রবিবার, ডিসেম্বর ২৮, ২০২৫

আদর্শের দুর্ভিক্ষ

 আদর্শের দুর্ভিক্ষ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**********************************************

রাজনীতির আকাশে আদর্শের দুর্ভিক্ষ হানিছে আঘাত,
স্বাধীন মাতৃভূমি জ্বলিছে আদর্শহীন রাজনীতিবিদদের আগুনে।
নেতাদের অশুভ ঘূর্ণিঝড়ে নিরীহ জনতা মরিছে
হুজুগের উন্মাদনায়, অচেনা মিছিলের পায়ে পিষ্ট হয়ে।

শুধু ক্ষমতার জন্য নেতারা ছুটিছে—
নীতি, নৈতিকতা, আদর্শ ভুলে।
মুনাফিকির উচ্চ শিখরে দাঁড়িয়ে
আদর্শহীন নেতাদের রাজকীয় অবস্থান।
কর্মীরা দেয় জীবন—
আর নেতারা স্বার্থের জন্য কর্মী ভুলে যায়,
দল ভুলে যায়, আদর্শ ভুলে যায়।

কে দেশবিরোধী, কে দেশপ্রেমিক—
সে হিসাব তাদের খাতায় নেই।
ক্ষমতাই তাদের ধ্যান, ক্ষমতাই তাদের দর্শন,
ক্ষমতাই তাদের একমাত্র লক্ষচিত্র।
এইভাবে চলতে থাকলে দেশ
চলে যাবে অতল গহ্বরে—
নেতা তো নয় যেন
আদর্শহীন অভিনেতার অভিনয়।

আজো আমি নিঃশ্বাসে পাই মৃত্যুর নীরব সাক্ষ্য,
আজো আমি মাটিতে দেখি মৃত্যুর নগ্ন নৃত্য।
ধর্ষিতার কাতর চিৎকার শুনি
আজো আমি তন্দ্রার ভেতরে।

এ দেশ কি ভুলে গেছে
সেই দুঃস্বপ্নের রাত,
সেই রক্তাক্ত সময়?

মাটিতে লেগে আছে রক্তের দাগ।
এই রক্তমাখা মাটির ললাট ছুঁয়ে
একদিন যারা বুক বেঁধেছিলো,
জীর্ণ জীবনের পুঁজে তারা আজ
খুঁজে নেয় নিষিদ্ধ আঁধার।

আজ তারা আলোহীন খাঁচা ভালোবেসে
জেগে থাকে রাত্রির গুহায়।
এ যেন নষ্ট জন্মের লজ্জায়
আর্ত কুমারী জননী।

স্বাধীনতা—
একি হবে নষ্ট জন্ম?
একি তবে পিতাহীন জননীর
লজ্জার ফসল?

জাতির পতাকা খামচে ধরেছে
আজ পুরোনো শকুন।

নিয়ন আলোয় তবু নর্তকীর দেহে
দুলে ওঠে মাংসের তুফান।
মাটিতে রক্তের দাগ—
চালের গুদামে তবু জমা হয়
অনাহারী মানুষের হাড়।

এ চোখে ঘুম আসে না—
সারারাত আমার ঘুম আসে না।
তন্দ্রার ভেতরে আমি শুনি
ধর্ষিতার করুণ চিৎকার।

নদীতে পানার মতো ভেসে থাকে
মানুষের পচা লাশ।
মুন্ডহীন বালিকার
কুকুরে খাওয়া বিভৎস শরীর
ভেসে ওঠে চোখের ভেতরে।

আমি ঘুমোতে পারি না—
আমি ঘুমোতে পারি না…

রক্তের কাফনে মোড়া—
কুকুরে খেয়েছে যারে,
শকুনে খেয়েছে যারে,
সে আমার ভাই,
সে আমার মা,
সে আমার প্রিয়তম পিতা।

স্বাধীনতা—
সে আমার স্বজন,
হারিয়ে পাওয়া একমাত্র স্বজন।
স্বাধীনতা—
আমার প্রিয় মানুষের রক্তে কেনা
অমূল্য ফসল।

ধর্ষিতা বোনের শাড়ি—
ওই আমার রক্তাক্ত জাতির পতাকা।
---------------------------------------------------


