মঙ্গলবার, মে ০৫, ২০২৬

শেষ চিঠির আর্তনাদ

 শেষ চিঠির আর্তনাদ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**********************************
শুধু ভালোবেসেছি বলেই—
তুমি আমার আকাশের নক্ষত্রগুলো নিভিয়ে দিলে,
জানতে চাইলে না, অন্ধকারের সাথে আমার কতকাল আড়ি;
অথচ আমি তোমার অন্ধকার ঘরে
মোমবাতি হয়ে নিজেকে পুড়িয়েই আলো দিয়েছিলাম।

শুধু ভালোবেসেছি বলেই—
আমার আর্তনাদ আজ তোমার কাছে নিছক অভিনয়,
আমার কান্নার শব্দ আজ তোমার কানে শ্রুতিকটু সুর;
অথচ এই বুক চিড়ে দীর্ঘশ্বাস হয়ে
শুধু তোমার নামটাই বের হয়ে আসে বারবার।

তুমি তো সেই নাবিক, যে তরী ডুবিয়ে হাসো,
আর আমি সেই সাগর, যে ডুবন্ত তরীকে বুকে টানি।
অগাধ প্রশ্রয় দিয়েছি বলেই কি—
আজ অপমানের বিষে আমার কণ্ঠ নীল হয়ে আছে?

যাও, তবে মনে রেখো—
সবাইকে তুচ্ছ করা যায়, কিন্তু সবার ভালোবাসা পাওয়া যায় না।
একদিন আয়নার সামনে দাঁড়ালে দেখবে,
আমার অপমানের দাগ তোমার চিবুকে কলঙ্ক হয়ে লেপ্টে আছে।
--------------------------------------------------------------


২১-০৪-২০২৬

বিপ্লবী যখন পথ হারায়

 বিপ্লবী যখন পথ হারায়

ওরে দিশাহারা বিপ্লবী!
তোর বজ্র-নিশান কেন আজ লুটে ধুলার হীনমন্যতায়?
আদর্শহীন সে বিপ্লব আজ তামাদি—ম্লান মরা জোছনায়!
যে শির ছুঁয়েছিল আকাশ, সে কেন আজ নুয়ে পড়ে অপমানে?
কলঙ্ক-কালিমা লেপন করিস কেন রে নিজেরই রক্ত-গানে?
গৌরব-হীন ইতিহাস তোর—নাই নাই কোনো মহিমা,
প্রতারণার তিলক ললাটে, পাপের যে নাই সীমা!
ওরে ও ছদ্মবেশী!
জনতার বিশ্বাস পুড়িয়ে জ্বালিস নিজের স্বার্থের ধূপ,
তোর অন্তরে হলাহল বিষ, বাইরে যে সাধুর রূপ!
আস্থা হারিয়ে তুই আজ রিক্ত, তুই আজ দেশদ্রোহী,
মরণ-ফাঁসির মঞ্চ তোরে ডাকছে রে পরম মনোযোগী!
ঘৃণার পাত্র হয়ে তুই রচলি যে কালো অধ্যায়,
ইতিহাস তোরে ছুঁড়ে ফেলে দেবে বিস্মৃতির তপ্ত কড়ায়!
ওরে ফ্যাসিস্ট জুলুমবাজ!
ক্ষমার লোভে তুই বিকিয়ে দিলি স্বদেশের পবিত্র ধূলি,
হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে আজ মত্ত হীন স্বার্থের পথ তুলি!
মববাদী ওই দম্ভে তোর দাউদাউ জ্বলে চিতার অনল,
বেয়াদবি তোর ভূষণ আজ—ওরে ও ছলনাময়ী খল!
জুলুমের ওই তলোয়ারে কেন কাটিস মায়ের বুক?
জনতা আজ জাগছে দেখ—শুকাবে তোর ওই শয়তানী মুখ!
জাগো হে জনতা!
রুখে দাঁড়াও আজ আগ্নেয়গিরির রুদ্র-ভয়ঙ্কর তেজে,
ঐ গুপ্তঘাতকের বিনাশ গান দাও রে এবার বেজে!
থুথু দাও ওই বিশ্বাসঘাতকের বিদীর্ণ কুৎসিত মুখে,
ইতিহাসের কালো পাতায় ওরাই রবে কলঙ্ক হয়ে ধুঁকে।
বিপ্লব হবে তখনই সূচি, যখন পুড়বে ঐ আবর্জনা,
আবার জাগবে নতুন সূর্য—ঘুচবে সকল এ লাঞ্ছনা!
-------------------------------------------------


