সোমবার, ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬

যা ভেবেছি, যা দেখেছি

 যা ভেবেছি, যা দেখেছি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************************

যা ভেবেছি হৃদয়ে আমি, যা দেখেছি দৃশ্যপটে,
দুই ধারাতে ভাঙন যেন সময়েরই অশ্রু-ঘটে।
স্বপ্ন ছিল রৌদ্রছায়ায় মুক্তির দীপ জ্বালাবো,
এখন দেখি আঁধার নেমে শৃঙ্খলে সব জড়াবো।

রক্তে রাঙা সবুজ মাঠে এঁকেছি যে মানচিত্র,
সেই রেখাতে শকুন নেমে করে বিষের অক্ষরচিত।
মীরজাফরের বংশধরেরা ইতিহাসে ছুরি চালায়,
সত্য যদি মুখে ওঠে কণ্ঠরোধে ভয় জড়ায়।

ভেবেছিলাম গণতন্ত্রে কণ্ঠ হবে মুক্তগান,
এখন দেখি স্বৈর শাসন আঁকে লৌহ-প্রাচীরদান।
ভেবেছিলাম অধিকার সব ন্যায়ের বুকে ফুটবে,
এখন দেখি জুলুম-অত্যাচার রক্তধারা ছুটবে।

ভেবেছিলাম বিপ্লবী সুর জাগবে জাগ্রত প্রাণে,
এখন দেখি ফ্যাসিবাদের ঢাক বাজে অবিরামে।
মুক্ত সমাজ স্বপ্ন ছিল ন্যায়ের দীপশিখা,
এখন দেখি মবের দাপে সত্য থাকে নিঃশ্বাসহীনা।

দখলবাজির দম্ভে ভাঙে মানুষেরই সংলাপ,
ভয়তন্ত্রের কাঁটাতারে জড়ায় বিবেকের প্রতাপ।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনারে টুটি ধরে চাপে হাত,
দেশবিরোধী উল্লাসে আজ বিষাক্ত করে রাত।

দুর্নীতিরা মহড়া দেয় নগর-গ্রাম অলি-গলি,
সততারই লাল দালানে তালা ঝোলে নিরবধি।
দেশপ্রেমিক নির্বাসনে, মুখে তার নির্বাক ক্ষত,
স্বার্থঘোড়া ছুটে চলে লাগামহীন, উন্মত্ত।

যা ভেবেছি তা ছিল আলো, মুক্ত আকাশ বিস্তার,
যা দেখেছি তা কেবলই আঁধার ঘেরা অগ্নিঝড়।
তবু কবি কলম ধরে, রুদ্ধ হলেও রবে,
সত্যের বীজ রোপণ করে রক্তমাটির গভীরে।

কারণ জানি ইতিহাসে শকুন টেকে না চিরকাল,
রৌদ্র ফুঁড়ে জাগবেই আবার সবুজ প্রভাতের জ্বলাল।
যা ভেবেছি, যা দেখেছি মিলবে কোনো এক ক্ষণে—
মানুষ জাগলে মুক্তির গান উঠবেই পুনর্জনে।
--------------------------------------------------


১৬-০২-২০২৬

ইনসাফের প্রতীক হতে এসেছি

 ইনসাফের প্রতীক হতে এসেছি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
******************************************

আমি এসেছি—
কলমের আগুন হাতে, বিবেকের দীপ জ্বেলে,
শোষিতের শপথ নিয়ে বুকের অন্তরস্থলে।
আমি এসেছি জনতার জাগরণ-ধ্বনি হয়ে,
অন্যায়ের প্রাচীর ভাঙা বজ্রকণ্ঠ বয়ে।

কবি হয়ে শুনেছি আমি নীরব কান্নার সুর,
লাঞ্ছিতের রক্তিম বেদনা, দীর্ঘশ্বাস ভরপুর।
নেতা হয়ে দাঁড়িয়েছি পথের মোড়ে মোড়ে,
শপথ নিয়েছি সত্য রাখিব প্রাণের ঘোরে।

ভোটের প্রার্থনায় নয় ছিল কপট ভাষণ,
ছিল কেবল মুক্ত আকাশে সমতার আহ্বান।
জনমঞ্চে উঠি যখন জনতার হাত ধরে,
বিজয়ের মালা ঝরে পড়ে কৃষকের ঘামে ভরে।

