালো খড়্গ ধরা হয় জোর।

আমি বিদ্রোহী—ধর্ম নয় রক্তপিপাসু অস্ত্র,
বিশ্বাস মানে মমতা, না যে হিংসার মন্ত্র।
দেশপ্রেম আজ তলানীতে—স্লোগান শুধু ছল,
মুক্তিযুদ্ধের মর্মকথা আজ স্মৃতির কবরতল।

ওরে জনতা, শুনিস না কি ইতিহাসের হাহাকার?
এই মাটি চায় ন্যায়, চায় মানুষ, চায় প্রতিবাদের জ্বালাকার।
অপমান-অপদস্তের শৃঙ্খলে বাঁধা জীবনচক্র,
শান্তির বুকে বসে আজ অশান্তির রক্তচক্র।

শিক্ষক, ছাত্র, শ্রমিক, পেশাজীবী, পথচারী,
কেউই নিরাপদ নয়—ভয় রাষ্ট্রের নতুন ভারী।
পেশিশক্তি, বাহুবল—এই নাকি শক্তির পরিচয়?
আমি বলি—এই শক্তিই সভ্যতার মহাপরাভয়।

দিকে দিকে ভয়তন্ত্র, মবতন্ত্র, স্বৈরতন্ত্রের জয়ঢাক,
আমি বিদ্রোহী—এই কবিতা আমার অগ্নিসংকেত, আমার ডাক।
অস্ত্র আর মাদক-নেশায় তরুণ মন বিপথগামী,
জ্ঞানের অন্বেষণ মরেছে, নগ্নতার রাজ্যই এখন গ্রামী।

আমি ধিক্কার দেই—এই নয় আমার বাংলার মানচিত্র,
এই নয় মুক্তির স্বপ্ন, এই নয় শহীদের উত্তরাধিকার।
বাংলার জনতা মুক্তি চেয়েছিল শোষণ-শেকল ভেঙে,
মুক্তি কি পেয়েছে আজ, না কি শেকল হয়েছে আরো শক্ত, আরো বেঙে?

হে রাজ্যের কর্ণধার—আমি বিদ্রোহী প্রশ্ন ছুঁড়ি,
এই উগ্রবাদের কালো অধ্যায়ের দায় কার—বল, লুকাস না, ঘুরি না ঘুরি!
ওরে জনতা—জাগো, ভাবো, প্রশ্ন করো উচ্চস্বরে,
নচেৎ ইতিহাস লিখবে তোমার নীরবতাকে অপরাধ করে।


১৩-০১-২০২৬

সোমবার, জানুয়ারি ১২, ২০২৬

বিদায়ের অশ্রু

 বিদায়ের অশ্রু

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর।
****************************************************


আজ… আজ রাওনাট আদর্শ উচ্চ বিদ্যা নিকেতন নিস্তব্ধ,
ছাত্র ছাত্রীদের হাসি যেনো স্তব্ধ হয়ে গেছে।
২০১১ সালে, নোয়াপাড়া ময়েজ উদ্দিন আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে
আপনি এসেছিলেন—রাওনাট আদর্শ উচ্চ বিদ্যা নিকেনে,
হালকা পা, গভীর দৃষ্টি, নিঃশব্দ শিক্ষার আলো ছড়িয়ে।

প্রিয় জনাব আব্দুর রউফ,
আপনার ধৈর্য নদীর মতো ধীরে প্রবাহিত,
আপনার শব্দ মৃদু বাতাসের মতো,
রাওনাট আদর্শ উচ্চ বিদ্যা নিকেনের প্রাঙ্গণ জুড়ে
ঘুরত কোমল শীতল স্নেহ, শিশুর চোখে জ্বলত দীপ।

অশ্রু ঝরে… স্মৃতির স্রোত ভেসে যায়…
আপনার ভালোবাসা রাওনাট আদর্শ উচ্চ বিদ্যা নিকেনের আত্মায়।

