Sunday, June 21, 2026

ভেঙে ফেলো ওই পাপের দুর্গ

 কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

**************************************

ওরা মুখে বলে আল্লাহর বাণী, অন্তরে পুষে বিষ,
পবিত্রতার লেবাস পরিয়া করে যে অহনিশ
নরাধমের কাজ!
ছিঃ ছিঃ, ধিক্কার দেয় লাজ!
ওরা নাকি প্রভুর পেয়ারা বান্দা, আলোর দিশারী দল,
অথচ ওরাই ছড়ায় ছলে শিশুদের চোখে জল!
কোথায় আজ তোদের বিপ্লব? কোথায় তোদের হুঙ্কার?
নিজের দলের পাপী দেখে কেন মুখে কুলুপ সবার?

আজ আলোর মঞ্জিল কাঁদে, কাঁদে মক্তব-শালা,
পিতা-মাতা বুকে চেপে ঘোরে এক অজানা জ্বালা।
ছেড়ে দাও মেয়ে শিশুছেলেও তো আজ নহে নিরাপদ,
ভন্ড হায়েনার থাবায় ভাঙিছে শিশুর মেরুদণ্ড পদ!
আলোর নিচেই জমেছে আজ ঘোর অন্ধকারের মেলা,
শিশুর ভবিষ্যৎ নিয়ে কেমন পৈশাচিক খেলা?

ধর্ষক আর বলৎকারীওদের কোনো ধর্ম নাই,
ওরা পিশাচ, ওরা ভণ্ড, ওদের ফাঁসি আমি চাই!
আইনের হাত হোক বজ্রের মতো কঠিন নির্মম,
দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিতে কাঁপুক ওই নরপশু অধম!

জাগো বাঙালি, চির-বিদ্রোহী, আর কতকাল রবে চুপ?
টেনে হিঁচড়ে ছিঁড়ে ফেলো ওই ভণ্ড সাধুর রূপ!
ওদের হ্যাচকা টানে নামাও নিচে, করো আজ বিচার,
বিপ্লবের আগুনে পুড়ুক শয়তানের এই ব্যভিচার!
ভেঙে ফেলো ওই পাপের দুর্গ, আনো মুক্তির আলো,
আমাদের নিষ্পাপ শিশুদের বাঁচাতেই হবে ভালো!

---------------------------------------------------------------------------------

Thursday, June 18, 2026

যোগ্য করে গড়ে তুলো হে

 কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।

*********************************

যোগ্য করে গড়ে তুলো হে নিজেকে, আগামীর অগ্নি-সন্তান!
তোমাদের হাতেই রেখে যেতে চাই
আমার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ,
আমার রক্তে রাঙা প্রভাতের গান।

ভয় করো না!
ঝঞ্ঝার সাথে লড়াই করো,
বজ্রের সাথে করো মিতালি।
হীনমন্যতার শিকল ভেঙে
দাঁড়াও আকাশ-সম উচ্চ ললাটে,
হও দুর্জয়ের অভিযাত্রী।

শিক্ষা লও হে
শুধু পুঁথির পাতায় নয়,
জীবনের গভীর মহাগ্রন্থে;
জ্ঞানকে করো দীপশিখা,
যে আলো জ্বালে অন্ধকার যুগের অন্তে।

নৈতিকতার মেরুদণ্ড গড়ো,
সত্যকে করো জীবনের ধ্রুবতারা;
মিথ্যার কাছে নত হয়ো না,
যতই আসুক প্রলোভনের কারা।

নেতৃত্ব শেখো হে,
কিন্তু প্রভুত্ব নয়;
মানুষকে ভালোবাসার শিল্প শেখো।
ক্ষমতার মসনদ নয়,
সেবার মহিমায় হৃদয় রেখো।

অন্যায় দেখিলে প্রতিবাদ করো,
বজ্রকণ্ঠে উচ্চারো সত্যের বাণী;
ভীরুর মতো মুখ লুকিয়ে নয়,
হও যুগের জাগ্রত প্রহরী।