এই দেশ রক্তে লেখা—
শহীদের দীপ্ত শপথ অগ্নিস্নাত প্রভাত,
স্বাধীনতার লাল সূর্য জ্বলে অনির্বাণ রাত।
আমি তার প্রহরী আজ ন্যায়ের নির্ভীক ঢাল,
ইনসাফের তরবারি হাতে অন্যায়ের কাল।

পুরোনো অগণতান্ত্রিক শৃঙ্খল করিব চূর্ণ,
স্বচ্ছতার স্রোতে ধুইব রাজনীতির মলিন বর্ণ।
ক্ষমতার আসনে নয় আমার অহংকার,
জনতার অশ্রুজলে ধোয়া আমার অঙ্গিকার।

আমি সংসদের প্রতিনিধি, তবু আগে সন্তান,
এই মাটির ঘ্রাণে গড়া আমার পরিচয় জ্ঞান।
আইনের শাসন হোক সমতার সমান দীপ,
দুর্নীতির আঁধার ভেদি উঠুক নৈতিক সিপ।

ক্ষুধার্তের থালায় অন্ন, শিক্ষায় আলোকরেখা,
শ্রমিকের ঘামে ফুটুক সম্মানের স্বর্ণলেখা।
নারীর চোখে নিরাপদ ভোরের নির্মল গান,
যুবকের স্বপ্নে জাগুক উন্নয়নের মহান।

দেশপ্রেম আমার রক্তে, নয় কেবল বুলি,
বিবেকের মসজিদে করি শুদ্ধতারই কুলি।
আমি প্রমাণ চাই না কালের কাছে আর,
জনতার হৃদয়ই হোক আমার রায়দ্বার।

আমি কবি—তাই লিখি আগুনের উচ্চারণ,
আমি নেতা—তাই গড়ি ন্যায়ের নতুন ভুবন।
আমি জনতার এমপি—এ আমার শপথবাণী,
ইনসাফের প্রতীক হয়ে থাকিব চিরকাল প্রাণী।

আরো দীপ্ত, আরো তেজস্বী, আরো স্বচ্ছ রবে—
আমার পথ চলা হবে জনগণেরই সবে।
------------------------------------------


১৬-০২-২০২৬

কবির ভাবনা

 কবির ভাবনা

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর
***************************************

নৈঃশব্দ নীলিমা-মাখা শ্যামল প্রান্তরে বসে,
কবি চেয়ে থাকে দূরে গোধূলি আলোর রসে।
রূপসী এ বাংলার রূপ কত অপরূপ—
শিউলি-ঝরা ভোরে যেন স্বপ্নেরই প্রতিরূপ।

সবুজ ধানের ক্ষেতে দোলে সোনালি বাতাস,
নদীর বুকে জাগে নীরব চাঁদের সুবাস।
কিন্তু মানুষের মন কি ততটাই শুভ্র?
পূর্ণিমার চাঁদের মতো নির্মল, নির্ভ্রান্ত, সুব্র?

নাকি অন্তরালে আঁকা গোপন কোনো দাগ,
মুনাফিকের ছায়া রেখে গেছে কালো ফাঁদ?
হৃদয়ের গভীরে কি স্বার্থের শীতল বাসা,
ভালোবাসার আড়ালে লুকায় প্রতারণা-ভাষা?

দেশটার দিকে চেয়ে কবি ভাবে চুপে,
অদ্ভুত এ সময় কেন আঁধারে ডুবে?
দেশপ্রেমের শূন্যতা কেন বুকে বাজে,
দেশবিরোধীর বিষ কেন চারিধারে সাজে?

সম্মানের সম্মানহানি দেখে লজ্জা জাগে,
মানবতার কণ্ঠরোধ শৃঙ্খলেরই ফাঁকে।
ফ্যাসিবাদী হুঙ্কার, স্বৈরাচারের ছায়া,
স্বাধীনতার আকাশ ঢাকে কালো মেঘমালা।

বেকার তরুণ চোখে অনিশ্চিতের ভয়,
বৈষম্যের প্রাচীরে বন্দি স্বপ্নময় ক্ষয়।
শ্রমিকের ঘামে লেখা অন্নহীন গান,
কৃষকের করুণ সুরে ঝরে অবমান।

জেল-জুলুম-হুলিয়ার ভয়ে স্তব্ধ পথ,
ধর্মীয় উগ্রতায় জ্বলে বিভেদের রথ।
স্বেচ্ছাচারী ক্ষমতা হাসে নিষ্ঠুর মুখে,
ন্যায়ের দীপ নিভে যায় অবহেলার দুঃখে।

