রবিবার, নভেম্বর ২৩, ২০২৫

ভূমিকম্পের প্রতিটি ধাক্কা

 ভূমিকম্পের প্রতিটি ধাক্কা


কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
****************************************

কাঁপে ধরনি! ওঠে বজ্র—কার আদেশে থরথরি?
রবের গর্জন বজ্রধ্বনি, দুনিয়া আজ কেনো অন্ধ-অহংকারী?
জমিন যখন বুকের ভিতর আগ্নি হয়ে কেঁপে ওঠে,
কোরআনে সেই বাণী লেখা—যিলযালাহর রণকোঁটে!

বলল রবঃ “যখন কাঁপিবে জমিন ভয়ংকর কাঁপনে,”
মানুষ তখন খুঁজবে পথ—কে বাঁচাবে সেই দাপটে?
হায়! গুনাহ যখন ছড়ায় ধূলি হয়ে আকাশ-বাতাসে,
অশ্লীলতার আগুন জ্বলে অন্তরে ও ভাষায় সর্বনাশে,
জুলুম যখন ছায়া ফেলে রক্তমাখা সমাজ-গাছে—
তখন ধরনিই কাঁদে প্রথম, মানুষ জাগে সর্বশেষে!

রাসূল বলেছিলেন অশ্রুস্বর—
“জুলুম বাড়লে কাঁপে ধরতি”—বিচারেরই ঘোষণা,
মানুষ যেন ফিরে আসে স্বীয় রবের দরবারে—
নয় তো ভেঙে যায় দালানকোঠা, ধুলায় মেশে অরণ্য-নগরখানা।

হে মানুষ! ভয় যদি পাও, তবে ভবে কেনো এত কঠিন?
যে আল্লাহ কাঁপান ধরতি, তিনিই দেন আস্তিন–
তওবার বৃষ্টি, রহমতের ছায়া, শান্তি-দানের কূপ,
ফিরে গেলে তাঁরই পথে, ভয় সব ভেঙে যায় সম্পূর্ণরূপ।

করণীয় কী? শুনো তবে—
— পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে দাঁড়াও, ঈমানকে করো উচ্চ পর্বত,
— গুনাহ হতে তওবা করো, মন করো ধুয়ে নির্মল স্রোতে,
— জুলুম ত্যাগ, সত্যে দৃঢ়, করো ন্যায়ের পতাকা উড়ে,
— অসহায়-দরিদ্র পাশে দাঁড়াও সদকার দীপ্তি ধরে।

কাঁপুক ধরতি—ঈমানী হৃদয় কাঁপবে না এক শল্ক!
যে রব সৃষ্টি করেন কম্পন—তাঁরই হাতে নিরাপদ সব পথ।
ভূমিকম্পের প্রতিটি ধাক্কা যেন তওবার ডাক—
ফিরে চলো! প্রভুর দ্বারে—রহমতের আলো আজও অক্ষয়।
------------------------------------------------------------


২৩-১১-২০২৫

বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ২০, ২০২৫

আশরাফুল মাখলুকাত

 আশরাফুল মাখলুকাত

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
****************************************

আল্লাহর কুদরতে খুঁজে পাই
মানবের দীপ্তি,
চিরদিন মোর অন্তরে।
মাটির কণায় শ্বাস আমারে
আত্মার স্রোতে ভাসায়,
হৃদয়ে সদকা, নেকি বয়ে চলে
আলোর পথে।

কোরআনে লেখা, শোনো বান্দা,
“মানুষের জন্য বানিয়েছি আমি দয়া,”
প্রতিটি প্রাণকে সেবা শিখায়,
প্রতিটি জীবনে আলো ছড়ায়।
নদী, বাতাস, ফুলে ফুলে,
চন্দ্র-তারার আলোয়
মানুষের হৃদয় ভরে আনন্দে।

সেরা তোমাদের, যারা মানুষকে উপকারী,
চিরন্তন প্রেরণার সঙ্গী,
জ্ঞান, ধৈর্য, নেকি মিলায়,
অন্তরের গহরে আলোর গান।
আশরাফুল মাখলুকাত মানব,
নেক কাজের প্রতীক,
সৃষ্টির পথে আলোকিত হোক।