সৎ চরিত্রের হও,
পবিত্র নদীর মতো স্বচ্ছ;
ঘুষ, দুর্নীতি, প্রতারণা,
লোভের বিষপাত্র করো পরিত্যক্ত।

হও পরিশ্রমী,
হও শৃঙ্খলাবদ্ধ,
হও দায়িত্বে অটল পর্বত;
বিপদে হয়ো না পলাতক সৈনিক,
হও সংগ্রামের অগ্নিরথ।

মানবতা শেখো,
ধর্মে ধর্মে গড়ো না প্রাচীর;
মানুষের দুঃখে কাঁদতে শেখো,
সেবায় খুঁজে নাও জীবনের তীর।

হও বিনয়ী,
হও সাহসী,
হও উদার মহীরুহের ছায়া;
নারীর সম্মান রক্ষায় দাঁড়াও,
অন্যের অধিকারে দিও না হানা।

স্বপ্ন দেখো
কিন্তু স্বপ্নের জন্য জাগতেও শেখো;
দেশকে ভালোবেসে
নিজেকে প্রতিদিন নতুন করে লেখো।

হে নবযুগের তরুণ!
হে আগামীর দীপ্ত প্রজন্ম!
তোমাদের বুকে জ্বলুক
সত্য, জ্ঞান, ন্যায় আর দেশপ্রেমের অগ্নিশিখা।
তবেই আমার শেষ বিদায়ের দিনে
আমি হাসিমুখে বলিব
"আমি যাচ্ছি,
কিন্তু রেখে গেলাম
একটি যোগ্য, জাগ্রত, দুর্নিবার প্রজন্ম!

-------------------------------------------------

 

জাগো হে অভিভাবক!

 কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

******************************

জাগো হে অভিভাবক! জাগো রে আজ,
ঘরের প্রদীপ নিভে যায়তবু কেন নিদ্রার সাজ?

ছেলে কোথায়? মেয়ে কোথায়?
কারা ওদের বন্ধু-সাথী?
কোন আড্ডাতে কাটে সন্ধ্যা,
কারা ওদের পথের সাথী?

কোন পথে যায়? কোথায় ফেরে?
কখনো কি নিয়েছ খোঁজ?
নাকি শুধু জীবিকার তরে
ব্যস্ত থেকেছ রোজ?

মোবাইল হাতে কার সাথে কয়?
কার জন্যে নিশি জাগে?
পড়ার টেবিলে জ্ঞানের দীপ,
নাকি মোহের ছায়া লাগে?

শিখিয়েছ কি সালাম-কালাম,
আদব-কায়দা, ভদ্রতা?
শিখিয়েছ কি ধর্মের আলো,
নীতি, প্রেম আর মানবতা?

আত্মীয়তার বটের ছায়া,
শিখিয়েছ কি তারে তুমি?
বৃদ্ধ-জনের সম্মান দিতে,
দুঃখীর পাশে দাঁড়াতে ভূমি?

আজ সমাজে বিষের ধোঁয়া,
প্রলোভনের শত ফাঁদ;
অবহেলার ক্ষুদ্র ছিদ্রে
ডুবে যায় কত স্বপ্ন-সাধ।

সন্তান তোমার কাঁচা মাটি,
তুমিই তার কারিগর;
ভালোবাসা, শাসন, শিক্ষায়
গড়ো তাকে মহীয়ান নর।

তাই বলি আজ বজ্রকণ্ঠে
জাগো, ভাঙো উদাসীনতার বাঁধ!
ঘরকে আগে আলোকিত করো,
তবেই আলোকিত হবে দেশ সমাজ।।

নইলে একদিন ইতিহাস লিখিবে
"পিতারা ছিল ব্যস্ত, মাতারা ছিল ক্লান্ত,
অবহেলার অন্ধকারে হারাইয়া গিয়েছিল
একটি প্রজন্মস্বপ্নহারা, বিভ্রান্ত!"