প্রত্যেকটি পাঠ, প্রতিটি নিদর্শন
রাওনাট আদর্শ উচ্চ বিদ্যা নিকেনের দেওয়ালে লেগে রইল।
আজ বিদায়ের মূহূর্তে হৃদয় ভারী,
চোখে অশ্রু ঝরে, নিঃশব্দ বেদনা বাতাসে ভেসে যায়।

সকলের প্রার্থনা… সুস্হ থাকুন…
নেক হায়াত কামনা করি… শান্তি, বরকত ভরে থাকুক।

আপনার পদচিহ্ন রয়ে গেছে চিরন্তন,
আপনার শিক্ষা বয়ে যাবে ছায়ার মতো, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে।
আজ বিদায়… কিন্তু ভালোবাসা চিরন্তন।
প্রত্যেকটি হাসি, প্রতিটি শিক্ষা রাওনাট আদর্শ উচ্চ বিদ্যা নিকেনের আলো।

আমাদের পথ আলোকিত, আমাদের স্মৃতি চিরন্তন,
আপনার ভালোবাসা, আপনার নিঃশেষ দৃষ্টি আমাদের সঙ্গে।

বিদায়ের অশ্রু ঝরে, প্রাঙ্গণ নীরব,
জনাব আব্দুর রউফ, আপনি রাওনাট আদর্শ উচ্চ বিদ্যা নিকেনের চিরন্তন শিক্ষক।
প্রতিটি শ্বাস, প্রতিটি নিঃশব্দ মুহূর্ত
আজও বয়ে যায় রাওনাট আদর্শ উচ্চ বিদ্যা নিকেনে।

বিদায়ের ঘণ্টা বাজছে, হৃদয় জানে,
আপনি রাওনাট আদর্শ উচ্চ বিদ্যা নিকেনের আত্মা হয়ে থাকবেন চিরকাল।
------------------------------------------------------------


১২-০১-২০২৬

শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধান

 শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধান

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর
******************************************

শিক্ষকতা জীবনের বড় স্বীকৃতি—নামটি যে দীপ্তিমান,
জনাব মোবারক প্রধান—শিক্ষায় এক অনন্য দিগন্তজ্ঞান।
রাওনাট আদর্শ উচ্চ বিদ্যা নিকেতনের স্মৃতির পাতায়,
আজও লেখা থাকে তাঁর নীতি, আদর্শ, আলোছায়ায়।

আজ ফুলবাড়ীয় হাই স্কুলে তিনি আলোকিত সূর্য,
অজ্ঞতার অন্ধকার ভেঙে গড়েন জ্ঞানের দুর্গ।
শিক্ষিত ও মার্জিত—চরিত্রে যার শুদ্ধতা,
বাক্যে কর্মে মিল খুঁজে পায় মানবিক সভ্যতা।

তিনি শিক্ষক নন কেবল—তিনি মূল্যবোধের পাঠ,
শাসনে নেই অহংকার, আছে স্নেহের প্রহরী হাত।
ভুলে তিনি তিরস্কার নয়, দেখান সংশোধনের পথ,
মানুষ গড়াই তাঁর সাধনা, সাফল্য তাঁর ব্রত।

ছাত্রদের চোখে তিনি আশ্রয়, স্বপ্নের দৃঢ় ভর,
ঝড়ের দিনে বাতিঘর, নীরবে শক্ত অবলম্বন-ঘর।
সহকর্মীর কাছে তিনি সম্মানের নির্ভর নাম,
সহজতায় বড় মানুষ—এটাই তাঁর পরিমাপ।

প্রশাসনে শৃঙ্খলা তাঁর ন্যায়নীতির সমাহার,
মানবতায় উচ্চতম—সেখানেই তাঁর অধিকার।
প্রতিষ্ঠান নয়, মানুষই তাঁর সাধনার কেন্দ্রবিন্দু,
সেই মানুষ গড়েই তিনি হন সময়ের চিরসিন্ধু।

এই পৃথিবী সাক্ষী থাক, ইতিহাস লেখুক গান,
জনাব মোবারক প্রধান—শিক্ষায় এক জীবন্ত উপমান।
শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধান—উপাধি নয়, পরিচয়,
আদর্শ হয়ে থাকুক তিনি—যতদিন শিক্ষা রয়।
-------------------------------------------------------