আজকের বিকেলে, অন্তরের আলো জ্বলে,
হৃদয়ে সদকা, কাজের ইমান—
মানবের আলো বয়ে আনে।
প্রকৃতির ছন্দে, নদী, বাতাস, আলো,
হোক প্রেমের সোনালি প্রবাহ,
প্রতিটি নীরব ক্ষণে
প্রতিটি সৃষ্টির দ্যুতি।

মানব হোক আলোর পথে, পথিকের দিশারী,
জীবনের প্রতিটি ক্ষণ যেন আলো ছড়ায়।
আল্লাহর রহমত, দয়া, আলো—
চিরন্তন মানবের দ্যুতিক।
আশরাফুল মাখলুকাত মানব,
নেক কাজের প্রতীক,
হৃদয়ে চির অমলিন।
-------------------------------------


২০-১১-২০২৫

হঠাৎ মৃত্যু

 হঠাৎ মৃত্যু

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া, গাজীপুর
********************************

হঠাৎ মৃত্যু আসে, জানি না কখন,
প্রভুর পথে চলা হোক সবার জীবন।
নামাজে বাঁধা হৃদয়, দোয়ায় ভরা মন,
সদকাহ নেক কাজ রাখি, মৃত্যুর দিন হোক ধন।


আল্লাহর রহমত অসীম, অফুরান,
হঠাৎ মৃত্যু প্রভুর পরীক্ষা, আশ্রয় সকল প্রাণ।
প্রিয়জন চলে গেলে, শূন্য হয়ে যায় মন,
কোরআন বলে স্মরণ কর, মৃত্যুর দিন আল্লাহ হয় সঙ্গী প্রাণ।


হঠাৎ মৃত্যু শিক্ষা দেয়, দুনিয়ার সব অস্থায়ী,
তাওহীদ মানলে জীবন হয় পূর্ণ, মন হয় শান্তায়ী।
সৎ পথে চলা হোক, নৈতিকতার আলো জ্বলে,
মৃত্যুর ভয় হোক প্রভুর কাছে, দোয়া ও ভালোবাসায় ভরে।

প্রভুর হুকুম মানলে, মৃত্যুর দিনও আনন্দে ভরে,
বিশ্বাস নেক কাজ নিয়ে চল, হোক জীবন অমলিন গানে ভরে।
প্রতিটি মুহূর্তে স্মরণ কর, মৃত্যু যে হঠাৎ আসে,
নেক কাজ, তাওহীদ, নামাজে বাঁধা জীবন সাজাও, হে ভাই হে বোন সবাই।

হঠাৎ মৃত্যু আসে, হঠাৎ মৃত্যু আসে,
নেক কাজ, তাওহীদ, নামাজে বাঁধা জীবন সাজাও।
------------------------------------------------


২০-১১-২০২৫

বখাটে সন্তান জাতির অভিশাপ

 

বখাটে সন্তান জাতির অভিশাপ
- মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

বখাটে সন্তান জাতির অভিশাপ
কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************

অভিভাবক! কেন আজ তুমি ঘুমাও অলস নিশ্চিন্ত কোলে?
সন্তান তোমার অচেনা পথে—রাত্রি জাগে হেলে দোলে!
পড়ার টেবিল ফেলে রেখে মোবাইলে ডোবে মায়া জালে,
কে জানে কোন অন্ধ কারাগারে আটকে যাচ্ছে ভবিষ্যৎ কালে!

তুমি শুধু দাও ইচ্ছের সোনা—শাসনের নেই কঠোর শপথ,
এই দায়হীন স্বাধীনতায় ছেলে-মেয়ে হাঁটে বিপথে শত।
মাদক লেগে বিষের ঢেউয়ে দুঃস্বপ্ন নামে কিশোর বুকে,
বন্ধুর নামে দস্যু ওড়ে—টানে তাকে অতল সুখে-দুঃখে!

