বৃহস্পতিবার, মে ২১, ২০২৬

আমরা কি অভিশপ্ত জাতি?

 কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট,কাপাসিয়া,গাজীপুর

***************************************

হে স্বাধীন মা!
অজস্র প্রাণের বিনিময়ে কেনা এক টুকরো রক্তিম শাড়ি—
সেখানে আজ কেন পচনের দাগ?
কেন বারবার মুখ ফিরিয়ে নাও?
কেন মুক্তির উৎসবেও কান্নার রোল থামে না?
আমরা কি অভিশপ্ত?
নাকি আমরাই আমাদের অভিশাপ!

শুনেছি তোমার জন্মলগ্নে আকাশ কাঁপানো জয়ধ্বনি ছিল,
দেখেছি তোমার বুকে মানচিত্র আঁকতে লাখো লাখো প্রাণ বলিদান—
তবু আজ কেন এত দ্বিধা?
কেন স্বাধীনতার গায়ে বিভেদের ক্ষত?
কেন আজও রাজপথে রক্তের আল্পনা?

হে মা!
যে স্থপতিরা তোমায় তিল তিল করে গড়েছিল,
কেন তাদেরই বুকে বিঁধলো ঘাতকের তপ্ত বুলেট?
কেন দুর্নীতির উইপোকা কুরে কুরে খাচ্ছে তোমার মেরুদণ্ড?
গুম, খুন, ধর্ষণ—
একি তবে তোমার ললাটের চিরস্থায়ী টিপ?

বিচক্ষণ দেশদ্রোহীরা আজও তোমার বুকে দাপিয়ে বেড়ায়,
উগ্রবাদের বিষবাষ্পে নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসে অসাম্প্রদায়িকতার।
রাজার প্রাসাদ আর প্রজার কুঁড়েঘরের দূরত্ব—
আকাশ আর পাতালকেও হার মানায়!
গণতন্ত্র কি তবে কেবল অভিধানের শব্দ?
অর্থনৈতিক মুক্তি কি তবে শুধু শাসকদলের শ্লোগান?

বলো মা, কোথায় সেই বাক স্বাধীনতা?
বিচারহীনতার এই অন্ধকার গহ্বর থেকে কবে মুক্তি মিলবে?
মিথ্যা মামলা আর জেলের শিকল কি তবে এ প্রজন্মের অলঙ্কার?
মবতন্ত্রের তান্ডবে কেন বিচারক আজ অসহায় রাজপথ?
কেন মুছে দেওয়া হচ্ছে তোমার স্মৃতিচিহ্ন?

হে কালজয়ী জননী!
আমরা আর মরীচিকার পেছনে ছুটতে চাই না,
আমরা চাই না এই নৈরাজ্যের শ্মশানে স্বাধীনতার মরা কান্না।
বেকারত্বের হাহাকার আর ভয়ভীতির দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে আমাদের—
বিপ্লব তবে কি আসবে না আর?
জাগবে কি না সেই খাঁটি দেশপ্রেম,
যা ধূলো মুছে তোমায় করবে শুদ্ধ?

আমরা অভিশপ্ত নই মা!
আমরা কেবল তোমার সেই অবাধ্য সন্তান,
যারা তোমার মুক্তি তো চেয়েছিল, কিন্তু রক্ষা করতে শেখেনি।
দাও মা, ফের দাও সেই তেজোদীপ্ত ডাক—
যেন সব জঞ্জাল মুছে আমরা বলতে পারি:
"
জয় তোমারই হোক, হে প্রিয় স্বাধীন বাংলা!"

-------------------------------------------------------------

 

কন্যার পিতা হওয়া কি?

 কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট, কাপাসিয়া, গাজীপুর

****************************************************

জাগো রুদ্র! জাগো ভৈরব! জাগো অগ্নি-শিখা!
আকাশে আজ শুধু রামিসার রক্তিম লিখা!
নর-পশু সোহেলের লালসায় নিষ্পাপ ওই দেহ,
রক্তাক্ত হয়েছে আজ— দেখেনি তো কেহ!