২৮-১২-২০২৫

মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ২৩, ২০২৫

এসো হে গণতন্ত্রের বীর

 এসো হে গণতন্ত্রের বীর

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*******************************************
তুমি এসো—হে গণতন্ত্রের বীর,
এসো বজ্রপদে, আগুন-হাতে, শপথের শিরে!
দেখো হে বাংলা—আজ জ্বলিছে উগ্রবাদের দাহ,
স্বাধীনতার আঙিনায় ছাই, বিবেকের কণ্ঠে বাঁধা শ্বাস।

দিকে দিকে দেশবিরোধীর উত্থান—
মুখোশে মুখোশে শকুনের নৃত্য,
মবের হুঙ্কারে ন্যায় লাঞ্ছিত,
স্বৈরাচারের ছায়া নামে—ভোটের বাক্সে, কলমের ডগায়, রাস্তায়।

পিতার রণযুদ্ধে পাওয়া যে স্বাধীনতা—
লক্ষ শহীদের রক্তে ধোয়া লাল-সবুজ,
মা-বোনের ইজ্জতের শপথে বাঁধা—
আজ তা হুমকির সম্মুখে, পদধূলিতে গণতন্ত্র!

তুমি কোথায়, হে বীর?
যে বলেছিলে—কণ্ঠ রোধ হবে না,
কলম থামবে না,
মতপ্রকাশে অবাধ চাষাবাদ হবে—
সে অঙ্গীকার আজ কারাগারে?

এ এক নতুন যুদ্ধ—
এবার তলোয়ার নয়, বিবেকের বজ্র,
এবার বন্দুক নয়, সত্যের উচ্চারণ।
এবার হেরে গেলে—জাতি হেরে যাবে,
স্বাধীনতা হেরে যাবে, গণতন্ত্র হেরে যাবে;
কবিতা থামবে, ইতিহাস স্তব্ধ হবে,
মুক্তিযুদ্ধের গল্প হবে নিষিদ্ধ শব্দ!

চেয়ে দেখ—
দুর্নীতির সিন্ডিকেটে রাষ্ট্র বন্দি,
ফ্যাসিবাদের কণ্ঠে আইন খর্ব,
মববাদে ন্যায় চূর্ণ,
স্বৈরাচারের দম্ভে ভোট অপমানিত।
লাল-সবুজ পতাকা আজ খামচে ধরেছে
সেই পুরোনো শকুন—নতুন নাম, পুরোনো দাঁত!

তুমি এসো হে—
জাতি তোমার অপেক্ষায়,
এই স্বাধীন মাতৃকা তোমার,
এই জনতা তোমার।
জাগাও হে নেতা—ভীত কলম, রুদ্ধ কণ্ঠ,
শেখাও আবার—ভয় নয়, অধিকার!

উঠুক হে গণজোয়ার—
আইনের শাসনে দাঁড়াক রাষ্ট্র,
মানুষের মর্যাদায় ফিরুক শক্তি।
পিতার আদর্শ প্রজ্জ্বলিত করো—
সাম্য, মানবিকতা, অসাম্প্রদায়িক শপথে।

এসো হে গণতন্ত্রের দিশারী—
ঝড়ের ভেতর প্রদীপ হও,
অন্ধকারে বজ্র হও,
মিথ্যার দেয়ালে সত্যের হাতুড়ি হও!

তুমি এসো—হে গণতন্ত্রের বীর,
বাংলা আজ তোমার ডাক শোনে,
ইতিহাস আজ তোমার অপেক্ষায়।
----------------------------------------------------


২৩-১২-২০২৫

আমি অগ্নিগর্ভ বিদ্রোহ

 আমি অগ্নিগর্ভ বিদ্রোহ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*************************************

আমি বিদ্রোহী—
আমি রক্তচক্ষু বজ্র, আমি শপথের আগুন,
আমি ঘুমন্ত পাহাড়ে লাথি মারা ভূমিকম্প,
আমি নীরবতার বুক চিরে ওঠা আর্তনাদ।

আমি দাঁতাল ঝড়—
শিকল কামড়ে ছিঁড়ে ফেলি,
আমি অন্ধকারে গর্জে ওঠা সত্যের নখ,
আমি ভয়ের গলায় চেপে ধরা প্রশ্ন।

আমি ধূমকেতু—
আকাশে আঁচড় কাটি, ইতিহাসে দাগ ফেলি,
আমি মিথ্যার কবর খুঁড়ে
সত্যকে তুলে আনি লাল রক্তিম আলোয়।