কেউ সাজে প্রেমের নকল মুখোশে—অবৈধ আগুন জ্বালে প্রাণ,
নষ্ট পথে জন্ম নেয় শত দুঃখ—কাঁদে বিবেক, কাঁদে আইন-জ্ঞান।
দখলবাজি, চাঁদাবাজি, রাহাজানি—কানে বাজে বিদ্রোহী ঘণ্টা,
কিশোর গ্যাংয়ের রক্তমদিরা ছাপিয়ে দেয় জীবন-চিত্রা।

লেখাপড়া ছুঁড়ে ফেলে অন্ধকারে—চোখে নেশার ঝড়ের নাচ,
বাবা-মায়ের বুক চিরে ওঠে কান্না—শেষে আত্মহত্যার কাঁচ!
তোমরা যদি আজও না জাগো—জাতি হবে শবের সমাধি,
শাসনহীন সন্তান জাতির শত্রু—তাদের মনে বিষের বাঁধি!

হে অভিভাবক! আজ উঠো জেগে—হও সন্তানের রক্ষাকবচ,
ভালোবাসার আয়রন রডে গড়ো তার চিত্ত, করো মনকে উন্নত!
নজরুলের সেই অগ্নি-কণ্ঠে ডাকি—
“জাগো মানব, জাগো পিতা-মাতা, নাও শাসনের অগ্নি-শপথ!”

বখাটে সন্তান জাতির অভিশাপ—
সততার পথে ফিরিয়ে আনা অভিভাবকেরই পবিত্র দায়িত্ব!
------------------------------------------


২০-১১-২০২৫

ধূপমানের ক্ষতি

 ধূপমানের ক্ষতি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**************************************
ধূপের ধোঁয়া আজ উঠিছে জাগি— অন্ধকারের বিষদূত রূপে,
মানুষ ঘুমায়, ঘর জ্বলে ক্ষয়ে— মৃত্যুর ছায়া লুকায় ধূপে!
হে মানব! তুই জাগবি কবে? নিশ্বাস কেন আজ শিকলে বাঁধা?
বিজ্ঞান বলে— ক্ষুদ্র কণা যেন রক্তে ঢোকে তীরের সাধা!

ফরম্যালডিহাইড— বিষের তরবারি, ফুসফুস কাঁপে দুঃখের ক্ষয়ে,
ধূপের গন্ধ নয়, এটি মৃত্যুর মুখোশ— নিশ্বাস কেড়ে নেয় হঠাৎ ধেয়ে।
হে তরুণ! হে বৃদ্ধ! হে মা! শিশুরা শ্বাস নেয় কোন অপরাধে?
ধোঁয়ার ভিতর লুকিয়ে থাকে মৃত্যুর রথ— করুণ অশনীসাধে!

অর্থের ক্ষয়— সংসারের কাঁধে দুঃখচূড়া হয়ে ওঠে চূড়াল,
ধূপ মানিতে টাকা যায়, পরে রোগে বিল হয় পর্বতকাল!
কে শোনে! কে বোঝে! ধোঁয়ার নেশায় হারায় ঘরের পবিত্র আলো,
যে গন্ধ ছড়ায় ক্ষণিক সুখ— সে-ই পরে আনে দীর্ঘশোকের কালো!

সামাজিক পথে ছড়ায় বিবাদ— ধোঁয়া গিয়ে পড়ে পরের জালে,
কান্না ওঠে শিশুর বুকে, বৃদ্ধের বুকে ব্যথা চালে।
ভাইর ঘরে বিষ ঢোকে কেন? ধোঁয়ার নামে কুসংস্কার,
মানুষ মানুষ হতে দূরে— ধূপের ধোঁয়া জ্বলে আঁধার।

ধর্মের ঘরে ধূপের ধোঁয়া— মনোযোগ কেড়ে নেয় নির্মল তাপ,
ইবাদতে শান্তি চায়— ধোঁয়া এনে দেয় ছিন্ন ছাপ।
খুশু-খুজুর স্রোত ভেঙে— মন ভাসে উদ্বিগ্ন ছায়ায়,
ধূপের ধোঁয়া পবিত্রতা শুষে নেয় অশান্তির দায়ায়।

হে মানবজাতি! জাগো আজ— ধূপের ধোঁয়া নয় জীবনের পথ,
শুদ্ধ বাতাসে বাঁচে ইবাদত, বাঁচে নীতি, বাঁচে মহত্ত্ব-রথ।
ধূপ মানিলে ধর্ম নয় বাড়ে— বাড়ে বিষ, বাড়ে অন্ধ ক্ষতি,
ধোঁয়ার বদলে আলো জ্বালো— সত্যের শিখায় তাড়াও অমিটি!