যত রূপ বৈষম্যের ছায়া দেশে রয়,
অন্নে, বর্ণে, ধর্মে—বিভক্ত মানবময়।
কবি দেখে সবই, তবু নীরব নয় প্রাণ,
অন্তরে জাগে তার বিদ্রোহী আহ্বান।

এই নৈরাজ্য ভেঙে চাই সমতার ভোর,
স্বাধীনতার সূর্য উঠুক নবকিরণ ঘোর।
লাল-সবুজ পতাকায় জাগুক সত্যের মান,
শহীদের রক্তে লেখা হোক নব সম্মান।

কবি তাই স্বপ্ন দেখে মুক্ত আকাশ তলে,
মানুষ মানুষ হবে ভালোবাসার ছলে।
অন্যায়-অন্ধকার যাবে দূরে ক্ষয়ে—
বাংলার প্রাণ জাগুক সাম্যের অভিযয়ে।

রূপসী এ বাংলার রূপ তখন পূর্ণ হবে,
মানবতার দীপশিখা হৃদয়ে জ্বলে রবে।
কবির ভারাক্রান্ত মন পাবে শান্তি ধীর—
স্বাধীন, সমান দেশে জাগুক নব নীর।
--------------------------------------------------------


১৬-০২-২০২৬

সবার আগে বাংলাদেশ

 সবার আগে বাংলাদেশ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**************************************

ওহে শুনো—
এই যে মানচিত্র, এ শুধু মাটি নয়, এ রক্তের দলিল,
লক্ষ শহীদের শপথে লেখা অগ্নি-অক্ষর শশীল।
মা-বোনের অশ্রুতে ধোয়া সম্ভ্রমহারা রাত,
সে রাত ভেদ করে উঠেছে স্বাধীনতার প্রভাত।

যে দেশ পেয়েছি আমি প্রাণের বিনিময়ে,
যে দেশ পেয়েছি দগ্ধ হৃদয়, রণ-ডাকের শিরায় শিরায়,
সে দেশ কোনো দয়ার দান নয়, কোনো করুণা-খণ্ড নয়—
সে দেশ অগ্নিযজ্ঞে গড়া, সে দেশ বিজয়ের জয়।

আমি বলি—
মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান একই কাতারে দাঁড়াক,
পাহাড়-উঁচু, নদী-সমতল এক পতাকাতে জাগুক।
সাম্য হবে সংবিধানের শপথ-জ্বালা দীপ্ত,
সম্প্রীতি হবে রাষ্ট্রের প্রাণ, বৈষম্য হবে নিঃশেষ লিপ্ত।

জনতা চায় গণতন্ত্র, চায় সমান অধিকার,
চায় ধর্ম পালনের স্বাধীনতা নির্ভার।
কোনো হানাহানি নয়, নয় বিভেদের শাসন—
মানবতার ভিত্তিতে গড়ুক ন্যায়ের প্রশাসন।

বাঙালির সংস্কৃতি থাকবে অমল দীপশিখা হয়ে,
ভাষার গৌরব উঠুক আবার অগ্নি-প্রভা বয়ে।
বাঙালির ভাষা, বাঙালির গান, বাঙালির সংস্কার—
রক্তে লেখা ইতিহাস হোক প্রজন্মের উচ্চার।


মুক্তিযুদ্ধ কেবল ইতিহাস নয়—এ জীবন্ত শপথ,
প্রতিটি প্রজন্মে জ্বলুক সে অগ্নি, হোক অটল রথ।
স্বাধীনতার চেতনা হবে রাষ্ট্রের মর্মস্থল,
যে চেতনা বিরোধী দাঁড়ায়—তার স্থান হবে বিকল।

বহুমত থাকবে, বহুপথ থাকবে, বহু দর্শনের দল,
কিন্তু জাতীয় স্বার্থে সবাই হবে একতল।
ব্যক্তির চেয়ে দল বড়—এ কথা আংশিক সত্য,
দলের চেয়ে দেশ মহান—এই চিরন্তন নিত্য।

সব নাগরিক গাইবে সোনার বাংলার গান,
লাল-সবুজ আঁকড়ে রাখবে রক্তে রঞ্জিত প্রাণ।
কেউ কণ্ঠরোধ করবে না, বাকস্বাধীনতা দীপ্ত,
কিন্তু দেশবিরোধী বিষবাষ্প হবে চিরনিষ্ক্রিয় লিপ্ত।

