রবিবার, ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬

প্রিয় সন্তোষ স্যারের চিরবিদায়

 প্রিয় সন্তোষ স্যারের চিরবিদায়

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**********************************************
কাপাসিয়ার ছোট্ট আঙিনা ছেড়ে,
তোমার আলো ঝলমল ছড়িয়েছে বিশ্বপানে!
পশ্চিমে আমেরিকা, পূর্বে জাপান,
উত্তরে নরওয়ে, দক্ষিণে অস্ট্রেলিয়ার তটে!
যেখানে ছাত্র মাথা উঁচু করে দাঁড়ায়,
সেখানে তোমার অদৃশ্য মুকুট ঝকঝকে শোভায়!

নীরব, নিঃস্বার্থ, নিরলস শিক্ষকবৃন্দের মাঝে,
দীপ্ত এক নাম—আমাদের প্রিয় স্যার সন্তোষ!
চক-ধুলো মাখা ক্লান্ত হাতে,
তুমি গড়েছ মানুষ, কেবল মানুষ!
নিজের সুখ বিসর্জন দিয়ে,
ছাত্রের স্বপ্নে লিখেছ ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল!

কালের নির্মম আবর্তে আজ,
হাসপাতালের নিঃশব্দ শয্যায়!
চল্লিশ দিনেরও অধিক আইসিইউর প্রহর,
শেষে ক্লান্ত দেহ ঢলে পড়ল
মৃত্যুর কোলে, অনিবার্য চক্রে!

দীপ নিভে যায়, আলো থাকে—
গুরু চলে গেলেও আদর্শ অমর!
সনাতন বিশ্বাসে জানি,
আত্মা নয় নশ্বর,
শুধু দেহ ফেলে যায় মায়া,
চলে যায় অনন্ত যাত্রায়!

আজ তোমার ছাত্রছাত্রীরা
অশ্রুসজল নয়নে বলে—
হে গুরুদেব, গ্রহণ করো
আমাদের শেষ প্রণাম!
যে শিক্ষা তুমি রেখে গেলে,
সেই পথেই চলব আজীবন!

ওঁ শান্তিঃ শান্তিঃ শান্তিঃ
তোমার আত্মা লাভ করুক চিরশান্তি!
গুরুর চরণে এই আমাদের
চূড়ান্ত শ্রদ্ধা ও গভীর শোক!
-------------------------------------------


০১-০২-২০২৬

আমি পরিবর্তন করতে এসেছি

 আমি পরিবর্তন করতে এসেছি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
***************************************

আমি পরিবর্তন করতে এসেছি—ভাঙতে জীর্ণ শাসন,
অন্যায়ের দেয়াল ভেঙে জাগাতে মানুষের শ্বাসন।
ভোটের মানে ফিরিয়ে দিতে, ভয়হীন নাগরিক,
সেবার দায়ে দাঁড় করাতে রাষ্ট্রের প্রতিটি দিক।

আমি ডাঃ তাসনিম জারা—শপথ আমার স্পষ্ট,
কথা নয়, কাজের পথে রাখব হিসাব-নির্ভর দৃষ্ট।
যেখানে সেবা নেই, বিলও নয়—ন্যায়ের সহজ ভাষা,
জবাবদিহি শিখুক ক্ষমতা, খুলুক বন্ধ সব আশা।

পানি-গ্যাস-রাস্তায় ফিরুক মানুষের অধিকার,
ড্রেনেজে নেমে যাক জল, ভাঙুক জলাবদ্ধতার ভার।
হাসপাতালে মানুষ পাবে মর্যাদা আর যত্ন,
কমিউনিটি ক্লিনিক হবে আস্থার প্রথম রক্ষণ।

শিক্ষায় নয় প্রভাব-দাপট, মেধাই হোক মান,
কোডিং-ল্যাব-লাইব্রেরিতে গড়ুক স্বপ্নের টান।
নারীর পথে আলো জ্বলে—নিরাপত্তার প্রহর,
সেফ করিডোরে হাঁটুক নির্ভয় সকাল-দুপুর।

মাদকের শিকড় ছিঁড়ে দিই—চিকিৎসা আর পুনর্বাসন,
অপরাধ নয়, মানুষ বাঁচাই—এই আমার শাসন।
যুব উদ্যোক্তা পাক ভরসা, স্টার্টআপে হোক ডানা,
ডে-কেয়ারে কাজের নারী—সমান সুযোগের মানা।

