মঙ্গলবার, মে ০৫, ২০২৬

তুমিও রাখোনি কথা

 তুমিও রাখোনি কথা

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
************************************
তুমিও রাখোনি কথা! তুমিও সেই পুরোনো শোষক বেশে—
ফ্যাসিষ্টের বিষদাঁত বসিয়েছো আমার এই প্রিয় দেশে।
ভেবেছিলে মুখোশে ঢাকবে তোমার আদিম নগ্ন রূপ?
জনতার চোখে আজ তাই তো জমেছে আগ্নেয়গিরির স্তূপ।

তুমি তো হরণ করলে আমার কথা বলার অধিকার,
গণতন্ত্রকে পিষে মারলে—ওরে ওরে অবিচার!
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়েছ নিজের স্বার্থে বেচে,
ক্ষমতার লোভে দানব সেজেছো ইতিহাসের পিঠে নেচে।

যোগ্য যেখানে উপেক্ষিত, অযোগ্যরা পায় গদি,
তোমার পা চাটা দোসরে ভরেছে প্রশাসনের নদী।
কালো আইন আর দলীয় করণে রুদ্ধ স্বদেশ আজ—
একক ক্ষমতার মসনদে বসে কেন করো কারসাজি?

বিশ্বাস ছিল পাহাড় সমান, দিয়েছিলে তুমি ধোঁকা,
ভেবেছিলে বুঝি এই জনপদ বড্ড বেশি বোকা?
তোমার ও সূর্য মরণ-সূর্য, পতনের ইঙ্গিত—
গণবিক্ষোভে ভেঙে যাবে আজ তোমার মিথ্যে গীত।

সাবধান হও! সাবধান ওরে ক্ষমতার দম্ভী চোর,
আসছে জনতা ভাঙতে তোমার শৃঙ্খল-কালো ঘোর।
--------------------------------------------------------------------- 



২০-০৪-২০২৬

দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি

 দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
----------------------------------------------------
ওরে অবাক পৃথিবী! অবাক করলে তুমি—
দ্রব্য মূল্যবৃদ্ধির যাঁতাকলে পিষ্ট জন্মভূমি।
যেখানে চালের দানা আজ মুক্তোর চেয়ে দামী,
সেখানে ক্ষুধার মিছিলে আমিই অগ্রগামী।

হাজার টাকার নোটগুলো আজ খেলনা কাগজের মতো,
দরিদ্র বুকে এঁকে দিয়ে যায় অনাহারের ক্ষত।
রেশনের লাইনে দাঁড়িয়ে আছে পাংশুটে সব মুখ,
বাজারের ফর্দ দেখে কাঁপে মধ্যবিত্তের বুক।

তেলের শিশিতে আগুন লেগেছে, নুনে লেগেছে বিষ,
শোষকের ঘরে জমা হয় শুধু নোটের অট্টালিকা-স্তূপ।
পুষ্টিহীনতায় কুঁচকে গেছে আগামীর শিশুর গাল,
অভাবেতে আজ বিকিয়ে দিচ্ছে শ্রমিকের কঙ্কাল।

বিদ্যুৎ নেই, গ্যাসও উধাও—জ্বলে শুধু হাহাকার,
মুষ্টিমেয় লোক লুট করে নেয় বেঁচে থাকার অধিকার।
বেকার যুবক খুঁজে মরে কাজ, পেটে জোটে না অন্ন,
শহরের রাস্তায় হন্যে ঘোরে মানুষ—খাদ্যের জন্য।

পণ্যের দাম আকাশছোঁয়া, মানুষের দাম সস্তা,
মরার আগে কি মিলবে না ভাই একমুঠো চালের বস্তা?
প্রয়োজন নেই কবিতার আজ, ক্ষুধার রাজ্যে সব তুচ্ছ—
পূর্ণিমার চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি—অত্যন্ত ক্ষুদ্র।