ওহে শুনো—
স্বাধীনতা-বিরোধীর এ মাটিতে অধিকার নাই,
অনৈতিকতার অন্ধকারে কোনো আশ্রয় নাই।
বিপ্লব মানে ধ্বংস নয়, বিপ্লব মানে নির্মাণ—
ন্যায় ও সাম্যের ভিত্তিতে গড়া এক মহান স্থান।

তুমি কি ধারণ করো অন্তরে স্বাধীন বাংলাদেশের মান?
তুমি কি রাখো মুক্তিযুদ্ধের চেতনা অবিচল প্রাণ?
যদি রাখো—তোমাকেই স্যালুট, তুমি অগ্রসেনা আজ,
তোমার শিরায় জাগুক দেশপ্রেম, বজ্র-প্রতিজ্ঞার সাজ।

জাতীয় ঐক্যে জাগুক নব অগ্নি-অভিযান,
বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গড়ি, হোক ন্যায়-প্রতিষ্ঠান।
লক্ষ শহীদের রক্তের ঋণ শোধ হবে কর্মে,
সবার আগে বাংলাদেশ—এই শপথ অন্তর্মর্মে।

প্রচণ্ড দেশপ্রেমে, প্রচণ্ড বিপ্লবী বাণীতে—
ঘোষণা করি বজ্রস্বরে, রণ-ডাকের টানেতে—
ব্যক্তি নয়, দল নয়, স্বার্থ নয় কোনো বিশেষ—
সবার আগে বাংলাদেশ, বাংলাদেশ, বাংলাদেশ!


১৬-০২-২০২৬

রবিবার, ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬

সু-স্বাগতম হে নবসূর্য

 সু-স্বাগতম হে নবসূর্য

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*****************************************

সু-স্বাগতম হে নবসূর্য, অরুণ রক্তিম দীপ,
অন্ধকারে ডুবে থাকা জাতির জাগাও নীপ।
স্বাধীনতার শপথ ভাঙা ক্ষত-বিক্ষত প্রাণ,
তোমার রবি-রথে চেপে উঠুক জাগ্রত গান।

হে নবসূর্য! দূর করো যত গ্লানির ধূম্রজাল,
হিংসা-বিদ্বেষ দহন-ছাই, অপমানের জ্বাল।
লুটেরাদের রক্তচক্ষু, গুমের কালো রাত,
বজ্রকণ্ঠে ভাঙো তুমি অন্যায়ের প্রাসাদ।

প্রতিষ্ঠিত হোক জনতার অধিকার অম্লান,
গণতন্ত্রের দীপ জ্বালো প্রতিটি ঘরে প্রাণ।
রাজা-প্রজার বৈষম্যের বিষদাঁত কর ক্ষয়,
সাম্যের শঙ্খ বাজাও হে—ভয়কে করো ভয়।

বলো তুমি জনতার, বলো বজ্রহুঙ্কার,
দেশবিরোধী চক্র শোনুক রুদ্র-অগ্নিঝড়।
লাল-সবুজের অমৃতগান গাও সাম্যের তান,
বাঙালির বুকের মাঝে জ্বালো মুক্তি-ধ্যান।

বলো তুমি ফ্যাসিবাদ নও, নও জালেম শাসক,
নও অত্যাচারী রাত্রি, নও রক্ত-নির্বাসক।
দল-মত পেরিয়ে হও সকল প্রাণের ছায়া,
স্বাধীনতার অতন্দ্র প্রহরী, ন্যায়-মহিমায় মায়া।

স্বদেশ-মাতার পবিত্র শপথ রেখো মনে,
তোমার ছিল না কিছুই—দিয়েছ আপন রণে।
মুক্তির তরে দগ্ধ হলে, রক্ষার তরে জ্বালো,
আজ সে অগ্নি অমর করো ন্যায়ের শুভ্র আলো।

তুমি হেরে গেলে হেরে যায় জাতির অঙ্গীকার,
দেশবিরোধী ঘোর আঁধারে নামে সর্বনাশের ভার।
তাই শত্রুতা ভুলো হে, ঐক্যের ডাক দাও,
মুক্তির মন্ত্রে দীপ্ত শপথে আগুন-শপথ গাও।