এমপি হবে নাগরিকের—অফিস খোলা থাকবে,
ডিজিটাল ট্র্যাকে প্রশ্নের উত্তর লেখা যাবে।
আমি প্রতিশ্রুতি নয়—প্রমাণে বিশ্বাসী,
ঢাকা-নয়কে গড়ব একসাথে—স্বচ্ছ, মানবিক, সাহসী।

আমি পরিবর্তন করতে এসেছি—এ কথা কেবল নয়,
সময়ের কাছে দায় নিয়ে আজ দাঁড়াই নির্ভয়।
-----------------------------------------------


০১-০২-২০২৬

আলো রেখে গেলেন যিনি

আলো রেখে গেলেন যিনি
কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
****************************************

আজ শ্রেণিকক্ষ নিঃশ্বাস নেয় ভারী শোকে,
চুপসে গেছে সকাল—কথা হারায় লোকে।
চকের সাদা ধুলো জানে তাঁর নাম,
মস্তফা কামাল—এক আলোর বিশ্রাম।

কাপাসিয়ার বুকে যে শিক্ষক জ্বালাল দীপ,
সমাজ কল্যাণে মানবতার শিখা অদ্বীপ।
জ্ঞান ছিল তাঁর প্রার্থনার ভাষা,
মানুষ গড়া ছিল জীবনের আশা।

গাজীপুর মেট্রো কলেজের নীরব দেয়াল,
আজো খোঁজে নেতৃত্বের সেই উদার পাল।
ভাইস প্রিন্সিপাল—নাম নয়, দায়িত্ব,
ন্যায়ের কাছে যাঁর ছিল চির আনুগত্য।

কঠোর ছিলেন না—ছিলেন দৃঢ়,
ভুলের মাঝেও দেখাতেন সঠিক দিগন্ত-চিহ্ন।
শাসনে স্নেহ, উপদেশে আলো,
অজস্র জীবন গড়েছেন ভালো।

আজ প্রশ্ন করে বেঞ্চ, বোর্ড আর বই,
“স্যার, আর কে দেখাবে সঠিক সেই ছই?”
এই শূন্যতা শুধু একটি মৃত্যু নয়,
এ এক প্রজন্মের অপূরণীয় ক্ষয়।

ইন্না লিল্লাহ—সবই রবের বিধান,
ফিরে গেলেন তিনি ডাকে—চির অনন্ত জান।
হে মহান রব, দিও জান্নাতের উচ্চ স্থান,
আমীন—শিক্ষকের ঋণে নত প্রতিটি প্রাণ।

তাঁর দেহ নেই, তবু তিনি রয়েছেন,
নৈতিকতার পাঠে আজো তিনি শেখান।
মানুষ যতদিন মানুষ হয়ে থাকবে,
মস্তফা কামাল—আলো হয়ে জ্বলবে।
--------------------------------------------------------


০১-০২-২০২৬

মাতৃভাষার মর্যাদা

 মাতৃভাষার মর্যাদা

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
**************************************

একুশের ভোরে রক্ত ঝরে আকাশে!
মায়ের ভাষা চুম্বিত করে যাক প্রতিটি পাথরে।
পশ্চিমী শাসক চেয়েছিল বাংলা চেপে রাখতে,
অবাধ্য বাঙালির কণ্ঠ নীরব করতে।

রফিক, জব্বার, বরকত, সালাম—
তাদের রক্তে লেখা স্বাধীনতার নাম।
নামহীন শহীদও তো আছেন গোপনে,
মায়ের ভাষার পক্ষে জীবন উৎসর্গে।

ক, খ, গ—এ শুধু বর্ণ নয়,
এ শহীদের রক্তে লেখা বিপ্লবের শপথ।
উর্দু চাপিয়ে, শৃঙ্খল বাঁধতে চাইল যারা,
তারা ইতিহাসে থাকল শুধুই কালো ছায়া।

একুশের রক্তে জন্ম নিল অমর অগ্নি,
শব্দ হয়ে ছড়িয়ে গেল সমস্ত বেদী।
মাতৃভাষা আজ স্বাধীন, অটল, অবিস্মরণীয়,
বিশ্ব জানে—ইউনেস্কোতেও তার অভিজ্ঞান।

ফুল দিয়ে শেষ নয়, ফুল দিয়ে শেষ নয়—
কর্মে, চর্চায় ভাষা বাঁচুক চিরকাল।
মাতৃভাষার মর্যাদা আমাদের অঙ্গীকার,
একুশের শপথ, রক্তের ঋণ, চিরন্তন অভিসার।