১২-০১-২০২৬

বন্ধুর চুল সাদা

 বন্ধুর চুল সাদা

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
******************************************

অবুঝ শিশুর খেলে-গেলে দিন,
হাসি ভরা চোখে জীবন ছিল মধুর রিন।
শৈশবের বালুকা মাঠে পাখি গান গায়,
বন্ধু মাহমুদ হাসান আরিফ সেখানে স্বপ্ন বুনে যায়।

কৌশরের বেলা এসেছে হঠাৎ,
মন ভরলো চিন্তা, স্বপ্ন হলো কঠিন।
যুবকের যৌবন উজ্জ্বল, দীপ্তি চোখে জ্বলে,
স্বপ্নের আকাশে হাত বাড়িয়ে সে উড়তে চায়, মুক্তি খোঁজে।

বৃদ্ধ বয়সে ধীরে ধীরে চুল হলো সাদা,
চামড়া কুচকো, শক্তি চলে দূরে কাদা।
যৌবনের উদ্দীপনা আজ অতীতের গান,
দুর্বল হয়ে গেছে দেহ, কিন্তু হৃদয় রয়ে গেছে মান।

জীবন অবসানে সে দাঁড়ায় একা নয়,
প্রভুর স্মরণে হৃদয় ভরে পূর্ণ ত্রয়।
মৃত্যু তো একটি পথ, শিক্ষা হয়ে যায়,
ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে জীবন রঙিন হয় আবার নতুন ঢঙে সাজায়।

আল্লাহ যেন বন্ধুকে দীর্ঘ হায়াৎ দান করেন,
প্রভুর পথে চলা, সকল বন্ধুর মন ভরে আনন্দে।
বন্ধুর চুল সাদা, কিন্তু হৃদয় তরুণ,
জীবনের প্রতিটি ধাপ যেন হোক আলোর দূরন্ত স্রোতগুণ।
----------------------------------------------


১২-০১-২০২৬

মিষ্টির আড়ালে তিতো

 মিষ্টির আড়ালে তিতো

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**************************************

দিকে দিকে জনতাকে খাওয়ানো হয়
মধুর হাসির মোড়কে লুকোনো তিতো বিষ—
মুখে মিষ্টি বুলি, অন্তরে ছলনার আগুন,
ছদ্মবেশী মোনাফেক, চিনতে পারে না মূর্খ জনতা তখন।

ক্ষমতা পাওয়ার আগে ওরা চিনি মাখা কথা,
ক্ষমতা পেলে বদলায় স্বাদ—হয়ে ওঠে নির্মম তিতা,
প্রতিশ্রুতির ফুল ঝরে পড়ে কাঁটায়,
নিষ্ঠুর অত্যাচারে রেহাই পায় না কেউই আর।

ওরা গণতন্ত্রের শত্রু,
স্বাধীন বাংলাদেশের বিরোধী ছায়া,
স্বাধীনতা ওদের কাছে বোঝা,
তাই ইতিহাস মুছতে চায়—মুক্তিযুদ্ধের দীপ্ত মায়া।

ধর্মকে ওরা বানায় পণ্যের বাজার,
ইমানের দামে কেনাবেচা চলে নির্লজ্জ কারবার,
ধর্মের নামে ছড়ায় উগ্রতার বিষবাষ্প,
ভীরু মুসলিমকে দেয় বিকৃত, ভ্রান্ত বার্তা।

ক্ষমার মুখোশে লোভের দাঁত,
মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষকে করে অপমানিত,
লাল-সবুজ পতাকা পায় পদধূলি,
জাতির গৌরব হয় লাঞ্ছিত, ক্ষতবিক্ষত।

স্বাধীনতাকামী যোদ্ধাদের মুছে দিতে চায় ইতিহাস থেকে,
ছাত্র-শিক্ষকদের সম্মান করে ধূলিসাৎ এক ঘৃণ্য রেখায়,
জ্ঞান, ত্যাগ, আদর্শ—সবই ওদের চোখে অপরাধ,
কারণ সত্য থাকলে টিকে না ভণ্ডামীর ফাঁদ।