২১-০৪-২০২৬

ওরে দেশদ্রোহী রাজ

 ওরে দেশদ্রোহী রাজ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*************************************
ওরে ও অন্ধযুগের মায়াবী শাসক, মিথ্যার বেসাতি তব,
কণ্ঠ ছাড়িয়া কতকাল আর গাহিবে এ গান নব?
‘দেশ বেচা হলো’, ‘গোলামি আসিল’—এ সুরের মায়াজালে,
কতকাল আর ঢাকিবে সত্যে মিথ্যার অন্তরালে?

দাও দেখি দেখা—কোথায় সে লিপি, দেশদ্রোহী দস্তখত?
জনতার চোখে ধুলা দিয়ে আজ হয়েছো যে পথচ্যুত!
ক্ষমতার রথে চড়ে বসেছিলে, হাতে ছিল সব চাবিকাঠি,
কেন তবে আজো প্রমাণ বিহীন তোমার সে তর্জনীটি?

তুমিও তো ছিলে সেই সিংহাসনে, প্রমাণের থালি হাতে—
কেন তবে রটিলে কেবল কলঙ্ক আঁখিপাতে?
দেশপ্রেমিকের মুখোশটি পরে তলে তলে কার চাটুকার?
স্বাধীন এ দেশে কার অনুমতির অপেক্ষায় হাহাকার?

যারা চায়নি এ দেশের আলো, আজন্ম বৈরী যারা,
তাদেরই চরণে আজ লুটাইছে কি সব স্বত্বহারা?
স্বাধীন দেশের আকাশ-বাতাস আজ কেন পরবাসী?
কেন আমাদের কণ্ঠের কোণে বিজাতীয় সেই হাসি?

তুমি লুণ্ঠিত স্বাধীনতার নায়ক, তুমিই তো সেই চোর,
সোনালী ভোরের ললাটে এঁকেছো অমানিশা ঘোর।
জনতার কাছে দিতে হবে জবাব, কেন এ গোলামি চুক্তিনামা?
স্বার্থের তরে কেন খোয়ালে দেশের বুকের সে জামা?

শান্তির দূত সেজে এলে ওরে ও অশান্তির কারিগর,
ধিক তোরে শত ধিক ওরে জাতিদ্রোহী, ভণ্ড, প্রতারক অমর!
বিপ্লবী-রোষে ফুঁসিছে জনতা, ফুঁসিছে এ মাটি আজ—
খোলো দেখি তব মায়াবী আবরণ, ওরে দেশদ্রোহী রাজ!

এই ইতিহাস মুছিবে না কভু তব এ কলঙ্ক-তিলক—
রক্তের অক্ষরে জবাব লিখিবে আগামীর জন-বালক!
--------------------------------------------------------------


২১-০৪-২০২৬

কৃষকের রোদন

 কৃষকের রোদন

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**************************************
জাগো রে কিষাণ! জাগো রে মজুর! কন্ঠে ধরো গান,
শুকায়ে গিয়াছে মাঠের শস্য, বিদীর্ণ আজ প্রাণ!
দিকে দিকে শোনো হাহাকার-ধ্বনি, তৈলবিহীন কল—
মেশিন থামিয়া মরুভূমি আজ সোনার ফসলি স্থল।

লাইনের শেষে রিক্ত হস্তে ফিরিয়াছ ঘর পানে,
শাসকের কানে পৌঁছায় নাকো ক্ষুধার্তদের গানে।
আকাশে জ্বলিছে রুদ্রের আঁখি, নদী-নালা সব শুষ্ক,
তৈলের দামে আগুন লেগেছে, ভাগ্য যে আজ রুক্ষ।

সার ও বিষের আকাশছোঁয়া দর, পিঠ ঠেকে গেছে দেয়ালে,
সব শুষে নেয় মদমত্ত ঐ শাসক আপন খেয়ালে!
পরিবহনের ভারে নুইয়াছে মেরুদণ্ড আজ তব,
রক্ত বেচিয়া শোধ করো ঋণ—এ এক নরক নব।