০১-০২-২০২৬

তুমিই ভবিষ্যৎ জনতার নেত্রী

 তুমিই ভবিষ্যৎ জনতার নেত্রী

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
******************************************
হে নারী, তোমার চোখে আমি দেখি
এক নতুন বাংলাদেশের জাগ্রত সকাল,
কুয়াশা ছিন্ন করে উঠে আসে রোদ—
ভাঙে ভয়ের তালা, ভাঙে অচল শেকল।

তুমি কোন দলে—সে প্রশ্ন আজ ক্ষুদ্র,
বৃহৎ তুমি মানবতার মানচিত্রে,
শিক্ষার দীপ্তিতে দীপ্ত তোমার কণ্ঠ,
মার্জিত আচরণে দৃঢ় প্রতিজ্ঞার চিত্রে।

বিদেশের আরাম হাতছানি দিয়েছিল,
বিলাস ডেকেছিল নীল আকাশের নিচে—
তবু মাটির গন্ধ, মায়ের আঁচল
ডেকেছে তোমায় স্বদেশের দ্বারপ্রান্তে এসে।

তুমি বলো—নতুন বন্দোবস্ত চাই,
চাই সুশাসনের অগ্নিশুদ্ধ পথ;
দুর্নীতির আঁধার ভস্মীভূত হোক,
আইনের শাসনে জাগুক রাষ্ট্রব্রত।

তুমি বলো—মুক্তিযুদ্ধ কেবল ইতিহাস নয়,
সে আজকের নৈতিক কম্পাস;
অর্থনৈতিক মুক্তি মানে কেবল সংখ্যা নয়,
মানুষের মর্যাদা—নিত্য শ্বাস।

গণতন্ত্র মানে ভোটের দিনটি নয়,
দিনরাত্রি জবাবদিহির আলো;
শিক্ষা-স্বাস্থ্য মানে বিলাস নয়,
জীবনের ন্যূনতম অধিকার—সবাইকে দাও।

বৈষম্যের দেয়াল ভাঙার মন্ত্র তুমি,
মবতন্ত্রের বিরুদ্ধে বজ্রধ্বনি;
স্বৈরতন্ত্রের কালো ছায়া কাটিয়ে
স্বচ্ছ আকাশে উড়াও ন্যায়-পতাকা নির্ভীকিনী।

কালো টাকার বিষ তুমি চেনো,
তাই রক্তে টেনে নাও নৈতিক শুদ্ধতা;
নেতা-জনতার মাঝে গড়ো সেতু,
সংঘাত নয়—সহমর্মিতার দৃঢ়তা।

হিংসা-প্রতিহিংসার চক্রে তুমি আগুন নও,
তুমি শুদ্ধ জলের ধার;
তোমার ব্যবহার, উপস্থাপনার ভঙ্গিতে
জনতা খুঁজে পায় বিশ্বাসের নোঙর-তার।

প্রকৃতি যেমন ঝড়ের পর দেয় রংধনু,
তেমনি তুমি সংকটের পরে আশা;
নদী যেমন পথ খোঁজে সাগরের দিকে,
তুমিও এগোও—ন্যায়ের অভিমুখে ভাষা।

নজরুলের বজ্রকণ্ঠে যদি বলি আজ,
তুমি বিদ্রোহ—তুমি মানবিক সাহস;
ভয়ের কারাগার ভেঙে তুমি হাঁটো,
মুক্ত মানুষের মিছিলে প্রথম নিশ্বাস।

বিশ্ব জেনেছে—নামটি আজ উচ্চারিত,
ডা. তাসনিম জারা—নিলোর্ভ দীপ্তি;
তুমি ভবিষ্যৎ, তুমি জনতার নেত্রী,
স্বপ্ন নয়—তুমি জাগ্রত সত্যের শক্তি।
--------------------------------------------


০১-০২-২০২৬

বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ২৯, ২০২৬

ওরা এখনো শোধায়নি

 ওরা এখনো শোধায়নি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
***************************************
আমি এখনো শুনি ধ্বংসের আর্তনাদ,
মায়ের চিৎকারে কেঁপে ওঠে রাতের প্রহরাদ।
আমি এখনো দেখি লুট হওয়া ঘর-বাড়ি,
আগুন জ্বলছে মুক্তিকামী জনতার বুকের তাড়ি।