হে বাঙালি, জাগো—আর কত নীরব থাকবে?
মিষ্টির আড়ালে তিতোর এই ছলনা ভাঙতে হবে।
ভণ্ডামীর ঝাণ্ডা গুড়িয়ে দাও ঐক্যের ঝড়ে,
সত্য, স্বাধীনতা আর চেতনাকে রাখো বুকের গভীরে।

এই ডাক—প্রতিবাদের,
এই কাব্য—স্মরণ আর জাগরণের,
যেন আর কখনো
মধুর মুখোশে তিতা শাসন
বাংলার ভাগ্যকে গ্রাস করতে না পারে।
------------------------------------------


১২-০১-২০২৬

মৃতব্যক্তিদের স্মরণে

 মৃতব্যক্তিদের স্মরণে

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
****************************************
আল্লাহু আল্লাহ—ডাকে কবর, জাগো হে ঘুমন্ত প্রাণ,
এক নিঃশ্বাসে নিভে যায় প্রদীপ, থেমে যায় জীবনের গান।
আজ যে বুকে বাতাস বইছে দয়ার রবের দানে,
কাল সে বুকে নীরবতা—তাকদির লেখা জানে।

ওরে নফস, তুই কেন ডুবিস দুনিয়ার মোহে মত্ত?
কাফনের কাপড় বলে দেয়—সব অহংকার মিথ্যা সত্য।
রাজা-ভিখারি এক কাতারে, মাটি সবার ঠিকানা,
আমল ছাড়া সঙ্গে যাবে না ধন-সম্পদ, মান-সম্মানা।

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ—এই হোক শেষ সুর,
এই কালেমার আলোতেই কবর পাবে নূর।
মুনকার-নাকির প্রশ্নে যেন না কাঁপে হৃদয় ভয়ে,
রাব্বি আল্লাহ উচ্চারণে নূর ঝরে পড়ে গায়ে।

কাপাসিয়ার পথে পথে আজ কান্নার ধ্বনি ওঠে,
মৃতদের নাম শুনে শুনে বুক ভেঙে যায় ছোটে।
মৈশন সেন্টুমিয়া স্মৃতি ফাউন্ডেশনের ছায়াতলে,
সিজদাভেজা দোয়ায় আকাশ নুয়ে পড়ে ধরণীতলে।

যিনি জানাজার কাতারে দাঁড়িয়ে শেখান শেষ পাঠ,
হাফিজুল হক চৌধুরী (আইয়ূব)—দোয়ার নীরব সাধক।
প্রতিটি লাশে তিনি দেখেন নিজেরই পরিণাম,
এই শিক্ষা বয়ে আনুক নাজাতের পথ-নিশান।

হে রহমান, হে রহিম—করো দয়া অপরিসীম,
গুনাহে ভরা বান্দাদের তুমি ক্ষমা করো রহীম।
কবর করো জান্নাতের বাগান, আগুনের গর্ত নয়,
হাশরের ময়দানে দিও নবীর পতাকার ছায়া রয়।

হে আল্লাহ, তার এই খেদমত কবুল করে নাও,
মৃত্যু অবধি দ্বীনের পথে চলার তাওফিক দাও।
তার আমলনামা ভরাও সদকায়ে জারিয়ার নূরে,
নবীর শাফায়াতে রাখো নিরাপদ কিয়ামতের ভিড়ে।

আল্লাহু আল্লাহ—এই কান্না তুমি বৃথা করো না,
মৃত আর জীবিত সবাইকে নাজাত দিও হে দয়াময় প্রভু।
যেদিন আমাদের নামও উঠবে জানাজার ডাকে,
তোমার রহমতে গ্রহণ করো—আমিন, ইয়া রব্বাল আলামিন।
-------------------------------------------------------


১২-০১-২০২৬

তোমাকে সংবর্ধনা হে গুণীজন

  কলমেঃ মোহাম্মদ আমিনুল এহছান মোল্লা রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর। ***************************************** তোমাকে সংবর্ধনা হে গুণীজন...