কোথা সে লাঙল? কোথা সে জোয়াল? জাগো ধূমকেতু প্রায়,
অত্যাচারীর সিংহাসনটা চূর্ণ করো হে পায়!
মাঠভরা ফসল পুড়িয়া ছাই, ঘরে নাই এক কণা,
অশ্রু মুছিয়া ধরো হাতে আজ বিদ্রোহেরই আলপনা।

রক্তশোষক ঐ শাসকেরে জানাও তীব্র ধিক্,
কৃষক বাঁচিলে বাঁচিবে স্বদেশ—জাগো ওরে দশ দিক!
তুমিই ভিত্তি, তুমিই শক্তি—নত কেন তব শির?
ভাঙো শিকল, আনো রে জোয়ার, তুমি যে চির-বীর।

জাগো অগ্নি-সন্তান! রুখিয়া দাঁড়াও বজ্র-কঠিন রোখ—
কৃষক-শত্রুর বিনাশ ঘটাতে জ্বালো আজ বিপ্লব-চোখ।
-------------------------------------------------------


২১-০৪-২০২৬

চেয়েছি দূরে ঠেলতে

 চেয়েছি দূরে ঠেলতে

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর
************************************
চেয়েছি দূরে ঠেলতে তোমায়, ভুলে যেতে সেই চেনা ঘ্রাণ,
হৃদয়কে বলেছি— মিছে এই মায়া, মিছে এই পিছুটান।
সে তো তোমার নয়, সে যে অন্য কোনো নক্ষত্রের আলো—
তবু এই অবুঝ মন তোমাকেই শুধু বেসেছে ভালো।

তুমি কত রূপবতী, কত বিত্তবান— সে হিসেব রাখেনি এই প্রাণ,
সে শুধু খুঁজেছে তোমার হৃদয়ে একটুখানি বিজন স্থাণ।
অজান্তেই কোনো এক হিরণ্ময় অরণ্যের ছায়ায় পেয়েছি তোমার টের,
সে দেখার চেয়েও বেশি ছিল— এক আশ্চর্য অস্তিত্বের ফের।

তুমি কি যৌবনা, নাকি প্রতিমা— হৃদয়ে ওঠেনি সেই প্রশ্ন কোনোদিন,
শুধু এক নিবিড় শূন্যতা রক্তে আমার বাজিয়েছে বিরহ-বীণ।
দিন যায়, রাত্রি নামে— পাণ্ডুলিপির মতো ধূসর হয় সময়,
তবু তোমার নামটি হৃদয়ের গভীরে আজও অমর হয়ে রয়।

আজও আমি চেয়ে আছি সেই পুরনো নির্জন পথের পানে—
যেখানে ঘাসেরা কথা কয়, নদী কাঁদে হেমন্তের গানে।
কিন্তু তুমি নেই সেই চেনা ব্যালকনিতে, নেই ফুলের নিবিড় ছায়ায়,
স্কুলের আঙিনা কিংবা জানালার দ্বারে নেই তোমার মায়ায়।

সবই আছে আগের মতো— পউষের কুয়াশা আর নক্ষত্রের রাত,
শুধু নেই তোমার সেই শিউলি ফুলের মতো কোমল একটি হাত।
হৃদয়ের এই আকুতি আজও যেন কোনো এক নিঃসঙ্গ নাবিকের শোক,
তুমিহীন এই আমি এক পাণ্ডুলিপি— যেখানে ফুরিয়ে গেছে সব আলোক।
-----------------------------------------------------------------



২১-০৪-২০২৬

তুমিহীন এই আমি

 তুমিহীন এই আমি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**************************
এ হৃদয় তোমাকে দেখেছিল চোখের পাতায় নয়,
অনুভবের নীল সীমানায়, যেখানে অস্তিত্বের শুরু।
চিনি না তোমার রূপের বাহার, জানি না যৌবন-মায়া,
শুধু জানতাম— তুমিহীন এই আমি, এক দীর্ঘ ছায়া।