আমি অগ্নিপানী—
নিভি না, নিস্তেজ হই না;
আমি শিরায় শিরায় সঞ্চারিত বিদ্যুৎ,
আমি হাড়ে হাড়ে কাঁপন তোলা ডাক।

আমি চিৎকার—
ধর্মের মুখোশে লুকোনো অধর্মের বিরুদ্ধে,
আমি শ্লোগান—
মানুষের নামে মানুষ খাওয়ার বিরুদ্ধে।

আমি মাতৃভূমির রক্তাক্ত কণ্ঠ,
আমি শহীদের অসমাপ্ত বাক্য,
আমি পতাকার আঁচলে বাঁধা প্রতিজ্ঞা—
ভাঙবে না, নত হবে না।

আমি ছদ্মবেশ ছিঁড়ে ফেলি,
আমি কপটতার দাঁত উপড়ে দিই,
আমি বিশ্বাসের বুকে
সত্যের খড়্গ বসাই নির্ভীক।

আমি বিদ্রোহী—
আমার হাঁটায় আগুন, আমার চোখে বজ্র,
আমার নিঃশ্বাসে রণডঙ্কা,
আমার নীরবতায়ও আতঙ্ক।

শোনো, হে অশুভ—
আমি শেষ নই, শুরু;
আমি থামি না, ফিরি না;
আমি বিদ্রোহ—
প্রচণ্ড, প্রলয়মুখী, অপ্রতিরোধ্য।
-----------------------------------------


২৩-১২-২০২৫

সোমবার, ডিসেম্বর ২২, ২০২৫

মাতৃভূমির চিত্র

 মাতৃভূমির চিত্র

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
******************************************

আমি আজ নজরুলের রণডঙ্কা ধার করি,
কণ্ঠে আগুন, শব্দে শপথ—
শোনো, হে নিস্তব্ধ জাতি,
দেখো মাতৃভূমির রক্তাক্ত বর্তমান!

যাদের রক্তে স্বাধীনতার সূর্য উঠেছিল,
আজ তাদের গলায় ঝোলে জুতার মালা—
এ কোন সভ্যতা? এ কোন মানবতা?
মুক্তিযোদ্ধা অপমানিত, অপদস্থ—
জাতির মেরুদণ্ডে লাথির শব্দ!

স্বাধীনতার পতাকা আজ অসম্মানে ক্ষতবিক্ষত,
লাল-সবুজ কাঁদে বাতাসে,
আর মুক্তিযোদ্ধার কবরে জ্বলে আগুন—
মৃত্যুর পরও নেই শান্তি,
ছাই হয়ে যায় শ্রদ্ধা!

স্মৃতিস্তম্ভে অগ্রাসন—
ইতিহাসের বুকে হাতুড়ির আঘাত,
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি মুছে ফেলার নীলনকশা,
প্রকৃত ইতিহাসকে বিকৃত করে
মিথ্যাকে বানানো হয় রাষ্ট্রীয় বয়ান!

উগ্রবাদের উত্থান—
বিষাক্ত স্লোগানে রাজপথ ভরে,
ধর্মের নামে অধর্মের চর্চা—
ইমানের মুখোশে হিংসার দাঁত!

মাতৃকার সম্পদ আগুনে পুড়ে,
ছাইয়ের পাহাড়ে দাঁড়িয়ে
লুটতরাজের উল্লাসনৃত্য!
ক্ষমতার অপব্যবহার—
আইনের চোখে অন্ধকার নামায়!

শিক্ষকের অপমান—
জ্ঞানকে টেনে নামানো হয় ধুলোয়,
বিদ্যালয় হয় ভয়ের ঘর,
চিন্তা হয় অপরাধ!

গণতন্ত্রের গলা টিপে ধরা—
ভোট, মত, কণ্ঠ—সব রুদ্ধ,
ফ্যাসিবাদের উত্থান
কালো ছায়া ফেলে রাষ্ট্রের বুকে!

অপমান অপদস্থ—
মানুষ আজ সংখ্যামাত্র,
ক্ষমতার মঞ্চে নৈতিকতার মৃত্যু!

আমি চুপ থাকি না—
আমি আগুনের ভাষায় বলি,
এই চিত্র কোনো দুর্ঘটনা নয়,
এ এক পরিকল্পিত অন্ধকার!