শুকুনের থাবা কেটে গেছে সবুজের বুক,
সারি সারি লাশ ভেসে যায় নদী-খাল-বিলে ধ্বুক।
বুলেট বিদ্ধ মুক্তিযোদ্ধার ক্ষতবিক্ষত দেহ,
বুদ্ধিজীবীর নীরব দেহে বাজে প্রতিশোধের রণধ্বনি।

দেশবিরোধীরা গড়েছিল শত্রুর কুটকথা,
হানাদার বাহিনী ছিল তাদের আঁধারের স্বপ্নপথা।
স্বাধীনতা চাইনি তারা, বাংলার রক্তে মাখা পথ,
ওরা এখনো আছে, ছদ্মবেশী, মুনাফেক, ঘাতক হত্যার তৃষ্ণা।

হে লাল-সবুজ চেতনা! সতর্ক থাকো,
ওরা গুপ্তচর, বিশ্বাসঘাতক, বিদ্রোহের শত্রু অনন্তকাল।
ওদের রক্ত এখনো শোধায়নি,
প্রতিশোধের আগুনে জ্বলে উঠুক গ্রাম-নগর-প্রান্ত।

প্রাণের প্রতিটা তেজে, রক্তের প্রতিটা ফোঁটায়,
বিপ্লবের সুরে বাজুক মুক্তির গান, অসীম তেজে ভাসা।
ওদের অস্তিত্বের ছায়া মুছে দিন ইতিহাসের পাতায়,
মুক্ত বাংলার চেতনায় উদ্ভাসিত হোক নতুন ভোরের আলো।

স্বাধীনতার পতাকা উড়ুক সর্বত্র, শত্রুর চোখে ভয়,
বিজয়ের কণ্ঠে প্রতিটি শহর, বনে, নদীতে জাগুক জয়।
মুক্তিকামী বাঙালির হৃদয় থাকবে না নিস্তব্ধ,
প্রতিশোধের সুরে বাজুক স্বাধীনতার বন্দুকের ঝলকধ্বনি।
------------------------------------


২৯-০১-২০২৬স

তুমিও কিছু বলতে চাও

 তুমিও কিছু বলতে চাও

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান েমাল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
******************************************

হে অবুঝ শিশু, বিদীর্ণ ভোরের গান,
পিতার বুকে জমে থাকা আগুন-অভিমান,
মায়ের ছিন্ন জীবনের শেষ জ্বলন্ত দীপ,
জন্মেই তুমি শিখেছো বেদনার গভীর শীপ।

যেদিন তুমি এলে ধরার রক্ত-মাখা তীরে,
সেদিন মমতা হার মানল বিধির তীক্ষ্ণ শিরে,
মায়ের বুকের দুধ রইল অপূর্ণ ঋণ,
শৈশবেই তোমার কপালে আঁকা হলো শোকচিহ্ন।

পৃথিবী! কেন নিলে না কোলে তুলে আজ?
শিশু কি দায়—বল! কোন অপরাধে সাজ?
আর মা—হাসপাতালের সাদা কাঠগড়ায়,
মৃত্যুর সাথে লড়েছে বজ্র-কান্নার ছায়ায়।

একদিকে তুমি—নবজাত আগ্নেয় কুঁড়ি,
অন্যদিকে মা—ঝরে পড়া শেষ বিজড়ি,
বাবা ছুটেছে ছিন্ন-পাখার ঝড়ো প্রাণ,
একবার শিশুরে, একবার মৃত্যুর সমাধান।

শেষে মাও অচল হল—নিভে গেল শরীরের প্রদীপ,
তুমি রইলে বুকে নিয়ে অগ্নি-নীরব শীপ,
বেঁচে থাকা তখন শুধু শ্বাসের দায়,
মায়ের অভাবে প্রতিটি দিন বিদ্রোহ-প্রায়।

দাদীর কাঁপা বুকে পেলি শেষ আশ্রয়,
নানীর আঁচলে জমল অশ্রু-অগ্নিক্ষয়,
প্রকৃতির দুধে বড় হলে আগুন-শিশু তুমি,
তবু মায়ের শূন্যতা পূরণ হয়—বলো, ভূমি?

মা থেকেও না থাকার মতো দাঁড়াল সামনে,
একটি নাম, একটি ছবি—নিস্তব্ধ ফাঁদে,
কোল নেই, আদর নেই, শুধু জ্বলন্ত প্রশ্ন,
“মা” শব্দটি কেন হলো এত নিষ্ঠুর দর্শন?