আমি চেয়েছি তোমায় তাড়াতে, ছিঁড়ে ফেলতে স্মৃতির পাতা,
হৃদয়কে বলেছি সহস্রবার— 'সে নয় তো তোমার মিতা'।
তবু অবুঝ এ মন মানেনি শাসন, শোনেনি কোনো বারণ,
নিভৃতে সে বুনেছে স্বপ্ন-বীজ, অকারণে অকারণ।

সেখানে চলত প্রেমের চাষাবাদ, নিঃশব্দ অভিমানে,
রক্ত দিয়ে লাল করেছি তোমায়, নিজেরই অজান্তে।
তুমি কত বড়, কতটা ঐশ্বর্য— তা ভাবেনি এই প্রাণ,
সে শুধু চেয়েছিল তোমার হৃদয়ে একটুখানি স্থান।

হৃদয় জানত না প্রেম কী, সে শুধু শিখেছে যাতনা,
তোমার অভাবের দহনে পুড়েছে, সয়েছে সব লাঞ্ছনা।
আজও সে চেয়ে আছে সেই পথের পানে, যেখানে তুমি নেই,
হারিয়ে গেছ কোনো এক অচিন মেঘের কোল ঘেঁষেই।

সেই চেনা ব্যালকনি আজ শূন্য, ফুলের বাগান ম্লান,
স্কুলের আঙিনা কিংবা জানালার দ্বারে গুমরে মরে গান।
সব আছে আগের মতোই, শুধু নেই তোমার সেই পরশ,
আমার হৃদয়ের এই হাহাকার, এক বিষাদমাখা হরষ।

তুমিহীনা এই শূন্য হৃদয়ে আজও তোমারই বসতি,
ভালোবেসে হেরে যাওয়াতেই হয়তো আমার শ্রেষ্ঠতি।
-----------------------------------------------------


২১-০৪-২০২৬

হিসাব মেলে না আজ

 হিসাব মেলে না আজ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
--------------------------------------
শুনো হে শাসক, শুনো মহাজন, মোর হিসাব মেলে না আজ,
রিক্তের হাহাকারে ভরেছে আকাশ, মাথায় বজ্রবাজ!
মোর আয়ে শুধু অনাহার বাড়ে, ব্যয়েতে আকাশ ছোঁয়া,
তোমাদের লোভের আগুনে আজিকে স্বপ্ন হয়েছে ধোঁয়া!

তুমি বাড়াও শুল্ক, বাড়াও মূল্য—তেল, গ্যাস, নুন, তিল,
আমার পাজর ভাঙা আর্তনাদেও কি তোমার হবে না মিল?
তুমি তো গদিধারী ধনকুবের নাতি, দুর্ণীতি তব রক্তে,
পাচার করো দেশের সম্পদ বিদেশি সিন্দুক-তক্তে।

আমি তো সামান্য বেতনের দাস, নুন আনতে ফুরায় পান্তা,
আমার ক্ষুধার জ্বালা কি বুঝবে? তুমি যে পাষাণ-শান্তা!
তোমার প্রাসাদে বিজলি বাতি, আমার ঘরে যে ঘোর আঁধার,
দ্রব্যমূল্যের নাগপাশে আজ পিষ্ট হচ্ছে এ সংসার।

আমার তো নেই অঢেল অর্থ, নেই কোনো বিদেশের বাড়ি,
ঘাম ঝরা পরিশ্রমে চলে না যে আর জীবন-তরণী পাড়ি!
সবাই বলে দেশ স্বাধীন আজ, আমি কেন তবে পরাধীন?
মুক্তির নামে এই কি তবে শৃঙ্খল চিরদিন?

বেতন তো সেই তিমিরেই রবে, বাজার হবে যে চড়া—
বলো হে শাসক, কোন নরকে আজ দিচ্ছ মোরে ধরা?
সহ্যের বাঁধ ভেঙেছে আমার, ধৈর্যের সীমা শেষ,
আর পারি না সইতে আমি, ছাড়িব কি তবে স্বদেশ?

অসহায় এই মানুষের কথা কি পৌঁছাবে না তব কানে?
নাকি মহাকালের অভিশাপ লিখিব এই বিদ্রোহী গানে?
হিসাব মিলছে না হে ধরণী, আমি নিঃস্ব, আমি রিক্ত,
তোমার শোষণের কষাঘাতে আজ রক্তে আমাশয় সিক্ত!