হে নতুন কাল, হে বিদ্রোহী দিন—আসুক এবার সাম্য,
মূল্যবৃদ্ধির দানব ঘুচিয়ে অন্নই হোক একমাত্র কাম্য!
--------------------------------------------------------- 


২০-০৪-২০২৬

জনতার টুটি টিপিয়া ধরেছে

 জনতার টুটি টিপিয়া ধরেছে

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************
জাগো রে সর্বহারা! দেখ্ রে চাহিয়া নয়ন মেলি’,
জনতার টুটি টিপিয়া ধরেছে শোষণের হাত মেলি’!
মসনদ আজ কণ্টক-হীন, নাই রে মায়ার লেশ,
ভন্ড কান্ডারী লুটিয়া পুড়িয়া ছারখার করে দেশ।

যারে ভাবিলি কাণ্ডারী তোদের, সেই তো জল্লাদ,
গণতন্ত্রের লাশ ফেলে আজ গাহিছে সে উন্মাদ!
জ্বলে না রে চুলো, ঘুটঘুটে আঁধার ঘরে ঘরে আজো বাজে,
তেল-গ্যাস নাই, হাহাকার শুধু মধ্যবিত্তের লাজে!

সিন্ডিকেট ঐ রাক্ষস দল গিলিয়াছে সব রুটি,
পয়সার জোরে জনতা-ভাগ্য করিছে লুটোপুটি।
লাইনের পর লাইনে দাঁড়ায়ে মরে রে অভাগা চাষী,
আর রাজপ্রাসাদে পিশাচেরা আজ হাসে রে অট্টহাসি!

বাচাল বেজন্মা তাবেদার দল ঘিরেছে রাজার পাশ,
মিথ্যা বুলিতে ভুলিয়ে জনতা গড়ে আজ নিজ ফাঁস!
ইতিহাস করি’ বিকৃত আজ সাজাইছে নব সাজ,
একনায়কের বজ্র মুঠিতে টুঁটি ফাটছে আজ।

কথা রাখেনি কান্ডারী তোর— সে যে এক ফ্যাসিষ্ট,
স্বৈরাচারের রক্তে রাঙানো তাহার প্রতিটি ইষ্ট!
ওরে ওরে মূঢ়! আর কতকাল সহিবি এ অবিচার?
মৌন থাকিলে লুণ্ঠিত হবে ভিটা-মাটি তোর সবাকার।

কান্ডারীবিহীন তরী আজ মোর টলমল মাঝ-নদে,
বিপ্লব-ঝড়ে রুখিতে হবে ঐ পাষণ্ডকে মসনদে!
টুটুক আগল, খুলুক আগল— জাগো রে রুদ্র রোষে,
তৈরী হ’ আজ শোষকের ঐ টুটি চেপে ধরি’ কষে!
--------------------------------------------------- 



২০-০৪-২০২৬

পরাজয়ের নীল উপাখ্যান

 পরাজয়ের নীল উপাখ্যান

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*************************************

ভেবেছিলে আমায় মেঘের আড়ালে লুকিয়ে রাখবে চিরকাল,
যেমন করে গোধূলি লুকায় তার শেষ রক্তের আভা?
তুমি তো আমায় হারাতে চেয়েছিলে সেই গভীর অরণ্যে,
যেখানে ঝরা পাতার শব্দে থমকে দাঁড়ায় সময়ের পা।

আমি তো শিউলি ফুলের মতো তোমার উঠোনেই ঝরেছিলাম,
নিঃশব্দে, ভোরের শিশিরে ভেজা একরাশ অভিমান নিয়ে।
তুমি আমায় দলিত করে যখন বিজয়ের হাসি হাসলে,
ঠিক তখনি বুঝলে—আমি তো তোমারই সৌরভ ছিলাম,
যা এখন মরা ঘাসের বুকে হাহাকার হয়ে মিশে আছে।

তুমি চেয়েছিলে নদীর মতো আমায় একলা মোহনায় ফেলে আসতে,
কিন্তু দেখো, আজ তোমার দুচোখেই প্লাবন নেমেছে!
তৃষ্ণার্ত চাতকের মতো তুমি আজ বৃষ্টির খোঁজ করছ—
অথচ সেই বৃষ্টি তো আমিই ছিলাম, যা অনাহুত মেঘ হয়ে ভেসে গেছে।