তবু শোনো—
এই মাটির শিরায় এখনো রক্ত গরম,
ছাইয়ের নিচে ঘুমায় বিদ্রোহ,
আর একদিন—
মাতৃভূমি নিজেই উচ্চারণ করবে
অগ্নিবীণার চূড়ান্ত সুর।
-----------------------------------------------------


২২-১২-২০২৫

এ কোন উগ্রবাদ?

 এ কোন উগ্রবাদ?

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান েমাল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
***************************************
শোন্‌ শোন্‌ হে স্বাধীন জাতি—বাজে রণ-ডঙ্কা ঘরে!
কারা এলো ছায়ার দল, আগুন-ঝরা ঝড়ের ভরে?
ঢং ঢং ঢং—জ্বলে ওঠে নগর-গ্রাম, পথ-ঘাট,
গুম-রাতের নখে লেখা অরাজকতার ঘাত!

ঢং ঢং ঢং—রাহাজানি, খুনের হুঙ্কার,
দেশদ্রোহীর দাঁতে ঝরে বিষের অঙ্কার।
যে মুক্তি চেয়েছিলাম—সে মুক্তি আজ শৃঙ্খল,
ভাঙার গান চাপা পড়ে, জিঞ্জিরে জমে কঙ্কাল!

ঢং ঢং ঢং—ধর্মের নামে অধর্মের হাট,
মিথ্যার চাষে ফসল ফলে—ঘৃণার কাঁটা-পাত।
স্বাধীন ভূমির স্বাধীনতা মুছতে চায় কালি,
গৌরবের ইতিহাসে টানে অন্ধকারের জালি!

ঢং ঢং ঢং—মুক্তিযোদ্ধার বুকে ছোড়ে অপমান,
রক্তঋণ অস্বীকারে কাঁপে না তাদের মান।
বাঙালি সংস্কৃতি জ্বালে—গান, নৃত্য, ভাষা,
একুশের ডাক চেপে ধরে বিভেদের ফাঁসা!

ঢং ঢং ঢং—সাম্প্রদায়িক উস্কানি ছুড়ে,
মানুষে মানুষে দেয়াল তোলে, বিষ ঢালে চুড়ে।
ওরে উগ্রবাদ! তুই কীসের শক্তি? ফাঁপা তোর হাঁক,
আলো দেখলেই ছাই হোস—এই তো তোর ফাঁক!

আমি লক্ষ শহীদের রক্তে বলি—বিদ্রোহী শপথ,
বজ্রকণ্ঠে সত্য নামাই—ভাঙি ভয়ের পথ।
ঢং ঢং ঢং—থাম! এই দেশ কারো শিকার নয়,
রক্তে কেনা স্বাধীনতা বিক্রির বাজার নয়!

ধর্ম মানে মানবতা—খুন নয়, ঘৃণা নয়,
দেশ মানে মিলন-সেতু—ভাঙনের সুর নয়।
ঢং ঢং ঢং—হে স্বাধীন জাতি, জাগো, এক হও আজ,
উগ্রবাদের মুখে আগুন—মানবতার বজ্রনাদ!
---------------------------------------------


২২-১২-২০২৫

জ্বলুক মুক্তির শক্তি

 জ্বলুক মুক্তির শক্তি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান েমাল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
************************************

যে আলোর বিরুদ্ধে চিৎকার করে,
যে নবীর প্রতি ঘৃণা ঢেলে,
শোনো—শাস্তি আসে মুহূর্তে,
আগুন জ্বলে, অমান্যকারীর হৃদয়ে!

জ্বল! জ্বল! অমান্য ভস্ম!
জ্বল! জ্বল! সত্যের শক্তি প্রবল!
জ্বল! জ্বল! অমান্য ভস্ম!
ফেরো আলোর পথে, মুক্ত হোক মন!

হাদিস বলে—অমান্য করো না,
আল্লাহ সব দেখে, ন্যায় ধ্রুব সত্য।
যে বিদ্বেষ বপন করে,
তার ফল আসে, আছড়ে পড়ে বিধ্বংসী।

ধ্বংস! ধ্বংস! অন্যায়ের পথ!
ধ্বংস! ধ্বংস! শাস্তির ছায়া!
ধ্বংস! ধ্বংস! অন্যায়ের পথ!
ফেরো তাওবায়, আলোর দীপ জ্বলে!