গলা কাটা দেহ তার, প্রাণ হলো বিচ্ছিন্ন,
স্বদেশের বুকে আজ পৈশাচিক সব চিহ্ন!
ধিক্ রে স্বদেশ! ধিক্ তোর এ মিথ্যা স্বাধীনতা,
যেথা নির্বাক হয়ে কাঁদে আজ এক অভাগা পিতা!

কন্যার পিতা হওয়া কি এ দেশে আজন্ম পাপ?
তবে কেন এই হাহাকার? কেন এই সন্তাপ?
পিতা আজ আর্তনাদে কয়— “আমি বিচার চাই না,”
“
আমি বিচার পাবো”— এ কি কোনো নীরব গঞ্জনা?

হে রাষ্ট্রের কাণ্ডারী! দৃষ্টান্ত গড়ো আজ,
খুলে ফেলো ওই ঠুনকো বিচারের রাজ-সাজ!
কেন রামিসারা ধর্ষিত হয়? কেন বারবার লাশ?
জবাব দাও! জবাব চাই! ঘটাও পিশাচের বিনাশ!

-----------------------------------------------------------------

রামিসার রক্ত ডাকে,

 কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট, কাপাসিয়া, গাজীপুর

****************************************************

বজ্রশিখায় জ্বলে ওঠো আজ! রামিসার রক্ত ডাকে,
নরপশু সোহেল পিশাচের নখ কেন এই বাংলায় থাকে?
লালসার বিষে নীল হলো আজ নিস্পাপ সেই প্রাণ—
হে রাষ্ট্রের কাণ্ডারী! এই কি তোর সুশাসনের গান?

রক্তাক্ত দেহ!
ছিন্ন মস্তক!
গলা কাটা লাশ!
স্বাধীনতার এই কি তবে বীভৎস পরিহাস?
একটি শিশুও নিরাপদ নয় এই বিজাতীয় দেশে?
ঘাতক যখন উল্লাস করে মানুষের ছদ্মবেশে!

পিতার চোখের অশ্রু আজ রুদ্র দাবানল,
কন্যা হারানো শোকে স্তব্ধ আজ বসতি ও বনতল।
পিতা কি আজন্ম পাপী? কন্যা যে তার ঘরে—
তাই কি অবোধ শিশুটি আজ পশুর থাবায় মরে?

পিতা কয় নির্বাক— "আমি বিচার পাবো!"
এ কি তাঁর বিশ্বাস? নাকি রাষ্ট্রের মুখে চাবুক দিয়ে যাবো?
বিচারহীনতার দেশে যখন ঘাতক পায় পার—
পিতার সেই হাহাকার তখন প্রলয়-হুঙ্কার!

হে শাসক! জবাব দাও— কেন পিতা আজ অসহায়?
কেন স্বাধীন দেশে রামিসার দেহ ছিন্নভিন্ন হয়?
কেন সোহেল নামক জানোয়ার আজো নেয় নিশ্বাস?
ছিঁড়ে ফেলো ওই শাসনের জাল, আনো বজ্র-বিশ্বাস!

দৃষ্টান্ত চাই! নজীর চাই! চরম দণ্ড চাই!
ঘাতকের ফাঁসি না হওয়া অব্দি আমাদের শান্তি নাই।
রামিসার রক্তমাখা সেই খণ্ডিত দেহের কসম—
ধিক্কার জানাই তোমায় হে রাষ্ট্র, ধিক্কার হে অধম!

জাগো জনতা! জাগো বিপ্লবী! ভাঙো ওই লোহার দ্বার,
বিচারের নামে টালবাহানা সইবো না মোরা আর।
রক্তের বদলে রক্ত চাই— ওই পিশাচের বিনাশ—
তবেই শান্ত হবে আজ রামিসার বিদেহী আকাশ!

-----------------------------------------------------------------------------

Student

  কবি মোহাম্মদ আমিনুল এহছান মোল্লা। রাওনাট , কাপাসিয়া , গাজীপুর। ************************************** জাগো রে ছাত্র ! জাগো রে...