জবাব দাও হে রাজাধিরাজ, জবাব চাই এ জাতির,
কবে হবে শেষ এই অবিচার—দমন পীড়ন অতি-র?
আমি চলিলাম তিমির আঁধারে, যদি না দাও মোর হকের ভাগ,
জেনে রেখো—এই রিক্তের দহনেই জ্বলবে বিপ্লবের আগ!
------------------------------------------------------------- 


২০-০৪-২০২৬

উত্তরের অপেক্ষায়

 উত্তরের অপেক্ষায়

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*********************************
তপ্ত বালুর চরে একা দাঁড়িয়ে আমি,
ঠিক যেন এক তৃষ্ণার্ত চাতক পাখি;
তোমার নীরবতা বিষাক্ত তীরের মতো—
বিঁধে আছে বুকে, বলবো কাকে সে কথা সখি?

তুমি তো ছিলে শ্রাবণের অবাধ্য মেঘ,
ঝরবে জানি, তবুও একফোঁটা জল দিলে না;
শুকনো নদীর তলদেশে আজ খাঁ খাঁ রোদ,
আমার হাহাকার তো তুমি কক্ষনোই নিলে না।

তোমার ওই মৌনতা যেন এক গভীর অরণ্য,
যেখানে পথ হারিয়েছে আমার প্রতিটি ডাক;
প্রতিক্ষার এই প্রহরগুলো ধারালো কাঁচের মতো,
রক্ত ঝরুক হৃদয়ে, তুমি বরং ভালোই থাকো।

না-বলা কথার বোঝা পাহাড়ের চেয়েও ভারী,
শূন্যতায় কুঁড়ে খাচ্ছে আমার বেঁচে থাকার স্বাদ;
উত্তরের আশায় আকাশপানে চেয়ে থাকা একাকী—
আমি এক বিবর্ণ বিকেলের ফ্যাকাশে চাঁদ।

যদি একটিবার বলতে 'ভালো নেই' অথবা 'বাসি না ভালো',
তবুও তো মিটত এই অসহ্য অনিশ্চয়তার খেলা;
হত্যাকারীও বোধহয় দয়া করে শেষবার তাকায়,
তুমি শুধু দিয়ে গেলে অবহেলার এই দীর্ঘ মেলা।
------------------------------------ 



২০-০৪-২০২৬

সেই জানালার পাশে

 সেই জানালার পাশে

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*******************************************
নক্ষত্রের আলো নিভে গেলে যেখানে পৃথিবীর সব পথ মিশে যায় অন্ধকারে—
সেখানে আজও একটি জানালার কবাট খোলা থাকে;
বিকেলের ম্লান রোদ সেই জানালায় এসে থামে অবিকল—
যেমন কোনো আহত শালিক থামে ঝাউবনের নির্জন ছায়ায়।
তুমি ছিলে সেখানে—এক বিষণ্ণ মায়ার প্রতিমা,
অস্পষ্ট কুয়াশার মতো তুমি আমায় দেখতে চুপিচুপি।
আর আমি—এই ঘাস ও ধুলোর মাঠে—খেলার ছলে,
তোমার চোখের গভীর নোনা জলে খুঁজতাম হারানো কোনো নক্ষত্রপুঞ্জ।

আমাদের কথা হয়নি কোনোদিন, যেন এক নীরব পাণ্ডুলিপি;
অথচ নিস্তব্ধ সন্ধ্যায় যখন ঝিঁঝিঁরা ক্লান্ত হয়ে পড়ে—
মনে হতো তুমিই এই প্রান্তরের সবচেয়ে কাছের আকাশ।
আজ চারিপাশে ধূসর কুয়াশা—শহরের কর্কশ কোলাহল;
তবু সেই জানালার দৃশ্য আজও আমায় তাড়া করে ফেরে—
যেন কোনো এক আদিম শঙ্খিনী তার হারানো সমুদ্র খুঁজছে।
তুমি কি আগের মতোই আছ? নাকি সময়ের পলি জমে
তোমার চোখের সেই লুকুচুরি আজ অন্য কোনো ছায়ার কাছে ঋণী?