তবুও আছে পথ ফিরে আসার,
হৃদয় যদি করে তাওবা।
ক্ষমা, সত্য, আলোর দীপ জ্বলে,
অমান্যকারীর অন্ধকার ভেঙে যায়।

আলো! আলো! সত্যের পথে চল!
আলো! আলো! অমান্য ভাঙো!
আলো! আলো! হৃদয় মুক্ত করো!
আলো! আলো! জ্বলুক মুক্তির শক্তি!
------------------------------------------


২২-১২-২০২৫

কালো শক্তির উত্থান

 কালো শক্তির উত্থান

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**************************************

আমি বজ্রের আহ্বান,
আমি রণডঙ্কার হাঁক,
হে যাত্রীরা—জাগো!
আমি নিদ্রাহীন আগুন, আমি জাগ্রত ফাঁক!

আমি দেখেছি—
স্বাধীন সমুদ্র ঘিরে কালো গ্রাস,
নিশাচরের থাবা, শকুনের উল্লাস!
মাস্তুলে আঁচড়, পতাকা রক্তাক্ত,
অন্ধকার হেসে বলে—আজ আমারই রাত!

আমি বলি—না!
আমি বিদ্রোহী, আমি অমান্য, আমি অগ্নিশিখা,
আমি একাত্তরের বজ্রবাহু, অপ্রতিরোধ্য ধাক্কা!
হে যাত্রীরা—শোনো!
নিশিথ রাত্রি ভাঙো!
আমি সূর্য-চেরা শপথ, আমি অন্ধকারের ঘাড় মটকো!

চারদিকে মুনাফিক—
মুখে কোরাস, অন্তরে কূপ,
বিশ্বাসের মুখোশে তারা ঘাতকেরূপ!
স্বাধীনতার বুকে তারা বিষ ঢালে,
মীরজাফরি রক্তে তারা ইতিহাস জ্বালে!

আমি চিনি তাদের!
আমি নামহীন শত্রুর মুখোশ ছিঁড়ি,
আমি সত্যের কুঠার, মিথ্যার শিরচ্ছেদকারী!
হে যাত্রীরা—জাগো!
ঘাতকেরা ঢুকেছে সংগ্রামী কাফেলায়,
শপথের কপাল, পিঠে বিশ্বাসঘাতকতার ছায়া!

আমি ঘোষণা করি—
উগ্রবাদ স্বাধীনতার নয়,
সাম্প্রদায়িকতা আমাদের পথে নিষিদ্ধ ও ক্ষয়!
এই পথ মানবতার,
এই পথ ন্যায়ের,
এই পথ শহীদের রক্তে লেখা বজ্রাক্ষরের ব্যায়!

আমি আগুন,
আমি অশান্ত,
আমি কালো শক্তির ধ্বংস.
আমি প্রশ্ন, আমি প্রতিরোধ!
আমি শৃঙ্খল ভাঙি,
আমি কালো শক্তির বুকে লিখি—বিদ্রোহের কোড!

হে যাত্রীরা—শোনো আমার শপথ!
এই পথ হারাবার নহে—নহে—নহে!
আমি যতক্ষণ নিঃশ্বাস,
স্বাধীনতা ততক্ষণ অদম্য স্রোতে বহে!

আমি বজ্র, আমি বারুদ, আমি যুদ্ধের গান,
আমি বিদ্রোহী—
আমি মাথা নত করি না কোনো কালো শক্তির সামনে!
-----------------------------------------------------


২২-১২-২০২৫

বিদ্রোহের মন্ত্র

 বিদ্রোহের মন্ত্র

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
**************************************

হে মাঝি—জাগো!জাগো!জাগো!
আমি ডাকছি ঝঞ্ঝার কণ্ঠে,
আমি ডাকছি বজ্রের ছন্দে—
ঘুম ভাঙাও! ঘুম ভাঙাও!!
এই ঘুমই আজ শত্রুর সবচেয়ে বড় সহচর।

ওহে শুনো,আমি বলি—
আমি আগুন, আমি তুফান,
আমি ভাঙন, আমি বিস্ফোরণ,
আমি শৃঙ্খল-ছেঁড়া মানুষের
উল্লম্ফন!