তবু তুমি বেঁচে আছো—রবের হুকুমে,
পিতার রক্ত-ঘামে, দাদী-নানীর বুকে,
নীরব তুমি, কিন্তু নীরবতা নয় হার,
এ নীরবতা একদিন হবে আগুনের উচ্চারণ-ভার।

তুমি তাকাও অপলক আকাশের পানে,
চোখের প্রশ্ন ঝড় তোলে নীল বিধানে,
পৃথিবীকে কিছু বলতে চাও—বিদ্রোহে,
হয়তো রবকেও—অভিযোগ নয়, শপথে।

অভিমান জমে থাকে চোখের কোণে আগুন,
ঝরে না—কারণ তুমি দুর্বল নও, তুমি সন্তান,
হে অবুঝ শিশু, তুমিও কিছু বলতে চাও,
তোমার নীরবতাই একদিন
সবচেয়ে বজ্রকণ্ঠ আর্তনাদ হয়ে ওঠাও।
------------------------------------------------


২৯-০১-২০২৬

তোমার শুন্যতা অনুভব করি

 তোমার শুন্যতা অনুভব করি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*******************************************
জনাব তাজউদ্দিন আহম্মেদ মোল্লা,
তোমার মৃত্যুতে আজ ভাষা কাঁপে,
শব্দেরা দাঁড়িয়ে থাকে—
কোনটি আগে কাঁদবে বুঝে ওঠে না।

মিষ্টি ভাষার যে মানুষটি
হাসিতে ভরিয়ে দিতো আঙিনা,
আজ সে হাসি থেমে গেছে
নিস্তব্ধ কবরের গভীর নীরবতায়।

পরউপকার ছিল তোমার শিরা-উপশিরায়,
দানবীর হৃদয় ছিল উন্মুক্ত আকাশ,
আজ সেই আকাশে শুধু শূন্যতা—
একটি নক্ষত্র ঝরে পড়েছে অকালে।

মেধাবী মন, উদ্দ্যোক্তা প্রাণ,
শিক্ষানুরাগী দীপ্ত বাতি,
রাওনাট গ্রামের গর্ব তুমি—
আজ গ্রাম জুড়ে শুধু দীর্ঘশ্বাস।

স্বপ্ন দেখাতে তুমি জানাতে,
অন্যের চোখে আলো জ্বালাতে,
কিন্তু নিজের জীবন-স্বপ্ন
অসমাপ্ত রেখেই চলে গেলে হে বড়ভাই।

তুমি ছিলে শীতল ছায়া,
দুপুরের রোদে আশ্রয়ের বৃক্ষ,
আজ সে ছায়া নেই—
সূর্য আরও তীব্র, বুক আরও পোড়া।

তোমার মৃত্যুতে বুঝেছি,
শূন্যতা শুধু অনুপস্থিতি নয়,
শূন্যতা হলো—
প্রতিদিন কাউকে খুঁজে না পাওয়া।

তোমার অবসানে জীবনের পাতায়
একটি অধ্যায় হঠাৎ ছিঁড়ে গেল,
পুরণ হবে না সে শূন্যতা কখনো,
রয়ে যাবে আজীবন অসম্পূর্ণ গল্প।

হে আল্লাহ,
তোমার দরবারে আজ অশ্রুসিক্ত দোয়া,
জনাব তাজউদ্দিন আহম্মেদ মোল্লাকে
মাখফেরাতে মুড়িয়ে দাও, জান্নাত দাও।

তোমার মৃত্যুতে কাঁদে হৃদয়,
কাঁদে স্মৃতি, কাঁদে প্রতিটি স্বপ্ন,
তবু বিশ্বাস রাখি—
তুমি বেঁচে আছো আমাদের ভালোবাসায়।

তোমার শুন্যতা অনুভব করি,
প্রতিটি শ্বাসে, প্রতিটি প্রার্থনায়—
কারণ তুমি চলে গেছো,
কিন্তু হৃদয় থেকে যাওনি কখনো।
------------------------------------------


২৯-০১-২০২৬

আমি গাই গণতন্ত্রের গান

 আমি গাই গণতন্ত্রের গান

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
*******************************************
আমি গাই, আমি গাই, গণতন্ত্রের গান,
জনতার হাতে ক্ষমতার চাবি আছে প্রাণ।
ভয় নয়, আশায় বাঁচে মানুষ—
সেই দেশে হয় গণতন্ত্র সত্যিকার মান।