জাগো হে অভিভাবক!
এখনো সময় আছে
ঘরের প্রদীপ রক্ষা করো,
নইলে ঝড় আসিছে!

 

Bottom of Form


অবহেলিত গোলাপ

 কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

*********************************

আজ আমি এক অবহেলিত গোলাপ
নিঃসঙ্গ বাগানের কোণে দাঁড়িয়ে থাকা
স্মৃতিভারাক্রান্ত কোনো প্রেমপত্রের মতো।
পাপড়িগুলো শুকিয়ে আসে ধীরে ধীরে,
যেন বিরহিণীর চোখের কোণে জমে থাকা
শেষ অশ্রুবিন্দুর লাল আভা।

একদিন আমাকেই ঘিরে ছিল বসন্তের উৎসব।
দক্ষিণা বাতাস আমার সুবাস চুরি করে
নিয়ে যেত দূর-দিগন্তে;
ভ্রমররা মধুর লোভে নয়,
ভালোবাসার অজুহাতে
আমার চারপাশে রচনা করত অনন্ত গুঞ্জরণ।

কত প্রেমিক আমাকে বুকে চেপে বলেছে
তুমি আমার হৃদয়ের রক্তিম স্বপ্ন!”
কত প্রেমিকা আমার পাপড়িতে লুকিয়ে রেখেছে
অপ্রকাশিত অনুভবের গোপন চিঠি!

আজ সেই সব দিনের উপর
ধুলোর মতো জমেছে সময়।

এখন আর কেউ আমার দিকে ফিরে তাকায় না।
সুবাস ফুরিয়েছে বলে
ভ্রমরও আর পথ চিনে আসে না।
মধু নিঃশেষ হলে যেমন নদী ছেড়ে যায় নৌকা,
তেমনি স্বার্থ ফুরালে মানুষও হারিয়ে যায়
অচেনা কোনো জনপদের ভিড়ে।

প্রকৃতি বড় আশ্চর্য প্রেমিকা
যত গভীর করে ভালোবাসে,
তত নিঃশব্দে ফিরিয়েও নেয়।
সে শিখিয়েছে আমাকে
পূর্ণিমার চাঁদও একদিন ক্ষয়প্রাপ্ত হয়,
শিউলিও ঝরে পড়ে ভোরের শিশিরে,
আর গোলাপও একদিন হারায়
তার রক্তিম যৌবনের অহংকার।

তবু আজও সন্ধ্যার বাতাস এলে
আমি চোখ বুজে অনুভব করি
কোথাও হয়তো কোনো হৃদয়
এখনো আমার সুবাসের স্মৃতি বহন করে।

তাই ঝরে যাওয়ার আগে
শেষবারের মতো আকাশকে বলি
ভালোবাসা যদি সত্যিই ভালোবাসা হয়,
তবে সে শুধু প্রস্ফুটিত গোলাপকে নয়,
শুকিয়ে যাওয়া পাপড়িকেও
অপরূপ মমতায় ছুঁয়ে রাখবে।

কারণ প্রেম তো মধুর জন্য নয়,
রূপের জন্য নয়, সুবাসের জন্যও নয়
প্রেম হলো সেই চাঁদের আলো,
যে নিঃশেষ রাতের পাশেও বসে থাকে;
প্রেম হলো সেই বৃক্ষ,
যে ঝরা পাতাকেও নিজের সন্তান বলে ডাকে।

আজ আমি অবহেলিত গোলাপ
তবু আমার প্রতিটি ঝরে-পড়া পাপড়িতে
লেখা আছে এক অনন্ত প্রেমের উপাখ্যান,
যেখানে বিচ্ছেদ আছে, অবহেলা আছে,
তবু ভালোবাসা এখনো
রক্তিম হয়ে ফুটে আছে নীরব হৃদয়ের বাগানে।

------------------------------------------