হয়তো আজ তোমার শরীর হিম হয়ে আসে হিমেল হাওয়ায়,
মনে হয়—সব থেকেও যেন কিছু একটার বড় অভাব।
আমায় নিঃস্ব করতে গিয়ে তুমি নিজেই আজ বড় একা,
প্রিয়া, আমায় হারাতে গিয়ে তুমিই যে হেরে গেলে নিজের কাছে!
----------------------------------------------------------------


১৯-০৪-২০২৬

অবিনশ্বর ক্ষত

 অবিনশ্বর ক্ষত

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর
*********************************
তুমি এসেছিলে—
ঠিক যেমন মহাকাশে ধূমকেতু আসে,
ক্ষণিক আলোয় ধাঁধিয়ে দিয়ে চোখের মণি;
অথচ যাওয়ার বেলায় রেখে গেলে এক কৃষ্ণগহ্বর,
যেখানে থমকে গেছে আমার সমস্ত সময় আর সরণি।

বিজ্ঞান বলে, শক্তির কোনো বিনাশ নেই, রূপান্তর হয় শুধু—
তবে কি আমার এই ভালোবাসা আজ মরণব্যাধি ক্যান্সার?
প্রতিটি কোষে কোষে তোমার অবহেলা ছড়িয়ে পড়েছে,
ধুঁকে ধুঁকে মরাটাই কি তবে আমার বিবর্তন, আমার সার?

দর্শনে পড়েছিলাম, জগত এক মায়া, এক মরীচিকা মাত্র,
তবে এই হৃদয়ের ক্ষতটা কেন এত সত্য, এত প্রখর?
প্রকৃতির অমোঘ নিয়মে শরতের মেঘ উড়ে যায় ঠিকই,
কিন্তু আমার শ্রাবণ কেন থামে না? কেন এ বুকে চিরকাল ঝড়?

হয়তো তুমি বেঁচে আছো তোমার নিজস্ব ছায়াপথে,
অন্য কোনো গ্রহে, অন্য কোনো মানুষের আশ্রয়ে;
আমিও বেঁচে আছি— স্রেফ ফুসফুসের যান্ত্রিক টানে,
অর্ধেক প্রাণ নিয়ে, এক অবাস্তব অস্তিত্বের বিস্ময়ে।

শরীরের ক্ষত শুকায়, কিন্তু আত্মার ক্যানসার কি সারে?
তুমি তো নেই, তবু তোমার না-থাকাটা মিশে আছে রক্তে;
একবার ছুঁয়ে দেখো আমার এই কম্পিত পাঁজরের হাড়,
এখনও তোমার নাম খোদাই করা সেখানে, অতি সক্তে।

যদি কোনোদিন এই কবিতা পড়ে তোমার চোখের কোণ ভিজে ওঠে,
যদি শিরদাঁড়া বেয়ে নামে এক নামহীন শীতল কম্পন;
বুঝে নিও— বিজ্ঞানের সব সূত্র মিথ্যে করে দিয়ে,
এখনও মৃত এক হৃদয়ে বেঁচে আছে তোমারই সেই প্রাচীন দহন।
------------------------------------------------------------- 


১৯-০৪-২০২৬

রুদ্র-সতর্কবাণী

 রুদ্র-সতর্কবাণী

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
************************************
হে কান্ডারী! দলীয় স্বার্থে যদি স্বাধীনতা-ফুলগুলি দাও ঝরায়ে,
মনে রেখো— তোমারও কুসুম ঝরিবে একদিন এই বাগানেই জড়ায়ে।
এ রন-ক্ষেত্র, এ বিজয়ের মাঠ যারা করেছিল রক্তে চাষ—
কেন আজ করো তাদের অপমান? কেন অপদস্ত করার এ আশ?