ওহে দেখো ওহে দেখো
কালো শক্তিরা আজ ফণা তুলেছে,
দাঁতে দাঁতে বিষ, চোখে চোখে হিংসা,
ওরা স্বাধীন পতাকার রঙ চুষে খায়,
আর ইতিহাসের বুক চিরে বানায় মিথ্যার সাম্রাজ্য।

হে মাঝি—জাগো!জাগো!জাগো!
এই মাস্তুলে যে পতাকা,
সে শুধু কাপড় নয়—সে শপথ,
সে অস্থি, সে অগ্নি,
সে লক্ষ শহীদের রক্তে লেখা বজ্রাক্ষর সত্য।

আমি বলি—
ধিক! ধিক!! ধিক!!!
যারা মুখে মধু, বুকে ছুরি,
যারা ধর্মের নাম ভাঙিয়ে
মানুষকে খণ্ড খণ্ড করে বিক্রি করে—
ওরা মানুষ নয়, ওরা অমানুষের মিছিল।

ওহে শুনো,স্বাধীনতা আজ বন্দি?
হা! বন্দি?
স্বাধীনতা বন্দি হয় না—
স্বাধীনতা হয় শিকল ভাঙার চিৎকার,
স্বাধীনতা হয় ফেটে পড়া আগ্নেয়গিরি,
স্বাধীনতা হয় “না”—একটি মাত্র অক্ষরে
সাম্রাজ্যের মৃত্যু।

হে মাঝি—জাগো!জাগো!জাগো!
একাত্তর কোনো স্মৃতি নয়,
একাত্তর এক অনিবার্য বিদ্রোহ,
যা যখনই শত্রু ফিরে আসে
তখনই জ্বলে ওঠে দাবানলের মতো—নির্বংশ।

আমি ঘোষণা করি—
উগ্রতা স্বাধীনতার সন্তান নয়,
সাম্প্রদায়িকতা মানুষের ধর্ম নয়,
এরা শ্মশানের চিতা,
এরা সভ্যতার কফিনে পেরেক।

আমি চাই—
দেশ প্রেম হোক তলোয়ার,
ছন্দ হোক কামান,
পংক্তি হোক আগুনের গোলা—
যাতে কালো শক্তির দুর্গ
ছাই হয়ে উড়ে যায় বাতাসে।

হে মাঝি—জাগো!জাগো!জাগো!
হাল ধরো বিদ্রোহী হাতে,
ভয় পেলে চলবে না,
কারণ যে জাতি ভয়কে জয় করে,
তার পতাকা কখনো নত হয় না।

আমি বিদ্রোহী—
আমি চূর্ণ করি অশুভের সিংহাসন,
আমি ভাঙি মিথ্যার মন্দির,
আমি গড়ি মানুষের দেশ—
যেখানে লাল-সবুজ মানে
শুধু রং নয়,
মানুষের মুক্ত শ্বাস।

হে মাঝি—জাগো! জাগো!! জাগো!!!
এই পথ হারাবার নয়—
কারণ এই পথই আগুন,
এই পথই বিদ্রোহ,
এই পথই স্বাধীনতার
চিরজাগ্রত বজ্রনিনাদ।
--------------------------------------------------


২২-১২-২০২৫

বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১৮, ২০২৫

বিজয় তুমি কার?

 বিজয় তুমি কার?

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
***********************************

বিজয়, তুমি কার—হে মা, বলো তো আজ!
মুক্তিযোদ্ধার নাকি স্বাধীনতা বিরোধীদের পদচিহ্নে?
যারা লক্ষ শহীদের রক্তে লেখা লাল-সবুজকে মেনে নেয়নি,
তাদের হাতে কি এ বিজয় হয়, মা?

গলায় টিপেছে যারা বীরদের,
বিকৃত করেছে ইতিহাসের মুখোশ,
আজ সেইদের হাতে লাল-সবুজ পতাকা!
এ কি সত্যিকারের দেশপ্রেম,
নাকি আরেকটি মুনাফিকের হাসি?

রক্তের দাম কোথায়, মা?
বোনের ইজ্জতের দাম কোথায়?
হুজুগে ভরা জাতি কি বোঝে মুক্তির স্বাদ?
হিংসা-প্রতিহিংসার খেলা,
স্বাধীনতার মূল্য কে জানে?
এর চেয়ে লজ্জা আর কি আছে!

বিজয়, তুমি কি শহীদের আত্মত্যাগের সুর,
নাকি বিকৃত ইতিহাসের ছায়া?
তুমি কি বহন করবে সত্যিকারের দেশপ্রেম,
নাকি হবেন মুনাফিকের মুখোশে ঢাকা?