বিদ্রোহীর কণ্ঠে আজ ডাক—
“ধোঁয়ার বিরুদ্ধে দাঁড়াও মানব! শুদ্ধ নিশ্বাসে তোলো শপথ,
ধূপের ক্ষতি ভাঙো আজই— মুক্ত করো জীবন, পরিবার, স্বদেশমত!”

এসো হে যুবক! এসো হে যুবতী!—
গর্জে বলি বিদ্রোহীর সুরে,
“ধূপ নয়, চাই নির্মল জীবন—
ধোঁয়ার অন্ধকার ভাঙো পুরে!”
--------------------------------------------------------


২০-১১-২০২৫

কাপাসিয়ার কাঁঠালের গান

 কাপাসিয়ার কাঁঠালের গান

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
****************************************

সবুজ শ্যামলে কাপাসিয়ার মাঠ,
লাল কাঁঠালের ঝুড়ি ঝরে ঝরে রসের আভাস রাত।
দূর-দূরান্ত থেকে আসে পাইকারেরা,
হাত ভরা কাঁঠাল, মুখে হাসি, চোখে জ্বলে ধারা।

বারিষাবের খেতে ঘ্রাণ মিষ্টির ঝড়,
খিরাটীর সোনালি রোদে নেচে ওঠে জমি-খড়।
খোদাদিয়ার বাগানে লাল কাঁঠালের ঝিলিক,
বরুনের মাঠে ফোটে শিশুর হাসি, কৃষকের ঘামে ভরা কোণিক।

কান্দানিয়া, চাঁদপুর, কামড়া মাশকের বাগান,
ফুলে ওঠে উৎসব, বাজে সোনার গান।
ঘাটকুড়ি, রাওনাট, ভূবনেরচালা—প্রতিটি গ্রামে,
মাঠের কাঁঠাল যেন মুক্তির স্বপ্নে ভরা প্রান্তর তানে।

জামিরারচর, সূর্য্যনারায়ণপুর, পাবুর বাগানে,
প্রতিটি গাছে ঝরে রস, ঘ্রাণে ভরা হাসির ধ্বনি।
রাউৎকোনা, কাজাহাজী, চাকৈল, বড়জোনায়,
মৌসুম এলেই মাঠ-ঘাটে ভরে ওঠে আনন্দের ঢেউ।

দুর্গাপুর, তরগাঁও, নবীপুর, বাঘিয়ায়,
পাইকারেরা আসে খুঁজতে মিষ্টি কাঁঠাল ঘরে।
মৈশন, উত্তরখামের, সোনারুয়া, পিরিজপুরে,
উঁচু মাটিতে চারা রোপণ করলে ফলন হয় দীর্ঘকাল ধরে।

বেগুনহাটি, কড়িহাতা, কাপাসিয়া, সিংহশ্রী, রায়েদ,
প্রতিটি বাগান যেন জীবন ও বিদ্রোহের খনি।
দরদরিয়া, চৌরাপাড়া, বড়হর, বাগেরহাটে,
কৃষকের ঘাম, হাসি, পরিশ্রম—কাঁঠালের ঘ্রাণে ভেসে।

ভুলেশ্বর, বেলাশী, কপালেশ্বর, গিয়াসপুর, বারাব,
উৎসবের ধ্বনি বাজে বাজারে, কাঁঠালের আনন্দে ভরা।
উজলী, কির্ত্তুনিয়া, গাওরার, ভেরারচালা,
ছাতির বাজার, টোক, সনমানিয়া—সব মিলিয়ে উৎসবের ঝড়।