ধাপে ধাপে দিনে দিনে সনে সনে যে উদ্যান হলো লাল,
মুক্তিসংগ্রামের নামে সেথা শ্রম দিয়েছিল যারা চিরকাল।
লক্ষ লক্ষ নারী ও পুরুষ, কেউ প্রধান কেউ তার সাথী—
সবাই মিলে জ্বেলেছিল এই পরাধীন আঁধারে মুক্তির বাতি।

বায়ান্ন হতে একাত্তর— রোদ-বৃষ্টি-ঝড়-তুফান মাতিয়া ঘোরে,
আনিলে স্বাধীনতা— আজ একা কেন তুমি তাহার দাবিদার সাজো ওরে?
তবে কি কান্ডারী তুমিও স্বেচ্ছচারী? ইতিহাসে করো বিষ-রচন?
তোমার রচিত কাব্যে কেন তবে সত্যের এমন বিসর্জন?

কোথা তোমার সাতই মার্চের সেই তপ্ত বজ্র-ধ্বনি?
দশই এপ্রিল, সতেরই এপ্রিল— কেন নেই সেথা মুক্তার মণি?
কেন নেই বাহাত্তরের চারই নভেম্বর— শপথের সেই দিন?
এ সব দিবস ছাড়া কি স্বাধীনতা হবে কখনো কলঙ্কহীন?

কেন নেই সেই মুক্তিকামী বাংলার মহান স্বপ্নদ্রষ্টা পুরুষ?
পনেরই আগস্টের রক্তধারা কি তোমার ফিরায় না আজও হুঁশ?
সাতই নভেম্বরের সিপাহি বিপ্লব— সব অধিকার চাই মোরা,
ইতিহাসের প্রাপ্য মর্যাদা দিয়ে কাটো মিথ্যের এই ঘোরে।

তারা যে ভুল করেছিল, তুমি যেন করো না সে একই ভুল—
জনতার কাছে দিতে হবে ভাই তবে চড়া হিস্যা ও মাশুল।
উদার হও হে, হও নিরপেক্ষ ইতিহাসের বিশ্বস্ত প্রহরী,
এবার হারিলে কলঙ্ক-তিলক ললাটে রহিবে জনম ভরি!
--------------------------------------------------------------------


১৯-০৪-২০২৬

কথা ছিল

 কথা ছিল

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*********************************
কথা ছিল—অহিংসার শুভ্র পতাকায় মুছবে গ্লানি,
কথা ছিল—মোর বাংলাদেশে আসবে সাম্যের বাণী!
ছিলে তুমি আশার আলো, গণতন্ত্রের ধ্রুবতারা,
আজ কেন তবে মদমত্ত তুমি, হিতাহিত জ্ঞানহারা?

কেন আজ কেড়ে নাও মানুষের কথা বলার অধিকার?
তবে কি তুমিও পরলে কণ্ঠে ফ্যাসিবাদের হার?
কথা ছিল—দল-মত নির্বিশেষে ঘুচবে বৈষম্য-জ্বালা,
যোগ্য পাবে যোগ্য আসন, পূর্ণ হবে বিজয়-মালা!

কালো আইন আর ষড়যন্ত্রে আজ সংসদ কেন ম্লান?
অধিকার চাইল যে জন, কেন তবে তার ওষ্ঠাগত প্রাণ?
ইতিহাসের সত্য ললাটে কেন আজ মিথ্যার কলঙ্ক-তিলক?
কেন তবে কেড়ে নাও বীরের প্রাপ্য সম্মানের পালক?

ওরে নব্য দানব! ওরে প্রতিশ্রুতি-ভঙ্গকারী শঠ!
ক্ষমতার মোহে সাজালি কি তবে নতুন মায়াপট?
ভোটের নামে করলি স্থগিত জনতার রায়ের দাবি,
নিজের হাতেই রাখলি কি তবে সব শৃঙ্খলের চাবি?