আমরা জানি, মা,
বিজয় সেই, যে চিরকাল স্মরণ করবে
শহীদের রক্ত, মাতৃভূমির মুক্তি,
আর লাল-সবুজের অমলিন চেতনা।

এই বিজয় আমাদের, মা—
সত্যিকারের দেশপ্রেমিকেরই।
লাল-সবুজের দীপ্তিতে,
রক্তের স্বপনে,
বিজয় হবে স্বাধীনতার অমর সঙ্গীত।

বিজয় আমাদের—হে মা, আমাদেরই!
শহীদের রক্ত, মাতৃভূমির মুক্তি,
লাল-সবুজের দীপ্তিতে,
অমর হবে চেতনার বিজয়!


১৮-১২-২০২৫

বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১১, ২০২৫

দাঁড়ির আলো

 দাঁড়ির আলো

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
******************************************

দাঁড়ি—মুমিনের কাছে শুধু রোমের রেখা নয়,
এ যেন সুন্নতের শীতল ছায়া,
রহমতের বারান্দায় ঝুলে থাকা
একটি ছোট আলো—
যেখানে তাকওয়ার নীরব ছন্দে
দোলা খায় বিনয়, দোহাই আর আনুগত্য।

তবু যারা এর মাঝে রাজনীতির ছায়া খোঁজে—
তারা যেন গোধূলির কোমল আভা দেখে
ধরেছে অগ্নিকুণ্ডের রঙ ভেবে।
দৃষ্টি আছে, কিন্তু দৃষ্টির নূর নেই;
বাহ্যিক চিহ্নে বিচার করে,
অন্তরের আলোতে নয়।

মুমিনের দাঁড়ি কাউকে বিভক্ত করার পতাকা নয়—
এ কোনো দলের ডাক, কোনো মতাদর্শের শ্লোগান নয়;
এ তো কোরআনের অনুগত একটি নীরব রেখা,
রাসূলের সুন্নাহর প্রতি দাসত্বের কোমল ঘোষণা;
যেন সাদা পাতায় ছোট্ট কালো হরফ—
কিন্তু অর্থে গভীর, প্রজ্ঞায় দীপ্ত।

যারা দাঁড়িকে দেখেই ব্যঙ্গের তীর ছোঁড়ে,
তারা যেন শীতের কুয়াশায় পথ দেখে
মরূদ্যানকে মরীচিকা ভাবে।
তারা বোঝে না—
মুমিনের বাহ্যিক ছাপ
হৃদয়ের ইমানেরই প্রতিফলন,
যা মানুষের বিচার নয়—
রবের সন্তুষ্টির জন্য।

মুমিনেরা রাগ করে না—
তাদের ভাষা অভিযোগ নয়, দোয়া;
হৃদয় উন্মুক্ত, নিয়ত পরিষ্কার।
তারা বলে—
হে পরম দয়ালু আল্লাহ,
আপনি তাদেরকে হেদায়েত দিন
যারা দাঁড়ির আলোয় দেখে অন্ধকার,
যারা সুন্নাহর রেখায় খোঁজে বিভেদ।

তাদের চোখে দিন সেই নূর
যা সত্যকে চিনতে শেখায়;
দাও সেই প্রজ্ঞা,
যা বাহ্যিক নয়, অন্তরের সৌন্দর্য দেখে;
দাও সেই সঠিক দৃষ্টি
যা বুঝতে পারে—
দাঁড়ি কোনো রাজনীতি নয়,
এ তো আনুগত্যের সিক্ত ছায়া,
ধর্মীয় শৃঙ্খলার এক পবিত্র পরিচয়।

মুমিনের কথা তাই একটাই—
ঘৃণা নয়, দোয়া;
বিরোধ নয়, শান্তির আকাঙ্ক্ষা।
আর সেই দোয়ায় অটল থাকে তাদের প্রার্থনা—

যারা দাঁড়ি দেখে রাজনীতি খোঁজে
এবং মুমিনকে বিব্রত করে—
মহান আল্লাহ তাদেরকে হেদায়েত দান করুন।
------------------------------------------------------------


১১-১২-২০২৫

বাবা দিবসের প্রার্থনা (গান)

  কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর **************************************** তোমাকে নিয়ে কবিতা লিখতে বসলে কলম...