এই যে অন্ধকার জাতি চেয়ে আছে পথ,
তোমার দিকে প্রসারিত প্রার্থনারই রথ।
শুভ্র আলো দাও নবসূর্য, দাও মুক্তির দান,
কলঙ্কহীন হোক আগামী, জাগুক নূতন প্রাণ।

দীর্ঘায়ু হও করুণাধার রবের রহমতে,
ন্যায়-ধ্বজা ওড়ে নির্ভীক শাসনের মহিমাতে।
সু-স্বাগতম হে নবসূর্য, জাগো জাগাও দেশ—
চিরউজ্জ্বল হোক ভোর, মুছে যাক সব ক্লেশ।
----------------------------------------------------


১৫-০২-২০২৬

কেন এ পরাজয়?

 কেন এ পরাজয়?

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**************************************

জাতি যখন স্বাধীনতার মন্ত্রে ঐক্যবদ্ধ,
লাল-সবুজ অগ্নিশিখা আকাশজুড়ে জ্বলে,
তখন কেন হে নেতা, তোমার শিবির নিস্তব্ধ?
কেন পরাজয়ের ঢেউ আঘাত হানে তলে?

যেখানে ছিল জনতার অটল অঙ্গীকার,
রক্তে লেখা ইতিহাস, শপথের দীপ্ত গান,
সেখানে কেন ভেঙে গেলে হঠাৎ অহংকার?
কেন হেরে গেলে তুমি বিজয়েরই প্রাঙ্গণ?

তুমি কি দেখনি অন্তরে জমা ক্ষতচিহ্ন,
অভিমানী মানুষের স্তব্ধ উচ্চারণ?
তোমার কর্মী ছিল লাগামহীন উন্মত্ত অশ্ব,
শৃঙ্খলার পথ ছেড়ে বিভ্রান্ত অভিযানে গমন।

কখনো হিংস্র হায়েনার উল্লাসী হাসি,
কখনো বিষধর সাপের নিঃশব্দ দংশন,
কখনো বিশ্বাসঘাতী অন্ধকারের ফাঁসি,
কখনো মীর জাফরের পুনর্জাগরিত স্পন্দন।

চাঁদাবাজির কালো হাত উঠেছে নির্ভয়ে,
সন্ত্রাসের ভাষা কাঁপিয়েছে পাড়া-গাঁ,
অপমানের আগুন জ্বলেছে প্রত্যহ ক্ষয়ে,
দম্ভের বিষে ভরেছে তোমাদের আসনটা।

সৌজন্যের শিখা নিভেছে ধূলির স্তূপে,
মানুষের চোখে জমেছে ক্রোধের মেঘ,
নীরব রায় লেখা হয়েছে গোপন রূপে,
ভোটের বাক্সে নেমেছে প্রতিশোধের রেখ।

তুমি ভেবেছ শক্তি কেবল স্লোগানের ঝড়,
ভেবেছ জনতা চিরদিন সহিবে অবমান,
কিন্তু মানুষ চায় ন্যায়, চায় মর্যাদার ভোর,
চায় নিরাপদ পথ, স্বচ্ছ শাসনবাণ।

অন্যায়ের ভারে নত হয়েছে পতাকা,
অহংকারে ভেঙেছে শপথের প্রাচীর,
কর্মীর দোষে ডুবেছে তোমারই নৌকা,
বিপথগামী স্রোতে হয়েছে অধীর।

এই পরাজয় আকস্মিক নয়, নয় ভাগ্যের খেলা,
দীর্ঘ অবহেলার ফল আজ দৃশ্যমান;
যে শিবিরে চরিত্রহীনতার ছিল মেলা,
সে শিবির হারায় জনগণের সম্মান।

হে নেতা, যদি চাও পুনরুত্থান,
শুদ্ধ করো কর্মী, শুদ্ধ করো প্রাণ,
স্বাধীনতার মন্ত্রে ফের গড়ো সংগঠন,
তবেই ফিরিবে তোমার হারানো সম্মান।
---------------------------------------------


১৫-০২-২০২৬

মুক্তির চেতনা কভু মরে না

 মুক্তির চেতনা কভু মরে না

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
****************************************

শুনো হে দেশদ্রোহী! শুনো হে দেশবিরোধী শকুন-দল,
মুক্তির অগ্নি নিভে না কভু—সে অমর অক্ষয় জ্বল!
যে অর্জন রণাঙ্গনে রক্তে লেখা ইতিহাস,
যে অর্জন মা-বোনের অশ্রুতে পবিত্র বিশ্বাস—
সে চেতনা কভু মরে না, সে জাগে বজ্রগর্জনে,
সে জাগে প্রলয়-ডাকে, অগ্নি-শপথের সর্জনে!