লক্ষণ তোর শুভ নয় রে, দর্প তোর হবেই চূর্ণ,
জনতার রোষে হবে একদিন এই ধরণী প্রকম্পিত-পূর্ণ!
মনে রাখিস—বাক স্বাধীনতা শিকলে বাঁধা যায় না চিরকাল,
জনতার বাঁধ ভাঙলে পরে ছিঁড়বে তোর সকল মরণ-জাল!

বিদ্রোহী রণ-তুর্য বাজবে আবার প্রলয়-নাচনে,
স্বৈরাচারী তুই হার মানবি সেই দুর্বার গর্র্জনে!
কথা ছিল তুই মুক্ত করবি এই শৃঙ্খলিত দেশ—
নব্য ফ্যাসিষ্ট হয়ে কেন তবে আনলি কালিমার শেষ?
------------------------------------------------------ 



১৯-০৪-২০২৬

এ মন্ত্রীরে থামাও

 এ মন্ত্রীরে থামাও

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**********************************
থামাও ওরে থামাও ওরে, বাচাল ওই মন্ত্রীরে,
চাটুকার আর মূর্খ দলে কেন ঠাঁই দাও মন্দিরে?
তব চারিধারে ওরাই আজ জড়াচ্ছে মায়ার জাল,
কান্ডারী! আজো হুঁশিয়ার হও, তরী যে টালমাটাল!

ওরা কি পাগল, না কি উন্মাদ—মজিয়া ক্ষমতার রসে?
জনতার ক্রোধ-দাবানল আজ জলিছে আকাশ-শেষে।
তৈল-মর্দন আর চাটুকারিতায় ঘুচেছে বোধ ও হিত,
রাজকার্য ফেলে আজ ওরা কৌতুক-অভিনেতা সজ্বিত!

মিথ্যার বেসাতি করিয়া ওরা সাজিছে মহামতি,
তব রাজত্বে কলঙ্ক আজ, আসন্ন তব দুর্গতি।
থামাও ওদের! রুখিয়া দাঁড়াও ওই ভণ্ড অভিনেতারে,
নতুবা ধ্বংস নামিবে অচিরেই তব সিংহাসন-দ্বারে।

কান্ডারী! আজো সময় আছে রে, ধরো সেই তপ্ত হাল,
উপাড়ি ফেলো ওই পরগাছা দল, ছিঁড়িয়া ফেলো মায়াজাল।
তুমি যাবে উৎসন্নে, জাতিও হারাবে সঠিক পথ,
চাটুকার চাকা পিষিয়া মারিবে তোমার বিজয়-রথ।

সাবধান হও! আসিছে অমানিশা, ভীষণ অন্ধকার ঘোর,
খড়গহস্তে জাগো রে কান্ডারী, ভাঙো বাচাল-বেষ্টনী-ডোর!
• ---------------------------------------------------------------------------


১৬-০৪-২০২৬

এতো অভিমানী কেন?

 এতো অভিমানী কেন?

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*********************************************
এতোটা পাষাণ হিয়া, এতো অভিমানী কেন প্রিয়তমা?
তোমার মৌনতা যেন শ্রাবণের মেঘলা আকাশ,
যেখানে বৃষ্টির ব্যাকুলতা আছে, কিন্তু ঝরার নাম নেই।
বুকের বাম পাশে এক ফালি বিষাদ নিয়ে দাঁড়িয়ে আমি,
অথচ তোমার দুয়ারে আজ হাজার বছরের জমাট বরফ।
তুমি কি জানো?
তোমার ওই না বলা কথাগুলো যেন নীল পদ্মের হাহাকার,
যা ফোটার আগেই শিশিরের ভারে নুয়ে পড়ে।
তোমার অভিমান ঠিক যেন শরতের অবাধ্য মেঘের মতো,
একটু ছোঁয়া পেলেই যা বজ্র হয়ে বিঁধে যায় আমার পাজরে।
কখনো তুমি মরুভূমির তপ্ত বালুর মতো তৃষ্ণার্ত,
আবার কখনো গহীন অরণ্যের নিস্তব্ধ ছায়ার মতো রহস্যময়ী।
তোমার চোখে আজ অকাল সন্ধ্যার কালবৈশাখী,
যেখানে আমার সাজানো স্বপ্নেরা ঘরছাড়া পাখির মতো ডানা ঝাপটায়।
কেন এতোটা দূরে থাকো?
যেন সাগরের ওপার থেকে আসা কোনো বিরহী বাশি,
যার সুর পাওয়া যায়, কিন্তু ছোঁয়া যায় না।
তোমার রাঙা ঠোঁটের কোণে লুকিয়ে থাকা সেই কঠিন হাসি,
যেন হেমন্তের ঝরা পাতার শুকনো দীর্ঘশ্বাস।
ফিরে এসো প্রিয়তমা,
সব অভিমান ধুয়ে দিয়ে শরতের শুভ্র কাশফুল হয়ে।
তোমার ওই পাথুরে হৃদয়ে একটুখানি মায়ার জল ছিটিয়ে দাও,
নইলে এই বিরহী কবি চিরকাল তোমার মৌনতার মিছিলে—
এক নিঃসঙ্গ পথচারী হয়েই রয়ে যাবে।
----------------------------------------------------------------------