শাসক নয় প্রভু, প্রতিনিধি সে জান,
ভোটের মুঠোয় গড়ে রাজপথের বান।
বাক্‌স্বাধীনতার সুরে ভেসে যায় দিন,
ভিন্নমত শত্রু নয়, আশার আলোর বিন্দু বিন।

আইনের চোখে সবাই সমান—
রাজা-প্রজা একসাথে দাঁড়ান।
ন্যায় ও মানবতা, সত্যের দীপ জ্বালাই,
জবাবদিহিতার আলোয় কলুষ সব তাড়াই।

ব্যালটের জয়, শান্তির উৎসব হয়,
রক্ত নয়, কলমে ক্ষমতা বদলে যায়।
জনতার অংশগ্রহণ, নিত্য উৎসব,
সেখানে গণতন্ত্র চিরদিন সতেজ।

সংখ্যালঘুর অধিকার, ন্যায়েই যেন বজায় থাকে,
দূর হোক অন্যায়, শাসনের পথে আলো ফাকে।
মানব মর্যাদা মাথায় তুলে রাখি আমরা,
ভয় নয়, আশা নিয়েই বাঁচি আমরা।

আমি গাই, আমি গাই, গণতন্ত্রের গান,
জনতার হাতে ক্ষমতার চাবি আছে প্রান।
ভয় নয়, আশায় বাঁচে মানুষ—
সেই দেশে হয় গণতন্ত্র সত্যিকার মান।
-------------------------------------------------


২৯-০১-২০২৬
রকমারি থেকে বই কিনুন

বুধবার, জানুয়ারি ২৮, ২০২৬

তোমায় ঘিরে স্বপ্ন বুঁনেছে জনতা

 তোমায় ঘিরে স্বপ্ন বুঁনেছে জনতা

কলমেঃ মোাঃ আমিনুল এহছান মোল্লা
রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর
***********************************
ওহে নেতা, শোনো—জাগো, জাগো, জাগো আজ,
জনতার বুকে আগুন জ্বলে, রক্তে লেখা রাজ!
তোমায় ঘিরে স্বপ্ন বুনেছে শোষিত মানুষেরা,
শিকল ভাঙার ডাক উঠেছে গৃহে গৃহে, রাস্তায় সারা।

স্বাধীনতা আজ বন্দিনী, শাসনের কারাগারে,
পিতার রক্তে কেনা মান আজ বিকোয় বাজারে!
লাল-সবুজ পতাকা আজ লজ্জায় নত শির,
দেশ কি তবে দাস হলো? প্রশ্ন জাগে স্থির!

দেশদ্রোহীর দল নেমেছে রাষ্ট্রের সিংহাসনে,
উগ্রতার বিষ ছড়িয়েছে অলি-গলি, জনপদে।
মববাদ চেঁচায়, ফ্যাসিবাদ হাঁটে উল্লাসে,
স্বৈরতার বুটের শব্দ শোনা যায় প্রতিটি শ্বাসে।

দুর্নীতির নখে ক্ষতবিক্ষত ন্যায়বিচার,
ভয়তন্ত্রে স্তব্ধ কণ্ঠ, সত্য আজ নির্বাসিত আর!
অধিকার কাঁদে পথে, আইন পড়ে শিকলে,
জনতা আজ প্রশ্নবিদ্ধ—এই দেশ কার জিম্মায় চলে?

হে তারেক জিয়া—শোনো বজ্রের আহ্বান,
ইতিহাস আজ চায় তোমার অগ্নিশপথ দান।
তুমি কি হবে সেই বিদ্রোহী, অগ্নিমন্ত্রধারী,
যে ভাঙবে শাসনের শিকল, ভয়তন্ত্রের প্রাচীর ভারী?

যদি তুমি হও অগ্নি—জনতা হবে ঝড়,
যদি তুমি হও শপথ—ভাঙবে স্বৈরতার ঘর।
স্বপ্ন বুনেছে জনতা রক্ত-ঘামে লেখা,
মুক্তির সূর্য উঠবেই—এ শপথ ইতিহাসের একা!
----------------------------------------------------


২৮-০১-২০২৬

Student

  কবি মোহাম্মদ আমিনুল এহছান মোল্লা। রাওনাট , কাপাসিয়া , গাজীপুর। ************************************** জাগো রে ছাত্র ! জাগো রে...