যে পতাকা রক্ত-রাঙা, তাজা প্রাণের দান,
সে পতাকা নত হয় না কভু অত্যাচারী শ্মশান।
সে লাল-সবুজ দীপ্যমান শহীদের রক্তধারায়,
সে জ্বলে সূর্যসম প্রখর মুক্তির অহংকারায়।

আমি স্বাধীনতার উত্তরসূরী, শপথে দীপ্ত প্রাণ,
আমি প্রলঙ্করী বিদ্রোহ-সুর, আমি অগ্নি-বাণ!
আমি বিপ্লবী চেতনার সন্তান, রণতূর্য ধ্বনি,
আমি মুক্তিযোদ্ধার উত্তরাধিকার—অবিনাশী ধনী!

আমি এ যুদ্ধের ধারক-বাহক, ইতিহাসের কণ্ঠ,
আমি লাল-সবুজ পতাকার প্রহরী, অমিত শক্ত!
এ মাটিতে জাগতে পারবে না কভু দোসর-দল,
দেশদ্রোহীর চেলা-চামুণ্ডা হবে চূর্ণ-বিচূর্ণ টলমল!

জনতার রায় অক্ষয়, সে রায় বজ্রসম দৃঢ়,
স্বাধীনতার পক্ষে সে শপথ অটল, অমোঘ, অক্ষর।
যত শকুন ওঁত পেতে থাক, আঁধারে যতই হাসুক,
জনতার ঝড়ে তারা পরাভূত হোক, ভস্মে নাশুক!

কেয়ামত পর্যন্ত এই শপথ অম্লান রবে,
জনতার ভোট স্বাধীনতার পক্ষে অটুট থাকবে।
মুক্তির চেতনা কভু মরে না—সে অগ্নি-উদ্ভাস,
বাংলার বুকে সে চিরঞ্জীব, সে চির-উল্লাস!
-------------------------------------------------------


১৫-০২-২০২৬

বসন্তের প্রভাত

 বসন্তের প্রভাত

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*************************************

বসন্তের প্রভাতে রঙিন রৌদ্র ঝরে ধীরে,
স্বর্ণালি আলোর মালা পরে ধরণী হাসে নীরে।
পলাশ জ্বালে অগ্নিশিখা দিগন্ত-জুড়া বনে,
শিমুল-রাঙা স্বপ্ন জাগে কিশোরী আকাশ-তনে।

কোকিল কণ্ঠে ব্যাকুল সুর—“এসো প্রিয়, এসো”,
মধুবায়ুতে দোলে প্রেম, হৃদয় কাঁপে রেশে।
বকুল-চাঁপার গন্ধ ভাসে অবগুণ্ঠিত ঘ্রাণে,
রৌদ্র যেন চুম্বন আঁকে কুসুমেরই টানে।

সবুজ পাতায় রোদের নাচন সোনালি ঝংকার,
নীল গগনে ভাসে মেঘের তুলোর মত আদর।
বাংলার এই বসন্ত-ভোরে মাটির দেহে শিহরণ,
নদীর জলে প্রেমের ভাষা, ঢেউয়ে গোপন স্পন্দন।

তোমার চোখে বসন্ত নামে কিশলয়ের ছায়া,
ঠোঁটে ফোটে কুসুম-হাসি, রঙিন মায়ার মায়া।
হাতে হাত রেখে হাঁটি আমরা শিউলি-পথের শেষে,
বাতাস এসে চুলে লিখে অঙ্গীকারের দেশে।

তোমার কানে কোকিল ডাকে মধুর আকুলতায়,
আমার বুকে দোলে ঢেউ অশ্রুমাখা প্রার্থনায়।
প্রেম যেন এ ঋতুর মত নবজাগ্রত প্রাণ,
রাঙা পলাশ-শিমুল হয়ে জ্বলে অনিবার্য ত্রাণ।

বসন্ত মানে হৃদয়-দ্বারে উন্মুক্ত আলাপন,
দুইটি প্রাণের নিভৃত সুরে গোপন সমর্পণ।
প্রকৃতির এই নৈঃস্বর্গে প্রেম পায় পূর্ণতা—
বাংলার বসন্ত-প্রভাত—চির রোমান্টিক ব্যাকুলতা।
----------------------------------------------------


