মঙ্গলবার, জুন ০৯, ২০২৬

তুমি এক অহংকারী ঝরা ফুল

 কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজীপুর

---------------------------------------------------------

তুমি কি জানো—কোন অপরাধে তোমাকে ছুঁতে চেয়েছিলাম?
বাগানে যখন তুমি প্রথম ফুটেছিলে,
তোমার দিকে তাকানোই ছিল যেন নীরব প্রার্থনা—
স্পর্শ নয়, শুধু বিস্ময়ের চোখে দেখা।

তুমি তো পাপড়ি গুটিয়ে রাখোনি,
বরং ভোরের শিশিরে ভিজে
সুবাস ছড়িয়েছিলে আমার হৃদয়ের কাঁচা পথে।
আমি সেই সুবাসেই শিখেছিলাম বেঁচে থাকার মানে।

একদিন ভেবেছিলাম,
তোমাকে ফুলদানি নয়—
আমার যত্নের ঘরে রাখবো,
যেখানে বাতাসও ধীরে কথা বলে।

কিন্তু কালবৈশাখী এলো—
কারো রাগে নয়, হয়তো তোমারই নীরব অহংকারে।
তুমি ঝরে গেলে অগোছালো আকাশের নিচে,
পাতার মতো ভেঙে পড়লো তোমার সৌন্দর্য।

পোকা-মাকড় এসে তোমাকে স্পর্শ করলো,
যেমন অবহেলা ছুঁয়ে যায় একসময় সবচেয়ে প্রিয় জিনিসকে।
যে হাত তোমাকে ভালোবেসেছিল,
সেই হাতও থেমে গেল দূরত্বের নিয়মে।

আজ বাগানে তুমি আছো—
তবু কেউ আর কাছে যায় না,
পাপড়ি মেলে থাকলেও
তোমার দিকে ঝুঁকে পড়ে না কোনো দৃষ্টি।

হয়তো তোমার অপরাধ ছিল সৌন্দর্য নয়,
অহংকার ছিল সময়ের সাথে না ঝোঁকার এক কঠিন নীরবতা।
তবু আমি জানি—ভেতরে কোথাও
তুমি এখনো ভাঙা আলোর মতো কাঁপছো।

তোমার ভিতরটা যদি কোনোদিন নরম হয়,
যদি ঝরে যাওয়া গন্ধে আবার জেগে ওঠে মাটির স্নেহ,
তবে দেখবে—
বসন্ত আবার ফিরে আসে
ঝরা পাতার নিচে লুকানো ভালোবাসার মতো।

--------------------------------------------------

 

তুমি এক জীবন্ত অনুভূতি

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট, কাপাসিয়া,গাজিীপুর

*********************************

আমি তোমাকে আবিষ্কার করিনি,
তুমি এসেছিলে নিঃশব্দে—
যেমন ভোরের আলো এসে ছুঁয়ে যায় ঘুমন্ত পৃথিবী।

আমার বাহ্যিক দৃষ্টি তোমাকে চিনেনি,
কিন্তু হৃদয় চিনেছিল প্রথম স্পন্দনেই।
কোনো কারণ ছিল না, কোনো যুক্তি ছিল না,
তবু তোমার নামহীন উপস্থিতিতে
জেগে উঠেছিল ভালোবাসার প্রথম ফুল।

তুমি কতটা সুন্দরী—
তা আমি জানি না।
তোমার মুখের চেয়ে বেশি সুন্দর
তোমার অনুভূতির ছায়া,
যা আজও আমার হৃদয়ের আকাশে ভাসে।

তুমি আমার কাছে
চাঁদের আলো নয়, তারও অধিক কিছু—
তুমি সেই আকর্ষণ,
যার টানে গ্রহ ঘোরে সূর্যকে ঘিরে,
আর আমার হৃদয় ঘোরে তোমাকে কেন্দ্র করে।

তুমি আমার বসন্তের কোকিল-ডাকা সকাল,
বর্ষার ভেজা কদমফুল,
শরতের শুভ্র মেঘ,
আর নিঃসঙ্গ রাতের একমাত্র জাগ্রত তারা।