রাওনাটের বাগানে ঝরে মিষ্টি রসের ঝিলিক,
কৃষকের মুখে হাসি, মাঠে ভরে আনন্দের মিলিক।
শ্রীপুরের বাজারে ভিড় জমে ঢেউ,
জিআই স্বীকৃত কাঁঠাল ছড়িয়ে দেয় খ্যাতি দেশে-বিদেশে।

নগরহাওলা, চকপাড়া, টেপিরবাড়ি, রাজাবাড়ি,
ছাতির, চন্নাপাড়া, কেওয়া—বাজারে ধন, খুশির ফোয়ারি।
ট্রাকে ট্রাকে যায় দেশের কোণে কোণে,
পাইকারের খুশি, কৃষকের পরিশ্রমের সোনার সোনে।

খাজা, গালা, দুরসা—প্রকারে ভিন্ন,
মিষ্টির স্বাদে মেলে মানুষের মনে শোভা অনন্য।
কাঁঠালের কাঠে বানানো আসবাব, ঘরে ঘরে পিঠার স্রোত,
মাটির ঘ্রাণে ভরা প্রতিটি কাঁঠাল, কৃষকের হাসির কোদ।

মৌসুমের দিনগুলো ভরে হাসি আর গান,
প্রতিটি বাজারে আনন্দের বাঁধ ভাঙে ধান।
পাইকারেরা ছুটে আসে, ক্রেতারা আনন্দিত,
প্রতিটি কাঁঠাল বাগান, গ্রামীণ জীবনের প্রণীত।

শ্রীপুর, কাপাসিয়া, রাওনাট—সব গ্রামে,
কাঁঠালের ঘ্রাণে ভরে ওঠে প্রাণের ধামে।
হিমাগার হোক, নীতি হোক, প্রশিক্ষণ হোক সঠিক,
কাঁঠাল হোক দেশের শক্তি, ভবিষ্যতের দিশা নির্মিত।

সবুজ শ্যামলে কাপাসিয়া গ্রাম,
কাঁঠালের ঘ্রাণে মেলে জীবন-ধারার ধাম।
কৃষকের পরিশ্রম, গ্রামের হাসি, বাগানের কাঁঠাল,
মাটির দানে ভরে ওঠে দেশের সুখ-স্মৃতির পাল।

বিদেশেও রপ্তানি হয়—কাপাসিয়ার কাঁঠাল, গৌরবের মালা।


২০-১১-২০২৫

কাপাসিয়ার আখ

 কাপাসিয়ার আখ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
***************************************

উইড়া যায়রে আখের পাতা হাওয়ায় নাচি,
রাওনাটের মাঠে কৃষ্ণরাজের লম্বা ডালি ছাঁদিতে।

পাবুর খেতে গুড়িয়ার হেসে ওঠে রোদ,
কাপাসিয়ার মাঠে রাজমুখীর লম্বা ডানা ফোটে মোদ।

চাঁদপুরে নীলকণ্ঠের ছায়া নীরবে পড়ে মাটিতে,
সাদা আখ, হলুদ আখ—মাঠে ছড়ায় সবুজ রঙের বাতিতে।

কৃষকের কাঁধে ঘাম, চোখে হাসির আলো,
বাজারে বাজারে বিক্রি, গুড়ের মেলায় আনন্দের ঝলো।

গুড়ের ঘ্রাণে ঘর ভরে পিঠা, চাটনি, মিষ্টি খেলা,
মাটির ঘ্রাণে ভরে মাঠ, গ্রামের উৎসবের মেলা।

মাঠে মাঠে আখের ছায়া, শিশুরা খেলে খুশিতে,
বৃদ্ধও মেলে হাসি, আখের ডাল ছোঁয়ে প্রিয় কিশোরীতে।

কৃষ্ণরাজের গুড়, গুড়িয়ার মিষ্টি স্বাদ,
রাজমুখীর উঁচু আখ, নীলকণ্ঠ লম্বা, সুগভীর নাদ।

রাওনাট থেকে কাপাসিয়া, পাবু থেকে চাঁদপুর,
আখের খেতে বাজে জীবন, মাঠে উৎসবের উচ্ছ্বাসপুর।