তুমিই প্রভাত রবি

 তুমিই প্রভাত রবি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*********************************************
তোমার ওই দু’টি চোখ যেন শরতের শেষ মেঘমুক্ত আকাশ,
যেখানে তাকালে থমকে যায় মহাকালের দীর্ঘশ্বাস।
আমি তো সেই তৃষ্ণার্থ চাতক, যে যুগ যুগ ধরে চেয়ে আছে—
তোমার অধরের এক বিন্দু হাসির শ্রাবণ নামবে বলে।
তুমি যখন কথা বলো, মনে হয় কোনো পাহাড়ি ঝরনা
পাথর ভেঙে চুরমার করে আমার বুকের ভেতর আছড়ে পড়ছে।
আর যখন চুপ থাকো? তখন মনে হয় নিঝুম অরণ্যে
হঠাৎ থমকে গেছে বাতাসের হাহাকার, ঝরে পড়ছে শিউলি ফুল।
তুমিই আমার সেই ভোরের প্রথম সূর্য—প্রভাত রবি,
যার পরশে আমার শরীরের প্রতিটি শিরায় রক্ত নয়, বসন্ত বয়ে যায়।
অথচ তোমায় হারাবার ভয়টা ঠিক সেই গোধূলির মতো,
যা প্রতি মুহূর্তে জানান দেয়—আলো ফুরিয়ে গেলেই গ্রাস করবে কালনাগিনী রাত।
আমার ভালোবাসা কোনো শান্ত নদী নয়, প্রিয়তমা;
এ এক উত্তাল সমুদ্রের জলোচ্ছ্বাস, যা তোমার তটে আছড়ে পড়ে বিলীন হতে চায়।
তোমার বিরহে আমার হূদয়টা ঠিক সেই শুকনো পাতার মতো কাঁপে,
যা ঝড়ের অপেক্ষায় থেকেও ডালে ঝুলে থাকার শেষ আকুতি জানায়।
যদি কখনো মনে হয় আমি নেই, তবে বৃষ্টির শব্দে কান পেতে থেকো;
প্রতিটি জলবিন্দু হয়ে আমিই তোমার ললাটে এঁকে দেবো অদৃশ্য চুমু।
তোমার চোখের জল যদি আজ বাঁধ মানে, তবে জানবে—
প্রকৃতির সবটুকু হাহাকার আজ আমার কলমে এসে আশ্রয় নিয়েছে।
তুমি ছাড়া আমি এক নিঃস্ব দিগন্ত, যেখানে সূর্য ওঠে না কোনোদিন।
-------------------------------------------------------------------------------

শুভ স্বাগতম হে প্রধান অতিথি

  কবি মোহাম্মদ আমিনুল এহছান মোল্লা , রাওনাট , কাপাসিয়া , গাজীপুর। ***************************** শুভ আগমন , শুভ আগমন , হে প্রধান...