আজও তোমার স্মৃতি
রক্তের সঙ্গে মিশে প্রবাহিত হয়,
আজও তোমার ছায়া
আমার প্রতিটি নিঃশ্বাসে দোলা দেয়।

হয়তো কোনোদিন তুমি জানবে না—
কত গভীর হলে ভালোবাসা
একজন মানুষকে অনুভূতিতে পরিণত করে।

তবু এ কথা সত্য—

তুমি আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর কবিতা,
সবচেয়ে নীরব প্রার্থনা,
সবচেয়ে পবিত্র ভালোবাসা।
তুমি কোনো মানুষ নও শুধু—
তুমি এক জীবন্ত অনুভূতি।

-------------------------

জাতির আত্মবিনাশ

কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট, কাপাসিয়া, গাজীপুর


যে জাতি মাতৃভূমির জন্মগাথা করে বিভক্ত,
ইতিহাসকে করে ক্ষত-বিক্ষত—
সে জাতি হারায় শক্তি,
হারায় আত্মপরিচয়।

যে জাতি রাষ্ট্রের স্থপতিদের সম্মান করে না,
গুণীজনকে অপমান করে,
চাটুকারের বন্দনায় মাতে—
সে জাতি সভ্যতার আলো পায় না।

যে জাতি ক্ষমতার লোভে
ডেকে আনে দেশবিরোধী শত্রু,
গোপন চুক্তিতে বিকিয়ে দেয় স্বার্থ—
সে জাতি মেরুদণ্ডহীন।

যে জাতি গুজবে বিপ্লব খোঁজে,
শিক্ষার বদলে মবতন্ত্র গড়ে,
তরুণকে ঠেলে দেয় বিভ্রান্তির পথে—
সে জাতি ধ্বংসের দিকে ছুটে।

যে জাতি শহীদের রক্ত অপমান করে,
মা-বোনের মর্যাদা রক্ষা করে না,
খুন, গুম, দুর্নীতি আর সন্ত্রাসে নীরব থাকে—
সে জাতি মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে না।

হে জাতি!
জাগো সত্যে,
জাগো ন্যায়ে,
জাগো ঐক্যের অগ্নিমন্ত্রে।

নতশির নয়—
চাই জাগ্রত বিবেক,
চাই স্বদেশপ্রেমের বজ্রশপথ,
চাই মুক্তির দীপ্ত ভবিষ্যৎ।

----------------------------------------------------------


সোমবার, জুন ০৮, ২০২৬

মৃত্যুর দুরন্ত দূত

 কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট, কাপাসিয়া, গাজীপুর

**********************************************

হে দুর্বার গতির মোটরবাইক, শুনো মানবতার আর্তনাদ,
তোমার চাকার ঘূর্ণিবেগে কত স্বপ্ন হয়েছে বরবাদ।
তুমি যেন কালবৈশাখী ঝড়, উন্মত্ত মৃত্যুর দূত,
তোমার বুকে চড়ে কত তরুণ হারায় জীবনের সুরভিত সুত।

কত মায়ের বুকের মানিক ফিরেনি ঘরে সন্ধ্যাবেলা,
কত পিতার চোখের তারা নিভেছে নির্মম অবহেলা।
গোধূলীর আগেই নিভে যায় কত উদীয়মান সূর্যপ্রাণ,
রক্তমাখা পথে পড়ে থাকে ভাঙা ভবিষ্যৎ, ভাঙা গান।

জাতির আশা, জাতির শক্তি, তারুণ্যের দীপ্তি-শিখা,
অকালমৃত্যুর অন্ধকারে হারায় কত সম্ভাবনার দিশা।
কত বোনের রাখী শুকায়, কত স্ত্রীর স্বপ্ন হয় ছাই,
বেপরোয়া গতির নেশায় মানুষ কেন মৃত্যুকেই চায়?

