বুধবার, আগস্ট ১২, ২০২৬

হে সুপ্ত পল্লী কবি, জাগো!

 কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর

*********************************************

রাওনাট গ্রামের মেঠো পথ-ধূলি কাঁদে রে আকুল তানে,
রফিকুলের সেই পল্লী-গীতিকা সুর নাহি আর কানে!
ভুলেছ কি সেই দিন?
যবে ক্লাসরুম ছিল নিঝুম ও শব্দহীন,
তখন আলোক-বর্তিকা প্রিয় ফিরোজ স্যার—
ভেঙে দিয়ে সব নীরবতার ওই পাষাণ-রুদ্ধ দ্বার,
ডেকে বলেছিলেন সবার সমুখে বাড়িয়ে আশার হাত:
"তুই একদিন মস্ত বড় কবি হবি, ঘুচাবি মনের রাত!
তুই জসিমউদ্দীনের মতো—
হবি পল্লী কবি, এ বাংলায় প্রতিভা তোর যে কত!
তোর মাঝে দেখি সেই কাব্যের ভাব, দেখি সুপ্ত আলো!"
সেই বাণী শুনে গ্রামের মানুষ তোমায় বেসেছে ভালো।

তবে কেন এই বিষাদের লাজ, তবে কেন এই ভয়?
কেন হীনমন্যতা-কুহেলিকায় ঢেকেছ কবির জয়?
কেন দিলে বিসর্জন—
আপনার মাঝে সমাধি দিলে রে আপন দীপ্ত মন?

কতবার আমি বলেছি তোমায় আকুল মিনতি গায়,
"
কবিতা লেখো রে, রূপ দাও এই রূপসী গাঁয়ের মায়!"
মানুষের সুপ্ত মনন জাগাও,
কলমের ওই কালির টানেতে স্যারের স্বপ্ন বাঁচাও!

তুমি সামাজিক, তুমি যে সেবক, তুমি তো রৌদ্র-কর,
সংগঠনেতে তুমিই অগ্রণী, ভেঙে দাও জড়তার ঘর।
তুমি মাঠের খেলোয়াড়,
বন্ধুর বুকে বন্ধুত্বের তুমি অক্ষয় সেতুবন্ধন আর!

শুধু কবিতাটি নাই রে তোমার, শুধু নাই সেই সুর,
আজ সাহিত্যের ওই আঙিনাতে তোর ডাক সুদূর!
তুই পারবি রে ভাই,
কোনো সংশয়, কোনো দ্বিধা যেন তোর মনে কভু নাই!

হীনমন্যতা হোক চুরমার, ভেঙে যাক সব ভুল,
তুই সাহিত্যের পরুধা-পুরোধা, প্রস্ফুটিত বকুল!
জেগে ওঠ্ রফিকুল,
কলমের টানে ফুটিয়ে তোল্ রে বাংলার সমূল!

রাওনাট গ্রামের মেঠো পথ-ধূলি কাঁদে রে আকুল তানে,
রফিকুলের সেই পল্লী-গীতিকা সুর নাহি আর কানে!

হীনমন্যতা হোক চুরমার, তুই সাহিত্যের হরে পুরোধা,
জেগে ওঠ্ রফিকুল, কলমেই হোক তোর জয়ের মহড়া!

-----------------------------------

 

 

 

ত্রয়ী আলো

 কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

********************************************

রাওনাট গ্রাম, পশ্চিম পাড়া, মোল্লা বাড়ীর কোল,
সেথায় জেগেছিল তিন হৃদয়ের প্রথম কল্লোল।
ভিন রক্তের ধমনী ও শিরা,
তবু যেন এক মায়ার মদিরা!
তিনটি শরীর মূর্ত হয়েছে একটি প্রেমের গানে,
একটি আত্মায় তিনটি সুতো যে বাঁধা প্রকৃতির টানে।

শৈশবের সেই ধূলিময় মাঠ, পাঠশালার ক্ষণ,
আজো এক সাথে বেঁধে রেখেছে রে অনুক্ষণ।
বাধাহীন নদী সাগরে মিশেছে জীবনের মহাবেগে,
ওরা তিনজন স্ব স্ব মহিমায় আজো রয়েছে জেগে।

যেমন অরণ্যে জড়িয়ে থাকে লতা,
অটল পাহাড়ের গায়,
ওদের মিলন মেলা মিশে থাক
প্রকৃতির অক্ষয় মহিমায়।

যেমন ফোটে ত্রিদল পদ্ম এক সরোবরে,
ওরা বিকশিত স্ব স্ব ক্ষেত্রে, কীর্তির রাজঘরে।
কখনো বা যদি মেঘ নেমে আসে ভিন্ন মতের টানে,
ক্ষণিকে ওরাই পূর্ণিমা হয়ে জাগে আঁধারের প্রাণে।

দিবালোক সম প্রখর উজ্জ্বল সমাজের প্রতি স্তরে,
মানবিকতার সুধা ঢেলে দেয় আর্দ্র চাতক ঘরে।
ওরা সাম্যের ঋত্বিক, ওরা ঐক্যের জয়গান,
নম্র-ভদ্র আচরণের উপমায় অনন্য অভিধান।

বন্ধন ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের ওরাই তো মূল ভিত্তি,
সেবার আলোয় রাঙিয়ে তুলেছে এই সমাজের কীর্তি।

ইঞ্জিঃ ফজলুল কবির মোল্লা—প্রগতির ধ্রুবতারা,
ইঞ্জিনিয়ার শফিকুর রহমান মোল্লা—মননে মুক্তধারা,
হাদিউল ইসলাম মোল্লা—চিন্তায় যিনি শুদ্ধ সুবাস,
তিনটি প্রাণ এক হয়ে গড়ে কল্যাণের আকাশ।

মনে পড়ে আজ স্মৃতির পাতায় ঝড়ের সেই সংকেত,
'
স্মৃতির আলপনা' বুনেছিলাম যেথায় মনের খেত।
দুষ্টলোকের হিংস্র দাবানলে ভেঙেছিল মোর আশ,
হৃদয়কাননে নেমে এসেছিল আঁধার অমাবস্যা কাশ।

সেদিন ওরাই অরণ্যের মতো দিল ছায়া, দিল বল,
সাহস, প্রেরণা আর অর্থ দিয়ে মুছাল আঁখিজল।
ওদেরই আশিসে আলোর মুখ দেখল কাব্যখানি,
ধন্য হলো 'স্মৃতির আলপনা'র সেই আকুল বাণী।

কৃতজ্ঞতার অঞ্জলি হাতে আমি যে অবনত,
রাওনাট মোল্লা বাড়ীর গৌরব ধন্য করুক শত।
মৃত্যুর ওপারে মৃত্যুঞ্জয়ী ওরাই তো অবিনাশী,
মানুষের মনে ফুটে রবে চিরকাল ওদের সুহৃদ হাসি

যেমন অটল গিরি-কন্দরে লতা জড়ায় প্রেমের পাকে,
প্রকৃতির এই অক্ষয় বন্ধন ওদের অমর করে রাখে।

--------------------------------------------------------------

 

“অগ্নিপথের অগ্রনায়ক”

    কলমে : মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা। রাওনাট , কাপাসিয়া , গাজীপুর। -------------------------------------- একাত্তরের অগ্নিস্মৃতি ,...