১৫-০২-২০২৬

তোমাকে স্যালুট হে মুক্তিযুদ্ধের কবি

 তোমাকে স্যালুট হে মুক্তিযুদ্ধের কবি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**********************************************
তোমাকে স্যালুট হে মুক্তিযুদ্ধের কবি,
বিদ্রোহের আগুনে তুমি আলোকিত প্রতিভা।
বীরত্বের রূপসী ছন্দে বাজে চিরন্তন গান,
লাল-সবুজের রক্তে সেজে ওঠে দেশের মান।

নিঃসন্দেহ সাহসে তুমি রাজনীতির সাহিত্য,
মাতৃভূমির প্রেমে জ্বলে হৃদয় অমল দীপ্তি।
শহীদদের রক্তে লেখা তোমার বীরত্বগাথা,
মায়ের আর্তচিৎকারে ছাপিয়ে যায় সম্ভ্রমের পথচিহ্ন।

অঙ্গীকার দৃঢ়, বজ্র কণ্ঠে তুমি ডাকো,
আপোষহীন প্রহরী লাল-সবুজের রূপকার।
প্রজন্মের চেতনায় জাগ্রত তুমি চিরকাল,
স্বাধীনতার পক্ষে শক্তি তোমার অপরাজেয় ভঙ্গিমা।

প্রতিটি ফুল—শ্যামল শিমুল, পলাশ, বকুল,
ভেসে ওঠে লাল-সবুজের দীপ্ত আভা।
একটি দেশের হৃদয়, শহীদদের রক্তে রাঙানো,
বীরত্ত্বের চির উপমা তুমি প্রজন্মের চোখে উজ্জ্বল মান।

অভিমানের শিখা জ্বলে লাল-সবুজের প্রতীকে,
একতার ছায়ায় স্বাধীনতার দীপ্তি জাগ্রত হোক দিকতে।
তোমাকে স্যালুট হে মুক্তিযুদ্ধের কবি,
বীরযোদ্ধা ফজলুর রহমান, চিরন্তন বীরত্বে অমলিন ছবি।
--------------------------------------------------


১৫-০২-২০২৬

ভাওয়াল রত্ন

 ভাওয়াল রত্ন

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**************************************


ভাওয়ালের গড়ে জন্মে, জ্ঞানের দীপশিখা জ্বলে,
জনাব নুরুল ইসলাম , জ্ঞানভুবন ঢলে।
প্রধান শিক্ষক, সাহিত্যিক, ইংরেজীর পন্ডিত,
অনলবর্ষী বক্তা, মননশীল প্রতিভাবিত।

গাজীপুরের মাঠে, সবুজ চত্ত্বরে খেলে,
ক্ষণজন্মা জ্ঞানের দীপ, অমৃতস্বরূপ বেলি।
কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ, ভাষার পূর্ণ ভাণ্ডার,
উপমা, দর্শন, সৌন্দর্য—সকলের অন্তরে বেয়ার।

অবদান তাঁর গভীর, ইতিহাসে লিখিত রেখা,
শিক্ষার আলো ছড়িয়ে, অন্ধকার ভেদে মেখা।
আজ নেই তিনি, কিন্তু কৃতিত্ব প্রবাহমান,
মহান রবের দরবারে করি প্রার্থনা ধ্রুবমান।

জান্নাতুল ফেরদৌস হোক তার শান্তির ঠিকানা,
স্মৃতির চিরস্রোতে ভাসে তাঁর গৌরবের ব্যথা।
ভাওয়ালের রত্ন, গাজীপুরের গর্বের প্রাণ,
আবেগে, গানে, কবিতায়—চিরন্তন স্মৃতির মান।

অন্তরবৃত্তে বাঁধা, শ্রদ্ধা ও শ্রেষ্ঠত্বের ধ্বনি,
পাঠক বিমোহিত হয়, হৃদয়ে জ্বলে অম্লাননি।
শোক আর গর্ব মিলিয়ে, স্মৃতির অমল নদীতে,
জনাব নুরুল ইসলাম , গাজীপুরের চিরন্তন বীটে।
-----------------------------------------------


১৫-০২-২০২৬

Student

  কবি মোহাম্মদ আমিনুল এহছান মোল্লা। রাওনাট , কাপাসিয়া , গাজীপুর। ************************************** জাগো রে ছাত্র ! জাগো রে...