হে তরুণ, হে তরুণী, শোনো বিবেকের বজ্র আহ্বান,
গতি নয়, জীবনের চেয়ে মহৎ কিছু নেই এ ধরণীপ্রাণ।
হেলমেট পরো, নিয়ম মানো, সংযম হোক পথের সাথী,
অহংকারের গতিবেগে ডেকে আনো না মৃত্যুর রাতি।

মায়ের অশ্রু, পিতার হাহাকার, শুনো অন্তরের কানে,
জাতির স্বপ্ন ভেঙো না আর ক্ষণিক উন্মাদ টানে।
জীবন তোমার অমূল্য রতন, দেশের আগামী মুক্তি,
সাবধান হও, সচেতন হও—রক্ষা করো মানবশক্তি।

--------------------------------------------------------

হৃদয়ের দৈন্যতা

 কলমেঃ মোঃ আমিনুল এহছান মোল্লা

রাওনাট, কাপাসিয়া, গাজীপুর

**********************************************

হৃদয়ের দৈন্যতা!

এ যেন মরুভূমির বুকে পথহারা নদীর দীর্ঘশ্বাস,
এ যেন পূর্ণিমার চাঁদে কালো গ্রহণের বিষণ্ন বাস।

এ যেন বসন্তের বনে
কোকিলের কণ্ঠে হঠাৎ নেমে আসা শকুনের ভাষা।

মানুষ আজ মানুষকে দেখে না মানুষ বলে,
দেখে প্রতিদ্বন্দ্বী,
দেখে শত্রু,
দেখে ঈর্ষার অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষেপযোগ্য এক ছায়ামূর্তি!

অথচ—
আকাশ কি কখনো নক্ষত্রের আলোকে হিংসা করে?
নদী কি কখনো সাগরের বিশালতাকে গালি দেয়?
সূর্য কি কখনো চাঁদের সৌন্দর্যে কাতর হয়?

প্রকৃতি শেখায় সহাবস্থান,
মানুষ শেখে বিভেদ!

হৃদয়ের দৈন্যতা
এ যেন আত্মার আকাশে উড়ে বেড়ানো অশুভ বাদুড়,
যে আলোকে ভয় পায়,
সত্যকে ভয় পায়,
অন্যের উন্নতিকে ভয় পায়।

আজ গীবতের বিষধর সাপ
ঘুরে বেড়ায় সভ্যতার উঠোনে,
মিথ্যার কাকেরা কা-কা রব তোলে
সত্যের সবুজ অরণ্যে।

যোগ্যের সম্মান দেখলে
হিংসুক হৃদয় জ্বলে ওঠে দাবানলের মতো,
নিজে উঠতে পারে না শিখরে,
তাই টানতে চায় অন্যকে খাদে।

হায়!
এ কোন জাহেলিয়াতের পুনর্জন্ম?
এ কোন অন্ধকার যুগের প্রত্যাবর্তন?

মানুষের বুকে আজ
মানবতার চেয়ে বড় হয়েছে অহংকারের পাহাড়,
বিবেকের চেয়ে ভারী হয়েছে
স্বার্থের লৌহশৃঙ্খল।

আমি দেখি—
অসংখ্য হৃদয় আজ শুষ্ক বৃক্ষ,
যেখানে প্রেমের ফুল ফোটে না,
করুণার পাখি বাসা বাঁধে না।

তবু আমি সাম্যের গান গাই!

আমি বলি—
মানুষের চেয়ে বড় কিছু নেই,
মানবতার চেয়ে মহৎ কোনো ধর্ম নেই,
ভালোবাসার চেয়ে শক্তিশালী কোনো বিপ্লব নেই।

এসো,
হৃদয়ের দৈন্যতা ভেঙে গড়ি উদারতার মহাসাগর,
ঈর্ষার আগুন নিভিয়ে জ্বালাই সহমর্মিতার প্রদীপ।

যেদিন মানুষ
অন্যের সাফল্যে হাসবে নিজের হাসির মতো,
সেদিনই পৃথিবী হবে
ভ্রাতৃত্বের বাগান,
সাম্যের সূর্যালোকে ভাসমান এক অনিন্দ্য সুন্দর মানবভূমি।

-------------------------------------------------------------------

Student

  কবি মোহাম্মদ আমিনুল এহছান মোল্লা। রাওনাট , কাপাসিয়া , গাজীপুর। ************************************** জাগো রে ছাত্র ! জাগো রে...