বাজারে লেলানো আখ, গুড়ের মেলায় আলো,
মাটির ঘ্রাণে ভরে প্রাণ, কৃষকের ঘাম শান্তি বাজে।

সারা খেত ভরে মাঠ, বাতাসে বাজে গান,
কাপাসিয়ার আখের বন্দনা—বাংলার প্রাণে জীবন জ্বান।

মাঠে মাঠে আখ, বাজারে বাজারে গুড়,
কৃষকের ঘামে গড়া সুখ, বাংলার প্রাণে ডুমুড়।

মাটির বুকে খুঁজে পাওয়া স্বর্ণ, মাঠে মাঠে ফুল ফোটে,
কাপাসিয়ার আখের বন্দনা—বাংলার হৃদয় ছুঁয়ে ওঠে।

রাওনাটের আলো, কাপাসিয়ার হাসি,
পাবুর হাওয়া, চাঁদপুরের মধুরবাসি।

কৃষকের ঘামে গড়া সুখ, আখের ঘ্রাণে আশা,
বাংলার মাঠে বাজুক গান, আনন্দ হোক প্রিয় ভাসা।
---------------------------------------------


২০-১১-২০২৫

অভিনন্দন মুশি

 অভিনন্দন মুশি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************************

হে মুশি! মাঠে বাজে বিজয়ের আলো,
শততম টেস্টে তুমি করলেই উজ্জ্বল ঝলো।

বল উড়ে যায় দূরে, ব্যাটে জ্বলে আগুন,
বাঙালি হৃদয়ে বাজে গর্বের দীপ্তি নাগুন।

প্রাণঢালা অভিনন্দন, স্বপ্নের আলো ভোর,
শত রানের ধ্বনি বাজে, খুশির রঙে জোর।

মুশি! নাম তোমার কণ্ঠে কণ্ঠে বাজে গান,
এই মুহূর্তে গাই আমরা, মুখর আনন্দের মান।

চলুক পথ জয়ধ্বনিতে, গানে ভরা হৃদয়,
শততম রানের সৌরভ ছড়াক, সোনালি প্রেরণার খোঁয়।

মাটির কণায় মিশে যায় ইতিহাসের ছাপ,
বাঙালির চোখে জ্বলে আনন্দের উজ্জ্বল ভাপ।

প্রতিটি বলের আঘাত, ইতিহাসে লেখা হয়,
সাহসী ব্যাটে ফুটে ওঠে জাতির আশা যে রয়।

বল ও ব্যাটের খেলা, গর্বের প্রতীক তুমি,
মুশি! তুমি চিরকাল বাঙালির দীপিক, উজ্জ্বল রুমি।

শততম রানের গর্জন বাজে কণ্ঠে কণ্ঠে,
বাঙালির প্রাণে আনন্দ ভেসে, মুখর গলধ্বনি ঘন্টে।

মুশি! তুমি বাঙালির গর্ব, হৃদয়ের দীপ্তি,
অভিনন্দন তোমায়, জীবনের উজ্জ্বল ঝলকিতি।

চলুক পথ তোমার জয়ধ্বনিতে ভরা,
সাফল্যের আলো ছড়াক, গানের ছন্দে ভরা।

শত রানের মর্যাদা, শত শুভেচ্ছায় ভরা,
মুশি! তুমি সোনার বাংলার গর্ব, হৃদয়ের আলো সারা।
--------------------------------------


২০-১১-২০২৫

দেশের প্রতি অনুগত্য

 দেশের প্রতি অনুগত্য

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
----------------------------------------

হে মুমিন! হে বীর! পদধ্বনি তুলো বুকে,
দেশের জন্য রক্ত ঢালো, ভয় করো কাকে ?
নিষ্ঠার প্রদীপ জ্বালো, অন্ধকার ছিন্ন করো,
কোরআনের নূর ধরে রেখো, লড়ো, লড়ো, লড়ো!