হয়তো কোনো এক হেমন্তের রাতে জোনাকিদের মিছিলে দেখা হবে—
কিংবা কোনোদিনও নয়, এই জনমে আর কোনোদিনও নয়।
তবু আমার এই মজ্জায় ও মননে—রক্তের গহীনে—
তুমি আছো সেই আগের মতোই—শাশ্বত এক হিরণ্ময় বিষাদ।
যদি কোনোদিন মহাকালের শূন্যতায় বিলীন হয়ে যাই আমি,
জেনে রেখো—সেই মাঠের প্রতিটি ঘাসে লেগে আছে আমার তৃষ্ণা;
যেখানে তোমার ছায়া পড়ত বিকেলের শেষ বিদায়ের আগে।

ভালো থেকো হে অধরা তরঙ্গ, হে আমার লোনা জল—
তোমার ভালোবাসার নির্জন সাগরে তুমি থেকো একাকী এক দ্বীপের মতো।
------------------------------------------------------------------------------------------- 



২০-০৪-২০২৬

হৃদয়হীনা সুন্দরী

 হৃদয়হীনা সুন্দরী

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর
************************************
শরতের মেঘপুঞ্জ যেমন রৌদ্রকে আড়াল করে,
তুমিও তেমনি দম্ভের আড়ালে ঢেকেছিলে প্রেম।
তোমার চোখে ছিল কালবৈশাখীর তপ্ত বিদ্যুৎ,
যেখানে ঝরে পড়ার ব্যাকুলতা নয়—
ছিল শুধু ছাই করে দেওয়ার দহন।

তুমি ছিলে কোনো এক নির্জন পাহাড়ের অহংকারী ঝরনা,
যে কেবল নিজের পতনকেই ধ্রুব জেনেছে।
তৃষ্ণার্ত চাতক যখন তোমার পায়ের কাছে লুটিয়ে পড়ত,
তুমি তাকে দিতে কেবল শুষ্ক পাথরের অবজ্ঞা।
বসন্তের দখিনা বাতাস যখন তোমার অলক ছুঁতে চেয়েছিল,
তুমি তাকে চাবুক মেরে ফিরিয়ে দিয়েছিলে হিমেল কুয়াশায়।

আজ সেই পাহাড়ের চূড়ায় কোনো মেঘ জমে না,
আজ তোমার ডালিম ডালে কোনো কোকিল গান গায় না।
তুমি আজ সেই শীর্ণ নদীর মতো—
যার বুক ফেটে চৌচির, অথচ জোয়ারের দেখা নেই।

এখন তুমি দ্বারে দ্বারে ফেরি করো হারানো সেই বিকেলের মায়া,
এখন তুমি শ্রাবণের মেঘ হয়ে খুঁজে বেড়াও এক ফোঁটা আশ্রয়।
কিন্তু দেখ—প্রকৃতি আজ বড় নিরাসক্ত, বড়ই বধির;
যে ফুলকে তুমি মাড়িয়ে গেছ পাষাণ চরণে,
সেই ফুল আজ অন্য মালতীর খোঁপায় হাসে।

যাকে তুমি তুচ্ছ করে ফিরিয়েছিলে পথের ধুলোয়,
সে প্রেম আজ আকাশ হয়ে গেছে—যাকে ছোঁয়া যায় না।
তোমার অনুতাপের অশ্রু আজ কেবলই ঝরা পাতার মরমর ধ্বনি,
যা কেবল একাকী নিশীথিনীকে শোনায়—
"অহংকারের ঘরে কখনো প্রেমের প্রদীপ জ্বলে না।"

এখন কাঁদো সুন্দরী, অঝোরে কাঁদো;
তোমার চোখের জলে আজ না হয় ধুয়ে যাক সমস্ত গরিমা।
কিন্তু মনে রেখো—সূর্যাস্তের পর গোধূলি আর ফেরে না,
আর একবার হারিয়ে যাওয়া প্রেম, কখনোই ফিরে তাকায় না।
---------------------------------------------------------


২০-০৪-২০২৬

শুভ স্বাগতম হে প্রধান অতিথি

  কবি মোহাম্মদ আমিনুল এহছান মোল্লা , রাওনাট , কাপাসিয়া , গাজীপুর। ***************************** শুভ আগমন , শুভ আগমন , হে প্রধান...