জুলুম ছড়ায় যে শাসক, ধ্বনি দাও ধ্বংসকরো,
সত্যের তরী বেয়ে দাও বিপ্লবের ঝঞ্ঝা ঢলো।
হে প্রজন্ম! চোখ খোলো, শুনো জাতির কণ্ঠস্বর,
স্বাধীনতার আহবান বাজে, করো হৃদয়-নিঃশ্বাস ধর।

দেশের জন্য বলো লাব্বাইক! করো ত্যাগ মহান,
পদধ্বনিতে ফোটাও ঈমান, অমলিন দান।
হৃদয়ে আগুন, প্রাণে উচ্ছ্বাস—দেশ হোক তোমার প্রার্থনা,
মুক্তির বাতাসে ভাসুক, তোর দেশ, তোর প্রাণের ছায়া।

তুমুল ঝড় হোক তোমার পদধ্বনিতে,
অধিকার রক্ষা করো, ভয় নষ্ট করো সব জড়িত!
দেশের প্রতি অনুগত্য কেবল শপথ নয়,
এটি হলো ঈমানের সুরে রচিত বিদ্রোহের ছায়া।
--------------------------------------------


২০-১১-২০২৫

জুলুমকারী শাসক

 জুলুমকারী শাসক

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
********************************

শোনো! আকাশ ফেটে চিৎকার করে বলে—
“জুলুমের রাত শেষ! সত্যের আগুন জ্বলে!”
মাটির তলায় কম্পন—শাসকের মিথ্যা সিংহাসন কাঁপে,
অন্যায়ের ছায়ায় আজ বিদ্রোহের বজ্র পতন নামে!


জুলুমকারী শাসক— শোনো!
তোমার প্রতিটি নিঃশ্বাসে বিষের গন্ধ,
মানুষের কান্নায় ভেজা রাত্রিগুলো সাক্ষী—
তোমার মুকুট পুড়বে ন্যায়ের আগুনে একদিন নিশ্চিত!

তোমার লোভের দুর্গ, তোমার পাপের সিংহাসন—
আল্লাহর রোষে এক মুহূর্তেই ভেঙে যাবে ধুলোয়!
মুমিনের ধৈর্য যখন ফেটে যায়,
পাহাড়ও দাঁড়াতে পারে না তাদের সামনে!


উঠো মুমিন!
হৃদয়ের গভীরতম আগুনকে মুক্ত করো!
আজ বিদ্রোহের নাম— সত্য,
আজ বিপ্লবের নাম— আল্লাহর ন্যায়।

ঝড়ের মতো এগিয়ে যাও,
অন্ধকারের দেয়াল ভেঙে ফেলো এক আঘাতে!
অনাচারের সূর্যকে নিভিয়ে দাও সত্যের বাতাসে,
জুলুমের কুয়াশা গিলে ফেলুক আলোর ঘূর্ণিঝড়ে!


যে শাসক মানুষের চোখে ধুলা দিতে চায়,
কোরআনের আলো ঢেকে রাখতে চায়,
সে যেন জানে—
আল্লাহর বিচার অদৃশ্য, কিন্তু তার আঘাত বজ্রের চেয়েও প্রবল!

এমন আঘাত,
যাতে লৌহদেয়াল গুঁড়িয়ে যায়,
প্রাসাদের দোর ভেঙে যায়,
জুলুমের মুখোশ ছিন্ন হয়ে পড়ে—
বন্যার জলের মতো সত্য উন্মুক্ত হয়ে যায়!

হে জুলুমকারী!
তুমি বুঝতে পারো বা না পারো—
মুমিনের হৃদয়ে জ্বলে ওঠা আগুন
কোন শক্তি থামাতে পারে না!

এ আগুন ক্ষতির নয়—
এ আগুন জুলুমের মৃত্যু,
এ আগুন সত্যের জন্ম,
এ আগুন ন্যায়ের পুনর্জাগরণ!

একদিন আসবেই—
যেদিন তোমার মিথ্যা সাম্রাজ্য
ধসে পড়বে ঘূর্ণিঝড়ের নিচে,
আর মুমিনের কণ্ঠ উঠবে—
“আল্লাহু আকবার! ন্যায়ের জয়!”
----------------------------------------------


২০-১১-২০২৫

বাবা দিবসের প্রার্থনা (গান)

  কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর **************************************** তোমাকে নিয়ে কবিতা লিখতে বসলে কলম...